ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১১:১৫

অতি পরিচিত কিছু প্রাকৃতিক পেইনকিলার

অতি পরিচিত কিছু প্রাকৃতিক পেইনকিলার

অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। আর যদি হয় ওষুধ, তবে তা পরিহার করাই ভালো। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাসে ১৫ দিনের বেশি পেইনকিলার নিলে মাথার যন্ত্রণা হতে পারে। তবে পেইনকিলারের বিকল্পও আছে। কিন্তু সেটা ওষুধ নয়, কিছু প্রাকৃতিক খাবার। এগুলো শুধু যন্ত্রণাই কমায় না, শরীরের আরও উপকার করে। এসব কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের বর্ণনা দেয়া হলো: দই: এতে থাকা বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়া তলপেটের যন্ত্রণা কমাতে দারুন কাজে দেয়। আদা: অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকায় আর্থ্রাইটিস, পাকিস্থলির যন্ত্রণা, বুকে ব্যথা, পিরিয়ডের যন্ত্রণা এবং পেশির ব্যথা কমাতে আদার কোনও বিকল্প নেই। যে জায়গায় যন্ত্রণা হচ্ছে সেখানে অল্প করে আদা বেটে লাগিয়ে দিলেই হাতেনাতে ফল পাবেন। হলুদ: ব্যথা কমাতে এই মশলাটির কোনও বিকল্প নেই। হলুদে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি উপাদান, যা যন্ত্রণা কমানোর পাশাপাশি ফোলা ভাব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাজারে প্রচলিত একাধিক জনপ্রিয় পেইনকিলার থেকে কোনও অংশে কম কাজে আসে না এই ঘরোয়া ওষুধটি। লবণ: গোসল করার সময় ১০-১৫ চামচ লবণ পানিতে মিশিয়ে দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট শুয়ে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন প্রদাহ বা যন্ত্রণা কমতে শুরু করবে। সয়াবিন: সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে আর্থ্রাইটিস, বিশেষত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমাতে সয়া-প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনি যদি আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন সয়া-মিল্ক। ঝাল লঙ্কা: খাবারে অর্ধেক চামচ ঝাল লঙ্কা মিশিয়ে সেই খাবার খেয়ে ফেলুন। অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমে যাবে। চেরি: এই ফলটিতে অ্যান্থোসায়ানিস নামে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে প্রদাহ কমায়। কফি: কফিতে রয়েছে কেফিন নামে একটি উপাদান। এটি যন্ত্রণার প্রকোপ কমায়। এমনকী মাথার যন্ত্রণা কমাতেও দারুন কাজে আসে কেফিন। তবে বেশি মাত্রায় কফি খাওয়া একবারেই উচিত নয়। মিন্ট পাতা: দাঁতের যন্ত্রণা, মাথার যন্ত্রণা, নার্ভের পেইন এমনকী পেটের নানা গোলযোগ সারাতেও মিন্ট পাতা দারুন কাজে দেয়। লাল আঙুর: যে কোনও ধরনের ব্যথা কমাতে এই ফলটি দারুন কাজে লাগে। এবার আপনার সিদ্ধান্ত, যন্ত্রণা কমাতে গিয়ে জটিল কোনও রোগ আক্রান্ত হতে চান নাকি প্রাকৃতিক উপাদানের এসব ঘরোয়া ওষুধ খেয়ে উপকার পেতে চান! একে//
কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় পেইনকিলার ট্যাবলেট

হালকা বা জোড়ালো যেকোনো ব্যথাতেই আমাদের অনেকেই প্রথমে বেছে নিই পেইন কিলার ট্যাবলেট। কাজও হয় নিমিষেই। কিছুক্ষণেরও মধ্যেই সেরে গেলো ব্যথা। কিন্তু এতে আপনার যে কতোবড় ক্ষতি হলো তা হয়তো আপনি জানেন না। আর জানলেও তা নিয়ে আপনি মোটেও চিন্তিত নন। অতিরিক্ত পেইনকিলার ট্যাবলেট খাওয়াটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রফেনের মতো পেইনকিলার মাসে ১৫ দিনের বেশি নিলে বাড়তে পারে মাথার যন্ত্রণা। সম্প্রতি নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি গবেষণায় দেখেছেন যে, নিয়মিত পেইনকিলার খেলে দেহের ওজন বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড়ে যায়। আর ওজন বৃদ্ধি মানেই তার সঙ্গে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো মারণব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। এখানেই শেষ নয়, আরও বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়ম ছাড়া পেইনকিলার সেবনে ফুসফুস, পাকস্থলি, ইনটেস্টাইন, লিভার, কিডনি সহ শরীরের একাধিক অঙ্গের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। তবে এর বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক কিছু পেইনকিলার আছে, যা যন্ত্রণা কমাবে কিন্তু শরীরের কোনও ক্ষতি হতে দেবে না। বরং আরও নানা উপকারে লাগে। এসব প্রাকৃতিকে পেইন কিলারগুলো হচ্ছে- দই, আদা, হলুদ, লবণ, সয়াবিন, মরিচ, চেরি, কফি, লাল আঙ্গুর প্রভৃতি। একটি নির্দিষ্ট নিয়মে এসব প্রাকৃতিক উপাদানগুলো খেলে পেইনকিলার হিসেবে কাজ করে।   একে//

ডাক্তারদের আরও আন্তরিক হতে হবে : ইকবাল সোবহান

রোগীর সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তারদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও জোর দেন তিনি। আজ রোববার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘রোগীর স্বার্থ ও চিকিৎসকের নিরাপত্তা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় ডাক্তার অপ্রতুল। যে কারণে ডাক্তারদের ওপর অনেক চাপ পড়ে। যে কারণে অনেক ডাক্তার আছেন যারা রোগীকে সময় দিতে চান না। আমি তাদের বলতে চাই সঠিক সেবা নিশ্চিত করুন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে মিডিয়া ও ডাক্তার মিলে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারকে ডাক্তারের সঠিক সস্মানী নিশ্চিত করতে হব, তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক শহিদুল্লাহ, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। / এআর /

দেশে সর্ববৃহৎ বার্ন ইনস্টিটিউট চালু ২০১৮ তে

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে’র ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ৫০০ শয্যার এই বার্ন ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হলে পোড়া রোগীদের সুচিকিৎসা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জনবল (ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য) তৈরি করাও সম্ভব হবে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর চানখারপুলে ইনস্টিটিউট প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৫২২ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটির ৩টি বেজমেন্টসহ ১৮তলা মূল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করার পরপরই যাতে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যায় সেজন্য পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দুই স্বাস্থ্যসচিব ফয়েজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক অতিরিক্ত সচিব, বার্ন ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন, ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা.আবুল কালাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিরউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। একে// এআর

শীতের সর্দি-জ্বর সারাবে আদা-রসুনের স্যুপ

শীত শুরু হতেই হাজির হয় জ্বর, সর্দি, অ্যাজমা, গলা ব্যথা ও ইনফেকশন। এই সময় সর্দি, জ্বর দূরে রাখতে আদা, রসুনের বিকল্প নেই। পুরনো সেই আদা, রসুনের মিশ্রনে তৈরি স্যুপের উপর ভরসা রাখতে পারেন আপনিও। শুধু জ্বর হলেই নয়, সারা শীতকালেই খেতে পারেন এই স্যুপ। বলা হয় রসুনের থেকে ভালো ওষুধ আর হয় না। রসুনের গুণাগুণ অনেক। ভাইরাল ফিভার, ঠাণ্ডা লাগার মতো অসুখের প্রতিরোধ করতে রসুন খুব উপকারী। শুধু ঠান্ডার জন্যই নয়, রসুন যেকোনো অ্যালার্জি, গলা ব্যথা, ফুসফুসের ইনফেকশনের মতো সমস্যা নিমিষে সারিয়ে তোলে। এছাড়া উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কোলেস্টেরল, হার্ট অ্যাটাক এবং স্টোক প্রতিরোধেও রসুন খুব কাজে দেয়। অন্যদিকে রসুনের মতোই আদাও খুবই উপকারী একটি ঘরোয়া উপাদান। বহু যুগ ধরেই সর্দি, জ্বর, পেটের সমস্যা সারাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আদা। অনেক রকমের রোগ প্রতিরোধ করতে আদা খুব উপকারী। জ্বর কমাতে এক কাপ আদার রসে মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গেই ফল পাবেন। ফলে এই রসুন আর আদা যখন আপনি একসঙ্গে সেবন করবেন তখন তা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুণে বাড়িয়ে দিবে। এবং আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। প্রস্তুত প্রণালী প্রথমেই একটা ব়ড় বাটিতে পেঁয়াজ, রসুন, আদা সব কিছু নিয়ে ২ মিনিট হালকা আঁচে নেড়ে নিন। এর মধ্যে স্টক বা ব্রোথ দিয়ে আঁচ কম রেখেই আদা, রসুন, পেঁয়াজ নরম না হওয় পর্যন্ত ফোটাতে থাকুন। উপরে চিলি পেপার কুচি ছড়িয়ে মিনিট পাঁচেক ঢিমে আঁচে রেখে নামিয়ে নিন। যদি বেশি মশলা পছন্দ না হয় তা হলে লঙ্কা গুঁড়োর বদলে ছড়িয়ে নিতে পারেন দারচিনি গুঁড়ো। আরও বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলতে মেশাতে পারেন গাজর এবঙ বিট। সূত্র : আনন্দবাজার। একে//  

বায়ুদূষণে বিকল হচ্ছে শিশুর মস্তিস্ক

বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৭০ লাখ শিশু বিষাক্ত বায়ু গ্রহণ করছে। আর এতে এদের মস্তিস্কের বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা  ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এক বছরেরও কম বয়সী শিশুদের উপর গবেষণা চালিয়ে এমন প্রতিবেদন তৈরি করে ইউনিসেফ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকায় ১ কোটি  ২০ লাখ শিশু ঝুঁকিতে আছে জানিয়ে ইউনিসেফ সতর্ক করে দিয়েছে। তারা আরও জানায়, বাতাসে দূষণের পরিমাণ সর্বনিম্ন মাত্রার চেয়ে ছয়গুন বেশি আছে। এছাড়া পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কমপক্ষে ৪০ লাখ শিশু ওই ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির ফলে শিশুদের মস্তিস্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এটি শিশুদের মানসিক বৃদ্ধিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাদের এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। শিক্ষার্থীদের বাচনীয় ও অবাচনীয় আইকিউ এবং স্মৃতির পরীক্ষায় দেখা গেছে বায়ুদূষণের মধ্যে বড় হওয়া শিক্ষার্থীদের টেস্ট স্কোর তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে।  একইসঙ্গে তাদের মধ্যে স্নায়ুবিক পরিবর্তনও লক্ষ করা গেছে।  ভারতের রাজধানী দিল্লীর বায়ুদূষণের চিত্র যখন উপমহাদেশে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে তখনই ইউনিসেফ এমন রিপোর্ট প্রকাশ করলো। এদিকে দিল্লীর পরিবেশ শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বের নগরীগুলোতে বায়ুদূষণরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় আসছে বছরগুলোতে আরও ব্যাপকহারে শিশুরা এই ঝুঁকিতে পড়বে বলেও জানান তিনি।  তাই বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে ‘মাস্ক’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই সংগঠনটি। সূত্র বিবিসি এমজে/ এআর          

শীতের সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে

ঘুম থেকে উঠলেই দেখা যায় প্রকৃতি কুয়াশাচ্ছন্ন। এখানে সেখানে বিন্দু বিন্দু শিশির জমে আছে। শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে শহুরে জীবনেও। ঋতু পরিবর্তনের শুরুর এই সময়টা উপভোগ্য হলেও দেখা দিতে পারে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা। শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে কম তাপমাত্রার সংযোজন আর ধূলাবালির উপদ্রব, সব মিলিয়েই সৃষ্টি করে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা। এর জন্য প্রয়োজন কিছু সতর্কতা। শীতে প্রধানত বাড়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ। শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি ও কাশি যেন আঁকড়ে ধরে। অনেক সময় একবার কাশি শুরু হলে পিছু ছাড়তে চায় না। একটানা খুকখুক কাশি বিরক্তিকর লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাশি কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। শীতে যেসব রোগ সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো সর্দি-কাশি, ঠান্ডাজ্বর। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগ হয়। এই রোগটি মূলত ভাইরাস জনিত। ঠান্ডার অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াও এ রোগের ক্ষেত্রে জ্বর ও কাশিটা খুব বেশি হয় এবং শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত দেহের দুর্বলতার সুযোগে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়াও আক্রমণ করে থাকে। বিশেষ করে নাকের সর্দি যদি খুব ঘন হয় বা কাশির সঙ্গে হলুদাভ কফ আসতে থাকে, তা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণকেই নির্দেশ করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে বিশ্রাম, প্রচুর পানীয়, ফলের রস ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে। খুব বেশি জ্বর, গলাব্যথা, কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সর্দি-কাশি ও হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয় * কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা। * ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করা * ধুলাবালি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত। * তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা দেহকে সতেজ রাখবে এবং রোগ  প্রতিরোধে সহায়তা করবে। * প্রয়োজনমতো গরম কাপড় পরা। * ঘরের দরজা-জানালা খোলা রেখে মুক্ত ও নির্মল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা। * চোখ বা নাক মোছার পরপর হাত ধোয়া। * রাস্তায় চলাচলের সময় মাস্ক পরা। * হাঁপানি রোগীরা শীত শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। শীতে অনেকে সাইনোসাইটিসের সমস্যায় ভোগেন। অনেকে আবার ফুসফুসের সংক্রমণের সমস্যায় ভোগেন। নিউমোনিয়াও এ সময় প্রচুর দেখা দেয়। তাই প্রত্যেকের প্রতিরোধমূলক জীবনযাপন করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে হবে। একে// এআর

শীতের সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে শুরু হয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। আবহাওয়া পরিবর্তন এবং নানা কারণে বাড়ছে ডায়রিয়া। রাজধানীর বিভিন্ন হসপিটালে বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইন্টারনেশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিচার্স (আইসিডিডিআরবি), বাংলাদেশ গিয়ে দেখা যায় প্রতিদিন সেখানে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছে। ঢাকা এবং এর আশে-পাশের জেলা থেকে শিশুকে নিয়ে ছুটে আসছেন সবাই। হাসপাতালের বাইরে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পায়চারী করছেন রুপগঞ্জ থেকে আসা জাকির হোসেন। তিনি বলেন, আমার বাচ্চার হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এক বছরের বাচ্চা। প্রথমে এলাকার ডাক্তার দেখাই। এতে কিছু না হলে তাড়াতাড়ি এসে এই হসপিটালে ভর্তি করি। আজকে চার দিন এই জায়গায় পড়ে আছি। এখন কিছুটা ভালো আছে। হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়ে আছে। টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন ১২ মাসের এক শিশু নিয়ে বাবা মা। তারা জানান, গত সাত দিন ধরে তাদের বাচ্চা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে এসেছেন আসমা বেগম। তিনি বলেন, আমরা গ্রামে থাকি। আমার বাচ্চার বয়স এক মাস একদিন। ডায়রিয়া শুরু হলে এক প্রতিবেশির পরামর্শে আমরা তাড়াতাড়ি এখানে চলে আসি। এভাবে সারাদেশেই এখন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর এই আইসিডিডিআরবি হসপিটালে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, সেখানে ২ ডিসেম্বর ভর্তি হয় ৫০১ জন রোগী। ৩ ডিসেম্বর ৪৫১ জন। ৪ ডিসেম্বর ৪৭০ জন। এ রকম প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন ডাক্তার বলেন, আমাদের এখানে এখন প্রতিদিনই অসংখ্যা রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন বয়সী রোগীও আছে তবে শিশু রোগী প্রায় ৯০ শতাংশ।   বর্তমানে ডায়রিয়া কেন বেশি হচ্ছে এবং এ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় জানতে চাইলে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের সিনিয়র বিজ্ঞানী ও চাইল্ড ম্যালনিউট্রিশন এর প্রধান ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। সাধারণত পচা-বাসি খাবার থেকে বা বাড়ির পাশের কোনো মলমূত্র থেকে যেখানে মাছি বসছে এবং পরে সেই মাছি এসে খাবারে বসছে, টয়লেটে যাচ্ছে কিন্তু ভালোভাবে হাত পরিস্কার করছে না। পরে এসে সেই হাত দিয়ে খাবার বানাচ্ছে বা বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে। আবার অনেক সময় বাচ্চাকে খাওয়ানোর ফিডার ভালো মতো পরিস্কার থাকে না। নিপলের মধ্যে জীবাণু থাকে। সেখান থেকেও ডায়রিয়া হতে পারে। ডায়রিয়ায় কী করবেন : ডায়রিয়া হলে এর চিকিৎসা কি হবে এ সম্পর্কে ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ডায়রিয়া হলে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে- এক. পায়খানা বেশি হলে স্যালাইন বেশি খাওয়াতে হবে। আর কম পায়খানা হলে স্যালাইনও কম খাওয়াতে হবে।   দুই. পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চারা জিঙ্ক খাবে। একটা টেবলেট পানির মধ্যে গুলে খেয়ে নিবে। আর ৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের টেবলেটের আধা অংশ পানিতে গুলে খাওয়াবে। এক্ষেত্রে সিরাপও খাওয়াতে পারে।   তিন. স্বাভাবিক সব খাবার খাবে। তবে সাধারণ ডায়রিয়া হলে রোগীকে কোনো ধরণের এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। সমস্যা বেশি দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করবে। শাক সবজি এ সময় না খাওয়াই ভালো। তবে শীতে বাচচাদের রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া বেশি হয়। এথেকে সাবধান থাকতে হবে।   এসএইচ/      

এইচআইভি আক্রান্ত মায়েদের সুস্থ সন্তান প্রসব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গাইনি বিভাগে গত সাড়ে চার বছরে এইচআইভিতে আক্রান্ত মোট ৪৯ জন গর্ভবতী মা সুস্থ সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান । বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে  রোববার এইচআইভি সেবা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প-এর উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে সমাবেশে তিনি এ  তথ্য জানান। ভিসি  বলেন, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি  বাংলাদেশে ওই বছরের ১৬ মে থেকে   সরকারি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান শুরু করেছে এবং এ সেবা এখনও অব্যাহত আছে। সমাবেশে  জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিনামূল্যে এআরভি প্রদান ও সকল রোগের চিকিৎসা সেবার পথ চালু হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এআরভি নিচ্ছেন। গত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৪৭ জন রোগী এআরভি নিয়েছেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থাসহ গণমাধ্যমের প্রশংসনীয় ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এইচআইভি ছড়িয়ে পড়েনি এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন,  গণমাধ্যমের এই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী এই রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএসএমএমইউ প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল,  কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাল আল হারুন,  মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহিম, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজমুল করিম মানিক  অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী ও উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক খালেদা আক্তার প্রমুখ।   একে// এআর

যে রোগে মারা গেলেন মেয়র আনিসুল

সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস কেড়ে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে। হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাই সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস। যাকে আমরা চিনি মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ রোগ হিসেবে। সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস বা মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ রোগকে অনেকে স্ট্রোক ভেবে থাকেন। তবে আসলে কি সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস স্ট্রোক? বিশেষ করে আমাদের মেয়র আনিসুল হক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস বিষয়টি সামনে আসে। আসুন, সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস সম্পর্কে জেনে নিই।   সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস নামক রোগটির অপর নাম সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ভাস্কুলাইটিস। মস্তিষ্কের রক্তনালীর সমস্যা হওয়া মাত্র মস্তিষ্কের রক্তনালীর রক্ত চলাচলের পথ ক্রমশ সরু হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় অথবা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের ওই এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ড্যামেজ হয়। অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।  যাদের সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস হয় তাদের নানাবিধ নিউরোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন- মাথাব্যথা, ত্বকে দানা বের হওয়া, সব সময় দুর্বল অনুভব করা, জয়েন্ট পেইন, চলাফেরা করতে কষ্ট হওয়া, অনুভূতি লোপ পাওয়া। এমনকি কখনো কখনো আচরণগত সমস্যাও হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস কোনো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন রোগের জটিলতা হিসাবেও সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস হতে পারে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস এক ধরনের বিরল রোগ। এ ধরনের রোগের ডায়াগনোসিসও বেশ দুরূহ। এছাড়া এধরনের রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার কোনো পূর্ব প্রস্তুতিও নেওয়া কঠিন। তাই মস্তিষ্কের যে কোনো ধরনের সমস্যা অনুভূত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এমজে/এআর

স্বাস্থ্যসম্মত তেল কতটুকু সত্য! 

আমরা প্রায় বিজ্ঞাপনে দেখি এই তেলে কোলস্টেরল নেই, আবার বলা হয় সেই তেল শতভাগ কোলেস্টেরলমুক্ত বা হৃদয়বান্ধব তেল। আসলে কতটুকু সত্য এসব বিজ্ঞাপন। তেল হচ্ছে ১০০ শতাংশ ফ্যাট। সব ধরনের তেলে সম্পৃক্ত বা অসম্পৃক্ত চর্বি দুটোই থাকে। আর আমরা আগেই জেনেছি, সম্পৃক্ত চর্বি বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রবেশের পর কোলেস্টেরলে রূপান্তরিত হয়। সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার ও স্যাফ্লাওয়ার তেল অন্য তেলগুলোর তুলনায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই এগুলো অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর। কিন্তু সব ধরনের তেলেই যেহেতু ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে তাই সব ধরনের তেলই আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে, যদি পরিমাণটা অতিরিক্ত হয়। এছাড়াও তেলের পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে থাকা ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, যা শরীরের রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই আপনার দৈনন্দিন খাবারে তেলের পরিমাণ যত কম থাকে তত ভালো। আর আপনার করোনারি ধমনীতে যদি ব্লকেজ থাকে, তবে আপনার জন্যে সবচেয়ে ভালো হলো বিনা তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া। প্রথম দিনেই বিনা তেলে রান্না খাবার খেতে যাবেন না, কারণ সেটি আপনার কাছে ভালো লাগবে না। আপনার খাবারে তেলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন। তাতে আপনি একসময় তেল ছাড়া রান্না করা খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। সূত্র: কোয়ান্টাম হার্টক্লাব এর হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ গ্রন্থ থেকে সংকলিত (সংক্ষেপিত)।   এম/এসএইচ  

ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের দাবি বিজ্ঞানীদের

ভয়ঙ্কর রোগ ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করার জন্য বছরের পর বছর ধরে বিশেষ়জ্ঞরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। কষ্টকর কেমোথেরাপি ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো সুরাহা মেলেনি। কিন্তু এবার ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারে যুগান্তকারী সাফল্য পেলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা এক ধরনের ‘ইমিউন থেরাপি’ আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে সারিয়ে ফেলা যাবে ক্যানসার। এতে ক্যানসার পুরোপুরি সেরে যাবে বলে তাঁদের দাবি। তবে এখনই নয়, ২০১৮ সালে পাকাপাকি ভাবে এই পদ্ধতিতে ক্যানসারের চিকিৎসা করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম স্টেজে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের রক্ত কোষ দিয়েই তৈরি হবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি। বিজ্ঞানীরা ক্যানসার মেরে ফেলার জন্য এ কোষগুলোকে প্রতিরোধক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে এই রক্ত কোষগুলির পরিমাণ ১০ লক্ষ গুণ বাড়িয়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। এই কোষগুলিই ক্যানসার নিরাময় করবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ওই রক্তকোষ অর্থাৎ নিউট্রোফিল সেল কেমিক্যাল এবং অ্যান্টিবডির দ্বারা ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে কলকাতার বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই নতুন পদ্ধতি আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। সফলভাবে যদি এই পদ্ধতি রোগীর ওপর প্রয়োগ করা যায় তাহলে চিকিৎবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।’ তবে তিনি বলেছেন, এর আগেও বিজ্ঞানীরা এরকম অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে তা সফলও হয়েছে। কিন্তু কোনও মানুষের ওপর তা প্রয়োগ করার পর সফলতা ততটা মেলেনি, কিংবা মিললেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে গেছে। সূত্র: জিনিউজ একে//এআর

সুস্থতার জন্য নারীদের করণীয়

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৯৯০ সালের পর থেকে সারা বিশ্বে নারীদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুহার। এমন পরিস্থিতি তেকে বাঁচতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় ভালোভাবে অনুসরণ করতে হবে।   ইমিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এ গবেষণায় দেখা গেছে ৯০-এর দশকের পর থেকে যেখানে কম বয়সি পুরুষদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে, সেখানে নারীদের শারীরিক অবনতি ঘটেছে চোখে পরার মতো। ফলে ২৫-৩৪ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে বেড়েছে মৃত্যুহার। ১৯৯০ সালে যেখানে নারীদের  অসুস্থতার হার ছিল মাত্র ৮.৫ শতাংশ, সেখানে ২০১৪ সালে এটি বৃদ্ধি   প্রায় ২০ শতাংশের মতো হয়েছে। এদিকে, কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ছেলেরা নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যতটা সচেতন, নারীরা এই বিষয়ে বড়ই উদাসীন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নারীদের মধ্যে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেসের মতো মরণব্যাধিতে  আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে নারীদের  সুস্থভাবে বাঁচতে হলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে শতর্ক থাকতে হবে। ১) ডায়াটের দিকে নজর দিন নারীদের শরীর ছেলেদের তুলানায় অনেক বেশি জটিল। তাই নারীদেরকে তাদের শরীরের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। নারীদের  প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হলো ডায়েটের প্রতি নজর দেওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে ফল, সবুজ শাকসবজি ছাড়াও ডিম, মাছ এবং মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারও  খেতে হবে।  অন্যদিকে ৪০-এর পর থেকে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে। ফলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময় প্রতিদিন নিয়ম করে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে  হবে। ২)  শরীরচর্চা একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে শরীরচর্চার অভাবে নারীদের মধ্যে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও শরীরচর্চার অভাবে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগও বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়ম করে শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে। ৩) মদ্যপান এবং ধূমপান বর্তমান সমাজে কিছু অতি আধুনিক নারী মদ্যপান ও ধূমপান করাকে ফ্যাশন হিসেবে মনে করে থাকে। কিন্তু এ মদ্যপান  এবং ধূমপান নারীদের  শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। তাই তাদের উচিত  মদ্যপান ও ধূমপান থেকে নিজেদের বিরত রাখা। ৪) স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে মানসিক চাপকে একেবারে ঘাড়ে উঠানো চলবে না। কারণ স্ট্রেস হলো ডায়াবেটিসের মতো এক ধরনের সাইলেন্ট কিলার। তাই তো একবার যদি এ রোগ শরীরে প্রবেশ করে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে সব শেষ করে দেয়। তাই যখনই ক্লান্ত লাগবে, মনে হবে আর স্ট্রেস নিতে পারছেন না, তখনই সব কিছু ছেড়ে কিছুদিন কোথাও থেকে একটু ঘুরে আসবেন। প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। দেখবেন মানসিক চাপ আর আর বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। ৫) ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে সাবধান নারীদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকির নাম হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যান্সার । আর এটি জীবনযাত্রার কারণে হোক বা পরিবেশ গত কারণে হোক এর প্রতি নারীদের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এই বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলা যাবে না। কারণ এই মারণ রোগকে যদি আটকাতে চান তা হলে আপনাকে সচেতন হতেই হবে।  তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই। এম/এসএইচ  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি