ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮ ১০:১২:৩৬

নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে মিলবে  ১৪ উপকার

নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে মিলবে  ১৪ উপকার

এক গ্লাস পানি এবং একটা অর্ধেক লেবু। এই দুটি উপাদানের সহযোগে বানানো শরবত রাত দিন খেলেই দেখবেন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিকানা আপনি একেবারে ভুল গেছেন। কেননা একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে, নিয়মিত লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন- লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত লেবু পানি খেলে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে লিভারের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। পুষ্টির ঘাটতি দূর হয় লেবু পানির ভেতরে যে কেবল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত থাকে, তা নয়, সেই সঙ্গে উপস্থিত থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও কত কী, যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে শরীরকে শক্তপোক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেল ঠিক থাকে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি খেলে দেহের ভেতরে পি এইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। টিবি রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে, টিবি রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যদি খাওয়া যায়, তাহলে ওষুধের কর্মক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। ফলে রোগের প্রকোপ কমতে সময়ই লাগে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন লেবু পানি খাওয়া শুরু করলে দেহের বেতরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে হাজারো বিউটি প্রডাক্ট যা করে উঠতে পারেনি, তা লেবু পানি নিমেষে করে ফেলতে পারে। আসলে এই পানীয়তে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। সেইসঙ্গে ত্বকের বয়স কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, গরমকালে ত্বককে ঠাণ্ডা এবং ঘামমুক্ত রাখতে লেবুর পানি দিয়ে বারে বারে মুখটা ধুতে পারেন, দেখবেন উপকার পাবেন। ওজন হ্রাস পায় নিয়মিত লেবু পানি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তি মেদ ঝরে যেতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ লেবুর বেতরে উপস্থিত পেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে, কম মাত্রায় খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কম মাত্রায় ক্যালরির প্রবেশ ঘটে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। এনার্জির ঘাটতি দূর হয় ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি না খেয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর চনমনে হয়ে উটতে সময়ই লাগবে না। আসলে লেবুর ভেতরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে সকাল সকাল শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না। শ্বাস কষ্টের মতো সমস্যা কমে যারা অ্যাস্থেমা বা কোনও ধরনের রেসপিরেটরি প্রবলেমে ভুগছেন তারা যত শীঘ্র সম্ভব রোজের ডায়েটে লেবুর পানিকে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন কেমন ফল পান! আসলে এই পানীয়টি শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত একাধির জটিলতাকে কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে। স্ট্রেস এবং অবসাদের থেকে মুক্তি মেলে একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত লেবুর পানি খেলে স্ট্রেস একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে অবসাদের প্রকোপও কমে। আসলে লেবু পানিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে এমন সব সমস্যা নিমেষে কমে যেতে শুরু করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে লেবু পানিতে থাকে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এমন রোগে যারা বহু দিন ধরে ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকাল-বিকাল লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন। তবে এমনটা করার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন। পেটের স্বাস্থ্যের প্রকোপ কমে যারা বদ হজম, কনস্টিপেশন, বারংবার পেট খারাপসহ নানাবিধ পেটের রোগে ভুগে থাকেন তারা প্রতিদিন সকালে গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে রোগের প্রকোপ তো কমবেই, সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনও বেরিয়ে যাবে। মুখ গহ্বরের নানা রোগ নিমেষে সেরে যায় মুখ থেকে খুব দুর্গন্ধ বেরয়? এদিকে নানা কিছু করেও সুরাহা মিলছে না? তাহলে আজ থেকেই লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন বদ গন্ধ একেবারে কমে যাবে। শুধু তাই নয়, মাড়ি থেকে রক্ত পাত এবং দাঁতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা হলেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। সংক্রমণের প্রকোপ কমে লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। তাই তো লেবু পানি যে কোনও ধরনের সংক্রমণ, বিশেষত গলার সংক্রমণ কমাতে দারুনভাবে সাহায্য় করে থাকে। এক্ষেত্রে লেবু পানি দিয়ে গার্গেল করলেই উপকার পাওয়া যায়। সূত্র: বোল্ডস্কাই আরকে//একে//
ঈদের দিন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার

রমজানে দীর্ঘ এক মাস দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে অামাদের পরিপাকতন্ত্র দিনের বেলায় বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে। কিন্তু ঈদের দিনে যখন অামরা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করি বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও গুরুপাক খাবার তখন অামাদের পরিপাক তন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় যার ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া সহ বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এই উপসর্গগুলি ছাড়াও একজন ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি যে উপসর্গটি দেখা দিতে পারে তা হলো রক্তের শর্করা বা চিনি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া। অার এই কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের ঈদের দিন খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার বিশেষ করে সেমাই, ফিরনী, জর্দা, পুডিং এই জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। সকালের নাস্তায় রুটি পরোটা নুডুলস এই জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। দুপুরে ও রাতে যদি গুরুপাক খাবার বিশেষ করে পোলাও,  বিরিয়ানী, রোস্ট, রেজালা খেতে চায় তবে সেটা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে হতে হবে। সাথে অবশ্যই সালাদ খেতে হবে। এছাড়াও পুদিনা পাতার ভর্তা, টক দই, টক দই দিয়ে বানানো বোরহানি হজমে সহায়তা করে।কোল্ড ড্রিংকস, বিশেষ করে কোকা কোলা, স্প্রাইট, সেভেন অাপ, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা। বিকল্প চিনি দিয়ে বানানো লেবুর শরবত বা রং চা খাওয়া যেতে পারে।  সারাদিনে অবশ্যই প্রচুর পানি খেতে হবে।  ঈদের দিন সকালে খালি পেটে এবং সকালের নাস্তার বা দুপুরের খাবারের দুই ঘন্টা পর গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যেতে পারে।[লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ। বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।]অনু লেখক : অালী অাদনানএসএ/

ঈদের দিনের খাবার-দাবার

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি।বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে বড় বয়স পর্যন্ত ঈদের খুশি সবার মনে এক অন্যরকমের অনুভূতি দেয়।মানুষ যখন ছোট থাকে তখন ঈদের আনন্দটা যেনো অনেক বেশি থাকে, কারণ দায়িত্বটা থাকে বাবা মায়ের উপর।আর বড় হলে দায়িত্ব চলে আসে নিজের উপর।সেটা যে কোনো কিছুর দায়িত্বই হতে পারে।এই ধরুন খাবার দাবারের ব্যাপারটা।আপনি ছোট বেলাই কিন্তু চিন্তা কম করতেন যে, আপনি কি খাবেন কি খাবেন না।কিন্তু বড় হওয়ার পর আপনার নিজেরসহ পরিবারের সবার চিন্তা করতে হচ্ছে। আমরা সবাই জানি, পুষ্টি চাহিদা বয়স, ওজন, উচ্চতা, লিংগ এবং রোগ ভেদে পরিবর্তন হয়।আনন্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও খাবার গ্রহণ এর ব্যাপার এ প্রত্যেকের সতর্ক থাকা উচিৎ। ঈদের দিনে আমরা কম বেশি সবাই একটু নিয়মের বাইরে যেতে চায়, কিন্তু তাই বলে খেয়াল রাখতে হবে যেনো খুব বেশি যেনো অনিয়ম না হয়ে যায়। ঈদের দিনের খাবার আমাদের শারীরিক পুষ্টি চাহিদা অন্যান্য দিনের মত এই দিনও একি থাকবে।তবে দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর হঠাত করে বেশি খাওয়াটা সবার জন্য সহনীয় হয় না।তাই যার যার ডাইজেশন পাওয়ার অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ ভিন্ন হওয়া জরুরি। আর একটি জিনিস এবারের ঈদে সবাই কে মাথায় রাখতে হবে, সেটা হল ঈদ টা পরেছে গরমে।তাই খাবার গ্রহনের সময় এই জিনিস টিও মাথায় রাখতে হবে। ঈদের সকালের নাশতা সকালের নাশতা খুব সাধারন এবং সহজপাচ্য হতে হবে। প্লেইন রুটি, সঙ্গে সবজি অথবা পরিমিত পরিমাণে সেমাই বা পায়েশ নেওয়া যেতে পারে।সে ক্ষেত্রে যাদের ওজন অতিরিক্ত বেশি এবং ডায়েট কন্ট্রোল এ আছেন তারা সেমাই বা পায়েশ খেলে রুটি টা বাদ দিবেন।কারণ সেমাই বা পায়েশ দুইটার মধ্যেই শর্করা আছে। সঙ্গে আধা ঘন্টা পর যে কোনো একটি ফল বা ফলের সালাদ খেতে পারেন।যারা ডায়াবেটিক রোগী তারা অতিরিক্ত শর্করা গ্রহনেও সচেতন থাকবেন। ঈদের দুপুরের খাবার ঈদের দিন দুপুরে সময়মত খাবার খাওয়া হয়ে ওঠে না। ঘোরাঘুরি আর বন্ধু দের সঙ্গে আড্ডায় খাওয়ার কথা অনেকেই ভূলে যান বা দেড়ি করে ফেলেন।এই ব্যাপারে সবারই সচেতন হওয়া উচিৎ। যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদেরকে অবশ্যই খাবার সময়মত খেতে হবে।আর অন্যদেরো ও সমান।কেনোনা খাবার সময় মত না খেলে অনেক রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে, যেমন গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা, মাথা ব্যাথা, খাবার হজমে সমস্যা ইত্যাদি।  এবার খাবারের মেনুতে আসি।দুপুরের খাবার আবার ঈদের দিন, সেক্ষেত্র তো একটু স্পেশাল হওয়ারই কথা।কিন্তু খুব বেশি অয়েলি খাবার খাওয়ার চিন্তা করা থেকে বিরত থাকায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে।ভাত, পোলাও, বিরিয়ানি যেটাই খাবেন আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেটার প্রসেস কিভাবে করবেন।তারপর গ্রহণ করার সময় অবশ্যই আপনাকে পরিমাণটাও ঠিক করে নিতে হবে।মাংস খেলে যে কোনো এক ধরনের খেতে হবে।যেমন, মুরগি, গরু,খাসীর মাংস যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। সঙ্গে যে কোনো সবজি বা সালাদ অবশ্যই রাখতে হবে। সালাদ এ টক দই ব্যবহার করলে খুবই ভালো হবে। ঈদের রাতের খাবার: রাতের খাবার ও হালকা হলে পরের দিনের অনুভূতি ও ভালো হবে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করার পর স্বাভাবিক ভাবেই সবাই ক্লান্ত হয়ে যায়।তাই রাতের খাবার এর মেনু এমন রাখতে হবে যেনো পেট ভরার সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তিভাবটাও চলে যায়। ভাত অথবা রুটি এর সঙ্গে যে কোনো একটা তরকারি নিতে হবে।সেটা হতে পারে মাংস অথবা ডালের সবজি।সঙ্গে একটি টক ফল। মনে রাখতে হবে যে বিষয়টি: মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা এক নয়।অনেকেই অনেক রোগে আক্রান্ত। তাই অনেকেরই খাবার আলাদা হবে।তাই যার যেই খাবার এ রেস্ট্রিকশন আছে তাকে সেটা মেনে খেতে হবে।খাবার গ্রহণে পরিমাণ আর খাবারের টাইপ বুঝে খেতে হবে।গরমের কারণে ঘোরাঘুরিতে শরীর থেকে অনেক পানি আর লবণ বের হয়ে যেতে পারে তাই এই ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে।প্রচুর পানি বা ফলের পিওর জুস বা ডাবের পানি খেতে পারেন।সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে খাবেন। রোজা রাখার পর অনেকেরই হজমে সমস্যা হতে পারে তাই এই ব্যাপার টিও খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের আনন্দ যেনো বাদ না পরে যায়: খাবারের চিন্তা করতে গিয়ে, ঈদের আনন্দ যেনো কম না হয়ে যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। বছরে একবার ঈদ উল ফিতর পায় সবাই।তাই ঈদের এই দিনটিকে স্পেশাল করতে অন্যান্য আনন্দ বহাল রাখা উচিৎ। পরিবারের সবার সাথে বসে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, গল্প করা ইত্যাদি যেনো ঠিক থাকে... সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।ঈদ মোবারক।  লেখক# পুষ্টিবিদ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চার খাবার

ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এটি একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধি। ডায়াবেটিসের ফলে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে প্রথমেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বন্ধ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে একেবারে বদলে যায় রোজকার রুটিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিন ইনজেকশনই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। তবে রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, একেবারে সামান্য খরচে। এমন চারটি খাবার রয়েছে যা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা থাকবে একেবারে নিয়ন্ত্রণে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী? করলা গবেষণায় দেখা গেছে, করলার মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা অ্যান্টি-ডায়েবেটিক এবং ইনসুলিন ইনজেকশনের থেকেও বেশি কার্যকর। চিকিৎসকেরা বলছেন, কাঁচা করলা বা করলার রস নিয়মিত খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। গম যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য গম খুবই উপকারী। আটার রুটি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সবুজ শাক-সবজি চিকিৎসকদের মতে, যে কোনও সবুজ শাক, তা সর্ষে শাক-সবজি যেমন, পালং শাক, মুলো শাক ইত্যাদি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তারা নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। কুমরোর বীজ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ কুমরোর বীজ রোদে শুকিয়ে নিয়ে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। যখনই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করবে, তখনই দু’-একটা কুমরোর বীজ মুখে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং একই সঙ্গে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সূত্র: জিনিউজ একে//

সন্তানকে থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচাতে ব্যবস্থা নিন বিয়ের আগে

থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি রোগ। মরণব্যাধি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু জন্ম গ্রহণ করছে। একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা যায়, থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশুর মধ্যে সেটা দেখা যায় না। বিষন্নতার চাদরে ঢাকা যেন এক প্রাণ। এমন শিশুকে নিয়ে মা বাবার স্বপ্ন ভালবাসা আবেগ যেন মুহুর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। একটু সচেতন হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব। থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সারাজীবনই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ ও জীন থ্যারাপি। এমন চিকিৎসা সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।     থ্যালাসিমিয়া কি? থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি বংশগত রোগ। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তের লৌহিত কণিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে এদের মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। থ্যালাসিমিয়া রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়। এই রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারা বেঁচে থাকে। আবার এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা করা না হলে রক্তশুন্যতার কারণে মারা যায়।   বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এই রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তন্মধ্যে থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অন্যতম। রাজধানীর চামেলিবাগে অবস্থিত হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক রোগী এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদয়কাড়া, ফুটফুটে অনেকগুলো শিশু শুয়ে আছে হাসপাতালের বেড়ে। তাদের দিকে তাকালে যে কারো মায়া হবে।  কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা আক্তার নিপা নামে এক মা শুকনো মুখে বসে আছেন তার ফুটফুটে সন্তান আরাফাতের পাশে। কবে থেকে বুঝতে পারলেন আপনার শিশু এই রোগে আক্রান্ত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর বয়স যখন ৫ মাস তখন বুঝতে পারি যে তার থ্যালাসিমিয়া হয়েছে। প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। ওর সব সময় ঠান্ডা লেগে থাকতো। হাত পা হলুদ হয়ে যায়। ফলে কুমিল্লায় কয়েকজন ডাক্তার দেখাই। তারা আমাদেরকে পরে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি তার মধ্যে এই রোগ আছে।’          ‘এখন তার বয়স চলছে ২ বছর ৮ মাস। প্রতি দুই মাস পর পর এখানে এসে তাকে রক্ত দিতে হয়। যখন রক্ত কমে যায় তখন ওর খাওয়া, খেলা-ধুলা, হাঁটা-চলা সবকিছু কমে যায়।’ বললেন আসমা আক্তার নিপা। এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। সারা দেশ থেকেই রোগীরা আসে। থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই রোগকে প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য আমরা বলে থাকি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার কথা। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সবাই এ ব্যাপারে সচেতন হলে খুব সহজে থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ করা যাবে।’        ‘বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লাখ লোক অজ্ঞাতসারে থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০।’ বললেন তিনি।     থ্যালাসিমিয়া কিভাবে হয়?   মানব কোষে রক্ত তৈরি করার জন্য ২টি জিন থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্ত তৈরির একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসিমিয়া বাহক বলে। আর যদি দুইটি জিনেই ত্রুটি থাকে তাহলে তাকে থ্যালাসিমিয়া রোগী বলে।  একজন থ্যালাসিমিয়া বাহক যদি অপর একজন বাহককে বিয়ে করে তাহলে তাদের প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। এ ধরনের পরিবারে একাধিক সন্তান থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। তবে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে থ্যালাসিমিয়া রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করালে এ সমস্যা বহুলাংশে কমে যায়।     থ্যালাসিমিয়া রোগের লক্ষণ  এ রোগের লক্ষণ সাধারণত তিন মাস বয়স থেকে দেখা দেয়। শিশু জন্মের ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে থ্যালাসিমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন-ফ্যাকাশে হয়ে পড়া, ক্ষুদামন্দা দেখা দেওয়া, খাবার পরে বমি হওয়া, ঘন ঘন ইনফেকশন, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ, রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৩-৫ গ্রাম বা ডেসিলিটারে নেমে আসা। এদের প্রায়ই জীবাণু সংক্রমনের জন্য সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভোগেন। এক কথায় বলা যায়, রোগী যদি ফ্যাকাশে বা হলদে হয়ে যায়, বয়সের তুলনায় তাকে কৃষ বা ছোট দেখায়, পেট বড় দেখায় তাহলে এ রোগ আছে বলে সন্দেহ করা হয়।  থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা কি নেই?        থ্যালাসিমিয়া রোগের চিকিৎসা রয়েছে। তবে এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। এছাড়া এদের শরীর থেকে ক্ষতিকর লৌহ বের করার জন্য নানা ধরনের ঔষধ খেতে হয়। একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়।           এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুর রহিম বলেন, ‘থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা রয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মধ্যে ম্যাচিং থাকতে হবে। এর চিকিৎসা খরচ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা লাগে। তবে আমাদের দেশে প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু করার চেষ্টা করছে।’    থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় আছে?   ডা. রহিম বলেন, ‘‘থ্যালাসিমিয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শরীরে রক্ত কম হওয়া ছাড়া এদের আর কোনো সমস্যা নেই। তারা সব কিছু করতে পারবে। খেলা-ধুলা পড়ালেখা থেকে সবকিছু। আমাদের এখানকার অনেক রোগী আছে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ব্যাংকে চাকরি করছে।’’   ‘‘ যদি কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয় তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় না। তারা আস্তে আস্তে প্যারালাইজড রোগীদের মতো হয়ে যায়। এভাবে দশ বছর পর্যন্ত বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। অন্য দিকে চিকিৎসা নিলে ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচতে পারে।’’ বললেন ডা. রহিম         তার ভাষ্য ‘‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে,নাকি আমাদের সহযোগিতায় সমাজের সক্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবে। অন্যথায় তারা বোঝা বা প্রতিবন্ধিদের মতো হয়ে থাকবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি তারা যেন সমাজের জন্য বোঝা না হয়।’’ বললেন তিনি।    থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্তদের অনেক পরিবার আছে যাদের পক্ষে সন্তানের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। পারিবারিক আয় কম হওয়ায় সন্তান নিয়ে অনেকে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এই রোগে আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে কি করবেন তা ভেবে কোনো কূল পাচ্ছেন না। অসহায় এসব রোগীদের বাঁচাতে, সমাজের জন্য যাতে তারা বোঝা হয়ে না যায় সে জন্য থ্যালাসিমিয়া ফাইন্ডেশন যাকাত সংগ্রহ করে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।       এ সম্পর্কে ডা. রহিম বলেন, ‘আমাদের এখানে ডে কেয়ার পদ্ধতিতে চিকিৎসা চলছে। দৈনিক ২০ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। দিনে দিনে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। যেটা অন্য হাসপাতালের পক্ষে সম্ভব হয় না। ঢাকার বাহিরে থেকে সকালে এসে বিকালে চিকিৎসা নিয়ে চলে যেতে পারে। তবে অনেক রোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো না। কারো মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার চেয়েও কম। ফলে তারা সন্তানের চিকিৎসা করাবে নাকি পরিবার চালাবে। তাদের এমন অসহায় করুণ অবস্থা দেখে আমরা রোগীর চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য যাকাত সংগ্রহ করছি।’   তার মতে ‘‘থ্যালাসিমিয়া আক্রান্তদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। কিন্তু আর্থিক সংকটে অনেকে চিকিৎসা করাতে পারছেনা। চিকিৎসা না করালে সেটা দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। দেশে অক্ষম লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। হয়ে ওঠবে বোঝা হিসেবে। তাই কোমলমতি এসব শিশুদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার।’’          এসি           

এইচআইভি থেকে এবার সহজেই মিলবে মুক্তি

জটিল ব্যাধির তালিকায় অনেক আগেই যুক্ত হয়েছে এইচআইভির নাম৷ গবেষণা চলছে বহুদিন ধরেই৷ মেলেনি কোনও স্থায়ী সমাধান৷ তবে এবার আশার আলো দেখেছেন বিজ্ঞানীরা৷ গবেষণায় পাওয়া গেছে এক ধরণের ট্রেগ কোষের নাম, যা নিয়ন্ত্রণকারী লিম্ফোসাইটের একটি ধরণ৷ যেটি মাতৃগর্ভে শিশুদের রক্ষা করে এই মারণ ভাইরাস থেকে৷ বহু বিজ্ঞানীর কাছেই বিষয়টি কঠিন ধাঁধার মতোই দুর্বোধ্য৷ ধোঁয়াশা কাটেনি পুরোপুরিভাবে৷ তবে সেই ক্ষীণ আলোতেই উঠে আসছে একাধিক নতুন তথ্য৷ মায়ের থেকে শিশুর শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ অস্বাভাবিক নয়৷ সমাজে এইরকম উদারহণ রয়েছে ভুরিভুরি৷ তবে এখন বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে৷ বাজারে এসেছে সেই রকমই ওষুধ৷ নতুনভাবে জীবনদান সম্ভব হবে ওষুধটির মাধ্যমে৷ ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করা ভীষণ প্রয়োজন৷ তবে এখনও পর্যন্ত রোগটি নিয়ন্ত্রনের জন্য সেরকম কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার সম্ভব হয়নি৷ গবেষকরা দেখেছেন, এইচআইভি আক্রান্ত যেসব নবজাতকের শরীরে ট্রেগ লিম্ফোসাইটের মাত্রা বেশি তারা সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই ভাইরাসমুক্ত হয়েছেন৷ ইমিউন সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ হল লিম্ফোসাইট৷ যা অবাঞ্ছিত ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে শরীরকে সুস্থ রাখে৷ তবে অতিরিক্ত পরিমাণ লিম্ফোসাইট আবার স্বাভাবিক কোষের ক্ষতি করতে পারে৷ গবেষকরা নবজাতকদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছেন৷ জন্মের সময় ট্রেগ কোষের মাত্রা তুলনামুলকভাবে বেশি অসংক্রামিত শিশুদের দেহে৷ অপরদিকে দেখা গেছে অন্য এক ধরণের লিম্ফোসাইট অনেক বেশি সক্রিয় এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে৷ এইচআইভির মতো সংক্রামক ব্যাধির স্থায়ী সমাধানের জন্য এই ধরণের গবেষণা হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

হার্ট ফেইলিওর এড়াতে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন লবণ

হার্ট ফেলিওর মানেই হৃৎপিন্ড থেমে যাওয়া, বেশির ভাগ মানুষেরই এই ধারণা। আর এটাও তারা মানেন যে, হার্ট অ্যাটাক আর হার্ট ফেলিওর ব্যাপারটা ‘এক’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এই দু’টি সমস্যা সম্পুর্ণ আলাদা। নানা কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে গিয়ে পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যহত হয়, অক্সিজেনের ঘাটতিতে শুরু হয় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। এটাই হার্ট ফেলিওর। ডাক্তাররা হার্ট ফেলিওরকে ‘অসুখ’ না বলে, বলেন ‘সিনড্রোম’। অন্য দিকে হার্ট অ্যাটাক ব্যাপারটা অন্য রকম। হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী ধমনিতে চর্বির প্রলেপ জমে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে  গেলে হার্টের পেশি অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে হৃৎপিণ্ডের পেশির কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত যায়। তবে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে হার্ট ফেলিওরের একটা সম্পর্ক আছে। এক দিকে যেমন কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ (অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী ধমনিতে চর্বি জমে হার্টের রক্ত চলাচল কমে যাওয়া) বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হার্ট ফেলিওরের মতো সমস্যাও। বিশ্বের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ হার্ট ফেলিওর নিয়ে দিন যাপনের গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছেন। হার্ট ফেলিওর শুধু আমাদের দেশেই নয়, সব দেশের চিকিৎসকদের মাথা ব্যথার কারণ। মানুষের গড় আয়ু যেমন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হার্ট ফেলিওরের ঘটনাও কিন্তু মহামারীর আকার নিচ্ছে। তবে শুরুতে অত্যাধুনিক চিকিৎসার সাহায্য নিয়ে এবং দৈনিক জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে ভাল থাকা যায়। আগেকার দিনে দাদী-নানীরা বলতেন, লবণ খেলে নাকি গায়ের রক্ত পানি হয়ে যায়। ভাষাটা একটু গোলমেলে হলেও কথাটা যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লবণে থাকা সোডিয়াম হার্ট ফেলিওরের সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর করে তোলে। সোডিয়াম ক্লোরাইড অর্থাৎ লবণ ছাড়া খাবার খাওয়া মুশকিল। কিন্তু লবণের বাড়তি সোডিয়াম হার্ট ফেলিওর বা হাই ব্লাডপ্রেশারের সমস্যাকে উত্তরোত্তর বেড়ে যায়। কেননা, লবণের সোডিয়াম রক্তবাহী ধমনিতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ আর্টারিতে বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে এক দিকে ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়, অন্যদিকে হৃৎপিণ্ডের পেশি বাড়তি চাপের ফলে আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি লবণ খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। ‘আমেরিকান হার্ট অ্যাসোশিয়েশন’-এর গাইড লাইন অনুযায়ী, যাদের প্রেশার ও হার্টের সমস্যা আছে তারা দিনে ২.৩ গ্রামের বেশি লবণ খাবেন না। নিত্য ডায়েটে থাকুক পর্যাপ্ত ফল ও সবজি। হার্টের সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

বাবলু মিয়া বাঁচতে চায়

এতে রাক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দিন দিন শরীর নিস্তে হয়ে আসছে। সে বর্তমানে ল্যাব এইউ কার্ডিয়াক হাসপাতালে অধ্যাপক ড. এম এ খানের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার এপ্লষ্টিক এনিমিয়া রোগের খরচ হবে অনেক টাকা। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত ২ বার ডায়ালাইসিস করতে হবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. বাবলু মিয়ার বাবা সুরুজ আলী পেশায় একজন কৃষক। পরিবারের ভরন পোষণের পর তার বাবার পক্ষে চিকিৎসার দেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তার অসহায় পরিবার। সাহায্য পাঠাবার ঠিকনা: সঞ্চয়ী হিসাব নং3506301026388 সোনালী ব্যাংক কলমা কান্দা নেত্রাকোনা। বিকাশ ও মোবাইল নং01758507660=01961598509। ডাচ বাংলা একাউন্ট 01961598509।   এসএইচ/

‘ফাস্টফুড’ কালচার এ রোগের কারণ

আজ বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস। এটি এখন বিশ্বজনীন এক রোগ। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমতে পারে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় ‘ফাস্টফুড’কালচার এদেশে ফ্যাটি লিভারের প্রাদুর্ভাবের বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ এবং শিশুদের মধ্যে ১০ ভাগ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। জাপান ও ইতালিতে মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ থেকে ৫৮ ভাগের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। আমাদের দেশেও এ রোগে আক্রান্তদের হার বাড়ছে।ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের পর ফ্যাটি লিভারই এদেশে ক্রনিক হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ। একইভাবে আমাদের আরেক গবেষণায় দেখা যায় যে, এদেশে প্রায় ৪ শতাংশ লিভার সিরোসিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত।বিশেষজ্ঞদের মতে, পাশ্চাত্যে ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ অ্যালকোহল। তবে আমাদের মতো দেশগুলোয় মেদ-ভুড়ি, ডায়াবেটিস, ডিজলিপিডেমিয়া বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, হাইপারটেনশন বা অতিরিক্ত রক্তচাপ আর হাইপোথাইরয়েডিজমই ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি।আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ৩৩ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভার রয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ ভাগ ভারতীয় যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারেও আক্রান্ত। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আনেক সময়ই ফ্যাটি লিভার তৈরি করে থাকে।কর্টিকোস্টেরয়েড, টেমোক্সিফেন ইত্যাদি ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের আরেকটি বড় কারণ খাদ্যাভাস ও লাইফ স্টাইল। সিডেন্টারি বা আয়েশি জীবনযাপন আর অতিরিক্ত ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে লিভারে চর্বি জমতেই পারে। আমাদের দেশে ইদানীংকার খুবই জনপ্রিয় ‘ফাস্টফুড’ কালচার এদেশে ফ্যাটি লিভারের বাড়তি প্রাদুর্ভাবের সম্ভবত একটি বড় কারণ।এ রোগ চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল গণমাধ্যকে বলেন, ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লিভারে সিরোসিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা।অতিরিক্ত মেদ কমানো ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার একটি অন্যতম দিক। তবে খুব দ্রুত, অপরিকল্পিতভাবে ওজন কমালে তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এর ফলে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।ওজন কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিকল্পিত ডায়েট কন্ট্রোল, এক্সারসাইজ, ওষুধ সেবন কিংবা প্রয়োজনে অপারেশন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এখনও এজন্য শতভাগ কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃৃত হয়নি। তবে বাজারে বেশ কিছু ওষুধ আছে, যা ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় উপকারী বলে প্রমাণিত।/ এআর /

মাইল্ড স্ট্রোক সম্পর্কে যা জানা জরুরি

বাংলাদেশে কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা শনিবার জানিয়েছেন, তাদের মনে হয়েছে কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়া হয়তো মাইল্ড স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক বা টিআইএ। কিন্তু এই টিআইএ বা মাইল্ড স্ট্রোক আসলে কী? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অসিত বরন অধিকারী বলছিলেন, স্ট্রোক বলতে সাধারণত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাকে বুঝানো হয়। এটা দুই ধরনের হয়, একটা রক্তক্ষরণ জনিত বা হেমোরেজিক স্ট্রোক এবং আরেকটি হলো স্কিমিক স্ট্রোক, এতে রক্তক্ষরণ হয় না। স্কিমিক স্ট্রোকের কারণ হলো, মস্তিষ্কে যে রক্ত যায় তা ক্যারোটিড আর্টারী অর্থাৎ গলার ভেতর দিয়ে যায় যে সব রক্তনালী, তাতে চর্বি জমে। যে কারণে রক্তনালী সংকীর্ণ হয়ে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। এর ফলে স্কিমিক স্ট্রোক হয়। এই স্ট্রোক কত বড় হবে বা ক্ষয়ক্ষতি কত ব্যাপক হবে, তা নির্ভর করবে, রক্তনালী কতটা সংকীর্ণ হয়েছে, তার ওপর। মাইল্ড স্ট্রোকের লক্ষণগুলো-অধ্যাপক অধিকারী জানিয়েছেন, ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক বা মাইল্ড স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ হলো, অল্প সময়ের জন্য কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। সেটি ১৫ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর হাটতে হাটতে মাথা ঘুরতে পারে। বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে। আর পরের দিকে, যখন সেরিব্রাল ইনফ্লাক্স হয়ে যায়, তখন রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে। অবস্থা আরও খারাপ হলে সেই সঙ্গে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোকের লক্ষণ নির্ভর করে মস্তিষ্কে কতটা রক্তক্ষরণ হয়েছে তার ওপর। যদি অল্প রক্তক্ষরণ হয়, তাহলে মাথাব্যথা, ভার্টিগো বা মাথা ঘোরা থাকবে। রক্তক্ষরণের পরিমাণ একটু বেশি হলে শরীরের কোন একটি অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। কিভাবে বোঝা যাবে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে-অধ্যাপক অধিকারী বলছেন, প্রাথমিকভাবে যদি দেখা যায় কোন সুস্থ মানুষ হঠাৎ হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়, অথবা মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে, অথবা যদি দেখা যায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের কোন অংশ হঠাৎ অবশ হয়ে গেছে,তাহলে বুঝতে হবে তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে। এছাড়া হয়ত দেখা যাবে কেউ হঠাৎ হাত বা পা নাড়াতে পারছে না, কিংবা মুখটা এক পাশে বাঁকা হয়ে গেছে। করণীয় কী-লক্ষণগুলো দেখা মাত্র দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এরপর সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করে দেখতে হবে এটা কি স্কিমিক স্ট্রোক না হেমোরেজিক স্ট্রোক। অধ্যাপক অধিকারী জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় খুব জরুরি। যত আগে চিকিৎসা শুরু হবে, রোগীর সুস্থ হবার সুযোগ তত বেশি থাকবে। কিভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো যাবে-এতো গেল, আক্রান্ত হবার পরের কথা। কিভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো যাবে? যেকোনো ব্যক্তি যদি চর্বি জাতীয় খাবার ও ধূমপান এড়িয়ে চলে, হাইপার টেনশন থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তবে অনেকটাই এড়ানো যাবে মাইল্ড স্ট্রোকের ঝুঁকি। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। শারীরিক কসরত করতে হবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচার ৫ উপায়

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বিশ্বের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রতি বছর ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। সংখ্যাটা চমকে ওঠার মতো। তবে বাড়ছে দিন দিন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে সহজেই ব্রেইন স্ট্রোক ঠেকানো সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কী কী উপায় ঠেকানো যাবে ব্রেইন স্ট্রোক- ১. ওজন কমাতে সুষম খাবারের ওপরে ভরসা রাখুন। ডায়েটে রাখুন পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি ও ফল। পেট বড় হতে দেবেন না। মনে রাখবেন, যত ছিপছিপে থাকবেন, তত স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে৷২. রক্তচাপ, সুগার ও কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে তা চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়ন্ত্রণে রাখুন।৩. নিয়মিত ঘাম ঝড়ানোর মতো শরীরচর্চা করুন। তবে শরীরচর্চার সময় খেয়াল রাখতে হবে বিষয়টি যেন অত্যাধিক পরিশ্রমসাধ্য বা ক্লান্তিকর না হয়ে ওঠে।৪. সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আধ-ঘণ্টা করে দ্রুত পা চালিয়ে হাঁটুন।৫. ধূমপান বা মদ্যপান পরিহার করুন। তবেই কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকি। এভাবে নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সূত্র: জিনিউজ।/ এআর /

সন্তান অপরিণত হবে কি-না জানাবে রক্ত পরীক্ষা

নতুন এক ধরণের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুর জন্মের তথ্য। এমনকি ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী নারী নির্ধারিত সময়ের কত আগে সন্তান প্রসব করতে চলেছেন, তাও জেনে নেওয়া সম্ভব হবে। যুক্তরষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের স্টাটেনস সেরাম ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী যৌথভাবে স্বল্প ব্যয়ের এ পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স এ সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধতিতে বলা হয়েছে, স্বল্প ব্যয়ের এ পদ্ধতি অবলম্বন করে জানা সম্ভব যে, কোনও গর্ভবতী নারী পরিণত সন্তান প্রসব করতে চলেছেন কি-না। সময়ের আগে প্রসবের ৮০ শতাংশ তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব এ পদ্ধতিতে। এই রক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যুর হার এবং প্রসবকালীন জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা বিশেষজ্ঞদের। সূত্র: বিবিসি একে//

লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর ৩ উপায়

বুকে থাকা নরম ছিদ্রবহুল অঙ্গে অস্বাভাবিক রূপে ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি কে লাং ক্যান্সার বলা হয় লাং ক্যান্সারের কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক মানুষ মারা যায়। লাং ক্যান্সার একটি সাইলেন্ট কিলার যে উন্নত পর্যায় না পৌঁছানো পর্যন্ত কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। একবার এটা ওই পর্যায় পৌঁছাবার পর এর চিকিৎসা করা সহজ ব্যাপার নয়। কিছু মানুষ আছে যারা নিজের লাংসকে সিগারেট, হুকাহ এবং গাঁজার ধূয়া সেবন করার জন্য ব্যবহার করে। নিয়মিত যারা ধুমপান করে তাদের লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা বেশি। তবে ধূমপান না করা মানুষদেরও লাং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখানে আছে কয়েকটি সাহায্যকর টিপস, যার দ্বারা আপনার লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে। ১ ধূমপান বন্ধ করুন এবং লাংস এর চেক-আপ করুন আমরা সবাই জানি যে ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক এবং আপনার লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই যত তারাতারি সম্ভব ধূমপান ছেড়ে দিন। ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে আপনে নিজের স্বাস্থ্য গুরত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখতে পারবেন। এছাড়া ধূমপান বন্ধ করার পর একবার লাংসের চেক আপ করিয়ে নেবেন। ২. সেকেন্ড-হেন্ড ধুমপান এড়িয়ে চলবেন যদি আপনি ধুমপান করেন না কিন্তু সবসময় ধূমপায়ীদের মধ্যে থাকছেন, এই অবস্থাটি আপনার লাং কান্সেরের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে না। গবেষকরা বলেন, সেকেন্ড হেন্ড ধুমপান আপনার জন্য ততটাই খারাপ যতটা নিজে ধুমপান করবেন। যদিও আপনি সিগারেট নিজের ঠোঁটে লাগাচ্ছেন না কিন্তু আপনি ধূয়ার সেবন করছেন এবং এটা আপনার লাংসের ক্ষতি করছে। সূতরাং ধূমপান করা মানুষদের থেকে সরে থাকার চেষ্টা করবেন এবং সেরকম জায়গায় যাওয়ার থেকে দূর থাকবেন যেইখানে আপনাকে অনেক ধোঁয়ার সাক্ষাৎ হতে পারে। ৩. বাড়িতে রেডন গ্যাসের মাত্রা চেক করবেন রেডন একটি নির্গন্ধ গ্যাস, যেটা মাটির মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ক্ষয় হওয়ার কারণ উৎপন্ন হয়। ধূমপান যারা করে না ওদের মধ্যে লাং ক্যান্সার হওয়ার একটি মুখ্য কারণ হচ্ছে রেডন গ্যাস। এই গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে মিলিত হয়ে আপনার শ্বাসে প্রবেশ করে আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। রেডন গ্যাসের মাত্রা বাড়িতে চেক করবেন এবং সেই বুঝে এটার প্রতিকার করবেন। সূত্র: এনডিটিভি একে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি