ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৭:৩০:৫৯

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে রংপুরে

রংপুরে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড়। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জনপদ রংপুরের রয়েছে গৌরবময় ও বৈচিত্র পূর্ণইতিহাস। রংপুরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাগট,যমুনা, ধরলা প্রভৃতি নদ-নদী। রংপুর জেলায় ভ্রমণের জন্য উল্লেখযোগ্য স্থান ভিন্নজগৎ, হাতীবান্ধা মাজারশরীফ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, কেরামতিয়া মসজিদ  ওমাজার, চিকলির বিল, টাউনহল, শ্বাশতবাংলা (মুক্তিযুদ্ধজাদুঘর)  ,রংপুরচিড়িয়াখানা ,মিঠাপুকুর তিনকাতারের মসজিদ, ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ ,দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়ি, বেগমরোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, ঝাড়বিশলা (কবিহেয়াতমামুদেরসমাধি) , আনন্দনগর, প্রভৃতি। হাতীবান্ধা মাজার শরীফ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন। মাজারশরীফটিতে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও বিভিন্ন ধরনের মানত করতে সারাদেশ থেকেমানুষ আসে। সবচেয়ে বেশিভীড় দেখা যায় শুক্রবারে । মাজারে রয়েছে অনেক বড় একটি পুকুর। তাজহাট জমিদারবাড়ি তাজহাট জমিদার বাড়িতে রয়েছে বিশাল আকারের চারটি পুকুর। প্রধান প্রাসাদটির ২য় তলায় ওঠা- নামার জন্য গ্যালারির মতো একটি বিরাট সিঁড়ি রয়েছে। জমিদারবাড়ির দ্বিতীয়তলায় উঠানামা করার জন্যে তিনটি অভিগমন পথ রয়েছে । তিনটি অভিগমন পথের মধ্যে মাঝখানটি তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত ।অভিগমন পথের ধাপ গুলো সাদা ও ছাই রংয়ের পাথর দ্বারা মোড়ানো । ছাদনির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে বড় বড় লোহার বীম ও লোহার ফালি। কক্ষের দরজাগুলি ও বিশালাকার ।জমিদারবাড়ির মধ্যভাগে প্রবেশপথ ও বর্হিগমন পথ রয়েছে । প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় উঠানামার জন্য লৌহনির্মিত নকশাকরা কাঠেরসিঁড়ি ও রয়েছে, সিঁড়ির রেলিং গুলি ও লোহার নকশা করা – যা দেখতে ফুল গাছের মতো। সিঁড়িটির ভূমি থেকে ভবনের ছাদ পর্যন্ত সাদা-কালো পাথরে মোড়ানো। কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি গোলাকার সুউচ্চ গম্বুজ । মসজিদটির প্রতিটি কোণে অষ্টভূজাকৃতি স্তম্ভ রয়েছে, যার শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে কিউপলা ।মসজিদের দেয়ালে ও মসজিদের ছাদের কিণারায় মারলন অলংকরণ দেখাযায়। চিকলিরবিল এবং চিকলী পার্ক রংপুর শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে চিকলিরবিল । বিভিন্নরকমের পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে চিকলিরবিল। চিকলীবিল ঘেষে গড়ে উঠেছে চিকলী পার্ক, সেখানে রয়েছে সব বয়সের মানুষের বিনোদনের ব্যাবস্থা। টাউনহল রংপুর টাউনহল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধিচর্চারপ্রাণ কেন্দ্র, বহুসামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কৃতিক কর্ম কান্ডের সাক্ষী। শুধু চিত্ত বিনোদন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূতিকাগার নয় ; বেদনা ও কষ্টের স্মৃতিধারণ করে আজ ও দাঁড়িয়ে আছে রংপুর টাউন হল । মুক্তিযুদ্ধের সময় এই টাউন হলকে পাকহানাদার বাহিনী `নারীনির্যাতন` কেন্দ্র বানিয়েছিল।  শাশ্বত বাংলা (মুক্তিযুদ্ধজাদুঘর) দেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মূল্যবান নিদর্শন ও স্মারকচিহ্ন সমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য বিভিন্নস্থানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে । তারই ধারাবাহিকতায় রংপুরে ও গড়েতোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর "শাশ্বত বাংলা"। জাদুঘরটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র,  মানচিত্র ,আলোকচিত্র,  সেসময় প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ,পত্র-পত্রিকা, পুস্তক ও অন্যান্য দস্তাবেজ রয়েছে। রংপুর চিড়িয়াখানা রংপুর চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিনোদন উদ্যান, বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ও পশু পাখি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিংহ  ,রয়েল বেঙ্গল টাইগার ,চিতাবাঘ , জলহস্তী,  ভালুক, বানর, বেবুন, হায়েনা, হরিণ, ময়না ,টিয়া ,ঈগল, শকুন, সারস , বক, ঘড়িয়াল, অজগর সাপ প্রভৃতি । এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বনজ, ফলজ এবং ঔষুধি গাছ ।আরো রয়েছে লেক ও শিশুপার্ক। মিঠাপুকুর তিনকাতারের মসজিদ মসজিদটিতে রয়েছে প্রবেশ তোরণ। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। এছাড়া মসজিদের উপরে রয়েছে অর্ধগোলাকার তিনটি গম্বুজ। মসজিদে মোট পাঁচটি প্রবেশ পথ রয়েছে ।মসজিদের সামনের দেওয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায়, জনৈক শেখ মোহাম্মদ সাবেরের পুত্র শেখ মোহাম্মদ আছের কর্তৃক ১২২৬ হিজরীতে (১৮১০খ্রি.) মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল। ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি অতীতঐতিহ্য-ইতিহাস সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপদ রংপুর। ইটাকুমারী জমিদারবাড়িটির অধিকাংশ ভবনই আজধ্বংস হয়ে গেছে। রয়েছে একটি ইঁদারাও দুটি ভবন। সাক্ষি হয়ে অবস্থান করছে বিশালাকার পুকুরদুটি ও। রংপুর কারমাইকেল কলেজ প্রায়৯শ’ বিঘা জমি জুড়ে অবস্থিত রংপুর কারমাইকেল কলেজটির মূল ইমারত ভবনটি। এর গম্বুজের অনন্য ব্যবহার,  বিভিন্ন স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্টাবলীর চমৎকার সন্নিবেশ-যা স্বভাবতই দর্শক সাধারণের মন কেড়ে নেয়। দেওয়ান বাড়ির জমিদারবাড়ি দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়িতে ছোট্ট একটি ভবন রয়েছে ।প্রবেশ তোরণটি মোঘল আমলের দুর্গের দুয়ারের মতো। প্রবেশ তোরণটির দুপাশে রয়েছে দ্বাররক্ষীদের কক্ষ। জমিদার প্রথাবিলুপ্ত হওয়ার পরবাড়িটি নিলাম হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে স্কুলও কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র স্মৃতি কেন্দ্রটিতে রয়েছে দশহাজার গ্রন্থ ধারণ করার মতোগ্র ন্ধাগার।গ্র ন্ধাগারে এক সঙ্গে ৫০ জন পাঠ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।আরো রয়েছে শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ ২৫০ আসনের মিলনায়তন। সেমিনার কক্ষে রয়েছে একশত আসনের ব্যবস্থা। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি বেগম রোকেয়ার নিজবাড়ির পাশে ৩.১৫ একর ভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে। মূল ভবনটির আয়তন ১,৪৭,০১০বর্গফুট। ভিন্নজগৎ ভিন্ন জগতের ভিতরে যেন আরেকটি ভিন্ন জগৎ। এখানে রয়েছে প্লানেটোরিয়াম, রোবট স্ক্রিল জোন,  জল তরঙ্গ,  সিপ্যারাডাইস,  স্পেসজার্নি,  আজবগুহা,  নৌকাভ্রমণ,  শাপলাচত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য,  থ্রিডিমুভি , ওয়াকওয়ে,  ফ্লাই হেলিকপ্টার,  মেরিলেক ড্রাইভ, গোরাউন্ড,  সুইমিং পুল স্পিনিং হেড ও মাছ ধরার সুব্যবস্থা । নৌ ভ্রমণের সুবিধা,  হাতি,  ঘোড়া, ক্যাঙ্গারুসহ বিভিন্ন ধরনের মূর্তি ও রয়েছে।  বিভিন্ন প্রজাতির গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। থাকতে চাইলে কটেজ রয়েছে ৭টি, আপনি আপনার পছন্দেরটিতে উঠে যেতে পারেন। আরো রয়েছে থ্রিস্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস ।ভিন্ন জগতের প্রবেশ মূল্য ২০টাকা এবং সেখানে যে কোনো রাইড৫০টাকার মধ্যেই। রংপুর যেভাবে যাবেন সড়ক পথ, রেলপথ এবং আকাশ পথেও যাওয়া যায় রংপুরে। সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর এবং মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের বাস রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।সড়ক পথে প্রত্যেক দিন প্রায় ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও রেলপথে কিন্তু সপ্তাহে ছয়দিন নিদির্ষ্ট সময়ে রংপুর এক্সপ্রেসে যেতে হবে। আর আকাশ পথে যেতে হলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ঢাকা থেকেসৈয়দপুর হয়ে রংপুর যেতে পারেন। সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাতায়ত করে।   /ডিডি/
ঘুরে আসতে পারেন গাইবান্ধার দর্শণীয় স্থানগুলো

গাইবান্ধায় ভ্রমণের অনেক জায়গা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ,বালাসীঘাট, প্রাচীন মাস্তা মসজিদ, গাইবান্ধা পৌরপার্ক, বর্ধনকুঠি, এসকেএস ইন, ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহসুলতান গাজীর মসজিদ এছাড়াও দেখে আসতে পারেন শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, রংপুর সুগার মিলস্ লিমিটেড প্রভৃতি। বালাসীঘাট যমুনার কোলঘেসে বাঁধটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। শুধু ছুটির দিনেই নয় প্রত্যেকদিনই এখানে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। বন্ধুবান্ধর নিয়ে এখানে ঘুড়তে আসেন। আবার অনেকেই সপরিবারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই কাটিয়ে দেন।  শুধু উৎসব কিংবা দিবস নয় সারাবছরই ভ্রমনপিপাসু মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। নিজের পছন্দমেতো জায়গা থেকে দাড়িয়ে নদীর বুকে সুর্যাস্তের দৃর্শ উপভোগ করা যায়। শুধু জেলা শহর থেকে নয় সারা বাংলাদেশ থেকেই ভ্রমণপ্রিয় মানুষরা এখানে আসেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাত্রী ও মালামাল পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু হয়। পরে ফেরিঘাটটি তিস্তামুখঘাট থেকে বালাসী ঘাটে স্থানান্তর করা হয়। যেভাবে যাবেন- প্রথমে বাস অথবা ট্রেনযোগে গাইবান্ধা জেলা শহরে আসতে হবে। গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড হতে যাওয়ার উপায়- অটোরিক্সা, রিক্সা ও সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। অটোরিক্সা ভাড়া-১৫০ টাকা, রিকসা ভাড়া- ৮০-১০০ টাকা। গাইবান্ধা পৌরপার্ক-   গাইবান্ধায় রয়েছে পৌরসভার অধীন পার্ক। পার্কের পুকুর পাড়ে রয়েছে সব বয়সের মানুষের জন্যই বিনোদনের ব্যবস্থা, সকাল থেকে সন্ধ্যা দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। বিভিন্ন উৎসরের সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সারা বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে আরও অনেকটাই বেড়ে যায়।           যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা জেলা বাসস্ট্যান্ড  থেকে রিকসা অথবা অটোরিকসা দিয়ে যেতে পারেন এ পৌরাপার্কে। বর্ধনকুঠি- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জে কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত রাজবাড়িটি, রাজবাড়ির ভাঙা অংশ মনে করিয়ে দেয় তার প্রাচীন অবস্থার কথা। ভঙ্গুর দেওয়ালগুলি আপনাকে তার অতীতের কথাই মনে করিয়ে দিবে। যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হতে অটো বা সিএনজিতে করে যেতে পারেন রাজবাড়িটিতে। এসকেএস ইন- গাইবান্ধা শহরের অদূরে রাঁধাকৃষ্ণপুর  (তিন গাছ তল) এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ, নয়নাভিরাম সবুজের ওপর গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। সুন্দর নাম বিশিষ্ট ছোট ছোট কটেজ, বিশাল অডিটরিয়াম, সুন্দর ঝর্ণা, গাইবান্ধায় প্রথম বারের মতো আধুনিক সুমিংপুল ও আশেপাশের সবুজ সমারোহ। যেভাবে যাবেন-  গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা খুব সহজেই যেতে পরেন। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার- শুধু গাইবান্ধা কিংবা বাংলাদেশ নয় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি অবাক করেছে সারা বিশ্বকে। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়। ভবনটির ছাদ ভূমি সমতলে আর বাকি অংশটুকু মাটির নিচে অবস্থিত। ছাদটা যেন বিভিন্ন ধরনের ঘাষের মাঠ। স্থাপত্য শিল্পে এক অনবদ্য সৃষ্টিটি অবাক করেছে বিশ্বকে। ভবনটি দেখতে প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করে। ভবনটির ভিতরের সবকিছুও দৃষ্টিন্দন। যেভাবে যাবেন – গাইবান্ধা থেকে রিকসা, অটোরিকসা ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে যেতে পারেন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে।  শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে ছাইতানতোলা গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৬ সালে। পরে এটি জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে। বিদ্যালয়টি মোট ২.২৮৫ একর জমির ওপর অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি পাঁচ তলা ভবন, দুটি দ্বিতল ভবন, পাঁচটি অর্ধ দালান। ভবনগুলোতে রয়েছে একটি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, একটি সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ, ২২টি শ্রেণি কক্ষ, একটি সভা কক্ষ,একটি ক্লিনিক কক্ষ, একটি অতিথি কক্ষ, একটি উপকরণ কক্ষ, একটি ভৌগলিক কক্ষ, একটি কম্পিউটার কক্ষ, একটি বিজ্ঞানাগার, একটি ছাত্রাবাস ভোজনালয় প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে শিশুদের জন্য বিশাল মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ, পোস্ট অফিস, সরকারি ক্লিনিক, মডেল চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০৫৩ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন সরকারি ও ৫৮ জন বেসরকারি শিক্ষক রয়েছে। বিদ্যালয় চত্তরে রয়েছে দীপশিখা নামের একটি ছাত্রাবাস। যেখানে ১২০ আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পরিদর্শনে আসে। যেভাবে যাবেন- গাইবান্দা সদর থেকে বাসে বা ট্রেন যোগে যেতে পারেন। প্রাচীন মাস্তা মসজিদ স্থাপত্যের এক অপার নিদর্শন মাস্তা মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদটির চার কোণে রয়েছে চারটি স্তম্ভ, একই আকারের তিনটি গম্বুজ  ও আছে, মসজিদটির তিনটি দরজা থাকলেও  কোন জানালা নেই । সব মিলিয়ে মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রস্ত প্রায় ১৬ ফুট । মসজিদটিতে এখনো এলাকার লোকজন নামাজ আদায় করে। গাইবান্ধার গোপালগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের  মাস্তা গ্রামের প্রাচীন লাল মসজিদটিই `মাস্তা  মসজিদ` নামে পরিচিত । যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা হতে গোবিন্দগঞ্জ সেখান থেকে কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার. উত্তরে মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে মাস্তা মসজিদ অবস্থিত। যে কোনো যানবাহন ব্যবহার করে মাস্তা মসজিদে যেতে পারেন। সবচেয়ে সহজে যেতে চাইলে সিএনজিতে যেতে পারেন। বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র গ্রামের জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক নিদর্শন। উত্তর জনপদের বামনডাঙ্গার এ অঞ্চলে এই জমিদারদের গোড়াপত্তন কবে হয়েছিল বা কে করেছেন সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে কথিত আছে যে, পঞ্চদশ শতকের কোন এক সময়ে সম্রাট আকবরের আমলে পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত গৌড় বংশীয় ব্রাহ্মণ কৃষ্ণকান্ত রায় পালিয়ে এখানে আসেন এবং বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার আমলেই বামনডাঙ্গার এই জমিদারদের নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সময়ে এই এলাকার প্রজাদের মধ্যে সর্বত্র সুখ-শান্তি এবং আনন্দ বিরাজমান ছিল। এ ছাড়া জমিদাররা সুশীল এবং ভদ্র। এ কারণেই ওই এলাকার নাম হয়েছিল সর্বানন্দ। যেভাবে যাবেন- গাইবান্ধা থেকে ট্রেন বা বাসে যেতে পারেন।   এসএইচ/                          

নির্মল বিনোদনের খোঁজে নীলফামারী

শত ব্যস্ততার মাঝে, হাজারও কাজের ফাঁকে মানুষ চায় একটু প্রশান্তি, বিনোদন। মনে ছুটে যায় দূর-দূরান্তে। চোখ মেলে প্রকৃতিকে একটু দেখতে, চোখ জুড়াতে। অবসরে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা। এদেশে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আদর্শ একটি স্থান হচ্ছে নীলফামারী। এ জেলার পর্যটন এলাকাগুলো সারা বছরই দর্শণার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। নীলফামাররীতে যে কয়েকটি পর্যটন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম দর্শনীয় স্থান চিনি মসজিদ, নীল সাগর, কুন্দ পুকুর মাজার, যাদুঘর , হরিশ্চন্দ্রের পাঠ, ভিমের মায়ের চুলা, নীল কুঠি , ধর্মপালের রাজবাড়ী প্রভৃতি।          নীলসাগর   নীল সাগর কোনো সাগর নয়; একটি দিঘির নাম। ১৯৮২ সালে এর নামকরণ করা হয় নীল সাগর। মৎস্য শিকারীদের জন্য আদর্শ জায়গা এই নীল সাগর। মাছ শিকারের জন্য টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা। নির্দিষ্ট সময় ১৪ এপ্রিল থেকে নভেম্বরে অতিথি পাখি আসার আগ পর্যন্ত এ সুযোগ পান তারা। বারুণী স্নান উৎসব দেখেতে যেতে পারেন নীলফামারীর নীল সাগরে। বৈশাখী পূর্নিমায় দিঘির পাড়ে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘বারুণী স্নান উৎসব’। নীলফামারীর নীল আর  সাগরের সাগর থেকেই নীল সগর নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। নীল সাগর নামের বিশাল দিঘিটি নীলফামারীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। দিঘিটির জল ভাগের আয়তন প্রায় ৩৪ একর হলেও মোট আয়তন ৫৪ একর। জলের গভীরতা বেশিব ভাগ সময়ই সাত মিটার থেকে ১২ মিটার থাকে। দিঘিতে দুটি ঘাট রয়েছে । একটি ঘাট পূর্ব পাড়ে এবং অপর ঘাটটি রয়েছে পশ্চিম পাড়ে। ঘাট দুটিই ইটের তৈরি। দিঘির একপাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিব মন্দির, অপর পাশে মুসিলিম সম্প্রদায়ের মুসলিম দরবেশের আস্তানা ছিল। দিঘির পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। পাড়গুলি সমতল ভুমি থেকে একটু উচু, পাড়ে রয়েছে পর্যটকদের বসার জন্য অনেকগুলি স্থান। যেভাবে যাবেন নীলফামারী সদর থেকে বাসযোগে নীলসাগর যাওয়া যায়। নীলফামারীর গড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত নীলসাগর দিঘিটি । দিঘির পাড়ে পর্যটকদের থাকার জন্য রুম রয়েছে । রুম ভাড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। যাদুঘর প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন দেখতে যেতে পারেন নীলফামরী যাদুঘরে। নীলফামারীতে একটি যাদুঘরও রয়েছে। সারা বছরই হাজারো মানুষের ভিড় করে যাদুঘরে । ব্রিটিশ ও ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন সেখানে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেভাবে যাবেন নীলফামারী ডিসি অফিসের পুরাতন ভবনে অবস্থিত যাদুঘরটিতে রিক্সা / অটোরিক্ষা যোগে যাওয়া যায়। হরিশ্চন্দ্রের পাঠ হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীটি পাথর খণ্ডে পরিপূর্ণ প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের টিলা। চাড়াল কাটা নদীর তীরে প্রায় এক বিঘা জমির ওপর একটি উচু ঢিবি । ঢিবির ওপর পাঁচ খণ্ড বড় কার রংঙের পাথর রয়েছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করে ঢিবিটি মাটিতে ডুবে যায় আবার মাটির ওপরে উঠে আসে।   যেভাবে যাবেন হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীটি নীলফামারীর জলঢাকা থানার খুটামার ইউনিয়নে অবস্থিত। নীলফামারী সদর থেকে সড়ক পথে খুটামারা হয়ে হরিশচন্দ্রের পাঠ বা রাজবাড়ীতে যাওয়া যায়। ভিমের মায়ের চুলা ভিমের মায়ের চুলা তিন দিকে উচু মাটির প্রাচীর বিষ্টেত স্থাপনা। প্রাচীরের তিনটি স্থান অপেক্ষাকৃত উচু। ভিমের মায়ের চুলার ভিতরের অংশ এবং বাহিরের অংশের তিন দিক পরিখা বেষ্টিত। যেভাবে যাবেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশেই রয়েছে ভিমের মায়ের চুলা। সড়ক পথে নীলফামারী থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা হয়ে ভিমের মায়ের চুলা দেখতে যাওয়া যায়। নীল কুঠি নীল কুঠি শব্দটার আমরা শুনেছি। নীল কুঠি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু কখনও নীল কুঠি দেখা হয়নি, তাহলে যেতে পারেন নীলফামারীর নীল কুঠিতে। ব্রিটিশ আমলে নীল কুঠিয়ালদের কুঠি হিসেবে ব্যবহৃত নীল কুঠিটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নীলফামারী অফিসার্স ক্লাব হিসেবে । যেভাবে যাবেন নীলফামারী শহর থেকে সড়কপথে খুব সহজেই যাওয়া যায় নীল কুঠি দেখতে। ধর্মপালের রাজবাড়ী ধর্মপালের গড়ের কাছাকাছি একটি মজা জলাশয় রয়েছে, জলাশয়ের পাড় বাধানো ঘাট এবং কয়েক ফুট উচু ঢিবি রয়েছে, এই ঢিবির ভিতরের প্রাচীরে ইট দেখেই ধারনা করা হয় এটি ধর্মপালের রাজবাড়ি। গড় ধর্মপালের কাছাকাছি নদীর তীরে ধর্মপালের রাজ প্রাসাদ ছিল। যেভাবে যাবেন নীলফামারী শহর থেকে সড়কপথে অল্প সময়ের মধ্যেই যাওয়া যায়  ধর্মপালের রাজবাড়ী। কুন্দ পুকুর মাজার   এখানে মসজিদ,  হেফজখানা এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। এখানে প্রতিবছরই বার্ষিক ওরশ হয়। ওরশের তারিখ ৫ মাঘ। সারাদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শক এখানে আসেন। যেভাবে যাবেন কুন্দুপুর মাজারটি জেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে নীলফামরী সদর থেকে কুন্দুপুর ইউনিয়নে কুন্দুপুর মাজার অবস্থিত। নীলফামারী থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই কুন্দুপুকুর  মাজারে যাওয়া যায় । চিনি মসজিদ শতশত দক্ষ কারিগরের পরিশ্রম আর শিল্পীর একনিষ্ঠ শ্রমের দ্বারাই ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চিনি মসজিদ। সুন্দর এ সমজিদটির গায়ে রয়েছে শংকর মর্মর পাথর। পাথরের সঙ্গে লাগানো হয়েছিল চীনা মাটির চুকড়ো যার ওজন প্রায় ২৫ টন। মসজিদের ২৭টি মিনারের মধ্যে পাঁচটি মিনার এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। যেভাবে যাবেন নীলফামারী থেকে সজক পথে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেমে রিক্সা যোগে যাওয়া যায় চিনি মসজিদ। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথেও চিনি মসজিদ যাওয়া যায়।   এসএইচ/ এআর        

বৃষ্টিভেজা রাতারগুল

প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় ও সেতুবন্ধন তৈরির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ভ্রমণ। ভ্রমণ মানেই প্রশান্তি। ভ্রমণ মানেই আনন্দ। তাইতো যখনই সময় পাই, প্রকৃতির কাছে ছুটে যাই। কারণ প্রকৃতি আমাদের বেঁচে থাকার প্ররণা যোগায়। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য লাভের আশায় আমিও মাঝে মাঝে ব্যাকুল হয়ে উঠি। অনেকদিন ধরে আমাদের পরিকল্পনায় ছিলো সিলেট ভ্রমণ। এর আগেও সিলেটে ভ্রমণ করেছি। তবে সেটা ছিলো ঝটিকা সফর। শুনেছি বৃষ্টিতে সিলেট নাকি অন্য রূপে সাজে। তাই বৃষ্টির দিনেই সিলেট রওনা হলাম।জাফলং, জৈন্তিয়া পাহাড়, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তুপ, বিছানাকান্দি, লালা খাল, হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য স্পট রয়েছে। তবে আজ আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র একটি স্পট নিয়েই আলোচনা করবো। আর সেটি হচ্ছে বাংলার আমাজান খ্যাত ‘রাতারগুল’।তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য ছিলো ‘রাতারগুল’। নিয়ম অনুযায়ী আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। হোটেলের জানালা থেকে বাইরের রাস্তা দেখা যায়। আমাদের গাড়ি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে কেউই নামতে চাইছে না। সকাল ৭টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলে আমরা হোটেল থেকে বের হই। পাশের একটি হোটেলে সকালের নাস্তা শেষ করে গাড়িতে উঠি। আমাদের গন্তব্য ‘রাতারগুল’।বর্ষায় বাংলার আমাজান নামে পরিচিত সিলেটের গোয়াইনঘাটের রাতারগুল আমাদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রাতারগুল আমাদের দেশের একমাত্র ‘ফ্রেশওয়াটার সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবন। সিলেট থেকে দেশের একমাত্র স্বীকৃত এই সোয়াম্প ফরেস্টের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে এ জলাবনের অবস্থান।উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর; মাঝখানে ‘জলাবন’ রাতারগুল। উইকিপিডিয়ায় পাওয়া তথ্যমতে সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুটি। একটা শ্রীলংকায়, আরেকটা আমাদের রাতারগুলে।অনিন্দ্যসুন্দর বিশাল এ বনের সঙ্গে তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের। রেইন ফরেস্ট নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের স্বাদুপানির সবচাইতে বড় সোয়াম্প বন কিন্তু এটিই। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মুর্তা বা পাটিগাছ ‘রাতাগাছ’ নামে পরিচিত। সেই মুর্তা অথবা রাতাগাছের নামানুসারে এই বনের নাম হয়েছে রাতারগুল। আমাজনের মতোই এখানকার গাছগাছালির বেশির ভাগ অংশ বছরে চার থেকে সাত মাস পানির নিচে থাকে। ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদীতে এসে পড়ে, আর সেখানকার এক সরু শাখা চেঙ্গী খাল হয়ে পানি পুরো রাতারগুল জলাবনকে প্লাবিত করে। বর্ষা মৌসুমের প্রায় সবসময়ই পানি থাকে বনে (মে-সেপ্টেম্বর)। শীতকালে অবশ্য সেটা হয়ে যায় আর দশটা বনের মতোই। যেন পাতা ঝরা শুষ্ক ডাঙ্গা। আর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়েচলা মেঠোপথ। তখন জলজ প্রাণীকুলের আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বড় বড় ডোবাগুলোতে।বর্ষায় বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। এ সময় কোনো গাছের কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলোর আবার শরীরের অর্ধেকই জলে তলিয়ে যায়। এ সময় কোথাও চোখে পড়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালার কারণে কেমন যেন অন্ধকার লাগে পুরো বনটা। মাঝে মধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দেয় পথ। হাত দিয়ে ওগুলো সরিয়ে পথ চলতে হয়। তবে বর্ষায় এ বনে চলতে হবে খুব সাবধানে। কারণ রাতারগুল হচ্ছে সাপের আখড়া। বর্ষায় পানি বাড়ায় সাপেরা ঠাঁই নেয় গাছের ওপর।বনবিভাগের তথ্যমতে- এই বনের আয়তন তিন হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশাল এ বনে জল-সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের পানি সহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ। রাতারগুল বনে সাপের মধ্যে নির্বিষ গুইসাপ, জলঢোড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের ভেতর পানি ঢুকলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পড়ে।বনের ভেতর দাঁপিয়ে বেড়ায় মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোঁদড়, বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী। টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউস, রুইসহ আরো অনেক জাতের মাছ পাওয়া যায় এ বনে। পাখিদের মধ্যে আছে সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল ও বাজ। শীতে মাঝেমধ্যে আসে বিশালকায় সব শকুন। আর লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ঘাঁটি গাড়ে বালিহাঁসসহ হরেক জাতের পাখি। শুকনো মৌসুমে ডিঙ্গি নিয়ে ভেতরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আপনাকে উড়ে সরে গিয়ে পথ করে দেবে। এ দৃশ্য আসলেই দুর্লভ!গাছের মধ্যে এখানে করচ-ই বেশি। হিজলে ফল ধরে আছে শ`য়ে শ`য়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝে মধ্যে। আর বনের দক্ষিণে মুর্তা (পাটি) গাছের প্রাধান্য। রাতারগুলের বেশ বড় একটা অংশে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা লাগিয়েছে বন বিভাগ। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি হয়। মুর্তা বেশি আছে নদীর উল্টো পাশে। এ ছাড়া ওদিকে শিমুল বিল হাওর আর নেওয়া বিল হাওর নামে দুটো বড় হাওর আছে।বর্ষায় হাওরের স্বচ্ছ পানির নিচে ডুবে থাকা গাছগুলো দেখার অভিজ্ঞতা অপূর্ব। শীতকালে আবার বনের ভিন্নরূপ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে মূর্তা ও জালি বেতের বাগান। সে সৌন্দর্য আবার অন্য রকম! বন এভাবে জলে ডুবে থাকে বছরে চার থেকে সাত মাস। বর্ষা কাটলেই দেখা যাবে অন্য চেহারা। তখন বনের ভেতরের ছোট নালাগুলো পরিণত হবে পায়ে চলা পথে। সেই পথ দিয়ে হেঁটে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়।রাতারগুল বনে ঢুকতে হয় ডিঙি নৌকায় চেপে। নৌকা একবার বনে ঢুকলেই আর কথা নেই!  দুটি মাত্র শব্দ লাগবে আপনার ভাব প্রকাশের জন্য। আপনি হয়তো বলে উঠবেন- ‘আমি মুগ্ধ’! আর বোনাস হিসেবে পাবেন গোয়াইন নদী দিয়ে রাতারগুল যাওয়ার অসাধারণ সুন্দর পথ। এ ছাড়া নদীর চারপাশের দৃশ্যের সঙ্গে দেখবেন দূরে ভারতের মিজোরামের উঁচু সবুজ পাহাড়।এতো গেলো রাতারগুলের বর্ণনা। এখন আলোচনা করবো আমাদের ভ্রমণ নিয়ে। আমরা সিলেটের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে রাতারগুলে এসে পৌঁছেছি, তা বুঝতেই পারলাম না। আমরা যখন স্পটে এসে পৌঁছেছি, তখন বৃষ্টি ছিলো না। এসে দেখি অনেক পর্যটক এসেছে। বিদেশিরাও আছেন তাদের মধ্যে। দেখে মনে হলো, রাতারগুল ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। যা হোক, রাতারগুল বনের মধ্যে প্রবেশ করতে হলে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাই নৌকা ভাড়া দেন। ভাড়া একটু বেশি। তবে এতো দূরে খরচ করে এসে ভাড়ার কথা চিন্তা করলে হবে না।বৃষ্টির ভরা মৌসুমে রাতারগুল পানিতে টইটুম্বুর। হাওরের অথৈই পানি দেখে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ে নৌকাতে উঠতে চাইলো না। আমরা দুটি নৌকা নিয়ে রওনা হলাম। এখানে বাচ্চারাও নৌকা চালায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অবসরে তারা নৌকা ভাড়া দিয়ে আয় করে।আমাদের নৌকা যখন হাওরের মাঝখানে, ঠিক তখন আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। বুঝতে বাকি নাই যে বৃষ্টি হবে। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু। আমাদের মত অনেকেই রওনা হয়েছে রাতারগুলের উদ্দেশ্যে। কারও কারও কাছে ছাতা ছিলো বলে রক্ষা। তবে আমাদের কাছে কোন ছাতা ছিলো না। তাই স্থির করলাম বৃষ্টিতে ভিজেই ‘রাতারগুল’ দেখবো। ঝুম বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে হাওরের জলে নৌকার উপর গলা ছেড়ে গান ধরলেন আমাদেরই এক বন্ধু। আমাদের নৌকার মাঝি ছিলো ছোট ছোট দুটি ছেলে। ওরাও গান ধরলো। আমরা প্রবেশ করলাম রাতারগুলে। আহা, কি রূপ! চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না- এই যে আমাদের বাংলাদেশ। সত্যি বাংলার রূপ পৃথিবীর সব রূপের চেয়ে সেরা। অনেকটা সময় আমরা নৌকায় করে বনের চারিপাশে ঘুরে ঘুরে দেখলাম।এরপর উঠলাম ওয়াচ টাওয়ারে। সেখানে উঠে পুরো রাতারগুলের ভিউটা চমৎকারভাবে দেখা যায়। বৃষ্টি ভেজা রাতারগুল সত্যি চমৎকার। আমরা প্রায় দুই ঘন্টা ছিলাম। এরপর আবারও নৌকায় করে ফিরে আসলাম গড়ির কাছে। গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে। চমৎকার একটি দিন কাটিয়ে গেলাম রাতরগুলে আর হৃদয়টা রেখে গেলাম হাওরের জলে।যেভাবে যেতে হবে রাতারগুল যাওয়া যায় বেশ কয়েকটি পথে। তবে যেভাবেই যান, যেতে হবে সিলেট থেকেই।প্রথম উপায়- সিলেট থেকে জাফলং-তামাবিল রোডে সারিঘাট হয়ে সরাসরি গোয়াইনঘাট পৌঁছানো। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৯০০-১৫০০ এর মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘণ্টাপ্রতি লাগবে ৫০০-৮০০ টাকা।দ্বিতীয় উপায় হলো- সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে গোয়াইনঘাট পৌঁছানো, ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা। ওসমানী এয়ারপোর্ট-শালুটিকর হয়ে যাওয়া এ রাস্তাটা বর্ষাকালে খুবই সুন্দর। এরপর একইভাবে গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৮০০- ১৫০০ টাকার মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে মাঝি ঘণ্টাপ্রতি নেবে ৪০০-৫০০ টাকা।আরো একটি উপায়ে আপনি পৌঁছাতে পারেন রাতারগুল। সেটা হচ্ছে সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে মোটরঘাট (সাহেব বাজার হয়ে) পৌঁছাতে হবে। ভাড়া নেবে ২০০-৩০০ টাকা, আর সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। এরপর মোটরঘাট থেকে সরাসরি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে চলে যাওয়া যায়। এতে ঘণ্টাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা লাগবে। এই তৃতীয় পথটিতেই সময় ও খরচ সবচেয়ে কম।কিছু সতর্কতা রাতারগুল বা তার আশপাশে খাবারের হোটেল বা থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাবার গোয়াইনঘাট বা সিলেট থেকে নিয়ে যেতে পারেন। আরেকটা বিষয়, নৌকায় করে বেড়ানোর সময় পানিতে হাত না দেয়াই ভালো। জোঁকসহ বিভিন্ন পোকামাকড় তো আছেই, বর্ষায় বিষাক্ত সাপও পানিতে বা গাছে দেখতে পাওয়া যায়। সাঁতার না জানলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখা জরুরি। এ ছাড়া ছাতা, বর্ষাতি কিংবা রোদ টুপিও সঙ্গে নিতে হবে। এখানে বেড়ানোর নৌকাগুলো অনেক ছোট। এক নৌকায় পাঁচজনের বেশি উঠবেন না। ছবি : জুলফিকার হুসাইন সোহাগএসএ/ডিডি/

প্রশিক্ষণেই মিলবে পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান

দেশে পর্যটনশিল্প দিনে দিনে বিকশিত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-মোটেল। বাড়ছে এখাতে ব্যাপক সম্ভাবনা। একইসঙ্গে প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষকর্মীর। অনেকেই ক্যারিয়ার গড়তে বা পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন পর্যটনশিল্পকে। ফলে বেড়েছে পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগও বাড়ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনে ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এনএইচটিটিআই) হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এমনকি এখন থেকে প্রশিক্ষণ নিলে মিলছে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সুযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে-বিদেশে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্তোঁরা, ফাস্ট ফুড শপ, বেকারি, ট্রাভেল এজেন্সি ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থাসহ পর্যটন শিল্প ও অন্যান্য সেবামুলক প্রতিষ্ঠান প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কর্মজীবন গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রার্থীদের কাছে  নিম্নবর্ণিত বিষয়ে ১৮ সপ্তাহ মেয়াদী ন্যাশনাল সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবে। তারা বলছেন, শুধু দেশে নয় দেশের বাহিরেও মিলছে লোভনীয় চাকরির হাতছানী। এব্যাপারে জানতে চাইলে ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের(এনএইচটিটিআই) অধ্যক্ষ পারভেজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, এনএইচটিটিআই যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে। এখানকার শিক্ষর্থীরা এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, আমাদের কাছে অনেক দেশ দক্ষকর্মী চায়। তাদের চাহিদা মতো আমরা দক্ষকর্মী দিতে পারি না। এছাড়া নতুন প্রায় ১৫টির বেশি তারকা মানের হোটেল পাইপলাইনে আছে। এগুলোতেও দক্ষ জনশক্তি নিবে। কিন্তু এখাতে যারা কাজ করেন অধিকাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখান থেকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে কেউ বসে নেই। কোন না কোন জায়গায় কাজ করছে। প্রশিক্ষণ শেষে আমরা নিজেদের দায়িত্বে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি। শুধুমাত্র এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন অনার্স মাস্টার শেষ করেও অনেকই এখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, পর্যটন সংক্রান্ত ছয়টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এগুলো হলো- ১. ফ্রন্ট অফিস অ্যান্ড সেক্রেটারিয়্যাল অপারেশন্স, হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে অভ্যর্থনা প্রণালী টেলিফোন ইত্যাদি বিষয় এ কোর্সের অন্তর্ভুক্ত। ২. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস, হোটেল, মোটেল রোস্তোর্রা পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিদেশি খাবার প্রস্তুতি বিষয় এ কোর্সের অন্তর্ভক্ত। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস : খাবার তৈরি, টেবিল সাজানো, খাদ্য ও পানীয় পরিবেশন, পানীয় ও খাদ্য তালিকা তৈরি ইত্যাদি বিষয় কোর্সের অন্তর্ভুক্ত। ৩. ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন : এই কোর্সের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো বাংলাদেশি, চায়নিজ, ইউরোপিয়ান, ইন্ডিয়ান খাবার তৈরি প্রণালী, ডেকোরেশন, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন। ৪. সার্টিফিকেট কোর্স ইন হাউসকিপিং অ্যান্ড লন্ড্রি : কক্ষসজ্জা, বেড তৈরি, ক্লিনিং, লন্ড্রি সার্ভিস, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন, ফাস্ট এইড ইত্যাদি এ কোর্সের অন্তর্ভুক্ত। ৫. বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন : এই কোর্সে শিখবেন কেক, পেস্ট্রি, ব্রেড, কুকিজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট আইটেম প্রস্তুত, ডেকোরেশন, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশনের মতো বিষয়গুলো। ৬. ট্রাভেল এজেন্সি অ্যান্ড ট্যুর অপারেশন : এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য এখানে শিখবেন ট্যুর অপারেশন্স অ্যান্ড ট্যুর গাইডিং, ট্রাভেল সার্ভিস, ট্রাভেল ও কালচারাল জিওগ্রাফি বিষয়গুলো। এছাড়া নতুন করে পাঁচটি কোর্সের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। দুই বছরের হায়ার ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্সের খরচ দুই লাখ ১০ হাজার টাক। এক বছরের ডিপ্লোমা ইন ট্যুারিজম ম্যানেজমেন্ট কোর্সের খরচ এক লাখ টাকা। ১০ মাসের ডিপ্লেমা প্রফেশনাল ইন ব্যাংকি কোর্স। এক বছরের কুরিয়াল আর্টস এবং ক্যাটারিং ম্যানেজমেন্ট কোর্সের খচর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল শেফ কোর্স খরচ হবে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। শুধুমাত্র এইচএসসি পাশ হলে এগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ডিপ্লোমা ইন ট্যুারিজম  ম্যানেজমেন্ট, ডিপ্লেমা প্রফেশনাল ইন ব্যাংকি এই তিনটি কোর্সে জন্য আগামী আট ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষা হবে ১৮ ডিসেম্বর। কোর্স শুরু হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। কুরিয়াল আর্টস এবং ক্যাটারিং ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশনাল শেফ কোর্সের জন্য ৮ আগামী ডিমেম্বর। ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ ১৮ সপ্তাহ। পাঁচ ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন (রোব থেকে বৃহস্পতিবার) ক্লাস হবে। সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের যোগ্যতা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও প্রোডাকশন, হাউস কিপিং অ্যান্ড লন্ড্রি, বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন কোর্সে আবেদনের যোগ্যতা এসএসসি পাস। ফ্রন্ট অফিস সেক্রেটারিয়াল অপারেশনস ও ট্যুর গাইড অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি অপারেশনস কোর্সে আবেদনের যোগ্যতা এইচএসসি। খরচ ট্যুর গাইড অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি অপারেশনস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন কোর্সে খরচ পড়বে ২৫ হাজার টাকা। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন ও হাউস কিপিং অ্যান্ড লন্ড্রি কোর্সে খরচ ৩০ হাজার টাকা। ফ্রন্ট অফিস সেক্রেটারিয়াল অপারেশনস কোর্সে গুনতে হবে ২০ হাজার টাকা। আবেদন ফরম ও অন্যান্য তথ্য ৩০০ টাকার বিনিময়ে ইনস্টিটিউটের অফিসে আবেদন ফরম পাওয়া যাবে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।আবেদন ফরমের সঙ্গে জমা দিতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত সনদ, প্রশংসাপত্র এবং পাসপোর্ট আকারের দুই কপি ছবি। আবেদন প্রার্থীদের অংশ নিতে হবে ভর্তি পরীক্ষায়। এমসিকিউ এবং রচনামূলক পদ্ধতিতে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। নম্বর বিভাজন সাধারণ জ্ঞান ৪০, সাধারণ গণিত ২০ এবং ইংরেজি ৪০।   ঠিকানা : ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ৮৩-৮৮ মহাখালী বা/এ, ঢাকা। ফোন : ৯৮৯৯২৮৯-৯১। ওয়েবসাইটেও  (www.nhtti.org/notice.php) পাওয়া যাবে দরকারি তথ্য। এসএইচ/                               

কালাপানি এখন পর্যটন নগরী আন্দামান

মানুষের জানার শেষ নেই। তাই ভ্রমণপিপাসুরা পৃথিবীটাকে ঘুরে দেখতে চায়। জয় করতে চায় সারা বিশ্বকে। তেমনি অজানা রহস্যে ঘেরা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপূর এ দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন বন্ধু-বান্ধবসহ বা পরিবারসহ।এখন কালিপানিই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত সবার কাছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বিবরন:- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। যার পূর্বে আন্দামান সাগর ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এর রাজধানী আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার। দ্বীপপুঞ্জটি প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই আদিবাসীদের আবাসভূমি। বহিরাগতদের এই দুই দ্বীপপুঞ্জটি নেগ্রিটো ও মঙ্গোলয়েডের অধিকারে ছিল। ব্রিটিশ সরকার এখানে কারাগার তৈরি করে ২০০ বন্দীকে রাখেন। ২০০ জনেরই অধিকাংশই ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী সৈনিক। সেখানে সেলুলার জেল তৈরি হলে কারাগারটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ একত্রে স্বাধীন ভারতের অঙ্গীভূত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে পর্যটন নগরী হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উপাধি পেয়েছে “পান্না দ্বীপপুঞ্জ” হিসেবে। সুন্দর লোকালয়, সূর্য-চুম্বিত সমুদ্র সৈকত, পিকনিক স্থল এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যের জন্য পর্যটন ব্যবস্থায় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। রয়েছে হ্যাভলক, সিনকিউ, ছাতাম, ভাইপার, রস, ব্যারেন এবং রেড স্কিন, প্রাক্কালীন অন্ধকূপ, জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, মধ্যযুগীয় কাঠচেরাই কারখানা (শ্য মিল), বিচিত্র বর্ণের প্রবাল ও আরও অনেক কিছু। এতে রয়েছে- নানা পিকনিক স্থল; যেমন চিড়িয়া তাপু, মাউন্ট হ্যারিয়েট ও কোরবাইন’স কোভ টু্রজিম্ কমপ্লেক্স – যা নিজস্ব বিনোদনের জন্য আনন্দদায়ক স্থলের চাহিদা পূরণ এবং জীবনের মজাদার ও প্রফুল্লময় মুহূর্তগুলির অভিজ্ঞতা প্রদান করে। মিউজিয়ামগুলির মধ্যে রয়েছে- ফরেস্ট মিউজিয়াম, সমুদ্রিকা অফ নাভাল মেরিন্ মিউজিয়াম, ন্যাশনাল মিউজিয়াম ও আ্যনথ্রোপলোজিক্যাল মিউজিয়াম। অন্যদিকে স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে রয়েছে সেলুলার জেল, ভাইপার আইল্যান্ডের ফাঁসিকাঠ – যা বহু পর্যটকদের আকর্ষিত করে। আন্দামানে দর্শীয় স্থানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলি   লং আইল্যান্ড, সেলুলার জেল, আ্যনথ্রোপলোজিক্যাল মিউজিয়াম, মহাত্মা গান্ধী মেরিন ন্যাশনাল পার্ক ।   নিকোবরে দর্শনীয় স্থান- নিকোবরের অন্যতম আকর্ষণ নানা ধরনের পাখি আর নান বর্ণের ফুল, বৈচিত্রময় সমুদ্র সৈকত এখানের সবকিছু প্রকৃতি তার নিজের মতোকরে অপরুপে সাজিয়ে নিয়েছে। ইন্দিরা পয়েন্ট যা অনেকের কাছে বাতিঘড় হিসেবেও পরিচিত । সৈকতের জন্য ভ্রমন প্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় কচল দ্বীপ। প্রাকৃতির সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই কার নিকোবর ও গ্রেট নিকোবরে যান। শ্বেত বালুকাময় সৈকত আর স্বচ্ছ কাচের মতো পানি আপনাকে নিকোবরে যাওয়ার আনন্দ বাড়িয়ে দিবে। নিকোবরে দর্শীয় স্থানগুলি মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলি ইন্দিরা পয়েন্ট, কার নিকোবর , কটচল, গ্রেট নিকোবর আইল্যান্ড।   সেলুলার জেল- ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে এমন অভিযুক্তদেরকে আন্দামানে নির্বাসনে পাঠানো হতো, বন্দি করে রাখা হতো গরাদের পিছনে। স্বাধীনতা সংগ্রামের যোদ্ধাদের দুর্বিষহ জীবনের সাক্ষী সেসুলার জেলটি পরিদর্শনে আসেন অনেকেই।   মহাত্মা গান্ধী মেরিন ন্যাশনাল পার্ক- দর্শনার্থীরা যেই কয়েকটা জায়গা দেখতে আসেন তার মধ্যে অন্যতম স্থান মহাত্মা গান্ধী মেরিন্ ন্যাশনাল পার্ক। এখনে দর্শনার্থীরা দেখতে পান সামুদ্রিক জীব-জন্তুদের জীবনযান এবং বিরল প্রজাতীর প্রবাল। জায়গাটি পরিবার পরিজন, বন্ধ-বান্ধব নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানো অথবা একা একা বসে বসে প্রাকৃতিক সৈান্দর্য উপভোগ করার জন্যও উৎকৃষ্ট।   লং আইল্যান্ড- যারা কখনো ডলফিন দেখেননি, অথবা যারা ডলফিন আগে দেখেছেন সেই স্মৃতিটা এখনো ভুলতে পারেননি আবারও দেখতে চান তাহলে যেতে পারেন লং আইল্যান্ড। ভ্রমণপ্রেমিদের জন্য অন্যতম ভ্রমণের স্থান লং আইল্যান্ড, সেখানে গিয়ে দেখতে পাবেন ডলফিনদের রক্ষণাবেক্ষণ। আর বালুকাময় সৈকত তো রয়েছেই। ইন্দিরা পয়েন্ট- নিকোবরে অনেকগুলি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। প্রত্যেকটার স্থানেরই রয়েছে আলাদা আলাদা বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রতিবছরই অসংখ্য দর্শনার্থীরা ভিড় করে নিকোবরে। নিকবরের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম স্থান ইন্দিরা পয়েন্ট। ইন্দিরা পয়েন্টের বিশেষ আকর্ষণ আকামচুম্বী লাইট হাউজ অথবা বাতিঘর যা জাহাজের জন্য ল্যান্ডমার্ক হিসেবে কাজ করে। ইন্দিরা পয়েন্টোর সমুদ্র সৈকতের মনোমুগ্ধকর সৈান্দর্য প্রকৃতি প্রেমিদের শুধু মুগ্ধই করে বার বার যেতে উৎসাহী করে। ইন্দিরা গান্ধী জায়গাটিতে ভ্রমণের পর থেকেই জায়গাটির নাম ইন্দিরা পয়েন্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।   আ্যনথ্রোপলোজিক্যাল মিউজিয়াম- এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের হস্ত নির্মিত বিভিন্ন ধরনের জিনিস সংরক্ষণ করা কয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে আ্যনথ্রোপলোজিক্যাল মিউজিয়ামে জাতিগত ঐতিহ্যের ছাপ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কার নিকোবর- দ্বীপপুঞ্জে ছুটি কটানোর জন্য আথবা ভ্রমণের জন্য কার নিকোবরের তুলনা হয় না। দ্বীপটিতে আপনি দেখতে পাবেন সারি সারি নাকিকেল গাছ। নারিকেল গাছ সেখাকার লোকজনের বাণিজ্যের আর খাবারের প্রধান উপকরণ। কার নিকোবরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। এখানের প্রাকৃতির সৌন্দর্য বিশেষ করে অরণ্য আর সমুদ্রতীর ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ করে। এছাড়াও সেখানে আপনি দেখতে পাবেন বিশেষভাবে নির্মিত কুরে ঘর, কুরে ঘরের মেঝে মাটি থেকে বিভিন্ন উচ্চতায়, ঘড়ে উঠার সিড়িগুলিও ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ করে। আর সমুদ্রের গর্জন আপনাকে মুগ্ধ করে দিবে। ভ্রমণ শেষে ফিরে আসার পরও আপনি বার বার ছুটে যেতে চাইবেন দ্বীপটিতে। গ্রেট নিকোবর দ্বীপ- প্রতিবছরই সারা বিশ্ব থেকে দর্শনার্থীরা আসেন তাদের প্রিয় স্থান গ্রেট নিকোবর দ্বীপে। এই দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ বিভিন্ন ধরনের অর্কিড। দ্বীপটি কচ্ছপের বসবাসের জন্যও উপযুক্ত স্থান । এখানের প্রকৃতি সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের আকর্ষণ করে। কচল- অতুলনীয় সুন্দর দ্বীপ কচল। শীত ও গ্রীষ্ম দুই ঋতুতেই এখানে যেতে পারেন, সব সময়ই আপনাকে মুগ্ধ করে দিবে। সামুদ্রিক মাছ ও প্রবাল দ্বীপের কচলে সাঁতার কাটার জন্য এবং সমুদ্রস্নান করার জন্যও উৎকৃষ্ট। এখানে রয়েছে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সমারোহ। এখানে কাচের জলের মত স্বচ্ছ জল দেখতে পাবেন। আন্দামান ও নিকোবরে পৌঁছানোর উপায়- জল পথে- দ্বীপপুঞ্জে কিভাবে যাবেন আগে থেকেই ঠিক করে নিন যদি স্বল্প সময়ে খুব সহজেই যেতে চান তাহলে, যেতে হবে আকাশ পথে। আর আপনি যদি হাতে সময় বেশি নিয়ে যেতে চান, সমুদ্র ভ্রমণের ইচ্ছে থাকে তাহলে যেতে হবে জল পথে। জল পথে যেতে হলে ভারতের কলকাতা, চেন্নাই, ভিষাখাপত্তনমের থেকে দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারে যেতে হবে। কলকাতা থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই পোর্ট ব্লেয়ারের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়, আর ভিষাখাপত্তনম থেকে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে একবার জাহাজ যাওয়া যায়। জল পথে দ্বীপপু্ঞ্জে পৌঁছাতে প্রায় তিন দিন সময় লাগবে। আকাশ পথে- হাতে সময় কম থাকলে দ্বীপপুঞ্জে যেতে পারেন আকাশ পথে। কলকাতা ও চেন্নাই থেকে দ্বীপ পুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারে যাওয়ার জন্য কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে যেতে পারেন।ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস, জেট এয়ারওয়েজ এবং এয়ারডেক্যান এই দ্বীপের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছিড়ে যায়। দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার জন্য সব চেয়ে সহজ মাধ্যম আকাশ পথ, মাত্র দুই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। খাবারের ব্যবস্থা- এখানে খাওয়া দাওয়ার জন্য রেস্তোরার অভাব হবে না। বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরা রয়েছে। এসব রেস্তোরায় নানা দামের এবং নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এখানে নিরামিষ ও আমিষ দু’ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে খেতে পারেন কাঁকড়া, মাছ, গলদা চিংড়িসহ আরও অনেক কিছু। শুধু ভারতীয় নয় চীনা জাতীয় খাবারও পাওয়া যায় এখানে। শুধু মনে রাখবেন এখানে একেক হোটেলের খাবারের ধরন একেক রকম হতে পারে। কোথায় থাকবেন- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে থাকার জন্য রয়েছে সব ধরনেরই হোটেল, আপনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী হোটেল খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। রিসোর্ট, রেস্তোরা ও ক্যাফের খোঁজ পেতে আপনার কোন সমস্যাই হবে না। শুধু মনে রাখবেন পর্যটন মৌসুমে হোটেল ভাড়া অফ সিজনের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। জনপ্রিয় হোটেলগুলির মধ্যে অন্যতম আন্দামান টিল হাউজ, টার্টেল রিসোর্ট, হাওয়াবিল নেস্ট। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ-এ কেনাকাটা- এ দ্বীপে রয়েছে কেনাকাটার জন্য অনেক মার্কেট। মার্কেটগুলির মধ্যে পোর্ট ব্লেয়ার অন্যতম। দোকানে রয়েছে প্রবাল, ঝিনুকের হস্ত নির্মিত বিভিন্ন ধরনের জিনিস। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাঠের জিনিসপত্র। সমুদ্রতীরে বসে থাকার জন্য কিনতে পারেন নারিকেল পাতার তৈরি মাদুর। বাঁশের তৈরি জিনিসও পাওয়া যায়।   এসএইচ/

ভ্রমন পিপাসুদের হাট লালমনিরহাট

ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটে ভ্রমন পিপাসু মানুষের সমাগম দিনে দিনে বাড়ছে। অনেকেই বাংলাদেশের শেষ সীমান্ত থেকে ভারতের সৌন্দর্য দেখতে লালমনিরহাট যান। এখানে রয়েছে মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, ঐতিহাসিক তুষারভান্ডার জমিদার বাড়ী, কাকীনা জমিদার বাড়ি, বুড়িমারী স্থলবন্দর, ৬ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার, তিন বিঘা করিডোর প্রভৃতি। এছাড়াও লালমনিরহাট জুড়ে সবুজের সমারোহ তো রয়েছেই । এ কারণে এখানে পর্যাটকরা সারা বছরই ভিড় জমান।   তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা। ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ইউনিয়ন হিসেবে পরিগনিত হয়। ১৯৮৯ সালে ইউনিয়নটির শুভ উদ্বোধন হয়। এক সময় সেখানে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশীরা এক ঘণ্টা পরপর সুযোগ পেত। বর্তমানে সেই সমস্যা আর নেই। তাছাড়া বর্তমানে তিন বিঘা করিডোর এলাকাটি পরিণীত হয়েছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সের মানুষকেই এখানে দেখা যায়। সারা বংলাদেশ থেকেই ভ্রমন পিপাসু মানুষরা ভিড় করে করিডোর এলাকায়। সেখানে যাতায়াতের জন্য লালমনিহাট সদর থেকে বাস সর্ভিস থাকায় সহজেই যে কেউ যেতে পারে তিন বিঘা করিডোরে।   নিদাড়িয়া মসজিদ ফটো-নিদাড়িয়া মসজিদ ১১৭৬ সালে মোঘল সুবেদার মনছুর খাঁ মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। জনশ্রুত আছে মনছুর খাঁর দাড়ী না থাকায় মসজিদটি নিদাড়িয়া মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। মসজিদটি দেখার জন্য সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেখানে যান। এখানে যাতায়াতের জন্য সিএনজি, অটোরিক্সা এবং বাস সার্ভিস রয়েছে।   তুষভান্ডার জমিদার বাড়ী ফটো-তুষভান্ডার জমিদার বাড়ী লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষারভান্ডার ইউনিয়নে তুষভান্ডার জমিদার বাড়ীটি অবস্থিত। তৎকালে রাজবাড়ীতে তুষ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যজ্ঞানুষ্ঠান হতো। সংগ্রহিত তুষের স্তুপ থেকেই বাড়ীটি তুষভান্ডার নামে পরিচিতি পায়। লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থেকে বাস যোগে সহজেই যাওয়া যায় জমিদার বড়িটিতে। বাড়ীটি দেখার জন্য সারাদেশ থেকে লোকজনের সমাগম ঘটে।    কাকিনা জমিদার বাড়ী ফটো-কাকিনা জমিদার বাড়ী কাকিনা জমিদার ছিলেন বৃহত্তর রংপুর জেলার অন্যতম জমিদার। কাকিনা জমিদারী কাকিনা রাজবাড়ী নামে পরিচিত ছিল। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জজেলায় গড়ে ওঠা জমিদার বাড়ীটি আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে জমিদারের ‘হাওয়াখানা’।  জমিদার বাড়ীতে সড়ক এবং রেল পথেও যাতায়াত করা যায়। সড়ক পথে যেতে হলে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী স্থল বন্দর যাওয়ার সময় কাকিনা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে জমিদার বাড়ির ভগ্নাবশেষ। রেলপথে যেতে হলে আপনাকে লালমনিরহাট জেলার কাকিনা রেল স্টেশনে নেমে ২ কিলোমিটার দুরত্বে কাকিনা বাসস্ট্যান্ডে যেত হবে। বাস স্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে জমিদার বাড়ীটি।   বুড়িমারী স্থলবন্দর   ফটো-বুড়িমারী স্থলবন্দর   বুড়িমারী স্থল বন্দর বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে অবস্থিত  লালমনিরহাট জেলার অন্যতম স্থল বন্দর । দেশের শেষ প্রান্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই সেখানে যান। সড়ক পথ এবং রেল পথেও বন্দরটিতে যাওয়া যায়।   ৬ নং সেক্টর বুড়িমারী ফটো-৬ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুড়িমারী মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সেক্টর হেড কোয়ার্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম ৬ নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার। সেক্টর হেড কোয়ার্টাটি তৎকালীন বুড়িমারী হাসর উদ্দিন দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়। সেক্টর ভবনের নিকটে নির্মান করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। ঐতিহাসিক জায়াগাটি দেখতে দেশপ্রেমীরা সেখানে যান । সেখানে যাতায়াতের জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে।     /এমআর              

স্বর্গসুখ পেতে চাইলে ঘুরে আসুন শিমলা-মানালী-লাদাখ

স্বচ্ছ-শুভ্র বরফ নিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে খুঁনসুটিতে মেতে উঠতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের কলকা, শিমলা, মানালী ও লাদাখ। সেখানে বাবুই পাখির মত বরফের ঘর বানাতে পারবেন। স্বপ্ন বুনতে পারবেন। প্রিয়জনকে নিয়ে স্বর্গসুখে গা এলিয়ে দিতে পারবেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নবদম্পত্তিরা মধুচন্দ্রিমা আসেন এখানে। হিম-শীতল আবহাওয়ায় এক ধরনের রোমাঞ্চ অনূভব করেন। শিমলা-মানালীর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটকের মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে। একবার গেলে জীবনে কখনোই ভুলবেন না। কলকা থেকে সিমলা যাওয়ার সময় আপনি দেখতে পাবেন ১০২ টি সুরঙ্গ এবং রেল লাইনে রয়েছে ৮৬৪ টি সেতু। আর সিমলায় গিয়ে দেখতে পারেন -জাখু পাহাড় ও জাখু মন্দির, ভ্যাইসরিগেল লজ , সামার হিল , ম্যানরভিল্যে ম্যানশন হল, দ্য রিজ বা শৈলশ্রেণী, মল রোড,  ক্রাইস্ট চার্চ, সেন্ট মাইকেল ক্যাথিড্রাল, গেইটি থিয়েটার, কোটগড়, সিমলা জল-অববাহিকা অভয়ারণ্য,  কুফরি, ফাগু। আর নির্মল প্রকৃতির বুক চিড়ে গড়ে উঠা মানালিতে গিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন হাদিম্বা দেবী মন্দির, মল এরিয়া, তিব্বতীয় মনস্ট্রিসহ আরো অসাধারণ সব জায়গা। আকাশে উড়ার বাসনা থাকলে সেটিও পূরণ হবে। প্যারাগ্লাইডিংয়ের মাধ্যমে আপনার সেই সাধ ধরা দেবে। আরও দেখে আসতে পারেন আপেল বাগান, বরয়ের শুভ্রতা, আর মেঘতো আছেই। রয়েছে সোলাং ভ্যালি, রোথাংপাস, হাদিমবা টেম্পল, মনিকারন । বরফের মাঝে স্কেটিং করতে যেতে পারেন সোলং ভ্যালি । স্কেটিং করতে না পারলেও বরফে গড়াগড়ি দিতে চাইলে ঘুরে আসুন মানালি। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের একটি অংশ লাদাখ । লেহ্ ও কারগিল দুটি  জেলা নিয়ে লাদাখ গঠিত। লেহ্ প্রায় ৩৫০৫ মিটার উচ্চতায় এবং কারগিলের উচ্চতা হল প্রায় ২৭৫০  মিটার। লাদাখে তিব্বতী সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে অনেকেই এটিকে ‘ছোট তিব্বত’ বলে ডাকেন । লাদাখে রয়েছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ। রয়েছে মধ্য এশিয়ার অনুরুপ প্রাণিকুল। এই এলাকায় শীত যাপন করতে আসে উষ্ণ অঞ্চলের পাখি। ইচ্ছে করলে যাওয়ার সময় অথবা আসার সময় কলকাতাও ঢু মেরে আসতে পারেন। এতে করে একই ভ্রমণে কয়েকটা জায়গা দেখা হয়ে গেলো। কলকাতা থেকে থেকে কলকা কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় রাত্রিযাপনের জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলে একদিন যাত্রাবিরতি দিয়ে কলকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেন। কলকাতার হাওড়া থেকে কলকা যেতে হবে হাওড়া কলকা মেইল ট্রেনে, ট্রেনটি হাওড়া থেকে সন্ধা সন্ধা ৭.৪০টায় ছেড়ে ৩য়দিন ভোড় ৫টা নাগার কলকা পৌছবে। কলকা থেকে সিমলা কলকা-সিমলা ন্যারোগেজ (২ ফুট ৬ইঞ্চি) রেলওয়েটি আশপাশের গ্রাম, পাহাড়-পর্বতের জন্য বিখ্যাত । এবং এই রেলওয়েটি কলকা রেলওয়েটি সিমলা ভ্রমনের সবচেয়ে পর্বতময় রেলওয়ে। এই রেলওয়ে সোলান গ্রামের মধ্যে দিয়ে যায় যা ছোট সিমলা নামে পরিচিত। ট্রোন রাস্তার দুধারের  প্রকৃতি ভ্রমন পিপাসুদের মুগ্ধ করে। এই রাস্তাটির বিশেষ আকর্ষন কলকার সিভালিক মালভূমির বিভিন্ন স্থান । বর্তমানে কলকা সিমলা রেলওয়েতে মোট ১০২টি সুরঙ্গ পথ কার্যকর রয়েছে, বারোগেও সবচেয়ে দীর্ঘ সুরঙ্গ হলেও সিমলায় আবস্থিত শেষ সুরঙ্গ পরিণত হয়েছে বিখ্যাত স্থাপনায়। এছাড়া এই রেললাইনে রয়েছে ৮৬৪টি সেতু, আর্ক গ্যালারী নামে পরিচিত ৪৯৩সেতুটি তিনস্তরের গ্যালারী পাথরের তৈরি। কলকা থেকে সিমলায় যাতায়াতের জন্য রয়েছে কয়েকটা ট্রেন। কলকা থেকে টয় ট্রেনের টিকেট করে আপনার সুবিধামতো সময়ে যেতে পারেন সিমলা। উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে আজ পর্যন্ত কলকা থেকে সিমলা যাওয়ার জন্য টয় ট্রেন ব্যাবহার হচ্ছে। এটি খুবই ধির গতির এবং জনপ্রিয় যাতায়াত ব্যাবস্থা। সিমলায় যা দেখবেন জাখু পাহাড় ও জাখু মন্দির: এই স্থান টি ভ্রমণকারীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। আশ্চর্য সব দৃশ্য দেখতে যেতে পারেন সিমলার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পারেন জাখু পাহাড়ে, পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে জাখু মন্দির ।ভ্যাইসরিগেল লজ: সূর্যাস্তা এবং সূর্যোদয়ের আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে হলে যেতে হবে ভ্যাইসারিগেল লজ। লজটি অবসারভেটরি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৯৮সালে। ভবনটি ব্যবহৃত হতো ভারতের ভাইসরয়, লর্ড ডাফরিনের সরকারি বাসভবন হিসেবে।সামার হিল: পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় স্থান সামার হিল। ওক, সেডার, রডোডেনড্রন এবং আরোও অনেক গাছপালাসহ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে যেতে পারেন সামার হিলে। এছাড়া এখানে রয়েছে বিখ্যাত ভবন ম্যানরভিল্যে ম্যানশন হল অবস্থিত। যেখানে  মহাত্মা গান্ধী সিমলা ভ্রমণের সময় ছিলেন।দ্য রিজ: এটি একটি উন্মুক্ত স্থান। দ্য রিজ্ বা শৈলশ্রেণীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক আছে এবং বেশ কিছু কার্যক্রম আয়োজনের পাশাপাশি এখান থেকে পার্শ্ববর্তী পর্বতগুলির এক সুন্দর দৃশ্য পরির্শনেরও প্রস্তাব দেয়। শহরের এই অংশটি সিমলার জনজীবনের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটির  নীচের জলাশয় শহরের একটি প্রধান অংশে জল সরবরাহের দায়ভারে রয়েছে।ক্রাইস্ট চার্চ: উত্তর ভারতের ২য় প্রাচীন গির্জা ক্রাইস্ট চার্চ। এটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৪৪সালে। এটি নকশায়িত কাচের জানালার জন্য জনপ্রিয়। সেন্ট মাইকেল ক্যাথিড্রাল: সিমলার প্রথম ক্যাথলিক গির্জা সেন্ট মাইকেল ক্যাথিড্রাল। যা নির্মিত হয়েছিল ১৮৫০ সালে। এখানের ৫টি মার্বেলে বেদী ১৮৫৫ সালে ইতালি থেকে আনা হয়েছিল। এখানে নকশায়িত কাচেঁর জানালও রয়েছে।গেইটি থিয়েটার: ১৮৮৭ সালে সিমলায় ব্রিটিশ বাসিন্দাদের বিনোদনের জন্য গেইট থিয়েটার বা নাট্যমঞ্চটি নির্মিত করা হয়েছিল। সূক্ষ শিল্পপ্রেমীরা অবশ্যই দর্শনীয় স্থানটি দেখে আসবেন। এখানে একটি প্রদর্শনী সভা, একটি আ্যম্ফিথিয়েটার ও অন্যান্য বহু সুযোগ- সুবিধা সহ একটি শৈল্পিক গ্যালারি রয়েছে।কোটগড়: আপেল বাগানের জন্য প্রসিদ্ধ কোটগড়। হিমাচল প্রদেশের প্রথম ফলের বাগান স্থাপিত হওয়ার পরবর্তী সময়ে প্রধান আপেল রপ্তানীকরক স্থান হয়ে উঠে এটি।সিমলা জল-অববাহিকা অভয়ারণ্য:  ১০.২৫ কিঃ মিঃ বিস্মৃত এলাকাটি বাদামী ভাল্লুক, কৃষ্ণকায় হরিণ, ভারতীয় লাল শেয়াল ও ডোরা-কাটা হায়নার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।কুফরি : সিমলা জেলার ক্ষুদ্র হিলস্টেশন কুফরি। কুফরি শব্দটি এসেছে কুফ্র থেকে যার অর্থ লেক। এখানে রয়েছে ‘হিমালায়ান ওয়াইল্ড লাইফ  জু’। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে উইন্টার স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয় যা দেখতে দেশ বিদেশ হতে হাজারো পর্যটক আসেন।ফাগু : প্রায় ২৫০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ফাগু। শীতে স্কীয়িং, উইন্টারে স্পোর্টস, গ্রীষ্মে পিকনিক স্পট হিসেবে এটি খুবই জনপ্রিয়।সিমলায় মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত স্প্রিং, তখন তাপমাত্রা থাকবে ১০ডিঃসেঃ থেকে ২০ডিঃসেঃ। মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত সামার, তখন তাপমাত্রা থাকবে ১৬ডিগ্রি সেঃ থেকে ২৮ডিঃসেঃ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মনসুন, তখন তাপমাত্রা থাকবে ১৩ডিঃসেঃ থেকে ২০ডিঃসেঃ।  অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস অটাম, তখন তাপমাত্রা থাকবে ১০ডিঃসেঃ থেকে ২৩ডিঃসেঃ। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়াবী মাস উইন্টার, তখন তাপমাত্রা থাবে -৭ডিঃসেঃ থেকে ১০ডিঃসেঃ।কোথায় থাকবেনসিমলায় থাকার জন্য বিভিন্ন মানের বিভিন্ন দামের হোটেল রয়েছে, সিমলায় থাকতে চাইলে চলে যান মল রোডে।  ভাড়া ৫০০রুপী থেকে ১০০০টার মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন। অনলাইনে হোটেল বুক করতে চাইলে booking.com, agoda, makemytrip সহ আরো অনেক ওয়েসবাইট রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি সহজেই হোটেল ‍বুক করতে পারনেব।  সিমলা থেকে মানালি সিমলা থেকে মানালির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্টের কয়েকটা গাড়ি, গাড়ি ভাড়া ৩৮০রুপি,  সকাল ১০.৩০মিনিটে সন্ধা ৭টা ,রাত ৮.৪৫মিনিটের বাস ছাড়াও রয়েছে আরো ২টি বাস রাত ১০টায় ছেড়ে যায় যার ভাড়া ৪০০রুপি। আপনি ইচ্ছে কররে একটু বেশি টাকা খরচ করে হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বাসেও যেতে পারেন, এই সর্ভিসের বাস সকাল ৭.৩০মিনিটে ছেড়ে যায়, ভাড়া লাগবে ৫৫০রুপি, হোটেল খরচ বাচানোর জন্য। আপনি যদি ভ্রমনের সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে চান তাহলে রাতের বেলায় গাড়িতে উঠে লম্বা একটা ঘুম দিয়ে সকালে রওনা দিতে পারেন মানালির উদ্দেশ্যে। আপনি যদি সিমলায় রাত কাটাতে না চান তাহলে রাতের যেকোনো গাড়িতে রওনা হয়ে যান মানালির উদ্দেশ্যে। অন্যথায় সিমলায় বাজেটের মধ্যে একটা হোটেলে উঠে চমৎকার একটা ঘুম দিয়ে বিশ্রাম নিন, সকালে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে রওয়ানা দিন মানালির উদ্দেশ্যে। রাতের গাড়িতে মানালী রওনা দিলে সকালে লেহ যাওয়ার বাস না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই শরীরকে বিশ্রাম দিতে এবং পরিবেশের সঙ্গে শরীরটাকে মানিয়ে নিতে রাতে মানালিতেই থাকুন।মানালিতে ঘুরে দেখুন হাদিম্বা দেবী মন্দির, মল এরিয়া, তিব্বতীয় মনস্ট্রিসহ আরো অনেক সুন্দর জায়গা। পরেরদিন, মানালি থেকে লেহ’র উদ্দেশ্যে বাসের টিকিট কিনুন।গরম পানির ঝরনা দেখতে  চাইলে চলে যান মানিকারন। সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইলে বরফ শীতল আবহাওয়ার গোসল করতে পারেন গরম পানির ঝরনায়। এখানে একটি মন্দির রয়েছে । এটি ভারতের তীর্থ যাত্রীদের কাছে খুবই পবিত্র।দেখে আসতে পারেন আপেল বাগান, বরফের শুভ্রতা, আর মেঘতো আছেই। আরো রয়েছে সোলাং ভ্যালি, রোথাংপাস, হাদিমবা টেম্পল, মনিকারণ তার । বরফের মাঝে স্কেটিং করতে যেতে পারেন সোলং ভ্যালি । স্কেটিং করতে না পারলেও বরয়ে গড়াগড়ি দিতে হলেও চলে যান সেখানে।কোন সময়ে যাবেনএখানের একেক সময় একেক পরিবেশ বিরাজ করে। তাই প্রথমে ভাবুন কী দেখবেন। সেই হিসেব কষে ভ্রমণে যান । প্রথমে ভেবে দেখুন মানালী গিয়ে আপনি কি দেখতে চান, বরফ দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে । এই সময়টাতে পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকায় সব কিছুরই দাম বেশি হবে। বরফ দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে ডিসেম্বর থেকে  জানুয়ারীর মধ্যে। অল্প খরচে ঘুরে আসতে চাইলে জানুয়ারী – ফেব্রয়ারীতে যান। ঘরে বসে দেখতে পাবেন ভারী তুষারপাত।  মোটামুটি কম খরচেই ঘুরে আসতে চাইলে সেপ্টেম্বর এর মাঝ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত যেতে পারেন। তখন দেখতে পাবেন সবুজ পাইন বন, ক্রিস্টমাস ট্রীর বাহার, বরফ ছাড়া  পাহাড়। পাহাড়ে মেঘের ঠুকাঠুকি  দেখতে হলে চলে যান জুন মাসের শেষ দিকে, এই সময়টাতে বৃষ্টির কারণে রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে উঠে । মানালীতে কোথায় থাকবেনমানালি শহরটি সিমলার মতো আটঁসাঁট না হওয়ায় মূল রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল। মানালীতে কম খরচেও থাকতে পারেন, বেশি খরচেও থাকতে পারেন। মূলশহর থেকে সোলং ভ্যালি পর্যন্ত হোটেল রয়েছে থাকতে পারনে দৈনিক খরচ ১হাজার ৫০০ থেকে ৪হাজার রুপির মধ্যে। শেই প্যালেস লে থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত শেই প্যালেস। শেই প্যালেসটি হলো রাজ পরিবারের সামার প্যালেস। প্রথম লাদাখি রাজা এই প্যালেসটি তৈরি করেছিলেন। প্যালেসের ভেতর রয়েছে শেই গুম্ফা। আর গুম্ফাতে আছে শাক্যমুনি বুদ্ধের ১২ ফুট দীর্ঘ মূর্তি। নীল সরোবর প্যাংগং সো আর সো-মোরারি লাদাখের দুটি বিখ্যাত সরোবর। তিব্বতি ভাষায় সো বলতে বোঝানো হয় সরোবর। ৫/৬জন বাসার মত ছোট গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন সরোবর থেকে। আর বাসে যেতে চাইলে নির্দিষ্ট সময়ে বাস স্টেশনে যেতে হবে।/ এআর /

মন ছুটে যায় ঠাকুরগাঁও-এ

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও প্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ একটি জনপদ। ঐতিহাসিক স্থাপনা, দর্শনীয় স্থান, পর‌্যটন স্পট, পুরনো রাজবাড়ি, নান্দনিক নকশায় নির্মিত মসজিদ-মন্দির, শতবর্ষী গাছ, নদী-নালা, বিল-জলাধারের টলমলে স্বচ্ছ পানি, অনাবিল প্রকৃতি-এসবই টানে পর্যটকদের। যারা একবার গিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ে বারবার ছুটে যেতে মন চাইবে। ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জহাটে রয়েছে জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ , বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণ মারি গ্রামে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো  সূর্য্যপূরী আমগাছ, পীরগঞ্জ রয়েছে ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক , সনগাঁ মসজিদ,  ফতেহপুর মসজিদ , হরিণমারী শিব মন্দির, গড়খাঁড়ি , পীরগঞ্জ  উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের হাটপাড়ায় রয়েছে রাজভিটা, পীরগঞ্জ পৌরসভায় রয়েছে ভেমটিয়া শিবমন্দির, রানীশংকৈল উপজেলায় রয়েছে রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি, প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন, নেকমরদ মাজার, মহেশপুর মহালবাড়ি ও বিশবাঁশ মাজার ও মসজিদস্থল, গড়গ্রাম দুর্গ, বাংলা গড়  হরিপুর উপজেলায় রয়েছে হরিপুর রাজবাড়ি , গড় ভবানীপুর , গেদুড়া মসজিদ, মেদিনী সাগর মসজিদ, রানীশংকৈল উপজেলায় রয়েছে জগদল রাজবাড়ি, গোরক্ষনাথ মন্দির এবং কূপ, মালদুয়ার দুর্গ , ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা রয়েছে সাপটি বুরুজ এবং ভাউলারহাটে রয়েছে শালবাড়ি ইমামবাড়া। ঠাকুরগাঁও শহরে রয়েছে ঢোলরহাট মন্দির , গোবিন্দনগর মন্দির, কোরমখান গড়সহ আরো অনেক কিছু। এগুলো সহজে দর্শকদের নজর কাড়ে। মনে দোলা দেয়। বারবার মন ছুটে যায়। দেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী গ্রামের তিন বিঘা জমি জুড়ে দেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ। স্থানীয়ভাবে এটি সূর্যপুরী আম গাছ বলে ডাকা হয়। গাছটির প্রায় ১৯ টি বৃহাদাকার শাখা বা ডাল রয়েছে, যার প্রতিটি শাখার দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৮০ ফুট। গাছের প্রত্যেকটি শাখার উপর অনায়াসে হাটাচলা করা সম্ভব। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর এ গাছ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ আম উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ টাকা। গাছটির বয়স আনুমানিক বয়স ২০০ বছর হবে। ফানসিটি বিনোদন ও শিশু পার্ক শিশুপার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্র ফানসিটি এন্ড এ্যামিউজমেন্ট পার্ক পীরগঞ্জ শহরের আর ডি আর এস মোড় সংলগ্ন এবং পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত । সব বয়সী মানুষের বিনোদন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্মল আনন্দ উপভোগের কেন্দ্র হিসেবে এর জন্য আলাদা কদর। ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম প্রধান এই পিকনিক স্পটে শিশুদের জন্য রাইড এবং সাম্পান নৌকা, ট্রেন, ব্রিজ, দোলনাসহ আরও বিভিন্ন ধরণের বিনোদন ,স্থাপত্য শৈলীতে আকৃষ্ট হয়ে ভিড় জমায় দর্শণার্থীরা । পিকনিকের জন্য রয়েছে লিচু বাগান। রয়েছে গাড়ি পার্কের জন্য নিজস্ব এলাকা। দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিকের ছবি। জগদল রাজবাড়ি ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে নির্মিত বিরেন্দ্র নাথ চৌধুরীর রাজবাড়িটি বর্তমানে প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। রাজবাড়ি থেকে একশ’ মিটার পশ্চিমে নাগর নদীর পাড়ের মন্দিরের সম্পূর্ণধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নেই।   রামরাই (রাণীসাগর) বাংলাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন যা প্রচারণার অভাবে মানুষের নিকট পৌছায় না। এমনই একটি ইতিহাসের নাম রামরায়। চারিদিকে সবুজের বিশাল সমারোহ ও দিঘীর টলটলে জলরাশি দেখলে যেকোনো প্রকৃতি প্রেমী মুগ্ধ না হয়ে পারেন না। রামরাই (রাণীসাগর) পুকুটির দৈর্ঘ্য উত্তর -দক্ষিণে ৯০০মিটার ও প্রস্থ পূর্ব- পশ্চিমে ৪০০মিটার। পুকুরটি ১৮.৩৪ একর সু-উচ্চ পাড় ও ২৩.৮২ একর জলভাগ সহ মোট ৪২.২০ একর বিশিষ্ট। বরেন্দ্র ভূমিতে প্রাচীন জলাশয়গুলির মধ্যে এর আয়তন ২য় বৃহত্তম। রাণীসাগর ফাউন্ডেশন সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পুকুরটির পাড়ে ১২শাতধিক লিচু গাছ সহ অন্যান্য বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। ফল বিক্রি করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উপবৃত্তি দেওয়া হয় । খুনিয়া দিঘী স্মৃতি সৌধ ১৯৭১সালের বীর শহীদের খুনিয়া দিঘী স্মৃতি সৌধ রানীশংকৈল ঠাকুরগাঁও। খুনিয়া দিঘী মহান মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও জেলা সর্বোচ্চ বড় আকারের বদ্ধ ভূমি । প্রায় দুশ’ বছর আগে স্থানীয় কোনো জমিদার খনন করেছিলেন ৬ একর আয়তনের খুনিয়া দিঘী। জনশ্রুতি আছে এই এলাকার ব্যবসায়ীরা দিঘির পাশ দিয়ে ব্যবসা করতে রায়গঞ্জে যেতেন। এক ব্যবসাযীকে খুন করে দিঘির পাড়ে ফেলে রেখেছিল। তখন খেকে দিঘির নাম হয় খুনিয়া দিঘি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০০০জনের বেশি মানুষকে হত্যা করে এই দিঘীতে ফেলে রাখা হয়। এখানে প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬শে মার্চ রাত ১২টা ১মিনিটে ফুল দেওয়া হয়। রাণীশংকৈল (রাজা টংকনাথের) জমিদার বাড়ি রানীশংকৈল  উপজেলায় কুলিক নদীর তীরে মালদুয়ার জমিদার রাজা টংকনাথের রাজবাড়িটি অবস্থিত। টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথ গোয়ালা বংশীয় জমিদারের শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। নিঃসন্তান বৃদ্ধ গোয়ালা জমিদার কাশীবাসে যাওয়ার সময় সব দলিল করে যান যে, তিনি কাশী থেকে ফিরে না এলে শ্যামরাই মন্দিরের সেবায়েত এই জমিদারির মালিক হবেন। তবে অনেকে মনে করেন এই ঘটনা বুদ্ধিনাথের দু’এক পুরুষ পূর্বেরও হতে পারে। রাজবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন বুদ্ধিনাথ চৌধুরী, সমাপ্ত করেন রাজা টঙ্কনাথ। বৃটিশ সরকারের কাছে টঙ্কনাথ রাজা পদবী পান। রাজবাড়িটি নির্মিত হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে সিংহদরজা। দরজার চূড়ায় দিক নির্দেশক হিসেবে লৌহদন্ডে S.N.E.W চিহ্ন অঙ্কিত রয়েছে।  রাজবাড়ি সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব কোণে কাছারিবাড়ি। পূর্বদিকে দুটি পুকুর। রাজবাড়ি থেকে প্রায় দু`শ মিটার দক্ষিণে কুলিক নদীর তীরে রাস্তার পূর্বপ্রান্তে রামচন্দ্র (জয়কালী) মন্দির। এই মন্দিরটিছিল রাজবাড়ির চেয়ে প্রাচীন। হরিপুর জমিদার বাড়ী হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হরিপুর রাজবাড়িটি  প্রতিষ্ঠা করেন ঘনশ্যাম কুন্ডুর বংশধরেরা।  আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন। তখন এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা নারী । খাজনা অনাদায়ের কারণে জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু কিনে নেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন ঘনশ্যামের পরবর্তী বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায়। রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি আছে। তাছাড়া ভবনটির পূর্বপাশে শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির রয়েছে। রাজবাড়ির পাঠাগার ও সিংহদরজার অস্তিত্ব এখন নেই।  দিকে রাজবাড়িটি দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যায় ১৯০০ সালে। গোরক্ষনাথ মন্দির নেকমরদ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরকই বা গোরকুই নামক স্থানে  রয়েছে গোরক্ষনাথ মন্দির ও নাথ আশ্রম। কোনো কোনো ঐতিহাসিক গোরক্ষনাথকে নাথপন্থীদের ধর্মীয় নেতা মীননাথের শিষ্য বলে ধারণা করে থাকেন। গবেষকদের মতে, এই গোরক্ষনাথ হলো নাথপন্থী সম্প্রদায়ের গুরু বা যোগীর উপাধি মাত্র।  ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে গোরক্ষনাথের নাম পাওয়া যায়। নেপালেও বৌদ্ধযোগী হিসেবে গোরক্ষনাথের অস্তিত্বের কথা ইতিহাসে উল্লেখ আছে। গোরক্ষনাথ মন্দির ও আশ্রমটি রাণীশংকৈলের গোরকুইয়ের মৃত নদীর তীরে উঁচু জমির উপর অবস্থিত। মন্দির চত্বরটিতে মোট ৫টি মন্দির ,৩টি শিব মন্দির ,১টি কালিমন্দির ছাড়াও ১টি প্রধান মন্দির আছে । নাথমন্দিরের পেছনে অর্থাৎ উত্তর দিকে পাষাণ বাঁধানো চৌবাচ্চার মতো নিচু স্থানের মধ্যস্থলে বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দিয়ে ঘেরা এক অলৌকিক ইদাঁরা বা কুয়ো আছে। কুয়োর একেবারে নিচু অংশটুকুও পাথর দিয়ে বাঁধানো। কিন্তু মাঝে একটি ছিদ্র দিয়ে নিচ থেকে কুয়োতে পানি আসে। কুয়োর চারপাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে অনেক লোক পূণ্যস্নান করলেও কুয়োর পানি কমে না।  মন্দিরের উত্তর চত্বরে টিনের চাল বিশিষ্ট যে আশ্রম রয়েছে তার দরজায় একটি শিলালিপি বা ফলকটি বর্তমানে দিনাজপুর যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এর সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার করা সম্ভব না হলেও বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক আবু তালিবের মতে, এই শিলালিপিটি বাংলা অক্ষরে উৎকীর্ণ এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত শিলালিপিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। রাজভিটা পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের হাটপাড়া নামক স্থানে টাঙ্গন নদীর বাঁকে যে রাজবাড়ির অস্তিত্ব অনুভব করা যায় তা রাজভিটা নামে বর্তমান মানুষের নিকট পরিচিত। ‍রাজভিটায় দাঁড়িয়ে থাকা রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ মাটির গর্ভে। অনুমান করা হয় এটি শেরশাহের সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এখানে শেরশাহ আমলের মুদ্রা পাওয়া যায়। একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে যার বর্ণগুলো অপরিচিত এবং শিলালিপিতে একটি উট, একটি ঘোড়া ও একটি শুকরের প্রতিকৃতি আছে। মাটি খুড়লে , নদীর ভাঙনেও নানা আকৃতির প্রচুর ইট ও পাথর বেরিয়ে আসে। রাজভিটা প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার প্রস্থ। রাজভিটা থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরশাহ আমলের পূর্ণিয়া সড়কের নিদর্শন আছে। মহালবাড়ি মসজিদ মহালবাড়ি মসজিদটি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা হতে উত্তরে মীরডাঙ্গী থেকে ৩ কিঃমিঃ পূর্বে মহেশপুর গ্রামে অবস্থিত। মসজিদে পাওয়া শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত। শিলালিপি সূত্রে জানা যায় মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মিয়া মালিক ইবনে মজুমদার। মহালবাড়ি মসজিদটি ছিল ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট। ছাদ থেকে পানি বের করে দেয়ার জন্য খোদিত শিলার ব্যবহার দেখা যায়। মহালবাড়ি মসজিদের জায়গায় নির্মিত হয় নতুন মসজিদ। নবনির্মিত মসজিদটির ভিত ও মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রাচীন মসজিদের পাথর এবং দেয়ালে ইট । প্রাচীন মসজিদের নকশা করা শিলাখন্ড নতুন মসজিদের মিহরাবে আটকানো আছে। নতুন মসজিদের সামনে প্রাচীন মসজিদের তিন তাকের নকশা করা শিলাখন্ডের মিম্বারটি এখনো রয়েছে। মসজিদের পূর্বপাশে আছে ছোট দিঘি। দিঘিটির ঘাট উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পাথরে বাঁধানো। মসজিদের ২ মিটার পূর্বে জঙ্গলের মধ্যে দুটি কবরইট দিয়ে বাঁধানো। একটি কবর `বিশ্বাস পীরের` মাজার বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত। সম্ভবত বিশ্বাস শব্দটি ক্রমান্বয়ে বিশওয়াশ থেকে বিশ বাইশ শব্দে বিকৃত হওয়ার ফলে এলাকাটিকে বলা হয় বিশবাইশ মহাল। জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ মসজিদ অঙ্গনে প্রবেশমুখে তোরণ রয়েছে। নান্দনিক নকশায় নির্মিত মসজিদটি দেখতে খুবই সুন্দর। মসজিদের ৩ গম্বুজের শীর্ষদেশ কাচ পাথরের কাজ করা। মসজিদের ছাদে মিনার আছে ২৮ টি। মিনারকগুলি ৩৫ ফুট উঁচু এবং প্রতিটিতে নকশা করা রয়েছে। মসজিদটির মূল কক্ষের সঙ্গে ছাদসহ বারান্দা, ছাদবিহীন বারান্দা এবং ছাদবিহীন বারান্দাটি পূর্বাংশে মাঝখানে ৪ থামের উপর ছাদ বিশিষ্ট মূল দরজা। মূল দরজার ছাদে ছোট ছোট মিনারের অলংকার রয়েছে। এর জানালা দুটি, দরজা তিনটি, কুলুঙ্গি দুটি। মসজিদটিতে প্রচুর লতাপাতা ও ফুলের সুদৃশ্য নকশা রয়েছে। ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পীরগঞ্জ যাওয়ার পথে শিবগঞ্জহাটের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদটি অবস্থিত। শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া   ঠাকুরগাঁও উপজেলার ভাউলারহাটের নিকটে শালবনে অবস্থিত শালবাড়ি মসজিদটি বাংলা ১২১৫ সালে তৈরি হয়েছে। মসজিদটির মূল নকশা এখন আর নেই । শালবাড়ি মসজিদটির অদূরে ইমামবাড়া রয়েছে।  ইমামবাড়ার বাইরের দৈর্ঘ্যে ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ১৩ ফুট। সনগাঁ শাহী মসজিদ ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট শাহ আলমের সময় সনগাঁ শাহী মসজিদ নির্মাণ হয়েছিল। মসজিদে গম্বুজ তিনটি ও দরজা তিনটি । দক্ষিণে পাকা কূপ । পূর্বপাশে প্রাচীন কবরে শুয়ে রয়েছেন `সুধিবাদ পীর` নামক এক পূণ্যাত্মা । বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁ নামক গ্রামে সনগাঁ মসজিদটি অবস্থিত। গেদুড়া মসজিদের অবশিষ্ট অংশ গেদুড়া মসজিদটি হরিপুর উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়নে প্রায় আড়াইশ বছর পূর্বে স্থাপিত হয়েছিল। একইস্থানে নতুন মসজিদ তৈরি হয়েছে । এখানে আরবি ও ফারসি ভাষায় লিখিত শিলালিপি পাওয়া যায়। শিলালিপিটি গোলাকার ৫৪ বর্গ ইঞ্চির পরিধি বিশিষ্ট । হরিণমারী শিব মন্দির বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে উত্তর পশ্চিমদিকে হরিণমারী হাটে অবস্থিত মন্দিরের ছাদ চারচালা পদ্ধতিতে নির্মিত। আনুমানিক মন্দিরটি চারশ বছরের পুরাতন হতে পারে । মন্দিরটির বর্তমান উচ্চতা প্রায় ত্রিশ ফুট এবং আয়তন  ১৪ ×১৪ ফুট। দক্ষিণ দিকে দরজায় পোড়ামাটির ফলকে লতাপাতার নকশার সাথে বিভিন্ন মূর্তির প্রতিকৃতি ছিল। মন্দিরের পূর্বদিকে বড় একটি পুকুর আছে। আরো দেখ আসতে পারেন মেদিনীসাগর জামে মসজিদ হরিপুর উপজেলার মেদিনীসাগর গ্রামে অবস্থিত মেদিনীসাগর জামে মসজিদের স্থাপত্যকাল মোঘল আমল । মসজিদের  বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য সাড়ে একত্রিশ ফুট এবং প্রস্থ চৌদ্দ ফুট।  মসজিদের ভিতরের দৈর্ঘ্য চবিবশ ফুট এবং প্রস্থ ছয় ফুট। মিহরাব ও মিম্বার আছে। দুটি জানালা, তিনটি দরজা, আটটি কুলুঙ্গি, তিনটি খিলান রয়েছে। এছাড়া মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে মোট চারটি থাম । এই মসজিদের সঙ্গে ফতেহ্পুর মসজিদের স্থাপত্য মিল রয়েছে। নদ-নদী ঠাকুরগাঁওয়ে অনেকগুলো নদী রয়েছে- সেগুলোর মধ্যে টাঙ্গন নদী, ছোট ঢেপা নদী, কুলিক নদী, পুনর্ভবা নদী, তালমা নদী, পাথরাজ নদী, কাহালাই নদী, তীরনই নদী, নাগর নদী, তিমাই নদী, এবং নোনা নদী অন্যতম। সকাল থেকে দিনভর ঘোরাঘুরির পর পর‌্যটকরা বিকেলে এসব নদীতে ঘুরে বেড়াতে পারেন। স্বচ্ছ পানির জলাধার ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় রয়েছে চোশপাড়া বিল, সোপরা বিল, আমান ধামান বিল,  পীরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ধাতরা বিল, কাচনা বিল, কর্ণ বাহারা বিল, ধরধরিয়া বিল, জালুই খাল, রাণীশংকৈল উপজেলায় রয়েছে কাশিপুর বিল, পামোল বিল, লেহেম্বা বিল, গড়গড়িয়া বিল, বুড়া বিল, হরিপুর উপজেলায় রয়েছে কানুর পুকুর বিল, নিকারিয়া বিল, দামোল বিল, লৌহচান্দ বিল, যমুনা বিল। এগুলোর পানি এতটাই স্বচ্চ যে গভীরের লতাগুল্ম পর‌্যন্ত দেখা যায়। কোথায় থাকবেন ঠাকুরগাওয়ে থাকাতে  চাইলে সরকারী হোটেল ও আবাসনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সার্কিট হাউস, ঠাকুরগাঁও-০৫৬১-৫৩৪০০, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঠাকুরগাঁও             (০৫৬১)৫২১৩৬ , পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি,ঠাকুরগাঁও (০৫৬১)৫৩৫৭১ , সড়ক জনপথ বিভাগ, ঠাকুরগাঁও          (০৫৬১)৫২০৭৯। কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়কপথে ঠাকুরগাঁও যেতে পারেন বেশ কয়েকটি পরিবহণে করে। এজন্য যোগযোগ করতে পারেন হানিফ এন্টারপ্রাইজ ভাড়া : ৫৫০-৬০০/- টাকা ০২-৮১২৪৩৯৯  ০১৬৭৩-৯৫২৩৩৩৫, নাবিল পরিবহন ভাড়া : ৫৫০-৬০০/- টাকা ০২-৮১২৭৯৪৯ , বাবলু এন্টারপ্রাইজ ভাড়া : ৫৫০-৪০০/- টাকা ০২-৮১২০৬৫৩ , ০১৭১৬-৯৩২১২২, কেয়া পরিবহন ভাড়া : ৩৫০-৪০০/- টাকা ০১৭১১-১১৮৪০২ নম্বরে। / এআর /  

টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়িতে একদিন (পর্ব-১)

যমুনা, ধলেশ্বরী ও বংশী নদীবিধৌত টাঙ্গাইল জেলা যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। নদীঘেরা নির্মল প্রকৃতির অপার সৌন্দর‌্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ জেলাকে দিয়েছে এক অনন্য মর্যাদা। নিয়মিত ভ্রমণের তালিকায় অনেকদিন ধরে আমার কাছে এ জেলাটি তাকিয়ে ছিলো জমিদারি ভঙ্গিতে। যদিও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তানদের তালিকা অনেক রয়েছে, তবে আমার আকর্ষণ ছিলো জেলার জমিদার বাড়িগুলো ঘুরে দেখা। ইতিহাস থেকে জেনেছি এ জেলায় বেশ কয়েকজন জমিদার বসবাস করতেন। সময় বদলে গেছে, কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে আজও রয়ে গেছে জমিদারদের রেখে যাওয়া সেই বাড়িগুলো। বছরের শুরু থেকেই কর্মব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে দিন যাচ্ছে। কিন্তু ভ্রমণের নেশায় বুঁদ হয়ে আছি। কীভাবে যাই? হাতেও ছুটি নাই। কিন্তু ঘুরে বেড়ানোর নেশা আমাকে মাতাল করে দিচ্ছে। হঠাৎ বন্ধুপ্রিয় বড় ভাই জুলফিকার সোহাগ জানালেন টাঙ্গাইল যাওয়ার কথা। শুক্রবার ছুটির দিন। বৃহস্পতিবার রাতে স্বপ্নের মধ্যে চার জমিদার আমাকে নিমন্ত্রণ করলেন তাদের জমিদারি ভিটায়। আমিও সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করলাম না। সিদ্ধান্ত নিলাম খুব সকালে বাসে করে আমরা টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হব। আমাদের যাত্রার কথা শুনে ভ্রমণ সঙ্গী হতে চাইলেন শ্রদ্ধেয় স্কুল শিক্ষিকা ফাতেমা কাশেম। তিনি আমাদের জানালেন তার প্রাইভেট কারটি নিয়ে যেতে চান। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম শুক্রবার সকাল ৮টায় মহাখালী থেকে যাত্রা শুরু করবো। সবাই এসে একত্রিত হলাম মহাখালী। হিম সকালে এক কাপ গরম চায়ে ফু দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। টঙ্গী হয়ে আশুলিয়ার মধ্য দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে। পথে বিশ্ব ইজতেমার জমজমাট আয়োজন দেখে সকালের যাত্রাটা অনেকটা শুভ হলো। আগেই বলেছি টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। যার পূর্বে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর, পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ, উত্তরে জামালপুর, দক্ষিণে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এ জেলায় মোট ১২টি উপজেলা আছে। এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন বাংলার অনেক কৃতি পুরুষ যারা বিভিন্ন সময় এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। এ মাটিতে শায়িত আছেন হযরত শাহান শাহ বাবা আহমদ কাশমিরী (রা.)। এই জেলার সন্তান মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। দেশে-বিদেশে তাঁতের শাড়ির জন্য এ জেলাটি সবার কাছে সুপরিচিত। দর্শনীয় অনেক জমিদার বাড়ি, মসজিদ, মাজার, বন-বনানী ও নদী আছে এখানে। ঢাকার খুব কাছেই এবং সহজ যাতায়াতে ঘুরে দেখার মত দারুণ একটি জেলা টাঙ্গাইল। টাঙ্গাইলে প্রবেশের আগে আমরা সকালের নাস্তা করতে একটি হোটেলে ঢুকলাম। সেখানে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে আমরা নিলাম ভুনাখিচুড়ি। মুরগির ভুনাখিচুড়ি আর খাঁটি গরুর দুধের চা খেয়ে আবারও যাত্রা শুরু। দেশে উন্নয়নে ছোঁয়া লেগেছে। যা থেকে পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলও। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার যে সড়ক পথ তা প্রসস্থ করা হচ্ছে। আগে যে সড়ক ছিলো তার দুই পাশে আরও অনেক জায়গা নিয়ে হাইওয়ে সড়ক নিমার্ণ হচ্ছে। নির্মাণ কাজের চলমান গতির কারণে পথে দীর্ঘ যানজট লেগেছে। আমাদের সঙ্গে প্রাইভেট কার থাকার কারণে কিছুটা রক্ষা। অনেকটা সময় বেঁচে গেছে। আমরা বেলা ১১টায় চলে আসি মহেরা জমিদার বাড়ি। মহেরা জমিদার বাড়ি প্রকৃতির অনিন্দ্য নিকেতন মহেড়া জমিদার বাড়ী অপরূপ সৌন্দর্যে নয়নাভিরাম। তার রূপশোভা বিস্তার করে কালের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এক উজ্জ্বল ভাস্কর্য। নিভৃত পল্লীতে ছায়াঘেরা, পাখী ডাকা নির্মল নির্ঝর শান্ত পরিবেশ আকুল করে দর্শকদের। আগন্তুককে একবার নয় বারবার এই সৌন্দর্য দেখার হাতছানি দিয়ে আমন্ত্রণ জানায় এখানকার রকমারি দেশী-বিদেশী ফুলের সমারোহ ও সুশোভন বাহারী পাতাবাহার দ্বারা পরিবেষ্টিত ফুলের বাগান। গাছে গাছে সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখর, সৌম্য-শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আপনাকে দিবে এক অন্যরকম ভ্রমানুভুতি। চারদিকে নানা বৈচিত্র্যের ফুলের বর্ণ ও গন্ধের সমারোহ। যেন নিবেদিত পুষ্পার্ঘ্য। এক কথায় যেন ধরায় স্বর্গধাম। ধারনা পাওয়া যায় স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে ভবনসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কালের বিবর্তনে ফুলে-ফলে, পত্র-পল্লবে শোভিত হয়ে উঠে কালের স্বাক্ষী এ দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ী। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ীর রয়েছে এক কলঙ্কিত স্মৃতি। ১৯৭১ সালের ১৪ মে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকবাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়ীতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ীর কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে চৌধুরী লজের মন্দিরের পেছনে একত্রে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। তন্মধ্যে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক পন্ডিত বিমল কুমার সরকার, মনিন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা এবং নোয়াই বণিক ছিলেন। ইতিহাস কলঙ্কিত সেই রক্তের দাগ এখনো লেগে আছে মহেড়া জমিদার বাড়ীতে। যে দেশের জন্য, যে দেশের মানুষের জন্য মহেড়া জমিদার পরিবার নিজেদের শত প্রাচুর্য ভুলে এলাকার উন্নয়নে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতেন, সেই এলাকার রাজাকার আল-বদরদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পাকিস্থানী বাহিনীর এই চরম হত্যযজ্ঞে জমিদার পরিবার শুধু হতাশ হননি, শত বছরের সাজানো জমিদার বাড়ী আর কোটি টাকার সম্পদ ফেলে চরম ঘৃণা আর ক্ষোভ নিয়ে লৌহজং নদীর নৌপথে নৌকা যোগে চলে যান বাংলাদেশ ছেড়ে। অতঃপর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বায়েজীদ সাহেবের নেতৃত্বে এক প্লাটুন মুক্তিবাহিনী জমিদার বাড়ীতে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ মহতী কাজটি করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। পুলিশের প্রশিক্ষণকে আধুনিক এবং যুগোপোযোগী করার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয়। আর পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হওয়ায় ট্রেনিং পরিচালনার জন্য জমিদার বাড়ীটির যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণসহ নতুন নতুন স্থাপনা তৈরী করার কারনে পুরানো স্থাপত্য কলার অপরুপ এই জমিদার বাড়ীটির সৌন্দর্য্য শুধু অক্ষত থাকেনি বরং তার কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। জমিদার বাড়ীর পূর্বপুরুষেরা হলেন- বিদু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা। মহেড়া জমিদার বাড়ীটি মূলতঃ চার টি ভবনে বেষ্টিত। যথা- মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, চৌধুরী লজ এবং রাণী ভবন (কালীচরণ লজ) নামে পরিচিত। জমিদার ভবনের দক্ষিণ পাশে বিশাখা সাগর অবস্থিত। এখান থেকে একসময় এলাকার জনগণ সুপেয় পানি সংগ্রহ করত। জমিদার বাড়ীর পিছনে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে বিশাল দুইটি দিঘি আছে যা ছিল জমিদারদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্র কানন। ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ দেশী বিভিন্ন প্রজাতির আম্র বৃক্ষ শোভা পাচ্ছে। আম্র কানন ব্যতীত বর্তমান পিটিসি’র প্রায় ৪৪ একর জমিতে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বৈচিত্র্যময় ফলের সমারোহ। সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য চমৎকার এক লোকেশন। দর্শনার্থীদের জন্য আছে কয়েকটি আকর্ষনীয় দোলনা এবং মাছ, পাখী, জীব-জন্তুর কৃত্তিম চিড়িয়াখানা। এছাড়াও বিশাখা সাগরে আছে নৌভ্রমনের জন্য অন্যতম আকর্ষণ সোনার তরী এবং সপ্তডিঙ্গা। অপরুপ স্থাপত্য আধুনিক শহীদ মিনার আপনাকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও স্থম্ভিত করে দিবে। অপরুপ সাঁজে সাজানো এই জমিদার বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই চলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পিকনিক এবং বিভিন্ন নাটক বা ছবির শুটিং। ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এখানে প্রবেশের শুভেচ্ছা মূল্য মাত্র ৫০ টাকা। পিকনিক বা শুটিং স্পট ভাড়া দেওয়া হয় আলোচনা সাপেক্ষ্যে। আর খাবার ও পানীয়ের জন্য আছে স্বল্প মূল্যের ক্যান্টিন সুবিধা। যেভাবে যাবেন ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে অপেক্ষ্যমান সিএনজি বেবীটেক্সীযোগে ০৩ কিঃমিঃ পূর্ব দিকে মহেড়া জমিদার বাড়ি। মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া, টাঙ্গাইল নামে দিক নির্দেশনা ফলক (বিশাল সাইনবোর্ড) আছে। চাইলে পুরো একটি দিনই এখানে কাটাতে পারেন। তবে অন্যসব জমিদার বাড়িগুলো একদিনেই দেখতে চাইলে অল্প সময় থাকতে হবে। কারণ আরও অনেক জমিদারি রয়েছে এই জেলায়। চলবে …   এসএ/ এআর  

তাজা ইলিশের স্বাদ পেতে চলে আসুন পদ্মার পাড়ে

নগরজীবনে ক্লান্তির শেষ নেই। করপোরেট লাইফস্টাইলে চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছে দেহ ও মন। শহর ছেড়ে একটু মুক্ত বাতাসে যেতে চাইছেন! সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও গেলে ভালো হয়। তাদের জন্য ‘পদ্মা পাড় মাওয়া’ হতে পারে উত্তম স্থান। এখানে তাজা সুস্বাধু ইলিশ যাবে পাওয়া। সেই সঙ্গে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অগ্রগতি নিজ চোখে দেখার সুযোগ তো রয়েছেই। নদী ও জলে নিজেকে সিক্ত করতে আমাদেরও পছন্দের তালিকায় এবার মাওয়া ঘাট। আমরা তিনজন শুক্রবার খুব সকালে গুলিস্তান থেকে বাসে করে রওনা হলাম মাওয়ার উদ্দেশে। গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী যেকোনো স্থান থেকে আপনি আসতে পারবেন। সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে অসংখ্য। একটু পরপরই এগুলো ছেড়ে আসছে মাওয়ার উদ্দেশে। ভাড়াও কম। মাত্র ৭০ টাকা। কম খরচে পুরো দিনটি আপনার আনন্দে কাটবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। আর আপনি যদি হন ভ্রমণ ও ভোজনরসিক তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। মাওয়া ফেরিঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। নিশ্চিন্তে বসে পড়ুন মাওয়াগামী যে কোনো একটা বাসে। ইচ্ছে করলে সকাল কিংবা দুপুরেও রওনা হয়ে বিকেলটা মাওয়ার পদ্মা পাড়ে কাটিয়ে সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসা যায় ঢাকায়। ঢাকা শহরের কোলাহল ছেড়ে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার দুপাশে সবুজের সমারোহ। বর্ষায় এই ধানক্ষেত হয়ে যায় স্বচ্ছ জলের বিল। তবে জমিখেকো কিছু কোম্পানির আবাসন প্রকল্পের চাপে এই দৃশ্য এখন কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো টিকে আছে কিছু গ্রামবাংলার চিরায়ত প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। কিছুটা সামনে আসলেই দেখতে পাবে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার। বাসের জানালার পাশে বসে এসব দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন মাওয়া ফেরিঘাট। বাস থেকে নামতেই রাস্তার পাশে পাবেন অসংখ্য ছোট ছোট রেস্তরাঁ। এগুলো ‘ভাতের হোটেল’ নামেই বেশি পরিচিত। ওপরে টিনের চালা আর তিন দিকে টিনের বেড়া। এসব রেস্তোরাঁ দেখতে যেমনই হোক না কেন, এখানকার গরম ভাত আর গরম গরম ভাজা পদ্মার টাটকা ইলিশের স্বাদই আলাদা। মাওয়া ফেরিঘাটের উত্তর দিকে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় অনেক দূর। নদীর পার দিয়ে হাঁটার সময় এক পাশে থাকবে রুপালি পদ্মা আর অন্য পাশে থাকবে সবুজে ঘেরা গ্রাম। ইচ্ছে করলেই ঢুকে পড়া যায় গ্রামের ভেতরে। ছায়া সুনিবিড় গাছগাছালিতে ঢাকা চমৎকার একটি গ্রাম দেখে নেওয়া যাবে ঘণ্টাখানেক পায়ে হেঁটেই। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতামুক্ত এই গ্রাম অবশ্যই ভালো লাগার অনুভূতি দেবে। আমরা শুধু ঘুরতেই আসি না। আমাদের উদ্দেশ্য ফটোগ্রাফিও। তাই প্রথমে নেমে আশপাশের পরিবেশ দেখে নিলাম। আমরা ছবি তুলতে তুলতে অনেক দূরে চলে গেলাম। ছবি তোলার জন্য এখানে ইলিশ, নদী, জেলে, লঞ্চ-ফেরি, স্পিডবোট, মাঝি ও গ্রামকে সাবজেক্ট হিসেবে পাবেন। ছবি না তুললেও সমস্যা নেই। এসব দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে আজকাল সবাই ফটোগ্রাফার। সেলফির যুগে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল সবার হাতে হাতে। তাই আপনি দারুণ দারুণ ছবি তুলে ফেসবুকের পাতার আপলোড দিতেই পারবেন। বন্ধুদের বাহবা পাবেন। ভ্রমণে এসে কোথাও ঝিম মেরে বসে থাকলে লাভ নেই। যেখানেই যাবেন, সেই স্থানটিকে ভালোমতো জেনে নিন। তাতে আনন্দের পাশাপাশি জ্ঞানও সমৃদ্ধ হবে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যেও রুপালি ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রুপালি ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। নদীর ঘাটে অসংখ্য স্পিডবোট ভিড় করে। ইচ্ছে করলেই ১৫০ টাকার বিনিময়ে ১৫-২০ মিনিটে স্পিডবোটে চড়ে পার হওয়া যায় প্রমত্ত পদ্মা। ফেরিঘাটে সারাক্ষণই ফেরির আনাগোনা। আর তাতে করে নদী এপার-ওপার হওয়া যাবে। মন চাইলে ফেরিতেও চড়ে বসতে পারেন। ২৫ টাকার বিনিময়ে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন। তবে সময় খরচ হবে একটু বেশি। প্রায় দেড় ঘণ্টা। নদীতীরের গ্রামের মানুষ দুপুরে গোসল সারে নদীর বুকে। তাদের দেখলে নিজেরও ইচ্ছে হতেই পারে নদীতে ঝাঁপিয়ে পরার! সঙ্গে গোসলের ব্যবস্থাপত্র রাখলে এ কাজটিও মন্দ হবে না। রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেবে পদ্মার গোসল। পদ্মার পারে সবচেয়ে কমন দৃশ্য হলো জেলে নৌকো। সারি সারি নৌকা বাঁধা আছে পদ্মাপারে। কেউ কেউ জাল বুনছে। রাতের বেলা এই নৌকাই ছেড়ে যাবে রুপালি ইলিশ ধরতে। নদীতে দেখা যাবে ছোট্ট ছোট্ট নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। দেখতে পাবেন, আপনার সামনে দিয়েই নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে সদ্য ধরে আনা পদ্মার হরেক রকম টাটকা মাছ আর সেই সঙ্গে রুপালি ইলিশ! ইচ্ছে করলে একটু দামাদামি করে কিনেও নিতে পারেন। আমরাও তাজা ইলিশ ও জেলেদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। কিনেও নিলাম একটা বড় সাইজের ইলিশ। যা আমরা কোন একটা হোটেলে রান্না করে খাব। তবে একটু সাবধান হতে হবে। এখানে হোটেলগুলোতে যে মাছ রান্না করা বা কেটে কেটে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, তা ভুলেও কিনবেন না। এগুলোতে আসল ইলিশের স্বাদ পাবেন না সেভাবে। ইলিশ যদি না চিনতে পারেন, তবে সব অভিযানই বৃথা হয়ে যাবে। যাদের ইলিশ কেনার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়ে ইলিশের দরদাম নিয়ে। অথবা কোন ইলিশটা স্বাদের জন্য ভালো হবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়ে অনেকে। কেউ ডিম ছাড়া ইলিশ কিনতে চান আবার কেউ চায় ডিমওয়ালা ইলিশ খেতে। এই ছোট্ট সংশয়ের ছোট্ট সমাধান অনেকেরই অজানা। ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ কিছুটা কমে যায়। ইলিশের পেটে ডিম হওয়ার কারণে পেটের তেল কিছুটা কমে যায়, ফলে ইলিশের প্রকৃত স্বাদে কিছুটা ভাটা পড়ে। আবার অনেকেই বলে, ডিম ছাড়া ইলিশ কিনলে ডিমের স্বাদ পাব কী করে! সে ক্ষেত্রে মাওয়া ঘাটে ডিম ছাড়া ইলিশ কিনে অতিরিক্ত ডিমও কিনে নিতে পারেন অন্য ইলিশ থেকে। সুতরাং আপনি ইলিশের প্রকৃত স্বাদও পেলেন, সঙ্গে ডিমের মজাটাও পেলেন। ছোট ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ইলিশের দাম পড়বে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আর ইলিশের ওজন যদি ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম হয় তবে দাম পড়বে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর যদি কোনোভাবে ইলিশের ওজন এক কেজি পার হয়, তবে আর সেই ইলিশ পায় কে। ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দাম হাঁকিয়ে বসে থাকে হোটেলগুলো। তবে দাম শুনে ভড়কে যাবেন না। চাওয়া দামের অর্ধেকেও ইলিশ বিক্রির ইতিহাস এখানে অনেক পুরোনো। যুগ যুগ ধরেই মাওয়া ঘাটের ইলিশের চাহিদা সবখানে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসে ভোজনরসিকেরা। পদ্মা ঘাটে বসে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পদ্মার ভাজা ইলিশ দিয়ে ভূরিভোজ করেন। শুধু যে এখানে ইলিশ মাছ আছে তা কিন্তু নয়। এখানে পাবেন বড় বড় চর্বিযুক্ত পাঙ্গাশ মাছ। পাঙ্গাশ মাছের পেটির স্বাদও নিতে পারেন অনায়াসে। এ ছাড়া শিং, চিংড়িসহ হরেক রকম নদীর মাছের ভর্তা পাবেন। যাদের মাছের প্রতি কিঞ্চিৎ বিরক্তি আছে, বিশেষ করে কাঁটা আর স্বাদের কারণে তাদের জন্য আছে মাংসের আয়োজন। মুরগি, খাসিসহ আছে অনেক পদের মাংস রান্না। চাইলে স্পিডবোটে করে ওপারে যেতে পারেন। ওখানেও ভালো কিছু খাবার হোটেল হয়েছে। ফেরি, লঞ্চ বা স্পিডবোটে ফিরতে পারবেন। ফেরির তিনতলা থেকে রাতের পদ্মা অপার্থিব লাগবে। যদি জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে খেতে চান, তবে অন্তত এক দিনের জন্য সকালের কাঁচা ঘুম ত্যাগ করে মাওয়া পৌঁছাতে হবে সকাল নয়টার মধ্যে। আর শুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসা নেহাত বোকামি হবে। যদি নদীর পাড়ে বসে পদ্মার বিশাল জলের একটু উন্মাদনা না দেখেন তা হলে কিন্তু মিস করলেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন পাটে বসতে চলে, তখন ম্লান সূর্যের সোনালি ছায়া পড়ে নদীর বুকে। চমৎকার সেই মুহূর্ত। নদীর জলে যেন তরল সোনা মিশিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। নদীর ওপর দিয়ে একলা নিঃসঙ্গ কোনা বক বা একঝাঁক গাংচিল উড়ে যায় ওদের আশ্রয়ের দিকে। নৌকায় করে চাইলে পদ্মা রিসোর্ট দেখে আসতে পারেন। রিসোর্ট ও দেখা হবে নৌকা ভ্রমণও হয়ে যাবে। ইচ্ছা করলে সারা দিন অথবা রাত দিন থাকার ব্যবস্থা আছে রিসোর্টে। না থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। শুধু এক্সট্রা ৫০ টাকা দিলেই ঘুরে দেখা যাবে সম্পূর্ণ রিসোর্ট। এরই মাঝে ঘুরে দেখে নিতে পারেন পদ্মা ব্রিজের অগ্রগতি। কেউ কেউ বলে, পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুর’। তাই পায়রাবন্দর ও পদ্মা সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরের’ হাতছানি দেখে আসতে পারেন। ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জেনে খুশি হবেন যে, দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে আশার আলো জাগাচ্ছে মেগা এই প্রকল্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। সলিড ইস্পাতে তৈরি কিউব জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একেকটি পূর্ণাঙ্গ স্প্যান। স্প্যানগুলোতে প্রথমে রঙের ছোপ লাগানো হচ্ছে। এরপর সিজনড করার জন্য বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। শুকানোর পর তা বসানো হয় সেতুর কাঠামো হিসেবে। যা দৈর্ঘ্যে ১৫০ মিটার। আর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। প্রস্থে আরও বেশি। নদীর বুকে পোঁতা পিলারগুলোর ওপর এমন ৪১টি স্প্যানকে ঘিরেই দেখা দেবে মূল সেতুটি। এসব স্প্যানের ‘বাক্সের’ ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপরে বসানো কংক্রিটের সড়কে চলবে গাড়ি। তাই আজই ঘুরে আসুন পদ্মার পাড় মাওয়া। //এআর

প্রিয়জনকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন গোয়া

সাগর, বালি, সৈকতে রক্তিম সূর্য্যের অনাবিল দৃশ্য আর সমুদ্র তরঙ্গে আছড়ে পড়া ঢেউ, সবুজ পাহাড়সহ প্রকৃতির অপার সৌন্দর‌্য দেখতে কার না ভালো লাগে। এই সবকিছু যদি একসঙ্গে দেখতে চান তবে নিশ্চিতে যেতে পারেন ভারতের গোয়া। জলপ্রপাত, প্রাচীন গুহা, ঐতিহাসিক গির্জা কী নেই এখানে। সৈকতে নারকেল গাছের সারি, পানকৌরি-বকসহ নানা পরিযায়ী পাখির কলতান, আর স্বচ্চ পানির ফোয়ারা দেখতে রোজ গোয়ায় ভিড় করেন হাজারো পর‌্যটক। কয়েক দশক ধরেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু গোয়া। জানা গেছে, ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই এলাকাটি পর্তুগিজদের শাসনাধীন ছিল ১৯৬১ সালের আগ পর্যন্ত। এই রাজ্য গোয়া নামে পরিচিত হয় ১৯৮৭ সালে ।  সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গোয়া আদর্শ পর‌্যটন স্পট। গোয়ার একটা সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যেখানেই যাবেন পর্তুগিজদের প্রভাব অনুভব করবেন। প্রেমিক প্রেমিকাদের পছন্দের ডোনা পাওলা সৈকত ভালবাসা মতো একটা হৃদয় থাকলে অবশ্যই যাবেন ডোন পাওলা সৈকতে, সৈকতের দাঁড়িয়ে আপনি অনুভব করতে পারবেন সত্যিকার ভালবাসা কেমন হয়, অতৃপ্ত ভালবাসায় কষ্ট। জনস্র্রুতি আছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী মেয়ে ডোনার সঙ্গে জেলে পরিবারের সন্তানের প্রেম হয়। ডোনা যখন বুঝতে পারলো সে তার প্রিয় জনকে পাবে না তখন সে সমুদ্যে ঝাপ দিয়ে আত্ন হত্যা করে। তখন থেকেই জায়গাটি ডোনা পাওলার নামে পরিচিতি পায়। ডোনা পাওলায় আপনাকে যেতে হবে পানাজি থেকে ৭ কিলোমিটার দুরত্বে। গোয়া থেকে আপনি সরকারি বাস সার্ভিস কাদম্বা ট্রানপোর্ট কোরপোরেশন ( কে টি সি) এবং বেসরকারি বাস যোগেও যেতে পারেন। ইচ্ছে করলে আকাশ পথেও যেতে পারেন ডোনা পাওলা সৈকতে ‍। ডোনা পাওলা সৈকত থেকে ৩২ কিঃ মিঃ দুরত্বে ডাবোলিম বিমানবন্দর। যেকোনো জায়গা থেকে ডাবোলিনে এসে আপনি ডোনা পাওলা সৈকতে যেতে পারেন। রেলপথেও ডোনা পাওলা যাতায়াত করা যায়। ডোনা পাওলা সৈকতের কাছাকাছি ভাস্কোদাগামা রেলস্টশন, যেকোন জায়গা থেকে ভাস্কোদাগামা রেলস্টশনে এসে আপনি ডোনা পাওলা সৈকতে যেতে পারেন। বার ও রেস্টুরেন্ট ডোনা পাওলা সৈকতে বিভিন্দ ধরনের বার এবং রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারগুলি হলো- বার লেটিনো, হোয়াইট হাউজ বার এন্ড রেস্টুরেন্ট, লবি বার, হারবার, পোজা বার, বার আলফানসো, পেসকাডোর। কোথায় থাকবেন ডোনা পাওলা সৈকতের কাছাকাছি থাকার জন্য বিভিন্ন মানের রিসোর্ট এবং হোটেল রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ডোনা পাওলা রিসোর্ট, হোটেল ও’পেসকাডোর,  এল’হোটেল ইডেন, হোটেল ভিলা সোল, হাওয়াই দা সি সাইড ভিলেজ রিট্রিয়েট, সিডেড ডি  গোয়া, কাছা আমারিলা সার্ভিস সুইট, সেন্ডেলউড হোটেল এন্ড রেস্টেুরেস্ট, ভিলা দা ডোনা পাওলা, ও পাসকাডোরডোনা পাওলা বিচ রিসোর্ট, কাবানা ডেমপো, হোটেল ফেডাল গো, জিনজার গোয়া । বোন্ডলা অভয়ারণ্য গোয়ার অন্যতম আকর্ষণ হলো-বোন্ডলা অভয়ারণ্য। এলাকাটি আবৃত রয়েছে অভয়ারণ্য আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য এবং চিরহরিৎ গাছপালা দ্বারা। ছোট্ট অভয়ারণ্যের বিশেষ আকর্ষন একটি ক্ষুদ্র চিড়িয়াখানা, গোলাপ বাগান। এছাড়া রয়েছে সাফারি পার্ক, বোটানিকাল গার্ডেন। প্রকৃতি শিক্ষা কেন্দ্র অভয়ারন্যটি দেখার পর খানিক বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রয়েছে পরিবেশ বান্ধব-পর্যটন কুটির। মরজিম সৈকত ঘুড়ি ওড়াতে চাইলে চলে যান অগভীর মরজিম সৈকতে। এই সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি ওড়ানো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া এখানে  অলিভ রিডলে কচ্ছপের সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করে যা হল একটি লুপ্তপ্রায় প্রজাতি। এই কচ্ছপ আর কাঁকড়ার  দর্শন আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে অবিস্মরণীয় করে তুলবে। মরজিম সৈকত শৈলী, ফুল, সবুজ পরিবেশ দ্বারা প্রতিপালিত। মারজিম সৈকত দেখাতে হলে আপনাকে যেতে হবে পেরনমে। সৈকতটি টার্টল বিচ নামে সুপরিচিত। ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জা ও রেইস মাগোস দুর্গ আওয়ার লেডি অফ দি ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জাটি গোয়ার প্রথম গির্জা। এটি নির্মিত হয়ে ১৫৪১ সালে। জনশ্রুতি আছে কিছু সল্প সংখ্যক মানুষ মিলে ও তাদের সম্পদ দিয়ে ১৬১৯ সালে গির্জাটি পুনরায় নির্মিত করেন । সেই সময়ের আকষণীয় ধর্মীয় গন্তব্য ছিল এটি। দিনে এর আকর্ষন বেড়েছে , আজো অনেক লোকের সমাগম হয় গির্জায়। গোয়ার প্রথম গির্জা দেখতে চলে যান আওয়ার লেডি অফ দি ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জায়।  মাজোরদা সৈকত গোয়ার এক অপূর্ব সমুদ্র সৈকত মাজোরদা সৈকত। গোয়ার এক অন্যতম জনপ্রিয় সৈকত মাজোরদা সৈকত। গোয়ার মাজোরদা সৈকতের একটি জোরালো প্রভাব রয়েছে ভারতীয় পুরাণের উপর।  একদা ভগবান রামকে শৈশবকালে অপহরণ করে এই মাজোরদা সৈকতে আনা হয়েছিল এমনটাই জানা যায় পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে । এটাও বলা হয়ে থাকে যে স্ত্রী সীতার সন্ধানে ভগবান রাম এই সৈকতে এসেছিলেন।  তিনি কাবও-দি-রামেও এসেছিলেন বলে মানা হয় যা এই সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত। মিরামার সৈকত আরব সাগরের চমৎকার ঝলক দেখতে চলে যান গোয়ার মিরামার সৈকতে ।পর্তুগিজ শব্দ ‘মিরামার’ কথার অর্থ হল ‘সমুদ্র পরিদর্শন’। নারকেল গাছের সারির সুবর্ণ সৈকত মিরামার। গোয়ার মিরামার সৈকতের সীমানা শুরু হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এবং সীমানা শেষ হয়েছে এমারেল্ড কোস্ট পার্কওয়েতে । সান্ধ্য পদচারনার একটি আদর্শ স্থান এই সৈকতের কোমল বালি । মিরামার সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে মান্দোভী নদী এবং আরব সাগরের সঙ্গম থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বে অথবা ডোনা পাউলার দিকে গোয়ার রাজধানী শহর পাঞ্জিম থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্বে। গোয়ার মিরামার সৈকত ‘গাসপার ডাইয়াস’ নামে পরিচিত। মোবর সৈকত   রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ করতে চাইলে চলে যান মোবার সৈকত। রোমাঞ্চকর কার্যকলাপের জন্য মোবর সৈকত একটি আদর্শ স্থান। পর্যটকদের রোমাঞ্চকর ক্রীড়াকলাপের জন্য জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত মোবার। ইচ্ছাপূরণের জন্য রয়েছে ওয়াটার স্কিইং, ওয়াটার সার্ফিং, জেট স্কি, ব্যানানা এবং বাম্প রাইড এবং প্যারাসেলিং। এখানে ভ্রমণের সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি। সিঙ্কেরিম সৈকত প্রাচীনতম সংরক্ষিত সমুদ্র সৈকত সুদৃশ্য সিঙ্কেরিম সৈকত । যা সাতারুদের জন্য আদর্শ জায়গা । এছাড়া এখানে রয়েছে দীর্ঘ বর্ধিত বালুময় ভুখন্ড। শীতল জল আর কোমল বালি আপনাকে দেবে এক অন্যরকম অনুভূতি। আগুয়াদা দুর্গ গোয়ার বিশেষ আকর্ষন বিখ্যাত আগুদা দুর্গ। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সুপরিচিত অধ্যায়। দুর্গটি পর্তগিজরা ১৭ শতকের গোড়ার দিকে ১৬১২ সালে নির্মান করেছিল। দুর্গটি ব্যবহার করা হতো বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ করে মারাঠা এবং ওলন্দাজদের আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং মান্দোভি নদীর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য। বিশাল দুর্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ কা‌র‌্যকলাপের জন্য। আঞ্জুনা সৈকত গোয়ার পশ্চিম উপকূল এবং আরব সাগর সহ ৩০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত সৈকত তটরেখার অংশ অাঞ্জুনা সৈকত। এই সৈকত বিখ্যাত হওয়ার অন্যতম কারণ তার কোমল সাদা বালি এবং নারকেল গাছের সারিসহ তার অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সমুদ্রের পাশেই রয়েছে অাঞ্জুনা গ্রাম, গ্রামটি আরব সাগর এবং পার্বত্যময় সৈকতের মধ্যে পাঁচ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে অবস্থিত। আরভালেম জলপ্রপাত জলপ্রপাত দেখতে চাইলে যেতে পারেন আরভালেম জলপ্রপাত। এটি গোয়ার এক আশ্চর্যকর জলপ্রপাত। জলরাশি ঝরে পরছে পর্বতের পাথুরে ভুখন্ড থেকে যার উচ্চাত ৭০ মিটার । ঝরে পরা এক চমৎকার জলরাশি সত্যিই এক বিস্ময়কর দৃশ্য। আরভালেম জলপ্রপাত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে উত্তর গোয়ার বিচোলিম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দুরত্বে। আরভালেম জলপ্রপাতটি হারভালেম জলপ্রপাত নামে সুপরিচিত, আরভালেম গুহা গোয়া একটি প্রাচীন রাজ্য হওয়ায় এখানে অপূর্ব সৈকত এবং জলপ্রপাত ছাড়াও গোয়া একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের গন্তব্যস্থল। আমাদের পৌরাণিক কাহিনী সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়, উত্তর গোয়ার বিচোলিম শহরে অবস্থিত এটি একটি শিলা কাটা প্রাচীন গুহা।  গুহার উৎপত্তি হয় ষষ্ট শতকে। ঐতিহাসিক নিদর্শনের সুন্দর উদাহরণ হল আরভালেম গুহা বা “পান্ডব গুহা”।  আরভালেম গুহা দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে  উত্তর গোয়ার বিচোলিম শহরে। কান্দোলিম সৈকত গোয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সন্মোহনবিদ্যার জনক আব্বা ফারিয়ার জন্মস্থান হিসাবে বিখ্যাত কান্দোলিম সৈকত । সৈকতটি আগুদা দুর্গ থেকে শুরু হয়ে চাপোরা সৈকতে গিয়ে শেষ হয় যা। কান্দোলিম সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে গোয়া রাজ্যের উত্তর পানাজি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে। কোলভা সৈকত ২৫ কিমি সূক্ষ্ম চূর্ণ সাদা বালি আর উপকূল বরাবর নারকেল গাছ দেখতে যেতে পারেন কোলভা সৈকত। সূক্ষ্ম চূর্ণ সাদা বালি এবং উপকূল বরাবর নারকেল গাছ উত্তরে বগমোলা থেকে দক্ষিণে কাবো-দি-রাম এবং দক্ষিণ গোয়ায় উপকূলরেখা বরাবর প্রসারিত। এটি বৃহত্তম এবং দক্ষিণ গোয়ায় সবচেয়ে দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত।  এই গ্রামের সুন্দর ঘর ও ভিলা গুলি ঔপনিবেশিক রাজত্বের  বিলাসবহুল জীবনধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  মারগাঁওয়ের উচ্চ সমাজের ব্যাক্তিদের বিশ্রামের এলাকা হিসাবে ব্যবহৃত হত । উচ্চ সমাজের ব্যাক্তিরা ছুটি কাটানো জন্য কোলভা পরিদর্শনে আসতেন। কোলভা সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে পশ্চিমে মারগাঁও থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরত্বে।   পালোলেম সৈকত  আপনার পাশে কুমারী থাক বা না থাক দেখে আসতে পারেন কুমারী সৈকত। গোয়ার এক অন্যতম কুমারী সৈকত পালোলেম সৈকত । সৈকত থেকে উপভোগ করতে পারেন সৃর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত । কয়েক বছর নিভৃতে থাকর পর আবারো পর্যটকদের পদার্পনে এই এলাকা ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। পালোলেম সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে দক্ষিণ গোয়ার কাণকোণ জেলার চৌদি, চৌদি থেকে থেকে পালোলেম সৈকতের দুরত্ব ২ কিলোমিটার পশ্চিমে । পালোলেম সৈকত ‘প্যারাডাইস বিচ’ নামে সুপরিচিত। বাগা সৈকত গোয়া যেতে চাইলে আমাদের সর্বপ্রথমে যেটা মনে পরে যায় তা হল অতি রোমাঞ্চকর বাগা সৈকত। যারা একবার গোয়ার সোন্দর্য উপভোগ করেছে তারা বাগা সৈকতের সৌন্দর্যের কথা বলতে বলবেই। বেতালবাতিম সৈকত শান্ত ও নির্জন স্থানে সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন বেতালবাতিম সৈকতে, শুধু শান্তিপূর্ণই নয় এটি অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিছন্ন সৈকত। বেতালবাতিমের সূর্যাস্তের সোন্দর্য্য আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। বেতালবাতিম সৈকতে যেতে চাইলে আপনাকে মাজোরদা সৈকতের দক্ষিণে । গোয়ার ‘সূর্যাস্ত সৈকত’ হিসাবে সুপরিচিত। ভাগাতোর সৈকত সস্তায় রিসোর্টে থাকতে চাইলে যেতে পারেন ভাগাতোর সৈকতে যা একটি স্বচ্ছন্দ সৈকত । ভাগাতোর তুলনামুলক কম জনাকীর্ণ এবং একটু ভিন্নধাচের সৈকত। এখানে দেখতে পাবেন সাদা বালি, সারি সারি নারিকেল গাছ এবং কালো লাভা পাথর । সৈকতটি ৫০০ বছর পুরানো পর্তুগিজদের দুর্গের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় ৫০০ বছরের পুরানো স্মৃতি এবং চাপোরা দুর্গের লাল প্রাচীরের একটি সুন্দর দৃশ্য প্রদান করে। ভাগাতোর সৈকতে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে সৈকত রাজ্যের রাজধানী পানাজি থেকে ২২ কিমি দূরে অবস্থিত যা পর্তুগিজদের দুর্গের নিকটে  যা উত্তর গোয়ার মাপুসা রোডের কাছাকাছি অবস্থিত । ভারকা সৈকত সৈকতে নির্জনে সময়কাটতে চাইলে যেতে পারেন গোয়ায় অতি জনপ্রিয় ভারকা সৈকতে। সাদা বালি আর পরিচ্ছন্নতার জন্য বিখ্যাত ভারকা সৈকত । এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর সমুদ্র সৈকত । ভারকা সৈকতে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে বেনালিম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরত্বে । এই সৈকত মৎস্যজীবীদের কাঠের নৌকার জন্য সুপরিচিত। মঙ্গেশি মন্দির আধুনিক এবং ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্থাপত্যের একটি সংমিশ্রণ, গোয়ার মঙ্গেশি মন্দির। মন্দিরটি উৎসর্গীকৃত করা হয়েছে শিবের অবতার, প্রভু মঙ্গুয়েশিকে । কিংবদন্তীরা বলেছেন যে, এখানে পূজিত শিব লিঙ্গটি প্রভু ব্রহ্মা নিজে পবিত্রীকৃত করেন। এই অধিষ্ঠাত্রী দেবতার মূর্তিটি প্রতি সোমবার শোভাযাত্রার দ্বারা বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কেনাকাটা সারা রাজ্যে প্রচুর সরকারি এম্পোরিয়া এবং ব্যাক্তিগত দোকান রয়েছে । কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত মাপুসার ফ্রাইডে মার্কেট এবং অঞ্জুনার ওয়েডনেসডে মার্কেট। সৈকতের পার্শ্ববর্তী স্টল গুলি শামুখ এবং পাথরের কারুশিল্প, শুকনো মাছ এবং মশলা কেনাকাটার জন্য মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এখানে আপনি পেতে পারেন ঝিনুকের খোলসের তৈরি পণ্য। বাঁশের কাজ করা পণ্য। কোথায় থাকবেন গোয়ায় প্রচুর হোটেল এবং রিসর্ট রয়েছে। নিজের বাজেট অনুযায়ী পছন্দসই হোটেল অথবা রিসর্ট বেছে নিতে পারবেন। হোটেল এবং রিসর্টগুলি পর্যটকদের প্রতিটি চাহিদা মেটানোর জন্য খুব ভালো ভাবে সুসজ্জিত ও সুপরিকল্পিত হলেও পর্যটকদের কাছে গোয়ার রিসর্টগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয়।  অগ্রিম হোটেল বুক না করলে এখানে হোটেল কক্ষ পাওয়া খুবই কষ্টকর। এখানে ভাল রেস্তোরাঁর কোন অভাব নেই ইচ্ছে করলে বিচের কাছা কাছি বাড়িতেও খোজ নিয়ে দেখতে পারেন পর্যটন মৌসুমে এই এলাকার অনেকেই নিজের বাড়িকে হোটেলের মত ভাড়া দেন। ভ্রমণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ যেমন আনন্দময় তেমনি ভ্রমণে অনেক ঝক্কি ঝামেলাও আছে।  বাসের টিকেট কাটা, বাস ভাড়া করা, হোটেল বুকিং, গাইডের ব্যবস্থা-এমনতর অনেক কাজ রয়েছে। এসব ঝক্কি ঝামেলা সামলানো যাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা ট্যুও অপারেটরের সাহায্য নিতে পারেন। কোনো ট্যুর অপারেটর আপনার ভ্রমণের দায়িত্ব নিলে কোনো কিছু নিয়েই আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনার ভ্রমণ হবে  বাংলাদেশের বিশ্বস্থ কয়েকটি ভ্রমণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- দি গাইড ট্যুরস লিমিটেড, ফোন: ৮৮ ০২ ৯৮৯৬৯৮৩; রিভার এন্ড গ্রীণ ট্যুরস, ফোন: ৮৮ ০২ ৮৮২৯৬৯২; টাইগার ট্যুরস লিমিটেড, ফোন: ৮৮ ০২ ৮৮৩৪৬৫৩। //এআর

স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন

ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে দিনাজপুর হতে পারে প্রথম পছন্দ। পর‌্যটনসমৃদ্ধ এ জেলায় গেলে আপনি একসঙ্গে দেখতে পারবেন বহু কিছু। ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির, স্বপ্নপুরির মতো নয়াভিরাম বিভিন্ন স্পট, অলৌকিক রামসাগর দিঘী, রাজবাড়ী, রামসাগরসহ আরও কত কী।   প্রাচীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির লীলাভূমি দিনাজপুরের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ জেলার প্রতিটি জনপদ যেন ইতিহাসের এক একটি বাঁক। বহু ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী ফরিদপুর। পর‌্যটকরা সেখানে গেলে এসব জানতে পারবেন। সবুজ গাছপালায় ঘেরা ফরিদপুরের সবুজ প্রকৃতি সবাইকে টানে। এই জেলার লিচু ও সুগন্ধী চাল বেশ বিখ্যাত। প্রকৃতির মত এখানকার মানুষগুলোও অতিথি পরায়ন। কান্তজিউ মন্দির কান্তনগর এলাকার কান্তজিউ মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইট দিয়ে তৈরি। এ মন্দিরে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট টেরাকোটা শিল্পের নির্দশন। পৌরানিক কাহিনীসমূহ পোড়ামাটির অলঙ্করণে দেয়ালের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৭২২ সালে দিনাজপুরের মহারাজ প্রাণনাথ এ মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে মহারাজের দত্তক ছেলে মহারাজ রামনাথ মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মন্দিরের শিখর থেকে আদি নয়টি শিখর ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহারাজা গিরিজানাথ বাহাদুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয়টি চূড়া বাদে মন্দিরটির ব্যাপক পুনর্গঠন করেন। পিরামিড আকৃতির মন্দিরটি তিনটি ধাপে উপরে উঠে গেছে এবং তিন ধাপের কোণগুলির উপরে মোট নয়টি অলংকৃত শিখর বা রত্ন রয়েছে। যেকোনো দিক থেকেই পূজারিরা ভেতরের পবিত্র স্থানে রাখা দেবমূর্তিকে দেখতে মন্দিরের চারদিকে খোলা খিলান পথ রয়েছে।পাথরের ভিত্তির উপর দাঁড়ানো মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুটেরও বেশি। নিচতলার প্রার্থনা কক্ষের চারদিকে মন্দিরে মোট চারটি আয়তাকার বারান্দা রয়েছে। নিচতলার চার প্রকোষ্ঠের বাইরে মোট ২১টি খিলান দরজা আছে, আর দ্বিতীয় তলায় এ খিলান দরজার সংখ্যা ২৭টি,  তৃতীয় তলার মাত্র তিনটি প্রবেশ দরজা এবং তিনটি জানালা রয়েছে। যা উপরে উঠে গেছে। এঁকেবেঁকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উঠে গেছে ২‘-৩‘‘ প্রশস্ত সংর্কীণ সিঁড়ি। দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সুন্দরপুর ইউনিয়নে মন্দিরের পাশেই ঢেঁপা নদীর তীরে কান্তজিউ মন্দিরটি অবস্থিত। স্বপ্নপুরী স্বপ্নপুরীর প্রবেশমুখে স্থাপিত প্রস্তর নির্মিত সাদা ডানাবিশিষ্ট দুটি সুবিশাল পরী পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। সপ্নপুরীতে রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পশু-পাখির ভাষ্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং ইট-সিমেন্টে নির্মিত বাংলাদেশের এক সুবিশাল মানচিত্র। রয়েছে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, জীবন্ত পশুপাখীদের চিড়িয়াখানা, শিশুদের জন্য পার্ক, দোলনা, বায়োস্কোপসহ আরো রয়েছে সারিসারি সবুজ দেবদারু গাছের মনোলোভা সৌন্দর্য আর বিস্তীর্ণ ঝিলের তীরে ফুটন্ত গোলাপ বাগানের মাঝখানে স্থাপিত অপরূপ সুন্দর “নিশিপদ্ম”। আরও রয়েছে বিশাল দিঘিতে স্পিডবোট ও ময়ূরপঙ্খীডানাও। দুই ঘোড়া চালিত টমটম, স্বচ্ছ পানির ফোয়ারার কয়েকটি ফুল বাগান। স্বপ্নপুরী হচ্ছে পরিপূর্ণ একটি বিনোদনকেন্দ্র। একবার স্বপ্নপুরীতে গেলে সত্যিই আপনি স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে যাবেন। স্বপ্নপূরীর প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি বিশ টাকা। তবে পার্কিং ফি এর বাইরে। স্বপ্নপুরীর বাংলো ভাড়া নীলপরী তিনশ’ টাকা (প্রতি ডবল রুম), রজনীগন্ধা চারশ’ টাকা (প্রতি ডবল রুম), নিশি পদ্ম পনের‘ টাকা (তিন রুমসহ বাংলো), চাঁদনী পাচশত টাকা (প্রতি ডবল রুম), সন্ধ্যা তারা আকাশ থেকে তেরশ টাকা (প্রতি ডবল নন এসি ও এসি রুম)। ঢাকা থেকেও স্বপ্নপুরীর মোটেল বা বাংলো বুকিং করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন হোটেলের সফিনা, ১৫২ হাজী ওসমান গনি রোড, আলুবাজার ঢাকা। ফোন : ৯৫৫৪৬৩০-৯৫৬২১৩০। দিনাজপুর শহর থেকে ৫২ কিমি দক্ষিণে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে স্বপ্নপুরী অবস্থিত। বাসযোগে যাওয়া যেতে পারে অথবা রেলযোগে ফুলবাড়ী রেল স্টেশনে নেমে অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। ফুলবাড়ি উপজেলা শহর থেকে স্বপ্নপুরীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ি আফতাবগঞ্জহাট হয়ে সম্পূর্ণ পাকা রাস্তা দিয়ে এখানে পৌঁছানো যায়।  রাজবাড়ী ১৬০৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত রাজবাড়ীটি ছিল বৃহৎ দিনাজপুর জেলার ঐশ্বর্য্যের প্রতীক। ধীরে ধীরে রাজবাড়ী গড়ে ওঠেছিল তিলোত্তমা হিসেবে। এটি বর্তমানে বিলুপ্ত জমিদারী কীর্তির ধ্বংসাবশেষ মাত্র। রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ হলো-আয়নামহল, রাণী মহল, কুমার মহল, আটচালা ঘর, লক্ষ্মী ঘর, আতুর ঘর, রাণী পুকুর, চাঁপা তলার দিঘী, ঠাকুর বাড়ী, কালীয়া জিউ মন্দির। দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁওগামী মহাসড়কের চিরিরবন্দর সংযোগ সড়কের মোড় থেকে অটোরিকশা যোগে দিনাজপুর রাজবাড়ী যাওয়া যায়। রাম সাগর দিঘী কৃষকদের সেচ সুবিধা, প্রজাদের পানির কষ্ট দূরীকরণ এবং দূর্ভিক্ষপীড়িত প্রজাদের কাজের বিনিময়ে খাদ্যের সংস্থান হিসেবেই রাজা রামনাথের আমলে এ দিঘী খনন করা হয়। তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। পাড়ভূমিসহ দিঘির মোট আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার। জলভাগের দৈর্ঘ্য ১০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ৯ মিটার। সর্বোচ্চ পাড়ের উচ্চতা প্রায় ১৩.৫০মিটার। দিঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০,০০০টাকা এবং ১৫লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল। দিনাজপুর শহরের কেন্দ্র থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত দিনাজপুরের মহারাজদের অন্যতম কীর্তি রামসাগর দিঘী। দিনাজপুর সদর থেকে অটোরিক্সা যোগে রামসাগর দিঘি যায়া যায়। নয়াবাদ মসজিদ মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১.১৫ বিঘা জমির উপর। মসজিদের প্রবেশদ্বারের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত লিপি থেকে জানা যায় ১২০০ বাংলা সনে (১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আয়তাকার মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট । তিনটি অর্ধগোলাকৃতির গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। গম্বুজদ্বয় বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। টাওয়ারগুলি অষ্টভুজাকৃতির। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২.৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৫ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য পৃর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান। মাঝের খিলানের উচ্চতা ১.৯৫ মিটার, প্রস্থ ১.১৫ মিটার। মসজিদের ভিতরে পশ্চিম দিকে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মাঝখানের মেহরাব দুটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের সমস্ত দেয়াল জুড়ে রয়েছে আয়তাকার বহু পোড়ামাটির ফলক। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক মসজিদটি সংস্কার করে সামনে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেছে। নয়াবাদ মসজিদটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে । নয়াবাদ গ্রামটি জেলা সদর থেকে ২০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে এর অবস্থিত। লিচু দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের সেরা লিচু উৎপন্ন হয় দিনাজপুরে। এ জেলায় মাদ্রাজী, বোম্বাই, বেদানা ও চায়না-৩ ও অরো অনেক জাতের লিচু উৎপন্ন হয়। জেলায় বেশি লিচু উৎপাদন হয় -কসবা, সৈয়দপুর, মাসিমপুর,  মাহমুদপুর, নশিপুর, জযদেবপুরে। বিরল এলাকার- মাধববাটি, রসুর শাহ পুর ,রানী পুকুর , মংগলপুর, মাটিআন দিঘী, আজিমপুর, লক্ষীপুর, জগতপুর , রাজুরিয়ায় রয়েছে কয়েকশ’ লিচু বাগান। লিচুর হাট দেখতে চাইলে যেতে পারেন দিনাজপুর সদরের- কালিতলা ,মাসিমপুর, পুলহাট । বিরলের- মাধববাটি, চিরির বন্দরের- মাদারগঞ্জ হাট  এবং বীরগঞ্জের বীরগঞ্জহাট। এসব বাজার থেকেই সারাদেশে লিচু বিপনন হয়ে থাকে। নদী দিনাপুর গেলে আপনি নৌ ভ্রমণের স্বাদও নিতে পারবেন। দিনাজপুরের করতোয়া, আত্রাই, কাঁকড়া, ঢেপা,  পূনর্ভবা , গর্ভেশ্বরী, ছোট যমুনা,  ইছামতি, ভূল্লী, পাথরঘাটা ভেলামতিতে রয়েছে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা। ভ্রমণপিয়াসুরা দিনভর বেড়ানো শেষে বিকালে নৌভ্রমণে গিয়ে ক্লান্তি দূর করে থাকে। বিল দিনাজপুরে রয়েছে আমইর বিল, চেংগন বিল, বাজনিয়া বিল, ঝেড়ঝেরিয়া বিল, হাস বিল, কাঞ্চন বিল, লাল বিল, পয়সা বিলসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়। যেখানে পানকৌরি এসে ভিড় করে। মাছরাঙ্গার মাথা পানিতে চুবিয়ে গোসলের নয়াভিরাম দৃশ্য দেখা যায় এসব বিলে। কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে দিনাজপুর যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী বাসগুলো সাধারণত ছাড়ে গাবতলী, কল্যাণপুর ও উত্তরা থেকে। নাবিল পরিবহনের এসি বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা। হানিফ এন্টারপ্রাইজে যেতে চাইলে ফোন করতে পারেন ৮০১৩৭১৪, ৮০১৫৩৬৮, এসআর ট্রাভেলসের তথ্য জানতে ফোন করুন ৮০১৩৭৯৩, ৮০১৯৩১২এই নম্বরগুলিতে। আর ট্রেনে চরে যেতে চাইলে কমলাপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতজান এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। ট্রেন দুটি যথাক্রমে সকাল ১০ টায় এবং সন্ধ্যা ৭.৪০ দিনাজপুারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। //এআর  

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি