ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ৮:১৪:৩৬

তাজা ইলিশের স্বাধ পেতে চলে আসুন পদ্মার পাড়ে

তাজা ইলিশের স্বাধ পেতে চলে আসুন পদ্মার পাড়ে

নগরজীবনে ক্লান্তির শেষ নেই। করপোরেট লাইফস্টাইলে চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠেছে দেহ ও মন। শহর ছেড়ে একটু মুক্ত বাতাসে যেতে চাইছেন! সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও গেলে ভালো হয়। তাদের জন্য ‘পদ্মা পাড় মাওয়া’ হতে পারে উত্তম স্থান। এখানে তাজা সুস্বাধু ইলিশ যাবে পাওয়া। সেই সঙ্গে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর অগ্রগতি নিজ চোখে দেখার সুযোগ তো রয়েছেই। নদী ও জলে নিজেকে সিক্ত করতে আমাদেরও পছন্দের তালিকায় এবার মাওয়া ঘাট। আমরা তিনজন শুক্রবার খুব সকালে গুলিস্তান থেকে বাসে করে রওনা হলাম মাওয়ার উদ্দেশে। গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী যেকোনো স্থান থেকে আপনি আসতে পারবেন। সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে অসংখ্য। একটু পরপরই এগুলো ছেড়ে আসছে মাওয়ার উদ্দেশে। ভাড়াও কম। মাত্র ৭০ টাকা। কম খরচে পুরো দিনটি আপনার আনন্দে কাটবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। আর আপনি যদি হন ভ্রমণ ও ভোজনরসিক তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। মাওয়া ফেরিঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। নিশ্চিন্তে বসে পড়ুন মাওয়াগামী যে কোনো একটা বাসে। ইচ্ছে করলে সকাল কিংবা দুপুরেও রওনা হয়ে বিকেলটা মাওয়ার পদ্মা পাড়ে কাটিয়ে সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসা যায় ঢাকায়। ঢাকা শহরের কোলাহল ছেড়ে কিছুটা পথ এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার দুপাশে সবুজের সমারোহ। বর্ষায় এই ধানক্ষেত হয়ে যায় স্বচ্ছ জলের বিল। তবে জমিখেকো কিছু কোম্পানির আবাসন প্রকল্পের চাপে এই দৃশ্য এখন কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো টিকে আছে কিছু গ্রামবাংলার চিরায়ত প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। কিছুটা সামনে আসলেই দেখতে পাবে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার। বাসের জানালার পাশে বসে এসব দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন মাওয়া ফেরিঘাট। বাস থেকে নামতেই রাস্তার পাশে পাবেন অসংখ্য ছোট ছোট রেস্তরাঁ। এগুলো ‘ভাতের হোটেল’ নামেই বেশি পরিচিত। ওপরে টিনের চালা আর তিন দিকে টিনের বেড়া। এসব রেস্তোরাঁ দেখতে যেমনই হোক না কেন, এখানকার গরম ভাত আর গরম গরম ভাজা পদ্মার টাটকা ইলিশের স্বাদই আলাদা। মাওয়া ফেরিঘাটের উত্তর দিকে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় অনেক দূর। নদীর পার দিয়ে হাঁটার সময় এক পাশে থাকবে রুপালি পদ্মা আর অন্য পাশে থাকবে সবুজে ঘেরা গ্রাম। ইচ্ছে করলেই ঢুকে পড়া যায় গ্রামের ভেতরে। ছায়া সুনিবিড় গাছগাছালিতে ঢাকা চমৎকার একটি গ্রাম দেখে নেওয়া যাবে ঘণ্টাখানেক পায়ে হেঁটেই। শহরের কোলাহল আর যান্ত্রিকতামুক্ত এই গ্রাম অবশ্যই ভালো লাগার অনুভূতি দেবে। আমরা শুধু ঘুরতেই আসি না। আমাদের উদ্দেশ্য ফটোগ্রাফিও। তাই প্রথমে নেমে আশপাশের পরিবেশ দেখে নিলাম। আমরা ছবি তুলতে তুলতে অনেক দূরে চলে গেলাম। ছবি তোলার জন্য এখানে ইলিশ, নদী, জেলে, লঞ্চ-ফেরি, স্পিডবোট, মাঝি ও গ্রামকে সাবজেক্ট হিসেবে পাবেন। ছবি না তুললেও সমস্যা নেই। এসব দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে আজকাল সবাই ফটোগ্রাফার। সেলফির যুগে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল সবার হাতে হাতে। তাই আপনি দারুণ দারুণ ছবি তুলে ফেসবুকের পাতার আপলোড দিতেই পারবেন। বন্ধুদের বাহবা পাবেন। ভ্রমণে এসে কোথাও ঝিম মেরে বসে থাকলে লাভ নেই। যেখানেই যাবেন, সেই স্থানটিকে ভালোমতো জেনে নিন। তাতে আনন্দের পাশাপাশি জ্ঞানও সমৃদ্ধ হবে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নদীতে থাকবে সূর্যেও রুপালি ঝিলিক। মৃদু বাতাসে নদীর জলে ছোট ছোট রুপালি ঢেউ ঝলকে দেয় চোখ। নদীর ঘাটে অসংখ্য স্পিডবোট ভিড় করে। ইচ্ছে করলেই ১৫০ টাকার বিনিময়ে ১৫-২০ মিনিটে স্পিডবোটে চড়ে পার হওয়া যায় প্রমত্ত পদ্মা। ফেরিঘাটে সারাক্ষণই ফেরির আনাগোনা। আর তাতে করে নদী এপার-ওপার হওয়া যাবে। মন চাইলে ফেরিতেও চড়ে বসতে পারেন। ২৫ টাকার বিনিময়ে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন। তবে সময় খরচ হবে একটু বেশি। প্রায় দেড় ঘণ্টা। নদীতীরের গ্রামের মানুষ দুপুরে গোসল সারে নদীর বুকে। তাদের দেখলে নিজেরও ইচ্ছে হতেই পারে নদীতে ঝাঁপিয়ে পরার! সঙ্গে গোসলের ব্যবস্থাপত্র রাখলে এ কাজটিও মন্দ হবে না। রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেবে পদ্মার গোসল। পদ্মার পারে সবচেয়ে কমন দৃশ্য হলো জেলে নৌকো। সারি সারি নৌকা বাঁধা আছে পদ্মাপারে। কেউ কেউ জাল বুনছে। রাতের বেলা এই নৌকাই ছেড়ে যাবে রুপালি ইলিশ ধরতে। নদীতে দেখা যাবে ছোট্ট ছোট্ট নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছে। দেখতে পাবেন, আপনার সামনে দিয়েই নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে সদ্য ধরে আনা পদ্মার হরেক রকম টাটকা মাছ আর সেই সঙ্গে রুপালি ইলিশ! ইচ্ছে করলে একটু দামাদামি করে কিনেও নিতে পারেন। আমরাও তাজা ইলিশ ও জেলেদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। কিনেও নিলাম একটা বড় সাইজের ইলিশ। যা আমরা কোন একটা হোটেলে রান্না করে খাব। তবে একটু সাবধান হতে হবে। এখানে হোটেলগুলোতে যে মাছ রান্না করা বা কেটে কেটে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, তা ভুলেও কিনবেন না। এগুলোতে আসল ইলিশের স্বাদ পাবেন না সেভাবে। ইলিশ যদি না চিনতে পারেন, তবে সব অভিযানই বৃথা হয়ে যাবে। যাদের ইলিশ কেনার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়ে ইলিশের দরদাম নিয়ে। অথবা কোন ইলিশটা স্বাদের জন্য ভালো হবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়ে অনেকে। কেউ ডিম ছাড়া ইলিশ কিনতে চান আবার কেউ চায় ডিমওয়ালা ইলিশ খেতে। এই ছোট্ট সংশয়ের ছোট্ট সমাধান অনেকেরই অজানা। ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ কিছুটা কমে যায়। ইলিশের পেটে ডিম হওয়ার কারণে পেটের তেল কিছুটা কমে যায়, ফলে ইলিশের প্রকৃত স্বাদে কিছুটা ভাটা পড়ে। আবার অনেকেই বলে, ডিম ছাড়া ইলিশ কিনলে ডিমের স্বাদ পাব কী করে! সে ক্ষেত্রে মাওয়া ঘাটে ডিম ছাড়া ইলিশ কিনে অতিরিক্ত ডিমও কিনে নিতে পারেন অন্য ইলিশ থেকে। সুতরাং আপনি ইলিশের প্রকৃত স্বাদও পেলেন, সঙ্গে ডিমের মজাটাও পেলেন। ছোট ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ইলিশের দাম পড়বে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আর ইলিশের ওজন যদি ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম হয় তবে দাম পড়বে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর যদি কোনোভাবে ইলিশের ওজন এক কেজি পার হয়, তবে আর সেই ইলিশ পায় কে। ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দাম হাঁকিয়ে বসে থাকে হোটেলগুলো। তবে দাম শুনে ভড়কে যাবেন না। চাওয়া দামের অর্ধেকেও ইলিশ বিক্রির ইতিহাস এখানে অনেক পুরোনো। যুগ যুগ ধরেই মাওয়া ঘাটের ইলিশের চাহিদা সবখানে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ খেতে আসে ভোজনরসিকেরা। পদ্মা ঘাটে বসে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পদ্মার ভাজা ইলিশ দিয়ে ভূরিভোজ করেন। শুধু যে এখানে ইলিশ মাছ আছে তা কিন্তু নয়। এখানে পাবেন বড় বড় চর্বিযুক্ত পাঙ্গাশ মাছ। পাঙ্গাশ মাছের পেটির স্বাদও নিতে পারেন অনায়াসে। এ ছাড়া শিং, চিংড়িসহ হরেক রকম নদীর মাছের ভর্তা পাবেন। যাদের মাছের প্রতি কিঞ্চিৎ বিরক্তি আছে, বিশেষ করে কাঁটা আর স্বাদের কারণে তাদের জন্য আছে মাংসের আয়োজন। মুরগি, খাসিসহ আছে অনেক পদের মাংস রান্না। চাইলে স্পিডবোটে করে ওপারে যেতে পারেন। ওখানেও ভালো কিছু খাবার হোটেল হয়েছে। ফেরি, লঞ্চ বা স্পিডবোটে ফিরতে পারবেন। ফেরির তিনতলা থেকে রাতের পদ্মা অপার্থিব লাগবে। যদি জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে খেতে চান, তবে অন্তত এক দিনের জন্য সকালের কাঁচা ঘুম ত্যাগ করে মাওয়া পৌঁছাতে হবে সকাল নয়টার মধ্যে। আর শুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসা নেহাত বোকামি হবে। যদি নদীর পাড়ে বসে পদ্মার বিশাল জলের একটু উন্মাদনা না দেখেন তা হলে কিন্তু মিস করলেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন পাটে বসতে চলে, তখন ম্লান সূর্যের সোনালি ছায়া পড়ে নদীর বুকে। চমৎকার সেই মুহূর্ত। নদীর জলে যেন তরল সোনা মিশিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। নদীর ওপর দিয়ে একলা নিঃসঙ্গ কোনা বক বা একঝাঁক গাংচিল উড়ে যায় ওদের আশ্রয়ের দিকে। নৌকায় করে চাইলে পদ্মা রিসোর্ট দেখে আসতে পারেন। রিসোর্ট ও দেখা হবে নৌকা ভ্রমণও হয়ে যাবে। ইচ্ছা করলে সারা দিন অথবা রাত দিন থাকার ব্যবস্থা আছে রিসোর্টে। না থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। শুধু এক্সট্রা ৫০ টাকা দিলেই ঘুরে দেখা যাবে সম্পূর্ণ রিসোর্ট। এরই মাঝে ঘুরে দেখে নিতে পারেন পদ্মা ব্রিজের অগ্রগতি। কেউ কেউ বলে, পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে ‘সিঙ্গাপুর’। তাই পায়রাবন্দর ও পদ্মা সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সিঙ্গাপুরের’ হাতছানি দেখে আসতে পারেন। ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জেনে খুশি হবেন যে, দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে আশার আলো জাগাচ্ছে মেগা এই প্রকল্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। সলিড ইস্পাতে তৈরি কিউব জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে একেকটি পূর্ণাঙ্গ স্প্যান। স্প্যানগুলোতে প্রথমে রঙের ছোপ লাগানো হচ্ছে। এরপর সিজনড করার জন্য বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। শুকানোর পর তা বসানো হয় সেতুর কাঠামো হিসেবে। যা দৈর্ঘ্যে ১৫০ মিটার। আর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। প্রস্থে আরও বেশি। নদীর বুকে পোঁতা পিলারগুলোর ওপর এমন ৪১টি স্প্যানকে ঘিরেই দেখা দেবে মূল সেতুটি। এসব স্প্যানের ‘বাক্সের’ ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপরে বসানো কংক্রিটের সড়কে চলবে গাড়ি। তাই আজই ঘুরে আসুন পদ্মার পাড় মাওয়া। //এআর
প্রিয়জনকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন গোয়া

সাগর, বালি, সৈকতে রক্তিম সূর্য্যের অনাবিল দৃশ্য আর সমুদ্র তরঙ্গে আছড়ে পড়া ঢেউ, সবুজ পাহাড়সহ প্রকৃতির অপার সৌন্দর‌্য দেখতে কার না ভালো লাগে। এই সবকিছু যদি একসঙ্গে দেখতে চান তবে নিশ্চিতে যেতে পারেন ভারতের গোয়া। জলপ্রপাত, প্রাচীন গুহা, ঐতিহাসিক গির্জা কী নেই এখানে। সৈকতে নারকেল গাছের সারি, পানকৌরি-বকসহ নানা পরিযায়ী পাখির কলতান, আর স্বচ্চ পানির ফোয়ারা দেখতে রোজ গোয়ায় ভিড় করেন হাজারো পর‌্যটক। কয়েক দশক ধরেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু গোয়া। জানা গেছে, ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই এলাকাটি পর্তুগিজদের শাসনাধীন ছিল ১৯৬১ সালের আগ পর্যন্ত। এই রাজ্য গোয়া নামে পরিচিত হয় ১৯৮৭ সালে ।  সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গোয়া আদর্শ পর‌্যটন স্পট। গোয়ার একটা সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যেখানেই যাবেন পর্তুগিজদের প্রভাব অনুভব করবেন। প্রেমিক প্রেমিকাদের পছন্দের ডোনা পাওলা সৈকত ভালবাসা মতো একটা হৃদয় থাকলে অবশ্যই যাবেন ডোন পাওলা সৈকতে, সৈকতের দাঁড়িয়ে আপনি অনুভব করতে পারবেন সত্যিকার ভালবাসা কেমন হয়, অতৃপ্ত ভালবাসায় কষ্ট। জনস্র্রুতি আছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী মেয়ে ডোনার সঙ্গে জেলে পরিবারের সন্তানের প্রেম হয়। ডোনা যখন বুঝতে পারলো সে তার প্রিয় জনকে পাবে না তখন সে সমুদ্যে ঝাপ দিয়ে আত্ন হত্যা করে। তখন থেকেই জায়গাটি ডোনা পাওলার নামে পরিচিতি পায়। ডোনা পাওলায় আপনাকে যেতে হবে পানাজি থেকে ৭ কিলোমিটার দুরত্বে। গোয়া থেকে আপনি সরকারি বাস সার্ভিস কাদম্বা ট্রানপোর্ট কোরপোরেশন ( কে টি সি) এবং বেসরকারি বাস যোগেও যেতে পারেন। ইচ্ছে করলে আকাশ পথেও যেতে পারেন ডোনা পাওলা সৈকতে ‍। ডোনা পাওলা সৈকত থেকে ৩২ কিঃ মিঃ দুরত্বে ডাবোলিম বিমানবন্দর। যেকোনো জায়গা থেকে ডাবোলিনে এসে আপনি ডোনা পাওলা সৈকতে যেতে পারেন। রেলপথেও ডোনা পাওলা যাতায়াত করা যায়। ডোনা পাওলা সৈকতের কাছাকাছি ভাস্কোদাগামা রেলস্টশন, যেকোন জায়গা থেকে ভাস্কোদাগামা রেলস্টশনে এসে আপনি ডোনা পাওলা সৈকতে যেতে পারেন। বার ও রেস্টুরেন্ট ডোনা পাওলা সৈকতে বিভিন্দ ধরনের বার এবং রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারগুলি হলো- বার লেটিনো, হোয়াইট হাউজ বার এন্ড রেস্টুরেন্ট, লবি বার, হারবার, পোজা বার, বার আলফানসো, পেসকাডোর। কোথায় থাকবেন ডোনা পাওলা সৈকতের কাছাকাছি থাকার জন্য বিভিন্ন মানের রিসোর্ট এবং হোটেল রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ডোনা পাওলা রিসোর্ট, হোটেল ও’পেসকাডোর,  এল’হোটেল ইডেন, হোটেল ভিলা সোল, হাওয়াই দা সি সাইড ভিলেজ রিট্রিয়েট, সিডেড ডি  গোয়া, কাছা আমারিলা সার্ভিস সুইট, সেন্ডেলউড হোটেল এন্ড রেস্টেুরেস্ট, ভিলা দা ডোনা পাওলা, ও পাসকাডোরডোনা পাওলা বিচ রিসোর্ট, কাবানা ডেমপো, হোটেল ফেডাল গো, জিনজার গোয়া । বোন্ডলা অভয়ারণ্য গোয়ার অন্যতম আকর্ষণ হলো-বোন্ডলা অভয়ারণ্য। এলাকাটি আবৃত রয়েছে অভয়ারণ্য আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য এবং চিরহরিৎ গাছপালা দ্বারা। ছোট্ট অভয়ারণ্যের বিশেষ আকর্ষন একটি ক্ষুদ্র চিড়িয়াখানা, গোলাপ বাগান। এছাড়া রয়েছে সাফারি পার্ক, বোটানিকাল গার্ডেন। প্রকৃতি শিক্ষা কেন্দ্র অভয়ারন্যটি দেখার পর খানিক বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রয়েছে পরিবেশ বান্ধব-পর্যটন কুটির। মরজিম সৈকত ঘুড়ি ওড়াতে চাইলে চলে যান অগভীর মরজিম সৈকতে। এই সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি ওড়ানো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া এখানে  অলিভ রিডলে কচ্ছপের সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করে যা হল একটি লুপ্তপ্রায় প্রজাতি। এই কচ্ছপ আর কাঁকড়ার  দর্শন আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে অবিস্মরণীয় করে তুলবে। মরজিম সৈকত শৈলী, ফুল, সবুজ পরিবেশ দ্বারা প্রতিপালিত। মারজিম সৈকত দেখাতে হলে আপনাকে যেতে হবে পেরনমে। সৈকতটি টার্টল বিচ নামে সুপরিচিত। ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জা ও রেইস মাগোস দুর্গ আওয়ার লেডি অফ দি ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জাটি গোয়ার প্রথম গির্জা। এটি নির্মিত হয়ে ১৫৪১ সালে। জনশ্রুতি আছে কিছু সল্প সংখ্যক মানুষ মিলে ও তাদের সম্পদ দিয়ে ১৬১৯ সালে গির্জাটি পুনরায় নির্মিত করেন । সেই সময়ের আকষণীয় ধর্মীয় গন্তব্য ছিল এটি। দিনে এর আকর্ষন বেড়েছে , আজো অনেক লোকের সমাগম হয় গির্জায়। গোয়ার প্রথম গির্জা দেখতে চলে যান আওয়ার লেডি অফ দি ইমাকুলেট কনসেপশন গির্জায়।  মাজোরদা সৈকত গোয়ার এক অপূর্ব সমুদ্র সৈকত মাজোরদা সৈকত। গোয়ার এক অন্যতম জনপ্রিয় সৈকত মাজোরদা সৈকত। গোয়ার মাজোরদা সৈকতের একটি জোরালো প্রভাব রয়েছে ভারতীয় পুরাণের উপর।  একদা ভগবান রামকে শৈশবকালে অপহরণ করে এই মাজোরদা সৈকতে আনা হয়েছিল এমনটাই জানা যায় পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে । এটাও বলা হয়ে থাকে যে স্ত্রী সীতার সন্ধানে ভগবান রাম এই সৈকতে এসেছিলেন।  তিনি কাবও-দি-রামেও এসেছিলেন বলে মানা হয় যা এই সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত। মিরামার সৈকত আরব সাগরের চমৎকার ঝলক দেখতে চলে যান গোয়ার মিরামার সৈকতে ।পর্তুগিজ শব্দ ‘মিরামার’ কথার অর্থ হল ‘সমুদ্র পরিদর্শন’। নারকেল গাছের সারির সুবর্ণ সৈকত মিরামার। গোয়ার মিরামার সৈকতের সীমানা শুরু হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এবং সীমানা শেষ হয়েছে এমারেল্ড কোস্ট পার্কওয়েতে । সান্ধ্য পদচারনার একটি আদর্শ স্থান এই সৈকতের কোমল বালি । মিরামার সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে মান্দোভী নদী এবং আরব সাগরের সঙ্গম থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বে অথবা ডোনা পাউলার দিকে গোয়ার রাজধানী শহর পাঞ্জিম থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্বে। গোয়ার মিরামার সৈকত ‘গাসপার ডাইয়াস’ নামে পরিচিত। মোবর সৈকত   রোমাঞ্চকর কার্যকলাপ করতে চাইলে চলে যান মোবার সৈকত। রোমাঞ্চকর কার্যকলাপের জন্য মোবর সৈকত একটি আদর্শ স্থান। পর্যটকদের রোমাঞ্চকর ক্রীড়াকলাপের জন্য জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত মোবার। ইচ্ছাপূরণের জন্য রয়েছে ওয়াটার স্কিইং, ওয়াটার সার্ফিং, জেট স্কি, ব্যানানা এবং বাম্প রাইড এবং প্যারাসেলিং। এখানে ভ্রমণের সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি। সিঙ্কেরিম সৈকত প্রাচীনতম সংরক্ষিত সমুদ্র সৈকত সুদৃশ্য সিঙ্কেরিম সৈকত । যা সাতারুদের জন্য আদর্শ জায়গা । এছাড়া এখানে রয়েছে দীর্ঘ বর্ধিত বালুময় ভুখন্ড। শীতল জল আর কোমল বালি আপনাকে দেবে এক অন্যরকম অনুভূতি। আগুয়াদা দুর্গ গোয়ার বিশেষ আকর্ষন বিখ্যাত আগুদা দুর্গ। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সুপরিচিত অধ্যায়। দুর্গটি পর্তগিজরা ১৭ শতকের গোড়ার দিকে ১৬১২ সালে নির্মান করেছিল। দুর্গটি ব্যবহার করা হতো বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ করে মারাঠা এবং ওলন্দাজদের আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং মান্দোভি নদীর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য। বিশাল দুর্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ কা‌র‌্যকলাপের জন্য। আঞ্জুনা সৈকত গোয়ার পশ্চিম উপকূল এবং আরব সাগর সহ ৩০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত সৈকত তটরেখার অংশ অাঞ্জুনা সৈকত। এই সৈকত বিখ্যাত হওয়ার অন্যতম কারণ তার কোমল সাদা বালি এবং নারকেল গাছের সারিসহ তার অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সমুদ্রের পাশেই রয়েছে অাঞ্জুনা গ্রাম, গ্রামটি আরব সাগর এবং পার্বত্যময় সৈকতের মধ্যে পাঁচ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে অবস্থিত। আরভালেম জলপ্রপাত জলপ্রপাত দেখতে চাইলে যেতে পারেন আরভালেম জলপ্রপাত। এটি গোয়ার এক আশ্চর্যকর জলপ্রপাত। জলরাশি ঝরে পরছে পর্বতের পাথুরে ভুখন্ড থেকে যার উচ্চাত ৭০ মিটার । ঝরে পরা এক চমৎকার জলরাশি সত্যিই এক বিস্ময়কর দৃশ্য। আরভালেম জলপ্রপাত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে উত্তর গোয়ার বিচোলিম থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দুরত্বে। আরভালেম জলপ্রপাতটি হারভালেম জলপ্রপাত নামে সুপরিচিত, আরভালেম গুহা গোয়া একটি প্রাচীন রাজ্য হওয়ায় এখানে অপূর্ব সৈকত এবং জলপ্রপাত ছাড়াও গোয়া একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের গন্তব্যস্থল। আমাদের পৌরাণিক কাহিনী সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়, উত্তর গোয়ার বিচোলিম শহরে অবস্থিত এটি একটি শিলা কাটা প্রাচীন গুহা।  গুহার উৎপত্তি হয় ষষ্ট শতকে। ঐতিহাসিক নিদর্শনের সুন্দর উদাহরণ হল আরভালেম গুহা বা “পান্ডব গুহা”।  আরভালেম গুহা দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে  উত্তর গোয়ার বিচোলিম শহরে। কান্দোলিম সৈকত গোয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সন্মোহনবিদ্যার জনক আব্বা ফারিয়ার জন্মস্থান হিসাবে বিখ্যাত কান্দোলিম সৈকত । সৈকতটি আগুদা দুর্গ থেকে শুরু হয়ে চাপোরা সৈকতে গিয়ে শেষ হয় যা। কান্দোলিম সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে গোয়া রাজ্যের উত্তর পানাজি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে। কোলভা সৈকত ২৫ কিমি সূক্ষ্ম চূর্ণ সাদা বালি আর উপকূল বরাবর নারকেল গাছ দেখতে যেতে পারেন কোলভা সৈকত। সূক্ষ্ম চূর্ণ সাদা বালি এবং উপকূল বরাবর নারকেল গাছ উত্তরে বগমোলা থেকে দক্ষিণে কাবো-দি-রাম এবং দক্ষিণ গোয়ায় উপকূলরেখা বরাবর প্রসারিত। এটি বৃহত্তম এবং দক্ষিণ গোয়ায় সবচেয়ে দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত।  এই গ্রামের সুন্দর ঘর ও ভিলা গুলি ঔপনিবেশিক রাজত্বের  বিলাসবহুল জীবনধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  মারগাঁওয়ের উচ্চ সমাজের ব্যাক্তিদের বিশ্রামের এলাকা হিসাবে ব্যবহৃত হত । উচ্চ সমাজের ব্যাক্তিরা ছুটি কাটানো জন্য কোলভা পরিদর্শনে আসতেন। কোলভা সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে পশ্চিমে মারগাঁও থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরত্বে।   পালোলেম সৈকত  আপনার পাশে কুমারী থাক বা না থাক দেখে আসতে পারেন কুমারী সৈকত। গোয়ার এক অন্যতম কুমারী সৈকত পালোলেম সৈকত । সৈকত থেকে উপভোগ করতে পারেন সৃর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত । কয়েক বছর নিভৃতে থাকর পর আবারো পর্যটকদের পদার্পনে এই এলাকা ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। পালোলেম সৈকত দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে দক্ষিণ গোয়ার কাণকোণ জেলার চৌদি, চৌদি থেকে থেকে পালোলেম সৈকতের দুরত্ব ২ কিলোমিটার পশ্চিমে । পালোলেম সৈকত ‘প্যারাডাইস বিচ’ নামে সুপরিচিত। বাগা সৈকত গোয়া যেতে চাইলে আমাদের সর্বপ্রথমে যেটা মনে পরে যায় তা হল অতি রোমাঞ্চকর বাগা সৈকত। যারা একবার গোয়ার সোন্দর্য উপভোগ করেছে তারা বাগা সৈকতের সৌন্দর্যের কথা বলতে বলবেই। বেতালবাতিম সৈকত শান্ত ও নির্জন স্থানে সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন বেতালবাতিম সৈকতে, শুধু শান্তিপূর্ণই নয় এটি অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিছন্ন সৈকত। বেতালবাতিমের সূর্যাস্তের সোন্দর্য্য আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। বেতালবাতিম সৈকতে যেতে চাইলে আপনাকে মাজোরদা সৈকতের দক্ষিণে । গোয়ার ‘সূর্যাস্ত সৈকত’ হিসাবে সুপরিচিত। ভাগাতোর সৈকত সস্তায় রিসোর্টে থাকতে চাইলে যেতে পারেন ভাগাতোর সৈকতে যা একটি স্বচ্ছন্দ সৈকত । ভাগাতোর তুলনামুলক কম জনাকীর্ণ এবং একটু ভিন্নধাচের সৈকত। এখানে দেখতে পাবেন সাদা বালি, সারি সারি নারিকেল গাছ এবং কালো লাভা পাথর । সৈকতটি ৫০০ বছর পুরানো পর্তুগিজদের দুর্গের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় ৫০০ বছরের পুরানো স্মৃতি এবং চাপোরা দুর্গের লাল প্রাচীরের একটি সুন্দর দৃশ্য প্রদান করে। ভাগাতোর সৈকতে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে সৈকত রাজ্যের রাজধানী পানাজি থেকে ২২ কিমি দূরে অবস্থিত যা পর্তুগিজদের দুর্গের নিকটে  যা উত্তর গোয়ার মাপুসা রোডের কাছাকাছি অবস্থিত । ভারকা সৈকত সৈকতে নির্জনে সময়কাটতে চাইলে যেতে পারেন গোয়ায় অতি জনপ্রিয় ভারকা সৈকতে। সাদা বালি আর পরিচ্ছন্নতার জন্য বিখ্যাত ভারকা সৈকত । এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর সমুদ্র সৈকত । ভারকা সৈকতে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে বেনালিম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরত্বে । এই সৈকত মৎস্যজীবীদের কাঠের নৌকার জন্য সুপরিচিত। মঙ্গেশি মন্দির আধুনিক এবং ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্থাপত্যের একটি সংমিশ্রণ, গোয়ার মঙ্গেশি মন্দির। মন্দিরটি উৎসর্গীকৃত করা হয়েছে শিবের অবতার, প্রভু মঙ্গুয়েশিকে । কিংবদন্তীরা বলেছেন যে, এখানে পূজিত শিব লিঙ্গটি প্রভু ব্রহ্মা নিজে পবিত্রীকৃত করেন। এই অধিষ্ঠাত্রী দেবতার মূর্তিটি প্রতি সোমবার শোভাযাত্রার দ্বারা বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কেনাকাটা সারা রাজ্যে প্রচুর সরকারি এম্পোরিয়া এবং ব্যাক্তিগত দোকান রয়েছে । কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত মাপুসার ফ্রাইডে মার্কেট এবং অঞ্জুনার ওয়েডনেসডে মার্কেট। সৈকতের পার্শ্ববর্তী স্টল গুলি শামুখ এবং পাথরের কারুশিল্প, শুকনো মাছ এবং মশলা কেনাকাটার জন্য মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এখানে আপনি পেতে পারেন ঝিনুকের খোলসের তৈরি পণ্য। বাঁশের কাজ করা পণ্য। কোথায় থাকবেন গোয়ায় প্রচুর হোটেল এবং রিসর্ট রয়েছে। নিজের বাজেট অনুযায়ী পছন্দসই হোটেল অথবা রিসর্ট বেছে নিতে পারবেন। হোটেল এবং রিসর্টগুলি পর্যটকদের প্রতিটি চাহিদা মেটানোর জন্য খুব ভালো ভাবে সুসজ্জিত ও সুপরিকল্পিত হলেও পর্যটকদের কাছে গোয়ার রিসর্টগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয়।  অগ্রিম হোটেল বুক না করলে এখানে হোটেল কক্ষ পাওয়া খুবই কষ্টকর। এখানে ভাল রেস্তোরাঁর কোন অভাব নেই ইচ্ছে করলে বিচের কাছা কাছি বাড়িতেও খোজ নিয়ে দেখতে পারেন পর্যটন মৌসুমে এই এলাকার অনেকেই নিজের বাড়িকে হোটেলের মত ভাড়া দেন। ভ্রমণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ যেমন আনন্দময় তেমনি ভ্রমণে অনেক ঝক্কি ঝামেলাও আছে।  বাসের টিকেট কাটা, বাস ভাড়া করা, হোটেল বুকিং, গাইডের ব্যবস্থা-এমনতর অনেক কাজ রয়েছে। এসব ঝক্কি ঝামেলা সামলানো যাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা ট্যুও অপারেটরের সাহায্য নিতে পারেন। কোনো ট্যুর অপারেটর আপনার ভ্রমণের দায়িত্ব নিলে কোনো কিছু নিয়েই আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনার ভ্রমণ হবে  বাংলাদেশের বিশ্বস্থ কয়েকটি ভ্রমণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- দি গাইড ট্যুরস লিমিটেড, ফোন: ৮৮ ০২ ৯৮৯৬৯৮৩; রিভার এন্ড গ্রীণ ট্যুরস, ফোন: ৮৮ ০২ ৮৮২৯৬৯২; টাইগার ট্যুরস লিমিটেড, ফোন: ৮৮ ০২ ৮৮৩৪৬৫৩। //এআর

স্বপ্নপুরীর দেশে একদিন

ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে দিনাজপুর হতে পারে প্রথম পছন্দ। পর‌্যটনসমৃদ্ধ এ জেলায় গেলে আপনি একসঙ্গে দেখতে পারবেন বহু কিছু। ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির, স্বপ্নপুরির মতো নয়াভিরাম বিভিন্ন স্পট, অলৌকিক রামসাগর দিঘী, রাজবাড়ী, রামসাগরসহ আরও কত কী।   প্রাচীন সাহিত্য ও সংস্কৃতির লীলাভূমি দিনাজপুরের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ জেলার প্রতিটি জনপদ যেন ইতিহাসের এক একটি বাঁক। বহু ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী ফরিদপুর। পর‌্যটকরা সেখানে গেলে এসব জানতে পারবেন। সবুজ গাছপালায় ঘেরা ফরিদপুরের সবুজ প্রকৃতি সবাইকে টানে। এই জেলার লিচু ও সুগন্ধী চাল বেশ বিখ্যাত। প্রকৃতির মত এখানকার মানুষগুলোও অতিথি পরায়ন। কান্তজিউ মন্দির কান্তনগর এলাকার কান্তজিউ মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইট দিয়ে তৈরি। এ মন্দিরে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট টেরাকোটা শিল্পের নির্দশন। পৌরানিক কাহিনীসমূহ পোড়ামাটির অলঙ্করণে দেয়ালের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৭২২ সালে দিনাজপুরের মহারাজ প্রাণনাথ এ মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে মহারাজের দত্তক ছেলে মহারাজ রামনাথ মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মন্দিরের শিখর থেকে আদি নয়টি শিখর ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মহারাজা গিরিজানাথ বাহাদুর ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয়টি চূড়া বাদে মন্দিরটির ব্যাপক পুনর্গঠন করেন। পিরামিড আকৃতির মন্দিরটি তিনটি ধাপে উপরে উঠে গেছে এবং তিন ধাপের কোণগুলির উপরে মোট নয়টি অলংকৃত শিখর বা রত্ন রয়েছে। যেকোনো দিক থেকেই পূজারিরা ভেতরের পবিত্র স্থানে রাখা দেবমূর্তিকে দেখতে মন্দিরের চারদিকে খোলা খিলান পথ রয়েছে।পাথরের ভিত্তির উপর দাঁড়ানো মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুটেরও বেশি। নিচতলার প্রার্থনা কক্ষের চারদিকে মন্দিরে মোট চারটি আয়তাকার বারান্দা রয়েছে। নিচতলার চার প্রকোষ্ঠের বাইরে মোট ২১টি খিলান দরজা আছে, আর দ্বিতীয় তলায় এ খিলান দরজার সংখ্যা ২৭টি,  তৃতীয় তলার মাত্র তিনটি প্রবেশ দরজা এবং তিনটি জানালা রয়েছে। যা উপরে উঠে গেছে। এঁকেবেঁকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উঠে গেছে ২‘-৩‘‘ প্রশস্ত সংর্কীণ সিঁড়ি। দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সুন্দরপুর ইউনিয়নে মন্দিরের পাশেই ঢেঁপা নদীর তীরে কান্তজিউ মন্দিরটি অবস্থিত। স্বপ্নপুরী স্বপ্নপুরীর প্রবেশমুখে স্থাপিত প্রস্তর নির্মিত সাদা ডানাবিশিষ্ট দুটি সুবিশাল পরী পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। সপ্নপুরীতে রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পশু-পাখির ভাষ্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং ইট-সিমেন্টে নির্মিত বাংলাদেশের এক সুবিশাল মানচিত্র। রয়েছে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, জীবন্ত পশুপাখীদের চিড়িয়াখানা, শিশুদের জন্য পার্ক, দোলনা, বায়োস্কোপসহ আরো রয়েছে সারিসারি সবুজ দেবদারু গাছের মনোলোভা সৌন্দর্য আর বিস্তীর্ণ ঝিলের তীরে ফুটন্ত গোলাপ বাগানের মাঝখানে স্থাপিত অপরূপ সুন্দর “নিশিপদ্ম”। আরও রয়েছে বিশাল দিঘিতে স্পিডবোট ও ময়ূরপঙ্খীডানাও। দুই ঘোড়া চালিত টমটম, স্বচ্ছ পানির ফোয়ারার কয়েকটি ফুল বাগান। স্বপ্নপুরী হচ্ছে পরিপূর্ণ একটি বিনোদনকেন্দ্র। একবার স্বপ্নপুরীতে গেলে সত্যিই আপনি স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে যাবেন। স্বপ্নপূরীর প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি বিশ টাকা। তবে পার্কিং ফি এর বাইরে। স্বপ্নপুরীর বাংলো ভাড়া নীলপরী তিনশ’ টাকা (প্রতি ডবল রুম), রজনীগন্ধা চারশ’ টাকা (প্রতি ডবল রুম), নিশি পদ্ম পনের‘ টাকা (তিন রুমসহ বাংলো), চাঁদনী পাচশত টাকা (প্রতি ডবল রুম), সন্ধ্যা তারা আকাশ থেকে তেরশ টাকা (প্রতি ডবল নন এসি ও এসি রুম)। ঢাকা থেকেও স্বপ্নপুরীর মোটেল বা বাংলো বুকিং করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন হোটেলের সফিনা, ১৫২ হাজী ওসমান গনি রোড, আলুবাজার ঢাকা। ফোন : ৯৫৫৪৬৩০-৯৫৬২১৩০। দিনাজপুর শহর থেকে ৫২ কিমি দক্ষিণে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে স্বপ্নপুরী অবস্থিত। বাসযোগে যাওয়া যেতে পারে অথবা রেলযোগে ফুলবাড়ী রেল স্টেশনে নেমে অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। ফুলবাড়ি উপজেলা শহর থেকে স্বপ্নপুরীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ি আফতাবগঞ্জহাট হয়ে সম্পূর্ণ পাকা রাস্তা দিয়ে এখানে পৌঁছানো যায়।  রাজবাড়ী ১৬০৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত রাজবাড়ীটি ছিল বৃহৎ দিনাজপুর জেলার ঐশ্বর্য্যের প্রতীক। ধীরে ধীরে রাজবাড়ী গড়ে ওঠেছিল তিলোত্তমা হিসেবে। এটি বর্তমানে বিলুপ্ত জমিদারী কীর্তির ধ্বংসাবশেষ মাত্র। রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ হলো-আয়নামহল, রাণী মহল, কুমার মহল, আটচালা ঘর, লক্ষ্মী ঘর, আতুর ঘর, রাণী পুকুর, চাঁপা তলার দিঘী, ঠাকুর বাড়ী, কালীয়া জিউ মন্দির। দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁওগামী মহাসড়কের চিরিরবন্দর সংযোগ সড়কের মোড় থেকে অটোরিকশা যোগে দিনাজপুর রাজবাড়ী যাওয়া যায়। রাম সাগর দিঘী কৃষকদের সেচ সুবিধা, প্রজাদের পানির কষ্ট দূরীকরণ এবং দূর্ভিক্ষপীড়িত প্রজাদের কাজের বিনিময়ে খাদ্যের সংস্থান হিসেবেই রাজা রামনাথের আমলে এ দিঘী খনন করা হয়। তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। পাড়ভূমিসহ দিঘির মোট আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ বর্গমিটার। জলভাগের দৈর্ঘ্য ১০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ৯ মিটার। সর্বোচ্চ পাড়ের উচ্চতা প্রায় ১৩.৫০মিটার। দিঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০,০০০টাকা এবং ১৫লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল। দিনাজপুর শহরের কেন্দ্র থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত দিনাজপুরের মহারাজদের অন্যতম কীর্তি রামসাগর দিঘী। দিনাজপুর সদর থেকে অটোরিক্সা যোগে রামসাগর দিঘি যায়া যায়। নয়াবাদ মসজিদ মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১.১৫ বিঘা জমির উপর। মসজিদের প্রবেশদ্বারের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত লিপি থেকে জানা যায় ১২০০ বাংলা সনে (১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আয়তাকার মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট । তিনটি অর্ধগোলাকৃতির গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। গম্বুজদ্বয় বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। মসজিদের চারকোণায় রয়েছে চারটি টাওয়ার। টাওয়ারগুলি অষ্টভুজাকৃতির। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২.৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৫ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য পৃর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান। মাঝের খিলানের উচ্চতা ১.৯৫ মিটার, প্রস্থ ১.১৫ মিটার। মসজিদের ভিতরে পশ্চিম দিকে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মাঝখানের মেহরাব দুটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের সমস্ত দেয়াল জুড়ে রয়েছে আয়তাকার বহু পোড়ামাটির ফলক। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক মসজিদটি সংস্কার করে সামনে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেছে। নয়াবাদ মসজিদটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামে । নয়াবাদ গ্রামটি জেলা সদর থেকে ২০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে এর অবস্থিত। লিচু দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের সেরা লিচু উৎপন্ন হয় দিনাজপুরে। এ জেলায় মাদ্রাজী, বোম্বাই, বেদানা ও চায়না-৩ ও অরো অনেক জাতের লিচু উৎপন্ন হয়। জেলায় বেশি লিচু উৎপাদন হয় -কসবা, সৈয়দপুর, মাসিমপুর,  মাহমুদপুর, নশিপুর, জযদেবপুরে। বিরল এলাকার- মাধববাটি, রসুর শাহ পুর ,রানী পুকুর , মংগলপুর, মাটিআন দিঘী, আজিমপুর, লক্ষীপুর, জগতপুর , রাজুরিয়ায় রয়েছে কয়েকশ’ লিচু বাগান। লিচুর হাট দেখতে চাইলে যেতে পারেন দিনাজপুর সদরের- কালিতলা ,মাসিমপুর, পুলহাট । বিরলের- মাধববাটি, চিরির বন্দরের- মাদারগঞ্জ হাট  এবং বীরগঞ্জের বীরগঞ্জহাট। এসব বাজার থেকেই সারাদেশে লিচু বিপনন হয়ে থাকে। নদী দিনাপুর গেলে আপনি নৌ ভ্রমণের স্বাদও নিতে পারবেন। দিনাজপুরের করতোয়া, আত্রাই, কাঁকড়া, ঢেপা,  পূনর্ভবা , গর্ভেশ্বরী, ছোট যমুনা,  ইছামতি, ভূল্লী, পাথরঘাটা ভেলামতিতে রয়েছে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা। ভ্রমণপিয়াসুরা দিনভর বেড়ানো শেষে বিকালে নৌভ্রমণে গিয়ে ক্লান্তি দূর করে থাকে। বিল দিনাজপুরে রয়েছে আমইর বিল, চেংগন বিল, বাজনিয়া বিল, ঝেড়ঝেরিয়া বিল, হাস বিল, কাঞ্চন বিল, লাল বিল, পয়সা বিলসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়। যেখানে পানকৌরি এসে ভিড় করে। মাছরাঙ্গার মাথা পানিতে চুবিয়ে গোসলের নয়াভিরাম দৃশ্য দেখা যায় এসব বিলে। কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে দিনাজপুর যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী বাসগুলো সাধারণত ছাড়ে গাবতলী, কল্যাণপুর ও উত্তরা থেকে। নাবিল পরিবহনের এসি বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা। হানিফ এন্টারপ্রাইজে যেতে চাইলে ফোন করতে পারেন ৮০১৩৭১৪, ৮০১৫৩৬৮, এসআর ট্রাভেলসের তথ্য জানতে ফোন করুন ৮০১৩৭৯৩, ৮০১৯৩১২এই নম্বরগুলিতে। আর ট্রেনে চরে যেতে চাইলে কমলাপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতজান এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। ট্রেন দুটি যথাক্রমে সকাল ১০ টায় এবং সন্ধ্যা ৭.৪০ দিনাজপুারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। //এআর  

‘রূপের রানী’ টাঙ্গুয়ার হাওড়

রিমঝিম বৃষ্টির ছন্দ বাজে। মাতাল হাওয়ায় মন উড়ে যায় ওই দুরে গগনে। এমনও দিনে মনটাকে বেধে রাখা যেনো অসম্ভব। তাইতো দুরের পথে হারিয়ে যেতে নেই মানা। এখনই সময় পানির সঙ্গে খেলা করার। প্রকৃতিতে বর্ষার মৌসুম চলছে। বর্ষা মৌসুমে ঘুরে আসতে পারেন কোনো একটি হাওড় থেকে। কারণ এ সময়ে হাওড় এলাকা স্বরূপে হাজির হয়। অনেক দিন যান্ত্রিক শহরের কোলাহলে ব্যস্ত থেকে আপনি হাপিয়ে উঠেছেন নিশ্চয়! যদি তাই হয়; মনটাকে একটু প্রশান্তি দিতে ঘুরে আসুন ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়’। অপরূপ নয়াভিরাম এক জলরাশি ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়’। যেন রূপের রানী। নীল আকাশের রাশি রাশি মেঘ বিশাল এই হাওরের জলে খেলা করে অবিরাম। দেখলে মনে হবে এ যেনো রাশি রাশি মেঘের পাহাড়। মেঘের দেশে অতিথির বেশে আজই বেড়িয়ে পড়ুন। চার দেয়ালে আটকে রাখা মনটি টাঙ্গুয়ার জলে শীতল হতে বাধ্য। বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেড়াতে গেলে ভিন্ন ধরণের স্বাদ পাবেন। শীতের দিনের তুলনায় বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গুয়া সম্পূর্ণ রূপ নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতির মাঝে। এ যেনো এক ভিন্ন জগৎ! টাঙ্গুয়া হাওড়ে যেতে ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে গেলে বিশেষ কোন সুবিধা পাবেন না। তার চেয়ে বরং বাসে করে সোজা চলে যাবেন ভাটির দেশ সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ পৌঁছানর পরে শহরের ঘাট থেকে একটা ইঞ্জিন বোট ভাড়া করতে হবে। সুনামগঞ্জের হাছন রাজা ঘাট থেকে ট্রলারে করে তাহিরপুর ঘাটে যেতে সময় লাগবে ৬ ঘন্টা। ভাড়া প্রতিদিনের জন্য কম-বেশী ৩ হাজার টাকা। ভাল দেখে নৌকা নিবেন। আশ-পাশের দৃশ্য দেখতে হলে ছই-এর উপর সারাদিন কাটাতে হবে। ছই-এর উপরটা টিন সীট দিয়ে মোড়ানো, সাইডে বসবার ব্যবস্থা আছে এমন নৌকা খুজে বের করবেন। দিনের বেলা টাঙ্গুয়ার এক রূপ, আর রাতে আরেক। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের প্রকৃত মজা নিতে হলে এই নৌকাতেই রাত্রি যাপন করতে হবে। সঙ্গে কয়েক জন থাকলে ভালো। সবাই মিলে হাওড়ের জলে রাত্রি যাপন করার মজাই আলাদ। তবে চাঁদনী রাতের দিন আরো মনোরম হয়ে ওঠে হাওড় এলাকা। এ যেনো রূপালী চাঁদের দেশ। চাঁদনী পসর রাইতে প্রিয়জনকে নিয়ে হাওড়ের মাঝে মাছের খেলা দেখতে দেখতে হারিয়ে যাবেন ভিন্ন জগতে। হাওড়ের জল, নৌকা, মেঘ আর চাঁদের রূপালী আলো যখন খেলা শুরু করবে ঠিক তখন মাতাল হাওয়া এসে আচড়ে পড়বে আপনার শরীরে। সবার সংমিশ্রণে এই একটি স্থানেই আপনি চমৎকার খেলা উপভোগ করতে পারবেন। ভাগ্যে থাকলে এর সাথে যদি যোগ হয় বৃষ্টি তবে তো আর কথাই নেই। আপনি পৃথিবীর মাঝে সব থেকে স্মরণীয় একটি দিন পেয়ে গেলেন। সুনামগঞ্জ থেকে সকাল সকাল নৌকা ছাড়া ভাল। সুরমা নদী দিয়ে যাত্রা শুরু হবে। তারপর এই নদী সেই নদী, এই খাল সেই খাল পাড়ি দিয়ে আপনাদের নৌকা চলবে টাঙ্গুয়ার হাওড় অভিমুখে। পথে বিশ্বম্বরপুর এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর পরবে। তাহিরপুর উপজেলা সদরে রাত্রে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেবেন। তাহিরপুরে রাত্রি যাপন করলে টাঙ্গুয়ার হাওড় দেখে সন্ধ্যায় আবার ফিরে আসতে হবে তাহিরপুরে। তাহিরপুরে এক কাপ চা খেয়ে সোজা চলে যান টাঙ্গুয়ার হাওড়। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে একটা সরকারী রেস্ট হাউজ আছে। তবে এটি কোন রেস্ট হাউজই নয়। কনক্রিটের পিলারের উপর টিনের ঘর। টাঙ্গুয়ার হাওড়ের মাছ পাহারা দেবার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসাররা থাকে ওখানে। তাই এ রেস্ট হাউজের চিন্তায় থাকলে ভুল করবেন। উত্তর দিকে মেঘালয় রাজ্যের খাড়া পাহাড় আর তিন দিকে থৈ থৈ পানি। মাঠ-ঘাট সহ চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। ভাটির দেশের প্রকৃত রূপ এটি। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা আর কিশোরগঞ্জ এই তিন জেলা জুড়ে বিস্তৃত সেই অদ্ভূত জলরাশি। এই জলরাশির ভিতরেই মেঘালয়ের পাদদেশে টাঙ্গুয়ার হাওড়। বর্ষায় আলাদা করে টাঙ্গুয়ার হাওড় বলে কিছু থাকেনা। সবকিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পৌঁছালেই দেখবেন গভীর কালচে পানি। অনকে দূর পর্যন্ত কোন গাছ-গাছালীর উপরাংশ পানির উপরে দেখা যাচ্ছেনা। তখনই বুঝবেন আপনি যথাস্থানে পৌঁছে গেছেন। হাওড়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রাম ‘বাগলী’। খাতা কলমে নাম ‘বীরেন্দ্রনগর’। ওখানে বিডিআর-এর একটা বিওপি রয়েছে। ছোট্ট একটা বাজার রয়েছে। বিদ্যুৎও আছে। বাগলী বিডিআর ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে এখানেই রাত্রী যাপন করা নিরাপদ। নিরাপত্তা সমস্যা নেই, তারপরও আপনি নিশ্চিত হতে এ সুযোগ নিতে পারেন। বাগলী বাজারে চা-এর দোকান থাকলেও ভাতের হোটেল নেই। বাজার থেকে ঝুড়ি ধরে হরেক রকমের মিশানো তাজা ছোট মাছ কিনে নিবেন। নৌকার মাঝিরা সাধারণত চমৎকার রান্না করেন। লাল ঝুটিওয়ালা দেশী মোরগও মিলবে প্রচুর। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে আসবেন আর মাছের স্বাদ নিবেন না এটা কি হয়! এখানে বড় মাছও আছে, কিন্তু বর্ষায় প্রজনন মৌসুমে এই মাছ মারা নিষেধ। তবে স্থানীয় সুগন্ধি ‘বাঁশমতি’ চালের ভাত খেতে ভুলবেন না কিন্তু। এখানে দিনের বেলা পাখিদের মেলাও উপভোগ করতে পারবেন। বর্ষায় দেশী পাখি, যেমন : বক, পানকৌড়ী আর মাছরাঙা আপনাকে মাঝে মাঝে অভিনন্দন জানাবে। হাওড়ের মাঝে গাছের মধ্যে পাবেন তাল গাছ। ফেরার পথে আবার সুনামগঞ্জ হয়ে না-ই বা ফিরলেন। টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে নৌকা যোগে চলে যাবেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা বা মোহনগঞ্জ। নতুন একটা রুট ঘুরে আসা হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে নেত্রকানা, নেত্রকানা থেকে ডাইরেক্ট বাসে সোজা ঢাকা। সময়ও লাগবে কম। কলমাকান্দা থেকে নেত্রকানা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘন্টা। সুনামগঞ্জ থেকে নৌকা ভাড়া করবার সময় মাঝিকে এই রুটে ফেরার বিষয়টি আগেই জানিয়ে রাখবেন। আর্মি বা বিডিআর-এর কোন রেফারেন্স থাকলে বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) বিডিআর বিওপি-তে আতিথেয়তা পেয়ে যেতে পারেন। তাহলে আর কোন চিন্তা থাকবে না। থাকার বিছানা-পত্র আর রান্নার ঝামেলা মিটে যাবে। তবে আপনাকে থাকতে হবে আপনাদের নৌকাতেই। টাঙ্গুয়ার হাওড় ও আশে পাশে গ্রামীণ ফোনের ভাল নেটওয়ার্ক পাবেন। অনেক দূরে গেলেও কাছের মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ভয় নেই। শুধু বাগলী বাজারে চা খেতে খেতে মোবাইলটা চার্জ করে নিলেই হবে। যাবার সময় সুনামগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় টুকি-টাকি কিনে নেবেন। //এআর

পল্লীকবির স্মৃতিঘেরা ফরিদপুরে একদিন

ফরিদপুর বহু কারণেই বিখ্যাত। এই জেলায় রয়েছে বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দৃষ্টিনন্দন স্থান। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের স্মৃতিবিজরিত ফরিদপুর বর্তমানে বহু ভ্রমণপিপাসুর গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সোজন বাধিয়ার ঘাট, জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম, ঐতিহাসিক সাতৈর মসজিদ, মথুরাপুর দেউল, পাতরাইল মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরসহ নান্দনিক সব স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান দেখতে চাইলে বেরিয়ে পড়ুন আজ-ই। ফরিদপুর সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীম উদদীনের স্মৃতিবিজরিত বাড়ি। পুরনো এই  বাড়িটিতে ৪টি টিনের চার চালা ঘর ও কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে। বাড়ির চত্ত্বরে প্রদর্শন করা আছে কবির বিভিন্ন লেখা। পূর্ব ও পশ্চিমে পোর্শিদের বসতবাড়ী এবং দক্ষিণে ছোট একটি পুকুর রয়েছে। বাড়ীর উত্তরে কবির কবরস্থান। কবরস্থানের পাশ্বেই পাকা রাস্তা ও কুমার নদী আছে। কবি  ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ জসীম উদ্দিনের মৃত্যু। বাড়িটির ডালিম গাছের নিচে শায়িত আছেন কবি। কবরস্থানে আরও শায়িত আছেন- কবির  বাবা আনছার উদ্দিন মোল্লা, মা আমেনা খাতুন, কবিপত্নী- বেগম মমতাজ জসীম উদ্দিন, ছেলে- কামাল আনোয়ার (হাসু),ছেলের স্ত্রী- জরীনা, কবির বড় ভাই মফিজ উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ। ফরিদপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বে পল্লীকবি জসীম উদদীনের বাড়ীতে রিক্সা/ অটোরিক্সা এবং মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায়। রিক্সা ভাড়া লাগবে ৫০টাকা। সেখান থেকে সোজন বাধিয়ার ঘাটে রিক্সায় যেতে ভাড়া লাগবে ২০ টাকা। সোজন বাধিয়ার ঘাটে গিয়ে দেখতে পাবেন নির্মল প্রকৃতি। ইট দিয়ে বাধানো এ ঘাটে পর‌্যটকদের ভিড় দেখা যায়।  নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট। সেখানকার লাইব্রেরীতে হাইড্রলিক্স ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দেশী ও বিদেশী ১৩১৩টি বই, ২৫৭৫টি জার্নাল, ৫৮৩৫টি রিপোর্ট, প্রসিডিংসসহ ৩৯১১টি প্রকাশনা আছে। ফরিদপুর নতুন বাসষ্ট্যান্ড হতে ১ কিলোমিটার দূরত্বে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউটি অবস্থিত। রিক্সা / অটোরিক্সা / মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায় সেখানে। জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম মহাবতারী শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব ২৮শে এপ্রিল ১৮৭১ সালে। মানবলীলা সংবরণ করেন ১৭ সেন্টেম্বর ১৯২১। তিনি শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা আষাঢ় ১৩০৬ রথযাত্রা উৎসবে। শ্রীরাম শ্রীঅঙ্গন মহানাম প্রচারের কেন্দ্রে পরিনণত হয়। তাঁর বিদ্যাজীবনের প্রথম আঠারো বছর বিদ্যাভাব, দশ বছর কর্মজীবন, পরবর্তী ষোল বৎসর আট মাস গম্ভীরালীলা নিমগ্ন থাকেন। মানবলীলা সংবরণের পরবর্তী মাসে বাংলা ১৩২৮ সনের ২ কার্তিক থেকে শ্রীধাম অঙ্গনে দিবস-রজনী অখন্ড মহানাম কীর্তন অব্যাহত রয়েছে।  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ -হরিকথা, চন্দ্রপাত, ত্রিকাল ইত্যাদি। ফরিদপুর পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন, ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম অবস্থিত। রিক্সা / অটোরিক্সা / মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায় সেখানে। সাতৈর মসজিদ মসজিদটি সম্পর্কে বহু গল্প এলাকায় প্রচলিত আছে।  যেমন, এক রাত্রে মাটি ফেটে গজিয়ে ওঠে মসজিদ খানা, মসজিদের ভিতরের খুঁটি হাসি-কান্না করে, যা আশা করা যায় তাই পাওয়া যায়, মসজিদের ইট বাড়িতে রাখলে উঁই পোকা লাগে না, যে কোনো ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় মসজিদের ধুলি গায়ে মাখলে, নিঃসন্তানদের সন্তান হয় মসজিদে এসে মানত করলে ইত্যাদি।  এ কথাগুলো বিশ্বাস করেই প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে বহু লোক এখানে আসেন। ফরিদপুর থেকে সড়কপথে মাঝাকান্দি হয়ে গোপালগঞ্জ মহাসড়কের সাতৈর নামক স্থানে মসজিদটি অবস্থিত। মথুরাপুর দেউল কারুকাজ খচিত প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট  দেউলটির গায়ে টেরাকোটার  দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক কাজ এবং শিলা খন্ডের ছাপচিত্র রয়েছে। রয়েছে মাটির ফলকের তৈরী অসংখ্য ছোট ছোট মুর্তি যা দশীনার্থীদের কাছে বেশ সমাদৃত। ফরিদপুর থেকে সড়ক পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী বাজার থেকে মধুখালী-রাজবাড়ী ফিডার সড়কের দেড় কিলোমিটার উত্তরে দেউলটি অবস্থান। পাতরাইল মসজিদ মসজিদের আঙ্গিনায় আছেন মস্তান দরবেশ নাজিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। মাজারের দক্ষিণে ফকির ছলিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। জনশ্রুতি আছে যে, প্রজাদের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনকল্পে ও ইবাদতের জন্য মসজিদের পার্শ্বে একটি দীঘি খনন করা হয়। পাতরাইল দীঘিরপাড় আউলিয়া মসজিদ নামেও সুপরিচিত। ফরিদপুর থেকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা গেলচত্ত্বর অঃতপর ভাঙ্গা-মাওয়া বিশ্বরোডে পূর্বদিকে পুলিয়া থেকে পাতরাইল মসজিদ যাওয়া যায়। বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ এর অসাধারণ নৈপূন্য ও আত্মত্যাগের স্মৃতি রক্ষার্থে ২০০৮ সালে স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামাতপুর গ্রামে এটি অবস্থিত। জাদুঘর ও পাঠাগারটিতে নানা ধরনের বইয়ের মধ্যে প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা আলমারি। প্রতিটি আলমারির রয়েছে বিষয় ভিত্তিক নাম। আলমারিতে রয়েছে রয়েছে জীবনী, উপন্যাস, ধর্মীয়,বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, রচনাবলি, মুক্তিযুদ্ধ, সাধারণ জ্ঞান, শিশুসাহিত্য, কবিতাসমগ্রসহ নানা ধরনের বই। জাদুঘরে রউফের ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রীও রয়েছে। ঢাকার গাবতলী থেকে খুলনা রুটে চলাচলকারী যেকোনো পরিবহনের চেয়ারকোচে ভাড়া ২৫০ টাকা এবং সাধারণ ভাড়া ১৫০ টাকা। কামারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশাভ্যানে জাদুঘর পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। কোথায় থাকবেন ফরিদপুর শহড়ের ফায়ার সার্ভিস অফিসের পাশে থাকার জন্য ভাল মানের অনেক হোটেল রয়েছে। এসি-ননএসির রুম রয়েছে। ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। //এআর  

ইতিহাসের খোঁজে মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ি

ভ্রমণের কথা মাথায় এলেই চোখে ভেসে উঠে ঝর্ণা, সাগর, পাহাড়, বিশাল লেক, চা বাগান, হাওড় কিংবা গহীন অরণ্যের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এ চিত্তাকর্ষক দৃশ্যের সঙ্গে যদি যোগ হয় ঐতিহাসিক কোনো ব্যক্তির নাম, তার শৈশব কাটানো পথঘাট, বসতবাড়ি ও তার কর্ম জীবনের নিদর্শন, তবে তো কথাই নেই। ভ্রমনটা হয়ে উঠে আরও চিত্তাকর্ষক। যা মনকে করে প্রফুল্ল আর জ্ঞানের জগতকে করে প্রসারিত। মনের খোরাক আর জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে তাই ভ্রমণটা তাই হতে পারে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি গ্রাম। যে গ্রামের নাম লেখা হয়েছে বইয়ের পাতায়। যে স্থানে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মাইকেলের সাগরদাঁড়ির কথা মনে করতেই প্রথমে আসে কপোতাক্ষ নদ। কারণ সরাসরি বঙ্গোপসাগরে সংযোগ থাকা এ নদের কূলেই কবির বাড়ি। বাবার সঙ্গে রাগ করে কবি দেশ ছাড়ার পর পুনরায় যে নদের ঘাটে এসে নৌকা ভিড়িয়েছিলেন, সেই নদ এই কপোতাক্ষ। নদের সেই স্মৃতিবিজড়িত ঘাট এখনো আছে। তবে কবির স্মৃতিবিজড়িত নদের সেই প্রবাহ আর নেই। নদের অধিকাংশই এখন মাছ চাষ প্রকল্প। দখলদারদের গ্রাসে নদ তার ঐতিহ্য হারালেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগে সংরক্ষিত আছে কবির বাড়ি। মধুসূদনকে ঘিরে এখানে নির্মিত হয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, সাগদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র, মধুসূদন মিউজিয়াম। এছাড়া কপোতাক্ষের পাশে কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছ ও বিদায় ঘাট পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে নিরন্তর। কথিত আছে ১৮৬৮ সালে কবি যখন সপরিবারে সাগরদাঁড়ি এসেছিলেন তখন ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে জ্ঞাতিরা তাকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি। তিনি এ কাঠ বাদাম  গাছের নিচে তাঁবু খাটিয়ে ১৪ দিন অবস্থান করেন, পরে বিফল মনে কপোতাক্ষের তীর ধরে হেটে বিদায় ঘাট হতে কলকাতার উদ্দেশে বজরায় উঠেছিলেন। ১৯৬৫ সালে ২৬ অক্টোবর তদানীন্তন সরকার বাড়িটি পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। মধুসূদনের পরিবারের ব্যবহার্য কিছু আসবাব ও অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে এ বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মধুসূদন যাদুঘর। স্থাপিত হয়েছে লাইব্রেরী। আগামীতে একটি মাইকেল গবেষণাগারও নির্মানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। তবে গবেষণাগার নির্মাণের কাজটি এখনও সরকারের দাপ্তরিক পর্যায়ে আছে বলে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে জানান সাগরদাঁড়ির তত্বাবধায়ক মহিদুল ইসলাম। মহিদুল ইসলাম বলেন, মাইকেলের সাগরদাঁড়ি ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায়। এখানে বছরের সবসময়ই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা আসেন। তাদের থাকার জন্য এখানে রয়েছে একটি মোটেল। পর্যটকদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখানে পর্যটক নির্বিঘ্নে আসার জন্য রাস্তা-ঘাট আরও উন্নত করা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিলে এখানে পর্যটক আরও বেড়ে যাবে। তাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। কারণ এটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদফতরের অধীন। তিনি জানান, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িতে প্রতিবছর ১৫-২০ হাজার পর্যটক আসেন। এতে বার্ষিক ৬-৭ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়। তবে এটি আশানুরূপ নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ জনবল সংকটে আশানুরূপ দর্শনার্থী হচ্ছে না। তিনি জানান, এখানে একজন কাস্টডিয়ান, দুজন সাইট অ্যাটেন্ডেন্ট, ১ জন প্রহরী, ১ জন নৈশ প্রহরী, ৬ জন সাধারণ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। স্বপ্নের গ্রাম যশোর শহর থেকে কেশবপুর হয়ে সাগরদাঁড়ি যাওয়ার পিচঢালা সরু পথ, দুই পাশে খেজুরগাছের সারি, গাছের ফাঁক দিয়ে ডানে-বামে তাকালে দেখা যাবে খোলা মাঠ। যা মৌসুমের শুরুতে প্রস্তুত করা হচ্ছে আবাদের জন্য। অথবা মৌসুমের শেষ পর্যায়ে চলছে ফসল কাটার ধূম। শীত মৌসুমে দেখা যাবে সরষে ফুলে মৌমাছিদের আনাগোনা। তার মাঝে হঠাৎ চোখে পড়তে পারে দূরের কোনো বড় আইল দিয়ে দুষ্টু ছেলেদের সাইকেল রেস। অনাবিল এই প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে কখন কবির বাড়ি গিয়ে পৌঁছবেন সেটা বুঝে উঠতেও পারবেন না। সাগরদাঁড়ি গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারের উঠোনে দাঁড়িয়ে যখন ভাববেন, এখানেই ১৮২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক। তখনই মনে বইতে থাকবে আনন্দের হিল্লোড়। মুহূর্তেই শরীরে সৃষ্টি হবে এক ধরণের শিহরণ।কারণ এই জমিদারবাড়িতে কাটে কবি মধুসূদনের শৈশব। বর্তমানে বাড়িটির চার পাশে রয়েছে অসংখ্য আম-কাঁঠাল গাছসহ নানাবিধ বনোজ বৃক্ষ। বৃক্ষের আবরণ ভেদ করে সূর্যের আলো এখানে নামতে পারে না। একান্ত নিরিবিলি ছায়াময় এ পরিবেশে হরেক রকমের পাখির কলতানে মন কখন যে হারিয়ে যাবে বুঝে ওটাও কঠিন হতে পারে। এছাড়া শানবাঁধা পুকুরের পাড় ঘেষে বিভিন্ন গুল্ম ও পাতাবাহারী ফুলের দৃশ্য বিমোহিত করতে পারে পর্যটকদের। কবির কাচারী ঘর ও এর আশপাশের পাতাবাহারী ফুল গাছের সমাহার পরিবেশকে করেছে দৃষ্টিনন্দন। যেখানে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই কাটতে পারে দারুণ সময়। ঘুরে ঘুরে দেখা যাবে কবির দাঁড়িয়ে থাকা ইতিহাসের সাক্ষী স্মৃতির চিহ্নগুলো। তবে প্রতিবছর জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে যে মধুমেলা অয়োজন করা হয়। সে মেলা উপলক্ষ্যে সাগরদাঁড়িতে লোকসমাগম হয় অনেক বেশি। দর্শনার্থীর ভিড়ে কবির স্মৃতিবিজড়িত সব এলাকা ঘুরে দেখা সব সময় সম্ভব নাও হয়ে উঠতে পারে। তখন ভ্রমণটাও অসম্পূর্ণ বা অতৃপ্ত হতে পারে। তাই একটু বেশি ঘুরতে বা দেখতে ভ্রমণটা অর্থপূর্ণ করতে মেলা ছাড়া বছরের অন্য সময়ে ভ্রমনটা হতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। জমিদারবাড়ি ও যাদুঘর জমিদারবাড়ির সামনে রয়েছে কবি মধুসূদন দত্তের দু’টি আবক্ষ মূর্তি। এই বাড়ির ভেতর খোলা হয়েছে জাদুঘর। সেখানে মধুসূদনের পরিবারের ব্যবহৃত খাট, পালঙ্ক, আলনা গচ্ছিত করে রাখা হয়েছে। বাড়িটির চার পাশ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাড়ির পশ্চিম পাশে বিশাল আকৃতির পুকুর। পুকুরের যে ঘাটে বসে কবি মধুসূদন স্নান করতেন সেই পাকা ঘাটটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে। কবির বাড়ি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে রয়েছে। পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে কবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়িকে মধুপল্লী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে যাওয়ার পর রাজবাড়িটি পুনঃসংস্কার করা হয়। কবিকে স্মরণ করতে তার জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ৭ দিনব্যাপী বসে মধূমেলা। কাঠবাদাম গাছ জমিদার বাড়ির ভেতরেই রয়েছে শানবাঁধা পুকুর। পুকুরের দক্ষিণ পাশে রয়েছে কবির স্মৃতিবিজড়িত কাঠবাদাম গাছ। কবি ছোটবেলায় এই গাছের গোড়ায় বসে কবিতা লিখতেন। তবে কাঠবাদামগাছটি এখন মৃতপ্রায়। যত্নের কিছুটা অভাব আছে বলে মনে হলো। দর্শনার্থী ফুয়াদ আব্দুল্লাহ বলেন, শুধু কাঁঠবাদাম গাছ নয়, কয়েকটি আমগাছও মরে যাওয়ার অবস্থা। তিনি বলেন, কাঠবাদাম গাছের গোড়ার ইটের গাঁথুনি খুলে বন বিভাগ অথবা কৃষি অধিদফতরের আওতায় এনে গাছের পরিচর্যা করা হলে মধুস্মৃতি জড়িত গাছটাকে আরও কয়েক বছর বাঁচিয়ে রাখা যেত। কবির স্মৃতিবিজড়িত বিদায় ঘাট ১৮৩০ সালে মধুসূদন সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতা খিদিরপুর যান। তারপর দীর্ঘ পথচলা। কিন্তু ভোলেননি তার জন্মস্থানের কথা, কপোতাক্ষ নদের কথা। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ১৮৬২ সালে কবি স্ত্রী-ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নদী পথে বেড়াতে আসেন সাগরদাঁড়িতে। কিন্তু মায়ের দেখা পাননি। দাম্ভিক পিতার ধর্ম ও কুসংস্কার নাস্তিক ছেলেকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। তখন তিনি চলে যান মামার বাড়ি পাইকগাছার কাঠিপাড়া গ্রামে। মামা বংশধর ঘোষের বাড়ি তিনি আপ্যায়ন পান। সেখান থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য কপোতাক্ষ নদের পাড়ে তাঁবুতে কয়েক দিন অপেক্ষা করে আবার কলকাতায় চলে যান। এরপর তিনি আর দেশে ফেরেননি। যে ঘাট থেকে তিনি এ শেষ বিদায় নিয়েছেন তা আজও ইতিহাসে বিদায় ঘাট নামে পরিচিত। কবির এই স্মৃতিবিজড়িত বিদায় ঘাট সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ত্রিগম্বুজ জামে মসজিদ সাগরদাঁড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার উত্তর দিকে শেখপুরা গ্রামে অবস্থিত ত্রিগম্বুজ জামে মসজিদ। মসজিদটি মুঘল আমলে নির্মিত। এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম ফার্সি পণ্ডিত খন্দকার মখমল আহম্মেদের কাছে মধুসূদন শৈশবে বাংলা ও ফার্সি শিক্ষালাভ করেন। এই মসজিদ সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় সংস্কার করা হয়। মসজিদটি দেখলেই কবির শৈশবস্মৃতি মনে পড়ে যায়। কীভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যাওয়া যায় যশোর। ঢাকার গাবতলী,কল্যাণপুর ও কলাবাগান থেকে গ্রিনলাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহনের এসি-ননএসি বাস যশোর যায়। ভাড়া ৭০০ থেকে ১২০০টাকা। ঢাকা কমলাপুর থেকে সপ্তাহে শনিবার ছাড়া রোজ ভোর ৬টা ২০ মিনিটে থেকে আন্ত:নগর সুন্দরবন ট্রেন এক্সপ্রেস এবং সোমবার ছাড়া রোজ সন্ধ্যা ৭টায় আন্ত:নগর ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া শোভন ৩৫০টাকা, শোভন চেয়ার ৪২০টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ৫৬০টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৮৪০টাকা।স্নিগ্ধা শ্রেণী (এসি চেয়ার)৭০০টাকা, এসি বার্থ ১২৬০টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স ও নভোএয়ারের বিমান নিয়মিত যশোর চলাচল করে। যশোর বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে যেতে হবে কেশবপুর। ভাড়া ৩৫ টাকা। সেখান থেকে ব্যাটারী চালিত রিক্সায় যেতে হবে সাগরদাঁড়ি। ভাড়া ৭০ থেকে ১০০টাকা। সময়সূচী এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর-প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং অক্টোবর থেকে মার্চ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে মধুপল্লী। শুক্রবার সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিরতি। মধূপল্লীর সাপ্তাহিক ছুটি রোববার। এছাড়া অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনও বন্ধ থাকে। কোথায় থাকবেন সাগরদাঁড়িতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল আছে। ভাড়া ৬০০ থেকে ১২০০টাকা। এছাড়া একদিনেই ভ্রমণ শেষ করতে পারলে ৪৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসা যেতে পারে যশোর জেলা শহরে। আর এ শহরেই আছে ছোট-বড় অনেক আবাসিক হোটেল। যেখানে রাতযাপনটা হতে পারে আরামদায়ক।  টিকেট মূল্য মধুপল্লীতে প্রবেশমূল্য দেশী পর্যটক ১০টাকা এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য ১০০টাকা। এছাড়া পার্কিংয়ের জন্য বাস ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস ও জ্বীপ ২০ টাকা, মোটরসাইকেল ১০টাকা। দরকার সংস্কার সাগরদাঁড়ির প্রহরীর দায়িত্বে থাকা হারুন অর রশিদ বলেন, শীতের সময় লোকজন বেশি আসে। অন্য সময় লোক খুব কম আসে। লোকজন এসে হতাশা প্রকাশ করেন। স্থাপনাগুলো সংস্কার করলে আরও ভাল হয়। মিউজিয়াম অ্যাটেন্ডেন্ট নাজমা আক্তার বলেন, মিউজিয়ামের জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটা আরও আধুনিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে ভাল হয়। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রাচীন ভবনগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া জনবল বৃদ্ধি করা দরকার। কয়েক বছর ধরে সাগরদাঁড়িতে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। কিন্তু প্রাচীন স্থাপনা ও নিদর্শনের ইতিহাস ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কোন প্রচেষ্টা নেই। বছরের একবার মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন ঘিরে থাকে যত আয়োজন। এরপর সারাবছর আর মনে থাকে না। ফলে মধুসূদনের সাগরদাঁড়ি সম্পর্কে মানুষের কাছে তেমন কোনো বার্তা যাচ্ছে না। দত্তবাড়ির ইতিহাস তুলে ধরার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। শান্তি নিকেতনের আদলে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানতে চাইলে সাগরদাঁড়িতে ঘুরতে আসা পার্শবর্তী গ্রামের সরকারি চাকরিজীবী আরিফা জামান বলেন, মাইকেল মধুসূদনের জন্ম সাগরদাঁড়িতে। কিন্তু জীবনের বেশিরভাগ সময়ে কেটেছে ভারত ও ফ্রান্সে। শান্তি নিকেতনের আদলে সাগরদাঁড়িতে মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তাকে তুলে ধরা সম্ভব। এতে দেশ বিদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে সাগরদাঁড়ি। এজন্য আমারা সাগরদাঁড়িতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাই। সাগরদাঁড়ির তত্বাবধায়ক মহিদুল ইসলাম বলেন, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মাইকেল মধুসূদনকে আমরা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারি। সংস্কৃতি চর্চার অংশ হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের যাত্রাপালা এখনও শীর্ষে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষণ করছে।প্রাচীন স্থাপত্য ও নিদর্শনগুলো ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে।এটি সংস্কার ও নান্দনিক করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমএম দত্তবাড়ির প্রাচীন ভবন, কাচারী বাড়ি, বসতবাড়ি সংস্কার ও সংরক্ষণ এবং প্রাচীর নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্প পাশ হলে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হবে দত্তবাড়ি। #এআর

দেখে আসুন পঞ্চগড়ের সৌন্দর্য

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে প্রাচীন জনপদ পঞ্চগড় ও সংলগ্ন এলাকায়। ইতিহাস সমৃদ্ধ এই জনপদটিতে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার বহু মূল্যবান সম্পদ। অবসরে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে। এত সুন্দর জায়গা বাংলাদেশে খুব কমই আছে। একটি শহরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে উপাদান প্রয়োজন তার সবই পঞ্চগড় জেলায়  বিদ্যমান। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পঞ্চগড় হতে পারে এক অসাধারণ জায়গা। পঞ্চগড়ে ঢোকার সাথে সাথে চোখ জুড়িয়ে যাবে ফসলের মাঠ দেখে। পঞ্চগড় থেকে হেমন্ত ও শীতকালে পর্যক্ষেণ করা যায় কাঞ্চনজংঘার অপরূপ দৃশ্য, রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম, সমতল ভূমিতে চা বাগান, বার আউলিয়ার মাজার শরীফ, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, মহারাজার দিঘী , ভিতরগড় দুর্গনগরী,  বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট,  ভিতরগড়, মিরগড়, এশিয়ান হাইওয়ে, গোলকধাম মন্দির, তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো, সেখান থেকে দেখে আসুন হিমালয় আর এভারেস্ট। ঢাকা থেকে হানিফ কিংবা নাবিল পরিবহনে যেতে পারেন পঞ্চগড়। ভাড়া পড়বে ৭ থেকে ৮ টাকা। রয়েছে গ্রীন লাইন, আগমনী, টি-আর ট্র্যাভেলসের এসিবাস। ভাড়া পড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এই বাসগুলো যায় রংপুর পর্যন্ত। রংপুর থেকে পঞ্চগড়ে যেতে হবে আলাদা পরিবহনে । বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর জন্য পঞ্চগড় শহড়ের কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন অথবা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কার, মাইক্রো ভাড়া করতে পারেন। সারা দিনের জন্য রিজার্ভ কারের ভাড়া পড়বে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।  কোথায় থাকবেন পঞ্চগড় সার্কিট হাউজ, ডিসি কটেজ, পঞ্চগড়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। রয়েছে চিনিকল রেস্ট হাউজ, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা ডাকবাংলো, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্ণার, দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্ম গেস্ট হাউজ, বোদা ডাকবাংলো, রেশম প্রকল্প রেস্ট হাউজ ইত্যাদি। আবাসিক হোটেল মৌচাক আবাসিক হোটেল,হোটেল হিলটন, সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, ইসলাম আবাসিক হোটেল, হোটেল রাজনগর আবাসিক, হোটেল প্রিতম আবাসিক, হোটেল অভিনন্দন,  হোটেল আসফি, রোকসানা বোর্ডিং ইত্যাদি। বার আউলিয়া মাজার শরীফ বার আউলিয়া মাজার শরীফ পঞ্চগড় উপজেলা সদর হতে ৯ কি.মি. উত্তর-পূর্বে মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ভূমিতে অবস্থিত। বার জন ওলী খাজা বাবার নির্দেশে চট্টগ্রামসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তুলে ইসলাম প্রচার শুরু করেন, পরে স্থল পথে রওনা হয়ে ইসলাম প্রচার করতে করতে উত্তরবঙ্গের শেষ প্রান্ত এসে পৌঁছান এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়ায় আস্তানা গড়ে তুলে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। আটোয়ারীর মাটিকে পুণ্য ভূমিতে পরিণত করে সময়ের বিবর্তনে ওলীদের এখানেই সমাহিত করা হয়। গড়ে ওঠে বার আউলিয়া মাজার শরীফ। ঢাকা থেকে বাসযোগে আটোয়ারী উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড। আটোয়ারী থেকে বাসযোগে মির্জাপুর ৬ কিলোমিটার। মির্জাপুর হতে রিক্সা/ভ্যানযোগে ৩ কিলোমিটার দুরত্বে বার আউলিয়া মাজার শরীফ। যোগাযোগঃ  টেলিফোনঃ০৫৬৫২-৫৬০০২ ই-মেইল- [email protected]opa.gov.bd web-  http://atwari.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় মির্জাপুর শাহী মসজিদ আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে মির্জাপুর শাহী মসজিদটি অবস্থিত। ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয় মোঘল সম্রা্ট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। মসজিদটির দেওয়ালে খোদাই করা রয়েছে টেরাকোটা ফুল এবং লতাপাতার নক্সা । মসজিদের সন্মুখভাগে আয়তাকার টেরাকোটার নক্সাসমুহের  একটির সাথে অপরটির মিল নেই, প্রত্যেকটি পৃথক পৃথক। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট এবং এক সারিতে ০৩ (তিন) টি গম্বুজ আছে। মসজিদের নির্মাণ শৈলীর নিপুনতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য  দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। ঢাকা থেকে বাসযোগে আটোয়ারী উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড। আটোয়ারী থেকে বাসযোগে মির্জাপুরের দুরত্ব ৬ কিলোমিটার। মির্জাপুর হতে  রিক্সা/ভ্যানযোগে ১কিলোমিটার দুরত্বে মির্জাপুর শাহী মসজিদ। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ০৫৬৫২-৫৬০০২, ই-মেইল- [email protected] web-  http://atwari.panchagarh.gov.bd উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় মহারাজার দিঘী মহারাজার দিঘী পঞ্চগড় শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত। পাড়সহ এর আয়তন প্রায় ৮০০ × ৪০০ গজ। স্থানীয় অধিবাসীদের বিশ্বাস পানির গভীরতা প্রায় ৪০ শ ফুট। দিঘীতে রয়েছে মোট ১০টি ঘাট। বিশাল দিঘীর চারপাশে রয়েছে অনেক গাছগাছালির সবুজের কারুকার্য, স্নিগ্ধ সমীরণ, সৌম্য শান্ত পরিবেশ যা এখনো সবার কাছে বিরল মনে হয়। পঞ্চগড় শহর থেকে বাস/রিক্সা/ভ্যানযেগে যেতে পারেন দুরত্ব প্রায়  ১৫ কিলোমিটার । রকস্ মিউজিয়াম   পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্ত্বরে অবস্থিত রকস্ মিউজিয়ামটি । মিউজিয়ামে পঞ্চগড় জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রিক্সাযোগে রকস্ মিউজিয়ামটি অবস্থিত যাওয়া যায়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ভিতরগড় দুর্গনগরী  পঞ্চগড় উপজেলা সদর দপ্তর হতে প্রায় ১৫ (পনের) কিলোমিটার দূরত্বে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন যুগের একটি বিরাত কীর্তি। গড় ও নগরীর অবস্থান প্রায় ১২ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে। ভিতরগড় দুর্গে একটি বড় দিঘী ও কয়েকটি ছোট ছোট দীঘি আছে এবং এর ভিতরে মন্দির, প্রসাদ ও ইমারতের এবং বাইরে পরিখা ও প্রাচীর এখনো দেখা যায়। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হতে তেঁতুলিয়াগামী বাসযোগে বোর্ড অফিস, বোর্ড অফিস থেকে রিক্সা/ভ্যান যোগে  ভিতরগড় দুর্গনগরীর দূরত্ব ০৫ কিলোমিটার। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট বাংলাদেশের উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া হিমালয়ের কোলঘেঁষে অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর যার মাধ্যমে তিনটি দেশের সাথে সুদৃঢ় যোগাযোগ গড়ে উঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী পরিবহনে পঞ্চগড়, পঞ্চগড় থেকে শহর থেকে ৫৫ কি.মি দূরে বাংলাবান্ধা। পঞ্চগড় শহর থেকে লোকাল বাস, প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস যোগে বাংলাবান্ধা  যাওয়া যায়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৫৫-৭৫০০১ ই-মেইল- [email protected] web-    http://tetulia.panchagarh.gov.bd উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় তেতুলিয়া, পঞ্চগড়। ভিতরগড়     পঞ্চগড় শহর থেকে ১০ মাইল উত্তরে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এই গড়। আয়তনের দিক থেকে ভিতরগড় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গড়। প্রায় ১২ বর্গমাইল স্থান জুড়ে ভিতরগড়ের অবস্থান।  ভিতরগড় দূর্গ নির্মাণের সঠিক কাল নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিতরগড় আর ভিতরগড় দূর্গ একই সময়ে নির্মিত হয়নি। দূর্গের প্রাথমিক কাঠামোটি পৃথীরাজ কর্তৃক আনুমানিক ৬ষ্ঠ শতকের দিকেই নির্মিত হয় বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন।   পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে ১৫ কি.মি দূরে ১ নং অমরখানা ইউনিয়নে এই ভিতরগড়ের অবস্থান। এই ভিতর গড় ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন। রিক্সা/ভ্যান যোগে যাওয়া যায় ভিতর গড়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়। মিরগড় যে ৫টি গড় নিয়ে ‘পঞ্চগড়’ এর নামকরণ করা হয়েছে তার মধ্যে মিরগড় অন্যতম। এই গড়টির অধিকাংশ অংশই এখন ভারতের মধ্যে চলে গেছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে ৫ কি. মি. দক্ষিণে ধাক্কামারা ইউনিয়নে অবস্থিত ভিতর গড়। পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে রি্ক্সা/ ভ্যান যোগে যাওয়া যায় এই গড়ে। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়। গোলকধাম মন্দির    পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাংগা ইউনিয়নের শালডাংগা গ্রামে অবস্থিত গোলকধাম মন্দির। মন্দিরটি নির্মিত হয় ১৮৪৬ সালে। পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ১২ কি. মি. উত্তর পশ্চিমে গোলকধাম মন্দিরটি অবস্থিত।           মন্দিরটি অষ্টাদশ শতকের স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শণ। গ্রীক পদ্ধতির অনুরূপ এর স্থাপত্য কৌশল । পঞ্চগড় জেলা থকে বাস যোগে দেবীগঞ্জ উপজেলা। অতপর রিক্সা/ ভ্যান যোগে শালডাংগা ইউনিয়নের শালডাংগা গ্রামে যাওয়া যায়। দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলোর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাচের। জানা যায়, এটি নির্মাণ করেছিলেন কুচবিহারের রাজা । তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলোর পাশাপাশি নির্মিত রয়েছে পিকনিক কর্ণার। উঁচুতে ডাক-বাংলো এবং পিকনিক কর্নার মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষা ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন  সুউচ্চ গড়ের উপর সাধারণ ভূমি হতে প্রায় ১৫ হতে ২০ মিটার অবস্থিত। সেখান থেকে উপভোগ করা যায় হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চন জংঘার সৌন্দর্য ।  পঞ্চগড় থেকে বাসযোগে তেঁতুলিয়া অতপর রিক্সা অথবা ভ্যান যোগে তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলোর দুরত্ব প্রায় ৫৫ কি.মি.। সমতল ভূমির চা বাগানঃ সাম্প্রতিকালে পঞ্চগড় জেলা সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় শুরু করা হয়েছে সমতল ভূমিতে চা চাষাবাদ। বাংলাদেশে সমতল ভূমিতে এটাই প্রথম চা চাষাবাদ। চা চাষে এগিয়ে এসেছে বিশেষভাবে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, ডাহুক টি এস্টেট, স্যালিলেন টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া টি কোম্পানি প্রভৃতি ।   দেখে আসুন হিমালয় আর এভারেস্ট পঞ্চগড় জেলার উত্তর দিকে শীত মৌসুমে মেঘমুক্ত এবং কুয়াশাবিহীন দিনে তাকালে চোখে পড়ে হিমালয় গিরিমালার নয়নাভিরাম দৃশ্য। তবে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত মহানন্দা নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালে সূর্যের বর্ণিল আলোকচ্ছ্বটায় উদ্ভাসিত এভারেস্ট শৃঙ্গ দেখা যায় । ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৫৭ কিলোমিটার। আর পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা ১৭ কিলোমিটার। দেশের যে কোনো স্থান থেকে সড়ক, রেল ও বিমানে করে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি এখানে আসতে পারেন। তেঁতুলিয়া বেড়াতে যেতে হলে আপনাকে পঞ্চগড় শহরে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই যেতে হবে। তবে পূর্বানুমতি নিয়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে রাত্রিযাপন করতে পারেন। এজন্য আগে ভাগেই আপনাকে সিট বুক করতে হবে। এছাড়া জেলা পরিষদের একটি বাংলো রয়েছে। সেখানে থাকতেও আগাম বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। তবে শীত মৌসুমে এগুলোতে সিট পাওয়া দুষ্কর। রাতযাপনের জন্য পঞ্চগড় জেলা শহরে বেশকিছু ভালো আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস রয়েছে। এসি, নন-এসি এ দু’ধরনের রুম পাওয়া যায়। ভাড়াও তুলনামূলক কম। রাজধানী থেকে পঞ্চগড়ের সরাসরি বাস পাবেন। হানিফ, শ্যামলীসহ বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস পঞ্চগড় যায়। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় বাস চলাচল করে সারাদিন। ভাড়া পড়বে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়াও ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ায় সরাসরি চলাচল করে হানিফ ও বাবুল পরিবহনের বাস। তেঁতুলিয়ায় নেমে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, চা বাগান বা আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরির জন্য স্কুটার ভাড়া করাই ভালো। তবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়েও ঘুরতে পারেন।   পঞ্চগড়ে অনেক হোটেল আছে, ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।  এসি কক্ষ পেয়ে যাবেন এক হাজার টাকার মধ্যে ।  ডব্লিউএন  

হারানো শহরের খোঁজে একদিন

যেখানে ইতিহাস কথা বলে। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। শত শত বছরের ইতিহাস। ধ্বংসপ্রায় নগরীর  ইতিহাস। বলছি সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরী’র কথা। এটি ‘হারানো নগরী’ নামে পরিচিত। ঢাকা থেকে অদূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শহরে ঘুরে আসুন না, একবার। এই নগরীতে প্রবেশ করলে আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য ভুবনে। যারা ঢাকায় বাস করেন এবং চাকরিজীবী তাদের বাইরে বেড়ানোই হয় না। আর এর বড় কারণ সময়ের অভাব। সপ্তাহে একদিন অথবা দু’দিন ছুটি। এই অল্প ছুটিতে ঢাকার বাইরে ঘুরে আসা ভাবাই যায় না। কিন্তু চাইলেই এই ইট, কাঠ আর ধূলাবালুর শহর ছেড়ে স্বাধীনভাবে ঘুরে আসতে পারেন খুব কাছ থেকেই। অনেক দিন ধরে ঐতিহাসিক এই নগরীতে বেড়িয়ে আসার ইচ্ছা। কিন্তু সময় হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঠিক করলাম পানাম নগর দেখবই। ছুটির দিন শুক্রবার রওনা হলাম। যাত্রা শুরু করলাম সকাল ৮টায়। গুলিস্তান থেকে ফ্লাইওভার দিয়ে কাচপুর ব্রিজ পাড় হয়ে যেতে হয় সোনারগাঁও পানাম সিটিতে। সামান্য কিছু দূরে বাংলার প্রথম রাজধানী সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। একদিনেই সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম নগর ঘোরে দেখার সংকল্প করলাম। ঢাকা থেকে পানাম নগরের দূরত্ব ২৭ কিমি। যা সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর থেকে আধা কিমি উত্তরে অবস্থিত। পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি। যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত। পানাম বাংলার প্রাচীনতম শহর। এক সময় ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস ছিল এখানে। ছিল মসলিনের জমজমাট ব্যবসা। কি আছে পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘরে সে গল্প একটু পরে হবে। আগে জেনে নিই সোনারগাঁয়ের ইতিহাস। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস রাজধানী ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে সোনারগাঁওয়ের অবস্থান। সুবুজের সমারোহ আর বনানীর শ্যামললিমায় মনোরম স্থাপত্যশৈলী। প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ছায়া-ডাকা, পাকি-ডাকা, হৃদয়-ছোঁয়া নৈসর্গিক পরিবেশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় সোনারগাঁও। এই সোনারগাঁয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সোনালী অতীতের এক সুবর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি। সোনারগাঁয়ের নামকরণে মতভেদ রয়েছে। গবেষকদের মতে, সোনারগাঁয়ের প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণ বীথি বা সুবর্ণগ্রাম। এই সুবর্ণগ্রাম থেকেই মুসলিম আমলের সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। প্রবাদ আছে, মহারাজ জয়ধ্বজের সময় এ অঞ্চলে সুবর্ণবৃষ্টি হয়ছিল বলে এ স্থান সুবর্ণ গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করে। কেউ কেউ বলেন, বরা ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম হয়েছে সোনারগাঁও। সোনারগাঁও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জল প্রাচীন জনপদ। সোনারগাঁও জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সোনারগাঁও মধ্যযুগে ছিল মুসলিম সুলতানদের রাজধানী। বর্তমানে সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। সোনারগাঁ উপজেলার বর্তমান আয়তন ১১৭.৬৬ বর্গ কিলোমিটার। যা নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস জানার জন্য পৌরাণিক উপাখ্যান, কিংবদন্তি বা জনশ্রুতির ওপরই বেশি নর্ভর করতে হয়। মধ্যযুগীয় এই নগরটির অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন। সোনারগাঁওয়ের পূর্বে মেঘনা নদী, দক্ষিণ-পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী এবং উত্তরে ব্রক্ষ্মপুত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। সেজন্য রাজা-বাদশাগণ সানন্দে সোনারগাঁয়ে বাংলার রাজধানী গড়ে তুলেছিলেন। ধারণা করা হয় ঐতিহাসিকভাবে সোনারগাঁওয়ের উদ্ভব প্রাক-মুসলিম যুগ থেকেই। প্রাচীন সেই নগরীর তেমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই। এখন আছে শুধু ঘুরে দেখার মতো ঐতিহাসিক পুরনো বাড়িগুলো। পানাম নগর ঈসা খাঁর আমলের বাংলার রাজধানী ছিল পানাম নগর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁওর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জের খুব কাছে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত এই নগর। সোনারগাঁওয়ে ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। জানা যায়, ১৪০০ শতাব্দীতে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে পৃথিবীর নামী-দামি শিক্ষকেরা পড়াতে আসতেন। পানাম নগরীর নির্মাণশৈলী অপূর্ব এবং এর নগর পরিকল্পনা দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত। এটি মুলত বঙ্গ অঞ্চলের তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র বিন্দু ও আবাসস্থল ছিল। এ স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাংলার মসলিনসহ অন্যান্য তাঁত শিল্পের প্রচার প্রসার ও ব্যবসায়ের তীর্থস্থান এ পানাম নগরী। পানাম নগরীতে মূলত ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের, আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুন কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি। পানাম ও তার আশপাশকে ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্থ দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ন ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালি নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। ৫ মিটার প্রশস্থ ও ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা দালান রয়েছে পানামে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। পানাম নগরীর মাঝে যে রাস্তা চলে গেছে এর উত্তর পাশে আছে ৩১ টি ভবন এবং দক্ষিণ পাশে আছে ২১টি ভবন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন রয়েছে। নগরীর পানি সরবরাহের জন্য দুই পাশে খাল ও পুকুরের অবস্থান লক্ষ করা যায়। পানাম নগরের আশপাশে আরো কিছু স্থাপনা আছে যেমন- ছোট সর্দারবাড়ি, ঈশা খাঁর তোরণ, নীলকুঠি, বণিক বসতি, ঠাকুরবাড়ি, পানাম নগর সেতু ইত্যাদি। আমরা মাত্র ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করি প্রাচীন এই নগরীতে। প্রবেশ মুখেই রয়েছে একটি বড় ফলক। যাতে সংক্ষিপ্ত আকারে ইতিহাস লেখা রয়েছে। পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দিয়ে তৈরি। দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন। উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ি এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ। চারিদিকে সুনশান নিরবতা। অনেক পর্যটক এসেছে এই ছুটির দিনে। এ এক অন্যরকম অনুভুতি। মনে হবে এক মৃত নগরীতে প্রবেশ করেছেন। বেশ কিছু সময় কাটিয়ে আমরা রওনা হলাম সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে।   সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর পানাম নগরী থেকে সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর আধা-কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আবহমান গ্রামবাংলার লোক সাংস্কৃতিক ধারাকে বিকশিত করার উদ্যোগে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর একটি পুরনো বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পরে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে ১৫০ বিঘা আয়তনের কমপ্লেক্সে খোলা আকাশের নিচে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশে গ্রামীণ রূপকেন্দ্রিক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় তুলে ধরতে শিল্পী জয়নুল আবেদীন এই জাদুঘর উন্মুক্ত পরিবেশে গড়ে তোলার প্রয়াস নেন এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সটি প্রায় ১০০ বছর পুরনো সর্দারবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক। সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এলাকায় রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি। এখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের অবহেলিত গ্রামবাংলার নিরক্ষর শিল্পীদের হস্তশিল্প, জনজীবনের নিত্যব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী। এসব শিল্প-সামগ্রীতে তৎকালীন প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের রূপচিত্র ফুটে উঠেছে। সর্দারবাড়িতে ১০টি গ্যালারি রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে কাঠ খোদাই, কারুশিল্প, পটচিত্র ও মুখোশ, আদিবাসী জীবনভিত্তিক নিদর্শন, গ্রামীণ লোকজীবনের পরিবেশ, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, তামা-কাসা-পিতলের নিদর্শন, লোহার তৈরি নিদর্শন, লোকজ অলঙ্কারসহ রয়েছে বহু কিছু। ভবনটির সামান্য আগে রয়েছে লোকজ স্থাপত্যকলায় সমৃদ্ধ আধুনিক এক ইমারতে প্রতিষ্ঠিত জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর। এই ভবনটিতে মাত্র দু’টি গ্যালারি। এই দু’টি গ্যালারির মধ্যে একটি গ্যালারি কাঠের তৈরি, যা প্রাচীন ও আধুনিককালের নিদর্শনসমৃদ্ধ। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রাকৃতিক, বৈশিষ্ট্য কাঠ এবং কাঠ থেকে বিভিন্ন কারুপণ্য তৈরি এবং সর্বশেষ বিক্রির সামগ্রিক প্রক্রিয়া, অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে সুন্দর মডেল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই দু’টি ভবনের বাইরে রয়েছে পাঠাগার, ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সেমিনার হল, ক্যান্টিন, কারুমঞ্চ, গ্রামীণ উদ্যান ও বিভিন্ন রকমের বৃক্ষ, মনোরম লেক, লেকের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌবিহার, মৎস্য শিকারের সুন্দর ব্যবস্থা ও পঙ্খিরাজ নৌকা। কারুপল্লীতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ, বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।   মেঘনা নদী ভ্রমণ দুপুর গড়িয়ে বিকেল। আমরা চাইলাম মেঘনা নদীতে নৌকা ভাসিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে। তাই রিক্সায় চেপে চলে গেলাম মেঘনা পাড়ে। সেখানে অসংখ্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা রয়েছে। ভাড়া ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা নিবে। মাঝিরা অনেক বেশি ভাড়া চাইবে। কিন্তু আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে। নৌকা ভাড়া করে মেঘনার উত্তাল ঢেউতে দোল খেতে খেতে চলে গেলাম মাঝ নদীতে। সে এক অন্য রকম অনুভুতি। জেলেরা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরছে। আপনি চাইলে সেখান থেকে তাজা তাজা মাছ কিনে আনতে পারবেন। এভাবেই নৌকার বুকে চেপে সন্ধ্যার রক্তিম আলো দেখতে দেখতে দিনের ভ্রমণ শেষ করলাম। ঢাকার কাছাকাছি পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জায়গার মধ্যে অন্যতম সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘর ও পানাম সিটি। সপ্তাহিক যেকোন ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও ও পানাম সিটি।   কীভাবে যাবেন ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে উঠে নামবেন মোরগাপাড়া চৌরাস্তা। ভাড়া ৪০ টাকা। সময় লাগতে পারে ১ ঘণ্টা। তবে শুক্রবার ছাড়া অন্যদিন হলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাতে নিয়ে বেরুতে হবে। মোরগাপাড়া চৌরাস্তায় নেমে দেখবেন অটো দাঁড়ানো আছে। শেয়ারে জাদুঘর পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। অথবা গুলিস্তান থেকে চিটাগাং রোডের বাসে করে চিটাগাং রোড যাবেন। সেখান থেকে সিএনজিতে করে যেতে পারেন। সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ভাড়া। আবার বাসে করেও যেতে পারেন। বাসে গেলে নামতে হবে পানাম নগর বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে রিক্সায় সোনারগাঁও জাদুঘর। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। মনে রাখবেন প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।   যাত্রা শুরুর আগে আপনার ব্যক্তিগত ক্যামেরা/মোবাইল ফোন নিতে ভুলবেন না, কারণ সেখানে ছবি তোলার জন্য আলাদা করে তেমন ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। নিজের ছবি নিজেই তুলতে ব্যবস্থা রাখুন। তা না হলে পরে হতাশ হতে হবে। যেহেতু সোনারগাঁও ঢাকা থেকে অনেকটাই নিকটবর্তী, চাইলে বাসা থেকে রান্না করে হটপটে করে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। এতে খরচ কম হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ও নিশ্চয়তা পাবেন। //এআর

ঘুরে আসুন মিনি কক্সবাজার মৈনট ঘাট

­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­চারদিকে বালু চিকচিক স্থলভূমি। সামনে রুপোর মতো চকচকে পানি। এটা পদ্মা, আমাদের প্রিয় পদ্মা নদী। মৈনট পদ্মাপাড়ের একটি খেয়াঘাট। এখান থেকে রোজ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে।যেখানে আসলে আপনি সত্যিই মুগ্ধ হবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশি দেখে। কী নেই এখানে। বিশাল জলরাশি। পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা। আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো। সব মিলে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’। একসময় মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর যাতায়াতের জন্য কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরির প্ল্যানটা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই রাস্তাটিও অবহেলায়-অযত্নে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন এভাবে থাকার কারণে অপ্রয়োজনে কেউ ওই দিকটায় তেমন একটা পা বাড়াত না। সম্প্রতি সড়কটি পুনরায় মেরামত করার ফলে আবার আসতে শুরু করছে পর্যটক। এদের বেশির ভাগই আসছে দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর, কেরানীগঞ্জ থেকে। মৈনট ঘাট এখনও ব্যাপকভাবে পরিচিত না হওয়ার কারণে ভ্রমণপিপাসু অনেক মানুষই বঞ্চিত হচ্ছেন মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে। খুব ভোরে মৈনট ঘাটেই বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। পদ্মা নদীর সেই নামকরা ইলিশসহ অনেক প্রজাতির মাছই আপনি কিনতে পারবেন এখান থেকে, একদম টাটকা। মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, আর সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে আপনার। স্পিডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াতে পারবেন। আপনি চাইলে দুপুরে পদ্মার জলে গোসলও করতে পারেন। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।   কীভাবে যাবেন ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময়ের বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। গুলিস্তানের একই স্থান থেকে এন মল্লিক পরিবহনেও আসতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দায়। ভাড়া ৭০ টাকা। মাঝিরকান্দা থেকে লোকাল অটোতে দোহারের বাঁশতলা। ভাড়া ১৫ টাকা। চাইলে লক্ষ্মীপ্রসাদ নামক স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি নামক পুরোনো বাড়িটিও দেখে নিতে পারেন। আর জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, খেলারাম দাতার বাড়ি যাকে স্থানীয়ভাবে আন্ধার কোঠা বলা হয়, এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে মাঝিরকান্দার আগে কলাকোপা নামক স্থানেই নামতে হবে। কোথায় থাকবেন ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য মৈনট ঘাটের আশপাশে কোনো হোটেল, রিসোর্ট, বোর্ডিং এখনো তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় কোনো বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ করতে না পারলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া ভালো। কোথায় খাবেন বেশির ভাগ মানুষেরই ইচ্ছা থাকে পদ্মার তীরে বসে পদ্মার সেই নামকরা ইলিশ খাওয়ার। মৈনট ঘাটে কিছু ভাতের হোটেল আছে। ইলিশ ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। এ ছাড়া বোয়াল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিংড়ি ৬০ থেকে আশি টাকা। ভাত ২০ টাকা প্লেট। মনে রাখবেন অবশ্যই মিষ্টি খেয়ে আসবেন। নিরঞ্জন মিষ্টান্নভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডারসহ আরো কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। সতর্কতা একটি বিষয় সবার জানা দরকার। সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। আপনার একটু অসচেতনতায় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। //এআর  

মন চলো রূপের নগরে

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। এখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন বাউল সম্রাট লালন, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান, কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আবু জাফরসহ বহু বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব। প্রতিবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক।   ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে কুষ্টিয়ার বিশেষ আকর্ষণ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার। তিনি এই কুষ্টিয়া জেলায়-ই জীবন কাটিয়েছেন। তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচিত। লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বহুদিন ধরেই মনে বড় ইচ্ছে ছিল রূপের নগর কুষ্টিয়া ভ্রমণের। তাই ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম। আমরা প্রথমে যাই শিলাইদহের কুঠিবাড়ি। কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানে কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবির বহু স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের একপাশে অবস্থিত ঘোড়ার ঘাট পার হয়ে রিক্সা/ভ্যান/অটোযোগে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পৌছানো যায়। ঘোড়ার ঘাটের অন্য পাড় হতে কুঠিবাড়ি পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ৩৫ মিনিট। ৩২ বিঘা জমি নিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনা। আড়াইতলা এ বাড়িটিতে রয়েছে ১৭টি কক্ষ। বাড়িটির কক্ষ ও বারান্দাজুড়ে প্রদর্শনীর জন্য রয়েছে কবির ব্যবহৃত ১টি পালঙ্ক, লেখার টেবিল, ইজি চেয়ার, নদীতে চলাচলের দুটি বোট `চঞ্চল`-`চপলা`, ৬ বিহারা ও ৮ বিহারার ২টি পালকি, লোহার সিন্দুক ১টি, খাজনা আদায়ের টেবিল ১টি, রোলার ১টি, আটকোনা টেবিল ১টি, গদি চেয়ার ২টি, সোফা ২টি, আলনা ১টি, কাঠের আলমিরা ৪টি, ফাইল কেবিনেট ১টি ঘাষকাটা যন্ত্র, পানি শোধন যন্ত্র ১টি, বিভিন্ন সময়ে কবিকে ঘিরে তোলা আলোকচিত্র, কবির নিজের আকা ছবি ইত্যাদি। মশাররফের বাস্তুভিটা আমরা সেখান থেকে গেলাম মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটায়। কুষ্টিয়া শহরের অদূরে লাহিনীপাড়াতে মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটা অবস্থিত। মীর মশাররফ হেসেনের ঘর-বাড়ি কিছুই নেই, আছে শুধু পৈত্রিক ভিটে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিক্সাযোগে সেখানে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। আমরা কুঠিরবাড়ি হয়ে সেখানে গিয়েছি ব্যাটারিচালিত অটোতে করে। লালন শাহের মাজার মশরারফ হোসেনের বাস্তুভিটা থেকে গেলাম বাউল সম্রাট মরমি সাধক গুরু লালন ফকিরের মাজারে। ১৭ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে বাউল মতের উন্মেষ ঘটলেও এই মত ও পথকে জনপ্রিয় করে তোলেন মরমি সাধক গুরু লালন ফকির। বাউল সম্রাট লালন ফকিরই বাউল ধারণার একটি স্বতন্ত্র ধর্ম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কথা ছিল কুষ্টিয়া নেমে প্রথমে হোটেল যাবো। তারপর বিশ্রাম ও খাওয়া-দাওয়া। এরপর ঘুম। পরদিন সকালে সোজা সাঁইজীর মাজারে যাবো। কিন্তু কিছু অনিবার‌্য বাস্তবতায় সেটি আর হয়ে উঠেনি। এর একটি কারণ হচ্ছে আমরা ট্রেনে গিয়েছি। রাতের ট্রেনে গেলে পোড়াদহ নামিয়ে দিবে রাত ২টায়। তখন কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া কষ্টকর। তাই ওখানেই রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। অপরদিকে লালন উৎসবের সময় এ এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। তাই হোটেলও পাওয়া কষ্টকর। তবে আমরা পেয়েছিলাম কিন্তু সে জন্য ভাড়া গুনতে হয়েছে বেশি। সাধারণ সময় হোটেল দুই বেড পাওয়া যায় চারশ’ টাকার মধ্যে। এ সময় তা আটশ’ নেওয়া হয়। যাই হোক- ফিরে আসি লালন শাহর মাজারে। তার মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার আগেই মনে মনে বেজে উঠল লালনের গান। তারপর তো একের পর এক গান চলে। গলা ছেড়ে না গেয়ে থাকতে পারলাম না। ভ্যানে করে গান গাইতে গাইতে চলে আসি সাইজির আখড়ায়। মাজার গেটের সামনে নেমেই ডানপাশে ছোট্ট একটা বাজার লক্ষ্য করলাম। প্রায় সব দোকানেই একতারা, দোতারা, লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সমাহার। ভাবছিলাম আগে কিছু কিনব কিনা। শেষে ঠিক করলাম আগে গুরুর মাজার দেখা তারপর কেনাকাটা। গেট দিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই আপনা-আপনিই একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছিল নিজের মধ্যে। চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশ গোছালো। সামনে মাজার যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মরমী সাধক গুরু লালন সাঁইজী। আরও কিছু সমাধী। বেশকিছু লালনভক্ত চেখে পড়ল। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যে বকশিস পায় তা দিয়েই তাদের চলে। মাজারের পাশে রয়েছে অডিটরিয়াম। বেশ উন্নত। পাশে একটা পাঠাগার ও জাদুঘরও রয়েছে। জাদুঘরে বেশকিছু লোকজ সংগ্রহশালার নিদর্শনসহ রয়েছে লালন ফকিরের ব্যবহৃত একটি একতারা। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন লালন উৎসব চলছিলো। সমাধির বাইরে বিশাল জায়গা নিয়ে চলছে লালন মেলা। ভক্তদের উপস্থিতি প্রচুর। স্টেজে চলছে গান। আমরা রাতে সেখানে গান শুনে আবার ফিরে আসলাম হোটেলে। রাতেই টিকেট কেটে রাখলাম বাসের। ঢাকায় আসার অসংখ্য গাড়ি আছে মজমপুর নামক স্থানে। সেখানেই আবাসিক হোটেলগুলো গড়ে উঠেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তবে যারা কুষ্টিয়া বেড়াতে আসবেন তারা একটু সময় হাতে নিয়ে আসবেন। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু, পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায়। কুষ্টিয়া এলে ইতিহাসের সাক্ষী এই রেলসেতুটি একবার স্বচক্ষে দেখে যেতে ভুলবেন না। রয়েছে লালন শাহ সেতু। বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ সেতু। সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত। সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মাণ করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মুক্ত বাংলা ভাষ্কর্যটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে-ই অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে যশোর/খুলনা অভিমুখী যেকোন বাসে উঠলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামা যাবে। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি একবার ঘুরে দেখতে দেখলাম। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে। শাহী মসজিদ কুষ্টিয়ার আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্য শাহী মসজিদ। মোঘল আমলে নির্মিত এ মসজিদটি এই অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। কুষ্টিয়া শহর থেকে ঝাউদিয়া অভিমুখী মিনিবাস চলাচল করে। মিনিবাস থেকে ঝাউদিয়া বাজারে নেমে পাঁচ-সাত মিনিট পথ হাঁটলেই শাহী মসজিদ। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। পাঠক কুষ্টিয়া আসলে এসব স্থানগুলো দেখতে ভুল করবেন না। সেই সঙ্গে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত কুলফি মালাইতো আছেই। অসাধারণ স্বাদের এ মালাই একটি খেলে আরও খেতে ইচ্ছে জাগবে। আসার সময় বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসতে পারেন কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা। আরও বলে রাখি। কুষ্টিয়ায় বেশকিছু মিষ্টির দোকান আছে। মজাদার এসব মিষ্টির দোকানে ঢুকে মিষ্টির স্বাদটাও নিতে পারেন। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, লালন একটি মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। নাম ‘প্যারা’। যা এখনও পাওয়া যায়। খেয়ে দেখতে পারেন। তবে ভালো মিষ্টির দোকান থেকে চিনে খেতে হবে। এজন্য স্থানীদের কাছ থেকে শুনে নিতে পারেন কোন দোকানের মিষ্টি বেশি ভালো। আমরা খুব সকালে নাস্তা খেয়ে বাসে উঠে বসলাম। ঠিক সময় বাস ছেড়ে দিলো। দুই পাশের প্রকৃতি আমাদের বিদায় জানালো। অপরূপ সবুজের এই প্রকৃতি আপনার চেখের কোন ক্লান্তি আনবে না। দুপুরের মধ্যে পৌছে গেলাম ঢাকায়। কীভাবে যাবেন ঢাকার কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে যমুনা সেতু  হয়ে কুষ্টিয়া ট্রেনযোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেনগুলোর মধ্যে চিত্রা, তূর্ণা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর মধ্যে অন্যতম। ঢাকা থেকে ট্রেনে পোড়াদহ। সেখান থেকে অটো বা সিএনজিতে কুষ্টিয়া শহর। এরপর রিক্সাযোগে যাওয়া যায় লালনের মাজারে। সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। তবে বাসেও যাওয়া যায়। //এস//এআর

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নগর দোহার-নবাবগঞ্জ

শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতা ছেড়ে অনেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান সতেজতা অনুভব করতে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে সময় স্বল্পতার কারণে বেড়ানোর কথা ভাবতেই পারেন না। তবে রাজধানীর কাছাকাছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোনো স্থান থাকলে স্বল্প সময়ে বেড়িয়ে আসতে পারেব। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা পথের দূরত্বে রয়েছে এমনি একটি স্থান। মাত্র একদিনে সুন্দর ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য স্থানটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে চাইলে চলে আসুন রাজধানীর একেবারে পাশের উপজেলা নবাবগঞ্জে। ২৪৪ দশমিক ৮০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে সিঙ্গাইর উপজেলা। দক্ষিণে দোহার উপজেলা। পূর্বে কেরানীগঞ্জ, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা। পশ্চিমে হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রথমে আপনাকে আসতে হবে কলাকোপায়। নদী আর স্থাপনার সমন্বয় কলাকোপার মূল বৈশিষ্ট্য। ঢাকার খুব কাছেই দোহারের একটি গ্রাম কলাকোপা। পাশের গ্রাম বান্দুরা। ঢাকা মহানগর থেকে দেড় ঘন্টার পথ। বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে কায়কোবাদ সেতু টপকে রাস্তার দুপাশের সবুজ উপভোগ করতে করতে ইতিহাস সমৃদ্ধ এই প্রাচীন নগরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। শুরুতেই বলে রাখি; এখানে বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে ঘুরে দেখার জন্য। তাই দিনে দিনে সবগুলো স্পট দেখতে চাইলে আপনাকে খুব সকালেই রওনা দিতে হবে। গুলিস্তান থেকে দোহার-নবাবগঞ্জগামী বাসে মাত্র ৭০ টাকা দিয়ে বসে পড়ুন। বাসে উঠে হেলপারকে বলবেন- জজ বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার কলাকোপা-বান্দুরা। উনিশ শতকেও এখানে জমিদারদের বসতি ছিল। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ গ্রাম কলাকোপা-বান্দুরা একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থস্থান ছিল। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখ জুড়ানো। যার প্রাণ ইছামতি নদী। এখানে দেখার অনেক কিছুই আছে। একদিকে স্নিগ্ধ অপরূপ প্রকৃতি অন্য দিকে নানা পুরাণ কাহিনী। কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির পাশে উকিল বাড়ি। তারপর জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন (যা এখন জজ বাড়ি নাম ধারণ করেছে)। ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি। শ্রীযুক্ত বাবু লোকনাথ সাহার বাড়ি (যার খ্যাতি মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি নামে)। মধুবাবুর পাইন্না বাড়ি, পোদ্দার বাড়ি এবং কালি বাড়ি। এখানে আরও আছে খেলারাম দাতার বিগ্রহমন্দির, মহামায়া দেবীর মন্দির। আর একটু দূরের হাসনাবাদে জপমালা রানীর গির্জা। ঐতিহ্যবাহী জজ বাড়ি : এটি নবাবগঞ্জের কলাকোপা নামক স্থানে অবস্থিত। একটি সুন্দর বাগান ঘেরা এবং বিশালাকৃতির এই জমিদার বাড়িটি মূলত জজ বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়ির পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। রয়েছে পোষা হরিণের একটি খামার। বাগানের হাজারো রকমের ফুল আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে অনায়াসে। জমিদার বাড়িটি অতি প্রাচীন কালের ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি। যা আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিবে। কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি : এই জমিদার বাড়িটি জজ বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত। বলা যেতে পারে এটি জজ বাড়ির ওল্ড ভারসন। জজ বাড়ি বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে সেই আগে যেমনটি ছিল। এই জমিদার বাড়িতেও রয়েছে শত শত দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ আর বাড়ির ঠিক সামনে রয়েছে বিশালাকৃতির স্বচ্ছ পানির পুকুর। রয়েছে বিশালাকৃতির পুকুর ঘাট। বৌদ্ধ মন্দির : এই বৌদ্ধ মন্দিরটি কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ির ঠিক বাইরে অবস্থিত। মন্দিরটির ভেতরে একটি ভাঙা মুর্তি আছে। কথিত আছে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী এই মুর্তিটি ভেঙে রেখে গিয়েছিল। খেলালামদার বাড়ি (আন্ধার কোঠা) : এটি এক সময় সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখনো মাটির উপর দুইতলা একটি জড়াজীর্ণ ভবন দেখতে পাবেন। কথিত আছে এই পাঁচতলা ভবনটি এক রাতে তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে চলে গিয়েছিল। ভবনটির উপরের তলাতে একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। কথিত আছে জমিদার খেলালামদা এর মা একদিন তার সন্তানের কাছে দুধ খেতে চাইলে তিনি তার মায়ের জন্য এই চৌবাচ্চা বানানোর নির্দেশ দেন। পরে সেই বিরাট চৌবাচ্চায় দুধ এবং কলা দিয়ে পূর্ণ করে তার মাকে সেই চৌবাচ্চায় নামিয়ে দেন। তার মা সাতার কেঁটে কেঁটে মনের সাধ মিটিয়ে দুধ পান করেছিলেন। এই বাড়িটির পাশেও একটি বিরাট পুকুর আছে। কথিত আছে এই পুকুরের পাশে এসে কেউ কিছু চাইলে তার পর দিন তাই মিলে যেত। কলাকোপা আনসার ক্যাম্প : জজ বাড়ির কাছেই কলাকোপা আনসার ক্যাম্প অবস্থিত। এটিও একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি পরিবেশ। পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আনসারদের বসবাসের জন্য অনেক বড় একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি। এখানে বেশ কয়েকটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভবন রয়েছে। ইছামতি নদী : এই নদীটিকে ঘিরে সেই আগের মত প্রাণ চাঞ্চল্য না থাকলেও সূর্যাস্তের সময় আপনি মুগ্ধ হয়ে এর রূপ অবলোকন করতে সক্ষম হবেন। ভাঙা মসজিদ : কথিত আছে এই মসজিদটি এক রাতে গায়েবীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। যে রাতে এটি সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন ভোরে কোনো এক লোক এই মসজিদটি প্রথম আবিষ্কার করেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ সৃষ্টি হতে পারেনি। মানুষের চোখে পড়ে যাওয়ায় এটি সেরকম অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এর একটি অংশ ভাঙা থাকার কারণে এটি ভাঙা মসজিদ নামেই পরিচিত। সাত মাথার মূর্তি : এটি মাঝির কান্দা নামক স্থানের অদূরে অবস্থিত। একটি বিরাট বটগাছের নিচে এই মুর্তিটি নির্মাণ করা করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। প্রতি বছর এই মূর্তিকে ঘিরে পূজা এবং মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বান্দুরা গির্জা : অনেক বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গির্জাটি। গির্জার ভেতরের দিকটা বেশি আকর্ষণীয় এবং সামনে একটি বিশাল খোলা মাঠের সৌন্দর্য হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গির্জাটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কিছু খ্রিস্টান মিশনারী ক্যাম্প।  

ঘুরে আসুন পান্থমাই

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঘোরাঘুরি করতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অনেকে ভ্রমণের নেশায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের দর্শনীয় স্থানের টানে ছোটেন। অথচ দেশের ভিতরেই এমন কিছু স্থান আছে যেখানে আপনি চাইলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। মনকাড়া, দৃষ্টিনন্দন এসব স্থান ঘুরতে একদিকে যেমন আপনার টাকা বাঁচবে অপরদিকে আপনি পাবেন বিনোদন। নজরকাড়া এমনই একটি স্থান হলো সিলেটের পান্থমাই। এখানে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। ইচ্ছে করলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন স্ব-পরিবার নিয়ে। জেনে নিন পান্থমাই সম্পর্কে- পান্থমাই : পান্থমাই ঝরনা ভারতে অবস্থিত। এটি ভারতে অবস্থিত হলেও এর সৌন্দর্য পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়। এর অসম্ভব সৌন্দর্য দেখে আপনি অভিভূত হবেন। ঝরনার বৈশিষ্ট্য: পান্থমাই ঝরনা পাহাড়ি ঢল বেয়ে পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় এটি বেশ গর্জন করতে থাকে। ঝরনার পুরো পানিটাই বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। ঝরনা থেকে গড়িয়ে পড়া পানিতেই তৈরি হয়েছে ছোট নদী। স্থানীয়রা এ নদীকে ছড়া বলেন। আর পান্থমাই জলপ্রপাত এ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে একে ফাটা ছড়া বা ঝরনা বলা হয়। এছাড়া পান্থমাই গ্রামের চারপাশ খুব চমৎকার। ভ্রমনের সময় আপনাকে বাড়তি আনন্দ দেয় এগুলো। এখানে রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। যেভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জেলা থেকে যেতে হবে সিলেট শহরে। শহরের বিমানবন্দর রোড দিয়ে অটোরিকশায় পান্থমাইয়ের পথ। ভাড়া করার সময় অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে কিনা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। রাত যাপন : পান্থমাই থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা না থাকলেও সিলেট শহরে অনেক হোটেল-মোটেল রয়েছে। ৩শ’ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া পাওয়া যায়।  এগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো। খাওয়া-দাওয়া : আপনি চাইলে পান্থমাই যাওয়ার সময়ই সিলেট থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। ওখানে বাজার থাকলেও দুপুরে খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে সেখানে স্থানীয়দের রান্না করা রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন, কম খরচে ভালো খাবার পাবেন। আর/ডব্লিউএন      

সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন বাংগুরী

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাংগুরী গ্রাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলা ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সহোদরা গ্রাম। প্রতিটি মৌসুমে প্রকৃতির রূপ বদলের সাক্ষী হতে নিজের রং-রূপও বদলে নেয় এই গ্রাম। বৈশাখের আম্রমুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা, কৃষ্ণচূড়ার লালে সাজে। মাঠ সবুজ হয়ে ওঠে বোরো ধানের সবুজে। শীতে সেই মাঠ পরে সরষের হলুদ শাড়ি। সেই হলুদ বসন থেকে বাতাসে ভেসে আসে সুগন্ধ। ঘুম ভাঙ্গে পাখির কিচির মিচির আর কলতানে। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপ প্রকৃতি  ফিরে আসতে চান বারবার এমন কোন গ্রামে, যেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকে শিমুলের ডালে, সন্ধ্যার বাতাসে ওড়ে সুদর্শন, সবুজ করুণ ডাঙা জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা থাকে। পায়ে লাল ঘুঙুর পরা কিশোরী হয়ে কলমীর গন্ধভরা জলে ভাসতে ভাসতে হাঁস হতে চান কবি। কার্তিকের নবান্নে কুয়াশার বুকে ভেসে ভোরের কাক, শালিক, ধবল বক কিংবা শঙ্খচিল হয়েই আবার ধানসিঁড়ির তীরে ফেরার ইচ্ছা সেই কবির।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও মন ভুলিয়ে দিত আজ আমরা তেমন এক সুনসান নীরব গ্রামের কথাই বলব। যেখানে প্রকৃতি তার সব সুন্দর নিয়ে বসে আছে পরিব্রাজকের মন জোগাতে। সেই সময় কোনো এক অচিন পরিব্রাজকেরও ইচ্ছে করে ওই হলদে জমিনে লুটিয়ে পড়ে ভোরের শিশিরভেজা সরষে ফুলের রেণু মাখতে। এখনকার রূপ ভিন্নতর। সময়টা ভাদ্রের শরৎ হলেও বর্ষা এখনো প্রকৃতিকে ছেড়ে যায়নি। চারদিকে জল থই থই করে । রাস্তাঘাট জলের নিচে। মাঝির বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এগিয়ে চলে নৌকো চিরচেনা গ্রামের দিকে। অর্ধডুবন্ত বাড়িঘরের সম্মুখে খড়ের গাদা, তার পাশেই জল ছুঁই ছুঁই গরুর গোয়াল, পাশেই যোগাযোগের বাহন কোষা নৌকা। নয়নজুড়ানো এমন দৃশ্য দৃষ্টির সীমানায় আসতেই মননে মগজে শৈশব ভিড় করে। বর্ষার ভরা জলে কবি বন্দে আলীর মিয়ার-  ‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান/ আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ/ মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি/ চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি!’-ছড়া কাটতে কাটতে দিনমান ডুবসাঁতারে চোখ লাল করে ফেলার পর সন্ধ্যায় মায়ের বকুনিতে রাত নামে। বর্ষায় মিষ্টি পানির মৎস্য আহরণ দেখবেন না তা তো হয় না।যার জালে যত বেশি মাছ, তার মুখে হাসি তত চওড়া। চাইলে এই গ্রামে ঢোকার পথেই মাথাভাঙ্গা বিলের পাশের কোনো এক বাড়িতে অর্ডার দিয়ে কাচালঙ্কা সহযোগে ফুটি, মলা, খলসে, কই, টেংরা, মেনি, কাকিলা বা বড় রুই-কাতলার মুচমুচে ভাজাও খেয়ে নিতে পারবেন। গ্রামের পশ্চিম পাশের সীমানায় বর্ষায় সৃষ্ট অস্থায়ী জলাধারে। দেখলে মনে হবে যেন এক গহীন  বিল। খানিক দূরে কলাগাছের ভেলায় করে শামুক কুড়োচ্ছে গ্রাম্যবালা। আশপাশে শাপলা ফুলের মৌনতা। শাপলা সাধারণত সকালে ফোঁটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। হয়তো কড়া রৌদ্রের ছোঁয়াচ ওদের ভালো লাগে না। প্রকৃতিও এখানে দারুণভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের লাল সবুজ রং। বর্ষার জল সুধায় সেজে ওঠে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত। জেলের নৌকার ছইয়ে থাকে উদীয়মান সূর্যের লাল রং। আর এভাবেই জনপদে আঁকা হয়ে যায় আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। মেঘের ক্যানভাসে জল, নৌকা, শাপলা, ধানের সবুজ পত্রপল্লব ও বিমুগ্ধ করবে যেকোনো পরিব্রাজককে ।বর্ষার সবুজ আর শরৎ মেঘের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে ছুটতে হয় এমন গ্রামের স্বর্গেই। আর কণ্ঠে তখন নিশ্চয় অনুরণন তুলবে নির্মলেন্দু গুণের ‘হুলিয়া’- দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিবর্তনহীন গ্রামে ফিরছি আমি সেই একই ভাঙাপথ, একই কালো মাটির আল ধ’রে গ্রামে ফেরা আমি কতদিন পরে গ্রামে ফিরছি। এমন মনোমুগ্ধকর গ্রাম যেখানে কান পাতলেই মেলে বাতাসে আন্দোলিত গাছের শব্দ, ভাটিতে জল বয়ে চলার শব্দ, মেঘের গর্জন, পাখপাখালির ডাক। এসবের মিলিত শব্দ  যেন সংগীত হয়ে বাজে।  আর দৃষ্টি জুড়ায় অসীম আকাশ। স্বচ্ছ সফেদ জলরাশি ও শস্য সবুজে গ্রামীণ মানুষের যাপিত জীবন দেখতে হলে বর্ষার গ্রাম একবার হলেও দেখা চাই। এমন গ্রাম রবিঠাকুরের মতো করে পায়ে ধরে আপনাকে ঘরের বাহির না করতে  পারে?  তাহলে কবি জসীমউদ্দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ থাকল ভ্রমণপিপাসু আপনাকেও :  তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়  গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;  মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি  মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,  মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়... যাতায়াত ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন বা টাঙ্গাইলের দূরপাল্লার যেকোনো বাসে কালিয়াকৈর নামতে হবে। ভাড়া নেবে ১০০ টাকার মতো।কালিয়াকৈর থেকে শ্রীফলতল, বলিয়াদি, দেওয়াইর বাজার হয়ে সাত কিলোমিটার গেলেই বাংগুরী গ্রাম। বাসস্ট্যান্ডে দুই আড়াইশ টাকায় সিএনজিও পাওয়া যাবে। আর ব্যক্তিগত পরিবহনে বাসের রুট ছাড়াও ঢাকার ধামরাই থেকে ধানতারা বাজার হয়ে বাংগুরী গ্রামে যাওয়া যাবে। বর্ষার জলে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে এই সময় কালিয়াকৈর থেকে বংশাই নদীপথে নৌকাই হতে পারে উপযুক্ত বাহন। পানি নেমে গেলে প্রাইভেট কার বা সিএনজিতে পৌঁছানো যাবে। ঢাকা থেকে এই গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটারের মতো। কাজেই ভ্রমণ শেষে ঢাকা ফেরা যাবে অথবা থাকতে চাইলে কালিয়াকৈরের সোহাগপল্লী, রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট বা আনন্দ রিসোর্টের মতো আধুনিক মানের বেশ কয়েকটি রিসোর্টেও পরিবার পরিজন নিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন । কেআই/ডব্লিউএন

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি