ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১০:৩৩:১৮

ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট

ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ভ্রমণের আনন্দ বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। দেশে কিংবা বিদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে আসেন তারা। দেশের ভিতরও রয়েছে অতুলনীয় কিছু সৌন্দর্যে ভরপুর স্থান। তেমন একটি হলো সিলেট জেলা। এ জেলায় রয়েছে অনেকগেুলো দর্শনীয় স্থান। একা কিংবা দলবেধে যেতে পারেন সিলেট জেলায়।  এখানে রয়েছে- হযরত শাহজালাল (র.) মাজার, হজরত শাহপারান (র.) মাজার, শ্রী শ্রী দুর্গা বাড়ি মন্দির, ইকো পার্ক, জাফলং, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, মালনীছড়া চা বাগান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারী, সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ, জাকারিয়া সিটি, ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা, রায়ের গাঁও হাওর, মালিনী ছড়া বাগান, সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ, লাক্কাতুরা চা বাগান, হাকালুকি হাওর, রাতারগুল, বিছনাকান্দি। হযরত শাহজালাল (র.) মাজার- সিলেট বাংলাদেশের পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হযরত শাহজালাল (রহ.)। বাংলাদেশের সব জায়গা থেকেই ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ তার মাজার জেয়ারতের জন্য আসেন। মাজার চত্বরের উত্তর দিকে পুকুরে অসংখ্য গজার মাছ ভেসে বেড়ায়, যা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যান। মাজার এলাকায় ঝাকেঝাকে কবুতর উড়তে দেখে সব বয়সি মানুষেরই মন ভড়ে যায়। হজরত শাহপারান (র.) মাজার সিলেটের আধ্যাত্মিক স্থাপনা শাহ পরাণের মাজার। ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ জালালের অন্যতম সঙ্গী ও অনুসারী শাহ পরাণের কারণে এই  এলাকায় মুসলিম ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়। মাজার জিয়ারত করার জন্যই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সিলেট ভ্রমণে আসেন। বিছনাকান্দি- পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, পাথর প্রকৃতির সবই যেন একত্রিত হয়ে তাদের সৌন্দর্য বিলিয়ে দিয়ে প্রকৃতিটাকে সুন্দর করে তুলছে। আর তাই সিলেট ভ্রমণে আসা পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান বিছানাকান্দি। এখানে পাথরের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার দৃশ্যে সবাই মুগদ্ধ হয়ে যায়। দূর পাহাড়ের খাজের ঝর্ণা শরীরে এনে দেয় শীতর অনুভুতি। আর পাহাড়ের প্রতিনিয়ত থাক্কা খেতে থাকে মেঘ সৌন্দর্যও পর্যটকদের মুগদ্ধ করে। শুকনো মৌসুম ব্যতীত প্রায় সারা বছরই বিছানাকান্দিতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় বর্ষা কালে। রাতারগুল- বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন রাতারগুল। বছরের চার মাস বনটি পানিতে থাকে, বনে আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীগুলি। পানিতে দাড়িয়ে থাকা গাছ দেখতে আসেন পর্যটকরা, বনের ভিতরে ঘুরে দেখার জন্য নৌকা ভাড়া নেন। সুন্দর এই জলাবনকে তুলনা করা হয় অ্যামাজানের সঙ্গে। রাতগাছ থেকেই এই জলাবনের নাম রাতারগুল হয়েছে। ভারতের পাহাড় থেকে পানি এসে জলাবনকে প্লাবিত করে। শীতকালে এটা জলাবন থেকে অন্যান্য স্বাভাবিক বনের মতই হয়ে যায়। জাফলং- পর্যটকদের কাছে জাফলংয়ের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। সিলেট ভ্রমণে গেলে জাফলং না দেখে আসলে ভ্রমণটায় মনে হবে সম্পূর্ণ হয়নি। পাহাড়ের পাদদেশে অসস্থিত জাফলং পরিচিতি পেয়েছে প্রকৃতি কন্যা হিসেবে। এছাড়াও পর্যটকরা বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট সৌন্দর্যের রাণীসহ আরও অনেক নামেই ডেকে থাকেন। জাফলংয়ের সোন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তুপ গুলি। দূরে তাকালে ভারতের পাহাড়ের টিলা, পাহাড় থেকে প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ব্রিজ, পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই সব দেখতে সারা বছরই দেশি বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। মালনীছড়া চা বাগান- চা বাগান যেন নীল আকাশের নীচে সবুজ গালিচা। বাগানের চারপাশে সবুজের সমারোহ, উচু-নিচু টিলায় সবুঝের চাষ। পাহাড়ের টিলার কিনারা ঘেষে করা হয়েছে আকাবাঁকা পথ, মাঝে মধ্যে রয়েছে টিলা বেষ্টিত জনপদ, কোথাও বইছে ঝর্নাধারা। সকালে এককাপ চা না হলে আমাদের চলেই না। আর চা বাগান দেখতে সবারই মন চায়। ভ্রমণের জন্যেও চা বাগান আকর্ষণীয় একটা জায়গা। বাংলাদেশের কয়েকটি জলায় চা-বাগান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সিলেটের চা-বাগান। সিলেটের চায়ের স্বাদ অতুলনীয়। কেউ সিলেট  ভ্রমণে গেলে চা-বাগান অবশ্যই দেখতে যান, আর চাবাগান যারা দেখতে যান তারা প্রথমেই ছুটে যান মালনী ছড়া চা-বাগানে। সিলেট শহরের কাছেই রয়েছে মালনীছড়া চা বাগান। হাকালুকি হাওর- বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর হাকালুকি হাওর। বর্ষাকালে হাওর  বিশাল রুপ ধারন করে প্লাবিত হয় এর সংলগ্ন এলাকা। এই হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরি এবং পানাই নদী। এই জলরাশি কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। হাওরটিতে প্রায় ২৩৮টি বিল আছে। বিলগুলিতে প্রায় সারা বছরেই পানি থাকে। অনেকগুলি খালও রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দিয়া বিল, লাম্বা বিল, মুছনা বিল, দুধাল বিল, চাতলা বিল, জুয়ালা বিল, কাইয়ারকোণা বিল, রাহিয়া বিল, পিংলারকোণা বিল,  চৌকিয়া বিল, ডুলা বিল, ফুটি বিল, তুরাল বিল, তেকুনি বিল, পাওল বিল, বালিজুড়ি বিল, কুকুরডুবি বিল, কাটুয়া বিল, বিরাই বিল, চিনাউরা বিল, মায়াজুরি বিল, বারজালা বিল, পারজালাবিলসহ আরও অনেক বিল। লালাখাল- লালাখালের পাশেই রয়েছে বন, চা-বাগান ও নদী, এই সবকিছু যেন লালাখালকে ঘিরে রেখেছে। শীতকালে এবং যখন বৃষ্টি না হয় তখন লালাখালের পানি রং পান্না সবুজ থাকে। প্রবাহমান পানিতে থাকা খনিজ এবং পানির তলদেশে বালুর কারণেই রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। লালাখাল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, তখান চার পাশের পরিবেশ থাকে মিষ্টি শীতল, আকাশে তাকালে দেখতে পাবেন মেঘের ছুটাছুটি।   এসএইচ/
সুন্দরবনের গহীনে আমরা দুজন (পর্ব ১)

জীবনকে সংগ্রামী করে তুলেছি সেই বহুদিন। যান্ত্রিক শহরের ধুলা-বলি থেকে সহজে মুক্তি মেলেনা। শুধু বছরের দুটি ঈদ ছাড়া। ২০১৬ সালের কথা। সে বছর কোরবানির ছুটিতে ঢাকা থেকে খুলনায় নিজ গ্রামে আসি প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ঈদের দু’দিন আগে প্রিয় খুলনা শহরে আমার আগমন। রুপসী রুপসার কোল ঘেষে আমার বাড়ি। ছুটিতে এসে বেশ ভালোই কাটলো দু’টি দিন। এলাকায় এক প্রতিবেশি বড় ভাই আছেন মাকসুম নাম। সিনিয়র এ ভাই আর আমি খুলনায় থাকা অবস্থায় এক সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতাম। পরবর্তিতে জীবনের সন্ধানে আমি চলে আসি ঢাকায়। তিনিও ঢাকায় নতুন চাকুরিতে যোগদেন। ফটোগ্রাফী আমার ছোট বেলার শখ। সেই যখন প্রথম ক্যামেরা সহ মোবাইল কিনলাম তখন থেকেই একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার চেষ্টা শুরু। ঢাকায় এসে অনেক কষ্টে একটি ক্যামেরা কিনে নিলাম। তবে শুধু ডিজিটাল নয়, একেবারে ডিএসেলার। কেমেরা কেনার গল্পটি আরো দীর্ঘ। সে কথা গোপনই থাক। খুলনায় এসে দেখি মাকসুম ভাইও ডিএসেলার নিয়েছেন। রিতিমতো ক্যামেরার সঙ্গে লেন্সও নিয়েছেন দুটি। আমিতো দেখে অবাক। মাকসুম ভাই আমাকে জানালেন সুন্দরবনের গভীরে দুবলার চরে রাস মেলার কথা। বললেন, তুমি যদি চাও আমি যেতে পারি। আমি কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই রাজি হয়ে গেলাম। এমন সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। তারপরে ফটোগ্রাফী জীবনে এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। তাই তার কথায় কোনো কিছু না ভেবেই রাজি। যেমন কথা তেমন কাজ। আমার মাথায় ভ্রমণের ভুত সেই ছোট বেলা থেকেই। সেখানে এমন একজন মজার মানুষ সঙ্গী হিসেবে পাব জানতাম না। ঈদের দিন কথা হলো পরের দিনই দুজনে দুপুরে রওনা হব। দুবলারচর যেতে কতো টাকা লাগবে আমার জানা নাই। কিভাবে যেতে হবে তাও জানতাম না। এর আগে সুন্দরবন গিয়েছি তবে এতো গভীরে যাওয়া হয়নি কখনো। ক্যামেরার ব্যাগের মধ্যে সামান্য কিছু কাপড় নিয়ে চলে গেলাম মাকসুম ভাইয়ের বাড়িতে। তিনি তো আগে থেকেই প্রস্তুত। থ্রি-কোয়াটার পড়ে ঘাড়ে ক্যামেরা ব্যাগ ঝুলিয়ে আমার অপেক্ষায় আছেন। আমি যেতেই রিক্স নিয়ে ছুটলেন রূপসা ঘাটে। আমাদের এলাকা থেকে রূপসা ঘাট মানে নদী পাড় হয়ে তবে বাসে করে যেতে হয় মংলা। সেখান থেকে লঞ্চ বা ট্রলারে করে দুবলার চর। যাত্রাটা আমার কাছে সহজ মনে হলো। বাসে উঠব। এরপর লঞ্চে করে সোজা দুবলার চর। রিক্সা ২০ মিনিটে গিয়ে রূপসা ঘাটে হাজির। রিক্সায় বসে মাকসুম ভাই বললেন, আমি চিনি না। তবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে হলেও দুই ভাই দুবলার চরে যাব। আমি হাসতে হাসতে বললাম, অবশ্যই। এটাই তো মজা। রূপসা ঘাটে নৌকায় করে নদী পাড়ি দিয়ে বাসে উঠে বসলাম দুই ভাই। বেশ আনন্দই লাগছে। মাকসুম ভাই জানালেন, মংলায় যেতে হবে সন্ধ্যার অনেক আগে। কারণ বিকেলে কিছু টুরিস্ট লঞ্চ সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেই লঞ্চে যদি যেতে পারি তবে ভালো হবে। আমি বললাম ঠিক আছে। এই প্রথম মংলা যাচ্ছি। খুলনার ছেলে তবে সড়ক পথে মংলা যাওয়া হয়নি। এর আগে সুন্দরবনে নদী পথে রুপসা থেকে যাওয়ার পথে মংলা দেখেছি। আমাদের গাড়ী বিকেল ৪টায় মংলা পৌছাল। আমার কাছে ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। মাকসুম ভাই হয়তো বেশি টাকা নিয়ে ছিলেন। তিনি আমাকে এমনই একটি টাকার ধারণা দিয়ে ছিলেন। মংলা দেখতে ভালোই। মংলায় ঠিক নদীর কাছে বাস থামলো। নদী তখন বেশ শান্ত। বাস থেকে নেমে দুজন নদীর পাড়ে গেলোম। আমি তো লোভ সামলাতে পারলাম না। ক্যামেরা বের করে ছবি নিতে শুরু করলাম। মাকসুম ভাই বললেন এখন ছবি তোলার সময় না। আগে আমাদের যাবার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী ঘাটে অনেক নৌকা আর ট্রলার। এপাড় থেকে ওপাড়ে কিছু সময় পর পর নৌকা ছাড়ছে। আমরা এগুলাম। মাঝিদের কাছে জানতে চাইলাম, দুবলার চর যেতে হলে কিভাবে যেতে হবে? তারা কিছুটা মুচকি হেসে বললেন, দেরি করে ফেলেছেন। সকালে কিছু টুরিস্ট দুবলার চর গিয়েছে। তাদের সাথে যেতে পারতেন। আমি বললাম, যা গেছে গেছে। এখন যাবার উপায় কি বলেন। তারা সবাই একই কথা বলতে লাগলো, এখন যেতে পারবেন না। এখন কেউেই যাবে না। দুবলার চর কি এইখানে যে বললেন আর চলে গেলেন। তখনই বুঝলাম জায়গাটি অনেক দুরে। আমি মাকসুম ভাইকে জিজ্ঞাস করলাম, ভাই কতো দুর? তিনি জানালেন, আমি তো জাইনি। তবে শুনেছি সুন্দরবনের গভীরে। মাকসুম ভাই বললেন, মজার বিষয় হচ্ছে- এমন একটি চর সমুদ্রের মধ্যে যেখানে মানুষ বসবাস করেনা। কিন্তু এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়। বিদেশ থেকেও শত শত পর্যটক আসে। তিনি বললেন, তুমি দেখে অবাক হবে যে সেখানে কতো ফটোগ্রাফার বড় বড় লেন্স নিয়ে হাজির হয়। তার কথা শুনে ক্লান্তি আমার দুর হয়ে আরো উৎসাহ পেলাম। কখন আমি চরে যাবে! সেটাই ভাবছি। কোনো মাঝি আমাদের সন্ধান দিতে পারলো না। কি অদ্ভুৎ। এমন একটি জায়গা যেখানে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে অথচ সেখানে যেতে হলে কোনো সহজ উপায় নেই। চিন্তিত হয়ে পড়লাম। পশ্চিম আকাশে সূর্যও লাল হতে শুরু করেছে। আমি কিছুটা হতাশ হলাম। আমাদের অস্থিরতা দেখে একটি নৌকার মাঝি জানালেন, ওপারে কিছু সাংবাদিক কাল অথবা আজ রাতে দুবলার চর রওনা হবে। আপনারা দেখেন তাদের সঙ্গে যেতে পারেন কিনা। নৌকার মাঝি অল্পবয়সী। আমার মতো বয়স হবে। আমাদের হাতে ক্যামেরা দেখে সে মনে করেছে সাংবাদিক। মাকসুম ভাই শখের ফটোগ্রাফার। তবে আমি ঢাকাতে পত্রিকার সাথেই যুক্ত। আমি মাকসুম ভাইকে বললাম, এখন আপনিও সাংবাদিক হয়ে যান। আমি যা বলি তাই করবেন। তিনি হাসলেন। বললেন, চলো তাইলে ওপাড়ে যাই। নদী পাড়ি দিয়ে আসলাম নতুন জায়গায়। সেই মাঝি নিজে আমাদের সেই সাংবাদকদের কাছে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে শুনলাম এটিএন এর মংলা প্রতিনিধি যাবেন সেই বহরে। স্থানিয় আরো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মিলে একটি ট্রলারে করে দুবলার চরে যাবেন তারা। তবে তাদের কারো দেখা পেলাম না। একজন আমাকে এটিএন এর সেই সাংবাদি ভাই এর ফোন নম্বর দিলো। নম্বর নিয়ে সেই সময়ের এটিএন বাংলার মংলা প্রতিনিধিকে ফোন দিলাম। প্রথমে কুশল বিনিময় তারপর পরিচয়। বললাম, ভাই আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আপনার সাথে একটু কথা আছে। আপনাকে কোথায় পাওয়া যাবে। তিনি জানালেন, একটি জরুরী কাজে থানায় গিয়েছেন। ঘন্টাখানেক পরে আসবেন। আমাকে তাদের অফিসে বসতে বললেন। আমরা দুই ভাই তাদের অফিসে বসে রইলাম। অফিসে তখন কয়েকজন বসা ছিলেন। তারা আমাদের জিজ্ঞাস করলেন, কোথা থেকে এসেছেন? কোথায় যাবেন? আমি বললাম, ঢাকা থেকে এসেছি। যাব দুবলার চরে। অনেক কথা হলো তাদের সঙ্গে। আমি ঢাকার পত্রিকার সাংবাদিক শুনে তারা ভালোই ব্যবহার করলেন। একজন জানালেন, আমাদের সঙ্গে গেলেতো ভালোই হবে। আমরা অনেকেই যাব। অপেক্ষা আর শেষ হয় না। দুই ঘন্টা হয়ে এসেছে কারো দেখা নাই। সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এসেছে। আমি মাকসুম ভাইকে বললাম, ভাই সন্ধ্যা তো হয়ে এসেছে চলেন একটু ঘুরে দেখি। মংলাতো এর আগে আসা হয়নি। ভাই রাজি হয়ে গেলেন। তার আগে ওই সেই ভাই কে একটা ফোন করলাম যে তিনি কখন আসবেন। তিনি জানালেন, আরো ঘন্টাখানেক সময় লাগবে। আমি তাকে বললাম, ভাই তাহলে আমরা একটু ঘুরে দেখি। আপনি যদি আগে চলে আসেন তবে আমার এই নম্বরে একটা ফোন দিয়েন। মাকসুম ভাই আমাকে বললেন, চিন্তা করো না, যদি কোনো কাজ না হয় তবে রাতে এখানে কোনো একটি হোটেলে থাকব। ভোরে এখান থেকে অনেক টুরিস্ট দুবলার চর যায়। তাদের একটিতে উঠে যাব। আমিও বললাম ঠিক আছে। দুই ভাই ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে নদীর পাড়ে বাঁধের উপর হাটতে লাগলাম। অনেক সুন্দর জায়গাটা। সন্ধ্যার গোলাপী আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যামেরা দিয়ে সেই রূপ আটকে রাখলাম। সন্ধ্যায় নদীর বুকে সূর্য ঢুবে যাওয়া কি যে অপরুপ, তা চোখে না দেখলে বর্ণনা করা যাবে না। দুজনে অল্প-স্বল্প নিজেদের ফটেশেসনটাও সেরে নিলাম। (চলবে ...) এসএ/  

পাখিদের বিশাল অভয়রণ্য

শহরের জীবনে যান্ত্রিকতার সঙ্গে চলতে চলতে ক্লান্তি আসতেই পারে। হয়তো চিন্তা করছেন একটু দূরে কোথাও দু’একটা দিন একাকি নিরিবিলি সময় কাটিয়ে আসবেন! সে ক্ষেত্রে আমি প্রস্তাব করতে পারি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পানিপাড়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব বা ইকো পার্ককে। যদিও শীতকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিথি পাখির সমারোহ থাকে তবে অরুণিমায় গ্রীষ্মকালেও দেশী-বিদেশী কয়েক হাজার পাখি দেখা যায়। যা এই রিসোর্টের সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মুহুর্তে পাখিদের ব্যপক উপস্থিত দেখা গেছে অরুনিমায়। মোট কথা দিনে দিনে পাখিদের এই উপস্থিতি বিশাল অভয়রণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা শুধু পাখি দেখতেই ছুটে আসছেন প্রতিদিন। দীর্ঘ এক যুগের সাধনায় গ্রামীণ পরিবেশে ৫০ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয়াছে অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় একটি ইকো পার্কটি। অরুণিমা কান্ট্রি সাইড এর নাম। এখানে গাছের ছায়ায়, পাখির গান শুনতে শুনতে, জলের ধারে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায় অনেকটা সময়। আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ আর আধুনিকতার সুপরিকল্পিত সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এই রিসোর্টে। দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় দিক আধুনিক বাংলো, চিড়িয়াখানা, পুকুর, লেক, গোলাপ বাগান, বাটার ফ্লাই পার্ক, ছেড়াদ্বীপ, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, গলফ খেলার মাঠ। অরুনিমার প্রবেশ পথে রয়েছে সারিবদ্ধ মন্দির ঝাউ। অভ্যর্থনা জানানোর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ গাছ। আরও নজর কারবে রাস্তার দুপাশে গড়ে তোলা দেশী-বিদেশি অসংখ্য ফুল গাছের বাগান। এখানকার প্রাইম গার্ডেন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এছাড়া গোলাপ বাগানের সৌন্দর্যেমোহিত হবেন। আছে পাহারবেষ্টিত বাংলো দীঘি। সব কিছু মিলিয়ে এটিসত্যিই একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্থান। এখানে আরও রয়েছে- আধুনিক ও বৈচিত্রময় কটেজ, উন্নত ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, আধুনিক বিজনেস সেন্টার, চিলড্রেন পার্ক, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলার সুবিধাসহ আরও অনেক কিছু। রয়েছে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্যবাহী উপকরণ। ঢেঁকি, পোলো, কোচ, পানের বাটা, হুক্কা, গরুর গাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামীণ উপকরণ ব্যবহার ও প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। লেকে এবং মধুমতি নদীতে ভ্রমনের জন্য অরুণিমাতে রয়েছে লাইফবোট, ডিনার বোর্ট প্যাডেল বোর্ট। রিসোর্ট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে আকর্ষণীয় নৌ পর্যটনও রয়েছে। হাজার হাজার বিরল প্রজাতির ফল ও ফুলের ও বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপন করে অরুনিমাকে প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের এক অপরূপ সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আম, কাঠাল, লিচু, নারকেল, চেরি, স্টার আপেল, জলপাই, পেঁপে, কুল প্রভৃতিসহ অসংখ্য ফলের গাছ রয়েছে। ফুলের মধ্যে ড্যাফোডিল, ক্যামেলিয়া, লিলি, কুমারী পান্থ, পদ্ম, নীলপদ্ম, রঙ্গন, কাঞ্চন, প্রায় দুইশ´ প্রজাতির গোলাপ, মার্বেলটাস্ক, টগর, গ্যালাডুলাসসহ আরো অনেক রকম ফুল এ পর্যটন কেন্দ্রের শোভা বর্ধন করেছে। যেভাবে যাবেন নড়াইল শহর থেকে আপনাকে যেতে হবে কালিয়া উপজেলায়। সেখান থেকে অরুনিমা রিসোর্টে। সেক্ষেত্রে আপনি নড়াইল থেকে যেকোন যানবাহন নিয়ে যেতে পারেন। অথবা আপনার নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন সেখানে। রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ব্যাবস্থা পর্যটকদের আবাসিক সুবিধার জন্য মধুমতি নদীর তীরে গড়ে তোলা এই রিসোর্টে আছে এসি, ননএসি ৩০টি কটেজে ৩৫টি রুম রয়েছে। ২ রুম বিশিষ্ট একটি ভাসমান কটেজ যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ আবাসিক বোটসহ সকল প্রকার কটেজে রয়েছে খাবারের সু-ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে ৪০ বেডের তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি, ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, ট্রেনিং সেন্টার। এসএ/

ঘুরে আসতে পারেন কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম হচ্ছে কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের একটি সৌধ। যা পরিচিতি পেয়েছে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি নামে। সবুজ বৃক্ষ আর পাতাবাহারে বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা এলাকাটি এক সময় ছিল ধানের ক্ষেত, এখন বেশ উন্নত হয়ে পরিণত হয়েছে শহড়ের প্রাণকেন্দ্রে। ওয়ার সিমেট্রির বাইরে খোলা মাঠে ভিড় করে দর্শনার্থীরা। ইতিহাস- ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এ সমাধিসৌধ প্রতিষ্ঠা করে। প্রথম দিকে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত প্রায় ৪০০ সৈন্যের সমাধি ছিল। বর্তমানে আরও ১৭ অজানা ব্যক্তিসহ মোট ৭৩১টি সমাধি রয়েছে। বিশ্বযুদ্ধের পরে অতিরিক্ত মৃতদেহ লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি, পটিয়া এবং অন্যান্য অস্থায়ী সমাধিস্থান থেকে এই সমাধিস্থানে স্থানান্তর করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যামান রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চলাকালীন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতালের সুবিধার কারণে চট্টগ্রামে মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর এই পথিকৃৎ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। যেতে পারেন যেভাবে- যেকোন জেলা থেকে সহজেই চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বাস সার্ভিস রয়েছে। আর ঢাকা থেকে বাস এবং ট্রেন যোগে সহজেই চট্টগ্রাম যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহড় থেকে ওয়ার সিমেট্রি বেশি একটু দূরে নয়, চট্টগ্রামের দামপাড়া এলাকায় ১৯নং বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়কে অবস্থিত। মেডিকেল কলেজ, চারুকলা ইনস্টিটিউট, অথবা ফিনলে গেস্ট হাউসের কাছে পাহাড়ি ঢালু আর সমতল ভূমিতেই ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম। থাকার ব্যবস্থা- চট্টগ্রাম রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকার জন্য বিভিন্ন দামের এবং বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে, একটু খোজ করলেই খুব সহজেই পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের হোটেল।  এসএইচ/

ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম গোলাপ গ্রামে

রাজধানী ঢাকায় বিনোদন কেন্দ্রের বড়ই অভাব। রেস্টুরেন্ট বা ফাস্টফুডের দোকানের বাইরে গুটিকয়েক যা আছে, যানজটের কারণে সেখানেও যেতে চান না অনেকে। তবে নগরীর খুবই কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি জায়গা আছে যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব আরামেই বেড়িয়ে আসতে পারেন। জায়গাটি ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে বেশি পরিচিত। সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রাম এটি। ফুল ভালো না লাগে না এমন কোনো ব্যক্তিও এ গ্রামে গেলে তার ফুলকে ভালো লাগতে শুরু করবেন। পুরো গ্রাম জুড়েই শুধু গোলাপ আর গোলাপের বাগান। সাভার উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত সাদুল্লাহপুর গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাপ ব্যবসায়ী চান মিয়া ইটিভি অনলাইনকে জানান, এ গ্রামের প্রায় ৯৭ ভাগ লোকের জীবিকার উৎস হচ্ছে এই গোলাপ। কেউ গোলাপ চাষের জমির মালিক, আবার কেউ হয়তো সেই জমিতে গোলাপ চাষী হিসেবে কাজ করেন অথবা কেউ গোলাপ কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও জানান, ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে এ গ্রামে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকে। এখানে চাষ হওয়া গোলাপ ঢাকার প্রধান ফুল বাজার শাহবাগ ছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। প্রতি একর জমিতে গোলাপ চাষ করে সব খরচা বাদ দিয়ে একজন ব্যবসায়ীর গড়ে ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা প্রতি মাসে আয় হয়। যেভাবে যাবেন গ্রামটি সাভারে বলে আঁতকে ওঠার কিছু নেই। ঢাকা থেকে ট্রলারে মাত্র ৪০ মিনিটের দূরত্বে এই গ্রাম। রাজধানীর যেখানেই থাকুন না কেন চলে আসুন মিরপুর ১ নম্বরের দিয়াবাড়িতে। খেয়াল রাখবেন এটা কিন্তু উত্তরা দিয়াবাড়ি নয়! দিয়াবাড়িতে এসে কাউকে জিজ্ঞেস করুন সাদুল্লাহপুর ঘাট কোথায়। যদি সাদুল্লাহপুর ঘাট পেয়ে যান তাহলে ট্রলারও পাবেন। প্রতি আধা ঘণ্টা পর এখান থেকে ট্রলার ছেড়ে যায় সাদুল্লাহপুরের উদ্দেশ্যে। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। তুরাগ নদীর জলে ভাসতে ভাসতে ৪০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন গোলাপ গ্রামে। গোলাপ গ্রামে যা দেখবেন তা তো আছেই এর বাইরে নৌকা ভ্রমণ হবে বোনাস। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত চলাচল করে এসব ট্রলার। ট্রলার থেকে নামার পর ঘাটেই গোলাপ গ্রামে যাওয়ার জন্য রিকশা পাবেন। ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেবে প্রতি রিকসা। এছাড়া অটো ইজি বাইক আছে। চাইলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা খরচে রিজার্ভ করেও যেতে পারেন। যেভাবে যাবেন সেভাবেই ফিরে আসতে পারবেন। হারিয়ে যেতে নেই মানা গোলাপ গ্রামে পৌঁছে পায়ে হেটে ঘুরে দেখতে পারেন পুরো গ্রাম। অথবা নৌ-ঘাট থেকেই রিজার্ভ করে নিতে পারেন একটি রিক্সা। সে রিক্সাই ঘুরে দেখতে পারেন পুরো গ্রাম। তবে বাগান ঘুরে দেখতে হলে রিক্সা থেকে কিন্তু মাটিতে পা নামাতেই হবে। সাধারণত গ্রামের বেশিরভাগ বাগানই ঘুরে দেখতে পারবেন আপনি। তবে কেউ কেউ বাগানে প্রবেশের জন্য প্রবেশমূল্য নেয়। ২০ টাকা জনপ্রতি। পুরো গ্রামীণ পরিবেশে কিছু সময় ব্যয় করতে ভালই লাগবে। কাঠখোট্টা নগর জীবন থেকে নগরীর এত কাছেই এমন পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বড় একটি গোলাপের বাগানে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি যেন চারদিক থেকে ঘেরা এক গোলাপের সমুদ্রে দাঁড়িয়ে আছেন।  গোলাপ গ্রাম ঘুরতে আসা রাজধানীর গ্রীন ইউনিভার্সিটির প্রভাষক রাসেল কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকার অদূরেই গোলাপ গ্রাম নামে যে এত সুন্দর একটি জায়গা আছে এখানে না আসলে তা বুঝতামই না। ঢাকা শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে অল্প একটু দূরত্বে এসে এত সুন্দর আর নয়নাভিরাম দৃশ্য তা আসলেই মনোমুগ্ধকর। আর এর পাশাপাশি ট্রলারে করে এখানে আসা ও যাওয়ার সময়টুকুও বেশ উপভোগ করার মত।’ তিন টাকায় প্রিয়জনকে দিন গোলাপ গোলাপ গ্রাম ভ্রমণের পাশাপাশি লাল টুকটুকে গোলাপ কিনতেও পারবেন এখানে। প্রতিটি গোলাপের দাম পড়বে ৩টাকার মত। এছাড়া স্থানীয় কিছু সবজি খেতে চাষ করা শাক-সবজিও পাবেন। ঢাকার বাজার দর থেকে খুবই কমদামে একদম সতেজ এসব সবজিও কিনতে পারেন। সাবধানতা এখানে বেড়ানোর ব্যাপারে কিছুটা সচেতন আর সাবধান হতে হবে আপনাকে। খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি একটি গ্রাম এবং এখানকার মানুষেরা গ্রাম্য সংস্কৃতিতেই জীবন যাপন করেন। তাই এখানে এসে খুব হইচই অথবা হুল্লোড় না করাই উচিত। আর বিশেষ করে কারও বাগানে প্রবেশের আগে সেখানকার কারও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা উচিত। প্রবেশের পর সাবধানে হাটাহাটি করুন যেন বাগান অথবা গোলাপ কলামের যেন কোন ক্ষতি না হয়। এআর/

ঘুরে আসুন পাথুরে জাদুঘর

পঞ্চগড় জেলার সরকারি মহিলা কলেজে রয়েছে দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর। পাথরের জাদুঘরটি ‘রকস মিউজিয়াম’ নামেই পরিচিত। বিচিত্রকে স্বচক্ষে দেখায় যাদের আগ্রহ তারা ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারে এই পাথুরে জাদুঘর। রকস মিউজিয়ামটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নতুন এবং পুরনো পাথর। প্রতিটি পাথরের পাশেই আলাদা আলাদা করে লেখা আছে পাথরটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা সংগ্রহ করেছেন তার বর্ণনা। মিউজিয়ামটিতে নুড়ি পাথর, পাললিক শিলা, আগ্নেয় শিলা, সিলিকা নুড়ি ও সিলিকা বালি, হলুদ ও গাঢ় হলুদ বালি, খনিজবারি, কাঁচবালি, লাইমস্টোন, পলি ও কুমোর মাটি, কঠিন শিলাসহ আরও অনেক ধরনের প্রত্নসম্পদ রয়েছে। আরও রয়েছে প্রায় হাজার বছর আগের ডিঙ্গি নৌকা। ঢাকার শ্যামলিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার গাড়ি পাওয়া যায় ভাড়া লাগবে প্রায় ৫০০ টাকা এবং পঞ্চগড় পৌছতে সময় লাগবে ১২ ঘন্টা। পঞ্চগড়ে বাস থেকে নামার পড় রিক্সায় যেতে পারেন পাথরের জাদুঘর, রিক্সা ভাড়া লাগবে ২টাকা, পাথরের জাদুঘর অথবা রক্সমিউজিয়াম বললে অনেকে চিনতে পারবেনা তাই বলবেন সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজের দুটি ফটক আছে, দূরের ফটক দিয়ে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন পাথরের জাদুঘর। পঞ্চগড়ে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে, একটু খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের হোটেল।  

সমুদ্র ঢেউয়ের সৌন্দর্য পেতে ঘুরে আসুন পতেঙ্গা

দেশের ভেতরে ভ্রমণের তীর্থস্থান চট্টগ্রাম। এখানে বহু পর‌্যটন স্পট রয়েছে। রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারসহ দৃষ্টিনন্দন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম ভ্রমণে গিয়ে পতেঙ্গা না দেখে ফিরে এলে আসলে আপনার ভ্রমনটা অসম্পূর্ণই রয়ে যাবে। সৈকতকে রক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে বেড়িবাঁধে হেটে হেটে দেখতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মোহনীয় রূপ। বেড়িবাঁধের উপর লাগানো সবুজ ঘাস দেখে মন জুড়িয়ে যাবে। মনে হবে প্রকৃতির বুকে ঘাসের সবুজ কার্পেট। সৈকতে ভ্রমণপ্রেমিদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে সৈকত ভ্রমণের নানা রকম সুযোগ সুবিধা। যতায়াতের রাস্তাটাও স্ংস্কার করে আগের চেয়ে অনেক উন্নত করা হয়েছে। রয়েছে জোরদার নিরাপত্তা। সৈকতের পাশে এবং ঝাউ বনে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। সমুদ্রে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য রয়েছে স্পীড বোট। সমুদ্র তীরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে সী বাইক ও ঘোড়া। ঝাউবন ঘেষে উত্তর দিকে একটু সামনেই রয়েছে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলি নদীর মোহনা। সৈকতে বেড়ানোর সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটা নিরাপদ নয়। জোয়ারের সময় সমুদ্র হয়ে উঠে উত্তাল। আর তাই সমুদ্র সৈকতের ভাঙ্গল ঢেকাকে দেয়া হয়েছে কংক্রিটের দেয়াল আর বড় বড় পাথর খন্ডের বাধ। পতেঙ্গার সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে নেভাল সমুদ্র সৈকত। সেখানে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন কয়েক শত জাহাজ সুদ্রে ভেসে থাকার দৃশ্যসহ অনবিল সুন্দর একটা পরিবেশ। কিভাবে যাবেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অথবা নেভাল সমুদ্র সৈকতে যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকে বাস অথবা সিএনজি যোগে যাওয়া যায় পতেঙ্গা সমুদ্র সেকতে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়ক, রেল ও আকাশ পথেও যেতে পারেন। কোথায় থাকবেন পতেঙ্গা সমুদ্রের কাছেই থাকার জন্য রেস্ট হাউজ রয়েছে যার ভাড়া সর্বনিম্ন প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। সস্তায় থাকতে হলে হলে চট্টগ্রাম শহড়ে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। / এআর /  

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন পটুয়াখালী

কুয়াকাটার অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন। যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় বিরাট এক অগ্নিকুণ্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। আবার সূর্যাস্তের সময় সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় সূর্যটা। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি-ঘর। পূর্ণিমার রাতে সি-বিচের সৌন্দর্য সবকিছুকে হার মানায়। চাঁদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউগুলো যেন কাছে ডাকে। এমন সৌন্দর্য দেখতে হলে ঘুরে আসেতে হবে পটুয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো। যেখানে হাতছানি দেয় নৈসর্গিক সৌন্দর্য। কুয়াকাটার ইতিহাস- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে আরকানদের এদেশে আগমনের ইতিহাস। `কুয়া` শব্দটি এসেছে `কুপ` থেকে। কুয়াকাটা নামকরণের ইতিহাসের পেছনে যে কুয়া সেটি এখনও টিকে আছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরানীপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন কুয়ার অবস্থান। ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আরকানরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তাদের মাধ্যমেই এই স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বার্মিজ রাজা বোদ্রোপা আরকান জয় করে রাখাইনদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ১৫০টি রাখাইন পরিবার বার্মিজদের হাত থেকে মুক্তির জন্য ৫০টি নৌকায় তিনদিন তিনরাত বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন মৌডুবি এলাকায় উপস্থিত হন। উক্ত অঞ্চলটি তখন বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তারা বনের হিংস্র জীব জন্তুর সঙ্গে যুদ্ধ করে, জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে ধান ফল-মূলের বীজ বপন করে জীবীকা নির্বাহ করতো । তখন ওই বনের কোন নাম ছিল না থাকলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন তার নাম জানত না। যার ফলে সাগর পাড়ি দিয়ে ওই স্থানে বসবাস শুরু করায় রাখাইন ভাষায় তারা নামকরণ করে কানশাই। কিন্তু রাখাইন লোকজন এখানে বসবাস করলেও তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়ায় পানি। সাগরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা খাওয়া সম্ভবপর ছিল না। এজন্য তারা নিজ উদ্যোগে একটি কুয়া খনন করে তা থেকে মিঠা পানি পান করত। মিঠা পানির কুয়ার নামানুসারে স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা। কুয়ার কাছেই তারা স্থাপন করে ৩৭ মণ ওজনের ধ্যানমগ্ন অষ্টধাতুর বৌদ্ধ মূর্তি। মন্দিরের নির্মাণ সৌন্দর্যে ইন্দোচীনের স্থাপত্য অনুসরণ করা হয়। দেখলে মনে হবে থাইল্যান্ড, লাওস বা মিয়ানমারের কোন মন্দির। প্রায় সাড়ে তিন ফুট উঁচু বেদির ওপর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮৩ বছর পূর্বে অষ্টধাতুর ওই মূর্তিটি ওই স্থানে স্থাপন করা হয় বলে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়। প্রায় সাত ফুট উচ্চতার এ বৌদ্ধ মূর্তিটি স্থাপন করেন উপেংইয়া ভিক্ষু। মন্দিরের নীচেই হচ্ছে ঐতিহাসিক কুয়াটি। বর্তমানে সেই কুয়ার পানি খাওয়ার অনুপযোগী অর্থাৎ পরিত্যক্ত। তারপরও কুয়াকাটার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কুয়াটিকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য- কুয়াকাটার অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো কঠিন। যা শুধু দেখলেই উপভোগ করা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় বিরাট এক অগ্নিকুণ্ড আস্তে আস্তে সাগর ভেদ করে আসমানের উপরে দিকে উঠে যাচ্ছে। আবার সূর্যাস্তের সময় সাগরের ঢেউয়ের মধ্যে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় সূর্যটা। মনে হয় সাগরের মধ্যেই সূর্যের বাড়ি-ঘর। পূর্ণিমার রাতে সি-বিচের সৌন্দর্য সবকিছুকে হার মানায়। চাঁদের আলোয় বিশাল বিশাল ঢেউগুলো যেন কাছে ডাকে। আর অমাবস্যায় অন্ধকার রাতে দেখা যায় আরেক দৃশ্য ফসফরাসের মিশ্রণে সাগরের ঢেউগুলো থেকে আলোর বিচ্ছুরণ ছড়ায়। কুয়াকাটার সি-বিচের সৌন্দর্য লিখে শেষ করা সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।  কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সারা বছরই দেখা মিলবে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গা-মতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার এবং বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি কুয়াকাটার যে স্থানগুলোভ্রমণ-পিয়াসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরুপ- কুয়াকাটার কুয়া- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে রয়েছে প্রাচীন কুপগুলোর মধ্যে একটি কুপ। তবে বারবার সংস্কারের কারণে এর প্রাচীন রূপটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়। শুঁটকি পল্লী- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সাত কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। এখানে অনেক জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। দেখতে পায় জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য। গঙ্গা-মতিরজঙ্গল- কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গা-মতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে আছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি। ক্রাব আইল্যান্ড- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেলে আছে ক্রাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জনতা পেলে এ জায়গার সৈকত লাল করে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে। ফাতরার বন-   আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের মত এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। বন মোরগ, বানর আর নানান পাখি আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরের দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। সীমা বৌদ্ধ মন্দির- কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই সীমা বৌদ্ধ মন্দির। কাঠের তৈরি এই মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে দালান তৈরি করা হয়েছে। তবে মন্দিরের মধ্যে এখনও আছে প্রায় ৩৭ মণ ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধ মূর্তি। কেরানীপাড়া রাখাইন পল্লী- সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানীপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। শীত মৌসুমে পোশাক তৈরির ধুম পড়ে কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীগুলোতে । দিন-রাত পরিবারের সবাই মিলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক। আর এই পোশাক কিনতে ভিড় করে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। কুয়াকাটা কাঠের নৌকা-   ২০১২ সালে কুয়াকাটা ঝাউবন সংলগ্ন সৈকতে ৬২ হাত লম্বা ও ১৬ হাত চওড়া ঐতিহ্যবাহী একটি সাম্পান বালু ক্ষয়ে ক্ষয়ে শতবছর পর জেগে ওঠে। এটিকে কুয়াকাটা সৈকত লাগোয়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন টিনশেডের একটি বেষ্টনীর ভিতর স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি নৌকা জাদুঘর নামে পরিচিত । প্রতিদিন শত শত দর্শর্ণাথী এ নির্দশনটি দেখতে ভীড় করে। বাউফলের মৃৎশিল্প- বাউফলের মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিলাস সামগ্রী এখন বিশ্ব বাজারে। পটুয়াখালীর বাউফলের মাটির তৈরি মৃৎশিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে নান্দনিক বৈচিত্রের শৈল্পিক সম্ভার নিয়ে এখন বিশ্ব বাজারের দোকানে ঠাঁই নিয়েছে। মৃৎশিল্পীদের মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন বিলাস সামগ্রী ইটালি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইউকে, স্পেন, জাপান, ইউএস ও নিউজিল্যান্ডে বেশ চাহিদা থাকায় ওই সমস্ত দেশে রফতানি হয়। এখানে গার্হস্থ্য জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন হাড়ি, পাতিল, কলস, থালা, বাসন , জলকান্দা, জালের কাঠি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। সোনার চর - পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে জেগে ওঠে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সোনার চর। এখানে রয়েছে বিস্তৃত বনভূমির পাশাপাশি সাত কি.মি. দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংরক্ষিত এ বনভূমি বন্য প্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। সোনার চরকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রুপ দেওয়ার উদ্দেশ্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ, এগুলো বাস্তবায়ন হলে সোনার চর হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আর্কষণীয় বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র। মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে আছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে এ মন্দিরের ভেতরে আছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে আছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি। পায়রা নদীর ইলিশ মাছ-   পটুয়াখালী জেলার পায়রা নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। পায়রা নদীর ইলিশ স্বাদে অতুলনীয় বলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এর কদর রয়েছে। পযটক যারাই পটুয়াখালীতে আসে পায়রা নদীর ইলিশের স্বাদ নিতে কখনোই ভুল করে না।  এই মাছ বেশি লবণাক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। এই মাছ বড় বড় নদী এবং তৎসংলগ্ন  সাগর মোহনায় পাওয়া যায়।  এসএইচ/  

ঘুরে আসুন ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ

মসজিদ মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাবলীর প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রার্থণা করা ছাড়াও শিক্ষা প্রদান, তথ্য বিতরণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। বাংলাদেশে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহি মসজিদ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। একটা সময় ছিলো যখন বাগেরহাট পিসি কলেজে যাতায়াত করতাম। তাছাড়া আমি খুলনার ছেলে, তাই বাগেরহাট যাওয়া হয়েছে বহুবার। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে যাওয়া হয়েছে অনেকবার। নামাজও আদায় করেছি। তবে যতবারই সেখানে যাওয়া হয়েছে ডুবে গেছি ইতিহাসের মাঝে। কারণ বাংলাদেশে নির্মিত প্রাচীন আমলের মসজিদগুলোর মধ্যে সর্ববৃহত মসজিদ এটি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাচীন এ মসজিদটিকে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্টেইজ’ হিসাবে মর্যাদা দেয়। মসজিদটি বাগেরহাট শহরকে বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহরের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে। অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোকিটার দুরে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাসে ষাটগুম্বজ বাসস্টপেজ লাগোয়া সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত ষাটগম্বুজ মসজিদটি। মসজিদের নাম অনুসারেই বাসস্টপেজের নামকরণটি করা হয়েছে। ইতিহাস মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে নিশ্চিত ভাবে ধারণা করা হয় এটি খান-ই-জাহানের নির্মিত। ধারণা করা হয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ‘খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান’ (খানজাহান আলী (রঃ) নামে বেশি পরিচিত) মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের পূর্বদিকে (১২৫মি. দুরে) ‘কোদালধোয়া’ দিঘি, পশ্চিমে বিশাল আকারের ‘ঘোড়াদিঘি’ উত্তরে (৩’শ মিটার দুরে) খানজাহানের ‘বসত ভিটা বা ঢিবি’ এবং দক্ষিনে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক। খানজাহানের দরগাহ থেকে মসজিদটির দুরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। আকৃতির বিচারে বাংলাদেশের ভূখন্ডে অবস্থিত মধ্যযুগীয় মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি হযরত খান জাহান (রহ:) এর সর্ববৃহৎ কীর্তি/নিদর্শন। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৮ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু। মসজিদের ভেতরে মেঝে হতে ছাদের উচ্চতা প্রায় ২১ ফুট। মসজিদটি ষাটগম্বুজ নামে পরিচিত হলেও এতে মোট গুম্বজ আসে ৮১টি। মসজিদের চার কোনের মিনার বা বুরুজের উপরের ৪টি গুম্বজ বাদ দিলে গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি। আর ৭৭টি গম্বুজের মধ্যে ৭০ টির উপরিভাগ গোলাকার এবং মধ্যের একটি সারিতে ৭টি গুম্বজ চারকোণবিশিষ্ট। দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজটির ভিতর দিয়ে উপরে (ছাদে) উঠার সিঁড়ি আছে। এর নাম ‘রওশনকোঠা’। উত্তর-পূর্ব কোনের বুরুজটির নাম ‘আন্ধারকোঠা। এটিতেও উপরে ওঠার সিঁড়ি ছিলো যা বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ষাটগম্বুজ মসজিদের পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বি ভাগে ৭টি সারিতে বিভক্ত (৭x১১) মোট ৭৭টি গুম্বজ আছে। গুম্বজগুলোর ছাদ-পরিকল্পনার এই ভার বহনের জন্য নিচের অংশে সারিবদ্ধভাবে (৬x১০) ৬০টি পাথরের থাম বা পিলার আছে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এই ষাটটি থামের অস্তিত্ব থেকেই মসজিদটির নাম হয় ‘ষাটখাম্বাজ’ সেখান থেকে কালের বিতর্তনে বিকৃত কথ্যরূপ ‘ষাটগম্বুজ’। আবার কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে এ মসজিদের ‘সাত গম্বুজ’ এবং তা থেকে ‘ষাটগম্বুজ’ নাম হয়েছে। নাম করণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের আরেকটি মত হচ্ছে, মসজিদটির ছাদ সমান নয় গুম্বুজ আকৃতির। অর্থাৎ ছাদে গুম্বজ। যার থেকে মসজিদটি ‘ছাদ গুম্বুজ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। সেখান থেকে কথ্যরুপ ‘ষাটগুম্বুজ’ নাম হয়েছে।                                                        পূর্বের স্তম্ভ বা পিলার জনশ্রুতি আছে যে, হযরত খানজাহান (রঃ) ষাটগুম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্রগ্রাম, মতামত্মরে ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্রে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। মসজিদের ভিতরে পশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব আছে। মাঝের মিহরাবটি আকারে বড় এবং তুলনা মূলক অধিক কারুকার্যমন্ডিত। এ মিহরাবের দক্ষিণে ৫টি ও উত্তরে ৪টি মিহরাব আছে। শুধু মাঝের মিহরাবের ঠিক পরের জায়গাটিতে উত্তর পাশে একটি ছোট দরজা। ধারণা করা হয়, খান-ই-জাহান এই মসজিদটিকে নামাযের কাজ ছাড়াও দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন, আর এই দরজাটি ছিলো দরবার ঘরের প্রবেশ পথ। আবার কেউ কেউ বলেন, মসজিদটি সেসময় মাদ্রাসা হিসেবেও ব্যবহৃত হত। মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। পশ্চিম দিকের প্রধান মেহরাবের পাশে ১টি সহ ষাটগুম্বুজ মসজিদের মোট ২৬টি দরজা আছে। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার বা বুরুজ আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড ও চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা, ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি ছিলো এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিলো। এদের নাম ‘রওশনকোঠা’ ও ‘আন্ধারকোঠা।                                           মসজিদের ভেতরে বর্তমান স্তম্ভ বা পিলার মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলারই পাথর কেটে বানানো হয়েছে। এদের কয়েকটি আবার পাথরের বাহিরাবরণে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঢাকা ছিল। খুব সম্ভাব মসজিদের প্লাস্টার বিহীন দেওয়ালেন সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এমনটা করা হয়েছিলো। বর্তমানে সংরক্ষণের জন্য পাথরের পিলারগুলো ঢেকে দেওয়া হলেও দর্শনার্থীদের জন্য একটি পিলার উন্মুক্ত আছে। আরও জানা যায়, সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান (রঃ) সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান তার প্রশাসনিক রাজধানীতে শাসনকার্য পরিচালনা এবং বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত। এর পরিকল্পনার সাথে দিল্লি ও লাহোরের বাদশাহী মসজিদের মিল রয়েছে। মসজিদটিতে তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট। কিভাবে যাবেন ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ ও ইগল পরিবহণের গাড়ি ছাড়ে। এই বাসগুলোতে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া লাগে। এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজিতে করে বাগেরহাট আসতে পারবেন। কোথায় থাকবেন বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, তবে মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, তবে খরচ একটু বেশি। এছাড়া বাগেরহাট সদরে সরকারি গেস্টহাউস, হোটেল অভি (০১৮৩৩৭৪২৬২৩) ছাড়াও কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন (০৪৬৮-৬৩১৬৮, ০১৭১৮৬৯২৭৩৭) এবং হোটেল মোহনা (০৪৬৮-৬৩০৭৫, ০১৭২২৮৫৮৩১৩) তে ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় রাত্রি যাপন করতে পারবেন। খুলনা থেকে বাগেরহাট বাসে যেতে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় লাগে তাই রাত্রি যাপনের জন্য প্রয়োজনে চলে আসতে পারেন খুলনা বিভাগীয় শহরে। খাবার সুবিধা এখানে কিছু সাধারণ মানের খাবার হোটেল রয়েছে তাই খাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড কিংবা দরগার কাছে হোটেলগুলোতে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই খাবারের মান ও দাম সম্পর্কে জেনে নিন। এসএ/

ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির দর্শণীয় স্থানগুলো

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি জেলা। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত দেশের বৈচিত্রময় জনপদ। পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা নির্মল প্রকৃতি। পর্যটকের মনে হবে, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এটিকে গড়ে তোলেছে। এ জেলার সর্বত্রই দর্শনীয় স্থান, যেদিকে তাকাবেন আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন, পর্যটকরা খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে ভিড় করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলির অন্যতম হলো- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলার ঝর্ণা বা রিছাং ঝর্ণা, আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, দেবতার পুকুর (দেবতার লেক), শান্তিপুর অরণ্য কুটির, বিডিআর স্মৃতিসৌধ   আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র- ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটক স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি যাওয়ার সময়ই আপনার চোখে পড়বে পর্যটন কেন্দ্রটি। পর্যটন কেন্দ্রটির সামনে দাড়ালেই আপনি ভিতরে প্রবেশের লোভ সামলাতে পারবেন না। পর্যটন কেন্দ্র থেকে দূরে তাকালেই দেখতে পাবেন খাগড়াছড়ি শহর, আকাশ আর পাহাড়ের সৌন্দর্য। এর সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক জেলা প্রশাসক লিখেছিলেন যা অনেকটা এ রকম-‘‘ক্লান্ত পথিক ক্ষণেক বসিও আলুটিলার বটমূলে, নয়ন ভরিয়া দেখিও মোরে চেঙ্গী নদীর কোলে।’’   পর্যটন কেন্দ্রটিতে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গুহায় যাওয়ার সিড়ি, বসার সুব্যবস্থা ও বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। আপনি যখন পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠবেন খাগড়াছড়িকে দেখে দার্জিলিংয়ের কথা মনে পড়ে যাবে, মনে হতে পারে আপনি দার্জিলিং দেখছেন। বছরের প্রত্যেকটা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় পর্যটন কেন্দ্রটিতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছু্টে যান সেখানে। কিভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ি সদর থেকে বাস, অটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেলেও সল্প সময়ের মধ্যেই যাওয়া যায়। রিছাং ঝর্ণা ঝর্ণার জলরাশি উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে। জলধারা নীচে নেমে যাচ্ছে উচু পাহাড় গড়িয়ে। ঝর্ণার কাছে দাড়ালেই দেহ মন ভরে উঠবে পবিত্র স্নিগদ্ধতায়। সেখানে যাওয়ার আগে ঝর্ণার সৌন্দর্য সম্পর্কে যতটুকু কল্পনা করে থাকবেন তার চেয়েও অনেক সুন্দর জায়গা। ছর্ণা পর্যন্ত যাতায়াতের উচুনিচু রাস্তা আর পাশের তাকালেই দেখতে পাবেন পাহাড় আপনাকে এনে দিবে রোমাঞ্চকর অনুভুতি। মারমা ভাষায় ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ’ছাং’ শব্দের অর্থ ঝর্ণা। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণা দেখতে প্রতিদিনেই পর্যটকরা ভিড় করেন। যেভাবে যাবেন- রাঙ্গামাটি শহর থেকে আলুটিলা থেকে সামান্য দূরত্বেই ঝর্ণাটির অবস্থান। যাতায়াতের জন্য রয়েছে চান্দের গাড়ি, কার এবং মোটরসাইকেল।   আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রটির প্রধান আকর্ষণই গুহা। আলুটিলা সুড়ঙ্গটি দেখতে হলে পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিড়ি বেয়ে নামতে হবে পাহাড়ের পাদদেশে। সুড়ঙ্গটি পাথর আর শিলা মাটির ভাঁজে গড়া। প্রায় ১৮ ফুট ব্যাসের গুহামুখ আর গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ ফুট। সুড়েঙ্গের ভিতরে গা ছমছম অন্ধকার, গুহার তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে চলেছে জল। গুহায় প্রবেশ করার জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে মশাল কিনে নিতে পারেন  গুহার কাছে থেকেই। গুহার একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হতে সময় লাগবে প্রায় ১০/১৫ মিনিট। যেভাবে যাবেন- পর্যটনকেন্দ্রটি অবস্থান খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে ট্যাক্সিযোগ অথবা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়। দেবতার পুকুর (দেবতার লেক) দেবতার পুকুরটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। যার উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে। পুকুরটিকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য নানা কল্প কাহিনি। পুকুরটির চারপাশের বন জঙ্গল দেখে মনে হবে দেবতা নিজ হাতে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছেন। পুকুরের স্বচ্ছ জলরাশি এনে দিতে পারে প্রশান্তি, আবার কেউবা জলের দিকে তাকিয়ে হয়ে যেতে পারেন উদাস। পুকুরটি পরিগণিত হয় ত্রিপুরাদের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে। তীর্থ মেলা বসে প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিতে। কথিত আছে, স্থনীয়দের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য স্বংয় দেবতা পুকুরটি খনন করেছিলেন। স্থানীয়রা পুকুরের পানিকে আশীর্বাদ মনে করে। প্রচলিত আছে পুকরের পানি কখনো কমে না, পুকরের তলায় লুকায়িত গুপ্তধন দেবতারা পাহাড়া দিচ্ছেন। অনেকের ধারনা এখানে এসে সৃষ্টিকর্তার কাছে কিছু চাইলে মনের আশা পুরন হয়। যেভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ি থেকে মহালছড়ি হয়ে রঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণে মূল রাস্তা হতে চার কিলোমিটার পশ্চিমে নূনছড়িতে পুকুরটি অবস্থিত।   শান্তিপুর অরণ্য কুটির বিশাল অরণ্যের মাঝে এক কুটির। জনশ্রুতি আছে ভিক্ষুরা নিরিবিলি পরিবেশে প্রাকৃতিক পরিবেশে ধ্যান করার জন্য কুটিরটি ব্যবহার করতেন। এটি মূলত একটি বৌদ্ধ মন্দির। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তিটি এখানেই রয়েছে। জায়াগটি সবার জন্যই উন্মুক্ত, সব ধর্মের লোকদের অবার যাতায়াত রয়েছে সেখানে। তীর্থ স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিনই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে সমাগম ঘটে হাজার হাজার লোকের। যেভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অবস্থিত শান্তিপুর অরণ্য কুটির। বাসে পানছড়ি গিয়ে সেখান থেকে কার অথবা জীপে যেতে পারেন গন্তব্যে। এছাড়াও বিডিআর স্মৃতিসৌধসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে খাগড়াছড়িতে।   এসএইচ/        

পাহাড়, সবুজ বন-বনানী আর মেঘের দেশ বান্দরবান

সুউচ্চ পাহাড়, সবুজ বনানী, ঘন মেঘমল্লার দল, বাহারি রংয়ের আকাশ, সাঙ্গুর বহতা স্রোত, দুর্গম অরণ্য ঘেরা হাজারো ঝরনা ধারায় বেঁচে থাকা পাহাড়- সব মিলিয়ে প্রকৃতির লীলাভূমি বান্দরবান। পাহাড়ে ঘেরা মনোমুগ্ধকর নানা দৃশ্যপটে ভ্রমণকারীর দু`চোখ ক্ষণে ক্ষণেই আটকে যাবে। হৃদয় দোলানো রূপের মাদকতায় যে কেউ বিভোর হয়ে যাবেন নিশ্চিত। তাই বান্দরবানকে অনেকেই রূপের রাণী বলে থাকেন। আবার কেউ কেউ একে পাহাড়ী কন্যাও বলেন। বান্দরবানের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, বগা লেক, নীলাচল, শৈল প্রপাত, জীবন নগর পাহাড়, মিরিঞ্চা, আলী সুড়ঙ্গ, তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং, ক্যামলং জলাশয়, উপবন লেক, কানাপাড়া পাহাড়, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, প্রান্তিক লেক, শ্রভ্র নীল প্রভৃতি। বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে সব সময় পর্যটকদের উপচে-পড়া ভিড় থাকে। যে কোনো মৌসুমের শুরুতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান। শহরের হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউসগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। এই শীতের শুরুতে পর্যটন শহর বান্দরবান এখন মানুষের মিলন মেলা, হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। চিম্বুক পাহাড় বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান চিম্বুক পাহাড়। পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য দেখতে যেতে পারেন চিম্বুক পাহাড়ে। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং হিসেবেও ডাকা হয়। চিম্বুকের চমৎকার দৃশ্য আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। যাত্রাপথের আঁকা-বাঁকা রাস্তা আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। আর নিচ দিকে তাকালে মনে হবে আপনি সাদা মেঘের মাঝখানে ভেসে আছেন। চিম্বুক পাহাড় যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন।   কেওক্রাডং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছোটবড় পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখিতে ভরপুর দুর্গম এলাকাটিতে আরও রয়েছে ঝর্ণাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং আকাশে মেঘের লুকোচুরি। শীতের মৌসুমে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকরা ছুটে যায় কেওক্রাডং দেখতে। আপনিও অবাক হয়ে যাবেন সেখানের সৌন্দর্যে। কেওক্রাডং যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/ মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন। ঢাকা থেকে বান্দরবান, বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়িতে রুমা উপজেলা, রুমা বাজার থেকে প্রায় ২৫০০ টাকায় চান্দের গাড়িতে করে বগা লেক পর্যন্ত যাবেন। বগা লেক থেকে জদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য একজন গাইড নিতে হবে। গাইড ভাড়া দিন প্রতি প্রায় ৬০০ টাকা, ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আর তাই রাতটা আপনাকে বগালেকে কাটাতে হবে। পরদিন ভোরে যাত্রা শুরু করতে হবে দার্জি পাড়ার উদ্দেশ্যে, সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে রওনা দিতে হবে কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশ্যে। কেওক্রাডং পৌঁছে সেখানে সময় কাটিয়ে রওনা দিতে পারেন জাদিপাই ঝর্ণার উদ্দেশ্যে। মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স বান্দরবানের বিশেষ আকর্ষণ মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, শিশুদের জন্য পার্ক, সাফারী পার্ক, কিছুক্ষণ  জলে ভাসার জন্য রয়েছে পেডেল বোট, ঝুলন্ত ব্রিজ, চিড়িয়াখান এবং পিকনিক করার জন্য পিকানিক স্পটও। মেঘলায় চিত্ত বিনোদনের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াতে ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/ মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করত পারেন। বান্দবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি বেবি টেক্সি, জিপ যোগে যাওয়া যায় মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে। বগা লেক বগালেক প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ের উপরে একটি লেক। যার পানি স্তর সারা বছরই প্রায় একই অবস্থানে থাকে। এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন। আপনি যদি শুষ্ক মৌসুমে বগালেক যেতে চান, তাহলে বান্দরবান থেকে প্রায় ৭৫০০ টাকায় চান্দের গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন।   আলী সুড়ঙ্গ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গহীন অরণ্যেও অবস্থিত এক রহস্যময় গুহা আলু সুড়ঙ্গ। হাতে টর্চ জালিয়ে সিড়ি বেয়ে সুড়ঙ্গের ভিতরে নামার সময় অনুভব করবেন এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। শত পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটক প্রতিনিয়ত ছুটে আসে সুড়ঙ্গ দেখতে।   উপবন লেক  উপবন লেক একটি কৃত্রিম হ্রদ। মাছ ধরার শখ অথবা নেশা থাকলে কিংবা বান্দরবনে গিয়ে নৌকা ভ্রমণ করতে চাইলে যেতে পারেন উপবন লেকে। লেকটি ইকোট্যুর এবং পিকনিক স্পট হিসেবে সমাধিক পরিচিত।   তাজিংডং পাহাড় স্থানীয়দের ভাষায় তাজিং অর্থ বিশাল আর ডং অর্থ পাহাড় অর্থাৎ তাজিংডং মানে বিশাল পাহাড়। বালাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় তাজিংডং পাহাড়। সেখানে গেলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি আর শুনতে পাবেন প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের টিকে থাকার গল্প। পাহাড়ের যে দিকেই তাকাবেন আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সৌন্দর্য ভালভাবে দেখতে হলে যেতে হবে শীতকালে। তাজিংডং-এর পৌঁছানোর হাঁটার রস্তার স্মৃতিও অম্লান হয়ে থাকবে আপনার হৃদয়ে। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করত পারেন। চান্দের গাড়িতে করে তাজিংডং-এর কাছাকাছি যেতে পারবেন। তারপর পায়ে হেঁটে যেতে হবে। বান্দরবান থেকে রুমা ব্রিজঘাট, সেখান থেকে নৌপথে রুমায়, রুমা থকে বগা লেক বগা লেক থেকে পায়ে হেঁটে যেতে হবে তাজিংডং।   নীলাচল সমগ্র বান্দরবান শহরে চোখবুলিয়ে নিতে  চাইলে যেতে পারেন নীলাচল। নীলাচলকে অনেকেই স্বর্গভূমি হিসেবেই আখ্যা দিয়ে থাকেন। নীলাচলের নির্মল বাতাসে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য আপনাকে এক স্বর্গীয় অুভূতি এনে দিবে। পর্যটকদের থাকার জন্য নীলাচলে কটেজ রয়েছে। এছাড়া আপনি ইচ্ছে করলে বান্দরবানে ফেরত এসে হোটেলে থাকতে পারেন। বান্দরবান সদর এবং চিম্বুক এলাকায় থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্টহাউজ রয়েছে।   নীলগিরি নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে দিবে। এখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করত পারবেন শীতকালের মিষ্টি রোদ, বর্ষাকালে আকাশের গর্জন, রংধনুর আলোক রশ্মি, বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক পরিবর্তন, যা আপনাকে সারা বছরই নীলগিরি যাওয়ার জন্য আকর্ষণ করবে। এখনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন সাগর ও জহাজের দৃশ্য। পাহাড়ের কোল ঘেষে বয়ে চলা নদীর দৃশ্য। অনেকের কাছে নীলগিরি বাংলার দার্জিলিং নামেও পরিচিত। নীলগিরিতে অবস্থান ও থাকতে চাইলে আগাম যোগাযোগ করে যাওয়াই ভালো। এখানে থাকার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মেঘদূত, আকাশনীলা, নীলাঙ্গনা, মারমা হাউজসহ নানা নামের আকর্ষণীয় কটেজ রয়েছে। আছে একটি ক্যাফেটেরিয়াও।   স্বর্ণ মন্দির সোনালী রংয়ের মন্দিরটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে জায়গাটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দিরটির নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক স্থাপত্য নকশার নিদর্শনের জন্য পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করে। এখান থেকে সাঙ্গু নদী এবং তার পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।   /ডিডি/এমআর

স্বর্গসুখ পেতে ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত দেশের বৈচিত্রময় জনপদ এটি। পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা নির্মল প্রকৃতি দেখলে যে কোনো পর্যটকের মনে হবে যে, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এটিকে গড়ে তোলেছে। কোথাও কোনো খাদ নেই। একেবারেই অপরূপ সুন্দর। স্বর্গসুখ রয়েছে এতে। এখানে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক, পাংখোয়া, লুসাই, সুজে সাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙালিসহ ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস। পাশাপাশি এখানে কিছু অসমীয়া ও গুর্খা সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। রাঙ্গামাটির মাটির রঙ লাল কিংবা লালচে। তাই একে লাল মাটির অঞ্চল বলা হয়। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে- কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে , কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, উপজাতীয় যাদুঘর, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পেদা টিং টিং, টুকটুক ইকো ভিলেজ, শ্রদ্ধেয় বনভান্তের জন্মস্থান, মোরঘোনায় স্মৃতি স্তম্ভ ও স্মৃতি মন্দির (নির্মাণাধীন), পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল, রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস, রাইংখ্যং পুকুর, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি, উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট, রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো, ফুরমোন পাহাড়, রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক প্রভৃতি।   পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু রাঙ্গামাটির শেষপ্রান্তে কর্ণফুলির কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন হোলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে পর্যটন মোটেল আছে। বর্তমানে মোটেল এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে ডিয়ার পার্ক নামে। মোটেল থেকে দেখতে পাবেন লাল পাহাড়ের সারি কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়েছে। সেখানো আরও রয়েছে তিনশতাধিক দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি পরিচিতি পেয়েছে সিম্বল অব রাঙ্গামাটি হিসেবে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে পার্ক, পিকনিক স্পট, অডিটোরিয়াম, স্পিড বোট ও দেশীয় নৌ-যান। এখানে যেতে হলে প্রথমে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম থেকে তবলছড়ি যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ১০০ টাকায় অটোরিক্সা ভাড়া করে যেতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সে।   উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট রাঙ্গামাটি ভ্রমণে গিয়ে যারা উপজাতিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে চান, অথবা ঘুরে দেখতে চান উপজাতিদের তৈরি পণ্য, তাহলে যেতে পারেন উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেটে। সেখানে উপজাতিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। এছাড়া আরও পাওয়া যায় উপজাতিদের হস্ত নির্মিত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। রাঙ্গামাটি জেলার তবলছড়ির কাছাকাছি গেলেই উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট। রাঙ্গামাটি থেকে প্রাইভেটকার অথবা অটোরিক্সা ভাড়া করে যেতে পারেন সেখানে।   উপজাতীয় জাদুঘর  পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের জীবনাচার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা অর্জন করতে চাইলে যেতে পারেন উপজাতীয় জাদুঘরে। সেখানে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ, পুঁতিপত্র, তৈলচিত্র ও উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র। উপজাতীয় জাদুঘরটি সবার জন্যই উন্মুক্ত। রাঙ্গামাটির প্রবেশ দ্বারেই রয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে অথবা চট্টগ্রাম থেকে বাসে যাতায়াত করতে পারেন।   চাকমা রাজার রাজবাড়ি ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠান দেখতে অথবা চাকমাদের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান দেখতে যেতে পারেন চাকমা রাজার রাজবাড়িতে। নববর্ষের শুরুতেই একসঙ্গে দুটি অনুষ্ঠানই চলতে থাকে। রাজবন বিহার ও চাকমা রাজার বাড়ির মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা হ্রদের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে। রাজবন বিহারের পাশেই রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি। সেখানে যেতে হলে প্রথমে রাঙ্গামাটি থেকে অটোরিক্সা অথবা পাইভেটকার করে আপনাকে যেতে হবে কাপ্তাই হ্রদে। সেখান থেকে নৌযানে করে বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন। টুকটুক ইকো ভিলেজ পাহাড়চূড়ায় তৈরি করা হয়েছে টুক টুক ইকো ভিলেজ। সোখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করবেন হিমেল বাতাসের ঝাপটা। সামনে তাকালেই দেখতে পাবেন স্বচ্ছ পানি। পানির মাঝে জেগে উঠেছে সবুজ পাহাড়। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ করে ক্লান্ত হয়ে গেলে বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য চলে যান টুক টুক ইকো ভিলেজের রেস্তরাঁয়। সেখানে রয়েছে রকমারি খাবার। রেস্তরাঁটি তৈরি হয়েছে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে। রেস্তরাঁতে দেশিয় এবং আদিবাসীদের প্রিয় খাবার পাওয়া যায়। বহু টিলা-উপটিলায় বিভক্ত পর্যটন কেন্দ্রতে থাকার জন্য কয়েকটি কাঠের কটেজ রয়েছে। কটেজের জানালা দিয়ে রাতের আকাশে তাকতেই দেখতে পাবেন চাঁদ যেন মেঘের সঙ্গে খেলা করছে। পাশাপাশি শুনতে পাবেন ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। চারদিকে পাহাড়ি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ-গাছালি ছাড়াও প্রাকৃতিক পরিবেশে আড্ডা দেওয়ার জন্য ১৫টি গোলঘর, খেলার মাঠ, কাঠের ব্রিজ রয়েছে। লাগানো হয়েছে নানা রকমের লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, আফ্রিকান গাদা ফুল। রাঙ্গামাটির শহর থেকে চলে যাবেন রিজার্ভ বাজার এবং রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন টুক টুক ইকো ভিলেজ। পেদা টিং টিং পেদা টিং টিং চাকমা শব্দগুচ্ছ, বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় পেট টান টান। প্রচুর পরিমাণে  খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা, এখানে তা বোঝানো হয়েছে। হ্রদবেষ্টিত এ স্থানে খাবারের মধ্যে রয়েছে বিগল বিচি, বাঁশের তরকারি, কেবাং প্রভৃতি। হ্রদের চারদিকে দেখতে পাবেন শুধুই পাহাড়। হ্রদ আর প্রকৃতি যেন মিশে গেছে। সেখানে রয়েছে রেস্তোরাঁ ও কটেজ। আরও রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা। রাঙ্গামাটি শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন স্পট।  কর্ণফুলী হ্রদ হ্রদ ও পাহাড়ের অকৃত্রিম সহাবস্থান দেখতে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি শহরে। হ্রদের স্বচ্ছ জল আর সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কৃত্রিম এ হ্রদের সঙ্গে কর্ণফুলী, কাচালং আর মাইনী নদীর সংযোগ রয়েছে। কাচালং নদীর উজানে লংগদুর মাইনীমুখে এসে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি যেন মিশে গেছে আকাশের সঙ্গে। এখানে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি অথবা পর্যটন ঘাটে, সেখান থেকে নৌযানে করে গন্তব্যে যেতে পারেন। স্পিড বোট ভাড়া ঘণ্টায় ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। দেশিয় নৌযান ভাড়া ৫০০ টাকা থোকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নৌ-ভ্রমণের জন্য রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি ও পর্যটন ঘাটে ভাড়ায় স্পিড বোট ও নৌযান পাওয়া যায়। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান পর্যটকরা নদী, পাহাড় আর সবুজের সহাবস্থান দেখতে ভীড় করে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে। এখানে রয়েছে সেগুন, পারুল, গামারী আর কড়ই গাছের সারি । রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাই ভ্রমণ করতে পারেন এবং কাপ্তাইয়ে থাকা-খাওয়ার জন্য বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে যেতে হলে চট্টগ্রাম থেকে বহদ্দার হতে বাস অথবা মাইক্রোতে কাপ্তাই যাওয়ার আগে জাতীয় উদ্যান গেটে নেমে যাবেন।   /ডিডি/

‘পর্যটক বাড়াতে নেতিবাচক খবর প্রচার থেকে বিরত থাকুন’

দেশে বিদেশী পর্যটক বাড়াতে দেশের নেতিবাচক খবর ফলাও করে প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল কন্টিনেন্টালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় বিভিন্ন পর্যটন সংস্থার প্রতিনিধি, রিসোর্ট মালিক, পরিবহন মালিক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন,  বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই তাদের নেতিবাচক খবর ফলাও করে প্রকাশ করেনা। ম্যানহাটনে এত বড় ঘটনা ঘটলো অথচ তাদের কোনো গণমাধ্যম সেটা নিয়ে হৈ চৈ করেনি। কিন্তু আমাদের এখানে একটা বোমা ফুটলেও লাইভ দেখানো হয়। এর ফলে বাইরের ট্যুরিষ্ট আসতে ভয় পায়। এজন্য পর্যটক বাড়াতে নেতিবাচক খবর প্রচার থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি। পর্যটন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন আমি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছিলাম, তখন অনেকে হাসাহাসি করেছিলো। তারা বলতো, এমন একটা মন্ত্রণালয় পেয়েছেন যেটার অবস্থা খুবই নড়বড়ে। সেই মন্ত্রণালয় আজকে অনেক ভালো করছে। সভায় উপস্থিত বক্তারা তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, পরিবহন মালিক, রিসোর্ট মালিক, ট্যুরিস্ট বোর্ড ও সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে এদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দর্শনীয় স্থানের আশেপাশে বসবাসরত স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা, গাড়ীর স্টাফদের ভালো আচরণে অভ্যস্ত করানো, হোটেল চ্যানেলগুলোতে কয়েকটি ভাষায় ডাবিং করা চ্যানেল প্রচারের ব্যবস্থা রাখা, স্টেশন-পাবলিক প্লেসে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি ও সৌন্দর্যের প্রচারের ব্যবস্থা রাখা, ট্রাভেলারদের বিভিন্ন ট্যুরে আলাদা আলাদা বৈচিত্রতা আনা, পানিপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করা, ট্যুরিস্ট পুলিশে জনবল বাড়ানো, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা, যেখানে সেখানে পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের টুকরো না ফেলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব রাখা হয়। সভার শুরুতে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থাগগুলোকে নিয়ে নির্মিত ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নামক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।   এএ/এমআর

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি