ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:২৩:৫৬

রোমাঞ্চকর কেওক্রাডং ভ্রমণ

রোমাঞ্চকর কেওক্রাডং ভ্রমণ

ভ্রমণ মানেই প্রশান্তি। ভ্রমণ মানেই ক্লান্তি দূর করার প্রাকৃতিক ঔষধ। কিন্তু এমন কিছু ভ্রমণ আছে যা আপনার শরীরের ঘাম ঝড়াবে। তবে এ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, কষ্ট হলেও আনন্দটা হবে পর্বত চূড়ার উপর। পাহাড়ের চূড়ায় বসে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। বলছি- কেওক্রাডং এর কথা। আজ শুনাবো কেওক্রাডং ভ্রমণের গল্প। দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষের কাছে বান্দরবান একটি প্রিয় নাম। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় এ অঞ্চলটি শীর্ষে। যদিও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় নিরাপদ নয়, তবে গল্পটা শুনে রাখলে সময় করে ঘুরে আসতে পারবেন। বান্দরবান শহরের পাশে নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণ মন্দির, চিম্বুক পাহাড় আর মেঘলা জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয় পর্যটকদের কাছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, ট্রাভেল সঙ্গী কিংবা প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘোরার দারুণ জায়গা এই বান্দরবান। চাইলেই চট করে একটা গাড়ি নিয়ে সবাই মিলে ঘুরে আসা যায়। তবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী হলে আপনার যেতে হবে বান্দরবানের গহিনে। তাহলেই পাবেন ট্র্যাকিংয়ের রোমাঞ্চ। দেশের ট্র্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হচ্ছে বগা লেক-কেওক্রাডং-জাদিপাই। দু-তিন দিন হাতে সময় নিয়ে দুর্দান্ত একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারবেন। সেই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি। বান্দরবানে বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়। তবে হালকা বর্ষা আর শীতকালকেই বেশির ভাগ মানুষ বেছে নেন। গরমকালে পাহাড়ে ওঠাটা একটু কষ্টকর। তবে ভরা বর্ষা মৌসুমে পাহাড় বিপদজনক হয়ে উঠছে। যা হোক; রোমাঞ্চ ও অ্যাডভেঞ্চার করতে গেলে একটু ঝুঁকি তো নিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সাহস হারালে চলবে না। কিশোর থেকে বুড়ো কিংবা পাতলা থেকে বেজায় মোটা মানুষও জয় করেছে কেওক্রাডং। এই পাহাড় জয় করতে হলে শরীরের সক্ষমতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাই জরুরী। ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে চাইলে বাস এবং ট্রেন, দুভাবেই যাওয়া যায়। তবে সরাসরি যেতে চাইলে যেতে হবে বাসে। বিভিন্ন কোম্পানির বাস আছে, যেগুলো বিভিন্ন সময় ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কল্যাণপুর কিংবা আরামবাগ থেকে বাসে উঠতে হবে। টিকিট করতে হবে অন্তত একদিন আগে। এ জন্য এক হাজার টাকা বাজেট রাখলেই হবে। ঢাকা থেকে রাতে রওনা দেওয়াই ভালো। আমরাও রাতে রওনা দিয়েছিলাম। এর একটা কারণ রয়েছে। ভোরে বান্দরবান শহরে পৌঁছে দিনে দিনে শুরু করতে পারবেন ভ্রমণ যাত্রা। আবার শহরে একদিন কাটিয়ে পরদিন থেকে শুরু করতে পারেন অ্যাডভেঞ্চার। আমরাও প্রথম দিন বান্দরবান শহরের স্পটগুলো ঘুরে দেখেছি। শহরে যে স্পটগুলো রয়েছে তা একদিনে শেষ করা যায় না। তারপরও অল্প সময় ব্যয় করে সবগুলো স্পটেই পা ছুঁয়ে আসলাম। বান্দরবান শহরে পৌঁছে আগে ফিরতি টিকিট কেটে নিলাম। টিকিট করে খুঁজতে বের হলমা হোটেল। বলে রাখা ভালো, শহরের হোটেলগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে ঢাকা থেকে ফোনে যোগাযোগ করে অনেকেই আগে থেকে হোটেল বুকিং দেয়। আমার অভিজ্ঞতায় একটা কথা বলি- যারা প্রথমবার বান্দরবান ভ্রমণে যাতে চান তারা সেখানে পৌঁছানোর পর নিজের চোখে দেখে তবেই হোটেল বুকিং করবেন। কারণ পছন্দ মত রুম পেতে হলে এটাই উত্তম। তবে হোটেল ম্যানেজারের কাছে আকাশচুম্বী ভাড়া শুনে ভয় পাবেন না। দরদাম করার সব কৌশল কাজে লাগান। শহরের সব জায়গার খাবার কিন্তু ভালো না। তবে কিছু ভালো রেস্তরা রয়েছে। যা আপনাকে চিনে নিতে হবে। শহরের পাশে স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল কিংবা মেঘলা ঘুরে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে হবে সিএনজি অথবা চান্দের গাড়ি। একেবারে রিজার্ভ করে নিলে ভালো। আজকের আলোচনা যেহেতু কেওক্রাডং, তাই অন্য স্পটগুলো নিয়ে খুব বেশি বলছি না। সোজা চলে যাচ্ছি অ্যাডভেঞ্চারে। বগা লেক সম্পর্কে তো নিশ্চই ধারণা আছে? অসাধারণ একটি জায়গা। যেখানে যেতে আপনাকে সবার আগে পৌঁছাতে হবে রুমায়। বান্দরবান শহরের যেকোনো জায়গা থেকে একটি অটো কিংবা সিএনজি নিয়ে যান রুমার বাসস্ট্যান্ডে। চালককে বললেই সে আপনাকে পৌঁছে দেবে। সেখানে গিয়ে বাস ধরতে হবে রুমার। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাস রুমার উদ্দেশে রওনা হয়। আঁকাবাঁকা আর উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে আপনি এগোতে থাকবেন রুমার উদ্দেশে। এই যাত্রাকে আরামদায়ক করতে চাইলে একটি জিপ রিজার্ভ নিন। রুমায় নেমে পড়ুন। এবার যেতে হবে রুমা বাজার। সে ক্ষেত্রে চান্দের গাড়ি ছাড়া উপায় নেই। বাজারে এসে সবার আগে ঠিক করতে হবে গাইড। গাইডের বেশ কয়েকটি সমিতি আছে। যেকোনো একটা থেকে বেছে নিন। গাইডের ভাড়া এক হাজার টাকা থেকে শুরু। ঋতুভেদে আরও বাড়বে-কমবে। তবে ভালো হয় আগে থেকে কোনো গাইডের সঙ্গে কথা বলে গেলে। গাইডের সঙ্গে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নাম অ্যান্ট্রি করে ফেলুন। মনে রাখবেন, আপনার যাত্রার জায়গায় জায়গায় গাইডসহ ট্যুর টিমের সবার নাম অ্যান্ট্রি করতে হবে। কখনোই এটি ফাঁকি দিতে যাবেন না, কারণ এটি আপনাদের ভালোর জন্য করা হয়। নাম অ্যান্ট্রি শেষে বাজার থেকে কিছু শুকনো খাবার কিনে নিন। যাত্রা শুরু হলো কমলা বাজারের উদ্দেশে। সেখান থেকে ট্র্যাকিং করে যেতে হয় বগা লেক। কমলা বাজার পর্যন্ত যেতে লাগবে চান্দের গাড়ি। সেটি আপনার গাইডই ঠিক করে দেবে। প্রায় দুই ঘণ্টার ঝাঁকি আর ধুলামিশ্রিত যাত্রা শেষে আপনি পৌঁছাবেন কমলা বাজার। সেখান থেকে লাঠি কিনে নিন। লাঠি পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগবে আপনার। এবার শুরু করুন পাহাড়ে ওঠা। বগা লেক ওঠার পথটা বেশ খাঁড়া। তাই হয়তো অল্প কিছুক্ষণের মাঝে হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু দমে গেলে চলবে না। একটু একটু করে বিশ্রাম নিয়ে আর পানির বোতল খুলে মুখ ভিজিয়ে আবার হাঁটা শুরু করুন। ভুলেও পানি খেয়ে পেট ভারী করবেন না। পেট ভারী হলে আর হাঁটতে পারবেন না। আধাঘণ্টা ট্র্যাকিং শেষে পৌঁছে যাবেন বগা লেক। ক্লান্তিভরা চোখ জুড়িয়ে যাবে মুহুর্তে। সমুদ্র থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ ফুট ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় ১৫ একর জায়গার এ রকম লেক আর কোথায় মিলবে না। এই লেকটি তৈরি হয়েছিল একটি মৃত আগ্নেয়গিরি পানি চুয়ে চুয়ে। তাই একে ড্রাগন লেকও বলা হয়। বগায় পৌঁছে আর্মির ক্যাম্পে রিপোর্ট শেষে উঠে পড়ুন কোন একটি কটেজে। এগুলো আপনার গাইডই ম্যানেজ করবে। কটেজে ব্যাগগুলো রেখে ঝুপঝাপ লাফিয়ে পড়ুন লেকের পানিতে। স্বচ্ছ আর ঠাণ্ডা পানিতে নিজেকে শীতল করে নিন। বগা লেকের রাতের সৌন্দর্য দেখতে থেকে যান এক রাত। আর যদি সেদিন পূর্ণিমা হয়, তবে তো আর কথাই নেই। চাঁদের আলোতে বগা লেক যেনো নববধুর সাজে সজ্জিত হয়। রাত শেষে পরদিন ঘুম থেকে উঠুন অনেক সকালে। পারলে সূর্য ওঠার আগেই। ঘুম থেকে উঠে খিচুড়ি আর ডিম ভাজি খেয়ে নিন। ভুলেও পেট খালি রাখবেন না। কারণ এখনই শুরু হতে যাচ্ছে আপনার কেওক্রাডং জয়ের যাত্রা। যাওয়ার সময় ভারী জিনিস সব কটেজে রেখে যাবেন। কেওক্রাডং যাবার পথে চিংড়ি ঝরনা পড়বে। দেখে নিন ঝরনার আসল রূপ। দুই ঘণ্টা পর এসে পৌঁছাবেন দার্জিলিংপাড়া। এ পাড়ায় দার্জিলিংয়ের মতো ঠাণ্ডা দেখে এমন নামকরণ। গ্রামটি এমনিতে অনেক সুন্দর। এখানে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে শুরু করুন কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশে শেষ যাত্রা। আরও প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেকিং শেষে আপনি পা রাখবেন কেওক্রাডংয়ে। কেওক্রাডং নামটি এসেছে মারমা ভাষা থেকে। মারমা ভাষায় ‘কেও’ মানে পাথর, ‘ক্রা’ মানে পাহাড় আর এবং ‘ডং’ মানে সবচেয়ে উঁচু। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়। কেওক্রাডংয়ে পা রাখাটা হতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি মুহূর্ত। আশপাশে যা দেখবেন, সবকিছু আপনার পায়ের অনেক নিচে। ইচ্ছামতো লাফালাফি আর ছবি তুলে নিন। যদি কেওক্রাডংয়ে রাত কাটানোর ইচ্ছে থাকে, তাহলে দুপুরে খাওয়ার অর্ডার এবং রাতে কটেজে বুকিং দিয়ে ফেলুন। অনেকে একই দিনে আবার বগাতেই ফিরে যায়। কিন্তু কেওক্রাডংয়ে রাত কাটানোর মতো লোভনীয় সুযোগ আর হবে না। আমরা একটি রাত সেখানেই কটিয়েছিলাম। যদিও আমাদের প্লানে এটি ছিল না। কিন্তু আমরা লোভ সামলাতে পারিনি। এবার আমাদের শেষ লক্ষ্য জাদিপাই ঝরনা। সারা দিন ট্রেকিং করার কারণে একটু ক্লান্তি এবং দুর্বল লাগবে জাদিপাই নামতে গিয়ে। তবে জয় করা খুব একটা কঠিন না। প্রথমে পাসিংপাড়া এবং এরপর জাদিপাইপাড়া পাড়ি দিয়ে মোট দুই ঘণ্টার মতো লাগবে আপনার জাদিপাই ঝরনা পৌঁছাতে। পথে বেশ দূর থেকেই ঝরনার আওয়াজ শুনতে পাবেন। যদি বর্ষায় আসেন তবে ঝরনার আসল তেজ দেখতে পাবেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ঝরনার নেমে আসা পানিতে দেখা যায় স্পষ্ট রংধনু। এটি একেবারেই বিরল। আপনার ট্র্যাকিং রুট এখানেই শেষ। এবার সময় হলা ফেরার। ঠিক আগের মতো করেই। তবে এবার ফিরতে একটু কষ্ট হতে পারে। জাদিপাই থেকে কেওক্রাডংয়ে ওঠার রাস্তাটা মোটামুটি বেশ খাড়া। তাই পানি এবং হালকা খাবার নিয়ে গেলে শক্তি পাবেন। কেওক্রাডংয়ে ফিরে খেয়ে আবার বিশ্রাম করুন কটেজে। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতে উঠে যান আবার চূড়ায়। অসাধারণ এক অনুভূতি হবে। ঠিক আগের মতোই শেষ করতে থাকুন অসাধারণ এই অ্যাডভেঞ্চার। পুরো ট্র্যাকিংয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে পায়ের নিচে থাকা মেঘগুলো। মুগ্ধ হবেন স্থানীয় মানুষের সরলতা এবং আন্তরিকতা। মনে রাখবেন- খুব বেশি জামাকাপড় নেবেন না। শুধু যেগুলো একদম না নিলেই নয়, সেগুলো নেবেন। ব্যাকপ্যাক নেবেন। হাতের কোনো ব্যাগ নিলে চলবে না। পানির বোতল নেবেন হাফ লিটারের। সেটাতে যেন সব সময়ই পানি থাকে। স্যালাইন রাখবেন সঙ্গে। জোঁকের সংক্রমণ আছে। তাই লবণ নেবেন সঙ্গে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডমস ক্রিম রাখুন। ট্র্যাকিংয়ের সময় শুকনা খাবার রাখুন। সারা দিন কলা খান। কলা আপনার পেশিকে কর্মক্ষম রাখবে। হালকা কিছু ওষুধ আর অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম সঙ্গে রাখুন। একটা টর্চলাইট নেবেন কাজে আসবে। মোবাইল চার্জ দেওয়া কিন্তু কঠিন। তাই পারলে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন। এসএ/  
হাতিরঝিলে নজর কাড়ছে ভাসমান ফুল

নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিল। ঝিলের চারপাশ ঘিরে চলছে পর্যটন গাড়ি। গাড়ি ও আগন্তুকদের ছায়া দিতে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ফল ও পাতাবাহারী ফুলের গাছ। ঝিলের পানিতে আবার হেলেদুলে চলছে ময়ূরপঙ্খী নাও। বহমান পানির বুক চিরে চলছে যাত্রীবাহী ওয়াটার ট্যাক্সি। তার সঙ্গে সৌন্দার্য বর্ধন করছে গানের তালে রং বেরঙের ওয়াটার ড্যান্স ও ভাসমান স্টেজ। ঝিলকে সৌন্দের্যের এক মনোমুগ্ধকর লীলাভূমি করতে চলছে এসব নিত্য-নতুন আয়োজন। যার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঝিলের মধ্যে পানির ওপর ভাসমান সদ্য ফোটা বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। যা হাতিরঝিলে আগত ভ্রমন পিপাসুদের করছে আকৃষ্ট। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রকল্পের পশ্চিমাংশে হাতিরঝিলের মগবাজার ও এফডিসি রোডের মধ্যবর্তী  এবং ঝিলের প্রথম ব্রিজ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে ভাসানো হয়েছে হরেক রকম ফুলের গাছ।গাছগুলো বেশ কিছুদিন  আগে মরা দেখালেও সম্প্রতি তাতে নতুন করে পাতা গজিয়েছে। শুধু পাতা নয়, গত দুই সপ্তাহ আগে ধরে তাতে ফুটছে হলুদ-লাল, গোলাপীসহ বিভিন্ন রঙের ফুল। ফুলগুলো দেখতে জিলের এ অংশে ভ্রমনপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে। কেউ ব্রিজের পাড়ে দাঁড়িয়ে, কেউ বা এফডিসি মোড়ের অংশে আড্ডারত অবস্থায় উপভোগ করছেন এই সৌন্দর্য। কেউবা আবার চলতি পথে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে এ সৌন্দর্য।কিন্ত এতো সৌন্দর্যের মধ্যে বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে হাতিরঝিলের দূর্গন্ধময় পানি। অথচ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হাতিরঝিল প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসনও। কিন্তু বছর না গড়াতেই প্রকল্পটির চেহারাও এখন হতশ্রী। প্রকল্পের বর্জ্য নিস্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে গোটা প্রকল্প। ভ্রমণকারীদের অনেকেই যত্রতত্রসহ হাতিরঝিলের পানিতে চিপসের প্যাকেটসহ ময়লা ফেলার কারণে পানিতে এসব স্তূপ ভেসে থাকে। জনবলের অভাবে পানিতে ভাসমান সে ময়লা সরাতেও হিমশিম খেতে হয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার। তবুও আশা ছাড়েনি কর্তৃপক্ষ। দিন দিন নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিবর্ণ হাতিরঝিলকে আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রচষ্টো চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিলের পানিতে পরীক্ষামূলক ভাসানো হয়েছে টবে করে নানা প্রজাতির গাছ। দৃষ্টিনন্দন এই গাছগুলো নতুন করে শোভা ছড়াচ্ছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এখানকার ভ্রমণপিয়াসীদের। বর্তমানে রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হাতিরঝিল। ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। দৃষ্টিনন্দন করার জন্য পুরো এলাকাটি নতুন অবকাঠামোতে তৈরি করা হয়েছিল। এ প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজার এলাকার বাসিন্দাসহ এ পথ দিয়ে চলাচলকারী নগরবাসী বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, এরইমধ্যে ঢাকাবাসীর প্রিয় ভ্রমণ স্থানগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে হাতিরঝিল। তাই এ প্রকল্পটির দূষণরোধে প্রতিনিয়ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছেন। এ বিষয়ে হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের প্রকৌশলী জামাল আক্তার ভূঁইয়া বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্প রাজধানীর অন্যতম বিনোদন  কেন্দ্র। এটিকে আমরা নান্দনিক রূপ দিতে নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। যে উদ্যোগের অংশ ছিল ভাসমাল ফুল গাছ। এটাতে এখন ফুল ফুটে ভ্রমনপিপাসুদের মুগ্ধ করছে। ফুল সৌন্দর্য বিলালেও দূষিত পানি যে তা ম্লান করে দিচ্ছে তার জন্য  অনেকটা নাগরিদের অসচেতনতাও দায়ী। পানির মধ্যে পলিথিন ও চিপসের প্যাকেট ফেলা ঠিক না।  এছাড়া পানির ওভার ফ্লোর কারণেও দূর্গন্ধতা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্পের মূল দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও) সঙ্গে কথা বলেই জানা যাবে।                              হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও)’র  মেজর জেনারেল  আবু সাদিক এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প সংশ্নিষ্ট অন্যএকজন কর্মকর্তা বলেন, পানির দুর্গন্ধ এড়াতে ও ময়লা শোষণ করে নিতে প্লাস্টিকের পাইপে তৈরি ফ্রেমের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেলে পুরো এলাকাজুড়েই ভাসানো হবে এসব গাছ। গাছগুলোর মধ্যে কলাবতী ও ঘাসজাতীয় গাছের সংখ্যাই বেশি। এ গাছগুলো অনেক আগেই লাগানো হয়েছিল। তবে মাঝে করে গাছুগুলো শুকিয়ে গেছিল। এখন নতুন করে পাতা গজিয়ে প্রায় সবকটি গাছে ফুল ফুটেছে। আরকে// এআর  

ঘুরে আসুন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন (ভিডিও )

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি শত শত পর্যটকের পদভারে মুখর থাকে নারিকেল জিঞ্জিরাখ্যাত এই দ্বীপ। তবে, আবাসন আর নিরাপত্তার ঘাটতিতে অস্বস্তিতে পড়তে হয় ভ্রমণ পিপাসুদের। এমন নীল আকাশ আর সাগরের স্বচ্ছ ঢেউ খেলা করে সেন্টমার্টিনের সৈকতে। তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারকেল গাছের সারি, সব মিলে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের হাতছানি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি পেতে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। কিন্তু, পর্যটকের তুলনায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে হোটেল-মোটেল, রে¯েঁ—ারা আর পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেয়ার। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে অনেকের। তবে, ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি, সব সময়ই পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তাবলয় থাকে সেন্টমার্টিনে। প্রবালদ্বীপে পর্যটক বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো পদক্ষেপ চায় স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহের স্থলবন্দর পিকনিক স্পটে দর্শনার্থীদের ভিড়(ভিডিও)

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী স্থলবন্দর পিকনিক স্পটে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিদিন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসেন সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের। আধুনিক মানের পিকনিক স্পট গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মেঘালয়ের কোলঘেঁষা হালুয়াঘাট কড়ইতলী স্থল বন্দর। এর পাশেই ২০১৭ জানুয়ারীতে সাড়ে তিন একর জমির উপর ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠে হালুয়াঘাট পিকনিক স্পট। নয়নাভিরাম এই স্পটে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন, উপভোগ করেন নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। শিশুদের জন্য আধুনিক মানের রাইডস আর হোটেল রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের। সরকারের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আধুনিক মানে পরিণত করার কথা জানায় পিকনিক স্পট কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যময় স্পটটিকে আধুনিক মানে গড়ে তোলা গেলে, এটি হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র।

চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি (ভিডিও)

 নাটোরের চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি। প্রায় তিনশো বছরের পুরনো স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এটি। তবে, অবৈধ দখল আর সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এই জমিদার বাড়ি। বাড়িটি দখল মুক্ত করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ১৭২০ সালে জমিদার কৃষ্ণকান্তসিংড়ার চৌগ্রামে প্রায় ৪৮ একর জমির ওপর ৯টি পুকুরসহ এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। তার বাবা রসিক রায়ের ছিল দুই ছেলে- কৃষ্ণকান্ত ও রামকান্ত। রাজা রামজীবন তাদের মধ্যে রামকান্তকে দত্তক নেন। পরে রামজীবন কৃতজ্ঞতা স্বরুপ নাটোরের সিংড়ায় চৌগ্রাম এবং রংপুরের ইসলামাবাদ পরগণা রসিক রায়কে দান করেন। জমিদার রসিক রায় মারা যাওয়ার পর কৃষ্ণকান্ত ১৭২০ সালে চৌগ্রামে এই বাড়ি নির্মাণ করেন। তার জমিদারি পরগণার আয়তন ছিল ২৯ হাজার ৪শ’ ৮৭ একর। জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথেই রয়েছে মূল ফটক। যা এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জমিদার বাড়ির জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। কৃষ্ণকান্তের মৃত্যুর পর তার ছেলে রুদ্রকান্ত জমিদারি পান। নিঃসন্তান রুদ্রকান্ত দত্তক নেন রমণীকান্তকে। রমণী কান্ত চৌগ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদারি প্রথা বিলোপের পর সবাই দেশ ত্যাগ করলে বাড়িটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এখন বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এছাড়াও দ্রুত বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর। একে//এসএইচ/

রাঙামাটি : প্রকৃতির বুকে অপার নিসর্গ(ভিডিও)

রাঙামাটির আসামবস্তি-বড়াদম-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি পর্যটন স্পট। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কাপ্তাই হ্রদে কায়াকিংয়ের জন্য পর্যটকদের কাছে এ’সব স্পট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে রাঙ্গামাটিতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণাসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। সময়ের সাথে সাথে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসামবস্তি-বড়াদম-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি পর্যটন স্পট। আকৃষ্ট হচ্ছেন পর্যটকরাও। এসব পর্যটন স্পটে রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকা- কায়াক যা পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমনে বাড়তি আনন্দ যোগাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে হ্রদ আর পাহাড়ে ঘেরা এই এলাকা হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।

ঘুরে আসুন স্বাধীনতা জাদুঘর

বাঙালি স্বাধীনতা প্রিয় জাতি। পরাধীনতার বিরুদ্ধে এ জাতিকে লড়াই করতে হয়েছে চিরকাল। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অসংখ্য লড়াইয়ের ফসল আজকের বাংলাদেশ। এই ইতিহাসকে ধরে রাখার তাগিদে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীনতা যাদুঘর। মোঘল শাসনামল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালির প্রতিটা আন্দোলন সংগ্রামের চিত্র ধারণ করা আছে এ জাদুঘরটি। এ উদ্যানেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। আবার এখানেই পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পন করেছিল। সেই চিন্তা থেকেই স্বাধীনতা জাদুঘর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মার্চে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ জাদুঘর সোহরাওয়ার্দীতে নির্মিত একটি বিশাল পরিকল্পনার অন্যতম অংশ এ জাদুঘর। এই নকশায় রয়েছে একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার, তিনটি জলাধার, শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্রবিশিষ্ট একটি ম্যুরাল এবং ১৫৫ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম। তবে পুরো নকশাটির প্রধান বিষয় হল একটি ৫০ মিটার বিশিষ্ট আলোক স্তম্ভ, যা স্বাধীনতা স্তম্ভ নামে পরিচিত। স্তম্ভটি কাচের প্যানেল দ্বারা নির্মিত। জাদুঘরটি এই স্তম্ভের নিচে অবস্থিত। পুরো জাদুঘরটি ভূগর্ভস্থ। এটিই বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। জাদুঘর প্লাজাটি ৫৬৬৯ বর্গমিটার বিশিষ্ট টাইল দ্বারা আবৃত স্থান। জাদুঘরের মাঝখানে রয়েছে একটি ঝর্ণা, যাতে উপর থেকে পানি পড়ে। যা আছে স্বাধীনতা জাদুঘরে ১৪৪টি কাচের প্যানেলে ৩০০-এরও বেশি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীনতা জাদুঘর। ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের পাশাপাশি যুদ্ধের ঘটনা সম্বলিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও প্রদর্শিত হচ্ছে এসব কাচের প্যানেলে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিলিপি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে প্রচারণা সৃষ্টিতে তৈরিকৃত বিভিন্ন পোস্টারও জাদুঘরটিতে প্রদর্শীত হচ্ছে। বাংলাদেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং স্থাপনার চিত্রও রয়েছে এখানে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে যে টেবিলে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করে স্বাক্ষর করেন, তার একটি অনুলিপি রয়েছে জাদুঘরটিতে। তবে মূল টেবিলটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে বলে জানালেন জাদুঘরের ব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার। কাটিয়ে উঠতে পারেনি সকল সীমাবদ্ধতা স্বাধীনতা জাদুঘর এখনো সকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও এখনো অনেক দৈন্যতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি জাদুঘরটির। কাচের প্যানেলে ঐতিহাসিক চিত্র ছাড়াও এখানে বড় পরিসরে নানা স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত নানা ধরনের বিষয় সংযুক্ত রাখার সুযোগ ছিল। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র রাখার ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু এখনো তা না হওয়ায় অনেক নিয়মিত দর্শনার্থী হতাশ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম কাউসার। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অতি শীঘ্রই সেখানে টর্চার সেলের আদলে আরো কিছু স্থাপত্য কর্ম সংযুক্ত করা হবে। থ্রি ডি সিনেমা হলের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানালেন ব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে দৈনিক গড়ে ৭০০ জন দর্শনার্থী আসে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১০০ জন। তবে শীঘ্রই এই সংখ্যাকে আরো বড় করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। কখন কীভাবে যাবেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৫টি ফটক দিয়ে স্বাধীনতা জাদুঘরে যাওয়া যায়। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের কাছের ফটক এবং চারুকলা ইনস্টিটিউটের বিপরীতে ছবির হাটের ফটক দিয়ে সহজে যাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে সময়সূচী প্রতি শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত হলেও শীতকালে জাদুঘরটি খোলা থাকে সকাল ন`টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। শুক্রবার বিকেল আড়াইটা থেকে স্বাধীনতা জাদুঘর সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। জাদুঘরটিতে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা, শিশু-কিশোরদের জন্য ১০ টাকা, বিদেশীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা ও সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা নেওয়া হয়।   আআ/টিকে

দেখে আসতে পারেন হাসন রাজার স্মৃতি চিহ্ন

‘লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা না আমারকী ঘর বানাইমু আমি, শূন্যের-ই মাঝারভালা করি ঘর বানাইয়া, কয় দিন থাকমু আরঅায়না দিয়া চাইয় দেখি, পাকনা চুল আমার।’এ অমর সঙ্গীত রচয়িতার সম্পর্কে জানতে চাইলে যেতে পারেন সুনামগঞ্জে। আজ থেকে বহু বছর আগে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ধারের এক রাজার জীবন আমূল পাল্টে দিয়েছিল স্বপ্ন-দর্শন। তার জীবন হয়ে উঠে সহজ সরল, মন হয়ে ওঠে প্রসারিত। ছেড়ে দেন রাজকীয় পোশাক। পড়তে শুরু করলেন সুফি পোশাক। সাধক রাজার স্মৃতিচিহ্ন এখনো অবশিষ্ট আছে সুনামেগঞ্জের আরফিন নগরে। সাদামাটা বাড়িতে তার শেষ স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জাদুঘর। কল্পনায় আপনি যেতে পারবেন উনবিংশ শতকে। ছোটখাটো সংগ্রহ শালায় রাজার আয়েসি জীবন থেকে শুরু করে সাধক জীবন পর্যন্ত। বাদক যন্ত্র থেকে রাজার জমিদারি ম্যাপ, রাজার খড়মসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র। ঘরের এবং ঘরের বাইরের সব সংগ্রহের পাশাপাশি অবস্থান পেয়েছে বিশিষ্টজনের সঙ্গে রাজার সাক্ষাৎ ও দর্শনার্থীদের ভ্রমণের বিশেষ কিছু ছবি। সিলেট শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মিউজিয়ামের নাম রাজা’স মিউজিয়াম। এটা শহরের জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত। সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে হাসন রাজার বাসভবনটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে রাজা পরিবারের স্মৃতি সংরক্ষিত আছে। লোক সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের ওপর গবেষণা কার্যক্রমকে এই জাদুঘর অনুপ্রানিত করে থাকে।জাদুঘরে দুটি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম গ্যালারিটি প্রধান হলরুম। প্রধান হলরুমে চারটি শোকেসে হাসন রাজার ও তার পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। দ্বিতীয় গ্রালারিতে হাসন রাজার জীবনের ওপর লেখা বই আছে। কবির জীবন সম্পর্কে জানতে বইগুলি পড়তে পারেন যে কেউ। হাসন রাজার ছদ্মনাম অহিদুর রেজা। তিনি একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী।যেভাবে যাবেন-ঢাকা থেকে সড়ক পথ, রেল পথ ও আকাশ পথেও যেতে পারের হাসন রাজার শহরে। যদি ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ যান তাহলে প্রথমে সিলেট চলে যান তার পর বাসের জন্য যেতে হবে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে। আর বাকি রাস্তা গাড়িতে করে যেতে পারেন। চাইলে শাহজালাল (রহ.) মাজার গেটের পাশ থেকে যেতে পারবেন সুনামগঞ্জ শহরে। অথবা সরাসরি ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ। ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে চাইলেও যেতে পারেন। যাতায়াতের জন্য রাস্তা বেশ ভালো। বাসে গেলে সময় লাগবে প্রায় দুই ঘণ্টা, আর কারে যেতে লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো। শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নামিয়ে দিলে রিকশা কিংবা বিদ্যুৎ চালিত অটোরিকশা মিলবে সহজেই। শহরের অন্য যেকোনো জায়গায় যেতেও মিলবে এসব যানবাহন। ঢাকার মালিবাগ রেলগেট, রাজারবাগ, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, পান্থপথ, সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৬:৩০টা থেকে রাত ১১:৩০টা পর্যন্ত সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিনই ট্রেন যাতায়াত করে । ভ্রমণের জন্য রাতের ট্রেনে উঠাই ভালো। অথবা ঢাকা থেকে বিমান যোগেও যেতে পারেন। আর সিলেট থেকে রিকশা অথবা সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে আপনি যেতে পারেন জাদুঘরে।থাকার ব্যবস্থা-সার্কিট হাউস বা সরকারি ডাকবাংলো ছাড়াও সিলেটের মাজার রোড, আম্বরখানা এবং জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার টাকার মধ্যেই থাকার জন্য ভালোমানের হোটেল পেয়ে যাবেন। খাবার সুবিধা-যেই হোটেলে থাকবেন তার কাছাকাটি খবার হোটেল পেয়ে যাবেন আর জাদুঘরের কাছে কিছু দোকানে কফি, স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার বিক্রি করা হয়। তাজা মাছের স্বাদ নিয়ে খেতে চাইলে চলে যান নদীর পাড়ের হোটেলে। রিকশা অথবা অটোরিকশা যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই যেতে পারেন নদীর পাড়ে। এসএইচ/

ব্যাংককের অভিনব অভিনন্দন ও বিদায়সম্ভাষণ!

সম্মেলন উপলক্ষে যখন দেশের বাইরে কোথাও যাই তখন সাধারণত শহরের কেন্দ্রস্থলে কোনো হোটেলে উঠি। বেশিরভাগ সময় একই হোটেলে সেমিনারের আয়োজন করা হয়, অন্য সময় ঘটনাস্থল আশেপাশেই থাকে। যে ক’দিন থাকি, ইটপাথরের চাদরে মোড়ানো নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতেই ব্যস্ত সময় পার করে দেই। জ্ঞানজাগতিক কাজকর্ম সাঙ্গ হলে বাক্সপেটরা গুছিয়ে আবার ঘরমুখো হই। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথিদের আগমনী অভিনন্দন জানানো হয়। কিন্তু সমাপ্তিসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সম্ভাষণের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এটাই আজকালকার রেওয়াজ। অবশ্য এবার ব্যাংককে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। আগমন ও বিদায় সম্ভাষণ দু’টোই পেয়েছি। তবে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন্ পরিবেশে, ব্যতিক্রমী আঙ্গিকে! আর এ নিয়েই আমার আজকের এই ক্ষুদ্র রচনার অবতারণা।সম্মেলনটি ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্রে ‘অ্যাম্বেসেডর’ হোটেলে শুক্র ও শনিবার যথাক্রমে চলতি বছরের ১৬ ও ১৭ফেব্রæয়ারি। তারপর আমার আরেকটি দাওয়াতি বক্তৃতা ছিল থাইল্যান্ডের অন্যতম পর্যটন নগরী ‘চিয়াং মাই’-তে অবস্থিত ‘চিয়াং মাই’ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনিবার্য কারণবশত: শেষ মুহূর্তে কর্মসূচিটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় হাতে দু’দিন অবকাশ বেরিয়ে এলো, তাই আমি ঠিক করলাম ১৮ তারিখ রোববার এআইটি (এশিয়ান ইনিষ্টিটিউট অফ টেকনোলজি) লাইব্রেরিতে যাব। উদ্দেশ্য, জার্নাল সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন (আপনারা অনেকেই জানেন, আমি অর্থনীতি বিষয়ে একটি জার্নাল ও তার আনুষঙ্গিক ব্যবসাবিষয় দেখাশোনা করি)। খবর নিয়ে দেখেছি, এআইটি লাইব্রেরি ছুটির দিনও খোলা থাকে। ঘটনাচক্রে এআইটির কাছেই সপরিবারে থাকে আমার এক মামাত বোন-শায়লা ও তার স্বামী-ফারুক। তাই এক সাথে ‘রথ দেখা ও কলা বেচার’ ব্যবস্থা আগে থেকেই করা ছিল। সম্মেলন শেষ হলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার সকালবেলা শায়লা আমার হোটেলে তাদের গাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গাড়িতে ওঠার পর যে দুই কারণে আমি বেশ উৎফুল্ল ছিলাম তার প্রথমটি হলো, আমার অনেক দিনের লালিত এআইটি দেখার স্বপ্ন পূরণের বিষয় এবং দ্বিতীয়টি ছিল শহরের বাইরে থাইল্যান্ডের প্রকৃতি, পরিবেশ ও পল্লিগ্রাম দেখার কৌত‚হল। নগরের বড় বড় স্থাপনা, স্কাইট্রেন, ফ্লাইওভার, সড়ক, মহাসড়ক ইত্যাদি পেরিয়ে শহর ছাড়িয়ে যখন গ্রামের দিকে চলে এলাম তখন মনে হলো থাইল্যান্ড অনেকটা বাংলাদেশেরই মতন। গাড়ির চালক স্থানীয় রাস্তা ধরে এঁকে বেঁকে অগ্রসর হতে শুরু করলে আমি দু’চোখ ভরে দেখছিলাম, মাঠে মাঠে ফসল, ঘাস, গাছপালা, পানি, ফুল ও পাখপাখালির মেলা। সবই চেনা চেনা লাগছে, অথচ কোনোটাই যেন চিনতে পারছি না! বলাই বাহুল্য, এ এক অনির্বচনীয় অনুভ‚তি!এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর এসে ঢুকলাম বিশেষভাবে নির্মিত এক অনন্য ও অনবদ্য আবাসিক এলাকায়, যেখানে ঘন বনের ফাঁকে ফাঁকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে প্রাসাদোপম বড় বড় বাড়ি। বুঝতে বাকি রইল না যে, এখানে দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে চাকরিরত বড় কর্তারা এবং বিত্তবান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা থাকেন। ঝোপঝাড়, গাছপালা, ফুল, প্রজাপতি ও মৌমাছিতে ভরপুর পুরো এলাকা। কলা, নারকেল, সুপারি আর কত জাতের চেনা অচেনা গাছ ও লতাপাতার আড়ালে বাড়িগুলো যেন লুকিয়ে লুকিয়ে উঁকি মারছে। রাস্তা থেকে ভালো করে দেখা যায় না। ধুলোবালিবিহীন এমন নির্মল পরিবেশে এসেই মনটা আনন্দে ভরে উঠলো! সেই আনন্দ আরও শতগুণ বাড়িয়ে দিল এক মধুর আগমনী অভিনন্দন! শায়লাদের বাড়ি পৌঁছার ঠিক আগে আগেই আমাকে সানন্দে চিৎকার করে বরণ করে নিল মাথার ওপরে ওড়াউড়ি করা বনের এক পাখি। বালকবেলায় যে কোকিলের কলতান শুনতে পেতাম আমাদের গ্রামের বাড়ির সামনের মরা ‘ধামাই’ গাঙের পাড়ে ফুলফোটা শিমুল গাছের তলে। বিদেশ-বিভঁ‚য়ে হাজার মাইল দূরে এসে সেই কোকিলের ‘কুহু কুহু’ ডাক শুনে আমি বিস্মিত, অভিভ‚ত ও আপ্লুত না হয়ে পারিনি! ব্যাংককে এসে এ কী অনন্য অভিনন্দনে ভূষিত হলাম! সব যেন স্বপ্নের মত লাগছে! তবু স্বপ্ন নয়, এ-তো বাস্তব অভিজ্ঞতা!বাড়িতে ঢুকেই আমি আমার আত্মীয়দের বললাম, তোমাদের আগে মন মাতানো সুরে কুহু কুহু গান গেয়ে আমাকে আনন্দ-অভিবাদন জানিয়ে গেলো তোমাদের প্রতিবেশী মিষ্টিকণ্ঠী কোকিলটি;  কোকিলের ডাক আরো জানিয়ে গেলো, ‘মধুর বসন্ত এসেছে....।’দিন-তারিখ হিসেব করে দেখি, ঠিকই ফাল্গুনের ৬ তারিখ। অর্থাৎ বসন্তের পয়লা সপ্তাহ চলছে। ঊনিশ শ’ ঊনসত্তর সালে ম্যাট্রিক পাশ করে বাড়ি ছেড়ে কলেজে যাওয়ার পর প্রায় ৫০ বছর গড়িয়ে গেছে। এমন উচ্ছ¡সিত কোকিলের ডাক আর কোনো দিন কোথাও শুনিনি! আমার বিস্ময়বিমুগ্ধ অভিব্যক্তিকে ফারুক এই বলে স্বাভাবিক করতে চাইলো, ‘এখানে বারো মাস কোকিলের ডাক শোনা যায়’। এবার আমি আরও অবাক হলাম, বললাম, তাহলে এটা কোকিল নয়, কারণ কোকিল তো শুধু বসন্তেই আসে! না, তা-ই বা কী করে হয়! ফারুকের কথা মত থাইল্যান্ড চির বসন্তের দেশ হোক বা না হোক, কোকিলের কুহু ডাক চিনতে আমার বিন্দুমাত্র ভুল হয়নি; আর বসন্ত যে এসেছে, সে হিসেব তো দিন-পঞ্জিকায় মিলিয়ে নিয়েছি, তাতেও তো ভ্রান্তিবিলাসের কোনো সুযোগ নেই। এ গল্পের এখানেই শেষ নয়, শায়লা আবদার করলো, ‘ভাইয়া, আজ হোটেলে ফিরে না গিয়ে আমাদের বাড়িতে থেকে যান, সকালে ঘুঘুর গুব্ গুব্ ডাক শুনে আপনার ঘুম ভাঙবে। বাহ! কী সুন্দর কাব্যিক পরিবেশ! তুমি কি কবিতা লিখ? শায়লার প্রতি আমার সরাসরি প্রশ্ন। ‘না, ও’কাজটি একেবারেই আমার নয়’, বিনয়ের সাথে বোনটি উত্তর দিল। আমি বললাম, জানি, তুমি তো অঙ্ক পড়াও, কথা আছে না, ‘যারা অঙ্কে ভালো, তারা সাহিত্যে কাঁচাই হয়’। প্রসঙ্গের এখানেই শেষ। হাতমুখ ধুয়ে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘মেড়া পিঠা’ (আমার আসার কথা শুনে মামী, শায়লাকে বলে দিয়েছেন, ‘লোকমান’-কে ‘মেড়া পিঠা’ বানিয়ে খাওয়াবে) দিয়ে চা-পানি খেলাম, বিশ্রাম নিলাম। ছুটির দিনে শায়লা তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে অন্য কক্ষে চলে গেল, অঙ্ক বোঝাতে। ফারুক আমাকে সাথে করে পাড়া বেড়াতে বের হলো, তাদের বাড়ির পেছনে বড় জলাধারের চারদিকে গল্ফ কার্ট নিয়ে চক্কর দিল, আমেরিকান স্কুল দেখাল, স্টারবাক্স-এ কফি খাওয়াতে নিয়ে গেল, নিকটে একটি মসজিদেও গেলাম। এর মাঝে যা অবলোকন করলাম তাতে একটি বিষয় আমার দৃষ্টি কাড়ল। দেখলাম, গাছের আগায় নারকেলের থোকা জাল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ফারুককে জিজ্ঞেস করলাম, এমন ব্যবস্থা তো অন্য কোথাও দেখিনি! এর কারণ কী? তার উত্তর শুনে একটু তাজ্জবই হলাম! বলল, পাকা ঝুনা নারকেল নাকি পথচারীর মাথায় ও চলমান গাড়ির ওপর পড়ে যায়, তাই। মনে মনে ভাবলাম, ভালোই হলো, থাইল্যান্ডের নেড়ারা ‘বেলতলায়’ এক বার গেলেও ‘নারকেলতলায়’ বার বার যেতে পারবে! ঘন্টাখানেক ঘোরাঘুরির পর আমরা বাসায় ফিরে এলাম। তারপর ফারুক, শায়লা এবং আমি এআইটিতে গেলাম। আমার অজান্তে সেখানে অধ্যাপক ফজলে করিম সাহেবের বাড়িতে দুপুরে খাওয়ার আয়োজন হয়েছে। দেখলাম, টেবিল ভর্তি খাবার। ভাবি দিল-দরাজ আয়োজন করেছেন! শাকসবজি, মাছ, গোশ্ত, কাবাব, হালুয়া-মিষ্টি, ফলফলাদি কোনো কিছুই বাদ যায়নি। সবাই খুব মজা করে খেলাম। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগল মেকং ডেল্টার সুস্বাদু তাজা পাবদার দোপেয়াজা ও লাল রঙের কচমচে জামরুল! খাওয়া দাওয়ার পর সংক্ষিপ্ত হলেও ফারুক ও করিম ভাইদের সাথে আড্ডাটা জমেছিল বেশ! কাচের প্যাটিও ডোর দিয়ে বাসার পেছনটা দেখে মনে হচ্ছিল আমি যেন বাংলাদেশের গ্রামের কোনো বিত্তবান মধ্যবিত্তের সাজানো গুছানো কাছারি ঘরে বসে আছি। আগাছাবিহীন পরিষ্কার বাগানে আম, কলা, জামরুল, লেবু ও জাম্বুরা গাছ শোভা পাচ্ছে। মৃদুমন্দ দখিন হাওয়ায় ‘লেমন গ্রাস’-এর ঝোপ ডানে বাঁয়ে দোল খাচ্ছে। বাগানের লাগোয়া গা ঘেষে আছে ধীর স্থির পানি ভরা টইটুম্বুর কৃত্রিম খাল। খালের ওপারে ঘন সবুজ ঘাস ও জঙলি গাছপালা যত্রতত্র বেড়ে উঠেছে। খালপাড়ে দু’একটা গরু-ছাগল চরতে দেখলে কতই না ভালো লাগত! আর রাখাল বালকটি যদি বাঁশী বাজাত, তাহলে তো কথাই নেই! রোদের তেজ কমে এলে আমরা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। বাগানের ফলজ গাছের সাথে ছবি তুললাম। ছোট্ট আমগাছে সাদা সাদা পলিথিনে মোড়ানো থোকা থোকা আম ঝুলে আছে। পাখি নাকি ঠুকরে ঠুকরে আম খেয়ে ফেলে, তাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ভাবি, পাখির ঠুকরানো একটি আম এনে দেখালেন। করিম ভাই তাঁর জামরুল গাছে নবজাত ফুলের কলি দেখালেন। খালের পাড়ে গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বেশ খানিকক্ষণ কথাও বললাম। এমন সময় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনে হলো লাইব্রেরির কাজটা সেরে ফেলা দরকার। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফারুকের গাড়িতে করে করিম ভাই ও ভাবীসহ আমরা পাঁচ জনই সেখানে চলে গেলাম। গ্রন্থাগারের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং এক ফাঁকে আমার কাজটিও সেরে ফেললাম। তারপর করিম ভাইদেরকে তাঁদের বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমরা শায়লাদের বাসায় ফিরে এলাম। অবশ্য এ দু’য়ের মাঝখানে আমার আমন্ত্রয়িতারা আমাকে নিয়ে গেল ব্যাংককের বিখ্যাত পাইকারি বাজারে (আঞ্চলিক নাম-অঃয ঞধষধঃয ঞযধর)। ঢাকার কাওরান বাজারকে ২০ দিয়ে গুণ করলেও এর সমান হবে কি না সন্দেহ আছে। শায়লা ও ফারুক কিছু কেনাকাটা করল, আমি শুধু দেখলাম। ফুল, ফলমূল, শাকসবজি, তরিতরকারি ও মাছ-গোশ্তের এত বিশাল হাটে যাওয়ার সুযোগ এর আগে আমার জীবনে আর কখনো জুটেনি। বাসায় ফিরে এসে বাচ্চাদের নিয়ে মসজিদে গেলাম। দেখলাম ষাণ¥াসিক চাঁদা-আদায় উপলক্ষে মসজিদ প্রাঙ্গনে উৎসবমুখর মেলা বসেছে! মেলায় কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম, ফারুক বিভিন্ন স্টল থেকে থাই খাবার কিনে খাওয়ালো। এরপর মাগরিবের নামাজ পড়লাম। থাই ইমাম সাহেবের মর্মস্পর্শী ক্বিরাত শুনে হৃদয় জুড়িয়ে গেল! দোয়াদুরুদ শেষে বাড়িতে ফিরে এলাম। আবার বিশ্রাম, তারপর রাতের খাওয়দাওয়া। খেতে খেতে আমি রীতিমত ক্লান্ত! খাদ্যদ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগিতা শূন্যে না এনে ওঠার বান্দা আমি নই! ডাটাশাক, বর্বটি ভর্তা, মাষকলাইর ডাল, গোশ্ত ভুনা কোনোটাই বাদ দেইনি। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে গল্প ও আড্ডা তো চললোই। এই করতে করতে রাত সাড়ে দশটা বেজে গেল। ইতিমধ্যে ড্রাইভার বাড়ি চলে গেছে। আমি ট্যাক্সি নিতে চাইলাম, ফারুক কোনো মতেই রাজি হলো না। তারা দু’জন আমাকে হোটেলে নামিয়ে দিয়ে গেল। ভোরবেলা থাইল্যান্ডে ঘুঘুর ডাক আর শোনা হলো না! দু’দিন পর আমার ফিরে আসার পালা, একই রকম আরেকটি অপ্রত্যশিত ও কাকতলীয় অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে শহর ডিঙিয়ে এয়ারপোর্টে এসে উঠলাম। বিশ তারিখ রাত সাড়ে দশটায় আমার ফিরতি ফ্লাইট। ব্যাংককের ট্র্যাফিক জ্যামের কথা অনেক শুনেছি, তাই আমি হোটেল থেকে রওয়ানা দিয়েছি পাঁচ ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে। সপ্তাহবার বলে সর্বত্রই ভীড়। শুরু থেকেই ট্র্যাফিক জ্যাম ঠেলে ঠেলে আস্তে আস্তে গাড়ি এগোচ্ছে। সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে, তখনও আমি মূল শহর পার হতে পারিনি। এক জায়গায় গাড়ি ট্র্যাফিক জ্যামে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময় মুহূর্তের জন্য নগরজীবনের ধোঁয়া ও ধুলিমাখা কোলাহলকে স্তব্ধ করে দিয়ে ক্ষীণ কণ্ঠে দূর থেকে করুণ সুরে আবার কোকিল গেয়ে উঠলো, ‘কুহু কুহু’,  ‘কুহু কুহু’,  একবার নয়, কয়েক বারই শুনলাম। এ কেমন বাস্তবতা! এ-ও কি বিশ্বাসযোগ্য! যেখানে রাস্তা ভরা গাড়ি আর গাড়ি, চারদিকে স্টিল আর কংক্রিটের উঁচু-নিচু দালান; পানি নেই, ফুল নেই, ফল নেই, পাখি নেই, তরু নেই, ছায়া নেই সেখানে কোকিলের কাকলি!  কোথা থেকে এলো এ পাখি? আমি তো ভুল করিনি, ঠিকই শুনেছি! এ যে কোকিলের ‘কুহু’ ডাক নয়! এ তো আমার প্রতি ব্যাংককের বিষাদমাখা বিদায়সম্ভাষণ! ‘হোম! সুইট হোম!’ অবশেষে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে পরবাসে নিজ বাসায় ফিরে এসেছি। থাইল্যান্ডে হয়ত আর কোনো দিন যাব না, কিন্তু বসন্তের সেই কোকিলের উচ্ছ¡াস ভরা কুহু ডাক এবং  বিদায়বেলার করুণ সুর বাকি জীবনভর মনে থাকবে, মাঝে মাঝে কানেও বাজবে, অপরিসীম তৃপ্তিবোধ ও আনন্দানুভূতিতে হৃদয়কে সিক্ত করে দিয়ে যাবে!  লেখক: আবু এন. এম. ওয়াহিদ; অধ্যাপক, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিএডিটর: জার্নাল অফ ডেভোলাপিং এরিয়াজ Email: awahid2569@gmail.com

চীনের সেই পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে

ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তভূক্ত চীনের জিয়োঝেইগোকে আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খোলে দেওয়া হবে। আগামী ৮ মার্চ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিকে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হচ্ছে। গত আগস্টে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এ পর্যটন স্পটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। জিয়োঝেইগার ওই পর্যটন কেন্দ্রটিতে প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে ৪০ ইউয়ান (বাংলাদেশি টাকায় ২৭০ টাকা)। ২০১৮ সালের মার্চ মাসেই এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। তবে মার্চের পর থেকে ওই পর্যটন স্পটে প্রবেশে গুণতে হবে ১১০ ইউয়ান। ভূমিকম্পের পূর্বে জিয়োঝেইগার নামের ওই পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ ফি ছিল ২২০ ইউয়ান। এ ছাড়া নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রবেশ ফি ছিল ৮০ ইউয়ান। ২০১৮ সালে জিয়োঝেইগারের ওই পর্যটন কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষকে যাতায়াতের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে দর্শনার্থীরা কেবল ১০টি সাইটও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে বলে জানা গেছে। জানা যায়, ওই পর্যটন কেন্দ্রে ১০৮টি নৈসর্গিক হ্রদ রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে ৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৯৩ জন। সূত্র: পিপলস টাইমএমজে/

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর সুন্দরবনের করমজল

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ইকোটুরিস্ট করমজলে বানর-হরিণ ও কুমিরসহ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। সুন্দরবনের করমজল দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনের করমজলে এই ইকোটুরিস্ট এলাকায় ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন। বনবিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, করমজলে হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে যদি ডলফিনের এক্সিভিশন, সুন্দরবনে যে অরকিড আছে সেগুলোর গার্ডেন করা, বাটার ফ্লাইয়ের গার্ডেনসহ আরও একটু বৈচিত্র্য আনতে পারলে আরও দর্শানার্থী বাড়বে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পলিটেকনিকেলের শিক্ষার্থী আব্দুল মমিন বলেন, আমরা ৪৬ জনের একটি টিম আসছি। বইতে পড়েছি সুন্দরবন সম্পর্কে, কিন্ত আজ স্বচক্ষে দেখে খুবই ভালো লেগেছে। এখানকার প্রাকৃতিক বনের সৌন্দর্য আলদা বৈশিষ্ট্য না দেখলে বুঝানো যাবে না। অনেক কিছু দেখলাম, অনেক মজা করেছি। ফরিদপুর থেকে আসা গৃহবধূ তায়শা ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে প্রথম এসে হরিণ, বানর, কুমির, বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ ও নানা পশুপাখি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। যারা সুন্দরবনে আসেননি, তারা সুন্দরবন ঘুরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এই বনের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে অনেক দর্শনার্থীদের অভিযোগ, দর্শনার্থীদের বসার টুলের ব্যবস্থা নেই, ফুট ট্রেইল ও ওয়াচ টাওয়ারও নাজুক । এ কারণে দর্শনার্থীদের ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করতে হয়। এখানে অবকাঠামোর উন্নত ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীরা ভালোভাবে প্রাকৃতিক ঘুরে দেখতে পারতো। লোকালয় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পূর্ব সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী করমজলে ইকোটুরিজম সেন্ট্রার হওয়ায় প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসছে নৈসর্গ উপভোগ করতে। বনের বানর, হরিণ ও কুমিরসহ পশুপাখি খুব কাছ থেকে দেখা ও স্পর্শ করা যায়। এছাড়া বনের সৌন্দর্য দেখার জন্য রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এ কারণে সহসাই বনের দৃশ্যগুলো দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ। কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী ইকোটুরিজমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, এসএসসির পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার দর্শানর্থীদের সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। পর্যটক মৌসুমে এখানে দুটি ঘাট যথেষ্ট নয়। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন কিছু অবকাঠামো নির্মাণের। যাতে ঘুরতে এসে কোন দর্শনার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়। এসএইচ/

যেখানে মেলে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি চিহ্ন

এদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাঙ্গালীর সংস্কৃতিজুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পায়ের চিহ্ন। বাংলাদেশ ও ভারতের সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলা হয়, কবিত্ব আসে প্রকৃতি থেকে। আর সেই প্রকৃতির টানে রবীন্দ্রনাথ ছুটেছেন পথে-প্রান্তরে, রণে-বনে-জঙ্গলে। যেখানেই গিয়েছেন কল্পনার রাজ্যে সৃষ্টি করেছেন এক অপার মহিমার রাজ্য। কালের বিবর্তনে সেই কল্পনার রাজ্যগুলো আজ স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অনেক জায়গার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে কবির স্মৃতিচিহ্ন। তাই এই বসন্তের কোলাহলে হৃদয় দোলাতে আপনজনদের নিয়ে ঘুরে আসুন রবীন্দ্র-স্মৃতিবিজড়িত এসব জায়গাগুলোতে। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়ি, শাহজাদপুর কাচারিবাড়ী, সিরাজগঞ্জের পতিসর, নওগার কুঠিবাড়ি ও খুলনার কুঠিবাড়ি শ্বশুরবাড়ী খুলনা। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি: জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়িটি কুষ্টিয়া শহড় থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে অবস্থিত।১৮০৭ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ রামলোচন ঠাকুরের উইল সূত্রে এ জমিদারির মালিকানা পান। এর অবস্থান ৯.৯৩ একর জমির উপর । অনুষ্ঠান কখন হয়- প্রতিবছর এখানে মেলা বসে ২৫ বৈশাখ ও ২২ শ্রাবণ । এ ছাড়া কুঠিবাড়ির বিভিন্ন কক্ষে কবির চেয়ার, টেবিল, খাট, আলমারি, সোফা ও পালকি, কবির আঁকা বেশকিছু দুর্লভ চিত্রকর্ম, পরিবারসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে তোলা আলোকচিত্র, মহাত্মা গান্ধীকে স্বহস্তে লেখা একটি চিঠিসহ আরো অনেক কিছু সাজানো রয়েছে। আরো রয়েছে কবির প্রিয় বকুল গাছ ও সানবাঁধানো কুয়া আর বাথটাব। তবে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি বিখ্যাত হওয়ার পেছনে রয়েছে আরেক মাহাত্ম্য। কবি ১৯১৩ সালে যে সাহিত্যকর্মের জন্য নোবেল পুরস্কার পান সেই গীতাঞ্জলী’র অধিকাংশ কবিতাই রচনা করেছিলেন শিলাইদহে । এখানে থাকা অবস্থায় রচনা করেন কল্পনা, ক্ষণিকা, চৈতালী, সোনারতরী, চিত্রা, জীবন স্মৃতি, পঞ্চভূতের ডায়েরি, চিরকুমারসভা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, বলাকাছাড়াও অনেক প্রবন্ধ, উপন্যাস, গান ইত্যাদি রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৯ সালের নভেম্বরে জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম শিলাইদহে আসেন। জমিদারি পরিচালনা করেন ১৮৯১-১৯০১ সাল পর্যন্ত। পদ্মার ভাঙ্গনে কুঠিবাড়িটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলে নির্মান করা হয় নতুন কুঠিবাড়ি। বর্তমানে শিলাইদহ কুঠিবাড়িটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। আর কুঠিবাড়িতে প্রবেশে টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে জনপ্রতি ১৫ টাকা। বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা আর সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য পঞ্চাশ টাকা। বন্ধ-খোলার সময়সূচী:গ্রীষ্মকালে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। শীতকালে সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীত এবং গ্রীষ্মকালে দুপুর একটা থেকে ১ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সারাবছরই শ্রক্রবারে জুম্মার নামাযেন জন্য সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। তবে সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে এটি। শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি: রবীন্দ্র কাচারী বড়িটি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার শাহজাদপুর বাজারের পাশেই অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯০ সালে প্রথম শাহজাদপুর কুঠিবাড়িতে আসেন এবং ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত অনেকবার তিনি এখানে এসে থেকেছেন। এখানে থাকা অবস্থায় তিনি অনেক সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেছেন । বর্তমানে ভবনটি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। শাহজাদপুর কাছারি বাড়িটি একটি দ্বিতল ভবন। এটি নির্মিত হয়েছে ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে। বাড়িটির ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার আর উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির প্রতি তলায় ৭টি করে কক্ষ রয়েছে এবং একটি করে সিড়ি ঘড় রয়েছে। ভবনটিতে উত্তর ও দক্ষিণের বারান্দা দুটি একই প্রশস্তের। বারান্দার থাম গুলি গোলাকৃতির জোড়ামাপের এবং থামের উপরাংশে অলংকরণ। বড় আকারের দরজা, জানালা এবং ছাদের উপরে দেয়ালে আকর্ষনীয় পোড়ামাটির কাজ রয়েছে। জাদুঘরটির নিচতলায় পাশাপাশি তিনটি কক্ষের দেয়ালে লাগানো হয়েছে কবির আঁকা মূল্যবান ছবি ও আলোক চিত্র। তার মধ্যে নারী প্রতিকৃতি এবং কয়েকটি নৈসর্গিক চিত্র অন্যতম। দুটি কক্ষকে আকর্ষনীয় করেছে কবির তিনটি পান্ডুলিপি আর চারটি আলোকচিত্র। কবির জন্মদিনে মহাত্না গান্ধীর সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তের ছবি, ইতালিতে এবং বিলেতের ছবিগুলো এখনো প্রানবন্ত রয়েছে। ১৯৬৯ সালে জড়াজীর্ণ অবস্থায় ভবনটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর । পুনঃনির্মাণ করা হয় একতলা ছাদ এবং দুতলা ছাদসহ আরো অনেক কিছু। এ বাড়িতে প্রাপ্ত আবসাবপত্র এবং রবীন্দ্র জীবনভিত্তিক আলোকচিত্র নিয়ে ভবনটিকে পরিণত করা হয় জাদুঘরে। এখানে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহার্য আসবাবপত্র, কবিগুরুর পিয়ানো,খাট,পাল্কি,চেয়ার,টেবিল পালংসহ আরও আনেক কিছু। অডিটরিয়াম তৈরি করা হয়েছে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি প্রঙ্গণে। সেখানেই রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দপ্তর। জমিদারি দেখাশোনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত এই কাছারি বাড়িতে আসতেন এবং সাময়িতভাবে এই বাড়িতে থাকতেন। জমিদারি দেখাশুনা ছাড়াও অনেকবার তিনি এই বাড়িতে এসেছিলেন। এখানে থাকা অবস্থায় গান, কবিতা, ছোট গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছিলেন। জমিদারির সঙ্গে সঙ্গে কাছারি বাড়িটিও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়। টিকেট প্রাপ্তিস্থান: জাদুঘরের গেটের পাশেই টিকেট কাউন্টার রয়েছে । টিকেট এর দাম জনপ্রতি বিশ টাকা। কিন্তু ৫ বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের জন্য টিকেট প্রয়োজন হয় না। বিদেশীদের জন্য টিকিটের মূল্য ২০০ টাকা কিন্তু সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য ১শত টাকা।বন্ধ-খোলার সময়সূচীঃ শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে। আর গ্রীষ্মখালে সকাল ১০টা খেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে। শীত এবং গ্রীষ্ম সব সময়ই দুপুর ১টা থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত জাদুঘরটি বন্ধ থাকে। শীত ও গ্রীষ্ম সব সময়ই শুক্রবার জুম্বার নামাজের জন্য বারোটা থেকে ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সারবছরই রোববার সাধারন ছুটি। সরকারি যে কোন বিশেষ দিবসেও জাদুঘরটি খোলা থাকে। কিভাবে যাবেন?ঢাকা শহড়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য বাস পাওয়া যায়। আর সিরাজগঞ্জ শহড়ে থেকে রবীন্দ্র কাচারী বাড়ির রিক্সা ভাড়া প্রায় ২০ টাকা। অনেকে হেঁটেই চলে যান কাছারী বাড়িতে। কাছারি বাড়িতে ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করাসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করা হয়। পতিসর কুঠিবাড়ি:নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নাগর নদীর তীরে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথের পতিসর কুঠিবাড়ি। বাড়ীটির অন্যতম আকর্ষণ ‘সিংহ দরজা’। দরজাটি বৃহদাকার আর দরজার উপরে রয়েছে একজোড়া সিংহের মূর্তি। দুরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই ফাঁকা জায়গায় মেঝের উপরে রবীন্দ্রনাথের দণ্ডায়মাণ কংক্রিটের ভাস্কর্য। কবির ব্যবহৃত সামগ্রী ও ছবি রয়েছে বাড়ীর চারপাশের দেয়ালগুলোয় । কাচারিবাড়ীর সামনে রয়েছে রবীন্দ্র সরোবর, ফাঁকা মাঠ এবং মাঠের পাশেই রয়েছে নাগর নদী। উত্তর দিকে রয়েছে বিরাট দীঘি, দক্ষিণে কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট। জানা যায়, ১৮৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ এ জমিদারি ক্রয় করেন। জবিদারি দেখাশোনার জন্য রবীন্দ্রনাথ সর্বপ্রথম এখানে আসেন ১৮৯১ সালে। পতিসর কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন ১৯০৫ সালে এবং কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন ১৯১৩ সালে। ১৯০৫ সালে তিনি পতিসর কৃষি ব্যাংক ও ১৯১৩ সালে কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২১ সালে জমিদারি ভাগ হলে পতিসর রবীন্দ্রনাথের ভাগে পড়লেও নানা কারণেই তিনি এখানে কম আসেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাই তিনি পতিসর কুঠিবাড়ি থেকে বিদায় নেন। ১৯৮৬ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় রবীন্দ্র সাহিত্য পরিষদ। এখানেই ১৯৩১ সালে বিখ্যাত সাহিত্যিক তৎকালীন নওগাঁ মহকুমার প্রশাসক অন্নদা শংকর রায়ের সঙ্গে সাক্ষাত হয় রবীন্দ্রনাথের। দক্ষিণডিহি শ্বশুরবাড়ি:এ গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথের মা সারদা সুন্দরী, কাকী ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী ও স্ত্রী মৃণালিনী দেবী ওরফে ভবতারিণী। জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবনের সামনে স্থাপন করা হয় বিশ্বকবি ও মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ মূর্তি এবং মৃণালিনী মঞ্চ। মঞ্চের অদূরে রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র। খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দক্ষিণডিহি গ্রাম। গ্রামের ঠিক মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র-মৃণালিনীর স্মৃতিবিজড়িত একটি দোতলা ভবন। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ী। এসব জায়গা ঘুরে হতে পারেন ইতিহাসের সাক্ষী। দেখতে পারেন প্রকৃতিকে। নিজের চোখে আবিষ্কার করতে পারেন রবীন্দ্র দর্শনকেজ। হৃদয়ে উপলব্ধি করতে পারেন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের যে গভীর চেতনা, তার মর্মবাণী। এমজে/  

নান্দনিক সৌন্দর্যের অভয়ারন্য ফয়েজলেক

ভ্রমণ পিপাসুরা যে কয়টি বিষয়ের ওপর ভ্রমণের স্থান নির্বাচন করেন।তার মধ্যে অন্তত তিনটি বিষয় মিলবে ফয়েজলেকে। লেকটিতে ভ্রমণ করলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিরল প্রজাতির পাখিসহ নৌকায় চড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। তাই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে নানন্দিক সৌন্দর্যের অভয়ারন্য হচ্ছে ফয়েজলেক। চট্টগ্রামে প্রায় ৩৩৬ একর জমির উপর গড়ে উঠা ফয়েজলেক এবং তার আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে বছরের প্রত্যেকটা দিনই দেশি বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান। যেখানে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নৌকা ভ্রমনের ব্যবস্থা। রয়েছে বিরল প্রজাতির পাখি এবং ডিয়ার পার্কের হরিন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য রয়েছে ট্রাকিং এর ব্যবস্থা। কনসার্ট করার জন্যও বিশাল আকারের আয়োজন রয়েছে। এছাড়া লেকের আশপাশের আরো কয়েকটি ভ্রমনপ্রিয় স্থানও একই সঙ্গে ঘুরে আসার সুযোগ রয়েছে।যার মধ্যে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা, পৃথক কৃত্তিম হৃদ, বাটালি পাহাড় উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে, ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রেল কলোনিতে বসবাসকারী লোকদের কাছে পানি পৌছানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল একটি লেক।পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক পাহাড়ের শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়ি ভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করা হয় এই লেকটি। ভূ-তাত্বিকভাবে দুপিটিলা স্তর সমষ্টিল শিলা দ্বারা গঠিত হয় এইসব পাহাড় শ্রেণী। উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেনী থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে তৈরি করা হয় এই লেকটি। সেই সময় লেকটি পাহাড়তলী লেক হিসবে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে রেল প্রকৌশলী ফয়-এর নামে করা হয় লেকটির নামকরন। বর্তমানে ফয়েজ লেকের মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ের। হ্রদটি কেন্দ্র করে কনকর্ড একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। ফয়েজ লেক দেখতে গেলে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা দেখে আসতে পারেন। ফয়েজ লেকের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। লেকের নিকটবর্তী পাহাড়তলী রেলস্টেশনের কাছেই রয়েছে আরেকটি কৃত্তিম হৃদ। ফয়েজলেক তৈরির পূর্বে ১৯২০ সালে সেই লেকটি খনন করা হয়েছিল। সেই লেকটিও পরিণত হয়েছে পর্যটন  কেন্দ্র হিসেবে। ফয়েজলেক দেখতে গেলে দেখে আসতে পারেন চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাহাড় “বাটালি পাহাড়” যার অবস্থান ফয়েজলেকের পাশেই। কোথায় খাবেন: ফয়েজলেকের ভিতরেই খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তুলনামুলক ভাবে কম দামে খেতে চাইলে ফয়েজলেক থেকে বেরিয়ে আসলেই খাওয়া জন্য অনেক রেষ্টুরেন্ট দেখতে পাবেন। কোথায় থাকবেন: ফয়েজলেকে কটেজ ভাড়া করে থাকতে পারেন। এছাড়া ফয়েজলেক থেকে বেরিয়ে আসলে কাছাকাছি বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। যেভাবে যাবেন: ঢাকা শহড় থেকে চট্টগ্রামে বাস, ট্রেন বা বিমান যোগে যেতে পারেন। চট্টগ্রাম যাওয়ার পর রিক্সা বা সিএনজিতে করে যেতে পারেন ফয়েজলেক। ফয়েজলেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত। আরকে// এআর

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি