ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৩:০৬

মন চলো রূপের নগরে

মন চলো রূপের নগরে

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। এখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন বাউল সম্রাট লালন, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান, কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আবু জাফরসহ বহু বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব। প্রতিবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক।   ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে কুষ্টিয়ার বিশেষ আকর্ষণ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার। তিনি এই কুষ্টিয়া জেলায়-ই জীবন কাটিয়েছেন। তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচিত। লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বহুদিন ধরেই মনে বড় ইচ্ছে ছিল রূপের নগর কুষ্টিয়া ভ্রমণের। তাই ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম। আমরা প্রথমে যাই শিলাইদহের কুঠিবাড়ি। কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানে কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবির বহু স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের একপাশে অবস্থিত ঘোড়ার ঘাট পার হয়ে রিক্সা/ভ্যান/অটোযোগে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পৌছানো যায়। ঘোড়ার ঘাটের অন্য পাড় হতে কুঠিবাড়ি পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ৩৫ মিনিট। ৩২ বিঘা জমি নিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনা। আড়াইতলা এ বাড়িটিতে রয়েছে ১৭টি কক্ষ। বাড়িটির কক্ষ ও বারান্দাজুড়ে প্রদর্শনীর জন্য রয়েছে কবির ব্যবহৃত ১টি পালঙ্ক, লেখার টেবিল, ইজি চেয়ার, নদীতে চলাচলের দুটি বোট `চঞ্চল`-`চপলা`, ৬ বিহারা ও ৮ বিহারার ২টি পালকি, লোহার সিন্দুক ১টি, খাজনা আদায়ের টেবিল ১টি, রোলার ১টি, আটকোনা টেবিল ১টি, গদি চেয়ার ২টি, সোফা ২টি, আলনা ১টি, কাঠের আলমিরা ৪টি, ফাইল কেবিনেট ১টি ঘাষকাটা যন্ত্র, পানি শোধন যন্ত্র ১টি, বিভিন্ন সময়ে কবিকে ঘিরে তোলা আলোকচিত্র, কবির নিজের আকা ছবি ইত্যাদি। মশাররফের বাস্তুভিটা আমরা সেখান থেকে গেলাম মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটায়। কুষ্টিয়া শহরের অদূরে লাহিনীপাড়াতে মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটা অবস্থিত। মীর মশাররফ হেসেনের ঘর-বাড়ি কিছুই নেই, আছে শুধু পৈত্রিক ভিটে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিক্সাযোগে সেখানে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। আমরা কুঠিরবাড়ি হয়ে সেখানে গিয়েছি ব্যাটারিচালিত অটোতে করে। লালন শাহের মাজার মশরারফ হোসেনের বাস্তুভিটা থেকে গেলাম বাউল সম্রাট মরমি সাধক গুরু লালন ফকিরের মাজারে। ১৭ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে বাউল মতের উন্মেষ ঘটলেও এই মত ও পথকে জনপ্রিয় করে তোলেন মরমি সাধক গুরু লালন ফকির। বাউল সম্রাট লালন ফকিরই বাউল ধারণার একটি স্বতন্ত্র ধর্ম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কথা ছিল কুষ্টিয়া নেমে প্রথমে হোটেল যাবো। তারপর বিশ্রাম ও খাওয়া-দাওয়া। এরপর ঘুম। পরদিন সকালে সোজা সাঁইজীর মাজারে যাবো। কিন্তু কিছু অনিবার‌্য বাস্তবতায় সেটি আর হয়ে উঠেনি। এর একটি কারণ হচ্ছে আমরা ট্রেনে গিয়েছি। রাতের ট্রেনে গেলে পোড়াদহ নামিয়ে দিবে রাত ২টায়। তখন কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া কষ্টকর। তাই ওখানেই রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। অপরদিকে লালন উৎসবের সময় এ এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। তাই হোটেলও পাওয়া কষ্টকর। তবে আমরা পেয়েছিলাম কিন্তু সে জন্য ভাড়া গুনতে হয়েছে বেশি। সাধারণ সময় হোটেল দুই বেড পাওয়া যায় চারশ’ টাকার মধ্যে। এ সময় তা আটশ’ নেওয়া হয়। যাই হোক- ফিরে আসি লালন শাহর মাজারে। তার মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার আগেই মনে মনে বেজে উঠল লালনের গান। তারপর তো একের পর এক গান চলে। গলা ছেড়ে না গেয়ে থাকতে পারলাম না। ভ্যানে করে গান গাইতে গাইতে চলে আসি সাইজির আখড়ায়। মাজার গেটের সামনে নেমেই ডানপাশে ছোট্ট একটা বাজার লক্ষ্য করলাম। প্রায় সব দোকানেই একতারা, দোতারা, লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সমাহার। ভাবছিলাম আগে কিছু কিনব কিনা। শেষে ঠিক করলাম আগে গুরুর মাজার দেখা তারপর কেনাকাটা। গেট দিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই আপনা-আপনিই একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছিল নিজের মধ্যে। চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশ গোছালো। সামনে মাজার যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মরমী সাধক গুরু লালন সাঁইজী। আরও কিছু সমাধী। বেশকিছু লালনভক্ত চেখে পড়ল। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যে বকশিস পায় তা দিয়েই তাদের চলে। মাজারের পাশে রয়েছে অডিটরিয়াম। বেশ উন্নত। পাশে একটা পাঠাগার ও জাদুঘরও রয়েছে। জাদুঘরে বেশকিছু লোকজ সংগ্রহশালার নিদর্শনসহ রয়েছে লালন ফকিরের ব্যবহৃত একটি একতারা। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন লালন উৎসব চলছিলো। সমাধির বাইরে বিশাল জায়গা নিয়ে চলছে লালন মেলা। ভক্তদের উপস্থিতি প্রচুর। স্টেজে চলছে গান। আমরা রাতে সেখানে গান শুনে আবার ফিরে আসলাম হোটেলে। রাতেই টিকেট কেটে রাখলাম বাসের। ঢাকায় আসার অসংখ্য গাড়ি আছে মজমপুর নামক স্থানে। সেখানেই আবাসিক হোটেলগুলো গড়ে উঠেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তবে যারা কুষ্টিয়া বেড়াতে আসবেন তারা একটু সময় হাতে নিয়ে আসবেন। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু, পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায়। কুষ্টিয়া এলে ইতিহাসের সাক্ষী এই রেলসেতুটি একবার স্বচক্ষে দেখে যেতে ভুলবেন না। রয়েছে লালন শাহ সেতু। বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ সেতু। সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত। সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মাণ করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মুক্ত বাংলা ভাষ্কর্যটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে-ই অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে যশোর/খুলনা অভিমুখী যেকোন বাসে উঠলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামা যাবে। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি একবার ঘুরে দেখতে দেখলাম। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে। শাহী মসজিদ কুষ্টিয়ার আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্য শাহী মসজিদ। মোঘল আমলে নির্মিত এ মসজিদটি এই অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। কুষ্টিয়া শহর থেকে ঝাউদিয়া অভিমুখী মিনিবাস চলাচল করে। মিনিবাস থেকে ঝাউদিয়া বাজারে নেমে পাঁচ-সাত মিনিট পথ হাঁটলেই শাহী মসজিদ। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। পাঠক কুষ্টিয়া আসলে এসব স্থানগুলো দেখতে ভুল করবেন না। সেই সঙ্গে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত কুলফি মালাইতো আছেই। অসাধারণ স্বাদের এ মালাই একটি খেলে আরও খেতে ইচ্ছে জাগবে। আসার সময় বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসতে পারেন কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা। আরও বলে রাখি। কুষ্টিয়ায় বেশকিছু মিষ্টির দোকান আছে। মজাদার এসব মিষ্টির দোকানে ঢুকে মিষ্টির স্বাদটাও নিতে পারেন। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, লালন একটি মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। নাম ‘প্যারা’। যা এখনও পাওয়া যায়। খেয়ে দেখতে পারেন। তবে ভালো মিষ্টির দোকান থেকে চিনে খেতে হবে। এজন্য স্থানীদের কাছ থেকে শুনে নিতে পারেন কোন দোকানের মিষ্টি বেশি ভালো। আমরা খুব সকালে নাস্তা খেয়ে বাসে উঠে বসলাম। ঠিক সময় বাস ছেড়ে দিলো। দুই পাশের প্রকৃতি আমাদের বিদায় জানালো। অপরূপ সবুজের এই প্রকৃতি আপনার চেখের কোন ক্লান্তি আনবে না। দুপুরের মধ্যে পৌছে গেলাম ঢাকায়। কীভাবে যাবেন ঢাকার কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে যমুনা সেতু  হয়ে কুষ্টিয়া ট্রেনযোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেনগুলোর মধ্যে চিত্রা, তূর্ণা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর মধ্যে অন্যতম। ঢাকা থেকে ট্রেনে পোড়াদহ। সেখান থেকে অটো বা সিএনজিতে কুষ্টিয়া শহর। এরপর রিক্সাযোগে যাওয়া যায় লালনের মাজারে। সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। তবে বাসেও যাওয়া যায়। //এস//এআর
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নগর দোহার-নবাবগঞ্জ

শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতা ছেড়ে অনেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান সতেজতা অনুভব করতে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে সময় স্বল্পতার কারণে বেড়ানোর কথা ভাবতেই পারেন না। তবে রাজধানীর কাছাকাছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোনো স্থান থাকলে স্বল্প সময়ে বেড়িয়ে আসতে পারেব। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা পথের দূরত্বে রয়েছে এমনি একটি স্থান। মাত্র একদিনে সুন্দর ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য স্থানটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে চাইলে চলে আসুন রাজধানীর একেবারে পাশের উপজেলা নবাবগঞ্জে। ২৪৪ দশমিক ৮০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে সিঙ্গাইর উপজেলা। দক্ষিণে দোহার উপজেলা। পূর্বে কেরানীগঞ্জ, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা। পশ্চিমে হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রথমে আপনাকে আসতে হবে কলাকোপায়। নদী আর স্থাপনার সমন্বয় কলাকোপার মূল বৈশিষ্ট্য। ঢাকার খুব কাছেই দোহারের একটি গ্রাম কলাকোপা। পাশের গ্রাম বান্দুরা। ঢাকা মহানগর থেকে দেড় ঘন্টার পথ। বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে কায়কোবাদ সেতু টপকে রাস্তার দুপাশের সবুজ উপভোগ করতে করতে ইতিহাস সমৃদ্ধ এই প্রাচীন নগরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। শুরুতেই বলে রাখি; এখানে বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে ঘুরে দেখার জন্য। তাই দিনে দিনে সবগুলো স্পট দেখতে চাইলে আপনাকে খুব সকালেই রওনা দিতে হবে। গুলিস্তান থেকে দোহার-নবাবগঞ্জগামী বাসে মাত্র ৭০ টাকা দিয়ে বসে পড়ুন। বাসে উঠে হেলপারকে বলবেন- জজ বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার কলাকোপা-বান্দুরা। উনিশ শতকেও এখানে জমিদারদের বসতি ছিল। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ গ্রাম কলাকোপা-বান্দুরা একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থস্থান ছিল। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখ জুড়ানো। যার প্রাণ ইছামতি নদী। এখানে দেখার অনেক কিছুই আছে। একদিকে স্নিগ্ধ অপরূপ প্রকৃতি অন্য দিকে নানা পুরাণ কাহিনী। কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির পাশে উকিল বাড়ি। তারপর জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন (যা এখন জজ বাড়ি নাম ধারণ করেছে)। ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি। শ্রীযুক্ত বাবু লোকনাথ সাহার বাড়ি (যার খ্যাতি মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি নামে)। মধুবাবুর পাইন্না বাড়ি, পোদ্দার বাড়ি এবং কালি বাড়ি। এখানে আরও আছে খেলারাম দাতার বিগ্রহমন্দির, মহামায়া দেবীর মন্দির। আর একটু দূরের হাসনাবাদে জপমালা রানীর গির্জা। ঐতিহ্যবাহী জজ বাড়ি : এটি নবাবগঞ্জের কলাকোপা নামক স্থানে অবস্থিত। একটি সুন্দর বাগান ঘেরা এবং বিশালাকৃতির এই জমিদার বাড়িটি মূলত জজ বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়ির পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। রয়েছে পোষা হরিণের একটি খামার। বাগানের হাজারো রকমের ফুল আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে অনায়াসে। জমিদার বাড়িটি অতি প্রাচীন কালের ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি। যা আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিবে। কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি : এই জমিদার বাড়িটি জজ বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত। বলা যেতে পারে এটি জজ বাড়ির ওল্ড ভারসন। জজ বাড়ি বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে সেই আগে যেমনটি ছিল। এই জমিদার বাড়িতেও রয়েছে শত শত দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ আর বাড়ির ঠিক সামনে রয়েছে বিশালাকৃতির স্বচ্ছ পানির পুকুর। রয়েছে বিশালাকৃতির পুকুর ঘাট। বৌদ্ধ মন্দির : এই বৌদ্ধ মন্দিরটি কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ির ঠিক বাইরে অবস্থিত। মন্দিরটির ভেতরে একটি ভাঙা মুর্তি আছে। কথিত আছে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী এই মুর্তিটি ভেঙে রেখে গিয়েছিল। খেলালামদার বাড়ি (আন্ধার কোঠা) : এটি এক সময় সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখনো মাটির উপর দুইতলা একটি জড়াজীর্ণ ভবন দেখতে পাবেন। কথিত আছে এই পাঁচতলা ভবনটি এক রাতে তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে চলে গিয়েছিল। ভবনটির উপরের তলাতে একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। কথিত আছে জমিদার খেলালামদা এর মা একদিন তার সন্তানের কাছে দুধ খেতে চাইলে তিনি তার মায়ের জন্য এই চৌবাচ্চা বানানোর নির্দেশ দেন। পরে সেই বিরাট চৌবাচ্চায় দুধ এবং কলা দিয়ে পূর্ণ করে তার মাকে সেই চৌবাচ্চায় নামিয়ে দেন। তার মা সাতার কেঁটে কেঁটে মনের সাধ মিটিয়ে দুধ পান করেছিলেন। এই বাড়িটির পাশেও একটি বিরাট পুকুর আছে। কথিত আছে এই পুকুরের পাশে এসে কেউ কিছু চাইলে তার পর দিন তাই মিলে যেত। কলাকোপা আনসার ক্যাম্প : জজ বাড়ির কাছেই কলাকোপা আনসার ক্যাম্প অবস্থিত। এটিও একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি পরিবেশ। পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আনসারদের বসবাসের জন্য অনেক বড় একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি। এখানে বেশ কয়েকটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভবন রয়েছে। ইছামতি নদী : এই নদীটিকে ঘিরে সেই আগের মত প্রাণ চাঞ্চল্য না থাকলেও সূর্যাস্তের সময় আপনি মুগ্ধ হয়ে এর রূপ অবলোকন করতে সক্ষম হবেন। ভাঙা মসজিদ : কথিত আছে এই মসজিদটি এক রাতে গায়েবীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। যে রাতে এটি সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন ভোরে কোনো এক লোক এই মসজিদটি প্রথম আবিষ্কার করেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ সৃষ্টি হতে পারেনি। মানুষের চোখে পড়ে যাওয়ায় এটি সেরকম অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এর একটি অংশ ভাঙা থাকার কারণে এটি ভাঙা মসজিদ নামেই পরিচিত। সাত মাথার মূর্তি : এটি মাঝির কান্দা নামক স্থানের অদূরে অবস্থিত। একটি বিরাট বটগাছের নিচে এই মুর্তিটি নির্মাণ করা করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। প্রতি বছর এই মূর্তিকে ঘিরে পূজা এবং মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বান্দুরা গির্জা : অনেক বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গির্জাটি। গির্জার ভেতরের দিকটা বেশি আকর্ষণীয় এবং সামনে একটি বিশাল খোলা মাঠের সৌন্দর্য হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গির্জাটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কিছু খ্রিস্টান মিশনারী ক্যাম্প।  

ঘুরে আসুন পান্থমাই

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঘোরাঘুরি করতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অনেকে ভ্রমণের নেশায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের দর্শনীয় স্থানের টানে ছোটেন। অথচ দেশের ভিতরেই এমন কিছু স্থান আছে যেখানে আপনি চাইলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। মনকাড়া, দৃষ্টিনন্দন এসব স্থান ঘুরতে একদিকে যেমন আপনার টাকা বাঁচবে অপরদিকে আপনি পাবেন বিনোদন। নজরকাড়া এমনই একটি স্থান হলো সিলেটের পান্থমাই। এখানে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। ইচ্ছে করলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন স্ব-পরিবার নিয়ে। জেনে নিন পান্থমাই সম্পর্কে- পান্থমাই : পান্থমাই ঝরনা ভারতে অবস্থিত। এটি ভারতে অবস্থিত হলেও এর সৌন্দর্য পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়। এর অসম্ভব সৌন্দর্য দেখে আপনি অভিভূত হবেন। ঝরনার বৈশিষ্ট্য: পান্থমাই ঝরনা পাহাড়ি ঢল বেয়ে পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় এটি বেশ গর্জন করতে থাকে। ঝরনার পুরো পানিটাই বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। ঝরনা থেকে গড়িয়ে পড়া পানিতেই তৈরি হয়েছে ছোট নদী। স্থানীয়রা এ নদীকে ছড়া বলেন। আর পান্থমাই জলপ্রপাত এ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে একে ফাটা ছড়া বা ঝরনা বলা হয়। এছাড়া পান্থমাই গ্রামের চারপাশ খুব চমৎকার। ভ্রমনের সময় আপনাকে বাড়তি আনন্দ দেয় এগুলো। এখানে রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। যেভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জেলা থেকে যেতে হবে সিলেট শহরে। শহরের বিমানবন্দর রোড দিয়ে অটোরিকশায় পান্থমাইয়ের পথ। ভাড়া করার সময় অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে কিনা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। রাত যাপন : পান্থমাই থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা না থাকলেও সিলেট শহরে অনেক হোটেল-মোটেল রয়েছে। ৩শ’ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া পাওয়া যায়।  এগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো। খাওয়া-দাওয়া : আপনি চাইলে পান্থমাই যাওয়ার সময়ই সিলেট থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। ওখানে বাজার থাকলেও দুপুরে খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে সেখানে স্থানীয়দের রান্না করা রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন, কম খরচে ভালো খাবার পাবেন। আর/ডব্লিউএন      

সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন বাংগুরী

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাংগুরী গ্রাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলা ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সহোদরা গ্রাম। প্রতিটি মৌসুমে প্রকৃতির রূপ বদলের সাক্ষী হতে নিজের রং-রূপও বদলে নেয় এই গ্রাম। বৈশাখের আম্রমুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা, কৃষ্ণচূড়ার লালে সাজে। মাঠ সবুজ হয়ে ওঠে বোরো ধানের সবুজে। শীতে সেই মাঠ পরে সরষের হলুদ শাড়ি। সেই হলুদ বসন থেকে বাতাসে ভেসে আসে সুগন্ধ। ঘুম ভাঙ্গে পাখির কিচির মিচির আর কলতানে। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপ প্রকৃতি  ফিরে আসতে চান বারবার এমন কোন গ্রামে, যেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকে শিমুলের ডালে, সন্ধ্যার বাতাসে ওড়ে সুদর্শন, সবুজ করুণ ডাঙা জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা থাকে। পায়ে লাল ঘুঙুর পরা কিশোরী হয়ে কলমীর গন্ধভরা জলে ভাসতে ভাসতে হাঁস হতে চান কবি। কার্তিকের নবান্নে কুয়াশার বুকে ভেসে ভোরের কাক, শালিক, ধবল বক কিংবা শঙ্খচিল হয়েই আবার ধানসিঁড়ির তীরে ফেরার ইচ্ছা সেই কবির।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও মন ভুলিয়ে দিত আজ আমরা তেমন এক সুনসান নীরব গ্রামের কথাই বলব। যেখানে প্রকৃতি তার সব সুন্দর নিয়ে বসে আছে পরিব্রাজকের মন জোগাতে। সেই সময় কোনো এক অচিন পরিব্রাজকেরও ইচ্ছে করে ওই হলদে জমিনে লুটিয়ে পড়ে ভোরের শিশিরভেজা সরষে ফুলের রেণু মাখতে। এখনকার রূপ ভিন্নতর। সময়টা ভাদ্রের শরৎ হলেও বর্ষা এখনো প্রকৃতিকে ছেড়ে যায়নি। চারদিকে জল থই থই করে । রাস্তাঘাট জলের নিচে। মাঝির বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এগিয়ে চলে নৌকো চিরচেনা গ্রামের দিকে। অর্ধডুবন্ত বাড়িঘরের সম্মুখে খড়ের গাদা, তার পাশেই জল ছুঁই ছুঁই গরুর গোয়াল, পাশেই যোগাযোগের বাহন কোষা নৌকা। নয়নজুড়ানো এমন দৃশ্য দৃষ্টির সীমানায় আসতেই মননে মগজে শৈশব ভিড় করে। বর্ষার ভরা জলে কবি বন্দে আলীর মিয়ার-  ‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান/ আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ/ মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি/ চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি!’-ছড়া কাটতে কাটতে দিনমান ডুবসাঁতারে চোখ লাল করে ফেলার পর সন্ধ্যায় মায়ের বকুনিতে রাত নামে। বর্ষায় মিষ্টি পানির মৎস্য আহরণ দেখবেন না তা তো হয় না।যার জালে যত বেশি মাছ, তার মুখে হাসি তত চওড়া। চাইলে এই গ্রামে ঢোকার পথেই মাথাভাঙ্গা বিলের পাশের কোনো এক বাড়িতে অর্ডার দিয়ে কাচালঙ্কা সহযোগে ফুটি, মলা, খলসে, কই, টেংরা, মেনি, কাকিলা বা বড় রুই-কাতলার মুচমুচে ভাজাও খেয়ে নিতে পারবেন। গ্রামের পশ্চিম পাশের সীমানায় বর্ষায় সৃষ্ট অস্থায়ী জলাধারে। দেখলে মনে হবে যেন এক গহীন  বিল। খানিক দূরে কলাগাছের ভেলায় করে শামুক কুড়োচ্ছে গ্রাম্যবালা। আশপাশে শাপলা ফুলের মৌনতা। শাপলা সাধারণত সকালে ফোঁটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। হয়তো কড়া রৌদ্রের ছোঁয়াচ ওদের ভালো লাগে না। প্রকৃতিও এখানে দারুণভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের লাল সবুজ রং। বর্ষার জল সুধায় সেজে ওঠে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত। জেলের নৌকার ছইয়ে থাকে উদীয়মান সূর্যের লাল রং। আর এভাবেই জনপদে আঁকা হয়ে যায় আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। মেঘের ক্যানভাসে জল, নৌকা, শাপলা, ধানের সবুজ পত্রপল্লব ও বিমুগ্ধ করবে যেকোনো পরিব্রাজককে ।বর্ষার সবুজ আর শরৎ মেঘের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে ছুটতে হয় এমন গ্রামের স্বর্গেই। আর কণ্ঠে তখন নিশ্চয় অনুরণন তুলবে নির্মলেন্দু গুণের ‘হুলিয়া’- দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিবর্তনহীন গ্রামে ফিরছি আমি সেই একই ভাঙাপথ, একই কালো মাটির আল ধ’রে গ্রামে ফেরা আমি কতদিন পরে গ্রামে ফিরছি। এমন মনোমুগ্ধকর গ্রাম যেখানে কান পাতলেই মেলে বাতাসে আন্দোলিত গাছের শব্দ, ভাটিতে জল বয়ে চলার শব্দ, মেঘের গর্জন, পাখপাখালির ডাক। এসবের মিলিত শব্দ  যেন সংগীত হয়ে বাজে।  আর দৃষ্টি জুড়ায় অসীম আকাশ। স্বচ্ছ সফেদ জলরাশি ও শস্য সবুজে গ্রামীণ মানুষের যাপিত জীবন দেখতে হলে বর্ষার গ্রাম একবার হলেও দেখা চাই। এমন গ্রাম রবিঠাকুরের মতো করে পায়ে ধরে আপনাকে ঘরের বাহির না করতে  পারে?  তাহলে কবি জসীমউদ্দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ থাকল ভ্রমণপিপাসু আপনাকেও :  তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়  গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;  মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি  মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,  মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়... যাতায়াত ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন বা টাঙ্গাইলের দূরপাল্লার যেকোনো বাসে কালিয়াকৈর নামতে হবে। ভাড়া নেবে ১০০ টাকার মতো।কালিয়াকৈর থেকে শ্রীফলতল, বলিয়াদি, দেওয়াইর বাজার হয়ে সাত কিলোমিটার গেলেই বাংগুরী গ্রাম। বাসস্ট্যান্ডে দুই আড়াইশ টাকায় সিএনজিও পাওয়া যাবে। আর ব্যক্তিগত পরিবহনে বাসের রুট ছাড়াও ঢাকার ধামরাই থেকে ধানতারা বাজার হয়ে বাংগুরী গ্রামে যাওয়া যাবে। বর্ষার জলে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে এই সময় কালিয়াকৈর থেকে বংশাই নদীপথে নৌকাই হতে পারে উপযুক্ত বাহন। পানি নেমে গেলে প্রাইভেট কার বা সিএনজিতে পৌঁছানো যাবে। ঢাকা থেকে এই গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটারের মতো। কাজেই ভ্রমণ শেষে ঢাকা ফেরা যাবে অথবা থাকতে চাইলে কালিয়াকৈরের সোহাগপল্লী, রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট বা আনন্দ রিসোর্টের মতো আধুনিক মানের বেশ কয়েকটি রিসোর্টেও পরিবার পরিজন নিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন । কেআই/ডব্লিউএন

বিদেশ ভ্রমণ করতে চান, ভিসার খোঁজ করুন এই ওয়েবসাইটে

বিদেশে অভিবাসন, পড়াশোনা, কাজ কিংবা ভ্রমণের ভিসার জন্য প্রতিবছর অনেকেই আবেদন করেন। ভিসা আবেদনে বহু কাঠখোড় পোহাতে হয়। সেই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ারও উপায় আছে। বর্তমানে দরকারি সব তথ্যই পাওয়া জানা যায় অনলাইনে। ঠিকঠাক জেনে আবেদন করলে আর হয়রানির শিকার হতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা ব্যবসার জন্য দুই ক্যাটাগরির ভিসা আছে—বি১ ও বি২। বি১ ব্যবসার কাজে, বি২ ভ্রমণের জন্য। এই ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে দেশটিতে কোনো কাজ, পড়াশোনা, এমনকি সাংবাদিকতাও করা যাবে না। আরো জানতে ক্লিক করুন— https://travel.state.gov/content/visas/en/visit/visitor.html যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ কিংবা স্বল্প মেয়াদি ভিসার তথ্য জানা যাবে www.gov.uk/browse/visas-immigration/tourist-short-stay-visas লিংক থেকে। ভারতের ভ্রমণ ভিসা পেতে হলে কী কী লাগবে, কোথায় কিভাবে আবেদন করতে হবে—জানা যাবে www.ivacbd.com সাইটে। থাইল্যান্ডের ভিসা পেতে আবেদন করতে হয় ভিএফএস গ্লোবালে (www.vfsglobal.com/Thailand/Bangladesh)।এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ওপর যাবতীয় সব তথ্য পাওয়া যাবে সাইটগুলোতে— walkit.com   //এআর

ঘুরে আসুন কালেঙ্গা জঙ্গলে

প্রতিদিনের একই জীবনযাপনে বৈচিত্র আনতে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। ভ্রমণ জীবনে যে শুধু বৈচিত্র আনবে তা নয়, বরং আপনাকে মানসিকভাবে রাখবে প্রাণবন্ত। সামনে আছে পূজোর ছুটি। ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের রেমা-কালেঙ্গা জঙ্গল থেকে। যা দেখতে পাবেন এই অভয়ারণ্যে আছে প্রায় ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, গাছপালা ও লতাপাতা। এখানকার উদ্ভিদগুলোর মধ্যে আওয়াল, সেগুন, কাঁকড়, নেউড়, হারগাজা, গন্ধরই, হরীতকী, বহেরা, জাম ডুমুর, কাঁঠাল, চামকাঁঠাল, কাউ, কদম, রাতা, চিকরাশি, চাপালিশ, নিম, বনমালা ইত্যাদি অন্যতম। এছাড়াও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণি, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এর উল্লেখযোগ্য হল ভিমরাজ, পাহাড়ি ময়না, কাও ধনেশ, বনমোরগ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শ্যামা, শালিক, শামুক খাওরি, টুনটুনি ইত্যাদি। এছাড়াও আছে প্রায় ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কালো বন্যশূকর, সাদা বন্যশূকর, বানর, হনুমান, মুখপোড়া হনুমান, খরগোশ, ছোট হরিন, মেছোবাঘ, মেছোবিড়াল প্রভৃতি। ভাগ্য ভালো থাকলে অনেকের সাথেই দেখা হয়ে যেতে পারে আপনার। যতই জঙ্গলের গভীরে ঢুকবেন ততই নিজেকে অন্য এক সবুজ জগতে আবিষ্কার করবেন। যেভাবে ঘুরে দেখবেন এই অভয়ারণ্যে ঘুরে দেখতে আপনি তিনটি ট্রেইল বা পথ ব্যবহার করতে পারেন। ত্রিশ মিনিট, এক ঘণ্টা, তিন ঘণ্টার ট্রেইল বা পথের মধ্যে যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। কিছুদূর এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন রেমা কালেঙ্গায় শাহাদাতবরণকারী বীর উত্তম আবদুল মান্নান সাহেবের কবর। তিনি এখানে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গভীর বনে গিয়ে দেখা পেতে পারেন বন মোরগের ডিমের। অথবা নাকে লাগতে পারে ঝাঁজালো গন্ধ, যা হলো কোনো বিষাক্ত সাপের শ্বাস-প্রশ্বাস। দেখা পাবেন অসম্ভব সুন্দর একটি লেক। লেকের চারপাশ এতই প্রাকৃতিক যে মনেই হবে না এটা কৃত্রিম। বন্যপ্রাণীদের খাবার পানির চাহিদা মেটাতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। লেকের পাশে রয়েছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। ইচ্ছে করলে উঠে যেতে পারবেন টাওয়ারে। ওপর থেকে পুরো বনভূমি দেখার মজাই আলাদা। যত দূরে চোখ যাবে শুধুই প্রত্যক্ষ করবেন দুর্ভেদ্য জঙ্গল। বনের আকার আয়তন রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ির এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ১৯৮১ সালে এই রিজার্ভ ফরেস্টের এক হাজার ৯৫ হেক্টর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৬ সালে বনের আরো কিছু জমি বৃদ্ধি করে মোট এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বনে তিনটি আধিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। ত্রিপুরা, সাঁওতাল, উড়ং—এই তিন সম্প্রদায় মিলেমিশে এখানে বসবাস করছে যুগ যুগ ধরে। যেভাবে যাবেন রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে দু’ভাবে যাওয়া যায়। প্রথম উপায়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাস কিংবা ট্রেনে চড়ে যেতে হবে শায়েস্তাগঞ্জ। সেখান থেকে অটোরিকশা চেপে যেতে হবে কালেঙ্গা। বাসে শায়েস্তাগঞ্জের ভাড়া আড়াইশ থেকে চারশ টাকা। শায়েস্তাগঞ্জে বিরতি দেয় সিলেটগামী আন্তনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টা মিনিটে ছাড়ে এই ট্রেন। ভাড়া ১৭০ থেকে ৬৭৩ টাকা। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কালেঙ্গার ট্যাক্সি ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কালেঙ্গা যাওয়ার আরেকটি পথ হলো— ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল। সেখান থেকে জিপে চড়ে কালেঙ্গা। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এ পথ হওয়ায় অনেকেই এই পথটি ব্যবহার করেন। সবুজাবৃত বলের ভেতর দিয়ে জীপ নিয়ে যেতে আপনার ভালই লাগবে আশা করা যায়। এসএইচ/ডব্লিউএন

নীল জলের লালখাল ডাকছে হাতছানি দিয়ে

প্রকৃতির সৌন্দর্য পরিদর্শনে আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন। আর তা যদি হয় নীল জলের লালখালের মতো নয়নাভিরাম দৃশ্য, তবে তো সৌন্দর্য পিপাসুদের আগ্রহের শেষ থাকে না। কারণ বৃষ্টির সময় নীল জলের লালখাল যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতিপ্রেমী আর সৌন্দর্য পূজারী পর্যটকদের। একেক ঋতুতে একেকরকম তার সৌন্দর্য, তবে বর্ষাতে এক ভিন্ন রূপের দেখা মেলে লালখালে। শুধু লালখালের সৌন্দর্য নয়, এখানকার ভ্রমণে মিলতে পারে চা বাগানের মায়াবী দৃশ্য, সিলেট সীমান্ত থেকে অতি সন্নিকটে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি, সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা এবং জইন্তা পাহাড় থেকে নেমে আসা জলধারা। মাত্র ৯শ’ টাকার বিনিময়ে এই মনোরম লালখালে হতে পারে আপনার নিরাপদ ভ্রমণ। উৎপত্তি : ভারতের পারায়ার তর সারং ঝর্ণা থেকে প্রবাহিত জলধারাই এই লালখাল এবং সারি নদীর পানির উৎস। অনেকে বলেন, এই সারং ঝর্ণা হতেই সারি নদীর নামকরণ করা হয়েছে। লালখালের নীলাভ-সবুজ জলের মোহময়ী রূপ, তার সঙ্গে দুই পাশের ছোট ছোট চিরহরিৎ টিলা, আর পুরোটা জায়গাজুড়ে মাথার উপর নীলাকাশ, আপনাকে মুগ্ধ হতে বাধ্য করবে। চোখ জুড়াবে যা দেখে : লালখালে ঘুরতে গিয়ে চোখে পড়বে দূরে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো। সারি নদীর পান্না সবুজ পানি, বালুবোঝাই নৌকা, মাঝেমধ্যে গ্রামীণ মানুষের কর্মব্যস্ততা, নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা, যা সবই উপভোগ্য হবে লালখাল যাত্রায়। স্বচ্ছ রঙিন জলরাশি আর দু’ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, নৌকা ভ্রমণ যেকোনো পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয়। তেমনি এক নির্জন মনকাড়া স্থান লালখাল। আপনি দেখতে পাবেন নদীর পাড়ের মানুষের জীবনধারা। সঙ্গে আছে লালখাল চা বাগান। এখানকার মানুষের জীবন খুব সাধারণ নাগরিকতার নষ্ট ছোঁয়া তাদের স্পর্শ করেনি। কীভাবে যাবেন : লালখালে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনযোগে সিলেট যেতে পারেন, ভাড়া ২৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। পরে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সরাসরি যেতে পারবেন সারিঘাটে, ভাড়া পড়বে দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। অথবা সিএনজি করে সিলেটের শিশু পার্কের সামনে থেকে লেগুনা অথবা জাফলংয়ের বাসে চেপে সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে যেতে হবে সারিঘাট, ভাড়া নেবে ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে প্রতিজন। সাবধানতা : যেকোনো ভ্রমণে নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ উপভোগের জন্য প্রয়োজন দুর্ঘটনা এড়ানো। অদ্ভুত নীল পানি আর ঘন জঙ্গলে বেষ্টিত লালখালে গেলে তাই চাই বাড়তি সতর্কতা। পানিতে নামার সময় খেয়াল রাখবেন, পানির গভীরতা কতটুকু? প্রয়োজনে গাইড কিংবা সঙ্গে যাওয়া কারো সঙ্গে পরামর্শ করা যেতে পারে। আর ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা! সন্ধ্যার আগে-পরে তাদের পানিতে না নামাই ভালো। স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত আছে, অনেক শিশুকেই নাকি বাকপ্রতিবন্ধী হতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে নানা অসুখও হয়ে থাকে সতর্কতা অবলম্বন না করার ফলে। নদীপথে সন্ধ্যায় নির্জন এলাকা পাড়ি দেওয়াটা সব সময় নিরাপদ নাও হতে পারে। এ জন্য সতর্ক থাকতে হবে। আরকে/ডব্লিউএন

ঈদের আনন্দ যেন বান্দরবানে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে বছরের বিভিন্ন সময়। তবে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ঈদের সময় বাড়তি চাপ থাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো এবং জেলার আশপাশের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টহাউজ এবং গেস্টহাউজগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়। হয়রানি বন্ধে পর্যটকদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। এবার ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হলেও পর্যটকদের কমতি নেই এখনও। প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। এরই মধ্যে জেলা সদরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউস ভরে গেছে তাদের পদচারণায়। মোটেল মালিকরা জানান, এখানে পর্যটকদের বাড়তি চাপ থাকবে সপ্তাহজুড়ে। বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। পাহাড়ের ঝর্ণা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, বাদুর গুহা, দেবতা পাহাড়, আলীর সুরঙ্গ এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গসহ রয়েছে অসংখ্য পাহাড়। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ পর্যটকরা। এছাড়া জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া। এখানকার রিসোর্ট, আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের ঢল নামে। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার শতভাগ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এরই মধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউজগুলো মোটামুটি ভরপুর থাকছে সব সময়। যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। রাজধানীর সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল মোড় খেকে এসব গাড়িগুলো পাবেন। অথবা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে সরাসরি বান্দরবানের গাড়ি পাওয়া যায়। আর/ডব্লিউএন  

দেখে আসুন জৈন্তাপুর ডিবির বিল

লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র ফোটা লাল শাপলা যেন হার মানায় সূর্যের আভাকেও। সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি। লাল শাপলার হাঁসি যেন মনের বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়। আর এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সাক্ষাত পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাশাপাশি চারটি বিলে। সেখানে গেলেই দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। এ রকম অপরূপ সাজে সেজে রয়েছে বিলগুলো। স্থানীয়দের কাছে এই বিল পরিচিত ‘ডিবি বিল’নামে। বিলগুলোর নাম হচ্ছে ডিবি বিল, কেন্দ্রী বিল, হরফকাটা বিল ও ইয়াম বিল। চারটি বিলের অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। গন্তব্য স্থলে পৌঁছালে দূর থেকেই দেখবেন সবুজের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র লাল বৃত্ত। দূরত্ব কমার সঙ্গে সঙ্গে একসময় স্পষ্ট হয়ে উঠবে আগাছা আর লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা। দেখে মনে হবে, পুব আকাশে সূর্যের লাল আভা যেন হার মেনেছে রক্তিম শাপলার কাছে। বিলের মাঝে আগাছা আর লতা-পাতায়, বিলের হাজারো শাপলা, চোখ জুড়ায় পথচারীদের। বিলের যতই কাছে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। প্রায় ৭০০ একর জায়গায় বিস্তৃত চারটি বিলের পুরোটাই ঢাকা পড়েছে শাপলায়। প্রস্ফুটিত শাপলা ফুল দেখতে অনেকটা আলোকরশ্মির মতো। এসব শাপলা ফুটে রাতের স্নিগ্ধতায় আর দিনের আলোতে আস্তে আস্তে বুজে যায়। একটি শাপলার স্থায়িত্ব প্রায় সাতদিন পর্যন্ত থাকে। চাইলে আপনি ডিবির হাওরে নৌকায় নিয়ে ঘুরতে পারেন। হওরে নৌকায় ঘোরার মজাই আলাদা। এখানে দেখতে পাবেন বিল অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা। এখানকার মহিলারা হাতের কাজ করে। তারা বাঁশের টুকরি, ডালা, কুলাসহ সব ধরনের বাঁশের কাজ করে। আর এই বাঁশগুলো বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে পাওয়া যায়। বিলবাসী মানুষের জীবনধারণ বিচিত্র ডিবি হাওর এলাকায়। যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল এবং মহাখালী থেকে অসংখ্য গাড়ি ছেড়ে যায়। সিলেট শহরে নেমে বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে জৈন্তাপুর বাজারে যেতে হবে আপনাকে। এর কিছুদূর গেলে দেখা যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প। ওই পথ ধরে কিছু দূর গেলে দেখা মিলবে বিলের। বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকারে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। প্রয়োজনীয় তথ্য: বিলের আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে রোদের তীব্রতা বাড়ার আগে যাওয়ায় উচিত। সঙ্গে হালকা খাবার ও পানি নিয়ে যেতে পারেন। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচার জন্য ছাতা নিতে পারেন। তবে কেউ ভুলেও ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন না। আর/ডব্লিউএন

ঘুরে আসুন প্রত্নতত্ত্বের শহর কুমিল্লা

কুমিল্লা শহরকে ‘পর্যটনের শহর’ বললে অত্যুক্তি হবে না। কিংবা একে পুরাকীর্তি বা প্রত্নতত্ত্বের শহরও বলা যেতে পারে। হাজার বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক নিদর্শন, স্থাপনা, পুরাকীর্তির স্বাক্ষাত পেতে ঘুরে আসুন কুমিল্লায় থেকে। রণ সমাধিক্ষেত্র : কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) নিহত ভারতীয় (তৎকালীন) ও বৃটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থণাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাধিক্ষেত্রের ৭৩৬টি কবর আছে। ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির :  কুমিল্লা সাহেব বাজার এলাকায় রানী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির অবস্থিত। এটি একটি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা। স্থানীয়ভাবে এটি রানী ‘ময়নামতি প্রাসাদ’ নামে পরিচিত। ১৯৮৮ সালে এর খনন কাজ শুরু হওয়ার ফলে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের চারটি নির্মাণ যুগের স্থাপত্য কাঠামো উন্মোচিত হয়। খননের সময় এখান থেকে বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক ও অলংকৃত ইট আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি ৮ম থেকে ১২শ শতকের প্রাচীন কীর্তি বলে ধারনা করা হয়। এখানে বছরের পর বছর ধরে সনাতন ধর্মালম্বীদের লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি ৭ বৈশাখ থেকে মাসব্যাপী বড় পরিসরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। শালবন বিহার : এটি বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম শালবন বৌদ্ধ বিহার। কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে ‘বার্ড’ এর কাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান। বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল, গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। ১৮৭৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান কোটবাড়ি এলাকায় একটি সড়ক তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। সে সময় আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষকে একটি দুর্গ বলে অনুমান করা হয়। ধ্বংসাবশেষটিকে রণবংকমল্ল হরিকেল দেবের তাম্রশাসনের (খৃষ্টীয় তের শতক) দুর্গ ও বিহার পরিবেষ্টিত পট্টিকেরা নগর বলে হয়। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। ধারণা করা হয়, এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মচর্চ্চা করতেন। নানা সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এছাড়া এখানে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমের সংমিশ্রণে রয়েছে আরও অনেক স্থান। সে সব স্থানের মধ্যে রয়েছে কবিতীর্থ, আনন্দ বিহার, লালমাই পাহাড়, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, রানী ময়নামতি প্রাসাদ, মরানীর কুঠি, বলেশ্বর দীঘি, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, জাহাপুর জমিদার বাড়ি, ভোজ রাজার বাড়ি, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি জাদুঘর প্রভৃতি। বলা যায় ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভাণ্ডার কুমিল্লা। যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে যেকোনো বাসে কুমিল্লা যাওয়া যায়। ননএসি বাস ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা এবং এসি বাস ২৫০-৩০০ টাকা। কুমিল্লা শহরে পৌঁছতে সাধারণত সময় লাগে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা। বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া লাইন, তিশা, বিআরটিসি এবং ইকোনো সার্ভিস। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ : শহর থেকে বিভিন্ন জায়গা ঘোরার জন্য রয়েছে কার, হায়েস, সিএনজি এবং ইজিবাইক। থাকার ব্যবস্থা : পর্যটকদের থাকার জন্য কুমিল্লায় বেশ কয়েকটি উন্নতমানের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেল নুরজাহান, বার্ড গেস্ট হাউজ, হোটেল কিউ প্যালেস, হোটেল গোল্ডেন ইন এবং রেড রুফ ইন। ভাড়া পড়বে প্রতি রাত ১৫শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা।   আর/ডব্লিউএন    

ঘুরে আসুন স্বর্গশহর পুনাখায়

পুনাখা ভুটানের অনন্য একটি শহরের। এটিকে শুধু শহর বলছে ভুল হবে। যেন স্বর্গ। দেখে মনে হবে বিধাতা যেন নিজ হাতে এটি গড়েছেন! শহরটি স্তরে স্তরে সাজানো। স্বচ্ছ পানির অকৃত্রিম লেক, ঐতিহাসিক স্থান, সৃদৃশ্য স্থাপনা, আকাশচুম্বী পাহাড়, সবুজ বৃ্ক্ষপল্লব কী নেই এখানে। সবই তো আছে। একটি শহরে এত বৈচিত্র পৃথিবীর অন্যত্র পাওয়া দুস্কর। তথ্যমতে, ভুটানের রাজধানী থিম্পু থেকে পুনাখার দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। এটি সত্যিই হৃদয় জুড়ানো এক শহর। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য চমৎকার স্থাপনা রয়েছে এখানে। সময়-সুযোগ নিয়ে অবশ্যই ঘুরে আসবেন পুনাখা থেকে। পুনাখা যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতি হয় দোচুলায়। দোচুলা ভুটানিদের পূণ্যভূমি। অসংখ্য ধর্মীয় নকশাখচিত ছোট ছোট ধর্মীয় পতাকায় ছেয়ে আছে। মূল আকর্ষণ এখানকার বৌদ্ধমঠ। খাড়া পাহাড়ের উপর বিশাল বৌদ্ধমঠ; স্থাপত্যশৈলী আর শিল্পশৈলীর নজরকাড়া স্থাপনা। দর্শণার্থী আর পূণ্যার্থীদের ভিড়ে বৌদ্ধমঠটি বেশ জনসমাগম। ভূপৃষ্ট থেকে ১০০৩১ ফুট উচ্চতায় এই দোচুলায় দেখা মিলবে ওই দূরে হিমালয় পবর্তশৃঙ্গের রেখা। দোচুলায় সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেয় ১০৮টি চরটেন। দোচুলা থেকে পুনাখার দূরত্ব মাত্র ৪১ কিলোমিটার। পাহাড়ের পর পাহাড় অতিক্রম করতে করতে ক্লান্ত মন পুনাখায় এসে চঞ্চল হবে। সহোদর নদী ‘মো চু’ আর ‘ফো চু’। নদী দুটি যেখানে এসে মিশেছে ঠিক সেখানে দুই নদীকে ঘিরে পুনাখা জং। দূর থেকে নদীর সঙ্গমস্থল আর পুনাখা জংয়ের প্যানারোমা দৃশ্য অসাধারণ। পুনাখা জংকে বলা হয় আনন্দপ্রম প্রাসাদ। এটি আসলে পুনাখার প্রশাসনিক ভবন। ৬০০ ফুট সুদীর্ঘ এই জংটি তৈরি হয় ১৬৩৭-৩৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভুটানের প্রথম রাজা উজেন ওয়াংচুক এই পুনাখা জং থেকেই তার রাজত্ব পরিচালনা শুরু করেন। বর্তমানে ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ এই পুনাখা জংটি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের শীতকালীন বাসস্থান। ভুটানে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা দানের সবচেয়ে বড় আশ্রম। মূল ভবনটিও কাঠের। ভবনের দেয়ালজুড়েই বিশ্বাস আর ধর্মীয় অনুভূতির চিত্রকর্ম। পুনাখা জংয়ে প্রবেশমাত্র দেয়ালের ডান দিকে চোখে পড়বে বিখ্যাত বৌদ্ধজ্যোতিষ চিত্র। ভারত আর চীনা শিল্পের সংমিশ্রণে জ্যোতিষচিত্রটি মানুষের জীবনছবি। মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বেঁচে থাকার গূঢ় রহস্যই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চিত্রটিতে। মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই একটি খোলা করিডোর। করিডোরকে ঘিরে চারিদিকে দুইতলা সমান স্থাপনা, ছোট ছোট অসংখ্য ঘর আর ঘরের প্রতিটি স্থানজুড়েই শিল্পের পরম ছোঁয়া। জংয়ের শেষপ্রান্তে রয়েছে একটি মন্দিরে ধ্যানমগ্ন বুদ্ধর সুবিশাল মূর্তি। বুদ্ধর একপাশে দ্বিতীয় বৌদ্ধ শিষ্য গুরু আর অন্যপাশে ভুটানের প্রতিষ্ঠাতা ঝাবদরাংয়ের মূর্তি। মন্দিরের মূল আকর্ষণ বুদ্ধের জীবনচিত্র। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে চিত্রকর্মগুলো ১২টি পর্বে বুদ্ধের জীবন আর বৌদ্ধধর্মের ব্যুৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ফটোগ্রাফির বিষয়বস্তুর অভাব নেই। কখন যাবেনযেকোনো সময় যাওয়া যায়। তবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর সবচেয়ে ভালো সময়। সেপ্টেম্বরে যেতে হলে এখনই ভিসার জন্য আবেদন করুণ। যাবেন কীভাবেবাংলাদেশ থেকে প্রথমে কলকাতা যেতে হয়। সেখান থেকে সরাসরি ভুটানের পারো শহরে বিমান যায়। এছাড়া ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে সেখান থেকে বাসে ফুন্টসোলিং যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে সরাসরি ফুন্টসোলিং যাওয়ার বাসও রয়েছে। কোথায় থাকবেনভুটানের পারো এবং থিম্পুতে প্রচুর হোটেল রয়েছে। এর তুলনায় পুনাখায় কম। তাই আগে বুকিং করে নেওয়া ভালো। সূত্র : দ্য মনিটর।//এআর

ঘুরে আসুন রি-ছাং ঝর্ণা

নদী, পাহাড় আর গহীন অরণ্যে নৈসর্গের সৌন্দর্য রি-ছাং ঝর্ণা। এ যেন প্রকৃতির কোলে নীল আকাশের কোলাকুলি। অপরূপ সৌন্দর্যের রি-ছাং ঝর্ণা দেখতে যাত্রাপথের দু`পাশে নজরকাড়া প্রকৃতি, মাঝে পিচঢালা উঁচু-নিচু পথ আপনাকে দেবে বাড়তি আর্কষণ। আর পথ চলতে আপনার সঙ্গী হবে, আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ি বৃক্ষের ছায়া, ঘন জঙ্গলের বুনো গন্ধ, অচেনা পাখির মিষ্টি সুর। পাহাড় বেয়ে যেতেই মনে হবে আরেকটু সামনে এগোলেই বুঝি নীলাভ আকাশ ছুঁয়ে দেবে আমায়। তবে আকাশের পরশ না পেলেও আলুটিলার মোড়ে মেঘের ভেলার সঙ্গে দারুণ এক সাক্ষাৎ পাবেন। সে এক অপার্থিব অনুভূতি, অজানা শিহরণ। শেষ বসন্তে পাহাড়ের নৈসর্গিক প্রকৃতি দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন রি-ছাং ঝর্ণার কাছাকাছি। এরপর পাহাড়ি পথে হাঁটা, কখনও উঁচু আবার কখনও নিচু- এভাবে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যেতে হবে জলধারার কাছে। পথে চলতে শরীর কিছুটা ক্লান্তির ছাপ, প্রকৃতির ছোঁয়ায় বিলীন হয়ে যাবে। দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণার বিশাল জলরাশি অবিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়ে তার নিজস্ব ছন্দে। রি-ছাং হলো মারমা শব্দ। এর বাংলা অর্থ হলো- `রি` মানে পানি আর `ছাং` মানে গড়িয়ে পড়া। আশ্চর্য- নামের সঙ্গে ঝর্ণার বৈশিষ্ট্যের হুবহু মিল রয়েছে। প্রচণ্ড গতিতে প্রায় ষাট ফুট ওপর থেকে পানি পড়ার রিমঝিম শব্দ। দেশের অন্যান্য ঝর্ণার চেয়ে এই ঝর্ণার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পর্যটকরা নিরাপদে এর পানিতে নিজেকে মন ভরে ভেজাতে পারেন। যেন শৈশবের স্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া। প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়েছে যেন সুইমিং পুল। ইচ্ছে হলে সাঁতারও কাটা যাবে। চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো একবার- সম্পূর্ণ বুনো পরিবেশে হাজার ফুট উপরে সাঁতার কাটতে কেমন লাগবে আপনার? যেভাবে যাবেন : ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস যায় খাগড়াছড়ি। রাত যাপনের জন্য খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেল, শহরের শাপলা চত্বরে শৈল সুবর্ণা ও জিরানসহ বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভাড়া ১১০০-৫০০০ টাকার মধ্যে। তবে চেঙ্গিস ব্রিজের পাশে পর্যটন মোটেলে রাত কাটানোর আনন্দই হবে আলাদা। খরচ জনপ্রতি দু`দিনের জন্য সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। সতর্কতা: নিরাপদ ভ্রমণের জন্য অপরিচিত কারও সঙ্গে হুট করে ঘনিষ্ঠ হতে যাবেন না। আর/ডব্লিউএন

রোদ আর মেঘের লুকোচুরি নীলাচল

রোদ আর মেঘের মাঝে লুকোচুরি নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র। চূড়ায় গিয়ে দাঁড়ালেই মনে হবে যেন, আকাশের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট উঁচুতে নীলাচলের অবস্থান। যতদূর চোখ যায় দৃষ্টি যায় চূড়া থেকে দেখা মেলে কাছে-দূরে সবুজে মোড়ানো নানা উচ্চতার পাহাড়ের সারি। এখানে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখা যায় বান্দরবান শহর আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদী। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা মনোরম এই পর্যটন কেন্দ্রে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যোগ করা হয়েছে একটি রিসোর্ট। তাই এখানে বেড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকরা রাত যাপনের সুযোগ পাবেন। কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে এর একেবারে চূড়ায় পর্যটকদের জন্য। মূল পাহাড়ের শিখরের চারপাশেই মনোরম স্থাপনা শৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে এসব কেন্দ্র। এগুলো একটি থেকে থেকে অন্যটি একেবারেই আলাদা। আবার এটি একেক দিক থেকে পাহাড়ের দৃশ্যও একেক রকম। বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে এখানে চলে মেঘের খেলা। কিছুক্ষণ পর পরই দূর পাহাড় থেকে মেঘের ভেলা ভেসে আসে নীলাচলের চূড়ায়। চারপাশ ঢেকে ফেলে শীতল নরম পরশে। নীলাচলে বাড়তি আকর্ষণ হল এখানকার নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট। সাধারণ পর্যটকদের জন্য এ জায়গায় সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনুমতি আছে। তবে রিসোর্টের অতিথিদের জন্য সর্বক্ষণই খোলা এ জায়গা। শহর ছেড়ে চট্টগ্রামের পথে প্রায় তিন কিলোমিটার চলার পরেই হাতের বাঁ দিকে ছোট একটি সড়ক এঁকেবেঁকে চলে গেছে নীলাচলে। এ পথে প্রায় তিন কিলোমিটার পাহাড় বেয়ে পৌঁছুতে হয়। মাঝে পথের দুই পাশে ছোট একটি পাড়ায় দেখা যাবে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। নীলাচলে নতুন কয়েকটি জায়গা তৈরি করা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। টিকেট ঘরের পাশেই ‘ঝুলন্ত নীলা’ থেকে শুরু করে ক্রমশ নীচের দিকে রয়েছে আরও কয়েকটি বিশ্রামাগার। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘নীহারিকা’ এবং ‘ভ্যালেন্টাইন’ পয়েন্ট। পাহাড়ের ঢালে ঢালে সাজানো হয়েছে এ জায়গাগুলো। একটি থেকে আরেকটি একেবারেই আলাদা। আবার একেক জায়গা থেকে সামনের পাহাড়ের দৃশ্যও একেক রকম। নীলাচলের এক পাশে আছে ক্যাফে আর টি-স্টল। ক্যাফেটি গোল আকৃতির। ক্যাফের কাছে ফুলের বাগান। সেখানে মিনি চিড়িয়াখানায় আছে কয়েক জাতের বন্যপ্রাণী। কানে ভেসে আসে পাখিদের কলকাকলি। এক সময় বান্দরবানে প্রচুর বানর বিচরণ করত। বানরগুলো শহরের ধারেকাছের খাল বা ছড়া পাড়ি দিয়ে সারি বেঁধে পাশের জঙ্গলে যেত খাবারের খোঁজে। বানরের সারি বেঁধে খাল পারাপারের এমন দৃশ্য দূর থেকে দেখতে বাঁধের মতো মনে হতো। মারমা সম্প্রদায় তা দেখে নাম দেয় `ম্যাকছে`। যার অর্থ দাঁড়ায় `বানরের বাঁধ`। প্রচলিত আছে বানরের বাঁধ থেকেই নাকি বান্দরবান নামের সূচনা। যেভাবে যাবেন: রাজধানী থেকে সড়ক পথে সরাসরি বান্দরবানে যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর ও সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও বিআরটিসির এসি বাস যায়। ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা। এছাড়া এসব জায়গা থেকে শ্যামলী পরিবহন, সেন্টমার্টিন, সৌদিয়া পরিবহন, এস আলম পরিবহন, ইউনিক সার্ভিসের নন এসি বাসও যায় বান্দরবান। ভাড়া ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। এছাড়া সড়ক, রেল কিংবা আকাশ পথে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছে সেখান থেকেও সহজেই যাওয়া যায় বান্দরবান। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকা থেকে পূরবী, পূর্বানী পরিবহনের বাস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলাচল করে। ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বান্দরবান শহর থেকে নীলাচল যাওয়ার জন্য ভাড়ায় পাওয়া যায় অটো রিকশা, চাঁদের গাড়ি (খোলা জিপ) ও জিপ। দলের আকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বাহনটি ভাড়া নিতে হবে। অবস্থানের সময় অনুযায়ী নীলাচলে যাওয়া আসার জন্য অটো রিকশার ভাড়া পড়বে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। আর চাঁদের গাড়ি কিংবা জিপ গাড়ির ভাড়া পড়বে ১ হাজার ২শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। নীলাচলে যেতে সড়কের টোল পরিশোধ করতে হয়। অটো রিকশা ৩০ টাকা, জিপ ৬০ টাকা। পর্যটন কমপ্লেক্সে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। পর্যটকরা সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নীলাচলে অবস্থান করতে পারবেন। আর/ডব্লিউএন

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি