ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫২:৫২

ওয়েলসে খনির গভীরে গা়ড়ির পাহাড়

ওয়েলসে খনির গভীরে গা়ড়ির পাহাড়

স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ নীল পানির হ্রদ। অথচ ভয়ঙ্কর বিষাক্ত। পাথরের ছাদ। যে কোনও মুহূর্তে খসে পড়তে পারে চাঙড়। একা ছোট্ট ডিঙিতে সরু গুহাপথে পৌঁছতে হয় সেখানে। গাড়ির পাহাড়ে। পদে পদে বিপদের হাতছানি উপেক্ষা করে তবু ঢুঁ মারেন অ্যাডভেঞ্চার পিপাসুরা। ওয়েলস কেরিডিজিওন-এর পাহাড়ি এলাকায় এক সময় ছিল স্লেট পাথরের খনি। গত শতাব্দীর ছ’য়ের দশকে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এক সময়ের কর্মব্যস্ত সেই খনি অঞ্চল পরিণত হয় পরিত্যক্ত শান্ত পাহা়ড়ি উপত্যকায়। এখনও সেখানে কিছু লোক বাস করেন। তবে ওই খনিগর্ভে সাধারণ মানুষ আর কেউ প্রবেশ করেন না। খনি বন্ধ হলেও গুহার মতো খাড়া প্রবেশ পথ বন্ধ হয়নি। খনি গহ্বরের নীচে রয়েছে পরিষ্কার অথচ বিষাক্ত পানির হ্রদ। বন্ধ হওয়ার পর কিছুদিন এলাকাবাসী ওই গুহাটিকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করতেন। এছাড়া টিভি, ফ্রিজ, রেডিওর মতো ইলেক্ট্রনিক্স ওয়েস্ট ফেলা হত ওই গুহায়। সব শেষে ওই গুহাপথ দিয়েই ফেলে দেওয়া হয় এক হাজার পরিত্যক্ত গাড়ি। পাহাড়ি ঢাল এবং লেকের পানিতে সেই গাড়িগুলোই স্তূপাকারে জমে যায়। আকার নেয় কৃত্রিম এক গাড়ির পাহাড়ের। গাড়ি ফেলার পর থেকেই নাম হয় ক্যাভার্ন অব লস্ট সোলস বা ‘হারানো আত্মার গুহা’। অনেকে অবশ্য ‘ভূগর্ভস্থ গাড়ির পাহাড়’ বা ‘গাড়ির কবরস্থান’ও বলেন। তবে যে পথে গাড়িগুলো ফেলা হয়, সেখান দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা যায় না। যেতে হয় পাহাড়ের গায়ের অন্য এক গুহা দিয়ে। সেই গুহামুখেও পানি থাকে। সেখান থেকেই লেকের শুরু। পানি বিষাক্ত। ছোট্ট ডিঙি নৌকা বেয়ে পৌঁছতে হয় গাড়ির পাহাড়ে। গুহার মুখ দিয়ে প্রবেশ করা একটি আলোর রেখা লেকের পানিতে পড়েছে। কিন্তু সব জায়গায় সেই আলো পড়ে না। ফলে জোরালো টর্চ নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষজন। সেই আলো ফেলেই চলে ছবি তোলা বা অন্যান্য কাজ। গুহাপথ দিয়ে ঢুকে তারপর নৌকা বেয়ে গাড়ির সমাধিস্থলের কাছে যাওয়া এবং ঘুরে আসতে পুরো এক দিন সময় লাগে। রহস্যময় এবং বিপদসঙ্কুল হলেও সৌন্দর্য আর অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় অনেকেই দেখে আসেন খনির পেটে গাড়ির পাহাড়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//
শেরপুরের অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র সংস্কার(ভিডিও)

‘পর্যটনের আনন্দে, তুলসিমালার সুগন্ধে’ এই শ্লোগানে শেরপুরকে দেশে ও বিদেশে ব্র্যান্ডিং করার কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রটি সংস্কার করা হয়েছে। শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীর কাংশা। প্রকৃতির অপরূপ বৈচিত্র উপভোগ করতে সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটনের ব্র্যান্ডিং শুরুর পর নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে কেন্দ্রটিকে। এখন সেখানে ছুটে বেড়ায় জীবন্ত হরিণ, দৌড়ায় সজারু, প্রকাণ্ড খাঁচার এমাথা-ওমাথা উড়ে বেড়ায় কয়েক প্রজাতির পাখি। মিনি চিড়িয়াখানার পাশাপাশি আছে ডায়নোসর, দোয়েল, ঈগলের ভাস্কর্যও! প্রাণহীন এই ভাস্কর্যগুলোও রঙীন করে তোলা হয়েছে সম্প্রতি। এ সব কর্মযজ্ঞেই প্রাণ ফিরেছে অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে পর্যটক। কেন্দ্রটিকে নতুন প্রাণ দেয়া এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে যিনি, তিনি বললেন-- পর্যটকদের সুবিধার জন্য শেরপুর ডিসি লেক থেকে অবকাশ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য বাসসার্ভিস চালু করা দরকার। পর্যটনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

তুরস্কে কম খরচে বেড়ানোর আসল সময় এখন

ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দরপতনে এবার রেকর্ড হয়েছে। এই দরপতন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মাথা ব্যথার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেশটির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম প্রতিনিয়ত বাড়লেও, লিরার দরপতনের সবচেয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানকার পর্যটন শিল্পে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের হোটেলগুলোতে পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে। শুক্রবার এক ডলার দিয়ে ছয় লিরা কেনা গেছে। অথচ জানুয়ারি মাসেও এক ডলার দিয়ে চার লিরা কেনা যেতো। জানুয়ারি মাসের পর থেকেই তুরস্কের মুদ্রার ক্রমাগত দরপতন হতে থাকে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে লিরা ৩৪ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। তুরস্কের মুদ্রার দরপতনের বেশ কিছু কারণ আছে। এ কারণে দেশটির অর্থনীতি নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে ও আশংকা তৈরি হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান মনে করেন এ `অর্থনৈতিক যুদ্ধে` তারা জয়ী হবেন। তিনি সুদের হার কম রেখে অর্থনীতি সম্প্রসারণের পক্ষে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করেন সুদের হার বাড়ানো উচিত। কিন্তু এরদোগান সুদের হার বাড়ানোর ঘোরতর বিরোধী। ফলে আশংকা রয়েছে যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের বর্তমানে যে টানাপড়েন চলছে সেটির সমাধান হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভ্রমণ আয়োজনকারী সংস্থা টমাস কুক বলছে তুরস্কে ঘুরতে যাওয়ার এটিই আসল সময়। কোম্পানিটি বলছে চলতি বছর ব্রিটেন থেকে তুরস্কের ভ্রমণের হার ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এক ডলার খরচ করে আগে যতটা তুরস্কের মুদ্রা পাওয়া যেতো এখন তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যাবে। ফলে পর্যটকদের খরচ কমে আসবে। ২০১৬ সালে তুরস্কে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির পর্যটন শিল্পে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল সেটি এবার কেটে গেছে। ব্রিটেনের আরেকটি ভ্রমণ আয়োজনকারী কোম্পানি টিইউআই বলেছে বর্তমানে তুরস্ক, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গ্রীষ্মকালে ব্রিটেনের মানুষ যেসব জায়গায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করে, তার মধ্যে তুরস্কের অবস্থান উপরের দিকে আছে। কিন্তু ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুরস্কে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কয়েকটি জায়গায় না যাওয়ায় পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ তালিকায় তুরস্ক তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে রয়েছে। সে অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের পুনরায় বিবেচনা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি একে//

তাজমহল দেখার খরচ বাড়ল

বাড়ানো হল তাজ মহলের টিকিটের দাম৷ এবার থেকে বিরল এই স্মৃতিশৌধ দর্শন করতে হলে পর্যটকদের গুণতে হবে আরও বাড়তি টাকা৷ সিদ্ধান্ত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার৷ গত আড়াই বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ‘ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন’ তাজ মহলের প্রবেশ মূল্য বাড়াল এএসআই৷ দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য দু’ধরনের প্রবেশ মূল্য চালু আছে৷ ভারতের পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই প্রবেশ মূল্য অতিরিক্ত ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে৷ বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই দাম বেড়েছে ১০০ টাকা৷ আগে ভারতের পর্যটকদের তাজে প্রবেশের জন্য ৪০ টাকা দিতে হত৷ এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা৷ বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই মূল্য ছিল এক হাজার টাকা৷ তা এবার থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১০০ টাকা৷ এই মূল্যের সঙ্গে ৫০০ টাকা টোল ট্যাক্স কেটে নেয় আগ্রা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি৷ এছাড়া সার্কগোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রবেশ মূল্য বেড়ে হয়েছে ৫৪০ টাকা৷ আগে তাদের দিতে হত ৫০০ টাকা৷ এবার থেকে তাজ দেখতে হলে বাড়তি ৪০ টাকা দিতে হবে৷ তবে এভাবে প্রবেশ মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তাজের জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়তে পারে বলেও কেউ কেউ প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে৷ এমনিতে পরিসংখ্যান বলছে, তাজের পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী৷ পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলাজনিত কারণে বিদেশি পর্যটকেরা মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন তাজ থেকে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিকিটের দাম বৃদ্ধি৷ ২০১৬ সালে শেষবার টিকিটের দাম বাড়িয়েছিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

থর মরুভূমিতে বিলাসবহুল তাঁবু

ভারতের থর মরুভূমিতে প্রতিবছর দুই লক্ষের মত পর্যটক আসে ঘুরে দেখতে। কিন্তু সম্প্রতি ধু ধু এই মরুভূমিতে অনেকেই বিলাসবহুল ক্যাম্পিং বা প্রকৃতির সঙ্গে আরামদায়ক ভ্রমণের স্বাদ নিচ্ছেন। ট্রেন্ডটা ভারতে নতুন। কিন্তু ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ীর জন্য একটা সফল ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশে একটা বিরাট শুষ্ক অঞ্চল নিয়ে এই থর মরুভূমি। এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে। ধু ধু মরুভূমির প্রচণ্ড গরম, অনেকেই হয়তবা ড্রিম হলিডে স্পট বা বহু কাঙ্ক্ষিত ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা হয়তবা চিন্তা করবেন না। কিন্তু বিলাসবহুল কিছু সাফারি তাঁবু পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিরান মরুভূমির মধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সব কিছু রয়েছে সেখানে। এমন ২৬টি বিলাসবহুল তাঁবু রয়েছে। যেগুলো অন্য আর দশটা ক্যাম্পিং তাঁবু এর মত না। সেখানে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ। এয়ারকন্ডিশন্ড রুম। পাঁচ তারকা হোটেলে একটা রুমের বিছানা যে শৈল্পিক উপায়ে সাজানো থাকে এখানেও তার কম কিছু নয়। আর ভাবুন তো মরুভূমির মাঝখানে বরফ শীতল পানি খেতে কেমন লাগবে? ঠিক তাই, প্রতিটি টেন্টে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, যেখান থেকে আপনি ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারেন। এসব টেন্টের একজন মালিক মায়াঙ্ক ভাটিয়া বলছিলেন ‘আমি ভেবেছিলাম এটাকে রিসোর্টের মত করে গড়ে তুলবো। এটা মনে করেছিলাম পর্যটক বা অতিথি যারা আসবেন তাদের এই মধ্য মরুভূমিতে একদম ভারতের ঐতিহ্যবাহী যেসব বিষয় রয়েছে সেসবের মত করে একটা অভিজ্ঞতা দেওয়া দরকার’। মরুভূমিতে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং গাড়ীতে ঘোরা প্রধান আকর্ষণ। অর্থ লাগে অনেক বেশি। তবে উচ্চ বিত্ত ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য অর্থ কোনও ব্যাপার না। তেমনি একজন পর্যটক নাঙ্গ পামেলা। যিনি তার সন্তানদের নিয়ে এসেছেন এই মরুভূমিতে। তিনি বলছিলেন ‘আমার বাচ্চাদের জন্য আমি চেয়েছিলাম রাজস্থানের সংস্কৃতি তাদেরকে দেখাতে। তাদের যে প্রাসাদ এবং দুর্গ আছে সেটা কেবল তারা বইতেই পড়েছে। বিশেষ করে উটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো এটা একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা। আমি চেয়েছিলাম আমাদের বাচ্চাদেরকে এই অভিজ্ঞতাটা দিতে’। কিন্তু মরুভূমির মধ্যে এই ধরণের একটা ক্যাম্প তৈরি করা আসলেই অনেক ব্যয়বহুল। যে তাঁবুগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য শুধু পানি আর বিদ্যুতের সাপ্লাই আনার জন্য দুই বছর সময় লেগেছে। উচ্চবিত্ত যেসব পর্যটক রয়েছে তারা আসেন তবু্ও সেটা ঠাণ্ডার সময়। যেটা শুধুমাত্র পাঁচ-মাস স্থায়ী থাকে। প্রতিরাতে এই ধরণের তাঁবু এ থাকার জন্য তিনশ ডলার গুনতে হবে। যেটা একেবারেই সস্তা না। তবে যারা এ ধরণের অভিজ্ঞতা নিতে চান তাদের কাছে অর্থ তেমন বড় বিষয় না। সূত্র: বিবিসি একে//

ঘুরে আসুন এথেন্সের অ্যানাফিওটিকা অঞ্চলে   

এথেন্সের অ্যানাফিওটিকা অঞ্চলটি আধুনিক গ্রিক সাম্রাজ্যের রাজধানীর সমবয়সী। এই অঞ্চলে বিভিন্ন পর্যটকের আনাগোনা সবসময় চলতে থাকে।   এই অঞ্চলে থাকা দৃষ্টি নন্দন পরিবেশ, স্থাপনা এবং বিভিন্ন রংয়ের স্থাপত্য নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। অ্যানাফিওটিকার হোয়াইট-ওয়াশ করা দেওয়াল ও উজ্জ্বল রঙের শাটার ও দরজাওয়ালা ছোট্ট বাড়িগুলোকে যেন গ্রিক সাম্রাজ্যের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। অ্যানাফিওটিকার নিকটবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী পেশায় স্থপতি পানাজিওটিস পারাস্কেভোপোলাস জানান, “অ্যানাফিওটিকার নিজস্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে”।  ১৮৩২ সালে বাভারিয়ার রাজপুত্র অট্টো গ্রিসের শাসনকার্যের সময় অট্টোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ফলে এথেন্স ধূলিসাৎ হয়ে যায়। শহরটা পুনরায় নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি অ্যানাফি থেকে দক্ষ রাজমিস্ত্রিদের ডেকে আনেন। নবনির্মিত স্থানে শহরের পার্লামেন্ট গড়ে উঠেছে।   এদিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর অ্যানাফিওটিকা শহরের গায়ে কোনো রকম আঁচ লাগেনি। বর্তমানে এ শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে গ্রিক মিনিস্ট্রি অফ কালচার দ্বারা সংরক্ষিত হচ্ছে। এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটে কোনো পথ নির্দেশক চিহ্ন নেই।  এ অঞ্চলটিতে গড়ে উঠা বাড়িগুলো অত্যন্ত ছোট এবং সর্বাধিক ৫০ স্কোয়ার মিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। বাড়ির চারপাশে রয়েছে বাগান এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করে। এমএইচ/এসি   

রংপুর সিটির চিকলী বিল ও বিনোদন পার্ক (ভিডিও)

কয়েক বছরের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রংপুর সিটির চিকলী বিল ও বিনোদন পার্ক। বিল পাড়ে মনোরম পরিবেশে দু’দণ্ড বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চিত্তবিনোদনের জন্য স্থাপিত মিনি রেলগাড়ি ও বিভিন্ন রাইড বিকল হওয়ায় দশনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। রাইডগুলো দ্রুত সচল করার দাবি নগরবাসীর। রংপুরের হনুমান তলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন চিকলী বিল। শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত থাকে এই জলাধার। বিলের চারপাশ সংরক্ষণ করে পুরো এলাকাটি বিনোদন পার্ক হিসেবে গড়ে তোলে সিটি কর্পোরেশন। বিলে ঘোরার জন্য আছে স্পীড বোট। গত কয়েক বছরে ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ কেড়েছে জায়গাটি। দুরদুরান্ত থেকে দল বেঁধে বনভোজন করতে আসেন অনেকেই। চিকলী বিলে শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য ট্রেন, চরকীসহ বিভিন্ন ধরনের রাইডও স্থাপন করে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই বিকল হওয়ায় হতাশ দর্শনার্থীরা। রাইডগুলো ফের সচল করা হলে আরো অনেক মানুষ বেড়াতে আসবে বলে মনে করছেন নগরবাসী। সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানালেন, চিকলী বিল ও বিনোদন পার্ক স্থায়ীভাবে ইজারা দিয়ে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যথাযথ পর্যটন ব্যবস্থাপনায় চিকলি বিলকে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি রংপুরবাসীর।  

মুন্সীগঞ্জে হাজার বছরের পুরানো বৌদ্ধ বিহার আবিস্কার (ভিডিও)

মুন্সীগঞ্জের নাটেশ্বরে আবিস্কার হয়েছে হাজার বছরের পুরানো বৌদ্ধ বিহার।  চীন  ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে প্রত্মতাত্মিক নিদর্শনটি উদ্ধারে নগরীর খননকাজ চলছে। এরই মধ্যে মাটির নিচের এই সভ্যতা দেখতে ভিড় করছে অনেকে মানুষ।  নাটেশ্বর বৌদ্ধমন্দির, এক হাজার বছর আগের নির্মান শৈলীর অনন্য নির্দশন। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বরে ২০১০ সালে এটি আবিস্কৃত হয়। রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ৯টি পরীক্ষামূলক খননের পর বিহারটি আবিষ্কৃত হয়। খননে মিলছে- সীমানা প্রাচীর, আদ্রতা রোধক দেয়াল, ঝামা ইটের ব্যবহার, কারুকার্যময় নির্দশন। মিলেছে পাকা রাস্তা, আবাসন পরিকল্পনার পরিকল্পিত  বিন্যাসেরও। ৫টি নির্মাণযুগের নিদর্শন দেখতে এর মধ্যেই এখানে ভীড় করছে অনেকে। নাটেশ্বরর পুরাকীর্তি পরিপূর্ণ উন্মোচিত হলে এই এলাকা হয়ে উঠতে পারে দেশের আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র ।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নতুন অতিথি

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সাদা সিংহের পর এবার জেব্রা পরিবারেও আনন্দ বইছে। গত সোমবার এই পরিবারে একটি ফুটফুটে শাবকের জন্ম হয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকসহ এ সাফারি পার্কে জেব্রার সংখ্যা এখন ১৭।সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল ছিল শাবকটি। কিন্তু গত দুই দিনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সে তার দলের সঙ্গে দূরন্তপনায় মেতে রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি প্রাণীর বাচ্চা জন্ম হওয়ার পর যেভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, সেভাবেই নজরে রাখা হয়েছে শাবকটিকে। এটি মদ্দা না মাদি তা এখনো জানতে পারেননি তারা।এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছর থেকে বিভিন্ন সময়ে এ পার্কে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে আরো তিন মা জেব্রা। পার্কের বন্য প্রাণী তত্ত্বাবধায়ক সরোয়ার হোসেন খান জানান, সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি মা জেব্রা বাচ্চা প্রসব করে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার কয়েক মিনিট পরই বাচ্চাটি তার মায়ের পিছু পিছু ঘুরতে থাকে। কিছু সময় পর পরই সে তার মায়ের দুধ পান করছে। তিনি জানান, জেব্রা শাবক জন্মের ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে। তবে এক মাস পর থেকে ঘাস খেতে অভ্যস্ত হয়।পার্কের কর্মকর্তারা জানান, স্তন্যপায়ী শ্রেণির ইকুইডি গোত্রের একটি নিরেট-খুরযুক্ত চতুষ্পদী প্রাণী জেব্রা। ঘোড়া ও গাধার নিকট প্রজাতি এরা। শরীরের সাদা-কালো ডোরা এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ডোরার দাগগুলো প্রতিটি জেব্রার ভিন্ন রকম হয়। ঘাড়ে কেশরসদৃশ খাড়া চুল থাকে। এদের ওজন প্রায় ৬৪০ থেকে ৭৫০ পাউন্ড এবং কাঁধের কাছে এর উচ্চতা ৪৭ থেকে ৫৫ ইঞ্চি। দেহের দৈর্ঘ্য ছয় থেকে আট ফুট। স্ত্রী জেব্রা এক থেকে তিন বছর পর একটি বাচ্চা প্রসব করে। এদের গর্ভধারণের সময় প্রায় ৩৭০ দিন। জন্মের পর শাবকগুলো মায়ের সঙ্গেই থাকে। এরপর ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে মায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে। তবে সামাজিক জীব হিসেবে এরা একই পরিবারভুক্ত হয়ে বিচরণ করে। জেব্রার স্বাভাবিক জীবনকাল প্রায় ২০ বছর। সুদান, উগান্ডা, কেনিয়াসহ সাহারা মরু এলাকার দক্ষিণে সমতলভূমিতে এদের বাস। সবুজ ঘাস ও কচি শাক-সবজি এদের প্রধান খাদ্য।এসএ/  

দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ী এখন উত্তরা গণভবন(ভিডিও)

নাটোরের দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ী, যা এখন পরিচিত উত্তরা গণভবন হিসেবে। রাজা দয়ারাম রায়ের রাজবাড়ি সম্প্রতি উন্মুক্ত করে নতুন সাজে সজ্জিত করায় বেড়েছে পর্যটকের ভীড়। রাজা-মহারাজাদের স্মৃতি বিজরিত জায়গাটিতে পর্যটক আকর্ষনে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আঠারো শতকে নির্মিত দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি। রাজা দয়ারাম রায় এর প্রতিষ্ঠিাতা। নাটোর শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অপূর্ব নির্মাণ শৈলির এই রাজবাড়ি বর্তমানে উত্তরা গণভবন হিসেবে পরিচিত। ১ শ’ ২৫ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই রাজবাড়ি। যার প্রবেশদ্বারে আছে দু’শ বছরের পুরোনো বিশাল ঘড়ি, যেটি এখনও জানান দিচ্ছে সঠিক সময়। বিরল ফুলগাছ আর গাছগাছালি ঘেরা রাজবাড়িটি নতুন সাজে সজ্জিত করে উন্মুক্ত করায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকরা। নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে চিড়িয়াখানা, সংগ্রহশালা আর পাখির অভয়াশ্রম। সংগ্রহশালায় রয়েছে, ১২০ বছর আগে রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের মেয়ে ইন্দুপ্রভার কাছে লেখা তার স্বামী মহেন্দ্রর ২৮৫টি চিঠি, আছে রাজাদের দুর্লভ ও মুল্যবান দলিল আর নানা সামগ্রী। এর সাথে পুরোনো কামান, শ্বেতপাথরের ভাস্কর্য আর টলটলে জলের দীঘি মুগ্ধ করে দর্শনাথীদের। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নাটোর অপার সম্ভাবনাময়, তাই দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঐতিহ্যবাহী এই রাজবাড়ি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র -এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

দেশের প্রথম ডাইনো পার্ক হলো কুমিল্লায় (ভিডিও)

কুমিল্লায় তৈরি করা হয়েছে দেশের প্রথম ডাইনো পার্ক। এই পার্কের অন্যতম আকর্ষন চীন থেকে আমদানি করা ডাইনোসরের মূর্তি। ডাইনোসর দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। আর শিশুরা এর মাধ্যমে প্রাচীনতম এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে পারছে। ডাইনোসরের কথা বললেই মানসপটে ভেসে উঠে বৃহদাকার মেরুদণ্ডী প্রাণীর ছবি। এরা পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২৩ কোটি বছর আগে ডাইনোসরের বিবর্তন হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ডাইনোসরের প্রথম জীবাশ্ম পাওয়া যায়। সম্প্রতি কুমিল্লার কোটবাড়ির জামমুড়ায় ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠেছে ডাইনো পার্ক। এখানে স্থাপিত ডাইনোসরের মূতিগুলো মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। রয়েছে অন্যান্য রাইডও। পার্কের পরিচালক জানান, শিক্ষা এবং বিনোদনের বিষয়টি সমন্বয় করে এই পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এমন শিক্ষণীয় পার্ক শিশুদের জন্য সারাদেশেই প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।      ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ডাইনো পার্কটি দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে ডাইনো পার্ক।

ঐতিহ্যবাহী নওয়াব বাড়ি এখন রয়েল রিসোর্ট

জেলার ধনবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবিস্থিত নওয়াব বাড়ি এখন নওয়াব আলী হাসান আলী রয়েল রিসোর্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক মন্ত্রী নওযাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর সেই ঐতিহ্যবাহী নওয়াব বাড়িটিই আজকের সুপ্রতিষ্ঠিত ‘রয়েল রিসোর্ট’।বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ পর্যটন কেন্দ্রটি ঢাকা থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-জামালপুর মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। প্রায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ রয়েল রিসোর্টে। এখানকার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে নওয়াব মঞ্জিল, নওযাব প্যালেস, নওয়াব শাহী জামে মসজিদ, দীঘি, ভিলা ইত্যাদি। এসব পুরনো নকশাখচিত অট্টালিকার সব বেডরুমের ফার্নিচারসমূহ সেই নবাবী আমলের।এ ছাড়াও রয়েছে সম্পূর্ণ আধুনিক কাঠামোতে নির্মিত কটেজ। এখানে এ মনোরম পরিবেশ শুটিং ও পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবাসিক এখানকার নিরাপদ এবং আরামদায়ক রুমগুলো চার ধরনের, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা পূরণ করে। রয়েছে অফিসারদের সব আবাসিক চাহিদা মেটাবে এ রয়েল রিসোর্ট। নওয়াব মঞ্জিল এ ভাবনটি ছিল নওয়াব বাহাদুরের প্রধান আবাসকক্ষ। এককালে সব নামিদামি অতিথি এখানেই থাকতেন। এ ভবনটি এখন সব ভিআইপি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। নিপুণ কারুকার্যে খচিত ভবনটির ভেতরে রয়েছে সব নবাবি ফার্নিচার। মঞ্জিলের সামনে বাগান, উন্মুক্ত স্টেজ, খেলার মাঠ সত্যিই নয়নাভিরাম। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক বাথরুম, হট-কোল্ড শাওয়ার, মাল্টি চ্যানেল টিভিসহ সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।প্যালেস এ বিশাল আকৃতির ভবনটি ছিল এককালে দরবার হল। বর্তমানে নওয়াব প্যালেস কর্পোরেট অতিথিদের জন্য ৫০ আসনবিশিষ্ট একটি গোলটেবিল, কনফারেন্স রুম। সম্পূর্ণ আধুনিকভাবে সজ্জিত করফারেন্স রুমে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্ট সাউন্ড সিস্টেম কম্পিউটার ইত্যাদি। পাশেই ৩০০ আসনবিশিষ্ট কনভেনশন হল। এ কনভেনশন হলে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও সেমিনার হয়ে থাকে। প্যালেস এবং মঞ্জিলের প্রতিটি কক্ষে রয়েছে অতীত ঐতিহ্য বহনকারী আসবাপত্র।এ ছাড়াও রয়েছে বিশাল ডাইনিং হল, নওয়াব মিউজিয়াম, লাইব্রেরি এবং বেশ কয়েকটি বেড রুম। প্রায় শতাধিক বছরের পুরনো ভবনের সব আধুনিক সুবিধা পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ার মতো।ভিলা দুই শতাধিক বছরের পুরনো এ ভাবনটি ছিল নওয়াব অন্দর মহল। এখানেও রয়েছে সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, সিঙ্গেল বেডরুম ও বিশাল আকৃতির ফুলের বাগান। একটি পরিবারের সুন্দরভাবে থাকার জন্য এ ভবনটি খুবই চমৎকার। কটেজ একটি অত্যাধুনিকভাবে নির্মিত একটি ভবন। ভিলার বারান্দা থেকে কটেজে প্রবেশের প্যাসেজটি এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ কটেজে রয়েছে এসি রুম। পাশে ফুলের বাগানের মাঝখানে বড় আকৃতির গার্ডেন আমব্রেলা। নওয়াব শাহী জামে মসজিদ রয়েল রিসোর্টের ঠিক পাশেই রয়েছে সাতশ’ বছরের পুরনো মসজিদ। চীনা-মিসরীয়দের তৈরি মোগলীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। এ মসজিদটির মোজাইকসমূহ এবং মেঝেতে মার্বেল পাথরের নিপুণ কারুকাজ বাংলাদেশে বিরল। মসজিদটির পাশে একটি কক্ষে রয়েছে নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কবর। এখানে ২৪ ঘন্টাই কোরআন তেলাওয়াত করে আসছে প্রায় ৮৮ বছর থেকে। এটা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। শাহী মসজিদের পাশে সাকিনা মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নওয়াব ইনস্টিটিউশন, আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ বিদ্যমান। দীঘি রয়েল রিসোর্টে রয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর বিশাল একটি দীঘি। এখানে নৌকা ভ্রমণ ও মাছ ধরার সুব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে সুন্দর মনোরম শান বাঁধানো ঘাট। সাধারণ পরিবেশ ১২০ বিঘা আয়তনের রিসোর্টটি সম্পূর্ণ বাউন্ডরি করা। রিসোর্টে গেস্টদের আনন্দ দেয়ার মতো প্রায় সব ব্যবস্থাই রয়েছে। রয়েছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি। প্রায়ই আয়োজন করা হয় আদিবাসী গারোদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গারোরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক নাচ-গান করে থাকে। আরো আয়োজন করা হয় বিলুপ্ত প্রায় লাঠি খেলা। দর্শনীয় স্থান নওয়াব আলী হাসান আলী রয়েল রিসোর্ট থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে ঐতিহ্যবাহী মধুপুর বন। বঙ্গবন্ধু সেতু মাত্র ৫০ মিনিট দূরত্বে অবস্থিত। রয়েল রিসোর্ট নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট ও গাইড দিয়ে রিসোর্টের গেস্টদের ঘুরিয়ে দেখায় আশপাশের সব দর্শনীয় স্থান।এ ছাড়াও রয়েছে মনোমুগ্ধকর রাবার বাগান, আনারস বাগান, বাঁশ বাগান যা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মধুপুর থেকে ৩০ মিনিটের পথ পেরুলেই রয়েছে আদিবাসী গারো পল্লী। সেখানে উপলব্ধি করা যায় গারোদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র জীবনধারা, যা পর্যটকদের মনের খোরাক। গারো পল্লী পেরিয়ে আসতেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল পার্ক। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ। পর্যটকদের সুবিধার্থে পর্যান্ত পরিমাণে নিরাপত্তা রক্ষী ও ওয়েটার রয়েছে এ রিসোর্টে। এ ছাড়াও গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা আছে।এ ব্যাপারে নওয়াব আলী হাসান আলী রয়েল রিসোর্টের ম্যানেজার মুকবুল হোসেন বলেন, এ রিসোর্টে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকরাই আসেন। এখানকার ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো।ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন বলেন, এ রিসোর্ট আমাদের ঐতিহ্য, দর্শনীয় এবং দৃশ্যমান কীর্তি।এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন বলেন, এ রিসোর্ট স্মৃতিচারণ ধরে রাখার ভালো উদ্যোগ। বিনোদনের এবং জ্ঞান আহরণের জন্য নির্মল জায়গা।সূত্র : বাসসএসএ/

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি