ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:১৪:০৮

সন্দ্বীপ এখন আর অবহেলিত জনপদ নয় : মিতা

সন্দ্বীপ এখন আর অবহেলিত জনপদ নয় : মিতা

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নয়নাভিরাম নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সুন্দরের আঁধার সাগর দুহিতা সন্দ্বীপ। ভৌগলিক কারণে দ্বীপ উপজেলা হলেও শত শত বছর ধরে এখানকার মানুষের জীবনধারা, শিক্ষা, সংস্কৃতির জন্য এটি `ট্যালেন্ট আইল্যান্ড’ হিসেবে পরিচয় লাভ করে। স্বাধীনতার চার দশক পরেও দীর্ঘদিন এটি অবহেলিত ছিল। ১৯৯১ সালের সন্দ্বীপের রাজনীতির অঙ্গনে ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে মুস্তাফিজুর রহমানের। তিনি সন্দ্বীপের অবকাঠামোগত উন্নয়নে হাত দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানামুখী উন্নয়নে তিনি এগিয়ে নিয়ে যান ২০০১ সাল পর্যন্ত। তারপর সন্দ্বীপের উন্নয়নে ভাটা পরে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদ সন্দ্বীপে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) থেকে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন মাহফুজুর রহমান মিতা। সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের নেতা দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের সন্তান তিনি। আধুনিক সন্দ্বীপের রূপকার দ্বীপবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি রাজনীতিতে আসেন। সন্দ্বীপের নানাবিদ সমস্যা ও সম্ভাবনা, ভাসান চর ইস্যু, নির্বাচন, উন্নয়ন এবং মনোনয়নসহ  সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে ইটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন বৈদেশিক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক। ইটিভি অনলাইন : আপনার নির্বাচনী এলাকায় নৌ-যাতায়াত সমস্যা দীর্ঘ দিনের। সম্প্রতি স্পিডবোট ভাড়া ২০০ টাকা নির্ধারনের দাবি উঠেছে। সংসদ সদস্য হিসেবে এই দাবিকে কীভাবে দেখছেন? মিতা এমপি: মাননীয় নৌ-মন্ত্রী মহোদয় ভাড়া কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। আমিও সংসদ সদস্য হিসেবে বলেছি- এটি কমাতে হবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, ইজারাদের সঙ্গে কথা বলে এটি ঠিক করা হবে। স্পিডবোট ভাড়া ২০০ টাকার মধ্যে রাখার পক্ষে একমত পোষণ করেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এটা তো খাস কালেকশন। হঠাৎ একটা  অর্ডার দিয়ে বন্ধ করা যায় না। কারণ ঘাট ইজারা দেন হচ্ছেন জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ মন্ত্রীর অধীনে নয়, এটি এলজিআইডি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে মন্ত্রী অনুরোধ করতে পারেন। নৌমন্ত্রী একমত পোষণ করেছেন, এখানে এত টাকা ভাড়া নেয়া উচিত নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে উনি ১৫০ টাকার রাখার কথা বলেছেন। ইটিভি অনলাইন : সাবমেরিন ক্যাবলের সাব সেন্টার আপনি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন। আমার প্রশ্ন হলো, আপনার কাছে কবে নাগাদ সন্দ্বীপ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে? মিতা এমপি: সাবমেরিন ক্যাবলের সাব সেন্টারের জন্য জায়গা দেখা হয়েছে। কাজও শুরু হয়ে গেছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাবে সন্দ্বীপবাসী। বিদ্যুত এসে গেলে সন্দ্বীপে ছোট-বড় ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠবে। ফলে দ্বীপ এলাকা বলে অবহেলার আর সুযোগ থাকবে না। ইটিভি অনলাইন : বহুদিন সন্দ্বীপবাসী উন্নয়নের ধারা থেকে বঞ্চিত ছিল। হঠাৎ করে সন্দ্বীপ নিয়ে সরকারের আগ্রহ বাড়ার কারণ কী? এছাড়া এখানকার মেগা প্রকল্পগুলো কোনটা কি অবস্থায় আছে, তা একটু শুনতে চাই? মিতা এমপি : জননেত্রী শেখ হাসিনা সন্দ্বীপের উন্নয়নের ব্যাপারে বেশ আন্তরিক। তিনি চান, সরকারের উন্নয়নের চলমান ধারার সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দ্বীপকে এগিয়ে নিতে। অন্যদিকে এখানকার মেগা প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ক) গত ১৮ নভেম্বর সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি জেটি পুননির্মাণের কাজ নৌমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এটি শেষ হতে ১৮ মাস সময় লাগবে। জেটি নির্মিত হলে যাত্রীদের আর কাঁদা পানিতে নেমে কুলে উঠতে হবে না। খ) পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২টি প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আছে। একটি হলো- সাড়ে ২৭ কিলোমিটারের বেড়িবাঁধটি তিন ফিট উচ্চতা বাড়াতে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হবে। ইতোমধ্যে যা টেন্ডার এবং ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। অন্যটি, সাড়ে ১২ কিলোমিটারের বেড়িবাঁধটি পাথরের ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা। এ প্রকল্পে খরচ হবে ১৯৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ) সন্দ্বীপে ইকোনোমিক জোন করার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। গাছুয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্যাহ বেল্টে ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার একর জমি পেলে একটি ইকোনোমিক জোন করা যাবে। সন্দ্বীপে অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তোলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ঘ) সন্দ্বীপকে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে (উড়িরচর টু সন্দ্বীপ) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্দ্বীপের পশ্চিমাংশে চর জেগে ওঠায় অনেকগুলো জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে এখন আর ক্রস বাঁধের প্রয়োজন নেই। সড়ক বাঁধ করতে পারলেই মূল ভূখন্ডের সঙ্গে সন্দ্বীপ সংযুক্ত হতে পারবে। আগামীতে নির্বাচিত হলে আমি এ কাজটি করতে চাই। ঙ) সন্দ্বীপে একটি দুগ্ধ খামার (ক্যাটাল হাউজ) করার আগ্রহ দেখিয়েছে মিল্কভিটা। ফায়ার স্টেশনের জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। চ) পর্যটন খাতে সন্দ্বীপে একটা বড় সম্ভাবনা রয়েছে। নৌ যাতায়াত নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি এখানে বিদ্যুৎ এলে পর্যটকরা আসবেন। এই খাত নিয়ে আমার কিছু স্বপ্ন রয়েছে। ছ) সন্দ্বীপে আমার একটি স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য বেড়িবাঁধের ভেতর খাস জমি খুঁজছি। জ) বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এখানে একটা ল্যান্ডিং স্টেশন হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ- এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। সন্দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে একটা বাথিং স্টেশন করবে বিশ্ব ব্যাংক। ঝড়-জলোচ্ছাস হলে যাতে করে বিদেশি জাহাজগুলো বিপদকালীন মুহূর্তে যেন নোঙর করতে পারে। এখানে তারা ড্রেজিং করবে। এ উপকূলকে কেন্দ্র করে সরকারের মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। ঝ) সন্দ্বীপ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এই বিষয়কে মাথায় রেখে সংসদের ১২তম অধিবেশনে ৩১ ধারা অনুসারে একটি নোটিশ করি। এর পরে ত্রাণমন্ত্রী ১০টি সাইক্লোন সেন্টার প্রদানের আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে ২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলো ধারাবাহিকভাবে নির্মিত হবে। ইটিভি অনলাইন : সন্দ্বীপ ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকা হলেও এখানকার মানুষ সংস্কৃতিবান্ধব। সন্দ্বীপের শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে আপনার কি কি উদ্যোগ রয়েছে? মিতা এমপি: সন্দ্বীপে শিল্পকলা একাডেমি ভবনের জন্য সংসদে দাবি পেশ করেছি। তবে এ জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, বৈষয়িক পরিবর্তনের প্রভাবে সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে। মানুষ এক সময় পাবলিক লাইব্রেরিতে আনন্দমুখর পরিবেশ পেত। এখন সবাই ফেসবুক নির্ভর হয়ে পড়েছে। তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে মানুষ বই থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। ইটিভি অনলাইন : তরুণদের উদ্দেশে একজন তরুণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে কী বলবেন? মিতা এমপি : রাজনীতি যার যার, সন্দ্বীপ আমাদের সবার- আমি এ স্লোগান বুকে ধারণ করি। তরুণরা যেন স্বউদ্যেগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে। মুক্তিযুদ্বের ইতিহাস জানা থাকলে তারা পথ হারাবে না। সেই সঙ্গে শেকড়ের সঙ্গে তারা যেন সম্পর্ক রাখে। তাহলে সন্দ্বীপ আর অবহেলিত থাকবে না। তরুণদের প্রতি আমার করজোর অনুরোধ, তারা যেন মাদক থেকে দূরে থাকে। যদি মাদকাসক্ত কেউ থেকে থাকে, তাদের বলছি, তোমরা মাদক ছেড়ে সঠিক পথে এসো। মাদকাসক্ত বেকারদের জন্য আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা মাদক ছেড়ে দিলে আমি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবো। ইটিভি অনলাইন : সম্প্রতি সংসদ অধিবেশন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সন্দ্বীপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনার কথোপকথন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই? মিতা এমপি : আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে অন্যতম নেমস্থি/ভাসানচর ইস্যু। ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিবহাল রয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। নোয়াখালির সঙ্গে সন্দ্বীপের সীমানা বিরোধ রয়েছে। জরিপের মাধ্যমেও তা মীমাংসা হয়নি। এটি ৬৩ বছরের আইনি সমস্যা। তবে বৈধতার ভিত্তিতে আমরা ভাসানচরের মালিকানা দাবি করছি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সন্দ্বীপের রাজনীতি নিয়েও খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ইটিভি অনলাইন : সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন আপনার বাবা দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান। তারই ধারাবাহিতায় আপনি রাজনীতিতে এসে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে আপনার কী কী পদক্ষেপ রয়েছে? মিতা  এমপি: আপনি জানেন, ২০০১ সালে আমার বাবা ইন্তেকাল করেন। তখন সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নারকীয় তান্ডব ছিলো। ওই মুহূর্তে আমাদের সন্দ্বীপে যাওয়াটা নিরাপদ ছিল না। এ কারণে ওনার সব ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা যায়নি। তবে ওনার প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন স্বরূপ প্রতি বছর স্মৃতিবৃত্তি, ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। ২০১৮ সালে ওনাকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দ্বীপবন্ধুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। ইটিভি অনলাইন : ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। দ্বিতীয় দফায় মনোনয়নের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী? মিতা এমপি: আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষ থেকে যখন দরখাস্ত আহ্বান করবে, তখন মনোনয়নপত্র দাখিল করবো। মনোনয়ন দেয়ার মালিক জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যদি যোগ্য মনে করেন, তাহলে আবারও আমাকে মনোনীত করবেন।   ইটিভি অনলাইন : আপনি ছাড়াও মনোনয়নের দৌড়ে একাধিক নেতা রয়েছেন। সেই সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল রয়েছে। নির্বাচনের আগে কোন্দল নিরসন করতে পারবেন কি না? মিতা এমপি: আপনি খুব শক্ত প্রশ্ন করেছেন। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমি মনে করি, সন্দ্বীপ উপজেলায় আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই, আছে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে- এটাতো স্বাভাবিক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনেক বড় রাজনৈতিক সংগঠন। এই দলে মাঠ জরিপ করে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সন্দ্বীপকে এগিয়ে নিতে জননেত্রী যাকে যোগ্য মনে করবেন, তিনিই নৌকার টিকেট পাবেন। ইটিভি অনলাইন : ইটিভি অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।                 মিতা এমপি : ইটিভিকেও ধন্যবাদ। ব্যতিক্রমী সাংবাদিকতায় আপনাদের যাত্রা অব্যাহত থাকুক। /ডিডি/ এআর
অচিরেই ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেবো: ড. আখতারুজ্জামান

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন হচ্ছে না প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) । সবশেষ ১৯৯০ সালে নির্বাচন হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রদবদল হয়, ভিসি যান ভিসি আসেন কিন্তু নির্বাচন আর হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিবেশ তৈরি করে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীরা সেই আশ্বাসে আশান্বিত হয়। আশ্বাসে আশ্বাসে ভিসির মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিরাট একটা বিষয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা, জাতীয় ও রাজনৈতিক নিরাপত্তাও জড়িত রয়েছে। এসব বিষয় সমন্বয় করে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। অচিরেই আমরা নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।

এক মাসেই এসিআই এগ্রোলিংকের টার্নওভার ৩০০ কোটি টাকা : ড. আনসারী

কৃষিকাজ এখন আর ক্ষেত-খামারে সীমাবদ্ধ নেই। চাষাবাদের বিষয়টি এখন অনেকটা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে শহর এখন আর শুধু ইট-পাথরের দালান-কোঠা নয়। সবুজ চাদরে ঢেকে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় নগরী। আর এসব কিছুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এসিআই এগ্রোলিংক লিমিটেড। ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ‘সবুজ ঢাকা’ পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি বা এসিআই’র সহযোগি প্রতিষ্ঠান এসিআই এগ্রোলিংক লিমিটেড, এসিআই মটরস এবং প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এফ.এইচ. আনসারী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান শাওন। ইটিভি অনলাইন : ‘সবুজ ঢাকা’ আপনাদের একটি অন্যতম সফল ক্যাম্পেইন। বর্তমানে কেমন চলছে এর কার্যক্রম? ড. আনসারী : ‘সবুজ ঢাকা’র প্রস্তাবনাটা আসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে। তবে তা শুধু প্রস্তাবনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমাদের এসিআই এগ্রোলিংকের পক্ষ থেকে পরবর্তী কাজগুলো করা হয়। আমরা হিসেব করে দেখলাম, ঢাকা শহরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বহুতল ভবন আছে। আমরা পরিকল্পনা করলাম, এই বাড়িগুলোর ছাদে একটি করে বাগান করার। এ লক্ষ্যে আমরা বাড়ি বা ভবন মালিকদের সঙ্গে কথা বলি। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, এই ক্যাম্পেইনে এখন আমাদের প্রায় ১ লাখ সদস্য যুক্ত আছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভবনের ছাদে ইতোমধ্যে বাগান করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা আসলেই ‘সবুজ ঢাকা’ হবে। উপর থেকে দেখলে শুধু সবুজ আর সবুজ দেখা যাবে। এমনকি ঢাকা শহরের প্রতিদিনের তাপমাত্রা চার থেকে পাঁচ ডিগ্রী কমে যাবে। ইটিভি অনলাইন : শুধু কী ছাদেই এমন বাগান করা সম্ভব? নাকি বারান্দায়ও করা যায়? ড. আনসারি : এ ধরনের বাগান শুধু ছাদেই নয়, বাসার বারান্দাতেও করা সম্ভব। এমনকি বাসার ভেতরেও করা যায়। আমাদের দেশের আবহাওয়া বৃক্ষবান্ধব। এ দেশে অনেক গাছ আছে, যা বিভিন্ন আবহাওয়ায় জন্মায় ও বেড়ে ওঠে। কিছু গাছ আছে যেগুলো আমাদের বাসার রুমের ভেতরেও জন্মায়। আমাদের এসিআই এগ্রোলিংকের পক্ষ থেকে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করব। এতে কোন ঋতুতে, কোন কোন পরিবেশে কী কী গাছ জন্মায় তার পূর্ণ বিবরণ থাকবে। এমনকি কোন ধরনের গাছের জন্য কোন ধরনের মাটি ও সার উত্তম তারও তথ্য দেওয়া থাকবে। আমি একটি উদাহরণ দিই, সিঙ্গাপুর শহরে কিন্তু এখন কোনো খালি জায়গা নেই। চাষাবাদ বা বাগান করার মতোও একটু জায়গা সেখানে নেই। কিন্তু ওই দেশে বিভিন্ন বহুতল বাড়িতে মাল্টি লেয়ারে বাগান করা হয়েছে। বাড়ির বারান্দায় ও ছাদে বাগান করে কিন্তু তারা ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।  ইটিভি অনলাইন : এসব বাগান বা গাছ থেকে পোকা-মাকড় বা কীটপতঙ্গের উপদ্রবের একটা ঝুঁকি থাকে। এর জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া যায়? ড. আনসারী : এর জন্য ফেন্স নেট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাগানের চারপাশ ফেন্স নেট দিয়ে ঢেকে দিলে এ ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এক ধরনের নেট হাউস এর মতো করা যেতে পারে। ইটিভি অনলাইন : বীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে মাটি তৈরি, গাছের চারা লাগানো থেকে এর পরিচর্যা- এতকিছু করা একজন শহুরে মানুষের পক্ষে অনেক সময়ই কঠিন। তাহলে সহজে কীভাবে এই বাগান করবে? ড. আনসারী : এটা একটা বড় সমস্যা। তবে এর জন্য আমাদের এসিআই এগ্রোলিংকের পক্ষ থেকে সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেওয়ার সুযোগ আছে। আমাদের সবকিছুই করা হয় অনলাইনে। আমাদেরকে শুধু একটি ফোন দিলে সবকিছু ব্যবস্থা করে ওই ব্যক্তির কাছে দিয়ে আসা হয়। গাছের চারা, তার জন্য উপযুক্ত ধরনের মাটি এবং সার থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক যা যা লাগে, সবই আমাদের অনলাইনে পাওয়া যাবে। এমনকি গাছ লাগানোর টবও পাওয়া যাবে আমাদের কাছে। আর এসব কিছু বাজারের দাম থেকে অনেক কমে পাওয়া যাবে। আবার কেউ হয়তো এগুলো বাজার থেকে কিনে আনল, কিন্তু বাড়িতে নিয়ে আসা তার জন্য কঠিন। আমরা সেই সেবাও দিয়ে থাকি। আপনার যা যা দরকার, তার সবই আমরা বাসায় পৌঁছে দেব। এমনকি কেউ চাইলে তার বাগান সেটআপ করেও দিয়ে আসবো। এক কথায় ‘কমপ্লিট সল্যুশন’ বা এক জায়গা থেকেই সবকিছুর সমাধান পাবেন। ইটিভি অনলাইন : এ ধরনের বাগান করা কোনো ব্যক্তি যদি কয়েকদিন বাসার বাইরে থাকেন তাহলে সে বাগানের পরিচর্যা কীভাবে হবে? ড. আনসারী : আমরা এ বিষয়েও চিন্তা করেছি। এর সমাধানের রাস্তাও বের করেছি। বাগান পরিচর্যায় আমরা যেটা দেখেছি, কোনো ব্যক্তি বাসা বা ওই বাগান থেকে কয়েকদিনের জন্য দূরে থাকলে তিনি যদি একবার পর্যাপ্ত পরিমাণে কীটপতঙ্গ তাড়ানোর স্প্রে করে যান, তাহলে নিয়মিত পানি দেয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। এর জন্য আমরা একটি অটোমেটেড ওয়াটার ড্রপিং সিস্টেম তৈরি করেছি। এটি আপনার বাগানের সঙ্গে ইনস্টল করে নিলে আপনি না থাকলেও যতটুকু পানি প্রতিদিন দেয়া দরকার তা সেটি নিজ থেকেই দেবে। তাই ঘরের বাইরে থাকলেও বাগানের কোনো সমস্যা হবে না।  ইটিভি অনলাইন : অনেকেই মনে করেন ছাদে বা বারান্দায় বাগান করা ব্যয়বহুল। আসলেই কী তাই? ড. আনসারী : অনেকেই আসলে এমনটা মনে করে থাকেন। কিন্তু প্রজেক্টটি খুবই কম খরচে করা যায়। প্রায় ৫০০ বর্গফুট বা ১ ডিসিমেল জায়গায় অনেক কম খরচে অনেক সুন্দর এবং পরিকল্পিত বাগান করা সম্ভব। বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা বা আনুষাঙ্গিক জিনিস কিনতে গেলে অনেক সময় দাম বেশি লাগে। এখানে আবারও আমাদের এসিআই এগ্রোলিংকের কথা বলতে চাই। আমাদের কাছে এ জিনিসগুলো অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ব্যবসায়িক ভাষায় বললে, এ ধরনের বাগান করা খুবই ইকোনমিক। যারা এ ধরনের বাগান করতে আগ্রহী তারা সবসময় আমাদের থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। ইটিভি অনলাইন : কৃষিকাজ এবং প্রযুক্তি। এ দুটোকে আপনারা অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। এ ধরনের উদ্যোগে আপনারা আগ্রহী হলেন কীভাবে? ড. আনসারী : আগে কৃষিকাজ বলতে শুধু মাঠে বা ক্ষেত-খামারে কাজ করা বুঝাত। এখনও কৃষিকাজ মাঠ আর ক্ষেতেই করা হয়। তবে এখন তা অনেকটাই প্রযুক্তির আশীর্বাদ পুষ্ট। আগের মতো সচরাচর যন্ত্রপাতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের উন্নত প্রযুক্তি এবং কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘ক্রিয়েটিং ওয়েলথ ফর দ্য ফারমার্স’ বা কৃষকের জন্য সম্পদ তৈরি করাই হচ্ছে আমাদের ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতেই আমরা কৃষিকাজের সঙ্গে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। ইটিভি অনলাইন : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। অনেক সময়ই অভিযোগ থাকে, কৃষকেরা তাদের ন্যায্য মূল্য পায় না। মধ্যসত্তাভোগীরাই বেশিরভাগ মুনাফা নিয়ে নেন। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন? ড. আনসারী : অনেক সময় এমনটা হয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, অনেক সময় কৃষকেরা বেশি মূল্যও পান। যেমন গত মৌসুমে ধানের মূল্য কৃষকেরা কম পেয়েছেন, তবে এ বছর কিন্তু অনুমানের চেয়ে বেশি মূল্য পেয়েছেন। এটা বাজারের একটা দিক। কখনও বেশি তো কখনও কম। তবে আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। আর শুধু আমাদের দিক থেকে বললে, আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন’-তে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে যেসব পণ্য সংগ্রহ করি, তার জন্য তাদেরকে যথাযথ মূল্যই দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমাদের ওপর কৃষকদের সন্তুষ্টি ও আস্থা আছে। ইটিভি অনলাইন : কৃষি বিভাগে আপনাদের ব্যবসা ইতোমধ্যে সকলের প্রশংসা পেয়েছে। দেশের কৃষি সম্প্রসারণে নিজেদেরকে কতটুকু সফল মনে করেন? ড. আনসারী : আমাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- ‘এট দ্য এন্ড হ্যাপিনেস’। অর্থাৎ সবকিছুর পর আমরা সবার মাঝে আনন্দ দেখতে চাই। সেদিক থেকে বিচার করলে আমরা আমাদের লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছি। আমরা এখন পর্যন্ত শতকরা ২০% কৃষকদের সেবা দিয়ে আসছি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে তা শতকরা ৪০ ভাগ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। অংকের হিসেবে যদি বলি, গত ১ মাসে আমরা কৃষি বিষয়ক লজিস্টিকে টার্নওভার করেছি ৩০০ কোটি টাকা। কিছু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক টার্নওভার ৩১০ কোটি টাকার মতো। আমাদের সেখানে এক মাসেই ৩০০ কোটি টাকা। অবশ্যই এই ব্যাপারে নিজেদেরকে আমরা সফল মনে করি। ইটিভি অনলাইন : আপনারা আর কী কী নতুন ব্যবসা চালু করতে যাচ্ছেন? ড. আনসারী : আমরা এখন সবাইকে দুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি (হাসতে হাসতে)। আমরা বিশ্বের সব থেকে বৃহৎ দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফনটেরা মিল্ক’ এর বাংলাদেশি ডিলারশিপ নিয়েছি। এছাড়া ‘এ্যাংকর মিল্ক পাউডার’ গুড়ো দুধ আমরা আবারও নতুন করে বাজারে ছাড়তে যাচ্ছি। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক কাজে আপনার প্রায় ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা। নতুন যারা এই বিভাগে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য আপনার উপদেশ কী থাকবে? ড. আনসারী : আমার সুযোগ হয়েছে অনেক তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলার। আমি তরুণদের মধ্যে কৃষি বিষয়ক বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ দেখেছি। এ বিষয়টিকে ধরে রাখতে হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের কৃষির বাজার ব্যাপক। এটাই আমাদের মূল পেশা। এখনও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষিকাজ। পাশাপাশি আমাদের দেশের আবহাওয়াও কৃষি বান্ধব। তরুণদের জন্য সম্ভাবনাময়ী এক সেক্টর কৃষি। কৃষি মানেই যে লাঙ্গল হাতে নিয়ে জমিতে নেমে পরা, তা কিন্তু নয়। এখন উন্নত সব প্রযুক্তি বের হচ্ছে। আমাদের ভাষায় বললে, কৃষিকে ব্যবসা হিসেবে নিলে, এটা খুবই ‘প্রফিটেবল’ সেক্টর। তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু করার আছে এখানে। একটা সাসটেইনেবল বিজনেস হতে পারে কৃষিখাত। আত্মস্বাবলম্বী হওয়ার দারুণ সুযোগ আছে এখানে। একটা উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, বাড়ির ছাদেই খুব অল্প বিনিয়োগে ‘গ্রীন হাউস’ এর মতো প্রজেক্ট করা যায়। এতে খরচ যা লাগে, তা খুবই সামান্য। তবে এর থেকে একজন উদ্যোক্তা তার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে এটাকে বড় করা যাবে। ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ড. আনসারী : আপনাকেও ধন্যবাদ। আমাদের পাশে সবসময়ই একুশে টেলিভিশন পরিবারকে পেয়েছি। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।   /ডিডি/

অর্থনৈতিক পরনির্ভরতা নারীদের প্রধান সমস্যা : মিতি সানজানা

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। আইন শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেছিলেন। নিজেকে শুধু কোর্ট ও চেম্বারে বন্দী রেখে স্বস্তি পাননি তিনি। উপলব্ধি করলেন, সমাজের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আছে। সেই তাগাদা থেকে বিভিন্ন ইংরেজি দৈনিকে নিয়মিত লিখতে শুরু করেন। প্রতিটি টিভি চ্যানেলেও টক শো করেন। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলে বেশ আলোচিত হয়েছেন। একুশে টিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান।   একুশে টিভি অনলাইন : কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে আপনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। কেন? মিতি সানজানা : কর্পোরেট সেক্টর নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, অপ্রয়োজনে মেধা ব্যয় করছি। একজন নারী হিসেবে আমি উপলব্ধি করলাম, আমাদের দেশে নারীবান্ধব তেমন আইন নেই। বেশির ভাগ আইন পুরুষের পক্ষে, যা আমার ভিতরে তাড়া দেয়। একুশে টিভি অনলাইন : এই যে বললেন, বেশির ভাগ আইন পুরুষের পক্ষে, এর ব্যাখ্যা দেবেন কী? মিতি সানজানা : যেমন ধরুন, ডিভোর্সের মামলা। একটা মেয়ের ডিভোর্স হওয়ার সময় তেমন কিছু পায় না। শুধু তিন মাসের ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ পায়, যা খুবই সামান্য। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা মেয়ের ডিভোর্সের পর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না। মধ্যবিত্তের প্রেক্ষাপটে কোনো বাবা-মা চান না তার মেয়ে বিয়ের পর ফিরে আসুক। দেখা যায়, তখনো তাকে একজন পুরুষের (ভাই) উপর নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ, আইন তাকে পুরুষের মুখাপেক্ষী করে রাখছে। হিন্দু ধর্মে ব্যাপারটা আরো ভয়াবহ। সেখানে সম্পত্তিতে নারীদের কোনো অধিকার নেই। স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নারীর কোনো ভূমিকা নেই। ডিভোর্স চাওয়া বা ডিভোর্স দেওয়া- দুটো ক্ষেত্রেই নারীরা অসহায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : নারীদের প্রধান সমস্যা কী কী বলে আপনি মনে করেন? মিতি সানজানা: অর্থনৈতিক পরনির্ভরতা নারীদের প্রধান সমস্যা। এজন্য অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়া খুব দরকার। এখন আপনি দেখবেন মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখন শতকরা ৬০ জনের বেশি নারী ডিভোর্স চাওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে, ডিভোর্স চাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন ডিভোর্সকে সামাজিকভাবে খারাপ ভাবা হতো। তখন বিচ্ছেদ পরবর্তী ভবিষ্যত নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা থাকতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো, নারীর ক্ষমতায়ন। কর্মক্ষেত্রে নারীরা আসছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) সেক্টরে অনেক নারী রয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : নারীর এই ক্ষমতায়ন কী শুধু নগরকেন্দ্রিক নয়? মিতি সানজানা : না, শুধু যে শহুরে নারীরা সাবলম্বী হচ্ছে তা নয়। গ্রামের নারীদের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়ছে। আমি শ্রম আইন নিয়ে প্রচুর কাজ করি। এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার নারী শ্রমিককে ওয়ার্কশপ করিয়েছি। মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে, নারী হিসেবে তাদের অধিকার নিয়ে অনেক শ্রমিকের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হচ্ছে। সেখানে তাদের আমি জিজ্ঞেস করি, তাদের কাছে কী গ্রাম ভালো লাগে নাকি শহর? উত্তরে তারা জানায়, তাদের কাছে শহর ভালো লাগে। কেননা, শহরে কেউ কাউকে নিয়ে নাক গলায় না। কিন্তু গ্রামে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলানো হয়। বিশেষ করে গ্রামে নারীদের বিভিন্ন কুসংস্কারের দোহাই দিয়ে তাদের বন্দী করে রাখার চেষ্টা থাকে। শহরের মেয়েরা সপ্তাহজুড়ে চাকরি করে, শুক্রবারে সিনেমা দেখে, পার্কে ঘুরতে যায়। কিন্তু যখনই তারা গ্রামে যায় তখনই অন্যেরা তাদের নিয়ে বাজে কথা বলতে শুরু করে। বলে, এরা শহরে গার্মেন্টসে চাকরি করে। অর্থাৎ এরা ভালো নয়। কিন্তু শহরে এসব প্রতিবন্ধকতা নেই। এখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চাকরি করছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। আমাদের শ্রমজীবী নারীদের সবাই, বিশেষ করে আরএমজি সেক্টরের অধিকাংশ নারীই গ্রামের। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনার জায়গা থেকে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ বলতে কী বুঝেন? মিতি সানজানা : ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ মানে শুধু এই নয় যে আমি একজন ব্যারিস্টার, আবার কেউ বড় ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা অধিক আয় করেন; তা না কিন্তু। বরং ব্যাপারটা বিবেচনা করতে হবে পরিবার থেকে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা কেমন সেটা আসবে। আপনি বাইরে বড় আওয়াজ দিলেন কিন্তু ঘরে কথা বলতে পারলেন না, তাহলে তো হলো না। এক্ষেত্রে নারী পেশাগত জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার যাই হোক না কেন তাকে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কিন্তু ধরুন, গ্রামে স্বামী-স্ত্রী সম্মিলিত সিদ্ধান্তে কোনো কাজ করল, সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন কাজ করছে। অথবা একজন ক্ষুদ্র নারী উদ্যেক্তা নিজ শ্রমে কোনো কুটির শিল্পের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে তার আয়ের পথ বের করল বা নিজে স্বাধীন-স্বনির্ভর হলো, সেটাও কিন্তু ‘নারীর ক্ষমতায়ন’। আবার ধরুন, গ্রামের কোনো নারী শহরে থেকে চাকরি করে; কিন্তু প্রতি মাসে মা বা বাচ্চার জন্য খরচ পাঠায়- সেটাও নারীর ক্ষমতায়ন। অর্থাৎ, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য খুব হাই প্রোফাইলের কেউ হওয়া মুখ্য বিষয় নয়। নারীর ক্ষমতায়নের চর্চাটা পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধরে নেওয়া হয়, পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত পুরুষ নিবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রথম ধাক্কাটা সেখান থেকেই আসে। এর বিরুদ্ধে নারীদের সচেতন হতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই যে বাধা, তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? মিতি সানজানা : প্রথমত মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পারিবারিকভাবে এর বিরুদ্ধে চর্চা করতে হবে। পরিবারে মা সন্তানদের শিক্ষা দেয়। পরিবারেই শিখাতে হবে, নারী-পুরুষের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। যেমন আমার পরিবার। আমরা দুই ভাই-বোন। একইভাবে বড় হয়েছি। আমি যেমন বিদেশে পড়াশোনা করেছি, তেমনি আমার ভাইও বিদেশে পড়েছে। আমার বাবা-মা ভাবতেও পারেন না, আমি মেয়ে বলে সম্পত্তির অর্ধেক পাবো আর ভাই ছেলে বলে আমার দ্বিগুণ পাবে। অনেক সংসারে দেখা যায়, মা ছেলের পাতে মাছের বড় অংশ বা মুরগীর রানটা তুলে দেয়। এটাও ঠিক নয়। আইন আছে, সমাজ আছে, রাষ্ট্র আছে। কিন্তু আইনের পরিবর্তন ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না, যতক্ষণ না আমাদের মূল্যবোধের পরিবর্তন হবে। আরেকটা কাজ করা জরুরি। সেটা হল পাঠ্যসূচির বাইরে আসতে হবে। যেমন আমি নিজেও প্রচুর ক্যাম্পেইন করি। দেশের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ULAB. আমরা প্রতি সেমিস্টারে এক হাজার শিক্ষার্থীকে এসব বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করি। আমি স্বেচ্ছায় তাদের কাজে সহযোগিতা করি। এ ক্ষেত্রে আমি তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা বা ফি নেই না। এ দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা খুব ভালো একটা ফল পাবো। আমাদেরকে পাঠ্যসূচি বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। মাসে একদিন একটা কর্মশালা হতে পারে। সে কর্মশালা ইভটিজিংয়ের উপর হতে পারে, পারিবারিক মূল্যবোধের উপর হতে পারে, অথবা নারীর উপর সহিংসতার বিরুদ্ধে হতে পারে। কোনো কোনো আচরণ যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। কেন এ ধরনের হয়রানি করা উচিত নয়, সেসব বিষয় নিয়ে কর্মশালা হতে পারে। ২০০৮ সালে যৌন হয়রানি বিষয়ক একটি নির্দেশনা এসেছে হাইকোর্ট থেকে। যে নির্দেশনায় হাইকোর্ট বারবার উল্লেখ করছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যখন অভিষেক অনুষ্ঠান করবে, তখন থেকেই কিন্তু এসব বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালা করতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আজকের প্রযুক্তিবান্ধব পৃথিবীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব বাড়ছে। এজন্য অনেকে প্রযুক্তিকে দায়ী করেন। আপনি কী মনে করেন? মিতি সানজানা : দেখুন, আমরা শুধু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নয়, বরং শিল্প-সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রে একটা অস্থির সময়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের জীবন-যাপন একটা ঝুঁকির মধ্যে আছে। লক্ষ্য করলে আপনি দেখেতে পাবেন বর্তমানে ক্লাস সিক্স-সেভেনের মেয়েরা বিভিন্ন পার্ক-রেস্টুরেন্টে প্রকাশ্যে প্রেম করছে। এটা তাদের কাছে অপরাধ নয়। তাদের যুক্তি অনুযায়ী তারা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে অনুসরণ করছে। কিন্তু তাদের এটা বুঝানো উচিত, আমাদের সঙ্গে পশ্চিমা সংস্কৃতি যায় না। পশ্চিমা দেশগুলোতে মেয়েরা ষোল বছর ও ছেলেরা আঠার বছর হলে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। বিয়ে না করে তারা লিভ টুগেদার করে। কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে গর্ভধারণ করলে সেটার জন্য তার পরিবারকে লজ্জায় পড়তে হয় না। কিন্তু আমাদের দেশের সংস্কৃতি তেমন নয়। কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করলে তার জন্য তাকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে দায়ী করা হয়। একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন, বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটা নির্দিষ্ট বয়সের আগে কোনো মেয়ে বিয়েতে সম্মতি দিলে তা সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না। আঠার বছরের আগে আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হয় না। অর্থাৎ আঠার বছরের আগে সঙ্গী নির্ধারণে যেমন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারেও ঝুঁকি থাকে। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার হয়। প্রথমত, গুগল ও ইউটিউবে অসংখ্য পর্নো সাইট থাকে, যা অনেক শিশু-কিশোরের বয়সের সঙ্গে যায় না। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে সে ভুল পথে হাঁটে। দ্বিতীয়ত, এটা এক ধরনের আসক্তি। কিছুদিন আগে ড. জাফর ইকবাল একটা লেখা লিখেছেন। তিনি সেখানে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, ইন্টারনেটে আসক্তি তরুণ-তরুণীদের বই বিমুখ করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আমি মিতি সানজানা বলছি, আঠার বছরের আগে যেমন রক্ত দেওয়া যায় না, বিয়ে করা যায় না, ভোটাধিকার হয় না- ঠিক তেমনি আঠার বছরের আগে সন্তানদের হাতে ইন্টারনেট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মাকে সতর্ক হতে হবে। আর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সিস্টেমেই একটা বিষয় রেখেছে, তা হলো আঠার বছরের আগে কেউ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। কিন্তু আমাদের দেশে অসংখ্য শিশু-কিশোর ভুল তথ্য দিয়ে ফেসবুক ওপেন করছে। এর পরিণীতি আমাদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি ইন্টারনেট জগতে পর্নোর ব্যাপক অাগ্রাসনের কথা বলছিলেন। এ ব্যাপারে তো আইন আছে। মিতি সানজানা : হ্যাঁ, আইন আছে। যদিও এর সঠিক প্রয়োগ নেই। নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধকল্পে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২’ প্রণীত হয়। এই আইনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বহন, বিনিময়, মুঠোফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা, বিক্রি প্রভৃতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থিরচিত্র বা ভিডিও ধারণ করলে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে। এই আইনে আরো বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কারো সম্মানহানী করে বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চালায় তবে বিচারক ২ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন। শিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অধিকন্তু ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সাধারণত কর্মজীবী বাবা-মা সন্তানদের হাতে দামি ডিজিটাল পণ্য সামগ্রি (গেজেট) দেয়। আপনার দৃষ্টিতে এটা কী উচিত, নাকি উচিত নয়? মিতি সানজানা : ভার্চুয়াল জগতের প্রভাবে মানুষ পারিবারিক জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আজকে আমরা অনেক ঝুঁকির ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। যেমন সবাই ব্লু হোয়েল গেমসের কথা বলছি, বা আজকে জঙ্গিবাদের যে প্রভাব তার সব দায়ভার অভিভাবকের উপর চাপানো হচ্ছে। এখানে আমার একটা অভিযোগ আছে, সেটা হলো, সব দায়ভার আমরা বাবা-মায়ের উপর চাপাচ্ছি কেন? আমরা শিশুদের খেলার মাঠ দিতে পারছি না। আগে বই পড়ার একটা পরিবেশ ছিল আমরা সেখান থেকেও দূরে সরে আসছি। পারিবারিক জীবন, সামিাজিক জীবন সব কিছু থেকেই আমাদের সন্তানরা বঞ্চিত। ফলে বাইরের অপসংস্কৃতি বা অপরাধ জগৎ খুব সহজেই আমাদের সন্তানদের গ্রাস করছে। আজকে সারা দেশে জঙ্গিবাদ আতঙ্কের ইস্যু। কয়েকটা কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করলে দেখবেন, সাধারণত ভার্চুয়াল জগতের প্রভাবে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন থেকে বঞ্চিত সন্তানরাই এসব অপরাধে ঝুঁকে। না বললেই নয়, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (CRC), ১৯৮৯-এ স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন প্রথম রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যেসব রাষ্ট্র এই সনদে স্বাক্ষর করেছে তারা শিশুদের সর্বোচ্চ স্বার্থের আলোকে যাবতীয় নীতি প্রণয়ন করতে দায়বদ্ধ। এই সনদ অনুযায়ী খেলাধুলা ও বিনোদন প্রত্যেক শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন শিশুর বেড়ে ওঠা এবং তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি পরিপূর্ণভাবে বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কোনটাই আমাদের সন্তানরা পাচ্ছে না। এজন্য সমাজের দুর্বৃত্তায়ন দায়ী। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য করণীয় কী? মিতি সানজানা : শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিকল্প নেই। সন্তানের গতিবিধি খেয়াল রাখতে হবে। তার জীবন-যাপন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে হবে। বন্ধুর মতো পাশে থেকে পরামর্শ দিতে হবে। কাজটা এমনভাবে করতে হবে, যাতে তার ব্যক্তিত্বে আঘাত না আসে। সময়ের ব্যবধানে সব কিছু পাল্টায়। শাসনের পদ্ধতিও পাল্টেছে। আবারো বলছি, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিকল্প নেই।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিয়ে, প্রেম বা জীবনসঙ্গী নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী কী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত? মিতি সানজানা : আমি ব্যক্তিগতভাবে পারিবারিক সিদ্ধান্তে হুট করে বিয়ে করার চাইতে দীর্ঘদিনের জানা-শোনা বা পছন্দ করে বিয়ে করাকে সমর্থন করি। যাকে জানিনা, চিনিনা তাকে হুট করে বিয়ে করে সংসার করব- ব্যপারটা কেমন যেন। তবে হ্যাঁ, এই প্রেম বা বন্ধুত্বের ব্যাপরেও সতর্ক থাকা জরুরি। এখন ফেসবুকের যুগে অনেকে ভুল ফাঁদে পা দিচ্ছে। প্রতারিত হচ্ছে। ফলে এমন সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও নির্ভরতা ছাড়া কখনো প্রেম বা বন্ধুত্ব গড়ে উঠে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আপনার সঙ্গে সুন্দর একটি সন্ধ্যা কাটল। ইটিভি অনলাইনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।                 মিতি সানজানা : হ্যাঁ। আনাকেও ধন্যবাদ। একুশে টিভি অনলাইনের সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য শুভকামনা। ব্যতিক্রমী সাংবাদিকতায় আপনাদের যাত্রা অব্যাহত থাকুক।   /ডিডি/টিকে

সবচেয়ে বেশি সাইবার ঝুঁকিতে তরুণরা : জোহা

সময়ের পরিক্রমায় আমাদের জীবনযাত্রা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি ভার্চুয়াল হয়ে উঠেছে। সাইবার জগতের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক সম্পর্ক তৈরি হয়ছে। প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছেন। অপরদিকে কিছু মানুষের অশুভ প্রয়াসে অনেকেই নানামুখী সমস্যায়ও পড়ছেন। ডিজিটাল এ যুগে সারাবিশ্বে আনুপাতিক হারে সাইবার হামলার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতের বহুমুখী সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন ‘পোলারিস ফরেনসিক লিমিটেড’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ সম্পাদক সোলায়মান শাওন। ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই জানতে চাই- সাইবার ক্রাইম কী? জোহা : সাইবার ক্রাইমের আগে বুঝতে হবে ‘সাইবার স্পেস’। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিশাল এক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত। এ জগটতা ঠিক ‘শুন্য’র মতো। এখানে আমরা কেউ আলাদা নই। এই সাইবার স্পেসে কম্পিউটার বা মোবাইল- যে ডিভাইস দিয়েই প্রবেশ করি না কেন, তা নিজ নিজ মানবিক সত্তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে। এখন কেউ যদি আমার এই মানবিক সত্তালোকে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে তখন তাকেই সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে। খুব সহজ করে বলি, আপনার সম্পত্তি যেমন অন্য কারো ভোগদখল করার অধিকার নেই, তেমনি ভার্চুয়াল জগতে আপনার অধিকারের ওপর যে কোনো আঘাতই সাইবার অপরাধ। ইটিভি অনলাইন : সাইবার স্পেসে কী কী ধরনের অপরাধ হয়? জোহা : সাইবার স্পেস বা সাইবার জগতে অনেক ধরনের অপরাধ হয়। এর মধ্যে হ্যাকিং শব্দটার সঙ্গে আমরা সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এছাড়া তথ্য চুরি, অনুমতি ছাড়া ছবি কিংবা তথ্য ব্যবহার করে হেনস্তা করার চেষ্টা, ইমেইল বম্বিং অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় ইমেইল পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়াও এক ধরনের অপরাধ। আরেক ধরনের অপরাধ আছে- সাইবার বুলিং। ব্ল্যাকমেইল তো নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া পর্নোগ্রাফি সাইবার জগতের আরেকটি বড় ধরনের অপরাধ। ইটিভি অনলাইন : এ ধরনের অপরাধ সচরাচর কেন হচ্ছে? অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে কী? জোহা : অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে সবাইকে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সাইবার অপরাধ আদালতে প্রমাণ করা খুবই কষ্টসাধ্য। এরপরও কিছু সমস্যা আছে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আইনের দোহাই দিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো আইন-শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিতে চায় না। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ছাড়া অন্য সংস্থাগুলো এ ধরনের কাজে খুব একটা দক্ষ নয়। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের পুলিশ। তাদের কাছে দরকারি হার্ডওয়্যার সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রও থাকে না। এছাড়া অনেকেই মানসম্মানের ভয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে সামনে আসে না। এ কারণে অনেক অপরাধের কথা আড়ালেই থেকে যায়। ইটিভি অনলাইন : সাইবার ক্রাইম ইস্যুতে বাংলাদেশ কতটুকু ঝুঁকিতে আছে? জোহা : সাইবার ক্রাইম মূলত ৩ ধরনের প্ল্যাটফর্মে হয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় অর্থাৎ রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আঘাত, ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংশ্লিষ্ট অপরাধ। এরমধ্যে ব্যক্তিগত বিষয়ের ওপরই অধিক আঘাত হয়। আর বাংলাদেশেও এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি বেশি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ‘ব্যক্তিগত’ পর্যায়ের সাইবার অপরাধের পরিমাণ শতকরা ৭০ ভাগ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ৬০ ভাগ। তবে আশার কথা, ২০১০ সালেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর পরিমাণ ছিল ৯০ ভাগ। অর্থাৎ সবার সহযোগিতা এবং সচেতনতায় অপরাধের সংখ্যা কমে এসেছে। এই কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার ঢাকা মহানগর পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম ইউনিট’-এর। ইটিভি অনলাইন : সাইবার ক্রাইমের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে? এর জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে সেগুলোকে কীভাবে দেখছেন? জোহা : বাংলাদেশে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সাইবার ক্রাইম হতে দেখা গেছে। সরকারি সংস্থার বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়া ছাড়া আরও বড় বড় কিছু বিষয়ের কথা আমরা জানি। এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সকলেই নড়েচড়ে বসে। তবে এখনো সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অপ্রতুল। আরও বড় ধরনের কোনো আঘাত আসার আগেই পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সাইবার জগতে শতভাগ ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপদ ব্যবস্থা’ বলে কিছু নেই। সবধরনের পূর্ব প্রস্তুতির পরেও আঘাত হানা সম্ভব। আমাদের যে বিষয়ে প্রস্তুত হতে হবে, তা হল- এ ধরনের কোনো হামলার শিকার পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে যেন আমাদের সিদ্ধানহীনতা এবং কালক্ষেপণে ভুগতে না হয়। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশে ই-কমার্স এর বাজার খুব দ্রুত গড়ে উঠছে। আমাদের দেশে অনলাইনে টাকা লেনদেন কতটুকু নিরাপদ? জোহা : শুধু ই-কমার্স সেক্টরেই নয়, অনলাইনে যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে বাংলাদেশ খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বিশেষত, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে আন্তঃ ব্যাংকিং খুবই ঝুঁকিতে আছে। যে ধরনের ‘ফায়ারওয়াল’ বা নিরাপত্তা বেষ্টনী এখন আছে, তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং খাতে আমরা প্রচুর ঝুঁকিতে আছি। আমরা কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনেক লেনদেন করি। পুরো ব্যবস্থাটাই কিন্তু ঝুঁকির মুখে আছে। বরং আমি বলব, সব থেকে বিপজ্জনক এবং ভয়ংকর সেক্টর এটাই। ইটিভি অনলাইন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি ব্যবহার করা হয়। সেটা? জোহা : ওটিপি হচ্ছে আপনি যখন কোনো লেনদেনের জন্য অনুরোধ করেন, তখন আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে একটি অস্থায়ী পাসওয়ার্ড আসে। ওই নির্দিষ্ট লেনদেনের জন্যই পাসওয়ার্ডটি প্রযোজ্য। খুব অল্প সময়ের জন্য পাসওয়ার্ডটি সচল থাকে। নিঃসন্দেহে এটি দ্বিস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভালো একটি সিস্টেম। তবে আমাদের কাছে অনেক উদাহরণ আছে, এই ব্যবস্থাটাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে হ্যাকাররা। এর কারণ হচ্ছে, যে সার্ভার থেকে এই ওটিপি তৈরি করা হয় তা তৃতীয় পক্ষের। এ কারণে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও শংকা থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই হ্যাকাররা ওই সার্ভারটিকেও হ্যাক করে থাকে। একটা ব্যাপার খেয়াল করে থাকবেন, কোনো ব্যাংক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তার দায়ভার নেয় না। অর্থাৎ অনলাইন লেনদেনে আপনার টাকা খোয়া গেলে ব্যাংক দায়ভার নিবে না। এর কারণটাও নিশ্চয়ই অনুমান করা যায় সহজেই। ইটিভি অনলাইন : সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আমাদের করণীয় কী? জোহা : আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, ওষুধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার চেয়ে অসুখে না পরাটাই ভালো। সাইবার জগতটা খুবই বড়, আবার ছোটও। এখানে যে কোনো কিছু খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নিতে নিতে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায়। তাই আমার পরামর্শ থাকবে সাইবার জগতে আমরা যেন সচেতনতার সঙ্গে বিচরণ করি। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকা উচিত। প্রতিদিন আপনার অ্যাকাউন্টে কী কী কাজ হচ্ছে অর্থাৎ ‘এক্টিভিটি লগ’- এসবের দিকে নজর দিতে হবে। সন্দেহজনক কিছু পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ফেসবুকের ক্ষেত্রে অনেকেই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি না। এটা উচিত নয়। বাজারে ক্যাসপারস্কিসহ ভালো ভালো এন্টিভাইরাস পাওয়া যায়। মোবাইলে এবং কম্পিউটারের জন্য এগুলো ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে আমরা এখন চারপাশে ‘ফ্রী ওয়াইফাই’ খুঁজি। ফ্রী ওয়াইফাইয়ের সুযোগ নিয়ে আমরা অনেক সংবেদনশীল কর্মকাণ্ড অনলাইনে করে থাকি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, এসব পাবলিক ওয়াইফাই আমাদের গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকির। আরেকটা ব্যাপার এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমি আগেও বলেছি, সাইবার হামলার শিকার হলে অনেকেই তা প্রকাশ করেন না। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়; প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও অনেকেই হামলার কথা প্রকাশ বা স্বীকার করে না। কিন্তু এ কথা স্বীকার করা উচিত। সাইবার আক্রমনের কথা স্বীকার করলে আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের যে দুর্বলতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সেই দুর্বলতার বিষয়ে আগেভাগেই সচেতন হতে পারে। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশে সাইবার হামলার শিকার বেশি হচ্ছেন কারা? নারী নাকি পুরুষ? জোহা : আমরা নারী-পুরুষ আলাদা করে কোনো হিসাব করি না। আমাদের হিসাব হচ্ছে বয়সে। সেদিক থেকে বললে, বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে সাইবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। বাকি ১০ ভাগের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ এর মধ্যে। সেদিক থেকে তরুণ সমাজ অপেক্ষাকৃত বেশি সাইবার ঝুঁকিতে আছে। ইটিভি অনলাইন : আক্রান্ত ব্যক্তির করণীয় কী? জোহা : সবার আগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ থানায় বিষয়টি অবহিত করতে হবে। ঢাকার মধ্যে হলে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্য নিতে পারেন। এর জন্য তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া পুলিশের মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমেও সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়েও অনেক সেবা পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ক্রাইম রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের (ক্রাফ) সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। ইটিভি অনলাইন : বিশেষ করে ফেসবুকের বিষয়ে আলোচনা করা যাক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ফেসবুক নির্ভর হয়ে পড়েছে। এখানে নিয়মিত সাইবার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কথা শুনি। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন? জোহা : এটি আসলেই সত্যি কথা। আমরা তো এখন খাবার খাই পরে, আগে খাবারের ছবি দেই ফেসবুকে। খাবার কতটা সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর তার থেকে বেশি খেয়াল করি খাবারের ছবিটিতে কত সংখ্যক লাইক বা কমেন্ট এলো। আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিপ্লবের কারণেই এমনটা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই অসচেতনভাবে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পরছি। আমাদের প্রতিদিনের কর্মকান্ডের ছবি ও তথ্য ফেসবুকে দিচ্ছি। এর ফলে একজন হ্যাকার বা অপরাধীর জন্য অপরাধ সংঘটন খুবই সহজ হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেদের অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকি। খুব ছোটখাট একটা অপরাধের কথা বলি। আপনি যে ফেসবুকে ছবি দেন, তা দিয়ে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কোনো অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটিত হলে সবাই আগে আপনাকেই দোষী ভাববেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে করতে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। এছাড়া ফেসবুক আইডি হ্যাক বা অন্যের দখলে চলে যাওয়াটা তো এখন সচরাচর হচ্ছে। আমাদের তরুণদের মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগত সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও ফেসবুকে আদান-প্রদান করে। তাই যখন তাদের আইডি হ্যাক হয়, তখন সমস্যা আরও গুরুতর আকার ধারণ করে। আবার হ্যাক না হলেও, আজকে যাকে বন্ধু মনে করে সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও আদান-প্রদান করছি, সেই বন্ধুই পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে।  ইটিভি অনলাইন : এজন্য আমরা কী করতে পারি? জোহা : সাইবার জগতের ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বলে কিছু নেই। ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের নিজের আইডিও কিন্তু হ্যাক হয়েছিল। তবুও ফেসবুকের নিরাপত্তায় কিছু কাজ করা যেতে পারে। ফেসবুকে ‘ট্রাস্টেড কনট্যাক্ট’ নামের একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। এখানে ৫ জন ব্যক্তি, যাদের আপনি বিশ্বাস করেন তাদের নাম উল্লেখ করতে হয়। এমনটা করা থাকলে একজন অপরাধীর জন্য আইডি হ্যাক করা কষ্টসাধ্য হবে। এছাড়া শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ডিভাইস দিয়েই আপনি ফেসবুকে লগইন করতে পারবেন- এমনও কিছু ফিচার আছে ফেসবুকে। এগুলোর সুবিধা নেয়া যেতে পারে। ইটিভি অনলাইন : শুনেছি, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েও নাকি আইডি হ্যাক করা যায়? জোহা : জ্বী। আগে জাতীয় পরিচয়পত্র আইডির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হত। এখন অপরাধীদের অনেকেই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে আইডি হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ কম্পিউটারে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো পরিচয়পত্র  ডিজাইন করে তা প্রিন্ট বা ছাপানো হয়। তারপর সেটিকে স্ক্যান করে ফেসবুককে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তো সরেজমিনে এসে তা যাচাই করতে পারে না। তারা একে সত্য পরিচয়পত্র ভেবে নেয়। এক্ষেত্রে আইডির দখল হ্যাকারের কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ধরনের কাজে ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন অন্তত একবার নিজেস্ব আইডি লগইন করে দেখা উচিত যে, সেখানে সন্দেহজনক কোনো কর্মকান্ড হচ্ছে কী না। ইটিভি অনলাইন : স্মার্টফোনের ব্যাপারে একটু আলোচনা করি। এখন আমাদের প্রায় সবার হাতে স্মার্টফোন আছে। সাইবার অপরাধে স্মার্টফোন কতটা ঝুঁকিতে আছে? জোহা : স্মার্টফোনের মাধ্যমে হ্যাকিং হচ্ছে আরও বেশি। এমনকি এমন অপরাধও হচ্ছে যেখানে জানেনই না, আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা আরেকজন ব্যবহার করছে। ফোনের মাইক্রোফোনের মাধ্যমে আপনি কাদের সঙ্গে কী কথা বলছেন, তাও দূরে বসে কেউ একজন শুনছেন। আসলে আমরা স্মার্টফোনে কিছু থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করি। এগুলোতে অনেক সময় আপনার ফোনের গ্যালারি, মেসজ, মাইক্রোফোন ইত্যাদিতে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে সেই অ্যাপসটি ব্যবহার করতে হয়। আর সমস্যার শুরু হয় সেখান থেকেই। এছাড়া আমরা স্মার্টফোনে এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি না। এটা একেবারেই উচিত নয়। আমরা অনেক সময় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও আমাদের ফোনে ধারণ করি। আবার সেটিকে ফোনে সংরক্ষণও করে রাখি। আমি বলব, সংরক্ষণ তো দূরের কথা; এসব সংবেদনশীল বিষয় মুঠোফোনে ধারণ না করাই বুদ্ধিমান এবং সচেতন ব্যক্তির কাজ। ইটিভি অনলাইন : কখন বুঝবো, আমার মুঠোফোনের দখল অন্য কারও কাছে? এর প্রতিরোধে কী করণীয়? জোহা : আসলে এ বিষয়টি বুঝতে পারাটা খুবই কষ্টকর। তারপরও সাধারণ একটা বিষয় খেয়াল করলে আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে। আপনি যদি দেখেন, আপনার মুঠোফোনটি কোনো কারণ ছাড়াই গরম হয়ে যাচ্ছে এবং চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে– তাহলে তা উদ্বেগের বিষয়। এ দুটো লক্ষণে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না আপনার মুঠোফোন অন্য কারও দখলে আছে। তাই যাদের মুঠোফোন গরম হয়, তাদের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এটি একটি আলামত। আর করণীয় হচ্ছে, কেউ যদি মনে করেন তার মুঠোফোনে সন্দেহজনক কর্মকান্ড হচ্ছে তাহলে সেটটি ফ্ল্যাশ করে নেয়া ভালো। এর বাইরে মুঠোফোনে হালনাগাদ করা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার রাখতে হবে। অবিশ্বস্ত সোর্স থেকে অ্যাপস ইন্সটল করা যাবে না। আর অবশ্যই মুঠোফোনে প্যাটার্ন লক, কোড লক- এগুলো চালু রাখতে হবে। এখন তো অনেক সেটে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক’ রাখার সুযোগ আছে। এগুলোকে ঝামেলা মনে না করে ব্যবহার করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : তাহলে কী পুরনো মডেলের ফিচার ফোনগুলোই নিরাপদ? জোহা : স্মার্টোফোনের থেকে সেগুলো আসলেই অনেক নিরাপদ। তবে সেসব মুঠোফোনে আইন-শৃংখলা বাহিনী সহজেই আড়ি পাততে পারে। তো ঘুরেফিরে সেই গোপনীয়তার লংঘনই হয়ে গেল। আর আমাদেরকে তো প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, তাই না? আমরা স্মার্টফোনই নিরাপদে ব্যবহার করতে পারব। যদি বুঝে ও সচেতনভাবে ব্যবহার করি, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। ইটিভি অনলাইন : হালের আলোচনা ‘ব্লু হোয়েল’। কেউ বলছেন বাংলাদেশে ‘ব্লু হোয়েল’ আছে, আবার কেউ বলছে এসব গুজব। সাইবার বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনার কাছে কী তথ্য আছে? জোহা : যারা বলছে বাংলাদেশে ‘ব্লু হোয়েল’ প্রবেশ করেনি, তার কী বুঝে বলছে তা জানি না। তবে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ‘ব্লু হোয়েল’ গেমস খেলে এমন কিছু ব্যক্তির অভিজ্ঞতা আমার জানার সুযোগ হয়েছে। দেখেন, আমরা বাইরে থেকে ইন্টারনেটকে যতটুকু দেখি, তার ‘অন্ধকার’ জগতটা এর থেকেও বড়। তাই বলব, সবাই যেন এ ব্যাপারে সতর্ক থাকেন। ইটিভি অনলাইন : সাইবার ক্রাইম এবং জঙ্গিবাদ। এ দুটোর মধ্যে যোগসাজশ কেমন? জোহা : ইদানিং সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিগোষ্ঠীরাও সাইবার অপরাধের সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করছে। সিরিয়ার আইএস অথবা আল-কায়েদার মতো ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে সাইবার জগতকে বেছে নিচ্ছে। আইএস-এর পৃথিবীব্যাপী সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম সাইবার জগতে হয়ে থাকে। তাদেরকে সংগঠিত করা ও তথ্য আদান-প্রদানও এর মাধ্যমে হয়। ইমেইল বম্বিং-এর মতো সাইবার অপরাধ সংঘটনেও তারা পটু। এদের নেটওয়ার্ক এতটা শক্তিশালী যে ভাঙ্গা খুবই কঠিন। ইটিভি অনলাইন : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স এবং হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার্স-এদের মধ্যে পার্থক্য কী? জোহা : হ্যাকার তো হ্যাকারই। এদের মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই। তারপরেও উদ্দেশ্যর ওপর ভিত্তি করে এদের দুই বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার বলতে সেসব হ্যাকারদের বোঝায়, যারা অবৈধ এবং অনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে হ্যাকিং করে। অন্যদিকে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার্সরা শুধুমাত্র কৌতুহলবশত হ্যাকিং করে থাকে। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝালে সহজ হবে। কোনো একটি ব্যাংকের সিস্টেমে হ্যাকিং করে গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিল একজন হ্যাকার। এক্ষেত্রে তাদের ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার বলা হবে। অন্যদিকে একটি পর্নোসাইটে ভালো এক ব্যক্তির ছবি অনুমতি ছাড়াই প্রকাশিত হল। এ ছবিটিকে সাইট থেকে মুছে ফেলার জন্য তাদের সিস্টেমে হ্যাকিং করল কোনো হ্যাকার। এ ক্ষেত্রে ওই হ্যাকারকে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার বলা হবে। আরেক ধরনের হ্যাকিং পদ্ধতি রয়েছে। এথিক্যাল হ্যাকিং। কোনো একটি ভালো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এটা করে থাকে। অনেক দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজের জন্য সরকারিভাবেই এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের কাজ করানো হয়। ইটিভি অনলাইন : আমাদের দেশে অনেক মেধাবী কম্পিউটার প্রকৌশলী আছেন। এদের অনেকেই সুযোগের অভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন অথবা হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে অনেক দেশেই এমন প্রতিভাবানদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়। আমাদের দেশে এমন কোনো সুযোগ আছে কী না? জোহা : আসলে হ্যাকিং যে উদ্দেশ্যেই করা হোক না কেন, তা অবৈধ। তবে এটাও ঠিক, হ্যাকিং প্রতিরোধ সম্ভব হ্যাকার দিয়েই। অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো। এটা ঠিক যে, অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে হ্যাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। রাষ্ট্রীয় সাইবার কর্মকান্ডে হ্যাকারদের সম্পৃক্ত করা হয়। গুগল, ফেসবুকের মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো হ্যাকারদের নিয়ে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন কর্মকান্ড করে থাকে। তবে তারা এথিক্যাল হ্যাকার। আমাদের দেশে এ প্রচলনটা এখনও সেভাবে চালু হয়নি। তবে কিছু সংস্থা এখন তাদের নিয়ে কাজ করছে। অনেকেই আবার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আসতে চান না। তবে তাদের জন্যও বন্ধুসুলভ পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে।  ইটিভি অনলাইন : সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ আছে কী? জোহা : ইন্টারনেট অবশ্যই আমাদের দরকার। তবে সাধারণভাবে আমরা ইন্টারনেট সম্পর্কে যতটুকু দেখি বা জানি বাস্তবে এর চিত্র আরও ভয়াবহ। ইন্টারনেটের ‘অন্ধকার’ জগতটা আমাদের ধারণার চেয়েও বড়। প্রতিটি জিনিসের যেমন ভাল আর মন্দ আছে, ইন্টারনেটেরও তেমনি আছে। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক হোন, সচেতন হোন। আর যতটুকু প্রয়োজন আমরা যেন ততটুকুই ইন্টারনেট ব্যবহার করি। ততটুকু সময়ই যেন এর পেছনে ব্যয় করি। আমাদের উচিত অবসর সময়টুকু পরিবার-পরিজনদের দেয়া। আমরা আসলে বাস্তবিক জীবনে একাকী থাকলেই ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে যাই। তাই আমাদের উচিত পরিবার-স্বজনকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া। এতে করে যেমন সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়ও কমবে। /ডিডি/ এআর  

মানসম্পন্ন খাবারের সন্ধান দিচ্ছে ফুড ব্লগার্স বিডি

বাইরে আছেন অথবা আজ আপনার জন্য একটি বিশেষ দিন। পকেটে পর্যাপ্ত টাকাও আছে। কিন্তু খাবেন কোথায়? অথবা কোনো একটি বিশেষ খাবার কোথায় সব থেকে বেশি মজাদার, তার সন্ধান চান। খাবার নিয়ে এ রকম আরও বিভিন্ন বিষয়ে জানতে এবং জানাতে ফুড ব্লগার্স বিডির সাহয্য নিতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলাদেশি গ্রুপ ফুড ব্লগার্স বিডি। খাবার নিয়েই তাদের কারবার। ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্রুপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এ গ্রুপের অ্যাডমিন মো. আরমান শাহরিয়ার সৌম এবং ডা. শেখ জাকিয়া সুলতানা। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সহ-সম্পাদক শাওন সোলায়মান।   ইটিভি অনলাইন : ফুড ব্লগার্স বিডি-এর শুরুটা কীভাবে হয়েছে? সৌম : আমরা গ্রুপটা ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট শুরু করি। অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির আবেদন করার সময় গ্রুপটি খুলেছিলাম। আমার গবেষণার বিষয় ছিল ‘সামাজিক ব্যবসা’। তখন আমি এমন একটি ব্যবসা খোঁজা শুরু করি, যার সঙ্গে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তরাও জড়িত রয়েছেন। তখনই মাথায় আসে ফুড বা খাবার ব্যবসার কথা। গবেষণার কাজেই মূলত গ্রুপটা খোলা হয়েছিল। তখন আমি একাই ছিলাম এর অ্যাডমিন। এখন আমার সহধর্মিণী সুলতানাও এর অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ইটিভি অনলাইন : শুরুতে গ্রুপের কার্যক্রম কেমন ছিল? সৌম্য : এখন যেভাবে গ্রুপে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের রকমারি খাবারের রিভিউ বা পর্যালোচনা দেয়া হয়- শুরুতে এমনটা ছিল না। শুরুতে গ্রুপে শুধুমাত্র বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের রিভিউ দেয়া হতো। একটা রেস্টুরেন্ট কেমন, তার ভেতরের সাজসজ্জা কেমন শুধুমাত্র এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হতো। কোনো একটা রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র ডিজাইন ভাল হলে আমরা সেগুলো নিয়েও লিখতাম। কখনো কখনো সেই ডিজাইনারকে নিয়েও লেখালেখি করা হতো। এক কথায় বললে, খাবার নিয়ে পর্যালোচনা করার বিষয় তখন আমাদের পরিকল্পনায় ছিল না। তখন ছিল শুধু রেস্টুরেন্ট রিভিউ-এর বিষয়। ইটিভি অনলাইন : বর্তমান সময়ে গ্রুপে সদস্যরা কী ধরনের পোস্ট শেয়ার করেন? সৌম : এখানে ‘জানতে চাওয়া’ এবং ‘জানানো’ দুই ধরনের কাজই হয়। মনে করেন, কেউ একজন বান্দরবান বেড়াতে গেছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্টে ইকোনমিকভাবে ভালো খাবার খেতে পারবেন তা বুঝতে পারছেন না। তবে তিনি যদি আমাদের গ্রুপে একটি পোস্ট দেন তাহলে খুব অল্প সময়েই একাধিক পরামর্শ পেয়ে যাবেন। আবার ধরেন, এক ব্যক্তি কোনো একটি রেস্টুরেন্টে কিছু খাবার খেলেন। ওই খাবার সম্পর্কে ভালো কিংবা মন্দ, তার রুচি এবং পছন্দ অনুযায়ী পোস্ট দিতে পারেন। গ্রুপের সদস্যরা কোনো একটি রেস্টুরেন্টের খাবারের মান, পরিবেশ, কর্মীদের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে ১ থেকে ১০-এর মধ্যে নম্বর দেন। এতে করে কোনো ভাল খাবারের ব্যাপারে অন্য সদস্যদের মধ্যে আগ্রহ জাগতে পারে। আবার খাবার খুব খারাপ হলে আগে থেকেই কেউ একজন সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কষ্টের টাকা দিয়ে এমন খাবার নিশ্চয়ই কেউ খেতে চাইবে না সুলতানা : এখানে আরও একটি বিষয় আছে। ধরেন কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নেয়া হল। অশোভন আচরণ কিংবা অন্য কোনো সমস্যার অভিজ্ঞতা হলেও আমাদের গ্রুপে ওই পোস্ট শেয়ার করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখন রেস্টুরেন্ট মালিকেরা সমাধান দিয়ে থাকেন। আমাদের গ্রুপে যে শুধু ‘খাদক’রা থাকেন তাই নয়; বরং অনেক রেস্টুরেন্টের মালিকেরাও আছেন। তারা সব সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। আর সমাধান না হলেও অন্য সদস্যরা সচেতন হোন এসব পোস্টের কারণে। ইটিভি অনলাইন : যদি সদস্যদের কেউ কোনো রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাহলে গ্রুপ থেকে কী কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়? সৌম : সত্যিকার পক্ষে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবে ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করি। ‘ভ্যাট গোয়েন্দা’র সঙ্গে আমরা কাজ করি। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসলে আমরা তখন দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তারা তখন তাদের প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করেন। ভ্যাট গোয়েন্দাদের দেখাদেখি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও এখন কাজ করছে। তাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়া হলে তারা তা যাচাই-বাছাই করে এর সত্যতা পেলে ওই প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করে। সব থেকে মজার বিষয়, যিনি অভিযোগ করবেন তিনি জরিমানাকৃত অর্থের ২৫ ভাগ পাবেন। এমন অর্থ প্রাপ্তির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ জানানোর প্রবণতাও বেড়ে গেছে। যার ফলে রেস্টুরেন্ট মালিকরা এখন সচেতন হয়ে উঠেছেন। ইটিভি অনলাইন : ঢাকা শহরের খাবার ব্যবসার উন্নতিতে পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছে আপনাদের গ্রুপটি। এ ব্যাপারে কিছু বলুন। সৌম : বিষয়টা নিয়ে আমরাও বেশ পুলকিত। আমাদের গ্রুপের কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহরে রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে গ্রুপে বিভিন্ন খাবারের পর্যালোচনা সমৃদ্ধ পোস্ট দেখে একটা বড় অংশের মধ্যে খাবার নিয়ে আগ্রহ জন্মায়। আগে মানুষ ঘরের বাইরে খুব একটা খেতে যেত না। গেলেও সর্বোচ্চ কোনো একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যেত। কিন্তু এখন মানুষ ফাস্টফুড থেকে শুরু করে কার্টেও (এক ধরনের ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান) খেতে যায়। বিপুল সংখ্যক এই গ্রাহকের চাহিদা পূরণেই মূলত ঢাকা শহরে ফুড ইন্ডাস্ট্রি একটা নতুন মাত্রা পায়। তরুণ এবং নবীন অনেক উদ্যোক্তাও অল্প পুঁজি নিয়ে ফুড ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ ইন্ডাস্ট্রি। শুধু তাই নয়, আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন সদস্যদের রিভিউয়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও এর আশেপাশের বিভিন্ন খাবার যেমন হাকিম চত্বরের খিচুড়ি, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার খাবারগুলোও খুব বিখ্যাত হয়। আগে শুধু এসব জায়গা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জানতেন। এখন দূর-দূরান্ত থেকে খুঁজে খুঁজে এসব জায়গায় খাবার খেতে আসেন গ্রাহকেরা। সুলতানা : একটা বিষয় যোগ করতে চাই। ফুড ব্লগার্স বিডি’র কার্যক্রমের কারনে খিঁলগাওয়ের তালতলা অথবা রাইফেল স্কয়ার এখন রাজধানীবাসীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফুড জোন। এছাড়া শ্যামলী স্কয়ারকে আগে মানুষ একটি সিনেমা হল নামেই জানত। এখন সেটাও একটি বড় ফুড জোন হয়ে উঠেছে। আর পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের কথা তো আমরা সবাই জানি। ফুড ব্লগার্স বিডি দেশের ফুড ট্রেডে যে নতুন মাত্রা এনেছে, তা হল কম টাকায় ভালো, মজাদার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার।   ইটিভি অনলাইন : রেস্টুরেন্টগুলো আগে সরকারকে সেভাবে ভ্যাট দিত না। এখন ভ্যাট দেওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর পিছনেও আপনাদের ভূমিকার কথা জানা যায়। সৌম : ফুড ব্লগার্স বিডি গ্রুপের সব থেকে বড় সাফল্য মনে হয় এই বিষয়টি। বিভিন্ন মানুষের রিভিউ দেখতে দেখতে আমরা খেয়াল করলাম, গ্রাহকদের কাছ থেকে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ভ্যাট বাবদ কিছু টাকা নিয়ে থাকে। কিন্তু এর জন্য যথাযথ চালান অর্থাৎ মূসক-১১/ক নামক যে সরকারি চালান গ্রাহককে দেওয়ার কথা তা তারা দেয় না। এর কারণ হচ্ছে গ্রাহককে সে চালানটি না দিতে পারলেই ভ্যাটের পুরো টাকা রেস্টুরেন্ট মালিকের পকেটে যাবে। এরপর থেকেই আমরা গ্রুপ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করা শুরু করলাম। সেই সঙ্গে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি করতে কাজ করলাম। এর জন্য আমাদেরকে সব রকমের সাহায্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মহাপরিচালক বেলাল হোসেন চৌধুরী স্যার। তাদের সঙ্গে মিলে আমরা মোবাইলভিত্তিক একটি অ্যাপস চালু করলাম ‘ভ্যাট চেকার’। এ অ্যাপসের মাধ্যমে খুব সহজেই জেনে নেয়া যাবে, আপনি যে রেস্টুরেন্টে ভ্যাট দিচ্ছেন, তা সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে কী না। প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্টের একটি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নাম্বার আছে। সে নাম্বারটি ওই অ্যাপসে লিখলে বলে দিবে যে, রেস্টুরেন্টটি আপনার ভ্যাটের টাকা সরকারকে পরিশোধ করে কী না। অ্যাপসটি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যেই নামিয়ে নেয়া যাবে। আমাদের এ উদ্যোগের সঙ্গে ‘ভ্যাট ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘ভ্যাট গোয়েন্দা’ও যুক্ত হয়। এরপর থেকে রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে সরকারকে ভ্যাট দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বিগত ২ বছরে ভ্যাট বাবদ একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা পরে। ইটিভি অনলাইন : অনেকেরই অভিযোগ খাবার সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে শুধু বড় বড় রেস্টুরেন্টের ইতিবাচক রিভিউ দেয়া হয়। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে গ্রুপগুলো অনেকটাই উদাসীন। ফুড ব্লগার্স বিডি-এর এ বিষয়ে অবস্থান কী? সৌম : এটা সত্যি যে অনেক গ্রুপের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ আছে। তবে আমরা খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের গ্রুপে এমন হয় না। ভালো এবং সত্যকেই শুধুমাত্র আমরা তুলে ধরি। শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক কথা তুলে ধরি আর ছোটদের কথা তুলে ধরি না- এমনটা আমাদের গ্রুপে হয় না। সত্যি কথা বলতে, আমাদের কাছে কেউ ছোট আর বড় নাই। ইটিভি অনলাইন : আচ্ছা ‘পেইড রিভিউ’ কী? সৌম : পেইড রিভিউ নিয়ে আমাদেরকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। পেইড রিভিউ হচ্ছে সেসব রিভিউ যা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের পক্ষে কোনো আইডি বা ফেক আইডি থেকে ইতিবাচকভাবে দেয়া হয়। রেস্টুরেন্টিকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করতে এমন রিভিউ দেয়া হয়। অনেক সময় তাদের রেস্টুরেন্টে যাওয়া কোনো গ্রাহককে বিভিন্ন অফারের লোভ দিয়েও এসব রিভিউ দেয়া হয়। তবে আমরা যখনই এমন রিভিউ গ্রুপে দেখি তখন তা মুছে দেই। মিথ্যে বা সাজানো কোনো রিভিউ আমরা গ্রুপে রাখি না। ইটিভি অনলাইন : ৯ লাখের বেশি সদস্য আপনাদের গ্রুপে। বড় হওয়ার পাশাপাশি আপনাদের ওপর দায়িত্বও অনেক। সাধারণ সদস্যদের অনেক আস্থা আপনাদের ওপর। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন আপনারা? সৌম্য : সত্যি কথা বলতে, ৯ লক্ষাধিক সদস্য নিয়ে আমরা ফেসবুকের বাংলাদেশী যে কোনো বিশেষায়িত গ্রুপের মধ্যে সব থেকে বড়। আমাদের ওপর যে দায়িত্ব তা পালনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি। কোনো ধরনের আর্থিক প্রলোভন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কিছু করতে চাই না। ২০১৪ সালে শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রকম বিতর্ক ছাড়াই আমরা এগিয়ে চলছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।   ইটিভি অনলাইন : অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আছে ফুড গ্রুপগুলোর মধ্যে। এ অভিযোগ কতটুকু সত্য? সৌম : কিছু গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে এ কথা সত্য। আমাদের গ্রুপের বিরুদ্ধেও কয়েকটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আর আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি কেউ পারবেও না। আমাদের গ্রুপের মাধ্যমে আমরা সীমিত পরিসরে কিছু অর্থ আদায় করি। তাও নিয়মের মধ্যে থেকে। সুলতানা : আমাদের গ্রুপের কভার ফটোতে বিজ্ঞাপনের জন্য আমরা রেস্টুরেন্ট থেকে একটা টাকা নেই। আর গ্রুপে কোনো রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারিরা কিছু পোস্ট দিতে পারেন। এর জন্য তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দুই পক্ষই সম্মত হয়ে এ টাকা গ্রহণ করা হয়। মূলত এটা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়। অনৈতিক কিছু নয়। ইটিভি অনলাইন : গ্রুপের কিছু সামাজিক কার্যক্রমের কথা বলুন। সৌম : আমাদের গ্রুপ থেকে নিয়মিত সামাজিক কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরমধ্যে একটি হচ্ছে পবিত্র রমজান মাসে পথশিশুদের অন্তত ২বার ইফতার করানো। এর বাইরে রয়েছে শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ, ছিন্নমূল ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক বিতরণ, ঈদের দিন ওদেরকে নিয়ে ‘সেমাই উতসব’ অন্যতম। কিছুদিন আগেই আমার সহধর্মিনী এবং গ্রুপের আরেক অ্যাডমিন ডা. শেখ জাকিয়া সুলতানা রোহিঙ্গাদের জন্য শরণার্থী শিবিরে একটি বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন করে। সুলতানা : আমাদের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ শুরু হবে শিগগিরই। রাজধানীর খিলগাঁও-এর তালতলায় একটি রেস্টুরেন্টে আছে। এখানে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের একবেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ খাবার তাদেরকে দেয়া হবে শিক্ষার বিনিময়ে। আমরা এর নাম দিয়েছি ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’। এজন্য ওই রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকেই খাবার এবং স্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ইটিভি অনলাইন : এতদিনের কার্যক্রমে আপনারা কী কী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন? সৌম : আমরা সবসময়ই চেষ্টা করেছি দেশবাসীকে খাবারের সঠিক তথ্য প্রদান করতে। কোনো ধরনের লোভ-লালসা কিংবা অনৈতিক চর্চা এখানে হয়নি। তবুও কেন যেন আমাদেরকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাসখানেক আগে আমাদের গ্রুপ হ্যাক করে একদল সাইবার অপরাধী। আমাকে এবং আমার সহধর্মিণীকেও ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে ডিএমপি-এর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ভাই এবং অন্যান্যদের সহযোগিতায় গ্রুপটি ফিরে পাই। তবে কোনো কিছুতেই আমরা দমে যাওয়ার পাত্র নই। নিজেদের সবটুকু দিয়ে সবার সার্থে গ্রুপটিকে টিকিয়ে রাখব। ইটিভি অনলাইন : আপনাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী? সৌম : আমরা শুধু একটা গ্রুপ হয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। বরং বাংলাদেশে ফুড বিজনেসের এজেন্সী হতে চাই। আজ সুদূর আমেরিকার কেএফসি যদি বাংলাদেশে আসতে পারে, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দেশীয় কোনো খাবারের ব্র্যান্ডও বিদেশে যেতে পারে। এরই মধ্যে ‘টেক আউট’ নামের আমাদের স্বদেশি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াতে তাদের ফ্রাঞ্চাইজি চালু করেছে। আমরা চেষ্টা করছি, ঢাকায় ‘সাউথ এশিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ নামের একটি ইভেন্ট করার। আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মজাদার এবং ঐতিহ্যবাহী সব খাবার। নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলো ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। আমাদের বিশ্বাস, দেশের খাবার ইন্ডাস্ট্রিকে বাইরে প্রসারিত করতে পারলে এ ব্যবসার আরো উন্নতি হবে। ইটিভি অনলাইন : নিজেদেরকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? নিজেদেরকে সফল মনে করেন? সৌম : আমরা সফল কী ব্যর্থ তা গ্রুপের সদস্যরাই ভাল বলতে পারবে। আমরা সফল হলে আসলে গ্রুপের সকল সদস্যই সফল। তাদেরকে বাদ দিয়ে তো আর আমরা কিছু নই। তবুও এটুকু বলব যে, আমাদের সামনে পিছনে, আমাদের পরিচয় জেনে বা না জেনে, যখন কেউ আমাদের গ্রুপের প্রশংসা করে তখন সত্যিই অনেক ভাল লাগে। যখন কেউ বলে যে, ‘কোথায় খাব জানতে হলে ফুড ব্লগার্স বিডি’তে পোস্ট কর, তখন কিছুটা সময়ের জন্য হলেও নিজেদের সফল মনে হয়।   //ডিডি//এসএইচএস//

‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে পিকেএসএফ’

প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দারিদ্র বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ অর্থায়নকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। ১৯৯০ সালে ২৩টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে গঠিত এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এখন দেশব্যাপী বিস্তৃত। দেশের মানুষকে দারিদ্র্যের জাতাকল থেকে বের করে আনতে বহুমাত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবদান দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও এর সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শণে সম্প্রতি একটি মেলার আয়োজন করা হয়। ‘ছয় দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা-২০১৭’ নামে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সেই মেলা ও পিকেএসএফ’র কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিমের মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন। টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাতকারটি অনুলিখন করেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন: পিকেএসএফ আয়োজিত ‘ছয়দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা-২০১৭’ সম্প্রতি শেষ হলো। মেলায় কেমন সাড়া পেলেন, মেলার উদ্দেশ্যটা আসলে কী ছিল? আব্দুল করিম: ১৯৯০ সালে পিকেএসএফ যখন যাত্রা শুরু করে, তথন দুই হাজার ১২ জন সেবা গ্রহীতা ছিল। সে সময় ২৩টি সহযোগী সংস্থা ছিল। মূলত ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েই পিকেএসএফ যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে আমরা ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে উপযু্ক্ত ঋণ দিচ্ছি। একজন উদ্যোক্তাকে আমরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছি। সুতরাং এখন এটা ক্ষুদ্র ঋণেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত। আমরা এনজিওদের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করি। যাদেরকে আমরা সহযোগী সংস্থা বলি। সারা বাংলাদেশে আমাদের আট হাজার ৬০০ এর বেশি শাখা আছে। যেগুলো নিঝুম দ্বীপ থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমরা এক কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা করি। যার দেড়গুণ করলে প্রায় পাঁচ কোটি সেবা গ্রহিতাকে আমরা সেবা দিচ্ছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেবা গ্রহীতারা আমাদের টাকা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্যের প্রদর্শন ও প্রচারের জন্য আমরা এ মেলার আয়োজন করে থাকি। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের এ গরিব মানুষগুলোর উৎপাদিত পণ্য তারা যাতে ন্যয্য মূল্যে বিক্রি করতে পারে। এগুলো যাতে পরিচিতি লাভ করে। এগুলোর যাতে ব্র্যান্ডিং হয়। আমরা বিষমুক্ত সবজি, বিষমুক্ত শুটকি উৎপাদনে অর্থায়ন করি। এছাড়া কুচিয়ার চাষ, কাকড়ার চাষ এবং অন্যান্য নতুন ধরণের যেমন- কোয়েল, টার্কি, ফুল, মধু চাষেও আমরা অর্থায়ন করছি। এ ধরণের বিচিত্র সব পণ্যের প্রদর্শন ঘটাতে আমরা এ মেলার আয়োজন করে থাকি। এবারের মেলায় পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া গেছে। মেলায় এবার ১৩৩টি স্টল ছিল। ৯০টি সংস্থা ছিল। যার মধ্যে সরকারি দপ্তর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, সোশ্যাল ডিভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরও ছিল। সব মিলিয়ে পণ্য প্রদর্শন, প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং কর্মকাণ্ড প্রদর্শন ঘটাতেই এ মেলার আয়োজন। একুশে টেলিভিশন: মেলায় মানুষকে সচেতন করতে কী কোনো ধরণের সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল? আব্দুল করিম: আমরা পাঁচ দিনের সেমিনারের আয়োজন করি। সেমিনারগুলো যুগোপযোগী উপযুক্ত বিষয়ের ওপরে হয়। সেমিনারে আমরা পাঁচ জন মন্ত্রী ও চার জন সচিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর। যেমন- এসডিজি। এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সেমিনারের আয়োজন হয়। যেখানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করে। এখানে পিকেএসএফের অর্জনগুলোও তুলে ধরা হয়। একুশে টেলিভিশন: আমরা জানি মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা আসলে ওইভাবে সফল হতে পারছেন না। তো এ ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে? আব্দুল করিম: এখন শুধু ক্ষুদ্র ঋণ নয়, ঋণের পাশাপাশি আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, প্রযুক্তি দিচ্ছি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিচ্ছি। সব মিলিয়ে আমরা একটা প্যাকেজ দিচ্ছি। আর্থিক ও আর্থিক বহির্ভূত সেবা দুই দিচ্ছি। উদ্দেশ্য হলো- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করা। আমরা বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা গুচ্ছ চিহ্নিত করেছি। যেমন- ভৈরবের পাদুকা শিল্প, যশোরের গদখালির ফুল, যশোর গ্রীষ্মকালীন  টমেটো, ঝাউদিয়ার গরু মোটাতাজা করণ, কুষ্টিয়ার ব্লাক বেঙ্গল ছাগল, সাতক্ষীরা কাকড়া মোটাতাজা করণ, কুচিয়ার চাষ, মৌলভী বাজার টার্কির চাষ, সুন্দরবন এলাকার মধু চাষ। এভাবে আমরা ব্যবসা গুচ্ছ তৈরি করেছি।এখানে অর্থায়ন করছি, প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যাতে তারা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। একুশে টেলিভিশন: মেলার মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা তাদের পণ্যের প্রদর্শন করেছেন। এটি আসলে নিয়মিত করা যায় কী না? আব্দুল করিম: মার্কেটিং অনেকটা চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। আমাদের বহু উৎপাদিত পণ্য অনেক বেশি মানসম্মত ও উন্নত। যেমন- আমাদের হস্তশিল্প সতরঞ্জি ও  টুপি ওমানে রপ্তানি হচ্ছে, কাসার জিনিস রপ্তানি হচ্ছে। এসব পণ্যের মার্কেটিংয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য পিকেএসএফ শ্যামলীতে বিশাল এক ভবন করবে। সেখানে তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শন হবে। সেখানে আইটির সহযোগিতায় ভার্সুয়াল মার্কেট তৈরি করা হবে। পণ্যকে ব্র্যান্ডিং করা হবে। শুধুমাত্র তৃণমুল পর্যায়ের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য এ ভবনটি তৈরি হবে। একুশে টেলিভিশন: মেলায় উদ্যোক্তাদের পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের চাহিদা কেমন ছিল? আব্দুল করিম: বিপুল চাহিদা ছিল। ভিয়েতনামের যে দোকানটি তাদের পণ্য নিয়ে আসছিল। দুই দিন পরে দেখা যায়- তাদের সে পণ্য শেষ হয়ে গেছে। চাহিদা মেটাতে তাদের আর একজন প্রতিনিধি পরে আরও পণ্য নিয়ে আসলেন। সে হিসেবে মেলায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা ক্যাশ পাওয়া গেছে। ৫০ লাখ টাকার পণ্যের অর্ডার পাওয়া গেছে। মেলার শেষের দিনে অনেক পণ্য পাওয়া-ই যায় নাই। সে দিক থেকে মেলা সফল হয়েছে। একুশে টেলিভিশন: এ মুহুর্তে পিকেএসএফ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আসলে কী করছে? আব্দুল করিম: দারিদ্র্য একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। দারিদ্র্য দূরিকরণে বহুমাত্রিক সমাধান দরকার। সে লক্ষ্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সমন্বিত উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি উদ্ভাবন করেছেন। এটা সমৃদ্ধি কর্মসূচি।এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রশিক্ষণসহ সমন্বিত ও অন্তর্ভূক্তিমূলক কার্যক্রম আছে। আগামী ২০২১ সালে দেশ মধ্যম আয়ের কাতারে এবং আগামী ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যাবে। সে লক্ষ্যে আমরা আমাদের কর্মসূচি সাজিয়েছি। যাতে করে পিকেএসএফ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। পিকেএসএফ সম্প্রতি গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সাফল্য। ইতোমধ্যে আমরা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ নামে একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছি। আমরা এশিয়ান ডিভলপমেন্ট ব্যাংকের আওতায় সারা দেশে ওয়েব হোস্টিং, ওয়েব ডিজাইনিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এছাড়া পানির কাজ, বৈদ্যুতিক কাজ, মোবাইল মেরামতের কাজসহ বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। শর্ত হলো এখানে যারা প্রশিক্ষণ দিবে তাদের ৭০ শতাংশকে প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে কাজ দিতে হবে। আমাদের অতি দারিদ্র্যের জন্য ব্রিটিশ সহায়তায় বৃহৎ একটি প্রকল্প আসছে। সেটা পিকেএসএফ বাস্তবায়ন করবে। আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ইফাদের সহায়তায় পেইজ নামক একটি প্রকল্প আছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় আরও অনেক সহায়তা আসবে এশিয়ান ডিভলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক এবং ইসলামী ডিভলপমেন্ট ব্যাংক থেকে। আমরা ক্ষুদ্র ইনস্যুরেন্স নামে নতুন একটি সেবা চালু করেছি। যেটাকে আমরা সুরক্ষা সেবা বলছি। যেমন আমরা যখন গরু মোটাতাজা করণে এক লাখ টাকা ঋণ দেয়। তখন ১০০ বা ২০০ টাকা কেটে রাখি প্রিমিয়াম হিসেবে। যদি গুরুটি মারা যায় বা চুরি হয়ে যায়, মালিক আবার পুরো টাকাটা ফেরৎ পায়। এভাবে সুইচ ডিভলপমেন্ট কো-অপারেশনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করছি। এর আগে আমরা জাপান ফান্ড ফর প্রভারটি রিডাকশন এর মাধ্যমে এ ইনস্যুরেন্স প্রকল্প পাইলট আকারে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করি। বিশ্ব ব্যাংক আমাদের একটি প্রকল্প দিয়েছে শহর এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য আবাসন করতে।এটাও এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন: ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে পিকেএসএফের ভূমিকা আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? আব্দুল করিম: সমাজের যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ। যারা ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, হিজড়া, এতিম। তাদের জন্য পিকেএসএফ বেশকিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা প্রায় সাড়ে ৮০০ ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করেছি। আমরা ভিক্ষুককে তার স্বাক্ষর ও এলাকার প্রতিনিধির সাক্ষরের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিচ্চি। তবে শর্ত দিচ্ছি সে যেন এ টাকা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়, ভিক্ষায় আর না আসে। যদি ভিক্ষায় ফিরে আসে তবে আমাদের এ টাকা আবার ফেরৎ দিতে হবে। এ পর্যন্ত একজন লোক আবার ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে এসেছেন। একুশে টেলিভিশন: পিকেএসএফের জন্য শুভ কামনা, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য। আব্দুল করিম: আপনাকেও ধন্যবাদ, একুশে টেলিভিশন পরিবারকে ধন্যবাদ। এসএইচ/ এআর        

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের শর্তই প্রধান বিচারপতি হবার যোগ্যতা

নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে চলতি মাসের ১১ তারিখে পদত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহা। সদ্য সাবেক হওয়া এ প্রধান বিচারপতির পদের মেয়াদের ৮১ দিন বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করেন। বিচারিক অঙ্গনে এখন সব থেকে বেশি যে প্রশ্নটি আলোচিত হচ্ছে তা হলো- কে হচ্ছেন ২২তম প্রধান বিচারপতি? ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। এমন পরিস্থিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং অন্য বিষয়ে ইটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন সাংবিধানিক আইনের গবেষক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিল্লাহ মাসুম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইন: কেমন আছেন স্যার? ড. বিল্লাহ মাসুম: বেশ ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন: বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধান কী? ড. বিল্লাহ মাসুম: বাংলাদেশে সংবিধান বিষয়ক কথাবার্তা বেশি হয়। এর মানে একটা হতে পারে যে, সংবিধান আমাদের জন্যে এক আফসোসের নাম। কথায় বলে, কানা তার চোখের কথা বারবার বলে। যাই হোক, প্রধান বিচারপতি বিষয়ক আলোচনায় একটা জিনিস খেয়ালে রাখতে হবে, আমাদের প্রধান বিচারপতি কিন্তু সাংবিধানিকভাবে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ হিসেবে অভিহিত হবেন। তিনি কিন্তু শুধু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নন, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি! তাই রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ওপর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ভার দেওয়া আছে। আমরা বলি, বর্তমান সংসদীয় কাঠামোয় যে দুটি কাজ রাষ্ট্রপতি নিজ থেকে করতে পারেন তার একটি হলো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। অন্যটি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ক্ষমতা শুধুমাত্র প্রতীকী, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানকেই তিনি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। সেক্ষেত্রে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির একমাত্র আদি ক্ষমতা। কিন্তু আমাদের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার এই নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। ইটিভি অনলাইন: সংবিধান এ বিষয়ে কী বলে? বয়স এবং জ্যেষ্ঠ্যতার বিষয়ে আইন কী? ড. বিল্লাহ মাসুম: সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক নিয়ে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে। আর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন। কাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা যাবে এরকম সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের কথা সংবিধানে নেই। তবে আগের ওই কথার সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে বলা আছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারক নিয়োগ করা যাবে। প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা বলা না থাকলেও সংবিধানের ৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদে কিছু অযোগ্যতার কথা বলা আছে। সেই অযোগ্যতাগুলো না থাকা-ই যোগ্যতা। আইনের ভাষার মারপ্যাঁচে বলা আছে যে, কোনো ব্যক্তি প্রধান বিচারপতি পদের যোগ্য হবেন না যদি তিনি বাংলাদশের নাগরিক না হন এবং যদি তার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বয়স বা ওকালতির ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকে। আর একটা আইন করার কথা ছিল অন্য সব যোগ্যতা নির্ধারণ করে, যেটা আজও হয়নি। প্রধান বিচারপতি নিজেও আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। কাজেই এই যোগ্যতা বা অযোগ্যতার মান তার নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিবেচ্য। এখন আমরা ধরে নিচ্ছি, বর্তমানে আপিল বিভাগে যে পাঁচজন বিচারপতি আছেন, রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্যে থেকে যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন। প্রথাগত সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ জন হবেন প্রধান বিচারপতি, তবে এরকম কিছু লিখিত নেই। রাষ্ট্রপতি অন্য আরও প্রাসঙ্গিক বিষয় যেমন প্রাজ্ঞতা, সরকারের নীতি, রাজনৈতিক, বিচারিক ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করে এই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। মুরুব্বীকে ডিঙিয়ে নবীনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের উদাহরণ আমাদের দেশে ও ভারতে রয়েছে। একে ‘সুপারসিশন’ বলে। ‘প্রিন্সিপল অব সিনিয়রিট’ ক্ষমতা অপব্যবহেরের বিরুদ্ধে একটা রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। এই নীতির যে লঙ্ঘন অতীতে হয়েছে (যেমন বিচারপতি খায়রুল হকের নিয়োগের সময়) তা ছিল অতীতের ধারাবাহিকতার ফল । কিন্তু অনুশীলনটা শুরু করেছিল ২০০১ এর বিএনপি সরকার। যেটাই হোক, এগুলো অণুকরণযোগ্য উদহারণ নয় । এবং ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে অনুশীলন করা উচিত। একজন বিচারক বর্তমানে তার ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।   ইটিভি অনলাইন: আপিল বিভাগে থাকা বর্তমান বিচারপতিদের মধ্যে কে সম্ভাব্য প্রধান বিচারপতি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন। আর জ্যেষ্ঠতা হিসেবে কে এগিয়ে আছেন? ড. বিল্লাহ মাসুম: জ্যেষ্ঠতা হিসেবে বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এগিয়ে আছেন। কেননা তিনি যেমন বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ, তেমনি প্রধান বিচারপতির চলতি দায়িত্ত্বেও আছেন। তবে ওই যে বললাম, আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিদের মধ্যে থেকে যে কাউকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। সেটা নিয়ে আমরা আলাপ করতে পারি, কিন্তু আইনি প্রশ্ন তোলার অবকাশ কম। প্রশ্নটা বিচারিক সংস্কৃতির। এখন একটা কথা উঠেছে কতদিনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্টভাবে কিছু বলা নেই। আমরা এটাকে যুক্তিসঙ্গতার মানদণ্ড দেই। রাষ্ট্রপতির সন্তোষ দেশ ও দশের কল্যাণে অনুশীলন হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।   ইটিভি অনলাইন: সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পদত্যাগে বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার ঘাটতি তৈরি হবে কী না? ড. বিল্লাহ মাসুম: আর্জেন্টাইন একজন বিচারককে সামরিক সরকারের আমলে প্রশ্ন করা হয়েছিল চাপের মুখে একজন বিচারকের কি করা উচিত। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন এক্ষেত্রে একজন বিচারকের তিনটি পথ খোলা থাকে- এক. শাসক যা বলেন তা মেনে নেওয়া; দুই. পদত্যাগ করা; এবং তিন. নিজ পদে থেকে যতদূর সম্ভব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়া। এর মধ্যে প্রথমটি আসলে কোনো বিকল্পই নয়। বিচারপতি সিনহা বাকি দু’টি করার চেষ্টা করেছেন। আমি মনে করি তার বেশ আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল, তাতে তিনি আরও নমস্য হতেন। তার বিদায়ের ধরন অবশ্যই জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়ে যাবে। আস্থার সংকট তৈরি না হলেও, আদালত আগের মতো মনোবল নিয়ে বিচারকার্য করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। বিচারপতি সিনহার ঘটনা জনগণ ও আইনের ছাত্রদের ভুল বার্তা দিয়েছে। বিচারপতি সিনহা যেভাবেই যান না কেন তার কিছু রায়ের (যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধ মামলা) জন্য আমরা তাকে মনে রাখবো। আবার কিছু রায়ের জন্যে তিনি আলোচিত এবং সমালোচিত দুই হতে থাকবেন (যেমন ষোড়শ সংশোধনী মামলা, আদালত অবমাননা মামলা ইত্যাদি)। বিচার কাজে গতি আনার জন্যে বিচারক বন্ধুদের তার সুনাম করতে দেখেছি।   ইটিভি অনলাইন: নতুন যিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হবেন তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারেন বা তার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার বিষয়টি কেমন হতে পারে? ড. বিল্লাহ মাসুম: বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা আরও দৃঢ়চেতা বিচারক হিসেবে পরিচিত। তিনি দীপ্তিমান বিচারিক মনস্কতার অধিকারী। আব্দুল কাদের মোল্লা, ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা, সাঈদির মামলায় তার ভিন্ন মতের রায় রয়েছে-যেগুলো বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন এর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি প্রধান বিচারপতি হলে, আমরা সুপ্রিম কোর্টকে আরও এসারটিভ বা সক্রিয় হতে দেখবো। স্মর্তব্য, ষোড়শ সংশোধনী মামলায় বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি থেকেও নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করেছেন তীর্যক ভাষায়। যেমন ওই সংশোধনীকে তিনি সংবিধান সংশোধনের ‘দুধ-ভাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিচারবিভাগের ওপর মানুষের আস্থার বিষয়টা অনেকটা সফি’স চয়েসের মতো। যেটাই হোক, বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা থাকতেই হবে। রাজা যায়, পার্লামেন্ট যায়, কিন্তু বিচারবিভাগ থাকেই, ঠাঁই দাঁড়িয়ে, বিচারের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে।   ইটিভি অনলাইন: সামগ্রিক বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? ড. বিল্লাহ মাসুম: সার্বিকভাবে বিষয়টাকে আমি সাংবিধানিক হতাশা হিসেবে দেখি। আমি মনে করি, ষোড়শ সংশোধনী এবং বিচারপতি সিনহা ইস্যু আরও বৃহত্তর সাংবিধানিক ক্যানভাস থেকে মূল্যায়ন করা যেত। আমি আইনমন্ত্রী হলে একটা ‘জাজ-অঅপসারণ আইন’ এর খসড়া আগেভাগে বানাতাম। তারপর সংশোধনী আনতাম, এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করতাম। এর পরেও যদি সেটা, বাতিল হতো তাহলে বলতাম, ষোড়শ সংশোধনী মামলায় আমরা আদালতকে ওইভাবে বুঝাতে পারিনি। কিন্তু আমরা মনে করি এটা (পার্লামেন্টারি মডেল ) জনকল্যাণে করা হয়েছিল। আমার দল এবং সরকার এ বিষয়ে আরও মন দিয়ে কাজ করে যাবে। জনমত গঠন করে, আবার আদালতের দ্বারস্থ হবে বিষয়টির সাংবিধানিকতা যাচাই করার জন্যে। এভাবে বলতাম। এতে সাময়িক হার হয়তো হতো, কিন্তু আখেরে দল এবং আইনের শাসন লাভবান হতো। বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যাপক অবদান রয়েছে। যেমন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সাংবিধানিক দর্শন প্রতিফলিত করে দলটি একটি প্রথাগত সাংবিধানিক আইন তৈরি করেছে। একটা সংলাপময় সংস্কৃতির আবহ তৈরি করেছেন। তাই এক্ষেত্রে দলটি হীরে ফেলে কাঁচ তুলে ভিখেরি সাজলে মনে কষ্ট পাই। আওয়ামী লীগকে ব্যারিস্টার আমীর-ঊল ইসলামের মতো মানুষদের মূল্যায়ন করতে হবে।   ইটিভি অনলাইন: বর্তমান সময়ে বিচার বিভাগ নিয়ে আপনার পরামর্শ কী? ড. বিল্লাহ মাসুম: কিছুদিন আগেই আমাদের সংবিধান দিবস গেলো (৪ নভেম্বর)। আমার কথা একটাই, সংবিধানের যে ‘প্রি-এম্বল বা প্রস্তাবনা’ আমাদের আছে তাকে আপনারা ক্ষুদ্রার্থে নেবেন না। এটা আসলে আমাদের `প্রস্তাবণা` মাত্র ছিল না, ছিল প্রসন্ননামা- সাংবিধানিক রুব্রিক—‘অন্ধকারে পূব আকাশে ওঠা দিনমনি’ (Pole Star)। তাই সংবিধান দিবসের প্রাক্কালে আসুন প্রি-এম্বল এর জবাবে কার্যত একটা পোস্ট-এম্বল লিখি। আর এই যে ’৭২ ফিরে যাবার কথা বলেন সবাই, আসলে `৭২ একটা চেতনা, নিতাইগঞ্জ বা চিলমারীর বন্দর। সাংবিধানিকতার বন্ধুর পথ দিয়ে ওখানটায় পৌঁছাতে হবে। তাই আইনের শাসন কিংবা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা যদি হয় ৭২-এর চেতনা, পার্লামেন্টারি মডেল বা সুপ্রিম কাউন্সিল তা অর্জনের উপায়। প্রথমটা আদি ও অব্যয় এবং আর দ্বিতীয়টা সময়কালে পরিবর্তন হয়। আমি আশা করি, বিচার বিভাগ তার বর্তমান সংকট কাটিয়ে আমাদের আবার আলোর পথ দেখাবে এবং অন্য বিভাগ একে যথাযথ সহযোগিতা দেবে।   ড. বিল্লাহ মাসুম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিট অব ওয়েলিংটন থেকে ‘ভূমি আইনের রাজনীতি’ শীর্ষক গবেষণার জন্য ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক আইন বিষয়ে তার জ্ঞানগর্ভ গবেষণা বেশ প্রশংসিত এবং সমাদৃত। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার লেখালেখি এবং বক্তৃতায় সাংবিধানিক এবং মানবাধিকার আইনের তথ্যবহুল আলোচনা পাওয়া যায়।   এসএইচএস/টিকে  

বিশ্বব্যাপী চিন্তা-চেতনা তুলে ধরতে ঢাকা লিট ফেস্ট:শামসুজ্জামান

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান একাধারে বিশিষ্ট ফোকলোরবিদ, গবেষক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। ১৯৪০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। অধ্যাপনা দিয়ে তার কর্মজীবনের সূচনা ঘটে। তবে বিভিন্ন সময়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার ফোকলোর বিষয়ক গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা বিষয়ে তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় একশত। তিনি একুশে পদকসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে আয়োজিত ‘সপ্তম ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’আসরে তার মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইন। সাহিত্য উৎসব আয়োজনের প্রাসঙ্গিতাসহ নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশের সাহিত্যাঙ্গনের সমৃদ্ধিতে এ ধরণের আয়োজন কতটুকু অবদান রাখছে? শামসুজ্জামান খান: বিদেশি সাহিত্যের অনুঘটকদের সঙ্গে নানা রকম ভাষা ও ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের অনুবাদ সাহিত্য ক্রমশ বিশ্বমানের হচ্ছে। এরই মধ্যে মীর মোশাররফ হোসেনের `বিষাদ সিন্ধু`র অনুবাদ হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনাদের ওপর অনুবাদ আমরা করে ফেলেছি। ফকরুলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বই আমরা করেছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ইংরেজি ভাষায় বই করেছি। এ বইগুলো কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ ধরণের আয়োজন বিশ্বব্যাপী আমাদের বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পাশাপাশি আমাদের সাহিত্যধারাকে আরও গতিশীল করবে।  একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ভাব ও ভাষার আদান-প্রদান বা চিন্তা-চেতনার পরিচিতির কথা আপনি বলছেন, সেটা বাংলা একাডেমী অন্যভাবে নিতে পারতো। এ আয়োজন কেন? শামসুজ্জামান খান: বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের একটা বড় জায়গাতে দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি পৌঁছে গেছে। দেশের সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমাদের প্রচেষ্টার একটা সহায়ক প্রচেষ্টা `ঢাকা লিট ফেস্ট`। এত দিন ভেবেছিলাম আরও বড় আকারে করবো। সরকারের সহায়তাও থাকবে বড় ধরণের। কিন্তু খরচসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। একবার একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক বলেন, ‘বাংলাদেশ মে বি ওয়ান অফ দি পুওরেস্ট কান্ট্রি ইন দি ওয়ার্ল্ড, বাট ইটস রিয়েল এডুকেশন অ্যান্ড রিয়েল সোসিয়্যাল সিচুয়েশন ইজ এক্সপানসার, স্পেশেয়ালি ইটস কালচারাল এক্সপানসার ওয়ান অফ দি রিসেস।’ স্বনামধন্য ওই সাহিত্যিকের কথাটি আমাদের মনে ধরেছে। সেখান থেকে আমরা চিন্তা করলাম আমাদের সাহিত্য ও রিচ কালচারকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে আর কী কী করা দরকার? এটার জন্য আমাদের কী কী ভাষার জ্ঞান থাকা দরকার? যে ভাষায় আমরা আমাদের বই প্রকাশ করতে পারবো, আমাদের চিন্তা–চেতনা তুলে ধরতে পারবো? ওই ভাবনার জায়গাতে কিন্তু `ঢাকা লিট ফেস্ট` বড় একটা সহায়ক হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বরাবরই একটা অভিযোগ আছে যে, এ ফেস্টে সমাজের উঁচু শ্রেণিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় বা সাহিত্যের একটা শ্রেণিকরণ করা হয়, সে ব্যাপারে কী বলবেন? শামসুজ্জামান খান : আমি বলবো, প্রথম দিকে আমাদেরও তাদের সঙ্গে চিন্তা-চেতনা ও পরিবেশনায় একটা দ্বিমত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে এনেছি। যার ফলে বঙ্গবন্ধুর ওপর একটা অনুষ্ঠানও কিন্তু তারা করতে শুরু করেছে। আমাদের কবি গান থেকে শুরু করে লোকজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কারণ আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে কিন্তু দেশের মানুষের প্রাণ নিহিত। এক সময় মৈমনসিংহ গীতিকা বাঙালিকে বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছিল। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে সেই জায়গাতে আমরা নতুন করে পৌঁছাতে পারবো। তারই পথ হিসেবে আমরা সাহিত্য উৎসবকে দেখছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : এবারের ফেস্টে ২০০ দেশি-বিদেশি কবি-সাহিত্যিক থাকবেন। যেখানে সেশন রাখা হয়েছে ৯০টি। অথচ ফেস্টের সময় রাখা হয়েছে তিন দিন। এতো বড় পরিসরের বিষয়ে কেন এতো কম সময়ের আয়োজন? শামসুজ্জামান খান : এ সেশনগুলো গভীর কোনো আলোচনার জন্য সহায়ক নয়। যেমন আমি জার্মানির একটা বই মেলায় গেলাম। যেখানে সাড়ে চার হাজার অনুষ্ঠান, যা ভাবাই যায় না। এমন কম সময়ের আয়োজনে অনেকে বঞ্চিত হয়, সেটাও ঠিক। কিন্তু উপায় তো নেই। তিন দিনে সবকিছু যদি আমরা না করি, তো ১৫ দিন করার জন্য যে খরচ সেটা বহন করা কঠিন ব্যাপার। তাছাড়া বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিরা তিন দিন ধরে বাংলাদেশে এসে থাকবে না। আপাতত আমাকে বেছে নিতে হবে আমার সবচেয়ে পছন্দের কোন সেশনে আমি থাকবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। শামসুজ্জামান খান : আপনাকে ও একুশে টেলিভিশন পরিবারের সব সদস্যকে ধন্যবাদ ।   এসএইচ/

‘সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টায় ঢাকা লিট ফেস্ট’

ইমদাদুল হক মিলিন। বাংলাদেশের একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি গল্প, উপন্যাস এবং নাটক-এ তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়েছেন। কিশোর বাংলা নামক পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তার সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় ‘সজনী’ নামে একটি ছোটগল্প লিখে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেন তিনি। ইমদাদুল হক মিলন লেখক হিসেবে এপার-ওপার দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়। দুই বাংলায় তার “নূরজাহান’ উপন্যাসটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’এ যোগ দিতে বাংলা একাডেমিতে আসেন। এসময় লিট ফেস্ট ও সাহিত্যাঙ্গনের নানা জানা-অজানা প্রশ্ন নিয়ে তার মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক- রিজাউল করিম   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : কেমন আছেন? ইমদাদুল হক মিলন : হ্যা, ভালো।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : এবার সপ্তম ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’ আসর চলছে। দেশের সাহিত্যাঙ্গনে এ আয়োজন কতটুকু অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করেন? ইমদাদুল হক মিলন : ঢাকা লিট ফেস্ট আমাদের দেশের সাহিত্যটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পোঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা একটা বড় ব্যাপার। এখানে বিশেষ লক্ষণীয় দিক হলো- আমাদের দেশে অনেক তরুণ লেখক এবং পাঠক এখানে আাসে। যেকোন দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি কিন্তু এগিয়ে নেয় তত। সেই তরুণদের এখানে দেখতে পাওয়া যায়। তারা এখানে পড়ছে-জানছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতির এ আদান-প্রদান বা জানা-শোনার একটা দারুণ প্লাটফর্ম করে দিয়েছে ঢাকা লিট ফেস্ট। শুধু দেশের নয়, বিশ্বের সাহিত্যাঙ্গনে এর অবদান সুদূর প্রসারী। আজকের বিশ্বে একটা অদ্ভুত রাজনৈতিক নৈরাজ্য চলছে। যাবতীয় স্থিতিশীল এবং স্থিতাবস্থাগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পারস্পরিক বিচ্ছেদ, পারস্পরিক ব্যবধান বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা একটা বড় রকমের বিচ্ছিন্নতাবাদ তৈরি হয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। এই ধরনের ফেস্টিভাল বা উৎসবের গুরুত্ব এখানে যে, অনেক দেশ থেকে অনেক মানুষ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। ফলে আমি যে বিচ্ছেদের কথা বলছি, যে ব্যবধানের কথা বলছি, সেটা কমে আসছে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বুদ্ধিবৃত্তি ও সাহিত্য চর্চায় বাংলাদেশের তরুণরা কতটুকু এগিয়ে বলে আপনি মনে করেন? ইমদাদুল হক মিলন : আমাদের দেশে বৃদ্ধিবৃত্তির চর্চা, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, প্রতিরোধী আন্দোলনগুলো যথেষ্ট সক্রিয়। এখন আমি একটা পরিষ্কার কথা বলি, সব দেশে সব কালে একটা চাপা আগুন সবসময় থাকে। বিশেষ করে একেবারে যুবসমাজের মধ্যে। তারা যেভাবে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে, তারা যেভাবে তাদের বিবেকী গুঞ্জনকে সম্মিলিতভাবে বিবেকী গর্জনে পরিণত করতে পারে, সেটা তো প্রবীণদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের ওখানেও বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে প্রবীণরা কিন্তু পথে নেমেছে প্রয়োজনে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ সবক্ষেত্রেই তরুণদের অবদান অগ্রগণ্য। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে আমাদের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সাহিত্য চর্চায় তরুণদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। সাহিত্যের পরিধি দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বলা হয়ে থাকে- ‘যে জাতি সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে যতবেশি সমৃদ্ধ সে জাতি ততবেশি অপসংস্কৃতি ও ভুল ধারণা থেকে পরিশুদ্ধ’। ঢাকা লিট ফেস্ট সে ক্ষেত্রে কতটুকু অবদান রাখছে? ইমদাদুল হক মিলন : আসলে সাহিত্য কখনও একজন মানুষকে সরাসরি বলে দিবে না যে, তুমি এই পথে চলো আর এই পথে চলো না। সাহিত্যের কাজ হচ্ছে মানুষের চেতনার জায়গাটিকে বদলে দেওয়া। এখন এই চেতনার জায়গাটি কীভাবে বদলায়? সে ক্ষেত্রে আমরা ১৯৭১ সালের কথা বলতে পারি। সে সময়টার কবিতাগুলো, সেই সময়টার গানগুলো, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুল। তাদের গানগুলো কিন্তু আমাদের ভিতর থেকে বদলে দেয়। আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করে দেয়। শিল্প-সাহিত্যের কাজগুলো কিন্তু এ জায়গাটাই। মানুষের ভিতর থেকে চেতনা জাগায়।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : উৎসবের সবক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন? ইমদাদুল হক মিলন : এখানে অনেক বিদেশি লেখক আসছেন, তাদের অনেকে বাংলা ভাষা বোঝেন না, জানেন না; সুতরাং তাদের সঙ্গে একটা মধ্যবর্তী ব্যবধান দূর করার জন্য মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি তো দরকারই। কিন্তু পাশ্চাত্যে বা ইউরোপে গেলে তারা কি আমাদের ভাষাকে রাখবেন, না তাদের যে ভাষা সেটাই রাখবেন? তারা কি আমাদের মতো করবেন? করবেন না। তো আমাদেরও সে বিষয়টি ভাবতে হবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : বৈশ্বিক রাজনীতি-সংস্কৃতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে? ইমদাদুল হক মিলন : আমরা পরস্পরের সঙ্গে মিলতে চাই, মিশতে চাই। এক এবং একীভূত হতে চাই। সেটার সুযোগ কিন্তু এই ফেস্টিভাল করেছে। অর্থাৎ আমি যেটা বলতে চাইছি, আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক বিষয়টা একেবারেই বাইরে থাকা দরকার।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : উৎসবকে ঘিরে আপনার কোন প্রস্তাবনা আছে কী না? ইমদাদুল হক মিলন : এমন একটি আয়োজনে যদি একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের ক্রমাগত সম্পর্ক বাড়ে বা সাহিত্য সমৃ্দ্ধ হয়, তবে আমি এটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবো। সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, সম্পর্কটা শুধু ভাষা দিয়ে না, আমাদের যাবতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি, আমাদের যাবতীয় চিন্তা-চেতনা সব কিছু নিয়ে আমাদের পৌঁছাতে হবে। আর সে জন্য এমন উৎসব আরও বৃহৎ কলেবরে আরও সময় বাড়িয়ে করতে হবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন : ধন্যবাদ আপনাকে। সময় দেওয়ার জন্য। ইমদাদুল হক মিলন : আপনাকেও ধন্যবাদ।   এসএইচ/

দেশেই সব রোগের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব : ডা. আশীষ

চিকিৎসকদের ‘দ্বিতীয় ঈশ্বর’ বলা হয়। ঈশ্বরের পরেই মানুষের জীবন-মরণের বিষয়টি ডাক্তার বা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধন করা এমনই একজন চিকিৎসক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ডা. আশীষ চক্রবর্তী। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং দেশীয় স্বাস্থ্য খাতের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান হোসেন শাওন।

‘স্থায়ী সমাধানে ‍আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে’

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-হত্যাযজ্ঞ আজও বন্ধ হয়নি। নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে এখনও নৌকায়-ভেলায় করে নাফ নদী হয়ে দলবেঁধে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে শত শত রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন উদ্বাস্তু-শরনার্থী প্রবাহ ঠেকাতে তৎপর তখন বাংলাদেশ বিপদগ্রস্ত এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে বাংলাদেশের কক্সবাজারের লোকজন নিরাপত্তাসহ নানামুখী ঝুঁকিতে আছে। এ সংকট সমাধানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানা আলাপ-আলোচনা ও উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানকল্পে ‍আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ‍অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

‘আইটিতে বিনিয়োগের অভাবে পূরণ হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা’

দেশে আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার তৈরি হলেও কেবল ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে লোকবল সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান দখল করতে পারছে না বাংলাদেশ। এমনকি দেশীয় বাজারেও জায়গা করতে পারছে না একবিংশ শতাব্দীর সম্ভাবনাময় এ সেক্টরটি। এ সুযোগ লুফে নিচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশ থেকে বাগিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা, এমন অভিযোগ আইটি উদ্যোক্তাদের। সম্প্রতি আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার নির্মাণ, প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ও তার বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে  ইটিভি অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন দেশের স্বনামধন্য আইটি ফার্ম ইউওয়াই সিস্টেম কোম্পানি লিমিটেড (UY System Company Limited) এর কর্ণধার ফারহানা এ রহমান। তিনি আইটি উদ্যোক্তাদের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বেসিসের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন এর মোহাম্মদ জুয়েল ও কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি