ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:০০:২৮

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার রোল মডেল হবে জবি

একান্ত সাক্ষাৎকারে ভিসি

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার রোল মডেল হবে জবি

শুরু থেকেই বিভিন্ন সংকট নিয়ে পথচলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি)। তবে সব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উচ্চশিক্ষার রোল মডেলে পরিণত করতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান ভাইস-চ্যান্সেলরের পাশাপাশি একদল তরুণ উদ্যমী শিক্ষক। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে জগন্নাথ। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় দেশের নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ চাকরির বাজারে নিজেদের মেলে ধরছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই রোল মডেলে পরিণত হবে-এমন স্বপ্ন দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের  সেই স্বপ্নের কথা এবং অল্প সময়ে কীভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এতটা অগ্রগতি অর্জন করল সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন।
‘তারুণ্যের সম্ভাবনা ধ্বংস করছে ইয়াবা’

যেকোনো নেশা ও মাদকদ্রব্যের চেয়ে ভয়ঙ্কর নেশাজাতীয় উপাদান হচ্ছে ইয়াবা। মিথাইল অ্যামফিটামিন বা মেথামফিটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্রণ হলো ইয়াবা ট্যাবলেট। ক্যাফেইন আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি পদার্থ। চা ও কফিতে ক্যাফেইন থাকে। কিন্তু মিথাইল অ্যামফিটামিন অত্যন্ত শক্তিশালী নেশা সৃষ্টিকারী একটি মস্তিষ্ক উত্তেজক বা উদ্দীপক পদার্থ। যা গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের উন্মাদনা এবং শরীরে সাময়িক শক্তির সঞ্চার করে। ‘ক্ষণিকের’ উত্তেজনা কিংবা ভালো লাগার মোহে পড়ে তরুণ সমাজ ভয়াবহ এ নেশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে। এভাবে দেশের যুব সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংসের মুখে নিমজ্জিত হচ্ছে। এর ফলে ইয়াবা সেবনকারী-ই যে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে তা নয়, গোটা পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইয়াবার ক্ষতিকর উপাদানগুলো ক্রমান্বয়ে তার শারীরিক সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, একপর্যায়ে মৃত্যু-ই হয়ে উঠে তার অনিবার্য পরিনতি।   করালগ্রাসী ইয়াবার বিভিন্ন দিক নিয়ে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের  সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ । স্বাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন তমাল আবদুল কাইয়ূম।   

মানববর্ম তৈরি করেছিলাম নেত্রীকে বাঁচাতে

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের দাবিতে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ডাকা সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা আসার খবরে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। বিশাল ওই সমাবেশে সেদিন ইতিহাসের নৃশংস এক হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও পুলিশের ছোড়া গুলিতে ঝরে যায় বহু প্রাণ। বীভৎস ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা অমল কান্তি দাস। তিনিসহ আরো অনেকে সেদিন শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে মানববর্ম তৈরি করেন। গুলিতে তিনিও গুরুত্বর আহত হন। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে অমলের চিকিৎসা করান। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন অমল কান্তি দাস। তবে এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন সেদিনের নির্মমতার ক্ষত। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন তিনি। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে সেদিনের নারকীয় হামলার বর্ণনা দিয়েছেন অমল কান্তি দাস। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইন প্রতিবেদক তমাল আবদুল কাইয়ূম ও রিজাউল করিম।

গুগল মাইক্রোসফটে চাকরি হচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের : কায়কোবাদ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। দেশের প্রথিতযশা এ শিক্ষাবিদ পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন সাউথ  অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিনডার্স ইউনিভার্সিটি থেকে। ১৯৯১ সালে বুয়েটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি কিয়ং হি ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংসহ বিদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিটিং প্রফেসর হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পাঠদান করেন। গণিত, কম্পিউটার শিক্ষা ও আইটিতে তার লেখা বহু বই বিভিন্ন স্তরে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। আইসিটি শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি তাকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করেছে। ড. কায়কোবাদ বর্তমানে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে যারা পড়ছেন তাদের চাকরির সম্ভাব্য খাত, সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রফেসর কায়কোবাদের সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আতাউর রহমান। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থিদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল- একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এক সময় বিবিএ, প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের ঝোঁক ছিল। বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স, তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা কেন?ড. কায়কোবাদ : আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন দেখেছি মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে চাইত। এখন কিন্তু বিজ্ঞান শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ কমেছে। দেশে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কাজের ক্ষেত্র এখনও খুব একটা তৈরি হয়নি। এটি বিজ্ঞানে ছাত্র হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ। বর্তমানে তরুণ-তরুণীরা কম পরিশ্রম করে ভালো বেতনে চাকরিতে প্রবেশ করতে চায়। তাই তুলনামূলক সহজ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন-ভারত, চীনসহ বহির্বিশ্বে আইটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আইটি শিক্ষার ব্যাপক প্রসারও ঘটেছে। সেই ছোঁয়া আমাদের দেশেও লাগতে শুরু করেছে। আইটিতে চাকরির সম্ভাবনা দেখেই দেশের শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষায় ঝোঁকছে। প্রশ্ন হচ্ছে তরুণদের এ আগ্রহটাকে আমরা কতটা মূল্য দিতে বা কাজে লাগাতে পারছি?একুশে টেলিভিশন অনলাইন : তাহলে কী অন্য বিষয়ের মতো আইটি শিক্ষায়ও শিক্ষার্থীরা একটা সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে?ড. কায়কোবাদ : কম্পিউটার সায়েন্স ও আইটি শিক্ষার্থীদের দেশে ভালো কাজের সুযোগ করে দিতে না পারলে এ শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ দেখাবে কেন? আমাদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি সফটওয়্যার দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সফট্ওয়্যার করানো হচ্ছে বিদেশী ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে। বিদেশীদের সফ্টওয়্যার কিনতে এবং সেগুলো পরিচালনা ও সার্ভিস চার্জ বাবদ আমাদের প্রচুর ব্যয় গুনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ভোক্তা হয়ে পড়েছে। উৎপাদক হতে পারছে না। আমরা বিমান পরিচালনায় বিদেশ থেকে এক্সপার্ট নিয়োগ দিচ্ছি। দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় বিদেশীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর মূল কারণ আমরা নিজেদের বিশেষজ্ঞ ও তৈরি পণ্যকে মূল্যায়ন করতে পারছি না।সরকারি-বেসরকারি লেভেলে গার্মেন্ট সেক্টরকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আইটি খাতকে তার একশ’ ভাগের একভাগ গুরুত্ব দেয়া হলেও দেশে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো এবং তার ওপর ভর করে অর্থনীতি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যেত। আইটি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের নীতিনির্ধারকদের একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। আর সেটি হচ্ছে- দেশের আইটি শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রোডাক্ট আমরা ব্যবহার করব। সেটি মানসম্মত না হলেও। তবেই প্রোডাক্টের মানও বাড়বে, কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের সফ্টওয়্যার তো আমাদের লোকদেরই তৈরি। দেশপ্রেম ও দেশীয় তৈরি পণ্যের যথাযথ মূল্যায়নের বলেই প্রতিবেশী দেশ ভারত এগিয়ে যাচ্ছে। যে ভারত একসময় ব্লেড উৎপাদন করতে পারত না, সেই ভারত আজ চাঁদে মঙ্গলে রকেট পাঠাচ্ছে। ভারতের মন্ত্রী-এমপিরা তো বিদেশী গাড়ি ব্যবহার করে না। সেজন্য সে দেশের লোকজনও দেশী গাড়ি ব্যবহার করে। এতে করে কয়েকটি লাভ হচ্ছে- মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে। প্রোডাক্টের মান বাড়ছে। দেশের টাকা দেশে থাকছে। উদ্যোক্তা বাড়ছে। শিল্পের বিকাশ ঘটছে। আমাদেরও আইটি ব্যবসায় উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে। বেশি বেশি আইটি শিল্প গড়ে তুলতে হবে। তবেই প্রযুক্তি শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ ধরে রাখবে।একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আইটি বিজনেসে নতুন উদ্যোক্তাদের কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে?ড. কায়কোবাদ : নতুন উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা পাচ্ছে না বলে প্রায়ই অভিযোগ করে আসছেন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, দেশের আইটি প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে আমরা জাপান, মালয়েশিয়া, চীনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছি। তবে নতুন উদ্যোক্তারা মার্কেটে টিকে থাকবে কিভাবে? দেশে অনেক ভালো মানের প্রোগ্রামার রয়েছে। অথচ গত ১৫ বছর আগে পরিকল্পনা নেওয়া সত্ত্বেও এখনও দেশে বিশ্বমানের কোনো সফ্টওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি। আমাদের চেয়ে অনেক সময় পর পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের তামিলনাডু, অন্ধ প্রদেশ ও কেরালায় বিশ্বমানের সফ্টওয়্যার শিল্প গড়ে উঠেছে।যেখানে তারা নিজেরা সফ্টওয়্যার তৈরি করে নিজ দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশী কোম্পানির কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের বেসরকারি প্রথম শ্রেণীর ২২টি সফ্টওয়্যার ফার্মের বার্ষিক আয় গড়ে ১ কোটি টাকার একটু বেশি। সফ্টওয়্যার ফার্মগুলোর আয়ের এই জীর্ণ দশার কারণ হচ্ছে, প্রযুক্তি খাতে সরকারের বরাদ্দ ও সুদৃষ্টির অভাব।একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আইটি শিক্ষিতদের দেশে চাকরির সুযোগ কতটা তৈরি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?ড. কায়কোবাদ : একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরামর্শ দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশ থেকে বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে ভারতের লোকজন। অথচ আমাদের কি যোগ্য লোকের অভাব? আমাদের বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়াররা কি বিদেশে কাজ করছে না? আমরা কি তাদের দেশে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি? একজন আইটি গ্র্যাজুয়েট দেশে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পেলে অথবা নিজস্ব আইটি ফার্মে ভালো সাড়া পেলে দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি দেবে কেন? আমাদের নীতিনির্ধারকরা কি সেটি একবারও ভেবে দেখেছেন?আউটসোর্সিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময়ী বাজার। বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ ফ্রিল্যান্সার বিদেশী প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্স করছে। ১ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তাদের আয়ে আমাদের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যেতে পারে। ধারণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে উন্নয়নশীল দেশে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ কাজ আউটসোর্স হবে। আমরা যদি এর ১০ ভাগ মার্কেটও দখল করতে পারতাম তবে আউটসোর্সিয়ের আয় দিয়ে আমাদের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যেতে পারত। ফিলিপিনে গত আট বছরে সাড়ে চার লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে আউটসোর্সিংয়ে। আমি মনে করি বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে।একুশে টেলিভিশন অনলাইন : যাদের আইটিতে একাডেমিক শিক্ষা নেই কিন্তু আইটিতে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?ড. কায়কোবাদ : আইটি পেশাজীবী হতে শিক্ষার্থীদের আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডেরই হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। নন-আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন শিক্ষিত ছেলেকে ৬ মাস থেকে ১ বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইটিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স, শর্ট কোর্স চালু রয়েছে। সেখানে কোর্স করেও আইটিকে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। ওয়েব ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রিসহ বিভিন্ন কাজ করে ভালো উপার্জনের সুযোগ রয়েছে।একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের প্রযুক্তি শিক্ষিতরা বিদেশে অথবা বিদেশী কোম্পানিতে কাজ করার কতটা সুযোগ পাচ্ছে?ড. কায়কোবাদ : আইটিতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি পাচ্ছে। আমাদের ছেলেরা জার্মানি, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের সফ্টওয়্যার ফার্মে কাজ করছে। স্যামসাং ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফার্ম খুলেছে। স্যামসাং প্রতিবছর ৬শ’ জন বাংলাদেশী আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ দিতে চায়। অথচ তাদের চাহিদা মাফিক মানসম্মত আইটি প্রফেশনাল আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। এএমবি, আইবিএম, মাইক্রোসফ্ট ও গুগল বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলে আমাদের দেশের আইটি এক্সপার্টদের কর্মসংস্থান হবে। দেশে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি আমাদের এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন হল লোকাল মার্কেটে তাদের কিভাবে ধরে রাখা যাবে, সেটি নিশ্চিত করা। বিদেশী ফার্মগুলো আমাদের দেশে কাজ শুরু করলে বছরে অন্তত ২ থেকে ৩ হাজার ভালো মানের আইটি প্রফেশনালের চাহিদা সৃষ্টি হবে। সেই পরিমাণ লোক সরবরাহের সামর্থ্য কি আমাদের আছে?একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাংলাদেশ প্রযুক্তির ব্যবহারে কতটা এগিয়েছে?ড. কায়কোবাদ : তথ্য প্রযুক্তির সূচনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে। বাংলাদেশে হাইটেক পার্ক নির্মিত হয়েছে। অনেক উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও এগুলোর প্রায় প্রতিটি হয় শুরুতে নতুবা মাঝপথে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে আবার কোনোটি ব্যর্থ হওয়ার পথে। ব্যর্থতার কারণ নিয়ে কোনো গবেষণা হচ্ছে না। আমরা যদি জরিপ করে দেখি, দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধানের ডিগ্রি কী, তবে দেখব যে, তাদের বেশিরভাগেরই সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি নেই। তবে তারা কিভাবে সেই সেক্টরে প্রত্যাশিত ফল এনে দেবে? এজন্য আইটি শিক্ষিতদের নীতিনির্ধারণী জায়গায় কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।একুশে টেলিভিশন অনলাইন : সম্পদের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিয়ে এই জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে পারি কিনা?ড. কায়কোবাদ : সারা পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের ১ হাজার ভাগের মাত্র এক ভাগের মালিক আমরা। অথচ দুনিয়ার মোট জনসংখ্যার ২৪ ভাগের একভাগ আমাদের। প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে সম্পদে রুপান্তর করার বিকল্প আমাদের রয়েছে কি? আমাদের মতো জাপানেরও প্রাকৃতিক সম্পদ অপ্রতুল। তারা শুধু প্রযুক্তির ওপর ভর করে আজ বিশ্বের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে। তবে আমরা কেন পারব না?একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ড. কায়কোবাদ : আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে টেলিভিশনের প্রতি শুভ কামনা রইল।

ব্যাংকে স্বপ্নময় ক্যারিয়ার

হালের তরুণ-তরুণীদের পছন্দের চাকরির মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টর শীর্ষে অবস্থান করছে। এর প্রধান কারণগুলো হল- রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় কাজের ভালো (কর্পোরেট) পরিবেশ। সঙ্গে রয়েছে চোখ ধাঁধানো বেতন কাঠামো। আছে বছরে বেশ কয়েকটি ইনসেনটিভ যা অন্য বেসরকারি চাকরিতে নেই। মাস শেষে হাতভরে বেতনের টাকা, ভাতা, উৎসব বোনাস, কার লোন, হাউস লোন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, নিয়মিত প্রমোশন, কী নেই এখানে। রয়েছে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি, যেই সুযোগ বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই বললেই চলে। ব্যাংকারদের সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি রয়েছে চাকরি নিরাপত্তা এবং পেনশনের ব্যবস্থা। কেউ ব্যাংকে একটা চাকরি পেয়ে গেলে তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। ক্যারিয়ারে আর পিছুটান নেই। লক্ষ্য স্থির করুন আগেইব্যাংকিং ক্যারিয়ার এখন অনেক মেধাবীর স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সেটা নেয়া উচিত মাধ্যমিক স্তর থেকেই। আকাক্ষা যদি থাকে ব্যাংকার হওয়ার তবে বিজনেসে পড়াই ভালো। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে এইচএসসির পর ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিষয়ে বিবিএ-এমবিএ করলে আপনার চাকরির প্রাথমিক প্রস্তুতিটা হয়ে যাবে। যদিও স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। ব্যাংকিংয়ে পড়লে আপনি আধুনিক ব্যাংকিং প্র্যাকটিস, টার্ম ও কনসেপ্টগুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে পারবেন, যা ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় আপনাকে এগিয়ে রাখবে।প্রসপেক্টসসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যারা ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে বিবিএ কিংবা এমবিএ করবেন তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি পাওয়া সহজ। কারণ এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের ব্যাংকিংয়ের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। সেইসঙ্গে আধুনিক ব্যাংকিংয়ের কনসেপ্টগুলো প্রতিটি সেমিস্টারে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়। এটি তাকে নিয়োগ পরীক্ষায় অ্যাডভান্টেজ এনে দেয়। এছাড়া বিআইবিএমের ডিজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিরা ব্যাংকিং বিভাগে গেস্ট লেকচারার হিসেবে ক্লাস নিয়ে থাকেন। ছাত্ররা তাদের কাছ থেকে জব মার্কেট, ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির খুটিনাটি বিষয়ে জেনে সেভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। এছাড়া ব্যাংকে একজন কর্মকর্তাকে যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হাতে-কলমে শেখানো হয় ব্যাংকিং বিভাগে। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্মকর্তা শিহাব শাহরিয়ার বলেন, ব্যাংকিং বিভাগে এমবিএ করে আমার চাকরি প্রস্তুতির ভিতটা রচিত হয়ে যায়। বেশিদিন চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি।অবারিত কর্মক্ষেত্রব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের গ্রাজুয়েটদের প্রধান কর্মস্থল দেশের ৫৬টি ব্যাংক (সদ্য অনুমোদন পাওয়া নয়টিসহ)। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংখ্যা, শাখা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে অবিরত। এজন্য এসব ব্যাংক উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রচুর জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে এখানে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের বর্ণিল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হচ্ছে। ইনস্যুরেন্স বিষয়ে স্পেশালাইজড জ্ঞানার্জন করায় দেশের ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোও তাদের লুফে নিচ্ছে। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ রয়েছে মেধাবীদের জন্য।কোথায় পড়বেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল থেকে বিবিএ ইন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স পড়ানো হচ্ছে। এখানে সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৮৭টি আসনে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আর ইভিনিং এমবিএতে ৬০ জন ছাত্র ভর্তি করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকিং বিভাগ খোলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব কটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আওতায় ব্যাংকিং পড়ানো হয়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে।যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেনব্যাংকে চাকরি পেতে দরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি; বিস্তর পড়ালেখা। এ বিষয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি ও সিইও কাজী মশিহুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভালো একাডেমিক ফলাফল, ব্যাংকিং বিষয়ক ডিগ্রি, ভাষাগত দক্ষতা, পারস্পরিক যোগাযোগের সক্ষমতা- চাকরি প্রার্থীর এসব বিষয় নিয়োগের সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়ে থাকে। এছাড়া আবেদনকারীর স্মার্টনেস, বিষয়গত জ্ঞান কতটা গভীর তা যাচাই করা হয়ে থাকে। প্রার্থীর কমিউনিকেশন স্কিল, ইংরেজি দক্ষতা, কম্পিউটারে পারদর্শিতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, দায়িত্ববোধ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা সম্পর্কে ভাবনাগুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়। প্রস্তুতির বিষয়ে এইচএসবিসি ব্যাংক কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা বলেন, শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন দেখে ধারণা নেয়া যেতে পারে। সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা, মানসিক দক্ষতা, কম্পিউটার, অর্থনীতি, গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া প্রার্থীকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও দেশীয় অর্থনীতি নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। তাই অর্থনৈতিক সূচক, অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্সে বিভাগের গ্রাজুয়েটদের জব অপরচ্যুনিটি এবং ব্যাংকে চাকরির সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে একুশে টেলিভিশেন অনলাইনের সঙ্গে কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইন উদ্দিনের। এই বছর এইচএসসি পাশ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের সাবজেক্ট চয়েজের সুবিধার্থে এবং ব্যাংকে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতাউর রহমান। ড. মাইন উদ্দিনইটিভি অনলাইন : ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের গ্রাজুয়েটদের জব অপরচ্যুনিটি সম্পর্কে জানতে চাই?ড. মাইন উদ্দিন : ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শেখার সুযোগ হচ্ছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এখান থেকে পাস করা গ্রাজুয়েটরা ব্যাংকের যে কোনো বিভাগে কাজ করার যোগ্যতা নিয়ে বেরোয়। এ পর্যন্ত বিবিএ ইন ব্যাংকিংয়ের চারটি ব্যাচ বেরিয়েছে। তাদের চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত-বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের লুফে নিয়েছে। আবার ইনস্যুরেন্স বিষয়ে স্পেশালাইজ জ্ঞানার্জন করায় ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোও তাদের বেশি বেতনে চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের চাকরি হচ্ছে। বেতন ভাতা কম থাকায় একসময় আমাদের ছাত্ররা সিভিল সার্ভিসে যেতে চাইত না। কিন্তু বর্তমানে নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ায় ব্যাংকিংয়ের ছাত্ররা সিভিল সার্ভিসেও যেতে আগ্রহী। বিসিএসে ট্যাক্স, কাস্টম্স অ্যাক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডার তাদের প্রথম পছন্দ। আমার বিশ্বাস এই ক্যাডারে আমাদের ছাত্ররা অন্যদের চেয়ে ভালো করবে।ইটিভি অনলাইন : এ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কতটা আছে...ড. মাইন উদ্দিন: ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সে চাকরির প্রসপেক্ট ভালো থাকায় বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম এ বিষয়ে পড়ার প্রতি ঝোঁকছে। আমরা লক্ষ্য করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যারা ভালো করেন তাদের চয়েজ লিস্টে ৩ থেকে চার নম্বরে চলে এসেছে ব্যাংকিং। ব্যাংকিং সেক্টরে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের ধারণা, ব্যাংকিংয়ে পড়লে আধুনিক ব্যাংকিং সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞানার্জন করা সম্ভব হবে, যা তাকে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে অ্যাডভান্টেজ এনে দিবে। তাদের ধারণা সঠিক।ইটিভি অনলাইন : সরকারি চাকরিতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের প্রসপেক্ট কেমন?ড. মাইন উদ্দিন : অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্ররা সরকারি যেসব চাকরি করতে পারেন সেগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের বাধা নেই। তারাও বিসিএস, নন-ক্যাডারসহ প্রায় সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকিংয়ের ছাত্ররা সহজেই চাকরি পাচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি বছর প্রচুর শাখা খোলছে। এগুলোতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যবসায় অনুষদে শিক্ষকতা করতে পারছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ৯২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটিতে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ রয়েছে। সেখানে শিক্ষক নিয়োগেও ব্যাংকিংয়ের ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় কিনা?ড. মাইন উদ্দিন: ডাইরেক্ট প্রিফারেন্স দেয়া হয় না। তবে ভাইভাতে দেখা যায়, অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রদের সঙ্গে একজন ব্যাংকিং গ্রাজুয়েট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে স্বভাবতই বোর্ড ধরে নেয় ব্যাংকিং গ্রাজুয়েটের কাছ থেকে কর্মক্ষেত্রে ভালো আউটপুট আসবে। এছাড়া ভাইভাতে ব্যাংকিং গ্রাজুয়েটরা অন্যদের চেয়ে ভালো করে। কারণ ভাইভাতে ব্যাংকিং কনসেপ্টগুলো জিঞ্জেস করা হয় যেগুলো আমাদের ছাত্ররা ভালো জানে।ইটিভি অনলাইন : গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের কাজ করার সুযোগ হচ্ছে কিনা?ড. মাইন উদ্দিন : হ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাংকিংয়ের গ্রাজুয়েটদের চাহিদা রয়েছে। সিপিডি, মাইডাস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যানশাল, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, ব্র্যাক, বিভিন্ন ব্যাংকের গবেষণা সেলে, বাজেট নিয়ে কাজ করে এমন সব প্রতিষ্ঠানে রিসার্স অফিসার কিংবা রিসার্স অ্যাসোসিয়েট হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন এ বিষয়ের গ্রাজুয়েটরা।ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন আবেদনকারীর কোন যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়?ড. মাইন উদ্দিন : এখানে বেশ কিছু বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রার্থীর আইকিউ লেভেল যাচাই করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও বিষয়গত জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়। আর ভাইভাতে প্রার্থীর ‘ওয়ে অব প্রেজেন্টেশন’ দেখা হয়। তাই ভাইভায় প্রার্থীকে প্রেজেন্টেবল হতে হবে, স্বতঃস্ফূর্ত দ্রুত উত্তর করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীর স্মার্টনেস, বডি লেংগুয়েজ, কমিউনিকেশন স্কিল, আইটি নলেজ এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।ইটিভি অনলাইন : ব্যাংকিং বিভাগ শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক শিক্ষাটা কতটা দিতে পারছে?ড. মাইন উদ্দিন : ব্যাংক কোন কোন গ্রাউন্ডে-শর্তে গ্রাহককে লোন দেয়া হয় তা হাতে-কলমে শেখানো হয়। সেই সঙ্গে ব্যাংক থেকে কেস স্টাডি নিয়ে এসে তা ক্লাসে সমাধান করা হয়। কম্পিউটার ল্যাবে এক্সেলে স্ট্যাটিক্যাল প্যাকেজ অ্যানালাইসিস, ক্রেডিট রেটিং কিভাবে করতে হয় তা শেখানো হয় এখনকার ছাত্রদের। রিসেন্ট ব্যাংকিং প্র্যাকটিস, কনসেপ্ট ও টার্মগুলো শেখানো হয় এখানে। এভাবে ব্যাংকিংয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়োগিক শিক্ষাটা পাচ্ছেন।ইটিভি অনলাইন: যারা ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তারা কিভাবে নিজেদের তৈরি করবেন?ড. মাইন উদ্দিন : গতানুগতিক চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি রিসেন্ট ব্যাংকিং টার্ম-কনসেপ্ট ও প্র্যাকটিসগুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। বাজেট, বিভিন্ন দৈনিক ও ম্যাগাজিনের অর্থনেতিক বিশ্লেষণগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রদের জাতীয় দৈনিকের বিজনেস পাতা এবং অর্থনীতিবিদের বিশ্লেষণগুলো পড়তে হবে।ইটিভি অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।ড. মাইন উদ্দিন : আপনাকেও ধন্যবাদ। ইটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা।

মানসিক ভারসাম্যহীনদের পাগল বলবেন না প্লিজ

দীর্ঘ এক দশক ধরে যমুনা ব্যাংকের আইটি বিভাগে কাজ করছেন শামীম আহমেদ। চাকুরির পাশাপাশি মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তবে সেবার ধরনটা একটু ভিন্ন। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যারা রাস্তাঘাটে ভবঘুরে হয়ে পড়েন, যাদের দেখাশোনার কেউ থাকে না, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শামীম আহমেদ। রাস্তা থেকে কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে তুলে এনে সেবা দিয়ে সুস্থ্য করে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন তিনি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন রোগীকে সুস্থ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন শামীম আহমেদ। তারা এখন পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের সেবা দেওয়ার গল্প নিয়ে শামীম আহমেদ মুখোমুখি হয়েছেন ইটিভি অনলাইনের। সাক্ষাতকার নিয়েছেন কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক।

মাছের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার খুব সহজ বিষয় না

বাংলাদেশে বর্তমানে মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং মাছের জাত উন্নয়নে কতিপয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে মাছের বিদ্যমান ফাঙ্গাস রোগ প্রতিরোধ করা গেলেও তা রফতানির মানসম্পন্ন হচ্ছে না। যে কারণে চিংড়ির পাশাপাশি অন্য মাছ রফতানির তালিকায় স্থান করে নিতে পারছে না। তবে আশার কথা শোনালেন  নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সায়েন্সের অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী ড. ওয়েস্টাইন ইভেনসান (Oystein Evensen)। তিনি নরওয়ের নর্থইস্ট একুয়্যা নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে অটোজেনাস ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছেন। এই ভ্যাকসিন ব্যবহারে মাছের গুনাগুণ অটুট থাকবে বলে মনে করছেন তিনি। এছাড়া মৎসসম্পদ নিয়ে তার রয়েছে বিস্তর গবেষণা। গত ১৫ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে এসেছেন গবেষণার কাজে। রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তাঁর সঙ্গে কথা হয় ইটিভি অনলাইনের।

সময়ের চাহিদাসম্পন্ন পেশা

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রপ্রকৌশল দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তুৃত ক্ষেত্র। যন্ত্রপ্রকৌশলকে অনেকে মাদার অব অল ইঞ্জিনিয়ারিংও বলে থাকেন। কারণ প্রকৌশল শিক্ষার ভিত রচিত হয়েছিল যন্ত্রপ্রকৌশল প্রযুক্তির মাধ্যমে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যন্ত্রপ্রকৌশল অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। ফলে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের জন্য বিস্তৃত কর্মক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিউটিকেল ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, আইটি সেক্টরসহ অন্যান্য সব ধরণের মেনুফ্যাকচারিং শিল্পে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট এবং সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে প্রযুক্তির ব্যবহারেও যন্ত্রকৌশলীদের দরকার হচ্ছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রপ্রকৌশলের গ্রাজুয়েটদের জব প্রসপেক্ট নিয়ে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইনের (ইটিভি অনলাইনের) সঙ্গে কথা হয় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আরেফিন কাওসারের। তিনি যন্ত্রপ্রকৌশলের ওপর জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে বুয়েট থেকে একই বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স এবং ডুয়েট থেকে বিএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। এই যন্ত্রপ্রকৌশলী ২০০৪ সালে ডুয়েটের লেকচারার পদে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এইচএসসি পাশ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদেও সাবজেক্ট চয়েজের (কোন বিষয়ে পড়বেন) সুবিধার্থে আরেফিন কাওসারের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতাউর রহমান। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ অবারিত ------অধ্যাপক ড. আরেফিন কাওসার ইটিভি অনলাইন: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বা যন্ত্র প্রকৌশলীদের প্রসপেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই?  ড. আরেফিন : দেখুন, প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়েছিল যন্ত্রকৌশল প্রযুক্তির মাধ্যমে। কালক্রমে আজ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যন্ত্রপ্রকৌশল অপরিহার্য উপাদান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্প কারখানা, জ্বালানী শক্তির বিভিন্ন বিকল্প সৃষ্টি, নানা ধরণের ব্যবহারোপযোগি ম্যাটেরিয়াল উৎপাদন, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সমুদ্র খনি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ আহরণ, মেশিন ডিজাইন, জাহাজ নির্মাণ, এ্যারো স্পেস ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ্য পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে জ্বালানী তেল, গ্যাস ও মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন, রোবটিক্স টেকনোলজিসহ সর্বক্ষেত্রেই যন্ত্রপ্রকৌশলীদের অবদান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় শিল্পের গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখা এবং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেপলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে পণ্যের উৎকর্ষতা সাধনে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্তমানে চলমান প্রকল্প যেমনÑ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট এ প্রায় শতকরা ৫০-৬০ ভাগ যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রয়োজন, যারা দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মিটাতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করবে। আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বিরাট একটা অংশকে সম্পৃক্ত করার দরকার হবে। বিশেষ করে বর্তমানে ফুড ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিটিকেল ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, আইটি সেক্টরসহ অন্যান্য সব ধরণের মেনুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশের বিভিন্ন কল-কারখানায় এবং পৃথিবীর উন্নত দেশে গুলোতে উচ্চশিক্ষায় অবারিত সুযোগ রয়েছে। যন্ত্রপ্রকৌশল এমন একটি প্রযুক্তি শিক্ষা যার প্রয়োজন কখনোই শেষ হবে না। এছাড়া বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানীতে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যন্ত্রপ্রকৌশলীরা।ইটিভি অনলাইন: দেশের চাকরির বাজারে যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাহিদা আছে কতটা?ড. আরেফিন : উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বর্তমানে দেশে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের প্রচুর চাহিদা আছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ প্রায় সব দেশেই যন্ত্রপ্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন এবং দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়ছে। দেশে বর্তমানে টেক্সটাইল সেক্টরসহ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, স্টীল ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন ব্যবহার্য মালামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বিভিন্ন মেশিনারী সরবরাহের পর তা বসানো থেকে শুরু করে মেইনটেনেন্সের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে যে ধরণের পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে তাতে করে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ বাড়ছে। ইটিভি অনলাইন: সরকারি চাকরিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ কতটা আছে? সরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ আছে? ড. আরেফিন : সরকারি চাকরিতে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের যথেষ্ট সুযোগ আছে। যেমন- রেলওয়ে, বিমান, বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন, ড্রাইডক, স্টীল মিল, ওয়াসা, গ্যাস ফিল্ড, কোল মাইনিং, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিটাক, বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী প্রকল্পে ও পরিকল্পনায় কাজ করার ক্ষেত্রে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইটিভি অনলাইন: বেসরকারি সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাহিদা কতটা আছে? বেসরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছে?ড. আরেফিন : বেসরকারি সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারী পাওয়ার প্লান্ট, গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানী, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং অন্যান্য গ্রুপ যেমন- যমুনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপসহ বিভিন্ন বহুমাত্রিক পণ্য উৎপাদনের শিল্প কারখানায় যন্ত্র প্রকৌশলীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে এ্যারোস্পেস, ম্যাটেরিয়াল, লুব্রিকেন্ট, জাহাজ, ওষুধ উৎপাদন ইন্ডাস্ট্রীসহ বিভিন্ন সেক্টরে যন্ত্র প্রকৌশলীদেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইটিভি অনলাইন: যন্ত্র প্রকৌশলীদের বেসিক জব ফিল্ড কোনটি?ড. আরেফিন: ডিজাইন, ড্রইং, ইনফ্রাকচারাল কমিশনিং অ্যান্ড মেইনটেইনেন্স অব মেশিনারী, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ও অবকাঠোমোগত উন্নয়ন প্রকল্প যন্ত্রপ্রকৌশলীদের বেসিক জব ফিল্ড।ইটিভি অনলাইন: বিশেষায়িত জব ফিল্ড আছে কিনা, যেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হয়? ইটিভি অনলাইন:  যন্ত্র প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হয়ে নিজে প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রত্যয় আছে কিনা?ড. আরেফিন : অবশ্যই আছে। পৃথিবীর উন্নত দেশসহ বিভিন্ন দেশে যন্ত্রপ্রকৌশলীরা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া সাইন্টেফিক ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন থিওরি এফ ডব্লিউ টেইলরের মতো প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপ্রকৌশলীরাই দিয়েছেন। ইটিভি অনলাইন:  সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন যন্ত্র প্রকৌশলী চাকরির শুরুতে কোন পজিশনে যোগ দেয়?ড. আরেফিন : সাধারনত সহকারী প্রকৌশলী পদে শুরুতে যোগ দিয়ে থাকেন। এরপর ক্রমান্বয়ে প্রমোশন পেয়ে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত হয়ে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার, প্রেসিডেন্ট ও নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। ইটিভি অনলাইন:  একজন যন্ত্রপ্রকৌশলী প্রধানত কোন কাজগুলো করে থাকেন ?ড. আরেফিন : বিভিন্ন মেশিন ইনষ্টল, রক্ষণাবেক্ষণ, কোয়ালিটি ইন্সপেকশন, স্পেয়ার পার্টস পরিবর্তনের কাজ/ অটোমেশন, ডিজাইন, ডইং, লে-আউট ডিজাইন সহ মেনুফ্যাকচারিং এর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংক্রান্ত কাজ করে থাকেন। ইটিভি অনলাইন: বিদেশের শ্রমবাজারে আমাদের যন্ত্র প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ হচ্ছে কিনা?ড. আরেফিন :  বর্তমানে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যেমন- মধ্যপ্রাচ্যে এ বিদ্যুৎ সেক্টরে, কার মেনুফ্যাকচারিং, ম্যাইসিং, এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, প্রেট্রোলিয়াম ও কেমিক্যাল শিল্প কারখানায় যন্ত্রপ্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ রয়েছে। ইটিভি অনলাইন: যন্ত্রপ্রকৌশলের গ্রাজুয়েটদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা প্রশস্ত?ড. আরেফিন  : বর্তমানে প্রায় ২০-৪০% গ্রাজুয়েট আমেরিকা, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। যেখানে তাদের কেউ কেউ মৌলিক ও ফলিত গবেষণাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন। ইটিভি অনলাইন: একজন সফল যন্ত্রকৌশলীর কোন কোন গুনাবলী থাকে?  ড. আরেফিন: একজন যন্ত্রপ্রকৌশলী হবেন একজন দার্শনিকের মতো। তার পণ্যের ধারণা তৈরি থেকে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ সবক্ষেত্রে জানাশোনা ও ভ‚মিকা থাকবে। ইটিভি অনলাইন: কারা এই পেশায় শাইন করেন?ড. আরেফিন: যারা মৌলিক জ্ঞান অনুসরণ করে আর কঠোর পরিশ্রম করতে পারবে তারা এই পেশায় শাইন করবে। তবে এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ইটিভি অনলাইন: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ড. আরেফিন : আপনাকেও ধন্যবাদ। ্িটিভি অনলাইনের প্রতি শুভ কামনা রইল।  //এআর

ক্যাবলের গুণগত মানই আমাদের ভরসা

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার বিবিএস ক্যাবলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসা শুরু করেছেন বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস্ লিমিটেড (বিবিএস) এর মাধ্যমে। বর্তমানে বিবিএস গ্রুপে রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি বিবিএস ক্যাবলস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিবিএস ক্যাবলসকে নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন দেখেন। দেশের নাম্বার ওয়ান কোম্পানিতে পরিণত করতে চান বিবিএস ক্যাবলসকে। সম্প্রতি তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন ইটিভির সঙ্গে। তার সঙ্গে কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।  ইটিভি : ব্যবসার শুরুটা কীভাবে। আবু নোমান হাওলাদার : মূলত আমরা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা কয়েকজন প্রকৌশলী, যৌথভাবে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই ভালো। প্রথমদিকে স্টিল স্ট্রাকচার বিল্ডিং অনেকে চিনতো না। আমাদের যারা ক্লায়েন্ট তাদের কেউ কেউ জানতেন। আমাদের দেশের শিল্প-কারখানার বিল্ডিংগুলো অ্যাংগেলের বা আরসিসির হতো। এর জায়গায় আমরা প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং নিয়ে আসি। ইটিভি : স্টিল বিল্ডিং থেকে ক্যাবল তৈরির দিকে ঝুঁকলেন কেন? আবু নোমান হাওলাদার : ক্যাবল ইঞ্জিনিয়ারিং খাত সংশ্লিষ্ট একটি পণ্য। আর আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর নিয়ে কাজ করি। একটা বিল্ডিংয়ের সাথে ক্যাবলও সম্পৃক্ত। আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিল্ডিং তৈরি করি, নানা কাজে তাদের ক্যাবলও প্রয়োজন হয়। বিল্ডিং দিয়ে যেহেতু আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছি, তাই ক্যাবল উৎপাদন করলে সহজেই তাদেরকে ক্রেতা হিসেবে পাওয়া যাবে এমন ভাবনা থেকে এই শিল্প শুরু করি আমরা।  ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে বিবিএস ক্যাবলের যাত্রা শুরু। ২০১১ সালে আমরা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করি। যে কোনো শিল্পে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা যে সহজ নয় আমরা জানতাম। ক্যাবল শিল্পের চ্যালেঞ্জগুলোও আমাদের মাথায় ছিল। আমরা জানতাম, প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে উৎপাদিত ক্যাবলের গুণগত মান নিশ্চিত করা। ক্যাবল খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এর সঙ্গে সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। দ্বিতীয়টি চ্যালেঞ্জটি ছিল এই শিল্পে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাওয়া। আমরা এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস অটুট রেখে মেধা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে মাঠে নামি। ক্যাবলের গুণগত মানের উপর ভর করেই আমরা এতদূর এসেছি। ইটিভি : বিবিএস ক্যাবলস কী ধরনের ক্যাবল তৈরি করে। আবু নোমান হাওলাদার : আমরা অ্যালুমিনিয়াম ক্যাবলস, কপার ক্যাবলস, সিলিকন ক্যাবলস, অপটিক্যালস ফাইবার ক্যাবলস, পাওয়ার ক্যাবলস, রাবার ক্যাবলস, রেলওয়ে সিগনালিং ক্যাবলস, ওয়েল্ডিং ক্যাবলস, জেলিফিলস ক্যাবলস, অটোমোবাইলস ক্যাবলস, সাবমার্সিবল ক্যাবলস, কক্সিয়াল ক্যাবলস, ফেল্ক্সিবল ক্যবলস, হাউজ ওয়ার ক্যাবলসহ বিভিন্ন ধরনের ইলক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক এবং টেলিকমনিকেশন ক্যাবলস উৎপাদন করি। ইটিভি :  ক্যাবলের মানের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করেন। আবু নোমান হাওলাদার : আমাদের খুবই সমৃদ্ধ একটি ল্যাবরেটরি আছে। উৎপাদিত ক্যাবলস প্রথমে সেই ল্যাবে পরীক্ষা করি। এখান সফল হওয়ার পরে অন্যদিকে যাই। আইএসই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যে ধরণের পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়, সেগুলো করার পরে আমরা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাই। নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাইরে আমরা বুয়েট ও থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরীক্ষা করি। যেমন বুয়েটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিপিআরআই পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের আছে। সরকারের যে কোনো টেন্ডারে এই দুটি রিপোর্ট চায়। এর বাইরেও মাঝে মাঝে আমরা আন্তর্জাতিক আরও পরীক্ষা করে থাকি। ইটিভি : দেশে প্রায় শ’খানেক কোম্পানি ক্যাবল প্রস্তুত করছে। এতো প্রতিযোগিতার মধ্যে কেমন করছে আপনার প্রতিষ্ঠান? আবু নোমান হাওলাদার : বাজারে আসার কিছু দিনের মধ্যেই বিবিএস ক্যাবলস নিজেদের একটি জোরালো অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়। পণ্য তথা ক্যাবলসের গুণগত মান দিয়েই আমরা এটি করেছি। প্রথমত: আমরা আমাদের মেশিনারিজ এনেছি জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে। দ্বিতীয়ত: র-মেটেরিয়াল প্রথম দিন থেকে এলএমই ক্যাথটিক ব্যবহার করি। এই এলএমই ক্যাথটি জাপানের মারুবেনি কোম্পানি থেকে নিয়ে আসি। কাজেই আমাদের মেশিনারিজ নাম্বার ওয়ান। আমরা ভালো মানের কাঁচামাল জাপান থেকে আমদানি করি। তৃতীয়ত: আমাদের ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা হলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় কাজ করা অভিজ্ঞ ও সুনামধারী। এই তিনের তিনের সমন্বয়ে বিবিএস ক্যাবলস প্রথম দিন থেকে ভালো মানের ক্যাবলসে রূপ নিয়েছে। ইটিভি : বৈদ্যুতিক ক্যাবল শিল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপট কেমন বলে আপনি মনে করছেন? আবু নোমান হাওলাদার : ইলেকট্রিসিটি বর্তমান সরকারের একটা প্রায়োরিটি সেক্টর। জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার হারও তেমনি বাড়ছে। কাজেই বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে বৈদ্যুতিক ক্যাবলের চাহিদাও বেশ ভালো। ইটিভি : আমরা যতটুকু জানি খুব কম সময়ের মধ্যে আপনারা ভালো  অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। বড় বড়  উদ্যোগের ফলে দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রফতানির দিকে ঝুঁকছেন। এই জায়গাগুলো যদি একটু বলেন-  আবু নোমান হাওলাদার : বিবিএস ক্যাবলস ২০১১ সালে মার্কেটে আসে। মার্কেটে আসার আগে দু’বছর ফ্যাক্টরি, মেশিনারি সিলেকশন এবং টেকনিক্যাল ম্যান পাওয়ার সিলেকশনের ব্যাপারে কাজ করি। আমরা অস্ট্রেলিয়ান একজন কনসালটেন্ট নিয়োগ করি। যার ফলে আমরা বিশ্বমানের একটা ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে সক্ষম হই। বর্তমানে যারা লেটেস্ট মেশিনারি তৈরি করেন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদের ফ্যাক্টরিতে মেশিন সংযোগ করি। সাথে সাথে আমাদের রেপুটেড যে সকল ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রোডাকশন পিপল রয়েছেন তাদেরকে আমরা আমাদের ফ্যাক্টরিতে আমাদের সাথে সংযোগ করি। অনেকে বলে থাকেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের মার্কেটিং ও সেলস টিমটা বেশ ভালো টিম। সবগুলোর সমন্বয়ে আমরা প্রথম দিন থেকে বিশ্বমানের ক্যাবল ভোক্তাদেরকে দিতে পেরেছি। আমরা আমাদের রেপুটেশন ধরে রেখেছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা বেষ্ট ক্যাবল তৈরি করেছি। ইটিভি : কোয়ালিটির পাশাপাশি নিন্মমানের প্রোডাক্ট বিক্রির অভিযোগ আমরা ক্রেতাদের কাছে পাই। এটা আপনি কিভাবে দেখেন? আবু নোমান হাওলাদার : আমার একটু দুঃখ কাজ করে বাংলাদেশে প্রায় ১০০ টার মতো কোম্পানি ক্যাবল তৈরি করে। তার মধ্যে আমার মনে হয় যে, ৮০ থেকে ৮৫ জনই নকল ক্যাবল তৈরি করে। তাদের মার্কেট ছোট, তাদের ব্রান্ড নেই, অন্যান্য ব্রান্ডের ক্যাবল আছে তাদেরকে তারা নকল করে। কিন্তু আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা আপনাদের নিজস্ব ব্রান্ড নিয়ে কোয়ালিটি নিয়ে মার্কেটে আসেন। কারণ, এটা আমাদের দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দরকার। এটা যেকোনো প্রোডাক্ট না। ইলেকট্রিসিটি বিপদজনক, এটা আমাদের জীবনের সাথে মিশে গেছে। কাজেই ইলেকট্রিসিটি পরিবহন করার জন্য যে ক্যাবল, সেটা নিরাপদ হতে হবে। এটা শুধু ব্যবসায়িকভাবে না, এটা আমাদের দেশের স্বার্থে, কোয়ালিটির স্বার্থে প্রয়োজন। আপনারা কোয়ালিটি ক্যাবল নিয়ে আসেন। আর যারা ক্যাবল কিনেন বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ইঞ্জিনিয়ার নেই, যেখানে আমাদের ইউজাররা সচেতন নন, তাদের আমি অনুরোধ করব আপনারা ব্রান্ড ক্যাবল ব্যবহার করুন। এবং আপনারা একটু, আপনাদের পরিচিতদের বা শিক্ষিত যারা, তাদের পরামর্শ নিন এবং ভালো ক্যাবল ব্যবহার করুন। ইটিভি : ঢাকা শহরের মানুষ হয়ত কিছুটা সচেতন কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফারাকটা হয়ত অনেকে বোঝেন না। সে ফারাকটা আসলে বোঝার উপায় কী? আবু নোমান হাওলাদার : খারাপটা বোঝার উপায় আসলে নেই। কারণ, ক্যাবল টেস্ট সবখানে করার সুযোগ নেই। ক্যাবল টেস্টের জন্য যে সকল মাধ্যম আছে, যেমন বুয়েট। সবখানে এ সুযোগ নেই। তবে দেশব্যাপী যেসব কোম্পানির ডিলার আছে তাদের পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বিবিএস ক্যাবলের ডিলার আছে সারা দেশে। এসব জায়গা থেকে যদি কেনা যায় তবে প্রতারিত হবে না। ইটিভি : কিন্তু যারা সুনামের সাথে কাজ করছেন তাদের নাম, লোগো দিয়ে যারা বৈদ্যুতিক ক্যাবল তৈরি করেছেন তাদের আসলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? আবু নোমান হাওলাদার :  এটা আসলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আমি মনে করি যে, খাদ্যের ভেজাল যেভাবে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে সেভাবে এটা করা দরকার। সরকারের কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি কাজ করে তবে অনেকভাবেই নকল প্রতিহত করা যাবে। বুয়েট থেকে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন। আমাদের কাছে চাইলে আমরাও ইকুপমেন্ট দিয়ে, লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করতে পারব। এটা অতীব দরকার, জনস্বার্থে দরকার। ইটিভি : ইলেকট্রিক ক্যাবলের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ এক সময় আমদানিনির্ভর ছিল, সেখান থেকে আমাদের বড় চাহিদা আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলো পূরণ করছে। এখন রফতানি করতে পারবে কিনা? এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা কেমন? আবু নোমান হাওলাদার : প্রথমে ক্যাবল আমদানিনির্ভর ছিল। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই, পূর্বসূরি ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর মালিকদের। যারা আমাদের এই পথ দেখিয়েছেন। যেমন সুপার সাইন, বিআরবি ক্যাবলস। যারা বিদেশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনকারী হিসেবে নাম করেছেন। এবং তাদের দেখানো পথে আমরা এই পথে এসেছি। সরকারি লেভেলে কিছু ইমপোর্ট হচ্ছে। আমাদের ক্যাবলের জবাবদিহিতা রয়েছে। ইমপোর্ট করতে গেলে হয় কি, যেমন পোর্টের মাল আসার পর তাদের জবাবদিহিতা থাকে না আর। যেখানে আমাদের জবাবদিহিতা থাকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ক্যাবল কিনলে উনারা আমাদের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আমরা সতর্কতার সাথে এটাকে দেখি। ইটিভি : পুরো আমদানি নির্ভরতা থেকে চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির প্রত্যাশা করেছেন। সে ক্ষেত্রে সক্ষমতার জায়গাটা সম্পর্কে যদি বলেন - আবু নোমান হাওলাদার : আগামী দু’তিন বছর পর আমাদের নিজস্ব উৎপাদন থেকে একটা সময় আসবে, বাংলাদেশ ক্যাবল আমদানি না করে রপ্তানি করতে পারবে। এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আমাদের অফিস, ফ্যাক্টরি, সেটআপ বাড়াচ্ছি। এটা শেষ করতে ১ বছরের মতো সময় লেগে যাবে। আর এক্সপোর্ট করতে গেলে কিছু সার্টিফিকেশনের দরকার হয়। আশা করছি ১ বছরের মধ্যে এটা শেষ করতে পারব। বাংলাদেশের বড় ধরনের একটা আয় হবে এই শিল্পে। ইটিভি : সেক্ষেত্রে সরকারের কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন- আবু নোমান হাওলাদার : এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে আমরা ইনসেনটিভ প্রত্যাশা করি। কারণ, মার্কেটে প্রথম ঢুকতে গেলে বাঁধা-বিপত্তি থাকে। সরকার যদি প্রথম দিক থেকে ১৫- ২০ শতাংশ ইনসেনটিভ দেন তাহলে প্রতিযোগিতা থাকে।  ইটিভি : বিবিএস ক্যাবল করছে কী ধরণের প্রোডাক্ট তৈরি করছে? এক্সপোর্ট করতে গেলে উচ্চমূল্য সক্ষমতা কতটুকু? আবু নোমান হাওলাদার : ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট হিসেবে আমরা ক্যাবল তৈরি করছি। এক্সপোর্ট মার্কেটেও একই রকম। বাহিরে এক্সপোর্ট করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আশা করছি সেগুলো হয়ে যাবে। ইটিভি : বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বড় ধরনের বিপদ ঘটে। অসচেতনতার কারণে কমদামি তার ব্যবহার করার কারণে সেফটি সিকিউরিটি থাকে না। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? আবু নোমান হাওলাদার : আপনি যদি খারাপ ক্যাবল ব্যবহার করেন তাহলে বিপদ ঘটবে। কোয়ালিটি ক্যাবল উৎপাদন করে আমাদের কাজ শেষ। যিনি কানেকশন দিবেন তিনি যদি তারে লুজ রাখেন তাহলে শর্ট সার্কিট হবে, আগুন লাগবে, ইস্পারকিং হবে। লোড ক্যালকুলেশন খুব জুরুরি। বৈদ্যুতিক পাখার তার দিয়ে তো আর ফ্রিজ চলবে না। কাজেই তার ভিন্ন হবেই। বেশি কারেন্ট ড্র করতে গিয়ে সেখানে বিপদ ঘটে। আমরা মনে করি ইলেট্রিসিয়ানরা যদি শিক্ষিত হন, সচেতন হন তবে বিপদ কম ঘটবে। ইটিভি : বিবিএস ক্যাবল পুঁজিবাজারে ট্রেডিং করছে, অনুমোদন পেয়েছে। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কী ? আবু নোমান হাওলাদার : আমি এই ক্ষেত্রে ধন্যবাদ জানাতে চাই, শেয়ারবাজারে যাদের বিও হিসাব আছে। কিন্তু আমাদের কোম্পানির আইপিওতে অনেক আবেদন জমা পড়েছিল। আমি মনে করি বিবিএস ক্যাবলের শেয়ার যারা রাখবেন তারা বেষ্ট শেয়ার রাখছেন। এটা অব্যাহত লাভ দিয়ে যাবে। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। ইটিভি : বিবিএস ক্যাবলস্ নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? আবু নোমান হাওলাদার :  বিবিএস ক্যাবলসকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্যাবল প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে উন্নীত করতে চাই। সেই বিশ্বাস নিয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ কাজ করছে। দ্বিতীয়ত বিবিএস ক্যাবলস রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামী বছর থেকে আমরা ক্যাবল রপ্তানি করার স্বপ্ন দেখছি। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজও করছি।

‘নাগরিকরা সচেতন হলেই  ভোক্তা অধিদফতর সফল’

পণ্যে ভেজাল, অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রি, মূল্যে কারসাজি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ওজন কম দেয়াসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটি গত আট বছরে বাজার তদারকির মাধ্যমে পণ্যে ভেজাল, মূল্য কারসাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৯ হাজার ৫৬২টি প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪শ’ টাকা। বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে ভোক্তা অধিদফতর। এ কারণে ভোক্তাদের কাছ থেকে সাড়াও পাচ্ছে। শুরুর দিকে অভিযোগ কম পেলেও দিন দিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। সঠিক অভিযোগদাতাকে আদায়কৃত জরিমানার এক চতুর্থাংশ দেয়ায় অনেকেই ব্যবসায়ীদের অসাধু তৎপরতার বিরুদ্ধে অধিদফতরে অভিযোগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে অধিদফতর। ভোক্তা অধিদফতরের সামগ্রিক ও সাম্প্রতিক কার‌্যক্রম নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের (ইটিভি অনলাইন) মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইয়াসির আরাফাত রিপন। ইটিভি অনলাইন:  অধিদফতরে কি ধরণের অভিযোগ আসে? শফিকুল ইসলাম:  সাধারণত পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, মূল্য তালিকা না থাকা, নির্ধারিত দামে চেয়ে বেশি মূল্য নেয়ার অভিযোগ আসে ভোক্তাদের কাছ থেকে। এছাড়া মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারিত করা, দৈর্ঘ্য পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপির, অবহেলা দ্বারা সেবাগ্রহিতার জীবন বিপন্ন করা, স্বাস্থ্য হানি ঘটানোর পণ্য বিক্রয় ইত্যাতি।  আবার খাদ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন বা পরিবেশন করা বিষয়ে অভিযোগ আসে। ইটিভি অনলাইন: ভোক্তা অধিদফতরে এ বছর কী পরিমাণ অভিযোগ এসেছে? শফিকুল ইসলাম লস্কর: অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত আট বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে। ২০১৫ সালে অভিযোগ এসেছিল মাত্র ২২৫টি। পরের বছর এ সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৬২২টিতে উন্নীত হয়। আর চলতি বছর প্রথম দুই মাসেই অভিযোগের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮২টিতে দাঁড়িয়েছে। যা বছর জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৬টিতে। ইটিভি অনলাইন:  তাহলে বলাই যায় যে, বছরটি আপনাদের জন্য সফলতার বছর ? শফিকুল ইসলাম লস্কর: না, এটা সফলতার বছর বলা যাবে না। সফলতা তখনই আসবে যখন দেখব দেশের সব নাগরিক সচেতন। দেশের সব কোম্পানিগুলো বা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো পণ্যে ভোক্তাকে প্রতারিত করছে না। অধিদফতর আর কারোর অভিযোগ পাচ্ছে না। তখনই আমরা সফল হব, সফল হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইটিভি অনলাইন:  ভোক্তা অধিদফতরের কার‌্যক্রম নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? শফিকুল ইসলাম লস্কর: শুধু অধিদফতরের মাধ্যমেই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ করা যাবে না। এ জন্য চাই সবার সচেতনতা। এজন্য সারাদেশে এবার ৮০টি গণশুনানি করেছি যা গত বছরের ছিল ১৪টি। ৩১৯টি সেমিনার করেছি, জেলাগুলোতে প্রতিনিয়ত সভা চলে সচেতনতা করতে। ইটিভি অনলাইন: ভোক্তা অধিদফতরে যে অভিযোগ বাড়ছে এর জন্য কার অবদান বেশি, ভোক্তার নাকি অধিদফতরের ? শফিকুল ইসলাম লস্কর: সফলতার পিছনে ভোক্তাদের অবদান আছে কারণ। তারা আমাদের এখানে অভিযোগ করছেন বলেই আমরা জানতে পেরে কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি। সবচেয়ে বেশি অবদান বলব অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। কারণ তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, সততার পরিচয় দিচেছন। ইটিভি অনলাইন:  একটা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে কতদিন সময় লাগে? শফিকুল ইসলাম লস্কর:  ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ৭ দিনের মধ্যেই এটা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বড় গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো সিনিয়র আইনজীবী নিয়ে আসেন, এ ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে। তবে আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে। ইটিভি অনলাইন: অধিদফতরে কর্মীরা বা অধিদফতর কোনো ধরনের চাপে আছে কিনা কিংবা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে কিনা? শফিকুল ইসলাম লস্কর:  প্রশ্নই ওঠেনা। এখন পর্যন্ত অধিদফতর কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। হয়ত ছোট-খাট বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে কেউ কেউ আসে। কিন্তু অধিদফতর তাদের কোনো পাত্তা দেয় না। আর এক্ষেত্রে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে অধিদফতরের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ইটিভি অনলাইন:  বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ আসে তখন অধিদফতর কী কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়? শফিকুল ইসলাম লস্কর: ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান যারা অনিয়ম করে সবার বিরুদ্ধেই আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। অভিযোগ তদন্ত শেষে বহু প্রতিষ্ঠানকে আমরা জরিমানা করেছি। দেশের টেলিকম খাতের প্রায় সব কোম্পানির বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়া দেশের বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানি ছাড়াও বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। মোট কথা হলো কোম্পানি ছোট আর বড় হোক অপরাধ করলে, অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইটিভি অনলাইন: একটা প্রতারক চক্র আছে, যারা জরিমানার ২৫ ভাগ পাওয়ার আশায় বড় বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসে। তাদের ক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কি? শফিকুল ইসলাম লস্কর:  হ্যাঁ এক শ্রেণীর প্রতারক আছে যারা জরিমানার ২৫ শতাংশ পাওয়ার আশায় অভিযোগ করে। অধিদফতর এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। অধিদপ্তর এসব প্রতারকের ফাঁদে কখনই পা দেয় না। তাছাড়া আমরা বুঝতে পারি কারা প্রতারক, তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসে। ইটিভি অনলাইন:  শুনেছি আপনাদের জনবল কম, আপনার মতামত কি? শফিকুল ইসলাম লস্কর:  হ্যাঁ আমাদের এখানে জনবল সংকট রয়েছে। প্রতিটি জেলায় আমাদের জনবল নেই।  প্রতিটি জেলায় জনবল দেয়া গেলে আমাদের কাজটা এগিয়ে নেওয়া আরও সহজ হতো। ঢাকায়  অধিদফতরের ১৪ জন বিচারক রয়েছেন। যারা তদন্ত সাপেক্ষ অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি করেন। তাছাড়া সারা দেশে আরও ৪৫জন বিচারক রয়েছেন। ৬৪টি জেলাতেই আমরা বিচারক দিতে পারিনি। তবে আগামীতে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে প্রতিটি জেলাতেই বিচারক থাকবে আশা করি। আইটিভি অনলাইন:  আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। শফিকুল ইসলাম লস্কর:  ইটিভি অনলাইনকেও ধন্যবাদ। //আর//এআর    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি