ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪৬:৪৯

‘আমৃত্যু বাংলার মানুষকে সেবা দিয়ে যাবো’

‘আমৃত্যু বাংলার মানুষকে সেবা দিয়ে যাবো’

বাংলাদেশে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের সেবায় এক অনন্য নাম ভ্যালেরি টেইলর। যিনি জন্ম সূত্রে ব্রিটিশ হয়েও এ দেশের মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন নিজের জীবন। মানুষের প্রতি সেবা ও ভালোবাসা দিতে গিয়ে জীবনের ৭৪টি বসন্ত কেটে গেছে। মানব সেবা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দুরে সরিয়ে রেখেছেন। বিয়েটাও করা হয়নি।
‘লন্ডন দূতাবাসে হামলা প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য অসম্মানের’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর সাজা হয়েছে। একই মামলায় দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। দুই শীর্ষ নেতা দুর্নীতিবাজ প্রমাণ হওয়ায় বিএনপির অবস্থা এখন টালমাটাল। দলটির রাজনীতির ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কিত নেতাকর্মীরা। জাতীয় নির্বাচনও আসন্ন। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার কারাবাস কী দীর্ঘ হবে নাকি জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসতে পারবেন, এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দুর্নীতি মামলায় সাজার খড়গ মাথায় নিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, এ নিয়েও চলটির নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন। তবে এ বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে উচ্চ আদালতের রায়ের ওপর। এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায় পর্যবেক্ষণ করে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন। এদিকে বিএনপি নেত্রীর সাজার রায়ে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য অসম্মানের বলেও মন্তব্য করেন তুরিন আফরোজ। যুক্তরাজ্যের কাছে আন্তর্জাতিক আইনে বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ চাওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এখন কী তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজঃ আমাদের সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের কারণে কারো যদি অন্তত দুই বছরের সাজা হয়, তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বেগম জিয়া যে মামলায় কারাগারে গেলেন নিঃসন্দেহে তিনি নৈতিক স্খলনের দোষে দুষ্ট, এতে সন্দেহ নেই। তবে, তিনি সবেমাত্র নিম্ন আদালত থেকে একটি রায় পেয়েছেন এবং রায়ের দণ্ড কার্যকর শুরু হয়েছে মাত্র। তিনি এখন আপিল করবেন। এখন দেখার বিষয় শুনানির পর উচ্চ আদালত কী বলে। এমন হতে পারে আপিল গ্রহণের পর উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত করে দিলেন। সেক্ষেত্রে তিনি মুক্তি পেলেন। আপিলের রায় না আসার আগেই যদি নির্বাচন চলে আসে, সেক্ষেত্রে বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেও পারেন। এর কারণ, আপিলের রায়ে যতক্ষণ পর্যন্ত তার অপরাধ প্রমাণিত হবে না, ততক্ষণ তার দণ্ড কার্যকর হবে না। এদিকে আইনে বলা আছে, সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় যদি রায় হয় এবং সেই রায়ে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ শুন্য হয়ে যাবে। আর যদি তিনি ওই মামলা থেকে খালাস পান বা দুই বছরের কম কারাদণ্ড পান, তাহলে সংসদ সদস্য থেকে যাবেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপিল খারিজ হলে তিনি কি রিভিউ’র সুযোগ পাবেন?ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজঃ হ্যাঁ, তিনি আপিল রিভিউ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু এখন আমাদের দেখার বিষয় হাইকোর্ট কী বলছেন। এমনও হতে পারে যদি দণ্ড কার্যকর থাকে, তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও কারাগারে থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কী এমন কোনো সম্ভাবনা আছে?ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ : অবশ্যই, এমন হতে পারে যে, খালেদা জিয়া জেলে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এরইমধ্যে আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত যদি নির্বাচন হয়, সেক্ষেত্রে এই রায় উচ্চ আদালতে স্থগিত হলে খালেদা জিয়া কারাগারে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। যেহেতু উচ্চ আদালত এখনও কিছুই বলেননি সেহেতু মামলাটি এখনও শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আমাদেরকে এখন দেখতে হবে উচ্চ আদালত বিশেষ আদালতের রায়ের উপর কী নির্দেশনা দিচ্ছেন। এরপরই খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি খোলাসা হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশনা রায়ে থাকতে পারে কি না?ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজঃ না, নির্বাচনের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায়ে কিছু লিখা থাকার কথা না। কারণ, এ রায়ের বিবেচ্য বিষয় নির্বাচন নয়। এ রায়ের বিবেচ্য বিষয় অর্থ আত্মসাৎ। সে কারণে তিনি যখন উচ্চ আদালতে যাবেন তখন দণ্ড কার্যকর হচ্ছে কি হচ্ছে না বা কী দণ্ড হবে তা আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না, রায় বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন তখন আদালতের রায় পর্যালোচনা করে জানাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার আছে কি নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন?ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজঃ লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক এবং নিন্দনীয়। প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য এটি অসম্মানের। যখন বিদেশিরা আমাদের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে নাক গলায় তখন আমরা প্রতিবাদ করি, ক্ষোভ জানাই। কেন তারা নাক গলাবে তা নিয়ে প্রতিবাদ করি। কিন্তু আদালতের রায় নিয়ে বিদেশের মাটিতে যা ঘটলো তা কি মানুষের কাজ? রায় আমার পক্ষে যেতে হবে, না গেলে যা ইচ্ছা তা করব- এটা তো কোনো সভ্য মানুষের চিন্তা বা আচরণ হতে পারে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ওই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? এতে যুক্তরাজ্য সরকার দায় এড়াতে পারে কি না?ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজঃ আন্তর্জাতিক আইনে আমাদের কূটনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে তা ব্যহত হয়েছে। আমাদের হাইকমিশন বা দূতাবাসগুলো পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী। আমরা এখন দেখলাম হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার সেই সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় তারা এড়াতে পারে না। আমি মনে করি যুক্তরাজ্য সরকার কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। ‘Chorzow Factory Case’ মামলায় আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো- কেউ যদি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেখানে ক্ষতিপূরণ পাওয়া তার একটি সাধারণ অধিকার। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ তাদের দূতাবাসে যে ভাংচুর হয়েছে, সেজন্য যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরন চাওয়ার অধিকার রাখে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশ সরকার তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজঃ একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। / এআর /

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের এখনই সময়

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ও উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে এখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির। বর্তমান সরকারের নেওয়া তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে দেশের ‘গ্রোয়িং সেক্টর’ (উদীয়মান খাত) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ খাতের উন্নতি করতে হলে, আগামী বাজেটেই শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারসহ তথ্য-প্রযুক্তির কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমাতে হবে। আজ সোমবার ইটিভি অনলাইনের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। নিচে, সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদক মোহাম্মদ জুয়েল। ইটিভি অনলাইন: শুরুতেই বেসিসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায়, ইটিভির পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট বলা চলে বেসিসকে। সেখান থেকে দেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বেসিস কি ধরণের ভূমিকা রাখছে? সৈয়দ আলমাস কবির: ধন্যবাদ, ইটিভি অনলাইনকে। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণে বেসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে, বেসিসের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা প্রদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে বেসিস এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিটি সদস্যই বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছে। পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যই দেশের তরুণদের স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে বর্তমান শ্রম বাজারের যুগোপযোগী করে তুলছে। এতে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত দক্ষ তরুণ দেশের শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের সহযোগিতায় বেসিস ২৩ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের জন্য বাঁছাই করেছিল, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার তরুণকে এসইআইপি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এ বছরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইটিভি অনলাইন:দেশে প্রায় ২৬ লাখ তরুণ রয়েছেন, যারা কর্মক্ষম কিন্তু বেকার জীবনযাপন করছেন। এই সংখ্যাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়? সৈয়দ আলমাস কবির: দেখুন শুরুতেই বলতে হচ্ছে, তারা কেন বেকার জীবন-যাপন করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ পড়ালেখা শেষ করে বিভিন্ন চাকরির পেছনে দৌঁড়াচ্ছেন। চাকরির বয়সসীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই দৌড় চলতে থাকে। কিন্তু তাঁরা যদি শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ হয়ে বেরোতেন, তাহলে কি তাঁদের ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হতো? হতো না। তাই বর্তমান বেকারত্ব হ্রাসে প্রযুক্তি খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে তাঁদের দক্ষ করে তুলতে পারলে এ বেকারত্বের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ শিক্ষার্থীকে বেসিস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইটিভি অনলাইন: শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন বলতে কি বোঝাচ্ছেন? আর আমাদের এ শিক্ষাব্যবস্থায় কিভাবে পরিবর্তন আনা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন। সৈয়দ আলমাস কবির: আমাদের প্রথাগত শিক্ষা দিয়ে দক্ষ ও উন্নত জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব না, এটা ইতোমধ্যে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বুঝতে পেরে শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মমূখী শিক্ষাকে যোগ করেছেন। তবে শুধু শেখালেই হবে না, তাঁদের দক্ষ করে তুলতে হলে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে শিক্ষার্থীদের।ইতোমধ্যে আমরা ইউজিসির সঙ্গে বসেছি। স্নাতক পর্যায়ে কিভাবে অন্তত দুয়েকটি ক্রেডিটে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়টি যোগ করা যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছি। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বেসিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে এটা করা হচ্ছে, এরপরই ইউজিসি অনুমোদন দিলে আমরা দেশব্যপী স্নাতক পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করবো। আর এটা কেবল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব শিক্ষার্থীদের টানা ১ থেকে তিন মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তারা মোটামুটি দক্ষ জনশক্তি হয়ে গড়ে ওঠবে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন চুকিয়ে তাঁরা সরাসরি কর্মে প্রবেশ করতে পারবেন। আর বছরের পর বছর তাদের অপেক্ষা করতে হবে না। ইটিভি অনলাইন: বেসিসসহ এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো কোন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে? সৈয়দ আলমাস কবির: স্বল্প শিক্ষিতরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। তবে বিশেষ করে স্নাতক পাশ করা শিক্ষার্থীরা এখানে কাজের সুযোগ বেশি পাবেন। এখানে কেবল টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিতরাই প্রশিক্ষণ নিবে এমন নয়, আগ্রহী সবাই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। বিশেষ করে নারীরা এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে আউটসোর্সিং বা সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন। ইটিভি অনলাইন: বর্তমানে দেশে কতজন এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন? আর আমাদের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান কেমন? সৈয়দ আলমাস কবির: বর্তমানে ঠিক কতজন এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন, সে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে জানার জন্য আমরা ইতোমধ্যে বাজার গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এ পেশার সঙ্গে অন্তত ৩ লাখ লোক জড়িত আছেন। যাদের মাসিক আয় ১ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। আর এ খাতের বর্তমান আয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে পারলে রফতানি খাতে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসবে। ইটিভি অনলাইন: দেশের ব্রডব্যান্ড সেবা নিয়ে বলুন? সৈয়দ আলমাস কবির: দেখুন, দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা একেবারেই কম। দেশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ। যেখানে, ব্রডব্যান্ড সেবা পাচ্ছে ৫ শতাংশ মানুষেরও কম। তাই তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে গেলে অবশ্যই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমান সরকার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ সেবা পৌঁছে দিত সক্ষম হয়েছে। তবে প্রান্তীক পর্যায়ে এখনো পৌঁছে দিতে পারছে না। এদিকে ব্রডব্যান্ড কাচামালের কর আরোপ বিষয়ে তিনি বলেণ, সরকার প্রচুর পরিমাণ করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে এ খাতে। প্রয়োজনীয় কাচামালের ওপর সরকার যে ভ্যাট আরোপ করেছে, সেটা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি।তবে সম্প্রতি সরকার এ খাতে একটি বোনাস সুবিধা ঘোষণা করেছেন। যা এ খাতকে আরও বহুদুর নিয়ে যাবে বলে মত দেন তিনি। এদিকে তথ্য-প্রযুক্তির এ সম্ভাবনার খাতটি থেকে সব ধরণের বাধা দূরীকরণে সরকারকে অবশ্যেই আগামী বাজেটের আগে ভ্যাটের পরিমাণ কমাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষায় ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দিকে যেতে হলে আগামী বাজেটেই এর নীতি প্রণয়ন করে তা সংসদে পাশ করার দাবি জানান তিনি। ইটিভি অনলাইন: আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ! সৈয়দ আলমাস কবির: একুশে টেলিভিশনকেও ধন্যবাদ! এমজে/

শিগগিরই বিএনপির স্লোগান হবে ‘দুনিয়ার দুর্নীতিবাজ এক হও’

দেশের বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান দুটি আলোচিত বিষয়ের একটি হলো আগামী আট ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হতে যাওয়া খালেদা জিয়ার মামলার রায়। অন্যদিকে রায় ঘোষণার আগে তড়িঘড়ি করে বিএনপি তাদের গঠণতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টিও রাজনীতিতে মুখরোচক মন্তব্য করার সুযোগ দিয়েছে। রায় ঘোষণার আগেই রায় নিয়ে দলটির হুংকারে একদিকে যেমন সরকারক সতর্ক থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেমনি অন্যদিকে গঠণতন্ত্র সংশোধনে ও রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে কড়া মন্তব্য করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে কাঁঠালের আঠার মতো ছাড়াতে গিয়ে যেন আরো বেশি করে আঠায় জড়িয়ে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপির এ দুটো বিষয় রাষ্ট্রীয় আইন কীভাবে দেখে? সেই কৌতূহল থেকেই নেওয়া হয়েছে এ সাক্ষাৎকার। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধ, জামাত- বিএনপির রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও মৌলবাদ সংশ্লিষ্ট নানা সাহসী মন্তব্য করে বার বার আলোচনায় এসেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এবারো বিএনপির এ দু’টি আচরণের আইনী ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে এ বিশেষজ্ঞের কাছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঠিক সেই সময়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয় এতিমখানার ঠিকানা নিয়ে। খালেদা জিয়ার পক্ষে নিযুক্ত কোনো আইনজীবী ও সেই এতিম খানার ঠিকানা জানাতে পারেন নি। একজন আইনজীবী হিসেবে বিষয়টিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: প্রথমত, বিএনপি এ মামলাটিকে নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। খোদ বিএনপির মধ্যেও এ বিষয়টি নিয়ে বিরাজমান অস্থিরতা জনগণকে চিন্তিত করে তুলছে। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলটি আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বা শ্রদ্ধাশীল কিনা তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে লম্বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার কার্যক্রম এখন প্রায় শেষের দিকে যখন এসেছে। অর্থাৎ রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত তখনই দলের নেতাকর্মীরা বিচারাঙ্গনের বিষয়কে রাজপথে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছেন। রায় বিপক্ষে গেলে মেনে না নেওয়াসহ তীব্র আন্দোলনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তাহলে এতদিন ধরে বড় বড় আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলাটির আইনি মোকাবেলা করার পর রায় ঘোষণার প্রাক্কালে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আসলে কি বুঝাতে চাচ্ছেন? তবে কি বিএনপি আইনের শাসন বা আদালতের প্রতি আস্থা-শ্রদ্ধা হারিয়েছেন? সে প্রশ্ন কিন্তু এসেই যায়। দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা অর্থাৎ যারা কিনা এই মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন, মামলার বিষয়বস্তু আলোচনা-পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। এতিমখানার ঠিকানা তাদের নিশ্চয়ই জানার কথা। এখন তারা যদি এতিমখানার ঠিকানা না জেনে মামলা পরিচালনায় এসে থাকেন তবে আইনজীবী হিসেবে এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি। এছাড়া সত্যিই যদি এতিমখানার অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে তো এই কেলেঙ্কারি পুকুর চুরি, সাগর চুরিকে ছাপিয়ে কাজির গরুর গল্পে রূপ নিচ্ছে। যেন কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই। অস্তিত্বহীন এতিমখানার নামে অর্থ গ্রাস করে নেওয়ার এই ঐতিহাসিক দুর্নীতি দেশ-জাতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিদর্শন হয়ে থাকবে। এই দলটি একাধিকবার দেশ পরিচালনা করেছে। যদি জনগণ আবার কখনও চায় যে দলটি সরকার গঠন করুক, তাহলে জনগণের কাছে এই দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তাদের কী উত্তর থাকবে? একই সঙ্গে এই মামলার সঠিক সুরাহা না হলে জনগণের কাছে কিভাবে মুখ দেখাবেন? একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিএনপি বরাবরই অভিযোগ করে আসছে এই মামলা সাজানো, ভিত্তিহীন। মূলত ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং রায়ের ক্ষেত্রেও সরকার আদালতকে প্রভাবিত করবেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: তারা যে অভিযোগ করছেন এটা আওয়ামী লীগের সাজানো মামলা কথাটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এ মামলা কিন্তু আওয়ামী লীগ করেনি। এ মামলা কখন হয়েছে এবং কারা করেছে এটা সারাদেশের মানুষ জানেন। কথার কথা হিসেবেও যদি ধরে নেওয়া হয় এই মামলা সাজানো তবে খালেদা জিয়ার বিজ্ঞ আইনজীবী কী করেছেন? মামলা যদি মিথ্যাই হয়ে থাকে তবে তাঁর (খালেদা জিয়া) আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলোর প্রতিটা পয়েন্টে সন্দেহের উদ্রেক তৈরি করতে পারলেন না কেন? উল্টো এতিমখানার অস্তিত্ব, অবস্থান বা ঠিকানা যা-ই বলিনা কেন তা নিয়ে বিজ্ঞ আইনজীবীদের অজ্ঞতা নতুন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এতিমখানাটি আদৌ আছে কি-না এবং থাকলে সেটা কোথায়? সুতরাং অহেতুক আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আইনের যুক্তি, তথ্য, সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নির্বাচনের বছর বলে তড়িঘড়ি করে এ মামলার রায় দেওয়া হচ্ছে, বিএনপি’র এমন অভিযোগ নিয়ে আপনার বক্তব্য কি? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: তড়িঘড়ি! ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর সময়কে কোনোভাবে কি তড়িঘড়ি বলা যায়? আসলে তারা কি বলতে চান তা বোধগম্য নয়। উনারা কি আজীবন দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে থাকতে চান, নাকি এই ভেবে  ভয় হচ্ছে যে রায়ে ওনাদের অপরাধ প্রকাশ্যে চলে আসবে? আর নির্বাচনের বছরের কথা তুললে তো বলতেই হয় এই তড়িঘড়ি বরং তাঁদের জন্য ভালো হচ্ছে। জানিনা আদালত কি রায় দেবেন তবে আদালতে যদি প্রমাণ হয় তিনি অপরাধী নন তাহলে নির্বাচনের বছরে দলের জন্য এর চেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট আর কী হতে পারে? একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সম্প্রতি বিএনপির তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনেছে। বিষয়টি কে কিভাবে দেখছেন? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: দেখুন এই পরিবর্তনের ফলে বিএনপি দুর্নীতিবাজদের অভায়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তাদের পরিবর্তন দেখে মনে হয়েছে তারা দুর্নীতিবাজদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই এই পরিবর্তন এনেছেন। যখন প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে নাম আসা মিন্টু পরিবারের সদস্যকে তাদের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করলো তখনই বিষয়টি অনুমেয় হচ্ছিল। কিন্তু এখন গঠণতন্ত্রে পরিবর্তনের পর তাদের অবস্থান দিবালোকের মত পরিষ্কার। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোর শেষ লাইন “দুনিয়ার মজদুর এক হও” আদলে খুব শীঘ্রই বিএনপির স্লোগান হবে “দুনিয়ার দুর্নীতিবাজ এক হও”। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  আপনার জন্য শুভকামনা। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে টিভি অনলাইনের সকলের জন্য শুভেচ্ছা।   টিকে/টিকে

‘মেধাবীরাই আ.লীগ-ছাত্রলীগের রাজনীতি করে’

বাহাদুর বেপারী। একসময়ের রাজপথ কাপানো ছাত্রনেতা। ১৯৯৮ সালে থেকে টানা ৪ বছর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দলের বড় কোনো পদ-পদবীতে না থেকেও কাজ করে চলেছেন তৃণমূলের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে। নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন বিবি ফাউন্ডেশন নামে একটি উন্নয়নমূলক সংগঠন। জাতীয় রাজনীতির বাইরে ওই সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতা। তিনি কথা বলেছেন এখন ও তখনকার ছাত্ররাজনীতি, দলে ভেড়া সুবিধাবাদী, নিজের পাওয়া না পাওয়ার নানা বিষয় নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ অনেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতাকে পরবর্তীতে আর জাতীয় রাজনীতিতে দেখা যায় না। এটা কেন? বাহাদুর বেপারীঃ মানুষ বেঁচে থাকে কর্মের মাঝে। কাজ না করলে টিকে থাকবেন কিভাবে? যখন আমরা কাজ করেছি তখন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে আমরা ছিলাম। মাঝখানে কাজ করিনি। তাই থাকা হয়নি। আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হয়। কাজ না করে স্রোত থেকে ছিটকে পড়লে কাংখিত লক্ষে পৌঁছা সম্ভব হবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ কিন্তু মেধাবী ছাত্রনেতারা যদি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হন, তাহলে তো পরবর্তীতে মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতিতে উৎসাহ হারাবেন। বাহাদুর বেপারীঃ নিষ্ক্রিয় কথাটার সঙ্গে আমি একমত নই। একেক জনের কাজের জায়গা বা কাজের ধাঁচ একেক রকম। আমি হয়তো ঢাকায় রাজনীতি করছি না। ফলে মিডিয়ার ক্যামেরা আমাকে দেখছে না। কিন্তু শরীয়তপুরের জনগণ, আমার নিজের এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে সব সময় পায়। তাদের সান্নিধ্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি একটি উন্নয়নমূলক সংগঠন নিয়ে কাজ করি। এতেও রাষ্ট্রের উন্নয়ন হয়। জনগণের উন্নয়ন হয়। আমি মানুষের সঙ্গে আছি। এটাই আমার তৃপ্তি। দ্বিতীয়ত, আপনি বললেন মেধাবীরা ছাত্ররাজনীতিতে উৎসাহ হারাবে। মেধাবী মানে কী? যারা শুধু বই মুখস্থ করে বছর বছর পাশ করে তারাই কী মেধাবী? আমি তা মনে করিনা। মেধা হচ্ছে নিজের ভিতর থেকে উৎসারিত জ্ঞান। যা নিজের উপলব্ধির ফল। এই মেধা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষকের থাকতে পারে। আমার মায়ের থাকতে পারে। আমি মনে করি, মেধাবী ছাত্ররাই ছাত্রলীগ করে। মেধাবী মানুষগুলোই আওয়ামী লীগ করে। কারণ, তারা নিজের মেধা মননে দেশপ্রেম উপলব্ধি করে। চিন্তা চেতনায় নিজের আসল জাতিস্বত্ত্বাকে চিনতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দলীয় পদ পদবীতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ পাওয়া যায়। আপনি কী মনে করেন? বাহাদুর বেপারীঃ না, আমি একমত না। যে কর্মে থাকে, বর্তমানে থাকে, নেতাকে অনুসরন করে তাকে কখনোই অবমূল্যায়ন করা সম্ভব না। যে নিজেকে `বঞ্চিত` মনে করে সে বঞ্চিত হয়েই আছে। আমি বলব, নেতাকে অনুসরণ করুন। মূল্যায়ন আসবেই। একটা না একটা পর্যায়ে পদ পেয়ে যাবেন। আপনি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন। এটার চাইতে বড় মূল্যায়ন আর কী আছে? একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দল ক্ষমতায়। চারদিকে ভূইফোঁড়দের দৌরাত্ম। এসব দেখে কখনো কী মনে হয়, ইস! কেন ছাত্ররাজনীতি করেছিলাম? বাহাদুর বেপারীঃ না, বরং ছাত্ররাজনীতিটাই আমাদের পরিচয়। আজকে আপনি আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। আমি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম বলেই তো আপনি আমার সাক্ষাৎকার নিতে উৎসাহী হলেন। আমার মতো সারা বাংলায় অসংখ্য বাহাদুর বেপারী আছেন। কই, আপনি তো তাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন না। মানুষের কাজ কখনো বৃথা যায় না। প্রত্যেকটা কাজেরই একটা ফলাফল আছে। এটা বিজ্ঞান স্বীকৃত কথা। ছাত্ররাজনীতি যদি কেউ মহৎ উদ্দেশ্যে করে তবে অবশ্যই তার ভালো ফল আছে। একটা ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তাকে তার জেলার বা ওই মহানগরের সবাই চেনে। এটাও তো একটা প্রাপ্তি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বর্তমানে রাজনীতিতে `হাইব্রীড` শব্দটি খুব পরিচিত। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে ওইসব সুবিধাবাদীদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? বাহাদুর বেপারীঃ মহাসমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে যখন কোন নোংরা পানি ঢুকে যায়, তখন ওটা আর নোংরা থাকে না। পরিষ্কার হয়ে যায়। আজকে যাদেরকে হাইব্রীড হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে তাদেরকেও স্বাগতম জানানো দরকার। আওয়ামী লীগ রাজনীতির ইতিহাসে বড় স্রোত। অনেকে আসছে, আসবে। কাজ প্রমাণ করে দেবে কে ভাল কে খারাপ। গণ সংগঠন হিসেবে কাউকে বাদ দিতে পারি না। বঙ্গবন্ধু উদারচিত্তে সবাইকে ডাকতেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বর্তমান ছাত্রলীগের রাজনীতি কেমন হওয়া দরকার বলে আপনি মনে করছেন? বাহাদুর বেপারীঃ আমি ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিয়েছি তাও আজকে ষোল বছর। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে পৃথিবীতে এসেছে সেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে বা পড়ছে। অর্থাৎ সময়ের স্রোতে প্রজন্মের চিন্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সেই বিবেচনায় এখনকার ছাত্রলীগ কী করা উচিত তা এখনকার ছাত্রলীগ নেতারাই ভালো বুঝবেন। ওরা এখন যে প্রেক্ষাপটের মুখোমুখি হচ্ছে তা আমরা হইনি। তবে আমি মনে করি, যা কিছু ইতিবাচক তাই গ্রহণ করা উচিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ছাত্রলীগ তার গৌরবান্বিত ঐতিহ্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। হল দখল, সিট দখলসহ নানা ধরনের দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ এখন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়। উত্তরণের উপায় কী? বাহাদুর বেপারীঃ ছাত্রলীগ যে করে তার অবশ্যই একটা চেতনা আছে। আমাদের সেই চেতনার বাতিঘর শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যে শেখ হাসিনাকে নেতা মানবে তার পক্ষে কোন অন্যায় সম্ভব না। যদি সে অন্যায় করে তাহলে বুঝতে হবে আনুগত্যে গলদ আছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দাবি উঠছে। আপনার অভিমত… বাহাদুর বেপারীঃ অবশ্যই ডাকসু নির্বাচন দরকার। শুধু ডাকসু নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ দরকার। যা প্রকৃত ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করবে। তবে শীতকালের ওয়াজ গরমকালে করলে হবে না। দুপুরের খাবার দুপুরে খেতে হয়, রাতে নয়। ঠিক তেমনি ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করার জন্য এই সময়টা ভালো নয়। এটা নির্বাচনের বছর। যে কোন কিছুর বিনিময়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করতে হবে। যারা আন্দোলন করছে তাদের সেটা বুঝা উচিত। এসব আন্দোলনে একদিকে জনগণের মোটিভ ঘুরে যেতে পারে, আবার মৌলবাদী শক্তি সুযোগ নেওয়ার জন্য উঁৎ পেতে থাকবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আগামী নির্বাচন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? বাহাদুর বেপারী : আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর- ৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমার বিশ্বাস, আল্লাহর রহমতে ও জনগণের দোয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেবেন। আমি ভাগ্যবান, শরীয়তপুর-৩ আসনের জনগণের ভালবাসা আমি পাই। ঢাকার বাহাদুর বেপারী ও শরীয়তপুরের বাহাদুর বেপারী এক না। শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। বাহাদুর বেপারী : আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের প্রতি শুভেচ্ছা। / এআর /

বিদেশের চেয়ে দেশেই ই-শপিংয়ের সাড়া বেশি

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ই-শপিং জনপ্রিয় হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। বাংলাদেশেও এর বাজার দিনে দিনে বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে। বাংলাদেশে বর্তমানে তিন মিলিয়ন বা ৩০ লাখ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করেন। আর প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পণ্যের কেনাকাটা হয়। প্রতিটি পণ্য প্রায় গড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকায়। এতে বলা যায় এ বাজার ছোট নয়। আর বাজার আরও বাড়ছে। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ই-শপিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ই-শপিং হলো দারাজ। বাংলাদেশে ই-শপিং এর বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদুল হকের সঙ্গে। তিনি গ্রাজুয়েশন করেছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বোকারেস ইউনিভারসিটি থেকে সেই সঙ্গে তিনি এসিসিএ-এর সদস্যও। তিনি ২০০৮ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন যুক্তরাজ্যের স্পটস ডিরেকটর ডটকমে। পরে ২০১১ সালে তিনি দেশে ফিরে যোগদান করেন হোদা ভাসি  অ্যান্ড কো. এ অডিট অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল কনসালটেড হিসেবে। পরে ২০১৪ সালে তিনি ডরাজে সিএফও হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের জুনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সহ-সম্পাদক শামসুল হক। একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- একুশে টেলিভিশন: কেমন আছেন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: হ্যাঁ ভালো আছি। একুশে টেলিভিশন: আপনাদের দারাজের শুরু হয় কিভাবে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: দারাজ প্রথমে পাকিস্তানে ২০১২ সালে শুরু করে। আর বাংলাদেশে ২০১৪ সালে। আবার ২০১৪ সালেই শীলঙ্কাতেও শুরু করা হয়। এখন নেপাল ও মিয়ানমারে রয়েছে। এর শুরুতে রকেট ইন্টারনেট বিনিয়োগ করে। রকেট ইন্টারনেট হলো জার্মানভিক্তিক প্রতিষ্ঠান। যা ই-শপিংয়ের প্রসারে কাজ করছে। একুশে টেলিভিশন: দারাজ এখন কতগুলো পণ্য বিক্রি করে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: আমাদের এখন প্রায়  দুই লাখ ৫০ হাজার পণ্য রয়েছে। সব ধরনের পণ্য আমাদের ই-শপিং-এ পাওয়া যায়। একুশে টেলিভিশন: প্রথম কোন পণ্য দিয়ে শুরু হয়? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: প্রথমে পাকিস্তানে ফ্যাশন পণ্য বিক্রি শুরু করি। আর বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য দিয়ে শুরু করা হয়। এখন প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। একুশে টেলিভিশন: দেশে না বিদেশে এর ব্যবসা ভালো হচ্ছে? অর্থাৎ কোথায় বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: দেশে বিদেশে দারাজ ভালো ভালো সাড়া পাচ্ছে। তবে বিদেশের চেয়ে দেশে বেশি সাড়া পাচ্ছে। বলা যায়, দেশে এর বাজার বড় হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন: বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে জনবল কত? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: বর্তশানে বাংলাদেশে প্রায় ৯০০ জন লোক কাজ করছে। এছাড়া অন্য চারটি দেশেও কাজ করছে। সব মিলে প্রায় এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ জন লোক কাজ করছে আমাদের দারাজে। একুশে টেলিভিশন: ই-শপিংয়ে সারাদেশে সব মিলে কেমন লোক কাজ করছে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: সারাদেশে ই-শপিংয়ে সব মিলে প্রায় তিন হাজার লোক কাজ করছে। তবে সবচেয়ে বেশি লোক কাজ করে আমাদের দারাজেই মনে হয়। একুশে টেলিভিশন: আপনাদের লেনদেন কিভাবে হয়? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: লেনদেন কয়েকভাবে হয়ে থাকে। যেমন নগদ লেনদেন হয়, বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হয়, ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করেও লেনদেন হয়। অর্থাৎ যেকোনো ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে লেনদেনের  সুযোগ রয়েছে। একুশে টেলিভিশন: আপনারা অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে পণ্য বিক্রি করে থাকেন। সেক্ষেত্রে পণ্যের মান কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: দেখেন আমরা ভালো ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করি। আর যাদের পণ্য ভালো তাদের সঙ্গে চুক্তি করেই কেবল নিজেরা যাচাই করেই সরবরাহ করি। ভালো মানের পণ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে আমরা এটা করে থাকি। তাই মান খারাপ কোনো পণ্য সরবরাহ করি না। আমরা গ্রাহকের বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে থাকি। একুশে টেলিভিশন: আপনারা ঢাকার বাইরে পণ্য সরবরাহ করছেন। সেটা কিভাবে?  সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: আমাদের সব পণ্য ঢাকা অফিস থেকে যাচাই করেই সরবরাহ করা হয়। যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের শো-রুম হয়তো ওই জেলা শহরে আছে। কিন্তু আমরা ওই জেলা শহরের ওই শো-রুম থেকে পণ্য নেই না। আমরা ঢাকা অফিসে মান পরীক্ষা করেই কেবল সরবরাহ করি। এছাড়াও আমরা ঢাকার বাইরে বর্তমানে ১৯ জেলায় কাজ করছি। এ বছরে সব জেলায় কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। একুশে টেলিভিশন: আপনারা উপজেলা পর্যায়ে বা গ্রামীণ পর্যায়ে কাজ করবেন কি? করলে কীভাবে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: হ্যাঁ আমরা ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। দারাজ স্টোর নামে আমাদের সেবা থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা ৫৭০টি দারাজ স্টোর চালু করেছি। আর এ বছরেই প্রায় চার হাজার দারাজ স্টোর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।  একুশে টেলিভিশন: এ দারাজ স্টোরগুলো কি অন্য কোম্পানির শো-রুমের মতো হবে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: না সে রকম না। এ স্টোরগুলো হলো ওই উপজেলায় বা বাজারে একটি দোকান থাকবে। আর সেই দোকানে আমরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ সরবরাহ করবো। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবস্থাও সরবরাহ করা হবে। এতে ওই স্টোরে এসে যেকেউ আমাদের পণ্যের অর্ডার দিতে পারবেন। এতে সহায়তা করবে ওই স্টোরের ওই ব্যক্তি। বিনিময়ে ওই ব্যক্তিকে আমরা মুনাফার একটা অংম দিবো। একুশে টেলিভিশন: কোনো পণ্য অনলাইনে দেখে অর্ডার করার পর যদি অনলাইনের পণ্যের  সঙ্গে না মিলে তাহলে কি করেন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: কোনো পণ্য যদি কোনো গ্রাহক অর্ডার করার পরে মনে করেন, সেই পণ্যের সঙ্গে মিলে না তাহলে তাকে ওই পণ্য দেওয়া হয় না। আর এ জন্য আলাদা কোনো চার্জ  বা টাকা নেওয়া হয় না। এছাড়াও ওই পণ্য যদি খারাপ বা ভালো নয় মনে হয়। তাহলে ওই পণ্য সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগ দিলে তা ফেরত নেওয়া হয়। একুশে টেলিভিশন: দারাজে বর্তমানে বিনিয়োগ কারা করেন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: দারাজে বিনিয়োগ রয়েছে বাইরের দুটি প্রতিষ্ঠানের। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কোম্পানি সিডিসি এবং এপেক্স আইজি বিনিয়োগ করে। বর্তমানে দারাজের বিনিয়োগ রয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগামী পাঁচ বছরে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। একুশে টেলিভিশন: আমরা জানতে পেরেছি গত ঈদ-উল-আজহায় কোরবানির গরু বিক্রি করেছেন আপনারা। কেমন সারা পেয়েছেন এবং আসছে ঈদে পরিকল্পা কেমন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: হ্যাঁ ঠিক জেনেছেন। আমরা গত ঈদে খুব ভালো সারা পেয়েছি। আর এবার ঈদে আমরা পরিসর আরও বাড়াবো। অর্থাৎ আমরা আরও বেশি সুযোগ দিবো এবার গ্রাহকদের জন্য। একুশে টেলিভিশন:  ই-শপিংয়ে চ্যালেঞ্জ কেমন? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: হ্যাঁ ই-শপিংয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে লজিস্টিকস সাপোরর্ট। এছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবস্থা সহজ করা দরকার। একুশে টেলিভিশন: নতুন উদ্যোক্তাদের এ ব্যবসায় কেমন সম্ভাবনা রয়েছে? পুঁজি কেমন লাগতে পারে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: হ্যাঁ নতুনরা এ ব্যবসায় আসতে পারেন। অপার সম্ভাবনা রয়েছে এ খাতে। ছোট বড় যে কোনো কেউ আসতে পারেন। কম পুঁজি নিয়েও এখানে ব্যবসা করতে পারেন আবার বেশি পুঁজি নিয়েও আসতে পারেন। একুশে টেলিভিশন: নতুন উদ্যোক্তারা কিভাবে সফল হতে পারেন এখাতে? সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: নতুন উদ্যোক্তা সফল হতে পারেন। এজন্য তাদের নতুনত্ব নিয়ে আসতে হবে। পণ্যের মধ্যে নতুনত্ব থাকবে । তারা বাজারে যা আছে তার চেয়ে আলাদা কিছু করবেন। পণ্যের গুনগত মান ভালো করতে হবে। একুশে টেলিভিশন: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক: আপনাকে ও একুশে টেলিভিশন পরিবারকে ধন্যবাদ।   এসএইচ/

শীতে কোমর ব্যথা ও প্রতিকার

আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শত্যাংশ মানুষ কোন না কোন সময় কোমর ব্যথায় ভোগেন। শীত আসলে এর প্রবণতা একটু বেশি দেখা যায়। অধিকাংশ মানুষই কোমর বা মাজা ব্যথার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানে না। অনেকেই কোমর ব্যথা হলে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এটা একেবারে ঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক ও সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান। এছাড়াও কোমরে ব্যথা কেন হয়, কীভাবে এই ব্যথা কমানো যায় কিভাবে খুটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: শীতে কোমরে ব্যথা বৃদ্ধির কারণ কি? ডা. কামরুল আহসান : শুধু শীতে নয় বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। শীতে ঠাণ্ডাজনিত কারণে মূলত কোমর ব্যথা দেখা দেয়। এছাড়া কোমরের পাঁচটি হাড় আছে। কোমরের হাড়গুলো যদি বয়সের কারণে বা বংশগত কারণে ক্ষয় হয়ে যায়, তখন তাকে লাম্বার স্পনডোলাইসিস বলে। সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে বেশি হয়।  মানুষের হাড়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গা থাকে। এটি পূরণ থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক বা চাকতি দিয়ে। এই ডিস্ক যদি কোনো কারণে বের হয়ে যায়, তখন স্নায়ুমূলের ওপরে চাপ ফেলে। এর ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। কোন অনির্দিষ্ট কারণে হাড়, মাংসপেশি, স্নায়ু এই তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্য নষ্ট হলে এ ব্যথা হয়। এটি যুবকদের মধ্যে বেশি হয়। এ ব্যথার পুরোপুরি সারানোর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার হয়নি। এ ধরনের ব্যথা নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে। একুশে টিভি অনলাইন : কি কি কারণে কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে? ডা.কামরুল আহসান : কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা দেখা দেয়। শিরদাঁড়ায় টিউমার ও ইনফেকশন হলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। মাংসপেশি শক্ত হয়ে গেলে বা মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে কোমরে ব্যথা হয়। শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণেও কোমরে ব্যথা হয়। একটানা হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে, কোলে কিছু বহন করলেও কোমরে ব্যথা হতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন : কোমর ব্যথার উপসর্গ কি কি? ডা. কামরুল আহসান :  শুরুতে কোমরে অল্প ব্যথা থাকলেও ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে। অনেক সময় হয়তো রোগী হাঁটতেই পারে না। ব্যথা কখনও কখনও কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে  যায়। পা ঝিনঝিন ধরে থাকে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পা ফেলতে সমস্যা হয়। পা অবশ ও ভারী হয়ে যায়। পায়ের শক্তি কমে যাওয়া। মাংসপেশি মাঝেমধ্যে সংকুচিত হয়ে যায়। একুশে টিভি অনলাইন : ব্যথা নিবারণে করণীয় কি? ডা. কামরুল আহসান : ব্যথা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিন-চার সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। আর কম ব্যথা হলে আউটডোর ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। একুশে টিভি অনলাইন : কোমর ব্যথা এড়াতে করণীয় কি? ডা. কামরুল আহসান : অনেক কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে। ব্যথা এড়াতে একটু বাড়তি সচেতন হতে হবে। একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত খাওয়া দাওয়া ও খেলাধুলা করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে। শক্ত বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। শরীরের গঠন অনুযায়ী নিয়মিত পরিশ্রম করতে হবে। দিনে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ডা. কামরুল আহসান : একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। এসএইচ/

পাকিস্তান ডিমেনসিয়ায় ভুগছে:তুরিন আফরোজ

২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্থানের ইসলামাবাদে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর ১৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতীয় কাশ্মির অঞ্চলের উরিতে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার প্রতিবাদে সার্কের সদস্য রাষ্ট্র ভারত পাকিস্তানের ওই সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আফগানিস্তান, ভুটান, বাংলাদেশও ওই সম্মেলনে যোগ দানে বিরত থাকলে সার্কের সভাপতি রাষ্ট্র নেপাল সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করে। সবশেষে শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপও সম্মেলন বর্জন করে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের ব্যাপারে পাকিস্তানের অসন্তোষকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে বলে মন্তব্য করে সম্মেলনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। উল্লেখ্য, সার্কের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সদস্য কোনো একটি দেশ সম্মেলনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বাংলাদেশকে দোষারোপ করে। এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিষয়ে পাকিসস্তান অসন্তোষ প্রকাশ করলে দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এই অবস্থায় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের করণীয় কী হতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন না হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে অভিযুক্ত করেছেন। আপনি কী মনে করেন? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: পাকিস্তান `ডিমেনসিয়ায়` ভুগছে। `ডিমেনসিয়া` একটি মানসিক অসুস্থ্যতা। যার অর্থ হলো `স্মৃতিভ্রম`। এখন খাজা আসিফ এ অভিযোগ করছেন। কিন্তু আপনারা জানেন, ২০১৬ সালে যখন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ইসমলামাবাদে অনুষ্ঠিত হলো না, তখন কিন্তু তারা দোষ দিয়েছিলেন ভারতের। সেটা কিন্তু একদম কাগজে-কলমে রেকর্ডে ও বিবৃতিতে রয়েছে। তখন তারা ভারতকে দোষ দিয়েছিলো। আজকে তারা হঠাৎ করে বাংলাদেশকে দোষ দিচ্ছে। এটা কী হাস্যকর ও অযৌক্তিক নয়? সার্কভুক্ত আটটি রাষ্ট্রের মধ্যে নেপাল সার্কের সভাপতি। বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেনা, এমন কথা জানানোর আগেই কিন্তু ভারত, ভুটান, আফগানিস্তান সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর সম্মেলন প্রত্যাখ্যান করে শ্রীলঙ্কা। মালদ্বীপ তারও পরে (১ অক্টোবর) সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এখন আসা যাক, কেন তারা সম্মেলন বর্জন করেছিল। ভারত বলছে, পাকিস্তানের সাথে তাদের `কাস্মীর` ইস্যু নিয়ে সমস্যা আছে। অন্য রাষ্ট্রগুলো বলল, পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তারা সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়। তাদের ওখানে সার্ক সম্মেলনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশ বলছে এখানে দু`টি ইস্যু। এক. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত ব্যাপারে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়েছে। দুই. পাকিস্থান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। কিন্তু এসব অভিযোগকে এড়িয়ে গিয়ে তারা যখন বলে, বাংলাদেশের কারণে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়নি, তখন বুঝতে বাকি থাকেনা যে, পাকিস্থান রাষ্ট্রটির স্মৃতিভ্রম ঘটেছে। আসলেই পাকিস্থান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় তারা বলল, তারা এ বিচার সমর্থন করেনা। তারা এ ব্যাপারে অসন্তোষ। তার মানে তারা গণহত্যাকে সমর্থন করে। কারণ তারা নিজেরাই একটি গণহত্যাকারী রাষ্ট্র। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাকিস্তান বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এ কথার সাথে আপনি কতটুকু একমত? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: পাকিস্তানের এ কথাও প্রমাণ করে তারা ডিমেনসিয়া রোগী। কারণ, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি কোনভাবেই আমাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। যা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়। এসব অপরাধে কেউ কাউকে ক্ষমা করতে পারেনা। এসব অপরাধে কেউ যদি কাউকে মাফ করে তাহলে ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৫৩ অনুযায়ী চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। এই চুক্তি অনুযায়ী ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি একটি বাতিল চুক্তি। এই চুক্তির কোনো কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক আইনেও নেই, আমাদের দেশীয় আইনেও নেই। তার প্রমাণ হচ্ছে, আমার দেশের আইনে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি তখনই বাধ্যতামূলক হবে যখন সেটি সংবিধানের ১৪৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমার দেশের সংসদে সেটি পাস হবে। কিন্তু কখনো এই চুক্তি আমাদের সংসদে উত্থাপিত হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বলছি পাকিস্তানের স্মৃতিভ্রম ঘটেছে? কারণ হচ্ছে, তারা বলছে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীসহ আজকে আমাদের এখানে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের বিচার আমরা করব না, এমন একটি ওয়াদা নাকি আমরা করেছিলাম। পাকিস্তানের স্মৃতির এমন দেউলিয়াত্ব হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশের আল বদর, আল শামস, রাজাকার নিয়ে একটা লাইনও ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে নেই। যদি তারা মনে করে ঐ চুক্তির দোহাই দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমালোচনা তারা করবে, তাহলে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী রাজাকার, আলবদর, আল শামসরা তাদের দেশের নাগরিক। মানে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী। তাহলে তাদের বিচার কী তোমরা চাওনা? এখন এটিতো শুধু বাংলাদেশ পাকিস্তানের ইস্যু না। বরং এটি পুরো মানব সভ্যতার একটি বিষয়। যে কোনো সভ্য রাষ্ট্র অপরাধীর বিচার চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাকিস্তানের ব্যাপারে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কী হওয়া উচিত? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: পাকিস্তান একটি অসভ্য রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তারা কোনো আইন মানছে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা সম্প্রীতির প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। শুধু বাংলাদেশ নয়, সার্কের সকল সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রের উচিত পাকিস্তানের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করা। সার্কের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্যে বলা আছে, ‘বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারষ্পরিক সমঝোতা হবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি। সার্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের কোনো বন্ধু নেই। থাকলে আমরা তা দেখতাম। বাংলাদেশ না হয় অংশগ্রহণ করেনি। অন্যরা তো করতে পারত। কিন্তু অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রও অংশগ্রহণ করেনি। পাকিস্তানের প্রতি আমাদের কারো কোন আস্থা নেই। পাকিস্তান একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। কেউ কাউকে মানছে না। কোনো আইনের প্রয়োগ নেই। যেখানে সেখানে বোমাবাজি হচ্ছে। স্কুলগুলো উড়ে যাচ্ছে, নামায পড়া অবস্থায় মসজিদ উড়ে যাচ্ছে। আর পারষ্পরিক সমঝোতার ব্যাপারে পাকিস্থান কখনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেনি। ৭১-এ এরকম ভয়াবহ গণহত্যা করার পরেও তাদের মধ্যে কোনো প্রকার অনুশোচনা জাগেনি। বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করল। `শান্তি` ও `নিরাপত্তা` সার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু শান্তির জন্য সার্ক জোনে পাকিস্তানকে কখনোই পাওয়া যায়না। শান্তি বিঘ্ন ঘটায় পাকিস্তান। আবার নিরাপত্তার জন্য তারা হুমকি। সার্কের চার্টার অনুযায়ী পাকিস্তানের সার্কভুক্ত থাকার কোনো অধিকার নেই। কারণ, তারা সার্কের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যুদ্ধাপরাধীদের রায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল পাকিস্তান। পাশাপাশি সার্ক সম্মেলন না হওয়ায় বাংলাদেশকেই দায়ী করল একই রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইনের জায়গা থেকে তাদের কোনো শাস্তি কী আমরা দাবি করতে পারি? ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার চাইতে তাদেরকে বর্জন করা উচিত। শুধু বাংলাদেশ না; আমাদের যদি বিশ্ব মানবতার প্রতি সম্মান থাকে, আধুনিক সুসভ্য রাষ্ট্রগঠনে আমরা যদি আগ্রহী হই তাহলে পাকিস্তানের সাথে সব রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: বঙ্গবন্ধুর সময়ের বাস্তবতা আর আমাদের সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল, কারো সাথে শত্রুতা নয়, সবার সাথেই বন্ধুত্ব। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব মানবতার নেতা ছিলেন। তিনি বিশ্ব ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাস করতেন। আমি আজকে শুধু বাংলাদেশের কথা বলছিনা, বলছি বিশ্বের সব সভ্য রাষ্ট্রের উচিত পাকিস্তানের সাথে সকল প্রকার রাষ্ট্রনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  আপনাকে ধন্যবাদ। গণহত্যার জন্য দায়ী একটি রাষ্ট্রের ব্যপারে আমাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা ফলপ্রসূ হোক। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: আপনিসহ সকল সাংবাদিক ভাইদের জন্য শুভ কামনা রইলো।   টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি