ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ৩:১৪:০২

ভবিষ্যত নেতৃত্ব ঠিক করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: লেনিন

ভবিষ্যত নেতৃত্ব ঠিক করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: লেনিন

আগামী দিনের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন দলটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নূহ উল আলম লেনিন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অবর্তমানে দল ঝুঁকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
‘বিপিওর বাজার রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার’

দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে তৈরি পোশাক শিল্প প্রধান ভূমিকা রেখে আসছে। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করেই সব সময় চলতে পারে না দেশ। তাই প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে পেশার ধরণও। এমনই এক পেশা বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং (বিপিও)। এ খাতে বিশ্বের বর্তমান বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারছে। তবে উন্নত বিশ্বে, বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কোরিয়ায় শ্রমশক্তি হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলে গেছে। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন আউটসোর্সিং সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠান বাক্য’র সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ। নিচে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটি তুলে ধরা হলো- একুশে টেলিভিশন: বিপিও সম্পর্কে যদি একটু খুলে বলেন? ওয়াহিদ শরীফ: বিপিও মানে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। এই নামটা বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত। আউটসোসিং বলতে কেবল কল সেন্টার আউটসোসিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ, এইচআর, আইটি আ্যাকাউন্ট সবকিছুই এর অন্তর্ভূক্ত। এসব কাজ আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে করার বিষয়টি সাধারণভাবে বিপিও বলে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমাণ ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে এই বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাতের। বছরে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা আসে আইসিটটি খাত থেকে । সরকার আইসিটি খাত থেকে ২০২১ সাল নাগাদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আশা করা যায় সিংহভাগ আসবে বিপিও থেকে। একুশে টেলিভিশন: আমাদের দেশে বিপিওর শুরুটা কেমন ছিল? ওয়াহিদ শরীফ: আমাদের দেশে কল সেন্টার ও ডাটা এন্ট্রি বিপিওর ধারাটির সূচনা ঘটে। প্রথমে ছোট আকারে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন এটি বেশ বড় আকারের ধারণ করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটির পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে এ ব্যাপারে নতুন একটি জাগরণ তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশে বিপিও একটি নতুন সম্ভাবনার নাম। কারণ বাংলাদেশে বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা ১০০ ভাগের বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যযন্ত বাংলাদেশে দখল করতে পেরেছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার। একুশে টেলিভিশন: বিপিওর সম্ভাবনা কেমন? ওয়াহিদ শরীফ: সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে বিপিও খাতে একটি বিশাল বাজার পড়ে আছে। এখন যদি বাংলাদেশ এই খাতে নজর দেয়, তাহলে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই বিপিও হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। এখন প্রয়োজন বিপিওকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এই মুহূর্তে প্রোগ্রামার প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ। আগামী পাঁচ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রামার কোডার এর প্রয়োজন হবে জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকাতে। কিন্তু তাদের সেই জনগোষ্ঠী নেই। জাপানে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৫০ এর ঊর্ধ্বে। ইউরোপ, আমেরিকাতেও তাদের তরুণ প্রজন্মের সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশ যদি তার বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পারে তাহলে আগামী পাঁচ বছরে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানের বাজার আমাদের তরুণরাই নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে। এদের বিরাট অংশ বিপিও খাতে কাজ করতে পারে। যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষ এখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই খাতে যারা কাজ করবেন, তাদের মাত্র দুটি যোগ্যতা থাকা দরকার। প্রথম যোগ্যতা হলো ‘অ্যাবিলিটি টু লার্ন’ অর্থাৎ আমি জানি না, জানতে চাই এই মনোভাব থাকতে হবে। দ্বিতীয় যোগ্যতা –কমিউনিকেশন স্কিল তথা যোগাযোগের দক্ষতা। ২০০৯ সালে দেশে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের আয় ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। ছয় বছরের মধ্যে এ খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিপিও খাতে ৪০ হাজারের বেশি লোক কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ২১ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে, দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। দেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতের চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীর পাশাপাশি বিপিও পেশা হিসেবে বেছে নিবে তরুণরা। একুশে টেলিভিশন: বিপিও কর্মক্ষেত্রে কাদের ভালো করার সুযোগ রয়েছে? ওয়াহিদ শরীফ: সব বয়সী মানুষের এ খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে। বিপিওতে দুধরণের কাজ হয়ে থাকে। একটি হলো ভয়েসের মাধ্যমে, আরেকটি লিখিত কাজ। বর্তমানে বাংলাদেশে ভয়েসের মাধ্যমেই বেশি কাজ করা হয়ে থাকে। যারা বিপিওতে ভয়েসের মাধ্যমে কাজ করে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ধরাবাধা কোনো নিয়ম নেই। এখানে অল্প শিক্ষিতরাও কাজ করতে পারেন। আর যারা লিখিত বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা শিক্ষিত হলে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষার্থীরা বুঝতে সক্ষম হয়েছে, বিপিও কী, এখানে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু। অনেকেরই ধারণা ছিল, বিপিও মানেই কল সেন্টার। এই ভুল ধারণাটি গত বছরের প্রচার প্রচারণার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে। বিপিওতে যারা কাজ করছে, তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে। এ জন্য এখন যারা বিপিওতে কাজ করছেন, তাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। না হলে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে না। বিপিও কাজের ধরণ বা কলসেন্টারের ধরণ এবং তারা যে সেবা দেয় তার ওপর মূলত নির্ভর করে আবেদনকারীর শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা। কল সেন্টারের বেশির ভাগ কাজই খণ্ডকালীন। তবে পাশাপাশি পূর্ণকালীন কাজের জন্যও কলসেন্টারগুলোতে প্রচুর লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। আর তাই কলসেন্টারে খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন চাকরির জন্য যোগ্যতাগুলোও হয় ভিন্ন। খণ্ডকালীন চাকরির জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজে অনার্স বা ডিগ্রি পড়ুয়া হতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরি করতে আবেদনকারীকে কমপক্ষে স্নাতক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীকে শুদ্ধ করে বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলা, সুন্দর উপস্থাপনা, কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা, উপস্থিত বুদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বাড়তি যোগ্যতা থাকা দরকার। যদি সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনার আওতায় এ নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে অল্প দিনে বাংলাদেশকে বিপিওর বিশ্ববাজারে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এসএইচ/

‘ব্যাংকের টাকা শেয়ারবাজারে আনতে প্রজ্ঞাপন স্থগিত ঠিক হবে না’

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে বাংলাদেশের প্রবেশ, বিশাল এ অর্জনের পেছনে চ্যালেঞ্জ ও তা টপকানোর উপায়, পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা, জনশক্তি রফতানি, জনসংখ্যার বোনাসকাল, কর্মসংস্থানসহ ব্যাংকের সুদের হার, ঋণ, ঝুঁকিসহ অর্থনীতির আরো সব অনুসঙ্গ নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের। তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্ণর হিসাবে দায়িত্ব নেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ আমরা যে উন্নয়নশীল দেশের এ জায়গাটায় এসেছি সেটি ধরে রাখা। আমাদের এ অর্জনে ৪৭ বছর লেগেছে। তারমধ্যে গণতান্ত্রিক সরকার আছে ১৯৯০ থেকে। সে হিসেবে প্রায় ২৮ বছর লেগেছে। কিন্তু এতো সময় লাগার কথা ছিল না। তাই এখন আমাদের উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগোতে হবে। উন্নয়নের গতি আরো বাড়াতে হবে। এটাই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব আজ প্রকাশিত হলো- একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের এক্সপোজার  বা বিনিয়োগসীমা নিয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেখানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত ভিত্তিতে গণনা করার নিয়ম বেধে দেয়া হয়। যার কারণে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহের ক্ষেত্রে অধিকতর সংকোচনমূলক হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করলেই শেয়ারবাজার চলমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন। আপনিও কি তাই মনে করেন? সালেহ উদ্দিন: ব্রোকাররা এটা বলবেই যে ব্যাংকের টাকা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসো। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে ব্যাংকের টাকা কিন্তু ব্যাংকের না। ওটা আমানতকারীদের টাকা। আমানতকারীরা চান না যে তাদের টাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো জায়গায় বিনিয়োগ হোক। কারণ ব্যাংক লোকসান করলে বলবে যে আমরা আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারছি না। কারণ ওইটার প্রত্যক্ষ কোনো লাভ আমানতকারীরা পায় না। শেয়ারমার্কেট হলো একটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। রিটার্ন বেশি আবার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শেয়ার মার্কেটে ব্যাংকগুলোর টাকাটা আসতে রিল্যাক্স করাও ঠিক হবে না। বরং পুজিঁবাজার সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে তাদের যে ইনসাইডেড ট্রেডিং, তাদের যে কারসাজি এগুলো বন্ধ করতে হবে। তবে সাধারণের আস্থা বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পলিসি দিয়ে পুঁজিবাজারে ব্যাংকারদের নেওয়া ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে ব্যাংকই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী না। আরো অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতে সুদের ব্যবধান বেশি এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তা আরো বাড়ছে, এর কারণ আসলে কী?      সালেহ উদ্দিন: এগ্রেসিভ ব্যাংক করার কারণে এমনটি হয়। ব্যাংক ঋণে সুদের ব্যবধান ৫ এর উপরে কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন ব্যবধান নেই। জাপানে জিরো ইন্টারেস্ট রেট। এগুলো কমাতে নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বোঝা- এ খাতটির জন্য যেন একটি অভিশাপ। যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আসলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে করণীয় কি হতে পারে?  সালেহ উদ্দিন: খেলাপি ঋণ আদায় করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আশ্রয় নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থনৈতিক আদালতে জমে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। যারা ঋণ নিয়ে না দিয়ে পার পাওয়ার প্রবণতায় আছে তাদেরকে প্রবণতা থেকে বের করে আনতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা চলবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে এতো শিক্ষিত যোগ্য লোক, অথচ পোশাক শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিদেশি এক্সপার্টদের বেশি বেতনে আনা হচ্ছে। কেন আমরা সে জায়গাটা নিতে পারছি না? সালেহ উদ্দিন: আমাদের কোন ক্ষেত্রে কি পরিমান লোকবল লাগবে সে তথ্য নেই। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যোগ্যতাসম্পন্ন লোকের অভাব। আর সে জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে বিদেশিরা। বিদেশিরা যাতে এ জায়গাগুলো যাতে না যাতে পারে তার জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা  নীতির পরিবর্তন আনতে হবে। নিজ দেশের দক্ষ লোক খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের বিদেশিদের তুলনায় গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। তবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা যেখানে প্রচুর লোকের দরকার সেই জায়গাগুলোর জন্য পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি। বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী গত এক বছরে আরও ৮০ হাজার বেকার বেড়েছে। দেশের এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা কেন কাজে লাগাতে পারছি না? কেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি মিলছে না? সালেহ উদ্দিন: নি:সন্দেহে শিক্ষায় ত্রুটি আছে। আজ যারা এসএসসি পাশ করে তাদের সঙ্গে আগের দিনের ম্যাট্রিক পাশ করা ব্যাক্তির তুলনা করে দেখেন তো। শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে এখন অনেক পিছিয়ে পড়েছি। তাছাড়া শিক্ষাকে জীবনমুখী করতে হবে। বাজারে চাহিদা আছে এমন শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থী যদি বাস্তব জীবনের কিছু দিক শিক্ষা জীবনেই বুঝে নিতে পারে। তবে শিক্ষা শেষে তাকে বেকার থাকতে হবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। বিষয়টিকে আপনিও কতটা যৌক্তিক মনে করেন? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তো চাকরিতে প্রবেশের বয়সের এতোটা কড়াকড়ি নেই। সালেহ উদ্দিন: আমি মনে করি চাকরির বয়সের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা উচিত। এখন দেশে বিশাল জনসংখ্যা। সেশনজট আছে। আবার পাশ করার পর দ্রুত সার্টিফিকেট পায় না। আবার নিয়োগের ক্ষেত্রেও দ্রুত নিয়োগপত্র পায় না। সে ক্ষেত্রে বয়সের কড়াকড়ি একটু কমানো উচিত বলে মনে করি। সেটা ৩৩ বছর করা যেতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সালেহ উদ্দিন : একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা। আরকে//  

‘পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে প্লাস্টিক সামগ্রী’

এসিঅাই লিমিটেড একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। ইতোপূর্বে প্রতিষ্ঠানটি ফুডস, এগ্রো, মোটরস, ফার্মিসিউটিক্যালসসহ নানা অাঙ্গিকে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে ঠাঁই করে নিয়েছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানির তালিকায়। এবার এসিঅাই লিমিটেড বাজারে এনেছে প্লাস্টিক সামগ্রী। এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিক- এর লোগো সম্বলিত ৩৫টি পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে ছেড়েছে এসিঅাই লিমিটেড। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এসিঅাই ভবনে এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিকের লোগো উন্মোচন করা হয়। এসিঅাই প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও ড. এফ এইচ অানসারীর মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক অালী অাদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অনেক ধরণের ব্যবসা থাকতে প্লাস্টিক নিয়ে এলেন কেন? ড. এফ এইচ অানসারী: এসিঅাই লিমিটেড সব সময় দেশের মানুষের জীবন যাত্রা মানোন্নয়নের লক্ষে টেকনোলজির প্রয়োগে ব্যবসা করতে অাগ্রহী। জীবনযাত্রা নিয়ে কাজ করতে গেলে অামরা দেখি মধ্যবিত্তদের জীবন যাপনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অার্থিক স্বচ্ছলতার সঙ্গে সঙ্গে রুচি সম্মত ও ফ্যাশনেবল জীবন যাপনে অাগ্রহী হচ্ছে তারা। বিশেষ করে অামাদের তরুণ সমাজ খুব ভালো করছে। অামরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও রুচি মাথায় রেখে গৃহস্থলী পণ্যের কথা ভেবেছি। তখনই অাসে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর কথা। অাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে টেকসই, গুণগত মান, ফ্যাশন ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনকে অামরা প্রাধান্য দিয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবসা কেমন সম্ভাবনাময়ী? ড. এফ এইচ অানসারী: অামেরিকাতে বছরে প্লাস্টিক মাথা পিছু ব্যবহার করে পার ৬০ কেজি। অামাদের পাশের দেশ ভারতে ৯ কেজি। অার অামাদের এখানে মাত্র তিন কেজি। তাহলে কতো বড় ব্যবধান! অামরা যদি ৯ কেজিতে উন্নীত করি তাহলেও তিনগুণ ব্যবসা করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে অামরা বড় একটা চ্যালেঞ্জ হাতে নিলাম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামাল দরকার তাতে কী অামরা অামদানি নির্ভর? ড. এফ এইচ অানসারী: হ্যাঁ, অবশ্যই অামদানি নির্ভর। তবে কিছু কিছু হয়তো অামরা নিজেরা উৎপাদন শুরু করতে পারব। অামদানি করার সুবিধাটা হলো এই, এগুলো রিসাইকেল করে অাবার নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এসিঅাই প্রিমিও প্লাস্টিকের পণ্য রফতানি বাজারে কেমন স্থান নিবে বলে অাশা করছেন? ড. এফ এইচ অানসারী: ভারতে প্লাস্টিক পণ্যের একটা বড় বাজার অাছে। মধ্যপ্রাচ্যেও একটা বড় বাজার অাছে। ইউরোপে ইতোমধ্যে একটা বড় বাজার তৈরি হয়েছে। অামরা অাগে অামাদের দেশীয় চাহিদা পূরণ করব। তারপর বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রফতানি করার উদ্যোগ নিব। যেহেতু অামাদের উৎপাদিত পণ্য টেকসই, গুণগত মান ভালো, দেখতে সুন্দর, সেহেতু অামরা সহজেই সবার দৃষ্টি অাকর্ষণ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।একুশে টেলিভিশন অনলাইন: মানুষ কেন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে উৎসাহী হবে?ড. এফ এইচ অানসারী: অনেকে মনে করেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অাসলে তা না। বরং পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক ভূমিকা রাখে।প্লাস্টিকের পণ্য উৎপাদিত হলে কাঠের চাহিদা কমবে। ফলে গাছ কাটতে হবে না। বন রক্ষা পাবে। পরিবেশ পাবে সুরক্ষা। কাঠের সামগ্রী ভেঙ্গে গেলে সেটা জ্বালানি করা ছাড়া বিকল্প উপায় থাকে না। কিন্তু প্লাস্টিক সামগ্রী ভেঙ্গে গেলে, নষ্ট হলে প্রক্রিয়াজাত করে পুণরায় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন সম্ভব। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ইতোপূর্বে এসিঅাই লিমিটেড বিভিন্ন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বাজারে এসে চমক দেখিয়েছে। অল্প সময়ে পেয়েছে সফলতা। প্লাস্টিকেও কী একই ধারাবাহিকতা থাকবে? ড. এফ এইচ অানসারী: অবশ্যই অামরা প্রথম হবো। এর অাগেও অামরা যখন যা নিয়ে এসেছি ক্রেতারা কখনো অামাদের হতাশ করেননি। অামরা হয়তো অনেকের পরে অাসি। কিন্তু ফলাফলে গিয়ে অামরা প্রথম হই। যতোগুলো সেক্টরে অামরা কাজ করেছি, ১০ বছরের ব্যবধানে প্রথম হয়ে গেছি। প্লাস্টিকের ক্ষেত্রেও অামরা প্রথম হবো। অামরা সেক্ষেত্রে পাঁচ বছরের টার্গেট হাতে নিয়েছি। অামরা সততা ও মূল্যবোধ নিয়ে কোনো অাপোষ করি না। অামাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ডিলাররা সবাই কঠোর পরিশ্রমী। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ। ড. এফ এইচ অানসারী: একুশে টেলিভিশন পরিবারকে ধন্যবাদ। এসএইচ/

গার্মেন্টসের পর বিপিও হবে সবচেয়ে বড় বাজার

দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশের প্রথম খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প প্রধান ভূমিকা রেখে আসছে। তবে শিল্পোত্তর বিশ্বে এখন কেবল তৈরি পোশাক রপ্তানি করেই বিশ্ববাজারে টেকা যাবে না। তাই প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে পেশার ধরণও। এমনই এক পেশা বিপিও। এ খাতে বিশ্বের বর্তমান বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারছে। তবে উন্নত বিশ্বে, বিশেষ করে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কোরিয়ায় শ্রমশক্তি হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য দরজা খুলে গেছে। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন আউটসোর্সিং সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠান বাক্য’র সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ। নিচে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটি তুলে ধরা হলো  বিপিও কি?  বিপিও মানে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং । এই নামটা বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত। আউটসোসিং বলতে কেবল কল সেন্টার আউটসোসিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ, এইচআর, আইটি আ্যাকাউন্ট সবকিছুই এর অন্তর্ভূক্ত। এসব কাজ আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে করার বিষয়টি সাধারণভাবে বিপিও বলে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমাণ  ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে এই বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাত। আইসিটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিবর্তনের গল্প, তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে বিপিও খাতের। বছরে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা আসে আইসিটটি খাত থেকে । সরকার আ্িসিটি  সেক্টর থেকে ২০২১ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আশা করা যায় সিংহভাগ অংশ-ই আসবে বিপিও থেকে। আমাদের দেশে বিপিওর যাত্রা: আমাদের দেশে কল সেন্টার ও ডাটা এন্ট্রি  বিপিওর ধারাটির সূচনা ঘটে। প্রথমে ছোট আকারে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন এটি বেশ বড় আকারের ধারণ করেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটির পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে এ ব্যাপারে নতুন একটি জাগরণ তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশে বিপিও একটি নতুন সম্ভাবনার নাম। কারণ বাংলাদেশে বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা ১০০ ভাগের বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যযন্ত বাংলাদেশে দখল করতে পেরেছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার। বিপিওর সম্ভাবনা: সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে বিপিও খাতে একটি বিশাল বাজার পড়ে আছে। এখন  যদি বাংলাদেশ এই খাতে নজর দেয়, তাহলে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই বিপিও হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। এখন প্রয়োজন বিপিওকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এই মুহূর্তে প্রোগ্রামার প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ। আগামী ৫ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রামার কোডার এর প্রয়োজন হবে জাপান, ইউরোপ ও আমেরিকাতে। কিন্তু তাদের সেই জনগোষ্ঠী নেই। জাপানে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৫০ এর ঊর্ধে। ইউরোপ, আমেরিকাতেও তাদের তরুণ প্রজন্মের সংকট বিরাজ করছে। বাংলাদেশ যদি তার বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পারে তাহলে আগামী ৫ বছরে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানের বাজার আমাদের তরুণরাই নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি লাভ করছে। এদের বিরাট অংশ বিপিও সেক্টরে কাজ করতে পারে। যে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষ এখানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই খাতে যারা কাজ করবেন, তাদের মাত্র দুটি যোগ্যতা থাকা দরকার।  প্রথম যোগ্যতা হলো ‘অ্যাবিলিটি টু লার্ন’  অর্থাৎ আমি জানি না, জানতে চাই এই মনোভাব থাকতে হবে। দ্বিতীয় যোগ্যতা –কমিউনিকেশন স্কিল তথা যোগাযোগের দক্ষতা। ২০০৯ সালে দেশে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের আয় ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার।  ৬ বছরের মধ্যে এ খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বিপিও সেক্টরে ৪০ হাজারের বেশি লোক কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ২১ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে, দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। দেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতের চেয়ে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে আয় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবীর পাশাপাশি বিপিও পেশা হিসেবে বেছে নিবে তরুণরা। বিপিও কর্মক্ষেত্রে যাদের  ভালো করার সুযোগ রয়েছে: সব বয়সীদের এ সেক্টরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। রয়েছে খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও। বিপিওতে দুধরণের কাজ হয়ে থাকে।  একটি হলো ভয়েসের মাধ্যমে, আরেকটি লিখিত কাজ। বর্তমানে বাংলাদেশে ভয়েসের মাধ্যমেই বেশি কাজ করা হয়ে থাকে। যারা বিপিওতে ভয়েসের মাধ্যমে কাজ করে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ধরাবাধা কোনো নিয়মের কম নেই। এখানে অল্প শিক্ষিতরাও কাজ করতে পারে। আর যারা লিখিত বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা শিক্ষিত হলে  এগিয়ে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষার্থীরা বুঝতে সক্ষম হয়েছে, বিপিও কী, এখানে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু। অনেকেরই ধারণা ছিল, বিপিও মানেই কল সেন্টার। এই ভুল ধারণাটি গত বছরের প্রচার প্রচারণার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে। বিপিওতে যারা কাজ করছে, তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্টানই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে। এ জন্য এখন যারা বিপিওতে কাজ করছেন, তাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। না হলে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে না। বিপিও কাজের ধরণ বা কলসেন্টারের ধরণ এবং তারা যে সেবা দেয় তার উপর মূলত নির্ভর করে আবেদনকারীর শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা। কল সেন্টারের বেশির ভাগ কাজই খণ্ডকালীন। তবে পাশাপাশি পূর্ণকালীন কাজের জন্যও কলসেন্টারগুলোতে প্রচুর লোকবল নিয়োগ  দেওয়া  হয়ে থাকে। আর তাই কলসেন্টারে খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন চাকরির জন্য যোগ্যতাগুলোও হয় ভিন্ন। খণ্ডকালীন চাকরির জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীকে বিশ্ববিদ্যালয়  অথবা কলেজে অনার্স বা ডিগ্রি পড়ুয়া হতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরি করতে আবেদনকারীকে কমপক্ষে স্নাতক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীকে শুদ্ধ করে বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলা, সুন্দর উপস্থাপনা,  কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা, স্মা্ট, উপস্থিত বুদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বাড়তি যোগ্যতা থাকা দরকার।  যদি সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনার আওতায় এ নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে অল্পদিনে বাংলাদেশকে বিপিওর বিশ্ববাজারে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। লেখক: ওয়াহিদ শরীফ, সভাপতি বাক্য এমজে/    

‘সুপার শপের উন্নতিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’   

বর্তমান সময়ে সুপার শপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। এ খাতকে কিভাবে আরও জনপ্রিয় খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেদিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন সুপার শপের সংশ্লিষ্ট মালিকরা। এ খাত থেকে সরকারও ভালো কর পাচ্ছে। তাই এই খাতকে আরও বেশি গতিশীল করার জন্য উদ্যোক্তরা মনে করছেন ভ্যাটের হার কমানোসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলে তা আরও বেশি লাভজনক খাত হিসেবে পরিণত হবে। এ কথাগুলো বলছিলেন এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির।          তিনি একুশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান একুশে বিজনেস এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সুপার চেইন শপ, নিরাপদ খাদ্য, সুপার স্টোর, ফুড সেইফটি, সুপার মার্কেট ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।                একুশে টেলিভিশন: এই খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের বলুন?  সাব্বির হাসান নাসির: এই খাতকে বর্তমানে আমরা স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছি। তাই সবাই চেষ্টা করছে এই খাতকে কিভাবে আরও বেশি গ্রাহক বান্ধব খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। গত বছরের তুলনায় স্বপ্ন এবং আগোরার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এ খাতটি আস্তে আস্তে জনপ্রিয় ও লাভজনক খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।    একুশে টেলিভিশন:  স্বপ্নসহ সুপার শপগুলোর শুরুর দিকে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চ্যালেঞ্জগুলো কি কি বলে আপনি মনে করেন?    সাব্বির হাসান নাসির: দেখুন একটি খাতকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে বর্তমানে সুপার শপের চ্যালেঞ্জগুলো একটু ভিন্ন। আমরা এখন যে কাজটি করছি সেটি হচ্ছে আরও বেশি নিরাপদ খাদ্যের দিকে যাওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যে লোকাল গ্যাপ রয়েছে যা গ্লোবাল গ্যাপেরই একটি অংশ। তা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য  আমরা ‘শুদ্ধ’ নামে একটি নতুন ব্র্যান্ড নামানোর চেষ্টা করছি। মাটি থেকে যে তাজা পণ্য বা সবজি  উৎপন্ন করা হচ্ছে তাতে যেন বিষাক্ত কোনো উপাদান যা ক্ষতিকর ক্যামিকেল ব্যবহার করা না হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।     নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আভ্যন্তরীন যে সংযোগগুলো আছে তা স্বচ্ছ আছে কিনা সেটা একটা চ্যালেঞ্জ। যেমন ধরুন অনেক আমদানিকারক আমাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করেন। অনেক সময় এর ভেতর কি আছে সেটা দেখার সুযোগ আমাদের হয় না বা দেখতে পারিনা। ফলে ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন এবং পণ্য খুলে দেখেন যে এর মধ্যে কোনো একটা সমস্যা আছে। এর জন্য আমাদের লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং শাস্তি দিচ্ছেন। এভাবে  আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে হয়রানি হচ্ছি। কিন্তু তারা জানেনা যে এই পণ্যগুলো আমরা উৎপাদন করি না। তাই প্যাকেটের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে সে জন্য উৎপাদনকরীকে ধরতে হবে অথবা আমদানিকারককে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। আপনারা জানেন, এর আগে আমাদের সুপার মার্কেট ওনার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকেও এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এখন কথা হলো এই পণ্যগুলোতো আমারা তৈরি করি না। এগুলো তৈরি করছেন উৎপাদনকারীরা। তাই উৎপাদনকারীদের  আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইনটা সাপোর্ট করছে না। এটাকে এই খাতের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করছি।    ইদানিং আমরা ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে ভুগছি। সম্প্রতি হয়তো আপনি শুনেছেন একটি ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ডেটা সেফটি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মচারীদের নৈতিক দিক থেকে ঠিক রাখা এগুলো হচ্ছে বর্তমানে সুপার মার্কেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ।   একুশে টেলিভিশন: বিএসটিআই খাবারের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে প্রায়ই নিরাপদ খাবার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বর্তমানে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের জায়গাটা কিভাবে তৈরি করা যায় বলে আপনি মনে করেন।         সাব্বির হাসান নাসির: আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটা বিষয় বার বার বলে আসছি। সেটা হলো আমাদেরকে  নীতি নির্ধারণের জন্য একসঙ্গে বসতে হবে। আমাদের কথাগুলো শুনতে হবে। আপনি এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেন আইন প্রয়োগ কর এবং আপনি ভাবলেন এতে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তাতে আসলে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ ব্যবসায়ীরা কখনই ভোক্তাকে খারাপ জিনিস দিতে চায় না। সুপার শপে হয়তো এই পদ্ধতি চালু করা যাচ্ছে, কিন্তু বাজারে তা চালু করা যাচ্ছে না।    আমি মনে করি এ সমস্যা সমাধানে সুপার চেইন শপের সংশ্লিষ্ট মালিক, উৎপাদনকারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের সদস্যদের একসঙ্গে বসা উচিত। একসঙ্গে বসে একটি দীর্ঘ মেয়াদী আইন প্রণয়ন করতে পারলে সমস্যা আশা করি কেটে যাবে।       এছাড়া আমাদের একটি মাইক্রো বায়োলজিক্যাল ল্যাব দরকার। এটি স্থাপন করা না হলে খাদ্য দ্রব্য সহজে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সবকিছু পরীক্ষা করতেও চায় না। কারণ পরীক্ষা করাটা অনেক বেশি ব্যয় বহুল। তাই কিভাবে পরীক্ষা করা যায় এ বিষয়ে এক সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   একুশে টেলিভিশন:  যারা ভোক্তা তাদের ভ্যাট নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। যেমন নরমাল একটা বাজারে একটি জিনিস কিনছেন হয়তো সুপার শপে ওই জিনিসটাই আরেকটু ভালো পরিবেশে কিনছেন। কিন্তু তাতে ভ্যাট বিষয়টা সামনে চলে আসে। এ বিষয়টার কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?      সাব্বির হাসান নাসির: এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকার হয়তো মনে করে যারা সুপার শপে আসে তারা বড় লোক। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া যেতে পারে। যারা বাজারে বা নরমাল জায়গায় বিক্রি করছে তাদেরকে মনে করা হচ্ছে গরীব এবং তাদের কাছে আসেও গরীব ক্রেতারা। আমার মনে হচ্ছে এটা মোটেই ঠিক না। কারণ বিশ্বব্যাপী মুক্ত অর্থনীতি অনুশীলন হচ্ছে। সুপার স্টোর ও আধুনিক ব্যবসা থেকে সরকার কর পাচ্ছে। সেখানে এই বিষয়টিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাই আমি মনে করি ভ্যাটের হার সমান হওয়া উচিত। ওইখানে যদি জিরো ভ্যাট থাকে তাহলে এখানেও জিরো ভ্যাট থাকা উচিত। এর ফলে সুপার মার্কেটের সংখ্যা বাড়বে। ক্রেতা বাড়বে এবং বিক্রির পরিমাণও বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারও অনেক বেশি  লাভবান হবে।   একুশে টেলিভিশন:  আমাদের দেশে একটু দেরিতে সুপার শপ চালু হয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে আয়ের জায়গায় আসা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়টা নিয়ে যদি একটু বলেন।  সাব্বির হাসান নাসির: এই খাতে যারা প্রথমে বিনিয়োগ করে তারা এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতো না। এই খাত থেকে কিভাবে আয় করবে সে সম্পর্কেও কারো ধারণা ছিল না। এর থেকে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে বেশি লাভ হবে সেটাও জানা ছিল না। ব্যবসা শুরু করার পর সবার মধ্যে আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাস তৈরি হতে  থাকে।  যার ফলে এই সুপার শপ ব্যবসা লাভজনক হওয়ার পথে হাঁটা শুরু করে।     একুশে টেলিভিশন:  কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা ক্রেতাদের কাছে আসতে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটা প্রভাব থাকে। যেখানে ৫ টাকার বেগুন হয়ে যায় ৪০ টাকা। এ বিষয়টা নিয়ে সুপার শপ কি করছে?   সাব্বির হাসান নাসির: আপনি কাঁচা বাজার থেকে পণ্য ক্রয় করছেন। সেখানে কি আপনি আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন? আপনি যে জিনিষটা খুঁজছেন সেটারও কিন্তু মূল্য আছে। বাজারে জিনিষ ক্রয় করতে গিয়ে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। আবার আপনি নিশ্চিত নন যে পণ্যটি ভালো না খারাপ। ভালো না হলে ফেরত দেওয়ারও সুযোগ নেই। ফেরত দিতে চাইলেও বিক্রেতাকে খুঁজে পাওয়া বা নেবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।  অন্যদিকে সুপার শপে একজন ক্রেতা আলাদা সুবিধা পাচ্ছে। কোনো পণ্য খারাপ হলে সেটা ফেরত দেওয়ার যেমন সুযোগ রয়েছে তেমনি অভিযোগ থাকলে সেটাও করার সুযোগ আছে। এটা অনেক বড় একটা বিষয়। যা নরমাল বাজার থেকে পাওয়া যায় না। আবার এখানে রয়েছে শীতাতপ এর মধ্যে বাজার করার ভালো পরিবেশ। এটাও একজন ক্রেতার জন্য বাড়তি পাওনা।     একুশে টেলিভিশন: সামনে যে বাজেট রয়েছে সেটা নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা কি?  সাব্বির হাসান নাসির: আমরা আশা করছি, ৪ শতাংশ যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে সেটা ২ শতাংশে কমিয়ে আনা হবে। যদি এটা করা হয় তাহলে আমাদের বিক্রি বাড়বে। ব্যবসার আরও প্রসার ঘটবে। এতে সরকারও বেশ লাভবান হবে। সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য আমি মনে করি এই খাতের ওপর সরকারের নজর দেওয়া উচিত। আর সরকারকে দেখতে হবে কিভাবে এই খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। সেখানে আমাদের করণীয় কি? সরকার আমাদের কাছ থেকে কি পেতে পারে। এসব বিষয় পরিস্কার করতে হবে। দ্বিতীয় আর একটি কথা হলো আমাদের জন্য যে যন্ত্রপাতি আসে সেগুলোতে নজরদারি যদি একটু কমানো যায়। তাহলে ভালো হয়। এরপর আমাদের জন্য যদি শহরে একটা স্পেস দেওয়া হয় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয় তাতেও এ খাত উন্নত হবে। কেননা শপিংও কিন্তু অপকাঠামোর একটা অংশ।     সবশেষ কথা হলো আপনি কোথা থেকে পণ্যটি ক্রয় করবেন? অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে যেখানে ই-কোলাতেই  ব্যাকটেরিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানের শপিংটা কতটা নিরাপদ সেটাও সরকারের বিবেচনায় আনা উচিত। তাই সরকার এই খাতের দিকে নজর দিয়ে স্বাস্থ্যকর মেগা স্টোর করার কথা ভাবতে পারেন। সর্বপরি এই খাতের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশে একটা রিটেইল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।          এমএইচ/এসি    

বহির্বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির ব্র্যান্ডিং করতে হবে : আলমাস কবির

তথ্য ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারি পদক্ষেপও দৃশ্যমান। যার ধারাবাহিকতায় স্কুলগুলোতে সংযোজন করা হচ্ছে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন উপকরণ। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতেও জোর দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর। এমনই একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হলো বিআইটিএম, যেখান থেকে হাজারো শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে দেশে ও দেশের বাইরে ভালো ক্যারিয়ার গড়েছেন। তাই বিআইটিএমকে একটি বিশেষ ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেসিসের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির। সরকারের নানা উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রথম সারিতে আছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে এসেছেন নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির। যিনি মেট্রোরেল বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্য প্রযু্ক্তির নানা বিষয় জানতে সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয় একুশে টেলিভিশন। টেলিভিশনে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকার হুবহু পাঠকের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো। একুশে টেলিভিশন: প্রথমেই তথ্য ও প্রযুক্তি খাত নিয়ে কথা বলতে চাই। দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যদি বলতেন?সৈয়দ আলমাস কবির: আপনারা জানেন আমাদের সকরারের একটা প্রতিজ্ঞা আছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। যার ধারাবাহিকতায় সরকারের বেশ ভাল নজর আছে আমাদের ইন্ডস্ট্রির প্রতি। সে কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে এখন অনেক উদ্দীপনা, অনেক উৎসাহ। উৎসাহ ও উদ্দীপনার কারণে কাজও হচ্ছে অনেক। সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে কাজ হচ্ছে। একটা আশার দিক হলো তরুণ–তরুণীরা এখানে উদ্যোক্তা বা চাকরিজীবি হিসেবে খুবই ভালো করছে। তাই সর্বোপরি এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা ভালো সময় বলা যায়। একুশে টেলিভিশন: পরিচালনা পর্ষদের আগেও আপনি ছিলেন। আবারও নতুন দায়িত্বে এসেছেন। সেক্ষেত্রে নতুন লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন?সৈয়দ আলমাস কবির: সর্বপ্রথম আমি বেসিসের মধ্যে একটি গ্রোথ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই। এই গ্রোথ ইকোসিস্টেমটা এমনি একটা পদ্ধতি যেটার সহযোগিতা নিয়ে এ সেক্টরের যে ছোট ছোট কোম্পানি বা সদস্য আছে, তারা তাদের ব্যবসাকে প্রসারিত করতে পারবেন। যেমন একটি নতুন কোম্পানির জন্য জায়গা থেকে শুরু করে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। তার জন্য বিনিয়োগের দরকার হয়। ব্যবস্থাপনা দক্ষতা দরকার হয়। সেটার জন্য ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের ব্যাপার আছে। তার আইনি সহায়তার দরকার আছে। এসব সহযোগিতা বা সহায়তা যদি একটি কোম্পানি বেসিস থেকে পায় তবে সে কোম্পানি ব্যবসায়িকভাবে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য এ সহযোগিতাগুলো নিশ্চিত করা। এই গ্রোথ ইকোসিস্টেমটা যদি নিশ্চিত করা যায় তবে ছোট ছোট কোম্পানিগুলো সমৃদ্ধ হবে। তাতে পুরো আইসিটি সেক্টর সম্প্রসারিত হবে। আমি আগেও প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় এ কাজ শুরু করেছিলাম। এখন সে কাজ আগামী দুই ‘কোয়ার্টারের’ মধ্যে শেষ করতে চাই। একুশে টেলিভিশন: আইসিটি খাতে ব্যপক কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা দক্ষ জনশক্তি কতটুকু করতে পেরেছি?সৈয়দ আলমাস কবির: আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে যে জায়গায় দেখতে চাই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো আমাদের জনবলকে দক্ষ করে তোলা। এ ব্যাপারে আমাদের গ্রোথ ইকোসিস্টেমের পাশাপাশি একটা বাজার গবেষণা দরকার আছে। কারণ আমরা জানি না যে এই মুহুর্তে বাজারে কত টাকার কাজ চলছে। বাজারে আমাদের কত টাকার চাহিদা আছে। কি পরিমাণ দক্ষতার অভাব আছে। গবেষণার মাধ্যমে এ ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তারপর বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট ও বিআইটিএম’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যা আমরা এরই মধ্যে শুরু করেছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমাদের এ প্রশিক্ষণে কাজ হবে না। তাই আমরা এরই মধ্যে ইউজিসিসহ কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। আশা করছি তারা বুঝতে পারছেন যে এ ধরণের হাতে কলমের প্রশিক্ষণগুলো একাডেমিক পর্যাযে আনা দরকার।তবে আমাদের সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে দক্ষ জনশক্তির দেশ হিসেবে। স্বল্পমূল্যের শ্রমিকের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করলে চলবে না। আমাদের দুই থেকে তিনটা বিষয় চিহ্নিত করতে হবে। আর সেক্ষেত্রেই সবাইকে দক্ষ করে তুলতে হবে। সে অনুযায়ী আমাদের এখন থেকে পরিকল্পনা নিতে হবে। একুশে টেলিভিশন: কোন কোন ক্ষেত্রে আসলে আমাদের দক্ষতা বাড়ানো দরকার?সৈয়দ আলমাস কবির: আমাদের চিহ্নিত করতে হবে যে আমাদের আপকামিং টেকনোলজি কি। এ মুহুর্তে হয়তো আমরা একটা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছি। যা নিয়ে বাইরের দেশেও কাজ হচ্ছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে যখন ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বের করবো তখন হয়তো অন্য নতুন টেকনোলজি বের হয়ে যাবে। তাই আমাদের ভাবতে হবে এখন থেকে ৫ বছর পর বিশ্বে কী ধরণের টেকনোলজি আসছে। যেমন এখন হয়তো আমরা আইওটি নিয়ে কাজ করছি। আগামীতে আমাদের রোবটিকসহ নতুন কোন বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার। আমাদের শিক্ষকদের নয় বরং ইন্ডাস্ট্রি থেকে আইডেন্টিফাই করতে হবে যে, আগামী ৫ বছরে কী ধরণের টেকনোলজি আসবে। সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের ইউনিভার্সিটির সিলেবাসে আনতে হবে। আশা করছি ইউজিসি এটাতে সম্মত হবেন। কারণ মাস খানেক আগে আমরা যে মিটিং করেছি তাতে তাদের একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া গেছে। আমরা বিআইটিএম থেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো বিআইটিএমকে একটা ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আগামী ২০২২ না হলেও ২০২৫ সালের মধ্যে এটাকে পূর্ণ ইউনিভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য। যে ইউনিভার্সিটিটা হবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশেষ ইউনিভার্সিটি। যেটা দক্ষ মানবশক্তি গঠনে সহযোগিতা করবে। একুশে টেলিভিশন: আমরা সফটওয়ার, আউট সোর্সিংয়ের কথা বলছি।এসব সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সরকারের কোন কোন জায়গায় বেশি নজর দেওয়া দরকার? সৈয়দ আলমাস কবির: দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আমাদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আমাদের প্রাইমারি স্কুল পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে। আমরা যদি টেকনোলজি ভিত্তিক জাতি তৈরি করতে চাই, এর সাথে সাথে অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের সারা দেশে ফাইবার অপটিক নিয়ে কাজ হচ্ছে। ফোরজি চালু হয়েছে। সরকারের অবশ্যই তথ্য-প্রযুক্তি খাতের আরও উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একুশে টেলিভিশন: আগামী বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কতটুকু?সৈয়দ আলমাস কবির: আমরা বাজেট নিয়ে এরই মধ্যে একটা প্রস্তাবনা দিয়েছি। আরো বিস্তারিত নতুন একটা প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। এটা শুধু আমরা বেসিস একা নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি বাজেট দিবো। আমরা কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছি। তার মধ্যে ইন্টারনেটের ওপরে ভ্যাট অন্যতম। ১৫ শতাংশ ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট অনেক বেশি। সফটওয়ার আমদানিতে ডিউটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। একুশে টেলিভিশন: আপনাকে ধন্যবাদসৈয়দ আলমাস কবির:একুশে টেলিভিশনকেও ধন্যবাদ অনুলিখন-রিজাউল করিম ভিডিও / এআর /    

উন্নয়নের গতি ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ: ড. সালেহ উদ্দিন

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণ, বিশাল এ অর্জনের পেছনে চ্যালেঞ্জ ও তা টপকানোর উপায়, পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা, জনশক্তি রফতানি, জনসংখ্যার বোনাসকাল, কর্মসংস্থানসহ ব্যাংকের সুদের হার, ঋণ, ঝুঁকিসহ অর্থনীতির আরো সব অনুসঙ্গ নিয়ে একুশে টেলিভিশন মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের। তিনি ২০০৫ সালের ১ মে থেকে ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে ছিলেন। তিনি বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। ড. সালেহ উদ্দিন মনে করেন, স্বল্পোন্নত তকমা কাটিয়ে বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশে যাচ্ছে এটিই এখন চ্যালেঞ্জ। এই উন্নয়নের গতি ধরে রাখাই সামনের দিনগুলোয় বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি টেকসই উন্নয়নের উপর জোর দেন। বলেন, আমাদের এ অর্জনে (এলডিসি থেকে উত্তরণ) ৪৭ বছর লেগেছে। অথচ এতো সময় লাগার কথা না। তাই এখন আমাদের উন্নয়নের দিকে দ্রুত আগাতে হবে। উন্নয়নের গতি আরো বাড়াতে হবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো- একুশে টেলিভিশন অনলাইন: স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে ৬ বছর পর্য্যবেক্ষণে রাখা হবে। পর্য্যবেক্ষণকালে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে গিয়ে আমাদের কী ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা লাগতে পারে? সালেহ উদ্দিন : আমাদের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ আমরা যে উন্নয়নশীলের এ জায়গায় এসেছি এটা ধরে রাখা। এটার টেকসই নিশ্চিত করা। আমাদের এ অর্জনে ৪৭ বছর লেগেছে। তারমধ্যে গণতান্ত্রিক সরকার আছে ১৯৯০ থেকে। সে হিসেবে প্রায় ২৮ বছর লেগেছে। কিন্তু এতো সময় লাগার কথা ছিলো না। তাই এখন আমাদের উন্নয়নের দিকে দ্রুত আগাতে হবে। উন্নয়নের গতি আরো বাড়াতে হবে। আমাদের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মানুষের যে জনকল্যানমুখী উন্নয়ন, কোয়ালিটি অব লাইফের ক্ষেত্রে দিনদিন বৈষম্য বাড়ছে। এটা কমাতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া কর্মসংস্থানের দিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সবার জন্য গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে যে ভৌত অবকাঠামো-বন্দর রাস্তাঘাট গড়ে উঠেছে তাও কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তা নয়। সুতরাং আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নেও আরো গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে দ্রুত নগর উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ পর্যায়ে সেভাবে হচ্ছে না। তাই উন্নয়নটাও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের করণীয় ঠিক কী হতে পারে? সালেহ উদ্দিন: দক্ষ ও সৎ ব্যাক্তিদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনতে হবে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোকে আরো দক্ষ ও জবাবদিহি করতে হবে। কারণ আমাদের যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনেক সময় লাগে। আমাদের প্রযুক্তিগত দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সেভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী বাস্তবায়ন হয় তবে উন্নয়নশীলের মাপকাঠিতে আমরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বিশ্বের অন্য যেসব দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল হয়েছে, তাদের কোনো অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে কি না ? সালেহ উদ্দিন: বতসোয়ানা, শ্রীলঙ্কা, ভারতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, তারা অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি সামাজিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নের সমন্বয়ে নজর দিয়েছে। যেমন বতসোয়ানা এমন একটি দেশ যারা বিশ্ব ব্যাংকসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের প্রগ্রাম বাস্তবায়ন করতো। তারা প্রশাসনিক পনর্গঠনেও নজর দিয়েছে। আমাদের সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতিমালার পরিবর্তন হলে চলবে না। নীতিমালা ঠিক রাখতে হবে। নির্দিষ্ট নীতিমালা নিয়ে এগোতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: জনসংখ্যার বোনাস যুগ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) অতিবাহিত করছে দেশ। এ সুযোগ বাংলাদেশ কতটা কাজে লাগাতে পারছে বলে আপনি মনে করেন? সালেহ উদ্দিন: এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ জনসংখ্যার বোনাসকাল কাজে লাগাতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তেমন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয়েছে। অনেক গবেষণাও হয়েছে। কিন্তু মানবসম্পদ দক্ষ করার জন্য কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। কোন ক্ষেত্রে কী পরিমান লোক লাগবে তার কোন গবেষণা নেই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তাদের শিক্ষাটা চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে না। যে ক্ষেত্রে লোক দরকার সেক্ষেত্রে হচ্ছে না। আমাদের প্রযুক্তি ও কারিগরি বিষয়ে দক্ষতা নেই। অথচ এটা দেশে খুবই সম্ভাবনাময়। আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোরও জনবল প্রশিক্ষণের কোনো গুরুত্ব নেই। আর সরকার তো এ বিষয়টি গুরুত্বের বাইরে রেখেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড তো চীন ও সিঙ্গাপুরও ভোগ করছে। তারা কিভাবে সেটি কাজে লাগাচ্ছে, তাদের কাছ থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি? সালেহ উদ্দিন: পৃথিবীর অন্য দেশ কোন কোন খাতে কি পরিমান লোক লাগবে সেটা জেনে সেভাবেই পরিকল্পনা নিচ্ছে। যেমন ভারতের হায়দ্রাবাদ অন্ধ্য প্রদেশে ছোট পরিসরে উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তা তৈরি করতে সরকার বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদেরও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে উৎপাদনমুখী ব্যবসায় তরুণদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে। দেশের যুব সমাজ যদি বুঝতে পারে যে চাকরি-ই একমাত্র জীবিকা নয়, ব্যবসাও করলে নিজের পাশাপাশি দেশও উপকৃত হবে। তবে তারা উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। কিন্তু এখানে সরকারকে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আরকে// এআর    

কোনো পুরস্কারের আশায় মুক্তিযুদ্ধ করিনি : মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, আমি কোনো পুরস্কারের আশায় মুক্তিযুদ্ধ করিনি। তখনকার প্রেক্ষাপটে কোনো মুক্তিযোদ্ধাই পুরস্কারের আশায় মুক্তিযুদ্ধ করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের বৈষয়িক পুরষ্কার দিয়ে অবদানের প্রতিদান দিতে হবে, এমন ধারণা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার সামিল।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দেশে  বাম রাজনীতির পথিকৃত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ডাকসুর প্রথম ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনেকে বলছেন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করার আরও একশ’ একটা পথ আছে। সেই পথ অবলম্বন না করে তাদের সন্তানদের বা উত্তরাধিকারীদের বংশ পরম্পরায় জনপ্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক না। মুক্তিযোদ্ধাদের বৈষয়িক পুরস্কার দিয়ে অবদানের প্রতিদান দিতে হবে, এমন ধারণা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার শামিল। সুতরাং কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করাও ঠিক হবে না আবার যেভাবে আছে সেটি বহাল রাখাও ঠিক হবে না। এটার সংস্কার জরুরি। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কথায় উঠে এসেছে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস,  শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরির বয়সসীমা, ডাকসু নির্বাচনসহ নানা প্রসঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ তরুণ চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে একটা অংশ কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করছে । একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনি বিদ্যমান কোটা পদ্ধতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ জনপ্রশাসনে নিয়োগ কীভাবে দেওয়া হবে সেই প্রশ্নেই এই প্রসঙ্গটা এসেছে। একপক্ষ বলছে, কোটা উঠিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া উচিত। অন্যপক্ষ বলছে কোটা যেভাবে আছে সেভাবেই থাকা উচিত। আমার মতে এই দুই মতের কোনোটাই সঠিক নয়। আমাদের প্রশাসন দক্ষ ও মেধাবী লোকদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। জাতির স্বার্থেই সেটা প্রয়োজন। কিন্তু জাতির স্বার্থে এ বিষয়ে নজর দিতে গেলে আরও কিছু বিষয় চলে আসে। সেক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এখানে প্রশ্ন এসে যায়, মেধার ভিত্তিতে যে নিয়োগ সেখানে মেধার পরিমাপ কীভাবে হবে? বিশেষ করে বর্তমানে প্রশ্নফাঁসের যে রমরমা যুগ চলছে সেখানে কেবলমাত্র নম্বর দেখে মেধা যাচাই করা যায় না। দ্বিতীয়ত, কাগজ কলম বা সার্টিফিকেটনির্ভর বিদ্যা খুব একটা কাজে লাগে না। আবার দেখা গেলো  মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিলাম। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বাস্তব অভিজ্ঞতায় চর্চার ফলে মেধা বাড়তে থাকে। আবার কেউ কেউ নিচের দিকে পড়ে যেতে থাকে। সেজন্য আমি বলি, নিয়োগ যেভাবেই হোক, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা দরকার। যদিও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিতর্কের কারণে আমাদের মেধাবী চিহ্নিত করতে কষ্ট হবে তবু আমি বলব, জনপ্রশাসন নিরপেক্ষ, দক্ষ ও বিতর্কের ঊর্দ্ধের লোকদের দিয়ে গঠন করা উচিত যারা অন্তত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারে। আমি আগেই বলেছি, জাতীয় স্বার্থে মেধাবী ও দক্ষ লোকদের দিয়ে যেমন জনপ্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন তেমনি জাতীয় স্বার্থে আরও অনেক কিছু প্রয়োজন। তার মধ্যে অন্যতম হলো সমতা। `সমতার নীতি কার্যকর করতে হবে`। এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও একটা অংশ। জনপ্রশাসনে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটারও প্রতিফলন হওয়া উচিত। যেহেতু যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজ অসম বিকাশের ফলে গড়ে উঠেছে, সেহেতু সবার ক্ষেত্রে মেধা বিবেচনা করলে চলবে না। আমাদের সমাজে এগিয়ে থাকা মানুষ যেমন আছে, তেমন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীও আছে। এগিয়ে থাকা ও পিছিয়ে থাকা মানুষের মধ্যে যদি আমি সমানে সমানে চিন্তা করি, তাহলে যারা অনগ্রসর তারা শুধু পিছিয়েই থাকবে না বরং তাদের পিছিয়ে পড়া অবস্থা আরও নিচের দিকে চলে যাবে। পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোকে এগিয়ে আনতেই তাদেরকে কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটাকে ইংরজিতে বলা হয় পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশন বা ইতিবাচক বৈষম্য। এর মধ্য দিয়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে না পারলে আমরা কিন্তু সমতার জায়গায় পৌঁছাতে পারব না। সেজন্য আমি মনে করি নারী, আদিবাসীদের জন্য কিছু কোটা থাকা প্রয়োজন। যা নির্দিষ্ট সময় পরপর পুণর্বিবেচনা করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে `মুক্তিযোদ্ধা কোটা` থাকাটা কতটা যৌক্তিক বলে আপনি মনে করেন? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ আমরা পাকিস্তানের নবসংস্করণ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। পাকিস্তানের চিন্তাধারা এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রগতিশীল ধারায় নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রনয়ণ করার জন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের জনপ্রশাসনও মুক্তিযুদ্ধের আলোকে সাজানো দরকার। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রে তাদেরকে দিয়েই জনপ্রশাসন সাজানো হবে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সে সময়কাল তো পার হয়ে গেছে। এই সময়কালের মধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল তারা জনপ্রশাসনে কাজ করে ফেলেছে। এখন তাদের সন্তানরা সুযোগ পাচ্ছে। এরপর আসছে তাদের নাতিপুতিরা। এটা কোনো অবস্থায় যুক্তিযুক্ত না। অনেকে বলছে, এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করার আরও একশ একটা পথ আছে। সেই পথ অবলম্বন না করে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বা উত্তরাধিকারিদের বংশ পরম্পরায় জনপ্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক না। আবার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা সবসময় যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে তাও নয়। আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, আমি কোনো পুরস্কারের আশায় মুক্তিযুদ্ধ করিনি। তখনকার প্রেক্ষাপটে কোনো মুক্তিযোদ্ধাই পুরস্কারের আশায় মুক্তিযুদ্ধ করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের বৈষয়িক পুরষ্কার দিতে তাদের অবদানের প্রতিদান দিতে হবে, এমন ধারণা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার সামিল। সুতরাং কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করাও ঠিক না আবার যেভাবে আছে সেভাবে বহাল রাখাও ঠিক না। এটার সংস্কার করা উচিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন অনেকে। এ আন্দোলন কতটুকু যৌক্তিক ? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ দুটি দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। প্রথমত, কোনো বয়সে একজন মানুষের দক্ষতা ও প্রতিভা সর্বোচ্চ ভাল অবস্থানে আসে। দ্বিতীয়ত, এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী পাস করে বের হতে হতে কত বয়স লাগে? টানা পড়ালেখা করলে কত বয়স লাগে? এছাড়া দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের অনেক সময় পড়ালেখার মাঝে মধ্যে গ্যাপ যায়। সেসবও বিবেচনায় আনা উচিত। এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই চাকরির বয়সসীমা নির্ধারণ করা উচিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনি নিজেই কিছুক্ষণ আগে বললেন, প্রশ্নফাঁসের কারণে প্রকৃত মেধাবী নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রশ্নফাঁসের জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: প্রশ্ন ফাঁসের জন্য আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট দায়ী। আমাদের সবকিছু পণ্যায়ন হয়ে গেছে। আশপাশে দৃশ্য ও অদৃশ্য যা কিছু আছে সবই কেনা বেচার সামগ্রী। প্যারাসিটেমল থেকে বাজারের আলু-পটল যেমন কিনতে হয়, তেমনি সার্টিফিকেটও কিনতে হয়। `জ্ঞান` যে টাকা দিয়ে বিক্রি হয় না সেই বোধটা কিন্তু আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বাজার অর্থনীতিতে ভোগবাদ, প্রদর্শনবাদের ও পণ্যায়নের প্রতিযোগিতা চলছে। আগে আমরা পড়তাম,‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই, এখন হচ্ছে সবার উপরে সার্টিফিকেট সত্য তাহার উপরে নাই।’ এর জন্যই অশুভ চক্র অর্থ লেনদেনের ভেতর দিয়ে সার্টিফিকেট ফাঁসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমরা কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ এই প্রশ্নটার উত্তর একদিকে সহজ, অন্যদিকে কঠিন। কঠিন এই অর্থে, `সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দেব কোথা` এমন একটা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। আর সহজ এই অর্থে, নতুন করে পথ খুঁজে নেওয়ার কিছু নাই। পথ আমাদের আছে। তা হলো, মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমরা যে রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলাম, তা বিনির্মাণ করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: শিক্ষাক্ষেত্রে কোন কোন গলদগুলো আপনার চোখে পড়ে? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ দু`টা গলদ খুব স্পষ্ট। একটা হলো বাণিজ্যিকীকরণ, অন্যটা সাম্প্রদায়িকীকরণ। আমরা আগে লড়াই করেছি, মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অর্জন করেছি। একধারার একটা সার্বজনীন শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের সে অধিকার না দিয়ে বিকৃতি সাধন করেছে। ব্যয়বহুল করার মাধ্যমে একটা অংশকে শিক্ষা বঞ্চিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় খরচ কমিয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত খরচ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ঘটানো হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার্থে এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে আমরা দেখি কয়েক ধারার শিক্ষা। শিক্ষার এই বৈষম্যে প্রজন্মের মধ্যে ভেদাভেদ দেখা দিচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ পাঠ্যসূচিতে ধর্মীয় শিক্ষা কী আপনি সমর্থন করেন? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ সমর্থন করি। সমর্থন করবো না কেন? তবে সেটা থাকা উচিত উচ্চতর পর্যায়ে। কেউ রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ে, কেউ অর্থনীতি পড়ে, কেউ বিজ্ঞান বা দর্শন পড়ে। ঠিক তেমনি কেউ চাইলে ধর্ম পড়তে পারে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত বাংলা, অংক, ভূগোল, ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞান - এরকম মৌলিক বিষয়গুলো পারদর্শী করে তোলা উচিত। সেক্ষেত্রে একমুখী শিক্ষাই কাম্য। আমি মনে করি ক্লাস এইট পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় এনে সার্বজনীন শিক্ষা চালু করা উচিত। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বিশ্ব অর্থনীতির এই বাস্তবতায় শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ থেকে কী বেরিয়ে আসা সম্ভব? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ অবশ্যই সম্ভব। আমরা দেখি, অনেক রাষ্ট্র সেটা করতে সক্ষম হয়েছে। এবং তাদের অগ্রগতিও অনেক দূর হয়েছে। কিউবা তার অন্যতম উদাহরণ। চীন এক্ষেত্রে আজকে পৃথিবীতে একটি দৃষ্টান্ত। ভিয়েতরামও সফল হয়েছে। অর্থাৎ যে রাষ্ট্রগুলো সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়েছে তারা প্রত্যেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে সফল হয়েছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেওয়ার পরও আমাদের যুব সমাজে বড় একটি অংশ বেকার। কেন? তাদের কর্মসংস্থানের অভাব, নাকি শিক্ষার গলদ? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ এটা আমাদের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গলদ। আমাদের এখানে রাষ্ট্রীয় খাতকে দিনের পর দিন ছোট করে ফেলা হয়েছে। রাষ্ট্র কর্মসংস্থানের ব্যপারে কোনো দায়িত্বই নিচ্ছে না। বরং প্রাইভট খাতকে উদ্বুব্ধ করছে। এর ফলে ব্যক্তিখাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং বিত্তবান ধনীক শ্রেণী- তারা কী তাদের টাকা আমেরিকায় সেকেন্ড হোম তৈরির জন্য খরচ করবে, নাকি বেগম পাড়ায় বাড়ি কেনার জন্য খরচ করবে, নাকি সুইস ব্যংকে জমাবে, নাকি এখানে কলকারখানা তৈরী করবে, সেটা তাদের মর্জির উপর নির্ভর করছে। আমাদের মতো দেশে অর্থ পুঁজি হয়না। সেটা বিদেশে পাচার হয়ে যায় বা ভোগ বিলাসে ব্যয় হয়। সুশাসনের মাধ্যমে আমরা যদি অর্থকে পুঁজিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থার সৃষ্টি করতে পারি তাহলে বেকারত্বের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আপনি ডাকসুর প্রথম ভিপি। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গড়ে উঠা আন্দোলনকে আপনি কতটা সমর্থন করেন। এ নির্বাচনের ব্যপারে আপনি কতটুকু আশাবাদি? মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যেমন লেখা থাকে কয় তারিখের মধ্যে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করা উচিত, তেমনি ছাত্র সংসদ নির্বাচন কয় তারিখের মধ্যে হতে হবে তাও লিখা থাকে। ছাত্র সংসদ কার্যক্রম শিক্ষা কার্যক্রমেরই একটা অংশ। বইয়ের পোকা বানানো শিক্ষার উদ্দেশ্য না। একজন শিক্ষার্থীকে সামগ্রিকভাবে সচেতন করে গড়ে তোলা, তার ভেতরের লুকায়িত সব প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলাই শিক্ষার উদ্দেশ্য। সেই যুক্তিতে পরীক্ষার তারিখ যেমন বাধ্যতামূলক তেমনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনও বাধ্যতামূলক। খুবই অবাক করার বিষয়, ডাকসু নির্বাচনের ব্যপারে মাননীয় রাষ্ট্রপতি নিজে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও বটে। উচ্চতর আদালত ছয় মাসের ভেতরে ডাকসু নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ছয় মাস পার হয়ে গেছে। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানালো আগামী বছর মার্চ মাসে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বছর বছর ইলেকশনের জন্য যদি একবছর আগে নোটিশ দিতে হয়, তাহলে কয় বছর পর পর নির্বাচন হবে? একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমঃ একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা।   / এআর /  

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বেসিসের নেতৃত্ব দিতে চাই

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন  আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ স্থানীয় এই বাণিজ্য সংগঠন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের সংস্থা যা জাতীয়ভাবে সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে ইতোমধ্যে তিনটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। টিম তিনটি হল - উইন্ড অব চেঞ্জ, টিম হরাইজন, টিম দুর্জয়। ৯ জন পরিচালকের জন্যে তিন প্যানেলে জয়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ২৬ জন প্রার্থী। আসন্ন ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বেসিস নির্বাচন নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন `উইন্ড অব চেঞ্জ`  প্যানেল থেকে পরিচালক পদে প্রার্থী এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু দাউদ খান।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনার সম্পর্কে শুনতে চাই? তথ্য প্রযুক্তি খাতে আপনার সম্পৃক্ততা কিভাবে হল সেই সম্পর্কে বলুন? আবু দাউদ খানঃ আমি ১৯৭৬ সালে গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহন করি এবং শৈশব কেটেছে গ্রামে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে কলেজ জীবন শেষ করি এবং এমবিএ করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে। বর্তমানে আমি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। যা একটি বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং কোম্পানি। আমার প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে  পার্টনারসহ চালু করি। প্রায় ছয় বছর ধরে আমি এমডি অ্যান্ড সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি সব সময় অ্যাকশান ওরিয়েন্টেড এবং যে জায়গাতে থাকি না কেন সফল হতে চেয়েছি, আমি আমার ১৬ বছরের করপোরেট ক্যারিয়ারে নকিয়ার তিনটি দেশের কানট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে নিজেই উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করি। আমার প্রতিষ্ঠান বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে এখন সুনামের সাথে ব্যবসা করে চলেছে। এছাড়াও আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনার প্রতিষ্ঠান কি ধরণের কাজ হয়ে থাকে? আবু দাউদ খানঃ  আমার প্রতিষ্ঠান মূলত পিপল আউটসোর্সিং ও কন্সাল্টিং এ স্বনামখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান, কাস্টমার সার্ভিস নিশ্চিত করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুরু করি বিভিন্ন সেবা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ গ্রাফিক্স ও ওয়েবসাইট ডিজাইনের জন্য এনরুট ডিজিটাল ল্যাব, পেরোল মানেজমেন্টের জন্য এনরুট পে-সল্যুশনস, এনরুট কল সেন্টার এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম “সুদক্ষ”- দেশের সর্বস্তরে গুণগত শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়াই যার উদ্দেশ্য।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ উইন্ড অব চেঞ্জ নির্বাচিত হলে বেসিসের কোন কোন পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে?  আবু দাউদ খানঃ বেসিসের সদস্যরা যেসব প্রত্যাশা করেন সেসব বিষয় নিয়েই মূলত কাজ করার অঙ্গীকার করেছে প্যানেলটি। এর মধ্যে রয়েছে- শুধুই ইভেন্ট আয়োজন নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার ঘটানো; শুধুই ‘হাইপ’ তৈরি করা নয় এর ফলাফল তৈরি করা; শুধুই প্রতিশ্রুতি নয়, তার বাস্তবায়ন ঘটানো; আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার পরিবর্তে সদস্য সেবা দ্রুত ও সহজীকরণ এবং শুধু নীতিমালা প্রণয়ন নয়, এর বাস্তবায়ন ঘটানো। আমরা নির্বাচিত হলে সেই কাজের প্রতিফলন আপনারা দেখতে পাবেন। এই ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। কাজ করে আরও পরিবর্তন আনতে চাই। ৩. একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বেসিস নির্বাচনে আপনাদের প্যানেল সম্পর্কে বলুন?   আবু দাউদ খানঃ আসন্ন বেসিস নির্বাহী পরিষদ ২০১৮-২০২০ নির্বাচনে ‘উইন্ড অফ চেইঞ্জ’ প্যানেলের হয়ে অংশগ্রহণ করছি। এই প্যানেলে প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ সফল ব্যবসায়ী কিন্তু বেসিস নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে নতুন এমন এক ঝাঁক উদ্যমী প্রার্থী রয়েছেন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন লুনা শামসুদ্দোহা, চেয়ারম্যান, দোহাটেক নিউ মিডিয়া। এই প্যানেলে আরও রয়েছেন মোহাম্মাদ নূরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা, ড্যাফোডিল ফ্যামিলি। ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিভাইন আইটি লিমিটেড। রেজওয়ানা খান, পরিচালক ও সিইও, স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেড। নূর মাহমুদ খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাইট ব্রেইন সল্যুউশন। এম আসিফ রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এ. আর. কমিউনিকেশন। মোহাম্মাদ সানোয়ারুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইনোভেশন ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেড।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বেসিসে কেমন পরিবর্তন আনতে চান? আবু দাউদ খানঃ বেসিস, তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করার জন্য উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই ধারাকে অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে, সেই সঙ্গে আমরা বেসিসকে আরও রেসপন্সিভ এবং অ্যাক্সেসেবল করতে চাই, যাতে করে আমরা সর্বস্তরের আইটি উদ্যোগতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি, কারণ আমরা মনে করি, সমতার এই অংশগ্রহণই পারে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে। একই সঙ্গে আমরা বেসিসের সেক্রেটারিয়াল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করতে চাই।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বেসিসের এই নির্বাচনে আপনার প্রতিশ্রুতি কি? আবু দাউদ খানঃ `নতুন উদ্যমে, নবরূপে` এই স্লোগানেকে মাথায় রেখেই আমরা এগিয়ে চলেছি। আসছে, ২০১৮-২০২০ নির্বাচনে আমাদের প্যানেল ‘উইন্ড অফ চেইন্জ’ এর লক্ষ্য বেসিসকে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা। এজন্য আমাদের কাজ করতে হবে বেশ কিছু ইম্প্রুভমেন্টের জায়গায়। বেসিস প্লাটফর্মের মাধ্যমে আইসিটি সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আমি নিজে ফোকাস করব এমন এরিয়াগুলো যা আমি পারি। ০১. আমি দেশে আইসিটি সেক্টরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কর্মদক্ষ মানব সম্পদের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে দক্ষ আইটি প্রফেশনাল তৈরির জন্য কাজ করতে চাই। আমরা ইন্ডাস্ট্রি আর একাডেমির ভেতরে একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে চাই, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ ট্রেনিং এবং অনলাইনে ট্রেনিং এর পরিসীমা বৃদ্ধি করতে চাই। ০২. সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ক্যাপাসিটি বিল্ড-আপ করতে চাই। বিশেষ করে যারা ছোট প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপ; যারা হিমশিম খায়, কিভাবে বাজারে পণ্যের ব্র্যান্ডিং করবে, সহজ ও নির্ভুলভাবে হিসাব-নিকাশ রাখবে, কিভাবে এমপ্লয়মেন্ট দিবে ইত্যাদি। এজন্য আমি বেসিস মেম্বারদের পণ্যের মার্কেটিং বা ব্র্যান্ডিং, প্রতিষ্ঠানের এইচআর ও অ্যাকাউন্টিং প্রসেসে সাহায্য করতে চাই। ০৩. বেসিসের সেক্রেটারিয়াল দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসিসকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মেম্বার সার্ভিস নিশ্চিত করতে বেসিসে এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে একজন সিইওর নেতৃত্বে কাজ করবে প্রফেশনালরা। এর সাথে কর্মক্ষমতাভিত্তিক সংস্কৃতিকেও রিইনফোর্স করতে চাই।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ কি ধরণের প্রতিশ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে? আবু দাউদ খানঃ বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন ব্যবসা ক্ষেত্র তৈরিতে এবং সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করতে ১২টি প্রস্তাবনা দিয়েছে প্যানেলটি। উইন্ড অব চেঞ্জ এর প্রতিশ্রুতি গুলো হল (১) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘ইনসোর্সিং’ জনপ্রিয় করতে বেসিস রিসোর্স শেয়ারিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যেন সদস্যদের প্রকল্পগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। (২) বেসিস দেশের পেশাদারি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সদস্যদের অনলাইন মার্কেটিং সুবিধা দেবে। এজন্য ‘ডিজিটাল প্রমোশন অ্যাডভাইজরি এবং সাপোর্ট সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল মিডিয়ায় তাদের পণ্য/সেবার প্রচার পেশাদারিভাবে এবং স্বল্পমূল্যে করার সুবিধা পাবে। (৩) সদস্যদের পণ্য ও সেবার বাজার বৃদ্ধিতে বাণিজ্য সংগঠনসমূহ এবং বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে (যেমন সিটিও ফোরাম, আইসিএবি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, এইচআর প্রফেশনাল গ্রুপ ইত্যাদি)। (৪) সফটওয়্যার বিষয়ে বাজার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতিমাসে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের (যেমন- ব্যাংক, ইউনিভার্সিটি, গার্মেন্টস, ফার্মাসিটিক্যাল ইত্যাদি) নিয়ে যৌথ সভার আয়োজন করা হবে। (৫) নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হবে (যেমন ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি সিকিউরিটি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লক চেইন, ডাটা সায়েন্স প্রভৃতি)। (৬) প্রতি মাসে ‘মেম্বার টক’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ অনুষ্ঠানে তাদের ব্যবসায়িক মডেল, আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। মেম্বার টেক অনুষ্ঠানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচার এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রচার করা হবে। (৭) বেসিস সফটএক্সপোর ধরণ এবং ফরম্যাট পরিবর্তন করা হবে যেন এটি পুরোপুরি বিটুবি মার্কেটপ্লেসের রূপ নিতে পারে। বেসিসের ওয়েবসাইট নতুন করে সাজানো হবে যাতে সদস্যরা তাদের পণ্য ও সেবা সঠিকভাবে ‘প্রমোট’ করতে পারে। (৮) সদস্যদের উপযুক্ত পরামর্শ ও দিকনিদের্শনা দিতে ‘প্রোডাক্ট ফোরাম’ গঠন করা হবে, যাতে সার্ভিস কোম্পানিগুলো তাদের সার্ভিসগুলোকে প্রোডাক্ট হিসেবে রুপান্তর করতে পারে। (৯) বাজার সম্প্রসারণে ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক কার্যক্রম বাড়ানো হবে (যেমন: চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী) এসএমই এবং সোহো সেগমেন্ট টার্গেট করে। (১০) দেশের বাইরেও বেসিসের ‘লিয়াজো অফিস’ খোলা হবে (যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ইত্যাদি)। এ কার্যক্রমে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও যুক্ত করা হবে। (১১) নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধান করা হবে (যেমন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য) এবং সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট আইটি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বেসিসের অংশীদারিত্ব এবং নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে। (১২) বিদেশি সফটওয়্যারের আগ্রাসন থেকে স্থানীয় বাজারকে রক্ষা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিদেশি সফটওয়্যারের অবৈধ আমদানি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইসিটি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর-এর সঙ্গে যৌথভাবে বেসিস কাজ করবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ অন্য প্যানেল থেকে কোন কারণে আপনারটাকে যোগ্য মনে করছেন?  আবু দাউদ খানঃ আমরা স্বপ্ন দেখি ইতিবাচক পরিবর্তনের। আমরা ইন্ডাস্ট্রি আর একাডেমির ভেতরে একটি মেলবন্ধন তৈরির মাধ্যমে দক্ষ জনবল এবং উদ্যোগতা তৈরিতে কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই। অন্যদের কাছে এটিকে একটি প্রতিশ্রুতি মনে হলেও আমাদের কাছে এটিই সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। যা আমাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং একটি স্থিতিশীল উন্নয়নের অর্জনের পথকে সুগম করবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দেশের আইটি খাত নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি? আবু দাউদ খানঃ আমি বাংলাদেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বের অন্যতম আই টি হাব এ রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করতে চাই এবং ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আধুনিক BASIS এর নেতৃত্ব দিতে চাই।   একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেয়ার জন্য। আবু দাউদ খানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিদেশি আইটি কোম্পানির আধিপত্য কমাতে চাই: লুনা শামসুদ্দোহা

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন লুনা শামসুদ্দোহা। তিনি বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডাব্লিউআইটি) এর সভাপতি। দেশের  খ্যাতনামা সফটওয়্যার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। সম্প্রতি তিনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন। সুপরিচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কারণে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস অ্যান্ড ইনোভেটরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে তিনি সুইস ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (সিসমা) পান। সফটওয়্যার উদ্যোক্তা হিসেবে দেশে এবং বিদেশে তিনি একজন পরিচিত মুখ। এ খাতে নারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেজন্যই হয়তো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিস নির্বাচনে এবার প্যানেল ঘোষণা করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা লুনা শামসুদ্দোহা। নারীর ক্ষমতায়ন, বেসিস নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় লুনা শামসুদ্দোহার। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের সংযুক্ত করতে সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? লুনা শামসুদ্দোহা: আমাদের দেশে প্রযুক্তি ইকো-সিস্টেম সরকারের তৈরি করা। শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। ট্যাক্স কমাচ্ছে, এ সবই করছে সরকার। এটাকে ব্যবহার করে আমরা যদি মেয়েদের আনতে পারি তবেই সফলতা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দোহাটেকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আপনি। এই প্রতিষ্ঠানটিকে আজকের অবস্থানে আনতে কোন ধরনের বাধা এসেছে কী? লুনা শামসুদ্দোহা: দোহাটেককে আজকের অবস্থানে আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কারণ অনেকবার ফেল করেছি। আবার দাঁড়িয়েছি। অনেক কাজ পাইনি, কিন্তু যে কাজ পেয়েছি সেটাতে ফেল করিনি। কেউ নিজের খাবার প্লেটে করে সাজিয়ে দেয় না। নিজে নিজে সেটা করে নিতে হয়। নিজে জেনে, বুঝে, এগিয়ে, সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কাজ করছি। এটা একটা তৃপ্তির যে, আমাকে কেউ না দিলেও আমি একটা জায়গায় প্রতিযোগিতা করে কাজ নিতে পারছি, সেটা সফলভাবে করতে পারছি। এই চিত্র শুধু যে দেশে তা নয়, আমরা বাইরের দেশেও অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পিছনে ফেলে কাজ পেয়েছি, সেগুলো সফলভাবে করেছি। এটা আসলে কাজের যোগ্যতা। কোম্পানির যোগ্যতায় এটা করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নারীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলো কী? লুনা শামসুদ্দোহা: এ এক মহা চ্যালেঞ্জ। আর এমন চ্যালেঞ্জ হাজারোটা রয়েছে। প্রথম কথা হলো, যদি অনেক ওপর থেকে বলি তবে বলতে হয়, মেয়েরা কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং খুব কম পড়ে। এটাকে অনেকেই ছেলেদের লেখাপড়া ভাবে। সেখানে একটা বাধা রয়েছে। তারপর মেয়েরা যাও পড়ে, তাতে ছেলেদের তুলনায় ক্যারিয়ারে যায় না। এটাও হয়। খুব কম মেয়ে দেখা যায়,পড়ালেখা করে, কিন্তু কাজ করতে আসে না। এটাও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। অনেকেই মেয়েদের রাতের বেলায় আসা যাওয়া, কাজ করাকে স্বাভাবিকভাবে নেয় না। এটা এখনো আমাদের দেশে হচ্ছে। এখনো সামাজিক বাধাটাই সবচেয়ে বড় বাধা। এসব সামাজিক বাধা অতিক্রম করে তাদের কাজে নিয়ে আসা চ্যালেঞ্জের। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারিবারিক জীবনে আপনি নিজেকে কতটা সফল মনে করেন? লুনা শামসুদ্দোহা: আমাদের একমাত্র মেয়ে রীম শামসুদ্দোহা। মা-বাবাকে দেখে মেয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে এলেও মা-বাবার প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হননি। নিজেই ‘যেতে চাও ডটকম’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। যেখানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ইভেন্টের আপডেট খবরাখবর থাকে। মেয়ের এ উদ্যোগ আগামীতে বড় ধরনের সাফল্য পাবে বলে আশাবাদী। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে? লুনা শামসুদ্দোহা: আমি সেই ১৯৯২ সাল থেকে শিখে আসছি, এখনও শিখছি। এখন শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথেও প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকছি। আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বেসিসের কাজে লাগাতে চাই। আমি যেভাবে নিজের কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি সেভাবে বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বেসিস যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে। আমি বেসিসের সেই ভিত্তি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। ফোকাস ইনিশিয়েটিভ ও যথাযথ রিসার্চ করে সেটা যদি সবার সঙ্গে শেয়ার করা যায় তাহলে সবাই উপকৃত হবে। তাই এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য হবে। এছাড়া সচিবালয়কে শক্তিশালীকরণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি অনেকটা পরিবারকে সামলানোর মতো। তাই আমার নিজের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে সামলেছি বা এগিয়ে নিয়েছি ঠিক সেভাবেই বেসিস সচিবালয়কে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমার আরেকটি লক্ষ্য হলো, বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য কমানো। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করবে সেটা সমস্যা নয় বা আমরা স্বাগত জানাই। তাদের কাছ থেকে আমরা শিখবো। তাই বলে তাদের আধিক্য বা সব কাজ তারা করবে এটা মানা যায় না। আমরা লোকাল সফটওয়্যার তৈরি করে বিদেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছি। সব জায়গায় টেকনোলজি এক, আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা রয়েছে, তাহলে আমাদের দেশে কেনো দেশি কোম্পানিকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হচ্ছে? এই বিষয়টাতেও আমার ফোকাস থাকবে। আমাদের প্রশিক্ষণও বিদেশিদের দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনে বিদেশি পরামর্শক রাখবো, তাই বলে দেশের প্রশিক্ষণ বিদেশিদের দিতে চাই না। এই বিষয়েও কাজ করতে চাই।   এসএইচ/  

‘বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেবে’

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোকে টেক্কা দিয়ে ৭০টিরও বেশি দেশে ব্যাটারি রফতানি করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রহিম আফরোজ বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, চীন ও জাপানের মতো দেশেও ব্যাটারি রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকার পণ্য রফতানিতে ভর্তুকি দিলে বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার শীর্ষে অবস্থান করবে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম। তিনি বলেন, পরিবেশ-বান্ধব ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল রফতানি আরও বাড়বে। একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ জুয়েল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনারা কোন ধরণের ব্যাটারি রফতানি করছেন? নিয়াজ রহিম: আমাদের প্রধান ব্যবসা হচ্ছে অ্যাকুমুলেটার বা স্টোরেজ ব্যাটারি। শুরুতেই টার্গেট করেছিলাম ভারত, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যে আমরা অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি রপ্তানি করবো। তবে বর্তমানে আমরা কেবল একটি পণ্য নিয়ে ৭০টির বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছি। কিছু কিছু দেশে আমরা নিজেদের এক নম্বরে নিয়ে আসতে পেরেছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: রহিম আফরোজ এন্ড কোম্পানী থেকে আজ রহিম আফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেড, পথচলা সম্পর্কে বলুন.. নিয়াজ রহিম: ১৯৪৮ সালে বাবা আবদুর রহিম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে চালু করেন রহিম আফরোজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেড। শুরুতে ব্রিটেনের লুকাস ব্যাটারির ডিস্ট্রিবিউটরের কাজ করতাম আমরা। এরপর ১৯৮০ সালে লুকাস কোম্পানি ব্রিটেনে চলে গেলে, এর স্বত্ত্ব কিনে নিই আমরা। এরপর থেকে কোয়ালিটি পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা দেশীয় বাজারে শক্ত একটা অবস্থানে চলে যাই। ধীরে ধীরে আমরা ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকি। ১৯৯৫ সালে প্রথম আমরা রফতানির চেষ্টা করি, এবং তিন বছরের মাথায় ব্যাটারিরি রপ্তানিতে আমরা ভাল একটি অবস্থানে চলে যাই।  একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বর্তমানে কোন কোন দেশে ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল রফতানি হচ্ছে? নিয়াজ রহিম: বর্তমানে আমরা ৭০টি দেশে ব্যাটারি রপ্তানি করছি। এছাড়া সোলার প্যানেল রপ্তানি করছি বেশ কয়েকটি দেশে। মূলত ১৯৯৫ সালে আমরা ভারতে ব্যাটারি রফতানির চেষ্টা করেছিলাম। তবে ভারতে আমরা টিকতে পারিনি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে নজর দিই আমরা। ৩ বছর টানা চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার দেশ নয়, আজকে রাশিয়া, চিলি ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও অর্ডার পাচ্ছি। বিশেষ করে আজ উন্নত দেশ থেকেও অর্ডার পাচ্ছি। এমনকি চীন ও জাপানেও আমরা আমাদের পণ্য রফতানি করছি। সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হয় চীন ও কোরিয়ার সঙ্গে। সরকার ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট সাবসিডি ঘোষণা দিয়েছে। আশা করি এটি আমাদের রফতানিতে আরও ভ্যালু অ্যাড করবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যাটারি বা  সোলার প্যানেল রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের চ্যালেঞ্জ কি? নিয়াজ রহিম: সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো দেশের ভাবমূর্তি। আমরা যতই নিজেদের নিয়ে গর্ববোধ করি না কেন, একটা সময় বিশ্ব এটা বিশ্বাস করতে পারতো না যে, বাংলাদেশও কোয়ালিটি পণ্য উৎপাদন করতে পারে। বিশেষ করে আমরা যখন, ১৫-২০ বছর আগে রফতানি শুরুর চেষ্টা করি তখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা আমাদের পণ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিল। কিন্তু যখনই শুনলো এটা বাংলাদেশের কোন পণ্য, তখন ওরা দেশকেই চিনতে পারলো না। ধীরে ধীরে আমরা আমাদের কোয়ালিটি পণ্য কম দামে বিক্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিয়েছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বলা হয়ে থাকে দেশে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন? নিয়াজ রহিম: দেশে বর্তমানে ২০০টির বেশি সুপারশপ রয়েছে। আমাদের আছে ১৫টি। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ডিল করছি। আর এর কারণে কৃষকরা আজ ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। আমরা কৃষকদের বলছি যে, আপনার পণ্য ঢাকার সুপারশপে এত টাকা দামে বিক্রি হবে। এখন আমার খরচ ও লাভ বাদ দিয়ে আপনাকে দেওয়া হবে এত টাকা। এর মাধ্যমে কৃষকও জানতে পারছেন, তার পণ্য কত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য আমাদের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারছেন। আমরা কেবল এখানে মাধ্যম হিসেবে কাজ করছি। এর মাধ্যমে তারা ব্রান্ডিং হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সুপার শপে পণ্য বিক্রিতে আপনাদের কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে? নিয়াজ রহিম : এক্ষেত্রে যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের, তা হলো ভ্রাম্যমাণ আদালত বারবার আমাদের জরিমানা করছেন। বারবার আমাদের জরিমানা করার কারণে এই ব্যবসায় আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এভাবে জরিমানার পেছনে যে ত্রুটি দেখানো হচ্ছে, তা আমাদের কোন ত্রুটি নেই। তারা মোড়কের জন্য জরিমানা করছেন, আমাদের শোরুমের পরিবেশের জন্য নয়। কিন্তু মোড়ক তৈরি তো আমাদের হাতে নেই, তা উৎপাদকের হাতে। এদিকে আমরা বিএসটিআই থেকে সনদপ্রাপ্ত পণ্য বিক্রি করলেও অনেক সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত আমাদের জরিমানা করেন। এতে আমাদের ভাবতে হচ্ছে, আমরা এই ব্যবসায় চালিয়ে যাবো কি না? একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনার প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই উচ্চ পর্যায়ে বিদেশি কর্মীদের আমরা দেখি, আমাদের দেশের শ্রমশক্তির উপর আপনারা কেন বিশ্বাস রাখতে পারছেন না? নিয়াজ রহিম: সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে উদ্বেগের জায়গা হলো দক্ষ জনশক্তির অভাব। আমাদের দেশে কর্মমুখী শিক্ষা না থাকায় ঠিক সেভাবে দক্ষ জনবল গড়ে উঠছে না। আর এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছে বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানি করতে। তবে ধীরে ধীরে এ সংখ্যাটা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। সরকার উদ্যোগ নিয়ে দেশের জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে আমাদের বিদেশী শ্রমিকদের উচ্চ পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমরা সবক্ষেত্রে বাংলাদেশি শ্রমিকদের উচ্চ পর্যায়ে নিয়োগ দিতে পারবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ নিয়াজ রহিম: একুশে টেলিভিশন অনলাইনকেও ধন্যবাদ। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি