ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ ১৭:৩১:২৮

মানুষ বাঁচুক মান‌বিক মর্যাদায়: সে‌লিনা হো‌সেন

মানুষ বাঁচুক মান‌বিক মর্যাদায়: সে‌লিনা হো‌সেন

সেলিনা হোসেন। গল্প-উপন্যাস ‌ঘিরে কয়েক দশকের নিরলস পথ চলা তার। ছাত্র জীবনে বাম রাজনী‌তির সঙ্গে জ‌ড়িয়ে পড়েন। কর‌তেন ছাত্র ইউ‌নিয়‌নের রাজনী‌তি। পরে রাজনীতিতে নিজেকে বেঁধে না রেখে লেখালেখিতেই মন দেন। ই‌তিহা‌সের সঙ্গে রাজনী‌তির নি‌বির সম্পর্ক থাকায়, তাঁর লেখালেখিতে রাজনীতির ছাপও পড়ে। তার লেখালেখিতে উ‌ঠে এ‌সে‌ছে সমকালীন রাজনীতি, বিভিন্ন সামাজিক সংকট, বাঙালি ও দেশভা‌গ ও ভাষা সংগ্রা‌মের ই‌তিহাস, গণআ‌ন্দোল‌নের ই‌তিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি বড় স্থান দখল করে আছে তার লেখ‌নি‌তে। তার বহু লেখা অনুদিত হয়ে গোটা বিশ্বের বই প্রেমিদের আনন্দ দিচ্ছে। দেশ-বিদেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। লেখালে‌খি ছাড়া বর্তমা‌নে শিশু একাডেমির চেয়ারম্যা‌নের দায়িত্ব পালন করছেন সেলিনা হোসেন। এর আ‌গে পেশাগত জীব‌নে বাংলা একাডেমিতে গ‌বেষক হি‌সে‌বে দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে‌ছেন। গত ১৪ জুন তিনি ৭২এ-পা দেন। লেখালেখি, সমসাময়িক সমাজচিন্তা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয় একুশে টিভি অনলাইন। সাক্ষাৎকার‌ নি‌য়ে‌ছেন মোহাম্মদ রু‌বেল। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব আজ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো- একু‌শে ‌টি‌ভি অনলাইন: একজন সা‌হি‌ত্যিক হি‌সে‌বে সা‌হিত্য এবং রাজনীতি এ দু‌টি বিষয়‌কে কিভা‌বে দেখেন? বর্তমান রাজ‌নৈ‌তিক প্রেক্ষাপট‌কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন ক‌রবেন? ‌সে‌লি‌না হোসন: আমি যখন রাজশাহী বিশ্ব‌বদ্যাল‌য়ে প‌ড়ি। তখন থে‌কেই ছাত্র ইউ‌নিয়‌নের রাজনী‌তি করতাম। আবার ওই সময়ই ছাত্র ইউ‌নিয়ন দুই‌ ভা‌গে ভাগ হ‌য়ে ছি‌লো। এই রাজনী‌তির সূ‌ত্রে যখন আ‌মি মার্ক্স এ‌ঙ্গে‌লের বই গু‌লো প‌ড়ি এবং অর্থ‌নৈ‌তিক সূত্রটা পাই তখন আমার ম‌নে হ‌য়ে‌ছিল ফুটপা‌তে ঘু‌মি‌য়ে থাকা মানুষ গু‌লো‌কে অন্ন বস্ত্র দেওয়া যা‌বে। ওই সময় সো‌ভি‌য়েত ইউ‌নিয়ন আমা‌দের সাম‌নে অ‌নেক বড় দৃষ্টান্ত ছি‌লো সমতা সৃষ্টির বিষ‌য়ে। তো মার্ক্স এ‌ঙ্গেল পড়েই রাজনী‌তি‌তে আসা।এবং পরবর্তী‌তে ম‌নে হয়ে ছিল রাজনীতি দিয়ে য‌দি আমরা এগোতে পা‌রি তাহ‌লে গরীব জন‌গোষ্ঠীকে শিক্ষা,স্বাস্থ্য, আশ্রয় সব‌কিছু পা‌বে। রাজনী‌তি‌কে এভা‌বেই দে‌খি। রাজনী‌তি শুধু এক‌টি দ‌লের ক্ষমতা যাওয়া নয়।‌ সেই দলটির কাজ হ‌বে সাধারণ মানুষ‌কে প্রসা‌রিত করা। যা‌তে ক‌রে সাধাণ মানুষ তার স্বাভা‌বিক মর্যাদা নি‌য়ে বেঁ‌চে থাকার সূত্রগু‌লো অবলম্বন কর‌তে পা‌রে। সেই সূত্রগু‌লো যেন পায়। যখন আমা‌দের সং‌বিধা‌নে সমাজত‌ন্ত্রে কথা বলা‌ ছিলো। তখন আমার ম‌নে হ‌য়ে‌ছি‌লো এটা রাজনীতির একটা বড় জায়গা। আমরা য‌দি এই ল‌ক্ষ্যে এ‌গি‌য়ে যে‌তে পা‌রি তাহলে আমরা সেটা কর‌তে পার‌বো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‌সেই জায়গা‌টি‌কে ধ‌রে এ‌গি‌য়ে যা‌চ্ছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠা‌মোর ম‌ধ্যে অ‌নেক দিক থা‌কে, সেই সব দিকগুলো এক জায়গায় করে কাজ করা অ‌নেক ক‌ঠিন হ‌য়ে প‌ড়ে। তারপরও তি‌নি যে প্র‌চেষ্টা গু‌লো চালা‌চ্ছেন, দে‌শের উন্নয়‌নের জন্য যে কাজগু‌লো কর‌ছেন, এগু‌লো রাজনী‌তির অনেক বড় এক‌টি প‌রিসর তৈরী কর‌তে পা‌রে। এবং এই প‌রিসর বাংলা‌দেশ‌কে অ‌নেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। একু‌শে‌ টি‌ভি অনলাইন: এবার আপনার সা‌হিত্য প্রস‌ঙ্গে আসা যাক। আপ‌নি ক‌য়েক দশক ধ‌রে নিরলসভাবে লি‌খে যা‌চ্ছেন। আপনার লেখায় শৈশব, ‌কৈশরের জীবন কতটা প্রভাব বিস্তার ক‌রে‌ছে। সে‌লিনা হো‌সেন: শৈশব, কৈশরের ভূ‌মিকা থে‌কেই আ‌মি লেখার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় ক‌রে‌ছি। তাই আ‌মি সব সময় ব‌লি শৈশব, কৈশর সোনালী সময় ছি‌লো আমার জীব‌নে। পঞ্চাশ দশ‌কের শুরুর দি‌কের কথা বা মধ্যভা‌গও বলা যায়, আব্বার চাকরির সূ‌ত্রে বগুড়ার কর‌তোয়ার নদীর পা‌ড়ের এক‌টি এলাকায় ছি‌লেন। সেখা‌নে আমা‌দের বা‌ড়ি ছি‌লো। এক‌টি কাঁচা বা‌ড়ি, মা‌টির দেয়াল, উপ‌রে খ‌ড়ের চাল ‌ছি‌লো এবং সেই বা‌ড়ি‌তে ষোলটি ঘড় ছি‌লো। এভা‌বে শৈশ‌বে নানা কিছুর দেখার, প্রকৃ‌তিকে দেখা, মানু‌ষের সঙ্গে মানু‌ষের সম্পর্ক দেখা এবং এই মানু‌ষের অনুভবটি নি‌জের ম‌ধ্যে ধারণ করার বিষয়‌টি আমার ম‌ধ্যে ব্যাপকভা‌বে তখন গেঁ‌থে গিয়ে‌ছি‌লো। আ‌মি সেই জায়গা‌টি ধারণ ক‌রে আমার লেখা‌লে‌খির উপকরণ খু‌জে নি‌য়ে‌ছিলাম।  একু‌শে ‌টি‌ভি অনলাইন: আপনার লেখায় আমরা সব সময় বিপন্ন মানুষের জীবনচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। রো‌হিঙ্গা সংকট লিখায় হাত দি‌য়েছি‌লেন। আর কত দিন পর উপন্যাস‌টি আলোর মুখ দেখবে? ‌সে‌লিনা হো‌সেন: হ্যাঁ, রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটা উপন্যাস লেখার ইচ্ছেটা তৈরি হ‌য়ে ছি‌লো ১৯৯৬ সালে। ওইসময় আমার র‌চিত পোকা মাক‌ড়ের ঘড় বস‌তির চল‌চি‌ত্রের স্যুটিং দেখ‌তে গি‌য়েছিলাম টেকনা‌ফে। সেই স্যুটিং‌ দেখার ফাঁকে টেকনাফেরের উ‌খিয়া রোহিঙ্গা ক্যা‌ম্পে গি‌য়ে‌ছিলাম তা‌দের জীবন দেখ‌তে। কারণ তখন আ‌মি জানতাম রো‌হিঙ্গা‌দের নৃ-তা‌ত্তিক নির্যাত‌নের জায়গা থে‌কে তা‌দের সড়ে আসতে হ‌চ্ছে এবং নানা কিছু। তা‌দের ওই জীবন চিত্র দে‌খে তখন আমার মনে হ‌য়ে‌ছি‌লো রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক‌টি উপন্যাস লি‌খা যায়। তারপর এ‌ বিষয়ে গবেষণার জন্য নানা তথ্য উপাত্ত-উপাদান সংগ্রহ ক‌রি। তারপ‌র উপন্যাস‌টি লিখতে সময় লাগ‌ছি‌লো। পরবর্তী‌ সম‌য়ে রোহিঙ্গাদের‌ যে পট প‌রিবর্ত‌নের নানা দিকগু‌লো রাজ‌নৈ‌তিক ভাবে পা‌চ্ছিলাম তখন ম‌নে হ‌চ্ছি‌লো উপন্যা‌সে এ জায়গাগু‌লো না এ‌নে উপন্যাস‌টি লিখ‌লে অ‌নেক অং‌শ হয়‌তো মি‌সিং থাক‌বে। সেই জায়টা মি‌সিং থাকা উ‌চিৎ হবে না। সেজন্য কাজ কর‌বো কর‌বো,করার পরও কাজ‌টি ক‌রে উঠ‌তে পা‌রি‌নি। কারণ আমার গ‌বেষণার কাজ‌ সম্পূর্ণ নয় ব‌লে। এখন রো‌হিঙ্গা‌দের বর্তমান প‌রি‌স্থি‌তি দে‌খে ম‌নে হ‌য়েছে, এ বিষয়‌টি‌কে এত সহ‌জভা‌বে গ্রহণ ক‌রা, উপন্যা‌সে তু‌লে আনা কঠিন কাজ। তাই আমার প‌রিকল্পনা‌টি স্থ‌গিত রে‌খে‌ছি। একু‌শে‌টি‌ভি অনলাইন: রো‌হিঙ্গা সংকটকে কিভা‌বে দেখ‌ছেন? ‌সে‌লিনা হো‌সেন: হ্যাঁ,আগামী ৫০ বছর পর রো‌হিঙ্গা‌দের ভ‌বিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কোথায় গি‌য়ে দাঁড়া‌বে, বাংলা‌দে‌শে আসা দশ লাখ র‌হিঙ্গার ভ‌বিষ্যৎ কী হবে, ওরা তো ধীরে ধীরে মিশে যাবে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে। তখন গভীর সংকট তৈরী হবে। আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে মিয়ানমার ওদের নির্যাতন ক‌রে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলা‌দেশ মানবিক বিবেচনায় বিপন্ন রোহিঙ্গা‌দের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ওদের আশ্রয় দিলে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তাই এর স্থায়ী সমাধান কর‌তে হ‌বে। / এআর /
‘লিভার সিরোসিস থেকে বাঁচতে দরকার সচেতনতা’

অধ্যাপক মামুন অাল মাহতাব (স্বপ্নীল) লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ। ইন্টারভেনশনাল এন্ডোস্কোপিতে তার রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। তিনি এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি এন্ডোস্কোপি, পাঁচ হাজারের বেশি কোলোনোস্কপি ও এক হাজারের ওপর ইঅারসিপি করেছেন। লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় নতুন ওষুধ ন্যাসভেক নিয়ে গবেষণা ডা. স্বপ্নীলের অন্যতম কৃতিত্ব। লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি ট্রান্স অার্টারিয়াল কেমো এম্বোলাইজেশনের পুরোধা। লিভার সিরোসিস নিয়ে তিনি কথা বলেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক অালী অাদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অামাদের চারপাশে লিভার সিরোসিসে অাক্রান্ত রোগীর প্রকোপ বাড়ছে। লিভার সিরোসিস কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): কারণে লিভারের কোষগুলো যদি মারা যায় সেখানে ফাইব্রোসিস ও নডিউল তৈরি হয় এবং লিভারের স্বাভাবিক আণুবীক্ষনিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহৃত হয়। লিভারের ভিতরে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। রক্তের বিভিন্ন রাসায়নিক দূষিত পদার্থ যা লিভার পরিস্কার করে থাকে তা শরীরে জমা হয়ে তখন বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করে। কারণ যাই হোক না কেন এইভাবে সিরোসিস পর্যায়ে উপণীত হয়। পুরো লিভার জুড়ে যদি ফাইব্রোসিস এবং নডিউল তৈরি হয় তখন এটাকে লিভার সিরোসিস বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসের কারণগুলো কী কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): বিভিন্ন কারণে লিভার সিরোসিস হয়ে থাকে। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ফ্যাটি ভাইরাস, এ্যালকোহল অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও কারণ রয়েছে। বংশগত জটিলতার জন্য লিভারে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও কপার জমে যাওয়ার জন্যেও সিরোসিস হতে পারে। পিত্তনালী র্দীঘ সময় ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া। লিভারের ধমনী বন্ধ হয়ে যাওয়া। শরীরে ইম্যুন সিস্টেমের জন্য এবং কোন কোন ওষুধ, যেমন- মিথোট্রিক্সেট (Methotrexate) দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সিরোসিস হতে পারে। ৫-১০% ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিসের কোন কারণই খুজে পাওয়া যায় না, এগুলোকে ক্রিপ্টোজেনিক সিরোসিস বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিস রোগের লক্ষণগুলো কী কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীর প্রথম দিকে লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। একটা পর্যায়ের পর তার কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন: ক্লান্তি বা অবসাদ, বমি বমি ভাব ও বমি ক্ষুধামন্দা, পেটফাপা, ধীরে ধীরে পেটটি বড় হতে থাকে এবং পায়ে পানি জমে ফুলে যায়। ধীরে ধীরে শরীর দূর্বল হতে থাকে এবং ওজন কমে যায়, চর্ম এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। বমির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে বা শুধু রক্তবমি হতে পারে। মুখের স্বাদ পরিবর্তন বা স্বাদহীন, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। পাইলস থেকে রক্ত যেতে পারে, কখনো ডায়রিয়া কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্ত স্বল্পতা, নারীর মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা এমোনেরিয়া, পুুরুষ এবং নারীর যৌন দুর্বলতা আসতে পারে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসের প্রতিকার কীভাবে করা যায়? মামুন অাল মাহতাব (স্বপ্নীল): যেহেতু এটি মারাত্মক রোগ এবং এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ আর সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতাই পারে আমাদেরকে এরকম ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচাতে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিসস থেকে বাঁচার জন্য করনীয় কী? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): হেপাটাইটিস বি এর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নিতে হবে যা এখন খুবই সুলভ, এটি আপনাকে পূর্বেই নিতে হবে । হেপাটাইটিস `বি` ভাইরাসে আক্রান্ত মা গর্ভবতী হলে সন্তানের জন্মদানের সঙ্গে সঙ্গে দু`রকম টীকা দেয়া বাঞ্ছনীয় ৷ লিভার সিরোসিসের যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মাদকদ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ ও ফার্স্ট ফুডের কারণে অতিরিক্ত মেদ জমে। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে ৷ কোন রকম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে ঝাড় ফুঁক, কবিরাজ, ওষুধ বিক্রেতার চিকিৎসা পরিহার করতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: লিভার সিরোসিস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): লিভার সিরোসিস-এ আক্রান্ত রোগীদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। সিরোসিস দুই ধরণের হয়- কমপেনসেটেড এবং ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস। একজন সম ওজনের স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে সিরোসিস-এ আক্রান্ত রোগীর বেশি ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২৫ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরী শক্তি যুক্ত খাবার এবং প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন খাবারের মেন্যুতে থাকতে হবে। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর হালকা খেয়ে নেয়া উত্তম। হালকা খাবারের মধ্যে টোস্ট, বিস্কিট, কেক, সেরিয়েল, দুধের তৈরি খাবার রাখা যেতে পারে। এছাড়া মল নরম রাখার জন্য বেশি আঁশ যুক্ত খাবার যেমন শাক সবজি খাওয়া দরকার। ডিকপেনসেটেড সিরোসিসের রোগীদের রক্তে অ্যালবুমিনের পরিমাণ কমে যায় এবং পেটে পানি চলে আসে। এই রোগীদের মল শক্ত হলে রক্তে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রোগীর চেতনা হ্রাস হয়। এ কারণে ডিকমপেনসেটেড সিরোসিসের রোগীদের হিসেব করে পানি পান করতে হয়, খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেতে হয়। আগে মনে করা হতো প্রোটিন কম খাওয়া উচিৎ, কিন্তু এখন লিভার বিজ্ঞানীরা বেশি প্রোটিন খাওয়ার ব্যপারে উত্সাহিত করেন। তবে, দৈনিক মোট প্রোটিনের পরিমাণ এক-দুইবারে না খেয়ে অল্প অল্প করে চার-পাঁচ বারে খেতে বলা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ফাস্টফুড, অ্যালকোহল লিভার সিরোসিসের জন্য কেমন ঝুঁকিপূর্ণ? মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): অ্যালকোহলের কারণে সৃষ্ট লিভার রোগের মূল চিকিত্সা হলো অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা। অন্যদিকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এ আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপদেশ হল খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট- এর পরিমাণ কমিয়ে আনা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, ফাস্টফুড সংস্কৃৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট শরীরচর্চা করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অাপনাকে ধন্যবাদ অামাদের অনেকক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য। মামুন অাল মাহতাব ( স্বপ্নীল): অাপনার জন্য শুভকামনা। এসএইচ/

বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ থাকলে দুর্নীতি বাড়বে: ড. সালেহউদ্দিন

২০১৮-১৯ সালের বাজেট আসন্ন। আগামী এক বছরে সরকারের এ আয়-ব্যয়ের হিসেবকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলছে বিভিন্নমুখী আলোচনা। অর্থনীতিবিদরা দিচ্ছেন নানা দিক নির্দেশনা। ব্যবসায়ীরা তুলে ধরছেন তাদের বিভিন্ন দাবি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলে ধরছে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর গবেষণালব্ধ যৌক্তিক দিক। বাজেটকে কেন্দ্র করে আলোচিত এসব বিষয় নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের। যার কথায় উঠে আসছে আসন্ন বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া সম্ভাব্য খাত, কালো টাকা সাদা করা, অর্থপাচার, আরোপিত কর, এনবিআরের সক্ষমতা, বেকারত্ম, কর্মসংস্থান ও খেলাপি ঋণ নিয়ে করণীয় নানা দিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব আজ তুলে ধরা হল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এবারের বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট বলা হচ্ছে। এ বাজেটে সরকারের কোন কোন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন আছে? সালেহউদ্দিন: এই বাজেটে সরকার চেষ্টা করবে মানুষকে সন্তুষ্ট করার। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের এলাকার দাবি দাবাগুলো মেটাতে। সরকারের ধারাবাহিক যে বড় বড় প্রকল্পগুলো আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন ও  সম্পন্যে জোর দিবে। সরকার এবার যোগাযোগ ও  পরিবহনের ক্ষেত্রে পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট    ব্রিজ কাল ভার্ট নির্মাণে গুরুত্ব দিবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতেও এবার নজর বাড়বে। তবে সবচেয়ে নজর বাড়ানো দরকার  শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। কারণ সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।  আর প্রযুক্তিখাতেও কিছুটা বরাদ্দ বাড়তে পারে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আয়কর অধ্যাদেশে দীর্ঘদিন যাবত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া আছে। এখন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাইছেন- এটি সমর্থন করেন কিনা? সালেহউদ্দিন:  নীতিগতভাবে কালো টাকা সাদা করা আমি সমর্থন করি না। কালো টাকা সাদা যতোই করতে যাবেন। দূর্নীতি ততই বেড়ে যাবে। কারণ কালো টাকার তো আলাদা রঙ থাকে না। টাকার উৎস্য জানতে চাইলে   ওটা বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে যেহেতু ব্যপক টাকা দেশের বাইরে রয়ে গেছে। আবার আবাসন খাতে একটা সংকট রয়েই গেছে। তাই সরকার একবারেই একটা বড় ধরণের জরিমানা করতে পারে। সেক্ষেত্রে ৫ থেকে  ১০ শতাংশ নয়, সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। অর্থাৎ  ১০০ টাকা হলে ৪০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়ে বাকী টাকা সাদা করে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এরপর আর কোন সুযোগ দেওযা যাবে না। অবশিষ্ট টাকাগুলোর নিয়মিত করের আওতায় আনতে হবে। প্রতিবছরই সে অর্থের ওপর করারোপ করতে হবে।   তবে কালো টাকা আবাসন খাতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও আবার তদারকি বাড়াতে হবে। যারা ফ্লাট কিনছে, তারা ডিক্লিয়ার করে টাকাটা দিচ্ছে কি না? কারণ টাকা সাদা করার সুযোগ দিল, আর অনেকেই ফ্লাট কিনলো কিন্তু তা পর্যবেক্ষণ বা তদারকী করা হলো না। তাতে কোন লাভ হবে না।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কর্পোরেট কর হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে- দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসায়ীরা এ কথা বলছেন। এর যৌক্তিকতা কতটুকু? সালেহউদ্দিন: আমাদের দেশে কর্পোরেট কর সবচেয়ে বেশি। এই ট্যাক্সটা কমালে আমার মনে হয় ব্যবসায়ীরা আরো বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বা তালিকাভূক্ত নয় সব ধরণের কোম্পানির জন্য ট্যাক্স কমাতে হবে।   একুশে টেলিভিশন অনলাইন:  শিক্ষা জাতির মেরুদ্বন্ড। কিন্তু প্রতিবছরই বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কম হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আসলে এ খাতে বরাদ্দটা কেমন হওয়া উচিত? সালেহউদ্দিন:  বাজেটের একটা বড় অংশ শিক্ষা খাতে যায়। কিন্তু তার বেশিরভাগ ব্যয় হয় প্রশাসনিক কাজে। শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য কাজে।আসল যেখানে খরছ করার দরকার সেখানে হয় না। স্কুলে শিক্ষার উপকরণ, লাইব্রেরী, শ্রেণী কক্ষের বেঞ্ছ-চেয়ার, শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রগ্রাম, ছাত্রদের জন্য এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস। আমাদের দেশে শিক্ষা খাতে জিডিপি ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। যেটা কোরিয়াসহ উন্নত দেশে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে।  তাই মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় শিক্ষা ও   স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় আরো বাড়াতে হবে।      

‘তৈরি বাইক আমদানিতে ১২০% শুল্ক চায় এসিআই মটরস’

চলছে বাজেটের মাস। এই মাসেই নির্ধারিত হবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট। এই সময়টাতে আসলে নতুন মোটর বাইক কিনতে আগ্রহীরা বেশ উৎকণ্ঠায় থাকেন। বাজেটে বাইকের দাম বাড়বে নাকি কমবে সেই সূত্রের হিসেবে মিলাতে ব্যস্ত থাকেন তারা। বাজেটের প্রাক্কালে এই খাতের বিভিন্ন দিক এবং নিজেদের নানান কার্যক্রম নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এসিআই মটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী। সাক্ষাৎকার নিয়েছে ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইনঃ যেহেতু সামনে বাজেট তাই শুরুতেই বাজেট নিয়ে আপনার কাছে জানতে চাইব এবারের বাজেট বাইকের দামের ওপর কেমন প্রভাব রাখবে? ড. এফ এইচ আনসারীঃ বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর যাবত বাজেটে বাইকের ওপর আমদানি শুল্ক প্রায় অপরিবর্তিত আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের বাজেটেও সবকিছু অপরিবর্তিত থাকবে। অপরিবর্তিত না থাকলেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর দাম বাড়ার যেটুকু সম্ভাবনা আছে সেটুকু আবার একেবারেও অগ্রাহ্য নয়। কারণ সরকার এখন দেশেই মোটর বাইক প্রস্তুতকারীদের উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের জন্য সুবিধা করতে আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করতে পারে। আর এমনটা হলে আমদানি নির্ভর বাইকের বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব তো পরবেই। ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশে আমদানি করা বাইকের ওপর শুল্ক হার বেশি। গ্রাহকেরা অনেকদিন থেকেই এই হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। আপনারা আমদানিকারক হিসেবে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন? ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমরাও চাই আমদানি শুল্ক কমানো হোক। বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১৫৫ সিসি ক্ষমতা সম্পন্ন বাইক আমদানি করার অনুমতি আছে। বাইরে থেকে এমন একটি বাইক আনতে হলে প্রায় ১৫২ শতাংশ (১৫১.৭৫%) পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হয়। আমরা সরকারের বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছি। এই শুল্কের পরিমাণ ১২০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি আমরা। আমরা আশাবাদি যে, সরকার এবারে বাজেটে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। ইটিভি অনলাইনঃ স্কুটি ধরনের মোটর বাইক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এগুলোর জন্যও উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। প্বার্শবর্তী দেশ ভারত থেকে আসলেও সেখানকার দামের থেকে আমাদের বাজারে সেগুলোর দাম অনেক বেশি। এর কারণও কী আমদানি শুল্ক? ইটিভি অনলাইনঃ জ্বী আসলেই তাই। উচ্চ হারের আমদানি শুল্কের জন্যই এই দামের তারতম্যটা হয়। আমাদের দেশে সিকেডি বাইকের ক্যাটাগরিতেই স্কুটি আমদানি করা হয়। এরজন্য স্কুটির জন্যও উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। আপনি যদি ভারতের দিকেই নজর দেন তাহলে দেখবেন যে, সেখানে স্কুটিকে এক ধরনের সাইকেল মনে করা হয়। ভারতে স্কুটি চালাতে কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে তা প্রয়োজন হয়। আমরা সরকারের কাছে আরজি জানিয়েছি যে, স্কুটিকে যেন অন্য সিকেডি বাইকের ক্যাটাগরি থেকে আলাদা বিবেচনা করা হয়। এই স্কুটি এমনিতেও হালকা ধরনের বাহন। এগুলোর ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে আনা হলে এগুলো আরও বেশি বাজার দখল করতে সক্ষম হবে। ইটিভি অনলাইনঃ বাজেটের বাইরে ভিন্ন প্রসঙ্গে একটু আসি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোটর বাইকের বাজার এখন কেমন? ড. এফ এইচ আনসারীঃ প্রকৃত অর্থে মোটর সাইকেল বাজারের উন্নতি হয়েছে। এখন প্রতি বছর সাড়ে তিন লক্ষের ওপর ইউনিট পর্যন্ত বাইক বিক্রি হয়েছে। যা তিন বছর আগে ছিল মাত্র দুই লাখের ঘরে। শুধু গত ১ বছরেই এই ইন্ডাস্ট্রি ৬০ ভাগের বেশি বড় হয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রি আরও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে। আর এর কারণটা হচ্ছে যে, আমাদের দেশের রাস্তাঘাট যেভাবে বৃদ্ধি ও সংস্কার হচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে আর এদেশের যুব সমাজ যে স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মোটরসাইকেল সাহায্য করবে। আর যুবসমাজ সেই সাহায্য পেতেও মোটর সাইকেল ব্যবহার করবে। আমরা অনুমান করছি যে, ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে মোটর সাইকেলের বাজার প্রতি বছর ১০ লক্ষ ইউনিটে পরিণত হবে। ইটিভি অনলাইনঃ কিন্তু যেখানে দেশে সংযোজনকৃত বাইকের থেকে আমদানি করা বাইকের ওপর আরোপিত শুল্কের হার বেশি সেখানে বাজার আপনাদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং? ড. এফ এইচ আনসারীঃ বাজার অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে যেহেতু সার্বিক খাতেরই উন্নয়ন হচ্ছে সেহেতু আমাদের জন্যও একটি বড় বাজার আছে। এই উন্নতি করতে সরকারও বেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের মোটর বাইক ইন্ডাস্ট্রির সম্প্রসারণে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য কর এর ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা দেওয়া আছে কথা ঠিক। এতে দেশে মোটর সাইকেলের সংখ্যাটা বেড়ে যাবে। তবে আমি মনে করি যে, ম্যানুফ্যাকচারিং (প্রস্তুত করা) তো আসলে সহজ কথা না। এখন যেসব কারখানা আছে তা তো সংযোজন করে। মূল ম্যানুফ্যাকচারিং বলতে যা বোঝায় অর্থ্যাত যন্ত্রপাতি বিশেষ করে ইঞ্জিন তৈরি করা, তা তো এখানে হয় না। শুধু সংযোজন হয়। সংযোজন কারখানা তৈরি করা তো খুব কঠিন কিছু না। ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হলেই এই সংযোজন কারখানা চালু করা যায়। তাই আমি বলব যে, শুধু ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাকে আগে বড় হতে দেওয়া উচিত। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে তা যদি সবার ক্ষেত্রে দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু পুরো ইন্ডাস্ট্রিটাই বড় হতো। এতে করে কিন্তু স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা প্রস্তুতকারকদের কোন ক্ষতি হতো না। বরং ইন্ডাস্ট্রি বড় হলে এখন যারা আমদানি করছেন তারাও একসময় ম্যানুফ্যাকচারিং-এ চলে আসবে। ইটিভি অনলাইনঃ বিদেশী কিছু বাইকের ব্র্যান্ড দেশেই এখন বাইকের যন্ত্রাংশ সংযোজন করে। এছাড়াও দেশীয় কয়েকটি ব্র্যান্ড-ও দেশে কারখানা স্থাপন করেছে। তাদের সাথে প্রতিযোগিতা কীভাবে মোকাবেলা করবে ইয়ামাহা? ড. এফ এইচ আনসারীঃ এখানে একটা বিষয় আছে যে প্রতিটা বাজারেরই সেগমেন্ট (স্তর) আছে। ইনিশিয়াল স্টেজ আছে (প্রাথমিক স্তর), আপার সেগমেন্ট (মাধ্যমিক স্তর) এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্ট আছে। আমাদের ইয়ামাহা বাইক এই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। আমাদের বাইকগুলো হাইটেক। অর্থ্যাত এতে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। আমরা বাজার যাচাই করে দেখেছি যে, আমাদের বাইকের প্রতি যুব সমাজের একটি আলাদা আগ্রহ আছে। তারা অন্যদের থেকে একটু আলাদা থাকতে চায়। বাইকের দাম যেমনই হোক তারা সেটা কিনবে। সেই দিক থেকে আমাদের জন্য বড় একটি বাজার রয়েছে। ইটিভি অনলাইনঃ তাহলে কী ইয়ামাহা মধ্যবিত্ত বাজেটের গ্রাহকদের উপেক্ষা করছেন না? ড. এফ এইচ আনসারীঃ আপনি অনেক সঠিক একটা কথা বলেছেন। বিষয়টার সাথে আপনার প্রশ্ন অনেক কাছাকাছি যায়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের বাজারে আমাদের অভিজ্ঞতা মাত্র এক বছর। এই মুহুর্তেই আমাদের মিড বাজেটের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে আছে। সামনে স্কুটার নিয়ে আমাদের কাজ করার পরিকল্পনা আছে। তবে সেটা এখনই নয়। বাংলাদেশে ইয়ামাহার বিগত কয়েক দশকের ফলাফল খুব একটা ভালো না। আমরা বাজারে আসলাম। প্রিমিয়াম সেগমেন্টে এখন আমাদের দখল সাত থেকে নয় শতাংশ। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রিমিয়াম সেক্টরে আরও ভালো কিছু করতে চাই। তারপর মিড বাজেট নিয়ে আমরা ভাববো। আমরা আসলে মোটর সাইকেলের ব্যবসা করি না। মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করি। আর মোটর সাইকেল সেই মান উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও অংশ। আমরা চাই পুরো সমাজে এটা ছড়িয়ে এক্ষেত্রে আপনারা গণমাধ্যম আমাদের কাজ সহজ করছেন। এর জন্য আপনাদের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ইটিভি অনলাইনঃ এসিআই এর কী বাংলাদেশে মোটর বাইক প্রস্তুত করার কারখানা স্থাপনের কোন পরিকল্পনা আছে কী না? এসিআই এর মাধ্যমেই কী বাংলাদেশে ইয়ামাহার বাইক প্রস্তুত হতে পারে? ড. এফ এইচ আনসারীঃ এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ইয়ামাহার সাথে কথা বলেছি। তবে আমাদের বা ইয়ামাহার কারোরই তেমন কোন পরিকল্পনা এখনই নেই। এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, ইয়ামাহা কিন্তু অনেক বড় একটা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট (সরবরাহ ব্যবস্থাপনা) পদ্ধতি অনুসরণ করে। ইয়ামাহার অনেক যন্ত্রাংশ আছে যা অন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। সেগুলো সাথে নিয়ে এই বিশাল সাপ্লাই চেইন বাংলাদেশে এনে বাইক প্রস্তুত করা এখনই সম্ভব না। তবুও আমরা তাদের সাথে কথা বলেছিলাম এই বিষয়ে। আমরা এখনও কোন অনুমোদন পাইনি। অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে কাজ হবে। ইটিভি অনলাইনঃ  ইয়ামাহার প্রতি অনেক বাইকারের চাওয়া যে, ইয়ামাহার বাইকগুলোর মাইলেজ কম। আপনারা কী ইয়ামাহার প্রস্তুতকারকদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনা করবেন? ইয়ামাহার কী তাদের মাইলেজ বাড়ানোর দিকে আগ্রহ আছে? ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমাদের বাইকগুলো যারা চালান তাদেরকে নিয়ে ‘রাইডার্স ক্লাব’ আছে। তাদের মতামত আমরা নেই। সম্প্রতি হাইওয়েতে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত বাইক চালিয়ে তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছে যে, ইয়ামাহার বাইকের মাইলেজ ঠিক আছে। তবে এখানে আরও কতগুলো বিষয় আছে। যিনি বাইক চালাচ্ছেন তাঁর বাইক চালানোর ধরণ, তেলের গুণগত মান এসব কিছুর ওপর মাইলেজ বাড়তে বা কমতে পারে। আমরা চালকদের বাইক চালানোর ধরণ আরও উন্নত করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকি। নিয়মিতভাবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এখন বেশ জনপ্রিয়। এর কারণে বাইক বিক্রির সংখ্যাও বেশ বেড়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? ড. এফ এইচ আনসারীঃ আমি মনে করি বাংলাদেশের মতো দেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলো খুবই দরকার। দেশের উন্নয়নের জন্যই দরকার। দেখেন আমরা যে স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়নের জন্য চাই গতি ও যোগাযোগ। এই গতি আর যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই খাত। আমরা বাঙ্গালিরা জাতি হিসেবে অনেকটা অন্তর্মুখী। সে দিক থেকে আমরা যে এই সংকোচ থেকে বের হয়ে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পেরেছি এটা বেশ ইতিবাচক দিক। এই প্ল্যাটফর্মগুলো আসলে আমাদের দেখাচ্ছে যে, জীবন কী! আমরা কত দূর যেতে পারি সেটি তারা দেখিয়েছে। সফলতা আসলে সেটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় তাও বুঝিয়েছে। এটা কিন্তু জীবনের অংশ। আর আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্যও এই খাত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা পশ্চিমাদের সাথে টক্কর দিচ্ছে। তাই আমি এই বার্তা দেব যে, আমরা সবাই যেন এটিকে সমর্থন দেই। এটিকে আরও পৃষ্ঠপোষকতা করি। ইটিভি অনলাইনঃ অনুমোদনবিহীন ইয়ামাহা মোটর সাইকেল বাজারে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ আছে। বিশেষ করে সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ পথে বাইক আসে যার মূল্য বাজার মূল্য থেকে অনেক কম। তাই অনেকেই এগুলো কিনে থাকেন। এগুলো আপনাদের ব্যবসার প্রতি কেমন প্রভাব ফেলছে। আর এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? ড. এফ এইচ আনসারীঃ এর প্রভাব বেশ ভয়াবহ। কারণ ইয়ামাহা খুবই হাইটেক ধরণের বাইক যা আমি আগেও বলেছি। এখন ধরেন কেউ একজন বাইরে থেকে নিম্ন মানের পার্টস সংযোজন করে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করলেন। এখন বাইকে যখন কয়দিন পর সমস্যা দেখা দিবে তখন এর দায়ভার কে নিবে? সবাই তো বলবে যে, ইয়ামাহা মোটর বাইক খারাপ। কারণ এর গায়ে ইয়ামাহার নাম লেখা আছে। এতে করে কিন্তু যিনি বাইকটি কিনছেন আর আমরা যারা এর অনুমোদিত আমদানিকারক; আমরা দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। ঐ গ্রাহক প্রতারিত হলেন আর আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হলো। এছাড়াও এতে করে কিন্তু প্রযুক্তিও অনুৎসাহিত হলো। একটি জাতি হিসেবে আমাদের উচিত প্রযুক্তির প্রতি ক্ষুধা থাকা। আর যে প্রযুক্তিটা সঠিক তার মূল্য দেওয়া। আমি মনে করি এসব অবৈধ, অনুমোদনহীন বাইকের বাজার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ আমরা কেউই চাই না প্রতারিত হতে। আর যারা এসব বাইক আনছেন তারা এগুলো এনে বাজারে থাকতে পারবে না। কারণ মাঝখানের চার বছর এদেশে ইয়ামাহার অনুমোদিত আমদানিকারক ছিল না। তাই কিছু কিছু এসেছে। কিন্তু এখন তো আমরা আছি। তাই তারা এগুলো এনেও টিকতে পারবে না। আর এসব অবৈধ বাইক বিক্রির জন্য আমরা উচ্চ আদালতে ইতোমধ্যে রিট করেছি। সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছি আমরা। মাঝখানে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অবৈধ মোটর বাইকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তো আইনী প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহক যদি একটু সচেতন হন তাহলে এই অবৈধ মোটর সাইকেলের বাণিজ্য একেবারে কমে আসবে। গ্রাহককে বুঝতে হবে যে, তিনি অল্প দামে যে বাইক কিনছেন তা অবৈধ। এটি যদি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পরে তাহলে কিন্তু সে তার বাইকটি হারাবে। পাশাপাশি বাইকের যদি কোন ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় তার জন্য কোন ধরনের সেবা কিন্তু তারা আমাদের থেকে পাবেন না। গ্রাহক সচেতন হলে এটি একে বারেই কমে যাবে।   / এআর /      

‘সব পেশাকে সম্মানের চোখে দেখা হয় না’

সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরকার নেই। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়মুখী নয়। বরং তারা ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজেরা যেমন কিছু করতে শিখে তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এভাবেই নিজের অভিমত তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সুধাংশু শেখর রায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অারও বলেন, বিদেশে শ্রমের মর্যাদা অাছে। যেকোনো কাজকে তারা সমান সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু অামাদের দেশে সব পেশাকে সমান সম্মানের চোখে দেখা হয় না। শারীরিক শ্রম নির্ভর লোকেরা সম্মান পায় না। তাই শ্রম নির্ভর পেশা নির্বাচনে অামাদের তরুণরা উৎসাহী নয়। তাই অামাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক অালী অাদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অামাদের দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন? সুধাংশু শেখর রায়: অামাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে চলনসই বলা যায়। তবে প্রচুর সংস্কারের দাবি রাখে বলে অামি মনে করি। উচ্চ শিক্ষায় অামাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পাবলিক ও প্রাইভেট দু`ভাগে বিভক্ত। এছাড়াও নানা ধরণের কারীকুলাম অাছে। অর্থাৎ লেখাপড়ায় যে ঐক্য বা সমব্যবস্থা তা কিন্তু নেই। অামি মনে করি, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে একটা ছাতার নিচে নিয়ে অাসা দরকার। একই দেশে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একভাবে চলবে অাবার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অন্যভাবে চলবে তা তো কাম্য হতে পারে না। অাবার মূল্যায়ণ পদ্ধতিও ভিন্ন। তা অামি সমীচীন মনে করি না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কিন্তু বাণিজ্যিক শিক্ষা থেকে বেরিয়ে অাসার কোনো সুযোগ অাজকের বাস্তবতায় অাছে কী? সুধাংশু শেখর রায়: লেখাপড়া একদিকে জ্ঞান অর্জনের জায়গা অন্যদিকে দক্ষতা অর্জনের জায়গা। অাগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়াকে জ্ঞান অর্জনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ইদানীং জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে কিছু টেকনেশিয়ান ধরণের লোক তৈরি করা হচ্ছে। অামি এটাকে সমর্থন করি না। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করাকে অামরা উৎসাহী করতে পারি। কিন্তু শুধু চাকরির উদ্দেশ্যে যে লেখাপড়া সেখানে জ্ঞান অর্জনের কোনো সুযোগ রাখা হয়না। এটা ভালো দিক নয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার পরেও অামাদের তরুণরা বেকার থাকছে। এটা কী শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নাকি কর্মসংস্থানের অভাব? সুধাংশু শেখর রায়: দু`টোই। অামাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটি অাছে একথা অস্বীকার করার সুযোগ তো নেই। পাশাপাশি ছোট দেশ হিসেবে অামাদের যে ধরণের কর্মসংস্থান করার কথা তা একেবারেই অপ্রতুল। অামি মনে করি সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়তে হবে এমন কথা নেই। অামাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গেছে যে সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডীতে প্রবেশ করেন না। কিন্তু তারা ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। অাবার নিজেরাও কর্মসংস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। কিন্তু অামাদের দেশের চিত্রটা ভিন্ন। এখানে একজন তরুণ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পার হয় তখন তার মধ্যে একটা দাবি তৈরি হয়, যে তাকে চাকরি দিতে হবে। বা তখন সে নিজেকে অফিসিয়াল চাকরির দাবিদার মনে করে। কিন্তু চাকরি দেওয়ার দায়ভার শুধু সরকারের না। একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নেওয়াটাও একজন তরুণের কর্তব্য। অভিভাবকদের উচিৎ তাদের সন্তানদের ছোট বেলা থেকে উৎসাহী করা যাতে তারা নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহী হয়। তাদের মধ্যে উদ্যোগী মনোভাব গড়ে তোলে। পাশাপাশি সরকারের উচিৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে বাস্তবমুখী ও জীবনমুখী করা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী? সুধাংশু শেখর রায়: দেখুন, অামাদের দেশটা ছোট। জনসংখ্যা অাঠারো কোটি। এখানে কতো অার কর্মসংস্থান করা যায়। দেশটা যদি শিল্পন্নোত হতো, তাহলেও না হয় কথা ছিল। তবে এখন যে হারে শিল্পায়ন হচ্ছে তাতে বলতে হয় খুব দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার যদি উদ্যোগী হয় তাহলে কর্মসংস্থানের সমস্যা লাঘব করা সম্ভব হবে বলে অামি বিশ্বাস করি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অামাদের তরুণরা বিসিএসকে একমাত্র সফলতা মনে করছে। সবাই বিসিএস মুখী। এটা কীভাবে দেখছেন? সুধাংশু শেখর রায়: না, কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। পাবিলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীরা বিসিএস মুখী হলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা বিসিএস মুখী নয়। এটার দায়ভার অামাদের। কারণ, ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে তরুণদের কেরানী বানানোর জন্য। ফলে অামাদের অনেক শিক্ষার্থী একদিকে যেমন উদ্যোক্তা হতে ভয় পায় বা উদ্যেক্তা হওয়ার পারিবেশিক অানুকূল্য পায় না, অন্যদিকে তেমনি শারীরিক শ্রম দিতে হয় এমন কাজগুলোকে অামরা গ্রহণ করতে মানসিক প্রস্তুতি অামাদের থাকে না। অাগেই বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী পার হওয়ার পর তারা নিজেদের ভালো চাকরির দাবিদার মনে করে। এর ফলে একটা শ্রেণি বিসিএস মুখী। দ্বিতীয়, বিদেশে শ্রমের মর্যাদা অাছে। যেকোনো কাজকে তারা সমান সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু অামাদের দেশে সব পেশাকে সমান সম্মানের চোখে দেখা হয় না। শারীরিক শ্রম নির্ভর লোকেরা সম্মান পায় না। তাই শ্রম নির্ভর পেশা নির্বাচনে অামাদের তরুণরা উৎসাহী নয়। অামাদের এ মানসিকতায় পরিবর্তন অানা জরুরি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতি- নৈতিকতা ও মানবিকতার অভাব অাছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী বলবেন? সুধাংশু শেখর রায়: একাডেমিক পড়াশোনা যেমন দরকার, তেমনি তার পাশাপাশি কো-কারীকুলাম পড়াশোনা ও কার্যক্রমে জড়িত থাকাও দরকার। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীরা কো কারীকুলামে জড়িত অাছে এমনটা দেখা যায় না। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী করে। অাগে গ্রামে গ্রামে নাটক মঞ্চস্থ হতো। কবিগানের অাসর বসতো। শিক্ষার্থীরা ছোট কাগজ ও পত্রিকা নিয়ে উৎসাহী ছিল। এখন এই চর্চাগুলো কমে গেছে। ছেলে মেয়েরা বই পড়ে না। বইয়ের পরিবর্তে তারা ফেসবুক মুখী। অাগে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়াতো। মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে রাখত। অার এখন অনলাইন নির্ভরতা মানুষকে অাত্মকেন্দ্রীক করে ফেলছে। এখানে এসে নীতি নৈতিকতা হেরে যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নীতি নৈতিকতা হারিয়ে যাওয়ার জন্য কী অাপনি ইন্টারনেট অাসক্তিকে দায়ী করছেন? সুধাংশু শেখর রায়: হ্যাঁ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুকে কাটানো মানুষগুলো নানা ধরণের হতাশায় অাক্রান্ত। এই হতাশা মানুষকে জীবনমুখী করে না। তখন নীতি- নৈতিকতা- মানবিকতা অর্থহীন হয়ে যায়। একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষের কাছে তো অাপনি ইতিবাচক কিছু অাশা করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত, মোবাইল নির্ভরতা বা ইন্টারনেট জগতের প্রতি অতি অাগ্রহ কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট করে। চিন্তার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। সময় নষ্ট, চিন্তার এনার্জি নষ্ট। অামাদেরকে পরিবার, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ভূমিকা রাখে ভার্চুয়াল জগৎ। যদিও অনেকে বলে মোবাইল বা ইন্টারনেট অামাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে। কিন্তু প্রকৃত সত্য অামাদেরকে বিছিন্ন করতে বা ঐনিক্য করতে ভূমিকা রাখে মোবাইল ও ইন্টারনেট। অামি বলি, মোবাইল সংস্কৃতি অামাদের বিচ্ছিন্ন করেছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: অাপনাকে ধন্যবাদ।  এসএইচ/

ভোক্তা প্রতিবাদী হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে: গোলাম রহমান

চলছে রমজান, আসন্ন ঈদ। রমজান ও ঈদকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারা দেশের কাঁচাবাজার, ফুটপাতসহ বড় বড় বিপনী-বিতান। ক্রেতাদের মাঝে বেড়েছে রমজান ও ঈদ নির্ভর পণ্যের চাহিদা। ক্রেতাদের এ চাহিদাকে পুঁজি করে এক ধরণের অসাধু ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে পণ্যের লাগামহীন দাম। এতে ক্রেতা সাধারণের পকেট ঠিকই খালি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অথচ সরকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থা প্রতিবারের মতো ঘোষণা দিয়েছিল এবারের রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত আছে। মূল্য ক্রেতাদের নাগালে রাখতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হযেছে। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে দেখা গেছে রমজানের আগের দিনেই বেগুন, পেয়াজ, চিনিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যার কারণ অনুসন্ধানে একুশে টেলিভিশন মুখোমুখি হয় দেশে ভোক্তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ দিক নিয়ে কাজ করা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাজারে রমজান নির্ভর পণ্যের মধ্যে চিনি ও পেয়াজের দাম বেড়েছে। চিনির দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আর পেয়াজের দাম একটু বেশিই বেড়েছে। এ বাড়ার জন্য আমরা বিভিন্ন  সংস্থার কাছ থেকে যে ব্যাখ্যা পেয়েছি তা হলো, যেহেতু চিনির সরবরাহটা নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোনা ৪ থেকে  ৫জন রিফাইনার। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো বাজার কারসাজি করার চেষ্টা করেছিল। তবে চিনির যে দাম বেড়েছে তা কিন্তু খুব বেশি না। এটা স্বাভাবিক পর্যায় বলা যায়। কারণ রোজায় ভোক্তাদের মাঝে যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, সেটার জন্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। ভোক্তাদের উচিত হবে একই সঙ্গে পণ্যের অনেক বেশি চাহিদা তৈরি না করা। তবেই দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবেন না ব্যবসায়ীরা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক রিজাউল করিম। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: প্রতিবারের মতো এবারও রমজানে পণ্যমূল্য বাড়বে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তারপরও দেখা গেছে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এর কারণটা আসলে কি? গোলাম রহমান: আমরা তো মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি, এখন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয় যে, সব সময় সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। পণ্যের দাম উঠানামা করবে এটাই স্বাভাবিক। এবারের রোজার আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং হিসেব নিকেশ করেছেন। তাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রমজান নির্ভর পণ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে। দেশর অভ্যন্তরে রমজান নির্ভর পণ্যের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। আবার বিশ্ববাজারও স্থিতিশীল। এসব বিবেচনায় তারা বলেছেন যে, এবার রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না। তবে রমজান নির্ভর পণ্যের মধ্যে চিনি ও পেয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। চিনির দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। আর পেয়াজের দাম একটু বেশিই বেড়েছে। এ বাড়ার জন্য আমরা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে যে ব্যাখ্যা পেয়েছি তা হলো, যেহেতু চিনির সরবরাহটা নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোনা ৪ থেকে ৫জন রিফাইনার। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো বাজার কারসাজি করার চেষ্টা করেছিল। তবে চিনিরি যে দাম বেড়েছে তা কিন্তু খুব বেশি না। এটা স্বাভাবিক পর্যায়-ই বলা যায়। কারণ রোজায় ভোক্তাদের মাঝে যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, সেটার জন্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। সেজন্য দাম কিছুটা বেড়েছে হয়তো কোনো কোনো পণ্যের। অন্যদিকে পেয়াজের দাম বাড়ার কারণ রোজার ঠিক আগে বেশ কয়েকদিন সরকারি ছুটি ছিল। তখন স্থলবন্দরগুলো বন্ধ ছিল। বন্দর বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ ব্যহত হয়েছে। যার প্রভাবে বাজারে পেয়াজের সরবরাহ কমে যায়। সরবরাহ কমে গেলেও রমজানের আগে চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। সরবরাহ কম অথচ চাহিদা বেশি। যার কারণে পেয়াজের দাম বেড়েছিল। তবে এখন কিন্তু পিয়াজের দামও সাধ্যের মধ্যে আছে। তাই বলবো অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রমজানে আমদানি নির্ভর শুকনা পণ্যের দাম সহনীয় আছে। আর কাচা পণ্যের  কিছুটা দাম বাড়ার জন্য দায়ী রোজার সপ্তাহ খানেক আগে লাগাতার বৃষ্টি, যানযট, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বেড়ে যাওয়া। যার কারণে বেগুণের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু এখন তার দাম কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় চলে এসেছে। আশা করা যায়, যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, যানজট না থাকে, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে অতীতের যে কোনো রমজানের তুলনায় এবার ১৫ রোজার পরে এসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল-ই থাকবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে সবজির দাম রমজানের আগের সঙ্গে তুলনা করলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্রেতাদের এ অভিযোগকে কিভাবে দেখবেন ? গোলাম রহমান: এবার গ্রীষ্মের সবজি এখনও বাজারে আসেনি। বাজার দর যদি এমন অসহনীয়-ই থাকে ভোক্তাদের উচিত হবে প্রতিবাদ করা। পণ্যের দাম কমাতে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিবাদ আসতে হবে। তবে যানজট, চাঁদাবজি না থাকলে বাজার সহনীয় থাকবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাজারে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক বাজারে তা দেখা যায়নি। আবার যেগুলোতে দেখা গেছে, সে বাজারে আবার তালিকায় দেওয়া মূ্ল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে? কারণটা আসলে কি? গোলাম রহমান: মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মূল্য তালিকা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে। সরবরাহকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দাম বেধে দিলাম ১০ টাকায় চাল। এটা হবে না। তবে এটা একটা ভালো দিক যে এবার রমজানে চালের দাম স্থিতিশীল। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বাজারে মাংস ও ফল থেকে শুরু করে অনেক পণ্যেই দেখা গেছে ফরমালিন, ভেজাল, নকল ও  ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ক্রেতাদের এ অভিযোগ নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন আসলে কি করছে? গোলাম রহমান: রমজানের সমস্যা হলো ভেজাল, নকল এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা। এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই সবাইকে বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। যারা বাজারে ভোক্তাদের ঠকানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বাজারে যেন আবার ভীতির সৃষ্টি না হয়, সৎ ব্যবসায়ী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। কারণ সৎ ব্যবসায়ীরা ভীতিতে থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাবে। পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে ফরমালিনের কথা বলা যায়। ফরমালিন ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এটা ফলসহ বিভিন্ন পণ্যে মেশায়, তাদের  আইনের আশ্রয় নিয়ে আসাই যুক্তিযুক্ত। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাই করছে বলে মনে হয়। এটা আরো বাড়াতে হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: দীর্ঘদিনের একটা অভিযোগ রয়েছে যে, পণ্য উৎপাদন করে কৃষকরা এর সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। কিন্তু কৃষকের শ্রমের পণ্য বিক্রিতে অতি মুনাফায় পকেট ভরছে মধ্যস্বত্তভোগীর। পণ্যের সঠিক দাম কৃষক পর্যায়ে পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে করণীয়টা কি হতে পারে? গোলাম রহমান: যদি ব্যবসায়ীরা উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য না আনে তবে তো পণ্য ক্ষেতেই রয়ে যাবে। তখন কৃষক লাভবান হবে না। আবার ভোক্তাও পণ্য পাবে না। এ বিবেচনায় মধ্যস্বত্তভোগীদের প্রয়োজন আছে। তবে তাদের অতি মুনাফা করার মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু অতি মুনাফাকারীর সংখ্যা খুবই কম। এসব কাঁচা পণ্যের দাম কমে রাখতে দরকার আমাদের স্টোরেজ বা গুদামজাত ব্যবস্থা বাড়ানো। পরিবহণ ব্যয় কমানো ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। তবে ভালো মূল্য পাওয়ার জন্য কৃষক যদি সংগঠিত না হয়, তারা দাবি না তোলে তবে এভাবেই চলতে থাকবে। মধ্য স্বত্তভোগীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি তারাই বাজারজাত করার জন্য কোন ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তারা পণ্যের সঠিক মূল্য পাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে ভোক্তা সমিতি কি কি কাজ করছে? গোলাম রহমান: আমরা কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নই। আমরা বিশাল একটি সংস্থা। আমরা সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করি। প্রয়োজনে মামলা মোকদ্দমা করি। আমাদের বক্তব্য হলো ভোক্তারা যেন সংগঠিত হয়, প্রতিবাদী হয়, সোচ্চার হয়। আর কৃষকদেরও বলবো আপনারাও প্রতিবাদী হন, নিজেদের স্বার্থ নিজেরাই রক্ষা করুন। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বলছিলেন মামলার কথা। ভোক্তার কথা বিবেচনায় আসলে কতগুলো মামলা এ পর্যন্ত সমিতির পক্ষ থেকে করা হয়েছে? গোলাম রহমান: গ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রথমে দুই চুলা ৮৫০ টাকা করা হয়েছিল। আবার ৮৫০ থেকে বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা করা হয়েছিল। আমরা হাইকোর্টে মামলা করলে এটা আবার ৮৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ভোক্তার স্বার্থে আমরা আরও মামলা করেছি। যেমন নাইকোর বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছিলাম। যে গ্যাস ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ফলে অনেক গ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাস কমে যাওয়ার কারণে ভোক্তারাই মূলত বঞ্চিত হয়েছে। তাই হাইকোর্টে মামলা করার পরে নাইকোর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে কোর্ট। এখন সেটা উচ্চ আদালতের অ্যাপিলেড বিভিশনে বিচারাধীন আছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কি? গোলাম রহমান: ভোক্তা যদি প্রতিবাদী হন, অধিক দামের পণ্য না ক্রয় করেন, তবে সেটার দাম এমনিতেই কমে যাবে। বাজারও নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোক্তাদের বলবো আপনারা যাচাই করে সঠিক পণ্য, গুণগত পণ্য ক্রয় করুন। যদি গুণগত পণ্য না পান,  বাজারে অসংগতি দেখেন, আপনারা প্রতিবাদী হন, সোচ্চার হন। / এআর /          

উপস্থাপনায় শারীরিক সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ নয়: সামিয়া রহমান

সামিয়া রহমান। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। সংবাদ শুধু শোনার বিষয় নয়, সংবাদ শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনবে বা সংবাদের সঙ্গে আরও বেশি একাত্ম হবে- এমন ধারা এদেশে সম্ভবত তিনি-ই প্রথম প্রবর্তন করেন। সংবাদকে আরও বেশি শ্রোতা ও দর্শনপোযোগী করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন মানুষটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানের টেলিভিশন ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল সায়মন ড্রিংয়ের হাত ধরে, একুশে টেলিভিশনে। একে একে কাজ করেছেন এনটিভি, দেশ টিভি, একাত্তর টিভিতে। বর্তমানে নিউজ ভিত্তিক চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর হেড অফ কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পদে কর্মরত। সামিয়া রহমান বিশ্বাস করেন, ক্যামেরার সামনে কাজ করার জন্য মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য-ই মুখ্য নয়, বরং স্মার্টনেস তথা একজন মানুষের ভেতরকার সৌন্দর্য্যটাই বেশি জরুরি। সংবাদ পাঠ করতে বা টকশো সঞ্চালনা করতে হলে সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ খুব জরুরি নয়, তবে আত্মবিশ্বাস, স্মার্টনেস, শুদ্ধ উচ্চারণ ও চলমান বিষয়ে জানাশোনা থাকলে যে কেউ টিভিতে সংবাদ উপস্থাপনা ও টকশো সঞ্চালনায় ভালো করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। সামিয়া রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমাদের দেশে যারা সংবাদ উপস্থাপনা করছে তাদের সম্ভাবনা কেমন? সামিয়া রহমান: তারা খুবই সম্ভাবনাময়ী। আমরা আগের সেই জটিল ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। এখন যারা সংবাদ উপস্থাপক তারা শুধু লিখিত সংবাদ পাঠ করছে তা নয়, বরং তারা নিজেরা সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছে নিউজ ম্যানেজমেন্টে। তারা সাক্ষাৎকার নিতে পারছে। মনে রাখবেন, একজন মানুষ তখনই ইন্টারভিউ নিতে পারেন যখন বিষয়টা সম্পর্কে ভালো বুঝেন ও জানেন। আগে যারা সংবাদ উপস্থাপনা করতেন তারা ছিলেন শুধুমাত্র নিউজ রিডার। এখন আমরা সেখান থেকে অনেকটা সরে আসতে পেরেছি। একজন সংবাদ উপস্থাপকের ভূমিকা এখন অনেকটা সাংবাদিকের মতো। তবে হ্যাঁ, আমরা সব মিলিয়ে বলতে গেলে কাংখিত লক্ষ্যে এখনো পৌঁছুতে পারিনি। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একজন তরুন যখন সংবাদ উপস্থাপনায় আসতে চায় তার কেমন প্রস্তুতি দরকার? সামিয়া রহমান: সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে চাকরির বাজারটা এখন অনেক বড়। এখন যারা এ পেশায়িআসতে চায় তারা এটাকে চাকরি হিসেবে নিতে পারে। বিভিন্ন চ্যানেলগুলো এখন লোভনীয় অফার দিচ্ছে। যদি কারো যোগ্যতা থাকে তাহলে এ পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। এখানে একটা প্রশ্ন এসে যায় সেটি হচ্ছে- এতোগুলো চ্যানেল, এতো এতো সংবাদ উপস্থাপক। কিন্তু ক’জনকে মানুষ চেনে বা জানে বা কয়জনের চেহারা মানুষ মনে রাখে। তাই যারা টিকে থাকতে চায় তাদেরকে কাজ দিয়েই টিকে থাকতে হবে। এই টিকে থাকার প্রস্তুতিটাই আমি নিতে বলব। যিনি খবর পড়বেন তার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত। দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে, সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। যদি এই ধারনা না থাকে তাহলে শুধু রিডিং পড়া হবে। উপস্থাপনা হবে না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: উপস্থাপনায় বাহ্যিক সৌন্দর্য্ ও স্মার্টনেস কতটা জরুরি? সামিয়া রহমান: স্মার্টনেস ও শারীরিক সৌন্দর্য এক কথা নয়। যেকোনো ধরণের উপস্থাপনার জন্য আমরা স্মার্টনেসকে খুব বেশি গুরুত্ব দিই। নিজের আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বটাকে ফুটিয়ে তোলা খুব দরকার। তবে শারীরিক সৌন্দর্য কোনো বড় বিষয় নয়। সৌন্দর্য একেক জনের কাছে একেক রকম। আমি যখন যে চ্যানেলে কাজ করেছি, নিউজ প্রেজেন্টার রিক্রুট করেছি কখনোই শারীরিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিইনি। আমরা দেখেছি আবেদনকারী ছেলে বা মেয়েটা স্মার্ট কিনা, কথা বলতে পারে কিনা, অনর্গল বলতে পারে কিনা, বিশ্ব সম্পর্কে জানে কিনা। যে কেউ সেজেগুঁজে সুন্দর হতে পারে। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে কিছু না কিছু মেকআপ নিয়ে সবাই আসে। তাই এখানে ভেতরকার সৌন্দর‌্য প্রকাশ করাটাই জরুরি। আমি মনে করি, ক্যামেরার সামনে বসার আগে যে বিষয়ে কথা বলবো জেনে বুঝেই করবো। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যেহেতু আমাদের দেশে সংবাদ উপস্থাপনার উপর আলাদা করে একাডেমিক শিক্ষার সুযোগ নেই, তাই আগ্রহী তরুণরা এ বিষয়ে কোথায় শিখবে? সামিয়া রহমান: সংবাদ উপস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষণের কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। আমি একসময় প্রশিক্ষণ করাতাম, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমার যদি উচ্চারণে সমস্যা থাকে তাহলে আমরা বুঝতে পারিনা। প্রশিক্ষণে অনেকের মাঝে সেটা বুঝতে সহজ হয়। অন্যথায় কেউ যদি বিবিসি, সিএনএন, ইন্ডিয়ার এনডিটিভি বা আমাদের টেলিভিশনগুলো নিয়মিত ফলো করে, তাহলে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা না। ওখানে ছেলে মেয়েরা চমৎকার উপস্থাপনা করছে। মিডিয়াতে আসতে গেলে সবচেয়ে বেশি জরুরি আত্মবিশ্বাস। পাশাপাশি স্মার্টনেস, সঠিক উচ্চারণ ও বিশ্বসম্পর্কে জানাটাই জরুরি। বাংলায় যে দক্ষতা থাকা উচিত ইংরেজিতেও সেই দক্ষতা থাকা উচিত। যদিও বা অনেকটাই অনুবাদ হয়ে আসে, এরপরও প্রচুর নাম ও শব্দ আছে যেগুলো ইংরেজিতে পড়তে হয়। আমরা এখন বিশ্ব নাগরিক। খবরের বড় অংশ থাকে ইন্টারন্যাশনাল খবর। তাই ‍উপস্থাপনার জন্য ইংরেজি জানা আবশ্যক। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: সংবাদ উপস্থাপনকদের মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত? সামিয়া রহমান: আমাদের এখানে ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সেটা হলো সবাই দু`একবছর কাজ করলে নিজেকে স্টার ভাবে। রাস্তায় তাকে কেউ চিনতে না পারলে হতাশ হয়। আবার চিনতে পারলে খুব উৎফুল্ল হয়। আমি বলব, এত দ্রুত হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আবার এতো দ্রুত আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। আজকাল স্টার হওয়ার এই যে প্রবণতা, স্টার হওয়া এতো সোজা না। কাজ দিয়ে মানুষ চিনবে। আর টেলিভিশন উপস্থাপনা স্টার হওয়ার জায়গা না। এটা হচ্ছে, আমি সাধারণ মানুষের কাছে যাব। হ্যাঁ, মানুষ চেনে কিনা, জানে কিনা, ভালোবাসে কিনা সেই প্রসঙ্গ আসতে পারে। সেটা কাজ দিয়েই হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নতুনরা যদি ক্যামেরার সামনে বিব্রত হয় সেটা কাটিয়ে উঠার উপায় কী? সামিয়া রহমান: প্রচুর প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে জড়তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। জড়তা আসলে নিজেকে নিজে প্রবোধ দেব, ‘আরে ধূর, এটা কোনো ব্যাপার-ই না।’ একুশে টেলিভিশন অনলাইন: বর্তমানে যারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করছে তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? সামিয়া রহমান: সবাই ভালো কাজ করছে। তারা এটাকে প্রফেশনাল জায়গায় দাঁড় করিয়েছে এবং ভালো কাজ করছে বলেই এখন অসংখ্য তরুণ এ পেশায় আসতে চাচ্ছে। সবাই নিউজ প্রেজেন্টার হতে চাচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, সবাই নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার দরকার নেই। জীবনে সবাইকে সবকিছু হতে হবে কেন? যার যতোটুকু দক্ষতা সে সেটা দিয়েই কাজ করা উচিত। সবার মধ্যে চেহারা দেখানোর প্রবনতা থাকায় কেউ আর পেছনে কাজ করতে চায় না। কিন্তু রিপোর্টি, এডিটিং, ডকুমেন্টারি কেউ করতে চায় না। কিন্তু এগুলোও খুব সম্ভাবনাময়ী পেশা। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: যারা টিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে চায়, তারা নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করবে? সামিয়া রহমান: সংবাদ উপস্থাপনা ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় তেমন একটি পার্থক্য নাই। যে ধরণের অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছি সেই ধরনের অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে নিজেকে বদলে ফেললেই হলো। সেলিব্রেটি শো করার সময় যেমন আমেজে কথা বলব পলিটিক্যাল শো করার সময় সেই মুডে বলা যাবে না। প্রোগ্রাম কনটেন্ট মাথায় রাখতে হবে। একুশে টেলিভিশন অললাইন: বর্তমানে যারা এফ এম রেডিওতে কাজ করছে তাদের উচ্চারন ও অ্যাপ্রোচ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন? সামিয়া রহমান: তাদের যদি এতো বিরক্ত লাগে তাহলে শ্রোতারা শুনছেন কেন? বিনোদনের তো অভাব নেই। ইংলিশ মিডিয়ামেয় বাচ্চাগুলোর ইংরেজি একটা এক্সেন্ট আছে। বাংলাতে কথা বলতে গেলে বাংলাটাকেও তারা ওই এক্সেন্টে নিয়ে যায়। এটা ভুল ধারণা। ইংরেজির এক্সেন্ট আর বাংলার এক্সেন্ট এক না। আমেরিকান এক্সেন্ট, বৃটিশ এক্সেন্ট ও অস্ট্রেলিয়ান এক্সেন্ট আলাদা। ওরা ওদের মতো করে কথা বলে। আমি আমার মতো করে কথা বলব। আর এফ এম রেডিও- র আরজে রা যা করছে, আমি যদি মনে করি এরা ভুল করছে, তাহলে আমি যেন না শুনি। একুশে টেলিভিশন লিমিটেড: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত কী ধরনের অনুষ্ঠান বেশি বেশি নির্মিত হওয়া দরকার বলে মনে করেন? সামিয়া রহমান: আমাদের টেলিভিশনগুলোর সবচেযে বড় ক্রাইসিসটা হলো আমাদের আইডিয়ার অভাব। আমাদের সবগুলো চ্যানেল একই নিউজ দেখায়, একই রকম প্রোগ্রাম দেখায়, একই রকম নাটক দেখায়। কোনো রকম নতুনত্ব নাই। আমরা মনে করি একটা চ্যানেলে একটা ওয়েদার নিউজ থাকতে হবে, একটা স্পোর্টস নিউজ থাকতে হবে, একটা এন্টারটেইনমেন্ট নিউজ থাকতে হবে, একটা লাইফস্টাইল শো থাকবে, একটা ট্রাভেল শো থাকবে, একটা হালকা সেলিব্রেটি শো থাকবে, একটা সোশ্যাল ইস্যু থাকবে। কিন্তু এই শোটা মানুষ কেন দেখবে তা আমরা ভাবি না। আমরা টেলিভিশন প্রোগ্রাম কীভাবে করব সেটা ভাবি কিন্তু কেন করব সেটা ভাবি না। যদি ভাবতাম তাহল আমাদের দর্শকরা জি বাংলা, স্টার জলশায় মগ্ন হতো না। একুশে টেলিভিশন অনলাইন: শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। সামিয়া রহমান: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা। / এআর /

‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জয়ের বিকল্প নেই’   

সারাদেশে চলছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান। মাদক নিরব ঘাতক হিসেবে পুরো জাতিকে শেষ করে দিচ্ছে। মেধাবী তরুণ প্রজন্ম আজ মাদকের ছোবলে দিশেহারা। আগামী প্রজন্ম ও জাতিকে রক্ষার জন্যই শুরু হয়েছে মাদক বিরোধী এই অভিযান। একুশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘একুশে রাত’এ এসে এমনটাই বললেন র্যা বের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।   অনুষ্ঠানে তিনি সম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার চূম্বক অংশ তুলে ধরা হলো- একুশে টেলিভিশন: সারা বছরই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। এ সময় হঠাৎ করে বিশেষ অভিযান কেন? বেনজীর আহমেদ: এ অভিযান হঠাৎ করে নয়। আমাদের র্যা ব ফোর্সের তার ম্যান্ডেটরির অংশ হিসেবে শুরু থেকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিগত ১৪ বছর এ অদ্যাবধি র্যাব প্রায় ৭০ হাজার জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে এবং এ পর্যন্ত র্যা ব ১ হাজার ৭শ কোটি টাকার উপরে মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে এবং প্রায় পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিক স্থানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে গত ৩ মে র্যা ব ফোর্সেস এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী দিবস উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র্যা ব ফোর্সকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসেন। সেখানেও কিন্তু তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছি। সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র যখন একটা বিষয় বাস্তবায়ন করতে চান তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ওই কাজটি বাস্তবায় করা জরুরি হয়ে পরে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা সে কারণে সমগ্র দেশবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করি, আমরা সকল শিক্ষকের সমর্থন ও সহযোগীতা চাই, আমরা ছাত্রদের সমর্থন চাই, আমরা সকল অভিবাবকবৃন্দের সমর্থন চাই, আমরা সকল পলিটিকেল পার্টির সমর্থন চাই, আমরা কমিউনিটি লিডারদের সার্পোট চাই, আমরা ধর্মীয় নেতা ,ইমামদের সমর্থন চাই, আমরা সহযোগিতা চাই সিভিল সোসাইটি, রাইটার, আর্টিস্ট সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের। আমরা সমর্থন চাই যাতে করে এটির শিকড়, নিগড় উদ্ঘাটন করতে পারি। একুশে টেলিভিশন: লোকদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা রয়েছে। আর এ প্রবণতা যদি থাকে তাহলে এ অভিযান কতটুকু সফল হবে ? বেনজীর আহমেদ: দেখুন আমরা সবাই যদি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তাহলে এটির অপসারণ করা সম্ভব। এর মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ড্রাগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা। এর ক্ষতিকর দিকটি সবার কাছে তোলে ধরা। মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে যে সকল ব্যক্তি ও এনজিও মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে কাজ করেন এবং পুনর্বাসনে লক্ষ্যে কাজ করনে আমরা তাদের সাথে কাজ করতে চাই। সর্বপরি সবাই যদি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তাহলে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। একুশে টেলিভিশন: আপনারা যে এত মানুষকে গ্রেফতার করেছেন। সেখানে অনেক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ কারাগারের ভেতর থেকেও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন?  বেনজীর আহমেদ: দেখুন মামলা যেমন আছে মামলার জন্য জামিনও রয়েছে। আবার লাখ লাখ আইনজীবী রয়েছেন মামলার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দেওয়ার জন্য। তারপরও এ প্রতিবন্ধকতা থাকা শর্তেও কিভাবে এটাকে দমন করা যায় সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা বলেছি চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও জনগণ আমরা যদি একত্রিতভাবে সামনে এগিয়ে যাই তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবেই। একুশে টেলিভিশন: মানবাধিকার বিভিন্ন সংগঠন ক্রসফায়ারে ক্ষুদ্র মাদক বিক্রেতাদের হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?   বেনজীর আহমেদ: যারা প্রশ্ন তুলেছে তারাই এর উত্তর দেবে। এগুলো নিয়ে কথা বলার আমাদের সময় নেই। এটা তাদের ব্যাথা। তারা বিদেশ থেকে টাকা নিয়ে আসেন এ কাজের জন্য, এ বিষয়ে কথা না বললে তারা টাকা পাবেনা। অপরদিকে আমরা প্রত্যাশা করছি যারা ড্রাগ গ্রহণ করে, তারা ড্রাগ গ্রহণ করা ছেড়ে দিবেন; যারা খুচরা বিক্রি করে, তারা বিক্রি বন্ধ করে দিবেন; যে সমস্ত লোকজন এই ড্রাগের হোল্ডার, ডিলার হিসেবে কাজ করেন এবং খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে ডিস্ট্রিবিউট করেন তারাও সেটি ছেড়ে দিবেন। আর এর মাধ্যমে তারা তাদের রক্ষা করতে পারবে। একুশে টেলিভিশন: এই যুদ্ধকে আপনারা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যন্ত চলবে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান?    বেনজীর আহমেদ: কোন পর্যায় পর্যন্ত গেলে খুশি হন আপনারা? অর্ধেক পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন-নাকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন ? তবে এমনটাতে আমি খুশি হব না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে আমি খুশি হবো।একটা সমাজ থেকে মাদক একদম তো উঠিয়ে নেওয়া যাবে না। উইথ আউট মাদক (মাদক ছাড়া) হয় না। কিছু না কিছু থাকবে। তবে তা একটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকতে হবে। দুইশ বছর আগের মানুষও মাদক দ্রব্য সেবন করেছে। অনেকে তো ধর্মীয় আচারের মধ্যেই মাদক সেবন করেন। পৃথিবীর কোন দেশই একেবারে মাদকবিহীন নয়। তবে তা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে থাকতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকবে। একুশে টেলিভিশন: একটা অভিযোগ সবসময়ই আসে যে, যতই অভিযান হোক মাদক ‘সম্রাটেরা’ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?     বেনজীর আহমেদ: আমি তো কোন ‘মাদক সম্রাট’ দেখি না। সম্রাটের মুকুট কোথায়? তার চেয়ারটা কোন জায়গায়? ক্রিমিনাল ইজ এ ক্রিমিনাল (অপরাধী অপরাধীই)। এসব আসলে আমরাই বানাই। আমরাই বানাই ‘মক্ষীরানী’; আমরাই বানাই ‘মাদক সম্রাট’। আমাদের চোখে তারা অপরাধী। সম্রাট কীসের আবার? একটা অপরাধীকে বড় বড় বিশেষণে ভূষিত করা ঠিক না। আমাদের কথা এই যে, আমরা যাকে পাব তাকেই দমন করব। আমদের নীতি হচ্ছে “যেই হোক, যাই হোক আর যেখানেই হোক”। তার বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ। সর্বপরি আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে পারলে এবং সবার সমর্থন নিয়ে আমরা মাদক নির্মুল করতে পারব। কেননা এর আগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা অনেক বড় বড় অর্জন করেছি । জঙ্গ দমন করেছি। একুশে টেলিভিশন: অনেক ব্যস্ততার মধ্যে আপনি আমাদের সময় দিয়েছেন সে জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বেনজীর আহমেদ: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।  এমএইচ/এসি        

বাজেটকে উৎপাদনশীল উপায়ে ব্যবহার করতে হবে: এফ এইচ আনসারী

আসছে জুন মাসে ২০১৮-’১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের বছরের বাজেট হওয়ায় সব মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাক বাজেট আলোচনা। কৃষিখাতের এবারের বাজেট কেমন হতে পারে বা কেমন হওয়া উচিত-তা নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে বিস্তর। কৃষিখাতের বাজেট ভাবনা এবং সামগ্রিক কৃষি খাত নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এসিআই এগ্রি বিজনেস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কৃষি গবেষক এফ এইচ আনসারী। তার কথায় উঠে এসেছে কৃষিতে তরুণদের সম্ভাবনা, এই সেক্টরে প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইটের সফল ব্যবহারসহ নানা দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইনঃ সামনে বাজেট আসছে। এই বাজেটে কৃষি খাতের জন্য কেমন বরাদ্দ রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন? এফ এইচ আনসারীঃ কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা সবসময়ই এই সময়টাতে বাজেট ঘোষণার দিকে বিশেষ নজর রাখেন। যেহেতু আমরা কৃষি প্রধান দেশ, তাই কৃষিকে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমনটাই আশা আমাদের। কৃষকেরা সবসময়ই এমন বিশ্বাসে থাকেন যে, সরকার তাদের জন্য কিছু করছে এবং করবে। তো কৃষকদের সেই বিশ্বাস এবং আস্থার বহিঃপ্রকাশ বাজেটে হবে এমনটা আমরা সবাই চাই। পাশাপাশি কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা থাকা লাগবে। ইটিভি অনলাইনঃ বাজেটের কার্যকারিতা নিয়ে সবসময়ই আলোচনা হয়। ঘোষিত বাজেটের কতটুকু ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় বলে আপনি মনে করেন? এফ এইচ আনসারীঃ একটা বিষয় আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশের বাজেট কিন্তু খুব একটা বড় না। আমরা ইচ্ছে করলেই যে আবার এই বাজেটের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে ফেলতে পারব এমনও কিন্তু না। তাই বিদ্যমান যে বাজেট আছে তা যদি প্রোডাক্টিভওয়েতে (উৎপাদনশীল উপায়ে) ব্যবহার করতে পারি তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব। আমাদেরকে দেখতে হবে যে, আমাদের জন্য এই যে এক হাজার কোটি টাকার বাজেট আছে, বা বারশ’ কোটি টাকা বা নয়শ’ কোটি টাকা যেটাই হোক, সেটা কীভাবে ব্যবহার করলে ‘কস্ট অব প্রোডাকশন’ (উৎপাদন ব্যয়) কমে আসে। আমরা সারে ভর্তুকি দেখিয়েছি যে, ফিল্ড ক্রম (জমি শস্য), সবজি এবং যেসব ফসল উৎপাদনের পর পশু খাদ্যে ব্যবহৃত হয় সেসব জায়গাতে আমাদের কিছুটা সাশ্রয় হচ্ছে। সেইসঙ্গে আমরা জানি যে, ডিজেলে আমরা কিছুটা ভর্তুকি দিই। তাহলে তাতে আমরা দেখি যে, উৎপাদন ব্যয় কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা কমছে। সেই সঙ্গে আমরা যদি ফসল ভালো দামে বিক্রি করতে পারি তাহলে এই উৎপাদন ব্যয়ও কোনো ব্যাপার না। একটা উদাহরণ দিই, এখন যদি এক মণ চাল আমি এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারি তাহলে প্রতি কেজি চালের দাম আসে প্রায় ২৫ টাকা। আর যদি এই চালই আমি ১৬০০ টাকায় বিক্রি করতে পারি তাহলে দেখেন কত আসে। তাই বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ এমনভাবে আমাদের ব্যবহার করতে হবে যেন তা দিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো যায় এবং সেই সঙ্গে ফসলের ভালো দাম পাওয়া যায়।  ইটিভি অনলাইনঃ কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলেছেন আপনি। কেমন হতে পারে সেই ব্যবহার? এফ এইচ আনসারীঃ আগে কৃষিকাজ হতো একেবারে অপ্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে। এখন এখানে প্রযুক্তির অনেক ব্যবহার করা যায়। একটা উদাহরণ দিই। আমি যদি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখি যে, কখন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বৃষ্টি হবে, তাহলে সেই এলাকার কৃষকদের আমরা ওই সময়ে সেচ না দিতে বলতে পারি। এখন অনেক জায়গায়-ই প্রি-পেইড কার্ডে বিল পরিশোধ করে জমিতে সেচ দিতে হয়। এটা কৃষকদের খরচ বাড়ায়। আমি যদি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বৃষ্টির পানিকেই সেচের কাজে লাগাই তাহলে কিন্তু তা কৃষকদের খরচ কমিয়ে দেবে। এভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রে আরও বাড়ানো যেতে পারে। এর জন্য দেশের শিক্ষিত যুবকদের কৃষিকাজের সঙ্গে আরও জড়িত করতে হবে।  ইটিভি অনলাইনঃ বাংলাদেশের এখন নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে বঙ্গবন্ধু-১। কৃষি ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে কোনো সুফল আসা সম্ভব কি না? এফ এইচ আনসারীঃ আমি এখনও সঠিক জানি না যে, এই স্যাটেলাইট দিয়ে সরকারের কৃষিক্ষেত্রে কাজ করানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কী-না। তবে সরকার চাইলে এটা করতে পারে। আমাদের এসিআই এগ্রি বিজনেস কিন্তু এমনটা করেছে। নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। এই চুক্তির ফলে তাদের একটি স্যাটেলাইটের সেবা নিয়ে থাকি আমরা। এই স্যাটেলাইটটি প্রতি ১০ দিনে একবার বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। এখান থেকে কিন্তু আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। বিগত প্রায় ২৬ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য আছে আমাদের কাছে। আমরা এই তথ্যগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে বিনিময় করব। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইটিভি অনলাইনঃ আপনি শিক্ষিত যুবকদের কৃষি কাজে জড়িত হওয়ার কথা বলছেন। তাদের জন্য এই খাত কতটুকু সম্ভাবনাময়? শিক্ষিত তরুণদের বেশিরভাগেরই লক্ষ্য থাকে বিসিএস বা ব্যাংকে চাকরি। সেখানে কৃষি খাত তাদের মধ্যে কতটা আগ্রহ তৈরি করতে পারবে? এফ এইচ আনসারীঃ প্রতি বছর আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। সবাই তো আর সরকারি চাকরি পাচ্ছে না। তো বাকিরা তো প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করছে। আর তারা ভালোও করছে। এই ছেলেমেয়েদেরকে কৃষিতে কাজে লাগানো যেতে পারে। স্বকর্মসংস্থানের যোগানও দেবে এই কাজ। ইতোমধ্যে কৃষিতে অন্তত এক লাখ ডিলার (পরিবেশক) আছে যারা তরুণ ও যুবক। তারা পড়ালেখার পর এই খাতে এসেছে। আমাদের এসিআই’তেও অনেক কর্মী আছেন যারা কৃষি খাতে কাজ করছেন। তাই তাদের ক্যারিয়ারের জন্যও খুব ভালো আর সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে কৃষি। ইটিভি অনলাইনঃ একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আমরা বলে থাকি যে, কৃষিতে আমাদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। তারপরেও আমাদের কৃষিজাত পণ্যের দামের এত উর্ধ্বগতি কেন? বিশেষ করে চাল-সবজির দামে বেশ উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন? এফ এইচ আনসারীঃ দেখুন, আমরা কৃষিতে উন্নতি সাধন করেছি এটা ঠিক। আগের যেকোনো সময়ের থেকে আমাদের এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বেশি। তারপরও কিছু পণ্য এবং খাদ্যশস্য আমরা এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করি। চালও কিন্তু আমরা আমদানি করে থাকি। অনেক সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়েও দ্রব্যমূল্য বাড়ানো হয়। চাল মজুদও করা হয়। এ বিষয়গুলোর সমাধান হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইটিভি অনলাইনঃ প্রায়ই একটা অভিযোগ শোনা যায় যে, কৃষিখাতে গবেষণার পরিধি খুবই কম। এটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? আর প্রাইভেট খাত এ বিষয়ে কী অবদান রাখতে পারে? এফ এইচ আনসারীঃ এটা ঠিক যে, আমাদের দেশে গবেষণার পরিধি আসলেই অনেক কম। শুধু কৃষিখাতেই না বরং সবখাতেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় খুবই সীমিত পরিসরে কিছু গবেষণা হয়। তবে সেসব গবেষণায়ও অর্থ বরাদ্দ থাকে খুবই নগন্য। যিনি বা যারা গবেষণা করছেন তাদের বেতনাদি আর অফিস এসবের পিছনেই অর্থ চলে যায়। এভাবে তো গবেষণা হতে পারে না। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড (অর্থ) থাকতে হবে। প্রয়োজনে ভালো করে যাচাই বাছাই করে সত্যিকার অর্থে যারা গবেষণা করছে বা করতে চায় সরকার শুধু তাদের ফান্ডিং করতে পারে। আর প্রাইভেট খাতের কথা যদি বলেন, তাহলে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেমন আমাদের এসিআইয়ের বেশ বড় একটি আরএন্ডডি (রিসার্ড এন্ড ডেভেলপমেন্ট) বিভাগ আছে। এখানে কৃষিখাতের নতুন সব বিষয় নিয়ে আমরা গবেষণা করি। তবে মনে রাখতে হবে যে, প্রাইভেট খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাই মূল উদ্যোগটা সরকারের পক্ষ থেকেই নিতে হবে। তবে পরিস্থিতি আগের তুলনায় যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। সামনে আরও হবে। আর এভাবেই এক সময় দেশের কৃষিখাত আরও এগিয়ে যাবে এমন স্বপ্ন আমরা এসিআই দেখি। //এস এইচ এস// এআর

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার

‘আমরা কিন্তু বেশ মৃত্যু নিয়ে উৎসবমুখর জাতিতে পরিণত হচ্ছি। অথচ মূল্যবান জীবিত মানুষটা ভুলে হোক, অভিমানে, অবহেলায় হোক, হারিয়ে গেলে খুঁজি না একবারও! সময় কোথায়! অথচ হাঁটা চলা মানুষটার জন্য একটু থমকে দাঁড়ালে, একটু ভাবলেই কিন্তু নড়ে চড়ে দম ফেলে সে। জীবিত অবস্থায় একটা ছবি দিয়ে যদি এমন নিউজ হতো, এই ধরেন- ‘তুখোড় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন, এখন দেখছি না কেন।’ আবার ধরেন, ‘একটা ফোন করে কেউ যদি বলে উঠতো, ‘তুমি কই, তুমি ছাড়া এই চরিত্র কেউ করতে পারবে না, আসো তো!’ আমার বিশ্বাস বেঁচে উঠতো এমন অনেক তাজিন/মিতারা। কেউ সেটা করবে না কোনোদিনই। কারণ তখন সমাজ এবং পরিবারের গল্প থাকতে হবে, সংলাপ থাকতে হবে, প্রকৃত শিল্পী লাগবে! শিল্পের খোঁজ হবে পুরাদস্তুর। দরকার কি এসবের? পুরনো পাতাটা কেবল সাহস করে ছিঁড়ে ফেললেই ব্যস, ল্যাটা চুকে যায়। এখন নাটকে মিতা, তাজিনদের লাগে না, কিছু অসাধারণ কাজিন আর চড়া মূল্যের পেছনে ভুলে যাওয়া, কিছু অর্বাচীন হলেই হলো! শিল্পী ছাড়াই শিল্পের বড্ড বেশি জয়জয়কার। কথা কোনো একজন তাজিনের নয়। অসংখ্য তাজিনরা বিলুপ্ত হচ্ছে নিদারুন উদাসিনতায়। আমরা বেশ বিবেক কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে টক শো’র বিবেকের ভূমিকায় দিব্যি অভিনয় করে যাচ্ছি! শুনছেন কি আপনারা! সময়ের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে! এ দায় যে আপনার, আমার সবার।’ ওপরের এই কথাগুলো অভিনেত্রী শাহনাজ খুশির। অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের অকাল মৃত্যুতে তিনি ক্ষোভ মিশ্রিত এই মন্তব্য করেছেন। কাছের মানুষ বলেই তিনি এমনটি বলতে পেরেছেন। সত্যিই তাই আমরা জানিনা বা জানার চেষ্টাও করিনা, দেশের অসংখ্য গুণি শিল্পী নিজের কষ্ট নিয়ে অকালে এভাবেই চলে যায় অনেক অভিমানে। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের। সেই সময় তিনি মনের কষ্ট ও অভিমানগুলো প্রকাশ করেন শৌল্পিক বক্তব্যে। যে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিনোদন প্রতিবেদক- সোহাগ আশরাফ। প্রয়াত এই গুনি শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অপ্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো- ইটিভি অনলাইন : আমরা আপনার অভিনয় দেখেছি। অসাধারণ অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন আপনি। আজও সেই অবস্থানটি দর্শকদের মাঝে রয়েছে। কিন্তু সেই তাজিনকে কেনো আমরা নিয়মিত টেলিভিশনের পর্দায় দেখছি না? তাজিন আহমেদ : আমি আসলে খুব বেশি কাজ এক সঙ্গে করতে অভ্যস্থ নই। করতেও চাই না। কারণ যা কিছু আজ করছি সব কিছুই হচ্ছে আমার জীবনের জন্য। আর জীবন মানেই হচ্ছে আমার পরিবার। সেই পরিবার আর জীবনকে উপেক্ষা করে কোন কিছুই করতে চাই না। পরিবারটা আমার একটা বড় জগৎ, সেটাকে অবহেলা করতে চাই না। ইটিভি অনলাইন : অভিনয়ে কি আবারও নিয়মিত হবেন? তাজিন আহমেদ : অভিনয় আমার ভালো লাগার একটা জায়গা। লোভের একটা জায়গা।  এখনও যে কাজ করছি না তা নয়। করছি, করব। যতদিন আমার শরীর, আমার মানসিক অবস্থা সাপোর্ট করবে ততদিন পর্যন্ত আমি অভিনয় করে যাবো। একটু কমিয়েছি, অত ব্যস্ত আর কখনও-ই হবো না। তবে খুব মনযোগ দিয়ে একটা কাজ আবার শুরু করছি। মানে আমার লেখালেখিটা করতে যাচ্ছি। নির্দেশনায় যাচ্ছি। অনেক আগে নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু ওই সময় মনে হলো যে না আমার আরও অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের কে মানুষ একটা সেক্টরে খুব ভালোভাবে চেনে। তাই অন্য সেক্টরে কাজ করতে গেলে একটু যত্ন নিয়ে তবেই করতে হবে। মিডিয়ার অনেক বন্ধু আমাকে বলছে যে শুরু করো। করতে করতে এক সময় পারবে। ইটিভি অনলাইন : গত বছর আপনার একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে পত্র-পত্রিকায় বেশ কিছু নিউজ হয়েছিল। আত্মহত্যা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আপনি। বিষয়টি একটু খুলে বলবেন? কোন প্রকার হতাশা থেকেই কি আপনি এটা দিয়েছিলেন? তাজিন আহমেদ : বিষয়টি খুলেই বলি। আসলে ওই বিষয়টি কেউই বোঝেনি। বোঝার চেষ্টাও করেনি। একজন নারী সাংবাদিক লিখেছিলেন নিউজটা। তিনি হয়তো এমন সব নিউজের অপেক্ষাতেই থাকেন। শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- এটা কোন সাংবাদিকতার মধ্যেই পড়ে না। উনি যদি ভালো করে লেখাটা পড়তেন, কমেন্টগুলো দেখতেন তবে বুঝতে পারতেন। আমি ওই জায়গাটা অনুধাবন করেছি, তার মানেই এই না যে- আমি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করছি। আশপাশে কিছু ঘটনা আছে না যে- যাদের নাম মুখে বলতে পারছি না, কিন্তু আমার তো বয়সটা বেড়েছে, চিন্তাভাবনাও কিছুটার পরিবর্তন হয়েছে। আশেপাশের কিছু পরিচিত মানুষদের দেখছিলাম, একজন সম্প্রতি এমনভাবে মারাও গিয়েছে, সে আত্মহত্যা করেছে, সবকিছু মিলিয়ে আমি আসলে অনুধাবন করছিলাম একটা মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে এমন কাজ করতে পারে। আমরা কেউই আত্মহত্যাকে সাপোর্ট করি না। কিন্তু কোন পর্যায়ে গেলে একটা মানুষ আত্মাহত্যা করে এটা আগে বুঝতাম না। এখন বুঝি ওই মানুষটার মানসিক অবস্থা কতটুকু শক্ত থাকে বা থাকে না যার কারণে সে এমন কাজ করতে পারে। যেটা আগে বুঝতাম না, এখন বুঝি। আমার জীবনে কিন্তু অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। উত্থান, পতন সবই হচ্ছে। তারপরেও প্রতি নিয়ত আমি ফাইট করে যাচ্ছি। আমিও কিন্তু ভেঙে পড়ি। আমার একজন ঘনিষ্ট বন্ধু আছে যে আমাকে অনেক সাহস যোগায়। সে বলে- এখানেই শেষ নয় জীবন। আমার মা-ও বলে-এখানেই শেষ না। আমার মা যদি এই বয়সেও যুদ্ধ করেত পারেন এবং প্রতিটা মুহুর্ত ফেস করার মানষিকতা থাকে, তার বয়স ৬৯+, সেখানে আমি কেনো পারবো না? ভেঙে পড়ি, আবারও নিজেই নিজেকে দাঁড় করাই। জীবনতো একবারের জন্যই। শেষ হয়ে গেলেই তো শেষ। দেখি না কি হয়! সব কিছু ফেস করে জীবনের শেষটা দেখি কি হয়? ইটিভি অনলাইন : মাঝে আমরা রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখিছি। আপনি কি রাজনীতিতে অংশ নিতে চাচ্ছেন? তাজিন আহমেদ : না, না, না। কিছু দিনের জন্য যোগ দিয়েছিলাম। ববি হাজ্জাজ আমার পরিচিত। ওনার সঙ্গে কিছু কাজ করেছিলাম। তখন উনি আমাকে বলেছিলেন আমাদের হয়ে কিছু কাজ করেন না! আমি তখন জানতে চাই কি ধরণের কাজ? তখন সে বলে-পলিটিক্স। আমি বললাম- পলিটিক্স তো বুঝি না। তখন সে বললো যে, আপনি আপনার সেক্টরেই কাজ করবেন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন। তখন বললাম যে- ঠিক আছে। তাকে বললাম- আপনাদের নীতি কেমন? কি নীতি নিয়ে কাজ করেন? আমি একটা বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাসের বিপরীতে কিছু হলে আমি করবো না। তখন সে বললো- না সেরকম কিছু না। আমরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। অন্যরা যেভাষায় বলছে আমরা হয়তো ভিন্নভাবে বলছি। যেমন ধরুণ- আমরা জয় বাংলা বলবো না, আমরা বলছি- ‘জয় বাংলাদেশ’। তখন কিছু কিছু বিষয় মনে হলো যে না ঠিক আছে। তখন ভাবলাম জীবনে আর কয়দিন বাঁচব? আজ আমি যে জন্য তজিন আহমেদ হতে পেরেছি, সেই জায়গাটার জন্য যদি আমিও কিছু করতে পারি, কোন একটা জায়গা, কোন একটা প্লাটফর্ম বা আন্দোলন করা যায়, যেটা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সবাইকে নিয়ে যদি কিছু করা যায় মনে হয় খুব ভলো হয়। সেই চিন্তায় তাদের সঙ্গে কাজের আগ্রহ দেখাই। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো- না বিষয়টার মধ্যে পলিটিক্যাল অন্যে বিষয়গুলো বেশি চলে আসছে। আরাম পাচ্ছি না। আমি আবার এরকম যে খুব মুডে চলি। ব্যাটে বলে মিললো না ধুপ করে ছেড়ি দেই। আর এটা সবাই জানে। (হেসে বললেন) আমাকে নিয়ে কেউ কাজ করতে গেলে সবাই প্রথমে জিজ্ঞাস করে- কি মাথা ঠাণ্ডা রেখে করবা তো? তারা বলে যে- তুমি যখন শুরু করো পাগলের মত খেটে করো, তবে কেনো হুট করে তোমার পাগলামী হয়? তখন তাদের বলি ওই যে- ব্যাটে বলে মেলে না। এরপর থেকে আর রাজনীতির পথে নেই। তবে ওনারা অনেক ভালো মানুষ। যোগাযোগ আছে। অনেকের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ভবিষতে যে করব না তা বলছি না। সেরকম ভালো জায়গা পেলে করতেও পারি। এসএ/ এসএইচ/

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে: বেনজীর

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সারাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনার পর মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ার’ নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে ইটিভি অনলাইনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের র‌্যাপিড অ্যাকশ ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব)-এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, মাদকের অবস্থা অন্তত সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আউয়াল চৌধুরী এবং শাওন সোলায়মান। ইটিভি অনলাইন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মাদক বিরোধী অভিযানে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগের যেকোন সময় থেকে অনেক বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে। এই তৎপরতার ব্যাপকতা কেমন? বেনজীর আহমেদ: মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তা নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। আমি ইতোমধ্যে বিষয়টিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমার কাছে এটি একটা যুদ্ধের মতোই। যে যুদ্ধে আমরা জিততে চাই।   ইটিভি অনলাইন: এই যুদ্ধকে আপনারা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান? কোন পর্যন্ত চলবে মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান? বেনজির আহমেদ: কোন পর্যায়ে পর্যন্ত গেলে খুশি হন আপনারা?  অর্ধেক পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন-নাকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গেলে খুশি হবেন আপনারা? তবে এমনটাতে আমি খুশি হব না। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে আমি খুশি হবো। একটা সমাজ থেকে একদম তো মাদক উঠিয়ে নেওয়া যাবে না। উইথ আউট মাদক (মাদক ছাড়া) হয় না। কিছু না কিছু থাকবে। তবে তা একটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকতে হবে। দুইশ বছর আগের মানুষও মাদক দ্রব্য সেবন করেছে। অনেকে তো ধর্মীয় আচারের মধ্যেই মাদক সেবন করেন। পৃথিবীর কোন দেশই একেবারে মাদকবিহীন নয়। তবে তা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে থাকতে হবে। সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকবে। ইটিভি অনলাইন: একটা অভিযোগ সবসময়ই আসে যে, যতই অভিযান হোক মাদক ‘সম্রাটেরা’ ধরা ছুঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এবারের অভিযানে কী মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? বেনজির আহমেদ: আমি তো কোন ‘মাদক সম্রাট’ দেখি না। সম্রাটের মুকুট কোথায়? তার চেয়ারটা কোন জায়গায়? ক্রিমিনাল ইজ এ ক্রিমিনাল (অপরাধী অপরাধীই)। এসব আসলে আমরাই বানাই। আমরাই বানাই ‘মক্ষীরানী’; আমরাই বানাই ‘মাদক সম্রাট’। আমাদের চোখে তারা অপরাধী। সম্রাট কীসের আবার? একটা অপরাধীকে বড় বড় বিশেষণে ভূষিত করা ঠিক না। আমাদের কথা এই যে, আমরা যাকে পাব তাকেই দমন করব। আমদের নীতি হচ্ছে “যেই হোক, যাই হোক আর যেখানেই হোক”। তার বিরুদ্ধেই এই যুদ্ধ। ইটিভি অনলাইন: বিরোধী দল একটি অভিযোগ করেছে মাদক বিরোধী অভিযানের নামে তাদেরকে দমন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন? বেনজির আহমেদ: তারা রাজনীতি করে। তারা অনেক কিছুই বলবে। তারা কি বলেছে না বলেছে আমি জানি না। আমি রাজনীতি করি না। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমি শুধু আমরা দায়িত্ব পালন করবো।   ইটিভি অনলাইন: দেশের ভিতর না হয় মাদক যুদ্ধ চলল। কিন্তু দেশের বাইরে থেকে যে মাদক আসছে তা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? বেনজির আহমেদ: বর্ডার (সীমান্ত) দিয়ে মাদক আসা তো বন্ধ করতেই হবে। সমস্ত শক্তি দিয়ে বন্ধ করতে হবে। আমাদের যত ক্ষমতা আছে সব প্রয়োগ করতে হবে। অনেক দেশই তার প্বার্শবর্তী দেশের মাদক ব্যবসা দ্বারা আক্রান্ত। তারা সবাই কী বন্ধ করতে পেরেছে? তবুও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা সে বিষয় নিয়েও ভাবছি। ইটিভি অনলাইন: মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে এখন জানা যাচ্ছে। এমন পুলিশ সদস্যদের বিষয়েও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে? বেনজির আহমেদ: মাদক নির্মূলে পলিসি (নীতি) কী হবে তা তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই বলে দিয়েছেন। সেটাই পলিসি। আমরা শুধু সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করব মাত্র। আর মাদকের সাথে জড়িত সবাই ঐ পলিসির মধ্যেই আসবে। সে যেই হোক। এসএইচএস/টিকে

কোটা সংস্কার দাবি যৌক্তিক, দ্রুত সুরাহা হওয়া উচিত: ঢাবি ভিসি

যেকোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে, এটাই স্বাভাবিক। আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। তবে আন্দোলনের জন্য যেন ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না করে সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি মনে করেন কোটা সংস্কার দাবি যৌক্তিক। এই দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমর্থন আছে। দ্রুত এর সমাধান হওয়া উচিত। তার কথায় উঠে এসেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিকতা, শিক্ষার্থীদের দাবির ন্যায্যতা, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানসহ নানা দিক। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি