ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:০৩:৫২

মহানবীর ভালোবাসাময় জীবন আমাদের আদর্শ

মহানবীর ভালোবাসাময় জীবন আমাদের আদর্শ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) পৃথিবীতে এসেছেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে। মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত প্রদান করেছেন। দুনিয়া সৃষ্টি হবার বহু আগেই আল্লাহ পাক তার নূর থেকে হযরত মোহাম্মদ (স) কে সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে আল্লাহ কাউকে রাসূল হিসেবে আবার কাউকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু মহানবী (স) কে একই সঙ্গে নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর জীবন ছিল ভালোবাসাময়। যুগে যুগে মানুষের জন্য মহানবী (স) এর জীবনী ভালোবাসার মহান দৃষ্টান্তস্বরূপ। আল্লাহ তা’আলা তাকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে উপাধি দিয়েছেন। তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের জন্য ভালোবাসার অনেক দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। নবী করিম (স) এরশাদ করেছেন, ‘জেনে রেখ যার মধ্যে ভালোবাসা নেই, তার ঈমান নেই’। তিনি সবসময় অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। রসুলের চলার পথে বৃদ্ধার কাঁটা বিছানোর গল্পতো আমাদের জানা। আমাদের নবী যে পথ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন, সেপথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো এক বিধর্মী বুড়ি। কারণ মহানবী (স) যে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন তা বুড়ি অপছন্দ করতো। প্রতিদিন এভাবে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো বুড়ি, যখন মহানবী (স) এর পায়ে কাঁটা ফুটত তখন বুড়ি খুশি হতো। কিন্তু একদিন নবী (স) সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলেন সে পথে কাঁটা নেই। তিনি বুড়ির জন্য চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, বুড়ি অসুস্থ। তখন তিনি তাকে দেখতে গেলেন এবং তার সেবা যত্ন করলেন। বুড়ি মহানবীর মহনুভবতা দেখে অবাক হলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলেন। আরেকটি ঘটনা মহানবী (স) এর সাহাবীদের থেকে জানা যায়। একবার মহানবী (স) এর বাড়িতে এক অতিথি আসলো। তিনি জানতেন যে তাঁর অতিথি ছিলেন একজন ইহুদী। একজন ইহুদী হওয়া স্বত্ত্বে মহানবী (স) ঐ ব্যক্তিকে ভালোভাবে আপ্যায়ন করলেন। তার জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করলেন। রাতে শোবার জন্য ইহুদিকে ভালো বিছানাটি ছেড়ে দিলেন এবং আরামের বিছানার ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু ইহুদী মনে মনে মহানবী(স) কে কষ্ট দেওয়ার জন্য কুবুদ্ধি আটলো। সে রাতে মহানবীর ঘরের বিছানাটি খারাপ, নাপাক করে দিয়ে পালিয়ে গেলো। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর তার মনে পড়লো সে নবীজির গৃহে তার তলোয়ারটি রেখে এসেছেন। সে ভাবলো এখন যদি আমি তলোয়ার আনতে মুহাম্মদের গৃহে যাই তাহলে মুহাম্মদ তাকে মেরে ফেলবে। উল্লেখ্য, তখনকার যুগে একজন আরবের কাছে তার তলোয়ার ছিল সব থেকে মূল্যবান সম্পদ। তাই সে তার তলোয়ার আনার জন্য ভয় নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মহানবী (স) এর গৃহে প্রবেশ করলো। কিন্তু ঐ ইহুদী ব্যক্তিকে অবাক করে দিয়ে মহানবী (স) বলতে লাগলেন, ‘ওহ আমার অতিথি! রাতে আপনার কতই না কষ্ট হয়েছে। কষ্টে আপনি বিছানা খারাপ করে দিয়েছেন এবং লজ্জা পেয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করছেন। আমাকে ক্ষমা করবেন।’ মহানবী (স) এর এমন মহানুভবতা দেখে ইহুদী অতিথি লজ্জিত হলেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন। মহানবী (স) এর জীবনে আমরা এরকম অনেক দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। তাঁর জীবন ধারণও ছিল খুবই সাধারণ। মহানবী (স) যখন সাহাবীদের মাঝে বসতেন তখন নতুন কেউ এলে তাঁকে সহজেই চিনতে পারতেন না। তাঁর পোশাক থাকতো অতি সাধারণ। তিনি সকলের মাঝে এমনভাবে বসতেন যেন তাঁকে অন্যদের চাইতে পৃথক মনে না হয়। বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি মানবজাতির জন্য যে অমায়িক ভালোবাসার কথা বলেছেন, পৃথিবীর বুকে তা একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি বিদায় হজ্জের ভাষণে নারীদের, অবহেলিত ও এতিমদের প্রতি মানবজাতিকে সদয় হতে বলে গিয়েছেন। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসতে বলেছেন। তিনি এতিমদের প্রতি যেমন সদয় ছিলেন আমদেরও উচিত এতিমদের প্রতি সদয় হওয়া এবং মহানবী (স) এর ভালোবাসাময় জীবনাদর্শ মেনে চলা। অনাহারীকে খাবার খাওয়ানো, নারীদের প্রতি ভালো আচরণ করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের সম্মান করা এবং বিধর্মীদের সাথে ভালো আচরণ করা মহানবীর মহান আদর্শ। এ সমস্ত ভালো আচরণ নিজেদের মধ্যে অনুশীলন করার  মাধ্যমেই মহানবী (স) এর জীবনাদর্শ এবং আলোকিত জীবন গড়া আমাদের জন্য সহজ হবে। আজকের পৃথিবীতে আমরা যদি মহানবী (স) এর উত্তম আদর্শ গ্রহণ করতে পারি এবং নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না। যার মাধ্যমে এ পৃথিবীতে ইসলাম এলো এই পৃথিবীতে তার ভালোবাসা এবং উত্তম আদর্শ সম্পর্কে জানতে না পারি তাহলে ইসলামকে চেনা যাবে না। আল্লাহ বলেছেন, ইসলাম হচ্ছে আমার মনোনীত ধর্ম। তাই আসুন মহানবী (স) এর জীবনাদর্শ এবং তাঁর ভালোবাসাময় জীবন সম্পর্কে জানি এবং সে অনুযায়ী আমাদের জীবনকে সাজিয়ে তুলি।   এম/এএ
যে কারণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেননি পোপ

মিয়ানমার সফরকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন নি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। কেনো তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেলেন তা নিয়ে বহু জল্পনা কল্পনা ছিলো। অবশেষে পোপ নিজেই বিষয়টি পরিস্কার করলেন। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানে সংবাদকর্মীদের নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন তিনি। `রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করে মিয়ানমারে তিনি আলোচনার বন্ধ করতে চাননি বলেই শব্দটি ব্যবহার করেননি। পোপ ফ্রান্সিস জানান, আত্মতুষ্টি নয়, সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন চান বলেই রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, আমি জানি আমি যদি বক্তৃতায় ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম, তারা (মিয়ানমার সরকার) হয়তো আমাদের মুখের ওপরই দরজা বন্ধ করে দিতো। কিন্তু আমি পরিস্থিতি, অধিকারের বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি। নাগরিকত্বের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিৎ নয়। এর ফলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার সুযোগ পেয়েছি।   সূত্র : সিএনএন /এমআর

‘মুসলমান কখনও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়াতে পারে না’

আনজুমানে রহমানি মাইনীয়া মাইজভান্ডারীয়া দরবার শরীফের ইমাম হযরত শাহ্সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেছেন, একজন সত্যিকারের মুসলমান কখনও অন্যের ক্ষতি করতে পারে না। এমনকি কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে জাড়াতে পারে না। আজ রোববার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনজুমানে রহমানি মাইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নাবী ও আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, এ দেশের মানুষ অসাম্পাদায়িক ও উদার। কোনো সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর আরবজাতিকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করেছিলেন মানবতার ত্রাণকর্তা মহানবী (দ.)। অস্ত্রের শক্তি ও জবরদস্তির মাধ্যমে নয়; বরং দয়া, মহানুভবতা ও ভালোবাসা দেখিয়ে মানুষের মন জয় করে আরবের বুকে ইসলামের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন বিশ্বনবী (দ.)। সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, বিশ্বজুড়ে আজ সভ্যতার অগ্রগতির যুগেও মানবতার অবমাননা ও নিগ্রহ-বঞ্চনা চলছে। হানাহানি, যুদ্ধ-সংঘাতে শান্তিকামী মানুষ আজ সত্যিই বিপর্যস্ত ও অসহায়। এই নিপীড়ন ও বঞ্চনা থেকে পরিত্রাণের একটাই পথ মহানবী (দ.) এর জীবনাদর্শের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ।   /এমআর

ঢাকা ছাড়লেন পোপ

তিন দিনের সফর শেষে রোমের উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। শনিবার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে পোপকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেখানে পোপ ফান্সিসকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এর আগে তিনি তিনদিনের সফরে মিয়ানমার গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সফরকালে পোপ রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসির প্রতি আহ্বান জানান। সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধও করেন তিনি। সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধর্মীয় উৎসব ‘হোলি মাস’-এ অংশ নেন তিনি। এ উৎসবে ৮০ হাজারেরও বেশি ক্যাথলিক খ্রিস্টান অংশ নেন। এরপর বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে আর্চ বিশপস আন্তধর্মীয় ও আন্তমাণ্ডলিক সমাবেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১৮ জনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় রোহিঙ্গারা পোপের কাছে তাদের নির্যাতন ও দুর্দশার বর্ণনা দেন। এর আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল তিন পরিবারের ওই ১৮ রোহিঙ্গাকে। এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস। ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।   আর/টিকে

শান্তির বার্তাবাহক পোপ ফ্রান্সিস

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তাবহক হিসেবে কাজ করছেন রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। পুরো নাম জর্জ মারিও বেরগোগলিও। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ক্যাথলিক গির্জার ২৬৬তম পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আর্জেন্টিনা তথা সমগ্র আমেরিকা থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ। অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী শ্বেতশুভ্র এ মানুষটি প্রভু যিশুর প্রতিনিধি হিসেবে খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী তথা সবার মাঝে আবির্ভূত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী নিয়ে ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যাদি নিম্নে তুলে ধরা হলো। ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন জর্জ মারিও বেরগোগলিও (পোপ ফ্রান্সিস)। তার পিতার নাম হোসে মারিও বেরগোগলিও (১৯০৮-১৯৫৯)। মাতার নাম রেজিনা মারিয়া সিভোরি (১৯১১-১৯৮১)। তার পূর্ব বংশধর ১৯২৯ সালে ইতালির পিয়েমন্ত থেকে আর্জেন্টিনায় চলে যায়। তার মায়ের পূর্বপুরুষ উত্তর ইতালির অধিবাসী ছিলেন। উভয়ের পরিবারই মুসোলিনির ফ্যাসিবাদ নীতি থেকে রক্ষার জন্য আর্জেন্টিনায় অভিবাসী হয়েছিলেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ফ্রান্সিস ছিলেন সবার বড়। তিনি উইলফ্রেড ব্যারন দ্য লস সানটোস অ্যাঞ্জেলেস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। তিনি ইসকুয়েলা ট্যাকনিকা নাসিওনাল দ্য এডুকেসিয়ন হিপোলিটো হিগুয়েন থেকে কেমিক্যাল টেকনিশিয়ান বিষয়ে হাই স্কুল ডিপ্লোমা লাভ করেন। এর পর তিনি কয়েক বছর একটি ল্যাবরেটরির খাদ্য বিভাগে কেমিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন। তিনি সঙ্গীত, ফুটবল এবং টানগো খেলা পছন্দ করেন। ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের আজকের দরিদ্রপ্রেম ও ধর্মাদর্শ পরিবার থেকেই লাভ করেছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে (১৯৫৫ সাল) তিনি যাজক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সেমিনারিতে প্রবেশ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি যিশু সংঘের (জেজুইট) নব্যালয়ে প্রবেশ করেন। ১৯৬০ সালে যিশু সংঘে দরিদ্রতা, কৌমার্য ও বাধ্যতার সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি আর্জেন্টিনার সান মিগেলে অবস্থিত কলেজিও ম্যাক্সিমো দ্য সান হোসে কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে দর্শনশাস্ত্রে লাইসেনসিয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪-৬৬ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে সাহিত্য ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ঐশীতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৭ সালে সান হোসে কলেজ থেকে ঐশীতত্ত্বে ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আর্চবিশপ জোস ক্যাস্টিলিয়ানো দ্বারা যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। ১৯৭০ সালে তিনি যিশু সংঘে চিরব্রত (পোপের প্রতি বাধ্যতা) গ্রহণ করেন। এর কয়েক মাস পরই ১৯৭৩ সালের ৩১ জুলাই তিনি যিশু সংঘের আর্জেন্টিনা প্রদেশের প্রদেশপাল (প্রভিন্সিয়াল সুপিরিয়র) নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে সান মিগেলে অবস্থিত দর্শনশাস্ত্র ও ঐশীতত্ত্বের সেমিনারির পরিচালক নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পরিচালক ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জার্মানির ফ্রাংকফুর্টে যান এবং ঐশীতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। যাজক হওয়ার পর থেকেই তিনি অক্লান্তভাবে দরিদ্র মানুষের সেবা করেন। তা ছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, গোত্র ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে একতা ও শান্তি স্থাপনের জন্য সর্বদা কথা বলেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি আউকা ধর্মপ্রদেশের টিটুলার বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত হন। পরে বুয়েনস এইরেস ধর্মপ্রদেশের অক্সিলারি বিশপ হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৯৭ সালে তিনি বুয়েনস এইরেস ধর্মপ্রদেশের কো-অডজিটর আর্চবিশপ হিসেবে মনোনীত হন এবং আর্চবিশপ কার্ডিনাল আন্তনিও কোয়ারোসিনোর মৃত্যুর পর ১৯৯৮ সালে ওই ধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর্চবিশপ হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজান। তিনি বস্তিবাসী, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগণের মধ্যে খ্রিস্টের উপস্থিতি শক্তিশালী করে তোলেন। দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের মধ্যে পালকীয় সেবাকাজের জন্য তিনি যাজকদের সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে নিয়োগ দেন। ফলে তার নাম হয়ে ওঠে ‘বস্তির বিশপ’। এমনকি তিনি পুণ্য বৃহস্পতিবারের পা ধোয়ার অনুষ্ঠানটি জেলখানায়, হাসপাতালে, বয়স্ক হোমে, বস্তিতে, বাসায় (রোগী) ও কারাবন্দিদের জন্য পালন করার প্রচলন শুরু করেন। আর্চবিশপ হওয়ার তিন বছর পরই ২০০১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পোপ দ্বিতীয় জনপল তাকে আর্জেন্টিনার কার্ডিনাল নিযুক্ত করেন। কার্ডিনাল হিসেবেও তিনি খুবই সাধারণ জীবন-যাপন করতেন। তিনি জাগতিক সুখ-সুবিধা বা আরাম-আয়েশের সুবিধা গ্রহণ করতেন না। তিনি একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন। তিনি গণপরিবহনে যাতায়াত করতেন এবং নিজের রান্না নিজেই করতেন। তার খোলামন, উদারতা, মানবতা, নম্রতা, সরলতা, ক্যাথলিক ধর্মের মৌলিক শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সুনাম ও খ্যাতি ছিল। কার্ডিনাল হিসেবে তিনি রোমের পাঁচটি দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর আর্জেন্টিনার বিশপ সম্মিলনীর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বিশপ সম্মিলনীর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান ও মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষভাবে তিনি পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় অব আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট মানসিক ও বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। এর পর নতুন পোপ পেতে শুরু হয় নির্বাচন। ১২ ও ১৩ মার্চ দুই দিন লেগেছে পোপ নির্বাচনে। ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স চার্চে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন বিকেলে নির্বাচনে বসেন ৪৮ দেশের ১১৫ ধর্মযাজক। কিন্তু পরপর চারবার ভোট দিয়েও তারা পোপ নির্বাচনে ব্যর্থ হন। ফলে ব্যালট পুড়িয়ে সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনিতে কালো ধোঁয়া তৈরি করা হয় যেন অপেক্ষমান ধার্মিকরা বুঝতে পারে, পোপ নির্বাচন তখনও সম্ভব হয়নি। অবশেষে ১৩ মার্চ বিকেলে চিমনির চূড়ায় দেখা গেল সাদা ধোঁয়া। সেই সাদা ধোঁয়া দেখে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে অপেক্ষমাণ জনতা উল্লসিত হয়ে ওঠেন। সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ঘণ্টাটিও বেজে ওঠে। এর এক ঘণ্টা পর নতুন পোপ হিসেবে জর্জ মারিও বেরগোগলিওর (ফ্রান্সিস) নাম ঘোষণা করা হয়। খুব সাধারণভাবে জীবন-যাপন করেন পোপ ফ্রান্সিস । পোপ নির্বাচনের পরে একবার ব্রাজিলের কার্ডিনাল রসিকতা করে বলেছিলেন, পোপ হয়ে গরিব মানুষদের ভুলে যেয়ো না। এ জন্যই মনে হয় তিনি দারিদ্র্য, বিনয়, সহজ-সরল জীবন ও ক্যাথলিক চার্চের সংস্কারের প্রতীক হয়ে থাকা সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসির আদর্শ স্মরণে ‘ফ্রান্সিস’ নামটি ধারণ করেছেন। তিনিই প্রথম, যিনি ফ্রান্সিস নাম গ্রহণ করেন অর্থাৎ তিনি পোপ প্রথম ফ্রান্সিস। পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রাথমিক যে আনুষ্ঠানিকতাগুলো ছিল, সেখানে তিনি সেই দরিদ্রতাকেই প্রাধান্য দেন। শুধু কথায় নয়, বরং তার শিক্ষা ও কথাকে তিনি নিজের জীবনেও প্রয়োগ করেছেন। তিনি অভিজাত জীবনযাপন ত্যাগ করে সাধারণ জীবনযাপনকে বেছে নেন। তিনি পোপ প্রাসাদের বাইরে থাকেন যেন প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে ও সভা করতে পারেন। পোপ ফ্রান্সিস এইচআইভি, এইডস, সিঙ্গেল মাদারস, অভিবাসী, শরণার্থী ও অনাথদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি নাম। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন পোপ ফ্রান্সিসকে একজন শান্তির মানুষ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি একবার পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সবাইকে বলেন, পোপ ফ্রান্সিস হলেন নির্বাকদের কণ্ঠস্বর। তিনি আরও বলেন, পোপ ফ্রান্সিস বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মিশতে পারেন। তিনি সেতুবন্ধকারী। তিনি পোপের দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসারও প্রশংসা করেছেন। টাইম ম্যাগাজিন ২০১৩ সালে তাকে বছরের সেরা ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দেয়। দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি তার দরদ, সহানুভূতি ও ভালোবাসার জন্য এবং তাদের পক্ষে কথা ও কাজ করার জন্য তাকে এই সম্মানজনক খ্যাতি দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ভ্যানেটি ফেয়ারের ২০১৩ সালের ১৭ জুলাইয়ের ২৮তম সংখ্যার প্রচ্ছদে পোপ ফ্রান্সিসের ছবি ছাপানো হয়েছে। প্রচ্ছদের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘সাহসী পোপ ফ্রান্সিস’। ভ্যানেটি ফেয়ার আরো লিখেছে, পোপ ফ্রান্সিসকে বিশ্বনেতৃত্বের জন্য আগাম ‘বর্ষসেরা’ ঘোষণা করা হলো। এ যুগের প্রবক্তা, বিপ্লবী ও সমাজ সংস্কারক পোপ ফ্রান্সিস। যিশু তার জীবনে তৎকালীন ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের নানা অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছিলেন। ফলে যিশুকে কঠিন চ্যালেঞ্জ, এমনকি পৈশাচিক মৃত্যুদণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। তবু যিশু আপস করেননি। তিনি মানুষের মানবিক ও মৌলিক অধিকার আদায়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের ন্যায়, সত্য ও সুন্দরের পথ দেখিয়েছেন। পোপ ফ্রান্সিস যিশুর দেখানো আদর্শ ও শিক্ষা বিনীতভাবে জগদ্বাসীর কাছে তুলে ধরা এবং জীবনযাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।   /ডিডি/ এআর

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ শনিবার। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস।জাতীয়ভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে এ দিবসটি পালিত হবে।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে রাষ্টপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।এছাড়াও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপি অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে।ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শুক্রবার বাদ আসর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের শান্তি কামনা করুন : পোপ

প্রার্থনা মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ ও সহযোগিতা কামনার আহ্বান জানিছেন পোপ ফ্রান্সিস। শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্ট ধর্মের বিশেষ সভা ও উপাসনায় যোগ দিয়ে পোপ ফ্রান্সিস এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে বিশ্বাসের কারণে হাজার হাজার মানুষ এখানে যোগ দিয়েছেন। সেই বিশ্বাস নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতায় নিজেকে উৎস্বর্গ করুন। সকলের উদ্দেশ্যে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, অনেকে অনেক দূর থেকে এসেছেন। দুইদিন টানা কষ্ট করেও এসেছেন। বিশ্বাস রেখেছেন। এটিই বড় কথা। এভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যান। পর্বতের উপর যিশুর বাণীর মধ্যদিয়ে। নব অভিষিক্ত যাযকদের জন্য অনেক প্রার্থনা করতে হবে। তারা পূর্ণ অভিষেক লাভ করে যাযক হবেন। খ্রিস্ট বিশ্বাস হিসেবে সবার দায়িত্ব সহায়তা দেওয়া। তিনি বলেন, আপনারা যারা আসছেন তাদের কাছে আমার আহ্বান, যাযকদের সহায়তা করতে হয় প্রার্থনার মাধ্যমে। যাযকদের জন্য প্রার্থনা করতে কখনও কেউ যেন ক্লান্ত না হও। প্রার্থনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে সহযোগিতা করো। সবশেষে সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। এসময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরাও প্রার্থনাসভায় যোগ দেন। পুরো আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল। উপাসনায় স্থানে তিল ধারনের ঠাঁই ছিলা না। এআয়োজনের স্বেচ্ছাসেবক প্রান্ত মার্টিন ক্রুশ বলেন, সকাল ৬টার পর উদ্যানের ছয়টি ফটক খুলে দেওয়া হয়। সবাইকে ঢুকতে দেওয়া সকাল ১০টা পর্যন্ত। সিলেট থেকে আসা আতিকের সঙ্গে কথা হয় ইটিভি অনলাইন প্রতিবেদকের সাথে তিনি জানান, আয়োজনে একটু বিশৃঙ্খলা থাকলেও পোপের বাংলাদেশে আগমনে আমরা সবাই গর্বিত, আনন্দিত। কে কোন ধর্মের সেটা দেখার বিষয় নয়, আমরা সবাই স্রষ্টার সৃষ্টি। উনি বাংলাদেশে শান্তির বাণী, মানবতার বার্তা নিয়ে এসেছেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পোপ। এরপর ক্যাথিড্রাল পরিদর্শন করবেন বিকেল ৪টায়। পরে ৪টা ১৫ মিনিটে রমনায় প্রবীণ যাযক ভবনে পোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশপদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি ধর্মীয় বক্তব্য দেবেন, দেবেন নির্দেশনা। ৫টায় রমনার আর্চ বিশপ হাউসের মাঠে সভা রয়েছে। তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকায় এসেছেন পোপ। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভ্যর্থনা জানান পোপ ফ্রান্সিসকে। এ সময় পোপকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে ৩১৯ একর আয়তনের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পোপ ফ্রান্সিসের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে। ক্যাথলিক পুরোহিত হিসেবে তার অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে। পুরো আমেরিকা অঞ্চল এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ তিনি।   টিআর

পোপ ফ্রান্সিস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিষ্টধর্মীয় উপাসনা এবং যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। সারাদেশ থেকে  প্রায় আশি হাজার রোমান ক্যাথলিক উপানায় অংশ নেন। পোপের আগমন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে। এ সমাবেশে বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করবেন পোপ। এছাড়া যিশুর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিবেন তিনি। বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমারেও একই ধরনের মুক্ত প্রার্থনা-সভায় পৌরহিত্য করেন পোপ। এ সময় তিনি সকল মানুষের মুক্তির জন্য  শান্তির পথে আসার আহ্বান জানান।   টিআর/এমআর

পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায়

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকেই পোপ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। সাভার থেকে যাবেন ঢাকার ধানমণ্ডিতে। সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বঙ্গভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তিনি। বঙ্গভবনে দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন তিনি। রাতে বারিধারার ভ্যাটিকান দূতাবাসে থাকবেন পোপ ফ্রান্সিস।

পোপ ফ্রান্সিস আসছেন আজ

বাংলাদেশ সফরে আসছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। ৩০ বছরে এই প্রথম কোনো পোপ বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন পোপ দ্বিতীয় জন পল। বিমানবন্দরে পোপকে অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সাভার থেকে যাবেন ঢাকার ধানমণ্ডিতে। সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বঙ্গভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তিনি। বঙ্গভবনে দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন তিনি। রাতে বারিধারার ভ্যাটিকান দূতাবাসে থাকবেন পোপ ফ্রান্সিস।

২ ডিসেম্বর সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী

আগামী ২ ডিসেম্বর (১২ রবিউল আউয়াল) শনিবার পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)`র জন্ম ও ওফাত দিবস। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সরকারি, আধা-সরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা, ‘কালিমা তায়্যিবা’ লিখিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইট পোস্টে প্রদর্শন করা। এছাড়াও পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ওইদিন রাতে সরকারি ভবনসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাসমূহে আলোক সজ্জ্বার ব্যবস্থা করা হবে।   দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সারাদেশের সিটি করপোরেশন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পৌরসভা, বেসরকারি সংস্থাসমূহে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হবে। দিবসটির যথাযোগ্য গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহ যথাযথভাবে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করবে। শিশু একাডেমি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।    একে/এমআর  

জুমআর দিন সকল দিনের সরদার

মহান আল্লাহতায়ালা মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন শুক্রবারে। এই দিনেই জান্নাতে একত্র করেছিলেন জাতির পিতা হযরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হাওয়া আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। এই দিনে ইবাদতের জন্য মসজিদে একত্র হয় মুসলিম উম্মাহ। এই দিনটির অশেষ ফজিলতের কারণে দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ’র সাপ্তাহিত ঈদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, জুমআর দিন সকল দিনের সরদার। মহান আল্লাহর নিকট সকল ‍দিনের চেয়ে মর্যাদাবান জুমআর দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমআর দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ) হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি জুমআর দিন জানাবত (ফরজ) গোসলের মত গোসল করে সালাতের জন্য আগমন করে, সে যেনো একটি উট কুরবানী করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে, সে যেন একটি গাভী কুরবানী করলো। যে ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে, সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করলো। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমণ করে সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করলো। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমণ করলো সে যেন একটি ডিম কুরবানী করলো। পরে ইমাম যখন খুতবা প্রদানের জন্য বের হয় তখন ফেরেশতাগণ জিকির শোনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন। পবিত্র এই দিনটির ফজর থেকে মাগরীবের মধ্যবর্তী সময়ে সূরা ইয়াছিন, সূরা হুদ, সূরা কাহাফ এবং সূরা দোখান তেলাওয়াত করলে বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায় বলে হাদিস শরিফের বর্ণিত আছে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন সূরা হুদ পাঠ করো। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে তার জন্য এক জুমআর থেকে অন্য জুমআ পর্যন্ত বিশেষ নূরের বাতি জ্বালানো হবে। তিবরানি শরিফে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমআর দিনে বা রাতে সূরা দোখান তেলাওয়াত করে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য জান্নাতে একটা বিশেষ মহল বানাবেন। জুমআর দিনের ফজিলত শেষ নবীর উম্মতের জন্য অত্যান্ত বড় নেয়ামত। চলুন, এই দিনে আমরা কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, তাসবিহ তাহলিলসহ ইবাদত বন্দেগিতে মনযোগ দিই।   লেখক : শিক্ষার্থী, এমবিবিএস ( ৩য় বর্ষ), রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ।   //এমআর

শেষ হলো জোড় ইজতেমা

আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো চারদিনের জোড় ইজতেমা। সোমবার বিকালে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত আসরের নামাজের পর বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ যোবায়ের জোড় ইজতেমার মোনাজাত পরিচালনা করেন। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার বাদ ফজর মাওলানা রবিউল হকের আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় জোড় ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমা সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে পাঁচদিনের জোড় ইজতেমার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, এবারও পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা হওয়ার কথা থাকলেও তা চার দিনব্যাপী হয়। সোমবার আসরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে জোড় ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। জোড় ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় পৌনে দুই লাখ মুসল্লি অংশ নেন।   আর/টিকে  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি