ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:৫২:০৩

১মে শবে বরাত

আগামী ১লা মে দিবাগত রাতে দেশজুড়ে শবে বরাত পালিত হতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে চাঁদ দেখা কমিটি। সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মোয়াজ্জেম হোসেন। সভায় জানানো হয়, শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ১ মে দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর আনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৯ হিজরির শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ‘ভাগ্য রজনী’ খ্যাত শবে বরাতের রাতটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন। এদিনে স্রষ্টার কাছে তাদের গোনা মাফসহ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মুসলমানরা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানায়। উল্লেখ্য, শাবান মাসের পরই আসে মাহে রমজান মাস। মুলমানরা এই মাসটিকে গোনা মাফের মাস হিসেবে জেনে আসছে। এমজে/

শবে বরাত কবে জানা যাবে মঙ্গলবার  

পবিত্র শবে বরাত কবে তা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাদ মাগরিব) জানা যাবে। কাল ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র শবে বরাতের তারিখ নির্ধারণ ও শাবান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনার জন্য সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।    রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম বিষয়কমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন। শাবান মাসের ১৫তম রাতে শবে বরাত পালিত হয়। শাবান মাস শেষেই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হয়।   বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ নম্বরে টেলিফোন ও ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ নম্বরে ফ্যাক্স বা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেলে বুধবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে, আর শবে বরাত পালিত হবে ১ মে দিবাগত রাতে। চাঁদ দেখা না গেলে বুধবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এক্ষেত্রে ২ মে দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হবে। উল্লেখ্য, পাপ থেকে সর্বান্তঃকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের সৌভাগ্যের রাত। দিবসের আলো পশ্চিমে মিলিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত এই রজনী, পবিত্র শবে বরাত। বর্ণিত আছে যে, এই রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন—আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর অবধি। বস্তুত আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। অতএব প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষ এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে থাকেন। মহান আল্লাহর  ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়ে রাত অতিবাহিত করেন। আর/এসি   

পবিত্র শবে মিরাজ পালিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও কোরআনখানি, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে গতকাল শনিবার পবিত্র শবে মিরাজ পালন করেছেন। পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালন উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। লাইলাতুল মিরাজ বা মিরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মিরাজ হিসেবে আখ্যায়িত হয়, ইসলাম ধর্মমতে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, এটি সেই রাত। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির একাদশ বছরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত রাতে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে পবিত্র কাবা শরিফ থেকে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের ওপর আরশে আজিমে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার দিদার লাভ করেন। এ রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সবকিছুর অপার রহস্য। রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হচ্ছে ‘মিরাজ’। মিরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরো নবুয়তের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্য কোনো নবী এ পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। ইসলামে মিরাজের বিশেষ গুরুত্ব হচ্ছে, এ মিরাজের মাধ্যমেই ইসলামধর্মের নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়। এসএইচ/

শবে মেরাজে করণীয় ও বর্জনীয় (ভিডিও)

নবী করীম (সা.) এর জীবনে বড় বড় অলৌকিক যেসব ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হলো মেরাজুন্নবী (সা.)। এটা হলো নবী করীম (সা.) এর সঙ্গে আল্লাহর রাব্বুল আলামীনের অফিসিয়ালি সরাসরি সাক্ষাৎ। রাসুল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের যে সু-মহান দায়িত্ব পেলেন, খেদমত আনজাম দেবেন এবং তিনি হয়ে গেলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন চাইলেন তার সঙ্গে প্রিয়তম রাসুলের সরাসরি সাক্ষাৎ হোক। এই যে আল্লাহর দর্শন বা দিদারে এলাহী এটা হয়েছিল মেরাজের ওই রাতে। এটা ছিল দুই ভাবে। একটা হলো ‘আসরা’ যেটা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। মসজিদে আকসায় ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর উদগ্রীব ছিলেন রাসুলকে স্বাগত জানানোর জন্য। তারা বলেছেন, আহলান-সাহলান ইয়া রাসুলুল্লাহ, ইয়া হাবিবাল্লাহ। নবী (স.) মসজিদে আকসায় গমন করলেন এবং প্রায় লক্ষাধিক পয়গম্বর নবীজিকে স্বাগত জানালেন। সেখানে নবীজি দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। ইমাম হলেন নবী (স.) এবং মুক্তাদি হলেন পয়গম্বররা। এটা হলো আনুষ্ঠানিকভাবে পয়গম্বরদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ এবং মোলাকাত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি যখন বিদেশ সফরে যান বা অন্য বড় অনুষ্ঠানে যান তখন যাওয়ার আগ মুহুর্তে সেখানে লাল গালিচার সংর্বধনা দেওয়া হয়। সেখানে লালগালিচার দুই সারিতে মন্ত্রী, সচিব, তিন বাহিনীরসহ অন্যদের প্রটৌকল থাকে। তারা বিদায় দিচ্ছেন এবং ওয়েলকাম জানাচ্ছেন কারণ তিনি একটা বড় ধরনের প্রোগ্রামে যাচ্ছেন। অনুরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয়তম রাসুলের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ১ লাখ পয়গম্বরদের দাঁড় করিয়ে দিলেন প্রটৌকলের জন্য। এজন্য দাঁড় করিয়েছেন যে, আল্লাহ বলছেন আমার প্রিয়তম এক্ষুনি আসবেন মসজিদে আকসায়, তোমরা দাঁড়িয়ে থাক, তাকে স্বাগতম জানাও। তারা রাসুলকে স্বাগত জানালেন রসুল তাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। ইমামুল মুরসালিন, সাইয়্যেদুল মুরসালিন আনুষ্ঠানিকভাবে উপাধি পেলেন এখান থেকে। এরপর তিনি আহরণ করলেন, পয়গম্বররা তাকে বিদায় জানালেন। রাসুল (স.) আল্লাহর সান্নিধ্যে গেলেন। দিদারে ইলাহী হলো মিরাজ বা উরজ যা ধাপে ধাপে গেলেন। সিদরাতুল মুন্তাহাব-এ গেলেন বোরাক নামে এক বাহনে। সিদরাতুল মুন্তাহাব-এ বোরাক অকেজো হলো। সেখানে আল্লাহর নূরের আলো অনেক বেশি, জিবরাইল আমিন বোরাক নিয়ে সেখানে যেতে পারবেন না। তার যাওয়া হবে না। সেখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরও উন্নত মানের বাহন রফরফ আসল। রাসুল (সা.) রফলফ যানবাহনে চরে আরশে আজিমে গেলেন। তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে গেলেন, সাক্ষাৎ হলো। মহান রাব্বুল আলামীনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হলো; যাকে দিদারে ইলাহী বলা হয়ে থাকে। সেখানে রাসুলকে আল্লাহ প্যাকট্রিক্যালি এমন কিছু শেখালেন যেটা তিনি এসে পৃথিবীর মানুষকে শিখিয়েছেন। আমরা যখন নতুন কোনো বন্ধুর বাড়িতে যাই, তখন সে দেখায় এটা ড্রইং রুম, এটা বিশ্রামাগার। ঠিক আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই রাসুলকে দেখানো হয়েছে জান্নাত, জাহান্নাম, সেখানে কিভাবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, কাকে শান্তি দেওয়া হবে। আমরা যখন কোনো বিজনেস প্লাটফর্মে যায়, তখন সে তার প্রজেক্ট দেখায়, তেমনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জান্নাত, জাহান্নাম, কার কি শাস্তি, কাকে কোথায় রাখা হবে সেগুলো রাসুলকে (সা.) দেখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ সব কিছু দেখিয়েছেন যে এটা আমার এই প্রজেক্ট, এটা ওই প্রজেক্ট। আল্লাহ রাসুলকে সব দেখিয়েছেন এটা রাসুলের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায়। এটা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এটা ছিল না। মুসা (আ.) আল্লাহকে শুধু দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ বললেন তুমি দেখতে পারবে না। মুসা নবীর অনেক অনুরোধে আল্লাহ অনেক দুর থেকে তার নূরের একটু তাজাল্লি দেখালেন এতে মুসা (আ) জ্ঞান হারালেন। আর তুর পাহাড় পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। অর্থাৎ অন্য কোনো মানুষ, অন্য কোনো নবীর জন্য এই দিদারে এলাহী ছিল না। এটা শুধু মুহাম্মদ (সা) এর জন্য। এটাই তার শ্রেষ্ঠত্বের বড় প্রমাণ, মৌলিক প্রমাণ। তিনি অজু করে যখন মেরাজে গেলেন, সেটা ছিল রাতের ছোট একটা সময়। এই সময়ের মধ্যে তার আরশে আজীমে যাওয়া, আল্লাহর সঙ্গে দিদারে এলাহী হলো আবার তিনি ফিরে এলেন। এসে দেখলেন এখনও তার অজুর পানি গড়িয়ে পড়ছে। মেরাজের রাতে করণীয় এখানে দু’টি দিক আছে। একটা ঈমান আকিদা অপরটি হলো আমল। এটি আমলের সঙ্গে যতটা জড়িত তার চেয়ে বেশি জড়িত বিশ্বাসের সঙ্গে। কারণ আগে বিশ্বাস।ঈমান, আকিদা যদি না থাকে তাহলে আমলে কাজ হবে না। সুতরাং ঈমান, আকিদা এরপর আমল। মূল বিষয় হলো মেরাজুন্নবীকে (সা) কেন্দ্র করে আমাদের ঈমানকে আগে মজবুত করতে হবে। নবীজির মেরাজ আগমন উপলক্ষে আমরা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। এই অর্থে এটা ঈদ বা ঈদে মেরাজুন্নবী (সা.)। তবে দুই ঈদের সঙ্গে এই ঈদের মেলানো যাবে না। আকিদাগত যে বিশ্বাস এ থেকে আর বড় আনন্দ আর কি হতে পারে। আল্লাহ দিদারের মাধ্যমে নবীকে (সা) তিনি যে দিকনির্দেশনা দিলেন, ইসলামের মুল বিষয়গুলোকে তিনি জানিয়ে দিলেন পরে নবীজি (সা.) আমাদের মাঝে এটা নিয়ে আসলেন। আল্লাহ ওহি হিসেবে নবীজিকে ততটুকুই দিলেন যা তিনি যতটুকু চাইলেন। এখানে কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। কোরআনের ৬৬৬৬ আয়াত এটা নবীজির দীর্ঘ ২৩ বছরে এসেছে। এগুলো এলম। রাসুল যেমন শ্রেষ্ঠ এই এলম-এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সেই শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন। মানুষের আকিদা হলো শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত বলতে যে সহি আকিদার কথা বলা হয়েছে। রাসুল (সা) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে এর মধ্যে একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করবে। বাকিরা জাহান্নামি। সেই দলটি হক্ক, তারা সহি আকিদায় বিশ্বাসী। সেই হক্কটা বুঝতে হলে দরকার হবে মেরাজুন্নবী (সা)। আল্লাহর সঙ্গে রাসুলের যে সম্পর্ক, নবীজির যে ইলম, যে ধারণ ক্ষমতা তা অন্য কারোর পক্ষে মোটেও সম্ভব না। এটা আল্লাহ বুঝিয়ে দিলেন আর এই আকিদা যখন আমরা বুঝব সঠিক পথে যখন চলে আসব, তখন আমাদের আমলগুলো আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য পাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো- পুরোটা রাত আমরা আনন্দের বহি:প্রকাশ হিসেবে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিতে পারি। এর মধ্যে আমরা নামাজ আদায় করতি পারি। মনে রাখতে হবে, নফল এবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত হলো নামাজ। আমরা দুই রাকাত করে নফল সালাত আদায় করব, আমাদের মন যতক্ষণ চায়। কোরআনুল কারীম আমরা পড়ব, তাফসির পড়ব, ব্যাখ্যা পড়ব। কুরআনের নির্দেশনা চারটি- সহীহভাবে তেলাওয়াত করা, অর্থ বোঝা, নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং অন্যের নিকট এটা পৌঁছে দেওয়া। এ রাতে এটা করতে পারি, পুরো পরিবার নিয়েও করতে পারেন। এর পাশাপাশি রোজা রাখতে পারি আমরা। মেরাজে বর্জনীয় পহেলা বৈশাখ ও শবে মেরাজ একই দিনে। বৈশাখ পালনের সময় ইসলামের কিছু কিছু বিষয়ের ব্যতয় ঘটে। যারা মুসলিম তাদের আহবান জানাব, ওই ব্যতয়গুলো যেন আপনার না ঘটে, দুটোকে যেন আমরা তালগোল না পাকিয়ে ফেলি। পহেলা বৈশাখের যে লোকজ উৎসব সেটাকে যেন আমরা শালিনভাবে পালন করি। একই সঙ্গে রাসুলের মেরাজটাকে যেন আমরা উপলব্ধি করতে পারি এবং সেটা যেন ধারণ করতে পারি। এ প্রত্যয় আমাদের ভেতরে জাগ্রত হোক এটা আমার আহবান। আলোচক: ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) উপস্থাপনায়: মাওলানা ফখরুল আশেকী একুশে টেলিভিশন-এর ইসলামী জিজ্ঞাসা (পবিত্র শবে মেরাজ) পর্ব থেকে অনুলিখন। ভিডিও / আর /

পবিত্র শবে মে’রাজ আজ

শনিবার দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনী। এ রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের। এ রাতে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিসসাল্লামের সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বতীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে সত্তুর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মেরাজ’।মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যকোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় মুসলিম জাহানের সঙ্গে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ কোরআনখানি, নফল সালাত, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। এসএ/  

মিশরে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের মুজাহিদ

মিশরে ২৫তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশের ছেলে মুহাম্মাদ মুজাহিদুল ইসলাম। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৫০টি দেশের ৬৬ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে তাজবিদ সহকারে পূর্ণ কোরআন হিফজ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক কোরআন হেফজ প্রতিযোগিতা মিশরের এনডাওমেন্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসের সাথে যৌথভাবে ‘আরব জেরুজালেম’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ মার্চ শুরু হয়ে ২৯ মার্চ পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগীতা। প্রতিযোগিতার চারটি বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফল দেওয়া হলো- আরব ও অনারবদের জন্য সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ এ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মিশরের প্রতিনিধি ইসমাইল ফুয়াদ ইসমাইল। দ্বিতীয় হয়েছেন একই দেশের মুহমুদ সায়িদ দায়াফুল্লাহ, তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন কুয়েতের প্রতিনিধি ওমর ইউসুফ জাযায় ফাহাদ শায়লান। আরব ও অনারবদের জন্য ভাবার্থ বজায় রেখে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ এ বিভাগে প্রথম হয়েছেন আলজেরিয়ার প্রতিনিধি বলকাসেম খায়রুদ্দিন। দ্বিতীয় হয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রতিনিধি হাসান মুজতাবা বাশির, তৃতীয় হয়েছেন জর্ডানের প্রতিনিধি জিহাদ ইউনুস আহমেদ জুমরা। আর চতুর্থ হয়েছেন বাহরাইনের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ হাসান। অনারবদের জন্য তাজবিদ সহকারে সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ: এ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মুহাম্মাদ মুজাহিদুল ইসলাম। দ্বিতীয় হয়েছেন কেনিয়ার প্রতিনিধি হইসাম সাক্বার আহমাদ, তৃতীয় হয়েছেন তাজিকিস্তানের প্রতিনিধি মুহাম্মাদ ইউফ মুহাম্মাদী। এছাড়া এ বিভাগে চতুর্থ থেকে ১২তম স্থানে উত্তীর্ণ হয়েছেন যথাক্রমে: ক্যামেরুন প্রজাতন্ত্রের হামিদ বাশাইর, শ্রীলঙ্কার মোহাম্মদ ইজাত ইবনে মুহাম্মদ ইসমাইল, নাইজারের জিবরীল ওমর হাসান, ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ আদরিয়ান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওমরাত লিটার্তা, নাইজেরিয়ার ইব্রাহিম ইসা মুসা, যুক্তরাষ্ট্রের মোহাম্মদ আলী আবদো, তানজানিয়ার আবদুল হামিদ মাসুদ সুলেইমান এবং ঘানার মোহাম্মদ তিজজানি। মিশরীয় এবং যেসব বিদেশিরা মিশরে বসবাস করেন, তাদের জন্য অনূর্ধ্ব ১২-এর সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ: এ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আব্দুল্লাহ আম্মার মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যেদ। দ্বিতীয় হয়েছেন মুসতাফা আব্দুল গানি মাহমুদ, তৃতীয় আস-সাইয়্যেদ নাসার আব্দুস সালাম, চতুর্থ স্থান অধিকার করেছেন তাসনিম মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ সালামত মুহাম্মাদ আব্দ আল-যেইন। সূত্র: ইকনা আর / এআর

বিদায় হজের মর্মবাণী

আরবি মাসের দশম হিজরির ৯ জিলহজ। রোজ শুক্রবার। হজের সময় আরাফা ময়দানে দুপুরের পর হজরত মুহাম্মদ (সা:) লক্ষাধিক সাহাবার সমাবেশে এ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হমদ ও সানার পর তিনি বলেন: হে মানুষ! তোমরা আমার কথা শোনো। এরপর এই স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত হতে পারবো কি না, জানি না। হে মানুষ! আল্লাহ বলেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো’। অতএব শুনে রাখো, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো আনারবের, অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহকে ভালোবাসে। হে মানুষ! শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সকল বিষয় ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত হলো। জাহিলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।... হে মানুষ! শুনে রাখো, অপরাধের দায়িত্ব কেবল অপরাধীর ওপরই বর্তায়। পিতা তাঁর পুত্রের জন্য আর পুত্র তাঁর পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়। হে মানুষ! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্যে চিরস্থায়ীভাবে হারাম (অর্থাৎ পবিত্র ও নিরাপদ) করা হলো, যেমন আজকের এই দিন, আজকের এই মাস, এই শহরের সকলের জন্যে হারাম।... হে মানুষ! তোমরা ঈর্ষা ও হিংসা- বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকবে। ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের সকল সৎ গুণকে ধ্বংস করে।হে মানুষ! নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সর্তক করে দিচ্ছি। তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সব সময় খেয়াল রেখো। হে মানুষ! অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও। তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে। নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে। যে মানুষ! বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার হাতে ও মুখ থেকে অন্যের সম্মান, ধন ও প্রাণ নিরাপদ। সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তা-ই পছন্দ করে। হে মানুষ! বিশ্বাসীরা পরস্পরের ভাই। সাবধান! তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না।... হে মানুষ! শুনে রাখো, আজ হতে বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বা কৌলিন্য প্রথা বিলুপ্ত করা হলো। কুলীন বা শ্রেষ্ঠ সে-ই যে বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে। হে মানুষ! ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। বিশ্বস্ততার সাথে প্রত্যেকের আমানত রক্ষা করতে হবে। কারো সম্পত্তি- সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্যে হালাল নয়। তোমরা কেউ দুর্বলের ওপর অবিচার করো না। হে মানুষ! জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও মূল্যবান। জ্ঞানার্জন প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ।কারণ জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে তোমরা চীনে যাও। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে,রোজা রাখবে, হজ করবে আর সঙ্গবদ্ধভাবে নেতাকে অনুসরণ করবে; তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে। হে মানুষ! শুনে রাখো, একজন কুশ্রী কদাকার ব্যক্তিও যদি তোমাদের নেতা মনোনীত হয়, যতদিন পর্যন্ত সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত করবে, ততদিন পর্যন্ত তাঁর আনুগত্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য। হে মানুষ! শুনে রাখো, আমার পর আর কোন নবী নেই। হে মানুষ! আমি তোমাদের কাছে দুটো আলোকবর্তিকা রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এ দুটোকে অনুসরণ করবে, ততদিন তোমরা সত্য পথে থাকবে। এর একটি আল্লাহর কিতাব। দ্বিতীয়টি হলো আমার জীবন-দৃষ্টান্ত। হে মানুষ! তোমরা কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেননা অতীতে বহু জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। হে মানুষ! প্রত্যেকেই শেষ বিচারের দিনে সকল কাজের হিসেব দিতে হবে। অতএব সাবধান হও! হে মানুষ! তোমরা যারা এখানে হাজির আছো, আমার! এ বাণী কে সবার কাছে পৌঁছে দিও। (এরপর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন) হে মানুষ! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি? সকলে সমস্বরে জবাব দিলোঃ হ্যাঁ! এরপর নবীজি (সা:) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো! আমি আমার সকল দায়িত্ব পালন করেছি! (সংগৃহীত) কেআই/টিকে

সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৫৬০ মডেল মসজিদ

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিটি জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় আধুনিক স্থাপত্য সৌন্দর্যের এসব মসজিদ নির্মাণ করা হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসন এই পুরো কাজের সমন্বয় করছে। প্রথম পর্বে আগামী বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, গোপালগঞ্জসহ ১০ জেলায় অত্যাধুনিক মডেল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, সুপরিসর এসব মসজিদে শুধু নামাজ পড়া নয়, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে সেমিনার কক্ষ ও পাঠাগার থাকবে। মহিলাদের আলাদাভাবে নামাজ পড়ার বিশেষ ব্যবস্থাও থাকছে। এই ধরণের মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ধারণা মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, আমেরকিাসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। বাংলাদেশে এই ধরণের উদ্যোগ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সুখবর ও আনন্দদায়ক বলেই মনে করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারেক। একে// এআর  

রোজা পালনে যেসব রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়

রোজা বা উপবাস স্বাস্থ্যহানি তো ঘটায়ই না, উল্টো তারুণ্যকে ধরে রাখে, ব্যায়ামের চেয়েও বেশি কাজ দেয় এবং সেই সাথে কমায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্চ অ্যাটাকের ঝুঁকি। গবেষণায় জানা গেছে এসব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ধারণা ছিলো, কম ক্যালরি খেতে থাকলে মানুষ বোধহয় অসুস্থ হয়ে পড়বে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত ভরপেট খাওয়ার চেয়ে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকাটা বরং সুস্বাস্থ্যের জন্যে বেশি সহায়ক। বছর ‍দুয়েক আগে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিং-এর নিউরোসায়েন্টিক ড. মার্ক ম্যাটসন ও তার সহকর্মীদের প্রকাশিত একটি গবেষণা-প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলে মাস্তিষ্কের বয়স জনিত রোগ যেমন: আলঝেইমার, হান্টিংটন, পার্কিনসন্স ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তারা বলেন, উপবাসের ফলে দেহে এমন কিছু প্রোটন উৎপন্ত হয়, যা মাস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিডেশন জনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। উপরন্তু বাড়িয়ে দেয় স্নায়ু কোষের কার্যকারিতা। ফলে মস্তিষ্কের ক্ষয় হয় অনেক কম। রোজা রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। ম্যাটসন বলেন, নিয়মিত খাওয়া দাওয়া মানে দেহ কোষগুলোতে ইনসুলিনের নিরন্তর সরবরাহ। এভাবে চলতে থাকলে দেহ কোষগুলোর সক্রিয়তা ও কাজের প্রয়োজন কমতে থাকে। একসময় তৃপ্ত ও অলস এই দেহ কোষগুলো হয়ে উঠে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট বা ইনসুলিন প্রতিরোধী। অর্থাৎ এদের ওপর ইনসুলিনের প্রভাব কমে আসে ধীরে ধীরে। আর এটাই ডায়াবেটিসের লক্ষণ। কিন্তু মাঝে মাঝে কিংবা নিয়মিত বিরতিতে খাওয়া বন্ধ থাকলে শরীরের সর্বত্রই দেহকোষগুলো আরো ইনসুলিন সংবেদনশীল হয়ে উঠে, ইনসুলিনের প্রভাবে ভালোভাবে সাড়া দিতে পারে। এবং বিপাক করতে পারে দক্ষভাবে। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সাথে সাথে কমে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই কঠোরভাবে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের চেয়েও অনেক ভালো ফল দিতে পারে যে অভ্যাসটি সেটি হলো, স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে নির্দিষ্ট সময়ের উপবাস। আসলে শরীরের জন্যে কিছু সময়ের এই ক্ষুধা বোধের উপকারিতার মূল সূত্রিটি নিহিত রয়েছে আমাদের ডিএনএ-র মধ্যেই। প্রাচীনকালে আমাদের পূর্বপুরুষরা পশু শিকার করে খাবার যোগাড় করতো। এভাবে একবেলা খাওয়ার পর পরবর্তী শিকার না পাওয়া পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করতে হতো। আর এই ক্ষুধা–অনাহারের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে টিকে থাকার একটি সহজাত ক্ষমতা আমাদের দেহে সঞ্চারিত হয়েছে বিবর্তন-প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। কিন্তু আধুনিক মানুষকে তো খাবারের জন্যে না করতে হয় শিকার, না করতে হয় কোনো রকম অপেক্ষা। এখন ঘরে খাবার, ফ্রিজে খাবার, তা-ও না থাকলে হোটেল-রেস্তোরাঁ-দোকানপাট তো আছেই। ফলে আনাহারের কষ্ট থেকে আমরা বেঁচেছি বটে, কিন্তু সঙ্গী করেছি অন্য ঝুঁকিকে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কয়েক ঘণ্টা পর পর নিয়মিত খাওয়া দাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মান দীর্ঘসময় ধরে উঁচু থাকে। দেহে বিভিন্ন কাজের জন্যে দরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি বা শক্তি আর সেই শক্তি উৎপাদনের জন্যে দৈনন্দিন খাবার থেকে প্রাপ্ত শর্করাকে বিপাক হতে হয়। এই বিপাকের একটি উপজাত হলো অক্সিডেশন বা জারণ,যার ফলে দেহে সৃষ্টি হয় অস্থিতিশীল অক্সিজেন অণু। এবং এর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পরিণতি হলো-এটি বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, শরীরকে বুড়িয়ে দেয়। ড. ম্যাটসন বলেছেন, উপবাস এই প্রক্রিয়াকেই পাল্টে দেয়। আনাহারের ফলে দেহে যে সাময়িক শক্তি-সংকট হয় তা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রোটিন উৎপাদনে উৎসাহ দেয়, যা উদ্বেগকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার শক্তি যোগায়, এমনকি তখন নতুন ব্রেন সেল বা নিউরোনও জন্মাতে পারে। আর পুরো দেহেই ইনসুলিন ছড়িয়ে পেড়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায়। এজন্যেই হয়তো বলা হয় যে, মানুষ না খেয়ে মরে না বরং কখনো কখনো অতি পুষ্টিই বিপদ ডেকে আনে। তাই নিজ নিজ ধর্মমতে রোজা বা উপবাস পালন করুন। আর ইফতারে খান পরিমিত ও সহজপাচ্য খাবার। আপনার সুস্থ কর্মময় দীর্ঘ জীবনের সম্ভাবনা তাতে বাড়বে। তথ্যসূত্র: হেলথ এন্ড নিউট্রিশন, টাইম ম্যাগাজিন এমএইচ/টিকে

নিজ উদ্যোগে ওমরাহ্ পালন

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি রোকনের মধ্যে পঞ্চম রোকন হলো  হজ। এই হজ প্রতি বছর একটি নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে হয়। আর ওমরাহকে বলা হয় ছোট হজ। হজের মতো অনেক নিয়ম ওমরাহ মধ্যে পালন করতে হয়।  আপনি কিভাবে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওমরাহ্ পালন করলাম ও কি কি নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হলাম আর পাশাপাশি কি কি অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম তার উপর আমার এ লেখা। আমার এ লেখা বড় হলেও অনেকের উপকার হবে বলে আশা করি। বিশেষ করে যারা চিন্তা করছেন সামনে ওমরাহ্ পালন করতে যাবেন কিংবা অনেকের নতুন কোন দেশ সম্পর্কে জানা হবে। আমাদের যাত্রা আমিসহ মোট ৩টি পরিবার ছিলো। এটি ছিল ১০রাত ১১দিনের সফর। আমরা প্রথমে মদিনাতে ৪রাত তারপরে মক্কাতে ৬রাত থাকার পরিকল্পনা করি এবং সেই অনুযায়ী হোটেল ও বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করি। আমরা ঢাকা থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সরাসরি ঢাকা থেকে মদিনা রওনা দিলাম। প্রথমেই মদিনাতে গেলে এহারামের কাপড় ঢাকা থেকে পরিধানের প্রয়োজন হয় না। ঢাকা থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে সৌদির দাম্মামে একঘণ্টা যাত্রা বিরতির পর আমরা স্থানীয় সময় রাত ১০টায় মদিনা বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছাইলাম। রাতে মদিনা হোটেলে গিয়ে আর বিশ্রাম নিতে মন মানলো না। তাই চলে গেলাম মসজিদে নববীতে। নবীজির রওজা মোবারক যিয়ারত করতে। হোটেল থেকে ৬ থেকে ৭ মিনিট হাঁটা পথের পরেই মসজিদে নববী। প্রাণ জুড়িয়ে গেল সেই মসজিদ দেখে। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেই মসজিদ যেখানে আমাদের প্রিয় নবী (সা:) ঘুমিয়ে আছেন। মন আমার উৎফুল্ল কখন ঢুকবো মসজিদের ভিতর। বিশাল মসজিদ যার চারিদিকের দেওয়ালে ৪০টির মত গেট আছে। গভীররাত অথচ সেখানে আপনার এতটা রাত মনে হবেনা। নবীজির রওজার সামনে মেয়েদের যাওয়া নিষেধ তাই নিজেই ঢুকে পড়লাম। হাটিহাটি পা চলতেই নজরে পড়লো মসজিদের ভিতরে একটি বড় ঘরের সম্মুখে স্বর্ণের ৩টি গেট। ঘরটির সামনে যেতেই আপনার মন শিহরে উঠবে। মনের অজান্তেই যেন অশ্রুতে চোখ ভিজে গেল। যে ঘরের ভিতর পাশাপাশি শুয়ে আছেন আমাদের নবী করিম (সা:), হযরত আবু বক্কর (রা) এবং হযরত ওমর (রা)। নবীজিকে সালামসহ সেখানের দোয়া পড়লাম যা গাইড বইয়ে লিখা ছিল। নবীজির রওজার পাশের স্থানই রিয়াজুল জান্নাহ। মসজিদের সকল স্থানে লাল রঙয়ের কার্পেট থাকলেও সেই স্থানটি সবুজ কার্পেট। এই স্থানটিতে যদি আপনি দুই রাকাত নামাজ পড়েন তাহলে যেন জান্নাতে বসে নামাজ পড়লেন। এটিকে জান্নাতের বাগান বলা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সেখানে নামাজ পড়তে অধীর আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আলহামদুলিল্লাহ্, সেখানে একাধিক সময়ে আমি নামাজ আদায় করেছি। এই স্থানটিতে নারীদের জন্য দিনে দুইবার নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবে আমাদের সময় কেটে গেল। আর রাত ৪টায় মধুর কণ্ঠে আযানের সুর ভেসে আসলো। মনে করলাম ফজরের আযান। কিন্তু না। পৃথিবীতে একমাত্র দুইটি স্থান আছে যেখানে তাহাজ্জুতের আযান হয়। আর তার মধ্যে একটি হলো মসজিদুল হারাম আর অন্যটি মসজিদুল নববী। তাহাজ্জুদ নামাজের পর ৫টায় আবার আযান হলো। দলে দলে লোক আরও বাড়তে থাকলো। ভিতরে মহিলাদের আলাদা নামাজের ব্যবস্থা আছে। আমরা সবাই নামাজ পড়ে হোটেলের পথে রওনা দিলাম। অসাধারণ সেখানের সকাল। গরমের দেশ অথচ মদিনা ঠাণ্ডা। এজন্য হয়ত বলা হয়েছে সোনার মদিনা। সোনার মদিনাতে নামাজ শেষে ভোর হতেই রাস্তাঘাটে দোকান সব খুলে যায়। জাঁকজমক ব্যবসা শুরু হয়ে যায়। যেখানে আমাদের দেশে অনেকের সকাল হয় সকাল ১০টায় আর সেখানে সবকিছু কার্যক্রম শুরু হয়ে পড়ে ভোরে। এভাবে দেখতে দেখতে পাকিস্তানি রেস্টুরেন্টে নাস্তা খেয়ে হোটেলে এসে ঘুম দিলাম। দ্বিতীয় দিন: ঘুম থেকে উঠে জোহর, আছর, মাগরীব, এশা কাটিয়ে দিলাম মসজিদে। সবাই আমাকে বলেছিল আছরের নামাজে মসজিদে গিয়ে একবারে এশার পড়ে ফিরতে। তখন মনে মনে ভেবেছিলাম এতক্ষণ মসজিদে কি করবো ? কিন্তু সেই চিন্তা ধারণা আমার পরিবর্তন হয়ে গেল। এ যেন মসজিদেই শান্তি। সবাই সেখানেই পড়ে থাকেন। মসজিদে নববীর চারিপাশে ইলেকট্রিক ছাতা। সকালের রৌদ আসতেই সেই ছাতা খুলে দেওয়া হয় আবার সন্ধ্যায় বন্ধ করা হয়। সে এক অপরূপ দৃশ্য। মসজিদের ভিতরেই আপনি জমজম পানির গ্যালন পাবেন। সবাই সেখানে প্রাণ ভরে পানি খায়। মসজিদে নববীর পাশেই জান্নাতুল বাকি। যেখানে মা ফাতেমাসহ অনেক সাহাবিরা ঘুমিয়ে আছেন। দিনে দুইবার সেই কবরস্থানে আপনি যেতে পারবেন। এখানে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পরেই জানাযার নামাজ হয়। হাজী সাহেবরা ছাড়া দূর দুরন্তের মৃত্যু দেহ নিয়ে আসা হয় নামাজের জন্য। মসজিদ থেকে হোটেলের আসা পথেই অনেক মার্কেট পাবেন। যেখানে আপনি আঁতর, তোজবি, স্বর্ন, খেজুরসহ সকল জিনিস ক্রয় করতে পারবেন। মদিনা দ্রব্য ক্রয় ও খেজুরের কেনার জন্য সবচেয়ে ভালো। এখানে অনেক কম মূল্যে কিনতে পারবেন যা মক্কাতে পারবেন না। এভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ে আর আশেপাশে ঘুরে দিন শেষ হয়ে গেল। তৃতীয় দিন: এই দিনটি ছিল জুম্মার দিন। তাই চেষ্টা করলাম আগে আগেই মসজিদে চলে যেতে। সেই ফজরের নামাজ পড়ার পর আবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই মসজিদে। এত আগে মসজিদে গিয়েও মনে অনেক শান্তি। আমার সামনেই প্রিয় নবী (সা:) ঘুমিয়ে আছেন। আর সেখানেই আমি জুম্মার নামাজ পড়ছি সেই অনুভূতি যে না যাবে তাকে বুঝানো যাবেনা। মানুষ যতবার সুযোগ পায় ততবার একবার হলেও নবিজির রওজা সালাম দিতে যান। আর জান্নাতের বাগানে নামাজ পড়তে যান। কিছু কিছু মাজার পূজারি মানুষ এখানে বেদআত কাজ করে থাকেন। যেগুলো পুলিশ দেখা মাত্র তাড়িয়ে দেন। এই সমস্ত কাজ থেকে সবাই বিরত থাকবেন। চতুর্থ দিন: সকালের ফজরের নামাজের পড়েই একটি বড় জিপ গাড়ি ১৪০ রিয়ালে ভাড়া নিয়ে বেড় হয়ে গেলাম জিয়ারাতে (ইসলামিক নিদর্শনগুলো দেখাকে জিয়ারা বলে)।  ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমাদের ঘুরিয়ে দেখালো উহুদের ময়দান, বদরের যুদ্ধের স্থান, মসজিদে ক্কুবা, দুই কেবলা মসজিদ, জ্বীন পাহাড়, হযরত বেলালের মসজিদ। সব স্থান প্রাণ ভরে উপভোগ করলাম। মদিনা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। পথে ঘাটে শত শত শান্তির পায়রা উড়ছে সেখানে। প্রতি ওয়াক্ত আযানের আগেই দোকান সব বন্ধ হয়ে যায়। সবাই মসজিদের দিকে ছুঁটতে থাকে। পঞ্চম দিন: সকালেই ব্যাগ লাগেজ গুছিয়ে গোসল শেষে পাক পবিত্র হয়ে ওমরাহ্ নিয়ত করে যাত্রা শুরু করলাম মক্কার উদ্দেশ্যে। পথে কিছুদূর পরেই মিকাতে যাত্রা বিরতি দিল। যেখানে আমরা পুরুষরা এহরামের কাপড় পরিধান করলাম। এহরামের কাপড় পরে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক কন্ঠে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছালাম মক্কা নগরীতে। হোটেলে লাগেজ রেখেই ছুঁটে চললাম ক্বাবা ঘরের দিকে। ৬ থেকে ৭ মিনিট পথ হাটতেই মসজিদে হারামে এসে পৌঁছাইলাম। মসজিদের ৯৪ নম্বর গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকেই চোখের সামনে চলে আসলো ক্বাবা ঘর। যে ঘরটি জন্মের পর থেকে টিভিতে দেখে আসছি আর আজ তা আমার সামনে। শরীর আমার কাঁপছে আর দোয়া করছি আল্লাহর দরবারে। ক্বাবা ঘরের এক কোণে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদ যে পাথরটি বেহেস্ত থেকে আসা তার বরাবর থেকে তওয়াফ শুরু করলাম। এভাবে নিয়ম অনুযায়ী ৭বার তওয়াফের পর মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে (যেখানে ইব্রাহীম (আ:) এর পায়ের চিহ্ন পাথরটি অবস্থিত) হজ্বের নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে কাঁদলাম। এরপর জমজম কূপের পানি খেয়ে গেলাম সাফা মারওয়া পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। যদিও এখন সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং মানুষের সুবিধার্থে কোন পাহাড় বুঝা যায় না। যেখানে ইসমাঈল (আ:) এর পানির তৃষ্ণা মেটাতে তার মা এই দুই পাহাড়ে পানির খোঁজে দৌঁড়াদৌঁড়ি করেছিলেন। সেখানেও নিয়ম অনুযায়ী দুই পাহাড়ে ৭ চক্কর দিলাম। এ সকল নিয়ম ও দোয়া আপনি বইতে পাবেন। সবার শেষে মসজিদ থেকে বেড় হয়ে মাথা মুন্ডন করেন ওমরাহ্ হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করলাম। ষষ্ঠ দিন: মক্কা নগরী আমার কাছে লেগেছে এক অপরিকল্পিত নগরী। যে নগরীতে শত শত বছর ধরে লাখ লাখ মুসলিম আসা যাওয়া অথচ তার কোনো পরিকল্পনা মোটেও ভালো না। এর রাস্তা ঘাট, ফুটপাত মোটেও প্রশস্ত নয়। নেই কোনো মেট্রো রেল, আন্ডার পাস ট্রেন ব্যবস্থা অথচ যুগে যুগে একটা ধনী দেশ। পুরো মক্কা যেন ব্যবসা নগরীতে পরিণত। এই হজ্বকে সৌদিয়ানরা এখন ব্যবসায় পরিণত করেছে। হজ্বকে কেন্দ্র করে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে কিন্তু হাজীদের জন্য সু-ব্যবস্থা কিংবা সেখানকার তেমন উন্নয়ন নেই। হয়ত যারা দেশ বিদেশ খুব ঘুরেননি তারা আমার সাথে তর্ক করবেন। কিন্তু পৃথিবী এখন যেমন উন্নত হয়েছে সেই অনুপাতে এত মানুষের সমাহার একটি ধনী রাস্ট্রের এই ব্যবস্থা আমাকে ব্যথিত করেছে। মক্কার চারিদিকে শুধু হোটেল আর হোটেল। ঢাকার মত অপরিকল্পিত একটা নগরী। ক্বাবা ঘরের পাশেই সৌদি বাদশা বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করে দূর থেকে মসজিদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এই প্রাসাদে তিনি থাকেন না। সৌদি ইরাক যুদ্ধে এই প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলো। কারণ সাদ্দাম হোসেন মক্কা ও মদিনা ছাড়া সব স্থান ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। আর এই ভয়ে তখন মক্কাতে বাদশার প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এক সময় আমাদের দেশ থেকে যাওয়া মানুষগুলো সেখানে খুব ভালো ছিলেন। কিন্তু এখন প্রবাসীরা খুব একটা ভাল নেই। আয়ের বেশির ভাগ অংশ এখন সৌদিয়ানরা নিয়ে যান। সেখানে তেলের দাম পানির চেয়ে সস্তা আর এজন্য বেশির ভাগ গাড়ি খুব কমই স্টার্ট বন্ধ করে থাকেন। অলস প্রকৃতির মানুষ সেখানকার কোনো কাজই যেন করতে চায় না। ট্যাক্সি ছাড়া ব্যক্তিগত বেশির ভাগ গাড়ী আপনি নোংরা দেখবেন। যেন কেনার পড়ে একবারও মুছে নাই। রাস্তাঘাটে শুধু ট্রাফিক সিগন্যাল মানলেও খুব একটা নিয়মে গাড়ি চালায় না। আমার চোখে সেখানের মানুষগুলো খুব একটা ভালো লাগেনি। তাই হয়ত যুগে যুগে আল্লাহ্ নবী রাসুল এই অঞ্চলে পাঠিয়ে ছিলেন। হাজী সাহেবরা ক্বাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদ একটু স্পর্শ করতে পাগল হয়ে যায়। অথচ সেখানে নেই কোনো সু-ব্যবস্থা।  উন্নত প্রযু্ক্তি ব্যবহার করে সেখানে সবাইকে স্পর্শ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অথচ তা করা হচ্ছে না। আমি শক্তি খাঁটিয়ে সেখানে দুইবার যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ্। কিন্তু মেয়ে মানুষের পক্ষে তা সম্ভব নয়। মনে হয় হয়ত মারাই যাবে। সপ্তম দিন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ক্বাবা শরীফে গিয়ে আদায় করে আবার মাঝে মাঝে এহরামের কাপড় পড়ে তওয়াফ করলাম (এহরামের কাপড় পড়া ছাড়া কাউকে ক্বাবা ঘরের নিকটে যেতে দেয়না) এবং ইবাদত সহ আশে পাশের মার্কেট ভিজিট করে সময় কেটে গেল সপ্তম ও অষ্টম দিন। নবম দিন: ১২০ রিয়ালে একটি ট্যাক্সি নিয়ে চলে গেলাম জিয়ারাতে। জিয়ারার মধ্যে ছিল আরাফাত ময়দান, তুঁর পাহাড়, শয়তানের পাথর নিক্ষেপ স্থান, মিনা, ইসমাঈল (আ:) এর কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি পাহাড় এবং হেরা পর্বত যেখানে কোরআন নাজিল হয়েছে। আমি ও আমার স্ত্রী অনেক কষ্টে সেই পাহাড়ের চূড়াতে উঠেছিলাম। দেখে এসেছি সেই গুহা যার ভিতরে নবিজি ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। আর সেই চূড়া যেখানে কোরআন নাজিল হয়েছিল। দশম দিন: এই দিন ছিল জুম্মার দিন। ক্বাবা শরীফে জুম্মা আদায় করলাম এবং এভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামজ পড়ে ইবাদতের মধ্যে আমাদের সময় কাটতে থাকলো। এগারতম দিন: হোটেলে ছেড়ে মক্কা থেকে জেদ্দা এয়ারপোর্টে রওনা দিলাম এবং সেখানকার বিকাল ৩টার প্লেনে ঢাকা রাত ১২টায় এসে পৌঁছালাম, আলহামদুলিল্লাহ্। অনেক বড় লেখা হয়ত অনেকেই বিরক্ত কিন্তু ইচ্ছা করলেই ছোট করতে পারলাম না। ধৈর্য ধরে যারা পড়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ। জীবনে একবার হলেও সেখানে ঘুরে আসুন। মনের তৃপ্তি পাবেন নিশ্চিত। টিকে

রোযার তাৎপর্য

প্রকাশ থাকে যে, রোযা ঈমানের এক চতুর্থাংশ। কারণ, এক হাদিসে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোযা সবরের অর্ধেক এবং অন্য এক হাদিসে বলেন, (সবর ঈমানের অর্ধেক) এ থেকে জানা গেল, রোযা ঈমানের অর্ধেকের অর্ধেক অর্থাৎ এক -চতুর্থাংশ। রোযা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিধায় ইসলামের সব রোকনের মধ্যে এটা সেরা রোকন। সেমতে আল্লাহ তাআলার উক্তি রসূলে কারীম  (সা.) এক হাদিসে কুদসিতে বর্ণনা করেছেন। উক্তিটি এই  সব সৎ কাজের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত হবে, কিন্তু একান্তভাবে আমার জন্যে বিধায় আমিই এর প্রতিদান দেব। আল্লাহ বলেন, অর্থাৎ, সবরকারিদেরকে বেহিসাব সওয়াব দান করা হবে। রোযা সবরের অর্ধেক। তাই এর সওয়াব হিসাব কিতাবের আওতা বহির্ভূত হবে। শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্যে রসূলে করীম (সা.) এর এ উক্তিই  যথেষ্ট, তিনি এরশাদ করেন, আল্লাহ্‌র কসম, যার হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয় রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ বলেন, রোজাদার তার কামনা বাসনা ও পানাহার একমাত্র আমার জন্যে পরিত্যাগ করে। অতএব রোযা আমার জন্য এবং  আমিই এর প্রতিদান দেব। রসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, জান্নাতের একটি দ্বারকে বলা হয় ‘বাবুর রাইয়ান’। এতে রোজাদারগণ ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। রোজাদারদেরকে তার রোযার বিনিময়ে আল্লাহ্‌র দীদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, রোজাদারের দুটি আনন্দ। এক আনন্দ ইফতারের সময় এবং এক আনন্দ তার পালন কর্তার দীদার লাভ করার সময়। এক হাদিসে আছে, প্রত্যেক বস্তুর একটি দরজা আছে। এবাদতের দরজা হলো রোযা। আরও বলা হয়েছে, রোজাদারের নিদ্রা এবাদত। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন রমযান মাস শুরু হয়, তখন জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শয়তানকে শিকল পরানো হয়। জনৈক ঘোষণাকারী ঘোষণা করে- যারা কল্যাণ কামনা কর, তারা এগিয়ে আস এবং যারা অনিষ্ট কামনা কর তারা সরে যাও। কোরআনের এক আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা অতীত দিনগুলোতে যা পাঠিয়েছ, তার বিনিময়ে আজ জান্নাতে স্বচ্ছন্দ পানাহার করো। এর তফসির প্রসঙ্গে ওকী বলেন, এখানে অতীত দিন বলে রোযার দিন বুঝানো হয়েছে। কেননা, রোযার দিনে তারা পানাহার তাগ করেছিল। রসূলুল্লাহ (সা.) সংসার ত্যাগ ও রোযাকে গর্বের বিষয়সমূহের মধ্যে এক কাতারে রেখেছেন। সংসার ত্যাগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আল্লাহ তা আলা যুবক এবাদতকারিকে নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন এবং বলেন, হে আমার জন্যে আপন বাসনা বর্জনকারী যুবক, হে আমার সন্তুষ্টিতে যৌবন অতিবাহিতকারি যুবক। তুমি আমার কাছে ফেরেশতার মতই। পক্ষান্তরে  রসূলুল্লাহ (সা.) রজাদার সম্পর্কে বলেন, আল্লাহ তালা ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সে আমার কারণে তার কামনা বাসনা ও পানাহার ত্যাগ করেছে। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক ইমাম আবু হামেদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল- গাজ্জালি রচিত ‘এহইয়াড উলুমিদ্দিন’ বই থেকে মাওলানা মুহিউদ্দিন খান অনুবাদিত গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।      কেআই/এসএইচ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি