ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৪:১৮:১৩

নিউইয়র্কে উদ্যান জলাধার নির্মাণে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

নিউইয়র্কে উদ্যান জলাধার নির্মাণে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

নিউইয়র্কে গড়ে তোলা হচ্ছে অভিনব নগর-উদ্যান। বর্ষণজনিত কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা রোধে গড়ে তোলা হচ্ছে এ উদ্যান। মাত্র কয়েক ফুট জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠছে এটি। এর ভিতে রয়েছে একটি জলাধার, যা একসঙ্গে পানি সংগ্রহ ও উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই উদ্যান পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি পানি বিশেষজ্ঞ সুফিয়ান খন্দকার। তার নকশায় ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার জলাধার নির্মাণ শেষ হয়েছে বা নির্মিত হচ্ছে। জানা যায়, নিউইয়র্ক সিটি ২০১০ সালে ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কের ধারে বায়োসোয়েল নামে পরিচিত এই ভূগর্ভস্থ ক্ষুদ্র জলাধার গড়ে তোলা হচ্ছে। বাইরে থেকে এটি একটি ক্ষুদ্র উদ্যান। আর তার ঠিক নিচেই রয়েছে জলাধার বা পাকা চৌবাচ্চা। রাস্তায় জমে থাকা পানি যাতে ভূগর্ভস্থ চৌবাচ্চায় গড়িয়ে পড়ে, তার জন্য রাখা আছে বিশেষ ড্রেনের ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পানি জলাধার থেকে বের করে দেওয়ার জন্যও রয়েছে বিশেষ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সুফিয়ান খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বড় বড় শহরগুলোতেও এরকম উদ্যান গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে এক দিকে জলাবদ্ধতা হ্রাস করা সম্ভব হবে। আর অন্য দিকে নগরের সৌন্দর্যবর্ধন সম্ভব হবে। খুব জটিল ও ব্যয়বহুল কোনও প্রযুক্তি ছাড়াই এই জলাধার-উদ্যান নির্মাণ সম্ভব বলে জানান তিনি। তিনি জানান, অতিবৃষ্টির ফলে শহরের রাস্তায় জমে যাওয়া পানি নিয়মিত ড্রেন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্কাশন করা যায় না। এর ফলে অতিরিক্ত পানি নিকটস্থ নদী বা জলাশয়ে প্রবেশ করে। পানির সঙ্গে সব ধরনের বর্জ্যও সেখানে মিলিত হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যায় বায়োসোয়েল নির্মাণ সম্ভব হলে এই সমস্যা বহুলাংশে কাটানো সম্ভব হবে। ঢাকায় জলাবদ্ধতা ক্রমেই জটিলতর হয়ে পড়ছে। তাই এই অবস্থায় এ সহজ পদ্ধতির ব্যবহার একসঙ্গে নানা সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করেন সুফিয়ান। একে// এসএইচ/        
তরুণরা কেন ‘চার হাজারের’ পেছনে ছুটছে

সারাদেশে বছরে বিসিএসে চাকরি হচ্ছে চার হাজার লোকের। অথচ কম করে হলেও ৪০ হাজার যুবকের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ আছে। তাহলে আমরা কেন চল্লিশ হাজারের পেছনে না ছুটে চার হাজারের পেছনে ছুটছি? তরুণদের উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন রাখেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল এ প্রজন্মের উদ্যোক্তারা।রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দু’দিনব্যাপী বিপিও সামিটের দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার সকালে তরুণ উদ্যোক্তাদের সেশনে বক্তৃতা করেন তরুণ উদ্যোক্তারা। স্টার কম্পিটার সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক রিজওয়ানা খান বলেন, যেকোনো কাজ শুরু করার আগে সেই কাজ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা মনের মধ্যে পোষণ করা দরকার। কাজের মধ্যে কোনো ছোট বড় নেই। সেটা কল সেন্টারের কাজ হোক আর আউটসোর্সিং হোক।রিজওয়ানা খান এসময় উদাহরণ টেনে বলেন, `উবার` ও ` পাঠাও` এর মাধ্যমে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। এটা ইতিবাচক দিক।/এআর /

মেয়েরা জিন্স পরলে হিজড়া শিশু জন্মে

জিন্সের প্যান্ট এ যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্যাশানের একটি। যেমন স্টাইলিশ, তেমনই টেকসই। তাই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও জিন্স প্যান্টের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ছেলেদের তুলনায় আধুনিক মেয়েরা বেশি জিন্স পরিধান করে থাকেন। তবে মেয়েদের জিন্স পরায় তাদের মারাত্মক খেসারাত দিতে হয় বলে দাবি করেছে ভারতের এক অধ্যাপক। তাঁর দাবি, যেসব মেয়েরা জিনস পরিধান করে তারা তুলনামূলক বেশি ‘হিজড়া’ সন্তান প্রসব করে থাকেন। উদ্ভট এই দাবি করা ব্যক্তি ভারতের কেরালাম কাসারাগড়ের অধ্যাপক রজিত কুমার। অধ্যাপক রজিত কুমার আরও জানিয়েছেন, শুধু জিন্সই নয়, যেকোন পুরুষ পোশাক ব্যবহারেই এমন বিপদ হতে পারে। তিনি সচেতনতা তৈরি করে বলেছেন, যেসব দম্পতির জীবন-যাপন নারী, পুরুষ বিভাজন মানে, তারাই শুধু ভালো সন্তানের জন্ম দিতে পারে। ওই অধ্যাপক আরও জানান, কেরালায় তিন লাখেরও বেশি হিজড়া রয়েছে। ডক্টর রজিত কুমার আরও বলেন, অসৎ চরিত্রের বাবা মায়ের সন্তান অটিস্টিক বা সেরিব্রাল পালসির মতো অসুখে ভোগে।’তবে এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও সব অদ্ভুত ভাবনা আগেও বিভিন্ন সমাবেশে তুলে ধরেছেন অধ্যাপক রজিত কুমার। বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে অধ্যাপক রজিত কুমারকে। তবুও তিনি দমে যাননি। সূত্র: এবেলাএমজে/  

কর্মক্ষেত্রের  নারীদের সমস্যা ও প্রতিকার: ৫ নারীর মত

পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদচারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুরুষদের সাথে টেক্কা দিয়ে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এখনও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়গুলো অনেকের জন্য এতটা বিব্রতকর যে, এগুলো নিয়ে সরাসরি কথাও বলা যায় না। অফিসের বস কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এই ভয়ে অনেকেই বুকে পাথর বেঁধে মাটি চাপা দেন এসব নিগ্রহের ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে যে ধরণের সমস্যা আসে আর এসব সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়েছেন ভারতের পাঁচ কর্মজীবী নারী। কর্পোরেট কর্মকর্তা তারা মেহেতা: বিবাহিত হওয়ায় আমাকে চাকরিতে নেওয়া হয়নি। ভারতে মানব মেধা সম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তারা মেহতা একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি চাকরির ইন্টারভিউতে সবগুলো রাউন্ডে পাস করার পরেও শেষমেশ আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইন্টারভিউ এর এক মাস আগেই আমার বিয়ে হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করেছে যে, আমি হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাব। আর তাই তারা আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়নি”।এই সমস্যা মোকাবেলার কথাও জানিয়েছেন তারা মেহতা। তিনি বলেন, “আমার এক বান্ধবীও আমার মত একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। আর তাই এরপরে যখন একটি প্রতিষ্ঠানে আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলাম সেখানে আগেই বলেছি যে, আমার বৈবাহিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাকে বিচার করা যাবে না। আর আমার ব্যাপারে এই ধারণাও করা যাবে না যে, আমি হয়তো খুব শীঘ্রই সন্তান নেব”।“ কর্তৃপক্ষ আমার এই সততা পছন্দ করলেন এবং আমার মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাকে চাকরিতে নিয়োগ দিয়েছেন”-বলছিলেন তারা। উদ্যোক্তা নলিনী শর্মা: নলিনী শর্মা নামের এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, “অফিসে আমার বস একবার মন্তব্য করলেন যে, নারীদের অন্যদের প্রভাবিত করার দক্ষতা অনেক বেশি। আর তিনি আমাকে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট দলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন। এমনকি আমি মেয়ে বলে আমাকে দিয়ে ক্লায়েন্টস মিটিং করানো হতো। তার ধারণা ছিল আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্লায়েন্টসগুলোকে আমাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে আমি প্রভাবিত করতে পারব। কিন্তু যে বিষয়টি আমার সবথেকে খারাপ লাগত তা হল যে, আমি মেয়ে বলেই তিনি আমার প্রশংসা করতেন। আমি মেয়ে বলেই সবাইকে প্রভাবিত করতে পারি মনে করতেন তিনি। আমার মেধা বা কাজের দক্ষতার কোন মূল্যায়নই তিনি করতেন না”। তিনি আরও বলেন, “নিজের মেধা প্রমাণ করার জন্য আমি এরপর থেকে অনেক পরিশ্রম করতে থাকি। এক পর্যায়ে আমি নিজের ব্যবসা আরম্ভ করি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে আসার সময় বসকে বলে আসি যে, শুধু নারী হয়েই না বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজ লাগিয়েই আমি কাজ করি”। সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ: ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা আরতি শাহ বলেন“মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে আসার পর আমাকে অন্য অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশে বলা ছিল যে, এমন বদলি খুবই সাধারন ঘটনা। কিন্তু আমার একজন সহকর্মী বললেন যে, অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছেন যে, যেহেতু আমি মা হয়েছি সেহেতু আমার সন্তানের জন্য অফিসের কাজের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আর তাই তারা আমাকে অন্য অফিসে বদলি করেছেন। কিন্তু নতুন অফিসে আমি আমার কাজের দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করেছি যে, মা হয়েও সফলভাবে কাজ করা যায়”-বলছিলেন  ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি: মাসিক ছুটির প্রসঙ্গে নারী কর্মীদের নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ-ভারতের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা সোয়েতা জোশি বলেন, “আমাদের অফিসে একবার এই প্রসঙ্গ উঠল যে, নারী কর্মীদের মাসিককালীন সময়ে ছুটি দেওয়া যায় কি না। এই প্রস্তাবের এক প্রতিক্রিয়ায় এক পুরুষকর্মী বলেন যে, এরপর থেকে আমাদের অফিসে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার আগে দুই বার ভাবতে হবে। “তার কথায় আমার অনেক খারাপ লাগে। বিনয়ের সাথে আমি তার কথার প্রতিবাদ করে আমি বলি যে, শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি ঠিক নয়। আমার কিছু সহকর্মীও আমাকে সাপোর্ট দিল”। সেবিকা নমরতা: পুরুষ সহকর্মীরা কখনই আমাকে দলের অংশ মনে করেনি। ভারতের একটি হাসপাতালের সেবিকা নমরতা বলেন, “একটি হাসপাতালে কাজ করার সময় আমি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেখানে কর্মরত পুরুষ সহকর্মীরা নিজেদের মত করে সময় কাটাতেন। অফিসে নিজেরা আড্ডা বা গল্প করতেন। আমাকে বা অন্য কোন নারী সহকর্মীদের সাথে তারা ভাব বিনিময় করতেন না। একদিন তাদের আড্ডার কাছাকাছি গিয়ে কিছু জোকস শুনতে পাই। সেখানকার এক পুরুষ সহকর্মী একদিন আমাকে জানালেন যে, তারা মাঝে মাঝে এমন জোকস করেন যা নারী হিসেবে আমাদের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এরজন্য তারা আমাদের সাথে মেশেন না”।“একদিন আমি তাদের এসব জোকসের প্রতিবাদ করি। এরপর থেকে তারা জোকস করা বন্ধ করেন। কিন্তু এরপর থেকে তারা আর আমার সাথে কথাও বলে না। আমিও যে তাদের দলেরই একজন সদস্য তারা আর সেটা মনে করেন না”। সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া/এস এইচ এস/ এমজে  

হিজাব পরেই মিস ইউনিভার্সে

হিজাব পরেই মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন মারিয়া। আর এর মাধ্যমেই গ্ল্যামার জগতের বিশেষ আকর্ষণ বিকিনি ছেড়ে সুন্দর পোশাকের নজর কাড়বেন ২০ বছর বয়সী এ তরুণী। ইতোমধ্যে ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ডের সেমিফাইনালে অংশ নিয়েছেন তিনি। জয়ী হলেই প্রথম কোন হিজাবধারী হিসেবে ফাইনালে প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছেন লাবণ্যময়ী এই তরুণী। হিজাবপরোয়া ওই সমাজকর্মী বলেন, আমার সফই ইচ্ছা-ই মুসলিমদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আনবে। এর আগেও মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় মুসলিম নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কেউউ হিজাব পরে লালগালিচায় হাজির হননি। তবে এবার মারিয়ার মাধ্যমে হিজাবের ছোঁয়া পড়তে যাচ্ছে ব্রিটেনের মিস ওয়ার্ল্ডের সেই লাল গালিচায়। প্রথমে তিনি মিস বার্মিংহাম প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করেন। ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মারিয়া বলেন, ‘আমি যখন প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নিই, তখন আমার অনেক বাধা ছিল। আমি আয়োজকদের বলেছিলাম, আমার সাইজ আট নয়। এই জগতে প্রথমবারের মতো পা রেখেছি। তাই আমি জানি না, এখানে কিভাবে হাঁটতে হয়। তবে আয়োজকদের একজন আমাকে জানালেন, লাল গালিচায় হাঁটতে তোমার বিকিনি পরার দরকার নেই। দরকার কেবল সুন্দর পোশাকের। তোমাকে সুপার মডেল দেখানোর দরকার নেই। দরকর সুন্দর চেহারা দেখানোর।` মারিয়া আরও জানায়, শৈশবে তাকে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। ওই সময় ওই যৌন হামলাকারী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো বলেও দাবি করেন মারিয়া। সূত্র: ডেইলি মেইলএমজে/  

এশিয়ার সেরা উদ্যোক্তাদের তালিকায় বাংলাদেশের দুই তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস চলতি বছরে এশিয়ার সেরা ৩০ উদ্যোক্তার তালিকা প্রকাশ করেছে।  ওই তালিকায় এসেছে বাংলাদেশের দুই তরুণ উদ্যোক্তার নাম।‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া ২০১৮ : দ্য সোস্যাল এনট্রপ্রেনারস ব্রিঙ্গিং পজিটিভ চেইঞ্জ টু এশিয়া’শিরোনামে এশিয়ার সেরা ৩০ উদ্যোক্তার তালিকা গত সোমবার (২৬ মার্চ) প্রকাশ করেছে ফোর্বস। ফোর্বসের এই তালিকায় উঠে আসা বাংলাদেশি দুই তরুণ উদ্যোক্তা হলেন, অনলাইন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান টেন মিনিটস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক (২৬) ও পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘চেঞ্জ’ নামের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সাজিদ ইকবাল (২৭)। পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে সাজিদ ইকবাল ২০১২ সালে চেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। প্ল্যাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে পরিবেশসম্মত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে ওই সময় একটি প্রকল্প চালু করেন তিনি।  ‘বোতলবাতি’ নামে তার এই প্রকল্প দ্রুত ব্যাপক সাড়া পায়। দিনের বেলায় বস্তির অন্ধকার ঘরে সূর্যের আলো ব্যবহার করে তৈরি হয় এই বোতলবাতি।  শুধু ঘরেই নয়, বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশসাশ্রয়ী বাতি পৌঁছে দিতে সোলার পাইপ লাইট নামের একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। ফোর্বস বলছে, জার্মানির একটি সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া অন্তত ৪ হাজার মানুষের ঘরে বোতলবাতির আলো পৌঁছে দিয়েছেন সাজিদ।  তার এই প্রতিষ্ঠান সৌর লণ্ঠন, সড়ক বাতি, ক্ষুদে সেচ পাম্প প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে। এর আগে বাংলাদেশের এই তরুণ উদ্যোক্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস পদক, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, ব্রিটিশ রানির কাছে থেকে কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ডস-২০১৭ লাভ করেন। অন্যদিকে, শিক্ষামূলক সংগঠন হিসেবে ২০১৫ সালে ‘টেন মিনিট স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক। ওই সময় মোবাইল অপারেটর রবির সহায়তায় তিনি এই অনলাইন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যার লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা; যেখান থেকে মানুষ শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। টেন মিনিটস স্কুল ইউটিউব এবং ফেসবুকে সংক্ষিপ্ত লেকচারসমৃদ্ধ ভিডিও প্রকাশ করে। বাংলায় ভিডিওচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি অনলাইনে লাইভ ক্লাসও নিয়ে থাকে সাদিকের এই অনলাইন স্কুল। ফোর্বস বলছে, আয়মান সাদিকের অনলাইন এ স্কুল শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শত শত লাইভ ক্লাস, স্মার্ট বই, হাজার হাজার ভিডিও টিউটরিয়াল তৈরি করে।  বর্তমানে দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে সাদিকের এই স্কুল।  সম্প্রতি টেন মিনিটস স্কুলকে সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার এগিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ রানির কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ডস-২০১৮ লাভ করেছেন আয়মান সাদিক।  এছাড়া এই স্কুলের জন্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আইসিটি জোটের বেস্ট ই-লার্নিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। আরকে// এআর

দুস্থদের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ [ভিডিও]

খুলনায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া বাড়তি খাবার অসহায়, দুস্থ মানুষের মুখে তুলে দিতে কাজ করছে একদল তরুণ-তরুণী। দিনে-রাতে যে কোনো সময় তাদের হটলাইনে ফোন দিলেই স্বেচ্ছাসেবকরা পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট স্থানে। নিজেরাই প্যাকেট করে খাবার পৌঁছে দেয় অসহায় মানুষের মাঝে। মহানগরী খুলনার ৪১ জন উদ্যোমী তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ। সেই ব্রত থেকে অসহায়, দুস্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ’সব তরুণ-তরুণীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে খুলনা ফুড ব্যাংক। ২০১৭ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। কোথাও বাড়তি খাবারের সন্ধান পেলে দু’টি গ্রুপে ভাগ হয়ে যায় সংগঠনের সদস্যরা। একটি গ্রুপের কাজ খাবার সংগ্রহ করে তা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া। অন্য গ্রুপের কাজ বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা। খাবার সংগ্রহের জন্য তারা বেছে নেয় ফেইসবুক পেইজ আর হটলাইন। তবে খাবারের প্যাকেট কেনা, যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে তাদের প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতা। দুস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে সব শ্রেণিপেশার মানুষ এগিয়ে আসবে- এমন প্রত্যাশা খুলনা ফুড ব্যাংকের সদস্যদের।   এসএইচ/

পলিথিন বর্জ্য থেকে তেল-গ্যাস-কালি তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন (ভিডিও)

পলিথিনের বর্জ্য থেকে তেল, এলপি গ্যাস, কম্পিউটারের কালি উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জামালপুরের মঙ্গলপুর গ্রামের তরুণ তৌহিদুল ইসলাম তাপস। তার এই উদ্ভাবন দেখতে রোজ ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। তৌহিদুলের বিস্ময়কর আবিষ্কারের স্বীকৃতি মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান পলিথিন। মাটির উর্বরতা বিনষ্টকারী, অপচনশীল এই পলিথিন ক্ষতিকর জেনেও ফেলা হয় যত্রতত্র। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। তবে, বর্জ্য হিসেবে পড়ে থাকা পলিথিনের বিকল্প ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জামালপুর সদরের মঙ্গলপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম তাপস। একসময় তার বাড়ির পাশে পড়ে থাকা পলিথিন নিয়ে বিপাকে পড়েন। এই বর্জ্যরে বিকল্প ব্যবহারের উপায় খুঁজতে থাকেন তৌহিদুল। পরে পলিথিন বর্জ্য থেকে পেট্রল, তেল, ডিজেল, গ্যাস তৈরির প্রযুক্তি বের করেন। ২০১১ সালে প্রথম তিনি পলিথিন বর্জ্য থেকে পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিন আলাদা করেন। পরের বছরের জানুয়ারি থেকে প্লান্টে উৎপাদিত পেট্রল দিয়েই চলছে তৌহিদুলের নিজের মোটরসাইকেল। জামালপুর শহরের বাইপাস রোড়ের পৌরসভার বর্জ্য শোধনাগারের স্থানে ১৫০ কেজি সাপোর্টের একটি প্লান্ট বসানো হয়েছে। সেখান থেকে বর্তমানে ১০৫ লিটার তেল, ১৫ থেকে ২০ লিটার এলপি গ্যাস এবং কয়েক লিটার ছাপার কালি উৎপাদন হচ্ছে। তৌহিদুলের উদ্ভাবনী কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন তার কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক। প্লান্টটি দেখার জন্য প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তৌহিদুলের উদ্ভাবন পলিথিন বর্জে্যরে যন্ত্রনা থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগান দেবে জ্বালানি তেলেরও। সেই সঙ্গে প্লান্টটিকে বড় করলে এখানে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। বিস্ময়কর এই আবিষ্কারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিও কেড়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসন থেকে তাকে নানাভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...  

গৃহকর্মী থেকে মাইক্রোসফটের দূত ফাতেমা

ফাতেমা আক্তার। বর্তমানে বয়স ১৬। দু’বছর বয়সে গৃহকর্মী মায়ের কোলে চড়ে যেতে হয়েছে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। ৯ বছর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে তাকে হতে হয়েছিলো গৃহকর্মী। বয়স ১১-তে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন আশার আলো পাঠশালার কল্যাণে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ১৬ বছর বয়সী সেই ফাতেমা বেগমকে শুভেচ্ছাদূত বানিয়েছে বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফট। আর ইউটিউবে মাইক্রোসফট এশিয়া তার একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করছে। ফাতেমা এখন অনেক মেয়ের কাছেই অনুপ্রেরণা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তসংলগ্ন গ্রাম নাখারগঞ্জ। গ্রামের বাজার থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ৫ শতাংশ জমির ওপর ফাতেমাদের বাড়ি। সম্পদ বলতে এটুকুই। ফাতেমা জানান, সে দক্ষিণ রামখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সময অধিকাংশ দিন না খেয়ে চার কিলোমিটার হেঁটে বড় বোন আমেনার সঙ্গে স্কুলে যাওয়া-আসা করত। অভাব ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। এর মধ্যে বড় বোন আমেনার বিয়ের খরচ জোগাতে সুদের ওপর টাকা ধার করতে হয় বাবাকে। আরো সংকটে পড়ে তারা। অভাবের কারণে ওই সময় লেখাপড়া বন্ধ করে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেয় ফাতেমা। দুই বছর এভাবে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে থাকে ফাতেমা। একদিন বাবা তাকে ডেকে পাঠান বাড়ি। সেই ডাকে বাড়িতে এসে ফাতেমা দেখল ২৫ বছর বয়সী একজনের সঙ্গে তার বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না সে। এ সময় স্থানীয় আশার আলো পাঠশালার পরিচালক বিশ্বজিৎ বর্মণসহ সংগঠনের কয়েকজন যুবক এসে এই বিয়েতে বাধা দেন। তখন ফাতেমাকে বিনা পয়সায় লেখাপড়া করানোর দায়িত্ব নেয় আশার আলো পাঠশালা। ফাতেমা এখন নাগেশ্বরী রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি মাইক্রোসফট অফিস ও কম্পিউটার গ্রাফিকস ডিজাইনে দক্ষ সে। আশার আলো পাঠশালার কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে ফাতেমা। মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির জানান, আশার আলো পাঠশালার অংশীদার ইয়াং বাংলার আগ্রহে আমরা এই পাঠশালায় যাই। সেখানে ফাতেমা আমার সঙ্গে ইংরেজিতে এত সাবলীলভাবে কথা বলে যে মুগ্ধ হয়ে যাই। তখন আশার আলো পাঠশালায় কম্পিউটার ল্যাব করে দেয় মাইক্রোসফট। ফাতেমাসহ অনেক মেয়েই শেখে তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরেই মাইক্রোসফটের তত্ত্বাবধানে ফাতেমাকে নিয়ে তৈরি হয় একটি প্রামাণ্যচিত্র। এরপরই তাকে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ মনোনীত করা হয়। উল্লেখ্য, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার প্রয়াস নিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ বর্মণ স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আশার আলো পাঠশালা। একে//

উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্পের উদ্বোধন ও পুরস্কার প্রদান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প-২০১৮ এর উদ্বোধন ও এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। নারী দিবস উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার “উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৮” এর উদ্বোধন করা হয় এবং উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৭ এর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, এনডিসি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) কাজী রওশন আক্তার এবং জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মেহরীন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার। নারীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে উদ্ভাবনী আইডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের জন্য এটুআই প্রোগ্রাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘নারীর দুর্ভোগ নিরসনে নারীর উদ্ভাবন’- প্রতিপাদ্য বিষয়ে ২০১৭ সালে আয়োজন করা হয়েছে ‘উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প-২০১৭’। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য, সমাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করা এবং একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নারীদের দ্বারা এগুলোর উদ্ভাবনী সমাধানের ব্যবস্থা করা। প্রতিযোগিতায় নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, কর্মজীবী মায়েদের বিড়ম্বনা, নারীর সম্ভাবনাময় দক্ষতার ব্যবহার এবং বৃদ্ধ নারীদের বিবিধ সমস্যা এ ৪ টি ক্ষেত্রের আইডিয়া বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি বেগম মেহের আফরোজ চুমকি উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম দীর্ঘ দিন ধরে নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার লোকদেরকে সম্পৃক্ত করার কাজ করে আসছে। নারীর উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যেম নারীদের দ্বারা দেশের নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এটুআই এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রয়াস হচ্ছে এই উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প। এমজে/

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশি যুবকের বই

এবারের একুশে বইমেলায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জীবনী নিয়ে লেখা তরুণ লেখক হাফিজুর রহমানের বই `এরদোয়ান দ্যা চেঞ্জ মেকার` প্রকাশিত হয়। অবাক করা বিষয় হলো বাংলা অক্ষরে লেখা সেই বইটি চলে গেছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের হাতে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট গতকাল হাফিজুরের হাত থেকে বইটি গ্রহণ করেছেন। সেই দৃশ্য প্রচারিত হয়ে তুরস্কের অনেকগুলো টেলিভিশনে। গাজীপুরের এই তরুণকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে আলোচনা।এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, একে পার্টির সিনিয়র নেতারা এবং সব এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।  হাফিজুর রহমান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু এই অসাধ্য কাজ একক প্রচেষ্টায় কীভাবে করলেন হাফিজুর? সেই প্রশ্ন যখন সবার মুখে তখন হাফিজুর নিজেই জানালেন দীর্ঘ এই গল্পটা।হাফিজুর বলেন, তুরস্কের  প্রেসিডেন্ট, যে মহান নেতাকে নিয়ে বইটি লেখা রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ানের হাতে বইটি তুলে দিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্তু ছিল সেটি। আপনাদের সালাম ও ভালোবাসা পৌঁছে দিয়েছি। উনি অনেক খুশি হয়েছেন, ধন্যবাদ দিয়েছেন এবং আপনাদেরকে ভালোবাসা ও সালাম পৌঁছাতে বলেছেন।বইটি প্রকাশের পর বাংলাদেশি পাঠকদের আগ্রহ, আবেগ ও ভালোবাসা যতটুকু পেয়েছি সম্ভবত তার চেয়ে কোনও অংশেই কম ছিল না তুর্কিদের। যিনিই বইটি সম্পর্কে জেনেছেন তিনিই এতো বেশি খুশি হয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। যেগুলোর বিস্তারিত লিখতে গেলে এই লেখা শেষ হবে না তাই পরবর্তীতে লিখবো। বই প্রকাশ হওয়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন তুরস্কের অন্যতম সিভিল সোসাইটি সংগঠন ইয়েনি দুনিয়া ভাকফির চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মাহমুদ গুকসু এবং আনকারা শাখার সভাপতি আলি তকুয কেননা আমি এই সংগঠনের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের সভাপতির দায়িত্বে আছি।তিনি বলেন, বই হাতে পাওয়ার পর আলি তকুয সাহেব এতটাই আপ্লুত ছিলেন যে, উনি পারলে সেদিনই প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিবেন! আমার অনেক আগে থেকেই একটি স্বপ্ন ছিল এরদোয়ানের জন্মদিন ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি, সেদিন ছোট্ট একটি উপহার হিসেবে হাতে তুলে দিবো। যদিও শুরু থেকেই একটা শঙ্কা ছিল, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মতো একজন মহান ও ব্যস্ত মানুষের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কি আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে? যাই হোকে, প্রেসিডেন্টের আফ্রিকা সফর থাকায় ২৬ ফেব্রুয়ারি তা আর সম্ভব হয়নি। এরপর অপেক্ষার পালা। মাহমুদ গুকসু সাহেব আর আলি তকুয সাহেব এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। গত বৃহস্পতিবার বললেন যে, আগামী মঙ্গলবার হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। দেখা যাক।কিন্তু ওনাদের কথায় আমি খুব বেশি আশ্বস্ত হতে পারিনি। এর মাঝে শনি ও রোববার সরকারি ছুটি। তাই কাজ এগোয়নি। যদিও মাহমুদ সাহেব বলছিলেন আমি কথা বলে রেখেছি, সোমবারে সব ফাইনাল করবো হয়তো। সোমবার সকালে তুরস্কের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র সাবাহ পত্রিকার সঙ্গে একটা ইন্টারভিউ ছিল। সকাল ১১টায় বই নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনেক কথা বললাম সেই ইন্টারভিউতে। এরপর আরেকটি এপয়েন্টমেন্ট ছিল চাঁদের দূতাবাসে, ইয়েনি দুনিয়া ভাকফির পক্ষ থেকে মতবিনিময়। চাঁদ দূতাবাসে চমৎকার একটি সেশন শেষে উপরোক্ত দুজন, আরেকজন সাবেক এমপির সঙ্গে সংসদ ভবনের দিকে রওয়ানা দিলাম। সংসদ ভবনে গিয়ে সরাসরি একে পার্টির সংসদীয় দলের উপনেতার রুমে গেলাম।হাফিজুর বলেন, তখন একে পার্টির পার্লামেন্টারি গ্রুপ পরিচালনা কমিটির মিটিং চলছিল যেখানে মঙ্গলবারের মিটিংয়ের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমরা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মিটিং শেষ হয়। মাহমুদ সাহেব উপনেতার কাছে বইটি দিয়ে আগামীকালের অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়ার কথা বললেন। উপনেতা জানালেন, অধিবেশনের এজেন্ডার খসড়াগুলো আমরা তৈরি করি কিন্তু অনুমোদন করে দলের প্রেসিডিয়াম বডি। কিছুক্ষণ পরেই সেই মিটিং শুরু হবে, আমি সেখানে পেশ করবো, পাশ হলে আপনাদের জানাবো, আপনারা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।তিনি বলেন, পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে উনাদের সঙ্গে বন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলাম, সেখানে প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে বই গিফট করলাম। কিন্তু আমার পুরো মনোযোগ সংসদ ভবনের আপডেটের দিকে। সন্ধ্যায় উনারা আমাকে আমার বাসায় যাওয়ার স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে উনাদের কাজ কনটিনিউ করলেন। আমি হাতে থাকা সামান্য কাজ শেষ করে মাগরিবের নামাযের জন্য মসজিদে ঢুকবো এমন সময় মাহমুদ সাহেবের ফোন!খুশি মনে রিসিভ করলাম। কিন্তু না, এখনো শিউর না। বই নিয়ে তুর্কি ভাষায় ছোট্ট সামারি করে পাঠাতে বললেন। পাঠিয়ে নামায শেষে বাসে উঠলাম।সোশ্যাল মিডিয়ায় হাফিজুর উল্লেখ করেন, আমার বাসা আনকারার (আঙ্কারা) এক প্রান্তে তাই মোটামুটি ঘণ্টাখানেক সময় লাগে সেন্টারে আসতে। বাসে উঠলে এমনিতেই পথ শেষ হতে চায় না। কিন্ত সেদিন পথিমধ্যে নামতে হলো, যেখানে এক বন্ধুর সাথে চা পানে শরিক হলাম। এমন সময় মাহমুদ সাহেবের পরবর্তী ফোন, এবার শিউর্। আগামীকাল সকাল ৮.৩০ টায় একসঙ্গে হবো এরপর রওয়ানা দিবো। আমি আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম। উনি আরও বললেন, সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ জন যাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আমরা পাঁচজন মুরুব্বী যাবো আর তুমি, তোমার সহকর্মীদের মধ্য থেকে মোট পাঁচজন ঠিক করো। কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেলাম । কাকে রেখে কাকে নিবো! সবাইতো প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে সাক্ষাতের জন্য উন্মুখ, তাও এতো কাছ থেকে দেখার সুযোগ। অবশেষে ইয়েনি দুনিয়া ভাকফিতে দায়িত্ব পালন করা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে চারজন প্রিয় সহকর্মীকে ঠিক করলাম।অবর্ণনীয় অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বন্ধুর সঙ্গে চা পর্ব শেষে বাসে উঠলাম কিন্তু পথ আর শেষ হয় না, কেমন যেন এক ফিলিংস। বাসায় পৌঁছলাম। আমার মেয়েটা দুদিন ধরে অসুস্ত। তার সঙ্গে ও পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় দিলাম। এরপর ঘুমাতে গেলাম কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুম হলো না। কিছুক্ষণ পরপর জেগে যাই! সেই এক অপেক্ষা!ইয়েনি দুনিয়া ভাকফিতে সকালে একত্রিত হয়ে কিছু কাজ শেষে সাড়ে নয়টার দিকে রওয়ানা দিলাম। দশটার দিকে সংসদ ভবনে পৌঁছলাম। প্রয়োজনীয় প্রোটেকলের কাজ শেষ করে অধিবেশন রুমে গেলাম। ততক্ষণে কানায় কানায় পূর্ণ অধিবেশন কক্ষ বিশেষ করে ভিজিটরস গ্যালারি, তিল ধরার ঠাই নেই। কোনওমতে জায়গা পেলাম। ভিজিটরস গ্যালারির স্টেজের কোণের গেটের কাছে অবস্থান নিয়ে এবার ফাইনাল অপেক্ষা শুরু। একে একে এমপিরা, মন্ত্রীরা আসলেন। সবাই প্রেসিডেন্টের আসার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উল্লেখ করে হাফিজুর বলেন, এরদোয়ান, সকাল সাড়ে এগারটার দিকে অধিবেশন কক্ষে ঢুকলেন। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিনালী ইলদিরিম। স্পিকার গ্রুপ মিটিং শুরু করলেন। তিনি বলেন, বক্তব্য চলা অবস্থায় প্রেসিডেন্টের প্রটোকল অফিসাররা বারবার এসে খবর নিয়ে যাচ্ছেন। অনুরোধ করছেন যেন বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই স্টেজের কাছাকাছি চলে আসি। গ্রুপ স্পিকারের টেবিলে এরদোয়ান: দ্যা চেঞ্জ মেকার বইটি দেখতে পেলাম। সব মিলে নিজের মধ্যে খুবই এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল। টান টান এক উত্তেজনা।সাড়ে বারোটার দিকে প্রেসিডেন্ট বক্তব্য শেষ করলেন আর ততক্ষণে প্রটোকল অফিসার আমাদেরকে স্টেজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। বক্তব্য শেষে ধন্যবাদ দিয়েই স্পিকার আমাদের স্টেজে ডাকলেন। প্রেসিডেন্ট স্পিকারের এনাউন্সমেন্ট শুনে আমার দিকে তাকালেন। আমি এগিয়ে গেলাম। উনি বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর কোলাকুলি করলেন। একে একে সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিলাম-নিজেরা পরিচিত হলেন।এদিকে মিডিয়ার ক্যামেরাগুলো আমাদের দিকে তাক করে আছে, সব টিভিতে লাইভ চলছে। প্রেসিডেন্টের হাতে বইটি তুলে দিলাম। আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন শেষ হলো। উনাকে ধন্যবাদ দিলাম। এরপর বইয়ের ভেতরে কি আছে তার কিছুটা বর্ণনা করলাম। বই লিখার কারণ বর্ণনা করলাম যে,  প্রেসিডেন্ট আপনি প্রায়ই বলেন ভালোবাসা একপক্ষ থেকে নয় বরং দুপক্ষ থেকে হতে হয়। আপনি আজকে মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে মজলুমদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিন, আরাকানসহ সব মজলুমদের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছেন, সবাইকে ভালোবাসছেন। আর তাই আমার পক্ষ থেকে ছোট্ট এই ভালোবাসা।এরদোয়ানের সঙ্গে কথাবার্তা প্রসঙ্গে বলেন, উনি অনেক খুশি হলেন। ধন্যবাদ জানালেন, অভিনন্দন জানালেন। বললেন, তোমাকে আমি অনুরোধ করছি যতদ্রুত সম্ভব এটার তুর্কি ভার্সন করবা (যাতে আমরা পড়তে পারি), এরপর পারলে আরবি ও ইংরেজিতে অনুবাদ করবা।এরপর আমি বইটা বাংলাদেশে কতটা জনপ্রিয় হয়েছে তা তুলে ধরে পাঠকদের ভালোবাসা ও সালামগুলো পৌঁছালাম। উনি সালাম গ্রহণ করে সবাইকে সালাম জানালেন।পরিবারের খোঁজখবর নিলেন। আমার ওয়াইফও তুরস্কে সেটা জেনে আরও খুশি হলেন। দোয়া করলেন। এরপর বললাম আপনার সঙ্গে সিঙ্গেল ছবি তুলতে পারলে খুশি হবো। উনি সঙ্গে সঙ্গেই প্রস্তুত হলেন। এতক্ষণে বই উনার পিএস সেখান থেকে তুলে নিয়েছেন। আমি আর বই খুঁজে পাচ্ছি না। বই খুঁজতেছি এদিকে দেখি উনি হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। নিজেকে অপরাধী মনে হলো। সামলে নিয়ে দ্রুত হাত মিলালাম, কতক্ষণ ক্যামেরাগুলো ক্লিক করলো। ইতিমধ্যে বই হাতে চলে আসলো, এরপর বই নিয়ে আবার ক্লিক।হাফিজুর বলেন, সবশেষে আমরা উনাকে এই বিশাল সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম।(হাফিজুর রহমানের ফেসবুক থেকে নেওয়া।)এসএইচ/

জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি রোধে শিক্ষার্থীদের সামজিক উদ্যোগ 

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন শুধু ক্যাম্পাসে নয়, সারাদেশে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সামাজের সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মাদক ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি ‘শিক্ষা ও সামজিক উন্নয়নের জন্য বৃত্তি’ এই অঙ্গীকার নিয়ে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইতোমধ্যে ৭০৪ জন অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীকে চার বছর মেয়াদী প্রতিমাসে প্রত্যেকেই  দুই হাজার ৫০০ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করে আসছে। বৃত্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম শীর্ষক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। এবিষয় জানতে চাইলে সংগঠনের সহাসচিব  রঞ্জন কর্মকার একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্যে আমরা গত বছর সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদক এবং বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করি। তারা নিজ নিজ গ্রাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ ও সচেতনমূলক বিভিন্ন সেমিনার করে অংশ নেন। শীতকালীন ছুটিতে গত বছর ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাবি শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং যুব সমাজের সঙ্গে উল্লেখিত  জনগণের সচেতন করে গড়ে তোলার কাজ করেন। রঞ্জন কর্মকার  আরও জানান, অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট ৬১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে  ছাত্রী ২২৫ এবং  ছাত্র ৩৮৫ জন। তারা মোট ১৬০টি গ্রুপে আট বিভাগের ৬০ জেলায়  একা হাজার ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং এক হাজার ৬০০ গ্রামে এ প্রচারাভিযান  অংশ নেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আরও ৬০০ শিক্ষার্থীকে এ অভিযানে যুক্ত করবো আশা করি। সামজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের সঙ্গে জড়িত। বাল্য বিবাহের কুফল সর্ম্পকে এখানও  গ্রামের মানুষের  অজানা। আমার চার থেকে পাঁচটা বাল্য বিবাহ ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমাদের বড় অর্জন। আমরা গ্রামের মানুষকে বুঝাতে পেয়েছি, বাল্য বিবাহ সবার জন্য ক্ষতিকর। বুঝাতে সক্ষম হয়েছি উচ্চ শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে অভিভাকদের সচেতন হতে হবে। এবিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে নবনিতা সরকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যে নারী পুরুষ সমান অধিকারের কথা বলি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি শহরে নারীর কিছুটা উন্নতি হলেও গ্রামের নারীরা অনেক পিছিয়ে  আছে। সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অভিজ্ঞতা শেয়ারকালে মিতু নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক কাজ করতে গিয়ে আমরা কিছু সমস্যা চিহৃত করেছি। যেগুলো হলো- গ্রাম অঞ্চলে ইন্টারনেটের আসক্তি ভয়াবহ আকার বেড়েছে। সেই সঙ্গে যুব সমাজের মধ্যে মাদকাশক্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। নেতিবাচক ধর্মীয় গোড়ামি, কারিগরি শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্যতার কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গতানুগতিক শিক্ষার বাহিরে জীবনমুখী শিক্ষার অভাবে পাঠ্যপুস্তুকের প্রতি আনীহা দেখা দিয়েছে গ্রামের শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের সবার সচেতন হতে হবে।   এসএইচ/

মিস মাল্টিন্যাশনাল’র চূড়ান্ত আসরে প্রিয়তা

প্রথমবারের মতো ‘মিস মাল্টিন্যাশনাল’প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার আয়োজক ভারতের গ্লামানান্দ এন্টারটেইনমেন্ট। সুখবর হচ্ছে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রিয়তা ইফতেখার। প্রিয়তা ছাড়াও আসরের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় আছেন বিশ্বের ২৫টি দেশের ২৫ জন প্রতিযোগী।বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে খুশি প্রিয়তা ইফতেখার গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।আয়োজক গ্ল্যামানান্দ এন্টারটেইনমেন্টের পরিচালক নিখিল আনন্দ বলেন, প্রতিযোগীদের নিজ নিজ দেশের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য।প্রিয়তা ইফতেখার  আগে থেকেই সেলিব্রেটি। বিশ্বব্যাপী নারীদের ভ্রমণ আরও সহজ এবং সুলভ করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মালাক্কায় অনুষ্ঠিত মিস ট্যুরিজমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রিয়তা ইফতেখার।/এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি