ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:১১:০৪

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী হুবহু লিখলেন আনিসুর’

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী হুবহু লিখলেন আনিসুর’

সুন্দর ও দ্রুত হাতের লেখা প্রশিক্ষণ দেন আনিসুর রহমান। ২০০৬ সাল থেকে এ পেশায় রয়েছেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে পেইনটিং অ্যান্ড রাইটটিং স্কুলের ১৯টি শাখা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসামান্য ভালোবাসা থেকে নিজ হাতে লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে তিনি বইটি হুবহু লিখেছেন। আনিসুর রহমানের বিস্ময়কর প্রতিভা ও নিজ হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী হুবহু লেখার গল্প নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক। ইটিভি অনলাইন: সুন্দর হাতের লেখা শেখার প্রথম দিকের গল্পটা শুনতে চাই। আনিসুর: আমার জন্ম পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে।আমার বাবা নাসির উদ্দিন মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতেন। তিনি শিল্প সম্মত রুচির মানুষ ছিলেন।নানান ধরণের নকশা ও পাথরের উপর খোদায় করে অক্ষর লিখতে পারতেন তিনি। এসব করেই আনন্দ পেতেন। আমি তন্ময় হয়ে দেখতাম তার শৈল্পিক কাজ কর্ম। বাবার সৃষ্টিশীল কর্ম আমাকে শৈশব থেকেই আমাকে ভাবাত। আমারও ইচ্ছে করতো বাবার মতো লিখি কিংবা আঁকি। এই কাজগুলি আমার হৃদয়কে প্রায়শ আন্দোলিত করতো। আমার বয়েস যখন পাঁচ, তখন বাবা আমাকে হাতের লেখার হাতেখড়ি দিলেন। আমাকে যখন `অ` লিখতে বললেন আমি `অ` হুবহু লিখলাম।আমার কাঁচা হাতের লেখা দেখে বাবা খুশি হয়ে গেল। এরপর লেখা অক্ষরটি সবাইকে দেখালেন। এতে আমি অনেক উৎসাহবোধ করি। সবগুলি বর্ণ বাবার মতো লিখতে পারলাম। সেই থেকে লিখার প্রতি আমি আরও মনোযোগী হলাম এবং সুন্দর হাতের লেখা নিয়ে সাধনা শুরু করি। স্কুলের শিক্ষকেরা হাতের লেখার অনেক প্রশংসা করলেন। ক্লাসের সকলের লেখা অনুকরণ করতে পারতাম। যা দেখে বন্ধুরা সবাই অবাক হত। ইটিভি অনলাইন: কেন উদ্দেশে আপনি এই পেশায় এলেন? কোন কোন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন? আনিসুর রহমান: অনেকের হাতের লেখা খারাপ, যার কারণে পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে। সুন্দর হাতের লেখা একটি শিল্প।এই শিল্প সকলের মাঝে বিকশিত হোক এই লক্ষ্য নিয়ে আমি এই প্রশিক্ষণকে কর্মসূচিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। যাদের হাতের লেখা খারাপ তাদের জন্য কাজ করার চিন্তা সেই ছোট বেলা থেকেই ছিল। মূলত এসব কারণে এটাকে পেশা হিসেবে নেয়ার কারণ। দিনভর ক্লাস নিতাম আর রাত হলেই দেয়ালে দেয়ালে প্রচারণা চালাতাম।এই ভাবেই মূলত উঠে আসা। প্রথমে অনেক কষ্ট করেছি। বাড়ি থেকে টাকা আনতাম না।আমার দুই ভাইকে আমি এই পেশায় এনেছি। এখন ওরা আমাকে স্কুল পরিচালনায় সাহায্য করে। ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পাস করেছে। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ইটিভি অনলাইন: সুন্দর হাতের লেখার স্কুল সম্পর্কে বলুন? আনিসুর রহমান: ২০০৬ সালে সুন্দর ও দ্রুত হাতের লেখা প্রশিক্ষণের স্কুল প্রতিষ্ঠা করি `পেইংটিং অ্যান্ড রাইটিং স্কুল`।প্রথমে একটি রুম ভাড়া করি। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হত স্কুল পরিচালনা করতে। মাত্র ৫ জন নিয়ে শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলটি শুরু করি। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ১৯টি শাখায় এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ঢাকার ফার্মগেটে, মোহাম্মদপুর, ধানমুন্দি, আজিমপুর, সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, বাসাবো, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বনশ্রী,গাজিপুর, সিলেটসহ আরও অন্যান্য গুলিতে প্রশিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতি শুক্রবার,শনিবার ৩টি শাখাতে আমি ক্লাস নিই। ৪০জন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধায়নে ১হাজার শিক্ষার্থী এই প্রশিক্ষণের আওতায় রয়েছে। এই পর্যন্ত ২০হাজার শিক্ষার্থীকে আমি এ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ইটিভি অনলাইন: আপনার কাজের পরিধি সম্পর্কে জানতে চাই? আনিসুর রহমান: আমি মূলত, বাংলা,ইংরেজি,আরবি ভাষায় মোট ৮০৫ প্রকার হাতের লেখা লিখতে পারি।এছাড়া ডানহাতে, বামহাতে, বিপরীত দিক থেকেও লিখতে পারি। দেয়াল লিখন, ব্যানার লিখা, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রাঙ্কনসহ হস্তশিল্পের কাজে আমি পারদর্শী। শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণ নিতে ৬০০০ হাজার টাকা দিতে হয়। ইটিভি অনলাইন: বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিজ হাতে কেন লিখলেন? গল্পটি একটু শুনতে চাই। আনিসুর রহমান: বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিজ হাতে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে হুবহু লিখেছি। প্রতি লাইনের শুরু থেকে শেষের দিক পর্যন্ত ঠিক রেখেছি। এই বইতে মোট ১০ প্রকার হাতের লেখা ব্যবহার করেছি। এমন কি পৃষ্ঠা নাম্বার, নিঘন্ত পর্যন্ত ঠিক রেখেছি। বেশ ক`বছর আগে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নাম্বার বাড়িতে গেলাম, সবকিছু দেখে আমার মন কেঁদে উঠলো। বাড়ির সামনের বুকস্টল থেকে একটা অসমাপ্ত আত্মজীবনী কিনলাম, বইটি পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি চিত্র দেখে আমার মনে হল আমি এই বইটি হুবহু নিজ হাতে লিখবো। সেই ২০১৪ সাল থেকে লেখা শুরু করলাম। ২০১৬ সালের অগাস্ট মাসে লেখার কাজ শেষ হয়। এরপর নিজহাতে লেখা বইটি বই আকারে বাইন্ডিং করলাম। বই আকারে দেখতে পেয়ে আনন্দে মন ভরে গেল। ভাবলাম বইটি যেহেতু নিজ হাতে লিখেছি,আর তাই জাতির জনকের কন্যার হাতে তুলে দিব।সেই আশায় আজোও স্বপ্ন দেখি। ইটিভি অনলাইন: বইটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? আনিসুর রহমান: সুন্দর হাতের লেখা ছাড়া আমার তো অন্য কোন পুঁজি নাই আর তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান দেখাতে আমার এই প্রচেষ্টা। সম্পুন্ন হাতে লেখা বইটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিতে চাই। অনেক চেষ্টা তদবির করেও তিনি আজো পৌঁছাতে পারেনি। আমার বিশ্বাস এই বইটির সব থেকে ভালো হয় যদি এটি বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতে দিতে পারি। এটি জননেত্রি শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ ও সুন্দর থাকবে।    
সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে ফেসবুক

তরুণ প্রজন্ম এখন কতকিছুই না করছে! বিশ্বকে পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের  ভূমিকা অপরিসীম। তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। সামাজিক অবক্ষয় বা সচেতনতা সৃষ্টিতে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। সে ভূমিকা পালনে ফেসবুক এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপের মধ্যে অল্প যেকয়েকটি গ্রুপ প্রশংসিত হয়েছে তার মধ্যে ডিসকাশন ফর সিলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস অন্যতম। খারাপকে পেছনে ফেলে বর্তমানে তরুণদের মেধা ও মনন বিকাশ ও আত্মার মানুষকে খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এ গ্রুপ। পারস্পরিক যোগাযোগ ও আত্মার বন্ধন তৈরি করার জন্য ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের ৩য় শুক্রবার যাত্রা শুরু করে ফেসবুকের এ গ্রুপ। ইতোমধ্যে এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ লাখের ওপরে। এর সদস্যরা নানামুখী সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহ ও তাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নানামূখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া সামাজিক বন্ধন তৈরিতে রাখছে ভূমিকা। বন্ধুত্ব তৈরি, হতাশাগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিয়ের ক্ষেত্রেও রাখছে ভূমিকা। ২ বছর পেরিয়ে আজ ১৭ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয় ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট (ডিএসএস) গ্রুপের ২য় বর্ষপূর্তি। এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ শতাধিক সদস্য অংশ গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ‘সৌলমেট’ এর সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় ইটিভি অনলাইন এর সাথে। রাজধানী ঢাকার ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ফেরদৌস আফরিন লোপা। তিনি এসেছেন ডিএসএসের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে। কেন এমন একটি প্লাটফরমের সঙ্গে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন বন্ধুর মাধ্যমে এই গ্রুপের সঙ্গে  যুক্ত হই। এখানে যুক্ত হয়ে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। ভাই পেয়েছি, বোন পেয়েছি, ভালো ভালো মানুষ খোঁজে পেয়েছি। এককথায় একটা পরিবার পেয়েছি। যখন একটু মন খারাপ থাকে তখন সবাই মন ভালো করে দেয়। বিভিন্ন সময় আমাদের আড্ডা হয়। এটা খুব ভাল একটা উদ্যোগ। আমার কাছে ভাল লাগে। সৌলমেটের আরেক সদস্য আব্দুর রহমান। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন,  এই গ্রুপ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।  কোন সমস্যায় পড়লে গ্রুপের সবাই এগিয়ে আসে। এখানে অনেক বন্ধু তৈরি হচ্ছে। যা খুবই ভাল একটা দিক। আর সব থেকে বড় কথা হলো এ গ্রুপের মাধ্যমে চাকরিসহ যে কোন প্রয়োজনে  সহযোগিতা পাওয়া যায়। এভাবে অনেকেই তাদের মনের কথা বলেছেন। কেউ কেউ ডিএসএস এ যুক্ত হয়ে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করছেন। এমনই একজন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশা। তিনি বলেন, আমি অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম। কিন্তু এক বন্ধুর মাধ্যমে এই গ্রুপে যুক্ত হয়ে এখন অনেক ভাল আছি। এক্ষেত্রে আমি অনেক ভাগ্যবান। এখান এসে অনেক ভাল ভাল বন্ধু পেয়েছি। ঢাকা কর্মাস কলেজের শিক্ষার্থী কাকনও একই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানে এসে অনেক ভাল লাগছে। এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।  ডিএসএসসের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই নিজেদের মনের কথাগুলো এভাবে ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যদি ডিএসএসের মতো কাজ করে তাহলে সেটি সমাজের জন্য অনেক ভালো হবে। তবে এ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষই যুক্ত। নেতিবাচক দিকগুলো এডিয়ে যদি এর মাধ্যমে ভালো ভালো কাজগুলো করা যায় তাহলে সমাজ উপকৃত হবে। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ চিরতরে দূর হবে বলে মনে করেন অনেকে। ফেসবুকে আপনাদের অসংখ্যা সদস্য রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে কোন সমস্যা হয় কি-না জানতে চাইলে ডিএসএস এর একজন এডমিন শরিফ আহমেদ ভূইঁয়া বলেন, আমাদের ফেসবুক পেইজের সদস্যা সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য আমরা একটা নীতি গ্রহণ করেছি। সেটা হলো আমাদের এখানে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং কাউকে আঘাত করে এমন কোন বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। কেউ যদি বাজে কমেন্টস করে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ব্লক করি। আপনারা ডিএসএস কার্যক্রম কিভাবে শুরু করলেন? কেন এ ধরণের কাজে নামলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএসএস এর এডমিন কামরুল হাসান ইমন ইটিভি অনলাইনকে বলেন, একদিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম ঐ সময় কথা উঠে ফেসবুকে অনেক গ্রুপ থাকলেও সৌলমেট বিষয়ে কোন গ্রুপ নেই। এ নিয়ে কিছু করা যায় কিনা। তখন আমরা একটা গ্রুপ খোলার চিন্তা করি। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর কাজ শুরু করি। আমরা মূলত সামাজিক কাজগুলো করে থাকি। একে অন্যের বন্ধন তৈরি করা। বিষন্নতা দূর করা। বর্তমানে আমাদের সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। মানুষ হতাশা থেকে নিজের জীবনই শেষ করে দিচ্ছে। অনেকে ব্লুহোয়েল এর মতো গেম এ আসক্ত হচ্ছে। বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে জঙ্গিবাদসহ অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাদেরকে অন্তত যদি একটি ভাল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এনে মোটিভেট করা যায় তাহলে সমাজের সমস্যাগুলো অনেকখানি কমে আসবে। সব মিলিয়ে আমরা মানুষকে সচেতন করা ও আত্মার সম্পর্ক তৈরিতে যা করা দরকার সেটা করার চেষ্টা করছি।    গ্রুপটির আরেক এডমিন মাশহারুল হুদা আনান বলেন, “ডিজিটাল এ যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ আছে। সে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে ফেসবুককেও যে একটি ভাল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় তার একটি উদাহরণ আমাদের গ্রুপ। আমাদের গ্রুপের সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনেও সামাজিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব দঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ডিএসএস”। //এ সি//

ডিএসএস-এর ২য় বর্ষপূর্তি ও বিশ্ব সৌলমেট দিবস পালিত

জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ডিসকাশন ফর সিলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস-এর ২য় বর্ষপূর্তি জমকালো আয়োজনে পালিত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী ধানমন্ডির সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টারে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ষপূর্তির পাশাপাশি সদস্যদের পুনর্মিলনী এবং ২য় আন্তর্জাতিক সৌলমেট দিবসও পালিত হয়েছে। সকাল ১০টায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ ঘটে। অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫০০ সদস্য অংশ নেন। শুরুতেই আগত সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফোর্থ সেন্স ব্যান্ড দল। গ্রুপ সদস্যদের নিয়েই এ ব্যান্ড দলটি গঠিত হয়েছে।

ডিএসএস এ চলছে ফোর্থ সেন্স ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনা

ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট গ্রুপের ২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করলো ফোর্থ সেন্স ব্যান্ড। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টারে চলছে গ্রুপটির ২য় বর্ষপূর্তি এবং ২য় আন্তর্জাতিক সৌলমেট দিবস পালন অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফোর্থ সেন্স ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশন। ফোর্থ সেন্স ব্যান্ড অনুষ্ঠানে বেশকিছু জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করে। এরমধ্যে পিন্দারে পলাশের বোন, নিটল পায়ে, সুন্দরী তুই জলদি আয় এবং বায়ান্ন তাসসহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান। গ্রুপের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে “তারুণ্যের জয়গান” শীর্ষক একটি থিম সং পরিবেশন করেন। গানের কথা ও সুর দিয়েছেন প্রান্তর রাব্বী। ব্যান্ডের হয়ে গান পরিবেশন করেন টিটু (গীটার, ভোকাল), রাব্বি (গীটার এবং লিরিকস), সৈকত (কাজনিস্ট) এবং শুভ (শেকার্স, ভোকাল)। এসময় উপস্থিত দর্শক স্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়।

ডিএসএস’র ২য় বর্ষপূতির অনুষ্ঠান চলছে

ফেসবুক ভিক্তিক জনপ্রিয় গ্রুপ ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট ( ডিএসএস) এর ২য় বর্ষপূতি ও বিশ্ব সৌলমেন্ট ডে উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।আজ শুক্রবার, সকাল ১০টার সময় রাজধানী সেলিব্রেটি কনভেশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পযন্ত। শুরুতেই একে অপরের পরিচয় দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যাক্রম শুরু হয়। গ্রুপের সকল সদস্যদের পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে শেষ হয় পরিচয় পর্ব। এর পর শুরু হয় সংগীতানুষ্ঠান। প্রথমে সংগীত পরিবেশন করেন- ব্যান্ড দল ফোর্থ সেন্স। এরপর আয়োজন করা হয় নারীদের জন্য ‘বেলুন ফোলানো’ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১০ জন নারী। এদের মধ্যে বিজয়ী তিনজেনর মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এরপর আবার শুরু হয় সংগীতনুষ্ঠান।বাংলাদেশে ফেসবুক যেভাবে জনপ্রিয় এবং নন্দিন গ্রুপ আছে তার মধ্যে ডিএসএস অন্যতম। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয় এই গ্রুপের কার্যক্রম। এখন এই গ্রুপের সদস্যা সংখ্যা ২ লাখের ওপরে। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে গ্রুপের সদস্যা হাজির হচ্ছে অনুষ্ঠানে।অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে এসেছে আমিন নামের এক সদস্য। ইটিভি অনলাইনের প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় তার। আমিন জানান, শুধুমাত্র এই অনুষ্ঠানের জন্য তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। অনষ্ঠানে যোগ দিয়ে অন্য সবার সাথে আনন্দ উপভোগ করছেন তিনি। গ্রুপের এডমিন কামরুল হাসান ইমন বলেন, সবাইকে সুন্দর একটি অনুষ্ঠান উপহার দিতে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগত সদস্যদের জন্য আকর্ষণীয় সব আয়োজন রাখা হয়েছে। পূর্ষঘোষিত অনুষ্ঠানসূচী অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।দ্বিতীয়বারের মত এবারও আয়োজন করা হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সৌলমেট দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে তরুণ সমাজ তাদের সৌলমেট অথবা আত্মার সঙ্গী খুঁজে পাবে’। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে থেকে অবহেলিত এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাভিত্তিতে সদস্যদের দেয়া অর্থ এসব শিশুদের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে।এসডব্লিউ/এসএ/

শুক্রবার ডিএসএস-এর ২য় বর্ষপূর্তি

শুক্রবার উদযাপিত হচ্ছে ফেসবুক ভিত্তিক জনপ্রিয় গ্রুপ ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট বা ডিএসএস এর ২য় বর্ষপূর্তি। রাজধানীর ধানমণ্ডির সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হবে এ অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বাংলাদেশে ফেসবুকে যেসব জনপ্রিয় এবং নন্দিত গ্রুপ আছে তার মধ্যে ডিএসএস অন্যতম। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া গ্রুপটির বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দুই লাখের ওপরে। তরুণ-তরুণীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় এ গ্রুপটির বর্ষপূর্তি এবং গেট টু গেদারকে ঘিরে সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উতসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে আয়োজনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। গ্রুপের এডমিন কামরুল হাসান ইমন বলেন, ‘সবাইকে একটি চমকপ্রদ অনুষ্ঠান উপহার দিতে সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। আগত সদস্যদের জন্য আকর্ষণীয় সব আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি সবাই উপভোগ করবে। সবার সঙ্গে সবার বন্ধন আরও দৃঢ হবে”। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে গ্রুপ সদস্যদের জন্য অনুষ্ঠানে আড্ডা, মিউজিক্যাল ইভেন্ট, গেম শো এবং ডি’জে শো এর আয়োজন রাখা হয়েছে। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে ‘সৌলমেট দিবস’ও পালন করা হবে।     এসএইচ/

গুগল তথ্য দেয় ডিএসই দেয় সমাধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘অনলাইন কমিউনিটি’র ধারণা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর তাই ফেসবুকের বিভিন্ন ‘গ্রুপে’ ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম দিন দিন বেড়েই চলছে। ফেসবুকের বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে যে কয়েকটি বহুল আলচিত এবং প্রশংসিত গ্রুপ আছে তার মধ্যে অন্যতম ‘ডু সামথিং এক্সেপসনাল’ বা ‘ডিএসই’। ধরুন আজিমপুর থেকে কেউ উত্তরা যাবে। যাবার পথ বলে দিতে পারে গুগল। কিন্তু কোন বাহনে দ্রুত যাবেন তা বলে দিবে ডিএসই। গ্রুপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পথ চলা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেয় গ্রুপটির এডমিনিস্ট্রেটর বিথী হক এবং জেবিন ইসলাম। সাক্ষাৎকার নেন একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান হোসেন শাওন। ইটিভি অনলাইন: ডিএসই গ্রুপের যাত্রা শুরু হল কীভাবে ? জেবিন: গ্রুপটি চালু হয় প্রায় চার বছর আগে। এটি চালু করেন আশফাকুল ইসলাম ভাই। পরবর্তীতে এর সঙ্গে ইমন খান যুক্ত হন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডমিন প্যানেলে সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা এবং তার সমাধানের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের গ্রুপের যাত্রা আরম্ভ হয়। খুব ছোটখাটো সমস্যা থেকে গুরুতর সমস্যা হলেও এর সমাধানে সম্ভাব্য উপায় কী কী হতে পারে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা করাই এ গ্রুপের উদ্দেশ্য। ইটিভি অনলাইন: এ গ্রুপে কারা কোন ধরনের সমস্যার জন্য পোস্ট করেন? এবং সমাধান কীভাবে দেওয়া হয়? জেবিন: এখানে যেকোন ব্যক্তিই তার সমস্যার জন্য সাহায্য কিংবা মতামত চেয়ে পোস্ট দিতে পারেন। যেকোন সদস্যের জন্যই এ সুবিধা বিদ্যমান। আর সমাধানগুলো আমাদের গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে থেকেই দেওয়া হয়। কোন সমস্যার জন্য যদি কেউ মনে করেন যে, তার মতামত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে সে সেখানে মন্তব্যের মাধ্যমে সমাধান দিতে পারেন। এখন যিনি সমস্যা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে এখান থেকে পাওয়া কোন সমাধানের রাস্তা অনুসরণ করবেন কী না। অনেক ধরনের সমস্যা আছে যা আমরা আমাদের কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে শেয়ার করতে পারি না। আর এর ফলাফল আরও ভয়াবহ হয়। বিষন্নতা গ্রাস করে ফেলে আমাদের। এ ধরনের সমস্যাগুলোও আমাদের গ্রুপে উঠে আসে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পেলে ওই ব্যক্তি বিষন্নতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বিথী: এখানে একটি বিষয় উল্লেখ থাকে যে, বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ অথবা অবৈধ এমন কোন বস্তু বা বিষয়ের ব্যাপারে কোন সাহায্য চেয়ে পোস্ট দেওয়া যাবে না। যেমন- কোন একটি অবৈধ জিনিসি একজন ব্যক্তি কোথায় গেলে সন্ধান পাবেন – এমন প্রশ্ন দেওয়া যাবে না। আবার বাবা-মা এর ওপর রাগ করে তাদেরকে দোষারোপ করে কোন পোস্ট অথবা তাদেরকে ছোট করতে পারে এমন কোন কিছু আমরা সমর্থন করি না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে গুরুতর কোন ইস্যুতে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ যেসব সদস্য আছেন আমাদের গ্রুপে তাদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এখানে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, আমরা গ্রুপের পক্ষ থেকে কোন সমাধান দেই না। আমাদের কোন সদস্য দিবেন এটাও আমাদের কোন পলিসি না। সমস্যার সমাধান হতে পারে এমন কিছু উপায়ের পরামর্শ দেই আমরা শুধু। ক্ষেত্র বিশেষে সমাধান দিতে পারবেন এমন ব্যক্তি অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেই।   ইটিভি অনলাইন: এ গ্রুপের সদস্য হবার যোগ্যতা কী বা কারা এর সদস্য হতে পারেন? বিথী: এ গ্রুপের সদস্য হতে আলাদা কোন যোগ্যতা বা বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন নেই। এদের আইন এবং আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর শ্রদ্ধাশীল এমন যে কোন ব্যক্তিই এ গ্রুপের সদস্য হতে পারবেন। একে অপরকে হেয় করা কিংবা হেনস্তা না করে যিনি গ্রুপে পোস্ট বা কমেন্ট করতে চান তিনিই গ্রুপে থাকবেন। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে, আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন শ্রেণি এবং পেশার মানুষ আছেন। ছাত্র-ছাত্রী, কবি, সাহিত্যিক, পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আছেন আমাদের গ্রুপের সঙ্গে। বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ আছেন আমাদের গ্রুপের উপদেষ্টা মন্ডলীতে। ইটিভি অনলাইন: শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ সদস্য। কীভাবে সম্ভব হল? জেবিন: বিষয়টা খুব সহজ ছিল না। তবে সবার অংশগ্রহণে সম্ভব হয়েছে। ‘মেম্বার অব দ্য উইক’ নামে আমরা একটি সেগমেন্ট চালু করি। পুরো সপ্তাহে যে সদস্য গ্রুপে সবথেকে বেশি সক্রিয় ছিল তাকে আমরা পুরুষ্কৃত করি। পরবর্তীতে ‘মেম্বার অব দ্য মানথ’ চালু করি আমরা। এ পুরুষ্কারগুলো দিয়ে থাকেন আমাদের গ্রুপের একজন অন্যতম পৃষ্ঠপোষক চৌধুরী সেরনিয়াবাদ। আমাদের এই সেগমেন্টটি গ্রুপ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সদস্যদের গ্রুপে সক্রিয় থাকতে আগ্রহ জোগায়। এভাবেই আস্তে আস্তে সবাই গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। ইটিভি অনলাইন: গ্রুপের কার্যক্রম কেমন চলছে? বিথী: আমরা বলব গ্রুপের কার্যক্রম খুবই ভালো চলছে। বিগত প্রায় দেড় বছর যাবত আমরা অনলাইন বা ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অফলাইন বা বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। এরজন্য আমরা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কমিশন বরাবর আবেদন করেছি। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং আমরা একটি এনজিও হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারব। এতে আমাদের কার্যক্রম আরও গতি পাবে। জেবিন: আমাদের একটি উল্লেখযোগ্য ক্যাম্পেইন ছিল ‘বানান শুদ্ধকরণ’। আমাদের চারপাশে দেখা যায়, অনেক বাংলা ভুল বানানের ছড়াছড়ি। এগুলো শুদ্ধিকরণের একটা উদ্যোগ আমরা নেই। ক্যাম্পেইনটি অনেক প্রশংসিত হয়। এর বাইরে আমরা পথশিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছি। এর বাইরে আমরা চাকরি প্রার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার ক্লাব, পাত্র-পাত্রী সন্ধানের জন্য ম্যাচ মেকিং এবং চাকরিদাতা এবং চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ক্যারিয়ার ম্যাচসহ গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ইটিভি অনলাইন: শুরুতে নাম ছিল ডেসপারেটলি সিকিং এক্সপ্লিসিট। এখন ডু সামথিং এক্সেপশনাল। নামের এ পরিবর্তন কেন? বিথী: ইতোমধ্যে বলা হয়েছে যে আমরা একটি এনজিও হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্যে জয়েন্ট স্টক কমিশনের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেছি। মূলত এ লক্ষ্যেই গ্রুপের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের ব্যতিক্রমী কিছু করার উদ্দেশ্য আছে এবং আমাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যেন অন্যরাও সমাজের সেবায় অংশগ্রহণ করে এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের নামের মাধ্যমেই আমরা একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, ব্যতিক্রমী কিছু করুণ। ইটিভি অনলাইন: নারীদের অধিকার আদায়ে এবং হয়রানি রোধে ডিএসই গ্রুপকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। বিশেষত একটি বিতর্কিত গ্রুপ যেখানে নারীরা হয়রানির শিকার হয় এমন কর্মকাণ্ড বেশি হত তা বন্ধ হতে ডিএসই গ্রুপ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এ বিষয়ে কিছু বলুন। বিথী: নারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমাদের গ্রুপ সবসময়ই ভূমিকা পালন করে। আর নারীদের সমস্যাগুলো বেশিরভাগই এমন ধরনের হয় যা পরিবারের কারও সঙ্গে শেয়ার করতে ইতস্তত বোধ করেন তারা। এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের গ্রুপের ব্যাপক প্রশংসা আছে। আর আপনি যে গ্রুপ বন্ধের কথা বললেন সেটা আসলেই আমাদের উল্লেখযোগ্য একটি সাফল্য। সে গ্রুপটিতে যেভাবে নারীদের হয়রানি করা হচ্ছিল তা বন্ধে আমরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি দল গঠন করি। এ দলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য বিশেষত পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ আরও কিছু সদস্য ছিল। আমরা সবাই মিলে গ্রুপটাকে বন্ধ করতে সমর্থ হই এবং নারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ন্যাক্কার কাজে জড়িতে গ্রুপটির যে সব এডমিন জড়িত ছিল তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে সমর্থ হই। জেবিন: শুধু এগুলোই না। যখনই আমরা নারীদের বিরুদ্ধে এমন কোন হয়রানির খবর পাই চেষ্টা করি সাহায্য করতে। একটি ঘটনার উদাহরণ দেই। এক ব্যক্তি এক মেয়ের ভুয়া ফেসবুই আইডি খুলে সেখানে অনেক আপত্তিকর বিষয় উল্লেখ করেন। এমনকি মেয়েটির বাসার ঠিকানাও দিয়ে দেওয়া হয় সেই ভুয়া আইডিতে। লোকটির উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করা। সেই মেয়েটি যখন আমাদের কাছে সাহায্য চাইল তখন আমরা ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্যে সেই ব্যক্তিকে আটক করা হল। নারীদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা সব সময়ই সরব। ইটিভি অনলাইন: এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে কখনো আপনারা নিজেরাও হয়রানী বা হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন কী? বিথী: সত্যি কথা বলতে এমন পরিস্থিতিতে মাঝে মাঝে পরতে হয়। কোন একটি কাজ করলেই একদল মানুষ থাকবেই যারা পিছনে লাগবে। মাঝখানে একবার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, আমাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই আক্রমণ করা হবে। যাই হোক, সবার সহযোগিতায় প্রতিদিন এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। তবে এখানে বলে রাখি, যেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে সমাজের জন্য কিছু করব সেদিনই মন মানসিকতা সেভাবেই গড়ে নিয়েছি যে, এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। ইটিভি অনলাইন: ফেসবুকে অনেক গ্রুপই যেমন জনপ্রিয় তেমনি অনেক গ্রুপই বিতর্কিত। এ বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন আপনারা? বিথী: আমরা সরাসরি কোন মন্তব্য করব না। তবে এটুকু বলব যে কোন কাজই সততা নিয়ে করতে হয়। যখন কাজের সততা অথবা উদ্দেশ্যে ঘাটতি পরে তখনই কোন জিনিস ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণ করে। সেই গ্রুপগুলোও হয়তো এমনই কিছু করেছে। কোন বিশেষ অসৎ উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে হয়েছে। ইটিভি অনলাইন: ফেসবুক গ্রুপগুলো মূলত নিজ উদ্যোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এখান থেকে পাওয়া সেবাগুলোও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। তাহলে কী অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে? বিথী: অনেক কিছুই। যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া, নিজের ক্ষমতা জাহির করার মানসিকতা। অনেকে তো শুধুমাত্র লোক দেখানোর উদ্দেশ্য গ্রুপ খুলে বসে থাকে। সবাইকে দেখায় যে, সে একটি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি। লোক দেখানো ভাব এবং অহংকারই এর জন্য দায়ী। ইটিভি অনলাইন: আপনাদের গ্রুপের সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলুন। জেবিন: আমাদের গ্রুপের সব কার্যক্রমগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পায় সামাজিক কাজগুলো। পথশিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করি আমরা। আমরা চেষ্টা করছি ঢাকা শহরে পথশিশুদের শিক্ষা সেবা দিয়ে থাকে এমন স্কুলগুলোকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আরও যেসব সহায়ক জিনিস দরকার হয় সেগুলোর যোগান দেবার। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোন বই অথবা কর্মকাণ্ডে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায় না। সেখানে একটি পথশিশু গল্পের বই পড়বে এ তো অনেকের কল্পনার বাইরে। কিন্তু আমরা এমন উদ্যোগ নিচ্ছি। এছাড়াও ২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকা শহরে বিভিন্ন সাইনবোর্ড বা ব্যানারের ভুল বানানগুলো শুদ্ধ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। বিথী: এছাড়াও গত ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশীতে আমরা ৩০০ জন রিক্সা চালকের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি। তাদের বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষাও করে দেই আমরা। সেখানে চিকিৎসা দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা। সাধারণত রিক্সা চালকেরা সে অর্থে স্বাস্থ্য সেবা পান না। তাদের জন্য আমাদের এ উদ্যোগ। এর সঙ্গে আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের প্রায় তিন লাখ সদস্য। প্রতিটি সদস্য একটি করে গাছ লাগাবে এমন একটি উদ্যোগ নিতে কাজ করছি আমরা। ইটিভি অনলাইন: আমরা জানতে পেরেছি গত বছরের শেষ দিন আপনারা একটি বৃদ্ধাশ্রমে কাটিয়েছেন। সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আপনারা সেই মুহূর্তটি ভাগাভাগি করেছেন। বিথী: জ্বী। আমরা চেষ্টা করি বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে এসব নিঃসংগ মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর। তাদের সন্তানরা যখন তাদেরকে এমন নিঃসঙ্গ অবস্থায় রেখেছেন তাদের খানিকটা পরিবারের স্বাদ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ইটিভি অনলাইন: নিজেদের পেশাগত কাজের পাশাপাশি গ্রুপের জন্য সময় দিতে হয়। এর বাইরে ব্যক্তি জীবনে আর কতটুকু সময় পাওয়া যায়? বিথী: একেবারেই সময় পাওয়া যায় না। আমি নিজে সাংবাদিকতা পেশায় আছি। এ পেশার জন্য এমনিতেই অনেক সময় আর শ্রম দিতে হয়। তারপর আবার গ্রুপের কিছু কাজ থাকে। কিছু কিছু ব্যাপার এড়ানোও যায় না। তখন দেখা যায় দিনশেষে নিজের জন্য আর সময় থাকে না। অনেক সময় পরিবারকেও সময় দেওয়া যায় না। জেবিন: একবারের ঘটনা বলি। আমাদের গ্রুপের একটি কাজে এডমিন ইমন ভাই এত ব্যস্ত ছিলেন যে, তার ছোট বোনের জন্মদিনের কথা ভুলেই যান। সে খুব অভিমান করে। সময় স্বল্পতার কারণে মাঝে মাঝে আমাদের কাছের মানুষগুলোর কাছে বিব্রত হতে হয়। ইটিভি অনলাইন: মাঝে মাঝে আশেপাশ থেকে কেউ বলে ওঠে না যে, আরে আপু, আপনি না ডিএসই এর এডমিন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন? বিথী: এটা প্রায়ই হয় (লাজুক হাসি)। সত্যি কথা বলতে তখন খুবই ভালো লাগে। অনেক সময় অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তখন ভাললাগাটা আরও বেশি কাজ করে। জেবিন: একবারের ঘটনা বলি। ঢাকা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া যাচ্ছি। আসন পাইনি তাই দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলাম। এক ভাইয়া আমাকে চিনতে পেরে নিজে উঠে গিয়ে আমাকে বসতে বলেন। অনেক বার মানা করেও নিস্তার পাইনি। সারা পথ আলাপচারিতায় ইটিভি অনলাইন: কখনও এমন হয়েছে যে, আপনাদের আশেপাশে থেকে কেউ একজন ডিএসই গ্রুপের প্রশংসা করছে কিন্তু সে জানে না যে আপনারাই ডিএসই এর অভিভাবক। তখন কেমন লাগে ? বিথী: এরকম হয় মাঝে মাঝে। একদিন বাসে থাকা অবস্থায় পাশের সিটে দুই ব্যক্তির আলাপচারিতা শুনতে পারি। তারা একে অপরকে বলতেছিল যে, ডিএসই গ্রুপটা অনেক সাহায্যকারী। এমন শুনলে মনে হয় এত কষ্ট সার্থক। ইটিভি অনলাইন: আমরা একদমই শেষ দিকে। জানতে চাইব গ্রুপের সদস্যদের প্রতি আপনাদের কোন বার্তা আছে কী না? জেবিন: আমরা আমাদের গ্রুপ সদস্যদেরকে শুধু এটুকুই বলব যে, তাদের সবার সাহায্য সহযোগিতায় আমাদের গ্রুপটা এত পথ পাড়ি দিতে পেরেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সবাই সবাইকে সাহায্য করব এই আশা রইল। বীথি: এটুকু বলব যে, মানুষকে ভালবাসি। সেই ভালবাসা এবং দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু কাজ করার চেষ্টা করি। তবে শুধু আমরা করলেই হবে না। আমাদের প্রত্যেককে একজন একজন করে নিজেদের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। শুধু নিজেদেরটা চিন্তা না করে সমাজের জন্য দেশের জন্য কাজ করলে দেশটা এগিয়ে যাবে। এসএইচ/

তারুণ্যের প্রাণের বন্ধন ডিএসএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন আর নিতান্ত সময় ক্ষেপণের জায়গা নয়। এগুলো হয়ে উঠেছে বিনোদন, প্রয়োজন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের এক অনন্য মাধ্যম। আর তাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে জনপ্রিয় তেমনি এক গ্রুপ ডিসকাশন ফর সিলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস। আগামী ১৭ নভেম্বর উদাযাপিত হবে গ্রুপটির ২য় বর্ষপূর্তি। জনপ্রিয় এই গ্রুপের ডিএসএস এডমিন কামরুল হাসান ইমন ও মডারেটর ফয়সাল রহমান একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে। তরুণদের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান হোসেন শাওন। ইটিভি অনলাইন: ডিএসএস গ্রুপের শুরুটা কীভাবে হল? ইমনঃ ২০১৫ সালের দিকে আমি এবং মাশহারুল হুদা আনান ভাই (গ্রুপের একজন এডমিন) একদিন আড্ডার ছলে আলোচনা করছিলাম যে, ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ আছে কিন্তু ‘সৌলমেট’ বিষয়ে কোন গ্রুপ নেই। আমরা একটা গ্রুপ খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করলাম যে, এমন একটি গ্রুপ খোলা যায় কী না। প্রাথমিকভাবে সম্মত হলেও বিষয়টিকে ভালোভাবে শুরু এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে আমাদেরকে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হয়েছে। বিশেষত গ্রুপটা যেন পরবর্তীতে বিতর্কিত না হয় সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে কী কী বিষয়ে কাজ করতে হবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা হয়। শুরুতে আমাদের এক বন্ধু আহমেদ শাকুর রনি ছিল। তবে সে সময় দিতে না পারায় এডমিন প্যানেলে তাকে রাখা হয়নি। পরবর্তীতে এডমিন হিসেব যুক্ত হন নাহিয়ান ববি। মূলত এভাবেই আমাদের গ্রুপের শুরুটা হয়। ইটিভি অনলাইনঃ শুধুই কী সৌলমেট? নাকি আরও কিছু... ইমনঃ গ্রুপটার প্রধান থিম ছিল সৌলমেট। তবে সৌলমেট তো বললেই হয়ে যায় না। বন্ধুত্ব, নেটয়ার্কিং এবং সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করাও ছিল আমাদের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফেসবুক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সচরাচর একটি অভিযোগ শোনা যায় যে, মানুষ ফেসবুকে সময় নষ্ট করে। আমরা চিন্তা করলাম এই নষ্ট করা সময়টাকেও কীভাবে একটা ভালো কাজে লাগানো যায়। সময় নষ্ট হলেও যেন ভাল কাজে হোক। মূলত এসব চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখেই গ্রুপটা চালু করা। ইটিভি অনলাইনঃ ডিএসএস মূলত কী? এখানে কী ধরনের কাজ হয়? আর একজন গ্রুপ মেম্বার কী করেন এখানে? ইমনঃ ডিএসএস মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সৌলমেট বন্ধু এবং এমন মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে যাদের সঙ্গে আপনি আত্মার সম্পর্ক গড়তে পারবেন। এর বাইরেও বন্ধু এবং যোগাযোগ বৃদ্ধিরও একটি মাধ্যম এটি। কারো অবসর কিংবা একাকী সময়গুলোকে এখানে সবার সঙ্গে ভাগ করে কাটাতে পারেন। তৈরি করতে পারেন নতুন নতুন বন্ধু বা বন্ধু মহল। মূলত ডিএসএস সুস্থ বিনোদনের একটি জায়গা। এখানে আপনি সৌলমেট পান বা না পান বিনোদিত হতে পারবেন। ভার্চুয়াল বা বাস্তব আড্ডায় অংশ নিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটাও থেকে যাচ্ছে। ইটিভি অনলাইনঃ এডমিন প্যানেলের কাছেই জানতে চাই, ‘সৌলমেট’ এর অর্থ কী? কে কার সৌলমেট? ইমনঃ সৌলমেট বলতে আমরা বুঝি এমন ব্যক্তি যে আমাদের সঙ্গে আত্মার সঙ্গে জড়িত। সে হতে পারে আমাদের স্বামী কিংবা স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা বন্ধু। আসলে সৌলমেট সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমরা আমাদের সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে পারি। অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক অনেক ভালো থাকার পরেও কোনো একটা বিষয় একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। কিংবা বাবা-মা অনেক ভালো বন্ধু হলেও তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে যে মানুষটির সঙ্গে আমরা নির্দ্বিধায় সবকিছু শেয়ার করে নিতে পারি তিনিই আমাদের সৌলমেট। সৌলমেট এমন এক ব্যক্তিও হতে পারে যার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক কিংবা পেশাগত সম্পর্ক নেই। খুব অল্প সময়েও এমন কোনো ব্যক্তি আমাদের সৌলমেট হয়ে যেতে পারেন। বিষয়টা নির্ভর করে কার বা কাদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপরা ভালো এবং আস্থার জায়গাটা দৃঢ়। ইটিভি অনলাইনঃ জানতে চাই এতদিনের পথ চলাটা কেমন ছিল? একটি গ্রুপকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা কীভাবে সম্ভব হল? ইমনঃ শুরু থেকেই বিষয়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। ফেসবুকে অনেক বিতর্কিত গ্রুপ আছে। আমাদের শুরুতেই চ্যালেঞ্জটা ছিল আমরাও যেন তেমন বিতর্কে না পরি অথবা আমাদেরকে যেন তাদের মত মনে করা না হয়। তাই শুরু থেকেই আমরা গ্রুপের একটা গুণগত মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে কাজ করে গেছি। খুবই কঠোরভাবে গ্রুপের নীতিমালা মেনে কাজ করতে হয়েছে। এজন্য কৃতিত্বের দাবিদার আমাদের পুরো এডমিন প্যানেল। অতিসম্প্রতি আমাদের মডারেটর ফয়সাল রহমান যুক্ত হয়ে এ কাজটিকে আরও সুশৃংখলভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। সবাই যেন গ্রুপের নীতিমালা ঠিকঠাক মেনে চলে তার তদারকিতে তার ভূমিকা অনন্য। এর বাইরেও আমাদের গ্রুপকে বিতর্কিত করতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সবকিছুর পরেও এখন পর্যন্ত গ্রুপটি ভালোভাবেই চলছে। আমাদের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক হুমকি দেওয়া মেসেজ বা ফোন কল পাই আমরা। তবুও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর এ কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার আমাদের গ্রুপের সদস্যরা। আমাদের প্রতি তাদের আস্থা এবং গ্রুপের প্রতি ভালবাসাই আমাদেরকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখছে। ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের মেম্বারদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন অথবা বিয়ে হওয়ার ঘটনা ঘটছে কী? ইমনঃ এ সংখ্যাটা আসলেই অনেক চমকপ্রদ। গত ২ বছরে আমরা অন্তত ২০টি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছি আমরা। সংখ্যাটা বাস্তবে আরও বেশি। কারণ অনেকেই বিয়ে করছেন সীমিত পরিসরে। তখন আমরা সেগুলো জানতে পারি না। তবে এই ২০টি সংখ্যাও একেবারে কম না। এর বাইরে বেশ কিছু সফল সম্পর্ক হতে দেখেছি আমরা। আর এসব বিয়ে বা সম্পর্ক আমাদের গ্রুপ সদস্যদের মধ্যেই হচ্ছে। ইটিভি অনলাইনঃ আলাপ করা যাক ফয়সাল ভাই আপনার সঙ্গে। আপনাকে গ্রুপের ‘পুলিশিং’ এর কাজ করতে দেখা যায়। অনেকে আপনাকে গ্রুপের ‘পুলিশ’ বলে। আপনি কী মনে করেন? ফয়সালঃ আসলে আমি কোন পুলিশ-ফুলিশ না ভাই (হাসতে হাসতে)। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে সক্রিয় থাকলেও এই গ্রুপটার প্রতি একটা ভাললাগা কাজ করত শুরু থেকেই। কারণ সব গ্রুপের মধ্যে এটাকে অনেক পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই তাই শুরু থেকে গ্রুপের নিয়মের বাইরে কিছু দেখলে রিপোর্ট করতাম অথবা এডমিন প্যানেলকে জানাতাম। এমন করতে করতেই একদিন এডমিন প্যানেলে প্রবেশের সুযোগ পেলাম। আর নিয়ম-নীতির ব্যাপারে বললে এটাই বলব যে, যেকোনো জিনিস নিয়মের মধ্যে থাকলে ভালো থাকে। তাই গ্রুপটাকে সাবলীলভাবে চালিয়ে নিতে আমাদের কিছু নিয়ম-নীতির দিকে নজর রাখতে হয়। কারণ ডিএসএস আর দশটা গ্রুপের মত না। এর একটি নিজস্ব স্বকীয়তা আছে। এখানে যেন সবাই কোন ধরনের হয়রানি ছাড়া সক্রিয় থাকতে পারেন তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। ইটিভি অনলাইনঃ ফেসবুকের অনেক গ্রুপেই মেয়েদের হয়রানি হতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে ডিএসএস’র অবস্থান কী? ইমনঃ নারীদের সম্মান প্রদানে আমরা সব থেকে বেশি সতর্ক। এমন কোনো পোস্ট কিংবা মন্তব্য যা কোন নির্দিষ্ট নারী কিংবা নারী শ্রেণীকে আঘাত করে বা তাদেরকে নিচু স্থানে দেখায়, সেসব নারী আমাদের গ্রুপের সদস্য হোক বা না হোক, আমরা তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিই। আর যে বা যারা এমন পোস্ট বা মন্তব্য করেন তাদেরকে সরাসরি গ্রুপ থেকে ব্যান করে দেই। শুধু গ্রুপেই না, আমাদের কোন সদস্য অপর কোনো নারী সদস্যকে ব্যক্তিগত মেসেজের মাধ্যমে হয়রানি করছেন বলেও যদি আমরা প্রমাণ পাই তাহলে তাকেও গ্রুপ থেকে বের করে দেয়া হয়। নারীদের হেনস্তা করা আমরা কোনভাবেই সহ্য করি না। আর এসব কারণে অন্য অনেক গ্রুপের থেকে আমাদের গ্রুপে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মত। ফয়সালঃ যখনই আমরা আমাদের ব্যক্তিগত মেসেজ কিংবা গ্রুপে কোন নোটিফিকেশন দেখি যে, কোনো ব্যক্তি কোন নারী সদস্যকে হয়রানি করছেন আমরা সাথে সাথে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। গ্রুপ সদস্যদের জোরালোভাবে আমরা বলে দেই, গ্রুপের কোন সদস্যের এমন কর্মকান্ড দেখলে আমাদেরকে যেন জানানো হয়। ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের সদস্য মূলত কারা? আর সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াই বা কেমন? ফয়সালঃ আমাদের গ্রুপের সদস্য মূলত সবাই। আর আমরা মূলত সদস্য ‘সংগ্রহ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ করি না। বরং যারা আমাদের গ্রুপের সদস্য হতে আগ্রহী তারাই আমাদের গ্রুপে সদস্য হতে চেয়ে আবেদন করেন। আমরা কিছু বিষয়কে সামনে রেখে তখন সেসব আবেদন গ্রহণ করি অথবা বাতিল করি। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে, যে ফেসবুক আইডি থেকে আবেদন জানানো হয়েছে তা আপাত দৃষ্টিতে ফেক বা ভুয়া মনে হয় কী না। অন্যদিকে ২০১৭ সালের মধ্যে যেসব ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে সেসব আইডি থেকে আসা কোন আবেদন গ্রহণ করি না। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। আমাদের গ্রুপের সদস্য হতে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর হতে হয় না। আমাদের গ্রুপে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর সদস্য আছে। অনেক সেলিব্রেটিও আছেন। আমাদের গ্রুপের সদস্য পদ বহাল রাখতে আপনাকে যা করতে হবে তা হল গ্রুপের নিয়ম-নীতি মেনে গ্রুপে কার্যক্রম চালাতে হবে। ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপের ২ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সদস্য সংখ্যাও ২ লাখের বেশি। কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কোনো বিশেষ পরিকল্পনা দিনটিকে নিয়ে? ইমনঃ আসলেই অনুভূতি তো অনেক ভাল। গ্রুপটাকে ঘিরে এত সময় এবং শ্রম দেওয়াকে সার্থক মনে হয়। ২ লাখ সদস্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন। আর আগের বারের মত এখনও এটাই বলব যে, এর পিছনে আমাদের সদস্যদের অবদানই বেশি। আমরা হয়তো নিয়ম-নীতি নিয়ে একটু বেশিই কঠোর তবে তারা আরও সহনশীল। সহনশীল বলেই আমাদের সঙ্গে আছেন তারা। আর আগামী ১৭ নভেম্বর শুক্রবার ধানমণ্ডির সেলিব্রেশন কনভেনশন সেন্টারে একটি ‘গেট টু গেদার’ বা মিলনী এর আয়োজন করা হয়েছে। গ্রুপ সদস্যদের নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। এ দিন আমরা শুধু আমাদের জন্মদিনই না বরং ‘সৌলমেট ডে’ এরও উদযাপন করা হবে। আড্ডা, গেম শো, সংগীত অনুষ্ঠান, ডিজে শো এবং কেক কেটে আমাদের সদস্যদের নিয়ে দিনটি উদযাপন করব। এর বাইরে কিছু সেলিব্রেটি অতিথিও থাকবেন। ইটিভি অনলাইনঃ ‘সৌলমেট ডে’? এমন কোনো দিন কী আছে? ইমনঃ সৌলমেট ডে বলতে আসলে কোন দিন নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি নভেম্বর মাসের তৃতীয় শুক্রবার ‘সৌলমেট ডে’ হিসেবে পালন করতে। আর এ দিনটি যেন ‘সৌলমেট’ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়ও উদযাপিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে অবস্থিত বেশ কিছু দেশের হাইকমিশনের সঙ্গে এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছি। বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করছি। আমাদের গ্রুপের জন্মদিনও তাই নভেম্বর মাসের তৃতীয় শুক্রবার উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপটির আগের নাম ছিল ডেসপারেটলি সিকিং সৌলমেট। নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট। এর কারণ কী? ইমনঃ আগের নামটি থাকার সময় আমরা লক্ষ্য করলাম কিছু সদস্য তাদের জীবনে সৌলমেট খুঁজে পেতে খুব ডেসপারেট বা মরিয়া আচরণ করেন। “ডেসপারেটলি” শব্দটাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল কী না বোঝা যাছিল না। সৌলমেট নির্ধারণে যে আলাপ আলোচনার দরকার হতে পারে এই দিকটিকেও বোঝাতে চেয়েছি আমরা। শুধু সৌলমেট নির্ধারণেই না বরং আমাদের প্রতিদিনকার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর কোনো বিষয়ে সদস্যরা এখানে আলোচনা করতে পারেন। কোনো সমস্যা মনে হলে তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হতে পারে এখানে। এসব বিষয় বোঝানোর জন্যই নাম পরিবর্তন করা। এছাড়াও আমাদের সাফল্যকে পুজি করে অনেক ফেক বা ভুয়া গ্রুপ খোলা হচ্ছিল আমাদের আগের নাম দিয়ে। সে কারণেও নতুন নামকরণ করা হয় গ্রুপের। ইটিভি অনলাইনঃ গ্রুপ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ইমনঃ গ্রুপটাকে আরও বড় হতে দেখতে চাই। সবাই গ্রুপটাকে আরও সফল হতে সাহায্য করবে এটাই আশা। আমরা গ্রুপ থেকে কিছু সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। যেমন শীত বস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের একবেলা খাওয়ানো ইত্যাদি। এখন এ কাজগুলো সীমিত পরিসরে করছি আমরা। গ্রুপ বড় হলে এ কাজগুলোও বড় পরিসরে করতে পারব এমনটাই পরিকল্পনা আমাদের। ইটিভি অনলাইনঃ শেষ কথা... ইমনঃ শেষ কথা এটুকুই বলব যে, আমাদের গ্রুপটাকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সব সদস্যদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের প্রতি এমন ভালবাসা এবং আস্থা রাখবেন এমন আশা রইল। সদস্যদের প্রতি আমাদের গেট টু গেদারে অংশ নেবার অনুরোধ রইল। আশা করি সবার ভালো লাগবে। ফয়সালঃ আর আমাদের কাজকে মূল্যায়ন করার জন্য ইটিভি অনলাইন এবং এর পাঠকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও আমাদের প্রতি তাদের এমন সাহায্য অব্যাহত থাকবে এই আশা রইল।  //এস এইচ// এআর    

রব্বানী হোসেনের পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠার গল্প

ছিলেন অজপাড়া গাঁয়ের দূরন্তপনা ছেলে। খেলাধূলা, হৈ-হুল্লোড় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। পড়ালেখায় ছিলেন চরম অমনোযোগী। একসময় এক শিক্ষকের ছোঁয়ায় বদলে যান রব্বানী হোসেন। একাদশ শ্রেণিতে থাকাকালে এক শিক্ষকের পরম মমতার সান্নিধ্যে আসার পরই বদলে যেতে থাকে রব্বানীর জীবন। সেই রব্বানীই আজকের ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রব্বানী হোসেন। ডাকনাম রব্বানী খাঁন। পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিষয়ে। সম্প্রতি ইটিভি অনলাইনের সাথে আলাপকালে বেরিয়ে এসেছে আজকের রব্বানী হোসেন হয়ে উঠার নেপথ্য কারিগরদের চিত্রও। রব্বানী হোসেন বলেন, “ছিলাম অজপাড়া গাঁয়ের দূরন্তপনা ছেলে। পড়ালেখা করতাম ফরিদপুরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বন্ধুদের সাথে খেলাধূলা-আড্ডার ফলে পড়ালেখা খুব একটা করতে পারতাম না। আর পড়ালেখা করলে কি হওয়া যায়, তাও জানতাম না। কেবল জানতাম, এসএসসি পাশ করে পুলিশ হওয়া যায়, সৈনিক হওয়া যায়।” “এরপর ভর্তি হই ফরিদপুরের চড়ভাদরাসন সরকারি কলেজে। সেখানে গিয়ে বদলে যেতে থাকে আমার কল্পদৃশ্যপঠ। এক শিক্ষক একদিন ক্লাসে মোটিভেশনাল কথা বলছিলেন। বলতে গিয়ে তিনি একদিন বলেন, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হও। সেদিন প্রথম শুনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। এরপর ওনার কাছে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই। সেদিন স্যার আমায় বলেছিলেন, পড়ো তুমি পারবে। সেদিন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করি” বলছিলেন ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত এই পুলিশের এই কর্মকর্তা। সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে রব্বানী খান বলেন, “ঢাকায় কেউ না থাকলেও একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হই। এর পর ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেছে নেই ভিন্ন আঙ্গিকের বিষয় “উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ” বিষয়টি। বিষয়টি বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারীদের প্রতি সমাজে এখনও বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নারীরা এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নন। তাই এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই বলে বিষয়টি বেছে নিয়েছিলাম।” তৃতীয় বর্ষ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু : বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তৃতীয় বর্ষ থেকেই পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন আমার চিত্রকল্পে ভেসে ওঠে, বলছিলেন সদ্য বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। তিনি বলেন, “হলের বড় ভাইরা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হতো। এ দৃশ্যটি আমায় বেশ টেনেছে। মনস্থির করি, আমিও একদিন বিসিএস ক্যাডার হবো। আর পুলিশ হওয়াটাই হলো আমার স্বপ্ন। এরপর থেকে শুরু করি প্রস্তুতি। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই সামনের দিকে।” ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা বলেন, স্বপ্ন দেখি সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ার। স্বপ্ন দেখি দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের। কর্মজীবনে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের নেতিবাচক ধারণা বদলাতে সৎ পুলিশ অফিসার দরকার। কর্মজীবনে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যাতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে পারি সেই জন্য দোয়া করবেন। বিসিএস পরীক্ষা সামনে রেখে পরীক্ষার্থীদের জন্য ইটিভি অনলাইনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শমূলখ লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।    এমজে/ডব্লিউএন  

চীনে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জেসিয়ার ব্যস্ত সময়

বিশ্বের সেরা সুন্দরীদের সঙ্গে সমান তালে তাল মেলাচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জেসিয়া ইসলাম। ব্যস্ততা দেখে বোঝাই যাচ্ছে দম ফেলার  ফুসরত পাচ্ছেন না তিনি। এ বছর ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন জেসিয়া। বর্তমানে চীনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই নানা ইভেন্টের আয়োজন চলছে। আজ পার্টি ডিনার তো কাল চীনের উল্লেখযোগ্য স্থান ঘুরে দেখার প্রস্তুতি। সম্প্রতি তারা ওয়েন্সলি সিল্ক কালচারাল মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা সুন্দরীরা এসব সফর করছেন। এর আগে একটি নিলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেন সবাই। শেনজেনে আয়োজিত নারী উদ্যেক্তাদের ফোরামে অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেন জেসিয়াও। তবে পুরো বিষয়টাই উপভোগ করছেন জেসিয়া। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ছবি পোস্ট করছেন, প্রতিযোগিতার বিষয়ে আপডেট জানাচ্ছেন ভক্তদের।   এসএ / এআর

মনের মানুষটি কেমন স্বভাবের বলে দেবে ঠোঁট

স্বপ্নে যাকে দেখছেন, কল্পনায় যাকে ভাবছেন, যার কথা ভেবে ভবিষ্যৎ আঁকছেন, যাকে নিয়ে চরম ভালোলাগা এক ব্যস্ততায় দিন ও রাত কাটছে আপনার। জানেন কী কল্পনায় ঘিরে থাকা সেই প্রিয়সী জীবন সঙ্গী হিসেবে কেমন হবে? শুধু তাঁকে দেখেছেন মাত্র! আর প্রেমে পড়েছেন! কিন্তু জীবনসঙ্গী সম্পর্কে মনে প্রশ্ন অনেক , সঙ্গে নানা কৌতূহল! এরকম অবস্থায় , হবু জীবনসঙ্গী সম্পর্কে জানতে হলে কার্যকর করে দেখুন এই পন্থা। শরীরের বিভিন্ন অংশের আকার দেখে বোঝা যায়, যে সেই ব্যাক্তি বা মহিলা কেমন স্বভাবের মানুষ। সেই নিয়মে সমুদ্রশাস্ত্রে জানা যায় , মানুষের বহু রকমের গোপন বিষয়, কিংবা চারিত্রিক গঠন। ঠোঁটের আকার দেখে নিজের জীবন সঙ্গীর চরিত্রকে জেনে নেওয়া যায়। মোটা ঠোঁট মোটা ঠোঁট আপনার পছন্দের মানুষটির ঠোঁট যদি মোটা হয়, জানবেন তিনি চট করে রেগে যেতে পারেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই রাগ আবার ঠাণ্ডা হয়ে যায়। যাঁদের এঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্য অনেক কিছু করতে পারেন এই ধরণের ব্য়াক্তিরা। পাতলা ঠোঁট পাতলা ঠোঁট যাঁদের হবু জীবনসঙ্গীর ঠোঁট পাতলা গোছের , তাঁরা একটু চুপচাপ , শান্ত স্বভাবের। নিজের মনের কথা এঁরা বেশি কারোর সঙ্গে ভাগ করে নেন না। শো অফ এঁদের একদম পছন্দ নয়। গোলাপী ঠোঁট বেশ কিছু মানুষের ঠোঁটের রক্ষ আগাগোড়াই গোলাপী ধরণের হয়। এই ধরণের মানুষরা খুবই মিশুকে স্বভাবের হন। খুব সহজেই সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারেন এঁরা। এই রাশিগুলি জুটি বাঁধলে দাম্পত্য-প্রেম কারোর ভাঙার ক্ষমতা নেই। লাল ঠোঁট লাল ঠোঁট জন্ম থেকেই অনেকেরই ঠোঁটের রঙ গাঢ় প্রকৃতির হয়। এঁরা একটু রাগী প্রকৃতির মানুষ হন। কাজের জায়গায় এঁরা কর্মযোগী হিসাবে প্রসিদ্ধ হন। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া। আরকে//

বোনকে ডাক্তার বানাতে চান হকার মিজান

নীলক্ষেত অঞ্চলের পরিচিত মুখ মিজানুর রহমান। সবাই তাকে মিজান নামেই ডাকে। প্রতিদিন সকালে দুই ঘণ্টা ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করেন। এরপর বইয়ের দোকানে কাজ করেন। মা-বাবা আর তিন ভাই-বোন নিয়ে তাদের সংসার। অভাবের সংসারে পড়ালেখাও খুব বেশি করতে পারেননি। কিন্তু পড়ালেখা না করতে পারলেও ভাই-বোনেদের পড়ালেখা শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। এই আশা নিয়েই ২০০৮ সালে ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জলগড় থেকে ঢাকায় আসেন মিজান। তখন থেকেই জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত এবং নিউ মার্কেটের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করেন মিজান। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন পথে নামেন। বিক্রি বাবদ যা লাভ হয় তাই দিয়ে নিজের জন্য সামান্য রেখে বাকি টাকা বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোনদের জন্য পাঠিয়ে দেন। প্রতিদিনই গড়ে তিনশ টাকা করে লাভ হয় তার। দারিদ্র্যতাকে মেনে নিয়েই হাসিমুখে প্রতিদিনই ফেরি করে বেড়ান মিজান।

বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণ করেছেন যে তরুণী

উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের নারী ক্যাসি ডি পেকোল। তিনি ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের প্রতিটি দেশ। এছাড়া তিনিই প্রথম নারী, যার নাম বিশ্বের সব সার্বভৌম দেশ ঘুরে দেখার ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে আছে। তার সারা বিশ্ব ভ্রমণে খরচ হয়েছে মাত্র ২ লাখ ডলার। ক্যাসি ডি পেকোল ২০১৫ সালের জুলাইয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন এবং চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সব দেশ ঘোরা শেষ করেন। তার ভ্রমণ তালিকার ১৯৬তম ও সর্বশেষ দেশ হিসেবে ইয়েমেন যোগ হয়েছে। পুরো বিশ্বভ্রমণে তার লেগেছে ১৮ মাস ২৬ দিন, এর আগে বিশ্বের সব দেশ ঘুরতে সময় লেগেছিল  তিন বছর তিন মাস। ডি পেকোল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতি পেতে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণী আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পিস থ্রু ট্যুরিজমের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার ঘূর্ণিবেগের বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বভ্রমণের সময় ডি পেকোল দেশগুলোর মেয়র ও পর্যটনমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং এ সংস্থার শান্তি ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিশ্ব পরিভ্রমণে ডি পেকোলকে ২৫৫টি ফ্লাইট ও পাঁচটি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়েছে। ৫০টির বেশি দেশে তিনি বৃক্ষরোপণ করেছেন ও প্রতিটি দেশে তিনি অবস্থান করেছেন দুই থেকে পাঁচদিন। তার সারা বিশ্ব ভ্রমণে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ডলার, যার কিছুটা তিনি নিজে জমিয়েছেন এবং অবশিষ্ট বড় একটা অংশ উঠে এসেছে ক্লিফ বার, ইগল ক্রিক ও বিশ্বের ইকো-হোটেলগুলোর মতো পৃষ্ঠপোষকের অনুদান থেকে। ডি পেকোল পুরো ভ্রমণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে নিয়ে এসেছেন, আশা করছেন তা দিয়ে নিজের চমকপ্রদ ভ্রমণের একটি তথ্যচিত্র তৈরি করার। পরবর্তী ধাপে ডি পেকোল পরিকল্পনা করছেন অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের। হাইস্কুলে থাকতেই জীবনে বড় মাপের কিছু করার কথা ভাবেন ডি পেকোল। বিশ্বের পরিবর্তন ও পৃথিবীকে উন্নত করার মতো কিছু করতে চাইতেন তিনি। ডি পেকোল বলেন, আশা ছিল এমন কিছুই সম্পন্ন করব, যে স্বপ্ন কিনা আমার চেয়েও বড় এবং বিশ্বে যার ইতিবাচক প্রভাব থেকে যাবে। ডি পেকোলের ভাষ্য, যখন আমার ২৫ বছর বয়স, তখন বাস্তবতা আমাকে বিশ্বভ্রমণের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি নিজের ছকবাঁধা জীবনযাপন নিয়ে খুশি ছিলাম না। একঘেয়ে চাকরি, নিজের প্যাশনকে উপেক্ষা করার বিষয়গুলো উদ্বিগ্নতা তৈরি করে। তাই সময় যেন আমাকে পেছনে ফেলে না যায়, তাই তখনই সিদ্ধান্ত নিই। বিশ্বাস রাখি নিজের ওপর। মাথায় ঢুকিয়ে নিই যে, কোনো পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গিই আমার অসাধারণ ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে হটাতে পারবে না। কিন্তু পরিব্রাজক শব্দটির সঙ্গে নারীমুখ স্পষ্ট করতে আজো বাঁধে বহু মানুষের। আর সেখান থেকেই উঠে আসে নানা কথা, উৎকণ্ঠা ও বৈষম্য। এ বিষয়ে ডি পেকোলের ভাষ্য, সাধারণভাবে বলতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি এ ভ্রমণে আমি সারা বিশ্বের মানুষের কাছ থেকে এতটা অতিথেয়তা পেয়েছি, তা বলার মতো নয়। তবে অতখানি যে আমি নারী বলেই তারা করেছে, তা মনে করি না। আবার বেশ কয়টি ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাও হয়েছে, যেখানে ছিল বৈষম্য ও অনৈতিকতা। কিন্তু যখনই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা আমার হয়, তখন আমি মনে করি না যে এটি ঘটেছে আমি নারী বলে। সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক এ অভিযানের অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। সূত্র: ফোর্বস ও বিজনেস ইনসাইডার। আরকে//

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি