ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১:৩৩:০৪

‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিদের প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত করার মিশন যার’

‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিদের প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত করার মিশন যার’

অধিকাংশ মানুষই গতানুগতিক জীবন যাপন করে। টাকা আয় করে, খায়, ঘুমায়। নিজেকে নিয়েই তারা বাঁচে। সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা নিজের ভালো থাকাতেই সন্তুষ্ট নয়। আশেপাশের মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে চান। মানুষের জন্য কাজের মধ্যেই খুঁজে নেন জীবনের স্বার্থকতা। নাজিয়া জাবীন এমনই একজন ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক। তিনি বাংলাদেশে ব্রেইল পদ্ধতিতে সৃজনশীল বই প্রকাশের পথ প্রদর্শক। `ব্রেইল পদ্ধতি` হলো দৃষ্টিহীণ শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশুনার একটি বিশেষ পদ্ধতি যা ১৮২১ সালে ফরাসি নাগরিক লুই ব্রেইল আবিষ্কার করেন। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনায় ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। কিন্তু সৃজনশীল পড়াশুনা বা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ব্রেইল পদ্ধতিতে ছাপানো বই না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছিল দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা। নাজিয়া জাবীনই প্রথমে এদেশে ব্রেইল পদ্ধতিতে সৃজনশীল বই প্রকাশ ও বিনামূল্যে বিতরণের ঝুঁকি নেন। অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় বাংলা একাডেমীতে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার একটি স্টল আপনারা অনেকে দেখেছেন নিশ্চয়। দোকানের বাইরে সাইনবোর্ডে সুন্দর করে দুটি লাইন লিখা। তাতে লিখা ` মানুষ দৃষ্টিহীন বলেই অন্ধ নয়, মানুষ মূলত প্রজ্ঞাহীন বলেই অন্ধ।` এই লাইনটি নাজিয়া জাবীনকে প্রতিনিয়ত কাজের অনুপ্রেরণা দেয়। `দৃষ্টিহীন` বা ` দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী` শব্দগুলো ব্যবহারে চরম আপত্তি নাজিয়া জাবীনের। তিনি বলেন, `দৃষ্টিজয়ী`। প্রজ্ঞাহীন মানুষ প্রজ্ঞাবান হয় বইয়ের স্পর্শে। দৃষ্টিহীনদের প্রজ্ঞা জাগাতে, বা তার ভাষায় দৃষ্টিজয়ী করতে নিরলস কাজ করে যাওয়া এই আলোকিত মানুষটি প্রতিবছর নিজ উদ্যোগে বইমেলায় ব্রেইল পদ্ধতিতে লিখা প্রচুর সৃজনশীল বই দৃষ্টিজয়ীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকেন। বর্তমানে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজ করছেন দৃষ্টিজয়ীদের জন্য ব্রেইল বই প্রকাশে। বাংলা একাডেমী চত্বরে ব্রেইল প্রকাশনার স্টলে বসে তিনি জানিয়েছেন দৃষ্টিজয়ী মানুষদের নিয়ে তার স্বপ্নের কথা। তার সঙ্গে হওয়া আলাপচারিতা তুলে ধরেছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনি একজন লেখক। সৃজনশীল ব্রেইল বই প্রকাশের চিন্তা মাথায় কীভাবে এল? নাজিয়া জাবীনঃ আমার প্রথম ছড়ার বইটা যখন প্রকাশিত হলো তখন সেই অনুষ্ঠানে অনেক `দৃষ্টিজয়ী` বন্ধুরা এসেছিলেন। কারণ, তখন আমি `প্রেরণা` নামে দৃষ্টিজয়ীদের একটি সংগঠনে কাজ করতাম। একসময় দেখলাম, তারা বইটা তো পড়তে পারছে না, কিন্তু নেড়েচেড়ে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বইয়ের গন্ধ শুঁকছেন।  কেউ কেউ দূরে গিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ঘষে বইয়ের পৃষ্ঠা গুণছে। এ দৃশ্য আমার ভেতরটাকে ধাক্কা দেয়। আমি উপলব্ধি করি, তারও পড়ার অধিকার আছে। উন্নত বিশ্বে তার মত দৃষ্টিজয়ীরা পড়াশুনা করছে। আমাদের দেশেও পুরনো ব্রেইল পদ্ধতি চালু আছে। তাহলে তো আমাদের দৃষ্টিজয়ী বন্ধুরাও সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ পাওয়ার কথা। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি টঙ্গী ব্রেইল প্রেসে যাই। এটি সরকারী। গিয়ে দেখি বেহাল দশা। প্রায়ই বন্ধ থাকে। এরপর আর কোথায় কোথায় কী আছে খোঁজখবর নেয়া শুরু করলাম। এসব করতে করতে ২০০৮ সাল চলে যায়। ২০০৯ সালে আমার লিখা একটি ছড়ার বই `ছড়ার তালে মনটা দোলে` নামে একটা বই ব্রেইল পদ্ধতিতে বের করি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ব্রেইল পদ্ধতিতে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যের বই। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ তারপর প্রকাশনায় কীভাবে এলেন? নাজিয়া জাবীনঃ যেসব দৃষ্টজয়ী বন্ধুদের বইটা দিয়েছিলাম, তাদের স্কুলে গিয়ে দেখলাম বইটার ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা উঁচু উঁচু অক্ষরগুলো সমান হয়ে গেছে। তারা বইটি পড়তে পারছেনা। তখন ভাবলাম, তাহলে কী করা যায়? এরপরে আমারই লেখা `বিনির সাথে পুতুলের বিয়ে` বইটির ব্রেইল বের করলাম। একসময় মনে হলো তাদের পড়ার চাহিদা এতো বেড়ে গেছে শুধুমাত্র আমার লিখা বই দিয়ে তাদের তৃষ্ণা মেটানো সম্ভব না। তখন আমি ব্রেইল পদ্ধতিতে সাহিত্যের বই প্রকাশের জন্য বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে গেলাম। সাহিত্য প্রকাশের মফিদুল হক প্রথম এগিয়ে আসলেন। তিনি প্রায় সাতটি বই আমাকে দিলেন। বললেন, তুমি এগুলো ব্রেইল কর। আমি আছি তোমার সঙ্গে। এই সাতটি বই নিয়ে আমরা ২০১১ সালে বই মেলায় আসলাম। ভেবে দেখলাম, মানুষকে জানান দিতে হবে। যখন সাধারণ মানুষ জানবে, দৃষ্টিজয়ীরা পড়তে জানে কিন্তু তাদের বই নেই, তখন আমরা ব্রেইল পদ্ধতিতে সাহিত্য রচনার জন্য দাবি তুলতে পারব। একটা জোরালো আওয়াজ বের হবে। ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমী আমাদের সহায়তা করলেন। আমরা একটি স্টল পেলাম। দেখা গেল প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। দৃষ্টিজয়ী বন্ধুদের ভিড় বাড়ছে। তারা গড়গড় করে পড়তে পারে। অথচ তাদের হাতে বই নেই। তখন আমাদের দুটি স্টল দেওয়া হলো। মানুষ এসে ভিড় করে। দৃষ্টিজয়ী বন্ধুদের পড়া শুনে। ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমী আমাদের স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীর সহায়তায় প্রথম ব্রেইল বইটি বের করলেন। বইটি হলো সৈয়দ শামসুল হকের ছোটদের জন্য লিখা `বঙ্গবন্ধুর বীর গাঁথা`। মেলা মঞ্চে এটার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা এতে নতুন করে অনুপ্রাণিত হলাম। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ এ পর্যন্ত কতগুলো বই স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা থেকে বের হয়েছে? অন্য বাণিজ্যিক প্রকাশনার সঙ্গে আপনাদের মৌলিক পার্থক্যটা কী? নাজিয়া জাবীনঃ আমরা এ পর্যন্ত ৬১ টি বই বেইল পদ্ধতিতে প্রকাশ করেছি। আরো প্রচুর বই প্রকাশের কাজ চলছে। অন্য প্রকাশনার সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে বড় মৌলিক পার্থক্য হলো আমরা বাণিজ্যিক প্রকাশনা নই। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দৃষ্টিজয়ী বন্ধুদের মাঝে আমরা বই বিতরণ করি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কি পরিমান ব্রেইল স্কুল আছে? ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত? নাজিয়া জাবীনঃ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনার জন্য ব্রেইল স্কুল অনেক আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতি জেলায় একটি করে স্কুল আছে। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য, কখনো নির্দিষ্ট কোন জরিপের আওতায় ব্রেইল শিক্ষার্থীদের আনা হয়নি। ফলে বর্তমানে কী পরিমাণ শিক্ষার্থী ব্রেইলে পড়াশুনা করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা ধরে নিই দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১০% কোন না কোন ভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম। তাদেরই ১০% দৃষ্টিজয়ী। এবং এরাই ব্রেইলে পড়াশুনা শেখার অধিকার রাখে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সাধারন পড়াশুনার চেয়ে ব্রেইল কী ব্যয়বহুল নয়? এর প্রতিবন্ধকতাগুলো কেমন? নাজিয়া জাবীনঃ অনেক ব্যয়বহুল। কারণ ব্রেইলে এক পৃষ্ঠা মানে সাধারণে তিন পৃষ্টা। প্রতিটি পাতা প্রিন্ট করতে সাত থেকে দশ টাকা খরচ হয়। তারপর স্পাইরাল বাইন্ডিং করতে হয়। দৃষ্টিজয়ী বন্ধুরা টেপ শোনে। ক্লাসে স্যারের লেকচার শোনে। স্যারের লেকচার রেকর্ড করে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় তাদের পরীক্ষার সময়। পরীক্ষার হলে তাদের একজন হ্যান্ডরাইটারের দরকার হয়। কিন্তু হ্যান্ডরাইটার পাওয়া যায় না। হ্যান্ডরাইটারের সাহায্য ছাড়া পরীক্ষা দেওয়া যায় না। কারণ শিক্ষক তো আর ব্রেইল চেক করতে পারেনা। এসব নিয়ে দৃষ্টিজয়ী বন্ধুদের প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা কতটুকু মানসম্মত হয় তা ভাবার বিষয়। আমার মনে হয়, ব্রেইল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তাদের পুরো পরীক্ষাটা যদি মৌখিক পদ্ধতিতে করা যায় তাহলে আরো ভাল হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনায় কী পর্যাপ্ত ব্রেইল বই পাওয়া যায়? নাজিয়া জাবীনঃ প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনায় ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত ব্রেইল বই পাওয়া যায়। তবে তা পর্যাপ্ত সে কথা বলা যাবেনা। একটা বই পাঁচ ছয় জন মিলে ভাগ করে পড়তে হয়। ২০১৩ সালে শিক্ষামন্ত্রী মেলায় এসেছিলেন। তখন আমরা সবাই মিলে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, সাধারণ বই যদি বছরের প্রথম দিন পাওয়া যায়, তাহলে ব্রেইল বই কেন পাওয়া যাবেনা। তিনি প্রথমে একটু থতমত খেলেও পরে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে অল্প অল্প ব্রেইল বই স্কুলে আসছে এবং সেই বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ সাহিত্য বা সৃজনশীল পড়াশুনার অন্যান্য শাখায় পড়াশুনার ব্যাপারে অভিভাবকদের উৎসাহ কেমন? নাজিয়া জাবীনঃ অভিভাবকদের উৎসাহ প্রচুর। এই যে আমার এখানে মুমুর মা আছেন। মুমু যখন মাত্র তিন বছর বয়সী তখন খেলতে গিয়ে তার মাথায় টেলিভিশন পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় মুমু দৃষ্টিশক্তি হারায়। তাকে নিয়ে তার বাবা মায়ের অনেক উৎসাহ। সে অন্য সবার মতো নিজের পায়ে দাঁড়াবে। সমাজে একজন হবে। শুধু মুমু নয়, মুমুর মতো অনেকেই রোজ মেলায় আসছে। আমাদের স্টলে ভিড় করছে। খেলছে, দৌড়াচ্ছে, হৈচৈ করছে। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশে এমন অভিভাবকদের জন্য একটা কাউন্সিলিংয়ের জায়গা প্রয়োজন। মাঝে মাঝে অভিভাবকরা হাঁপিয়ে উঠেন। আবার কখনো হতাশা দেখা দেয়। কিন্তু তাদের জন্য কোন কাউন্সিলিং সেন্টার নেই। কোন তথ্যকেন্দ্র নেই। এটা খুব জরুরি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ দৃষ্টজয়ী বন্ধুরা আপনার কাছে সাধারণত কী ধরনের বই খোঁজ করে? নাজিয়া জাবীনঃ বাচ্চারা সাধারণত ভূতের বই, গোয়েন্দা কাহিনী, সায়েন্স ফিকশন পছন্দ করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ছে তারা কিন্তু এসবে সন্তুষ্ট না। তারা এখন বলে, `আপু, আপনি যদি ভালবাসা দিবসে প্রেমের কবিতা পড়তে পারেন, আমরা কেন পারব না?`। আসলে তারা তাদের বয়স ও সময়োপযোগী বই প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমরা বই দিতে পারছি না। বাজারে বই নেই। এবার আমরা দশবছর পূর্তিতে তাই একটা মজার কাজ করলাম। আল্পনা হাবীব ও লবি রহমানের রেসিপি নিয়ে রান্নার বই বের করলাম। কারণ দৃষ্টিজয়ী বন্ধুরা রান্না করতে ভালবাসে। আমি যেহেতু শিশুতোষ লেখক, শুরু করেছিলাম শিশুতোষ লেখা দিয়ে। তখন আমি ভাবিনি একদিন এতবড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে। এখন সময় আমাকে বলছে শুধু শিশুতোষে আবদ্ধ থাকলে হবেনা। পাশাপাশি আমরা তাদের অন্যান্য বিষয় নিয়েও ভাবছি। প্রত্যেক বছর `নারীপক্ষ` নামে একটি সংগঠন মেয়েদের নানা রকম স্বাস্থ্যতথ্য দিয়ে থাকেন। তাদের এমন অনেক প্রশ্ন আছে যা আমাদের করতে পারেন না। তারা তাদের সেসব বিষয়ে জানার যেন সুযোগ পায় আমরা সেই ব্যবস্থা করছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ রাষ্ট্রের কাছে সমাজের কাছে কোন প্রত্যাশা থাকলে বলতে পারেন? নাজিয়া জাবীনঃ প্রত্যাশা নয়, স্বপ্ন বলি। প্রথম স্বপ্নটি হলো দেশের সব শিশুর হাতে বই উঠবে। একটি বাচ্চাও পড়াশুনার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা। দ্বিতীয়টি স্বপ্নটি হলো একটি ব্রেইল লাইব্রেরী বা ব্রেইল কর্ণার করা। দেশে অনেক বিত্তবানরা আছেন। ধনী ব্যক্তিরা চাইলে এটা করা সহজ। তেমন কেউ স্বেচ্ছায় আগ্রহী হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য। নাজিয়া জাবীনঃ সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।  
প্রেম নিবেদনের সেরা ১০ পংক্তি

প্রেম-ভালোবাসা স্বর্গীয়। হাজারো দ্বন্দ্ব সংঘাতের এই পৃথিবী টিকে আছে একমাত্র ভালোবাসার টানে। স্নেহ-প্রীতির বন্ধন, প্রেম আর ভালোবাসার জন্য কি বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন হয়? কিন্তু তারপরও দুনিয়ার মানুষজন পালন করে আসছে একটি দিন। আর সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটিই আজ— বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা নিবেদনের জন্য আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কীভাবে? কী বলে মন জয় করবেন আপনার কাঙিক্ষত মানুষের?  এ নিয়ে যখন ভাবনার ঘেরাটোপে ঘুরপাক খাচ্ছেন তখন আপনার জন্য রইল প্রেম নিবেদনের পৃথিবীর বিখ্যাত ১০ উক্তি। এগুলো থেকে শিখে জেনে নিন ভালোবাসার সঠিক অভিব্যক্তি— * ‘হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে তোমার কাছে মিনতি করছি, তোমার মন আর আমাদের মধ্যেকার ভালবাসার সবটুকু আমাকে জানতে দিও।’ — সম্রাট অষ্টম হেনরি (১৬শ শতকের ইংল্যান্ড সম্রাট) *‘তুমি, শুধু তুমি কাছে থাকলে আমি বুঝি আমি বেঁচে আছি। অন্য পুরুষরা দাবি করে, তারা নাকি পরীর দেখা পেয়েছে। আমি দেখেছি শুধু তোমাকে, আর সেটুকুই আমার পক্ষে যথেষ্ট।’— জর্জ মুর (আইরিশ ঔপন্যাসিক) *‘তোমাকে যে ভালোবাসি তা কেবল তুমি কেমন মানুষ তা দেখে নয়, তোমার সংস্পর্শে আমি যেমনটা হয়ে উঠি তার আকর্ষণেও।’ — এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং (১৯শ শতকের ব্রিটিশ কবি) *‘আমি তোমায় ভালোবাসি, আমৃত্যু ভালোবাসব, আর মৃত্যুত্তর জীবন বলে যদি কিছু থাকে সেই জীবনেও ভালোবেসে যাব তোমাকে।’ — কাসান্দ্রা ক্লেয়ার (মার্কিন ঔপন্যাসিক) * ‘ভালবাসা কী তা জানতে পেরেছি তোমার জন্যই।’ — হারমান হেস (জার্মান কবি, ঔপন্যাসিক) *‘এসো, আমরা প্রেমকে অমর করে দিই।’ — হার্বার্ট ট্রেঞ্চ (আইরিশ কবি) * ‘ভালোবাসা, এসো, ঘুমিয়ে পড়ো হে, আমার নিকটে এসে, আমি জানি, আমি তোমার প্রেমের জোয়ারে গিয়েছি ভেসে।’ — রবার্ট ব্রাউনিং (১৯শ শকের ব্রিটিশ কবি) * ‘আমার অন্তরতম অন্তরে, যেখানে আমি একেবারে একা, সেখানে তোমার ঝর্ণাধারা কখনও শুকোবার নয়।’— পার্ল এস বাক (আমেরিকান ঔপন্যাসিক) * ‘তোমার কাছে আমার যত ঋণ,  সে ঋণ কভু শোধ হবার নয়, যতই করি অর্থ ব্যয় আর যতই করি দিবস অপচয়...’ — জেসি বেল রিটেনহাউস (আমেরিকান কবি) * ‘সবচেয়ে জরুরি কথাটিই বলা সবচেয়ে কঠিন, কারণ শব্দের বাঁধনে কথার অর্থ খাটো হয়ে আসে।’ — স্টিফেন কিং (আমেরিকান কথাসাহিত্যিক) / এআর /

অন্যরকম ভালোবাসার সন্ধানে চিলড্রেনস হার্ট

`ভালোবাসা`র সংঙ্গাটাই আজ সীমিত হয়ে পড়েছে। সবাই ভাবছে ভালবাসা মানে শুধুমাত্র দুজন তরুণ তরুণীর অলিখিত সম্পর্ক। কিন্তু এরকম হওয়ার কি কথা ছিলো? ভালোবাসা হওয়া উচিত সর্বজনীন। সেখানে জাত-পাত, ধনী-দরিদ্র, কালো-সাদার ভেদাভেদ থাকবে না। আমরা সবার মাঝে সবার মাঝে সেই ভালবাসাই ছড়িয়ে দিতে চাই। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এ কথাগুলো বলছিলেন নাঈম। ঢাকা কলেজে পড়েন এ তরুণ। নাঈমের অনুভূতির সঙ্গে একমত আল্পনা, প্রান্ত, মনিরা, জয়, ছড়া, মায়াবী, মাহীর, রোজা, রোজ, শিফাত, ওকেয়া, জাহিদ, রাব্বী, তানজীমা, আফরোজা। তারা সবাই শিক্ষার্থী। কেউ ইডেন কলেজে, কেউ ঢাকা কলেজে, কেউ জগন্নাথে আবার কেউ জাহাঙ্গীরনগরে পড়েন। অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন চিলড্রেনস হার্টের সদস্য তারা। সংগঠনটি কাজ করছে ঢাকার পথশিশুদের নিয়ে। আজ থেকে দু’বছর আগে বিভিন্ন কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এসব তরুণ তরুণীরা এ সংগঠন গড়ে তোলে। পড়াশুনার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ থেকেই তারা ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলে। গ্রুপের অন্যতম সদস্য আল্পনা জানান, সবাই  শুধু সমাজ পরিবর্তনের কথা মুখে মুখে বলে। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম মুখে না বলে কিছু কাজ করে দেখি। যখন প্রস্তাবটি বিভিন্ন বন্ধুদের দিলাম সবাই উৎসাহ নিয়ে রাজি হলো। গ্রুপের অপর সদস্য প্রান্ত জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবী বা কমিটি নেই তাদের। এখানে সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাজের সুবিধার্থে ফেসবুক গ্রুপে সাত জন এ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেন। এখন পর্যন্ত তাদের সদস্য সংখ্যা দেড় হাজারের কিছু বেশি। আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে চিলড্রেন হার্ট উদ্যোগ নেয় পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের। সেই লক্ষ্যে শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কে তিন শতাধিক শিশুর মাঝে খাবার বিতরণ করে তারা। খাবার নিতে আসা শিশুদের সঙ্গে তাদের দেখা গেল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ বা এসব ইভেন্টের টাকা কোথা থেকে আসে-জানতে চাইলে সংগঠনটির অন্যতম সদস্য ছড়া বলেন, আমরা নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে সংগঠনের এসব কার‌্যক্রমের খরচ বহন করি। কেউ টিউশন করি, কেউ বাসা থেকে সামান্য হাত খরচের টাকা পাই। এটাই মূলত সংগঠনের খরচ চালানোর উৎস। রমনা পার্কে চিলড্রেনস হার্টের যেসব সদস্য খাবার বিতরণ করছিল সেখানে খাবার নিতে আসা পথশিশু আকাশ জানায়, সে বেশিরভাগ সময় রমনা পার্ক ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। সে আরও জানায়, চিলড্রেনস হার্ট গ্রুপের ভাইয়া-আপুরা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে এখানে এসে খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে। চিলড্রেনস হার্টের বিভিন্ন সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে শতাধিক পথশিশুর মাঝে তারা শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। বিজয় দিবসে, নববর্ষ, ঈদ ও পূজায় ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে খাবার বিতরন করে তারা। চিলড্রেনস হার্টকে ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান-এমন প্রশ্নে প্রান্ত ও আল্পনার উত্তর, ‘আমরা পড়ালেখা শেষ করে নিজ নিজ ক্যারিয়ারে যাব। কারণ পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। তবে তার আগে সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার যে নেশা তা চিলড্রেনস হার্টের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’ তারা আরও বলেন, মানুষের সঙ্গে কাজ করার মধ্যে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। রোজা, ওকেয়া, রোজ, আফরোজা ও মাহীর এক সুরে বলে উঠেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে কিছু তুলে দেওয়ার পর তাদের মুখে যে হাসি ফুটে উঠে সেটি পৃথিবীর অন্য অনেক পার্থিব জিনিসের সঙ্গে অতুলনীয়। মনিরা ও জাহিদ বলেন, কেউ কেউ আমাদের কাজ নিয়ে হাসাহাসি করে। বলে আমরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছি। কিন্তু আমরা বনেই সুখ খুঁজে নিয়েছি। রাব্বী, তানজীমা ও মায়াবী বলেন, আমরা অনেকে লোক দেখানো ভালবাসা নিয়ে মাতামাতি করি। কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখের হাসিতেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। / এআর /

সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর যেসব বিষয় জানা জরুরি

প্রেম অবশ্যই দারুন অনুভূতির। কিন্তু এটিকেই সুখের একমাত্র মাপকাঠি ভাবা ঠিক নয়। আবার এটা মনে করাও ঠিক নয় , ভালোবাসার মানুষটিকে না পেলে আপনার জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।সঙ্গী আর আপনার শখ, জীবনযাত্রা, মতামত এবং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সব ক্ষেত্রে এক হবে এটা ভাবা ঠিক নয়। এটা মানতে হবে, যেকোন ব্যাপারে দুইজন মানুষের মতামত ভিন্ন হতেই পারে। দুজনের পছন্দ, দুজনকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আপনি যেমন ঠিক তেমনভাবেই  আপনাকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে আপনার সঙ্গীর। তাই সম্পর্কের শুরুতেই সঙ্গীর কিছু বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। না হয় সুখ দৌড়ে পালাতে পারে। কখনও কখনও সম্পর্কে অনেক বেশি চাওয়া-পাওয়া থাকে, যার সব কিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এজন্য সবসময় কি ঘটেছিল আর কি ঘটতে পারতো এই নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা ঠিক নয়। যদি আপনি একটা সুন্দর সম্পর্কের মধ্যে থাকেন তাহলে অবাস্তব চিন্তা না করে নিজেদের জন্য সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতেই পারেন। একটা প্রবাদ আছে, প্রেম জীবনে বারবার আসতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রথম প্রেমই জীবনের শেষ প্রেম কিংবা জীবনে প্রেম একবারই হয় , একারণে প্রেম ভেঙ্গে গেলে কেউ কেউ একাই জীবন কাটাতে চান। কিন্তু প্রেম ভেঙ্গে গেলে আপনি আর কখনও প্রেমে পড়বেন না -এমন ভাবনা ঠিক নয়। যদি কেউ তার আত্মার সঙ্গীকে প্রথম প্রেমের মাধ্যমে খুঁজে পান তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু প্রথম প্রেম ভেঙ্গে গেলে বুঝবেন আপনার জন্য জীবনে হয়তো তার চেয়েও চমৎকার কোনও সঙ্গী অথবা দারুন কোনো কিছু অপেক্ষা করছে। সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া/ এআর /

চলন্ত বাসে পাঠাগার

নগর জীবনের প্রধান সমস্যা যানজট। যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয় না-এমন মানুষ পাওয়া দায়। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা বলেছে, ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে রোজ ৩২ লাখ কর্মঘন্টার অপচয় হয় নগরবাসীর। যানজটের আটকা পড়ে গণপরিবহনে অলস সময় কাটাতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে ডুবে থাকেন। আবার অনেককে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে খোশ গল্প করতে দেখা যায়। কর্মব্যস্ত মানুষের চলাফেরায় যানজটের দুর্ভোগে ক্লান্ত চোখে স্বস্তি এনে দিতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। যানজটের মধ্যেও চলন্ত বাসযাত্রীদের জ্ঞানচর্চায় পাঠাগারের ব্যবস্থা করেছেন তারা। বাসে উঠে আপনিও এখন চোখ-মন ডুবাতে পারেন বইয়ের রাজ্যে। চলন্ত বাসে ব্যতিক্রম এই পাঠাগারের নাম বই বন্ধু পরিবহণ পাঠাগার। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আজিমপুর থেকে গাজীপুরগামী ভিআইপি-২৭ নম্বর বাসে এই পাঠাগার চালু করা হয়েছে। এই বাসে তাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী বই রাখা আছে। পাঠক সেখান থেকে নিজ হাতে বই নিয়ে পড়তে পারেন।   পাঠাগারটির উদ্যোক্তা `সোস্যাল চেইন ফর ডেভেলআপমেন্ট` নামের একটি সংগঠন। যেটির সদস্য কয়েকজন তরুণ। এই পাঠাগারের স্বপ্নদ্রষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আমিনুল ইসলাম। তার পাঠাগার গড়ে তোলার ভাবনা বেশি দিনের না। গত ৬ জানুয়ারি এমন পরিকল্পনা মাথায় আসে তার। এর ২০ দিনের মাথায় বাস্তবায়ন ঘটিয়ে ফেলেন আমিনুল। তবে তার এই বইবন্ধুর যাত্রা যে সংগঠনের কল্যাণে সেই সোশ্যাল চেইন ফর ডেভেলপমেন্ট’র যাত্রা ২০১৫ সালে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকায় কাজ করে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আস্তে আস্তে তারা সারাদশে কাজ করতে চায়। তবে এখন তাদের যত ব্যস্ততা সবই এই বইবন্ধু পাঠাগারকে ঘিরে। ৬টি বাস দিয়ে শুরু করলেও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তারা আজিমপুর থেকে গাজীপুর রুটে চলা ভিআইপি সার্ভিসের ২০টি বাসে এই লাইব্রেরি গড়ে তুলবেন। তারপর অন্যান্য রুট হয়ে দূরপাল্লার বাসেও আলো ছড়াতে চায় এই পাঠাগার। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বই বন্ধু প্রকল্পের উদ্দেশ্য বৃহৎ। সব গণপরিবহণে বই সংরক্ষনের মধ্য দিয়ে যাত্রী সাধারণের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করা। ঢাকা সিটির অভ্যন্তরীণ সব গণপরিবহণে বই সংরক্ষন; তীব্র যানযটের বিরক্তিকর ভ্রমনকে আনন্দঘন করে তোলা; যানযটে অপচয় হওয়া সময়কে মূল্যবান করে তোলা; দূরপাল্লার পরিবহণে বই সংরক্ষণের মাধ্যমে যাত্রীর চলার পথকে সহজ ও জ্ঞানমূলক করে তোলা; অডিও ডিভাইসের মাধ্যমে পড়তে না পারা যাত্রীদেরকে বই পড়ে শোনানোর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া হাসপাতাল, নৌ পরিবহন, দূরপাল্লার লঞ্চ, বাস, ট্রেন এবং বিমানে এটি চালু করার চিন্তা রয়েছে। বই বন্ধু পাঠাগার স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টিকে বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্তকরণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টিকে চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক উন্মুক্ত পাঠাগার স্থাপন করা। এছাড়া নবীন লেখকদের উৎসাহিত করতে বই বন্ধু প্রকাশনা করার চিন্তাও রয়েছে। বই বন্ধু পাঠাগারের গল্প শুনুন এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা আমিনুল ইসলামের মুখ থেকেই। তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইটিভি অনলাইনের  প্রতিবেদক কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক। ইটিভি অনলাইন : বই বন্ধু প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাই? আমিনুল ইসলাম :  আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম বন্ধু হচ্ছে বই। একটি ভালো বই পারে আমাদের জাগতিক ভাবনার জগৎকে প্রশস্ত করতে। নিজকে ইতিবাচক রাখতে বইয়ের বিকল্প নেই। বই বন্ধু সোস্যাল `চেইন ফর ডেভেলপমেন্ট`র একটি শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্প। দেশের সব শ্রেণিতে পাঠক সৃষ্টির লক্ষে এটি চালু করেছি। এছাড়া যেকোনো সময় পাঠক যাতে নিয়মিত বইয়ের সংস্পর্শে থাকতে পারে সে লক্ষে মূলত এই উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠীর জন্য নয়। সর্বসাধারণের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা গড়ে তুলতে এটি সাহায্য করবে। বই পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্থায়ী ও বিশেষ পাঠাগারের মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণের কাজকে এগিয়ে নিতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে প্রকল্পটি। ইটিভি অনলাইন : সোশ্যাল চেইন ফর ডেভেলআপমেন্ট সংগঠনটির কাজ সম্পর্কে যদি বলতেন? আমিনুল ইসলাম : ২০১৫ সালের নভেম্বর সোস্যাল চেইন ফর ডেভেলআপমেন্ট সংগঠনটি ১৫ জন বন্ধু দের নিয়ে প্রতিষ্টা করি। বর্তমানে  আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব  পালন করছি। প্রথমে ব্লাড গ্রুপিং, শীত বস্ত্র বিতরণ, পথ শিশুদের জন্যে নতুন জামা, মেডিকেল ক্যাম্পসহ কিছু সামজিক মানবিক কাজ করছে এই সংগঠনটি। ইটিভি অনলাইন : গণপরিবহনে পাঠাগার চালুর করার কথা কিভাবে মাথায় এলো? আমিনুল ইসলাম: দেখুন,পরিবহণে যাতায়াতের সময় আপনার আমার অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এই যানজটের ফলে দিন শেষে ক্লান্তি আর হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়। বাসে বসে অলস সময়কে প্রাণবন্ত করতে মূলত চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আজিমপুর টু গাজীপুর ভিআইপি-২৭ নামক বাসে এই প্রকল্প চালু করেছি। চলন্ত বাসের পাঠকরা আমাদেরকে অনেক ভালো সাড়া দিচ্ছেন। যদিও প্রাথমিকভাবে মাত্র ৬টি বাসে বই বন্ধু পাঠাগার চালু রয়েছে, যা পাঠকের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ইতোমধ্যে বাস মালিকের সহযোগিতায় বাসের স্টাফদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এই ব্যাপারে উক্ত পরিবহনের পরিচালক আবদুর রাজ্জাক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ইটিভি অনলাইন :  প্রকল্পটিকে নিয়ে আগামীর ভাবনা কি? আমিনুল ইসলাম :  আগামীতে এই প্রকল্প নিয়ে অনেকগুলো চিন্তা ভাবনা রয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ পথের যাত্রীবাহী পরিবহণসমূহে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাগার স্থাপনের মধ্য দিয়ে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষকে বই পড়া কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাই। ইটিভি অনলাইন : চলন্ত বাসে পাঠাগার চালাতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না? আমিনুল ইসলাম :  আমাদের সংগঠনের সবাই শিক্ষার্থী। তাই প্রকল্প চালাতে অর্থই বড় সমস্যা। কেউ কেউ স্বেচ্ছায় কিছু সহায়তা করেন, যেটি একেবারেই অপ্রতুল। সমাজের হৃদয়বানরা এগিয়ে আসলে বই বন্ধু প্রকল্পটি আরও ভালো ভাবে চালানো সম্ভব। যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন- বইবন্ধু, সোশ্যাল চেইন ফর ডেভেলপমেন্ট, হাউস ২০, রোড ১২, শেখেরটেক, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭ এই ঠিকানায়। ফেসবুকেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন www.facebook.com/scd.org -এই ঠিকানায়। / এআর /    

শেষ বিকেলের আলো

"আন্নেরা কই থন আইসেন আফু? আমগোরে দেখতা নি আইসো? কত মাইনসে আহে.......হুদা আহে না......." জীবন সায়াহ্নে দু:খ ভারক্রান্ত মনে আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বিনতি সেন বনলতা। বয়সের দিক থেকে সত্তোরের কোঠায় পাঁ রেখেছেন আরও আগেই।  বনলতা সেনের জীবনের এই অন্তিম লগ্নে এসে ঠাঁই হলো এক আশ্রমে। শেষ বয়েসের হেরে যাবার গল্প শুনাতে গিয়ে  করলেন নিজ থেকেই। নিজ নিয়তিকে মেনে নিয়ে আক্ষেপ করছিলেন তার সঙ্গে আশ্রমে থাকা অন্য এক পৌঢ়া মৃণালিনী দেবীর (ছদ্মনাম) ভাগ্যে ঘটে যাওয়া নির্মমতার কথা মনে করে। এক কথা, দু’কথায় অব্যক্ত কথাগুলো ভাষা পেতে শুরু করে মৃণালিনী দেবীর। শখ করে ছেলের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন আশ্রমে আসার বছর দুই পরে। আশ্রমের ছুটি যে সহজে মেলে না। সেবার পূজোর আয়োজন সারা বাড়ি জুড়ে। বউমাকে দেখে আবেগে কেঁদে দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মৃণালিনী দেবী। কতদিন পর দেখা! ছেলে-বউ বাচ্চা। কাজের চাপে মাকে ভুলে যেতেই পারে। কিন্তু মৃণালিনী কি করে ভুলেন? যেই বউমাকে জাপটে ধরলেন, এমনি করে সাথে সাথে এক ঝটকা মেরে সরিয়ে দিলেন বুড়ো মানুষটাকে। বুড়ো বয়েসের শরীরের গন্ধে যদি দামি পারফিউমের ঘ্রাণ ফিকে হয়ে যায়? এই ভয়ে কাছেই ঘেষতে দিলেন না। নিরুপায় হয়ে কাজের মেয়েকে দিয়ে কোনো রকমে স্টোর রুমটা পরিষ্কার করে থাকার মত করে নিয়েছিলেন তিনি। পূজোর সকাল, তাই সবাই ট্রেন্ডি কাপড়ে তৈরি। মাকে ছাড়া পূজো দেরি হয়ে যাবে এই চিন্তায় কাঁপা হাতে তিন বছর আগে ছেলের দেওয়া শেষ শাড়িটা পরে নিলেন মৃণালিনী। বাড়ির কর্ত্রী বাদ দিয়ে ছেলের ইচ্ছায় বৃদ্ধা পূজোর থালি নিতে হাত বাড়ালে বউমা প্রদীপের গরম তেলটা হাতেই ফেলে দিল। গরম তেল পড়ে  মৃণালিনীর কুচকে যাওয়া চামড়া ছেত করে পুড়ে গেল। পুড়ে যাওয়া অংশে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল তার। কিন্তু মৃণালিনীর শরীর পুড়া জ্বালার চেয়ে মনের জ্বালাটা কয়েকশ গুণ বেশি ছিলো। বউ না হয় অন্য বাড়ির মেয়ে। তার অবহেলা মনকে বুঝানো যায়। কিন্তু দশ মাস দশ দিন যে ছেলে সে জঠরে ধারন করেছিলো সেই ছেলের এমন তাচ্ছিল্য, অবেহেলা ও বকাঝকার কিছুতেই মনে সইছিলো না তার। বুড়ো বয়েসে মৃণালিনীর আধিখ্যেতা নাকি তার সংসারে অশান্তি ডেকে আনছে! সেদিন দু`বেলা অভুক্ত, পোড়া হাত দিয়ে খাবার যে জো নেই। মাঝরাতে খিদের জ্বালায় মৃণালিনী রসুইঘরে (রান্নাঘরে) যান। কিন্তু বউমা মৃণালিনীর পুড়ে লাল হয়ে যাওয়া হাতটা এক ঝটকায় টান দিলে তিনি আছাড় খেয়ে সামনের বেদিতে পড়ে যান। বুড়ো মানুষ ভুলে গেলেন যে বউ এর জিনিসে বাইরের কেউ হাত দিলে তার মেজাজ চটে যায়। মাঝখান থেকে ছেলেটার মায়ের কাজের জন্য বারবার বউয়ের কাছে মাফ চাইতে হল। মৃণালিনীর ছেলেটা ছোটবেলা থেকেইবড় বাধ্য। ঝামেলা একদম সইতে পারে না! তাইতো মৃণালিনীর শেষ ইচ্ছেটাও পূরণ করেছিল। পরদিন ভোরেই আশ্রমে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে তড়িৎ গতিতে। বুধবার সকালে মৃণালিনী দেবীকে আশ্রমে রেখে যাওয়ার সময় মায়ের প্রতি মায়া দেখিয়ে পাঁচশো টাকা হাতে গুঁজে দিলেন। যাওয়ার সময় বলে গেলেন তার সংসারে যেন মৃণালিনী আর অশান্তি না করেন। মৃণালিনী এবারও তার ছেলের কথা রেখেছেন। ওই ঘটনার পর পাঁচ বছর হয়ে গেলেও ছেলের সংসারের অশান্তি করতে আর কখনও সে যায়নি! কোনো ধরনের যোগাযোগও নেই তার ছেলের সংসারের সাথে। ছেলে বউ নিয়ে সুখে আছে এতেই মৃণালিনীর শান্তি খুজে পান। মরবার আগে এর চেয়ে আর বেশি কী বা  চাওয়ার আছে মৃণালিনীর! উপরের ঘটনাকে কেউ আমার মস্তিষ্ক প্রসূত মনে করলে ভূল করবেন। এই ছিল চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়ায় অবস্থিত "আমেনা বশর বৃদ্ধাশ্রম" এর প্রতিনিয়ত ফেলা দীর্ঘশ্বাস এর কেবল একটি। আমি কেবল নামটা বদলে দিয়েছি,আশ্রমের দাদুকে যে কথা দিয়েছি তার নাম কেউ জানবে না। নাম জানলে যে বদনাম হবে আদরের ছেলের! এমন হাজার গল্পের সাক্ষী একেকটা আশ্রম। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যত্নের কমতি রাখেনি, তবুও ছানি পরা চোখগুলো প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরে তাদের প্রিয়জনদের হাসিমাখা মুখগুলোকে। একেকটা আশ্রম যেন পরাজিত মানবতার দুঃসহ কষ্টের, গ্লানির আর কান্নার অসহ্য বেদনার এক নীড়। যে সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তায় মা-বাবা জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন,নিজেদের অস্তিত্বের কথা ভাবেননি। আজ কিনা তাদেরই একটু আদর, একটু সম্মান, সামান্য কথা বলার সময় ভিক্ষা করতে হয় অফিসার, গ্রাজুয়েট ব্যস্ত সন্তানের কাছে! আমরা আধুনিক হচ্ছি পোশাকে-কলমে! কিন্তু প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারছি না! মানবিকতার চরম অপমান ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় আমাদের দিন দিন গ্রাস করে ফেলছে। আমি এ রমক আধুনিক যুগের সন্তান হতে চাইনা! জীবন সায়াহ্নে এমন সন্তানের মা হতে চাইনা! এমন সন্তানও হতে চাই না! শেষ বিকেলের আলোয় জয় হোক মানবতার। ভালো থাকুক জগতের সকল বাবা-মায়েরা।   লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (তৃতীয় বর্ষ) টিকে  

মোহ আর ভালোবাসার তফাৎ

ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক নয়। গানের এ কথাটি দ্রুব সত্য। কিন্তু ক’জন মানেন এটি। অনেকেই  আছেন যারা মোহকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেন। উঠতি বয়সী তরুণ তরুণীরা এ ভুলটা বেশি করেন। কাউকে ভালো লাগলেই মনে করে বসেন এই বুঝি ভালোবাসা। কিন্তু তাৎক্ষনিকভাবে কাউকে ভাল লাগাটাই ভালোবাসা নয়। এ বিষয়টি অনেকেই বুঝতে চান না। কোনটা ভালোবাসা আর কোনটা মোহ তা বুঝবার কয়েকটি উপায় রয়েছে। এ নিয়ে হাফপোস্টে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। সেটি অবলম্বনে আসুন জেনে নিই কোনটি ভালোবাসা আর কোনটি মোহ। ১. মোহ`র সঙ্গে শরীরের একটা আকর্ষণ থাকে। ভালোবাসার অনুভূতি হয় হৃদয়ের গভীর থেকে। ২.মোহ`র কারণে মানুষ কারো প্রতি অযৌক্তিক কিংবা পাগলের মতো আচরন করে। ভালোবাসা মনকে শান্ত করে।৩.  তাৎক্ষনিকভাবে কাউকে ভাল লাগলে সেটা হয় মোহ। আর ভালোবাসা ধীরে ধীরে জন্ম নেয়। ৪. মোহ তীব্র হয়।কিন্তু এর স্থায়ীত্বতা খুব কম সময় থাকে। অন্যদিকে ভালোবাসার অনুভূতি কখনও শেষ হয় না। ৫. মোহ আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ভালোবাসা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রাধীন। ৬.মোহ`র সঙ্গে কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। ভালোবাসার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। ৭.মোহ মানষকে হিংসাপরায়ন ও আসক্ত করে তোলে। ভালোবাসা অন্যকে বুঝতে সাহায্য করে, বিশ্বাস তৈরি করে। ৮. মোহ সংকীর্ণ করে, ভালোবাসা গভীরতা বাড়ায়। ৯.মোহ স্বার্থপর বানায়, ভালোবাসা দয়ালু তৈরি করে। ১০. মোহ ছোট জিনিসকেও বড় করে তোলে। ভালোবাসা সবকিছু ছেড়ে দেয়। ১১. মোহ আধিপত্যপ্রবণ করে তোলে। ভালোবাসা মহান তৈরি করে। ১২. মোহ শত্রুতা তৈরি করে। আর ভালোবাসা ক্ষমা করে দেয়। ১৩.মোহ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। ভালোবাসার কোনো সময়সীমা নেই। ১৪.কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে মোহ জন্মায়। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা তৈরি হয়। ১৫. মোহ একজনকে ধবংস করে। আর ভালোবাসা একজনকে পরিপূর্ণ হতে সাহায্য করে। সূত্র : হাফপোস্ট/ এআর

যৌনশক্তি শেষ করে দেয় পেইন কিলার : গবেষণা

সামান্য ব্যথাতেও অনেকে পেইন কিলার খেয়ে ফেলেন। একটু বেশি ব্যথা হলে তো কথাই নেই। মুড়ির মতো পেইন কিলার খাচ্ছেন লোকজন। আপনিও অতিরিক্ত মাত্রায় পেইন কিলার খেয়ে থাকলে, এখনই সাবধান হন। এক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য রয়েছে বিপদজনক বার্তা।  ইবুপ্রফেনের (জ্বর, মাথা ব্যাথা, দাঁতের ব্যাথা, ব্যাক পেইন, বাত, মিন্সট্রুয়াল ক্র্যাম্স এর ব্যাথায় ব্যবহার করা হয়) ওপর গবেষণা করে একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছে, কোনো পুরুষ অতিরিক্ত মাত্রায় পেইন কিলার খেলে যৌন ক্ষমতা তিনি চিরতরে হারাতে পারেন। পাশাপাশি মানব শরীরের পেশী ভেঙে যাওয়া ও ক্লান্তির মতো নানা সমস্যায়ও পড়তে পারেন। বিজ্ঞানীরা ১৮ থেকে ৩৫ বছরের পুরুষদের ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পান। এ সময়কালে ইবুপ্রফেন খাওয়ার পর পুরুষদের যৌন হরমোনের গতি প্রকৃতি কী অবস্থায় থাকে তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা।  এতে দেখা যায়, দিনে দু`বার ৬০০ মিলিগ্রাম করে ইবুপ্রফেন পেইন কিলার ওষুধ তাদের শরীরে টেসটোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও শরীরের স্বাভাবিক নিয়ম ব্যহত হয়। কোপেনহেগেনের এক চিকিৎসক বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ইবুপ্রফেন খেলে মানব শরীরে স্বাভাবিক টেসটোস্টেরনের উৎপাদনের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ওষুধ ছাড়া কমে যায় এর উৎপাদন। সূত্র: জিনিউজ। এসি/ এআর

নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠার উপায়

আমাদের অনেকেরই ধারণা, নিজেকে আকর্ষণীয় করার বিষয়টি শুধু নারীরাই ভাবে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এখনকার পুরুষরাও অনেক বেশি সৌন্দর্য সচেতন। তাইতো নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে ও নারীদৃষ্টি আকর্ষণ করতে সচেতন পুরুষরা নিজের প্রতি একটু বেশি খেয়াল রাখেন। তবে নারীদের কাছে পুরুষদের কিছু আকর্ষণীয় বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপের ফলাফল থেকে জানা গেছে, পুরুষের কিছু অদ্ভুত বিষয়ের দিকে নারী আকর্ষণ কাজ করে। সবার মাঝ থেকে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে ও নারীদৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাই সাধারণ কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। চশমায় আবেদনময়ী ছেলেরা চশমা পরলে অনেক বেশি ইনোসেন্ট ও আবেদনময়ী মনে হয়। তাই চশমা পরা ছেলেদের প্রতি নারীদের আকর্ষণ বরাবরই বেশি।   ঘুম ঘুম কণ্ঠ ঘুমের মধ্যে কথা বললে ছেলেদের কণ্ঠস্বর অনেক গম্ভীর ও গভীর মনে হয় যা নারীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। চোখের বড় পাপড়িতে আলাদা আকর্ষণ যেসব ছেলের চোখের পাপড়ি বড় তাদের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ বেশি থাকে। এই পাপড়ির কারণেই অনেক মেয়ে ছেলেদের প্রেমে পড়ে যায়। মাস্কারা ছাড়াই চোখের পাপড়ির এই সৌন্দর্যের প্রেমে পড়া দোষের কিছু না। পোশাকে ফিটফাট সাদা শার্ট ও মাপ মতো তৈরি করা প্যান্ট ছেলেদের সৌন্দর্য নারীদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলো। নিজের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরিধানে ছেলেদের অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে। হাতা গুটিয়ে রাখা ফুল হাতার যে কোনো পোশাকের হাতা কনুইয়ের দিকে খানিকটা গুটিয়ে রাখলে তা নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে নারীরা ছেলের মাঝে একটা আবেদনময় সৌন্দর্য খুঁজে পায়। ফলে তাকে অন্য সবার কাছ থেকেই আলাদা করে তোলে নারীরা। হাত-পা পুরুষের হাত ও পায়ের সৌন্দর্য তাৎক্ষনিকভাবে নারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই হাত-পায়ের যত্নের দিকে নজর দিতে হবে। যেসব ছেলের হাত-পা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নখ কাটা থাকে অর্থাৎ বলতে গেলে যা দেখে বেশ গোছানো বা টিপটপ লাগে তাদের প্রতি নারীরা বেশি আকর্ষ বোধ করে। দাগ বা ক্ষত চিহ্ন ছেলেদের মুখে কোন ক্ষত বা কাটা দাগ থাকলে তা নারীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় লাগে। একে//

নারী উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা ১৯ জানুয়ারি

আগামী ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার তামি’স ফ্যাশন বিডি এবং এফ এন্ড সি’র উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানির ধানমণ্ডিতে হ্যাংআউট রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শতাধিক নারী উদ্যোক্তা। ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স ভিত্তিক বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তাদের একত্রিত করে এক সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে এ মিলনমেলা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ তামি’স ফ্যাশন বিডি’র অ্যাডমিন তাহমিনা আক্তার এ আয়োজন সম্পর্কে বলেন, “নারীদের মধ্যে যারা পড়াশুনা এবং সংসারের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাদের জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা। আমরা মনে করি আমাদের নারীদের এমনিতেই সবকিছুতে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা এক সাথে কাজ করলে একে অপরের জন্য সমাধান হতে পারব”। অনুষ্ঠানের আরেক আয়োজক এফ এন্ড সি গ্রুপের অ্যাডমিন ইসরাত জাহান ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে নারীরা এখন খুবই ভাল ব্যবসা করছে। পাশাপাশি নতুনদের জন্য এ পথ চলা আরও সহজ করতেই আমরা এ মিলনমেলার আয়োজন করছি”। আয়োজকদের পাশাপাশি এ মিলনমেলার পৃষ্ঠপোষকতায় আছে এহনাস ডট কমসহ প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান এবং নারী উদ্যোক্তা। উল্লেখ্য, সকাল ১১টায় শুরু হয়ে এ অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।   এসএইচএস/টিকে  

মৃত্যুকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে ইয়াবা

মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা একটি পরিচিত নাম। যার গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে তারুণ্য। বর্তমানে এ পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। স্কুল পড়ুয়ারাও জড়িয়ে পড়ছে এই সর্বনাশা নেশায়। মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা ‘বাবা’ নামেও পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনেই এর লেনদেন হয়। জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ড্রাগ অ্যান্ড ক্রাইম এর তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকসেবীদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ হলো ইয়াবা সেবনকারী। আর এদের মধ্যে ৩০ শতাংশই নারী। আসক্তদের অধিকাংসই তরুণ-তরুণী। ইয়াবা সেবন করলে দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে স্নায়ুতে উত্তেজক ক্রিয়া শুরু হয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারী অতিপুলক অনুভব করে। অন্যরকম এক জগতে বাস করে। কিন্তু এর প্রভাব কেটে যাওয়ার পর মাদকটি গ্রহণ না করলে সোজা আকাশ থেকে পাতালে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে মাদকাসক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘প্রশান্তি’র প্রশাসক ফারুক রহমান মিন্টু ইটিভি অনলাইনকে বলেন, “এক সময় শুধু একটা শ্রেণির মানুষেরা মাদক গ্রহণ করতো। আর এখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী সব শ্রেণি পেশার মানুষই এতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো অষ্টম-নবম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরাও এই নেশায় ডুবে যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে একটি গণজোয়ার তৈরি করতে হবে। মরণ নেশা ইয়াবা গ্রামে-গঞ্জে শহরে সব জায়গায় এখন ছড়িয়ে আছে। প্রতিবছর ভারত ও মিয়ানমারসহ পাশের দেশগুলো থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা বাংলাদেশ আসে। এর মাধ্যমে এ দেশের মেধাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার একটি চক্রান্ত চলছে। ইয়াবা সেবনের মধ্য দিয়ে জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।  এ সম্পর্কে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘অর্জন’ এর কেইস ম্যানেজার রিয়াদ রহমান ইটিভি অনলাইনকে বলেন, ইয়াবা সেবনে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও পরে আসক্ত ব্যক্তি নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মূলত ইয়াবার মাধ্যমে আমাদের দেশের মেধাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। এখন পরিবার উদ্যোগী হয়ে যদি আসক্তদের সঠিকভাবে কাউন্সিলিং করে বা চিকিৎসা দেয় তাহলে তাদের নেশা থেকে ফেরানো সম্ভব।   কেন তরুণ-তরুণীরা ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে? মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ‘অর্জন’এর কেইস ম্যানেজার রিয়াদ রহমান ইটিভি অনলাইনকে বলেন, সাময়িক আনন্দো লাভের জন্যই সবাই ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে। তাছাড়া তরুণ-তরুণীদের মাঝে ইয়াবাকে আকর্ষণীয় করার জন্য মূল উপাদানের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে আঙ্গুর, কমলা ও ভ্যানিলার ফ্লেভার। লাল ও কমলা রংয়ের ট্যাবলেটটি দেখতে ও খেতে অনেকটা ক্যান্ডির মতো। এটি সহজে লুকিয়ে রাখা যায় এবং বহনেও সহজ। ইয়াবা সেবনে ক্ষুধা কমে যায় বলে অনেক তরুণী স্লিম হওয়ার আগ্রহে খাওয়া শুরু করে। ফলে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝার আগেই এর নেশায় জড়িয়ে পড়ে।  ইয়াবা সেবনে যেসব ক্ষতি হয়- ইয়াবা সেবনের ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যা একজন মানুষকে মৃত্যুর দিকেই ধাবিত করে। এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবন করলে ফুসফুস, লিভার ও কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন ইয়াবা সেবনের ফলে স্পিড বাগ বা ক্র্যাঙ্গ বাগ নামক হেলুসিনেশন তৈরি হয়। এতে ব্যবহারকারীর মনে হয় তার শরীরের চামড়ার নিচ দিয়ে ছারপোকা কিলবিল করে বেড়াচ্ছে। তখন সেবনকারী এদের টিপে মারার জন্য মরিয়া হয়ে উন্মাদের মতো আচরণ করতে থাকে। এছাড়া দীর্ঘদিন আসক্তির ফলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অনিদ্রা দেখা দেয়-এটি এতটাই ভয়ংকর যে টানা সাত থেকে ১০ দিনও জেগে থাকতে বাধ্য হয় সেবনকারীরা। নাড়ির গতি বেড়ে যায়, রক্তচাপ, হেপাটাইটিস বি, সি ও এইডসের মতো জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।    ইয়াবার বিস্তার রোধে করণীয়- ইয়াবা গ্রামে গঞ্জে শহরে সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে আছে। এর রোধ করা অতীব জরুরি। এ সম্পর্কে রিয়াদ রহমান বলেন, ইয়াবা বিস্তাররোধে প্রয়োজন সামগ্রিক প্রতিরোধ। এর জন্য যুব সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ-তরুণীদেরকেই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে ইয়াবা। ১৯৯৮ সাল থেকে এ দেশে ইয়াবা আসা শুরু হয়। শুধু বাংলাদেশকে টার্গেট করেই ইয়াবা তৈরি করছে মায়ানমার। আবার ভারত থেকেও সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে অবাধে। তাই সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।     তবে ইয়াবাকে বন্ধ করার জন্য সরকারও নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নিয়মিত চালাচ্ছে অভিযান। তাদের কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবারোধে। এ সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ঢাকা উত্তর) মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ইয়াবার মতো ভয়াবহ নেশা থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমরা দিন রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিটি জায়গায় অভিযান চলছে, অনেককে গ্রেফতারও করেছি। ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করার ফলে সীমান্তে ৭৪টি ফেনসিডিল কারখানা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এভাবে আমাদের মাদক নির্মূলের সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে।   ইয়াবা থেকে মুক্তির উপায়- যারা ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে তাদের জীবন শেষ এটা বলার কোনো সুযোগ নেই। তারা অবশ্যই সুস্থ হবে বলে জানিয়ে ফারুক রহমান মিন্টু বলেন, আমাদের নিরাময় কেন্দ্রে অনেক রুগি আসে। বা অনেক অভিভাবক নিয়ে আসে। আমরা তাদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। এবং এক সময় তারা সুস্থ হয়ে যায়। সুতরাং নিরাময় কেন্দ্রে আসলে অবশ্যই ভাল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।     দীর্ঘ ১৮ বছর মাদক সেবন করে বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন হুমায়ুন কবির। পরিবারের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর গোড়ানে। তিনি বলেন, আমি যখন মাদক গ্রহণ করতাম তখন ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতাম না। আমার কারণে আমার পরিবার আত্মীয়-স্বজন সবাই হেয় হয়েছে। কষ্ট শিকার করেছে। এক সময় মনে হতো আমি আর বাঁচবো না। কিন্তু আমি একটি পূর্ণবাসন কেন্দ্রে ভর্তি হলে পরে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠি। এখন বর্তমানে আমার আর কোনো সমস্যা নেই। একটু চেষ্টা করলে যে কেউ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আমার মত আবার সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারেন।     এসি/এসএইচ            

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি