ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:১২:১১

চার হাজার বছর আগেকার অস্ত্র!

চার হাজার বছর আগেকার অস্ত্র!

সুইজারল্যান্ডে ৪০০০ বছর আগের অস্ত্র খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। একই সঙ্গে সেই আমলের একটি কাঠের বাক্স পাওয়া গেছে। আল্পস পর্বতের লটসবার্গ পাসের ৮৮০০ ফুট উঁচুতে হিমবাহের পাশে একটি পাথরের নিচে ওই অস্ত্র পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদেরা মনে করছেন, এই জিনিসপত্রগুলো ব্রোঞ্জ যুগের কোনো এক পর্বতারোহীর হতে পারে এবং বাক্সটি খাবার রাখার কাজে ব্যবহার করা হতো। খবর এনডিটিভির। সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্নতত্ত্ববিদ রেগুলা গাবলার জানান, জিনিসপত্রগুলো ব্রোঞ্জ যুগের কোনো শিকারির হতে পারে। ৪০০০ বছর আগে ওই ব্যক্তি হয়তো শিকার ধরার জন্য লটসবার্গ পাসের পাশে বিশাল পাথরের আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিলেন।ওই প্রত্নতত্ত্ব অঞ্চলটি ২০১১ সালে আবিষ্কার করা হয়। এলাকাটি বার্নের প্রত্নতাত্ত্বিক শাখা ২০১২ সালে জরিপ করার সময় কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে খনন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।গাবলার বলেন, জিনিসপত্রের মধ্যে চারটি নির্দিষ্ট পরিমাপের কাঠের তক্তা, দুটি ধনুক, কাঠের তীর, চামড়াসদৃশ বস্তু, পশুর শিং ইত্যাদি পাওয়া গেছে। কার্বন পরীক্ষায় জানা গেছে, জিনিসপত্রগুলো খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে কোনো একসময়ে ব্যবহার করা হয়েছে।//এআর
মোনালিসার ৭টি অজানা তথ্য

মোনালিসা নাম জুড়েই যেন হাঁসি। তবে সে হাঁসি সাধারণ হাঁসি নয়, সে যেন এক রহস্যময় ভূবন জুড়ানো হাঁসি। মনকাড়া এ হাসির জন্য কয়েক শতাব্দী ধরে সারা দুনিয়ায় আলোচনার বিষয় ‘মোনালিসা’৷ বহু শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সঙ্গীতশিল্পী এবং লেখককে অনুপ্রেরণা জোগায় এই শিল্পকর্ম৷ মোনালিসার ৫০০ বছরের ইতিহাস এখনও মানুষকে আবিষ্ট করে৷ সেই ভূবন জুড়ানো হাঁসির মোনালিসার ৭টি তথ্যই হয়তো আপনি জানেন না। ১. নানা জল্পনা-কল্পনা: ১৬ শতকের শুরুতে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি যার ছবি আঁকেন তা নিয়ে নানান ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছিল৷ অনেকে বলতেন, নারী ও পুরুষ- উভয়েই ওই ছবির মডেল হয়েছিলেন৷ তবে আরও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ব্যাখ্যা মতে, মোনালিসা আসলে ফ্লোরেনটাইনের এক রেশম ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা দেল জিওকোন্ডো৷ ২. বিখ্যাত অনুরক্তরা: ১৫১৯ সালে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মৃত্যুর পর ফরাসি রাজাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছবিটি রাখা হয়৷ ফরাসি বিপ্লবের পর নেপোলিয়ন বোনাপার্টের শোবার ঘরে জায়গা হয় মোনালিসার৷ ১৮১৫ সালে জনসাধারণের দেখার জন্য এই চিত্রকর্ম রাখা হয় প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে৷ ৩. মোনালিসার জুড়ি: যমজ মোনালিসার দেখা মেলে মাদ্রিদের মিউজিও ডেল প্রাডোতে৷ ২০১২ সালে জানা যায় যে এই ছবিটি মূল ছবির সময়েই আঁকা হয়েছিল৷ দুটি ছবি একই ইতালীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ও ল্যাণ্ডস্কেপে করা৷ দ্বিতীয় ছবিটি সম্ভবত ভিঞ্চির এক ছাত্র ফ্রান্সিসকো মেলজির আঁকা৷ ৪. অদৃশ্য কাজ: হারিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ‘মোনালিসা’ কিন্তু সেই অর্থে বিখ্যাত কোনো শিল্পকর্ম ছিল না৷ নিজের দেশে ফেরত নিয়ে যাবার আশায় এক ইতালীয় ১৯১১ সালে প্যারিসের ল্যুভর থেকে ছবিটি চুরি করে৷ ওই ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার আগে প্রায় দুই বছর ছবিটির কোনো হদিস ছিল না৷ তারপর ছবিটি আবারও ল্যুভরে ফিরে আসে৷ ৫. আক্রমণের লক্ষ্য: মোনালিসাকে নিয়ে অনেকে অনেক ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন, যার সবই কিন্তু ইতিবাচক নয়৷ ১৯৫৬ সালে এই ছবির ওপর ভাঙচুরের দুটি ঘটনা ঘটে৷ একজন তো ছবিটির ওপর অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে৷ ফলে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় চিত্রকর্মটি৷ এরপর এক বলিভিয়ান পর্যটক এর ওপর পাথর ছোঁড়ে৷ তারপর থেকে, মোনালিসাকে বুলেটপ্রুফ কাঁচের ভেতরে সুরক্ষিত রাখা হয়৷ ৭. রহস্যের পেছনে ‘স্ফুম্যাটো`র প্রভাব: অগণিত বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ এই শিল্পকর্মের বিশ্লেষণ করেছেন৷ পেয়েছেন বিস্ময়কর সব তথ্য৷ ২০০৮ সালে, মোনালিসার হেঁয়ালিপূর্ণ হাসির রহস্য ভেদ করা হয়৷ ছবি আঁকার একটি কৌশলের নাম ‘স্ফুম্যাটো’৷ ভিঞ্চি ঝাপসা এক ধরণের এফেক্ট তৈরি করতে রংয়ের পাতলা অনেকগুলো স্তর তৈরি করতেন৷ এর ফলেই ছবিতে সৃষ্টি হতো এক ধরনের রহস্যময়তা৷ ৭. এক দীর্ঘ ইতিহাস: শিল্পের ইতিহাসে ‘মোনালিসা’ কেবল প্রশংসাই লাভ করেনি, বরং অগণিত শিল্পীকে বৈচিত্রপূর্ণ কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে৷ বিংশ শতাব্দীর এই মিডিয়া আইকনকে সাহিত্য, সঙ্গীত, বিজ্ঞাপন সবকিছুতেই পাওয়া যায়৷ বব ডিলান একবার বলেছিলেন, মোনালিসার অবশ্যই হাইওয়ে ব্লুজ আছে৷ ওর হাসি দেখেই তা বলে দেয়া যায়৷ ডয়েচে ভেলে। আরকে/ডব্লিউএন

স্ত্রীর ভয়ে ১০ বছর জঙ্গলে!

ম্যালকম অ্যাপলগেট, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। বিয়ের আগে ভালোই চলছিল তার জীবন। কিন্তু বিপত্তিটা শুরু হয় বিয়ের পরেই। বিভিন্ন উপায়ে তার জীবনকে নাকি একেবারে অস্থির করে তোলে তার স্ত্রী। তাই স্ত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করে পালিয়ে যান জঙ্গলে। জঙ্গলে কাটিয়ে দেন ১০ বছর। সম্প্রতি লন্ডনের ‘ইমাউস গ্রিনউইচ’ নামে একটি বাস্তুহীনদের আশ্রয়দাতা সংস্থাকে এভাবেই তার জীবনের গল্পটা জানিয়েছেন ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ। সবাই ভেবেছিলেন যে অ্যাপলগেট আর বেঁচে নেই। তবে সব আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করে এক দশক পরে বোনকে ফোন করেন তিনি। এত বছর পর ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে চমকে যান বোন। অ্যাপলগেটের গল্পটি তার মুখের ভাষাতেই তুলে ধরা হয়েছে ‘ইমাউস গ্রিনউইচ’র ওয়েবসাইটে। সেখানে অ্যাপলগেট বলেন, ‘বিয়ের পর আমার জীবন দিন দিন বিশৃঙ্খল হতে থাকে। আমি যতই কাজ করতাম, আমার স্ত্রী ততই রেগে যেত। আমি বেশিক্ষিণ বাড়ির বাইরে থাকি, এটি সে পছন্দ করত না। তার (তার স্ত্রী) এই কর্তৃত্বপনা দিন দিন বাড়ছিল। সে (তার স্ত্রী) চাইছিল, আমি যেন কাজ কমিয়ে দিই। বহু বছর তার সঙ্গে এক ছাদের নিচে কাটানোর পর সিদ্ধান্ত নিই, নিজের ভালোর জন্যই চলে যেতে হবে। এরপর কাউকে না জানিয়ে আমি সবকিছু গুছিয়ে বের হয়ে যাই। একেবারে ১০ বছরের জন্য হারিয়ে যাই।’ অ্যাপলগেট আরো বলেন, ‘পালানোর পর কিংসটনের কাছে একটি জঙ্গলে আস্তানা গাড়ি। ওই সময় স্থানীয় বৃদ্ধদের জন্য একটি কমিউনিটি সেন্টারের বাগানে কাজ করেছিলাম আমি।’ সেখানে দিনগুলো ভালোই কাটছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু ইমাউস গ্রিনউইচের কথা শোনার পর ভেবে দেখি, সেটিই আমার জন্য উপযুক্ত স্থান। সেখানে গিয়ে আমি একটি সাক্ষাৎকার দিই এবং থাকা শুরু করি।’ স্ত্রী ছাড়া বর্তমান জীবনে বেশ ভালো আছেন বলে জানান অ্যাপলগেট। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার জন্য অনুদান সংগ্রহ করে বেড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আগের জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি বলে জানান তিনি।   এমআর/এআর    

যে ক্যাফেগুলোতে খেতে কোনো টাকা লাগে না

পেট ভরে খাবার খাবেন, কোনো টাকা লাগবে না। কি ভ্রু কুচকাচ্ছেন? অবাক হওয়ার-ই কথা। ঘটনা কিন্তু সত্যি পৃথিবীতে অভিজাত বেশ কয়েকটি ক্যাফে আছে যেখানে খেলে কোনো বিল দিতে হয় না। আসুন জেনে নিই সে সম্পর্কে- ১. কুঞ্জুম ট্রাভেল ক্যাফে, নয়াদিল্লি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এই ক্যাফে খুবই আকর্ষণীয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ দিল্লির হাউজ খাস গ্রামে তৈরি এই ক্যাফেতে গরম এক কাপ কফির সঙ্গে মজা নিতে পারবেন বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগের। যত খুশি খাবার এবং মনের মতো পানীয় পাওয়া যাবে এখানে কোনো নির্দিষ্ট দাম ছাড়াই। দাম দেওয়াটা নির্ভর করছে আপনার ইচ্ছার উপর। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভ্যস্তদের একটু অন্য রকম আড্ডার স্বাদ দিতে এই ক্যাফের কোনো তুলনা নেই।  ২.সেবা ক্যাফে, বেঙ্গালুরু কলকাতা, পুণে, মুম্বইয়েও রয়েছে এই ক্যাফের আউটলেট। এই ক্যাফে চালান স্বেচ্ছাসেবীরা। পাস্তা, পাওভাজির মতো হাল্কা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার পাওয়া যায় এখানে। এই ক্যাফের মূল বৈশিষ্ঠ্য হল, খাবার খাওয়ার পর বিল মেটাতে হয় নিজের জন্য নয়, আপনার পরে যিনি আসবেন তাঁর জন্য। মেনু কার্ডেই লেখা থাকবে, আপনি যে খাবারটি খাবেন সেটি আপনাকে উপহার দিয়েছেন আপনার আগের জন, অর্থাৎ আপনার খাবারের দাম তিনিই মিটিয়েছেন। আপনি দেবেন পরের জনের।  ৩.আন্নালক্ষ্মী, চেন্নাই ১৯৮৪ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম তৈরি হয় এই রোস্তোরাঁ। ক্রমশ এর শাখা ছড়িয়ে পড়ে ভারত, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়াতে। মন্দিরের আদলে গড়া এই রেস্তোরাঁটি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে বহন করছে। সম্পূর্ণ নিরামিষ এই রেস্তোরাঁয় মিলবে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় নানা পদ।  ৪.লেনটিল অ্যাস এনিথিং, মেলবোর্ন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত এই ক্যাফেতেও খাবারের কোনও নির্দিষ্ট দাম নেই। যত খুশি খাওয়ার পরে দাম মেটানো যাবে নিজের ইচ্ছামতো। সঙ্গীতের মজা নিতে নিতে খাওয়া এবং দেদার আড্ডার স্বাদ নিতে এই ক্যাফের কোনও জুড়ি নেই।  ৫.দে কালিনারি ওয়কপ্লাটস, আমস্টারডাম নিরামিষাশীদের জন্য তৈরি এই রেস্তোরাঁয় মিলবে পাঁচ পদের থালি। দাম দেওয়া যাবে নিজের ইচ্ছামতো। রোস্তোরাঁটিতে চাকচিক্য তুলনামূলকভাবে কম হলেও, খাবারের স্বাদ অতুলনীয়। পরিবেশও অনেক আরামদায়ক। ৬.দার উইনার দিওয়ান, ভিয়েনা ভিয়েনার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় মিলবে সুস্বাদু পাকিস্তানি খাবার। এখানেও রয়েছে নিজের ইচ্ছামতো দাম দেওয়ার সুবিধা। তবে সেই তালিকায় রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট খাবার, যেমন পাঁচ রকম কারি, তিন রকম নিরামিষ পদ এবং দু’রকম আমিষ পদ।  সূত্র:আনন্দবাজার এম/এআর

পাতালপুরীর পথ আবিস্কার

জার্মানির রানউটফ জলাধারকে অনেকেই বলে থাকেন পাতালে প্রবেশের পথ। কারণ এখনও এই বিশাল জলাধারের একেবারে নিচে কী আছে তা এখনও জানা যায়নি। এর রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে গবেষকরা অনেক ঝুঁকি নিচ্ছেন। আর এতেই তাদের সামনে খুলে যাচ্ছে পাতালপুরীর একের পর এক রহস্যময় অংশ। সম্প্রতি এর নিচে একটি গুহার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। যার নাম রাখা হয়েছে `স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন`। এরই মধ্যে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় একদল গবেষক সেই গুহা প্রণালির আরও গভীরে প্রবেশ করছেন। এর আগে সেখানে কোনো মানুষ যাননি। তারা এই গুহা কবে সৃষ্টি হয়েছিল তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, `আজ স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। আমরা স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন গুহার উচ্চতম অংশ পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়েছি।` গবেষকরা বলছেন, লেজারের মাধ্যমে গোটা গুহা প্রণালি স্ক্যান করা হচ্ছে। জানা গেছে এই গুহার শাখা-প্রশাখা ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। এর মধ্যে কোনো কোনোটি এতই সরু ও দুর্গম যে, সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানে প্রবহমান পাতাল নদীতে ফ্লোরোসেন্ট রঙও ঢালা হয়েছে। এর মাধ্যমে নদীর প্রবাহ এবং কোথায় ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে, তা জানা যাবে। গুহার একটি অংশে গবেষকরা দেখতে পান যে, ধাতু জমে অপরূপ সব ভাস্কর্য সৃষ্টি হয়েছে। আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, আরও নতুন গুহার প্রবেশদ্বার ও পথ আবিস্কার এবং পরিমাপ করা তাদের লক্ষ্য। রানাউটফ জলাধারে যে আরও অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

রহস্যঘেরা দ্বীপপুঞ্জে হাজারো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ

কানাডার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মাগদালেন দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। আধা কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে মাগদালানের দ্বীপ অবস্থিত। অনেকে এটিকে লেস ইলেস-ডে-লা-মাডালেইন নামেও ডাকে। এই দ্বীপপুঞ্জে দিক হারিয়েছে হাজারো জাহাজ! সপ্তদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতকের মধ্যে এখানে অন্তত ৫০০ থেকে এক হাজার জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র আধা কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এত বেশি জাহাজ ডুবির ঘটনা তাই অনেকের কাছেই এক বিস্ময়কর রূপকথার মতো শোনাতে পারে। কি কারণে সেখানে এত বেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তা নিয়ে এখনো গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ১৮২৭ সালে রয়েল নেভি সার্ভেতে অংশ নেওয়া ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড বক্সার ঐ অঞ্চল ঘুরে এক প্রতিবেদনে জানান, সেইন্ট লরেন্সের উপকূলে লাইট হাউজ স্থাপন করাটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। অনিয়মিত এবং শক্তিশালী স্রোত এখানকার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এ কারণে এখানকার নৌ চলাচল খুবই বিপজ্জনক। পুরো এলাকায় একটিও লাইট হাউজ নেই। এই দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে এত বেশি সংখ্যক জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে যে সেগুলোকে খুঁজে বের করাটা শুধু কঠিনই নয় অসাধ্যও বটে। এখানে কি পরিমাণ মানুষের সলিল সমাধি হয়েছে সে হিসাবও অসম্ভব। কারো কারো মতে, অশুভ কোনো শক্তির প্রভাবেই ঘটে থাকতে পারে ঐ সব দুর্ঘটনা। সেখানে সাগরের তলদেশে চোরাবালি, গোপন চর, বালুর বাঁধ কিংবা পাথরের কারণেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। মূলত: ঐ সময় পর্যন্ত লাইট হাউজ কিংবা নৌ-বিদ্যার মতো যুগান্তকারী কোনো জ্ঞান ছিল না জাহাজের নাবিকদের। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সাগর পথে নানা বিপদ-আপদ সংক্রান্ত কৌশলগুলো যুক্ত হয় নৌ চলাচল ব্যবস্থায়। তীব্র স্রোতের পাশাপাশি বাতাসের তীব্র গতি, সমুদ্রের ভারী পানি, তীব্র শীত এবং বরফ নানা কারণে এই উপকূল নাবিকদের জন্য হয়ে উঠত মৃত্যু উপকূল। কুয়াশার কারণে গতিপথ ঠিক রাখাও নাবিকদের পক্ষে সম্ভব হতো না। মজার বিষয় হলো, ভয়াবহ এই উপকূল ঘিরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এক জনগোষ্ঠী। মূলত দুর্ঘটনার কারণে জাহাজ ডুবির পরে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মানুষদের থেকে বর্তমানে সেখানকার জনসংখ্যা ১২ হাজার ৮০০ জন। এম/ডব্লিউএন

ট্রেন চলবে বাতাসে

সৌরশক্তি ব্যবহার করে ট্রেন চালানোর প্রযুক্তি আবিষ্কার করার পর  বিজ্ঞানীরা এবার বাতাস দিয়েও ট্রেন চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বের অনেক দেশেই গণপরিবহনের খরচ মেটাতে  জ্বালানির উৎস হিসেবে বাতাসকে কাজে লাগাতে পারলে তা হবে দারুণ এক ঘটনা। বাতাস দিয়ে ট্রেন চালানোর এই মিশনে ইতিমধ্যে সাফল্য অর্জন করেছে নেদারল্যান্ডস। জানুয়ারি থেকে বাতাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ট্রেন চালানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশটিতে। ২০১৮ সালের মধ্যে দেশটির পুরো রেল ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য বাতাসের শক্তি ব্যবহারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটিতে সব মিলিয়ে বিদ্যুতৎ উৎপাদনের জন্য ২২০০টি টার্বাইন রয়েছে। প্রায় সাড়ে চব্বিশ লাখ বাড়িতে বিদ্যুত্ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে এই উইন্ডমিলগুলোর। দেশের পুরো রেল ব্যবস্থার জন্য বছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন। আর প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পুরোটাই তারা উৎপাদন করতে চাইছে এই উইন্ডমিলগুলো থেকে। নেদারল্যান্ডসের টেকসই জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনোকোর সাথে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি করেছে দেশটির রেল বিভাগ। এটি করা সম্ভব হলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নেদারল্যান্ডসের পর সবুজ জ্বালানির জন্য কাজ করছে স্কটল্যান্ডের । ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ ‘জিরো কার্বন’ লক্ষ্যে এগুচ্ছে স্কটল্যান্ড। পিছিয়ে নেই আমেরিকাও। আমেরিকান উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে অর্ধলক্ষাধিক টার্বাইন স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।গণপরিবহন সেবায় অনেক দেশ নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানির ঘোষণা দিলেও  সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস। তাদের জন্য এটি এখন আর কোনো কল্প কাহিনী নয়। ২০১৮ সাল থেকে পুরো রেল ব্যবস্থা পরিচালনায় বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে তা হবে তাদের জন্য এক যুগান্তকারী মাইলফলক। সূত্র:মাদারবোর্ড এবং সাইন্স এলার্ট /এম/এআর

যে শহরে পুলিশ মাত্র একজন, তাও আবার অন্ধ

চীনের লানবা শহর। সিয়া চং রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে লানবা শহরের চারপাশের এলাকা ৩৮ কিলোমিটার। এখানে আছে ৩টি প্রশাসনিক গ্রাম, ১৩টি ছোট গ্রাম। গত ১২ বছরে এখানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। বিষয়টি অবাক হওয়ার মতোই। বিস্ময়ের আরও বাকি আছে। দক্ষিণ পশ্চিম চীনের ওই শহরের নিরপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন একজন মাত্র পুলিশ অফিসার। তার নাম প্যান ইয়ং। বয়স ৪৫ বছর। তিনি একাই সারা শহর টহল দিয়ে বেড়ান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল ওই পুলিশকর্মী চোখে দেখেন না। ইয়ং গ্লুকোমায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ২০০২ সালে। তারপরও তার চাকরি আছে। কারও করুণায় নয়, চাকরিটি আছে তার দক্ষতায়। কারণ তিনি একাই যেভাবে শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন, তাতে তাকে সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। তিনি রোজ নিয়ম করে পুলিশের পোশাক পরে বেরিয়ে পড়েন কাজে। অবশ্য তার স্ত্রী থাকেন সঙ্গে। প্যান ইয়ংয়ের দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও নিজের শহরটাকে চেনেন হাতের তালুর মতো। চেনেন সেখানকার মানুষজনকে। তাই সিয়া চং পুলিশ স্টেশনের ওই একমাত্র পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষ কখনই সরানোর চিন্তা করেনি।১৩টি গ্রামের দায়িত্বে আছেন প্যান ইয়ং। তার দক্ষতার কারণে সেখানে গত ১২ বছরে কোনো খুন-খারাবি হয়নি। চুরি-ছিনতাই হয়নি। ঘটেনি কোনো দুর্ঘটনাও। অবশ্য এর পেছনে আরও একজনের নীরব ভূমিকা রয়েছে। তিনি প্যানের স্ত্রী তাও হংগিং। তিনি লোকাল রেলওয়ে স্টেশনের রক্ষী। প্রতিদিন তিনিও সারা শহর চক্কর মারেন পুলিশ স্বামীর সঙ্গে। ভাগ্যে বিশ্বাস করেন প্যানের স্ত্রী। তিনি মনে করেন, ভাগ্যে ছিল বলেই তারা দু’জন একসঙ্গে।প্যান ইয়ং অবশ্য ছোট থেকেই অপরাধের বিরুদ্ধে সরব। তিনি বেড়ে উঠেছেন পুলিশ থানা চৌহদ্দিতেই। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যান বলেন, আমার পদটা বড় নয়। তবু আমি আমার পুলিশের এই পেশাটাকে ভালোবাসি। অপরাধকে কখনও প্রশ্রয় দিইনি। তার স্ত্রীও একমত হয়ে বলেন, প্যান কাজপাগল মানুষ।চোখ হারিয়ে একসময় বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন প্যান ইয়ং। ধরে নিয়েছিলেন, জীবন শেষ। জীবনের সেই চরম হতাশার সময়ে পাশে পান তাও হংগিংকে। প্যানের কথায়, তাওয়ের সঙ্গে বিয়ের পর, ও ভরসা দিল। নতুন করে বাঁচতে শিখলাম। ও না থাকলে কবেই হারিয়ে যেতাম! কৃতজ্ঞচিত্তে গণমাধ্যমকে বলছিলেন প্যান। চীনের ওই শান্ত শহরে তাদের এখন সুখের জীবন।লানবা শহরের বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে নেই। তারা মনে করেন, এই দম্পতি যা করছেন তা অবিশ্বাস্য। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারাও খুশি। এ দু’জনের এমন সাফল্যের কথা তারাও ভাবতে পারেননি কখনও। সূত্র : এই সময়।//এআর

তুরস্কে সান্তা ক্লজের সমাধি আবিস্কার!

সান্তা ক্লজের কাহিনী অনেকেরই অজানা নয়। লাল পোশাক, লাল টুপি, সাদা ধবধবে চুল আর সাদা দাড়ির ক্লজ বেরিয়ে পড়তেন ক্রিসমাস ইভে হরিণে টানা স্লেজে করে। সঙ্গে নিয়ে যেতেন ব্যাগ ভর্তি উপহার। তার আবির্ভাব আর উপহার দেওয়ার কাহিনী নতুন কিছু নয়। কাহিনীর মধ্যেই ঘুরে বেড়ান সান্তা ক্লজ। এবার বাস্তবের সান্তাকে খুঁজে পেলেন তুরস্কের নৃতত্ত্ববিদরা। তিনি হলেন সেন্ট নিকোলাস। সম্প্রতি তুরস্কের গবেষকরা সেন্ট নিকোলাসের সমাধি আবিষ্কার করেন। গবেষকদের দাবি, এ সেন্ট নিকোলাস খুবই উদার মনের অধিকারি ছিলেন। শিশুদের জন্য তার ছিল অনেক স্নেহ আর বুক ভরা ভালোবাসা। তিনি বাড়িতে বাড়িতে শিশুদের জন্য গোপনে উপহার রেখে আসতেন। উপহার দেয়ার রীতিই সান্তা ক্লজের কাহিনীর জন্ম দেয়। তুরস্কের ডেমরে জেলায় সেন্ট নিকোলাস গির্জার নিচে একটা সৌধের সন্ধান পেয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা। গবেষণা চালানোর সময় সেই সৌধের বিশেষ একটা অংশের খোঁজ মেলে। সে অংশের নিচেই সমাধিটি রয়েছে।  গবেষকরা জানান, খ্রিস্টাব্দ চার শতকে ভূমধ্যসাগরীয় শহরের এ ডেমরেতেই সেন্ট নিকোলাসের জন্ম। এ বিশপের মৃত্যুর পর তাকে সমাধিস্থ করা হয় মায়রাতে। এ মায়রার উপরেই ডেমরে শহরটি গড়ে উঠেছে। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, এক সময় ইতালির নাবিকরা সেন্ট নিকোলাসের অস্থি চুরি করে বারিতে নিয়ে যায়। বারিতেই তার স্মরণে তৈরি করা হয় ‘ব্যাসিলিকা ডি সান নিকোলা’। তুরস্কে সমাধি আবিষ্কারের পর আন্তালায়া সার্ভেয়িং অ্যান্ড মনুমেন্টসের কর্মকর্তা সেমিল কারাবায়রাম-এর দাবি, বারিতে যে অস্থি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়, সেটি অন্য কোনো ধর্মযাজকের। সেটি সেন্ট নিকোলাসের অস্থি ছিল না। সূত্র: আনন্দবাজার।   /আর/এআর

একটি বাটির মূল্য ৩৮ মিলিয়ন ডলার!

এক হাজার বছরের পুরনো সিরামিকের একটি বাটি ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ১৩ সেন্টিমিটার বা ৫ ইঞ্চি মাপের নীল ও সবুজ রংয়ের বাটিটি চীনের সং রাজবংশের একটি দুর্লভ সংগ্রহ। এই দুর্লভ বাটিটি নিলামে তোলেন `সোথেবাই` নামের একটি নিলাম প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, নিলামে বিক্রি হওয়া বাটিটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে কে এই বাটিটি কিনেছেন তা জানা যায়নি। ওই ক্রেতা তাঁর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। ১০ দশটিমক ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বাটিটির নিলাম ডাকা শুরু হয়। নিলামের ডাক চলে বিশ মিনিট পর্যন্ত। সেটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয় ৩৮ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে ২০১৪ সালে চীনের মিং রাজবংশের একটি দুর্লভ বাটি ৩৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। সেটি ক্রয় করেন মি লি নামে এক ব্যক্তি। শখের বশেই দুর্লভ শিল্প সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকেন এই শিল্পপতি। এ ধরনের দুর্লভ সিরামিক সামগ্রী চীনে প্রায়ই পাওয়া যায়। সোথেবাইয়ের প্রধান নিকোলাস চৌ বলেন, বাটিটি এত বেশি দামে বিক্রি হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। তবে নিলামে বড় ধরনের ডাক আসতে পারে এমন ধারণা করেছিলাম। সূত্র: বিবিসি।   আর/টিকে  

গ্রিসের মন্দিরগুলোর পেছনের রহস্য

প্রাচীন গ্রিসের মন্দিরগুলো রহস্যের ঘেরাটোপে আবদ্ধ। গবেষণায় দেখা গছেে যে, প্রাচীন গ্রিক মন্দিরগুলি নির্মাণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানমূলক অভিপ্রায় থাকতে পারে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব! পরিস্কার সায় এথেন্সের ফিলোপাপ্পো পর্বতের টালি পাথরের রাস্তাটা দেখলে অবাক না হয়ে পারা যায় না। অবাক দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতে মনে অবশ্যই প্রশ্ন জাগবে, ওখানকার তারাগুলো কেন এত বেশি ঝলমল করছে? এর উত্তর হতে পারে, প্রাচীন গ্রীসের বাসিন্দারা খুবই বুদ্ধিমান ছিল। তারা জানতো কোথায় তাদের পবিত্র স্থানগুলো কোথায় নির্মাণ করতে হবে। এই স্থানগুলি আমাদের চেয়ে অনেক মহান কিছু নির্দেশ করে। জোতিবিদ্যা সম্পর্কে উৎসাহিত অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর বসতি অংশ ও আকাশের গ্রহগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করতে গ্রিক মন্দিরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। মনোলো ফার্নান্দেজ নামের একজন স্পেনিস ভাষা শিক্ষক বলেছেন যে, গ্রিকের মন্দিরগুলো এলোপাতারি নয়।  দেখা যায় যে, সনিওনের পসেইডন মন্দির এথেন্সের হেপাস্থেইন মন্দির, এগিনার আফায়া এথেনিয়া মন্দিরের সঙ্গে একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ গঠন করেছে। দেলফির এপোলো, এগিনার আফাইয়া এবং পার্থেনন মিলেও সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ গঠন করেছে। ত্রিভূজগুলি পৃথিবীর পৃষ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কিত সূর্য, চাঁদ বা গ্রহ এবং নক্ষত্রগুলির বিভিন্ন স্বর্গীয় সংস্থাগুলির আন্দোলনকে প্রতিফলিত করে। সূর্যের মত মহাজাগতিক বস্তুর বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলেই এই ত্রিভূজগুলো সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদ, গ্রহ ও তারা পৃথিবী পৃষ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কিত। টেলিস্কোপের মধ্য দিয়ে চাঁদ, শনি, মঙ্গল এবং বিভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জ  দেখে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, পৃথিবীর আদি অংশকে আকাশে গ্রহের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য গ্রীকদের মন্দিরগুলি নির্মিত হয়েছিল। গ্রীসে ত্রিভূজীয় ধারণা নতুন কিছু নয়, এটি পবিত্র ভূগোলের একটি উদাহরণ। ধর্মীয় স্থাপনাগুলো জ্যোতিবিদ্যা বা পুরাণ অনুযায়ী অবস্থিত ছিল। ষাটের দশকে ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব নাইস সোফিয়া এন্টি পোলিসরে সাহিত্যরে অধ্যাপক জেন রিচার এটাকে ‘মহান নকশা’ বলে অবহিত করেন। তিনি মনে করতেন যে, রাশিচক্রের ১২টি লক্ষণকে প্রতিফলিত করে গ্রিসকে ১২টি সেক্টরে ভাগ করা যাবে। পবিত্র ভূগোল সম্পর্কিত লিচারের এই তত্ত¡টি প্রচলিত বিজ্ঞানের কাছ থেকে যথাযথ মূল্যয়ন পায়নি কারণ এগুলো কখনো প্রমান করা যায়নি। **বিবিসি থেকে ভাষান্তর করেছেন মাহবুবুর রহমান। //এআর

চীনামাটির বাটি ৩১১ কোটি দামে বিক্রি!

চীনে হাজার বছরের পুরনো সং রাজবংশের একটি চীনামাটির বাটি ৩১১ কোটি টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। শুনে হয়তো অবাক হবেন সবাই? অনেকে মনে করতে পারেন এটি কোনো মুখোরোচক গল্প। তবে এটি সত্যি ঘটনা! মঙ্গলবার হংকংয়ে নিলামে বিক্রি হয় বহুমূল্যের বিরল এই বাটি। চীনে চীনামাটির তৈজসপত্রের মূল্যের বিচারে এটিই সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের এক খবরে এতথ্য জানানো হয়েছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সথবিস এটি নিলামে তোলে। রু-ওয়্যার নামে এই বাটি ব্রাশ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো। সথবিস জানিয়েছে, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে নিলাম হাঁকা শেষ হয়। নিলাম কক্ষে এক ক্রেতা বাদে বাকিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দরকষাকষিতে অংশ নেন। নীল-সবুজ রংয়ের বাটিটির ব্যাস মাত্র পাঁচ ইঞ্চি। চীনে এটি লেখা ও চিত্রাংকনের ব্রাস ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো। তবে এর বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রাচীন এই ক্ষুদ্র বাটির দামই আজ ৩১১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছোট বাটিটি যিনি এত টাকা দিয়ে কিনেছেন, তিনি তার নাম গোপন রেখেছেন। ক্রেতার অনিচ্ছা থাকলে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত তার নাম প্রকাশ করে না। ১০০ কোটি টাকা থেকে নিলাম শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিলামে অংশ নেওয়া এক ক্রেতা চড়া দাম হাঁকান এবং সেখানেই নিলাম শেষ হয়। সথবিস-এর চীনা শিল্পবিষয়ক প্রধান নিকোলাস চো বলেছেন, `বাটিটি অসাধারণভাবে বিরল।`  ` তিনি আরো বলেন, `এত দাম পাব, আমাদের ধারণা ছিল না কিন্তু আমরা জানতাম দরকষাকষির একটি যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে মিং রাজবংশের একটি বাটি ২৯৫ কোটি ১১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাটিটি মদের পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেটি কিনেছিলেন চীনা ধনকুবের লিউ ইকিয়ান। ` কেআই/ডব্লিউএন

বিশ্বের অদ্ভূত যত্ত সব প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা মানেই উচ্ছাস, উন্মাদনা। সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই বিশ্বের দেশে দেশে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এমন কিছু প্রতিযোগিতা আছে যা শুধু বিনোদনই নয়, বরং বিভিন্ন সমাজ সভ্যতার চলও বলা চলে। এগুলো যে শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীতেই হয়ে থাকে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মত আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার ঐতিহ্যও এগুলো। কঠিন এসব প্রতিযোগিতায় জয়ীরা পান আকর্ষণীয় সব উপহার। যেমন-বউদৌড় প্রতিযোগিতায় জয়ী পান বউয়ের ওজনের পাঁচগুন বিয়ার ও নগদ অর্থ। এমন অদ্ভূত পাঁচ প্রতিযোগিতা নিয়ে এই আয়োজন। বউ কাধে নিয়ে দৌড়প্রতিযোগিতার নাম ‘স্পোর্ট অব ওয়াইফ ক্যারিং চ্যাম্পিয়নশিপ’। ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাইনে রাজ্যের অক্সফোর্ড কাউন্টিতে এ প্রতিযোগিতা শুরু। এ খেলার ধরন হচ্ছে-আস্ত বউ ঘাড়ে নিয়ে স্বামীকে দৌড়াতে হয়। পাড়ি দিতে হয় কঠিন কঠিন বাধা, যেমন বালি ও কাদার ফাঁদ ইত্যাদি। এতে ২১ বছর বয়সোর্ধ অবিবাহিতরাও অংশ নিতে পারেন। বিজয়ী জুটির জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় উপহার। বউয়ের ওজনের পাঁচগুণ পরিমাণের বিয়ার এবং নগদ অর্থ উপহার।মরিচ খাওয়াতরকারিতে ঝাল বেশি হলে চোখের পানি নাকের পানি একাকার হয়ে যায়। মুখে লাগা ঝালের তেজ কমাতে গ্লাসের পর গ্লাস পানি খান। কিন্তু চীনে অনুষ্ঠিত হয় এই ঝাল খাওয়ারই প্রতিযোগিতা। একের পর এক মুখে পুরছেন লাল টকটকে কাঁচামরিচ। মসলাদার খাবারের জন্য প্রসিদ্ধ হুনান প্রদেশে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।মুরগি দৌড়ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারে মুরগির দৌড় প্রতিযোগিতার ঐতিহ্য প্রায় ১০০ বছরের। এ প্রতিযোগিতায় প্রশিক্ষিত মুরগিকে ২০ গজ দৌড়ে পার হতে হয়। ২০১৭ সালের এ প্রতিযোগিতায় ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্র জ্যাক অ্যালস্পের মুরগি বিজয়ী হয়েছে। ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের প্রত্যেকটি ইভেন্টেও তার মুরগি জিতেছিল।শিশুর কান্না প্রতিযোগিতাজাপানে চার শতাব্দী ধরে শিশুদের কান্না প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। এই খেলার নাম ‘সুমো’। মাত্র হাঁটতে শিখেছে এমন শিশুদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সুমো প্রতিযোগিতা শিশুদের সুস্থতা এনে দিতে পারে। দুজন পূর্ণবয়স্ক সুমো কুস্তিগির মুখোমুখি দুটি শিশুকে তুলে ধরেন। শিশুদের পরনেও সুমো খেলার খুদে সাজপোশাক থাকে। এ সময় তারা চেঁচিয়ে কাঁদে। বিজয়ী শিশুর মাথায় পরিয়ে দেয়া হয় মুকুট।ডিম ছোড়াডিম ছোড়া শুধু কি ক্ষোভ মেটানোর মাধ্যম? ব্রিটেনের ল্যাঙ্কাশায়ারে গেলে এ ধারণা বদলে যাবে। এখানে ডিম ছোড়া একটা বিনোদন। ওয়ার্ল্ড এগ থ্রোয়িং ফেডারেশন নামে একটি সংস্থা ১২ বছর ধরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ানো একজনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে হয়। যিনি নিখুঁতভাবে ডিম মুখে ছুড়তে পারেন তিনিই চ্যাম্পিয়ন।//এআর

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি