ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:১৩:০১

প্রশিক্ষণে-ই মিলবে চাকরি

পাঁচ লাখ তরুণকে ফ্রি প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণে-ই মিলবে চাকরি

সারাদেশে ৫ লাখ দুই হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাাম বা সেইপ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৯টি সেক্টরে ১৩০-এর বেশি ট্রেডে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি)। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হবে ভাতা ও সনদ। চাকরির ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে। অন্তত ৭০ ভাগ সফল প্রশিক্ষণার্থী চাকরি পাবেন। নিজেকে আগামীর চ্যালেঞ্জর মোকাবেলায় তৈরি করতে চাইলে প্রস্তুতি শুরু করুন এখন থেকেই। আবেদন করুন, আর নিয়ে নিন হাতে কলমের এই প্রশিক্ষণ।   যেসব খাত ও বিষয়ে প্রশিক্ষণ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯টি সেক্টওে ১৩০ এর বেশি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল : মার্চেন্ডাইজিং, মিড-লেভেল সুপারভাইজর, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, ওভেন মেশিন ও নিট মেশিন চালনা, মাননিয়ন্ত্রণ ও টেক্সটাইল টেস্টিং, ফায়ার সেফটি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, উইভিং টেকনোলজি ও নিটিং টেকনোলজি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট। নির্মাণ শিল্প : ম্যাসনারি, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং, রড বাইন্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং : রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মেশিন টুলস অপারেশন, লেদ মেশিন পরিচালনা, অটোমোবাইল মেকানিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স। চামড়া ও পাদুকা শিল্প : সেলাই পরিচালনা, কাটিং অপারেশন, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস। জাহাজ নির্মাণ শিল্প : ওয়েল্ডিং ও সিএনসি মেশিন অপারেশন। অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং : প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং আপগ্রেডিং, উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল ও টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি : ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও হাউসকিপিং। এছাড়া নার্সিং টেকনোলজির কোর্সও করানো হবে। যদিও এর বিষয় এখনও নির্ধারিত হয়নি। যাদের জন্য প্রশিক্ষণসমাজের অনগ্রসর যুব স¤প্রদায়, বেকার অথবা মিড-লেভেলের কর্মকর্তা বা সুপারভাইজর, যারা প্রশিক্ষণ পেলে আরও দক্ষ হতে পারবেন- তাদের জন্য এ প্রশিক্ষণ। এছাড়া যাদের কাজ করার মানসিকতা, শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য রয়েছে অথচ বেকার- এমন তরুণ-তরুণীরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পেতে সহায়তা করা হবে। ভাতাসহ বিশেষ বৃত্তি পাবেন দরিদ্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থীরা। এখানে ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ১,২৮,৩৮৮ জনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছে ৫১,৩৭৭ জন। বিভিন্ন সেক্টরে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে ৮৫,৮১৩ জনের। বাকীদের ক্রমান্বয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আবেদন যোগ্যতা সেইপ প্রকল্পের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, মার্চেন্ডাইজিং, মিড-লেভেল সুপারভাইজার, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিংয়ে ভর্তির যোগ্যতা ¯œাতক। অষ্টম থেকে এসএসসি পাস হলেই ভর্তি হওয়া যাবে ওভেন মেশিন ও নিট মেশিন চালনা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং টেক্সটাইল টেস্টিং, ফায়ার সফটি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, উইভিং টেকনোলজি ও নিটিং টেকনোলজি কোর্সে। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কোর্সভেদে ভর্তির যোগ্যতা এসএসসি থেকে ¯œাতক। অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই রাজমিস্ত্রি, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং, রড বাইন্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মেশিন টুলস অপারেশন, লেদ মেশিন পরিচালনা, অটোমোবাইল মেকানিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, সেলাই পরিচালনা, কাটিং অপারেশন, ওয়েল্ডিং, সিএনজি মেশিন অপারেশন প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে অষ্টম থেকে এইচএসসি পাস হলেই। এসএসসি পাস হলে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং আপগ্রেডিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও হাউসকিপিং বিষয়ে। যেখানে মিলবে প্রশিক্ষণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিফতরের বরিশাল, রংপুর, শেরপুর, নরসিংদী, ঝালকাঠি, মানিকগঞ্জ ও হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ফেনী। প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম; বাংলাদেশ জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ট্রেনিং সেন্টার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)। এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ), অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি), লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এলএফএমইএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বিএসিসিও), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএ) দেবে প্রশিক্ষণ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এসএমই বিভাগ এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের আউটসোর্সকৃত সহযোগী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান; আর মিড-লেভেলের কর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশিক্ষণ দেবে। যেভাবে আবেদন আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন সেইপের www.seip-fd.gov.bd -এ ওয়েবসাইট থেকে। যেকোনো সময় প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আর বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সেইপ প্রকল্পের মনোনীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যোগাযোগের ঠিকানা- স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা। চাইলে ফোন করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে- ০২-৫৫১৩৮৫৯৮-৯, ৫৫১৩৮৭৫৩। সময়কালজুলাই ২০১৪ থেকে শুরু হয়েছে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। চলবে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেন। মিলবে ভাতা ও চাকরিপ্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে ভাতা। এর জন্য কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। মাসিক তিন হাজার টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। কোর্সভেদে এক মাসের জন্য তিন হাজার, দুই মাসের জন্য ছয় হাজার, তিন মাস মেয়াদের জন্য ৯ হাজার  ও ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ১৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ শেষ করা মোট ৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া যাঁরা ব্যবসা বা নিজেই কিছু করতে চান, তাঁদেরও সহায়তা করা হয়। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সনদ দেওয়া হয়। তাই শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রয়েছে কাজের সুযোগ। এ ছাড়া শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা উচ্চতর পদে বেশি বেতনে চাকরি পাচ্ছে। যোগাযোগপ্রশিক্ষণের সব তথ্য পাওয়া যাবে প্রকল্প কার্যালয় থেকে। তবে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে হবে সেইপ প্রকল্পের মনোনীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিভিন্ন সময় কোর্সে ভর্তির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ), অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা-১০০০। ফোন : ০২-৫৫১৩৮৫৯৮-৯, ৫৫১৩৮৭৫৩ ওয়েব :www.seip-fd.gov.bd।
‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হবে’

ষোল কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। এদেশে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ আছে, সেটিও ফুরিয়ে যাওয়ার পথে। মাটির নিচে তেল ও খনিজ সম্পদ আছে, কিন্তু সেগুলো অনুসন্ধানের লোক নেই। এর কারণ আমাদের দক্ষ মানবসম্পদের বড়ই অভাব। এদিকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল) সুযোগ গ্রহণ করেছে। এদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি। বিপুল জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য বোঝা না, সম্পদ- এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এখনই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মক্ষম মানুষগুলোকে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন রিজাউল করিম।

১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেবে ফেসবুক

দেশের ১০হাজার তরুণ-তরুণী ও উদ্যোক্তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ফেসবুকের ‘বুস্ট ইওর বিজনেস’ প্রোগ্রামের আওতায় আগামী ছয় মাসে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সোমবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় এলআইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য ফেসবুকের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পারস্পরিক যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি পণ্যের বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মাধ্যমে এটি ভার্চুয়াল বাজার হয়ে উঠেছে। দেশে ফেসবুকের বিশাল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এরই মধ্যে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে। এই প্রবণতার প্রসার ঘটছে। তাই, সরকারের এলআইসিটি প্রকল্প ও ফেসবুকের যৌথ উদ্যোগে আমরা ১০ হাজার তরুণ-তরুণী ও আগামীর সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেবো। আশা করি, এই উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার, এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম, এলআইসিটি’র কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান রিতেশ মেহতা, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের (এমসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ আবীর। এমআর/এআর

৯৫০ জনকে ফ্রি আইটি প্রশিক্ষণ সঙ্গে ভাতা ও সনদ

তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেপ) প্রকল্পের আওতায় ৯৫০ জনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইইটি) এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এনআইটিটিপ) ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণ দেবে। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে সনদ ও ভাতা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে চাকরি পেতেও সহায়তা করা হবে।প্রশিক্ষণের বিষয় ও মেয়াদসেপ প্রকল্প অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল) এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট- এ তিনটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল)- এ দুটি বিষয়ের মেয়াদ তিন মাস এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে কোর্সের মেয়াদ ছয় মাস।আবেদনের যোগ্যতাআবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই এইচএসসি পাস হতে হবে। প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল) এ দুটি বিষয়ের জন্য প্রার্থীর বয়স থাকতে হবে ২০-৪৫-এর মধ্যে। ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য বয়স ১৮-৪৫ বছর। ভর্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীরা, সুবিধাবঞ্চিত, নারী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা। কম্পিউটার বিষয়ে বেসিক জ্ঞান এবং ইংরেজি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। ভর্তির সময় জমা দিতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নম্বরপত্রের ফটোকপি এবং তিন কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়ানির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে। অনলাইনেও আবেদন পূরণ ও সাবমিট করা যাবে। এ ছাড়া আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে এনইআইটি অফিস থেকেও। ফরম পূরণ করে জমা দেয়া যাবে এনআইইটিসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় কম্পিউটার বেসিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর কম্পিউটার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণাসহ অন্যান্য দিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় কম্পিউটার চালনায় অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে, তা দেখে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এ ছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজ শেখার আগ্রহ, সাধারণ জ্ঞানের পরিধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। নিয়মিত অধ্যয়নরতরা আবেদন করতে পারবেন না। প্রতি তিন মাস পরপর শুরু হবে নতুন ব্যাচ। তিন বিষয়েই প্রতি ব্যাচে নেওয়া হবে ২৫ জন করে।ভাতা, আবাসন ও চাকরিপ্রশিক্ষণের জন্য কোনো ফি গুনতে হবে না; বরং প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া যাবে ভাতা। সাধারণ কোটার প্রার্থীরা কোর্স শেষে ৩০০০ টাকা ভাতা হিসেবে পাবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী প্রশিক্ষণার্থী সব মিলে ৭০০০ টাকা ভাতা পাবেন। এ ছাড়া প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল)- এ দুটি বিষয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা পাবেন বিনামূল্যে আবাসন সুবিধা। এ দুই কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রশিক্ষণ শেষে কাজের মূল্যায়ন করে দেয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআইইটির সনদ। সফলভাবে কোর্স শেষ করতে পারলেই মিলবে চাকরি। দেশে আইটি খাতে প্রচুর দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষরা নিজেরাই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারবে। এছাড়া আইটি খাতে অনেক চাকরির সুযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। প্রশিক্ষণ শেষে আইটি বিষয়ে চাকরি পেতেও সহায়তা করবে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তা হতে চাইলে ঋণপ্রাপ্তিতেও সহায়তা করা হবে।ভর্তি তথ্যবিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থী খোঁজা হবে। তাই নিয়মিত চোখ রাখতে হবে পত্রিকায়। ওয়েবসাইটেও পেতে পারেন আবেদনের ফরমসহ দরকারি সব তথ্য। এ ছাড়া যে কোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে এনআইইটির শাখা অফিসে। ঢাকা ক্যাম্পাস : ৬৯/ই গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা, মোবাইল ০১৮৪১৫৫১১৬৬ এবং ৭৪ বা/এ, ওয়্যারলেস গেট, মহাখালী, ঢাকা-১২১৩। মোবাইল : ০১৯৭১০০৭৭৭৭। নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পাস : রূপসী বাসস্ট্যান্ড, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইল : ০১৭৩১০০৬৯৮। //এআর

তরুণদের ফ্রি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরি

দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। এ লক্ষে দেশের অসহায়, দরিদ্র, স্বল্প শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন বিভাগে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলছে। এসব প্রশিক্ষণের বেশিরভাগই বিনামূল্যে দিচ্ছে বিটাক। সঙ্গে থাকছে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় সনদ। অনেককে আবার চাকরির ব্যবস্থাও করে দেয় বিটাক। কেউ কেউ বিটাক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তাও হচ্ছে। সবমিলিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কার্যকর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য বহু তরেুণের স্বপ্ন সারথি বিটাক। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে বিটাকের অতিরিক্ত পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল করিম একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, বিটাক বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আত্মপ্রত্যয়ী তরুণরা বিটাক থেকে কোর্স করে সহজেই কাজের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ উদ্যোক্তাও হচ্ছে। তিনি জানান, দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার‌্যক্রম চলমান। এর একটি সেপা, অন্যটি সেপ। এগুলোর আওতায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফজলুল করিম অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের বিটাকের এসব কোর্স করার জন্য আহবান জানান। SEPA (সেপা) প্রকল্প বিটাকের অধীনে (SEPA) সেল্ফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রোভারটি এলিভিয়েশন প্রকল্পের আওতায় নারীদের তিন মাসব্যাপী নয়টি বিভাগে ও পুরুষদের দুই মাসব্যাপী তিনটি বিভাগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবছর নারীদের চারবার ও পুরুষদের ছয়বার ভর্তি করা হয়। প্রতি ব্যাচে বিভিন্ন ট্রেডে বিটাকের বিভিন্ন কেন্দ্রে ৩০০ জন নারী ও ২৮৮ জন পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হয়। প্রকল্প  পরিচালক ইঞ্জি. মো. ইকবাল হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ সেপা প্রকল্পের আওতায় মেয়েদের জন্য রয়েছে লাইট মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রক্যাল মেইনটেইন্যান্স, অটোক্যাড, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ারকন্ডিশনিং , হাউজ হোল্ড অ্যাপ্লায়েন্স, কার্পেন্টিং, প্লাষ্টিক প্রসেসিং (জেনারেল) এবং প্লাষ্টিক প্রসেসিং (কাষ্টমাইজ) বিষয়ক প্রশিক্ষণ। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেইন্যান্স এবং রিফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং নামে তিনটি কোর্স । ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে বিটাকে একটি জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্নধাররা এসে তাদের চাহিদামত প্রার্থী বাছাই করে নিয়ে যান। প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেটের সঙ্গে ওই প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরির নিয়োগপত্রও হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিক বিবেচনায় বলা যায় যে, তিন মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমেই চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে অনেকের। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির আওতায় এখন পর্যন্ত ৮১০০ জন নারী ও ১১ হাজার ৫২০ জন পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। যাদের বেশির ভাগই চাকরিতে যোগদান করেছেন। তবে এর মধ্যে ৬৪৫০ জনকে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং কেউ কেউ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে।  কখন থেকে ভর্তি (SEPA)  সেল্ফ এমপলয়মেন্ট অ্যান্ড প্রোভারটি এলিভিয়েশন প্রকল্পের আওতায় পরবর্তী কোর্সের কার্যক্রম আগামী ০২/১০/২০১৭ তারিখ থেকে শুরু হবে। যোগ্যতা এসব প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রার্থীদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পাস প্রক্ষিণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে বিভাগ বাছাই করা হয়ে থাকে। SEIP (সেপ) প্রকল্প বিটাকের অধীন অপর একটি প্রকল্প (SEIP) স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বছরে তিন বার ৪ মাস অন্তর অন্তর কোর্স করার সুযোগ পাবেন। এ প্রজেক্টের ৮ম ব্যাচের পরবর্তী কার্যক্রম আগামী ০২/১০/২০১৭ তারিখ থেকে শুরু হবে। কোন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেশের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান সারা বছরই বিটাকের কাছে প্রশিক্ষিত কর্মী চেয়ে চিঠি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বেঙ্গল প্লাস্টিক লিমিটেড, নাসির গ্রুপ লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড, ফিলিপস, নিটোল টাটা, ইস্টার্ন টিউবস, অ্যানার্জি প্যাক, ডেকো গ্রæপ, রহিম আফরোজ, আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটাল,চায়না বাংলা কোম্পানি, হরিজন প্লাস্টিক এবং শাহ সিমেন্টসহ অন্যান্য আরও কিছু কোম্পানি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা শুধু কর্মী পর্যায়েই নয়, বিটাক এবার হাতে নিচ্ছে বড় একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে একটি টুল ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। এই যন্ত্রাংশগুলো দিয়ে দেশে নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি তৈরি করা ছাড়াও দেশের বাইরের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের গাড়ির পার্টস তৈরি করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ বহুল জনশক্তি কাজের সুযোগ পাবে। যোগাযোগ বিটাকের ঢাকাসহ সারাদেশে মোট পাঁচটি কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রার্থীদের বিটাকের কেন্দ্রগুলো থেকে বা বিটাকের ওয়েবসাইট থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। বিটাকের কেন্দ্রগুলো নিম্নে দেয়া হলো- ঢাকা কেন্দ্র: বিটাক, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ চট্টগ্রাম কেন্দ্র: সাগরিকা রোড, পাহাড়তলী চট্টগ্রাম চাঁদপুর কেন্দ্র: ষোলঘর, চাঁদপুর খুলনা কেন্দ্র: শিরোমণি শিল্প এলাকা, খুলনা বগুড়া কেন্দ্র: নিশিন্দারা,কারবালা, বগুড়া এছাড়াও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এই ঠিকানায় ( www.bitac.gov.bd) /এম/এআর      

গ্রামীণ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে এটুআই ও অক্সফাম

সকলের জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ ও মাথাপিছু রেমিটেন্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণ তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে ‘কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা’ কর্মসূচিত হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। সরকারের এ উদ্যোগ সহায়তা দেবে লন্ডন ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম। এ লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়স্থ এসএসএফ ব্রিফিং রুমে এটুআই প্রোগ্রামের সাথে অক্সফ্যাম বাংলাদেশ-এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং অক্সফাম বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) এম বি আখতার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায়, এটুআই প্রোগ্রাম ও অক্সফ্যাম যৌথভাবে হাজার গ্রামীণ তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষানবিশের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্ম-কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রশিক্ষণ করানো হবে। শিক্ষানবিশ কালে প্রশিক্ষণে একজন এ্যাপ্রেনটিস (শিক্ষানবিশ) কারখানায় সপ্তাহে ৫ দিন হাতে-কলমে কাজ শিখবে এবং একদিন তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। এর ফলে কারখানা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, কারখানা ভীতি কমে আসবে এবং আস্থা তৈরি হবে। আর এন্ট্রারপ্রেনারশীপের আওতায় গ্রামীণ যুব সমাজকে এন্টারপ্রেনারশীপ বা আত্ম-কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিভাবে ব্যবসা শুরু করতে হয়, কেমন বিনিয়োগ করতে হয়, কিভাবে ব্যাংক লোন পেতে হয়, কিভাবে নিজ ব্যবসার ব্রান্ডিং ও মার্কেটিং করতে হয় তারা ইত্যাদি বিষয়ে সম্যক ধারণা পাবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ্যাপ্রেনটিসশীপ বা কারখানায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে কাজ শেখার পদ্ধতিটি একটি নতুন ধারণা। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের সাথে ইন্ডাস্ট্রিসমূহের সংযোগ স্থাপন। এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে ২০১৬ সালে আইএলও-এর সহযোগিতায় দেশের ৩০টি উপজেলায় ইনফরমাল সেক্টরে “শিক্ষানবিশ’র মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৬টি ট্রেডে এক হাজার ২০০ বেকার তরুণ-তরুণী এ্যাপ্রেনটিস (শিক্ষানবিশ) প্রোগ্রাম শেষ করে যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে এ উদ্যোগ দেশের ৫০টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিন হাজার ৬০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে ইনফরমাল সেক্টরে এ্যাপ্রেনটিসশীপের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইনফরমাল সেক্টরে এ্যাপ্রেনটিসশীপের পাশাপাশি চলতি বছর এগ্রো-ফুড, ফার্নিচার, লেদার, হোটলে এ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরের ফরমাল ইন্ডাস্ট্রিতেও এ্যাপ্রেনটিসশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা, এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এক্সপার্ট আসাদ-উজ-জামান, অক্সফ্যাম এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইকোনমিক জাস্টিস এন্ড রেসিলয়েন্স) মো. খালিদ হোসেন, অক্সফ্যাম এর ম্যানেজার (উইন এন্ড কমিউনিকেশন) মনীষা বিশ্বাস, অক্সফ্যাম এর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর জলি নূর হক এবং এটুআই ও অক্সফ্যাম এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   টিকে  

প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করুণ নিজেকে

দক্ষ মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ও স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে হাতে কলমে কাজ শিখে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন। আপনার পথচলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করবে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। চাইলে আপনিও আবেদন করতে পারেন। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দিচ্ছে  সারাদেশে এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে ১৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। মোট ১৪ শ জনকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৩ বিষয়ে ১৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দিবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নকশা কেন্দ্র। ১.এসএমই ফাউন্ডেশন সারাদেশে এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নে ১৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে এক হাজার ৪০০ জনকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফাউন্ডেশনের ঢাকা অফিসসহ বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলবে। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণনতুন ব্যবসা শুরু, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, বিপণন ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া, বেসিক বিউটিফিকেশন ও পার্লার ব্যবস্থাপনা, অ্যাডভান্স বিউটিফিকেশন ও পার্লার ব্যবস্থাপনা, ফ্যাশন ডিজাইন, চামড়াজাত পণ্য তৈরি, বহুমুখী পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন, ন্যাচারাল ডাইং, থাই ক্লে দিয়ে শোপিস তৈরি, আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি, ফাস্ট ফুড তৈরি ও সংরক্ষণ, বল্গক ও বাটিক প্রিন্ট এবং স্ক্রিন প্রিন্ট বিষয়ে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। আবেদনের যোগ্যতা আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি। নতুন ব্যবসা শুরু বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে থাকতে হবে ট্রেড লাইসেন্স। বিষয়ভিত্তিক কোর্সের মেয়াদ ৩ থেকে ৭ দিন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ বাড়তে পারে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন। কোর্সভেদে রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়া লাগবে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। যেভাবে আবেদন আগ্রহী প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের বিষয় ও বর্তমান ঠিকানা উলে­খ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানো যাবে এসএমই ফাউন্ডেশনের ঢাকা অফিসের ঠিকানায় অথবা ই-মেইল করা যাবে ধনরৎ@ংসবভ.ড়ৎম.নফ- এ ঠিকানায়। এসএমই ফাউন্ডেশনের িি.িংসবভ.ড়ৎম. নফ -এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিস্তাারিত জানা যাবে। এ ছাড়া যোগাযোগ করতে পারেন এ ঠিকানায়- এসএমই ফাউন্ডেশন, ৪ পান্থপথ, ঢাকা। চাইলে ফোনও করতে পারেন এ নম্বরে- ০২-৮১৪২৯৮৩, ০১৭১৭৫৪৪৯৭৮। আবেদনের সময়সীমাএরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আবেদন প্রক্রিয়া। আবেদনের শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট। ২.বিসিকসেপ্টেম্বর-অক্টোবর সেশনে ১৩ বিষয়ে ১৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নকশা কেন্দ্র। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাটিক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, ফ্যাশন ডিজাইন ও পোশাকশিল্প, কাপড়ের পুতুল, পাটজাত শিল্প, চামড়াজাত শিল্প, প্যাকেজিং শিল্প, বুনন শিল্প, ধাতব শিল্প, মৃিশল্প এবং বাঁশজাত শিল্প বিষয়ে। কোর্সের মেয়াদনির্ধারিত ফরমে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ৫০ টাকার বিনিময়ে আবেদন ফরম পাওয়া যাবে বিসিক মতিঝিল অফিসে। অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই করা যাবে আবেদন। তবে বেশ কিছু বিষয়ে আগ্রহী প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। আগ্রহীরা অফিসে এসে বা ফোনে ভর্তির যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস নেওয়া হবে। ফ্যাশন ডিজাইন ও পোশাকশিল্প কোর্সটির জন্য ফি দিতে হবে ৩৭৫০ টাকা এবং অন্য বিষয়গুলোর ফি দিতে হবে ৫০০ টাকা করে। আবেদন যোগ্যতাঅষ্টম শ্রেণি পাস হলেই আবেদন করা যাবে। তবে বেশ কিছু বিষয়ে আগ্রহী প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। প্রার্থীকে আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ফরমে। ৫০ টাকার বিনিময়ে আবেদন ফরম পাওয়া যাবে বিসিক মতিঝিল অফিসে। আগ্রহীরা অফিসে এসে বা ফোনে ভর্তির যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্যবিস্তারিত জানা যাবে এ ঠিকানায়- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন [বিসিক], নকশা কেন্দ্র, ১৩৭-১৩৮, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা। চাইলে ফোনও করতে পারেন এ নম্বরে- ৯৫৫৩১১২, ০১৫৫১৬৫১০২৭।

৩০ হাজার নারীকে ফ্রি প্রশিক্ষণ

তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) সেক্টরে দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পানার আওতায় ত্রিশ হাজার নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ (ওয়াইফাই) প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ দেবে যৌথভাবে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ ও জাতিসংঘ। যারা আইসিটি সেক্টরে নিজেকে মেলে ধরতে চান তাদের জন্য এটি একটি সুখবর। আবেদন করতে পারেন এই প্রশিক্ষণের জন্য। তবে বিজ্ঞপ্তি দেখে মিলিয়ে নিন আপনি আবেদনের জন্য যোগ্য কিনা।   যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রযুক্তিগতভাবে নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ খুঁটিনাটি অনেক বিষয় শেখানো হবে এখানে। নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা করা, নারীদের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ে বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করা, আইসিটির ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করা, অর্থ জোগান দেওয়া, আইসিটি-নির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ, কিভাবে আইসিটি সেক্টওে ব্যবসার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে ইত্যাদি বিষয় শেখানো হবে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথমত, নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত, দক্ষভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করা।মূলত ব্যবসায় পরিচালনা, হিসাব রাখা, ব্যবসায় পরিকল্পনা এবং নারী ক্ষমতায়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বিধি শেখানো হবে এতে। একজন উদ্যোক্তা একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। তবে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। কারা দেবে প্রশিক্ষণবিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ ওয়াইফাই প্রকল্প পরিচালনা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় স¤প্রতি বাংলাদেশে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়তে পুরুষ উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আইসিটিতে দক্ষ নারী উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং জাতিসংঘের এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক ট্রেনিং সেন্টার ফর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট (ইউএন-এপিসিআইসিটি) ওয়াই-ফাই কর্মসূচি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বেসিস), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডবিøউআইটি) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি)। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলা ভাষায়। মূলত নারী উদ্যোক্তাদের দুটি বিষয়ের ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিকল্পনা এবং দক্ষভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করা। তবে প্রশিক্ষণের মেয়াদ খুবই অল্প সময়ের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পটিকে প্রশিক্ষণ বলা হলেও অনেকটা কর্মশালার মতো ছোট আকারে হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই দিন অথবা তিন দিন করে হবে। আবার কোনো কোনোটি ১২ ঘণ্টা কিংবা ১৮ ঘণ্টার হবে। প্রশিক্ষণের ধাপপ্রাথমিকভাবে সরকারের ৬০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও আইসিটিতে দক্ষ ব্যক্তিদের ওয়াইফাই প্রকল্পের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময় এই প্রশিক্ষকরা মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষক তৈরি করবেন। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত বিভিন্ন ল্যাবে হাতে-কলমে দেওয়া হবে এই প্রশিক্ষণ। কয়েকটি কিস্তিতেতে দেশের ৩০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভাতা ও সনদওয়াইফাই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নারী উদ্যোক্তাদের। সেইসঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে ভাতা। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে এই ভাতা। এছাড়া দেওয়া হবে সনদ। শুধু তাই নয়, ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে নানাভাবে সহযোগিতাও করা হবে। যেভাবে আবেদনবিসিসির নির্মিত বিভিন্ন ল্যাবে অথবা নির্ধারিত বুথের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। থাকবে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ। শিগগিরই শুরু হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া। আবেদন বিস্তারিতউইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ বা ওয়াইফাই প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে িি.িঁহধঢ়পরপঃ.ড়ৎম/রিভর -এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। চাইলে সরাসরিও যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায়- বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, ই-১৪/এক্স, বিসিসি ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলানগর, ঢাকা। এছাড়াও বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি [বিডবিøউআইটি] এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্ট [বিআইআইডি] কার্যালয়েও যোগাযোগ করা যাবে। প্রশিক্ষণ শেষে মিলবে সনদপ্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে একটি সনদ দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবসার প্রসারের জন্য সহায়তা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে নানাভাবে সহযোগিতা করা হবে। //এআর

বিশ্বসেরা পদার্থবিজ্ঞানী বাংলাদেশের আতাউল করিম

বাংলাদেশের এক সূর্যসন্তান আলো ছড়াচ্ছেন বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের শীর্ষ ৫০ জন গবেষকের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি ড. আতাউল করিম। অপটিক্যাল সিস্টেম, অপটিক্যাল কম্পিউটিং এবং প্যাটার্ন রিকগনিশনে তার অবদান অন্যতম। যারা অ্যাপ্লায়েড অপটিক্সের ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বাধিক অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ম্যাগলেভ ট্রেনের প্রযুক্তি নির্মাণ করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার গবেষণায় অতীতে ও বর্তমানে অর্থ ব্যয় করছে অপটিক্যাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস, মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী, নাসা, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট, ন্যাভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি, রাইট প্যাটারসন ল্যাবরেটরি ইত্যাদি প্রথম সারির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। মোহাম্মদ আতাউল করিমের ১৯৫৩ সালের ৪ মে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে কর্মরত। তার বাবা ছিলেন চিকিৎসক এবং মা একজন গৃহিণী, স্ত্রী সেতারা একজন প্রাণরসায়নবিদ। গবেষণা কর্ম মোহাম্মদ আতাউল করিমের মোট গবেষণা ৩২৭টি। এর মধ্যে সফল এবং উল্লেখযোগ্য হলো- বায়োফিজিক্স, ননলিনিয়ার ইমেজ প্রসেসিং, ইলেক্ট্রো অপটিকাল ডিসপ্লেইস, অপটিক্যাল কম্পিউটিং অপটিক্যাল ও হাইব্রিড ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল সিস্টেমস ডিজাইন, প্যাটার্ন/টারগেট রিকগনিশন, শ্যাওলা থেকে জ্বালানি তৈরি, ইনফরমেশন প্রসেসিং, নাইট ভিশন, ইলেকট্রো অপটিক্যাল সিস্টেম এন্ড সেন্সর ও ম্যাগলেভ ট্রেন। ম্যাগলেভ ট্রেন আতাউল করিম ১৯৮৭ সাল থেকে বিভিন্ন রকম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ম্যাগলেভ ট্রেনের প্যাটার্ন আবিষ্কার তাকে সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ করে তোলে। আতাউল করিম ভার্জিনিয়ার নরফোকের ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতাকালে ম্যাগলেভ ট্রেন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৭ বছর ধরে এ ধরনের একটি ট্রেন তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তবে সাফল্যের দেখা পাননি। ড. আতাউল করিম ২০০৪ সালে এই গবেষণা প্রকল্পের সফলতা অর্জন করেন। এরপর মাত্র দেড় বছরে ট্রেনটির প্রযুক্তি নির্মাণে সক্ষম হন এবং গবেষণায় পরীক্ষামূলকভাবে সফল হন। ড. আতাউল করিম শুধু গবেষক নন, একজন ইন্সট্রাকটরও। তার গবেষণা কীভাবে প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হবে এবং কীভাবে বাস্তব রূপ নেবে তার সঠিক ও উপযুক্ত নির্দেশনা তিনি নিজেই দিয়ে থাকেন। যদিও জার্মানি, চীন ও জাপানে ঘণ্টায় ১৫০ মাইলের বেশি বেগে চলমান ম্যাগলেভ ট্রেন আবিষ্কৃত হয়েছে আগেই; তবু ড. করিম যুক্তরাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্বকে এমন এক ম্যাগলেভ ট্রেন উপহার দিয়েছেন, যেটি খরচের দিক থেকে খুবই সাশ্রয়ী, দৃষ্টিনন্দন এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন। এই ধরনের ট্রেনের জন্য প্রতি মাইল ট্র‍্যাক বা লাইন প্রস্তুত করতে এর আগে গড়ে খরচ করতে হতো ১১০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ড. আতাউল করিমের নেতৃত্বাধীন দলের আবিষ্কৃত এ ট্রেনে খরচ হবে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ডলার! আকর্ষণীয় এ ট্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চালু হওয়ার পর এর চাকা আর লাইনকে স্পর্শ করবে না। শিক্ষাজীবন ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসসি (সন্মান) শেষ করে উচ্চ শিক্ষার পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়রত অবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়নের বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন তিনি। কাগজপত্রসহ সবকিছু তৈরি থাকার পরও সেখানে আর যাওয়া হয়নি তার। অনার্স শেষ করে ফলাফল পাবার আগেই তিনি ইউনিভার্সিটি অব আলবামাতে ভর্তি হয়ে যান। ১৯৭৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে ও ১৯৭৯ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি পাশ করার পর ১৯৮১ সালে তিনি পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি অব আলবামা থেকে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন মৌলভীবাজার বড়লেখার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর বড়লেখার পিসি হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম শ্রেণিতে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট এমসি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ভর্তি  হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। কর্মজীবন ইউনিভার্সিটি অব আলবামা থেকে পিএইচডি করার পর তিনি আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে নতুন নতুন গবেষণা, শিক্ষকতা, আর বই লেখার কাজে নিমগ্ন হন। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ সাল অবধি সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেইটনে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন, ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক পদে পদন্নোতি লাভ করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেক্ট্রো-অপটিক্স প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সেখানে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে, ২০০০-২০০৪ সাল পর্যন্ত সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে এবং ২০০৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন ড. আতাউল করিম। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টের (গবেষণা) দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথে যোগদান করেন, বর্তমানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কর্মরত আছেন। লেখালেখি স্কুলে থাকতেই লেখালেখি শুরু করেন আতাউল করিম। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ‘বিজ্ঞান সাময়িকী‘ ও বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকায় তার ত্রিশটিরও বেশি লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘বিবর্তন কাহিনী’ এবং ‘সাম্প্রতিক’। ‘বিবর্তন কাহিনী’তে ছিল মহাজাগতিক ও জৈবিক বিবর্তন বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা। আর ‘সাম্প্রতিক’ লেখাটিতে ছিল বিজ্ঞানের সমসাময়িক বিষয়গুলোর উপর আলোচনা। ১৯৭৪ সালে প্রথম বইয়ের জন্য পাণ্ডুলিপি জমা দেন বাংলা একাডেমিতে। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর বাংলা একাডেমি কিশোর লেখকের লেখা প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করায় সমস্ত নিবন্ধ তিনি ইংরেজিতে বাংলাদেশের বাইরে থেকে প্রকাশ করেন। তিনি ১৫টিরও বেশি গবেষণামূলক বই রচনা করেছেন। এ পর্যন্ত তার রচিত ৩২৫টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা জার্নালসমূহে। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লেখা ও সম্পাদিত বইগুলো পাঠ্যপুস্তক হিসাবে পড়ানো হয়। তার বইগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য নাম হলো- Digital Design: A Pragmatic Approach (১৯৮৭), Electro-Optical Devices and Systems (১৯৯০), Optical Computing: An Introduction (১৯৯২), Continuous Signals and Systems with MATLAB (২০০১), Digital Design: Basic Concepts and Principles (২০০৭)। পেটেন্ট বেশ কয়েকটি আবিস্কারের পেটেন্ট রয়েছে ড. আতাউল করিমের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফাইবার অপ্টিক কাপলিং সিস্টেম, ট্রাইনারি এসোসিয়েটিভ মেমরি, ইনার প্রডাক্ট এরেই প্রসেসর ফর রিট্রাইভাল অব স্টোরড ইমেজ, অপটিক্যাল প্যাটার্ন রিকগনিশন টেকনিক ও র‍্যাস্টার স্ক্যানার উইথ এ সিলেক্টেবল স্পট ডাইমেনশন পুরস্কার মোহাম্মদ আতাউল করিম যেসব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এনসিআর স্টেকহোল্ডার অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯), নাসা টেক ব্রিফ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০), আপ এন্ড কমার্স এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০), অ্যালুমনি অ্যাওয়ার্ড ইন স্কলারশিপ (১১৯১), আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৪), আউটস্ট্যান্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৮)। এছাড়া তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘আউটস্ট্যান্ডিং পিপল অব দি টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ ও ‘আমেরিকান ম্যান এ্যান্ড উইম্যান ইন সায়েন্স’ শীর্ষক তালিকাসহ আরো বিভিন্ন সম্মানজনক তালিকায়। সুদূর প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ড. আতাউল করিম। তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্যোগ নেন বাংলাদেশে। এখন এই সম্মেলনটি এ দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী সম্মেলনে পরিণত হয়েছে। অতিথি সম্পাদকদের ৫টি দলের সহযোগিতায় তিনি প্রকাশ করেছেন ২০টি জার্নাল। এসব জার্নালে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশের যোগাযোগ, কম্পিউটিং, মাল্টিমিডিয়া, নেটওয়ার্ক এবং সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে। তার সম্পাদিত ‘টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ এন্ড ডিজাইন ইস্যু ইন বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ শীর্ষক বইটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বিজ্ঞানচর্চার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সূত্র : পিবিএন, অপটিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকা, ওল্ড ডোমেনিয়ন ইউনিভার্সিটি, আইজিআই গ্লোবাল।   ডব্লিউএন

সহস্রাধিক নারীকর্মী নেবে জর্দান

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরেই বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্দানে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সে আমাদের অর্থনীতির পারদে রক্তসঞ্চার হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যআয়ের দেশের স্বপ্ন দেখছি আমরা। জর্দানে মূলত নির্মাণ খাত, ওয়েল্ডিং, গৃহকর্ম ও পোশাক খাতেই আমাদের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সেখানে আমাদের শ্রমিকদের কাজের সুনামও রয়েছে। তাই বাড়ছে শ্রমবাজার। এবার বাংলাদেশ থেকে আরও এক হাজার ষোল জন নারী কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জর্দান। এলক্ষ্যে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। স্বল্প খরচে সরকারিভাবে এসব কর্মী নেয়া হবে। প্রবাসে গিয়ে ভালো আয় উপার্জন করে সাবলম্বী হওয়ার প্রতিতি যাদের তারা আবেদন করতে পারেন। কোন পদে কতজনমধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্দান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে এসব কর্মী নেবে। জর্দানের পোশাক  প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক চার প্রতিষ্ঠান মেশিন অপারেটর পদে ১০০৩ জন এবং এইচআর সহকারী ও মার্চেন্ডডাইজার সহকারী পদে মোট ১৩ জন কর্মী নেবে। এর মধ্যে হাই-টেক টেক্সটাইল এইচআর (মানবসম্পদ) সহকারী ও মার্চেন্ডডাইজার সহকারী পদে মোট ১৩ জন এবং অপারেটর পদে ২৬৩ জন নেবে। অপারেটর পদে ইউনাইটেড ক্রিয়েশন ৩০০ জন, নিডেল ক্রাফট ৪১০ জন এবং মুসা ফ্যাক্টরি ৩০ জন কর্মী চেয়ে ডিমান্ড নোট জমা দিয়েছে বোয়েসেল কার্যালয়ে। আবেদনের যোগ্যতা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, জর্দানে মেশিন অপারেটর পদে আবেদন করতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো তৈরি পোশাক কারখানার অপারেটর পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই নারী হতে হবে। মানবসম্পদ (এইচআর) সহকারী ও মার্চেন্ডডাইজার সহকারী পদে আবেদনের জন্য যোগ্যতা অন্তত স্নাতক। অন্যদিকে হাই-টেক টেক্সটাইল কর্মী হিসেবে যেতে চাইলে বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে। ইউনাইটেড ক্রিয়েশনের জন্য বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর। নিডেল ক্রাফট ও মুসা ফ্যাক্টরির জন্য প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। এসব ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। আবেদনকারীদেও অবশ্যই বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী নাগরিক হতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে। নিজের মোবাইল নম্বরসহ আরো দুটি নম্বর বোয়েসেলের ফরমে আবেদনের সময় উল্লেখ করতে হবে।যা লাগবেবোয়েসেল সূত্রে জানা যায়, সাক্ষাৎকারে অংশ নেয়ার জন্য প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। যেমনÑসাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, মূল পাসপোর্ট ও মূল পাসপোর্টের ছবিযুক্ত অংশের এক সেট রঙিন ও চার সেট সাদা-কালো ফটোকপি। বর্তমানে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র অথবা পরিচয়পত্র না থাকলে হাজিরা কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দেয়া সনদ সঙ্গে রাখতে হবে। বাছাই প্রক্রিয়াবোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি মেশিনে টেস্ট ও সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে। ১১ ও ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, দারুস সালাম রোড, মিরপুর ঠিকানায় বাছাই পরীক্ষা হবে। অপারেটর পদে ১১ আগস্ট সাক্ষাত্কার নেওয়া হবে বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে। এইচআর সহকারী ও মার্চেন্ডডাইজার সহকারী পদের জন্যও সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সেই পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে। প্রার্থীদের নির্দিষ্ট তারিখে সকাল ৮টায় উপস্থিত হয়ে বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। প্রথমে মেশিনে টেস্ট এবং পরে ভাইভা বা মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে বাছাই করা হবে। প্রথম ধাপ পেরোলে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর নিয়ম অনুসারে করাতে হবে মেডিক্যাল টেস্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট। মেডিক্যাল টেস্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট কত তারিখের মধ্যে কোথায় করাতে হবে তা জানিয়ে দেবেন বোয়েসেল কর্মকর্তারা। প্রার্থীর মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ বোয়েসেল অফিসে পাঠিয়ে দেবে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই। বোয়েসেলের দেওয়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই ফিঙ্গার প্রিন্টের কাগজসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে বোয়েসেল অফিসে। পরে সব বিষয় প্রার্থীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। বৈধপথে লেনদেনের জন্য যাওয়ার আগে প্রার্থীকে নিজ নামে নির্ধারিত ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। আট ঘন্টা চাকরিচুক্তি অনুসারে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য লোক নেওয়া হবে। চাইলে বাড়ানো যাবে চুক্তির মেয়াদ। একজন কর্মীকে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতে হবে। সপ্তাহের ছয় দিন কাজ শেষে মিলবে একদিন ছুটি। চাইলে ওভারটাইমএকজন কর্মী চাইলে কোম্পানীতে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি পাওয়া যাবে জর্দানের শ্রম আইন অনুসারে। নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের থাকা-খাওয়া, পরিবহন এবং প্রাথমিক চিকিত্সার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেবে। চাকরিতে যোগদানের বিমানভাড়া এবং তিন বছর চাকরি শেষে দেশে ফিরে আসার বিমানভাড়া নিয়োগকারী কোম্পানি বহন করবে। সুযোগ-সুবিধাবোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে, অপারেটর পদে হাই-টেক টেক্সটাইল ও মুসা ফ্যাক্টরি এবং নিডেল ক্রাফট বাংলাদেশি টাকায় মাসিক বেতন দেবে ১২,৮৭০ টাকা। ইউনাইটেড ক্রিয়েশন বেতন দেবে ১২,১০০ টাকা। এর সঙ্গে পাওয়া যাবে জর্দানের শ্রম আইন অনুসারে ওভারটাইম, ইনসেনটিভ। এ ছাড়া হাজিরা ভাতা, টার্গেট ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উৎসব বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হবে।অপারেটর পদে একজন কর্মী সব মিলিয়ে মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পাবে। এইচআর সহকারী ও মার্চেন্ডডাইজার সহকারী পদের মাসিক বেতন হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এ পদ দুটিতে ভালো দক্ষতা দেখাতে পারলে মিলবে পদোন্নতি। বছরে মোট ১৪ দিন নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়া যাবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতো মিলবে ১৫ দিনের মেডিক্যাল ছুটিও। এ ছাড়া চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসার সময় পাওয়া যাবে এককালীন বেশ বড় অঙ্কের টাকা। খরচাবোয়েসেল সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা বোয়েসেল অফিসে সংরক্ষিত থাকবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের সার্ভিস চার্জ এবং অন্যান্য সরকারি ফি বাবদ সর্বমোট ১৭,৭৫০ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বোয়েসেল অফিসে জমা দিতে হবে। তবে ইউনাইটেড ক্রিয়েশনের মাধ্যমে বাছাই করা কর্মীদের বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জের টাকা কোম্পানি বহন করবে এবং হাই-টেক টেক্সটাইল সার্ভিস চার্জের টাকা কর্মীর কাজে যাওয়ার তিন মাস পর ফেরত দেওয়া হবে।এছাড়া প্রার্থীর মেডিক্যাল ফির জন্য এক হাজার টাকা, ফিঙ্গার প্রিন্টের ফি বাবদ ২২০ টাকা এবং অঙ্গীকারনামার স্ট্যাম্প ক্রয়ের জন্য ৩০০ টাকা খরচ হবে। এ ছাড়া বাড়তি কোনো ফি বা টাকা জমা দেওয়া লাগবে না। যোগাযোগযেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যাবে বোয়েসেল অফিসে। এ ছাড়া কাজে যাওয়ার পরে কোনো সমস্যা হলে জর্দানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখায় যোগাযোগ করতে পারবেন। বোয়েসেলের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে দরকারি সব তথ্য। ঠিকানা : প্রবাসী কল্যাণ ভবন (পঞ্চম তলা), ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন রোড (রমনা থানার পশ্চিম পাশে), রমনা, ঢাকা-১০০০। ফোন ০২-৯৩৩৬৫০৮, ৯৩৬১৫১৫ ও ৯৩৬১১২৫  ওয়েব: িি.িনড়বংষ.ঢ়ড়ৎঃধষ.মড়া.নফ।//এআর

২ বছর বেতন পাচ্ছে না ২৫০ বাংলাদেশি শ্রমিক

সৌদি আরবে আড়াই শ’ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক গত দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। দেশটির রাজধানী জেদ্দার সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে কর্মরত ওই শ্রমিকরা এ অভিযোগ করেছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ওই কোম্পানিতে কর্মকরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য চেয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও এশিয়ার অন্য দেশের নাগরিকসহ প্রায় আটশ’ শ্রমিক সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে গত দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা ও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। এদের মধ্যে ২৫০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। বেতন না পেয়ে শ্রমিক ও তাদের সাথে থাকা পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনাহারে ও অর্ধহারে থেকে ইতোমধ্যে ৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সৌদি ইলেকট্রো কোম্পানিতে আঠারো বছর ধরে কাজ করছেন আব্দুল কাদের টিপু নামের একজন বাংলাদেশি শ্রমিক। তিনি বলেন, কোম্পানি হঠাৎ করে আমাদের কিছু না জানিয়ে বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত দুই বছর ধরে আমরা বেতন পাচ্ছি না। আমাদের আকামা নবায়ন না হওয়ায় সৌদি পুলিশের কাছেও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। পুলিশ এই কোম্পানির কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে জেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন টিপু। ওই কোম্পানিতে কাজ করছেন মোহাম্মদ হানিফ নামের অন্য এক বাংলাদেশি শ্রমিক। তিনি বলেন, অনেক টাকা খরচ করে সৌদিতে এসেছি। কিন্তু বেতন না পাওয়ার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছি। স্কুলের বেতন দিতে না পারায় সন্তানদেরও স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। টাকার অভাবে সংসার কিভাবে চালাবো তার কোনো কূল কিনার পাচ্ছি না। এতো কষ্ট করে কাজ করেছি কিন্তু বেতন না পাওয়ায় টাকার অভাবে খাওয়া দাওয়া করতে পারছি না। কোম্পানির কাছ থেকে বেতন ভাতা আদায়ের প্রশাসনের নিকট থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। শ্রমিকরা জানান, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের লেবার কাউন্সিলের সহয়তায় ২০১৫ সালে বেতন-ভাতার দাবিতে কোম্পানির মালিক ও ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে সৌদি লেবার কোর্টে মামলা করেন শ্রমিকেরা। পরে লেবার কোর্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়ে রায় প্রদান করেন। কিন্তু কোম্পানি বেতন-ভাতা না দিয়ে উল্টো শ্রমিকদের খায়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। এখন প্রায় সব বাংলাদেশি শ্রমিকই অনাহারে-অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছেন। লেবার কোর্টের রায়ের পরেও শ্রমিকদের বেতন ভাতা না দেওয়া পর শ্রমিকেরা গত বছর সৌদি আরবের উচ্চ আদালতে আবার মামলা করে। উচ্চ আদালতও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়। এতেও কোনো কাজ না হলে সর্বশেষ বিষয়টি সৌদি উচ্চ আদলতের আবার নজরে আনা হয়। পরে উচ্চ আদালত কোম্পানির মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি।  গত ১৫ সপ্তাহ ধরে কোম্পানির ম্যানেজার ও দুই কর্মকর্তা লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তার পরেও কিছু শ্রমিক তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশে কনসুলেট এর কনসাল জেনারেল এফ. এম. বোরহান উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের এই সমস্যা দূরীকরণে লক্ষ্যে সৌদিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।  কনস্যুলেটে একজন সার্বক্ষণিক অভিজ্ঞ লইয়ার নিয়োগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।  

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহবান

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি আহবান জানিয়েছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ্। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মামের স্থানীয় এক হোটেলে বিভিন্ন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান। এ সময় গোলাম মসীহ্ বাংলাদেশি জনশক্তির সততা, কর্মনিষ্ঠা ও দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত জনশক্তি নিয়োগের সময় তাদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের কর্ম পরিবেশ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের ধারনা, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা হলে শ্রমিকদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও তিনি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন। সৌদি আরব আসার পূর্বে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে অনেক ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। মতবিনিময় সভায় নেসমা, আল ইয়ামামা, নাসের আল-হাজারি, তামিমিসহ অন্যান্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ সাধারণ জনশক্তির পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশ থেকে আমদানির জন্য আহবান জানান।    

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি