ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৬:২৮

প্রশিক্ষণেই মিলবে চাকরি

যুব উন্নয়ন অধিদফতর

প্রশিক্ষণেই মিলবে চাকরি

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রচুর কর্মক্ষম লোক রয়েছে। এদের একটি বড় অংশ বেকার। কাজ চাচ্ছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কাজ পাচ্ছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থেকে তাদের কর্মক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। এসব বেকার তরুণ-তরুণীর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদফতর। চাহিদা অনুযায়ী দেশব্যাপী বছরজুড়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। প্রশিক্ষণের ধরন প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত দুই ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে, ১. কর্মপ্রত্যাশী যুব ও যুব নারীদের প্রশিক্ষণ ২. কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশিক্ষণ। কর্মপ্রত্যাশী যুবদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ৩৫টি ট্রেডে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়গুলোতে ৪১টি ট্রেডে ৪৯৬টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ক) কম্পিউটার প্রশিক্ষণ : ৬ মাস মেয়াদে রয়েছে কম্পিউটার বেসিক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার গ্রাফিক্স প্রশিক্ষণ, মডার্ণ অফিস ম্যানেজমেন্ট এন্ড কম্পিউটার এপ্লিকেশন ও এক মাস মেয়াদে রয়েছে ফ্রি ল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স। খ) বস্ত্র বিষয়ক প্রশিক্ষণ : বস্ত্র বিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে পোশাক তৈরি প্রশিক্ষণ ব্লক বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ, ব্লক প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ, স্ক্রিন প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ, ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ওভেন সুইং মেশিন অপারেটিং প্রশিক্ষণ, সোয়েটার নিটিং প্রশিক্ষণ, লিংকিং মেশিন অপারেটিং প্রশিক্ষণ। এগুলো সাধারণত এক মাস থেকে চার মাস মেয়াদে হয়ে থাকে। গ) ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ : প্রাত্যহিক জীবন যাত্রার চাহিদার কথা মাথায় রেখে যুব উন্নয়ন অধিদফতর রেখেছে ছয় মাস মেয়াদী ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউজওয়্যারিং, ইলেকট্রনিক্স  প্রশিক্ষণ, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং প্রশিক্ষণ। এছাড়া এক মাস মেয়াদী মোবাইল ফোন সার্ভিসিং এন্ড রিপেয়ারিং প্রশিক্ষণ ও প্রিভোকেশনাল প্রশিক্ষণ। ঘ) কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ : গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আর এর পিছনে যুব উন্নয়ন অধিদফতর সব সময় ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে তিন মাস মেয়াদী গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ খুব জনপ্রিয়। এছাড়া এক মাস মেয়াদী দুগ্ধবতী গাভী পালন ও গরু মোটা তাজাকরণ প্রশিক্ষণ, দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, লাইভস্টক এ্যাসিস্টেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে যুব উন্নয়ন অধিদফতর। ঘ) ভাষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ : বিদেশ যেতে ইচ্ছুক যুবকদের জন্য রয়েছে ১৫ দিন মেয়াদী আরবী ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও এক মাস মেয়াদী ইংরেজী ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ। ঙ) বিবিধ প্রশিক্ষণ : এছাড়া রয়েছে তিন মাস মেয়াদী সেলসম্যানশিপ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মেয়াদী টুরিস্ট গাইড বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও হাউজকিপিং এন্ড লন্ড্রি অপারেশন প্রশিক্ষণ। ছয় মাস মেয়াদী ফুড এন্ড বেভারেজ প্রডাকশন সার্ভিস প্রশিক্ষণ ও এক মাস মেয়াদী শতরঞ্জি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্প বিষয়ক প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির আওতায় সাত দিন মেয়াদী পশুসম্পদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মৎস সম্পদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, বস্ত্র বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স রয়েছে। রয়েছে রিক্সা সাইকেল, ভ্যান, ওয়েল্ডিং, ফটোগ্রাফি ও সোলার প্যানেল স্থাপন বিষয়ক প্রশিক্ষণ। ভর্তির যোগ্যতা যুব নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণত আঠার থেকে ৩৫ বছর বয়সী কর্মপ্রত্যাশী সব যুবক ও যুবনারী এসব প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে। যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক যুবক ও যুবনারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হিজড়া জনগোষ্ঠী এসব প্রশিক্ষণে প্রাধান্য পাবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হওয়া ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমানে আঠার থেকে বিশ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রশিক্ষকগণ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। আয়-রোজগার রাজধানীর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ,ইতোপূর্বে যারা প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে তাদের মধ্যে ৬০% যুবক আত্মকর্মসংস্থান সৃস্টিতে সাফল্যের সাক্ষর রেখেছে। তাদের মাসিক আয় গড়ে দশ হাজার টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। যোগাযোগ যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে হবে নিজ জেলা বা উপজেলার যুব উন্নয়ন অধিদফতর কার্যালয়ে। প্রধান কার্যালয় : যুব ভবন, ১০৮ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০। ওয়েব : www.dyd.gov.bd ।   /ডিডি/ এআর
এ বছর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ৯ লাখ ৬৪ হাজার কর্মীর

২০১৭ সালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ হতে মোট ৯ লাখ ৬৪ হাজার কমীর্কে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। আজ বুধবার ‍ডেইলি স্টার ভবনের আজিজুর রহমান কনফারেন্স রুমে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘অভিবাসন কূটনীতি : সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হতে মোট ৯ লাখ ৬৪ হাজার কমীর্কে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হয়েছে। ২০১৬-১৬ অর্থ বছরে ৭১ হাজার ৪৩৩ জন নারী কর্মী সৌদি অারবে গমন করেছেন। মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অভিবাসী কর্মীর সুরক্ষা, শোভন কাজ, নিরাপদ আবাসন, কাজ শেষে দেশে ফিরে আসার সুব্যবস্থা, স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির, বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা, বিএমইটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মো. নুরুল ইসলাম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে এম মহসিন প্রমুখ।     এম/এমআর

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে’

দেশের উন্নয়নের গতি আরও বেগবান করতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল। আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর আরসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর কালচারাল অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ আয়োজিত   ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : গতি-প্রকৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ড. মোহাম্মদ হেলাল বলেন, আমাদের দেশে কর্মক্ষম লোক আছে, কিন্তু দক্ষজনশক্তি নেই। এ কর্মক্ষম জনশক্তিকে যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা  এবং রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি চলমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর সুযোগ সর্ব্বোচ ব্যবহার করতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।  তিনি বলেন, আমাদের এ কর্মক্ষম লোকদের বিদেশে রপ্তানি করে কিছু বৈদেশিক মু্দ্রা অর্জন করেছি। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের শ্রমশক্তি দক্ষতা অনেক কম। যার কারণে বেতন বৈষম্য তৈরি করে।  আমাদের দেশের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় শুধু মাত্র দক্ষতার অভাবে। তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কৃষি খাতের উন্নয়নেও উদারনীতি ও রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যাংকের ঋণ, গবেষণা ও সম্প্রসারণ সুবিধা প্রদানের  ব্যবস্থা করতে হবে।  সংগঠনের সভাপতি  সারওয়ার আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন, নগর সাংবাদিক কাওসার রহমান প্রমুখ।   /এমআর  

বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা অর্জনে দরকার দক্ষ জনবল  : হুমায়ুন রশীদ

এনার্জি প্যাক। বিদ্যুৎ খাতে এক পরিচিত নাম। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইটিভি অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং এ খাতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হুমায়ুন রশীদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইটিভি অনলাইনের সহ-সম্পাদক সোলায়মান শাওন ইটিভি অনলাইন : ইটিভি অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম। কেমন আছেন? হুমায়ুন রশীদ : আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো আছি। ইটিভি অনলাইন : শুরুতেই আলাপ করতে চাই দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যবসার জন্য কেমন মনে করছেন? হুমায়ুন রশীদ : আমি বর্তমান পরিস্থিতিকে ভালো বলবো। বর্তমান সময়ে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। রাস্তাঘাটে কোনো ঝামেলা নেই। নতুন মৌসুম শীত আসছে। ঘরে ঘরে নতুন ধান, নতুন ফসল উঠছে। আমার দৃষ্টিতে বর্তমানে দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। ইটিভি অনলাইন : দেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ কেমন হচ্ছে? শুধু সরকারি বিনিয়োগই চোখে পড়ছে। সেই তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগ তেমন একটা হচ্ছে না, কেন? হুমায়ুন রশীদ : আসলে আমাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আমার উপলব্ধিতে দেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি থেমে নেই। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি থেকে করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ। যদি শুধু এনার্জি প্যাকের কথাই বলি, আমরা গত দেড় বছরে এলপিজি খাতে ৩০০ কোটি টাকা, স্টিল স্ট্রাকচার ভবনে ৫০ কোটি টাকা এবং গার্মেন্টস খাতে ১২০ কোটি বিনিয়োগ করি। নতুন করে ৬০০০ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে এসব খাতে। ইটিভি অনলাইন : আমরা কী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব? হুমায়ুন রশীদ : আমাদের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৬ হাজার মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। তারই অংশ হিসেবে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। তবে আমাদের দেশের অবকাঠামো এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূলে নয়। এসব অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে। ইটিভি অনলাইন : কী করতে হবে? হুমায়ুন রশীদ : প্রথমত প্রাইমারি এনার্জির নিরবিচ্ছিন্ন যোগান নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে দেখবেন পানি বা সড়ক পথে কোনো পণ্য আনতে অনেক সময় লাগে। এ সময়কে কমিয়ে আনতে হবে। প্রাইমারি এনার্জি হচ্ছে গ্যাস, কয়লা বা এ ধরনের জ্বালানী। দেখেন, কোনো একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাস, কয়লা বা তরল জ্বালানীর প্রয়োজন হয়। এগুলোর যোগান নিশ্চিত করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আমরা কতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি? হুমায়ুন রশীদ : দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশে বেস লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট সেভাবে আসছে না। বেস লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট যতদিন না আসবে, ততদিন আমরা যেসব স্বপ্ন দেখছি, তা কিন্তু পূরণ হবে না। আমাদের দেশে এখন যেসব ছোট ছোট পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে, তা দিয়ে এখন আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে বা সামনে ছোট ছোট যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে তা মোকাবেলা করা যাবে। সরকার কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বড় বড় বেস লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু না হলে আমাদের মূল যে লক্ষ্য এসডিজি অর্জন- তার থেকে কিন্তু আমরা পিছিয়ে পরবো। তাই সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব দেশে বড় বড় প্রজেক্টের বেস লোড ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা। ইটিভি অনলাইন : আমাদের জন্য সুখবর যে দেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পরমাণু কেন্দ্রের মূল অবকাঠামোর কাজের উদ্বোধন করেছেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? হুমায়ুন রশীদ : আমি বলবো, এটা একটি মহৎ উদ্যোগ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই দূরদর্শী চিন্তাভাবনা করেন। এনার্জি খাতে শুধু একটি মাত্র জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। আমরা এখনও জ্বালানী হিসেবে রুপান্তরিত গ্যাসের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর এর জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উত্তম এক বিকল্প হতে পারে। ইটিভি অনলাইন : বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে কীভাবে সক্ষমতা বাড়ানো যায়? হুমায়ুন রশীদ : দেখেন আমাদের দেশে দক্ষ জনবল এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। যাও বা আছে তা বিদেশে চলে যায়। প্রতি বছর ৫-৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শ্রম বিদেশে চলে যাচ্ছে। আমি বলব, বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা অর্জনে আমাদেরকে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বলে রাখি, আমাদের এনার্জি প্যাকে প্রায় ৮০০ স্নাতক প্রকৌশলী আছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৮ শতাংশ নারী প্রকৌশলী। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের প্রতিষ্ঠানে নারী প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইটিভি অনলাইন : দক্ষ জনবল তৈরিতে কী করা যেতে পারে? হুমায়ুন রশীদ : আমাদেরকে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদেরকে টেকনিশিয়ান বা কারিগরি খাতে কাজ করতে পারবে এমন জনবল তৈরি করতে হবে। এখনও আমরা এসব খাতে কাজের জন্য বাইরে থেকে টেকনিশিয়ান নিয়ে আসি। আর তাদের বেতনও হয় চড়া। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে দক্ষ জনবল দরকার। দক্ষ জনবল তৈরি করতে না পারলে পর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে। বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সাপোর্টিং সিস্টেমের জন্য যদি আমরা জনবল তৈরি করতে পারি, তাহলে আর বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। ৫-৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাবে না। আমরা বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারব। ইটিভি অনলাইন : বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কী কী তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে? হুমায়ুন রশীদ : আপনি যদি বিওপি বা ব্যালেন্স অব দ্যা প্ল্যান্ট এর কথা বলেন, তাহলে এর অনেক কিছু আমরা তৈরি করতে পারি। আপনি যদি দেখেন, একটা পাওয়ার জেনারেশনের যদি একটা টার্বাইন লাগে, সেটা আমরা তৈরি করতে পারি না। কিন্তু এর যে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো আমরা তৈরি করতে পারি। যেমন ধরেন, ১০০ মেগা ওয়াট জ্বালানী নির্ভর পাওয়ার প্ল্যান্টের শুধু ইঞ্জিন, অলটারেটর শুধু আমরা আমদানি করি; তবে কেবলগুলো স্থানীয় এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমাদের নিজেদের। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফর্মার এবং সুইচ গিয়ার বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। আইপিপি প্রজেক্টের প্রায় ৯০ শতাংশ প্ল্যান্টে দেখবেন দেশে তৈরি ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে প্ল্যান্টগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার গুরুত্ব পাচ্ছে। ইটিভি অনলাইন : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। বিদ্যুৎ জেনারেশন, প্রোডাকশন এবং বন্টনে এনার্জি প্যাকের ভূমিকা কতটুকু? হুমায়ুন রশীদ : আমরা একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। কমপ্ল্যায়েন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করি। আমরা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রজেক্টে কাজ করি। আমরা পাওয়ার জেনারেশন এবং ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশনে কাজ করি। আমরা সাব স্টেশন যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফর্মার, সুইচ গিয়ার, ডিসকানেক্টিং সুইং এসব বানাই। ১৩২ কিলো ভোল্ট থেকে ২৩০ কিলো ভোল্ট পর্যন্ত কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। যদি জেনারেশনের প্রসঙ্গে আসি তাহলে বলতে পারি আমরাই প্রথম দেশিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বিডিং করে কাজ পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। গোপালগঞ্জে ১০৮ মেগা ওয়াট এবং ফরিদপুরে ৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটি প্ল্যান্ট আমরা সফলভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সরকারকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। প্ল্যান্ট দুটি এখনও বাংলাদেশের জাতীয় গ্রীডে সব থেকে বেশি শক্তি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করছে। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের ইপিসিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। আর এনার্জি প্যাক এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইটিভি অনলাইন : ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন? হুমায়ুন রশীদ : বিশ্ব বাজারে আপনি দেখবেন বিদ্যুতের দাম ওঠা-নামা করে। আমাদের দেশে বিদ্যুতের দাম নামতে দেখা যায় না; শুধু উঠতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে দাম নামা উচিত। বিদ্যুতের দাম বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পরবে। তবে এর জন্য বিশেষত আমরা যারা শিল্প উদ্যোক্তা, আমাদের ‘কস্ট অব বিজনেস’ বেড়ে যাবে। বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এটাকে মেনে নিতে হবে। তবে বলব, এটাকে যদি অল্প অল্প করে বাড়ানো যায়, সহনশীল করে বাড়ানো যায়, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব কম দেখা যাবে। ইটিভি অনলাইন : বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হন? হুমায়ুন রশীদ : আমাদের দেশের সমস্যা একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। আমাদের দেশে নতুন কোনো প্রজেক্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সব থেকে বেশি সময় লাগে। প্রায় ১৪২ দিন। এমনটা আর কোনো দেশে নেই। এদেশে জমির স্বল্পতা। বিনিয়োগ করার জন্য দরকার পর্যাপ্ত জমি। এখন নতুন করে ১০০টি শিল্পাঞ্চল করা হবে। এটা ভালো উদ্যোগ। এছাড়া অন্যান্য বিষয় যেমন গ্যাস, পানি- এসবের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাও অন্যতম সমস্যা। সেই সঙ্গে দুর্বল অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। ইটিভি অনলাইন : বিদ্যুৎ খাতে যারা বিনিয়োগ করছে তারা পুঁজিবাজার থেকে মূলধন পেতে পারেন কি না? হুমায়ুন রশীদ : দেখেন যত অবকাঠামোগত প্রজেক্ট আছে তার জন্য পুঁজিবাজার ছাড়া কোনভাবেই এমন বড় প্রজেক্ট করা সম্ভব নয়। ফলে এই পুঁজিবাজারটিকে আমাদের বড় করতেই হবে। আমাদের দেশের বাজারে প্রচুর ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান আসছে। তাদের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত হওয়ার যোগ্যতা আছে। তাদেরকে পুঁজিবাজারে প্রবেশ করতে দিতে হবে। এরজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা যখন পুঁজিবাজার থেকে মূলধন পাবে, তখন এমন অবকাঠামোগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে। ইটিভি অনলাইন : আমাদেরকে সময় দেওয়র জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হুমায়ুন রশীদ : আপনাকে এবং একুশে টেলিভিশন ও ইটিভি অনলাইনকে আন্তরিক ধন্যবাদ।   /ডিডি/ এআর        

বিনা খরচে ভাতাসহ প্রশিক্ষণ পাবেন ১৬০ নারী

দরিদ্র ও পারিবারিক নানা অনটনে গ্রামের অনেক মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারেন না। তাই অনেক সময় নামতে হয় কঠোর পরিশ্রমের কাজে। কিন্তু নিজের কাজে দক্ষ না হাওয়ার কারণে তেমন পারিশ্রমিক পান না। ফলে অভাব-অনকট নিয়ে দিন পার করতে হয় তাদের। এসব নারীদের বিভিন্ন বিষয় প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিচ্ছে ‘শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি’। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ রুপে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ একবারেই ফ্রি। সফল প্রশিক্ষণার্থীদেরকে ভাতা দেওয়া হয়। সহায়তা করা হয় চাকরির ক্ষেত্রেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে প্রতি তিন মাস পর পর ১৬০ জন নারীকে বিনা খরচে (থাকা-খাওয়াসহ) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৮০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর অধিকাংশ-ই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী। এখন থেকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছেন। আগামী জানুয়ারিতে ৫টি বিষয় নতুন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ১৬০ জন নারী। সেজন্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেড কোর্সে আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যেসব কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেগুলো হচ্ছে-১. কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ২. ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং, ৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুইং মেশিন অপারেটর, ৪. বিউটিফিকেশন, ৫. মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ও ইন্টারনেট। এই ট্রেড কোর্সগুলোতে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে প্রার্থীকে এসএসসি পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। শুধু কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন ট্রেডের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এইচএসসি পাস হতে হবে। আর অন্যগুলোর জন্য এসএসসি পাশ হলেই চলবে। এসব ট্রেড কোর্সে ভর্তি হতে হলে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র [email protected] এই ই-মেইলে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন পাঠাতে হবে। আর ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এ প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি একাডেমির ঠিকানায় ভর্তির দিন সকাল ৮টার মধ্যে সরাসরি একাডেমিতে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে প্রার্থীদের ট্রেড উল্লেখপূর্বক নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, জন্মতারিখ, অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর ইত্যাদি উল্লেখ করে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্মনিবন্ধনের সনদ, আবেদনকারীর তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অভিভাবকের (যিনি হোস্টেলে অবস্থানকালে দেখাশোনা করবেন) পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মককর্তা সালমা আক্তার বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলাবিষয়ক অধিদফতর পরিচালিত এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এ প্রশিক্ষণ একাডেমি শুধু মহিলাদের পাঁচটি ট্রেড কোর্সে মোট ১৬০ জন নারীকে বিনা খরচে (থাকা-খাওয়াসহ) তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেবে। তাই যারা হাতে-কলমে কাজ শিখে স্বাবলম্বী হতে চান, তারা এ সুযোগটি নিতে পারেন। এছাড়া প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে মাসিক ৩০০ টাকা করে ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে। এখন থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর আপনারা কোনো চাকরির ব্যবস্থা করে দেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সামলা আক্তার জানান, আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানি চাকরি দেওয়ার জন্য লোক চায়। আমরা এখন থেকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তাদের সেখানে যোগাযোগ করতে বলি। প্রশিক্ষণ শেষে অধিকাংশ মহিলা ভাল বেতনে চাকরি করে। সবাই কোন না কোন কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণ শেষে গ্রেডিং পদ্ধতিতে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ দেওয়া হবে। এই সনদটি প্রার্থীর চাকরি পেতে সহায়ক হবে। গত বছর ২৭ তম ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে বিউটিফিকেশন ট্রেড কোর্সে প্রশিক্ষণ নেন আসিয়া আক্তার। তিনি জানান, এখন থেকে আমি প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজধানীর পল্টনে একটি বিউটি পার্লার খুলেছি। আগে একা একা কাজ শুরু করছিলাম । এখন আমার বিউটি পার্লারে তিনজন মেয়ে কাজ করে। সব মিলিয়ে ভাল আছি। যোগাযোগ : শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, জিরানী, গাজীপুর। মোবাইল: ০১৭৯৯৩৩৬৯১৩, ০১৯২৩০৩৫০০৬।   /ডিডি/ এআর

যুব উন্নয়ন অধিদফতরে ৩৬৬৫ তরুণকে প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশ বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রচুর কর্মক্ষম লোক রয়েছে। এদের একটি বড় অংশ বেকার। কাজ চাচ্ছে কিন্তু কাঙ্খিত কাজ পাচ্ছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থেকে কর্মক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে তাদের। এসব বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদফতরের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই ধাপে ৩৬৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলবে যুব উন্নয়ন অধিদফতর। অংশ নেওয়া যাবে অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই। নামেমাত্র ফি-তে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উপস্থিতি ঠিক থাকলে মিলবে ভাতাও। প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলতে চাইলে দ্রুত আবেদন করুন। আর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে তৈরি করুন আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়।   যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে এই প্রশিক্ষণ। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও কৃষি, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্ট, ওভেন ও সুইং মেশিন অপারেটিং এবং বিউটিফিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনটি কতজনকে প্রশিক্ষণ যুব উন্নয়ন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিত্সা, মত্স্য চাষ ও কৃষি বিষয়ে তিন মাস মেয়াদি কোর্সে দেশের ৫৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩২০০ জন প্রশিক্ষণ পাবেন। চার মাস মেয়াদি ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্ট কোর্সে ৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ২২৫ জন, দুই মাস মেয়াদি ওভেন ও সুইং মেশিন অপারেটিং বিষয়ে তিনটি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬০ জন এবং এক মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন বিষয়ে ৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৮০ জন প্রশিক্ষণ পাবেন। ভর্তির যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই আবেদন করা যাবে এই প্রশিক্ষণের জন্য। অংশ নিতে পারবেন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বেকার তরুণ তরুণীরা। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। আবেদন যেভাবেআবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর। নিজ হাতে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত আবেদন ফরম পাওয়া যাবে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (www.dyd.gov.bd)। এছাড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক, কো-অর্ডিনেটর, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে আবেদন ফরম।পূরণ করা আবেদনপত্র নিজ জেলা বা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি ও সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি যুক্ত করতে হবে। বাছাই প্রক্রিয়াজেলা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে প্রার্থীর আবেদন ফরম যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ৩০ অক্টোবর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে অধিদতফরের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে। সাক্ষাৎকারের দিন প্রার্থীর সব মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কোর্স শুরুপ্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হচ্ছে ২ নভেম্বর ২০১৭ ইং থেকে।প্রশিক্ষণ ফি ও ভাতাপ্রশিক্ষণের সব খরচ বহন করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। তবে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিত্সা, মত্স্য চাষ ও কৃষি বিষয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ ১০০ টাকা (অফেরতযোগ্য) ও জামানত বাবদ ১০০ টাকা (ফেরতযোগ্য) নেওয়া হবে। পাওয়া যাবে উপস্থিতির ভিত্তিতে মাসিক ১২০০ টাকা হারে ভাতা। ব্লক-বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট এবং ওভেন ও সুইং মেশিন অপারেটিং কোর্সের জন্য ৫০ টাকা ও বিউটিফিকেশন কোর্সের জন্য কোর্স ফি লাগবে ১০০ টাকা। যোগাযোগযেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে হবে নিজ জেলা বা উপজেলার যুব উন্নয়ন অধিদফতর কার্যালয়ে। প্রধান কার্যালয় : যুব ভবন, ১০৮ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০। ওয়েব :www.dyd.gov.bd // এআর //

প্রশিক্ষণে-ই মিলবে চাকরি

সারাদেশে ৫ লাখ দুই হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাাম বা সেইপ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৯টি সেক্টরে ১৩০-এর বেশি ট্রেডে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি)। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হবে ভাতা ও সনদ। চাকরির ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে। অন্তত ৭০ ভাগ সফল প্রশিক্ষণার্থী চাকরি পাবেন। নিজেকে আগামীর চ্যালেঞ্জর মোকাবেলায় তৈরি করতে চাইলে প্রস্তুতি শুরু করুন এখন থেকেই। আবেদন করুন, আর নিয়ে নিন হাতে কলমের এই প্রশিক্ষণ।   যেসব খাত ও বিষয়ে প্রশিক্ষণ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯টি সেক্টওে ১৩০ এর বেশি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল : মার্চেন্ডাইজিং, মিড-লেভেল সুপারভাইজর, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, ওভেন মেশিন ও নিট মেশিন চালনা, মাননিয়ন্ত্রণ ও টেক্সটাইল টেস্টিং, ফায়ার সেফটি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, উইভিং টেকনোলজি ও নিটিং টেকনোলজি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট। নির্মাণ শিল্প : ম্যাসনারি, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং, রড বাইন্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং : রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মেশিন টুলস অপারেশন, লেদ মেশিন পরিচালনা, অটোমোবাইল মেকানিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স। চামড়া ও পাদুকা শিল্প : সেলাই পরিচালনা, কাটিং অপারেশন, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস। জাহাজ নির্মাণ শিল্প : ওয়েল্ডিং ও সিএনসি মেশিন অপারেশন। অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং : প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং আপগ্রেডিং, উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল ও টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি : ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও হাউসকিপিং। এছাড়া নার্সিং টেকনোলজির কোর্সও করানো হবে। যদিও এর বিষয় এখনও নির্ধারিত হয়নি। যাদের জন্য প্রশিক্ষণসমাজের অনগ্রসর যুব স¤প্রদায়, বেকার অথবা মিড-লেভেলের কর্মকর্তা বা সুপারভাইজর, যারা প্রশিক্ষণ পেলে আরও দক্ষ হতে পারবেন- তাদের জন্য এ প্রশিক্ষণ। এছাড়া যাদের কাজ করার মানসিকতা, শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য রয়েছে অথচ বেকার- এমন তরুণ-তরুণীরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পেতে সহায়তা করা হবে। ভাতাসহ বিশেষ বৃত্তি পাবেন দরিদ্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থীরা। এখানে ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ১,২৮,৩৮৮ জনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারী কর্মী রয়েছে ৫১,৩৭৭ জন। বিভিন্ন সেক্টরে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে ৮৫,৮১৩ জনের। বাকীদের ক্রমান্বয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আবেদন যোগ্যতা সেইপ প্রকল্পের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, মার্চেন্ডাইজিং, মিড-লেভেল সুপারভাইজার, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিংয়ে ভর্তির যোগ্যতা ¯œাতক। অষ্টম থেকে এসএসসি পাস হলেই ভর্তি হওয়া যাবে ওভেন মেশিন ও নিট মেশিন চালনা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং টেক্সটাইল টেস্টিং, ফায়ার সফটি অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, উইভিং টেকনোলজি ও নিটিং টেকনোলজি কোর্সে। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কোর্সভেদে ভর্তির যোগ্যতা এসএসসি থেকে ¯œাতক। অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই রাজমিস্ত্রি, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিং, রড বাইন্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মেশিন টুলস অপারেশন, লেদ মেশিন পরিচালনা, অটোমোবাইল মেকানিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, সেলাই পরিচালনা, কাটিং অপারেশন, ওয়েল্ডিং, সিএনজি মেশিন অপারেশন প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে অষ্টম থেকে এইচএসসি পাস হলেই। এসএসসি পাস হলে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং আপগ্রেডিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ও হাউসকিপিং বিষয়ে। যেখানে মিলবে প্রশিক্ষণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিফতরের বরিশাল, রংপুর, শেরপুর, নরসিংদী, ঝালকাঠি, মানিকগঞ্জ ও হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ফেনী। প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম; বাংলাদেশ জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ট্রেনিং সেন্টার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)। এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ), অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি), লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এলএফএমইএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বিএসিসিও), বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএ) দেবে প্রশিক্ষণ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এসএমই বিভাগ এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের আউটসোর্সকৃত সহযোগী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান; আর মিড-লেভেলের কর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশিক্ষণ দেবে। যেভাবে আবেদন আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন সেইপের www.seip-fd.gov.bd -এ ওয়েবসাইট থেকে। যেকোনো সময় প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আর বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন সেইপ প্রকল্পের মনোনীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যোগাযোগের ঠিকানা- স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা। চাইলে ফোন করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে- ০২-৫৫১৩৮৫৯৮-৯, ৫৫১৩৮৭৫৩। সময়কালজুলাই ২০১৪ থেকে শুরু হয়েছে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। চলবে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেন। মিলবে ভাতা ও চাকরিপ্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া হয়ে থাকে ভাতা। এর জন্য কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। মাসিক তিন হাজার টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। কোর্সভেদে এক মাসের জন্য তিন হাজার, দুই মাসের জন্য ছয় হাজার, তিন মাস মেয়াদের জন্য ৯ হাজার  ও ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ১৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। ঠিকঠাক প্রশিক্ষণ শেষ করা মোট ৭০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া যাঁরা ব্যবসা বা নিজেই কিছু করতে চান, তাঁদেরও সহায়তা করা হয়। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সনদ দেওয়া হয়। তাই শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রয়েছে কাজের সুযোগ। এ ছাড়া শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা উচ্চতর পদে বেশি বেতনে চাকরি পাচ্ছে। যোগাযোগপ্রশিক্ষণের সব তথ্য পাওয়া যাবে প্রকল্প কার্যালয় থেকে। তবে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করতে হবে সেইপ প্রকল্পের মনোনীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিভিন্ন সময় কোর্সে ভর্তির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ), অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২, ইস্কাটন গার্ডেন, রমনা, ঢাকা-১০০০। ফোন : ০২-৫৫১৩৮৫৯৮-৯, ৫৫১৩৮৭৫৩ ওয়েব :www.seip-fd.gov.bd।

‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হবে’

ষোল কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। এদেশে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ আছে, সেটিও ফুরিয়ে যাওয়ার পথে। মাটির নিচে তেল ও খনিজ সম্পদ আছে, কিন্তু সেগুলো অনুসন্ধানের লোক নেই। এর কারণ আমাদের দক্ষ মানবসম্পদের বড়ই অভাব। এদিকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল) সুযোগ গ্রহণ করেছে। এদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি। বিপুল জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য বোঝা না, সম্পদ- এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এখনই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মক্ষম মানুষগুলোকে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন রিজাউল করিম।

১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেবে ফেসবুক

দেশের ১০হাজার তরুণ-তরুণী ও উদ্যোক্তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ফেসবুকের ‘বুস্ট ইওর বিজনেস’ প্রোগ্রামের আওতায় আগামী ছয় মাসে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সোমবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় এলআইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য ফেসবুকের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পারস্পরিক যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি পণ্যের বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মাধ্যমে এটি ভার্চুয়াল বাজার হয়ে উঠেছে। দেশে ফেসবুকের বিশাল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এরই মধ্যে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে। এই প্রবণতার প্রসার ঘটছে। তাই, সরকারের এলআইসিটি প্রকল্প ও ফেসবুকের যৌথ উদ্যোগে আমরা ১০ হাজার তরুণ-তরুণী ও আগামীর সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেবো। আশা করি, এই উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার, এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম, এলআইসিটি’র কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান রিতেশ মেহতা, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের (এমসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ আবীর। এমআর/এআর

৯৫০ জনকে ফ্রি আইটি প্রশিক্ষণ সঙ্গে ভাতা ও সনদ

তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেপ) প্রকল্পের আওতায় ৯৫০ জনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইইটি) এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এনআইটিটিপ) ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণ দেবে। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে সনদ ও ভাতা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে চাকরি পেতেও সহায়তা করা হবে।প্রশিক্ষণের বিষয় ও মেয়াদসেপ প্রকল্প অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল) এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট- এ তিনটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল)- এ দুটি বিষয়ের মেয়াদ তিন মাস এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে কোর্সের মেয়াদ ছয় মাস।আবেদনের যোগ্যতাআবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই এইচএসসি পাস হতে হবে। প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল) এ দুটি বিষয়ের জন্য প্রার্থীর বয়স থাকতে হবে ২০-৪৫-এর মধ্যে। ওয়েবসাইট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য বয়স ১৮-৪৫ বছর। ভর্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীরা, সুবিধাবঞ্চিত, নারী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা। কম্পিউটার বিষয়ে বেসিক জ্ঞান এবং ইংরেজি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। ভর্তির সময় জমা দিতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নম্বরপত্রের ফটোকপি এবং তিন কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়ানির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে। অনলাইনেও আবেদন পূরণ ও সাবমিট করা যাবে। এ ছাড়া আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে এনইআইটি অফিস থেকেও। ফরম পূরণ করে জমা দেয়া যাবে এনআইইটিসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় কম্পিউটার বেসিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর কম্পিউটার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণাসহ অন্যান্য দিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় কম্পিউটার চালনায় অভিজ্ঞতা কতটুকু আছে, তা দেখে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এ ছাড়া প্রার্থী বাছাইয়ের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজ শেখার আগ্রহ, সাধারণ জ্ঞানের পরিধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। নিয়মিত অধ্যয়নরতরা আবেদন করতে পারবেন না। প্রতি তিন মাস পরপর শুরু হবে নতুন ব্যাচ। তিন বিষয়েই প্রতি ব্যাচে নেওয়া হবে ২৫ জন করে।ভাতা, আবাসন ও চাকরিপ্রশিক্ষণের জন্য কোনো ফি গুনতে হবে না; বরং প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া যাবে ভাতা। সাধারণ কোটার প্রার্থীরা কোর্স শেষে ৩০০০ টাকা ভাতা হিসেবে পাবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী প্রশিক্ষণার্থী সব মিলে ৭০০০ টাকা ভাতা পাবেন। এ ছাড়া প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং (আপস্কিল), গ্রাফিকস ডিজাইন (আপস্কিল)- এ দুটি বিষয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা পাবেন বিনামূল্যে আবাসন সুবিধা। এ দুই কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রশিক্ষণ শেষে কাজের মূল্যায়ন করে দেয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআইইটির সনদ। সফলভাবে কোর্স শেষ করতে পারলেই মিলবে চাকরি। দেশে আইটি খাতে প্রচুর দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষরা নিজেরাই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারবে। এছাড়া আইটি খাতে অনেক চাকরির সুযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। প্রশিক্ষণ শেষে আইটি বিষয়ে চাকরি পেতেও সহায়তা করবে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তা হতে চাইলে ঋণপ্রাপ্তিতেও সহায়তা করা হবে।ভর্তি তথ্যবিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রার্থী খোঁজা হবে। তাই নিয়মিত চোখ রাখতে হবে পত্রিকায়। ওয়েবসাইটেও পেতে পারেন আবেদনের ফরমসহ দরকারি সব তথ্য। এ ছাড়া যে কোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে এনআইইটির শাখা অফিসে। ঢাকা ক্যাম্পাস : ৬৯/ই গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা, মোবাইল ০১৮৪১৫৫১১৬৬ এবং ৭৪ বা/এ, ওয়্যারলেস গেট, মহাখালী, ঢাকা-১২১৩। মোবাইল : ০১৯৭১০০৭৭৭৭। নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পাস : রূপসী বাসস্ট্যান্ড, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইল : ০১৭৩১০০৬৯৮। //এআর

তরুণদের ফ্রি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরি

দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। এ লক্ষে দেশের অসহায়, দরিদ্র, স্বল্প শিক্ষিত ও মেধাবী তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন বিভাগে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলছে। এসব প্রশিক্ষণের বেশিরভাগই বিনামূল্যে দিচ্ছে বিটাক। সঙ্গে থাকছে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় সনদ। অনেককে আবার চাকরির ব্যবস্থাও করে দেয় বিটাক। কেউ কেউ বিটাক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তাও হচ্ছে। সবমিলিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কার্যকর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য বহু তরেুণের স্বপ্ন সারথি বিটাক। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে বিটাকের অতিরিক্ত পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল করিম একুশে টেলিভিশন (ইটিভি) অনলাইনকে বলেন, বিটাক বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আত্মপ্রত্যয়ী তরুণরা বিটাক থেকে কোর্স করে সহজেই কাজের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ উদ্যোক্তাও হচ্ছে। তিনি জানান, দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার‌্যক্রম চলমান। এর একটি সেপা, অন্যটি সেপ। এগুলোর আওতায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফজলুল করিম অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের বিটাকের এসব কোর্স করার জন্য আহবান জানান। SEPA (সেপা) প্রকল্প বিটাকের অধীনে (SEPA) সেল্ফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রোভারটি এলিভিয়েশন প্রকল্পের আওতায় নারীদের তিন মাসব্যাপী নয়টি বিভাগে ও পুরুষদের দুই মাসব্যাপী তিনটি বিভাগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবছর নারীদের চারবার ও পুরুষদের ছয়বার ভর্তি করা হয়। প্রতি ব্যাচে বিভিন্ন ট্রেডে বিটাকের বিভিন্ন কেন্দ্রে ৩০০ জন নারী ও ২৮৮ জন পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হয়। প্রকল্প  পরিচালক ইঞ্জি. মো. ইকবাল হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ সেপা প্রকল্পের আওতায় মেয়েদের জন্য রয়েছে লাইট মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রক্যাল মেইনটেইন্যান্স, অটোক্যাড, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ারকন্ডিশনিং , হাউজ হোল্ড অ্যাপ্লায়েন্স, কার্পেন্টিং, প্লাষ্টিক প্রসেসিং (জেনারেল) এবং প্লাষ্টিক প্রসেসিং (কাষ্টমাইজ) বিষয়ক প্রশিক্ষণ। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেইন্যান্স এবং রিফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং নামে তিনটি কোর্স । ৩ মাস প্রশিক্ষণ শেষে বিটাকে একটি জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্নধাররা এসে তাদের চাহিদামত প্রার্থী বাছাই করে নিয়ে যান। প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেটের সঙ্গে ওই প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরির নিয়োগপত্রও হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিক বিবেচনায় বলা যায় যে, তিন মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমেই চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে অনেকের। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির আওতায় এখন পর্যন্ত ৮১০০ জন নারী ও ১১ হাজার ৫২০ জন পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। যাদের বেশির ভাগই চাকরিতে যোগদান করেছেন। তবে এর মধ্যে ৬৪৫০ জনকে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং কেউ কেউ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে।  কখন থেকে ভর্তি (SEPA)  সেল্ফ এমপলয়মেন্ট অ্যান্ড প্রোভারটি এলিভিয়েশন প্রকল্পের আওতায় পরবর্তী কোর্সের কার্যক্রম আগামী ০২/১০/২০১৭ তারিখ থেকে শুরু হবে। যোগ্যতা এসব প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রার্থীদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পাস প্রক্ষিণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে বিভাগ বাছাই করা হয়ে থাকে। SEIP (সেপ) প্রকল্প বিটাকের অধীন অপর একটি প্রকল্প (SEIP) স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বছরে তিন বার ৪ মাস অন্তর অন্তর কোর্স করার সুযোগ পাবেন। এ প্রজেক্টের ৮ম ব্যাচের পরবর্তী কার্যক্রম আগামী ০২/১০/২০১৭ তারিখ থেকে শুরু হবে। কোন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেশের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান সারা বছরই বিটাকের কাছে প্রশিক্ষিত কর্মী চেয়ে চিঠি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বেঙ্গল প্লাস্টিক লিমিটেড, নাসির গ্রুপ লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড, ফিলিপস, নিটোল টাটা, ইস্টার্ন টিউবস, অ্যানার্জি প্যাক, ডেকো গ্রæপ, রহিম আফরোজ, আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটাল,চায়না বাংলা কোম্পানি, হরিজন প্লাস্টিক এবং শাহ সিমেন্টসহ অন্যান্য আরও কিছু কোম্পানি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা শুধু কর্মী পর্যায়েই নয়, বিটাক এবার হাতে নিচ্ছে বড় একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে একটি টুল ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। এই যন্ত্রাংশগুলো দিয়ে দেশে নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি তৈরি করা ছাড়াও দেশের বাইরের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের গাড়ির পার্টস তৈরি করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ বহুল জনশক্তি কাজের সুযোগ পাবে। যোগাযোগ বিটাকের ঢাকাসহ সারাদেশে মোট পাঁচটি কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ নিতে হলে প্রার্থীদের বিটাকের কেন্দ্রগুলো থেকে বা বিটাকের ওয়েবসাইট থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। বিটাকের কেন্দ্রগুলো নিম্নে দেয়া হলো- ঢাকা কেন্দ্র: বিটাক, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ চট্টগ্রাম কেন্দ্র: সাগরিকা রোড, পাহাড়তলী চট্টগ্রাম চাঁদপুর কেন্দ্র: ষোলঘর, চাঁদপুর খুলনা কেন্দ্র: শিরোমণি শিল্প এলাকা, খুলনা বগুড়া কেন্দ্র: নিশিন্দারা,কারবালা, বগুড়া এছাড়াও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এই ঠিকানায় ( www.bitac.gov.bd) /এম/এআর      

গ্রামীণ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে এটুআই ও অক্সফাম

সকলের জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ ও মাথাপিছু রেমিটেন্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণ তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে ‘কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা’ কর্মসূচিত হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। সরকারের এ উদ্যোগ সহায়তা দেবে লন্ডন ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম। এ লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়স্থ এসএসএফ ব্রিফিং রুমে এটুআই প্রোগ্রামের সাথে অক্সফ্যাম বাংলাদেশ-এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং অক্সফাম বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) এম বি আখতার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায়, এটুআই প্রোগ্রাম ও অক্সফ্যাম যৌথভাবে হাজার গ্রামীণ তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষানবিশের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্ম-কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রশিক্ষণ করানো হবে। শিক্ষানবিশ কালে প্রশিক্ষণে একজন এ্যাপ্রেনটিস (শিক্ষানবিশ) কারখানায় সপ্তাহে ৫ দিন হাতে-কলমে কাজ শিখবে এবং একদিন তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। এর ফলে কারখানা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, কারখানা ভীতি কমে আসবে এবং আস্থা তৈরি হবে। আর এন্ট্রারপ্রেনারশীপের আওতায় গ্রামীণ যুব সমাজকে এন্টারপ্রেনারশীপ বা আত্ম-কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিভাবে ব্যবসা শুরু করতে হয়, কেমন বিনিয়োগ করতে হয়, কিভাবে ব্যাংক লোন পেতে হয়, কিভাবে নিজ ব্যবসার ব্রান্ডিং ও মার্কেটিং করতে হয় তারা ইত্যাদি বিষয়ে সম্যক ধারণা পাবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ্যাপ্রেনটিসশীপ বা কারখানায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে কাজ শেখার পদ্ধতিটি একটি নতুন ধারণা। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহের সাথে ইন্ডাস্ট্রিসমূহের সংযোগ স্থাপন। এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে ২০১৬ সালে আইএলও-এর সহযোগিতায় দেশের ৩০টি উপজেলায় ইনফরমাল সেক্টরে “শিক্ষানবিশ’র মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৬টি ট্রেডে এক হাজার ২০০ বেকার তরুণ-তরুণী এ্যাপ্রেনটিস (শিক্ষানবিশ) প্রোগ্রাম শেষ করে যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে এ উদ্যোগ দেশের ৫০টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিন হাজার ৬০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে ইনফরমাল সেক্টরে এ্যাপ্রেনটিসশীপের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইনফরমাল সেক্টরে এ্যাপ্রেনটিসশীপের পাশাপাশি চলতি বছর এগ্রো-ফুড, ফার্নিচার, লেদার, হোটলে এ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরের ফরমাল ইন্ডাস্ট্রিতেও এ্যাপ্রেনটিসশীপ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা, এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এক্সপার্ট আসাদ-উজ-জামান, অক্সফ্যাম এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইকোনমিক জাস্টিস এন্ড রেসিলয়েন্স) মো. খালিদ হোসেন, অক্সফ্যাম এর ম্যানেজার (উইন এন্ড কমিউনিকেশন) মনীষা বিশ্বাস, অক্সফ্যাম এর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর জলি নূর হক এবং এটুআই ও অক্সফ্যাম এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   টিকে  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি