ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮ ২২:৪১:১৫

রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে যা করবেন

রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে যা করবেন

পবিত্র মাহে রমজান আসলেই আমাদের খাদ্যভাস পরিবর্তন হয়। যে কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। মূলত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মাংস জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, পানি কম খাওয়া কিংবা আঁশ জাতীয় খাবার কম খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কিছু নিয়ম মেনে খাবার ও পানাহার করলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেলা আখতার এমন কথা জানান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন: রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ কি কি খাবার গ্রহণ করা উচিত ? ডা. সোহেলা আখতার : রমজান মাস আসলে আমাদের খাদ্য অভ্যাস অনেক পরিবর্তন হয়। যে কারণে অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ থেকে মুক্তির জন্য বেশি বেশি সবজি খাওয়া যেতে পারে।  সবজিতে প্রচুর স্বাস্থ্যকর ফাইবার থাকে। পুদিনা, লেটুস, মটরশুঁটি, ছোলা ও মটরের মত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন আপনার ডায়েটে। এগুলো মলকে নরম হতে এবং সহজে অন্ত্র দিয়ে বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে। এছাড়া আপেল, কলা, পেঁপে, ডুমুর, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি ফলগুলো ফাইবারে সমৃদ্ধ বলে সেহরির সময় এগুলো খেতে পারেন। এছাড়াও সারাদিনে হাইড্রেটেড থাকতেও সাহায্য করবে এই ফলগুলো। একুশে টিভি অনলাইন : রমজানে তাদের জন্য আলাদা কোন খাবার গ্রহণ করবে কিনা? ডা. সোহেলা আখতার : তাদের জন্য আলাদা কোন  খাবার  রাখতে হবে এমন না। তবে ভাঁজা পোড়া একটু কম খেতে হবে। ওটস, গম, মসূর ডাল, ফ্ল্যাক্স সিডস ইত্যাদি খাবারগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। কারণ এগুলো আস্তে আস্তে হজম হয়। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করবে। এছাড়া মাছ ও মুরগী খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে কম চর্বি থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। এটা শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে তৈরি হতে সাহায্য করে। তা ছাড়া বেশি করে পানি পান করার পাশাপাশি ফলের রস পান করতে হবে। কচি ডাবের পানি, তরমুজ, কমলা, আঙ্গুর এবং আনারস এর জুস পান করুন। একুশে টিভি অনলাইন : সেহেরি পর কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করা ভালো হবে? ডা. সোহেলা আখতার : পরিমাণ মতো সেহেরি খেয়ে। দুই থেকে চারটা খেজুর খাওয়া যেতে পারে। খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা ছাড়াও রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মাথা ঘুরানো প্রতিরোধে সাহায্য করবে। এছাড়া এককাপ দও খাওয়া যেতে পারে।  টিআর/টিকে
রোজা বহু রোগের প্রতিরোধক

মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদারের জন্য রয়েছে দৈহিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন, আত্মিক ও নৈতিক অবস্থার উন্নতিসহ অশেষ কল্যাণ ও উপকার পাওয়ার সুযোগ। রোজা মানুষকে সংযমী ও শুদ্ধ করে এবং অশ্লীল, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।  রোগাগ্রস্ত অবস্থায়ও অনেকেই রোজা রাখতে চান। অনেকে এমনও বলেন- ‘মরি মরবো, বাঁচি বাঁচব, তবু রোজা ছাড়ব না। রমজানে বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিতে ভুগছেন, তাদের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে রোজা রাখা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও রোজা রাখতে অনেকেই প্রবল আগ্রহী। তারা যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজার মাসের জন্য ওষুধ সেবনবিধি ঠিক করে নিতে পারেন, তবে সহজেই রোজা রাখতে পারবেন। এতে রোজা ভাঙার বা রোজা থেকে বিরত থাকার কোনো প্রয়োজন হয় না। বরং বিভিন্ন রোগের উপশপে ভূমিকা রাখে রোজা। রোজা, রোগ ও আপনার স্বাস্থ্য রোজা রাখার উদ্দেশ্য শরীরকে দুর্বল করে অকর্মণ্য করা নয়, বরং শরীরকে সামান্য কিছু কষ্ট দিয়ে দৈহিক ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধন। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে রোজায় ক্ষতি না হয়ে বরং বহু রোগব্যাধির প্রতিরোধক এবং আরোগ্যমূলক চিকিৎসা লাভে সহায়ক হয়। রোজায় স্বাস্থ্যের সমস্যার চেয়ে বরং স্বাস্থ্যের উপকারই বেশি হয়। ডায়াবেটিস রোগী রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ ও রহমতস্বরূপ। ডায়াবেটিস রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা হতে পারে এক অন্যতম উপায়। এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়। যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা। যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম। এর সঙ্গে সঙ্গে রোজা রোগীকে সংযম, পরিমিতিবোধ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়, যা ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অপরিহার্য। রক্তের কোলেস্টেরল যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, রোজা তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। রোজা ভালো কোলেস্টেরলকে (এইচ ডি এল) বাড়াতে এবং মন্দ কোলেস্টেরলকে (এল ডি এল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে যাহায্য করে। লেখক: ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (চলবে) টিআর/ এআর

রয়েছে সেহরী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও (ভিডিও)

দায়িত্ব পালন কিংবা কর্মের তাগিদে পরিবারের সাথে সেহরী করা হয়না অনেকের। তাদের ভরসা হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট। আবার স্বাদের ভিন্নতার জন্য বাইরে সেহরী করেন কেউ কেউ।  এসব মানুষের চাহিদা পূরণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় সেহরী পর্যন্ত খোলা থাকে হোটেল রেঁস্তোরা। পার্সেলের মাধ্যমে সেহরী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও আছে। রাতভর ব্যস্ততা থাকে রাজধানীর এমন কয়েকটি এলাকার মধ্যে কমলাপুর অন্যতম। রমজানে সারারাত খোলা থাকে এখানকার অনেক রেস্টুরেন্ট। রাত দুইটার পর থেকে সেহরী খেতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ আসেন এখানে। ব্যবসাসহ অন্যন্য প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষেরাই মূলত কমলাপুরের রেস্টুরেন্টগুলোতে আসেন। রয়েছে আইনশৃংখলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও। মান খুব একটা ভালো না হলেও বাধ্য হয়েই সেহরী করছেন বলে জানালেন এই পুলিশ সদস্য। তবে এখনো পুরোপুরি জমে উঠেনি ব্যবসা। কয়েকদিন পর মানুষের চাপ আরো বাড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সেহরী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।

রোজা রাখা অবস্থায় ব্যায়াম ও ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

পবিত্র রমজান মাসে অামাদের দৈনন্দিন রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন এসে যায়। এই অবস্থায় ব্যায়াম করা যাবে কী না বা ডায়াবেটিস রোগীরা কীভাবে ওষুধ খাবেন তা তুলে ধরা হলো।  রোজা রাখা অবস্থায় কোনো ধরণের ব্যায়াম করা যাবে না। ইফতারের এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা যাবে। রমজানে তারাবির নামাজকে বিকল্প ব্যায়াম হিসেবে মনে করা হয়। ♦যারা দিনে একবার ডায়াবেটিসের ওষুধ খান (সালফোনাইল ইউরিয়া- দিনে একবার) তারা সেটি ইফতারের সময় খাবেন।♦যারা দিনে একাধিকবার ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তারা ( সালফোনাইল ইউরিয়া- দিনে দুই বার) তারা সেটির সকালের মাত্রাটি ইফতারের সময় ও রাতের মাত্রাটি সেহরির অাধা ঘণ্টা অাগে খেতে পারেন।♦যারা মেটফরমিন ৫০০/৮৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার গ্রহণ করেন তারা ইফতারের পর মেটফরমিন ১০০০ মি.গ্রা. ও সেহরির পর ভরাপেটে ৫০০/৮৫০ খেতে পারেন।♦যারা রিপাগ্লিনাইড ও নেটিগ্লিনাইড গ্রহণ করেন তারা ইফতারের শুরুতে ও সেহরির অাগে নিতে পারেন।♦যারা ভিলডাগ্লিপটিন, সিটাগ্লিপটিন, লিনাগ্লিপটিন গ্রহণ করেন তারা একই মাত্রায় ইফতার ও সেহরির সময় খেতে পারেন। ইনসুলিন: ♦যে সব রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন রমজানের পূর্বেই তাদের ইনসুলিনের ধরণ ও মাত্রা ঠিক করে নেওয়া উচিৎ।♦যারা তিনবার ইনসুলিন গ্রহণ করেন তারা ইফতারে দুই ভাগ ও সেহরির রাতের অাধা ভাগ নিবেন।♦যারা দুইবার ইনসুলিন গ্রহণ করেন তারা ইফতারে সকালের ডোজ ও সেহরিতে রাতের অাধা ডোজ গ্রহণ করবেন।♦যারা একবার ইনসুলিন নেন তারা ইফতারের সময় নিবেন।♦অাধুনিক ইনসুলিন গ্রহণের মাধ্যমে রমজানে ডায়াবেটিস রোগীরা হাইপোগ্নাইসেমিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারেন।♦ইসলামী চিন্তাবিদদের মতামত অনুযায়ী রোজা রাখা অবস্থায় ইনসুলিন নিলে রোজা নষ্ট হয় না। তাই ইফতারের ইনসুলিনটি ইফতারের বিশ মিনিট অাগে নেওয়া যেতে পারে। লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল। অনু লেখক: অালী অাদনান। এসএইচ/

সেহরি-ইফতারের সময়সহ গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল জানতে ‘ইসলামের কথা’

মুসলমানদের পবিত্র সংযমের এ মাসে কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষ রোজা রাখবেন। রমজানে সময়মতো সেহরি ও ইফতারের গুরুত্ব অনেক। তাই কখন সেহরির সময় শেষ হবে এবং কখন ইফতার শুরু হবে তা জানা জরুরি।স্মার্টফোনের কল্যাণে এখন আর কষ্ট করে ক্যালেন্ডারের পাতায় রোজার সময়সূচি খুঁজতে হবে না। হাতে থাকে স্মার্টফোনের সাহায্যেই জানা যাবে বিস্তারিত তথ্য। এমনই একটি অ্যাপ হল ‘ইসলামের কথা’।এটি রমজানজুড়ে সবার জন্য বেশ কাজে দেবে। অ্যাপটি তৈরি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ডিকোড ল্যাব। এক নজরে অ্যাপটির ফিচার সমূহ অ্যাপটি চালু করলে ওপরে কাউন্ট ডাউনে ইফতারের কত সময় বাকি তা প্রদর্শিত হবে।জেলা অনুযায়ী ইফতার ও সেহরির সময়সূচি মিলবে অ্যাপটিতে। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হল জাকাত। কত টাকা জাকাত দিতে হবে তা নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন।তবে অ্যাপটিতে থাকা ‘জাকাত ক্যালকুলেটর’ বিভাগ থেকে জাকাতের পরিমাণ জেনে নেয়া যাবে। অ্যাপটিতে নামাজের পূর্ণ বিবরণ, নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় দোয়া ও সুরা, নিয়ম মেনে নামাজ শিক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যাবে।এছাড়া মিলবে রোজার নিয়ত, রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ, রমজানে সেহরির গুরুত্ব, ইফতারের গুরুত্ব ও তারাবির গুরুত্বসহ নানা হাদিস। তসবিহ গণনার কাজে এবং অ্যালার্ম দেয়ার কাজেও অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে।ধর্মী অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আ্যাপটিতে। কোনো প্রশ্ন না জানা থাকলে সেটিও করা যাবে। ইসলামের কথা অ্যাপ-টি গুগল প্লে-স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে।/ এআর /

রমজানে খানাপিনা

রমজান মাস পবিত্র মাস। রমজানে রোজা ভালোভাবে পালনের জন্য শারীরিক সুস্থ্যতা খুবি জরুরি। রোজায় সবাইকে একটা সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় শরীরের জমাকৃত কার্বোহাইড্রেট  এবং ফ্যাট থেকে এনার্জি নিয়ে কাজ করে। তাই রোজায় প্রত্যেক বেলার খাবার গ্রহণে ব্যালেন্স রাখতে হবে। খাবারে সব ধরনের খাদ্য উপাদান থাকাটা খুবি জরুরি। শর্করা জাতীয় খাবার রাখতে হবে ইইফতারিতে। যেমন মুড়ি, চিড়া, খেজুর, ফলের রস ইত্যাদি। প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জির সাথে সাথে, পুষ্টি উপাদান ও পাওয়া যাবে। এছাড়াও এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রকৃতিতে চলছে গ্রীষ্মকাল। আর সাধারণত গ্রীষ্মকালে শরীরের ডিহাইড্রেশন বেশি হয়। তাই এসময় রোজা রেখে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে প্রচুর পানি বা ফলের রস গ্রহণের বিকল্প নেই। সাথে সামান্য পরিমানে চিনি বা লবণ মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। খাবারের পরিবর্তনের সাথে পানি গ্রহণ কম হয়ে গেলে, কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই পানি বা ফল, ফলের রস এবং সবজি ইত্যাদি আশযুক্ত খাবার রোজায় বেশি খেতে হবে। এ সময় অতিরিক্ত অয়েলি খাবার না খাওয়া শ্রেয়। এতে লিপিড প্রোফাইল খারপ হয়ে যেতে পারে, মানে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে। যারা রোজায় চর্বি জাতীয় খাবার মেনে চলবেন, তারা এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এমনকি যাদের এই ধরনের সমস্যা আছে এ নিয়ম মেনে চললে তারা ভালো হয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও খাবার পরিমিত খেলে রোজায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তারা অবশ্যই খাবার গ্রহণে সচেতন থাকবেন। কারণ যাদের কিডনি রোগ বা গেটে বাত (ইউরিক এসিড) আছে, তাদের ডাল জাতীয় খাবার পরিমাণে খুব কম খাওয়া বা একেবারেই না খাওয়া উচিৎ। রোজার সময় অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয়। এটা সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণের জন্য হয়। তাই তারা চাইলে প্রতিদিন ইফতারে দই চিড়া খেতে পারে। কারণ দই রয়েছে প্রোবাওটিক, যা পেটের গাট ব্যাক্টেরিয়াকে ধংস করে। এছাড়াও এখন যেহেতু গ্রীষ্মকাল সেহেতু এই সময়কে ফলের জন্য মধু মাস বলা হয়ে থাকে। তাই মৌসুমিফল খেলে রোজায় হাইড্রেটেড থাকা যাবে খুব সহজেই। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় রোজায় না খেয়ে প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জি নেওয়াই শ্রেয়। চিনির পরিবর্তে মধু খেলে উপকার বেশি পাবেন। যারা ডায়াবেটিকসের রোগীরা তাদের খাবার গ্রহণ এবং ইন্সুলিন ব্যাবহারে সচেতন থাকবেন। যারা প্রসুতি মা তাদের ও খাবার ব্যালান্স করতে হবে। তাদের যেহেতু এসিডিটির সমস্যা থাকতে পারে, সেহেতু তারা এই সময় সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করবেন আর প্রচুর পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে খেতে হবে। সবশেষে বলতে চাই রোজা আল্লাহর ইবাদত। রোজার নিয়ম সঠিকভাবে পালন করবেন এবং ইবাদত পালন করার জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ্য থাকবেন। লেখক: পুষ্টিবিদ, ল্যাব এইড হাসপাতাল, পল্লবী শাখা

রোজা রাখলে কী পানি শূন্যতা তৈরি হয়?

অামাদের শরীরে দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার তরলের চাহিদা থাকে। যেহেতু অামরা এই রোজা গ্রীষ্মকালে পেয়েছি তাই অামাদের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিৎ। বিশেষ করে অামরা যারা গরমের সংস্পর্শে যাচ্ছি, বাইরে কাজ করছি অামাদের অারও বেশি সতর্ক থাকা দরকার। মানুষের স্বাভাবিক ঘাম হয়, ইউরিন হয়। এর ফলে শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য ইফতার থেকে সেহেরি পর্যন্ত একটা বোতলে পানি রেখে তা পান করা বজায় রাখতে পারি। ঘুমের সময় বাদ দিয়ে অাধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর এই পানি পান করতে পারি। ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে যেনো অাট থেকে ১০ গ্লাস পানি করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। এছাড়া ইফতারে অামরা কিছু তরল খাবারের কথা বলি। যেমন- লাচ্ছি, ডাবের পানি, তোকমা ও লেবু দিয়ে শরবত, ইসবগুলের শরবত। এসব পানি পান করলেও শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। অাবার যারা রাতের খাবার খেতে চায় না তাদের অামি পরামর্শ দিই স্যুপ তৈরি করে খেতে। সবজি ও চিকেন দিয়ে তৈরি স্যুপ অল্প সময়ে প্রস্তুত করা যায়। এসব তরল খাবারের পাশাপাশি একগ্লাস দুধ খেতে পারলে অারও ভালো। একটি সলিড খাবার অাছে যেটি পানির চাহিদা পূরণ করে। সেটি হলো খেজুর। অাল্লাহ প্রদত্ত খেজুর এমন এক নিয়ামত যদি সেহরির শেষ সময়ে একটা বা দুটা খেজুর খান তাহলে সারাদিন পানির পিপাসা লাগবে না। এই নিয়মগুলো মেনে চলে পারলে শরীরও সুস্থ থাকে, পানি শূন্যতাও রোধ করা যায়। লেখক : তামান্না চৌধুরী, এ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউট্রিশনিষ্টস ও ডায়টিশিয়ানসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনু লেখক: অালী অাদনান। এসএইচ/

কোন রোগে রোজা রাখা যাবে, কোনটিতে নয়

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আশির্বাদস্বরুপ। স্বাস্থ্যের জন্যও বছরে একমাস রোজা রাখা ভালো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিতও। তবে রোগীরা রোজা নিয়ে দু:শ্চিন্তায় থাকেন। কোন রোগে রোযা রাখা নিরাপদ ও কোন রোগে রোজা রাখা যাবে না এসব নিয়ে রোগীদের পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।হৃদরোগজটিল বা ঝুঁকিপূর্ণ হৃদরোগী ছাড়া অন্য হৃদরোগীদের জন্য রোজা বেশ উপকারী। এ সময় বেশ নিয়ম মেনে চলা হয় বলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেই থাকে।♦ রক্তচাপের রোগী, যাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে তাঁদের রোজা রাখতে বাধা নেই; বরং উপকারী। তবে খাওয়াদাওয়ায় লবণ, তেল-চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে।♦ রান্না করা ছোলার পরিবর্তে ভেজানো কাঁচা ছোলা, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা দিয়ে খেতে পারলে ভালো, পেটের জন্যও উপকারী। এর ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাসিয়াম রক্তচাপ বা হার্টের জন্য ভালো। আবার সর বাদ দিয়ে দই বা টক দই খেলে ফ্যাটের মাত্রাও কমিয়ে দেয়, এতে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোও উপকারী।♦ আনকন্ট্রোল্ড অ্যানজাইনা বা নিয়মিত বুকের ব্যথা থাকে যাঁদের, তাঁদের তিন বেলা ওষুধ খেতে হয় বলে রোজা না রাখাই উচিত।♦ হার্টের রোগীদের রোজা রাখা অবস্থায় যদি খুব বেশি খারাপ অনুভব হয়, তবে দ্রুত রোজা ভেঙে ওষুধ খাওয়া উচিত।ডায়াবেটিসকিছু বিশেষ সতর্কতা, নিয়ম মেনে চললে বেশির ভাগ ডায়াবেটিক রোগীই রোজা রাখতে পারেন।  যেমন—♦ রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। তাঁরা তারাবির নামাজের পর একটু হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করবেন।♦ সময় শেষ হয়ে যাওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে সাহরি খেয়ে নিলে ভালো। রক্তে সুগারের স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), সুগারের আধিক্য (হাইপারগ্লাইসেমিয়া), ডায়াবেটিক কিটো-অ্যাসিডোসিস, পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনজাতীয় জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে সতর্ক থাকুন।♦ সাহরির দুই ঘণ্টা পর এবং ইফতারের এক ঘণ্টা আগে রক্তের সুগার পরীক্ষা করতে পারেন। সুগারের পরিমাণ কমে ৩.৯ মিলিমোল বা লিটার হয়ে গেলে রোজা ভেঙে ফেলুন। আবার সুগারের মাত্রা ১৬.৭ মিলিমোল অথবা লিটার বা তার বেশি হলে প্রস্রাবে কিটোন বডি পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।♦ মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।গর্ভবতী মাগর্ভকালীন সময়ের ওপর নির্ভর করে একজন গর্ভবতী মা রোজা রাখতে পারবেন কি না। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় হলো—♦ গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস ও শেষের তিন মাস একটু ঝুঁকিপূর্ণ বলে এই সময় রোজা না রাখাই ভালো। তবে কেউ ইচ্ছা করলে মধ্যবর্তী তিন মাসে রোজা রাখতে পারেন।♦ গর্ভাবস্থায় যাঁরা রোজা রাখতে চান, সাহরিতে তাঁরা একজন স্বাভাবিক মানুষের খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার খাবেন। তবে ক্যালরি ও আঁশযুক্ত খাবারের দিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।♦ রোজার সময় বেশি বিশ্রাম নিন। দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।♦ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগী বা যাঁরা হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ করা অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের একটু বেশি সতর্ক থাকা উচিত। হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি মায়েদের রোজা না রাখাই ভালো।কিডনি রোগ♦ কিডনি রোগে আক্রান্তরা রোজা রাখতে পারবেন না—এমন কথা নেই। তবে আকস্মিক কিডনি রোগে আক্রান্তদের রোজা রাখা উচিত নয়। রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়ার পর রোজা রাখা যাবে।♦ রক্তের ক্রিয়েটিনিন ৩০ শতাংশ বেড়ে গেলে, পটাসিয়াম বেড়ে গেলে রোজা রাখা ঠিক হবে না।♦ কারো যদি সিরাম পটাসিয়াম ৪.৫-এর বেশি থাকে, তাহলে খেজুর, শুকনো ফলমূল, বাদাম, চা, কফি, চিজ, ফলের জুস ইত্যাদি খাওয়া ঠিক হবে না। আবার কারো পটাসিয়াম যদি ৪.৫-এর নিচে থাকে তাহলে পরিমিত ফলমূল খাওয়া যাবে। তবে পানি পানের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।♦ যাঁদের কিডনি ফেইলিওরের মাত্রা শেষ পর্যায়ে, তাঁদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয়।♦ ডায়ালিসিস রোগী বাদে অন্যদের একটু বেশি পানি পান করা ভালো। বিশেষত পাথরজনিত রোগে যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা রমজানে অবশ্যই বেশি পানি পান করবেন।♦ ডায়ালিসিস রোগীরা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাবেন। এ ছাড়া খেতে হবে ফাইবার, সালাদ, সবজি, রুটি, ভাত ইত্যাদি। তবে লবণ, পটাসিয়াম ও ফসফেটযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত এবং টিনজাত খাবার বর্জন করতে হবে।পেটের অসুখগ্যাস্ট্রিক আলসার বা পেপটিক আলসারের রোগীদের মধ্যে এই ধারণা রয়েছে যে রোজা রাখলে এসিডিটির সমস্যা বাড়বে। আসলে তা সত্য নয়। বরং নিয়মিত খাবারদাবার, ওষুধ গ্রহণ, ঘুমানোর ফলে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ভাজাপোড়াজাতীয় খাবার অবশ্যই তাঁদের পরিহার করা উচিত। বেশি সমস্যা হলে ইফতার ও সাহরিতে রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ একটা করে এমনকি রাত্রে দু-তিনবার অ্যান্টাসিড ওষুধ খাবেন।শ্বাসকষ্টযাঁদের শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে, তাঁরা রোজা রাখতে পারেন। অন্যথায় ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। এসব রোগীকে নিয়মিত ওষুধ, খাবারের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। বেশি সমস্যা হলে ইনহেলার নিতে হবে। এতে রোজার ক্ষতি হয় না বলেই জানা গেছে।লিভারের অসুখলিভারের রোগীদের রোজা রাখা নির্ভর করে রোগটির ধরনের ওপর। কেউ যদি ভাইরাল হেপাটাইটিস নামের রোগে আক্রান্ত হন, তাঁরা খেতে পারেন না, ঘন ঘন বমি হয়, রুচি নষ্ট হয়, জন্ডিস দেখা দেয়। অনেক সময় তাঁদের শিরায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ দিতে হয়। তাঁদের পক্ষে রোজা না রাখাই ভালো। আবার যাঁরা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, তাঁদের যদি রোগের লক্ষণ কম থাকে, তবে রোজা রাখতে পারেন।লেখক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন।/ এআর /

সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

রমজানে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে আমাদের বেশ কিছু ভুল হয়ে থাকে। প্রথমত  ট্রাডিশন বা ঐতিহ্য, দ্বিতীয়ত রসনা বা তৃপ্তি- মনের তৃপ্তি বা জিহবার তৃপ্তি, আর তৃতীয়ত থাকে পুষ্টি। এসবগুলোর সমন্বয় করেই খাবারের ব্যবস্থাটা করতে হবে। আমরা পুষ্টিবিদরা সাধারণত বলে থাকি, ভাজাপোড়া খাবেন না, পরিমাণ মতো খাবেন ইত্যাদি। কিন্তু আমরাও পছন্দ করি একটা বা দুটো পেঁয়াজু বা বেগুনী থাকবে ইফতারিতে। এসব বিবেচনায় রোজায় স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবারের বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হলো-এক. স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসম্মত খাবার দুই. বাইরের কেনা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা তিন. ঘরে তৈরি ভাজা পোড়া খাবারে একটু রকমফের করা যেমন- আজকে যদি বেগুনী থাকে কাল পেঁয়াজু, পরশু আলুর চপ।  ফলে মেন্যুটা বৈচিত্রময় হয় ও একইদিনে  অনেক ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া হয় না। একদিনে অনেক ভাজাপোড়া খাবার থাকলে ইফতারের পর অস্বস্থি বোধ হতে পারে। এসিডিটি হতে পারে। পেটের পাশাপাশি ওজনও বেড়ে যেতে পারে। একজন পুষ্টিবিদ হিসেবে আমি প্রতি রোজার পর অনেককেই পাই  যাদের হঠাৎ করে কোলস্টেরল বেড়ে গেছে,  ইউরিক এসিড বেড়ে গেছে, এমনকি  কিডনি ক্রিয়েটিনিন ও অনেকের বেড়ে গেছে। তাই সবাইকে এই বিষয় গুলো মাথায় রাখতে হবে। ফল, ফলের জুস, (আমরা যদিও  জুস না খেয়ে ফল খেতে বলি, কিন্ত রমজানে ঘরে তৈরি ফলের জুস খাওয়া যেতে পারে, সেক্ষেত্রে চিনির ব্যবহার না করাই ভালো) চিড়া, দই, মুড়ি, খৈ-অর্থাৎ সহজপাচ্য খাবার যা অ্যাসিডিটি করে না আবার পুষ্টির যোগান দেয়, তা  ইফতারের মেন্যুতে থাকলে ভালো। নুডলস, ঘরে তৈরি পাস্তা, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি ভালো ইফতার। ঘরে তৈরি মুরগির  হালিম  থেকে অনেক পুষ্টি পাওয়া যায়। আমরা সবসময় দইয়ের কথা বলি এজন্যই যে, দই ভালো প্রোবায়োটিক এবং দই আমাদের  ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে  সাহায্য করে।রাতের খাবারে আমরা রুটি, সবজি, ডিম, দুধ, চিড়া, ওটস দুধ ইত্যাদি খেতে  পারি। সেহরি গুরুত্ব দিয়ে খেতে হবে। অনেকে সেহরীতে খাবার না খেয়ে শুধু একগ্লাস পানি খেয়ে রোজা রাখে। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। এর ফলে রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে যাবেন। পানির পিপাশা বেড়ে যাবে। শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়ে যেতে পারে। দেখা যাবে, ত্রিশ রোজার মধ্যে দশ- বারো রোজা যাওয়ার পর এতোটাই অসুস্থ হয়ে যাবেন, তখন অন্য রোজা রাখার ক্ষমতা থাকবে না। যেহেতু রোজা সংযম, রোজা ইবাদাত- তাই আমাদের ঐতিহ্যটা ধরে রেখেই আমরা খাওয়া দাওয়া করতে পারি।লেখক : তামান্না চৌধুরী অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউট্রিশনিষ্টস ও ডায়টিশিয়ানসের ভাইস প্রেসিডেন্ট। অনুলেখক: অালী অাদনান / এআর /

রমজানে পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য যা করবেন

রমজান মাস, রোজা থাকতে হয়। আর এ সময় শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু রমজানে পর্যপ্ত ঘুমের সময় কোথায়? এদিকে দিনে ঘরে-বাইরে, অফিসের কাজে ব্যস্ততা আবার রাতে সেহেরিতে উঠতে হয়। সব মিলে ঘুমের সময় খুবই কম। কিন্তু ঘুম কম হলে কি শরীর সুস্থ থাকবে? সুতরাং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব পূরণ করতে কিছু করণীয় রয়েছে যা আপনাকে সাহায্য করবে-    টিভি ও ফেসবুকের ব্যবহার কমানো রমজানের এই পুরো মাসটা না হয় টিভি কমই দেখলেন। ফেসবুকটাও ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন। আপনার পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য এইটুকু পরিহার করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক। তাই এ সময় আপনার স্মার্ট ফোনটা দূরে রাখুন। ইফতার ও রাতের খাবার পরিমিত রমজানে সারাদিন না খেয়ে ছিলেন তাই ইফতারে যা পাচ্ছেন তাই খাচ্ছেন, এতে আপনার রাতের ঘুম হারাম করে দিবে। এদিকে রাতেও ভারী খাবার খাচ্ছেন, এতে মোটেও ঠিক হবে না। আপনার পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য রাতে অবশ্যই হালকা খাবার খাবেন এবং ক্যাফিনযুক্ত পানীয় বা অ্যালকোহলকে দূরে রাখুন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে মেডিটেশন করুন রমজানে ঘুমানোর যাওয়ার আগে মনোযোগ সহকারে মেডিটেশন করুন। কেননা মেডিটেশন আপনার মানসিক চাপকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। মেডিটেশনের ফলে আপনার ঘুমকে নিশ্চিত করবে। অল্প ঘুমেও আপনার অধিক ঘুমের কাজ করবে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে কাজ পরিহার করুন আপনি যখন ঘুমোতে যাবেন তার আগে কোন ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকুন। যেমন- বই পড়া কিংবা অফিসের বাকি কোন কাজ ইত্যাদি কখনই করবেন না। এতে আপনার ঘুমের ঘাটতি হবে। সেহেরিতে উঠতে হবে তাই আগে আগেই ঘুমাতে যাওয়া জরুরি। এ সময় কোন চিন্তা মাথায় রাখবেন না। চা-কফি পরিহার করুন অতিরিক্ত চা-কফি পর্যাপ্ত ঘুমের দুশমন। ইফতারির পর যত সম্ভব চেষ্টা করবেন চা-কফি কম খাবেন। যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তবে রাতের ঘুম পর্যাপ্ত হবে না। আবার পরদিন সকালে অফিস আছে, সুতরাং আপনার পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। কেএনইউ/ এআর            

যেভাবে ওষুধ সেবন করলে রোজা নষ্ট হয় না

মাহে রমজানে রোগীদের মধ্যে কিছু বিষয়ে দু:শ্চিন্তা কাজ করে। ওষুধ সেবন কীভাবে করবেন, ওষুধ সেবন করলে রোজা ভেঙে যাবেন কিনা এসব নিয়ে শত প্রশ্ন এতে উকি দেয় রোগীদের মনে। চিকিৎসকগণ ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও আলেমদের সঙ্গে আলাচনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, রোজা থাকাবস্থায় বেশ কয়েকটি পন্থায় ওষুধ সেবন ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে রোজা নষ্ট হবে না। রোজা রাখাবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ নেওয়া যাবে। এছাড়া হৃদরোগীর বেলায় বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে নিতে পারবেন।নারী রোগীর তলপেটে পরীক্ষার জন্য যোনিদ্বার দিয়ে চিকিৎসক বা নার্স হাতের আঙুল অথবা কোনো যন্ত্র প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না। এমনকি চিকিৎসার জন্য যোনিপথে পেসারি বা কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। মূত্রথলি পরীক্ষা বা এক্স-রে করার জন্য রোগীর প্রস্রাবের দ্বার দিয়ে ক্যাথেটার অথবা অন্য কোনো যন্ত্র প্রবেশ করালে অথবা রেডিও-ওপেক ডাই প্রবেশ করালে রোজা ভঙ্গ হবে না। দাঁত তোলা, ড্রিলিং করা বা মেসওয়াক বা ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা যাবে, তাতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে এগুলো করার সময় যেন পাকস্থলীতে থুতু বা টুথপেস্ট প্রবেশ না করে। রোগীর চামড়া, মাংস, অস্থিসন্ধি ও শিরায় ইনজেকশন দেয়া যাবে। কিন্তু স্যালাইন, ডেক্সট্রোজ প্রোটিনজাতীয় জিনিস ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।যে কেউ রক্ত অন্যকে দিতে পারবেন আবার জরুরি প্রয়োজনে নিজেও নিতে পারবেন। কোনো রোগী অক্সিজেন অথবা অজ্ঞানকারী গ্যাস (অ্যানেসথেসিয়া) নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। ত্বকের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে যায় এমন মলম, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে। পরীক্ষার জন্য রোগীর শরীর থেকে রক্ত নেয়া যাবে। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী হার্টের এনজিওগ্রাম এবং কার্ডিয়াক ক্যাথেটার করা যাবে।  রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বা চিকিৎসার অংশ হিসেবে এন্ডোস্কপি করলে রোজা ভাঙবে না।  মুখ পরিষ্কারের জন্য মাউথ ওয়াশ বা গড়গড়া বা মুখে স্প্রে জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যাবে, তবে যেন পাকস্থলীতে কোনো কিছু না যায়।জরায়ু পরীক্ষার জন্য শরীরে হিস্টারোস্কপি করা যাবে, এমনকি জরায়ুতে কোনো যন্ত্রপাতি বা অন্য কিছু পরীক্ষার জন্য প্রবেশ করালে রোজায় কোনো সমস্যা হবে না।  লিভার বায়োপসি অথবা অন্য কোনো অঙ্গের বায়োপসি করলে রোজা নষ্ট হবে না। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ অনুমোদন করেন, যে নাকে স্প্রে বা হাঁপানি রোগীর বেলায় ইনহেলার জাতীয় কিছু নিলে কোনো সমস্যা নেই।  রোগীর পায়ুপথে ইনজেকশন অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আঙুল বা অন্য কোনো যন্ত্র প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না।  জরুরি কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোজা রাখা অবস্থায় করা যাবে।  কিডনি অকেজো হলে রোগীর ডায়ালাইসিস করলে রোজা ভাঙবে না।লেখক : ডীন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  / এআর /

ঢাকায় আজ ইফতার ৬ টা ৩৮ মিনিটে

আজ শুক্রবার ১ রমজান ঢাকায় ৬টা ৩৯ মিনিটে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ কথা জানিয়েছে। আগামীকাল শনিবার ২ রমজানে সেহেরির শেষ সময় ভোর রাত ৩টা ৪৫ মিনিট এবং ইফতার অনুষ্ঠিত হবে ৬টা ৩৯ মিনেটে। ইফতারের সময় ঢাকা জেলা থেকে বাড়বে যেসব জেলায়- ১ মিনিট বাড়বে গোপালগঞ্জ, নেত্রকোনা ও বাগেরহাট জেলায়। ২ মিনিট বাড়বে যে সব জেলায়-মানিকগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর ও মংমনসিংহ জেলায়। ৩ মিনিট বাড়বে টাঙ্গাইল ও নড়াইল জেলায়। ৪ মিনিট বাড়বে শেরপুর, জামালপুর, যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জ জেলায়। ৫ মিনিট বাড়বে রাজবাড়ী, কুষ্ঠিয়া, ঝিনাইদহ ও পাবনা জেলায়। ৬ মিনিট বাড়বে গাইবান্ধা ও বগুরা জেলায়। ৭ মিনিট বাড়বে যেসব মেহেরপুর, নাটোর ও কুড়িগ্রাম জেলায়। ৮ মিনিট বাড়বে রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ১০ মিনিট বাড়বে নীলফামারী, দিনাজপুর ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।১২ মিনিট বাড়বে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। ঢাকা জেলা থেকে ইফতারের সময় কমবে যেসব জেলায়- ১ মিনিট কমবে যেসব জেলায়- শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও ঝালকাঠি জেলায়। ২ মিনিট কমবে যেসব জেলায়-চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, বি.বাড়িয়া ও বরগুনা জেলা। ৩ মিনিট কমবে যেসব জেলায়-হবিহঞ্জ, লক্ষীপুর ও ভোলা। ৪ মিনিট কমবে যেসব জেলায়-সিলেট, কুমিল্লা,নোয়াখালী ও মৌলভীবাজার জেলা। ৫ মিনিট কমবে যেসব জেলায় ফেনী ৮ মিনিট কমবে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায়।৯ মিনিট বাড়বে রাঙ্গামাটি জেলায়১০ মিনিট বাড়বে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায়। সূত্র: ইসলামি ফাউন্ডেশনএমজে/

রমজানে পেট খারাপ হলে মোকাবেলা করবেন যেভাবে

এসেছে মাহে রমজান। রমজান মাসে বেশি ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ফুড পয়েজনিং (বিষক্রিয়ার) কারণে হঠাৎ করে পেট খারাপ হতে পারে। পেটের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু ঘরোয়া খাবার খেলে অতি দ্রুত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। আসুন জেনে নিই সে সব খাবার সম্পর্কে  ১. লেবুর জল: পেট খারাপ করলে লেবুর জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে! আসলে লেবুতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ পেটে সমস্যা কমায়, সেই সঙ্গে এই ফলে রয়েছে নানাবিধ খনিজ, বিশেষত পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পেটের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।২. ডাবের পানি:পেট খারাপের সময় শরীর থেকে খনিজ পদার্থ বেড়িয়ে যায়। ফলে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে ডাবের পানির কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দূর করে পেটকে স্বাভাবিক করে। প্রসঙ্গত, পেট খারাপের মোকাবিলা করতে দিনে কম করে ২ গ্লাস ডাবের জল খেতেই হবে। তবেই কিন্তু সুফল মিলবে!৩. আদা:পেট খারাপ হলে আদার কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এমন ধরনের রোগ সারাতে দারুন কাজ করে। এ ক্ষেত্রে ১ কাপ বাটার মিল্কে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করুন। এই পানীয়টি দিনে ৩-৪ বার খেলেই দেখবেন সমস্যা কমতে শুরু করে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ভুলেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাবেন না। ৪. দারচিনি:এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা চোখের নিমেষে হজমে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পেট খারাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে দিনে ৪ বার দারচিনি পাউডার দিয়ে তৈরি চা খেলেই উপকার মিলতে শুরু করবে। প্রসঙ্গত, ১ কাপ গরম জলে ১ চামচ দারচিনি পাইডার মিশিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে চা পান করুন। ৫. মেথি বীজ: ১ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মেথি বীজ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে হবে। সঙ্গে পেটে যন্ত্রণা এবং বদ হজম কমে যাবে।৬. দই: পেট খারাপ হলেই এক বাটি তাজা টক দই খেয়ে নেবেন। তাহলেই বারে বারে আর বাথরুম ছুটতে হবে না। আসলে টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্টোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্য়াতটেরিয়াম নামে দু ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ডায়ারিয়া কমাতে দারুন উপকারে লাগে। প্রসঙ্গত, যতদিন না পেটের ব্যথা এবং পটি হওয়া কমবে, ততদিন দৈনিক ২-৩ কাপ টক দই খেয়ে যেতে হবে। ৭. কলা:যে কোনও ধরনের পেটের রোগ সারাতেই এই ফলটি দারুন কাজে আসে। আসলে কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্যাকটিন, যা আপনার পেটকে করবে স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়া বা পেট খারাপের প্রকোপ কমাতেও সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ১ গ্লাস বাটার মিল্কে ১ টা কলা চটকে নিয়ে মিশিয়ে নিন। কেআই/ এমজে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি