ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩৫:২০

বৈশাখে চুলের সাজ

বৈশাখে চুলের সাজ

বৈশাখ উৎসবে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেও সেজে উঠে মন। সাজ শুধু পোশাকেই নয়, রয়েছে চুলেও। বৈশাখে চুলের সাজই খুব আকর্ষণীয় সাজ। হয়তো অনেকেই এই সাজটাকে প্রাধান্য দেয় না। যেন তেন করে কোন রকম চুলটা বেধে বের হয়। কিন্তু চুলের সাজের মধ্যেই সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে চুলের আকার ও ধরন অনুযায়ী সাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চুলের সাজের জন্য যা করা যেতে পারে- খোপায় দেওয়ার গহনা প্রায় নারীরা শাড়ি পড়লেই চুল সাজানোর বেলায় খোপা করে। এ সময় খোপার সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন ডিজাইনের কাটা চুলের ভিতরে গুঁজে দেওয়া যায়। খোপাতে ঝুমকোও লাগাতে পারেন। এছাড়া গোলাপ আকৃতির কিছু ছোট ছোট ব্যান্ড বেরিয়েছে সেগুলো খোপার চারপাশে লাগিয়ে নিতে পারেন। নেটের তৈরি খোঁপার জালিও পাওয়া যায়, এগুলি খোপায় পড়লে খুব চমৎকার দেখা যায়। এছাড়া মাঝখানে সিঁথি করে খোপা করলে সিঁথিতে টিকলিও পরতে পারেন। বেণিতে দেওয়া গহনা পহেলা বৈশাখে বাঙালি ভাবটা সাজের মধ্যে অবশ্যই থাকতে হয়। তাই চুলের সাজের ক্ষেত্রে আনতে পারেন ভিন্নতা। বৈশাখী চুলের সাজে বেণি সবার আগে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বিশেষ করে এ দিনটিতে মেয়েদের চুলের বেণির সাজে তাদের বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। আবার এসব ক্ষেত্রেও রয়েছে অসংখ্য সাজ। তাই সাজের মাধ্যমে বেণিকে ফুটিয়ে তুলতে বিভিন্ন গহনা দিয়ে সাজানো হয়। অনেকে বেণীতে পরেন চোটি, যা লম্বা বেণী লেসের মতো বিভিন্ন ধাতব উপাদান দিয়ে নকশা খচিত অলঙ্কার। তারপর আছে বেণী পাটি। বেণির ফাঁকে ফাঁকে বসানোর মতো অনেক ডিজাইনের পাথর পাওয়া যায়। এগুলো লাগালে বেণি চমৎকার ফুঁটে উঠে। চুলের অন্যতম গহনা ফুল বৈশাখীতে চুল সাজার গহনা হিসেবে ফুল অন্যতম। ফুল দিয়েই আপনি আপনার চুলকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন। খোপা করে কানের নিচে তিনটে ফুল গুজে দিলেন, এতেই আপনার সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। তাছাড়া খোপার জন্য বেলী ফুলের মালা অন্যতম। বেণি করে বেণির ঠিক গোড়ায় রজনীগন্ধার ফুলের মালা গেঁথে সুন্দরভাবে আটকিয়ে দিন। অথবা অনেক লম্বা করে গেঁথে পুরো বেণি পেঁচিয়ে ফেলতে পারেন। কেএনইউ/ এসএইচ/         
ত্বকের মৃত কোষ দূর করার উপায়

আমরা খালি চোখে দেখতে না পেলেও প্রতিনিয়ত ডেড স্কিন (ত্বকের উপর মৃত কোষ) জমতে থাকে মুখের ওপর। এ কারণে  আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। তাই সপ্তাহে ২-৩ দিন স্কার্বের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এটা করলে মৃত কোষের স্তর সরে যায়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। এখন প্রশ্ন হল স্কার্বার হিসেবে কী ব্যবহার করবেন? এক্ষেত্রে বাজার চলিত এক্সপেনসিভ ফেস স্কার্ব ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু অল্প খরচে ঘরোয়া স্কার্বার ব্যবহারে নিয়মিত মুখে লাগালে কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে সময় লাগবে না। জেনে নিন এই সব ঘরোয়া ফেস স্কার্বারগুলো বানাতে কি কি উপদান লাগবে- কফি ও চিনি দিয়ে বানান স্কার্ব: এক্ষেত্রে হাফ কাপ কফি গুঁড়ো, হাফ কাপ চিনি, ২ চামচ অলিভ অয়েল এবং ৩ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের প্রয়োজন পরবে। এসব উপাদান মিশিয়ে বানিয়ে নিতে হবে একটি পেস্ট। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে কম করে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফলতে হবে মুখটা। আসলে কফিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর চিনি মৃত কোষদের সরিয়ে ফেলে। এর ফলে অল্প সময়ে ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে। সামুদ্রিক লবন: এতে উপস্থিত উপকারি খনিজ একদিকে যেমন ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, তেমনি স্কার্বার হিসেবেও দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয়, সামুদ্রিক লবন নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করার সময় ত্বকের অন্দরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহও বেড়ে যায়। এই কারণেও ত্বক সুন্দর এবং প্রাণচ্ছ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে ১ কাপ সামদ্রিক লবন, হাফ কাপ অলিভ অয়েল এবং ৫-১৫ ড্রপ এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে সব কটি উপাদান ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি ত্বকে লাগিয়ে কম করে ১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। তাহলেই দেখবেন সুফল পেতে শুরু করেছেন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দারুন উপকার মিলবে। নারকেল তেল: একেবারে ঠিক শুনেছেন। এই প্রকৃতিক উপাদানটিও স্কার্বার হিসেবে দারুন কাজে আসে। তবে তার জন্য হাফ কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে সম পরিমাণে চিনি মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করলেই ভালো ফল পাবেন। প্রসঙ্গত, এই মিশ্রনটির সাহায্যে কম করে ১৫-২০ মিনিট ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। তবেই মিলবে উপকার। নিশ্চয় ভাবছেন নারকেল তেল কীভাবে ত্বকের উপকারে লাগে, তাই তো? আসলে এই তেলটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ত্বকের অন্দরে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য় বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতাকে যেমন ফিরিয়ে আনে, তেমনি মৃত কোষেদেরও ধুয়ে ফেলে। অলিভ অয়েল এবং ব্রাউন সুগার: হাফ কাপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১ কাপ ব্রেউন সুগার এবং ১৫ ড্রপ এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্টটা মুখে লাগিয়ে কম করে ৫-১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। কিছু সময় পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন মুখটা। ওটসমিল: শরীরকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ওটসমিলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই খাবারটির অন্দরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান ত্বককে ভিতর থেকে সুন্দর করে তোলে। তাই তো ত্বকের পরিচর্যায় ওটসমিলকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এক্ষেত্রে হাফ কাপ ওটসমিলের সঙ্গে হাফ কাপ ব্রাউন সুগার, হাফ কাপ মধু এবং ২ ড্রপ ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে। দই: দইকে স্কার্বার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। আসলে দই যে শুধু মৃত কোষেদের স্তর সরায়, এমন নয়, সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাও ফিরে আসে। এর ফলে সময়ের আগে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে ১ চামচ দইয়ের সঙ্গে হাফ কাপ অলিভ অয়েল, ১ চামচ মধু এবং ৩ চামচ চিনি মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। ১৫ মিনিট মাসাজ করার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এইভাবে ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। সূত্র: বোল্ডস্কাই আর / এআর

বৈশাখে গহনায় আনতে পারেন বৈচিত্র্য    

পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম একটি উৎসব। একদিন পরই আসছে এই মহা আনন্দের উৎসব। তাইতো বাঙালী রমনী আর পুরুষরা রয়েছে কেনা কাটায় মগ্ন। এ উৎসবে সাধারণত নারীরা শাড়ী পরেন আর পুরুষরা পরেন পাঞ্জাবি। সে জন্য নারীরা তাদের সাজগোজ নিয়েই এখন সময় কাটাচ্ছেন। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে কোন সাজটা দিলে ভালো হবে, গহনা কেমন হবে এই সব বিষয় নিয়েই চলছে বিশ্লেষণ।     পহেলা বৈশাখের গহনা কেমন হওয়া চাই আসলে এটি চিন্তার বিষয়। মূলত এই দিনের গহনা হওয়া উচিৎ দেশীয় মাটির তৈরি গহনা। স্বর্ণের গহনা এই সময় একেবারেই বেমানান। এছাড়া মাটির গহনা আপনার রুচি আর পছন্দের যোগসূত্র পাইয়ে দেবে অন্যমাত্রায়। বলা হয়, পহেলায় বাঙালির সাজ মানে মাটির গহনার সাজ। বাজারে এখন খুব সহজেই কুন্দন ও মেটালের তৈরি গহনা পাওয়া যাচ্ছে।       পহেলা বৈশাখের কিছু গহনার কথা উল্লেখ করা হলো, যেগুলো এই উৎসবের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া সহজ হবে। গলার হার বৈশাখের সাজে রাঙিয়ে তুলতে কিছু ফ্যাশন হাউজে থাকছে বিভিন্ন ডিজাইনের মাটির তৈরি গলার হর ও বিভিন্ন পুতির মালা। শুধু এগুলোই নয়, আরও পাওয়া যাচ্ছে কাঠের তৈরি হার। তবে পুতির মালাগুলো পাওয়া যাচ্ছে বেশ লম্বা স্টাইলের।    কানের দুল বৈশাখের সাজে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে দুল পরতে পারেন। মাটির দুল ছাড়াও হতে পারে পাটের তৈরি দুল। এখন ফ্যাশনের হাউজগুলোতে পাটের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের দুল পাওয়া যায়। ভারী কোন পাথরের দুল পরার থেকে এই উৎসবের জন্য এগুলোই সবচেয়ে বেশি পারফেক্ট। এছাড়া কানের দুল হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে অক্সিডাইজড ইয়ার রিং। মেটালের তৈরি সাদা, লাল ও মাল্টিকালারের অনেক দুল পাওয়া যায়। এছাড়া ফুল আকৃতির অনেক দুল পাওয়া যায়।    হাতের চুড়ি বৈশাখ উপলক্ষে কাঠের তৈরি চুড়ি হাতে পরতে পারেন। কিংবা পিতলের তৈরি বিভিন্ন নকশা জাতীয় চুড়ি এখন ফ্যাশন হাউজগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো খুব মন্দ নয়। এই টাইপের চুড়িগুলো এখন বেশ চলছে। তাছাড়া এখন পিতলের বালাও পাওয়া যাচ্ছে। পিতলের ছাড়াও বাঁশের তৈরি বালা পাওয়া যাচ্ছে। পায়েল বা নূপুর   নূপুর পরতে কম দেখা গেলেও পায়েল পরতে কম-বেশি সব নারীরই দেখা যায়। এই উৎসবেও নারীরা পায়েল পরতে পছন্দ করে। রূপার নূপুরের পাশাপাশি নারীরা পুঁতির ও বিডসের তৈরি পায়েল পরছে। কেএনইউ/ এসএইচ/       

চুল ফাটা রোধ করবেন যেভাবে

চুল যত সুন্দর হয় ততই সৌন্দর্য বাড়ে নারীদের। তাই নারীরা যে কোন কাজ ভুলে গেলেও চুলের পরিচর্যা করতে ভুলে না। কিন্তু পরিচর্যা করার পরও যদি চুল সুন্দর না থাকে তাহলে কেমনটা লাগে! চুলে খুসকি, চুল পড়া, চুল ফাটা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা চুল ফাটা নিয়ে। চুলের অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা যায় কিন্তু চুল ফাটার সমস্যা রোধ করতে অনেক ঝামেলা। চুল ফাটা শুরু হলে আর থামতেই চায় না। তবে এর প্রধান কারণ হচ্ছে চুলের পুষ্টির অভাব। সুষম খাদ্য না খাওয়া, অতিরিক্ত পানি পান না করা, সঠিক সময়ে চুলের ডগা না কাটা এই সব একধিক কারণে চুল ফেটে যায়। চুলের এই সব সমস্যা সমাধানের জন্য যদি পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যায় এবং ঘরে বানানো কিছু প্যাক ব্যবহার করা যায় তবে এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। একুশে টিভি অনলাইনে এর কিছু সমাধান উল্লেখ করা হলো- কলা প্রথমেই চুলের পুষ্টির জন্য কলার কথা বলব। কেননা কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, ভিটামিন সি, এ এবং ই। যা চুলের ময়েশ্চারাইজা়র ধরে রাখে এবং চুলের ডগা ফাটা রোধ করে। তাই নিয়মিত কলা খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। এছাড়া একটি পাকা কলা, দুই চামচ টক দই, এক চামচ গোলাপজল ও আধা চামচ লেবুর রস দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটি চুলে লাগান। এক ঘণ্টা পর ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। দেখবেন চুল ফাটা কমে যাবে। ডিম চুলের পুষ্টি যোগাতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া একটি ডিমের সঙ্গে তিন চামচ আমন্ড অয়েল অথবা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের আগা ফাটা রোধ করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে এক চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি হেয়ার মাস্কের মতো মাথায় লাগান। এক ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। উপকার হবে। পেঁপে পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। যা চুলে পুষ্টি যোগায়। এটি চুলের ডগা ফাটা রোধ করার পাশাপাশি চুলকে মসৃণ ও নরম করে তোলে। একটি পেঁপে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর সঙ্গে আধা কাপ টক দই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে আধা ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মধু মধু ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারী। এক চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য টক দই মিশিয়ে চুলে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যম্পু করে ফেলুন। মুসরের ডাল মুসরের ডাল রূপচর্চা ও শরীরচর্চা উভয় কাজেই লাগে। এটি যেমন মুখের ত্বকের জন্য উপকারী তেমনই এটি মাথার ত্বকের জন্যও খুব ভালো। রাতে একটি পাত্রে খানিকটা মুসুর ডাল ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন পাটায় কিংবা ব্লেন্ড করে নিয়ে এর সঙ্গে এক চামচ মেথি গুঁড়ো ও এক কাপ টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নারকেল তেল চুল ফাটা রোধ করতে সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান হলো নারকেল তেল। তেল চুলকে ময়েশ্চারাইজ় করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বক ও চুলে ভালো রাখতে নিয়মিত নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। চুল যেদিন শ্যাম্পু করবেন তার আগের রাতে তেল দিয়ে নিন। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন। তথ্যসূত্র : ইনাডু ইন্ডিয়া। কেএনইউ/ এআর

গরমে শিশুর যত্ন

গরমে বড়দের থেকে শিশুদের বেশি কষ্ট হয়। গরমে শিশুরাই বেশি ঘেমে যায়। তাই এই সময় বাবা-মায়েরা শিশুদের নিয়ে একটু বেশিই চিন্তিত থাকে। আর গরমে শিশুরাই বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। এ কারণে গরমে ছোট সোনামণিদের বিশেষ যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। তাদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই খেয়াল রাখতে হবে। এই গরমে কি কি উপায়ে শিশুর সঠিক পরিচর্যা করা সম্ভব তা একুশে টিভি অনলাইনে দেওয়া হলো- শিশুর খাদ্য- গরমে শিশুদের খাদ্য তালিকায় হালকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার রাখতে হবে। সেটা হতে হবে অবশ্যই নরম খাবার। তবে খেয়াল রাখতে হবে গরমে শিশুদের খাবার যাতে বাইরের না হয়। ঘরেই সহজপাচ্য খাবার বানিয়ে শিশুকে খাওয়ান। গরমের দিন মাছ-মাংস একটু কম করেই খাওয়ানো উচিত। গরমে শিশুকে যথেষ্ট পরিমাণে ঠাণ্ডা পানি পান করান। কেননা এ সময় শিশুরা খুবই ঘেমে যায়। এতে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ঝরে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন পানি যেন ফ্রিজের না হয়। এছাড়া গরমকালে বিভিন্ন রসালো ফল পাওয়া যায়। শিশুদের অবশ্যই গরমে এসব ফল খাওয়াবেন। ফলের জুসও খাওয়াতে পারেন। শিশুদের পোশাক- গরমে আপনার শিশুর পোশাকের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। গরমের দিনগুলোতে শিশুকে সুতির নরম ও পাতলা পোশাক পরান। হাতা কাটা পোশাক পরানো প্রয়োজন। ডিসপোজেবল ন্যাপির পরিবর্তে সুতির পাতলা কাপড়ের ন্যাপি পরানো ভালো। কেননা ডিসপোজেবল ন্যাপিগুলো ঘাম ও তাপ শোষণ করতে পারে না তাই র‌্যাশ, ঘামাচি প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত গোসল- গরমে শিশুদের খুব দ্রুত র‌্যাশ ও ঘামাচি উঠে। তাই গরমের দিনে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। গোসলের সময় ভাঁজযুক্ত জায়গা যত্ন সহকারে পরিষ্কার করতে হবে। গোসলের পানিতে ডেটলও দিতে পারেন। শিশুর চুলের যত্ন- এই গরমে আদরের ছোট্ট সোনামণির চুলের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। গরমে শিশুর বেশিরভাগ চুলের গোড়া ঘেমে যায়। এতে মাথায় খুশকি ও ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছোট রাখতে হবে। ন্যাড়া করে দিলে আরও ভালো হয়। শিশুর আবাসস্থল গরমে শিশুকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য ঘরে যেন প্রচুর আলো-বাতাস ঢুকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দম বন্ধ করা ঘরে রাখলে শিশু অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই বলে ঠাণ্ডার জন্য এসি ব্যবহার করা যাবে না। মাঝে মাঝে আপনার শিশুকে বারান্দায় নিয়ে যাবেন। শিশুর প্রসাধনী- গরমে শিশুকে গোসলের পর তেল, লোশন প্রভৃতি প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। শিশুকে গোসল করানোর পর শরীর শুকিয়ে আসলে গলা, পায়ের ভাঁজে ইত্যাদিতে পাউডার ব্যবহার করুন। এতে ঘামাচি ওঠা রোধ করবে। শিশুর স্বাস্থ্য- শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। শিশুর সুস্থতার জন্য ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। কোন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তথ্যসূত্র : হেলথ কেয়ার। কেএনইউ/এসএইচ/      

চুলে তেল লাগাবেন যেভাবে

চুলে সঠিক পুষ্টি যোগাতে তেলের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া চুলকে সিল্কি করতে ও চুল গজাতেও সাহায্য করে তেল। কিন্তু চুলে তো আপনি নিয়মিত তেল দিচ্ছেন, তবুও যেন ‍দেখা যাচ্ছে চুল অপুষ্টিতে ভুগছে, চুল সিল্কি হচ্ছে না। যেমন তেমন করে চুলে তেল লাগালেই কি চুলে পুষ্টি পাওয়া যাবে! চুলে তেল লাগানো প্রয়োজন তাই চুলে তেল লাগাচ্ছেন। চুলে পুষ্টি পাক আর না পাক সেই চিন্তা কখনও করা হয় না। কিন্তু এদিকে আবার বলা হয় চুলে কেন পুষ্টি পাচ্ছে না। মূলত, চুলে তেল লাগানোর কিছু নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে চুলের সুস্থতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চুলে তেল লাগানোর কিছু পদ্ধতি একুশে টিভি অনলাইনে তুলে ধরা হলো- হালকা গরম তেল- ঠাণ্ডা তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা আর হালকা গরম তেল দিয়ে ম্যাসাজ করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। হালকা গরম তেল চুলে লাগালে অনেক বেশি কার্যকর পাওয়া যায়। আর এই তেল সহজেই মাথার ভিতর পৌঁছে যায়। তাই মাথায় লাগানোর আগে তেলটা হালকা গরম করে নিন। খুব জোরে ম্যাসাজ নয়- গরম তেল দিয়ে শুধু ম্যাসাজ করলেই হবে না। খুব জোরে জোরে ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া থেকে চুল দুর্বল হয়ে যায়। জটও পড়ে বেশি। তাই হালকা হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। চুল ভালো থাকবে এবং তেলটাও ভালো বসবে। চুলে তেল দিয়েই শ্যাম্পু করবেন না- চুল ভালো রাখতে তেল লাগান। অনেকেই আছেন যারা চুলে শ্যাম্পু করার আগে আগে তেল দিয়েই ধুয়ে ফেলেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। এভাবে চুল কখনও পুষ্টি পায় না। তাই চুলে তেল দিয়ে মাথায় বসার সময় দিন। তেল যেন পুরো চুলে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে পারে, সেই সময় দিতে হবে। আপনি আগের রাতে চুলে তেল দিয়ে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করতে পারেন। হালকা গরম পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে পারেন। চুলে তেল দেওয়ার আগে চিরুনি করুন- জট পড়া চুলে তেল লাগালে আরও বেশি জট পড়ে যায়। এতে চুলের গোড়া ফাটার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তেল লাগানোর আগে জট ছাড়িয়ে নিন। ফলে চুলে সুন্দরভাবে তেল লাগাতে পারবেন। চুলের ডগাতেও তেল লাগান- তেল লাগানোর সময় চুলের গোড়াতেই বেশি ম্যাসাজ করা হয়। চুলের বাকি অংশগুলিরও সমানভাবে যত্ন প্রয়োজন সে কথা মনেই থাকে না। আসলে, চুলের সব থেকে স্পর্শকাতর অংশ হল ডগা। ধুলো-ধোঁয়া, সূর্যের তাপ বা বাহ্যিক নানা কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুলের ডগা। তেল লাগানোর সময় তাই চুলের গোড়ার পাশাপাশি ডগাতেও ভালো করে তেল লাগান। তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/এসএইচ/

ঠোঁট-ই বলে দেবে আপনার সঙ্গী কেমন

নারীদের সবচেয়ে সৌন্দর্যের প্রতীক হচ্ছে তাদের ঠোঁট। এই ঠোঁটেই বলে দিতে পারে আপনি কেমন। এই ঠোঁটের মাধ্যমে বুঝা যাবে অন্যদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন। ঠোঁটেই বলে দিবে আপনার ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, ‘ঠোঁট দেখেই ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা, মন-মেজাজ ইত্যাদি ভালোভাবে চেনা যায়।’ এমনকি ঠোঁট দেখেই বুঝা যাবে আপনার সঙ্গীর আর কারো সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না? অদৌ সম্পর্ক আছে কি-নাই সেগুলোও বুঝা সম্ভব এই ঠোঁটের মাধ্যমে। ঠোঁটের সহজ কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলেই বুঝা যায়। এই লক্ষণগুলো একুশে টিভি অনলাইনের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো- ১) কোন ব্যক্তির দুই ঠোঁটই যদি পাতলা এবং সরু হয়, তাহলে বুঝা যাবে সেই ব্যক্তি কোনও সম্পর্কে নেই। এই ধরনের ব্যক্তি একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ২) যাদের ঠোঁট সুন্দর, তারা ভীষণ ভালো কথা বলেন। একই সঙ্গে তারা জন্মগত সৃজনশীল হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে কথা না বলাটা খুব বোকামি হবে। কেননা তাদের কাছে থেকে মাঝে মাঝে জ্ঞান অন্বেষণ পাওয়া যায়। ৩) যাদের ঠোঁটের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই এবং সুন্দরের ধারের কাছেও অবস্থান করছে না, তারা সবসময়ই `ঠোঁট কাটা` হয়ে থাকে। কোন কিছু না দেখে না বুঝেই বেমানান মন্তব্য করাই এদের স্বভাব। এরা একেবারেই দায়িত্বশীল নন। তবে সযত্নে কোনও কিছুর লালনে এদের তুলনাই হয় না। ৪) যাদের ঠোঁট গোলাকৃতির তারা সাধারণত সহৃদয় ব্যক্তি হয়ে থাকেন। আন্তরিকতা এদের সবচেয়ে বড় গুণ। এরা সবসময় নিজের সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে। ৫) হৃষ্টপুষ্ট অথবা মাংসল ঠোঁটের ব্যক্তিরা সাধারণত বেশি মজা করতে খুব পছন্দ করে। এরা কখনই একা থাকতে পারে না। ৬) ওপরের ঠোঁটের তুলনায় নিচের ঠোঁট যাদের মোটা, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাচিভমেন্টকে বেশি প্রাধান্য দেন। সম্পর্কের আগেও তারা কৃতিত্বকে বেশি ভালোবাসেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরাই এই ধরনের ঠোঁটের অধিকারী হয়ে থাকেন। সূত্র : জি নিউজ /কেএনইউ/ এআর          

বসন্তে নিজেকে সাজিয়ে তুলবেন যেভাবে

‘বসন্ত এলো এলো এলো রে, পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে… মুহু মুহু কুহু কুহু তানে ভ্রমর গুঞ্জে গুঞ্জে গুনগুন গানে…’ শীত শেষ, আসছে বসন্ত। বসন্ত ঋতুতে শোভা পায় ফুলের বাহার। বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটতে দেখা যায় এ সময়। চারিদিক যেন রঙিন হয়ে উঠে। গাছে গাছে নতুন পাতার কুশি গজায়। ডালে ডালে কোকিল পাখির সুর বেজে উঠে। গাছে ফোঁটা শিমুল, পলাশ যেন উঁকি দিয়ে ডাকে। তাদেরকে নিয়েই শুরু হয় প্রকৃতির বসন্ত। আর এই দিনে বসন্তের ছোঁয়া লাগাতে আপনারও মন চাইছে হয়তো বিভিন্ন সাজে সেজে উঠতে। তবে বসন্ত উৎসবের সাজ যেন একটু ভিন্ন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আপনি আপনার মুখটাকে কিভাবে সাজিয়ে তুলবেন। মুখের মেকাপ কেমন হবে? কেমন হওয়া উচিত? তাহলে চলুন এ বিষয়ে আমরা জেনে নেই- শুরুতেই বলতে চাই পোশাকের কথা। বসন্তের দিনে শাড়িই হচ্ছে অন্যতম পোশাক যা আপনাকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করবে। তবে শাড়ি সুতি হলে খুব ভালো হয়। সিল্কের না পরাই ভালো। বসন্তের শাড়ি হলুদ কিংবা সবুজ হতে হবে এবং বাংলা করে পরবেন। কুচি করা শাড়ি বসন্তের প্রকৃতির সঙ্গে মানায় না। এরসঙ্গে ব্লাউজ থাকবে থ্রি-কোয়াটা হাতা। এখন শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে আপনার মুখটাকে সাজিয়ে তুলবেন। সাধারণত এই দিনে মুখে ভারি মেকাপ না তোলাই ভাল। কারণ সেদিন বেশিরভাগ বাইরে থাকতে হয়। রোদ ও গরমে ভারি মেকাপে ত্বক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সেই দিনের মেকাপ হালকা হওয়া উচিত। প্রথমে মেকাপের আগে আপনার মুখটাকে ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার রাখতে পারেন। পরিষ্কার করার পর স্ক্রাবিং করে নিবেন। এরপর সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। এরপর প্রাইমার লাগাবেন। ফাউন্ডেশনের আগে প্রাইমার অবশ্যই লাগাতে হবে। প্রাইমার সাধারণত আপনার সারাদিনের মেকাপকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপনার ত্বকের সঙ্গে ম্যাচ করে ফাউন্ডেশন বেঁছে নিন। খেয়াল রাখবেন ফাউন্ডেশন যাতে বেশি পড়ে কারণ হালকা মেকাপের জন্য অল্প ফাউন্ডেশনই যথেষ্ট। সারাদিন অনেকে বেশি ফ্রেশ দেখাতে সাহায্য করবে ক্রিম হাইলাইটিং। আপনার স্কিন শেডের থেকে দুই-তিন শেড লাইট একটি কনসিলার দিয়ে করে নিন ক্রিম হাইলাইটিং। কনসিলারটি আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের ওপর, থুতনিতে লাগিয়ে নিন এবং ব্লেন্ড করে ফেলুন। কনসিলারটি অবশ্যই পাউডার দিয়ে সেট করে নিবেন। এবার পুরো মুখটাই ফেসপাউডার দিয়ে ব্লাশার করে নিন। এবার চোখের সাজে যাওয়া যাক। চোখের মেকাপেও যেন স্নিগ্ধভাব ফুটে ওঠে, সেটা হিসেব করেই আইশ্যাডো লাগাবেন। চড়া রঙ এর কালারগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কোরাল, পিচ, কমলা, হলুদ, গোল্ডেন, কপার, লাইট ব্রাউন, লাইট পিংক, লাইট পার্পল, প্যারট গ্রিন কালারগুলো খুব ভালো মানিয়ে যাবে পহেলা ফাল্গুনে। বিশেষ করে শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে দিন। দেখতে ভালো লাগবে। আইশ্যাডো দেওয়া হয়ে গেলে অবশ্যই টানা করে আইলাইনার লাগাবেন। আপনি চাইলে ব্ল্যাক বা ভিন্ন কালারের কাজল এবং লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এটা আই মেকাপে নতুন রূপ নিয়ে আসবে। যেহেতু দিনের বেলার সাজ তাই চোখে আইল্যাশ না পরাই ভালো। বরং চোখের পাতাগুলোতে মাশকারা লাগিয়ে নিতে পারেন। এবার ঠোঁটের পালা। পহেলা ফাল্গুনে লিপস্টিক হিসেবে হালকা রঙগুলোই পারফেক্ট মনে হয়। লাইট পিংক, ব্রাউন/পিংক, অরেঞ্জ, পিচ, কোরাল ইত্যাদি কালারগুলো বেশ ভালো লাগবে দেখতে। সবচেয়ে ভালো আইশ্যাডো যে কালারে দিয়েছেন সেই কালারের লিপস্টিক দিন। কপালে ছোট গোল টিপ দিবেন। বসন্তের দিনে চুল খোপা করে বাধাই শ্রেয়। খোপাতে বেলী ফুল লাগাতে ভুলবেন না। বেলী ফুল ছাড়াও রঙ-বেরঙের ফুলের মালাও খোপাতে লাগাতে পারেন। বসন্তের দিনে গলায় কিছু না পরাই ভালো। কানে পাথরের টপ জাতীয় ছোট দুল পরতে পারেন। হাতে কয়েকটি রঙ বেরঙের কাচের চুড়ি থাকবে। এক কালারের পরবেন না। পায়ের জুতো হতে হবে ফ্লাট। উঁচু হিল এই দিনের জন্য নয়।  /কেএনইউ/এসএইচ/        

বিয়েতে শাড়ির ধরন কেমন হবে

বাঙালি নারীর সৌন্দর্যের ভূষণ হচ্ছে শাড়ি। কালো হোক ফর্সা হোক সব নারীকেই শাড়িতে বেশ লাগে। সবসময় শাড়ি পরা সম্ভব হয়ে উঠে না অনেকের। তবে বিয়েতে পোশাকের মেনুতে শাড়ি বাধ্যতামূলক বলা যায়। প্রাচীনকালে বিয়ের কনের শাড়ি মানেই লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে শাড়ির ধরনও পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিয়ে শুরু হয় এনগেজমেন্ট থেকে। বিয়ের কনের এনগেজমেন্ট, গায়ে হলুদ, বিয়ের দিন, বউভাত এই সব উৎসবগুলোতে শাড়ির রঙ ও ধরন হয় ভিন্ন। বিয়ের কনের গায়ের রঙ শ্যামলা বা কালো হলে একটু গাঢ় রঙের শাড়ি বেঁছে নেওয়া প্রয়োজন। যেমন ব্লাড রেড, গাঢ় নীল বা গাঢ় গোলাপি। পেঁয়াজ বা বেগুনি রঙের শাড়ি মানিয়ে যাবে সবাইকে। তবে যদি উচ্চতা কম হয় তাহলে বেঁছে নিতে হবে সরু পাড় বা পাড় ছাড়া শাড়ি। উচ্চতা ভালো হলে চওড়া পাড়ের শাড়ি পরা উচিত। কনের গড়ন হালকা শুকনো হলে ভারী শাড়ি পরতে হবে। শাড়িটি হতে পারে টিস্যু বা মসলিনের তবে ভারী কাজের। আর যদি ভারী গড়নের হয় তাহলে সফট ম্যাটেরিয়ালের গাঢ় রঙের শাড়ি পরতে হবে। যেমন শিফন বা জর্জেট। বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের শাড়ির ধরন কেমন হবে তা একুশে টিভি অনলাইনে তুলে ধরা হলো- এনগেজমেন্ট দিনে- আগের দিনে এনগেজমেন্ট ঘরোয়া ভাবে হতো। তবে এখন বেশ ঘটা করেই করা হয়। তাই এ সময়েও বেশ সাজগোজের আয়োজন থাকে। এনগেজমেন্টের দিনে হালকা কাজের শাড়ি বেছে নেওয়াই উত্তম। হতে পারে মসলিন, শিফন, সফট সিল্ক, ক্রেপ জর্জেট। রঙ হতে পারে নীল, গোলাপি, পিচ, লাইট কালার ইত্যাদি। গায়ে হলুদের দিনে- গায়ে হলুদে সুতি শাড়িই সবচেয়ে মানানসই। কেননা এই দিনে হলুদের ছোঁয়া কনের গায়ে লাগানো হয়। তবে সুতি শাড়ির পাশাপাশি এখন চলছে টাঙ্গাইল হাফ সিল্ক বা সফট সিল্ক। এছাড়া জামদানিও রয়েছে। জামদানি বা সুতি শাড়িতে নিজের পছন্দ মতো পাড় লাগিয়ে আরও উন্নত করে নেওয়া যায়। দেখতে গর্জিয়াস লাগবে। গায়ে হলুদের দিনে হলুদ শাড়িই পরানো হয়। এর পাশাপাশি কমলা, গাঢ় সবুজ, কাচাঁ মেহেদি, হালকা বেগুনি চলছে এখন। বিয়ের দিনে- বিয়ে বললেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল টুকটুক শাড়ি। বিয়েতে তাই বেশিরভাগই বেঁছে নেওয়া হয় লাল শাড়ি। একেবারেই লাল পরতে না চাইলে আছে মেরুন, জাম, গাঢ় নীল, বেগুনি বা গোলাপি। বর্তমানে বিয়ের দিন সবচেয়ে বেশি চলছে জামকাল শাড়ি। এছাড়া হতে পারে বেনারসি, কাতান, টিস্যু বা মসলিন। এর বাইরে জরির কাজ করা শাড়ি, সিকোয়েন্সের ভারী কাজ, অ্যামব্রয়ডারি, মুক্তা বা কুন্দনের কাজ এসব শাড়িও বেঁছে নেওয়া যেতে পারে। বৌভাতের দিনে- বিয়ের পরের দিনেই বৌভাত। বৌভাতে বেঁছে নিতে পারেন ফ্যাশনেবল, ট্রেন্ডি হালকা কাজ করা শাড়ি। রঙ হতে পারে গোল্ডেন, সফট পিংক, পিচ এমনকি সাদা। অনেকেই এখন বৌভাতে সাদা পরতে পছন্দ করেন, এমনকি বিয়েতেও। বৌভাতে ভালো লাগবে সিফন, মসলিন আর হালকা কাজের জামদানি। সঙ্গে বেঁছে নিন কন্ট্রাস্ট ওড়না। সাদার শুভ্রতা আপনাকে অনন্য করে তুলবে। তথ্যসূত্র : রূপচর্চা। /কেএনইউ/এসএইচ

নারীর কাছে যেভাবে হতে পারেন আকর্ষণীয় পুরুষ

সৌন্দর্য চর্চা শুধু নারীদের জন্য-এমনটাই মনে করেন বেশিরভাগ পুরুষ। আর এ কারণে নিজেদের লুকায়িত সৌন্দর্য সম্পর্কে একেবারেই বেখবর তারা। বেশির ভাগ পুরুষ মুখ সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা, দাড়ি কাটা আর ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কেউ কেউ চুলে ক্রিম বা জেল ব্যবহার করেন। শুধু দাড়ি কাটা বা চুল আচঁড়ানো ছাড়াও প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।    এক্ষেত্রে বেশির ভাগ নারীরই চা্ওয়া ছেলেরা যেন তাদের ত্বকের যত্ন ও পরিচর্যা করে। নাক ও কানের বাড়তি চুল কাটা প্রায়ই দেখা যায় অনেক ছেলের কান ও নাকের বড় বড় চুল বের হয়ে আছে। এটা দেখতে খুবই অস্বস্তিকর। ব্যস্ততার কারণে আপনি এই বিষয়গুলো খেয়াল করতে পারেন না। এটি নারীরা অপছন্দ করেন। কোনো নারী যখন আপনার সঙ্গে কথা বলবেন, তখন তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন। তাই নাক ও কানের বাড়তি চুলগুলো কেটে ফেলা উচিত। ফেসওয়াশ ব্যবহার ঘরের বাইরে বের হলেই আমরা ধলার কবলে পড়ি। আর এতে ত্বকে  প্রচুর ধুলা জমে যা ত্বকের ক্ষতি করে। এজন্য সাবান নয় পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন ভালো মানের ফেসওয়াশ। এটি ব্যবহার করার পাশাপাশি টুকটাক ত্বকচর্চা করা যেতেই পারে। এতে দেখতেও সতেজ লাগবে। চোখের ভ্রু মানুষের চোখের ভ্রুও বাড়তি সৌন্দর্যর আনয়ন করে। এ জন্য  ছেলেদের ভ্রুর দিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। কারণ অনেক পুরুষের চোখের ভ্রু অনেক ঘন এবং ছোট-বড় চুল গজায়। ফলে আপনাকে দেখতে রাগী মনে হতে পারে। এজন্য চুল কাটার সময় ভ্রু ছোট করে নিতে পারেন।  নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার সুরক্ষার জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে সহজেই ত্বক আর্দ্র রাখা যায়। চোখের নিচে ক্রিম ব্যবহার আসলে ধুলাবালি ও রোদ বা বয়সের কারণে চোখের নিচে কালি পড়তেই পারে। আর এর থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত চোখের নিচে ক্রিম ব্যবহার করা যেতেই পারে। নখ ও পায়ের যত্ন নখ ও পায়ের যত্নটা জরুরি। নিজেকে অপরের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে নিয়মিত হাত-পায়ের নখ কাটা প্রয়োজন। এজন্য হাত ও পায়ের নখ ছোট রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।   এসি/ এআর

ভাঙা লিপস্টিক জোড়া লাগাবেন যেভাবে

ঠোঁট রাঙিয়ে তুলতে প্রয়োজন লিপস্টিকের। লিপস্টিকই ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। বাহিরে বেড়াতে গেলে ঠোঁটে লিপস্টিক না হলে যেন চলেই না। তাই মেয়েদের সাজগোজের উপকরণে লিপস্টিক থাকা চাইই চাই। তবে এ কথা সত্য যে ঠোঁটে লিপলাইনার দিয়ে সুন্দরভাবে এঁকে লিপস্টিক দিলে অন্য কোন সাজের যেন আর প্রয়োজনই হয় না। কিন্তু সেই লিপস্টিক যদি ঠোঁটে দিতে গিয়ে হঠাৎ ভেঙে যায় তাহলে মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়। তবে মন খারাপের কিছু নেই। কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে ভাঙা লিপস্টিক জোড়া লাগানো সম্ভব। আপনি বাড়িতে বসেই ভাঙা লিপস্টিক জোড়া লাগাতে পারেন। ভাঙা লিপস্টিক জোড়া লাগানোর উপায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনে দেওয়া হলো- প্রথমে লিপস্টিকের ভাঙা অংশের নিচে ম্যাচ কিংবা লাইটার দিয়ে গলিয়ে নিন। অথবা মোম দিয়েও গলাতে পারেন। মোম দিয়ে কাজটি সহজ হবে। তবে সাবধান আগুনে যেন পুড়ে না যায়। পুড়ে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। এখন গলানো অংশটি মূল লিপস্টিক অংশের ওপর লাগিয়ে চেপে ধরে কিছুক্ষণ থাকুন। পরে টুথপিক কিংবা কোন কাঠি দিয়ে জোড়া লাগানো অংশটি সমান করে নিন। তবে সাবধানে কাজটি করতে হবে। কেননা পুনরায় ভেঙে যেতে পারে। সবশেষে লিপস্টিক পুরোপুরি লাগানোর জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যচ ভাঙা লিপস্টিক ঠিক হয়ে গেল। সূত্র : রূপচর্চা। /কেএনইউ/ এসএইচ

শীতের রাতের পার্টি সাজ

বর্তমান চলছে শীতের আমেজ। আর শীত মানেই পার্টি সিজন। কিন্তু শীতের রাতে পার্টির সাজ কেমন হবে? এই কনকনে ঠান্ডা মাথায় রেখে পার্টিতে সবার চোখে পড়ার মত সাজ কে না চায়? প্রকৃতিতে যেহেতু প্রচন্ড ঠান্ডা তাই ম্যাট নয় বরং হালকা সাজে সৌন্দর্য বাড়িয়ে নেওয়াটাই উত্তম। কেউ কেউ পার্লারে গিয়েও পার্টির সাজ সাজতে পারেন। কীভাবে শীতের রাতের পার্টিতে যাওয়ার জন্য বাসায় সাজগোজ করবেন আসুন জেনে নিই। সাজতে বসার আগে প্রথমে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। কিংবা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিতে পারেন। মুখে যখন মেকআপ তুলবেন তখন আপনার ব্যবহারিক ক্রীম লাগানো যাবে না। এখন ফাউন্ডেশন লাগার আগে অল্প করে প্রাইমার লাগিয়ে নিন। প্রাইমার মুখের মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ী রাখে ও ত্বককে মসৃণ করে। তাই প্রাইমার লাগাতে হবে। এরপর ত্বকের যেখানে দাগ, ছোপ ও ডার্ক সার্কল আছে সেখানে কিছু প্রাইমার লাগিয়ে আঙ্গুলের সাহায্যে আলতো করে ঘষে নিন, তাহলে সেগুলো ঢাকা পড়বে। এরপর স্পাঞ্জ দিয়ে মুখে ফাউন্ডেশন লাগান। বেশি লাগানো যাবে না। তবে যে কোনো ফাউন্ডেশন লাগালেই চলবে না। স্কিনের সঙ্গে ম্যাচ করে ফাউন্ডেশন লাগাতে হবে। মুখের ফাউন্ডেশন লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে গলায় ঘাড়ে ও হাতেও লাগাতে হবে। কেননা মুখের সঙ্গে গলা, ঘাড় ও হাত ম্যাচ না করলে দেখতে খারাপ লাগবে। ফাউন্ডেশন লাগানো হয়ে গেলে ফেসপাউডার ব্যবহার করবেন এতে মুখের সুন্দর গ্লো আসবে। রাতের পার্টির জন্য গোল্ডেন টিন্টেড ফেসপাউডার ব্যবহার করা ভালো। তাহলে রাতের অন্ধকারে মুখ উজ্জ্বল দেখাবে। মেকআপ শেষে ব্লাশার লাগালে পুরো মেকআপের মধ্যে ব্যালেন্স রাখতে সুবিধা হবে। গোলাপী কিংবা ব্রাউন ব্লাশার লাগালে দারুণ লাগবে। ঠোঁট একে নিয়ে হালকা গোলাপী কালারের লিপস্টিক দিয়ে নেন। হালকা গোলাপী লিপস্টিক অন্যান্য কালারের থেকে সুন্দর দেখাবে। চোখের সাজগোজের সময় প্রথমে হালকা কালারের আই-শ্যাডো লাগিয়ে নিন। ঠোঁটে যে কালারের লিপস্টিক লাগিয়েছেন সে কালারের আই-শ্যাডো লাগালে ভালো হয়। আই-শ্যাডো এমনভাবে লাগাবেন যাতে চোখের নিচে কিংবা ত্বকে না লাগে। আই-শ্যাডো লাগানো হয়ে গেলে আইলানা দিবেন। চোখের কোণায় আইলানা একটু টেনে দিবেন এতে সৌন্দর্য কমবে না বৈকি বাড়বে। চোখের নিচে কাজল দিয়ে একে নিন। চোখের পাতাগুলোতে মাশকারা লাগিয়ে নিন। এখন কপালে একটি ছোট সাজের টিপ লাগিয়ে নিন। কানে মাঝারি আকারের ও হালকা দুল পরবেন। শীতে গলায় কিছু না পরলেই বেশি ভালো লাগে। সূত্র : ইনাডু ইন্ডিয়া /কেএনইউ/          

শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া ফেসপ্যাক

শীতকাল নিয়ে আমাদের বরাবরই বেশ আগ্রহ কাজ করে। তবে এই ঋতুতে সবথেকে বিড়ম্বনায় পরতে হয় ত্বকের যত্ন নিয়ে। শুষ্ক এ মৌসুমে আদ্রতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক। ত্বকের যত্নে প্রসাধনী কিনতে গেলেও আছে আসল-নকল ঝামেলা। তাই এবারের শীতে ত্বকের যত্নে নিজেই তৈরি করুন ফেসপ্যাক। ১) মধু ও দুধ দুধের সর বা মালাই নিজেই একটি প্রাকৃতিক ‘ময়েশ্চারাইজিং ক্রীম’ যা আদ্রতার উত্তম যোগানদাতা।ত্বককে নমনীয় এবং কোমল করতে খুবই কার্যকর দুধের মালাই।পাশাপাশি মধু হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক এন্টি-ব্যাক্টেরিয়া। ত্বকে মধুর ব্যবহার করলে ব্রণ উঠবে না। কারণ ব্রণের হওয়ার জন্য যেসব ব্যাক্টেরিয়া দায়ী তা নষ্ট করবে মধু। মধু ও দুধের প্যাক তৈরি করতে একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ দুধের মালাই এবং মধুর নিয়ে ভাল করে মিশান।মিশ্রণটিকে আপনার ত্বক ও চেহারার ওপর মেখে ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি ধুয়ে ফেলুন।তারপর ভাল করে পানি মুছে ফেলুন। তাতক্ষণিকভাবেই আপনার ত্বকে উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করতে পারবেন। প্রতিদিন এটি নিয়মিত করুন। ২) কোকোয়া বাটার এবং অলিভ অয়েল কোকোয়া বাটার এবং অলিভ অয়েলের মিশ্রণও আপনার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।আদা বাটা পেস্ট আপনার ত্বক থেকে ময়লা ও ধূলোবালি পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।এক টেবিল চামচ কোকোয়া বাটার এবং সমপরিমাণ অলিভ অয়েলের সাথে হাফ টেবিল চামচ আদা বাটা মিশিয়ে নিন।আপনার ত্বকে মেখে নিন মিশ্রণটিকে। বিশেষ করে চেহারায় এবং গলার কাছের অংশে।১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ৩) দুধ-কলা আধনিক চিকিতসা বিজ্ঞানে ডাক্টাররা দুধ ও কলা একসাথে খেতে বারণ করেছেন। তবে আপনি চাইলে এ দিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে মাখতে পারেন। এজন্য কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।কলায় প্রচুর হাইড্রো-কার্বন থাকায় তা আপনার ত্বককে ভেজা ভেজা রাখবে। তবে আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে দুধের পরিবর্তে গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও কলা ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে নিচের জীবিত কোষকে উপরে তুলে আনে। এতে আপনার ত্বক আরও সজীব লাগে। একটি কলার সম্পূর্ণটা একটি বাটিতে নিয়ে চটকে নিন। এরসাথে এক টেবিল চামচ দুধ মেশান।আপনার ত্বকে মিশ্রণটিকে মাখুন। ২০মিনিট রেখে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এর ব্যবহারে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আগের থেকে আরও সজীব। ৪) এলোভেরা এবং বাদাম বা তিলের তেল যদি আপনার মনে হয় যে, আপনার ত্বম রুক্ষ তাহলে নিয়ে আসুন এলোভেরা এবং বাদাম বা তিলের তেল। ৮-১০ ফোটা বাদাম বা তিলের তেলের সাথে এক টেবিল চামচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। তারপর সেটিকে হাতের তালুতে ঘষে নিন। এরপর পুরো মিশ্রণটিকে আপনার চেহারা ও ত্বকে একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে মেখে নিন এবং ঘষতে থাকুন। এমনটা করবেন অন্তত ১৫মিনিট। এরপর সারারাত মিশ্রণটিকে আপনার ত্বকে রেখেই ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন। অনেক কোমল এবং সজীব ত্বক পাবেন আপনি। ৫) পেপে ও দুধ পেয়ে খাদ্য পুষ্টিগুণ এবং খনিজে সমৃদ্ধ একটি খাবার। অন্যদিকে দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই আছে। ভিটামিন-ই শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাঝারি আকারের একটি পেপের অর্ধেকটা নিন। এরসাথে কাচা দুধ মিশিয়ে ভর্তা করে নিন। প্যাকটিকে আপনার ত্বকে ভাল করে মেখে নিন। এরপর এটির শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কলের পানিতে ধুয়ে ফেলুন।আশা করা যায়, ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। ৬) গাজর ও মধু গাজর ও মধুর মিশ্রণ ত্বকের মৃত কোষকে সরিয়ে সজীব কোষগুলোকে জাগিয়ে তোলে। এছাড়া কুচকানো ত্বকের যত্নেও কার্যকর এ মিশ্রণ।গাজরে তাকা প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন এ কাজে সাহায্য করে।একটি আস্ত গাজর নিয়ে তার সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তারপর এটিকে ভাল করে চটকে মিশ্রণ তৈরি করুন।মুখে ১৫মিনিট মিশ্রণটি রেখে ধুয়ে ফেলুন। তাহলে আর দেরি কেন? বাজারে নামিদামি ব্র্যাণ্ডের আসল-নকল দ্বিধায় না পরে নিজেই তৈরি করে ফেলুন নিজের ফেস প্যাক। আর তাও ঘরে বসেই। সূত্রঃ এনডিটিভি //এস এইচ এস// এআর  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি