ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:৩৪:৪২

ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে ৬টি ঘরোয়া পদ্ধতি

ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে ৬টি ঘরোয়া পদ্ধতি

ত্বক উজ্জ্বল থাকলে কেউ সাজুক আর না সাজুক দেখতে কিন্তু বেশ লাগে। তাই সব মেয়েরাই ত্বকের বিশেষ পরিচর্যা করে। প্রাচীনকাল থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করার অনেক পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পদ্ধতিগুলো অবশ্য বাজারের কেনা ক্রিম থেকে ভালো কাজ করে। নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। এগুলো ঘরে বসেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভব। তবে চলুন ত্বক উজ্জ্বল রাখতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নেই-      কাঁচা দুধ: ত্বকের ভিতরে যখন পুষ্টির ঘাটতি হয় এবং ত্বকের আদ্রতা হারিয়ে যায় তখন ত্বক কালো ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ সময় নিয়মিত কাঁচা দুধের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দেন রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে কাঁচা দুধ নিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছু সময় মাসাজ করতে হবে। নিয়মিত ১৫ মিনিট এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। কলা : একাধিক স্টাডি অনুসারে, কলায় উপস্থিত রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ই এবং পটাশিয়াম, যা ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ত্বকের গভীরে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হয়। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো কলা নিয়ে চোটকে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবু ও মধু : ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মধু ও লেবুর কোনও বিকল্প হয় না। আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানের ভিতরে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি ত্বকের যে কোনও ধরনের দাগও মিলিয়ে যেতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে এক চামচ মধুর সঙ্গে আধ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। দই: এতে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সসিয়াল অ্যাসিড মৃত কেষের স্থরকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের ভিতরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর করে, তেমনি ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। এক্ষেত্রে এক বাটি দইয়ের সঙ্গে সম পরিমাণে ওটস মিলিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফলতে হবে। পেঁপে: ত্বককে উজ্জ্বল করতে নিয়মিত পেঁপে দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক মুখে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো পেঁপের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলেই ভাল ফল পাওয়া যাবে। টমাটো: এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ত্বকের ভিতরে ক্ষত সারায়, তেমনি পুষ্টির ঘাটতিও দূর করে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ টমাটোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে সেটি মুখে লাগাতে হবে। শুধু টমেটো দিয়েও মাসাজ করতে পারেন। সূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/টিকে
মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করুন ৫ উপায়ে

মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার অনেক ধরণের ব্যবস্থাপত্র রয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই বেশ কষ্টদায়ক। অনেক ক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে। মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম দূর করার কিছু ঘরোয়া সহজ পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার ৫ টি প্রাকৃতিক উপায়। ১) চিনি ও লেবুর রস উপকরণ ও পরিমাণ *দুই টেবিল চামচ চিনি *লেবুর রস *আট থেকে নয় টেবিল চামচ পানি প্রস্তুত প্রণালী উপকরণগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন। এরপর বুদবুদ উঠা পর্যন্ত গরম করে নিন।তারপর ঠাণ্ডা করে ২০ থেকে ২৫ মিনিট মাখিয়ে রাখতে হবে। ধোয়ার সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে বৃত্তাকারে ঘষে তা ওঠাতে হবে। ২) লেবু ও মধু উপকরণ ও পরিমাণ *দুই টেবিল-চামচ চিনি *লেবুর রস *এক টেবিল-চামচ মধু প্রস্তুত প্রণালী উপাদানগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন। পরে তিন মিনিট গরম করে পানি মিশিয়ে পাতলা কিরে নিনি। এরপর ঠান্ডা করে নিন। যেখানের লোম তুলতে চান সেখানে প্রথমে কর্নস্টার্চ(ভুট্টার দানা রিফাইন্ড করে এটি তৈরি করা হয় যা অনেকটা কর্নফ্লাওয়ার এর মত) মাখিয়ে নিন। এরপর কর্নস্টার্চের উপর মিশ্রণটি লাগিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণ লাগতে হবে লোম যেদিকে বের হচ্ছে সেদিকে।পরে সুতি কাপড়ের সাহায্যে লোমগুলো টেনে তুলে নিতে হবে। টান দিতে হবে লোম যেদিকে বের হচ্ছে তার উল্টো দিকে। ৩) ওটমিল ও কলা উপকরণ ও পরিমাণ *দুই টেবিল-চামচ ওটমিল *একটি পাকা কলা প্রস্তুত প্রণালী উপকরণগুলো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।অবাঞ্ছিত লোম থাকা অংশে ১৫ মিনিট পেস্টটি মালিশ করে নিন। পরে  ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ৪) আলু ও মসুর ডাল উপকরণ ও পরিমাণ *এক টেবিল-চামচ মধু *লেবুর রস *পাঁচ টেবিল-চামচ আলুর রস *মসুর ডালের পেস্ট (মসুর ডাল সারারাত পানিতে ডুবিয়ে রেখে এই পেস্ট তৈরি করতে হবে) প্রস্তুত প্রণালী উপকরণটি মিশিয়ে নিন।এবার মিশ্রণটি যে স্থানের লোম তুলতে হবে সেখানে ২০ মিনিট মাখিয়ে রাখুন।এরপর পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।মিশ্রণটি ত্বকের পাতলা এবং শক্ত আস্তর ফেলবে যা লোম তুলে আনতে সহায়ক। ৫)ডিম ও কর্নস্টার্চ উপকরণ ও পরিমাণ *এক টেবিল-চামচ কর্নস্টার্চ *চিনি *ডিমের সাদা অংশ প্রস্তুত প্রণালী উপকরণটি একসাথে মেশায়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি অবাঞ্ছিত লোমযুক্ত অংশে মাখিয়ে রাখুন।শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলুন।ডিমের সাদা অংশ আঠালো, তাই এটি চিনি ও কর্নস্টার্চের সঙ্গে মিশিয়ে মাখলে ত্বকের উপর পাতলা আস্তর ফেলবে।  যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের জন্য এ পদ্ধতি নয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এমএইচ/টিকে

যেসব খাবার ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া কমায়

অসময়ে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া আমাদের অন্যতম একটি সমস্যা। স্ট্রেসের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কারণেই এমনটি হচ্ছে। এর আরও একটি কারণ হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। আর ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া মানে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়া। তবে এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু খাবার ও কিছু নিয়ম মেনে চললেই সম্ভব।   যেসব খাবার : প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে: ত্বক তখনই বুড়িয়ে যায়, যখন ত্বক নিজের আদ্রতা হারাতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে বেশি মাত্রায় পানি খাওযার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আসলে দেহের ভিতরে পানির ঘাটতি দূর হলে ত্বকের আদ্রতাও বজায় থাকে। ফলে ত্বকের ইলাস্ট্রিসিটির এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে সৌন্দর্য তো কমেই না। বরং বয়সের কোনও ছাপই পরে না ত্বকের উপর। ডালিম: এই ফলটি নিয়মিত খেলে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ভিতরেও রক্তের প্রবাহ বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। ডিম: ত্বককে সুন্দর রাখতে বাস্তবিকই ডিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে নিয়মিত একটা করে ডিম খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে প্রোটিনের ঘাটতি কমতে শুরু করে। আর শরীরে যখন প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়, তখন ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়তে সময় লাগে না। সবুজ শাক-সবজি: এই ধরনের খাবারে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে, যা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ত্বককে যদি সুন্দর ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে চান, তাহলে রোজ সবুজ শাক-সবজিকে খেতে হবে। যেসব নিয়ম : চিনি কম খাওয়া জরুরি: একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দেহের ভিতরে চিনির মাত্রা বাড়তে থাকলে শরীরে গ্লাইকেশন ঘটতে থাকে। এই সময় চিনি, ত্বকের ভিতরে পানির মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে ত্বকের আদ্রতা হারিয়ে যায়। আর এমনটা হলে বলিরেখা প্রকাশ পেতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই যদি ত্বককে সুন্দর এবং বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে চান তাহলে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। এই নিয়ম মানতে পারলেই উপকার মিলবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতি যেন না হয়: ত্বকের ভিতরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। তাই এমনটা যাতে আপনার ত্বকের সঙ্গে না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যে যে খাবারে এই দুই উপাদান রয়েছে, তা বেশি করে খেলে ত্বকের গভীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমার আশঙ্কা কমে যায়। যেমন- জাম, ডার্ক চকোলেট, কিশমিশ, টমাটো, ব্রকলি, কাজু বাদাম প্রভৃতি বেশি করে খেতে হবে। প্রোটিনের ঘাটতি: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেহের ভিতরে প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে স্ট্রেসের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার সরাসরি প্রভাবে পরে ত্বকের উপর। আসলে স্ট্রেস লেভেল বাড়লে মস্তিষ্কে কর্টিজল নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ঘুমের ঘাটতি হলেই সমস্যা: আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমতেই হবে। আর যদি এমনটা করতে না পারেন, তাহলে সৌন্দর্য তো কমবেই, সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগসহ নানাবিধ জটিল অসুখ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যাবে বেড়ে। সূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/  

বৈশাখের আগে রূপচর্চা  

পহেলা বৈশাখ। বাংলা বছরের এই দিনটিকে বরণ করতে সবাই নানান সাজে সেজে উঠবে। আর যেহেতু পহেলা বৈশাখে বেশ গরম থাকে সেহেতু ত্বকের কথা চিন্তা করে এখন থেকেই রূপচর্চা করা প্রয়োজন। কেননা এই দিনে অন্যদের থেকে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কার না ভালো লাগে। তাই অন্তত তিন-চারদিন আগে থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। ত্বকে যদি কোনো ধরণের সমস্যা যেমন- ব্ল্যাক হেডস, প্যাচেস, ব্রণ ইত্যাদি থাকে তাহলে এখন থেকেই পরিচর্যার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। ত্বক সুন্দর থাকলে তাতে হালকা বা ভারী যে কোনো মেকাপেই হোক না কেন মুখের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।  শুধু তাই নয়, এসময় নিজেকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। বাহিরের রোদ, ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা প্রচণ্ড রোদে মুখ পোড়াভাবের সৃষ্টি হয় বা ধুলোবালি লেগে ত্বক তৈলাক্তে পরিণত হতে পারে। তাই বাহিরে বের হওয়ার সময় নিয়মিত সানব্লক ব্যবহার ও বাড়িতে ফিরে ঠিক মতো মেইকআপ তুলে প্রাকৃতিক প্যাক ব্যবহার করতে হবে।    যাদের ত্বক শুষ্ক তারা এই কয়েকটা দিন ত্বকে ঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ত্বক ভেতর থেকে সতেজ দেখাবে। তাছাড়া শুষ্ক ত্বক অনেক বেশি নির্জীব দেখায়, মেইকআপ ঠিক মতো বসতে চায় না। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র দেখানোর পাশাপাশি উজ্জ্বল লাগবে।  ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা যাদের আছে তারা বাসায় বা পার্লারে গিয়ে ব্ল্যাক হেডস তুলতে পারেন। বাজারে চারকোলের ব্ল্যাক মাস্ক পাওয়া যায়, এটা ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেডস ওঠাতে সাহায্য করে।   ত্বকে কোনো ধরনের ‘প্যাচেস’ বা দাগ ছোপ থাকলে ‘মাসাজ’ করলে উপকার পাওয়া যাবে। ‘মাসাজ’ ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও ময়লা দূর করে। ফলে ত্বকের অনেক সমস্যা কমে আসে। এছাড়া ত্বক অপরিষ্কার থাকলে ব্রণ উঠে তাই যতটা সম্ভব মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। শসার রস ব্রণ কমায় ও দাগ দূর করে। এছাড়া টমেটোর রস, অ্যালোভেরা, ডাল বাটা, মুলতানী মাটি ইত্যাদির সাহায্যে বাড়িতেই ত্বকের যত্ন নেওয়া যেতে পারে। কেএনইউ/এসি    

প্রতিদিন স্নান করলে যে সুবিধা পাবেন

আমরা সবাই সকাল-বিকেল স্নান করে থাকি। আর এই গরমে তো কথাই নেই। কিন্তু স্নান করি কেন আমরা, এই উত্তর কেউ দিতে পারেন?বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ঠাণ্ডা জলে করুন কি গরম জলে, নিয়মিত স্নান করলে একাধিক উপকার মেলে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু জটিল রোগও দূরে থাকতে বাধ্য হয়। ফলে একথা বলা যেতেই পারে যে নিয়মিত সকাল-বিকেল স্নান করলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো! তবে এখানেই শেষ নয়, স্নান করার আরও অনেক উপকারিতা আছে। এই কারণেই তো জন্মানোর কিছু সময় পর থেকেই নবজাতককে স্নান করানো শুরু হয়ে যায়। সেই যে শুরু হয়, চলে যত দিন না মৃত্যু ছোবল মারছে, ততদিন পর্যন্ত! তবে কী কী উপকার পাওয়া যায় নিয়মিত স্নান করলে?১. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:শুনে অবাক লাগলেও একথার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে নিয়মিত স্নান করলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে চোখে পরার মতো। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে স্নান করার সময় ব্রেনের অন্দরে ইনফ্লেমেশন রেট কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নার্ভাস সিস্টেমেরও কর্মক্ষমতা বাড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেন পাওয়ার বাড়তে সময় লাগে না। ২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:স্নানের সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগের কী সম্পর্ক? গবেষণা বলছে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি টানা ৩ সপ্তাহ, দৈনিক ২০-৩০ মিনিট গরম জলে স্নান করেন, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। ৩. ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে প্রতিবার ঠাণ্ডা জল মাথায় ঢালার সময় কোনও এক অজানা কারণে আমাদের ফুসফুস সংকুচিত হয়ে যায়। এমনটা বারে বারে হওয়ার কারণে লাং-এ অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, যে হারে আজকাল বায়ুদূষণের প্রকোপ বাড়ছে তাতে ফুসফুসকে অতিরিক্ত চাঙ্গা না রাখলে কিন্তু বিপদ! তাই যতই ল্যাথারজিক লাগুক না কেন, প্রতিদিন সকাল-বিকাল স্নান করা দরকার! ৪. পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ে:পুজোর ঘরের ডেকরেশন ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে না করলে কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে! পুজোর ঘরের ডেকরেশন ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে না করলে কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে! ৫. হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:বেশ কিছু গবেষাণায় দেখা গেছে হালকা গরম জলে স্নান করলে সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে হার্টের কর্মক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে কোনও ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, নিয়মিত উষ্ণ গরম জলে স্নান শুরু করলে রক্তচাপও স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমতে সময় লাগে না।৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:শুধু ঠাণ্ডা নয়, গরম জলে স্নান করার সময়ও ভাসকুলার এবং লিম্ফ সিস্টেম থেকে প্রচুর মাত্রায় ইমিউন সেলের জন্ম হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তত রোগভোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। এবার বুঝেছেন তো প্রতিদিন স্নান করার গুরুত্ব কতটা! ৭. রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটে:গবেষণায় দেখা গেছে স্নান করার সময় ঠাণ্ডা জলের স্পর্শ লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন হার্টের পাশাপাশি দেহের ভাইটাল অর্গানদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি অন্যদিকে রক্তচাপও কমতে থাকে। ফলে সার্বিকভাবে শরীর একেবারে তরতাজা হয়ে ওঠে।৮. স্ট্রেস লেভেল কমতে থাকে:দিন শেষে ক্লান্তি এবং স্টেস যখন ঘারে চেপে বসে, তখন যেন পা এগতে চায় না। মনে হয় জীবনটা যেন থেমে গেছে কোনও বোল্ডারে বাঁধা পেয়ে। এমন অবস্থায় মহৌষধির কাজ করে এক বালতি ঠান্ডা জল। সেটা যখন মাথা হয়ে সারা শরীরে ঝাপিয়ে পরে, তখন আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে বিটা-এন্ডোরফিন এবং নোরাএড্রেনালিনের মতো হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই।এসএইচ/

ত্বক সতেজ করে তুলসি পাতা

তুলসি পাতার রসে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ছোট-বড় নানা রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয়, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে তুলসি গাছের পাতা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে নানা ধরনের সংক্রমণ হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ছোট-বড় সব রোগই দুরে পালায়। সেই কারণেই তো নিয়মিত তুলসি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন তুলসি পাতা খেলে আরও অনেক উপকারগুলি পাওয়া যায়, যেমন ধরুন- লিভারের কর্মক্ষমতা কমে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খাওয়া শুরু করলে লিভারের ভেতরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে লিভার সংক্রান্ত কোনও রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। স্টমাক সম্পর্কিত রোগ কমায় গত কয়েক বছরে সারা বিশ্বে গ্যাসট্রিক সমস্যা, আলসার, ব্লটিং প্রভৃতি রোগের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আর তুলসি পাতা এইসব রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে। প্রতিদিন এক চামচ তুলসির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে নানা রকমের পেটের রোগ একেবারে দূরে পালায়। ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে অথবা তুলসি পাতার পেস্ট মুখে লাগালে রক্ত এত মাত্রায় পরিশুদ্ধ হয় যে স্কিন ইনফেকশনের আশঙ্কা কমে যায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। আসলে তুলসি পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় নানা ধরনের ছোট-বড় চোখের রোগ সারাতে তুলসি পাতার কোনও বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত, ভিটামিন- এ-র ঘাটতির কারণে যে যে চোখের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে তুলসি পাতা। ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ এবং অ্যান্টি-অ্যাক্সিডেন্ট থাকায় তুলসি পাতা খেলে ক্যান্সার রোগও দূরে পালায়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিন যদি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে ব্রেস্ট এবং ওরাল ক্যান্সার কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস করে তুলসি পাতার রস খেলে পরিবেশে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শরীরকে নষ্ট করতে পারে না। ফলে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। ওজন কমে চোখে পরার মতো বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন খালি পেটে তুলসি পাতা খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে অতিরিক্ত মেদ ঝরে যেতে সময় লাগে না। তাই চটজলদি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে নিয়মিত তুলসি পাতা খেতে ভুলবেন না যেন! ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায় বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে তুলসি পাতায় উপস্থিত ক্যাম্পেইনে, ইগোয়েনাল এবং সিনেওল নামক উপাদান, ফুসফুস সংক্রান্ত রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি লাং-এর কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের চিকিৎসাতেও তুলসি পাতা দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে সকাল সকাল কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খেলে মুখের ভেতর জন্ম নেওয়া নানান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। ফলে মুখ থেকে আর বাজে গন্ধ বের হয় না। প্রসঙ্গত, দাঁতকে নানা জীবাণুর হাত থেকে বাঁচাতেও তুলসি পাতা দারুন কাজে দেয়। জ্বর ও ঠান্ডা লাগা কমায় সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসা কথাটা বাস্তবিকই ঠিক যে জ্বর এবং ঠান্ডা লাগা কমাতে তুলসির কোনও বিকল্প নেই। আসলে তুলসি পাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও জোরাল করে দেয়। ফলে রোগ-ভোগ কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয় এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটি নানা ধরনের সংক্রমণ থেকেও আমাদের দূরে রাখে। ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুগারের সবথেকে বড় যম। আর এই উপাদানটি বিপুল পরিমাণে রয়েছে তুলসি পাতায়। তাই তো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা যদি চেবানো যায়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে এক সঙ্গে অনেক চুলসি পাতা খেয়ে নিলে কিন্তু হঠাৎ করে শর্করারা মাত্রা কমে গিয়ে অন্য বিপদ হতে পারে। তাই অল্প করে তুলসি পাতা খাওয়া উচিত। স্ট্রেস কমায় শরীরে অ্যান্টি-স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে তুলসি পাতা দারুন কাজে দেয়। ফলে স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। আসলে তুলসি পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি স্ট্রেস এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর উপাদানের শক্তি কমতে থাকে। সেই সঙ্গে কমতে শুরু করে স্ট্রেসও। কিডনি স্টোন তুলসি পতায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা কমায়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন যদি মধু দিয়ে তৈরি চুলসি পাতার রস খাওয়া যায়, তাহলে কিডনি স্টোন গলে তো যায়ই, সেই সঙ্গে শরীর থেকে তা বেরিয়েও যায়। প্রসঙ্গত, তুলসি পাতায় যে ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে তা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেয় না। ফেল কিডিনতে স্টোন হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। রহার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ইউজেনল নামে বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে তুলসি পাতায়, যা রক্তচাপ এবং কোলেস্টরলের মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখে। আর একথা তো সবারই জানা যে, এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। আপনি কি কোনও রকমের হার্টের রোগে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খান। দেখবেন অল্প দিনেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। মাথা যন্ত্রণা কমায় একটা বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে কয়েকটা তুলসি পাতা ফেলে দিন। তরপর সেই পানি ফুটিয়ে নিন। এবার মাথা টাওয়ালে ঢেকে সেই জলের ভাব নিলে দেখবেন মাথা যন্ত্রণা কমে যাবে। আসলে তুলসি পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে ফেলতে কার্যকরি ভূমিকা নেয়। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে// এআর

গরমে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

বেশ গরম পড়েছে। এ সময় প্রচণ্ড তাপ ও ধুলোবালির কারণে ত্বকে তৈলাক্ত ভাবটা যেন বেশিই দেখা যায়। তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে যেখানে সেখানে যাওয়াটা  খুব বিরক্তিকর। তাই গরমে তৈলাক্ত ত্বক রক্ষা করতে প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। আর সেটি বাড়িতে বসেই প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। তাহলে খুব সহজেই তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়ার উপায় একুশে টিভি অনলাইনে দেওয়া হলো-     প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন- পানি আপনার ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে সাহায্য করে। ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করা শরীরের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া মুখে ঘন ঘন পানির ঝাপটা দিন। শশার রস- তৈলাক্তভাব দূর করতে শসা খুবই কার্যকর। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। এতে তৈলাক্তভাব অনেকটা দূর হবে। কলা- কলা ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করায় বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এজন্য একটা পাকা কলার পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এই পেস্ট রাতে লাগাতে পারেন। লেবুর রস- লেবুর রস তৈলাক্তভাব দূর করে। কয়েক ফোটা লেবুর রসের সঙ্গে এক টেবিল চামুচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। চালের গুঁড়া- চালের গুঁড়াতে সামান্য মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। সপ্তাহে দুইদিন এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হবে। ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর হয়ে যাবে। গ্রিন টি- ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করতে গ্রিন টি বেশ উপকারী। এই গ্রিন টি দিয়ে সহজেই একটি মাস্ক আপনি তৈরি করে নিতে পারেন মুখে মাখার জন্য। দুই টেবিল চামচ গ্রিন টির সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও এক চা চামচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে নিন। মুখে ২০ মিনিট রেখে দিন। ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি রাতে করা ভালো। তথ্যসূত্র : রূপচর্চা। কেএনইউ/এসএইচ/  

উজ্জ্বল ত্বক পেতে গোলাপ জল

গোলাপ ফুলের পাপড়ি পানিতে ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয় গোলাপ জল। ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী এই জল। আর সেজন্যই সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয় এটি।গোলাপ জলের ব্যবহার শুধু আজকের দিনে নয়, এটি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। সব রকমের ত্বকের জন্যই উপকারী প্রাকৃতিক এ উপাদান। সব ধরনের ত্বকের সমস্যা সমাধানে, ত্বককে সিক্ত (হাইড্রেট), নরম এবং মসৃন রাখতে সাহায্য করে গোলাপ জল। এছাড়া সৌন্দর্য বাড়াতে গোলাপ জল যেভাবে আপনাকে সাহায্য করবে- প্রথমত, অনুষ্ঠান বাড়ি হোক কিংবা সাধারণ দিনে সবাই মেকআপ করে থাকেন। আপনার ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক অথবা সেনসিটিভ যে রকমের হোক ত্বকেই আপনি মেকআপ তোলার কাজে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপ জল। অন্য মেকআপ তোলার প্রসাধনীতে অ্যালকোহল জাতীয় কিছু পদার্থ থাকে, যা ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। তাই মেকআপ তোলার জন্য আদর্শ হল গোলাপ জল। দু চামচ গোলাপ জলের সঙ্গে এক চামচ আমন্ডের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। মেকআপ তোলার সাথে সাথে ত্বককে ময়শ্চারাইজও করবে এই মিশ্রণ। দ্বিতীয়ত, ত্বকের ফোলাভাব কমাতে আদর্শ ঘরোয়া উপাদান গোলাপ জল। অনেকেরই চোখের নিচের অংশ ফোলা থাকার সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তোলার মাধ্যমে অল্প করে গোলাপ জল নিন। আর গোটা মুখে ভালো করে লাগিয়ে দিন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোখ মুখের ফোলাভাব শেষ হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, ত্বকের নোংরা, ময়লা দূর করতে অনেকেই টোনার ব্যবহার করেন। কিন্তু ত্বক পরিস্কারের জন্য গোলাপ জলের থেকে ভালো কিছু আর নেই। গোলাপ জল শুধু ত্বক পরিস্কারই করে না, ত্বকের pH লেভেল বজায় রাখতেও সাহায্য করে। চতুর্থত, ৬ চামচ গোলাপ জলের সাথে ২ চামচ নারকেল তেল এবং ২ চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে প্রত্যেকদিন ২ বার করে ব্যবহার করুন। ময়শ্চারাইজারের কাজ করবে। পঞ্চমত, গরমকাল বা শীতকাল, ত্বকের সমস্যা চিরকালীন। ত্বকের অ্যালার্জি বা যেকোনও সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গোলাপ জলের সাথে পরিমাণ মতো তুলসী পাতার গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহার করুন।জিনিউজ আর / এআর

মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়লে যা করবেন

নানা কারণেই আপনার চুল পড়তে পারে। যেমন- পরিবেশ দূষণ, বয়স, স্ট্রেস, স্মোকিং, পুষ্টির অভাব, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, জেনেটিক কারণ, স্কাল্প ইনফেকশন, হেয়ার প্রডাক্টের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বেশ কিছু ওষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে, থাইরয়েড, অটোইমিউন ডিজজ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম, অ্যানিমিয়া প্রভৃতি। আমাদের মাথায় প্রায় এক লাখ চুল রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টা চুল পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এর থেকে বেশি মাত্রায় চুল পড়তে শুরু করলেই সেটা চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে যত শীঘ্রই সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময় লাগবে না। জেনে নিন চুল পড়া কমানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি-দইদুই চামচ দইয়ের সাথে এক চামচ মধু এবং এক চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। যখন দেখবেন প্রতিটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটা ভাল করে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একবার করলেই চুল পড়া বন্ধ হবে। নারকেল দুধএক কাপ নারকেল দুধ নিয়ে ধীরে ধীরে স্কাল্পে লাগান। তারপর একটা টাওয়াল দিয়ে ২০ মিনিট রেখে ভাল করে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এমনটা সপ্তাহে কয়েকবার করলেই চুল পড়া কমতে শুরু করবে। এর কারণ নারকেল দুধে উপস্থিত ভিটামিন ই, চুলের গভীরে ময়েসশ্চারাইজারের ঘাটতি দূর করে। এরফলে চুল পড়ার হার কমে যায়। পেঁয়াজে রস পেঁয়াজের রসে উপস্থিত সালফার হেয়ার ফলিকেলসে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে দেয়। তাছাড়া পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-বায়োটেরিয়াল প্রপাটিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সাথে সাথে চুল পড়ার অশঙ্কাও হ্রাস পায়। যেভাবে চুলে লাগাবেন পেঁয়াজের রস: একটা পেঁয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রস সরাসরি মাথায় লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দুই বা তিন বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। বিটরুটবিটরুটে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি এবং সি যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বিটরুট পাতা নিয়ে পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর পাতাগুলো গুঁড়ো করে নিয়ে মেথির সাথে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। সপ্তাহে তিনবার এমনভাবে চুলের পরিচর্যা করতে হবে। মেথিচুল পড়া বন্ধ করতে মেথি দারুন কাজে আসে। মেথিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে, তখনই অল্প করে মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাবেন। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নেবেন। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া কমার সাথে সাথে মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নও পূরণ হবে। নিম পাতাএই প্রকৃতিক উপাদনটিতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ চুলের গোড়ায় কোনও ধরনের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। এটা ব্যবহার করলে মাথার খুশকির প্রকোপও কমে। এমন ধরনের রোগের হাত থেকে যখন মুক্তি মেলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই চুল পড়া কমে যায়। আর/এসি 

আঁচিল দূর করার ঘরোয়া উপায়

আঁচিল এক প্রকার ভাইরাসজনিত সংক্রামণ। এটি মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে উঠতে দেখা যায়। আঁচিল কিছুটা ফোস্কার মত। মুখের ত্বকে উঠলে এটি খুব বিব্রতকর দেখায়। আঁচিল সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। উঠলে যেন আর যেতেই চায় না। তাই আঁচিল দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ওষুধ খাওয়া হয়। এই ওষুধের পরিবর্তে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে আঁচিল দূর করতে পারেন। আঁচিল দূর করার প্রাকৃতিক উপায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরা হলো- ১) কলার খোসা : কলার খোসার মাধ্যমে আঁচিল দূর করা সম্ভব। খোসার ভিতরের অংশটি বের করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এখন আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলার খোসায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে। ২) টি ট্রি অয়েল : টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের যে কোন ইনফেকশন দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে কিছু তুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েলে ভিজিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক ঘন্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। ৩) রসুন : রসুনের মাধ্যমেও আঁচিল সহজে দূর করা যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া কুচি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকের আঁচিলের উপর লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশিক্ষণ রাখবেন না, ক্ষতি হতে পারে। ৪) পেঁয়াজের রস : আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজেরও প্রয়োজন রয়েছে। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে সারাদিন ঢাকনা দিযে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি আঁচিলের উপর ব্যবহার করুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিরাতে এটি ব্যবহার করুন দেখবেন আঁচিল দ্রুত সেরে গেছে। ৫) অ্যালোভেরা জেল : অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আঁচিলের উপর কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলেই হবে। সূত্র : রূপচর্চা /কেএনইউ/ এআর

বিয়ের পরেও রূপচর্চা

সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে হলে রূপচর্চা আবশ্যক। ঘরে ও বাহিরের কাজ সেরে নারীরা রূপচর্চায় বসে। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন ভালো স্কিন পাওয়ার জন্য অন্তত সপ্তাহে দুদিন স্কিনের যত্ন নিতে হয়। আর যদি বিয়ে হয় তাহলে তো কোন কথাই নয়। বিয়ের দিনে যাতে সুন্দর দেখায় সেই জন্য প্রতিদিনই রূপচর্চা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটায় নারীরা। তবে বিয়ের পর্ব শেষ হলেই যেন রূপচর্চাটাও শেষ হয়ে যায়। এটা ঠিক নয়। কারণ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ডাবল মেকাপ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হেয়ার স্টাইল করা হয়। এতে ত্বক ও চুল দুটোই প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারে না। তাই ত্বক ও চুল দুটোই রুক্ষ হয়ে যায়। তাই বিয়ের পর্ব শেষ হলেও রূপচর্চাটা ধরে রাখতে হবে। এছাড়া বিয়ের আগের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে বিয়ের পরেও রূপচর্চা করা প্রয়োজন। বিয়ের সময় গায়ে হলুদের দিনে কনেকে হলুদের ছোঁয়া দিতে হয়। এ সময় স্কিন হলদে ভাব দেখায়। এই হলদে ভাব বেশ কিছুদিন স্কিনে থেকে যায়। আর হলদে ভাব থাকলে স্কিনে মেকআপ করলে তেমন দেখতে ভালো লাগে না। তখন মুখের সৌন্দর্যটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে একটা প্যাক ত্বকে ব্যবহার করলে এই হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে। প্যাকটি নিচে দেওয়া হলো- ১) কিছু চালের গুঁড়া। ২) এক চামচ লেবুর রস। ৩) এক চামচ টক দই। ৪) এক চামচ মধু। এই কয়টি উপকরণ একত্রে মিশিয়ে মুখে লাগালে হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে। শুধু মুখে নয় এটি পুরো শরীরে লাগাতে পারবেন। প্যাকটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন লাগান। এছাড়া বিয়ের দিনে ত্বকে প্রচুর মেকাপ করা হয়। এতে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই বিয়ের পর রূপচর্চা বাদ দিলে ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবার চুলের প্রসঙ্গে আসা যাক, বিয়ের দিনে বিভিন্ন ডিজাইনে চুল বাধা হয়। যার কারণে চুলের ওপর এক প্রকার চাপ পরে যায়। এতে চুল ভঙ্গুর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিয়ের পর চুলের যত্ন নেওয়ায় প্রয়োজন। বাসাতেই চুলের জন্য একটি প্যাক বানাতে পারেন- ১) একটি ডিম। ২) একটি কলা। ৩) এক চামচ মধু। এই তিনটি উপকরণ মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে দশ মিনিট রাখুন। বেশি শুকাবেন না। কারণ বেশি শুকালে ধোয়ার সময় কলা উঠতে চাইবে না। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে সুন্দরভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন করলে চুলের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। বিয়ের পর অন্তত সপ্তাহে তিন দিন রূপচর্চা করুন। তাহলে বিয়ের আগের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবেন। তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই।   /কেএনইউ/ এসএইচ/        

ত্বক ভাল রাখে ভিটামিন ‘সি’

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিসহ বিরুপ আবহাওয়া নানা সময়ে আপনার ত্বকের ক্ষতি করছে। এর ফলে আপনার ত্বকে রংয়ের অসামঞ্জস্যতা ও কালচেভাব দেখায়। এ সমস্যা দূর করতে ভিটামিন সি ভালো কাজ করে। ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে রূপচর্চায় প্রসাধনীতে ভিটামিন সি যোগ করুন। এটা ত্বককে কোমল রাখার পাশাপাশি কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি কোলাজেন বৃদ্ধি করে। এর ফলে ত্বক থাকে টানটান ও উজ্জ্বল। এছাড়া ভিটামিন সি ত্বক পুনুরুজ্জীবিত করে, শুষ্কতা দূর করে, ত্বককে পরিষ্কার করে। ভিটামিন সি’র উৎস: ভিটামিন সি নানা রকম ফল যেমন- কমলা, লেবু, আঙুর এধরনের ফল থেকে পাওয়া যায়। একটি মাঝারি মাপের কমলাতে ৭০ গ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রসাধনী যেমন- সিরাম, ক্রিম, লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। আর / এআর  

লবণ দিয়েও রূপচর্চা!

লবণ সাধারণত রান্নাতে ব্যবহার করা হয়। লবণে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সোডিয়াম। এসব উপাদান শরীরের জন্য খুবই উপকার করে। তবে লবণ শুধু খাবার হিসেবেই নয় এটি না কি রূপচর্চাতেও ব্যবহার করা হয়। কি অবাক কাণ্ড, লবণ দিয়েও রূপচর্চা! প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে বসে আমরা বিভিন্ন উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করি কিন্তু লবণ দিয়েও যে রূপচর্চা করা যায়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন রোগ সারাতে লবণ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। যেমন- ত্বকের যে কোন জায়গার অ্যালার্জি দূর করতে লবণের ভূমিকা রয়েছে। লবণ দিয়ে ত্বককে কিভাবে সুন্দর করবেন তার কিছু উপায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরা হলো- ১) ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করে : শীতকাল ছাড়াও আমাদের শরীরে ত্বক ফেটে যায়। বিভিন্ন প্রোডাক্ট ব্যবহার করার পরও এর ঠিক ফল পাওয়া যায় না। এ সময় ঘরোয়া একটি উপায় কাজে লাগানো যেতে পারে। আধা চামচ লবণ নিয়ে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। তারপর সেই মিশ্রন সারা মুখে লাগিয়ে ফেলুন। দশ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এমনটা করলে ত্বক তার প্রয়োজনীয় আদ্রতা ফিরে পাবে। ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ হবে। ২) শুষ্ক ত্বককে ভাল করে : ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষেদের সরিয়ে দিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি স্কিনকে আদ্র রাখতে লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই চামচ লবণের সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল এবং দুই চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রনটা ভাল করে মুখে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিন। এতে মুখের শুষ্কতা দূর হবে। ৩) ত্বক পরিষ্কার রাখে : লবণ হলো প্রাকৃতিক উপাদান। এটি খুব সহজেই জমে থাকা ময়লা দূর করে মুখ পরিষ্কার রাখে। ফলে ত্বক সুন্দর এবং নরম হতে শুরু করে। অল্প করে লবণ নিয়ে তার সঙ্গে পছন্দের যে কোনও ফেসিয়াল অয়েল মেশান। এবার সেই তেলটা পানির সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে মুখে মাসাজ করুন। এই মিশ্রনটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে দেয়, ফলে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হতে শুরু করে। ৪) চোখের ফোলাভাব দূর করে : অনেক সময় চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা যায়। দেখতে অস্বাভাবিক লাগে। এ সময় লবণের সঙ্গে ফেসিয়াল অয়েল মেশান। তরপর তুলো নিয়ে সেই পানিতে ডুবিয়ে চোখের উপর রাখুন। তুলটা কিছুক্ষণ চোখের উপর রেখে পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুবার এমনটা করলেই দেখবেন চোখের ফোলাভাব কমে যাবে। ৫) পায়ের যত্নেও লবণ : সেই আদি কাল থেকে পা-কে সুন্দর রাখতে লবণের ব্যবহার হয়ে আসছে। এক-দুই চামচ লবণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সেই পানিতে কিছুক্ষণ পা ডুবে বসে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন পায়ের ওপরি অংশে জমতে থাকা মৃত কোষগুলি ধুয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পায়ের যন্ত্রণা এবং ফোলা ভাবও কমবে। ৬) ফাটা ঠোঁট রোধ করতে লবণ : অল্প করে লবণ নিয়ে পরিমাণ মতো নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ঠোঁটটা ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুবার এই ঘরোয়া চিকিৎসাটি করলে ঠোঁটের ফাটা ভাব কমে গিয়ে ধীরে ধীরে ঠোঁটটা সুন্দর হতে শুরু করবে। সূত্র : ইনাডু ইন্ডিয়া। /কেএনইউ/এসএইচ    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি