ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২:৩৫:০৭

ব্রণ থেকে মুক্তির ৬টি ঘরোয়া উপায়

ব্রণ থেকে মুক্তির ৬টি ঘরোয়া উপায়

সব বয়সের মানুষই ব্রণ বা ফুসকুড়ি  সমস্যায় ভোগেন। অনেক চেষ্টা করেও বেশিরভাগ মানুষ এর থেকে মুক্তি খুঁজে পান না। এর ফলে ক্রমশ হতাশায় ভুগতে থাকেন। ব্রণ বা ফুঁসকড়ি সাধারণত গাল, কপাল, কাঁধ, বুক, নাক এবং গলায় হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, হরমোনের পরিবর্তনের জন্য  ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। ব্রণর সমস্যা সমাধানের জন্য অনেকেই অনেক ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু তাতে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অথচ, আমাদের হাতের কাছে রয়েছে কিছু ঘরোয়া উপায়, যার মাধ্যমে কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।এবার জেনে নেয়া যাক  সেগুলি কী কী- ১) টুথপেস্ট:  ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সবথেকে ভালো ঘরোয়া জিনিস হল টুথপেস্ট। সারারাত ত্বকের ক্ষতিগ্রস্থ জায়গা, যেখানে ব্রণ হয়েছে, সেখানে টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখুন। সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২) মধু:  ত্বক পরিস্কার রাখতে মধুর গুরুত্ব অপরিসীম। ব্রণ-অ্যাকনের উপর মধু ব্যবহার করুন। একঘণ্টা পর পনি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ৩) লেবুর রস:  সমপরিমান লেবুর রস এবং গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণর জায়গায় ব্যবহার করুন। খুব সহজেই ব্রণর হাত থেকে মুক্তি পাবেন। ৪) রসুন-: অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান হিসেবে রসুন ব্যবহার করা হয়। ব্রণর উপর সরাসরি রসুন বাটা ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ৫)ভিনেগার: ভিনেগার ব্রণের সমস্যায় দারুণ কাজ করে। তুলোয় ভিনেগার লাগিয়ে ব্রণে লাগান। ৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পুরো মুখে ভিনেগার লাগাবেন না। ৬) ডিম:  ব্রণর জায়গায় ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করুন। এর পর সেটি শুকাদে দিন। টানা ৪ বার ব্যবহার করুন। সূত্র:জি নিইজ   এম / এআর
যে খাবার বেশি খেলে ত্বক নষ্ট হয়

ত্বক এমনই জিনিস যা যতই যত্ন নিন না কেন ডায়েট যদি স্বাস্থ্যকর না হয় কখনই উজ্জ্বল দেখাবে না। তাই ডায়েট থেকে প্রথমেই বাদ দিতে হবে এমন খাবার যা ত্বকের ক্ষতি করে। জেনে নিন এমনই কিছু খাবার। লবন: বেশি লবন খেলে মুখ ফোলা দেখাতে পারে। চোখের চারপাশের চামড়া খুবই পাতলা ও নরম হয়। দ্য ন্যাশনাল হার্ট লাং অ্যান্ড ব্লাড অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, দিনে ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবন খেলে চোখের কোল ফুলে যেতে পারে। দুগ্ধজাত খাবার: এই ধরনের খাবার থেকে অনেক উপকার পাই আমরা। কিন্তু দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেলে চোখের কোল ভারী হয়ে যায়, ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা দেখা দেয়। চিনি: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা মিষ্টি খাবার শুধু যে শরীরের মেদ বাড়ায় তাই নয়, ত্বক শুষ্ক করে দেয়। ফলে চোখের কোল, কপালে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। অ্যালকোহল: অতিরিক্ত অ্যালকোহলের নেশায় ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। চোখের কোলে ফোলা ভাব আসতে পারে। গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার: গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে ত্বকের ধরন বদলে যেতে পারে। কপাল, গালে লাল লাল অ্যাকেন দেখা দিতে পারে। যেটা গ্লুটেন অ্যালার্জির লক্ষণ। সূত্র : আনন্দবাজার। আরকে//এআর

ত্বকের যত্নে আমলকী

উপকারী ফল আমলকী ত্বকের যত্নেও খুবই উপকারি। এতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট । আমলকীর রসের সঙ্গে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও সতেজ। এবার আমরা দেখে নেব  কিভাবে অমলকী ত্বকের যত্নে কিভাবে কাজ করে। ১. ত্বক মসৃণ করে আমলকী ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে দারুণ কাজে দেয়। এক্ষেত্রে রোজ সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে একমাসের মধ্যেই চোখে পরার মতো ত্বকের পরিবর্তন হয় । এছাড়া আমলকীর রস মুখে সরাসরি ব্যবহার করলে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল হয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ২. স্কিনের বয়স কমায় আমলকীর রস নিয়মিত পান করলে ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ সহজে পরে না। আর যদি এমনটা করতে ইচ্ছা না হয়, তাহলে আমলকীর রসের সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে মুখে মাখতে পারেন। এমনটা করলে ব্রণ সহ যে কোনও দাগ দূর হয় এবং ত্বককে সুন্দর রাখে। ৩. মৃত কোষের স্তর সরে যায় আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যে কারণে এই ফলটির নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমলকীর রসের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, মধু, গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানাতে হবে। অল্প পরিমাণে এই পেস্ট নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বক থেকে মরা কোষ দূর হবে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে দুবার এই পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ৪. ছোপ দূর করে আমলকীর রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখলে মুখের কালো ছোপ ভাব দূর হয়। শুধু তাই নয়, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই মিশ্রন খুবই উপকারি ভূমিকা নেয়। ৫. টক্সিক উপাদান শরীরে থেকে বের করতে আমলকীর রস প্রাকৃতিক উপায়ে রক্ত শোধন করতে পারে। ফলে ত্বকের যাবতীয় সমস্যাও দূর হতে সময় লাগে না। এছাড়া আমলকীর রসের সঙ্গে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগালে খুব দারুন উপকার পাওয়া যায়। এই মিশ্রণটি মুখে সারা রাত লাগিয়ে রেখে পরের দিন  ধুয়ে নিলে ব্রণ এবং অ্যাকনের মতো সমস্যা থেকে খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায়। ৬. কোলাজেনের ঘাটতি দূর হয় আমলকীর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বকের অন্দরে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন তৈরি করে, সেই সঙ্গে ত্বকে স্থিতিস্থাপক গুণ বৃদ্ধি করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক ফর্সা হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে কয়েক চামচ বাদাম গুঁড়ো, ২ চামচ চন্দন গুঁড়ো, তিন চামচ আমলকীর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রন তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রন মুখে মাখলে যে কোনও দাগ এবং বয়সের ছাপ দূর হবে। ৭. স্কিন ডিজিজের চিকিৎসায় আমলকী বাঁটা, কয়েক চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এই মিশ্রণটি ত্বককে যে কোনো ধরনের সমস্যা থেকে দূরে রাখবে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে। ৮. দাগ দূর করে আমলকীর রসের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে মুখে মাখুন। এতে মুখের যাবতীয় দাগ দূর হয় এবং বয়সের ছাপ কমতে শুরু করে। সূত্র:বোল্ড স্কাই এম/এআর

ত্বক ও চুলের যত্নে নারিকেলের পানি

নারিকেলের তেল ও দুধের মতই নারিকেলের পানি ত্বক ও চুলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। বর্তমান সময়ে চুলের যত্নে অনেকেই নারিকেলের পানি ব্যবহার করছে। তাই আপনিও ত্বক ও চুলের যত্নে নারিকেলের পানি ব্যবহার করতে পারেন। তা ব্যবহার করার কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি এর ফলাফল দেখতে পাবেন। বর্তমানে কিছু কিছু বিউটি কেয়ারে নারিকেলের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। নারিকেলের পানিতে ওমেগা-৩ ফেটি এসিড, বিটামিন সি, এনজাইম, এমাইনো এসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম জাতীয় মিনারেল থাকে যা ত্বক ও চুলের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী। নারিকেলের পানি কীভাবে ব্যবহার করবেন আসুন তা জেনে নেই। ফেইস মাস্ক হিসেবে নারিকেলের পানি  হলুদ ও চন্দন গুড়া এবং নারিকেলের পানি হচ্ছে ফেইস মাস্ক করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। এক টেবিল চামচ করে হলুদ ও চন্দনের গুড়া নিন এবং তিন থেকে পাঁচ টেবিল চামচ নারিকেলের পানি নিয়ে হলুদ ও চন্দনের গুড়ার সাথে মিক্স করুন। এই মিক্স করা উপাদানগুলো আপনার মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে তা ধুয়ে ফেলুন। ফেইসওয়াস হিসেবে নারিকেলের পানি ফেইস মাস্ক তৈরি করতে বেশ কয়েকটি উপাদান ব্যবহার হলেও ফেইসওয়াসের ক্ষেত্রে আপনি শুধু নারিকেলের পানি ব্যবহার করবেন। ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময় প্রতিদিন দু’বার নারিকেলের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। সূত্র:বোল্ড স্কাই এম/ডব্লিউএন  

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি