ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ৫:১২:৩৮

আরও তিনটি হজ ফ্লাইট বাতিল

আরও তিনটি হজ ফ্লাইট বাতিল

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ শুক্রবারের তিনটি হজ ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে। হজযাত্রী সংকটের কারণে ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, এর আগে যাত্রী সংকটের কারণে গত ২৭ জুলাই দুটি, ৩১ জুলাই একটি, ১ আগস্ট দুটি ও গতকাল দুটি হজ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছিল বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ এ নিয়ে মোট ১০টি হজের বিশেষ ফ্লাইট বাতিল করা হল। হজ ফ্লাইটগুলো বাতিলের জন্য সরাসরি হজ এজেন্সিগুলো দায়ি বলে জানিয়েছেন বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ। তিনি জানন, হজ এজেন্সিগুলো যথাসময়ে টিকিট না কেনায় একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। অথচ এসব এজেন্সিকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছিল। তাই এজেন্সিগুলো দ্রুত এগিয়ে না এলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীরা বিপদে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিমানের এ মুখপাত্র। উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাচ্ছেন। গত ২৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। হজ শুরুর আগে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত হজ যাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। একে//
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর  

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনী। ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকত ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাযিল হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আমি কদর রাতে কোরআন নাযিল করেছি’। তাই মুসলিম উম্মাহ’র কাছে শবে কদরের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত অত্যধিক। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারাদেশে পবিত্র শবে কদর পালন করবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। এ দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় (বাদ যোহর) বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শিরোনামে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে ওয়াজ করবেন রাজধানীর মিরপুরস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা আবদুল মুকিত আল আজহারী। সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। তথ্যসূত্র: বাসস। কেআই/ এসএইচ/

নামাজ সম্পর্কিত কুরআনের ৯ আয়াত ও ৬ হাদিস

১. তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিঃসন্দেহে তা বড়ই কঠিন- বিনীতদের জন্যে ছাড়া । ( সুরাহ বাকারাহ ২: ৪৫) ২. বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর জন্যে। (সুরাহ আনয়াম ৫:১৬২) ৩. তোমরা সালাত সমূহের প্রতি এবং ( বিশেষ করে ) মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি যত্ন বান হও, এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির)  জন্যে একান্ত অনুগত অবস্থায় দাড়াও। (সুরাহ বাকারাহ ২:২৩৮) ৪. আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করি (ক্ষমতা ওঁ সম্পদ দ্বারা) তাহলে তারা সালাত কায়েম করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজ  হতে নিষেধ করবে, আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহর (নিকট) (সুরাহ হাজ ২২:৪১) ৫.( হে নারী) তুমি পাঠ করো তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে তা থেকে এবং সালাত কায়েম করো। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন। (সুরাহ ‘আনকাবুত ২৯: ৪৫)    ৬. এবং তুমি সালাত কায়েম কর দিনের দুই দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের প্রথমাংশে। নিশ্চয় ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে এটি এক উপদেশ। (সুরাহ হুদ ১১: ১১৪) ৭. অতঃপর যখন তোমরা সালাত সমাপ্ত  করবে তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহ কে স্মরণ করো, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ বোধ করবে তখন পুরনাঙ্গ)  সালাত কায়েম কর, নিশ্চয় সালাত মু’মিনদের ওপর একটি সময় নির্ধারণ ফরয। (সুরাহ নিসা ৪:১০৩) ৮. সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত কায়েম করো এবং কায়েম কর ফরজের কুরআন পাঠও (অর্থাৎ সালাতুল ফরজ)। নিশ্চয় ফজরের পাঠ ( সালাতুল ফরজ) প্রত্যক্ষ করা হয়। (সুরাহ বানী ইসরাইল ১৭:৭৮) ৯. ওহে যারা ঈমান এনেছ! জুমু‘আর দিনে যখন তোমাদের কে সালাতের জন্যে ডাকা হয় তখন তোমরা  আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয় বিক্রয় পরিত্যাগ কর। এটি তোমাদের জন্যে উত্তম –যদি তোমরা জানতে। (সুরাহ জুমু‘আ ৬২: ৯) রাসুলুল্লাহ সা. এর ৬ হাদিস ১) হজরত উম্মি ফারওয়াহ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী কারিম (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সবচেয়ে  মর্যাদাবান ‘আমল কোনটি? তিনি বলেন, ওয়াক্তের প্রারম্ভে সালাত আদায় করা। (সুনানু আবী দাঊদ: ৪২৬, জামি’উত তিরমিযী:১৭০) ২) হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুনাফিকদের কাছে ফজর ও ইশা অপেক্ষা অধিক ভারী কোনো সালাত নেই। আর যদি তারা জানত যে, এতদুভয়ের মধ্যে কী (ফযীলাত) রয়েছে, তাহলে অবশ্যই তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এর জন্যে আসত।  (সহীহ বুখারী: ৬৫৭, সহীহ মুসলিম: ৬৫১) ৩) হযরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, বান্দা (আনুগত্য) ও কুফরীর মধ্যে (পার্থক্য) হলো সালাত ত্যাগ করা। (সহীহ মুসলিম:৮২) ৪)  হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের অভিমত কী, যদি তোমাদের কারো দরজায় একটি পানির নহর থাকে যাতে সে দৈনিক পাঁচ বার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকতে পারে? তারা (সাহাবীগণ) উত্তরে বললেন, তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে না। রাসূল (সা.) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ এরূপই। বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তার অপরাধসমূহ মিটিয়ে দেন। (সহীহ বুখারী: ৫২৮, সহীহ মুসলিম: ৬৬৭) ৫) হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমার সালাত থেকে অপর জুমার সালাত এবং এক রমযান মাসের সিয়াম হতে অপর রমজান মাসের রোজা সেসব গুনাহের জন্যে কাফফারা হয়, যা এর মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে থাকে; যখন কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়। (সহীহ মুসলিম:২৩৩) ৬) হযরত ‘আমর ইবনে শুয়াইব রহ. হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের জন্যে আদেশ কর, যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছাবে। আর যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্যে প্রহার কর এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও। (সুনানু আবী দাঊদ: ৪৯৫) (লেখকের ‘কুরআন মাজীদের আদেশ ও নিষেধ’ বই থেকে সংকলিত)। এমএইচ/ এসএইচ/  

রোজা সম্পর্কিত কোরআনের ৪ আয়াত ও ৫ হাদিস

ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম একটি স্তম্ভ। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা রোজার প্রতিদান নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের এই আয়োজনে রোজা সম্পর্কিত কোরআনের ৪টি আয়াত এবং ৫টি হাদিস উল্লেখ করা হলো। কোরআনের ৪টি আয়াত ১) হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারা-২:১৮৩) ২) সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে। এটা যাদের সাতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া-একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করা। যদি কেউ স্বাঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে। (সূরা বাকারা-২:১৮৪) ৩) রমাজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে এবং কেউ অসুস্থ্য থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্যে কষ্টকর তা চান না, এজন্যে যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। (সূরা বাকারাহ ২:১৮৫) ৪)সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্যে তোমাদের স্ত্রীদের বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্যে এবং তোমরাও তাদের জন্যে পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন, সুতরাং এখন তোমরা তাদের সঙ্গে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন (অর্থাৎ সন্তান) তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ তোমাদের জন্যে (রাত্রির) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা, সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সূরা বাকারা ২:১৮৭) রোজা সম্পর্কে ৫ হাদিস- ১) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবসহ রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুণাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী: ৩৮, সহীহ মুসলিম:৭৬০) ২)হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,  রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়, এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সায়িম ব্যক্তিই জান্নাত প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে সায়িমগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সব সায়িম ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না। (সহীহ বুখারী:১৮৯৬, সহীহ মুসলিম: ১১৫২) ৩) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনোদিন সিয়াম পালন করলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি সায়িম। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৪, সহীহ মুসলিম:১১৫১) ৪) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোজাদার)। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চেয়েও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন যে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। (সহীহ বুখারী: ১৯০৪, সহীহ মুসলিম:১১৫১) ৫) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বারাকতময় মাস। আল্লাহ তা’য়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সাওম ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শাইতানগুলোকে আটক রাখা হয়। আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক এ রাত্রির মহা কল্যাণলাভ হতে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি। (সুনানুন নাসায়ী:২১০৬)   এমএইচ/ এসএইচ/    

ঈমান সম্পর্কিত কুরআনের ৬ আয়াত ও ৫ হাদিস

ঈমান বা বিশ্বাসের মূল্য আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে দামি। তাইতো মুসলমানের কাছেও ঈমানের চেয়ে মহামূল্যবান আর কিছুই নেই। ঈমানের উপর ভিত্তি করে মানুষের দুনিয়া ও পরকালের সব হিসাব-নিকাষ চূড়ান্ত হবে। ঈমান সম্পর্কিত কুরআনের ৬ আয়াত ও ৫ হাদিস এখানে তুলে ধরা হলো: কুরআন মাজীদের ৬ আয়াত- ১. ওহে যারা ঈমান এনেছে! তোমাদের পিতাদেরকে ও তোমাদের ভাইদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের ওপর কুফ্‌রীকে প্রাধান্য দেয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তারাই জালিম। (সূরাহ্‌ তাওবাহ্‌ ৯:২৩) ২. হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি (এই বলে) যে, ‘তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন,’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের পাপসমূহ মোচন করুন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন। (সূরাহ্‌ আলি ‘ইমরান ৩:১৯৩) ৩. তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেভাবে প্রশ্ন করতে চাও যেভাবে ইতঃপূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো? আর যে ঈমান দিয়ে কুফ্‌রী বদল করে দেয়, সে অবশ্যই সরল পথ হারিয়েছে। (সূরাহ্‌ বাকারাহ্‌ ২:১০৭) ৪. আজা তোমাদের জন্যে পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হলো। এবং যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল ও তোমাদের খাদ্য তাদের জন্যে হালাল। এবং মু‘মিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারী (তোমাদের জন্যে হালাল)-যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মাহ্‌র প্রদান করবে সচ্চরিত্রবান থেকে; ব্যভিচারী হয়ে বা গোপন প্রেমিকা গ্রহণকারী হয়ে নয়। আর যে (আল্লাহ্‌র বিধানে) ঈমান আনতে অস্বীকার করে তার কর্ম বিফল হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরাহ্‌ মায়িদাহ্‌ ৫:৫) ৫. যে ব্যক্তি তার ঈমানের পর আল্লাহ্‌কে অবিশ্বাস করে (তার ওপর রয়েছে আল্লাহ্‌র ক্রোধ), তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে (কুফ্‌রীর জন্যে) বাধ্য করা হয়, অথচ তার হৃদয় ঈমানে প্রশান্ত, কিন্তু যে (ইচ্ছাকৃতভাবে) কুফ্‌রীর জন্যে তার বক্ষ প্রশস্ত করে তার ওপর রয়েছে আল্লাহ্‌র ক্রোধ এবং তার জন্যে রয়েছে মহাশান্তি। (সূরাহ্‌ নাহ্‌ল ১৬:১০৬) ৬. মানুষ কি মনে করে যে, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে (এজন্যে) যে, তারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না। এবং অবশ্যই আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম, এবং আল্লাহ্‌ অবশ্যই জেনে নিবেন (স্পষ্ট করবেন) যারা সত্য বলেছে তাদেরকে এবং তিনি অবশ্যই জেনে নিবেন মিথ্যাবাদীদেরকে। (সূরাহ্‌ ‘আনকাবূত ২৯:২-৩) রাসূলুল্লাহ্‌ সা. এর হাদীস- ১. হযরত ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনি ‘উমার রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সা. ইরশাদ করেন, ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তা হলো- ক. এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোনও উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সা. তার বান্দা ও রাসূল, খ. সালত প্রতিষ্ঠা করা, গ. যাকাত প্রদান করা. ঘ. হাজ্জ করা এবং ঙ. রমাদান মাসে সিয়মা পালন করা। (সহীহ্‌ বুখারী: ৮, সহীহ্‌ মুসলিম: ১৬) ২. হযরত ‘উসমান রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যূবরণ করবে এমতাবস্থায় যে , সে বিশ্বাস করে আল্লাহ ছাড়া কোনও মা‘বূদ নেই, সে অবশ্যই জানানাতে পবেশ করবে। (সহীহ্‌ মুসরিম: ২৬) ৩. হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সা. ইরশাদ করেন, ঈমানের সত্তরটির বেশি শাখা-প্রশাখা রয়েছে। অন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম হলো এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা ছাড়া অন্য কোনও উপাস্য নেই। এর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা হতে কষ্টদায়ক জিনিস দূরে সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। (সহীহ্‌ বুখারী: ৯, সহীহ্‌ মুসলিম:৩৫) ৪. হযরত আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা‘আলা এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরবতা অবলম্বন করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা‘আলা এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা‘আলা এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। (সহীহ্‌ মুসলিম:৪৭) ৫. হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সা. ইরশাদ করেন, যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকবে সে ওই বৈশিষ্ট্যগুলো কারণে ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে। সে বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- ক. যারা নিকট আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল সা. অন্য সবকিছু হতে সর্বাধিক প্রিয় হবে। খ. যে ব্যক্তি কোনও বান্দাকে কেবল আল্লাহ্‌ তা‘আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসবে। গ. যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহে কুফ্‌র হতে মুক্তি লাভের পর পুনরায় কুফ্‌রীতে ফিরে যাওয়াকে এভাবে অপছন্দ করে, যেভাবে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। (সহীহ্‌ বুখারী: ২১, সহীহ্‌ মুসলিম:৪৩) (লেখকের ‘কুরআন মাজীদের আদেশ ও নিষেধ’ বই থেকে সংকলিত) একে//

জিকির মোরাকাবা মোহাসাবা

হযরত আদমকে (আ.) আল্লাহ তিনটি ইবাদাত শিখিয়েছিলেন- জিকির, মোরাক্বাবা এবং মোহাসাবা। এই তিনটি এবাদাতই ছিল তার নামাজ। হযরত আদম আলেহা আলেহা, আলেহা এই নামে আল্লাহকে ডাকতেন। এই ছিল তার নামাজ। আমাদের রাসূল (সা.) নবুয়তের এলান করার আগে বহু বছর হেরা পর্বতের গুহায়  এভাবে জিকির করেছেন। এছাড়া হযরত আদম গর্দান ঝুঁকিয়ে মোরাক্বাবায় বসে থাকতেন- ধ্যানে নিমগ্ন হতেন যেমনটি করেছেন আমাদের হূযুর পাক (সা.) নিজে।  মওলানা আজাদ সুবহানির একটা বই আছে- বিপ্লবী নবী- তাতে লেখক হেরার  গুহায় হুযূর পাক (সা.) এ সাধরণ কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। মোরাক্বাবা হচ্ছে ধ্যানে সমগ্র সৃষ্টিকে ধারন করা -অন্য কথায়  স্রষ্টার সত্তার মাঝে বিলিন হয়ে যাওয়া। এজন্যই কুর`আনে বারবার বলা হয়েছে, স্রষ্টার নিদর্শনের কথা এবং এদের ওপর ধ্যান করার কথা। আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, দিন, রাত- এ সবের মাঝেই আছে স্রষ্টার রহস্য। ধ্যান হচ্ছে এ রহস্যের চাবিকাঠি। সূরা সাবার ৪৬ নং আয়াতে লক্ষ করা যায়। এই মোরাক্বাবার কথাই বলা হয়েছে– ‘ক্বুল ইন্নামা আ’য়িজুকুম বেওয়াহিদাতিন আন তাকুমু লিল্লাহে মাসনা ওয়া ফুরাদা সুম্মা তাতাফাক্কারুন অর্থাৎ বলুন, ‘আমি তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি- দুইজন কিংবা এক একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর তোমরা চিন্তা করো।’ আর, হযরত আদমের তৃতীয় সাধনা ছিল মোসাহাবা। রাতের গভীরে একাকী নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে নিজের বিচার করাই হলো মোসাহাবা। তিরমিজি শরীফের একটি হাদীসে  হুযূর বলেছেন– ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে মৃত্যু আসার আগেই নিজের বিচার করে নেয়। হুযূর পাক (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন আল্লাহর ইবাদাত করবে তখন হয় ভাববে তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, না হলে ভাববে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন। আমাদের নামাজে এই মোরাক্বাবা নেই বলেই আমাদের নামাজ পরিপূর্ণতা লাভ করে না।  হয়রত  সৈয়দ রশিদ আহমদ জৈনপুরির (রহ) সংলাপ সমগ্র বইতে থেকে নেওয়া।   কেআই/এসএইচ/

শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু

বাংলাদেশের আকাশে গতকাল কোথাও পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে রোজা।শুক্রবার রোজা রাখার মধ্য দিয়ে সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান শুরু করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। এই প্রেক্ষিতে, আগামী ১২ জুন দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।গতকাল সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।সভাশেষে ধর্মমন্ত্রী দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা এবং মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।বুধবার দেশের কোথাও রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে তারাবি নামাজ পড়বেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষরাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সেহেরি খাবেন।সূত্র : বাসস এসএ/  

বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।সৌদি কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার সদস্য শেইখ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানিয়া জানান, মঙ্গলবার সৌদিতে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।আজ সৌদির আকাশে রমজানের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হলো। অপরদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।এদিকে, বাংলাদেশে রোজা শুরুর তারিখ নির্ধারণে আজ (বুধবার) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে সন্ধ্যা ৭টায় এই সভা শুরু হবে। এসএ/  

বিনামূল্যে পৌনে ৭ লাখ কুরআন বিতরণ করবে ইফা

পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে বিনামূল্যে ৬ লাখ ৭৩ হাজার পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন(ইফা)। মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় শিশুদের মাঝে ৬৭ হাজার ৩৬৮টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১০টি করে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করা হবে। সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ৬৪ বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়ের বিক্রয় কেন্দ্রে বিশেষ কমিশনে পুস্তক বিক্রি করা হবে। ২০১০ সালের পূর্বে প্রকাশিত বইয়ের ওপর ৫০% এবং ২০১১ সালের পরে প্রকাশিত বইয়ের ওপর ৩৫% কমিশন প্রদান করা হবে। এছাড়া বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ১ থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত বোগদাদী কায়দায় কুরআন শিক্ষা দেওয়া হবে। মহিলা ও পুরুষদের পৃথক ব্যাচে প্রতিদিন ৩টি ব্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১ম ব্যাচ: বেলা ১২টা হতে দুপুর ১টা, ২য় ব্যাচ: দুপুর ২টা হতে বিকাল ৩টা এবং ৩য় ব্যাচ: বিকাল ৫টা হতে ৬ টা। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে ১ রমজান থেকে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। মাহে রমজানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ পাশে মাসব্যাপী হালাল পণ্য বিক্রয় ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, পুস্তক ও নবী করিম (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনী হবে। প্রতিদিন বাদ যোহর থেকে মাগরিব নামাযের পূর্ব পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব পাশে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোজাদার মুসল্লির জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হবে। মাহে রমজানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতিদিন বাদ যোহর তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিদিন তারাবীহ নামাজে পঠিতব্য আয়াতের ওপর তারাবীহ নামাজের পূর্বে আলোচনা করা হবে। পবিত্র রমজান মাসে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে প্রতিদিন বাদ আসর থেকে খতমে বোখারী (দরসে হাদীস) ও রমযানে মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ২০ রমযান দিবাগত রাত থেকে ২৬ রমযান দিবাগত রাত পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে ৭ দিনব্যাপি কিয়ামুল লাইল নামাযে তিলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরীফ এক খতম সম্পন্ন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ১হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা প্রদান করা হবে। রমযানের পবিত্রতা রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৬ মে বুধবার সকাল ১০ টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে র‌্যালি শুরু হবে। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের নেতৃত্বে র‌্যালিটি বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব, সচিবালয় ও জিপিও হয়ে দক্ষিণ গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। এছাড়া সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বাসস এমএইচ/টিকে

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শবে বরাত পালিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন ও হাদীস মতে, মহিমান্বিত এই রাতে বান্দার গুনাহ মাফ করে ইবাদত কবুল করেন আল্লাহ। আরবি শাবান মাসের এই গুরুত্বপূর্ণ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত আর জিকির আসকারের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইবাদত করেন। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই লাইলাতুল বারাত। সুর্যাস্তের পর মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন। রাতভর ইবাদতের মাধ্যমে বান্দার আবেদন শুনে আল্লাহতালা খুলে দেন রহমতের দরজা। তাইত সন্ধ্যা নামতেই মসজিদগুলোতে আসতে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল ছিলেন তারা। ইস্তেগফার আর জিকির আসকারে লাইলাতুল নিসফ শাবানের রাতে সরব হয়ে ওঠে দুনিয়া। পাপমুক্তির পাশাপাশি মহান এই রাতের মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বিশ্ব মুসিলম ভাতৃত্ববোধ এমনটাই প্রত্যাশা সবার। প্রচলিত অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেম ওলামাগণ। মধ্যেরাতে জিকির আসকার ও দোয়া মাহফিল শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। একে//

যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পবিত্র শবেবরাত

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ইসমলাম ধর্মের সৌভাগ্যের রজনী খ্যাত পবিত্র শবে-বরাত। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করছেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন । এই উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানগণ কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা নফল রোজাও পালন করেছেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে-মসজিদে সারারাত চলবে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল,  এবাদত-বন্দেগী ও মোনাজাত। এছাড়া পবিত্র এ রাতে মুসলমানগণ মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করছেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতেও মুসল্লীদের উপচেপড়া ভীড় রয়েছে। আজ সবার ঘরে ভালো-ভালো খাবার-দাবার রান্না করা হয়, এসবের মধ্যে রয়েছে রুটি, বিভিন্ন রুচির হালুয়া ও মিষ্টান্ন। বিকেলে প্রতিবেশিদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ ও পরিবেশন করা হয়। গরীব-দুঃখিদের মধ্যেও খাবার বিতরণ ও অর্থ দান করা হয়। মহিমান্বিত এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদ সারা রাত খোলা থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন,  বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। পবিত্র শবে বরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ঢাকা নগরীতে আতশবাজি,  পটকা ফাটানো এবং যে কোন ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কেআই/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি