ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ২ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

অসুস্থ এরশাদ: দর কষাকষিতে রাঙ্গা

প্রকাশিত : ২৩:১৯ ২৬ জুন ২০১৯ | আপডেট: ২৩:৫৫ ২৬ জুন ২০১৯

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অসুস্থতা হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলে জানা যাচ্ছে। জাতীয় নেতাকর্মীরা তার অসুস্থতা নিয়ে বশে উদ্বিগ্ন। কিন্তু জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এদিকে মহাজোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই ইঙ্গিতকে অনেকেই কৌশল হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, মহাজোটের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন জাতীয় পার্টির এই নেতা। তার এই বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। 

এদিকে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তাঁর ছোট ভাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। 

প্রায় ১০ বছর আগে আওয়ামী লীগের জোট গঠন করে জাতীয় পার্টি। এর আগের বারের সরকারে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত ছিল। এবার যদিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।

এদিকে জানা গেছে, বুধবার জাতীয় পার্টির এক সভায় রাঙ্গাঁর কথায় সায় দিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও বলেছেন, জাতীয় পার্টি আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক শক্তি হতে চায় না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে যুক্ত হলেও নানা বিষয় নিয়ে অসন্তোষ ছিল দলটি। নানা বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত হতে পারেনি।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর মহাজোটেই থেকে যায় তারা; যদিও আসন সংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ ছিল তাদের।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সম্মেলনে রাঙ্গাঁ বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সঙ্গে যে আচরণ করছে, তা তারা মেনে নিতে পারছেন না। তাই আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। এতে অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার নিয়ামক হবে না।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলে জাতীয় পার্টি ‘বসে থাকবে না’।

উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি ২৭টি আসনে জয়ী হয়। দশম সংসদ নির্বাচনে তাদের আসন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪টি। আর একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা ৫০টির মতো আসন চাইলেও পায় ২৬টি পায়।

একদিকে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাঙ্গার মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনা বলে মনে করছেন অনেকেই। অনেকেই মনে করছেন জাতীয় পার্টি কি সরকারকে চাপে ফেলার জন্য নতুন কোনো কৌশল হিসেবে এটাকে ব্যবহার করছে। আবার অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে দর কষাকষি করছে জাতীয় পার্টি। সব মিলে বলা যায়, জাতীয় পার্টির এই নেতা এরশাদের অসুস্থতার চেয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকষিতে ব্যস্ত!

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি