ঢাকা, রবিবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, || আশ্বিন ১২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

ফুল পরিচিতি

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ‘জবা’

প্রকাশিত : ০৯:০৫ ১৩ জুন ২০১৯

আমাদের দেশের সর্বত্রই লাল জবা ফুল দেখা যায়। দেখতে খুবই সুদৃশ্য। গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে যেন লাল ফুলটি হেঁসে থাকে। আমরা সাধারণত শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসাবে বাড়ির আঙিনা কিংবা বাড়ির ছাদে জবা ফুলের গাছ লাগিয়ে থাকি। তবে এ ফুলের রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। জবা কিন্তু গন্ধহীন।

পরিচিতি : ইংরেজি নাম Hibiscus rosa-sinensis.  জবা মালভেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্ম, যার উৎপত্তি পূর্ব এশিয়াতে। এটি চীনা গোলাপ নামেও পরিচিত। এই ফুলের বাংলা নাম রক্তজবা, জবা, জবা কুসুম। শাখা কলম দ্বারা এর বংশ বিস্তার হয়। প্রায় সারাবছরই ফুল ফোটে। বর্তমানে অনেক ধরনের হাইব্রীড জবার অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মধ্যে বর্ণবৈচিত্র প্রচুর।

আরও পড়ুন : পুষ্টিগুণ সম্পন্ন টক-মিষ্টি ফল ডেউয়া

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus rosa-Sinensis Linn. জগৎ-Plantae, বর্গ- Malvales, পরিবার- Malvaceae, গণ- Hibiscus, প্রজাতি- H. rosa-sinensis.

বর্ণনা : জবা একটি চিরসবুজ গুল্ম। যার উচ্চতা ৮-১৬ ফুট ও প্রস্থ ৫-১০ ফুট। এর পাতাগুলো চকচকে সবুজ ও ফুলগুলো উজ্জ্বল লাল বর্ণের ও ৫টি পাঁপড়ি যুক্ত। ফুলগুলোর ব্যাস ৪ ইঞ্চি এবং গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে ফুটে।

চাষবাস : বাগানের গাছ হিসেবে জবাকে গ্রীষ্মমণ্ডল এবং উপগ্রীষ্মমণ্ডল অঞ্চলে সর্বত্র ব্যবহার করা হয়। জবা যেহেতু ১০° সেলসিয়াসের নীচের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না, তাই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জবা গাছকে গ্রীনহাউসে রাখা হয়। জবা গাছের বিভিন্ন রকমের সংকর প্রজাতি আছে। যাদের ফুলের রঙ সাদা, হলুদ, কমলা ইত্যাদি।

ঔষধি গুণাগুণ : ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ জবা ফুল। বিভিন্ন রোগে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল দেহের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রাকৃতিকভাবে শারীরিক সুস্থতা প্রদান করে।

আরও পড়ুন : সাত রংয়ের সমাহারে বর্ণিল ‘সুমচা’

এছাড়াও অন্য যেসব রোগে কাজ করে তা জেনে নেই-

ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করতে : বেশি পরিমাণে পানি পান করে, আবার ঘন ঘন প্রস্রাব করে অথচ ডায়াবেটিস রোগী নয়, এই ক্ষেত্রে জবা গাছের ছালের রস এক কাপ পানির সঙ্গে পরিমাণমত চিনিসহ মিশিয়ে ৭/৮ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ব্রণ থেকে মুক্তির উপায় : আমাদের দেশে ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা। এর জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে।

আরও পড়ুন : ঔষধি গুণে ভরপুর জামরুল

হজমে সহায়তা : প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে।

চুল পড়া বন্ধ করে : প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে। নারিকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়।

অনিয়মিত মাসিকের স্রাব : অনিয়মিত মাসিক অর্থাৎ দুই এক দিন একটু একটু হয়, আবার সময় হয়ে গিয়েছে আদৌ হয়না আবার হয়তো এক মাস বন্ধ হয়ে থাকলো, এ ক্ষেত্রে দু তিনটি পঞ্চমুখী জবা ফুলের কুঁড়ি ও আধা গ্রাম দারুচিনি এক সঙ্গে বেটে সরবত করে ঋতুকালীন সময়ে দিনে একবার করে ৩/৪ দিন খেলে মাসিক স্বাভাবিক হবে।

আরও পড়ুন : পুষ্টি ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত পেঁপে

ধীর গতিতে বয়স বৃদ্ধি করে : অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধই করে না নিয়মিত এই জবা ফুল আহারে বয়স বাড়ার প্রবণতাকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তুলতে সহয়তা করে। ফলে এই জবা ফুল একজনকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে।

বমি করতে চাইলে : যদি বমি করার প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে ৪/৫টি জবা ফুল নিয়ে বোঁটার সঙ্গে যে সবুজ ক্যালিকাস অংশ থাকে, এই অংশ টাকে বাদ দিয়ে ফুল অংশটাকে পানি ও চিনি পরিমাণমত দিয়ে চটকে সরবত করে দিনে ২/১ বার খেলে বমি হয়ে যাবে।

টাক পোকা রোগ : চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় জবা ফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠে যাবে। এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন যে কোনো সময় লাগাতে হবে এবং দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে অথবা যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : হলদে-ধূসর পাখি ফুটফুটি (ভিডিও)

চোখ উঠা : চোখ ওঠা রোগে জবা ফুল বেটে চোখের ভেতরটা বাদ দিয়ে চোখের উপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনের যে কোনো সময় এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন লাগাতে হবে এবং এক ঘন্টা রাখতে হবে।

হাতের তালুতে চামড়া উঠা : শীতকালে হাতের তালুতে চামড়া উঠে খসখসে হয়ে গেলে জবা ফুল তালুতে মাখলে খুব উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই তিন বার এক/দুইটা ফুল হাতের মধ্যেই ডলে ডলে লাগাতে হবে। লাগিয়ে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করা যাবে। যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হব।

তথ্যসূত্র : ফুল সংক্রান্ত বই এবং ইন্টারনেট।

এএইচ/

 

 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি