ঢাকা, ২০১৯-০৭-১৬ ১০:৪৮:৫৯

আজ জর্জ ডব্লিউ. বুশের জন্মদিন

 প্রকাশিত: ০৮:৫৫ ৬ জুলাই ২০১৯  

জর্জ ওয়াকার বুশ। ইংরেজি : George W. Bush। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম রাষ্ট্রপতি। আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৬ সালের ৬ জুলাই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০০ ও ২০০৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ৪৬তম প্রশাসক বা গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হ্যাভেরে জন্মগ্রহণকারী জর্জ বুশ ছিলেন জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং বারবারা বুশের জ্যেষ্ঠ্য সন্তান। চার ভাই-বোনের সঙ্গে টেক্সাসের মিডল্যান্ড এবং হাউসটনে তার শৈশব-কৈশোর কাটে। তার ভাই-বোনদের নাম হল, জেব, নেইল, মারভিন এবং ডরোথি। তার রবিন নামের আরেকটি ছোট বোন ছিল যে ১৯৫৩ সালে লিউকেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বুশের দাদা প্রেসকট বুশ কানেক্টিকাট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তার বাবা ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিল। এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন পিয়ার্সসহ আরও কয়েকজন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ।

বাল্য জীবনে বুশ ম্যাসাচুসেটসের অ্যানডোভারে অবস্থিত ফিলিপ অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা করেন। সেখানে নিয়মিত বেসবল খেলতেন এবং সিনিয়র থাকা অবস্থায় সেখানকার অল-বয়েজ স্কুল বেসবল দলের চিয়ারলিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বুশ পরবর্তিতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে ইতিহাস বিভাগে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। কলেজে সিনিয়র থাকাকালে বুশ স্কাল অ্যান্ড বোন সোসাইটি নামক একটি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। ছাত্র হিসেবে তিনি মধ্যম মানের ছিলেন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে উচ্চশিক্ষা অধ্যয়ন সমাপ্ত করে বুশ পারিবারিক খনিজ তেলের ব্যবসায় যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে স্ত্রী লরা ওয়েলচ্‌কে বিয়ে করেন এবং ১৯৭৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে টেক্সাস রেঞ্জার্স বেসবল দলের যৌথ মালিকানা ভোগ করেন এবং টেক্সাসের গভর্নরের জন্য প্রচারণায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ১৯৯৪ সালে তিনি অ্যান রিচার্ডসকে পরাজিত করে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি ও ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী আল গোরের বিরুদ্ধে এক বিতর্কিত বিজয় অর্জন করেন। দেশব্যাপী গণভোটে সর্বোচ্চ ভোট না পেলেও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে ১৩০ কোটি ডলার কর মওকুফ করেন এবং ‘কোন শিশু আইনের বাইরে থাকবে না’ শীর্ষক আইন প্রণয়ন করে বিশেষ আলোচিত হন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর ১১ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তারের তালেবান সরকারকে উৎখাত করার জন্য সেদেশে আগ্রাসন চালান। মূল উদ্দেশ্য ছিল আল কায়েদা ধ্বংস করে ওসামা বিন লাদেনকে আটক করা। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে বুশ ইরাক দখলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন সেদেশে অবৈধ গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ঘোষণা ১৪৪১-এর পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে ইরাক দখল করলেও সেখানে কোন গণবিধ্বংসী অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

নিজেকে তিনি ‘যুদ্ধ রাষ্ট্রপতি’ অভিধায় আখ্যায়িত করেছেন। ইরাক যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে অনেকটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ২০০৪ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।

বাবার নামের সঙ্গে পার্থক্য করার জন্য বুশকে মাঝেমাঝে জর্জ বুশ জুনিয়র নামে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু বাবা এবং ছেলের নাম আসলে এক নয়। বাবার নাম জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ, আর ছেলের নাম জর্জ ওয়াকার বুশ। তাই বুশের নামের সঙ্গে জুনিয়র যোগ করাটা সঠিক নয়। তার অন্য একটি ডাক নাম ‘ডুবিয়া’। এই শব্দটি আসলে তার মধ্য নামে উপস্থিত ডব্লিউ বর্ণের পূর্ণ রূপ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলে প্রচলিত। এটি দ্বারাও বাবার সঙ্গে তার নামের পার্থক্য করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক সময় তাকে ‘বুশ ৪৩’ এবং তার বাবাকে ‘বুশ ৪১’ নামে ডাকা হয়।

২০০১ সালের সেপ্টেম্বর ১১ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তারের তালেবান সরকারকে উৎখাত করার জন্য সেদেশে আগ্রাসন চালান। মূল উদ্দেশ্য ছিল আল কায়েদা ধ্বংস করেওসামা বিন লাদেনকে আটক করা।

এসএ/

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

শিরোনাম