ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯, || শ্রাবণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

‘আমার খুব কষ্ট হয়, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই’

প্রকাশিত : ২১:২০ ৪ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ২১:২২ ৪ জুলাই ২০১৯

 

‘আমার সামনে এসএসসি পরীক্ষা। অসুস্থ থাকায় নবম শ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিতে পারিনি। সারাক্ষণ হাসাপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগে না। খুব কষ্ট হয় আমার। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি সুস্থ্য জীবন ফিরে পেতে চাই। মন দিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। বন্ধুদের সঙ্গে হাসিখুশি ভাবে মিশতে চাই। পড়াশুনা শেষে ভাল চাকরি নিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে এভাবেই আহাজারি করছিল গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ বিএম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম(১৫)। সে হতদরিদ্র কৃষক মোমিন ও মুরশেদার মেয়ে।

নবম শ্রেণির এই মেধাবী ছাত্রীর দুই বছর বয়সে অগ্নিদগ্ধ হয়। দগ্ধে তার শরীরের ৫৫ ভাগ পুড়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হলেও মাঝে মাঝে নানা সমস্যা দেখা দেয় তার শরীরে। এমনকি শরীরের সঙ্গে দুই-হাত যুক্ত হয়ে যায়। দুই হাত আলাদা করার জন্য দু-দুইবার অস্ত্রোপাচার করা হয় তার শরীরে। আরও চার বার আস্ত্রোপাচার লাগবে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন।

এব্যাপারে মরিয়মের মা জানান, মেয়ের বয়স যখন দুই বছর, তখন হারিকানের আগুনে দগ্ধ হয় সে। অভাবের সংসারে ভালো করে চিকিৎসায় করাতে পারিনি। প্রাথমিক চিকিৎসায় মরিয়ম সুস্থ হলেও স্থায়ীভাবে ভাল ছিলো না। ফলে স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও জানান, প্রথমবার একটানা ৪ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়। এসময় শরীর অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে এক হাত আলাদা করা হয়। এরপর চার বছর পর আবার ভর্তি করা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবারও আস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে শরীর থেকে আরও একটি হাত আলাদা করা হয়। এখন একটু ভাল আছে মরিয়ম।

সবশেষ গত মাসের ১৫ তারিখ ফের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়। আবার কবে মরিয়মের শরীরের অস্ত্রোপাচার করা হবে কিছুই জানান নি ডাক্তার।

এদিকে অভাবের সংসারে যাদের খাবার জোটে না ঠিকমত, তারা কিভাবে ঢাকায় থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন তা ভেবেই মুর্ছা মরিয়ের পরিবার।650

মরিয়মের বর্তমান অবস্থা কি এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (প্লাষ্টিক সার্জারী) ডা. কৌশিক মল্লিক একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, মরিয়মের অস্ত্রোপাচারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে কিছু পরীক্ষা দিয়েছে, এগুলো ফলাফল হাতে পেলে অস্ত্রোপাচারের তারিখ জানানো হবে। এছাড়া দগ্ধ হওয়ার কারণে মরিয়মের স্তনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্তন স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি। ফলে মাঝে মাঝে তার স্তনের জায়গায় ব্যথা করে। স্তনের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অস্ত্রোপাচার করা হবে। এর পরেও যদি স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পেলে প্লাষ্টিক সার্জারীর মাধ্যমে নতুন স্তন তৈরি করা হবে। তবে তার চিকিৎসা করালে হয়তো সে সুস্থ্য হতে পারে, তবে তা ব্যয়বহুল হবে।

কিন্তু হতদরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়।

বাবা মোমিন বলেন, এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করেছি। খেয়ে না খেয়ে মেয়ের চিকিৎসা করেছি। এখন ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ আমার নেই।

মুরশেদা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই মেয়েটার চিকিৎসা করাতে পারছি না। হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপাচারের জন্য কোন টাকা না নেওয়া হলেও ‍ওষুধ কিনতে অনেক টাকা লাগে। যা আমাদের পক্ষে ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। এসময় তিনি বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। মরিয়ম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে ৬ তলা, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি