ঢাকা, ২০১৯-০৭-১৬ ১২:০৩:০৮

কবে ধরা পড়বেন ওসি মোয়াজ্জেম?    

 প্রকাশিত: ১৩:০০ ১০ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৯ ১০ জুন ২০১৯

ফেনীর সোনগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে কোনভাবেই যেন গ্রেফতার করতে পারছে পুলিশ। এদিকে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে বেশ ঠেলাঠেলিও হচ্ছে। পুলিশের গাফিলতি কারণেই কি গ্রেফতার হচ্ছেন না ওসি মোয়াজ্জেম এমন প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।

গ্রেফতার বিলম্বিত হলে এ জঘন্য অপরাধী পার পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান রাফির পরিবার।

গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ১৩ দিন পার হলেও তাকে গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। পুলিশ বলছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ দিকে পরোয়ানা তামিল নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে চলছে ঠেলাঠেলি। সাইবার ট্রাইব্যুনালের ওই পরোয়ানাটি জারির চার দিন পর গত ৩১ মে ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছালেও জেলা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গত ৩ জুন তিনি পরোয়ানাটি হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে মোয়াজ্জেম এখন ফেনীতে নেই বলে ওই পরোয়ানাটি বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে রংপুর রেঞ্জে পাঠিয়ে দেয় ফেনী পুলিশ।

ফেনী থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানোর কাজটি বিধি মোতাবেক না হওয়ায় তা আবার ফেনীতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে রংপুর পুলিশ সূত্রে জানা যায়। ফেনী জেলা পুলিশ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানাটি শনিবার তাদের কাছে আসে বলে জানান বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্য্য ।

এ বিষয়ে জানতে ফেনীর পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের সরকারি মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার এ পুলিশ সুপার এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘মোয়াজ্জেম তাদের কাছে নেই বলে ‘নিয়ম মেনেই’ তারা পরোয়ানাটি রংপুরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরোয়ানাটি রংপুরে পাঠানো যথাযথ ছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, এটা নিয়ে আর কথা না বলাই ভাল। আমরা এখন মোয়াজ্জেমকে খুঁজছি।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল ওসি মোয়াজ্জেমের পরোয়ানা নিয়ে পুলিশের টানাটানির বিষয়ে বিশ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি সোমবার সকালে ফোনে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল। এত ন্যাক্কারজনক একটা হত্যাকাণ্ড যা নিয়ে সারাদেশ উদ্বিগ্ন। এ উদ্বেগের মধ্যে পুলিশ ঠেলাঠেলি করছে। এ বলছে এ কাজ আমার না আবার ও বলছে এ কাজ আমার না। এমন অবস্থায় আমরা উদ্বিগ্ন।’ পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের অযোগ্যতা এবং অসততা প্রকাশ পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের পুলিশ এত অযোগ্য হলো কিভাবে যে তাকে ধরা যাচ্ছে না! সে কোথায় আছে জানে না। এটা একটা অসততার লক্ষণ।’

গ্রেফতার বিলম্বত হলে মোয়াজ্জেমের পার পেয়ে যাওয়ার আশংঙ্কা থাকে কিনা এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পার পেয়ে যাওয়ার কথাটা একটা বড় সম্ভাবনার বিষয়। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাকে পার পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে কিনা। সেটা আমাদের দেখতে হবে।’

ওসি মোয়াজ্জেম রংপুরে নেই বলে বেশ জোর দিয়ে সোমবার সকালে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান রংপুর রেঞ্জ পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) দেবদাস ভট্টাচার্য্য। মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারি পরোয়ানা ফেনীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। যেহেতু পরোয়ানা ফেনীতে পাঠানো হয়েছে তাহলে মোয়াজ্জেমকে বংপুরে দেখা গেলে পুলিশ কি গ্রেফতারি পরোয়ানার জন্য অপেক্ষা করবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা এমন না যে তাকে গ্রেফতার করতে হলে গ্রেফতারি পরোয়ানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই গ্রেফতার করা হবে। রংপুর কোতয়ালী থানাকে এমন নির্দেশনাই দেওয়া আছে।’

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার বাদী তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, ‘সরকার ও পুলিশের উপর আস্থা আছে। তাবে গ্রেফতার বিলম্বিত হওয়ায় আমরা কিছুটা মর্মাহত হচ্ছি।’ গ্রেফতার বিলম্বিত হওয়ায় ফাঁক গলে মোয়াজ্জেম পার পেয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কার কথা জানান নুসরাতের ভাই।

ওসি মোয়াজ্জেমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমনটি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে রংপুর ও ফেনীর পুলিশ। তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দুইদিন পর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে এক আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন জমা করেন তিনি। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটির বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমনও গ্রেফতার বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। এতে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসির বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়। গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন এ ট্রাইবুনাল। গত ৮ মে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন।

 

এমএস/ টিআর

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

শিরোনাম