ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:১৬:১৩

Ekushey Television Ltd.

খালেদার মুক্তি আন্দোলনে বিএনপির পাশে নেই জামায়াত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:১১ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ২০ দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামলেও মাঠে নেই জামায়াত ইসলামী। জোটের অন্যতম শরিক এ দলটিকে দলের সংকটময় মুহূর্তে পাশে না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা।

খালেদার জিয়ার মামলার রায়ের আগে ও পরে জোটের বৈঠকে সক্রিয় অংশ গ্রহণ ছিল যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের। ওইসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাজা হলে রাজপথে থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ছিল জামায়াতের। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হলে জোটের শরিকরা কম বেশি মাঠে নামলেও দেখা মিলছে না অন্যতম শরিক জামায়াতের। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।  

জামায়াতের একাধিক সূত্র এ বিষয়ে বলছে, খালেদা জিয়া দলীয় ও ব্যক্তিগত কারণে সাজাভোগ করছেন। এটা নিছক বিএনপির ইস্যু। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামছে না। জামায়াত নেতাদের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাজা হলে বিএনপি নিরব ভূমিকা রেখেছে। জামায়াত নেতারা মনে করেন, তখন বিএনপির ভাবখানা এমন ছিল যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের সাজার বিষয়টি একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। বিএনপি যুদ্ধাপরাধের দায় নেবে কেন? তাই খালেদার সাজার বিষয়ে জামায়াত একই ধরণের মনোভাব পোষণ করছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবার সারাদেশে মানববন্ধন করে বিএনপি। গত রোববার ২০ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, জোটের ব্যানারে মানববন্ধন করা হবে। সব শরিক দল যোগ দেবে।

বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করলেও গতকাল জামায়াতের কোনো নেতাই রাপপথে নামেননি। শুধু শিবিরের প্রচার সম্পাদক খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির মানববন্ধনে ২০ মিনিটের জন্য যোগ দিয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের জেল দেন। ওই দিনই বিবৃতির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সাজার নিন্দা করলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের `ধরপাকড়ে` মুখ খোলেনি জামায়াত। গত ২ ফেব্রুয়ারি  প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামায়াত নেতারা নিশ্চিত করেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হলেও তারা প্রতিবাদমুখর হবেন না।

খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদের দায় অনেকটা বিবৃতি দিয়েই সারতে চাইছে জামায়াত। এ বিষয়ে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে বলেছেন, জোট নেত্রী খালেদা জিয়াকে `মিথ্যা সাজানো` মামলায় `অন্যায়ভাবে` সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিয়েছেন। মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

একাধিক জামায়াত নেতা না প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দেড় যুগের মিত্রতা থাকলেও জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোটের ইস্যু মনে করছেন না তারা। তা ছাড়া সরকারের `দমনপীড়নে`র কারণে জামায়াত দলীয় কর্মসূচিই পালন করতে পারছে না। দলীয় কার্যালয় খুলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সমর্থনে আন্দোলনে নামলে জামায়াতের বিরুদ্ধে ধরপাকড় জোরালো হবে। জোট মিত্রের জন্য আবারও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে নারাজ জামায়াত।

জামায়াত নেতাদের মতে, কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে, তা এখনও নিশ্চিত না হলেও এবার বিএনপি ভোটে অংশ নেবে। তাই এ সময়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। নির্বাচনমুখী জামায়াতও ভোটের আগে সরকারের সঙ্গে বিরোধ বাড়াতে চায় না।

বিএনপি-জামায়াত দুবার জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছে, একবার সরকার পরিচালনা করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তাদের সখ্য কমতে শুরু করে। তবে দু`দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন একত্রে বর্জন করে। কিন্তু উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছে যে যার মতো। ২০১৫ সালে নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে টানা তিন মাস একত্রে আন্দোলন করলেও তাদের সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিএনপির একটি অংশ জামায়াতকে জোটে চায় না। অপর একটি অংশ জামায়াতকে ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চায়। এসব বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের টানাপোড়েন এখন চরমে।

/ এআর /

 

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি