চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান
প্রকাশিত : ১৪:০৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই সেই চট্টগ্রাম, যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি একটা লক্ষ্য সামনে রেখে। অর্থাৎ, একটি পরিবর্তন সামনে রেখে আমরা একত্রিত হয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কাজেই দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাজেই পরিষ্কারভাবে আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি সেইসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলিকে বাধাগ্রস্ত করেন তাদেরকে কোন ছাড় আমরা দেবো না।
পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি যেই প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে সেগুলো সরকারে গেলে ধীরে ধীরে আমরা বাস্তবায়ন করব। কিন্তু তার আগে আপনাদের একটি দায়িত্ব আছে। যেই উদ্যোগগুলো আমরা গ্রহণ করেছি যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বা যেই পরিকল্পনাগুলো আপনাদের সামনে আমরা তুলে ধরেছি এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। আপনারা যদি বিএনপির পাশে থাকেন আপনারা যদি বিএনপিকে সমর্থন দেন ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা যদি বিএনপিকে ধানের শীষে জয়যুক্ত করেন তাহলেই একমাত্র আমরা এই পরিবর্তনগুলো করতে পারব।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।ৎ
তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।
এর আগে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে জনসভা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










