ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৩৫:২৬

Ekushey Television Ltd.
দুই বিভাগের দ্বন্দ্ব

চালু হচ্ছে না হাসপাতালের ১৫০ শয্যার সেবা কার্যক্রম

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৬:৪৮ পিএম, ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার

দুই বিভাগের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে চালু হচ্ছে না বাগেরহাট সদর হাসপাতালের নবনির্মিত ১৫০ শয্যার ভবনের কার্যক্রম। গত জানুয়ারিতে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্ব্য বিভাগের উদাসীনতায় ভবনটির নির্মাণকাজ চালু না হওয়ায় জনমানুষের ভোগান্তিও কমছে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ও পুরনো ভবনকে যুক্তকারী একটি করিডোর নির্মাণ না হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে নতুন ভবনটি বুঝে নিতে রাজি হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। নতুন ভবনটি চালু হলে পুরানো ১০০ শয্যা হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসক সংকটের কারণে যে ভোগান্তি, তা থেকে বাগেরহাটবাসী রেহাই পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলার প্রায় ১৭ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রস্থল সদর হাসপাতাল। ১৯৯৭ সালে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৩ সালে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা রয়েছে। ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা। গত বছর ছয়তলা ভবনটির মূল কাজ শেষ হলেও ভেতরের আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে গত জানুয়ারিতে। এ ভবনে থাকবে আইসিইউ বিভাগ, সিটিস্ক্যান, বহির্বিভাগ, নিজস্ব বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া একটি লিফটের ব্যবস্থাও রয়েছে ভবনটিতে।

তবে গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে আস্থাহীনতার জটিলতায় ভবনটি হস্তান্তর হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক বলেন, প্রকল্পের কাজ আমরা শেষ করেছি। এটি ব্যবহারের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গত ফেব্রুয়ারিতেই আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে বুঝে নিতে পত্র দিয়েছি। কিন্তু তারা বুঝে নিতে চাচ্ছে না।

ভবন বুঝে না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, পুরনো ভবনের সঙ্গে নতুন ভবনের লিংক করিডোর না থাকার কারণে আমরা বুঝে নিচ্ছি না। দ্রুত এ কাজ শেষ করার জন্য নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সতীনাথ বসাকের দাবি, করিডোরটি নির্মাণের জন্য দুবার দরপত্র আহ্বান করেও কোনো ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। করিডোরটি না থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে তার দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে ভবনটি বুঝে নিচ্ছে না। এভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি পড়ে থাকলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হতে পারে।’

অবশ্য নতুন ভবনটি চালু করার গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন ডা. অরুণ চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে জনবল কয়েক গুণ বাড়বে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের সংখ্যাও বাড়বে। নতুন ভবনে কার্ডিওলজি বিভাগও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে মানুষ ২৪ ঘণ্টা সেবা পাবে। সেবার মানও বাড়বে।’

হাসপাতালের বর্তমান সংকট সম্পর্কে আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এখানে চিকিৎসকের ২৪টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৩ জন। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটই বেশি। এছাড়া টেকনিশিয়ানের অভাবে অনেক যন্ত্রপাতিও চালানো যাচ্ছে না। অথচ ১০০ শয্যার বিপরীতে দৈনিক গড়ে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। অতিরিক্ত ভর্তি রোগীদের আমরা খাবারও দিতে পারি না।’ তাই দ্রুতই ভবনটির কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী, তাঁদের স্বজন ও চিকিৎসকেরা।

এমজে/
##

 



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি