ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ১ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

ছেলের শোক পালনের সময় পায়নি মা-বাবা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:১৯ ৬ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ১৬:৩৩ ৬ আগস্ট ২০১৯

মো. রাইয়ান সরকার (১১)। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে গত শুক্রবার দুপুরে। তবে শোক পালন করার সময় পায়নি তার বাবা মমিন সরকার ও মা জান্নাত আরা জাহান। 

কেননা তাদের মেয়েও যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এখন ছয় বছর বয়সী তাদের মেয়ে মালিহাকে বাঁচাতে মরিয়া তারা। 

কিন্তু কোনো ভরসা পাচ্ছেন না। কেননা তাদের ছেলের বেলায় চিকিৎসকরা বলেছিলেন অবস্থা ভালোর দিকে। কিন্তু তারপরও তাকে বাঁচানো যায়নি।

মালিহার বাবা মমিন সরকার মুঠোফোনে কাঁদতে কাঁদতে এক গনমাধ্যমকে জানান, ‘রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেয়ে ১১ তলায় কেবিনে ভর্তি। আর ছেলে ছিল সাততলায় এনআইসিইউতে। মেয়ে তার ভাইকে দেখে এসেছিল। 

এখনো জানে তার ভাইয়া সাততলায় আছে। তাই একটু পরপর বলে, চলো, ভাইয়াকে দেখে আসি। আমরা ছেলের জন্য শোক করব কেমনে? আমাদের মেয়ে তো জানেই না তার ভাইয়া আর নেই। আমরাও তো বিশ্বাস করতে পারছি না সামান্য জ্বরে আমাদের ছেলেটা নাই হয়ে গেল।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। তাহলে হাসপাতালগুলোতে কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হবে না? আইসিডিডিআরবিতে ডায়রিয়া বা কলেরা রোগী গেলে ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তায় বিছানা ফেলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় অন্যান্য হাসপাতাল তা করতে পারবে না কেন? 

মমিন সরকার জানান, হাসপাতালগুলো তাদের হাসপাতালে কতগুলো সিট খালি আছে, তা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রচার করতে পারে। তাহলে তো আর রোগী নিয়ে দৌড়াতে হয় না। ডেঙ্গুতে মানুষ দিশেহারা। কোন পরিস্থিতিতে কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে, তা জানতেই পারছে না। সরকার কি প্রচার বাড়াতে পারে না?

উল্লেখ্য, রাইয়ান সরকার রাজধানীর সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মমিন সরকার ফেসবুকে ছেলেমেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি—এ তথ্য জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। গত বছর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে, ভালো ফল করে জীবনের প্রথম ধাপ যাতে ভালোভাবে অর্জন করতে পারে, এ কারণে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। আর এখন তো ছেলে জীবনের সব ধাপই পার করে ফেলল।

এমএইচ/
 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি