ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২, || মাঘ ৫ ১৪২৮

দেশের উৎপাদিত মোটরসাইকেল যাচ্ছে বিদেশেও (ভিডিও)

রিয়াজ সুমন

প্রকাশিত : ১৩:০৮, ৮ জানুয়ারি ২০২২

দেশেই উৎপাদন ও সংযোজন হচ্ছে চাহিদার নিরানব্বই ভাগ মোটরসাইকেল। প্রধানত সাতটি কারখানায় চলছে এই কর্মযজ্ঞ। সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বাহনটির রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণেরও।

মোটরসাইকেলের বাজার এক সময় পুরোটাই ছিল আমদানি-নির্ভর। তবে এই শিল্পের উন্নয়নে সরকার শুল্ক কমিয়ে নীতি সুবিধা দেয়ায় গত এক দশকে বদলে গেছে চিত্র। স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনেই মিটছে চাহিদার প্রায় নিরানব্বই ভাগ।   

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে। ভারতের বাজাজ, টিভিএস ও হিরো, জাপানের হোন্ডা, সুজুকি ও ইয়ামাহা, পিএইচপি, সাথে রয়েছে দেশীয় ব্রান্ড রানার। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ব্রান্ড ‘রয়েল এনফিল্ড’ মোটরসাইকেল বাংলাদেশে উৎপাদন করতে যাচ্ছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইফাদ অটোস। 

উত্তরা মটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সাহায্য-সহযোগিতা করেছে এই ইন্ডাস্ট্রিটি বাস্তবায়নের জন্য। অনেক সহজ করা হয়েছে কন্ডিশনগুলো। যার জন্য আমরা নিজেরাও ইনভেস্টমেন্টে আশাবাদি হচ্ছি।’

টিভিএস অটো বাংলাদেশের সিইও বিপ্লব কুমার রায় বলেন, ‘উৎপাদনের পরবর্তী ধাপই হচ্ছে এসেম্বলি। প্রতিটি এসেম্বলি প্রতিষ্ঠানটিই হচ্ছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।’

এদিকে, মোটরসাইকেল উৎপাদন আর সংযোজনেই থেমে নেই দেশীয় কোম্পানিগুলো, রপ্তানিও করছে। নেপাল ও ভুটানে মোটরসাইকেল পাঠাচ্ছে রানার অটোমোবাইলস। আফ্রিকার বাজারেও রপ্তানির লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটির। 

রানার অটোমোবাইলের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, প্রায় ২ কোটি মোটরসাইকেল পৃথিবীতে যারা ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে ব্যবহার করছেন। তাহলে এটার রপ্তানির বিশাল বাজার রয়েছে। আমরা কেন শুধুমাত্র দেশের দিকে তাকিয়ে থাকবো, আমরা কেন এক্সপোর্ট মার্কেটের দিকে তাকাবো না?’

মোটরসাইকেল শিল্পকে এগিয়ে নিতে উৎপাদন ও করনীতিতে ধারাবাহিকতা চান উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পও জরুরি বলছেন তারা। 

এসিআই মটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী বলেন, ‘দেশের নীতি থেকে আমি ইনভেস্ট করেছি, এটার যদি ফ্রিকুয়েন্স চেঞ্চ হয়ে যায় তখন কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাঁধা আসে। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, নীতিমালাটা দীর্ঘমেয়াদী হওয়া উচিত।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরসাইকেলের বিশ্ববাজার ধরতে নিজস্ব ডিজাইনের পাশাপাশি এ খাতের গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বুয়েটের মেকানিক্যাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান বলেন, ‘আমি যদি আস্তে আস্তে নিজেই যদি পরিপুরি উৎপাদনকারী হতে চাই তাহালে আমাদের আরএনডি সেক্টরটা ডেভেলপ করতে হবে। এটা একদিনে হবে না, আস্তে আস্তে এগিয়ে নিতে হবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শর্তানুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেলের চেসিস-সহ মূল কাঠামোর পাঁচটি যন্ত্রাংশের কমপক্ষে একটি তৈরি করতে সক্ষম হলেই উৎপাদক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি