ঢাকা, রবিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

পার্বত্য চট্টগ্রামের যত দর্শনীয় স্থান

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:২১ ৬ নভেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ১৭:৩০ ১২ নভেম্বর ২০১৯

ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ির দর্শণীয় স্থানগুলো

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি জেলা। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত দেশের বৈচিত্রময় জনপদ। পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা নির্মল প্রকৃতি। পর্যটকের মনে হবে, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এটিকে গড়ে তোলেছে। এ জেলার সর্বত্রই দর্শনীয় স্থান, যেদিকে তাকাবেন আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন, পর্যটকরা খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে ভিড় করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলির অন্যতম হলো- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলার ঝর্ণা বা রিছাং ঝর্ণা, আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, দেবতার পুকুর (দেবতার লেক), শান্তিপুর অরণ্য কুটির, বিডিআর স্মৃতিসৌধ  

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র-

ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটক স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি যাওয়ার সময়ই আপনার চোখে পড়বে পর্যটন কেন্দ্রটি। পর্যটন কেন্দ্রটির সামনে দাড়ালেই আপনি ভিতরে প্রবেশের লোভ সামলাতে পারবেন না। পর্যটন কেন্দ্র থেকে দূরে তাকালেই দেখতে পাবেন খাগড়াছড়ি শহর, আকাশ আর পাহাড়ের সৌন্দর্য। এর সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক জেলা প্রশাসক লিখেছিলেন যা অনেকটা এ রকম-‘‘ক্লান্ত পথিক ক্ষণেক বসিও আলুটিলার বটমূলে, নয়ন ভরিয়া দেখিও মোরে চেঙ্গী নদীর কোলে।’’

 

পর্যটন কেন্দ্রটিতে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গুহায় যাওয়ার সিড়ি, বসার সুব্যবস্থা ও বিশ্রাম কক্ষ রয়েছে। আপনি যখন পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠবেন খাগড়াছড়িকে দেখে দার্জিলিংয়ের কথা মনে পড়ে যাবে, মনে হতে পারে আপনি দার্জিলিং দেখছেন। বছরের প্রত্যেকটা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় পর্যটন কেন্দ্রটিতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছু্টে যান সেখানে।

কিভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ি সদর থেকে বাস, অটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেলেও সল্প সময়ের মধ্যেই যাওয়া যায়।

রিছাং ঝর্ণা


ঝর্ণার জলরাশি উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে। জলধারা নীচে নেমে যাচ্ছে উচু পাহাড় গড়িয়ে। ঝর্ণার কাছে দাড়ালেই দেহ মন ভরে উঠবে পবিত্র স্নিগদ্ধতায়। সেখানে যাওয়ার আগে ঝর্ণার সৌন্দর্য সম্পর্কে যতটুকু কল্পনা করে থাকবেন তার চেয়েও অনেক সুন্দর জায়গা। ছর্ণা পর্যন্ত যাতায়াতের উচুনিচু রাস্তা আর পাশের তাকালেই দেখতে পাবেন পাহাড় আপনাকে এনে দিবে রোমাঞ্চকর অনুভুতি। মারমা ভাষায় ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ’ছাং’ শব্দের অর্থ ঝর্ণা। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণা দেখতে প্রতিদিনেই পর্যটকরা ভিড় করেন।

যেভাবে যাবেন- রাঙ্গামাটি শহর থেকে আলুটিলা থেকে সামান্য দূরত্বেই ঝর্ণাটির অবস্থান। যাতায়াতের জন্য রয়েছে চান্দের গাড়ি, কার এবং মোটরসাইকেল।

 

আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ

পর্যটন কেন্দ্রটির প্রধান আকর্ষণই গুহা। আলুটিলা সুড়ঙ্গটি দেখতে হলে পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিড়ি বেয়ে নামতে হবে পাহাড়ের পাদদেশে। সুড়ঙ্গটি পাথর আর শিলা মাটির ভাঁজে গড়া। প্রায় ১৮ ফুট ব্যাসের গুহামুখ আর গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ ফুট। সুড়েঙ্গের ভিতরে গা ছমছম অন্ধকার, গুহার তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে চলেছে জল। গুহায় প্রবেশ করার জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে মশাল কিনে নিতে পারেন  গুহার কাছে থেকেই। গুহার একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হতে সময় লাগবে প্রায় ১০/১৫ মিনিট।

যেভাবে যাবেন- পর্যটনকেন্দ্রটি অবস্থান খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে ট্যাক্সিযোগ অথবা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়।

দেবতার পুকুর (দেবতার লেক)

দেবতার পুকুরটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। যার উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে। পুকুরটিকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য নানা কল্প কাহিনি। পুকুরটির চারপাশের বন জঙ্গল দেখে মনে হবে দেবতা নিজ হাতে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছেন। পুকুরের স্বচ্ছ জলরাশি এনে দিতে পারে প্রশান্তি, আবার কেউবা জলের দিকে তাকিয়ে হয়ে যেতে পারেন উদাস। পুকুরটি পরিগণিত হয় ত্রিপুরাদের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে। তীর্থ মেলা বসে প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিতে। কথিত আছে, স্থনীয়দের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য স্বংয় দেবতা পুকুরটি খনন করেছিলেন। স্থানীয়রা পুকুরের পানিকে আশীর্বাদ মনে করে। প্রচলিত আছে পুকরের পানি কখনো কমে না, পুকরের তলায় লুকায়িত গুপ্তধন দেবতারা পাহাড়া দিচ্ছেন। অনেকের ধারনা এখানে এসে সৃষ্টিকর্তার কাছে কিছু চাইলে মনের আশা পুরন হয়।

যেভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ি থেকে মহালছড়ি হয়ে রঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণে মূল রাস্তা হতে চার কিলোমিটার পশ্চিমে নূনছড়িতে পুকুরটি অবস্থিত।

 

শান্তিপুর অরণ্য কুটির

বিশাল অরণ্যের মাঝে এক কুটির। জনশ্রুতি আছে ভিক্ষুরা নিরিবিলি পরিবেশে প্রাকৃতিক পরিবেশে ধ্যান করার জন্য কুটিরটি ব্যবহার করতেন। এটি মূলত একটি বৌদ্ধ মন্দির। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তিটি এখানেই রয়েছে। জায়াগটি সবার জন্যই উন্মুক্ত, সব ধর্মের লোকদের অবার যাতায়াত রয়েছে সেখানে। তীর্থ স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিনই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে সমাগম ঘটে হাজার হাজার লোকের।

যেভাবে যাবেন- খাগড়াছড়ির পানছড়িতে অবস্থিত শান্তিপুর অরণ্য কুটির। বাসে পানছড়ি গিয়ে সেখান থেকে কার অথবা জীপে যেতে পারেন গন্তব্যে।

এছাড়াও বিডিআর স্মৃতিসৌধসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে খাগড়াছড়িতে।

 

পাহাড়, সবুজ বন-বনানী আর মেঘের দেশ বান্দরবান

সুউচ্চ পাহাড়, সবুজ বনানী, ঘন মেঘমল্লার দল, বাহারি রংয়ের আকাশ, সাঙ্গুর বহতা স্রোত, দুর্গম অরণ্য ঘেরা হাজারো ঝরনা ধারায় বেঁচে থাকা পাহাড়- সব মিলিয়ে প্রকৃতির লীলাভূমি বান্দরবান। পাহাড়ে ঘেরা মনোমুগ্ধকর নানা দৃশ্যপটে ভ্রমণকারীর দু`চোখ ক্ষণে ক্ষণেই আটকে যাবে। হৃদয় দোলানো রূপের মাদকতায় যে কেউ বিভোর হয়ে যাবেন নিশ্চিত। তাই বান্দরবানকে অনেকেই রূপের রাণী বলে থাকেন। আবার কেউ কেউ একে পাহাড়ী কন্যাও বলেন।

বান্দরবানের আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, বগা লেক, নীলাচল, শৈল প্রপাত, জীবন নগর পাহাড়, মিরিঞ্চা, আলী সুড়ঙ্গ, তাজিংডং বিজয়, কেওক্রাডং, ক্যামলং জলাশয়, উপবন লেক, কানাপাড়া পাহাড়, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, প্রান্তিক লেক, শ্রভ্র নীল প্রভৃতি।

বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে সব সময় পর্যটকদের উপচে-পড়া ভিড় থাকে। যে কোনো মৌসুমের শুরুতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান। শহরের হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউসগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। এই শীতের শুরুতে পর্যটন শহর বান্দরবান এখন মানুষের মিলন মেলা, হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

চিম্বুক পাহাড়

বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান চিম্বুক পাহাড়। পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য দেখতে যেতে পারেন চিম্বুক পাহাড়ে। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং হিসেবেও ডাকা হয়। চিম্বুকের চমৎকার দৃশ্য আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে। যাত্রাপথের আঁকা-বাঁকা রাস্তা আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। আর নিচ দিকে তাকালে মনে হবে আপনি সাদা মেঘের মাঝখানে ভেসে আছেন।

চিম্বুক পাহাড় যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন।

 

কেওক্রাডং

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছোটবড় পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখিতে ভরপুর দুর্গম এলাকাটিতে আরও রয়েছে ঝর্ণাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং আকাশে মেঘের লুকোচুরি। শীতের মৌসুমে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকরা ছুটে যায় কেওক্রাডং দেখতে। আপনিও অবাক হয়ে যাবেন সেখানের সৌন্দর্যে।

কেওক্রাডং যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/ মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন। ঢাকা থেকে বান্দরবান, বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়িতে রুমা উপজেলা, রুমা বাজার থেকে প্রায় ২৫০০ টাকায় চান্দের গাড়িতে করে বগা লেক পর্যন্ত যাবেন। বগা লেক থেকে জদিপাই ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য একজন গাইড নিতে হবে। গাইড ভাড়া দিন প্রতি প্রায় ৬০০ টাকা, ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আর তাই রাতটা আপনাকে বগালেকে কাটাতে হবে। পরদিন ভোরে যাত্রা শুরু করতে হবে দার্জি পাড়ার উদ্দেশ্যে, সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে রওনা দিতে হবে কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশ্যে। কেওক্রাডং পৌঁছে সেখানে সময় কাটিয়ে রওনা দিতে পারেন জাদিপাই ঝর্ণার উদ্দেশ্যে।

মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স

বান্দরবানের বিশেষ আকর্ষণ মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, শিশুদের জন্য পার্ক, সাফারী পার্ক, কিছুক্ষণ  জলে ভাসার জন্য রয়েছে পেডেল বোট, ঝুলন্ত ব্রিজ, চিড়িয়াখান এবং পিকনিক করার জন্য পিকানিক স্পটও। মেঘলায় চিত্ত বিনোদনের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।

এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। ঢাকার আরামবাগ, গাবতলিসহ বিভিন্ন জায়াগা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসে যাতায়াতে ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/ মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করত পারেন। বান্দবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি বেবি টেক্সি, জিপ যোগে যাওয়া যায় মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে।

বগা লেক

বগালেক প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ের উপরে একটি লেক। যার পানি স্তর সারা বছরই প্রায় একই অবস্থানে থাকে। এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাসে যেতে পারেন বান্দরবান। এসি বাসে যাতায়াত ভাড়া লাগবে প্রায় ৬৫০ টাকা। পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করতে পারেন। আপনি যদি শুষ্ক মৌসুমে বগালেক যেতে চান, তাহলে বান্দরবান থেকে প্রায় ৭৫০০ টাকায় চান্দের গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন।

 

আলী সুড়ঙ্গ

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গহীন অরণ্যেও অবস্থিত এক রহস্যময় গুহা আলু সুড়ঙ্গ। হাতে টর্চ জালিয়ে সিড়ি বেয়ে সুড়ঙ্গের ভিতরে নামার সময় অনুভব করবেন এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। শত পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটক প্রতিনিয়ত ছুটে আসে সুড়ঙ্গ দেখতে।

 

উপবন লেক 

উপবন লেক একটি কৃত্রিম হ্রদ। মাছ ধরার শখ অথবা নেশা থাকলে কিংবা বান্দরবনে গিয়ে নৌকা ভ্রমণ করতে চাইলে যেতে পারেন উপবন লেকে। লেকটি ইকোট্যুর এবং পিকনিক স্পট হিসেবে সমাধিক পরিচিত।

 

তাজিংডং পাহাড়

স্থানীয়দের ভাষায় তাজিং অর্থ বিশাল আর ডং অর্থ পাহাড় অর্থাৎ তাজিংডং মানে বিশাল পাহাড়। বালাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় তাজিংডং পাহাড়। সেখানে গেলে দেখতে পাবেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি আর শুনতে পাবেন প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের টিকে থাকার গল্প। পাহাড়ের যে দিকেই তাকাবেন আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সৌন্দর্য ভালভাবে দেখতে হলে যেতে হবে শীতকালে। তাজিংডং-এর পৌঁছানোর হাঁটার রস্তার স্মৃতিও অম্লান হয়ে থাকবে আপনার হৃদয়ে। বান্দরবান যাওয়ার পর আপনি চাঁন্দের গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস/পাবলিক বাস যোগে বিভিন্ন জায়াগায় যাতায়াত করত পারেন। চান্দের গাড়িতে করে তাজিংডং-এর কাছাকাছি যেতে পারবেন। তারপর পায়ে হেঁটে যেতে হবে। বান্দরবান থেকে রুমা ব্রিজঘাট, সেখান থেকে নৌপথে রুমায়, রুমা থকে বগা লেক বগা লেক থেকে পায়ে হেঁটে যেতে হবে তাজিংডং।

 

নীলাচল

সমগ্র বান্দরবান শহরে চোখবুলিয়ে নিতে  চাইলে যেতে পারেন নীলাচল। নীলাচলকে অনেকেই স্বর্গভূমি হিসেবেই আখ্যা দিয়ে থাকেন। নীলাচলের নির্মল বাতাসে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য আপনাকে এক স্বর্গীয় অুভূতি এনে দিবে।

পর্যটকদের থাকার জন্য নীলাচলে কটেজ রয়েছে। এছাড়া আপনি ইচ্ছে করলে বান্দরবানে ফেরত এসে হোটেলে থাকতে পারেন। বান্দরবান সদর এবং চিম্বুক এলাকায় থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্টহাউজ রয়েছে।

 

নীলগিরি

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে দিবে। এখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করত পারবেন শীতকালের মিষ্টি রোদ, বর্ষাকালে আকাশের গর্জন, রংধনুর আলোক রশ্মি, বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক পরিবর্তন, যা আপনাকে সারা বছরই নীলগিরি যাওয়ার জন্য আকর্ষণ করবে। এখনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন সাগর ও জহাজের দৃশ্য। পাহাড়ের কোল ঘেষে বয়ে চলা নদীর দৃশ্য। অনেকের কাছে নীলগিরি বাংলার দার্জিলিং নামেও পরিচিত। নীলগিরিতে অবস্থান ও থাকতে চাইলে আগাম যোগাযোগ করে যাওয়াই ভালো। এখানে থাকার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মেঘদূত, আকাশনীলা, নীলাঙ্গনা, মারমা হাউজসহ নানা নামের আকর্ষণীয় কটেজ রয়েছে। আছে একটি ক্যাফেটেরিয়াও।

 

স্বর্ণ মন্দির

সোনালী রংয়ের মন্দিরটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে জায়গাটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দিরটির নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক স্থাপত্য নকশার নিদর্শনের জন্য পর্যটকদেরকে আকর্ষণ করে। এখান থেকে সাঙ্গু নদী এবং তার পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

..............................

স্বর্গসুখ পেতে ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত দেশের বৈচিত্রময় জনপদ এটি। পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা নির্মল প্রকৃতি দেখলে যে কোনো পর্যটকের মনে হবে যে, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এটিকে গড়ে তোলেছে। কোথাও কোনো খাদ নেই। একেবারেই অপরূপ সুন্দর। স্বর্গসুখ রয়েছে এতে। এখানে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক, পাংখোয়া, লুসাই, সুজে সাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙালিসহ ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস। পাশাপাশি এখানে কিছু অসমীয়া ও গুর্খা সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে।

রাঙ্গামাটির মাটির রঙ লাল কিংবা লালচে। তাই একে লাল মাটির অঞ্চল বলা হয়। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে- কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে , কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, উপজাতীয় যাদুঘর, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পেদা টিং টিং, টুকটুক ইকো ভিলেজ, শ্রদ্ধেয় বনভান্তের জন্মস্থান, মোরঘোনায় স্মৃতি স্তম্ভ ও স্মৃতি মন্দির (নির্মাণাধীন), পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল, রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস, রাইংখ্যং পুকুর, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি, উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট, রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো, ফুরমোন পাহাড়, রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক প্রভৃতি।

 

পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু

রাঙ্গামাটির শেষপ্রান্তে কর্ণফুলির কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন হোলিডে কমপ্লেক্স। সেখানে পর্যটন মোটেল আছে। বর্তমানে মোটেল এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে ডিয়ার পার্ক নামে। মোটেল থেকে দেখতে পাবেন লাল পাহাড়ের সারি কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু হয়েছে। সেখানো আরও রয়েছে তিনশতাধিক দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি পরিচিতি পেয়েছে সিম্বল অব রাঙ্গামাটি হিসেবে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে পার্ক, পিকনিক স্পট, অডিটোরিয়াম, স্পিড বোট ও দেশীয় নৌ-যান। এখানে যেতে হলে প্রথমে ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম থেকে তবলছড়ি যেতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ১০০ টাকায় অটোরিক্সা ভাড়া করে যেতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সে।

 

উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট

রাঙ্গামাটি ভ্রমণে গিয়ে যারা উপজাতিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে চান, অথবা ঘুরে দেখতে চান উপজাতিদের তৈরি পণ্য, তাহলে যেতে পারেন উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেটে। সেখানে উপজাতিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। এছাড়া আরও পাওয়া যায় উপজাতিদের হস্ত নির্মিত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। রাঙ্গামাটি জেলার তবলছড়ির কাছাকাছি গেলেই উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট। রাঙ্গামাটি থেকে প্রাইভেটকার অথবা অটোরিক্সা ভাড়া করে যেতে পারেন সেখানে।

 

উপজাতীয় জাদুঘর 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের জীবনাচার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারনা অর্জন করতে চাইলে যেতে পারেন উপজাতীয় জাদুঘরে। সেখানে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ, পুঁতিপত্র, তৈলচিত্র ও উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র। উপজাতীয় জাদুঘরটি সবার জন্যই উন্মুক্ত। রাঙ্গামাটির প্রবেশ দ্বারেই রয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। এখানে যেতে হলে ঢাকা থেকে অথবা চট্টগ্রাম থেকে বাসে যাতায়াত করতে পারেন।

 

চাকমা রাজার রাজবাড়ি

ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠান দেখতে অথবা চাকমাদের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান দেখতে যেতে পারেন চাকমা রাজার রাজবাড়িতে। নববর্ষের শুরুতেই একসঙ্গে দুটি অনুষ্ঠানই চলতে থাকে। রাজবন বিহার ও চাকমা রাজার বাড়ির মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা হ্রদের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে। রাজবন বিহারের পাশেই রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি। সেখানে যেতে হলে প্রথমে রাঙ্গামাটি থেকে অটোরিক্সা অথবা পাইভেটকার করে আপনাকে যেতে হবে কাপ্তাই হ্রদে। সেখান থেকে নৌযানে করে বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন।

টুকটুক ইকো ভিলেজ

পাহাড়চূড়ায় তৈরি করা হয়েছে টুক টুক ইকো ভিলেজ। সোখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করবেন হিমেল বাতাসের ঝাপটা। সামনে তাকালেই দেখতে পাবেন স্বচ্ছ পানি। পানির মাঝে জেগে উঠেছে সবুজ পাহাড়। কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ করে ক্লান্ত হয়ে গেলে বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য চলে যান টুক টুক ইকো ভিলেজের রেস্তরাঁয়। সেখানে রয়েছে রকমারি খাবার। রেস্তরাঁটি তৈরি হয়েছে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে। রেস্তরাঁতে দেশিয় এবং আদিবাসীদের প্রিয় খাবার পাওয়া যায়।

বহু টিলা-উপটিলায় বিভক্ত পর্যটন কেন্দ্রতে থাকার জন্য কয়েকটি কাঠের কটেজ রয়েছে। কটেজের জানালা দিয়ে রাতের আকাশে তাকতেই দেখতে পাবেন চাঁদ যেন মেঘের সঙ্গে খেলা করছে। পাশাপাশি শুনতে পাবেন ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।


 
চারদিকে পাহাড়ি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ-গাছালি ছাড়াও প্রাকৃতিক পরিবেশে আড্ডা দেওয়ার জন্য ১৫টি গোলঘর, খেলার মাঠ, কাঠের ব্রিজ রয়েছে। লাগানো হয়েছে নানা রকমের লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, আফ্রিকান গাদা ফুল। রাঙ্গামাটির শহর থেকে চলে যাবেন রিজার্ভ বাজার এবং রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন টুক টুক ইকো ভিলেজ।

পেদা টিং টিং

পেদা টিং টিং চাকমা শব্দগুচ্ছ, বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় পেট টান টান। প্রচুর পরিমাণে  খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা, এখানে তা বোঝানো হয়েছে। হ্রদবেষ্টিত এ স্থানে খাবারের মধ্যে রয়েছে বিগল বিচি, বাঁশের তরকারি, কেবাং প্রভৃতি। হ্রদের চারদিকে দেখতে পাবেন শুধুই পাহাড়। হ্রদ আর প্রকৃতি যেন মিশে গেছে। সেখানে রয়েছে রেস্তোরাঁ ও কটেজ। আরও রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা। রাঙ্গামাটি শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন স্পট।

 কর্ণফুলী হ্রদ

হ্রদ ও পাহাড়ের অকৃত্রিম সহাবস্থান দেখতে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি শহরে। হ্রদের স্বচ্ছ জল আর সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কৃত্রিম এ হ্রদের সঙ্গে কর্ণফুলী, কাচালং আর মাইনী নদীর সংযোগ রয়েছে। কাচালং নদীর উজানে লংগদুর মাইনীমুখে এসে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি যেন মিশে গেছে আকাশের সঙ্গে। এখানে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি অথবা পর্যটন ঘাটে, সেখান থেকে নৌযানে করে গন্তব্যে যেতে পারেন। স্পিড বোট ভাড়া ঘণ্টায় ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। দেশিয় নৌযান ভাড়া ৫০০ টাকা থোকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নৌ-ভ্রমণের জন্য রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি ও পর্যটন ঘাটে ভাড়ায় স্পিড বোট ও নৌযান পাওয়া যায়।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান

পর্যটকরা নদী, পাহাড় আর সবুজের সহাবস্থান দেখতে ভীড় করে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে। এখানে রয়েছে সেগুন, পারুল, গামারী আর কড়ই গাছের সারি । রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাই ভ্রমণ করতে পারেন এবং কাপ্তাইয়ে থাকা-খাওয়ার জন্য বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে যেতে হলে চট্টগ্রাম থেকে বহদ্দার হতে বাস অথবা মাইক্রোতে কাপ্তাই যাওয়ার আগে জাতীয় উদ্যান গেটে নেমে যাবেন।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি