ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:২৫:৫৭

টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে পরিজায়ি পাখি (ভিডিও)

টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে পরিজায়ি পাখি (ভিডিও)

পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়। তাদের মূল আকর্ষণ অতিথি পাখি। তবে, হাওড়ে এই মৌসুমে আসেনি আগের মত পরিজায়ি পাখি। শিকারীদের তৎপরতা আর সীমান্তে ওপার থেকে রাতে সার্চ লাইটের আলো ফেলায় পাখিদের আনাগোনা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে অন্যতম অতিথি পাখির অভয়াশ্রম টাঙ্গুয়ার হাওর। শীতে এ হাওরে সাইবেরিয়া, চীন, হিমালয়, ভারত, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হতো ২১৯ প্রজাতির পাখি। কিন্তু এ বছর হাওরে অতিথি পাখিদের বিচরন কমে যাওয়ায় পর্যটকরা হতাশ। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অতিথি পাখি আসা কমে যাবার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ আর টাঙ্গুরা হাওড়ের শীতের অন্যতম আকর্ষন রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি পর্যটক ও স্থানীয়দের। দেখুন বিস্তারিত ... এসএ/  
দেশ ভ্রমণে শতকে পা দিলেন খুলনার আসমা

একেবারে একা বেড়াতে বেড়াতে বিশ্বের ১০০টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন খুলনার মেয়ে আসমা। বারো বছর আগে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু করেন আসমা। তার পরে ভারত আর নেপাল। তত দিনে বিশ্বদর্শনের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছে। বাড়ি থেকে পিছুটান আসেনি, বললে ভুল হবে। ‘মেয়েরা এ সব পারে না,’ প্রতিবেশী-স্বজনদের টিপ্পনী জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে তার। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ ঘুরেছেন হিচ হাইক করে— ট্রাক, মোটরগাড়ি বা যে যানবাহন যখন জুটেছে, তাতে সওয়ার হয়ে। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ভিড়ে। হন্ডুরাসের ইউটিলার সৈকতে ক্যারিবীয় সাগরে পা ভিজিয়ে ভেবেছেন— দুনিয়ার সব সৈকত কেন এত সুন্দর হয় না! লরিতে দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে তার পর ১২ মাইল ধুলো ওড়ানো পথ হেঁটে পৌঁছে যান বলিভিয়ার ভালেগ্রান্দেতে। প্রত্যন্ত এই গ্রামের স্কুলে গুলি করে মারা হয়েছিল চে গেভারাকে। ফিজি, অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে বড় সুন্দর লেগেছিল দেশটিকে। কাজও জুটে গেল সেখানকার রেড ক্রশে। এখন বছর দেড়েক টানা কাজ করেন সেখানে আর অস্ট্রেলিয়ার পারথে। তার পরে ৪ মাস বেড়ানো, এক মাস বাংলাদেশে গিয়ে বাবা-মা আর ভাইয়ের সঙ্গে থাকা। ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল, নেননি। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সন্তান তিনি। বাংলাদেশের পাসপোর্টই রেখেছেন, সেই পাসপোর্টেই দেশ-বিদেশ ঘুরছেন। বিপাকেও পড়তে হয়েছে। ভিয়েতনামে ঢোকার পরে ফিরতি বিমান টিকিট দেখতে চাওয়া হয়। অথচ কথা ছিল সড়ক পথে কাম্বোডিয়া যাবেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট বলেই যে অভিবাসন কর্তারা কানে কথা তুলছেন না তা লক্ষণে বুঝেছিলেন। ঠাঁই হল জেলে। ২৪ ঘণ্টা পর গলাধাক্কা দিয়ে ফেরত। তুরস্ক থেকে টুরিস্ট বোটে সাইপ্রাস যাওয়ার পরেও আসমাকেই বেছে আলাদা করা হল। তিনি যে থেকে যাবেন না, নিশ্চয়তা কী? সে বারও ডিপোর্ট করার আগে ২৭ ঘণ্টার জেল। তবু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়েননি আসমা। বেড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ দেশান্তরের বিপদ নিয়েও প্রচার করেন আসমা। সারা জীবনের সঞ্চয় বাজি রেখে বেআইনি ভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমানো যে প্রাণঘাতী হতে পারে, দালালরা সে কথা বলে না। বিপন্ন মানুষদের ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিয়ে আসমা সাবধান করেন সবাইকে। বাংলাদেশে বন্ধুদের বলেন, বেরিয়ে পড়ো। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরেও যে কী সুন্দর একটা পৃথিবী রয়েছে দেখো। সভ্যতা, জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাসে কত বৈচিত্র, কত আনন্দ। যেখানে যান, সেখানকার খাবার চেখে দেখেন আসমা। ঘোড়ার মাংসের ঝাল চচ্চড়ি, কুমিরের ডালনা, হাঁসের রক্তের বরফি। বিয়ের জন্য চাপ আসায় বাড়িতে বলেছিলেন, ৫০টা দেশ দেখে তবে। ২০১৪-য় ব্রাজিলে পা রাখতেই ৫০ পূর্ণ হয়। গত অক্টোবরে তুর্কমেনিস্তানে ১০০। শুধু বিয়েটা এখনও করা হয়ে ওঠেনি বছর ৩৩-এর বিশ্বনাগরিক আসমার। তবে করবেন। তাই বাদ রেখেছেন সুইৎজ়ারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডসকে। ভেবে রেখেছেন, বরকে সঙ্গে নিয়েই যাবেন ওই দুই স্বপ্নের দেশে। এমএইচ/

ভ্রমণপ্রেমী ব্রিটিশ তরুণী ন্যান্সি বাংলাদেশে  

ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা/তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা/ও সে যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা/এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গানটিতে বাংলার আবহমান গ্রামীণ সৌন্দর্য আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। সত্যিই এমন মায়া মমতাময় চিত্র আর অপরূপ সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তে। আর হয়তো এ কারণেই ব্রিটিশ নাগরিক এলিস ন্যান্সি টেইলর (২৮) বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের রাইট রবিনসন কলেজের সাবেক শিক্ষক এই নারী ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। প্রকৃতি, মানুষ আর বৈচিত্র্যের আহ্বানে। কখনও সড়কপথে তার বাহন সাইকেল আবার কখনও নদীপথে রাবারের ভেলায়। ভ্রমণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে যোগ দেন ম্যারাথনে। এবার তার ইচ্ছা নদীপথে বাংলাদেশের গ্রাম জনপদ দেখার। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে আসেন ন্যান্সি। বাংলাদেশি বন্ধু রাসেলের সঙ্গে যান নীলফামারীর ডিমলার নদী বেষ্টিত গ্রামগুলোতে। রাসেলের পরিকল্পনাতেই নদীপথে বাংলাদেশকে রাবারের ভেলায় চড়ে দেখার পরিকল্পনা করেন তিনি। বন্ধু রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে দুটি রাবারের ভেলায় নীলফামারীর ডিমলা থেকে পাঁচ দিনে নৌপথে বৈঠা চালিয়ে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্রে আসেন। নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্ট থেকে যাত্রা করেন ন্যান্সি ও বন্ধু রাসেল। গ্রাম আর চরে নেমে সাধারণ মানুষের ঘরে বিশ্রাম নেন এই পথে আসার সময়। মঙ্গলবার তিস্তা নদী পরিভ্রমণ শেষে ঢুকে পড়েন গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে। ব্রহ্মপুত্র নদ ধরে চলে আসেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে। গাইবান্ধায় এসে রাসেলের ভেলা ফেটে যাওয়ায় দুঃসাহসী এই অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। রাতে গাইবান্ধার একটি রেস্টহাউসে উঠেন তারা। বন্ধু রাসেল ঢাকায় ফিরে যেতে চাইলেও অভিযাত্রার ছন্দপতন টানতে নারাজ অদম্য সাহসিকা এলিস ন্যান্সি। একাই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার পরিকল্পনায় অটল থাকেন তিনি। ব্রিটিশ তরুণী এলিস ন্যান্সি জানান, রাসেলের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বহু দিনের। তারা একসঙ্গে ঘুরেছেন ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশে। কিলিমানজাদারো পাহাড়ে, আমাজান ফরেস্টে, ব্রাজিলে কিংবা গভীর সমুদ্রে। ভ্রমণ প্রসঙ্গে ন্যান্সি টেইলর বলেন, আমরা দুজন দুটি ভেলায় যাত্রা করেছিলাম। রাসেলের ভেলাটি ফেটে যাওয়ায় সে যেতে পারছে না। কিন্তু এই সুযোগ আমি ছাড়তে চাই না। আমরা এ রকম চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। নদীপথে যেতে যেতে গত পাঁচ দিনে বাংলাদেশের মানুষের অতিথিপরায়ণ মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ন্যান্সি আরও বলেন, এতো সুন্দর নদী আর প্রকৃতি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। নিস্তব্ধ চরে অতিথি পাখির ঝাঁক তার মন কেড়েছে। যাত্রাপথে যেখানেই বিশ্রাম বা রাত যাপনের জন্য ক্যাম্প করেছি সেখানেই মানুষ আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। ভাষা না জানলেও চরের নারীরা তাকে জড়িয়ে ধরে তাদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছে। সবচেয়ে ভালো খাবার রান্না করে খাইয়েছে। ফিরে আসার সময় কেউ কেউ চোখের পানিও ফেলে। মানুষ এত ভালো হয় কী করে! মাহফুজুর আহমেদ রাসেল জানান, ইংল্যাল্ডে পড়তে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ন্যান্সির। কাজ করে টাকা জোগাড় করে বন, পাহাড়, বরফের প্রান্তর, সমুদ্র, নদী দেখার জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ উন্মাদনা প্রথম দিকে তার কাছে অদ্ভুত মনে হতো। কিন্তু এক সময় তিনিও ভিড়ে যান সেই দলে। দুই বছর আগে দেশে ফিরে ঢাকার ছেলে রাসেল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় নিজের আবাস গড়ে তোলেন। বন, পাহাড় ছাড়া এখন তার কিছুই ভালো লাগে না। মাহফুজ দেশে ফিরলেও যোগাযোগ নষ্ট হয়নি। রাসেল বলেন, কথা বলার সময় ন্যান্সি বারবার একটি ম্যাপ দেখছিলেন। বারবার বলছিলেন, বল তো পুরো বাংলাদেশ নদী দিয়ে ঘুরতে কত সময় লাগবে। ন্যান্সি আরও বলেন, ‘ম্যাপ দেখে আমরা দক্ষিণ দিকে রওনা হয়েছিলাম। যত সময় লাগুক, যত কষ্ট হোক, ইচ্ছে ছিল সব কটি নদী কিভাবে এক হয়ে সাগরে মেলে সেটি দেখার। সেখান থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার। পথে কত সৌন্দর্য আর মানুষের সঙ্গে দেখা হবে। তাই আমি হাল ছাড়িনি। এবার যদি না হয়, আবার ফিরে আসব। ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও উন্নত সংস্কৃতির কথা আমি জানি। তিনি বলেন, ন্যান্সি এখন আমাকে ছাড়াই একা নদীতে নেমেছে। আমার মন ভীষণ খারাপ। কারণ শুধু প্রকৃতির কাছে যাওয়ার লোভে কোনো ব্যক্তিগত জীবন গড়ে তুলিনি। শুধু ভেলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় দুই বছরের পরিকল্পনার সঙ্গে আমার থাকা হলো না।   এসএইচ/

১২৫ দেশে লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরলেন নাজমুন

লাল সবুজের পতাকা হাতে বিশ্ব মানচিত্রের ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশের নারী নাজমুন নাহার। এবারের তিন মাস সফরে টানা সড়ক পথে ভ্রমণ করেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। আজ সোমবার সকালে সড়ক পথে তিনি পৌঁছান নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গত তিন মাস তিনি তার ভ্রমণের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তের মোকাবেলা করেন পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে। সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আটলান্টিকের পাশ ঘেঁষে যাওয়া সব দেশ গুলো ভ্রমণের জন্য যে ভাবে ম্যাপ করেছেন নাজমুন ঠিক সে ভাবেই তিনি পাড়ি দিয়েছেন। তিনি মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, মালি, গিনি বিসাও, গিনি কোনাক্রি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, বুরকিনা ফাসো, গানা, টগো, বেনিন, নাইজার, নাইজেরিয়া ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ অতিক্রম করেন। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণ অনেক চ্যালেঞ্জিং হলেও এই আফ্রিকার গোল্ড কোস্ট লাইনের দেশগুলো তাকে অনেক দুর্লভ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তার এই দুর্দান্ত যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। কোনো বাঁধাই তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। লাল সবুজের পতাকা হাতে সাহারার তপ্ত মরু থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশ, পর্বত শৃঙ্গ, শহর, বন্দর, আফ্রিকার দুর্গম জঙ্গল সব জায়গায় যার পদচিহ্ন পড়ছে একে একে। সব কঠিনকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের এই নারী সম্প্রতি কয়েক হাজার মাইল সড়ক পথে পাড়ি দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার সব কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করে এক অনন্য মাইল ফলক গড়েন। পাশা পাশি তিনি তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে তিনি স্কুল, কলেজ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান। বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার এই দুর্বার দেশ জয় কতটা কঠিন ও বিপদসংকুল অভিযাত্রা ছিলো তা নিয়েই তিনি বলেন- যা কঠিন তা সুন্দর। পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণের সময়ও আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। মৃত্যুকে জয় করে আজ আমার বেঁচে থাকা এই মৃত্যুঞ্জয়ী আমি বাকি সব দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখছি এখনও। দুরহ পথ সাধ্য করেছেন নাজমুন নাহার। বলা চলে হার না মানা বাংলাদেশের এই সাহসী নারী। তিনি বলেন- ` বাংলাদেশের লাল সবুজের এই পতাকা আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই পতাকা আমাকে ছায়া দিয়েছে অনেক।বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখনি আমি নতুন কোনো দেশের সীমান্তে পা দিয়েছি তখনই আমার সঙ্গে যেন জেগে উঠেছে ষোলো কোটি প্রাণ। এসএইচ/

পটুয়াখালিতে শাহী মসজিদ ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা(ভিডিও)

পটুয়াখালীর প্রাচীন স্থাপনা শাহী মসজিদ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। তবে রক্ষাণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সাড়ে চারশ’ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদটি সংস্কারের পাশাপাশি সংরক্ষণ করা হলে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে মজিদ বাড়িয়া গ্রামের শাহী মসজিদ। সঠিক ইতিহাস জানা না থাকলেও স্থানীয়দের ধারনা ১৪৬৫ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময়ে  রোকুনউদ্দিন বরবক শাহ এর আমলে খান অজিয়াল খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রায় সাড়ে ৪শ বছরের প্রাচীন নির্মাণ শৌলি ও সুক্ষ কারুকাজে নির্মিত মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নিদর্শন। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই দুর দুরান্ত আসেন বহু মানুষ।  তবে দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদের অনেক কারুকাজ নষ্ট হয়ে গেছে। খসে পড়েছে ইট সুড়কিও। সম্প্রতি সংস্কার হলেও বর্ষার সময় মসজিদের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। শিগগিরি মসজিদটিসহ জেলার সকল প্রাচীন স্থাপনা সংরক্ষনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘুরে আসতে পারেন সীতাকুণ্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চল খ্যাত সীতাকুণ্ড। এর একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যদিকে সুবিশাল সমুদ্র। প্রকৃতির এমন উদারতা দেশের অার কোথাও সচরাচর চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ড হিন্দুদের তীর্থ স্থান ও কৃষিভূমির জন্য বিখ্যাত হলেও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরিচিত হয়ে উঠছে পর্যটনের জন্য। এই জেলার পর্যটনক্ষেত্রগুলোতে একদিকে যেমন রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার অনেক পুরনো নিদর্শন তেমনি রয়েছে প্রকৃতির অপূর্ব সমারোহ। সীতাকুণ্ডের সৌন্দর্য্যের স্থানগুলো তুলে ধরা হলো- সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়: শুধু মহাকাব্য হিসেবেই নয়; হিন্দুধর্মে পুরাণ হিসেবে রয়েছে রামায়ণের ব্যাপক গুরুত্ব। রামায়নের প্রেক্ষাপটে রাম-সীতা-লক্ষণের কাহিনীর সঙ্গে ভারতবর্ষের যেসব স্থান জড়িত তার অন্যতম সীতাকুণ্ড। সীতাকুণ্ড পৌরসদর থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়কে কেন্দ্র করে হাজার হাজার বছর ধরে এসব উপাখ্যান ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সীতার কুণ্ড, রাম-লক্ষণের স্মৃতি বিজড়িত স্থান। হিন্দু গ্রন্থ অনুসারে সতী দেবীর দক্ষিণ হস্ত পতিত হয়েছিল এখানে। অাপনি এখানে বেড়াতে এলে শুধু বেড়ানোই হবে না, পাশাপাশি অনেক পুরাণ অাপনাকে ছুঁয়ে যাবে নিজের অজান্তে। সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়ের একেবারে উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির। সেখান থেকে শুরু করে একেবারে নীচ পর্যন্ত পুরো পাহাড় জুড়ে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য মন্দির। ঠিক কতোগুলো মন্দির এখানে রয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে অাপনি বেড়ানোর সময় অাপনার চোখে উল্লেখযোগ্য যে মন্দিরগুলো চোখে পড়বে সেগুলো হলো শংকর মঠ, ব্যাসকুণ্ড পুকুর, শয়ম্ভুথাথ বাড়ি ইত্যাদি। এছাড়া সীতাকুণ্ড সদর জুড়ে অাছে ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির, ভোলানন্দ গিরি সেবাশ্রম, কাছারী বাড়ি, শনি ঠাকুর বাড়ি, প্রেমতলা, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রাহ্মচারী সেবাশ্রম, শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, গিরিশ ধর্মশালা, দোল চত্বর, এন,জি,সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস, তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, জগন্নাথ আশ্রম, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, মহাশ্মশান ভবানী মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, বিরুপাক্ষ মন্দির, পাতালপুরী, উল্টা কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির ইত্যাদি। এই পাহাড় ও তীর্থভূমিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ঘটা করে পালিত হয় শিব চতুর্দশী মেলা। যা প্রায় হাজার বছরের ঐতিহ্য। বাংলাদেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার থেকে এই মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী এসে থাকে। প্রতি বছর মেলায় প্রায় ১০ লাখের বেশি লোকের সমাগম হয়। সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক: সীতাকুণ্ড পৌর সদর থেকে মাত্র মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে সমতল ভূমি ও পাহাড় জুড়ে স্থাপিত হয়েছে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। এখানেই প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বোটানিক্যাল গার্ডেন সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন। প্রচুর গাছগাছালি ও সবুজের সমারোহে পাহাড়ের বুক চিরে উঠে গেছে সরু রাস্তা। এই রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে দেখবেন চিত্রা হরিণ, খরগোসসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। পাহাড়ের উপরে অবস্থিত সৌন্দর্য্যের অন্যতম উৎস বিশাল ঝর্ণা। যা `সুপ্তধারা` নামে পরিচিত। এই পাহাড়ে বসেই কবি নজরুল লিখেছিলেন, "অাকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই"। দারোগাহাট সহস্রধারা: সীতাকুণ্ড পৌরসদরের দুই কিলোমিটার দক্ষিণে ও ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে গেলেই অাপনাকে থমকে দাঁড়াতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা অাপনার সামনে অবস্থিত। সমুদ্রের মতো গর্জন নয়, তবে অদ্ভুত এক মোহনীয় ঝংকার তুলে হাজার হাজার সারিতে পাহাড় থেকে নেমে অাসছে ঝর্ণার স্রোতধারা। প্রতিদিন প্রচুর নারী- পুরুষ, স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা বেড়াতে অাসছে এখানে। তারুণ্যের এমন কোলাহল সাম্প্রতিক সময়ে অার কোথাও ঘটে বলে মনে হয় না। স্বপরিবারে এখানে বেড়াতে এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল অালাম। স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন তিনি। এ প্রতিবেদককে বলেন, ঝর্ণার সামনে এলে মন বড় হয়। অামি অামার সন্তানকে এখানে এনেছি যেন তার মনে ঝর্ণার মন ভালো হয়। বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত: সীতাকুণ্ড পৌরসদর থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে ও ডিটি রোড থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বাঁশবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত। বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এ সৈকতে সারাবছরই ভীড় থাকে নারীপুরুষের। এ সৈকতে হাঁটার সময়ে অাপনাকে ছুঁয়ে যাবে সমুদ্রের জল। ইচ্ছে করলে প্যান্ট গুটিয়ে নেমে পড়তে পারেন পানিতে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-এ ছুটে বেড়ায় হরিণ। বালুচরে ঘুরে বেড়ায় সামুদ্রিক কাঁকড়া। দর্শনার্থীদের ভীড় অাছে, কিন্তু সমুদ্রের গর্জনে তাদের কোলাহল ঢাকা পড়ে। তৈরি করে এক অপূর্ব নিস্তব্ধতা। সূর্য ডোবার সময় হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পারবেন সূর্য। এখানে বেড়াতে এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারহানা সাঁথিয়া। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অালাপকালে সাঁথিয়া জানায়, সে প্রায় এখানে ঘুরতে অাসে বন্ধুদের সাথে। এখানে অাসতে হলে কক্সবাজারের দূরত্ব নেই, পতেঙ্গার ভীড় নেই, অাছে সমুদ্রের গর্জন অার সৌন্দর্য্যের সমারোহ। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচেয়ে অালোচিত পর্যটন ক্ষেত্র গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত সীতাকুণ্ডে অবস্থিত। সীতাকুণ্ড পৌরসদর থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, প্রচুর ঘাস, অার সমুদ্রের পানি-এই নিয়েই গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। বিশাল সবুজ চর জুড়ে অাছে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। সবুজ ঘাসে কান পাতলে শুনতে পারবেন মাটির ভেতরে সমুদ্রের গর্জন। উপরে পাখির ডাক, নীচে সমুদ্রের গর্জন- এমন অনুভূতি দেশের অার কোথাও নেই। দেশের ভেতরে প্রকৃতিকে এমনভাবে উপভোগ করার এমন সুযোগ কেন হাতছাড়া করবেন? ভাটিয়ারী বিএমএ লেক: শহরতলীর এলাকা ভাটিয়ারী। ভাটিয়ারী বাজার থেকে এককিলোমিটার ভেতরে গেলেই শুরু হয় উঁচু নীচু পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিরে চিকন সাপের মতো বয়ে গেছে রাস্তা। খাড়া পাহাড় বেয়ে রাস্তা কখনো উঠে যায় অনেককখানি। অাবার নামে। কখনো বাঁক ফিরে। কখনো মোচড় দেয় ঘুমন্ত অজগরের মতো। রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লেক। ভাটিয়ারী বিএমএ লেক। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী ( বিএমএ) পাশে অবস্থিত বিধায় একে বলা হয় বিএমএ লেক। লেকের স্বচ্ছ পানিতে চুল অাঁচড়ানো সম্ভব। লেক সংলগ্ন পাহাড়গুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, উঁচু নীচু পাহাড়গুলোর শুরু অাছে শেষ নেই। বুঝতেই পারবেন না অাপনি কী বাংলাদেশে অাছেন নাকি দার্জিলিংয়ে। অাপনার গাড়ি যখন পাহাড় বেয়ে উঠবে তখন সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি ভয়ে অাপনার দম বন্ধ হয়ে অাসা বিচিত্র কিছু নয়। অাবার গাড়ি যখন নামবে মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যাবে শীতল স্রোত। তবে অাপনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন, দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্য্য দেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অাপনি। প্রকৃতি তার উদারহস্তে সাজিয়েছে অামার বাংলার মাটিকে। এখানে পাহাড় সমুদ্রের সঙ্গম যেমন ঘটেছে তেমনি অাছে প্রচুর বনজ পশুপাখির মিলন। এসব রেখে কেন যাবেন নেপাল, ভুটান বা ভারতের দার্জিলিং। সীতাকুণ্ড ঘুরে অাসুন, তাহলে সত্যতা পাবেন এমন দাবির। অা অা// এসএইচ/

রাজবন বিহারে পর্যটকদের ভিড় (ভিডিও)

পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় স্থান রাঙামাটির রাজবন বিহার। প্রতিদিন শত শত পূণ্যার্থী ও পর্যটকের পদচারনায় প্রানচঞ্চল থাকে এই বিহার। রাজবন বিহারে রয়েছে অসংখ্য বানরের বিচরণ। যা পর্যটকদের কাছে বেশ আনন্দময়। তবে বানরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মাঝে মাঝে উৎপাতের মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন চাকমা রাজার দান করা ৩৩ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান রাঙামাটি রাজবন বিহার। বিহারে আকর্ষনীয় বৌদ্ধ মন্দির, প্যাগোডা, ভিক্ষু সংঘের বাসস্থান ছাড়াও রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ ও জীব বৈচিত্র। এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে ৬শ’র বেশী বানর। তবে এসব বানরের জন্য নেই পর্যাপ্ত খাবার। ফলে কখনো দর্শনার্থীর কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে খাবার। আবার বিভিন্ন বাসা থেকেও খাবার চুরি করছে বানররা। বানরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাত বেড়েছে বলে স্বীকার করেছে রাজবন বিহার কর্তৃপক্ষ।  গৌতম দেওয়ান, সভাপতি, রাঙামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি বনবিভাগের কর্মকর্তারা। পর্যটক ও পূণ্যার্থীদের কাছে রাজবন বিহারকে আরো আনন্দময় ও নিরাপদ করতে বানরের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবী রাঙামাটিবাসীর।  এসএ/আআ

সুন্দরবনে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব শুরু

প্রতি বছরের ন্যয় এবারও সুন্দরবনের দুবলার চর আলোরকোলে ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী রাস মেলা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। আগামী শুক্রবার পূর্ণস্নানের মাধ্যমে এ মেলা শেষ হবে। রাস পূর্ণিমায় নিরাপদে যাতায়াতের জন্য তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন বন বিভাগ ৮টি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। অন্যান্য বছর মেলা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনে গমন করলেও নিরাপত্তার সার্থে এ বছর ২১ নভেম্বর ৬ টা থেকে যেতে পারবে। ২৩ নভেম্বর রাতে ফিরে আসতে হবে সব দর্শনার্থীদের। প্রবেশের সময় এন্ট্রি পথে নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত রুটের পছন্দমতো একটিমাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবন পূর্ব বন এবারের রাস মেলায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, বনিবিভাগ, রাস কমিটির সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবে। তিনি আরও বলেন রাস মেলায় আগত দর্শকরা বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামাতে পারবে না। পরিবেশ দূষণ করে এমন বস্তু, মাইক বাজানো, পটকা ও বাজি ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশীয় যে কোনও অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহন থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সব সময় টোকেন ও টিকিট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। একে// 

গ্রিসের টিলা মানুষের কাছে বড় আকর্ষণ

গ্রিসের মধ্যভাগে এক অপূর্ব নিসর্গ স্থানীয় মানুষের কাছেও বড় আকর্ষণ৷ ছোট বয়স থেকেই মানুষ সেখানকার টিলায় চড়তে অভ্যস্ত৷ এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সুন্দর সম্পর্কও তৈরি হয়৷ গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের মাঝে মেটেওরা-র জাদুময় টিলা৷ যারা পাহাড় চড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই এলাকা যাকে বলে স্বর্গরাজ্য৷ যেমন ভাঙ্গেলিস বাৎসিয়স৷ পাহাড়ের পাদদেশে কাসত্রাকি নামের ছোট্ট জনপদে তিনি থাকেন৷ তিনি বলেন, ‘পাহাড় চড়াই আমার জীবন, সবকিছু। ঘুম থেকে উঠে পাহা়ড় দেখেই মনে হয়, তার উপর চড়তে হবে৷ জায়গাটা খুব ভালোবাসি৷’ প্রায় ২ কোটি বছর আগে সেখানে এক নদীর স্রোত থেকে পাথর, বালু ও কাদামাটি জমে এই টিলাগুলি সৃষ্টি হয়। আরিস্টিডিস মিত্রোনাৎসিয়স বহু বছর ধরে মেটেওরায় পর্বতারোহীদের সঙ্ঘের সভাপতি ছিলেন৷ তিনি এখনো পাহাড়ে ওঠেন৷ প্রায়ই সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা হয়৷ ভাঙ্গেলিস বাৎসিয়স ও তার বন্ধু ক্রিস্টস সুরভাকাস পাহাড়ে চড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্রিস্টস সুরভাকাস মেটেওরা-র প্রায় ৮০০ রুটের মধ্যে অন্যতম সুন্দর পথ বেয়ে উঠছেন। প্রায় ২৫০ মিটার উঁচু এই টিলায় ওঠার সময় তার বন্ধু নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখছিলেন৷ ক্রিস্টস বলেন, ‘এ এক মুক্তির স্বাদ৷ নিজেকে জানার, নিজের সীমা জানা, তা অতিক্রম করার উপায়৷ প্রথাগত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে ভাবার পথ৷ অনেকটা যোগাসনের মতো৷ আসনের কসরত করতে করতে আরামের চেষ্টা করা৷ পাহাড় চড়া ছাড়া জীবনের কথা ভাবতেই পারি না৷’ ক্রিস্টস সুরভাকাস ও ক্রিস্টস বাটালোইয়ানিস আগামী বছরগুলিতেও ঘনঘন এই চূড়ায় উঠবেন, এমনটা ধরেই নেওয়া যায়। তথ্যসূত্র : ডয়েচে ভেলে এমএইচ/

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পতিসর কাছারী বাড়ি(ভিডিও)

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর কাছারী বাড়ি। যেখানে গড়ে ওঠা রবীন্দ্র জাদুঘরে, প্রতিদিনই দেখা মেলে দর্শনার্থীর। তবে সংস্কারের অভাব আর যাতায়াত অসুবিধার কারনে আকর্ষণ কমছে জায়গাটির। জাদুঘরের পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্র, ভাল রেস্টুরেন্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জায়গাটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবী বেড়াতে আসা মানুষ আর স্থানীয়দের। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিভৃত গ্রাম পতিসর। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালীগ্রাম পরগণার জমিদারী লাভ করে ১৮৯১ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত এখানে আসেন নিয়মিত। তার মৃত্যুর পর পতিসর কাছারী বাড়িতে স্থাপন করা হয় রবীন্দ্র জাদুঘর। জাদুঘরটি দেখতে আসেন দেশ-বিদেশ পর্যটকরা। জাদুঘরে স্থান পেয়েছে কবির স্মৃতি বিজড়িত ব্যবহৃত সামগ্রী আর দূর্লভ ছবি। জায়গাটিকে আধুনিকায়ন করতে গড়ে তোলা হয়েছে ডাক বাংলো, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ কৃষি প্রযুক্তি ইনষ্টিটিউট, রবীন্দ্র জার্নাল, সান বাঁধানো ঘাট আর নাগর নদীর উপর ব্রীজ। কার্যক্রম চলছে ১০ম তলা আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের। তবে কাছারীবাড়ির সীমানা প্রাচীর না থাকা, বিনোদন ও খাবারের অভাব আর অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভিযোগ পাওয়া যায়। পতিসরকে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। নওগাঁ, নাটোর, পাবনা ও রাজশাহী জেলার মানুষের অন্যতম আগ্রহের জায়গা এই কাছারি বাড়ি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জায়গাটির রক্ষনাবেক্ষণ পতিসরের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে তুলবে সবার কাছে।

সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় (ভিডিও)

একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে, সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বাড়ছে পর্যটকের ভিড়। হোটেল-মোটেলে শুরু হয়েছে আগাম বুকিং। অতিথির ভ্রমণ আনন্দময় করতে, সাগরপথে সুন্দরবন দেখার আয়োজন করেছে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সাগরজলে লালচে আভা ছড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। বালুতটে লাল কাঁকড়ার নৃত্য আর উত্তাল ঢেউ। রয়েছে সীমা বৌদ্ধ মন্দির, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধবিহার, ঝাউবন, ইকোপার্ক, সোনার নৌকা, রাখাইন পল্লি ও লেম্বুর চর। এসবের সৌন্দর্য উপভোগ করতে কুয়াকাটায় ভিড় করছেন পর্যটকরা। সৌন্দর্য পিপাসুদের চাপ সামাল দিতে এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে অর্ধশতাধিক হোটেল- মোটেল। অতিথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কুয়াকাটা সৈকত ও পর্যটন স্পট আরো আকর্ষণীয় করতে, মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে সরকার।

তাজমহলে শুক্রবার ছাড়া নামাজ পড়া যাবে না

ভারতের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহলের মসজিদে শুক্রবার বাদে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)। তবে শুক্রবারের নামাজে শুধু স্থানীয়রাই অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে এএসআই।   এএসআই বলছে, শুক্রবার তাজমহল বন্ধ থাকে। তাই স্থানীয়রা শুক্রবারের নামাজ পড়তে পারবেন এখানে। আর এজন্য তাদের কোনও প্রবেশ ফি দিতে হবে না। কিন্তু নামাজ অবশ্যই দুপুর দুইটার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য দিনের ক্ষেত্রে যেসব আগন্তুকরা টিকিট কেটে তাজমহল পরিদর্শন করতে ঢুকবেন তারা মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন। মসজিদের ইমাম সাইয়েদ আদিক আলীর পরিবারের সদস্যরা এই মসজিদে কয়েক দশক ধরে নামাজ পড়ে আসছেন। তবে এজন্য তাদেরকে প্রতিমাসে কর্তৃপক্ষকে টাকা দিতে হয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের নতুন নিষেধাজ্ঞায় অবাক হয়েছেন মসজিদটির ইমাম। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আজ সোমবার প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তার। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রত্নতত্ত্ববিদ বসন্ত শংকর বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশই বাস্তবায়ন করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ। তাজমহল মসজিদে কেবল শুক্রবারেই নামাজ হবে এবং নামাজে শুধু স্থানীয়রাই অংশ নিতে পারবেন। প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে অনাবাসিকরা তাজমহল মসজিদে শুক্রবারের নামাজ পড়তে পারবেন না বলে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া একে//

বিশ্বভ্রমণে ১১০তম দেশে পৌঁছে গেলেন নাজমুন নাহার 

বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন নাহার। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সাড়া জাগানো একজন সাহসী দেশপ্রেমী নারী হিসেবে বহুল পরিচিত লাভ করেন তিনি। বাংলাদেশের পতাকাবাহী এ নারীর বিশ্বজয়ের যাত্রা চলছে দুর্বার গতিতে একের পর এক। তার ভ্রমণকৃত দেশের সংখ্যা এখন ১১০। ইতোমধ্যে তিনি একশত দশটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীর বাকি দেশগুলোও ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। সম্প্রতি তিনি তার ১১০তম দেশ ইরানকে নিয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন।   অনেক আগেই ইতিহাসের পাতায় স্থান হয়েছে যার নাম। বর্তমানে তিনি আজারবাইজান সফর শেষে ইরানে পৌঁছেছেন। এবার তিনি ইরানের পথে পথে লাল সবুজের পতাকা উড়াবেন।  সম্প্রতি তিনি ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার’- এ ¯স্লোগানে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছান। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পতাকাকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়াও তার অভিজ্ঞতার ঝুড়িতে যোগ হয়েছে সম্প্রতি ভ্রমন করা আজারবাইজানের জীবন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির কথা। চলতি মাসের ১৭ তারিখ বিকেলে স্টকহলম থেকে বাল্টিক এয়ারের ফ্লাইটে তিনি আজেরবাইজান যান। বাকু শহর থেকেই শুরু হয়েছে তার যাত্রা। তার অনাবিল উৎসাহে লাল সবুজের পতাকা ছুঁয়ে যাচ্ছে সর্বোচ্চ উচ্চতায়। লাল সবুজের পতাকাকে বুকে করেই তিনি অবিরাম ছুটছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। নাজমুন নাহার আমাদের এই প্রজন্মের আইডল। পৃথিবীর মাঝে তার এই ছুটে চলা, নানান দেশের মানুষের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা, অজানাকে আবিষ্কার করার মাঝে তিনি খুঁজে পেয়েছেন জীবনের দর্শন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্ব শান্তির জন্য তার এই অভিযাত্রা অব্যাহত থাকুক পৃথিবীর বাকি দেশগুলোতে। নাজমুন আমাদের দেশের আলোকিত কন্যা আর  মানুষের আশার দিশারী হয়ে যুগ যুগ বেঁচে থাকুক এই পৃথিবীর সব মানুষের মাঝে। বাংলাদেশের সম্মান অনেক উঁচুতে নিয়ে যাক নাজমুনের মত সর্বকালের সূর্য সন্তানেরা। বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বালাদেশের পতাকাবাহী নাজমুন নাহার। পৃথিবীর ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠছেন তিনি। বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শান্তির বার্তা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১১০টি দেশে বাংলাদেশের পতাকা বহনের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। বিশ্বের বাকি দেশের মানুষের কাছাকাছি পৌঁছবেন খুবই দ্রুত। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্ববাসী গর্ব করবে তার বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রাকে। তিনি জানান, ইরানে পা দেওয়ার আগেই আমি মাথায় হিজাব পরে নিলাম। ইরানের রাষ্ট্রীয় আইনে সব নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ইরানে সফররত সব নারী টুরিস্টদের জন্যও একই আইনের বিধান রয়েছে। ওয়েস্টার্ন ড্রেসআপের সঙ্গে ইরানের মেয়েরা মাথায় একটা ওড়না হিজাব পরে। ইরানের ইসলামিক কালচারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমিও রাষ্ট্রীয় হিজাব আইনকে মেনে নিয়ে ইরানের পথে পথে ভ্রমণ করছি। প্রথম ইরানের তেহরানে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাবা বয়সী একজন আমার দিকে তাকিয়ে বললো আজনবি, তুমি কোথা থেকে এসেছো? বাংলাদেশ থেকে বলতেই তিনি খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। সকালে আমি হোস্টেলের লবির রেস্টুরেন্টে নাস্তা খেতে নেমেই দেখলাম সবার মাথায় হিজাব। হিজাব পরেই মেয়েরা খাবার পরিবেশনের মতো কাজ করছে। আর টুরিস্ট অতিথিদের মাথায় ও হিজাব পরা।  আমিও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছি। এই মাসটি ইরানি শিয়া পন্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস। এটি শোকের মাস । তাই ইরানের বিভিন্ন জায়গায় এই কালো পতাকার উড্ডয়ন। ইমাম হাসান ও হুসাইনসহ তার পরিবারের প্রতি শোকের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই মাস পালিত হয়। ইরানের ইতিহাস খুবই আকর্ষনীয়। আমি ছোট বেলা থেকেই ইরানের মানুষের জীবন, সংকৃতি ও তাদের ইতিহাসকে খুব কাছে থেকে জানার জন্য ও দেখার জন্য অতি উৎসাহিত ছিলাম। বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নারী পরিব্রাজক নাজমুন নাহারের জীবন, শিক্ষা আর এই বিশ্ব ভ্রমণ যাত্রার উদ্দীপনার পাশাপাশি দেশাত্ববোধের চেতনা এই দেশের প্রতিটি তরুণকে জাগিয়ে তুলবে। ইতিহাসজয়ী এই পরিব্রাজক নারীকে মনে রাখবে সমগ্র মানুষ। উল্লেখ্য, নাজমুন নাহার ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। মা তাহেরা আমিন। তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট। একে//

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি