ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ৪:১৫:৩৯

বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন নাজমুন

বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন নাজমুন

নাজমুন নাহার সুপরিচিত একটি নাম। বিশেষ করে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে। সারা বিশ্ব ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি একের পর এক দেশ ভ্রমন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন সারা তিনি বিশ্বাস করেন -` স্বপ্ন দেখলে আর তার জন্য কাজ করলে পৃথিবীতে সবই সম্ভব`। ইতোমধ্যে তিনি শতাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীর বাকি দেশগুলোও ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় একুশে টেলিভিশন অনলাইনের।    তার জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। মা তাহেরা আমিন। তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই নাজমুন নাহার মেধাবী এবং বিনয়ী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশের পর কৃতিত্বের সহিত জেলা বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। দালাল বাজার নবীণ কিশোর (এনকে) উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কিছু দিন সাংবাদিকতা করেন। পরে ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সুইডেনে যান। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন! এক আদর্শ পরিবারের ছোট সন্তান হিসেবে নাজমুনের বেড়ে ওঠা। বাবার উৎসাহ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি থেমে নেই লাল সবুজের পতাকা হাতে চলছেন দুর্বার গতিতে। বুকে তার বাংলাদেশে। হাতে লাল সবুজের পতাকা। বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি বাংলাদেশের কথা, মানবতার কথা, বিশ্ব শান্তির কথা। তিনি বিশ্বাস করেন `ওয়ান আর্থ ওয়ান ফ্যামিলি`! নাজমুন নাহার এ পর্যন্ত ১০৮টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘুরে এসেছেন সেন্ট্রাল এশিয়ার কয়েকটি দেশে।  জর্জিয়া, আর্মেনিয়া কাজাখস্তান। নাজমুনের ভ্রমণ যাত্রা এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। তার ভ্রমণকৃত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ম্যাজিক্যাল সংখ্যায়। এই যাত্রার মধ্যে দিয়েই নাজমুনের শেষ হবে পুরো সেন্টাল এশিয়া ভ্রমণ।  ১১১তম ম্যাজিক্যাল সংখ্যার ভ্রমণ যাত্রায় উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাজমুন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্কুল, কলেজ ও সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনে তার মোটিভেশনাল স্পিসের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জমিয়েছেন। জনপ্রিয়তা ছুঁয়ে যাচ্ছে তার এই পৃথিবী ভ্রমণের গল্প। এযাবৎ তিনি পেয়েছেন বহু অ্যাওয়ার্ড। `ইন্সপেরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের` মাধ্যমে তিনি তার এই উদ্যোগকে বাংলাদেশে শিশু কিশোর, তরুণ-তরুণীদেরকে তাদের স্বপ্নের যাত্রা পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কাজ করে যাবেন। তরুণদের নিয়ে নাজমুনের এই অগ্রযাত্রার ভাবনা আলোকিত করবে আমাদের অনেক মানুষকেই। যে নারী মৃত্যু ভয়ে পিছিয়ে যাননি, বাংলাদেশের পতাকা হাতে জয় করে চলছেন এক এক করে প্রতিটি যাত্রা।  বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে। ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়। সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। বিশ্বের ৮০টি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব যাত্রার  শুরু।  ২০১৮ সালের ১ জুন  নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। তিনি বাংলাদেশের পতাকা হাতে জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী লিভিংস্টোন শহরে অবস্থিত পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ব্রিজের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে জিম্বাবুয়েতে পৌঁছান। ইতিহাসে তার শততম দেশ ভ্রমণের সাক্ষী হয়ে রইলো এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত।  নাজমুন কাছে শততম দেশ ভ্রমণের সেই অনুভূতি। তিনি বলেন, সেই দিন বাংলাদেশের পতাকা হাতে যেন আমি একা হাঁটিনি সেই দিন হেঁটেছিলো বাংলাদেশের ষোলকোটি মানুষ আমারসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো সমস্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা। সেই দিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি আমাদের মহান নেতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে।  শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছি যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন পতাকা তলে বেড়ে উঠেছি সেইসব যোদ্ধাদের। আর তাদের জন্যই আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা। এসএইচ/
ঘুরে আসতে পারেন কুমিল্লার দর্শণীয় স্থানগুলো

ভ্রমণপ্রেমীরা অনেক অর্থ ব্যয় করে অনেক দেশ ভ্রমণ করে থাকেন। বিশেষ করে অনেকেই দূরের কোনো দেশ ভ্রমণ করে থাকেন। কিন্তু ঢাকার কাছেই ভ্রমণ করার মতো অনেক দর্শণীয় স্থান রয়েছে কুমিল্লা জেলায়। মনকে চাঙা ও সতেজ করার জন্য ঘুরে আসতে পারেন এই দর্শণীয় স্থানগুলো। শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন শালবন বৌদ্ধ বিহার। লালমাই-ময়নামতি প্রত্নতন্ত্রের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই বৌদ্ধ বিহার। এখানে ৭ম-১২শ শতকের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে। আয়াতাকার এই বিহারের প্রতিটা বাহুর দৈর্ঘ প্রায় ১৬৭ মিটার। চারদিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো নির্মাণ করা হয়েছে বিহারের চার দিকের বেষ্টনীর দিকে পিঠ করে। কক্ষের মাঝে দেয়ালগুলি ১.৫ মিটার চওয়া। বিহারের ভিতরে প্রবেশ এবং বাহিরে আসার জন্য একটা রাস্তায় রয়েছে। উত্তর ব্লকের মাঝমাঝি রয়েছে এই রাস্তাটি। কেন্দ্রীয় মন্তিরটি বিহারের মাঝে ছিল। বিহারের ১৫৫টি কক্ষ রয়েছে, যার সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল রয়েছে। কক্ষের দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে কুলুঙ্গী। কুলুঙ্গীতে রাখা হতো দেবদেবী তেলের প্রদীপসহ অনেক কিছুই। কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন, বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন। এখানে একটি হল ঘড় রয়েছে, যেটিকে খাবার ঘড় বলে ধারনা করা হয়। হল ঘড়ের অবস্থান প্রবেশ দ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। হল ঘড়টি রয়েছে। চার দিকে দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত। এছাড়াও এখানে ৮টি তাম্রলিপি, প্রায় ৪শটি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ছাড়াও অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। কিভাবে যাওয়া যায়: দেশের যে কোন জেলা হতে প্রথমে কুমিল্লায় আসুন, কুমিল্লা থেকে ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। কুমিল্লা সেনানিবাস বাসট্যান্ড থেকে যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি, বাস, রিক্সা রয়েছে। গোমতী নদী গোমতীকে এক সময় কুমিল্লার দুঃখ বলে অনেকেই মনে করলেও এখন ধারনা ভিন্ন। নীরে উভয় তীরে বাঁধ থাকার ফলে কৃষি ও সেচ কাজে বয়ে এনেছে সুফল। নদীর উভর তীরে পাকা রাস্তা করা হয় তাহলে এটি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকাবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বুড়িচং, ব্রাক্ষ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের অংশে নদীটির দৈর্ঘ্য ৮৩ কিলোমিটার। কিভাবে যাওয়া যায়: কুমিল্লার কোম্পানি বাজার থেকে বাস অথবা ট্যাক্সিযোগে যাওয়া যায়। দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। কবি তীর্থ দৌলতপুর (জাতীয় কবি কাজী নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত স্থান) কুমিল্লার কবি তীর্থ দৌলতপুর কাজী নজরুল ও তার স্ত্রী নার্গিস এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান । এখানে বসে কবি ১৬০টি গান ও ১২০ কবিতা রচনা করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ এছাড়াও দোলনচাপা, অগ্নিবীণা, ছায়ানট, ঝিঙ্গেফুল, পুবের হাওয়া প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। কুমিল্লা শহড় ও জেলার মুরাদনগরে পাঁচ বারে ১১ মাসের বেশি সময অবস্থান করেছিলেন। কুমিল্লায় কবির প্রথম আগমন ঘটে মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে, দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে নজরুল ছিলেন। প্রমীলা দেবীর বাড়ি, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে কবিতা গানের আসর, নানুয়া দীঘির পাড়, দারোগা বাড়ি, ঝাউতলায় গ্রেফতার হওয়া, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, ইউছুফ স্কুল রোড, মহেশাঙ্গন, নবাব বাড়ি, ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের বাড়ি, নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও মাঠ, দক্ষিণ চর্থায় শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, রানীর দীঘির পাড়, রেলস্টেশন, কোতোয়ালি থানা, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরসহ অসংখ্য স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কবির স্মৃতিচিহ্ন। ১৯৬২ কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কান্দিরপাড়-ধর্মপুর রেলস্টেশন সড়কের নামকরণ করেন নজরুল এভিনিউ। ১৯৮৩ সালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে তৎকালীন শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো হয়। এসব ফলকে কবির গান, কবিতা, ছড়া ও বাণী তুলে ধরা হয়। নজরুল ইসলাম স্মরণে নির্মিত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন     কিভাবে যাওয়া যায়: বাসে ও ট্যাক্সিতে যাতায়াত করা যায়। উটখাড়া মাজার বাংলাদেশ ফকির-দরবেশ-আউলিয়ার দেশ । চট্রগ্রামে বার আউলিয়া, সিলেটে  তিনশত  ষাট আউলিয়া আর তিনশত আউলিয়ার বিচরণ ভূমি  কুমিল্লা। সম্ভবত- ত্রয়োদশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের প্রথম দিকে হজরত শাহজালাল (র.)এর শিষ্যদের প্রতি নির্দেশনা ছিল, তাদের এই বাহন, উটই তাদের দ্বীন প্রচার কেন্দ্র নির্দিষ্ট করে দেবে, তাদের উট যেখানে গিয়ে থেমে যাবে বা উটের পা বালি কিংবা মাটিতে গেড়ে যাবে সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন ও ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করবে। কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে এসে বালিতে উটের পা গেড়ে গিয়ে উট থেমে গেলে তারা এখানেই বসতি স্থাপন ও ইসলাম ধর্মপ্রচার শুরু করেন। বর্তমানে এলাহাবাদ গ্রামের ওই জায়গাটি উটখাড়া (গ্রামের পরিচয়ে) মাজার নামে পরিচিত এবং এ অঞ্চলে আল্লাহ্`র `আবাদ` প্রচার ও প্রসার শুরু করায় উটখাড়াসহ বিশাল এলাকা আল্লহর আবাদ থেকে কালক্রমে `এলাহাবাদ` নামে পরিচিতি লাভ করে। উটখাড়া মাজারটি  কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং দেবিদ্বার সদর থেকে পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিভিন্ন স্থাপনাসহ একটি দিঘি ও একাধিক ছোট পুকুর রয়েছে ও মাজারে ৪১টি কবর আছে। তবে বংশানুক্রমে হজরত শাহ কামাল (র.) ও হজরত শাহ জামাল (র.) এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। কিভাবে যাওয়া যায়: দেবিদ্বার শহর হতে রিকসা অথবা ট্যাক্সিযোগে যাওয়া যায়। বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন কুমিল্লার গনপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, যা কুমিল্লা টাউন হল নামে পরিচিতি পেয়েছে। পাঠাগারে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, রাজমালা থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মনীষীদের রচনাসমগ্র রয়েছে। এখানে  বাংলা ভাষার ২৪ হাজার বই ও ইংরেজি ভাষার ০৬ হাজার বই আছে। ৬৩টি আলমারি সজ্জিত আছে ৩০ হাজার বই দিয়ে। সদস্যরা একসঙ্গে এক সপ্তাহের জন্য ৩টি বই নিতে পারেন। টাউন হল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অধ্যয়নের ব্যবস্থা আছে। টাউন হলের নিচতলায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, এখানে আছে ৪৪টি জাতীয় আঞ্চলিক, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী। পুরোনো পত্রিকার কপি দেখতে ব্যাবস্থাও আছে। এ  টাউন হলে পদধূলি দিয়েছেন মহাত্মা গান্ধী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও অনেক মনীষি । কিভাবে যাওয়া যায়: রিক্সা অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। শাহ সুজা মসজিদ-  শাহ সুজা মসজিদ ৩৫২ বছর ধরে স্ব মহিমায় টিকে আছে। মসজিদটি পাক ভারত উপমহাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম । এই মসজিদ  আয়তনের দিক দিয়ে খুব বেশী বড় না হলেও এর কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সার্বিক অবয়ব বহন করে আভিজাত্যের প্রতীক । এর বাহ্যিক কারুকাজ প্রমাণ করে তৎসময়ে এর প্রতিষ্ঠাতাদের স্রষ্টার প্রতি সুবিশাল আনুগত্য এবং রুচির পরিচায়ক। সাম্প্রতিকালে মসজিদের দুই প্রান্তে ২২ ফুট করে দুটি কক্ষ এবং সম্মুখ ভাগে ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি বারান্দা নির্মাণ করায় আদি রূপ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সুউচ্চ মিনার। উত্তর দক্ষিণে লম্বা মসজিদের চার কোনে ৪টি অষ্ট কোনাকার মিনার ছিল। এগুলি মসজিদের ছাদের অনেক উপরে উঠে গেছে। সামনের দেয়ালে ছিল ৩টি দরজা এবং ভেতরে পশ্চিম দেওয়ালে ছিল ৩টি মেহরাব। কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথ ও মেহরাব অন্য দুটির চেয়ে অনেক বড়। কেন্দ্রীয় দরজাটির বাইরের দিকে কিছুটা প্রসারিত এবং দুপাশে আছে দুটি সরু গোলাকার মিনার। মসজিদের সম্মুখ ভাগে প্যানেল দ্বারা সুশোভিত ছিল এবং কার্নিশের উপরে ছিল ব্যাটলম্যান্ট, তার ওপরে ছিল একটি গম্বুজ। কুমিল্লার গোমতীর তীরের শাহ সুজা মসজিদটি পাক ভারত উপ মহাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন। কিভাবে যাওয়া যায়: রিক্সা অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী রাজধানী ঢাকা থেকে ১০০ মিলোমিটার দূরত্বে কুমিল্লার ময়নামতি-লালমাই এর পাহাড়ি অঞ্চলে কোটবাড়ির, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১৫৬ একর জমির উপর বিএআরডি ক্যাম্পাসটি অবস্থিত। সেখানে বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে রয়েছে অর্কিড গাছ, সবজি বাগান, নার্সারি, পার্ক। এখানকার রাস্তাগুলোর পাশে রয়েছে নয়নাভিরাম ছায়াবৃক্ষ। এলাকার ভৌগলিক চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি কারা হয়ছে এখানকার অফিস, বাংলো, ডরমিটরি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাসভবনগুলো। সবুজে ঘেরা বিএআরডি ক্যাম্পাসটিতে বছরের সব সময়ই একধরনের প্রশান্তি বিরাজ করে। কিভাবে যাবেন- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী নামক স্থানে বার্ডের অবস্থান। বিএআরডি তে যেতে হলে ঢার গুলিস্থান থেকে বাসে উঠে কুমিল্লা সেনানিবাসে নেমে যাওয়াই ভাল কারন সড়কপথে বাসগুলোর গন্তব্য হল কুমিল্লা শহর আর বিএআরডি সেনানিবাসের কাছেই অবস্থিত। সেনানিবাস থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় বিএআরডিতে যেতে পারবেন যদিও অটোরিকশা চালক আপনার কাছে এর চেয়ে বেশি ভাড়া চাইতে পারে। এছাড়া সেনানিবাস থেকে বিএআরডি তে হিউম্যান হলার অথবা মিনিবাসে করে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। সেনানিবাস থেকে বিএআরডিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগবে। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি  ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বাংকুমিল্লাতে অবস্থিত কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লায় এবং অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। প্রতিবছর প্রচুর দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রতি সম্মান জানাতে এ সমাধিক্ষেত্রে আসেন। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, কুমিল্লাতে সমাহিত ব্যক্তিগণ যে সব দেশের বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সেগুলো হলো- যুক্তরাজ্য    ৩৫৭, কানাডা ১২, অস্ট্রেলিয়া    ১২, নিউজিল্যান্ড ০৪,  দক্ষিণ আফ্রিকা       ০১,  অবিভক্ত ভারত* ১৭৮,  রোডেশিয়া ০৩,  পূর্ব আফ্রিকা       ৫৬,  পশ্চিম , আফ্রিকা    ৮৬,  বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার)       ০১,  বেলজিয়াম  ০১,  পোল্যান্ড      ০১,  জাপান  ২৪, নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিতে পারবেন বেশ কিছুক্ষণ। এখানের পরিবেশটা সবুজে ঘেরা নানা ফুলগাছে বেষ্টিত। সময়সূচি- সমাধিস্থলটি সব সময়ই খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো থাকে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন। এ ছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য বছরে দুবার  তিন দিন করে মোট ছয়দিন  সমাধিস্থলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। ভেতরে প্রবেশের আগেই মূল ফটক থেকে কিছু নির্দেশাবলি দেওয়া আছে।  বসে গল্প করবেন না, গেট বন্ধ থাকলে খোলার জন্য অনুরোধ করা যাবে না, যাঁরা শায়িত আছেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে, এখানের পরিবেশ নোংরা করবেন না, ভিতরে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করবেন না। যেভাবে যাবেন- কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। কুমিল্লা শহর হতে বাস অথবা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী যেকোনো বাসে উঠে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে পর্যন্ত যেতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। সেখান থেকে উত্তরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে ১০ মিনিটের হাঁটার পথ, রিকশা অথবা অটোরিকশায়ও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। কোথায় থাকবেন- আবাসিক হোটেলের জন্য আপনাকে কুমিল্লা শহরে যেতে হবে। নূর মানিকচর জামে মসজিদ প্রায় ৫০০ বছরের মসজিদটি দেবীদ্বারের সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ।  চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত মসজিদটির ভেতরে রয়েছে অপরুপ কারুকাজ। এই সমসজিদে এক সঙ্গে দাড়িয়ে প্রায় ২৫ লোক নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটি দৈর্ঘ্য ১০ ফুট বাই ৫ ফুট।  মসজিদের চারকোনায় চার গম্ভুজ, আর ছাদে রয়েছে ৭ টি গম্ভুজ। সবগুলি গম্বুজই ধ্বংশ প্রায়। কিভাবে যাওয়া যায়: নূরমাকিচর মসজিদটি কুমিল্লা শহর থেকে পশ্চিমে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে এবং `ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক`র নূরমানিকচর বাস স্টেশনের  থোকে আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। উভয় স্থান থেকে রিক্সা বা ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। বায়তুল আজগর জামে মসজিদ মসজিদটির নির্মাণশৈলির দিক থেকে দেশের বিখ্যাত মসজিদগুলোর অন্যতম মসজিদ হিসেবে দাবি করা হয়। নতুন এবং পুরাতন নির্মাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণে অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফিতে আঁকা মসজিদটি দেশব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের এই মসজিদটির চার কোনায় ৮০ ফুট উচ্চতার ৪টি মিনার ও ০৭ টি গম্ভুজ রয়েছে। মসিজদে লিখা আল্লাহু শব্দটি অনেক দূর থেকেও দেখা যায়, জ্বল জ্বল করতে থাকে তারকার মতো। মসজিদের পাশে ফল ও ফুল বাগান এবং বিশালাকার জরাধার রয়েছে। মোঘল তুর্কী ও পারস্যের সংমিশ্রণে কারুকার্য করা এই মসজিদটিতে ইট, সিমেন্ট, বালির পাশাপাশি চিনামাটি ও টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। একটি আধুনিক মসজিদে যা কিছু থাকার কথা সবই এই মসজিদে আছে। কিভাবে যাওয়া যায়: মসজিদ`টি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে উত্তর-পশ্চিম কোনে দেবীদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবীদ্বার সদর থেকে ২` কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত। দেবিদ্বার বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা বা সিএনজি যোগে যাওয়া যায়। যেভাবে যাবেন- সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী যেকোনো বাসে উঠে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে পর্যন্ত যেতে হবে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। সেখান থেকে আপনার গন্তেব্যে যাওয়ার জন্য সিএনজি / অটোক্সায় পেয়ে যাবেন। এসএইচ/        

বিয়ন্ড বাউন্ডারির দার্জিলিং ট্যুর

দেশের সীমানা পেরিয়ে সফলভাবে দার্জিলিং ট্যুর সম্পন্ন করেছে বিয়ন্ড বাউন্ডারি ট্র্রাভেলিং ক্লাব। সম্প্রতি ট্রাভেলিং এই ক্লাবটি সফলভাবে তাদের এই ট্যুর সম্পন্ন করেন। দেশের বাইরে এটি ছিল বিয়ন্ড বাউন্ডারি ক্লাবের ৪র্থ ট্যুর। তাদের এই ট্যুরে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বিয়ন্ড বাউন্ডারির সম্মানিত সদস্য শাহজাদা বসুনিয়া, সহসভাপতি মো. ফরহাদ রেজা, জেনারেল সেক্রেটারি ও ট্যুর ম্যানেজার মনিরুজ্জামান চৌধুরী, ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি, শাহ মো. আবু সাইদসহ ১৮ জন মেম্বার অংশগ্রহণ করেন। দার্জিলিং ট্যুরে বিয়ন্ড বাউন্ডারি ভারতের দার্জিলিং, কালিমপংসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রসমূহে ভ্রমণ করেন। এমএইচ/

বাসি মধুচিন্দ্রমায় কলকতা…

২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সাল নতুন বউকে ঘরে ঢুকিয়ে আনুষ্ঠানিক সেরে ছুটে গেলাম সস্মেলনস্থল এ এল খান হাই স্কুল প্রাঙ্গণ। মোহরা ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন। ওয়ার্ড ছাত্রলীগের দায়িত্ব ছেড়েই নিয়েছিলাম যুবলীগের দায়িত্ব। বিয়ের দিন যুবলীগের দায়িত্ব ছেড়ে পূর্ণ মনোযোগ জীবনে এবং জীবিকার দিকে। রাজনীতি কারো পেশা হতে পারে কখনও ভাবিনি এবং ভাবিনি ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সঙ্গে রেখেছি রাজনীতি। বিয়ের পর মুধুচিন্দ্রমা বলে একটা বিষয় আছে শুনছি, কিন্তু জীবনের টানে ছুটতে গিয়ে তার মর্মার্থ বুঝিনি। বছরখানেক পর ভাবলাম কলকাতায় জন্ম নেওয়া যে মেয়েকে বউ করেছি। তাকে নিয়ে তার জন্ম শহরটায় একবার ঘুরে আসি না কন? সাহস করে মাকে বলতেই অনুমতি মিলে গেলে। বড় ভাইও সম্মত। ভিসা হয়ে গেলো টিকিটও হলো, ঢাকা-কলকতা-ঢাকা। ঢাকাতে গিয়ে  শ্বশুর বাবাকে জানালাম, কলকতা যাবো, সঙ্গে আপনার মেয়েও, কথা বলতেই শ্বশুর বাবা খুশিতে দুহাত তুলে দোয়া করলেন। পাশে দাড়িয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের গল্প শোনালেন। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট হয়ে পার্ক সার্কাসে উনাদের বাড়ি দেখে আসতে হবে। কলকাতা জাদুঘরে সময় নিতে দেখতে হবে। ভিটটোরিয়া মেমোরিয়াল হলে গিয়ে দেখে আসতে হবে। অবিভক্ত বাংলার ঐতিহ্যবাহি পারিবারের তালিকা। যেখানে উনাদের পরিবারের নাম ৪ নম্বরে। আরও কত কথা কত উপদেশ। সব মনোযোগ দিয়ে শুনে মনে হলো ওনার মন প্রাণে আছে আজও কোলকতায়। অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত কলকাতা যাত্রা। এয়ারপোর্ট নেমেই অ্যাস্বাসেডর ট্যাস্কিক্যাব চেপে সুদ্দর স্ট্রিট পূর্বনির্ধারিত হোটেল শিল্টন। রুমে টুকেই দেখি বউয়ের মনটা যেন কেমন মলিন। কিছু না বলেই চলে গেলেন পাশের নিউমার্কেট। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসলো হাতে বেড শিট, পিলেকাভাল লাক্স সাবান, টাওয়াল হারপিক, এসব নিয়ে। কিছু জিগ্যেস না কলেই বুঝে নিলাম পশ্চিমবঙ্গে বনেদি পরিবারেরর মেয়ের ১০০ রুপির হোটেল রুম পছন্দ হয়নি। মনটা অনেক ছোট হয়ে গেল। আজমির হয়ে দিল্লি ঘুরবো। তাই পকেটে যে পরিমাণ টাকা আছে তা দিয়ে এর চেয়ে ভালো হোটেল ওঠার সাহস হলো না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ভবিয্যতে ভালো হোটেলে ওঠার সার্মথ্য না হওয়ার অব্দি আর বিদেশ যাবো না। আল্লাহ তা কবুল করছেন। এরপর থেকে পৃথিবীর যে প্রান্তেই গেছি ৩ তারকা মানের নিচে কোন হোটেলে থাকতে হয়নি। কলকাতা জাদুঘর পার্ক স্ট্রিক পার্ক সার্কাস ভিকটোরিয়া মেমোরিয়াল হল। ডালহৌসি রাইটার্স বিল্ডি, হাওড়া ব্রিজ ঘুরে-ঘুরে দেখা কলে স্ট্রিটে গিয়ে শরৎ রচনাবলী গীতাঞ্জলিসহ হরেক পদের বই কেনা মিউমার্কেট দাড়িয়ে সন্ধ্যায় ফুচকা খাওয়া, এভাবে দেখতে-দেখতে পাঁচ দিন শেষ হয়ে গেল। রাজধানী এক্সপ্রেস ধরে দীর্ঘ যাত্রা- দিল্লি, দিল্লি থেকে পিস্ক সিটি ট্রেন ধরে জয়পুর, এরপর বাস চেপে আজমির। বাস থেকে নামতেই বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। মাথায় টুপি, পরনে শেরওয়ানি, ২০-২২ বছরের একদল তরুণ আমাদের নিয়ে রীতিমত টানাটানি ফেলে দিল। বউ তো ভয়ে কাঁপছে। সাহস করে একটা রিকশা ডেকে উঠেই ভাঙা-ভাঙা হিন্দিতে বললাম, মুয়াল্লেম সায়েদ রহিমের বাড়ি যাবো। রিকশাওয়ালা যখন সায়েদ রহিমের বাড়ি যাবো। রিকশাওয়ালা যখন সায়েদ সাহেবের বাড়িতে পৌঁছে দিলেন তখন রাত ১০টা। পরে জানলাম বাসস্ট্যান্ডের ও যুবকগুলো বিভিন্ন মুয়াল্লেমের এজেন্ট!। সায়েদ সাহেবের বাড়িতে আতিথেয়তার অভাব অনুভব করিনি। তারপরও সকাল হতেই বিদায় নিয়ে পাশের একটি হোটেলে চলে এলাম। মনে হচ্ছিল যেন বেঁচে গেলাম। দুপুরের মধ্যে খাঁজা বাবার জিয়ারত করে বিকেলের ট্রেনে ফিরে এলাম পিক্স সিটিখ্যাত জয়পুর। স্টেশনে নামামাত্র সেই একই অভিজ্ঞতা। জনদশেক যুবক ঘিড়ে দাঁড়ালো। একজন বলে তো ইধার আও আরেকজন বলে ওধার যাও। রীতিমত টানা-হেঁচড়ার মধ্যে পড়ে গেলাম। পাশে পুলিশের সাহায্য চাইতে গেলে পুলিশ বেটা বলে ঘাবড়াও মাত? কোনো রকমে প্রায় দৌড়ে ওঠে গেলাম আটোতে। হোটেল বলতেই নিয়ে গেল কাছকাছি। এক হোটেলে অটো ড্রাইভার লোকটা ভালোই। মনের মতো দামও কম। ট্রেনের ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানাতেই হোটেল ম্যানেজার যা বলব, তার অর্থ হচ্ছে ওই ছেলেগুলো হোটেলের দালাল। আজমিরে ওরা মুয়াল্লেমের দালাল, জয়পুরে হোটেলের দালাল। আজমিরে ওরা মুয়াল্লেমের দালাল! দিল্লি গিয়ে কোন দালালের মখোমুখি হতে হয়, সেই চিন্তা করতে করতে পিস্ক সিটির পিস্ক রঙ আর মন দিয়ে দেখাই হল না । লেখক: চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (ওয়েল গ্রুপ অব)। এসএইচ/      

নেত্রনোনার দূর্গাপুরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা(ভিডিও)

পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এক উপজেলা নেত্রকোনার দূর্গাপুর। উচু- নিচু সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পুরো এলাকা। পূর্বে কলমাকান্দা ও পশ্চিমে ধোবাউড়াসহ তিন উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াত দূর্গাপুর দিয়ে। আছে পর্যটকদের আনাগোনাও। যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু উন্নয়ন পাল্টে দিতে পারে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা। ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনার একটি উপজেলা দুর্গাপুর। পুরো এলাকা জুড়ে দূর পাহাড়ের হাতছানি আর অন্যন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। হিন্দু- মুসলিমসহ গারো, হাজং, কোচ, বানাইসহ প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস দূর্গাপুরে। একইসাথে পাশের দুই উপজেলা কলমাকান্দা ও ধোবাউড়ার অধিবাসী আর পর্যটকদের আনাগোনা আছে এখানে। কৃষিপণ্য, পাথর, কয়লা, সাদামাটি আর পাহাড়ী বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ এই এলাকা। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে আছে ভোগান্তিও। ঢাকা থেকে নেত্রকোনার জারিয়া ঝাঞ্জাইল পর্যন্ত রেল লাইন আছে।  যদিও  দূর্গাপুর আর মাত্র ১২ কিলোমিটার। এই পথটুকুতে রেল সংযোগ হলে, পাল্টে যাবে দৃশ্যপট। শীঘ্রই রেল লাইন সম্প্রসারণ করে দূর্গাপুর পর্যন্ত নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটকদের যাত্রা সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হলে সমৃদ্ধ হবে  পর্যটন খাত,  এমনি প্রত্যাশা নেত্রকোনাবাসীর।

নারীদের জন্য দ্বীপ

হারিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও মানা নেই৷ কিছু দায়বদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু তা তো কখনই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় না৷ মেয়েদের একা ঘোরার ক্ষেত্রে এখন বাধা কাটছে৷ যাবতীয় ভয় কাটিয়ে এখন একাই ঘুরতে যাচ্ছেন মেয়েরা৷ পারিবারিক বাধা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ক্রমশ কাটিয়ে উঠছেন তারা৷ কমবয়সি হোন বা বয়স্ক, বিবাহিতা হোন বা অবিবাহিতা, ভ্রমণপিপাসু অনেক মেয়েই এখন চান ঘুরতে গেলে শুধু নারীদের গ্রুপে যেতে, নয়তো একা যেতে৷ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শুধু নারীদের বিলাসী অবসর যাপনের জন্য ফিনল্যান্ড উপকুলে তৈরি হয়েছে এক নতুন দ্বীপ। ফিনল্যান্ড সাগরে এই কৃত্রিম দ্বীপ ‘সুপারশি আইল্যান্ড’-এ কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই। এর কারগর এক মার্কিনী৷ ক্রিস্টিনা রথ নামের ওই মার্কিনীর এই পর্যটন প্রকল্প শুধু নারীদের অবসর যাপনের জন্য। ভ্রমণে বেড়িয়ে নিজেকে ভুলে পুরুষ সঙ্গীর প্রতি মনোযোগ ব্যয় করেন অধিকাংশ নারী৷ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হন ক্রিস্টিনা, এর পরেই মাথায় আসে কেবলমাত্র নারীদের জন্য পর্যটন রিসোর্ট তৈরির অভিনব আইডিয়া। ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেদের প্রতি তার কোনও বিদ্বেষ নেই। তিনি ছেলে মেয়ে সবার সঙ্গেই ছুটি কাটাতে ভালবাসেন৷ তবে শুধু নারীদের জন্য একটি ভ্রমণের ঠিকানা থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি৷ যেখানে সংসার-অফিসের যাবতীয় টেনশনমুক্ত হয়ে সতেজ হওয়া যাবে৷ তাই যে সব নারী একা ঘুরতে ভালবাসেন, পকেট বুঝে ঘুরে আসুন শুধু ফিনল্যান্ড সাগরের উপরে গড়ে ওঠা এই দ্বীপটি থেকে৷ সুপারশি আইল্যান্ড রিসোর্টে থাকছে ১০টি গেস্ট কেবিন, একটি স্পা এবং বিবিধ অ্যাডভেঞ্চারের খোরাক। সেই সঙ্গে প্রতিদিন নানান ফিটনেস ও রান্নার কোর্স করার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া রয়েছে যোগা ও মেডিটেশনের ক্লাস। তাই দেরি কেন? সঙ্গে জুটিয়ে নিন গোটা চার-পাঁচেক বান্ধবী৷ আর ডানা মেলে উড়ে যান ফিনল্যান্ডের আকাশে৷ সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

কাশ্মী‌রের প্যা‌হেলগাম খ্যাত গু‌লিয়াখা‌লি বিচ [ভিডিও]

প্যাহেলগাম। ভূ-স্বর্গখ্যাত কাশ্মীরে নদী আর উপত্যকাশোভিত নয়নাবিরাম সৌন্দর্যের এক লীলাভুমির নাম। চোখ বুঝতে মন চায় না যার সৌন্দর্যে। এতো কাশ্মীরের কথা। আমরা বলছি বাংলাদেশের প্যাহেলগাম এর কথা। হ্যা, চারদিকের সবুজ শ্যামলিম রূপ দেখে কাশ্মীর ফেরৎরা গুলিয়াখালি সৈকত এলাকাকে মেলাচ্ছেন কাশ্মীরের প্যাহেলগাম-এর সাথে। এখানে বেড়াতে আসা প্রকৃতি প্রেমিদের কথা, চারদিকের সবুজ ম্যানগ্রোভ যেন সুন্দরবনের রূপ। কারো কারো মত, দেশে এমন সবুজ সৈকত আর দ্বিতীয়টি নেই। কেউ আরো এগিয়ে বললেন, এমন প্রকৃতি নেই আর পৃথিবীর কোথাও। এসব বর্ণনা আর বন্দনা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলিয়াখালি সৈকতে আসা মানুষদের। সবুজ গালিচার ন্যায় বিস্তৃত ঘাস। বিচের পাশ ঘেষে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী অসংখ্য আঁকাবাঁকা নালা। যেগুলোকে মনে হয় সবুজের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপ। যা বিচকে দিয়েছে ভিন্নতা। যা মোহিত করে ভ্রমণ পিয়াসুদের। সব মিলিয়ে প্রকৃতির হাতে গড়া নতুন বিস্ময় বলা চলে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী বিচকে। প্রতিদিন এখানে বাড়ছে সারাদেশ থেকে আসা ভ্রমণপিয়াসু মানুষের ঢল। তারাই এই বিচকে নানা বিশেষনে বিশেষায়িত করছে। করছে গুণকীর্তণ। সীতাকুণ্ড এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত। পূর্বে সুউচ্চ চন্দ্রণাথ পাহাড়। পশ্চিমে সন্দ্বীপ চ্যানেল। মাঝখানে যেন প্রকৃতির হাতে গড়া সবুজের চাদরে মোড়া গুলিয়াখালি সৈকত। যেখানে জোয়ারের সময় দেখা মেলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর গর্জন, পাশের কেওড়া বন যেন সুন্দরবনের প্রতিচ্ছবি। ফলে গত এক বছরে সীতাকুণ্ডের অন্যসব পর্যটন স্পটকে পেছনে ফেলে এখান সবার মুখে এই গুলিয়াখালীর নাম। শুধু সীতাকুণ্ডের নয়, ভ্রমণ পিয়াসু মানুষদের আকর্ষণে নানাসব উপদান থাকায় দেশের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট হতে চলেছে এই বিচ। বাংলাদেশের প্যাহেলগাম খ্যাতিপাওয়া গুলিয়াখালি সৈকতের ইতিহাস বেশি দিনের নয়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেল, মাত্র তিন বছর আগেও বর্তমান সৈকতের রূপ এমন ছিল না। এখন যেখানে সবুজের চাদরে ঢাকা, তা ছিল মাটি আর বালির সৈকত পাড়। ছিল, এখানে সেখানে নানা উচ্চতার কেওড়া বাগান। যার আশেপাশে ফুটবল খেলায় মেতে উঠতো স্থানীয় যুবক কিশোররা। ছ’ সাত বছর আগ থেকে এখানকার কেওড়া বাগানের গাছ রাতের আধারে কাটা পড়তে থাকে। কমতে থাকে গাছ। তিন-চার বছরের মধ্যে হ্রাস পায় কেওড়া গাছের সংখ্যা। বিপরীতে ক্রমান্বয়ে জেগে উঠতে থাকে নতুন সম্ভাবনা। সবুজ গালিচার ন্যায় ঘাস বিস্তৃত হয়ে সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে ওঠে উপকূলের বর্তমাণরূপ। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় অসংখ্য নালা আর গর্ত, যা দেখতে মিনি সবুজ দ্বীপ মনে হয়। ফলে তা হয়ে ওঠে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী উপকূলে দেশের জনপ্রিয় সৈকত। যাকে প্রকৃতির দান বলছে স্থানীয় মানুষ। এতসব বিবর্তন মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে।উত্তর-দক্ষিণে বিশাল মাঠ আর কিছুদূর পরপর সারিহীন গাছের বাগান। মাঝখানে আঁকাবাঁকা গুলিয়াখালী খাল। খালের উত্তরে ঘণ কেওড়াগাছের সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, যেন সুন্দরবনের আরেক রূপ। যা এই বিচকে করেছে অতুলণীয়। সবুজ ঘাসের বুকে শুয়ে বা বসে সাগরের ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শীতলতা, যে কাউকে দেবে অন্য রকম এক প্রশান্তি। উন্মুক্ত প্রান্তর জুড়াবে চোখ। যার আবেশ থাকবে বহুদিন। সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে জোয়ারের মিতালী। ঘাসের গালিছা গড়িয়ে ভাটার টানে আবার জোয়ারের পানি সাগরে মিলিয়ে যাওয়ার বিরল দৃশ্যও চোখে পড়বে এখানে। কেউ কেউ বলছে, যা আছে শুধুমাত্র এই সৈকতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণেই মূলতঃ সারাদেশে পরিচিতি পায় এই বিচ। বলতে হবে সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমণ প্রিয় শিক্ষার্থী আর তরুণদের নিয়ে গড়ে উঠা ট্যুরগ্রুপেরই কৃতিত্ব এই পরিচিতিতে। যেমন তারা ইতিপূর্বে বাঁশবাড়িয়া বিচসহ সীতাকুণ্ড পাহাড়ের বিভিন্ন ঝর্ণাগুলোও তুলে ধরেছে ফেসবুক বা ভ্রমণ ভিত্তিক ওয়েবসাইটে। তবে স্থানীয় যুবকদের দাবী ২০১৫ সাল থেকে তারাই ফেসবুকে এটার প্রচারণা করে যাচ্ছে, ক্রমেই জনপ্রিয় করেছে দেশের মানুষের কাছে। মূলত: প্রচার-প্রচারণা থেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের সব পর্যটন স্পট। ফলে সীতাকুণ্ড সদরে এখন হর হামেশা চোখে পড়ে ভ্রমণকারী ট্যুরিস্ট গ্রুপের দল। তাদের প্রায় সবাই তরুণ, তারা কোনা কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী। যা সীতাকুণ্ডের পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এখানে আসা প্রকৃতি প্রেমিরা বলছেন, চারদিকের সবুজ ম্যানগ্রোভ যেন সুন্দরবনের দৃশ্য। কারো কারো মত দেশে এমন সবুজ সৈকত আর দ্বিতীয়টি নেই। কেউ বলছেন, এমন প্রকৃতি নেই পৃথিবীর আর কোথাও। এসব বর্ণনা আর বিশেষণ সীতাকুণ্ডের অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালি বিচের, দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে আসা প্রকৃতি প্রেমী আর ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের। ফিরে আসি গুলিয়াখালি বিচে। বিচ বা সৈকতের বর্ণনায়। উপকূলীয় ভেড়িবাঁধ থেকে দশ-পনের মিনিট হাঁটতে হবে। সমুদ্রে জোয়ার থাকলে যাওয়া যাবে ইঞ্জিন বোট বা নৌকায়। সময় চার-পাঁচ মিনিট। পায়ে হাঁটা পথটা বর্ষায় বেশ পিচ্ছিল আর কাঁদাময়। সবার পক্ষে স্বাভাবিক হেঁটে যাওয়া কঠিন। পথে আছে সাঁকো আর কয়েকটা পুলও। পথের সব কষ্ট মুহূর্তেই আপনি ভুলে যাবেন, যখন পা রাখবেন সবুজ ঘাসের গালিচাময় সৈকতে। প্রকৃতির নতুন বিস্ময় বললে ভুল হবে না মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালি বিচকে। যেখানে প্রতিদিন সারাদেশ থেকে আসছে মানুষ। ভ্রমণপিয়াসুরা সৈকত দেখে মুগ্ধ হন। তারাই একে নানা বিশেষনে বিশেষায়িত করছেন। ফেনী থেকে স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে আসেন আশরাফুল। বল্লেন, বন্ধুদের মাধ্যমে জেনেছেন এই বিচের খবর। সামান্য দেখেই বলে ফেল্লেন, এমন স্থান তিনি গত দশ বছরে দেখেন নি। কাঁদাপথ মাড়িয়ে বিচে যাওয়া, সাগর থেকে জেলেদের মাছ ধরে ফেরার দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ বন্ধুকে নিয়ে আসেন তানভীর হাসান। রাতে ছিলেন সীতাকুণ্ড সদরের আবাসিক হোটেলে। সকালে চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘুরে দুপুরে গুলিয়াখালী সৈকতে। দেখেছেন অন্যরকম সমুদ্র, সমুদ্রের স্রোত আর গর্জন, যা তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মনে হয়েছে অন্য বিচের চেয়ে এটি আলাদা। তার সাথের আরেক বন্ধু ইফফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর এর শিক্ষার্থী। তার কাছে এই বিচ একেবারে ভিন্ন, যেখানে কাঁদা মিশ্রিত সৈকত। বিচের সবুজ শ্যামল পরিবেশ, মাঝখানে ক্ষুদ্রকৃতির হাজারো দ্বীপ মোহিত করেছে তাকে। আরেক দর্শনার্থী আরিফুল এসেছেন বন্ধুদের নিয়ে। তার মত, অন্যান্য বিচ থেকে এটা আনকমন। চারদিকে সবুজ গাছপালা, একই সাইজের ছোট সবুজ ঘাস, সবুজ ঘাষের বুকে ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত পুরো এলাকাকে করেছে দারুণ। তার কণ্ঠে উচ্ছারিত হলো ‘ অসাধারণ একটা জায়গা এটা।’ চট্টগ্রামের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রেসিডেন্সী ইন্টারন্যাশনাল। এই স্কুলের একদল শিক্ষিকা গুলিয়াখালীর সৌন্দর্য়ের বর্ণনা শুনে এখানে আসেন। কথা হয় শিক্ষিকা ইসরাত জাবিন চৌধুরীর সাথে। বলেন, কক্সবজারের বিচের চেয়ে এখানকার বিচ ব্যতিক্রম। এখানকার সবুজ লোকেশন কক্সবাজারে নেই। কক্সবাজারের মতো পর্যটকের ভীড় না থাকায় কোলাহলমুক্ত পরিবেশ ভালো লেগেছে, এই শিক্ষিকার। কিন্তু তার কাছে আসার পথটা নিয়ে আছে অভিযোগ। কাঁদা পিচ্ছিল পথ। সরকারের কাছে দাবী এসব সংস্কারের। তাহলে পর্যটক বাড়বে এখানে, তার আশা। একই স্কুলের গণিত এর শিক্ষিকা মুসাররাত জাবিন।ট্রাভেলারস অব বাংলাদেশ নামে একটি ভ্রমণ গ্রুপের সাথে যুক্ত। দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভ্রমণ করেছেন ভারত ও সিঙ্গাপুর। গুলিয়াখালির দৃশ্য দেখে তার মনে হয়েছে, এটি নদী-উপত্যকাশোভিত কাশ্মীরের প্যাহেলগাম এর মতো। চারদিকের সবুজ ম্যানগ্রোভ যেন আরেক সুন্দরবন। বলেন, একটি জাতীয় পত্রিকায় এখানকার বিবরণ দেখে বেড়াতে এসেছেন। সিলেটের বিছানাকান্দির রূপও আছে গুলিয়াখালি বিচে। এসব দেখে তিনি ভুলে গেছেন পথের কষ্ট, ক্লান্তি। একই স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষিকা সানজিদা হক। বল্লেন, এখানকার প্রকৃতির সাথে আর কোন জায়গার তুলনা হয় না। উচ্চসিত কণ্ঠে বললেন, যখন এখানে পা রাখি তখন কাশ্মীরের সাথে কোন পার্থক্য আমি খুঁজে পাইনি। সবকিছু এত সুন্দর, এত প্রাকৃতিক। তাঁর অভিযোগ, আসার কর্দমাক্ত যে পথ তিনি মাড়িয়ে এসেছেন, তা খুবই প্যাথিডিক মনে হয়েছে তার কাছে। তবে আসার পর প্রকৃতি দেখে সব কষ্ট ভুলে গেছেন এই শিক্ষিকা। পথ সংস্কারে প্রশাসনের নজর কামণা করেন তিনি। আরেক শিক্ষিকা। তারও অভিযোগ আসার পথটা নিয়ে। বল্লেন, ওই জায়গাটা যদি সংস্কার হতো, আরো বেশী মানুষ এখানে আসতে পারতো। দেখতে পারতো, কতো সুন্দর আমাদের দেশটা। শোয়েব ফারুকী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, যিনি ফটোগ্রাফীর জন্য ঘুরে বেড়ান নানা দেশ, তিনিও মুগ্ধ এখানকার রূপ দেখে। তাঁর কথা, আমি প্রকৃতি প্রেমী, সবুজের সাথে এই বিচ, চা-বাগান সদৃশ ইউনিক বিচ দেশেতো নয়, বিশ্বের অনেক দেশ ঘুরেও দেখিনি। তাই এটাকে এক্সপ্লোর করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব। এক কিশোরী, কাঁদাপথ মাড়িয়ে অনেক কস্টে এসেছেন মা-বাবার সাথে। তারপর তার কথা,‘জায়গাটা অনেক সুন্দর।’ তার একটাই চাওয়া, ‘রাস্তাটা যদি একটু ঠিক করা হতো।’ স্থানীয় গুলিয়াখালি গ্রামের সন্তান শাহজাহান সালেহ। থাকেন সৌদি আরবের দাম্মামে। এসেছেন ঈদে দেশের বাড়ীতে। এই বিচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণায় সরব থাকেন প্রবাসেও। তার মতে এমন বৈচিত্রময় উপকূল কোথাও মিলবে না। তাঁর ভাষায়, এখানে আছে, ছোট ছোট সবুজ অসংখ্য ম্যাক্রো আইল্যান্ড বা দ্বীপ। প্রতিটি গর্তে জোয়ারের নির্মল পানি। জোয়ারের সময় সবুজ গাছ আর পানির মিতালী পাওয়া যাবে না পৃথিবীর কোথাও। ষাটোর্ধ স্থানীয় নোয়া মিয়া। পেশায় ঠিকাদার। এই বয়সেও যেন প্রেমে পড়েছেন সবুজ শ্যামলিম গুলিয়াখালী বিচের। তিনি বলেন, এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে পর্যটক বাড়বে, বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। এ জন্য দাবী জানান সরকারের কাছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নূরুল আমিন শফি। জানান, ২০১৫ সাল থেকে এখানে পর্যটক আসা শুরু হয়। তখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এবং গ্রামের সবাই সতর্ক পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সব ব্যাপারে। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য গুলিয়খালী গ্রামের একমাত্র সরুপথটি সম্প্রসারণ, টয়লেট, ওয়াশরুম তৈরী, টিউবঅয়েল স্থাপন, বিদ্যুতায়নসহ বিচের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। সীতাকুণ্ড সামতি-চট্টগ্রাম এর সভাপতি লায়ন মোঃ গিয়াস উদ্দিন। বলেন, এই বিচ দেখে আমি মুগ্ধ। কুয়াকাটা এবং পার্কি বিচ থেকে শতগুন সৌন্দর্যমন্ডিত এই গুলিয়াখালি। যা ভ্রমণ পিপাসুদের তৃপ্তি দেবে। তাঁর আহবান, যারা দেখেননি, তারা যেন একবার বিচ ঘুরে যান। গুলিয়াখালি বিচকে সরকারী স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গত ফেব্রুয়ারীতে সীতাকুণ্ড সমিতি পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার কথা জানিয়ে বলেন, এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বাংলাদেশের অন্যতম বিচে রূপ নেবে। যাদের কক্সবাজার যাবার সুযোগ-সামর্থ্য নেই তারা এখানেই পাবেন সেই স্বাদ।  ট্যুরিস্ট পুলিশ এর এডিশনাল ডিআইজি মুহাম্মদ মুসলিম। সস্ত্রীক আসেন বিচ দেখতে। যেন রথ দেখা আর কলা বেচা। দায়িত্বের খাতিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বলেন কথা। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী শীত মৌসুমের আগেই গুলিয়াখালী, সীতাকুণ্ড ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারীতে আনার। সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামীতে সীতাকুণ্ড হতে যাচ্ছে পযটনের নতুন গন্তব্য। গুলিয়াখালি সৈকত এলাকা হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। এখন প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। পর্যটকদের যাতায়াত, নিরাপত্তাসহ আনুষাঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা। যার জন্য প্রয়োজন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা। প্রয়োজন গুলিয়াখালি সৈকতকে পর্যটন স্পট ঘেষাণা করা।

দিনে দিনে পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন (ভিডিও)

পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধার অভাব আর দর্শনীয় কিছু না থাকায় দিনে দিনে পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন। পর্যটন স্পটগুলোতে হরিণ আর বানর ছাড়া দেখার কিছুই নেই। অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনে গেলে হয়রানিসহ ধাপে ধাপে গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা। রোমাঞ্চকর অনুভূতি সাথে প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্যের হাতছানি- সুন্দরবনের পরতে পরতে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই ম্যানগ্রোভ বন- রয়েলবেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ নানা জাতের প্রাণীর আশ্রয়স্থল। কিন্তু বনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা ও কচিখালী পর্যটন স্পটগুলোতে এখন দেখার মতো নেই তেমন কিছুই। আগে বছরে যেখানে লাখ তিনেক পর্যটক আসতো, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখন সেখানে ধস নেমেছে, স্বীকার করলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ছয় হাজার বর্গমাইলের সুন্দরবনের বাস্তবতা এখন এমন যে, একবার কোন পর্যটক আসলে দ্বিতীয়বার আর আসেন না।

সুনামগঞ্জে রয়েছে শতবর্ষী পদ্মকানন বিল (ভিডিও)

জলজ ফুলের রাণী পদ্ম। নদীনালা দখল হয়ে যাওয়ায় এখন আর এ ফুল সচরাচর দেখা যায় না। শুধু কবিতা আর গল্পেই যেনো দেখা মেলে পদ্ম ফুলের। তবে সুনামগঞ্জে রয়েছে শতবর্ষী পদ্মকানন বিল। সেখানে ফুটে অজস্র ফুল। এলাকাটিকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একসময় পদ্মফুলের দেশ ছিলো বাংলাদেশ। নদী-নালায় ফুটে থাকতো লাল, সাদা গোলাপী, বেগুনী রঙের পদ্ম। দখলে-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে নদী, বিরল হয়ে উঠছে পদ্ম ফুল। তবে হাওর জনপদ সুনামগঞ্জে আজো টিকে আছে পদ্মকানন বিল। জনশ্র“তি আছে, শত বছর আগে থেকে এ বিলে পদ্মফুল ফোটে। ৭.৩৩... জায়গা জুড়ে ফুটছে ফুল। পদ্মবিল দেখতে ছুটে আসছেন দর্শনার্থী-পর্যটকরা। তবে এখানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিলটিকে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কার্যকরী উদ্যোগে পদ্মবিল হয়ে উঠতে পারে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র- এমনটা মনে করেন স্থানীয়রা।  

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি