পুলিশে ২৪,৬৭৭ নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ সরকারের
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জনবল সংকট মোকাবিলা, আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সারা দেশে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা জোরদার করতে বাংলাদেশ পুলিশে রাজস্ব খাতের আওতায় নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির তৈরি অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি সংসদীয় নথিতে উদ্ধৃত বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবলের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন পুলিশের ঘাটতি রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির পদের প্রস্তাব প্রশাসনিক বিবেচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আনুমানিক জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। তুলনামূলক বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আঞ্চলিক মানদণ্ড পূরণে দেশে এখনও প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন।
বর্তমানে অনুমোদিত মোট জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি, যার মধ্যে পুলিশের পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি এবং পুলিশবহির্ভূত পদ ১০ হাজার ৮০৯টি।
প্রয়োজনীয় জনবল ও বর্তমান অনুমোদিত পদের মধ্যে পার্থক্য অনুযায়ী, পুলিশে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন সদস্যেও ঘাটতি রয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ তুলনায় বাংলাদেশের পুলিশের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত নিয়োগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিকালীন ৪০:১ অনুপাতের মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে প্রতি ৪০০ জনের কম নাগরিকের জন্য অন্তত একজন পুলিশ কর্মকর্তা থাকে।
আঞ্চলিক তুলনায় মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জনের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান পুলিশি সক্ষমতা এবং অন্যান্য দেশের আইনশৃঙ্খলা সেবার ব্যাপ্তির মধ্যে ব্যবধান তুলে ধরতে এসব পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার উপ-পরিদর্শকের (এসআই) পদ রয়েছে। এসব প্রস্তাব বর্তমানে সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ৪০০টি সার্জেন্ট পদ এবং ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটের মধ্যে রয়েছে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্প।
ইউনিট পর্যায়ে জনবলের চাহিদা পূরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদের পাশাপাশি আরও কিছু প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব জনবলের চাহিদা নির্ধারণ করা হবে।
প্রস্তাবিত নিয়োগ ও পদ সৃষ্টির পরিকল্পনায় পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কনস্টেবল, উপ-পরিদর্শক, সার্জেন্ট ও সহকারী পুলিশ সুপারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পদও রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পুলিশের অনুমোদিত জনবল বাড়ানো এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা জোরদার করা।
তবে প্রস্তাবিত পদগুলোকে সম্পন্ন নিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারণ, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো এখনো প্রক্রিয়াকরণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ অনুমোদিত হয়ে বিদ্যমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলেও ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন সদস্যের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। সেক্ষেত্রে জনবল আরও বাড়াতে হবে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত প্রস্তাব প্রস্তুতের ওপর এ উদ্যোগের অগ্রগতি নির্ভর করবে।
দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলা এবং পুলিশের সক্ষমতা সরকারি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা আঞ্চলিক মানদণ্ডের কাছাকাছি নিয়ে যেতে অনুমোদিত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সূত্র: বাসস
এএইচ
আরও পড়ুন










