ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০, || অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

প্রধানমন্ত্রীর চাচি শেখ রাজিয়া নাসেরের কুলখানি আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫০ ২০ নভেম্বর ২০২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ আবু নাসেরের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচি শেখ রাজিয়া নাসেরের কুলখানি আজ শুক্রবার। এ উপলক্ষে আজ বাদ জুমা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পবিত্র কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

মহীয়সী নারী শেখ রাজিয়া নাসের গত সোমবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। গত ৩ নভেম্বর থেকে তিনি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার তার মরদেহ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্ব্বরের বাসায় বিপথগামী কিছু সেনাসদস্যের নারকীয় হামলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে নিহত হন শেখ আবু নাসের। তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন নাসেরের স্ত্রী শেখ রাজিয়া নাসের।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় পাকিস্তানি সেনারা শেখ আবু নাসেরের টুঙ্গিপাড়ার বাড়ি পুড়িয়ে দিলে সন্তানদের নিয়ে ঢেঁকিঘরে আশ্রয় নেন শেখ রাজিয়া নাসের। রাজাকাররা তা জানতে পেরে ঢেঁকিঘরও পুড়িয়ে দেয়। ওই সময় শেখ রাজিয়া নাসের তার শিশুসন্তান শেখ রুবেলকে ফিডারে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। রাজাকাররা ফিডারটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। কোনোরকমে সন্তানদের নিয়ে নিজের জীবন বাঁচান রাজিয়া নাসের।

শেখ আবু নাসের তার ছেলে শেখ হেলাল ও ভাতিজা শেখ জামালকে সঙ্গে নিয়ে মেজর জলিলের নেতৃত্বাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ছোট থাকার কারণে শেখ হেলাল ও শেখ জামাল মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ সরবরাহ করতেন। তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতেন। তাদের অস্ত্রের গুলি লোড করে দিতে সাহায্য করতেন। শেখ নাসের ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে এসে সুন্দরবন এলাকায় সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন।

পঁচাত্তরে খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর শেখ নাসেরকেও হত্যা করে। পরদিন ১৬ আগস্ট জাতির পিতাকে দাফন করার সময় শেখ রাজিয়া নাসের সন্তানদের নিয়ে লঞ্চে খুলনা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আসেন। কিন্তু খুনি চক্র টুঙ্গিপাড়ায় সেই লঞ্চ ভিড়তে না দেওয়ায় সন্তানদের নিয়ে লঞ্চে খুলনায় ফিরে যান রাজিয়া নাসের। ইতোমধ্যে তৎকালীন সরকার বাড়িটি সিলগালা করে রাখায় অনেক চেষ্টা করেও সেখানে ঢুকতে না পেরে বাচ্চাদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। ওই রাতেই সন্তানদের নিয়ে তিনি পাবনায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। শেখ রাজিয়া নাসের তখন প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু খুনি চক্র তাকে বাবার বাড়িতেও থাকতে দেয়নি। চাপের মুখে এক পর্যায়ে সেখানে টিকতে না পেরে পাবনাতেই দাদার বাড়িতে চলে যান রাজিয়া নাসের। কিন্তু সেখানেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হন ছেলেমেয়েদের নিয়ে। এমনকি স্থানীয় স্কুলগুলো তার ছেলেমেয়েদের ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় বড় ছেলে শেখ হেলাল উদ্দিন ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটা গ্রুপ শেখ হেলালকে তুলে আনার জন্য ক্যাডেট কলেজেও হানা দেয়। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ক্যাডেট কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষের বাধার মুখে রক্ষা পান তিনি।

পরে শেখ রাজিয়া নাসের সন্তানদের নিয়ে খুলনায় ফিরে গেলেও কষ্টকর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। বড় মেয়ে মিনা ও ছেলে শেখ জুয়েল খুলনা সরকারি স্কুলে ভর্তি হলেও জিয়া সরকারের নির্দেশে স্কুল থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়। সন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক ব্যবসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সাত সন্তান নিয়ে নিদারুণ অর্থকষ্টে পড়েন রাজিয়া নাসের। ১৯৮১ সালে তার বাড়ির সিলগালা খুলে দেওয়া হলে সন্তানদের নিয়ে তিনি সেখানে ওঠেন। ইতোমধ্যে ছেলে শেখ হেলাল ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

শেখ রাজিয়া নাসের অত্যন্ত প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তিনি সে সময় খুলনায় সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম হতেন। ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের সঙ্গে এই মহীয়সী নারীর বিয়ে হয়।

রাজিয়া নাসেরের ছেলে শেখ হেলাল উদ্দিন বাগেরহাট-১ আসনের এমপি, শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল খুলনা-২ আসনের এমপি এবং নাতি শেখ সারহান নাসের তন্ময় বাগেরহাট-২ আসনের এমপি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চাচি রাজিয়া নাসের।

১৯৭৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা লন্ডন থেকে বেবি সিটারের কাজ করে জমানো টাকা দিয়ে তার চাচি ও ভাইবোনদের জন্য শীতের কাপড়সহ প্রথম সহায়তা পাঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ছিলেন। এরপর শেখ হাসিনাও সেখান থেকে তার চাচিসহ ভাইবোনদের জন্য সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর চাচি রাজিয়া নাসের তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখেন। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অভিভাবক।
এসএ/
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি