ঢাকা, ২০১৯-০৫-২২ ৫:৩৪:১৮, বুধবার

Ekushey Television Ltd.

ফিতরা যেভাবে আদায় করবো

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:১৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

চলতি বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে কেউ ইচ্ছা করলে সর্বনিম্ন এই হার থেকে সর্বোচ্চ হারে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটি দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করেছে। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। পণ্যগুলোর স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের সময়ে সবাই এক রকম ফিতরা আদায় করতেন না। খেজুর, যব, কিসমিস, মুনাক্কা, পনির ও গম দিয়ে ফিতরা আদায় করা হতো। যার যে রকম সুযোগ ছিল তিনি সেভাবে আদায় করতেন। এতে ফিতরার বিভিন্নতা বুঝা যায়। তাছাড়া যদি সবাই এক রকম ফিতরা আদায় করতো তাহলে এক রকমেরই ঘোষণা থাকতো। তাই আমাদের জীবন যাত্রার মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে যার সঙ্গতি আছে তার উপর ভিত্তি করে ফিতরা আদায় করা উচিত।

ফিতরা বিতরণ বিষয়ে কুরআন হাদীসে আলাদা কোন খাত উল্লেখ নেই বিধায় কুরআনে বর্ণিত যাকাতের খাতসমূহে বিতরণের জন্য ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেছেন। তবে হাদীসের বর্ণনার ধারা মোতাবেক প্রতীয়মান হয়েছে যে ফিতরা আদায়ে ফকির মিসকিনের হক বেশি। যেহেতু হাদীসে বলা হয়েছে ঈদের পূর্বে তাদের কাছে এ অর্থ পৌঁছে দেয়ার কথা। এ ছাড়া বুখারীতে ইবনে ওমায়েরের এক বর্ণনায় জানা যায়, সাহাবগণ ঈদুল ফিতরের দুই একদিন আগে আদায়কারীর কাছে বায়তুলমালে ফিতরা জমা দিতেন। ইবনে আদী ও দারেকুতনীতে ‘মিসকিনদেরকে সেদিন রুজির সন্ধানে ঘুরাফিরা থেকে রেহাই দাও’ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাজা ও আবু দাউদে ইবনে আব্বাসের একটি বর্ণনায় মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা যাতে হয়ে যায় একথা তারই সমর্থন করে। এতে বুঝা যায় ফকির মিসকিনদের অগ্রাধিকার সহ বর্ণিত খাতে তা ব্যয় করলে ফিতরার হক আদায় হয়ে যাবে। ফিকহের কিতাবসমূহে যাকাতের ব্যয় খাতকেই ফিতরার ব্যয় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কুরআনে বর্ণিত ৮টি খাত : ১. ফকির, ২. মিসকিন, ৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (মন জয় করা), ৫. দাস মুক্ত করা, ৬. ঋণগ্রস্ত, ৭. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ) ও ৮. মুসাফির। আমাদের দেশে ৮টি খাতের ৪টি খাতের ব্যবহার নেই, ৪টি খাতের আছে। তা হল- ১. ফকির, ২. মিসকিন, ৩. ঋণগ্রস্ত, ৪. ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে)।

তথ্যসূত্র : মাওলানা মোফাজ্জল হকের রোজা ইতিকাফ ফিদইয়া ফিতরা গ্রন্থ।

এএইচ/



© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি