ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১, || শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮

বদলে যান ভেতর থেকেই

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:২৬, ১৭ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ১৯:২৮, ১৭ জুলাই ২০২১

আপনার দেহের প্রতিটি কোষের ডিএনএ-র মধ্যে নিরাময়ের যে তথ্যমালা সঞ্চিত আছে, আপনার প্রয়োজনীয় মনোযোগের অভাবে তা এতদিন সুপ্ত ছিল। এখন আপনি আপনার এই শক্তি সম্বন্ধে জেনেছেন। সচেতন হয়ে উঠেছেন। এবার বিশ্বাসী হয়ে উঠুন। আপনার এ বিশ্বাসই একটু একটু করে আপনাকে নিরাময়ের পথে নিয়ে যাবে। আপনাকে সুস্থ করে তুলবে।

এতদিন মনে করা হতো যে, ডিএনএ-ই হচ্ছে আপনার নিয়তি। যা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ডিএনএ-র জেনেটিক কোডে ভালো বা মন্দ যে তথ্যমালা রয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা-ই হবে। আপনার শরীরের সুখ-অসুখের যাবতীয় ব্যাপারগুলোও সে অনুযায়ীই ঘটবে। অর্থাৎ জেনেটিক বা বংশগত রোগের কোনো ঝুঁকি বা সম্ভাবনা আপনার জিন-এ থাকলে তা থেকে আর রক্ষা নেই। কিন্তু জিনবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা এতদিনকার এ ধারণা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, আপনারও কিছু করার আছে। আপনার মধ্যে যদি আকুতি সৃষ্টি হয়, আপনি যদি প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী জীবনযাপন পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেন, তবে আপনি অবশ্যই আপনার ডিএনএ-কে প্রভাবিত করতে পারবেন। এমনকি বদলে যেতে পারে আপনার ডিএনএ-র জেনেটিক কোডে সঞ্চিত তথ্যমালাও।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ডিএনএ-র মধ্যে জিনের (Gene) পাশাপাশি এপিজেনোম (Epigenome) নামক রাসায়নিক যৌগের অস্তিত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হন। তারা বলছেন, জিন হচ্ছে হার্ডওয়্যার আর এপিজেনোম হচ্ছে সফটওয়্যার। অর্থাৎ জিন প্রভাবিত হয় এপিজেনোম দ্বারা।

Why your DNA is not your destiny শিরোনামে টাইম সাময়িকীর ৬ জুন ২০১০ সংখ্যায় বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। জিনবিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে, একজন মানুষ নিজের ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থ জীবনাচার অনুসরণের মাধ্যমে তার এপিজেনোমের প্রোগ্রামিং বদলে দিতে পারে। সে অনুসারে বদলে যেতে পারে জিনের তথ্যমালা এবং শেষ পর্যন্ত তার দেহের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমও সেভাবেই পরিচালিত হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অভূতপূর্ব এই উদ্ভাবন জিনবিজ্ঞানের জগতে নতুন সম্ভাবনা ও নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।

শুধু তা-ই নয়, আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের একদল বিজ্ঞানী দীর্ঘ গবেষণার পর দেখেছেন, মেডিটেশন জিনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের মতে, গভীর শিথিলায়ন, মনছবি এবং জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপ থেকে পুরোপুরি নিরাময় লাভ করা সম্ভব। Relaxation changes genes শিরোনামে এটি প্রকাশিত হয়েছে রিডার্স ডাইজেস্ট সাময়িকীর জানুয়ারি ২০১০ সংখ্যায়।
    
লেখাটি ডা. মনিরুজ্জামান ও ডা. আতাউর রহমান এর লেখা এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারি ছাড়াই ‘হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক বই থেকে নেয়া। 
   
আরকে//
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি