সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগের সুবর্ণা ঠাকুর
প্রকাশিত : ১৯:২৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
যেখানে মনোনীতদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর। তিনি বিএনপির ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকার ২০ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষিত ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই ঘোষণার পরপরই আলোচনায় আসেন সুবর্ণা ঠাকুর (শিকদার)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তৎকালীন সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটির একটি তালিকা। ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাজ্ঞ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।
তাছাড়া তৎকালীন সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েছিলেন সুবর্ণা— এই দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোগ্রাম যুক্ত একটি ফাইল হাতে (মনোনয়ন ফরম) সুবর্ণাকে বলতে শোনা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। আমি যাতে মানব কল্যাণে কাজ করতে পারি। আমি জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগে আছি, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল। অন্য দল থেকে এসে সরাসরি মনোনয়ন পাওয়া আমাদের জন্য হতাশাজনক।’
তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুবর্ণা ঠাকুর ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম রাখা হয়েছিল আমার অনুমতি ছাড়াই। আমি কখনো সক্রিয়ভাবে ওই দলর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে আগামী ১২ মে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে প্রতি ৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে হিসাবে, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










