ঢাকা, ২০১৯-০৭-১৬ ১০:২৪:৪৩

বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

বিনা খরচে ভাতাসহ প্রশিক্ষণ, সঙ্গে চাকরির সুযোগ

 প্রকাশিত: ১৭:২৬ ১২ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৭:২৮ ১২ আগস্ট ২০১৮

দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বল্প শিক্ষিতদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) চালু করেছে সরকার। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদফতররের এ প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সাল থেকে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অন্যতম।

এখানে বিভিন্ন মেয়াদি বিনা খরচে ভাতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে ১৫০০টাকা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

চলতি মাসে নতুন কোর্সে ভর্তি আবেদন চলছে। আগামী মাসে কোর্সের ক্লাস শুরু হবে।

যে সব বিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় : চার মাস মেয়াদি ৭টি ট্রেস কোর্সে ভর্তি হয় যাবে।

১ কোয়ালিটি কন্ট্রোল সুপারভাইজর

২ মিড লেভেল গার্মেন্টস সুপারভাইজর

৩ গ্রাফিক্স ডিজাইন

৪ ইলেকট্রিক্যাল

৫ রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড পাইপ ফিটিং

৬ প্লাম্বিং এ্যান্ড ফেব্রিকেশন

৭ ওয়েল্ডি এ্যান্ড ফেব্রিকেশন

যারা ভর্তি হতে পারবেন:

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও অস্বল্প শিক্ষিত লোকেদের জন্যই বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার তেমন বাঁধাধরা নেই। অধিকাংশ কোর্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস পর্যন্ত হলেই হয়। তবে কিছু কিছু কোর্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাস চাওয়া হয়। প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচনের আগে লিখিত, মৌখিক কিংবা প্রাক্যোগ্যতা পরীক্ষা নেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের সময়:

বছরজুড়ে বাংলাদেশ-জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণে কেন্দ্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ধরাবাঁধা সময় নেই। সাধারণত একটি প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর আরেকটি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। কোনো কোর্স শুরু হওয়ার আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ওই সময় কোন কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ, কোর্সের মেয়াদ কত দিন, খরচ কত ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকে বিজ্ঞাপনে।

কোর্সের মেয়াদ:

সাধারণত কোর্স ভেদে ছয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স বেছে নিতে পারেন।

কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়:

স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের কথা বিবেচনা করেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ- জার্মান ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ রানী আখতার জাহান একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, দেশে মানুষকে করে গড়ে তুলতেই কাজ করছে বাংলাদেশ জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাজ করছে। বিশেষ করে যারা বিদেশে যান কাজের জন্য। তাদের কথা মাথায় রেখেই  এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। তবে শুধু বিদেশে নয়, এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ দেশেও স্বাবলম্বী হতে পারেন। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে হাউস কিপিং, গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজ, রেফ্রিজারেশন, এয়ারকন্ডিশনিং, টাইলস ফিটিং, ওয়েল্ডিং ও ফেব্রিকেশন, ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  

 

ভর্তির জন্য আবেদন: ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। www.bgttc.gov.bd এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আবেদন শুরু হয়েছে ২৮ জুলাই। আগামী ২৮ আগস্ট পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৯ আগস্ট। নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ক্লাসশুরু হবে। তবে ইতোমধ্যে যারা SEIP কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। তারা এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না।

আবেদন-এর সাথে কাগজপত্র জমা দিতে হবেঃ ৮ম শ্রেনী /JSC/SSC/HSC পাশ সনদের ফটোকপি। জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম সনদের ফটোকপি। ০৪(চার) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।

নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । কোর্স শেষে চাকুরি/কর্মসংস্থানের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে। ক্লাসঃ সপ্তাহে ৫দিন। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার।

ক্লাসের সময়ঃ সকাল ৯টা থেকে ১২.৩০ এবং বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত।

টিআর/ এআর

 

 

 

 

 

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

শিরোনাম