ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪৬:০৮

Ekushey Television Ltd.
বি. চৌধুরী-ড.কামালের ঐক্য প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি

যাদের সঙ্গে জনগণ নেই, তাদের আবার কিসের জোট

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৩৬ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৫৭ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। সেই মাত্রার নাম বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য। ১৪ দলীয় জোট ২০ দলীয় জোটের বাইরে এই জোট নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক পাড়া বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।

মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। এই প্রক্রিয়াকে নতুন মেরুকরণ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এর আগে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদ সভাপতি আসম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। ডাকঢোল পিটিয়ে ওই ফ্রন্ট গঠিত হলেও রাজনীতির ময়দায়ে সেটি কোনো উত্তাপ ছড়াতে পারে নি।

হঠাৎ করেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আওয়াজ উঠে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই জোট গঠনে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপি ঘরানার কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এই ঐক্য গড়ে তোলার আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও আনুষ্ঠানিক ঐক্যের ঘোষণা এখনও আসে নি। এছাড়া এই জোটে বিএনপির অন্তর্ভূক্তি নিয়ে রয়েছে মত দ্বিমত। বিএনপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য চাইলেও যুক্তফ্রন্ট নেতারা এবং ড. কামাল চাচ্ছেন জামায়াতকে বাইরে রেখে বিএনপি এই ঐক্যে আসুক। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতকে বাদ দিতে চাইছে না। এ নিয়ে এক ধরণের দরকষাকষি চলছে।

ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন জোট উপজোট ও সংলাপের প্রস্তাব করলেও এবারের জোটকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা দেখছেন ভিন্নভাবে। কেন নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে রাজনীতিতে তাদের এই সক্রিয় মনোভাব তা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক পর‌্যবেক্ষদের কেউ কেউ মনে করছেন এটা নিছক যুক্তফ্রন্ট নেতাদের নিজেদের আলোচনায় রাখার কৌশল। আবার কেউ কেউ মনে করছেন অন্য কোন শক্তির ইন্ধনে তারা নিজেদের রাজনৈতিক `ফ্যাক্টর` হিসেবে দাঁড় করাতে চাচ্ছেন।

এমতাবস্থায় বি-চৌধুরী-ড. কামালদের ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি একুশে টিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানাই। তবে দেখার বিষয় তারা কারা বা আদৌ তাদের কোনো ভিত্তি আছে কি-না? যাদের সঙ্গে জনগণ নেই, নির্বাচনে যারা জামানত হারান তাদের আবার কিসের জোট, তাদের আবার কিসের দাবি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইন প্রতিবেদক আলী আদনান।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ড. কামাল হোসেন- বি চৌধুরীদের নেতৃত্বে জোট গঠিত হচ্ছে। বিএনপি এই জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলছে। বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ কিভাবে দেখছে?

ডা. দীপু মনি: গণতান্ত্রিক কাঠামোয় যে কারো রাজনৈতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। সেই জায়গা থেকে আমিও তাদের এই জোট গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। কিন্তু দেখার বিষয় এই জোট যারা গঠন করলো তারা কারা? আদৌ তাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি আছে কি-না? খেয়াল করলে দেখবেন, এই জোটের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তারা প্রত্যেকেই অতীতে নানাভাবে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এরা অতীতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। নির্বাচন করে বিজয় লাভ তো দূরের কথা জামানত রক্ষার জন্য হিমশিম খেতে হয়। অর্থাৎ জনগণ তাদের সঙ্গে নেই বা তারা জনগণের আস্থায় নেই। সেই জায়গা থেকে তারা যাই করুক না কেন তা জনগণের জন্য কল্যাণজনক হবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত দফা দাবি দিয়েছে। সে ব্যাপারে কিছু বলবেন?

ডা. দীপু মনি: যাদের সঙ্গে জনগণ নেই তারা দাবি উথাপন করার কে? জনগণ তো তাদের সেই অধিকার দেয়নি। হ্যাঁ, তারা হয়তো নিজ নিজ পেশায় সফল। তাই বলে তাদের পেছনে জনগণের ম্যান্ডেট কতটুকু আছে সেটাও ভেবে দেখা দরকার।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এসে এই জোটকে সরকার কী চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে?

ডা. দীপু মনি: দেখুন, জিরো প্লাস জিরো সমান জিরো। সুতরাং সরকার তাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে কেন? আওয়ামীলীগ গণনির্ভর সংগঠন। জনগণের রায় এ সংগঠনের ভিত্তি।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কিন্তু বিএনপি যদি এই জোটে যায় তাহলে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছে। আপনি কী মনে করেন?

ডা. দীপু মনি: না, আমি তেমনটা মনে করি না। কারণ যারা অতীতে মানুষ পুড়িয়েছে, ভাংচুর করেছে, লুটপাট করেছে তাদেরকে মানুষ কীভাবে মেনে নেবে? আপনি বিএনপি`র কথা বলছেন। এটাতো সেই বিএনপি যাদের মদদে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, আহসানউল্লাহ মাষ্টার খুন হয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া খুন হয়েছেন, চৌষট্টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে, বাংলা ভাইদের উত্থান হয়েছে, দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। পেট্রোল বোমার রাজনীতি করতে গিয়ে নির্বিচারে মানুষ খুন পুড়িয়েছে। তারা তো সব সময় অপশক্তি। এখন জনগণ অনেক সচেতন। তাই এসব অপশক্তি কোথাও প্রভাব ফেলবে তা হতে পারেনা।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আওয়ামী লীগ কৌশল নির্ভর রাজনৈতিক দল। তৃতীয় জোটের বিরুদ্ধে সরকার কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করবে?

ডা. দীপু মনি: রাজনীতিতে কৌশল অবলম্বন করা স্বাভাবিক ব্যপার। সেটা অন্যায় কিছু না। তবে সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে তৃতীয় জোট বলুন বা বিএনপি বলুন কাউকে নিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা ঘামাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ভালোবাসায় টিকে থাকা গণনির্ভর সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। কোনো প্রতিহিংসাকে অতীতেও প্রশ্রয় দেননি এখনো দেন না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপা, আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. দীপু মনি: আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের প্রতি শুভ কামনা।

/ আআ / এআর



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি