ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রতন-রবের দ্বন্দ্বে ভাঙ্গছে জেএসডি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:২২ ১৫ নভেম্বর ২০১৯

ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলটির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা যায়। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছিল।

মূলত দলীয় নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দেয়া এবং বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ এনেই জেএসডির শীর্ষ নেতাদের দুই অংশ দুই শিবিরে ভাগ হয়েছে। এক দিকে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। অন্যদিকে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দু’পক্ষই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল (সম্মেলন), পাল্টা কাউন্সিল (সম্মেলন) আহবান করেছেন।

জানা যায়, জেএসডি ঘোষিত আগামী ২৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলকে অবৈধ ঘোষণা করে দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ দলের শীর্ষস্থানীয় ৮ নেতা বিবৃতি দেন। তাদের দাবি, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে কোনো গঠনতন্ত্র উপস্থাপিত ও অনুমোদন হয়নি। জাতীয় পরিষদের সভা ডেকে পরবর্তীতে সব ঠিক করে নেওয়া হবে বলার ৪ বছর পার করে দেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্রকে লংঘন করে ৭ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয় যা অনুমোদিত নয় ও সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক।

এ কমিটির মাধ্যমে গঠিত কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি ও দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ গোফরানকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে বহিষ্কার ঘোষণা অবৈধ, এ কাউন্সিল অগণতান্ত্রিকভাবে ব্যক্তি বিশেষের অবৈধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস ছাড়া কিছুই নয় বলেও ঐ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আবদুল মালেক রতনসহ দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি এম এ গোফরান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আতাউল করিম ফরুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া খোন্দকার, দেলওয়ার হোসেন ও মোশারফ হোসেন এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি ক্ষুব্ধ এই অংশ আগামী ১১ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন।

এভাবে চলতে থাকলে দ্বিতীয় রাজনৈতিক ধারার ভিত্তিতে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার দাবির রাজনীতির কবর হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

রতন বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র না থাকায় কাউন্সিলের কোনো বৈধতা থাকে না। আমরা বলেছিলাম, আগে গঠনতন্ত্র তৈরি হোক, এরপর কাউন্সিল করা যাবে। কিন্তু রব ভাই তা মানলেন না। ফলে আমরা নতুন করে আগে কনভেনশন করব। সেখানে গঠনতন্ত্র, মেনিফেস্টো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু চূড়ান্ত করে কাউন্সিল করব। আগের গঠনতন্ত্রকে অনুমোদন দিয়েও কাউন্সিল করা যেত। কিন্তু কোনোটিই করতে রাজি নন রব ভাই।’ 

তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য করেননি দলটির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। 

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর আবদুল জলিলকে আহবায়ক ও আ স ম আবদুর রবকে যুগ্ম আহবায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। একই বছরে ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অতিরিক্ত কাউন্সিলে ১০৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনে জাসদ তার ঘোষণাপত্রে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র তথা শ্রেণিহীন শোষণহীন কৃষক শ্রমিকরাজ প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা করে। 

১৯৮০ সালে বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রথম ভাঙনের কবলে পড়ে দলটি। এ সময় জাসদ থেকে বেরিয়ে একদল নেতা বাসদ গড়ে তোলে। ১৯৮৪ সালে আরেক দফা ভাঙ্গন হয়। ১৯৮৬ সালে কাজী আরেফ আহমেদ ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ জাসদ (ইনু) হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৯৭ সালে জাসদ (রব), জাসদ (ইনু) এবং বাসদ (মাহাবুব) এর একাংশ মঈন উদ্দিন খান বাদলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়, আ স ম রব সভাপতি এবং হাসানুল হক ইনু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে আ স ম রবের নেতৃত্বে কতিপয় নেতা জেএসডি নামে জাসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০০৪ সালে থেকে হাসানুল হক ইনু’র নেতৃত্বে জাসদ ১৪ দল গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে মহাজোট গঠিত হলে জাসদ (ইনু) মহাজোটের শরিক হয়।  অন্যদিকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জেএসডি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।

এর আগে ২০১৬ সালের ১১ মার্চ জাসদ ভাঙ্গনের মুখে এক অংশের সভাপতি হয়েছেন হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শিরীন আখতার। ঐ কমিটি ঘোষণার পর পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেয় জাসদের অন্য অংশ। এতে শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে সভাপতি, নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক ও মঈন উদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি ঘোষণা করা হয়।  

এমএস/এসি

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি