ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, || আশ্বিন ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রব্বানী হোসেনের পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠার গল্প

প্রকাশিত : ১৫:১৮ ১০ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১২:২০ ১৬ নভেম্বর ২০১৭

ছিলেন অজপাড়া গাঁয়ের দূরন্তপনা ছেলে। খেলাধূলা, হৈ-হুল্লোড় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। পড়ালেখায় ছিলেন চরম অমনোযোগী। একসময় এক শিক্ষকের ছোঁয়ায় বদলে যান রব্বানী হোসেন। একাদশ শ্রেণিতে থাকাকালে এক শিক্ষকের পরম মমতার সান্নিধ্যে আসার পরই বদলে যেতে থাকে রব্বানীর জীবন।

সেই রব্বানীই আজকের ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রব্বানী হোসেন। ডাকনাম রব্বানী খাঁন। পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিষয়ে।

সম্প্রতি ইটিভি অনলাইনের সাথে আলাপকালে বেরিয়ে এসেছে আজকের রব্বানী হোসেন হয়ে উঠার নেপথ্য কারিগরদের চিত্রও।

রব্বানী হোসেন বলেন, “ছিলাম অজপাড়া গাঁয়ের দূরন্তপনা ছেলে। পড়ালেখা করতাম ফরিদপুরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বন্ধুদের সাথে খেলাধূলা-আড্ডার ফলে পড়ালেখা খুব একটা করতে পারতাম না। আর পড়ালেখা করলে কি হওয়া যায়, তাও জানতাম না। কেবল জানতাম, এসএসসি পাশ করে পুলিশ হওয়া যায়, সৈনিক হওয়া যায়।”

“এরপর ভর্তি হই ফরিদপুরের চড়ভাদরাসন সরকারি কলেজে। সেখানে গিয়ে বদলে যেতে থাকে আমার কল্পদৃশ্যপঠ। এক শিক্ষক একদিন ক্লাসে মোটিভেশনাল কথা বলছিলেন। বলতে গিয়ে তিনি একদিন বলেন, তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হও। সেদিন প্রথম শুনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। এরপর ওনার কাছে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই। সেদিন স্যার আমায় বলেছিলেন, পড়ো তুমি পারবে। সেদিন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করি” বলছিলেন ৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত এই পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে রব্বানী খান বলেন, “ঢাকায় কেউ না থাকলেও একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হই। এর পর ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেছে নেই ভিন্ন আঙ্গিকের বিষয় “উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ” বিষয়টি। বিষয়টি বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারীদের প্রতি সমাজে এখনও বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বজুড়ে নারীরা এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নন। তাই এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই বলে বিষয়টি বেছে নিয়েছিলাম।”

তৃতীয় বর্ষ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু :

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তৃতীয় বর্ষ থেকেই পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন আমার চিত্রকল্পে ভেসে ওঠে, বলছিলেন সদ্য বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে।

তিনি বলেন, “হলের বড় ভাইরা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হতো। এ দৃশ্যটি আমায় বেশ টেনেছে। মনস্থির করি, আমিও একদিন বিসিএস ক্যাডার হবো। আর পুলিশ হওয়াটাই হলো আমার স্বপ্ন। এরপর থেকে শুরু করি প্রস্তুতি। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই সামনের দিকে।”

৩৬তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা বলেন, স্বপ্ন দেখি সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ার। স্বপ্ন দেখি দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের। কর্মজীবনে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের নেতিবাচক ধারণা বদলাতে সৎ পুলিশ অফিসার দরকার। কর্মজীবনে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যাতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে পারি সেই জন্য দোয়া করবেন।

বিসিএস পরীক্ষা সামনে রেখে পরীক্ষার্থীদের জন্য ইটিভি অনলাইনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শমূলখ লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

 

 এমজে/ডব্লিউএন

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি