ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, || পৌষ ২ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রোজার বিদায়ে ভারাক্রান্ত মুমিনের অন্তর

প্রকাশিত : ১২:০০ ৩ জুন ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৪ ৩ জুন ২০১৯

মহাপূণ্যের সওগাত নিয়ে আসা পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের পথে। মুমিন বান্দা তার অন্তরে ব্যাথা অনুভব করছেন। কেননা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রমজানের সঙ্গে ভালবাসা গড়ে উঠেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি রুটিন গড়ে তুলেছে। সেই রমজান আল্লাহর বান্দাদেরকে ছেড়ে যাচ্ছে এই ভেবেই মুমিনের অন্তর ভারাক্রান্ত।

রমজানের আজ ২৮ তারিখ। আর মাত্র একটি বা দুটি রোজা আছে। রহমত, বরকত, মাগফিরাতসহ অফুরন্ত নেয়ামতের চাঁদরে আবৃত এই রমজান বিরহে বান্দার অন্তরে কান্নার ঝড় বইছে। যদি আরও কিছু দিন থাকতো তবে রমজানের সঙ্গে মহব্বত আরও বাড়তো। অন্তর হতো প্রশমিত। মুমিনের মনে হচ্ছে রমজান এই এলো এই চলে গেলো।

রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালবাসার গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। তা অনুভব করা যায় তখনই, যখন নামাজের মধ্যে বিগলিত হয়ে দুই চোখ অশ্রু ঝাড়ছে অবিরত এবং অন্তর হয়েছে ভারমুক্ত। অন্তর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।

ইফতারের মুহূর্তগুলো পরিবারের প্রতিটি বান্দার মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই পরিবেশ অন্য কোন সময়ে পাওয়া সম্ভব নয়। পরিবারের বাহিরে মসজিদে মসজিদে ধনী-গরিব এক কাতারে বসে ইফতার করেছে। এক রোজাদার অন্য রোজাদারের প্রতি কত বিনয়ী ছিল। ভাবুন, রমজান কী ভালবাসা তৈরি করে দিয়ে গেছে?

তারাবি নামাজ বান্দার অন্তরে কোরআনের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি করেছে। খতম তারাবি আদায়ের জন্য আল্লাহর বান্দারা নামাজ শুরুর অনেক আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়েছে। ধৈর্যের সঙ্গে মহব্বতের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত শুনেছে, অন্তরে সৃষ্টি হয়েছে কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা। আল্লাহ তাআলা কোরআনের মধ্যে যেন মধু দিয়েছেন, বান্দা যত শুনছে ততো ভালো লাগছে। মনে সৃষ্টি হয়েছে- আহ্‌! কেরাতটি যদি আর একটু লম্বা হতো তবে একটু বেশি শুনতে পেতাম!

সেহরিতে ছোট-বড় সবাই অংশগ্রহণ করেছে। ছোটরা হয়তো রোজা পূর্ণ করতে পারেনি। সেহরির এই পরিবেশ সবার অন্তরে অন্যরকম ভালোবাসা সৃষ্টি করে গেছে। এই ভালোবাসা রমজান ছাড়া হবে না।

সর্বোপরি আল্লাহর বান্দারা রমজানকে ভালো ভেসে ফেলেছে। রমজান চলে যাবে এই ভেবেই মুমিনের অন্তর ভারাক্রান্ত।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের যে অনুশীলন হলো অন্য মাসগুলোতে তা বজায় রাখতে পারলেই রোজার প্রতি মহব্বত বজায় থাকবে। এই ভালোবাসা আরও দৃঢ় হবে। রোজার ভালবাসা অন্তরে জাগ্রত রেখে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবেই রমজানকে আবার পাবার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হবে।

এএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি