ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট: ৯ বছরে যুক্তরাজ্যের সহায়তা ৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২০, ২০ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গত নয় বছরে যুক্তরাজ্য ৪৬ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা) সহায়তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের এই সহায়তা বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি, মিয়ানমারের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে দেশটি।

যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডের নতুন সহায়তা ঘোষণা করেছিল। এর আওতায় খাদ্য, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি সেবা দেওয়ার কথা জানানো হয়। 

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের এক ঘোষণায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য ও রান্নার গ্যাস সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ৫২ লাখ পাউন্ড সহায়তার কথা জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘোষণার পর ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকটে তাদের মোট সহায়তার পরিমাণ ৪৪ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড ছাড়ায়।

মানবিক সহায়তা কি সংকটের স্থায়ী সমাধান?

রোহিঙ্গা সংকট কেবল শরণার্থীদের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। 

সহায়তা রোহিঙ্গাদের জরুরি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু অর্থায়নের মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারবেন।

বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও স্বার্থও বিবেচনায় রাখা জরুরি। আন্তর্জাতিক সহায়তা পরিকল্পনায় শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং পরিবেশগত চাপ মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

প্রত্যাবাসনই কি চূড়ান্ত সমাধান?

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রত্যাবাসন কার্যকর করতে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং মিয়ানমারে বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের উদ্যোগ ছাড়া প্রত্যাবাসনের পথ কঠিন থেকে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থসহায়তা বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ঐ.মিষ্টি//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি