ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

লেখক ও সমাজসেবক কালীপ্রসন্ন সিংহ’র প্রয়াণ দিবস আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪৮ ২৪ জুলাই ২০১৯

বাঙালি লেখক ও সমাজসেবক কালীপ্রসন্ন সিংহ’র প্রয়াণ দিবস আজ। তিনি ১৮ ৭০ সালের আজকের এই দিন ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পরলোক গমন করেন। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক ও সমাজসেবক।

কালিপ্রসন্ন সিংহের জন্মের সঠিক তারিখ তর্কসাপেক্ষ। কারণ ২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৮৪০ তারিখে, কলকাতা কুরিয়ারে ‘২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৮৪০ জোড়াসাঁকোর নন্দলাল সিংহের পুত্রের জন্ম অনুষ্ঠান পালন’ শিরোনামে একটি সংবাদের প্রকাশ পায়। তার জন্মের বছর সম্পর্কে বিভ্রান্তির উত্‍স এই যে, প্রথমে গবেষকরা তার মৃত্যুর ঘোষণার যে প্রমাণ পায় তাতে তিনি ১৮৭০ সালে ২৯ বছর বয়সে মারা যান বলে মনে করেন। যদিও, কলকাতা কুরিয়ারে প্রকাশিত খবর বিবেচনা করলে পরে, তার জন্ম তারিখ, ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৮৪০ এর কাছাকাছি কোথাও হবে বলে মনে হয়। কালিপ্রসন্ন উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ‘সিংহ’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন নন্দলাল সিংহ। তার পিতামহ জয়কৃষ্ণ সিংহ ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন পরিচালক। কালিপ্রসন্নের মাত্র ছয় বছর বয়সে তার পিতা মারা যান। বাবু হরচন্দ্র ঘোষ, যিনি নিম্ন আদালতের বিচারক ছিলেন, পিতার মৃত্যুর পর তার অভিভাবক হিসাবে নিযুক্ত হন।

কালিপ্রসন্ন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ হিসাবে পরিচিত, তত্‍কালীন হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালে তিনি কলেজ ত্যাগ করেন। তিনি বাড়িতেই তার ইংরেজি, বাংলা ও সংস্কৃত শিক্ষা অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি মিস্টার ক্রিকপ্যাট্রিক নামক একজন ইউরোপীয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইংরেজির জ্ঞান উন্নত করেছিলেন।
তিনি একজন লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, একজন লোকহিতৈষী, একজন সামাজিক কর্মী, এবং শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান রেখে গেছেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনকালে, কালিপ্রসন্ন অবিশ্বাস্য বহুমুখী গুণাবলীর একজন মানুষ ছিলেন। খুব অল্প বয়স থেকে তিনি অদ্ভুত স্মরণশক্তির অধিকারি ছিলেন, মাত্র একবার দেখলে কিংবা শুনলেই তিনি তা মনে রাখতে পারতেন।

সাহিত্যে তার অবদান ছাড়াও অন্য বিষয়ে, যেমন বাংলা থিয়েটারেও কালিপ্রসন্নের অপরিমেয় অবদান ছিল।

কালীপ্রসন্ন সিংহের সবথেকে বড় কীর্তি হল, তার সম্পাদনায়, আঠারো পর্ব মহাভারত গদ্য আকারে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে, যা এখনও ব্যাপকভাবে পঠিত এবং প্রকাশিত হয়। পুরো প্রকল্পটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা পরিদর্শিত হয়। এই অনুবাদটি ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৬ এর ভিতরে প্রকাশিত হয়েছিল।

এসএ/

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি