ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০, || অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

ষষ্ঠী থেকে দশমী কোন কোন রীতি পালিত হয় দুর্গা আরাধনায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৩৬ ২২ অক্টোবর ২০২০

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই দুর্গাপূজার পাঁচ দিনে একাধিক নিয়মনীতি পালনের মাধ্যমে দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠেন সকলে।

জেনেনিন ষষ্ঠী থেকে দশমী, কোন কোন রীতি পালিত হয় দুর্গা আরাধনায়-

বোধন
দুর্গা পূজা শুরু হয় ষষ্ঠীর দিন থেকে। মনে করা হয় যে, শরৎকালে দুর্গা পূজার সূচনা করেছিলেন রাম। রাবণকে পরাজিত করার জন্য দশভূজার আশীর্বাদের কামনায় তিনিই এ সময় দুর্গা পূজা করেন। বোধনের মাধ্যমেই দুর্গাকে আবাহন করা হয়। ষষ্ঠীর দিনে এ ছাড়াও আরও অন্যান্য অনেক নিয়ম-আচার পালিত হয় ও সকলকে রীতিনীতি মেনে দুর্গার আরাধনার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

নবপত্রিকা স্নান
এই রীতি বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের শিকড়ের দিকেই ইঙ্গিত করে। সপ্তমীর দিন এই রীতি পালিত হয়। এ দিন একটি ছোট কলাগাছের সঙ্গে আরও ৮টি গাছের পাতা বেঁধে তা স্নান করানো হয়। এগুলির মধ্যে কলাগাছটিই স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় বলে এই নিয়মকে অনেকে কলাবউ স্নানও বলে। ৯টি গাছের পাতা শক্তির ৯টি রূপকে তুলে ধরে— ব্রহ্মাণী (কলা), কালিকা (কচু), দুর্গা (হলুদ), কার্ত্তিকী (জয়ন্তী), শিব (কৎবেল), রক্তদন্তিকা (বেদানা), শোকরহিতা (অশোক), চামুণ্ডা (ঘটকচু), লক্ষ্মী (ধান)। সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে স্নানের জন্য নদী বা জলাশয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর লাল পাড় সাদা শাড়িতে মুড়িয়ে সেটিকে গণেশের পাশে প্রতিস্থাপিত করা হয়। 

অঞ্জলি
পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে দুর্গার প্রতি নিজের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন ভক্তরা। সাধারণত সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিনই পুষ্পাঞ্জলি হয়, তবে অষ্টমীর অঞ্জলিকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের পর হাতে ধরে থাকা ফুল-পাতা মহিষাসুরমর্দিনীর চরণে অর্পণ করার রেওয়াজ আছে।

কুমারী পূজা
অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা করা হয়। এদিন বাচ্চা মেয়েদের দুর্গার মর্যাদা দিয়ে, দুর্গারূপে তাদের পূজা করা হয়। 

সন্ধিপূজা
অষ্টমীর সমাপ্তি ও নবমীর সূচনার সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজা হয়। এই সময় দুর্গা চণ্ড-মুণ্ড বধের জন্য তার চামুণ্ডা স্বরূপ ধারণ করেন। এ সময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করা হয়। এককালে এদিন পশুবলি দেওয়া হত, তবে বর্তমানে সবজি বলি দেওয়া হয়।

ধুনুচি নাচ
এক কালে ধুনুচি নাচে পুরুষরা পারদর্শী হলেও, বর্তমানে মহিলারাও সমান পারদর্শীতার সঙ্গে এই নাচে অংশগ্রহণ করেন। নবমীর দিনে ঢাকের তালে তাল মিলিয়ে ধুনুচি নাচে মেতে ওঠেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে। হাতে ধরে তো বটেই, অনেকে মাথায় রেখে বা দাঁত দিয়ে চেপেও ধুনুচি নাচের আসর জমাতে পিছ পা হন না।

সিঁদূর খেলা
পিতাগৃহে ছুটি কাটিয়ে দশমীর দিন পতিগৃহে রওনা দেওয়ার আগে উমাকে বরণ করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। দশমীর দিন দুর্গাকে সিঁদূরে রাঙিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে, পান, ধান, দূর্বা দিয়ে বরণ করা হয়। উমার বরণের পরই সধবা মহিলারা মেতে ওঠেন সিঁদূর খেলায়।

বিসর্জন
উৎসবের পর এবার বিদায়ের পালা, সময় কৈলাস গমনের। বনেদি পরিবারের দুর্গার মূর্তি কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার চল এককালে থাকলেও, বর্তমানে ট্রাকই ভরসা। এর পর নদী ধারে পৌঁছে নৌকায় করে মাঝ নদীতে নিয়ে গিয়ে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

বিজয়া
শারদীয়া উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করে বিজয়া। বিজয়ার দিনে ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়। সমবয়সিরা কোলাকুলি করে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয়। মিষ্টির আদানপ্রদানও হয় এ সময়।
এসএ/
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি