ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯, || কার্তিক ২৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

সফল দাম্পত্য জীবনের ৫৫ বছর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১২:৪০ ৪ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪৮ ৪ অক্টোবর ২০১৯

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং রাশিদা হামিদ দম্পতির আজ ৫৫তম বিবাহবার্ষিকী। ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়। তাদের সম্পর্কটা ছিল প্রেমের।

আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদ যখন এইচএসসিতে পড়ছেন তখনই তাদের বিয়ে হয়। যদিও বিয়েটা খুব একটা সহজ ছিল না তাদের। প্রেমের সম্পর্ক, তার উপর রাজনীতি করা বোহেমিয়ান ছেলে, কিছুতেই বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না রাশিদা হামিদের মামা-খালারা। কিন্তু তাতে কি? ইতিমধ্যে দুজনের মন সবার অন্তরালে বাঁধা পড়ে গেছে। তাই পরিবারের সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। উভয় পরিবারের সম্মতি নিয়ে তারা হয়ে ওঠেন আদর্শ স্বামী-স্ত্রী।

নিজেদের সুখী দাম্পত্য জীবনের গল্প গণমাধ্যমকে জানালেন রাশিদা হামিদ। বললেন, ‘স্বামী রাজনীতি করেন। কিশোরগঞ্জে একটি ছোট বাসায় থাকতাম। গ্রামের বাড়ি থেকে ছোট ছোট অনেক দেবর আর ভাগ্নে আসে বাসায়। লেখাপড়া করে এখানে থেকে। তাদের কেউ পঞ্চম শ্রেণিতে, কেউ ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সারাদিন বাসায় লোকজন। তাদের চা-নাশতা দেওয়া, পরিবারের লোকজনের জন্য রান্না, খাওয়ানো সব সামলাতে হতো আমাকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের পর হঠাৎ এমন অবস্থায় পড়লাম, কোনো অবসর ছিল না। নিজের দিকে খেয়াল রাখার সুযোগ ছিল না। টানাপড়েনের সংসার। দিনে দিনে সংসার বড় হতে থাকে। ছন্দপতন ঘটে নিজের লেখাপড়ার। তারপরও হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাই। গভীর রাতে একটু একটু করে পড়ি। এভাবেই এইচএসসি। স্বামী আর বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তার সুযোগ পাইনি। তবে আমার স্বামী মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি অতিশয় সহজিয়া ও সৎ রাজনীতিক। এ জন্য তিনি যে একদিন ভালো করবেন- এ বিশ্বাস সব সময় ছিল আমার।’

রাষ্ট্রপতি পত্নি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামে গ্রামে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে আমাকে। ডাকাতরা কেড়ে নেয় সবকিছু। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সন্তানদের মুখে সময় মতো খাবার তুলে দিতে পারিনি। মেলেনি প্রয়োজনীয় কাপড়। তবে থেমে থাকিনি। স্বামীকে রাজনীতির কারণে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। থেমে থাকিনি তখনও।’

তিনি বলেন, ‘স্বামী জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছেন সাতবার। সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও পরপর দু’বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। কারণ আমাদের প্রেমের বিয়েতে পরিবারের কারও কারও অমত ছিল। পরে তারা সবাই আমাদের দু’জনের সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করে মেনে নেন বিয়েটা। সেই থেকে দু’জন একসঙ্গে, একপথে দীর্ঘ ৫৫টি বছর।’

একুশের পরিবারের পক্ষ থেকে এই সুখী ও সফল জুটির প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।
এসএ/

 

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি