ঢাকা, শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯, || কার্তিক ৪ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

হামদর্দের এমডির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:০৯ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ১৯:৫৭ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউছুফ হারুনের বিরুদ্ধে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন এসংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

সংগঠনের উপদেষ্টা সুফি সাগর শামস বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে হঠাৎ একদল লোক মিলনায়তনে ঢুকে ফেস্টুন হাতে আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে।  তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের ‘প্রতারক-চিটার’ আখ্যায়িত করে স্লোগান দেয়। 

এছাড়া তাদের ফেস্টুনে লেখা ছিল, প্রতারক সুফির বিচার চাই’, ‘সুফি সাগরের ফাঁসি চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় প্রতারক সুফির ঠাঁই নাই’।

এসময় তারা সাংবাদিকদের হাতে একটি লিখিত বক্তব্য ধরিয়ে দিয়ে সাগর সামসকে নানা প্রশ্ন করতে বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে থাকা সাগর শামসের লোকজন এ সময় ফেস্টুনধারীদের পরিচয় জানতে চান এবং তাদেরকে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করতে বলেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ফেস্টুনধারীদের একজনকে ধরে সাগর শামসের লোকজন পিটুনি দেয়। অন্যারা তখন তাকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে আবারও দু’পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ মারামারি চলে।

এক পর্যায়ে সাগর সামসকে মারধর করতেও এগিয়ে যান বহিরাগতরা। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সাংবাদিক পরিচয়ে বহিরাগতরা তাদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেয় এতে। পরে উপস্থিত সাংবাদিক ও ডিআরইউ’র কর্মচারীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

এ সময় সাংবাদিকরা ফেস্টুনধারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

সুফি সাগর সামস এ ঘটনার জন্য ইউছুফ হারুনকে দায়ী করে বলেন, ‘এই হামলাকারীদেরকে ইউছুফ হারুন পাঠিয়েছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করতে চেয়েছিল। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলা করে ইউছুফ হারুনের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করা যাবে না। 

পরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একাত্তরে লক্ষীপুরের রায়পুরে রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ইউছুফ হারুন। তার নির্দেশে চার শতাশিক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। ইউছুফ হারুনের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

সাগর শামস বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও ইউছুফ হারুনের মত রাঘব-বোয়ালদের নাম রাজাকারের তালিকায় না আসাটা দুঃখজনক।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি প্রতিষ্ঠান বিজি প্রেসকে বিভ্রান্ত করে একটি গেজেট প্রকাশ করে নিজেকে হামদর্দের আজীবন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চিফ মুতাওয়াল্লি এবং তার অবর্তমানে তার উত্তসূরিদের স্থলাভিষিক্ত হবেন মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সাগর সামস, রায়পুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের রেকর্ড (ভিডিও) করা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইউছুফ হারুনের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। 

প্রসঙ্গত, সাগর সামসের অভিযোগের সূত্র ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইউছুফ হারুনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে। দুদক ইউছুফ হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ইউছুফ হারুন ও হামদর্দের অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। 

সাগর শামসের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে হামদর্দের এমডি ইউছুফ হারুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি