ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৪৭:৪৬

মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের ত্যাগ বেশি: তসলিমা নাসরিন

মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের ত্যাগ বেশি: তসলিমা নাসরিন

মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের ত্যাগ বেশি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আজ মঙ্গলবার ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে এ মন্তব্য করেন। বিতর্কিত লেখিকা তার স্ট্যাটাসে লেখেন, আমার এক বন্ধু গাড়িতে বসেও ভগবানের নাম জপে। প্রতিদিন সকালে চান সেরে পুজো করতে বসে। নবরাত্রি চলছে, প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে পুজো করছে, ব্রত পালন করছে, ফল আর জল ছাড়া আর কিছু খাচ্ছে না। ‘এমনিতে শনি-বৃহস্পতিবার আর মঙ্গলবার মাছ-মাংস খায় না। কিছু দিন পরপরই অবশ্য মাছ-মাংস বন্ধ থাকে। একবার বলে পিতৃপক্ষ চলছে, মাছ-মাংস চলবে না, আরেকবার বলে শাওন মাস চলছে- পুরো শাওন মাস মাছ-মাংস বন্ধ। আবার বলে- পুজো এসে গেছে, মাছ-মাংস তো বন্ধই, তবে সবজি চলবে; কিন্তু পেঁয়াজ-রসুন বাদ দিয়ে।’ তসলিমা বলেন, সারা বছর এই ব্রত সেই উপোস লেগেই আছে। বন্ধুটি কিন্তু কোনো গেরুয়া পোশাকের সন্ন্যাসী নয়। রীতিমতো আধুনিক পোশাক পরা সাংবাদিক, যাকে লোকে প্রগতিশীল বলে গণ্য করে। স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন- মাঝেমধ্যে ভাবী, মুসলমানরা প্রচণ্ড আরামে আছে, সারা বছর মোগলাই খান, ননস্টপ খেয়েই যাচ্ছে। বছরে এক মাসের জন্য একটা উপোসের মাস আসে বটে, ওই মাসটায় সবচেয়ে বেশি ভোজন চলে। মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুদের ত্যাগ যে কী ভয়াবহ, না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ‘দুর্গম পাহাড়ে উঠছে মন্দিরে যাওয়ার জন্য। মাইলের পর মাইল হেঁটে গঙ্গাজল কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে দূরের মন্দিরে। সারারাত নদীর জলে কোমর অবধি ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে ধরে রাখে ফলমূলের ঝুড়ি, সূর্য দেবতা যেন খুশি হন। ভগবানকে পেতে গুরু ধরে এরা, গুরুরা ঠকিয়ে সর্বনাশ করে। আর কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় মুসলমানদের মতো এত ভোগ বিলাসী নয়।’ একে//
‘কিছু গল্প অবাঙমুখ’ এর বাঙময় পাঠ-অনুভূতি

বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী বিভাগ হলো ছোটগল্প। যুগে যুগে কত শত সহস্র গল্প কতভাবেই না বলা হয়েছে তবু ছোটগল্পের আবেদন ফুরায়নি। ফুরাবেও না আশা করা যায়। ক্ষুদ্র বা ছোট পরিসরের মধ্যে জীবনের সবচেয়ে গভীর ও নিগুঢ়তম অনুভূতির ব্যাপ্তি এই ছোটগল্পের মাধ্যমেই পাওয়া যায় বলেই হয়তো ছোটগল্পের আবেদন শাশ্বত। সমকালীন গল্পকারদের মধ্যে অনেকেই বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এই শাখাটিতে প্রগাঢ় নিষ্ঠা ও বিপুল গৌরবের সাথে বিচরণ করছেন। তাদের সহযাত্রী হিসেবে পথচলার আত্মপ্রত্যয়ে গল্পকার নিবেদিতা আইচের প্রথম গল্পগ্রন্থ `কিছু গল্প অবাঙমুখ` প্রকাশিত হয়েছে সদ্য প্রকাশনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ‘পেন্সিল পাবলিকেশন্স’ থেকে। এই গল্পগ্রন্থের ভূমিকায় গল্পকার বলেছেন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের পর্যুদস্ত গল্পেরা কথকের মুখে অস্ফুটে উচ্চারিত হয় বলে এই গ্রন্থের গল্পগুলো অবাঙমুখ। তবে আমার আমার কাছে এক কথায় বইটি পাঠের অনুভূতি হলো, জীবনের বহুমাত্রিকতার গল্প বারবার বাঙময় হয়ে উঠেছে গল্পকার নিবেদিতা আইচের এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বইটি পাঠের অনুভূতি জানানোর তাগিদ অনুভব করছি।                                                                                                 নিবেদিতা আইচ পার্থিব জীবনের চিরচেনা নিক্তিতে যেসব অনুভূতির সূক্ষ্মতা পরিমাপ করা দুষ্কর সেসব অনুভূতির গল্প খুঁজে পাই কিছু গল্প অবাঙমুখে। বিশেষ করে এই বইয়ের `আমাদের পুরনো ছাদ` গল্পটি পাঠকের মনোজগতকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করবে। নিঃসন্দেহে এই গল্পটি এই বইয়ের অন্যতম সেরা গল্প। বাঁকা হতে হতে আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে তবু আমাদের কোনোদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমাদের মৃত স্বপ্নের মাঝে আমরা সাড়হীন বিকলাঙ্গ প্রাণির মতো পড়ে আছি। স্বপ্ন আর আলোহীন জীবন মৃত্যুরই নামান্তর। একসময় আমাদের একটা ছাদ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল, এখন আমরা আমাদের পুরনো ছাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগে ভুগে স্বপ্ন ছোঁয়ার সকল সাধ বিসর্জন দিয়ে কোমর বাঁকা করে হাঁটি। এই গল্পগ্রন্থের রূপকাশ্রিত গল্প ` আমাদের পুরনো ছাদ` গল্পটি খুব আটপৌরে ভাষায় শুরু হলেও ক্রমে ক্রমে তা গোটা বাংলাদেশের রূপ ধারণ করে বৃহৎ একটি গল্প হয়ে উঠেছে। এই গল্পের সমাপ্তিতে মনের ভেতরে একটি প্রশ্নের গুঞ্জন চলতেই থাকে-আমি বা আমরা কি সত্যিই মেরুদণ্ডহীন? এখানেই হয়তো গল্পকারের সার্থকতা। পত্রসাহিত্য বরাবর বুকের ভেতরে ঢেউয়ের তোলপাড় তোলে, স্মৃতিকাতর করে। আবলুশের দেরাজে বন্দি একটি চিঠি আর বইয়ের ভাঁজ থেকে পনেরো বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া একটি চিঠি-এই দুটি চিঠি নিয়ে দুজন মানুষের গল্প `অকালবোধন।` যখন বাতিঘরকে সম্বোধন করে ছন্দার চিঠি পড়ছি তখন ক্যাফে রোজ্জোতে ম্লানমুখে অপেক্ষারত একটি মায়াবী মুখের জন্য বুকের ভেতরে মুচড়ে উঠেছে। আবার মধুছন্দার চিঠির জবাবে এত বছর পর বাতিঘরের যে প্রতিউত্তর এলো সেই চিঠির গন্তব্যহীনতা একইভাবে তোলপাড় তুলেছে বুকের ভেতর। `পাপস্নান` গল্পটি শুরু হয়েছে আমাদের খুব চেনা একটি চরিত্রের দিনলিপির বর্ণনা দিয়ে। মেসে রান্না আর ফ্লাটবাড়িতে ছুটা বুয়ার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সুফিয়া। একদিন ও কাজে গেলে ওর নয় বছরের মেয়ে আদুরিকে ধর্ষণ করে নরপশুর দল। পুলিশী হাঙ্গামা এড়াতে বস্তির মালিক এরপর ঘর ছাড়তে বলে মা-মেয়েকে। মেয়ের নিরাপত্তার চিন্তা আর ট্রাকচালক নেশাখোর স্বামীর নির্লজ্জ নিষ্ঠুরতায় দিশেহারা সুফিয়া পাপস্নানে সিক্ত হয়ে নিজের আর নিজের সন্তানের জন্য আলো খোঁজে। বাস্তবতার নিরিখে নির্মিত এই গল্পটি বেশ পরিণত।                                                                                                    সাদিয়া সুলতানা অভাবের সাথে কি ভাগ্য বিড়ম্বনার নিগুঢ় কোনো সংযোগ আছে? গল্পকার যখন লেখেন, `দুলি এত শক্ত শক্ত কথা মনে রাখতে পারে না। রোগের যত নামই হোক না কেন গরীবের জন্য সবই এক আর তা হলো ওই জঠর যাতনা। দুলি তাই এসব মনে রাখে না। ডাক্তার বলে খালি পেটে অমুক ওষুধ আর ভরাপেটে তমুক খেতে হবে, দুলি ভাবে তাদের আবার ভরাপেট আর খালিপেট! এমন কোনো ওষুধ কি আছে যাতে এই ক্ষুধা তৃষ্ণা মিটে যাবে আজীবনের জন্য?’ তখন নিষ্ঠুর ছকে বাঁধা জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম গল্পের আভাস পাই। বানের পানির দুর্ভোগের সাথে চিত্রিত সন্তানসম্ভবা দুলিকে নিয়ে লেখা `বান` গল্পটি ভালো লাগার বোধের চেয়ে মনে বিষাদের বান উসকে দেয়। দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার মনস্তত্ত্ব নিয়ে লেখা `দ্বিতীয় জন্ম` গল্পটি ঠিক নিটোল প্রেমের গল্প না। যদিও একজন প্রেমিকের নিপাট ভালোমানুষির গল্পও হয়ে উঠতে পারতো এটি। যা হয়তো অবাস্তবও মনে হতো পাঠকের কাছে। যৌন হয়রানি নিয়ে লেখা এই গল্পটি প্লট সাজানোর দক্ষতার কারণে শেষ পর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। `নির্জনার অহর্নিশ` গল্পের ছকটি খুব চেনা। ভাগ্যবিবর্জিতা নারী বিভার জীবনের নানা সংকটের মাঝে হুট করে উঁকি দেয়া ভাগ্যরেখাটি পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে মামুলি মনে হলেও পিতাকে অবলম্বন করে সন্তানসুখে বিভোর বিভার গল্পটি পাঠক হিসেবে আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। মুক্তিযোদ্ধা আবিদের ডানহাতের তিনটে আঙুল আর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ কেটে ফেলতে হয়েছিল। লড়াকু আবিদ তবু বেঁচে ছিল। আবিদের পত্রমিতা রিনা। রিনার জন্য বুকপকেটে আবিদের চিঠি নিয়ে যায় গল্পকথক। সেই চিঠি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধদিনের খণ্ডচিত্র। চিঠিটি পড়তে পড়তে চোখ ভিজে আসে, মনের মাঝে কিছু প্রশ্ন উঁকি দেয়। জীবনভর আমরাও এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরি। রিনা, আবিদ বা গল্পকথকের কাছেও হয়তো সেসব প্রশ্নের অজানা। মুক্তিযুদ্ধের গল্প `বুকপকেটে মৌসন্ধ্যা` এই বইয়ের একটি শক্তিশালী গল্প। যুদ্ধোত্তর কালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গল্প লেখার মতো কঠিন কাজটি দক্ষতার সাথেই করেছেন লেখক। `ক্যানভাস আর নিকোটিনের গল্প` গল্পটির ক্যানভাস ছোট কিন্তু ব্যাপ্তি বড়। `পাণ্ডুলিপি` গল্পটির গল্প ছাপিয়ে গেছে গল্পটিতে ব্যবহৃত কবিতার সৌন্দর্য। তাই এই গল্পটি দারুণ একটা গল্প হবার আশা জাগিয়েও দপ করে নিভে গেছে। এই গল্পটি ছাড়াও `মৃত নদীর জীবন`, `মমতাজ মহল` গল্প দুটোতে লেখকের আরেকটু সময় নেয়া জরুরি ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। পরিশেষে নতুন প্রকাশনী ‘পেন্সিল পাবলিকেশন্স’ এর সকল শুভ উদ্যোগের জন্য শুভকামনা রইল এবং যেই বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে `কিছু গল্প অবাঙমুখে`র মাধ্যমে গল্পকার নিবেদিতা আইচের যাত্রা শুরু হলো তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক সেই স্নেহাশীর্বাদ রইল। গল্পগন্থ `কিছু গল্প অবাঙমুখ`গল্পকার `নিবেদিতা আইচ`প্রকাশনী-পেন্সিল পাবলিকেশন্স টিআর/

‘আমার বোন আপ্যায়নের বেলায় প্রাচীনপন্থী’

আলোচিত-সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বিতর্কিত এই লেখিকা এখন ভিন দেশে। তবে সেখান থেকে নিয়মিত দেশের খবর রাখেন, দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কলম ধরেন। নিজের ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ করেন নিজের মনের কথা। যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়। লাইক, মন্তব্য ও পাল্টা সমালোচনায় ভরে ওঠে কমেন্ট বক্স। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল তিনি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি লেখেন- ‘আমার বোন আপ্যায়নের বেলায় একেবারেই প্রাচীনপন্থী। আমার মা`র মতো। ওর কাছে থাকলে দু` সপ্তাহে দশ পাউণ্ড ওজন বাড়ে আমার। এক মাসে কুড়ি পাউন্ড। কোনো এককালে মিষ্টি পছন্দ করতাম বলে আমাকে প্রতিদিন দশটা করে মিষ্টি খাওয়াবে। কবে একদিন দেখেছে একটি তেলেভাজা পছন্দ করে খেয়েছি। ব্যস, সারাদিন রান্নাঘরে আমার জন্য এটা ভাজছে, ওটা ভাজছে। একদিন চিপ্সে একটা কামড় দিয়েছি, অমনি দশ প্যাকেট চিপ্স কিনে আমার পাশে সাজিয়ে রেখেছে। কত বলি আমার ডায়বেটিস, কে শোনে কার কথা। আমার মাও নানার ডায়বেটিস জেনেও নানাকে মিষ্টি খাওয়াতো। এই যে আমার বোন প্রতিবারই দশ পাউণ্ড কুড়ি পাউণ্ড বাড়িয়ে দেয় আমার ওজন, এসব কমাতে আমার যে জান বেরিয়ে যায়, তা কি সে দেখে?’ এই স্ট্যাটাসের কমেন্ট বক্সে কেউ লিখেছেন, ‘অতীতের সেই খাওয়া দাওয় তোমাকে বিচলিত করছে।এখন হয়তো কেউ আদর করে আর বলে না,এসো আর একটু খেয়ে নাও।এটাই হয়তো জীবনের চলার পথে খন্ডচিত্রের মত এক একটা গল্পগাথা। ভাল থেকো যতদিন থাকা যায় ভাল।’ আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, ‘ভালবাসার আ‌রেক নাম বিড়ম্বনা। বিপদ বল‌লেও ভুল হ‌বে না। ত‌বু বিপদমাখা এ ভালবাসার বিকল্প কোথাও পা‌বেন না। মা নেই। এটা বড় বো‌নের প্র‌তি যে ছোট বো‌নের মাতৃভ‌ক্তি বৈ আর কিছু নয়।’ উল্লেখ্য, এর আগে একটি স্ট্যাটাসে এই লেখিকা লেখেন- ‘বাংলাদেশ ছেয়ে গেছে হিজাবে, বোরখায়। আমি অবাক হবো না যদি এখন এমন আইন তৈরি করা হয়, আপাদমস্তক বোরখায় না ঢেকে বাড়ির বাইরে বেরোনো মেয়েদের জন্য নিষেধ। অবাক হবো না যদি দেখি বোরখায় আপাদমস্তক না ঢেকে বেরোলে সৌদি আরবের মতো পুলিশ চাবুক মারবে মেয়েদের, অথবা জেলে ঢুকিয়ে দেবে।’ এসএ/  

‘যে জলে আগুন জ্বলে’বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

প্রখ্যাত কবি হেলাল হাফিজের ‘যে জলে আগুন জ্বলে ও শিশুসাহিত্যিক শিবুকান্তি দাশের ছড়া-কবিতাগ্রন্থ ‘আমি নাকি দুষ্টু ভীষণ’ দুটো গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহাবাগের পাঠক সমাবেশে মোড়ক উন্মোচন করেন জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদা। কবি নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক কবি আসলাম সানী,সুজন বড়ুয়া, আলম তালুকদার । কবি নূরুল হুদা বলেন, কবিতায় দেশের কথা মানুষের অন্তরের গভীরে থাকা না বলা কথা গুলো তুলে আনতে না পারলে সার্থকতা কোথায়। বিশ্বচরাচর সর্স্পকেও কবির তীক্ষ্ন থাকা চায়। আমি নাকি দুষ্টু ভীষণ বইটি সর্ম্পকে বলতে গিয়ে কবি নূরুল হুদা বলেন, ছোটদের জন্য লেখা বড়দের লেখার চেয়েও কঠিন। এ কাজটি শিবুকান্তি দাশ অনেক বছর ধরে করে আসছে। সে জানে ছন্দের তাল। কোথায় তা দোলাতে হবে। অন্য দেশ থেকে ছড়ার বই প্রকাশ করা অনেক সম্মানের। শিবু অনেক দূর যাবে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকাতার স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘উতল হাওয়া পাবলিশাসে’র কর্ণধার কবি ও গবষেক উল্লাস চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান পরচিালনা করনে কবি মনিরুজ্জামান পলাশ।অন্যদের মধ্যে স্বরচতি লখো পাঠ ও কথা বলেন, শিশুসাহিত্যিক আহসান মালেক, হুমায়ূন কবীর ঢালী, আবদুল মান্নান, শীলাব্রত বড়ুয়া,অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব, মালেক মাহমুদ,এম আর মনজু, মোশতাক রায়হান, মুরাদ চৌধুরী প্রমুখ এসএইচ/

আমি সংখ্যা ভুলে যাই

আমার কোন শৈশব ছিল না। থাকলেও আমার মনে পড়ে না। শৈশবের কোন সুখস্মৃতি আমার মনের কোণে ভেসে উঠে না। চারপাশ রাঙানো কোন মধুর স্মৃতি আমাকে আলোড়িত করে না। শৈশবে আমার কোন বন্ধু ছিল না। তবে ছিল এক রোমাঞ্চকর অজানা জগৎ। সে জগৎ ছিল সবুজ গাছ আর পাখপাখালিতে ভর্তি। চারপাশে শুধু সবুজ গাছ আর গাছ, পাখি আর পাখি। ভরদুপুরে গাছের রাজ্যে হারিয়ে যেতাম, শুনতাম পাখির গান, হাজারো পাখির গান, তারাই ছিল আমার বন্ধু। আমি আনমনে হেঁটে বেড়াতাম এক বাগান থেকে অন্য বাগানে, হারিয়ে যেতাম সবুজে, সে যে কি এক অবর্ণনীয় স্বর্গীয় সুখ বলে বুঝানো যাবে না! খুব রূপকথার গল্প পড়া হয়নি ছেলেবেলায়, হাতের কাছে পাইনি বলে, কিন্তু আমি ঘুরে বেড়াতাম ‌“অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড”-এর মতোই সবুজ ঘন বাগানে। খরগোশ অবশ্য ছিল না সেখানে। ছিল হাজারো পাখি, তাদের কিঁচিরমিঁচির ডাক, মা আর বাচ্চা পাখিদের উড়োউড়ি খেলা, শিমুল তুলা উড়তো বাতাসে, রক্তলাল শিমুল ফুল, বাতাসে ভেসে বেড়ানো নরম সাদা তুলো আর সবুজে ঢাকা চারপাশ। আমি তন্ময় হয়ে থাকতাম, হারিয়ে যেতাম অজানা অন্য এক জগতে, যেখানে আমি, রক্তলাল শিমুল ফুল, বাতাসে ভেসে বেড়ানো নরম সাদা তুলো, মা পাখি আর তার বাচ্চারা আর সবুজ বৃক্ষরাজি ছাড়া আর কেউ নেই। সবুজের বাইরের ওই জগৎ আমার নয়,আমিও কেউ নই ওই জগতের। শৈশবের কোন সুখস্মৃতি আমার মনে পড়ে না, শুধু মনে পড়ে -নিবু নিবু আলোয়, অন্ধকার ঘরের কোণায়, যেখানে আমার শোবার খাট, পাশে তিন ভাইবোনের একমাত্র পড়ার টেবিল, খাট পেয়েছি বলেই আমার ছিল না কোন চেয়ার, খাটে বসলেই টেবিল, তখন পড়া আর পড়া, “আলস্য দোষের আকর”, “ইক্ষুরস অতি মিষ্ট”, “উর্ধ্বমুখে পথ চলিও না”, “গুরুজনকে কর নতি”। শৈশবের একটা স্মৃতি কেবলই মনে পড়ে। বুলু স্যার-আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক, যিনি আমাদের ঘরে লজিং মাস্টার হিসেবে ছিলেন, আধবোলা যশোরের মানুষ, যত্ন করে পড়াতেন আমাকে -বাজার থেকে এক হালি ইলিশ মাছ কিনে আনলেন। মাছ ছাড়া ভাত খান না মা, ইলিশ হলে তো কথাই নেই। মাছ ভাজা হচ্ছে, হলুদ আর লবণ মাখানো ইলিশের টুকরো গরম তেলে পড়ার ‘চিড়বিড়ে’ শব্দের গতির সাথে বাড়ছে উচ্চস্বরে পড়ার গতিও,“আলস্য দোষের আকর”, “ইক্ষুরস অতি মিষ্ট”, “উর্ধ্বমুখে পথ চলিও না”, “গুরুজনকে কর নতি”। মা বলতেন, “বাবা, ইশ্বরচন্দ্রের মতো হও, নদী পাড়ি দিয়ে অসুস্থ মাকে দেখতে এসেছেন।” আহারে! মাকে দেখতে কতদিন বাড়ি যেতে পারি না। আমার কেবলই মনে হতো বায়েজিদ বোস্তাামীর মতো পানির গ্লাস হাতে আমি সারারাত দাঁড়িয়ে আছি, মা কখন জাগবেন, পানি খাবেন। সবাই বলতো ইশ্বরচন্দ্র কত্তো মেধাবী, শুধু কয়েকটা মাইলপোষ্ট দেখেই এক থেকে একশ পর্যন্ত শিখে ফেলেছেন। আমার খুব হিংসে হতো, আমি পদ্মা বাজার থেকে রামগঞ্জ পর্যন্ত যাওয়ার পথে বারবার শুধু মাইলপোস্টের দিকে তাকাতাম। মাইলপোস্ট দেখলে এখনো বিদ্যাসাগরের কথাই মনে পড়ে। আমি সংখ্যা ভুলে যাই। মা কিন্তু বিদ্যাসাগরের মেধার কথাটা কখনো বলতেন না। হয়তো জানতেনও না। শুধু তার মাতৃভক্তির কথাটাই জানতেন। আমি কল্পনায় দেখতাম, বিদ্যাসাগর বাবার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন আর জিজ্ঞাসা করছেন, “বাবা, এটা কত?”, বাবা বলতেন, “এটা ১”, “বাবা,এটা কত?”, “এটা ৯”, বিদ্যাসাগর বলতেন, “বাবা, এটা ১ দশ ১, এগারো”, বাবা বলতেন, “এটা ৯ দশ ৯, নিরানব্বই”, বিদ্যাসাগর বলতেন, “বাবা, এটা দশ দশে ১০০।” সবুজ বাগানের চারপাশেই ছিল চিকন সরু জলাশয় যাকে খাল বলা যাবে না। দাদী স্থানীয় কেউ বড়শিতে মাছ ধরছে, হঠাৎ জোরে টান, কত্ত বড় টাকি, “এ্যাই শব্দ করিস না, আরও আছে।” আমি আবার হারিয়ে যাই আমার সবুজে, পুকুর পাড়ে সবুজ গাছের সবুজ পাতার আড়ালে আড়াআড়িভাবে শুয়ে আছে দুই হাত লম্বা চিকন সবুজ সাপ। আমি ভয় পেয়ে যাই, দৌড়ে আসি বাড়িতে। ঘুমের ঘোরে আমি এখনো সেই সবুজ সাপ দেখি। মাঝরাতের সিগারেট, পানি আমার তৃষ্ণা মেটায় না। সবুজ সাপের কালো শীতল চোখ আমাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। লেখক: উন্নয়ন কর্মী। এসএইচ/

বৃষ্টি ও জ্যোৎস্নার জন্য ভালোবাসা

গত কয়েক মাস ধরে দিনরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার এ্যান্ড রোবোটিক্স ডিপার্টমেন্টের ল্যাবরেটরিতে খাটাখাটুনি করছি আমরা চারজন। আমি, নিহাল, রুবিনা এবং রাতুল। আমাদের চারজনের টিমে রুবিনা একমাত্র মেয়ে। আমি বাদে প্রত্যেকেই তারা স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টে সর্বোচ্চ সিজিপিএ প্রাপ্ত এবং রোবটিক্সের উপর তাদের কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। রাতুল তো বায়ো-রোবটিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এ বিশ্ব সেরাদের একজন। আমি এখনো অবাক হয়ে ভাবি কিভাবে আমি এই বিশাল বিশাল মেধাবীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যাইহোক একটা অপ্রয়োজনীয় তথ্য সবাইকে জানিয়ে রাখি, আমরা কেউই বিবাহিত নয়। কারণ দেশের সেন্ট্রাল কম্পিউটার থেকে আমাদের জন্য এখনো কোনো সঙ্গী ঠিক করে দেওয়া হয়নি।

শেক্সপিয়র গবেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাবিব আর নেই

শেক্সপিয়র গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের ওল্ড ডোমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাবিব আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯। প্রাক আধুনিক ইংরেজি সাহিত্য, পোস্ট কলোনিয়াল থিওরি ও সাহিত্য নিয়ে ডোমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াতেন। তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে ডোমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ তাদের ফেইসবুক পৃষ্ঠায় এক বার্তায় বলেছে, অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে একজন পণ্ডিত, একজন বন্ধু, একজন পিতা, একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাবিবের মৃত্যুসংবাদ আমাদের জানাতে হচ্ছে। শেক্সপিয়র বিষয়ে বহু বই ও নিবন্ধের লেখক ইমতিয়াজ হাবিব দেশে ও দেশের বাইরে তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মকে শেক্সপিয়র পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী, অনুসন্ধিৎসু, পাঠ ও গবেষণায় মগ্ন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে। মিশিগান গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল স্টাডিজ এবং ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ-এর অধ্যাপক আজফার হোসেন তার ছাত্রজীবনে ইমতিয়াজ হাবিবকে পেয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে। ফেইসবুকে সে কথা স্মরণ করেছেন আজফার। তিনি লিখেছেন, জীবনের কঠিন একটা সময়ে টিকে থাকতে অধ্যাপক হাবিব যেভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে ঋণী।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইসব দিনে সাহিত্যের বাইরেও জীবন ও মৃত্যু নিয়ে অনেক কিছু শেখার কথা স্মরণ করেছেন আজফার হোসেন।আজফার হোসেন বলেন, হ্যামলেটের ওপর যে অসাধারণ লেকচার অধ্যাপক ইমতিয়াজ হাবিব দিতেন, সেজন্যও তার ছাত্রছাত্রীরা তাকে মনে রাখবে। আরকে//

বৃহত্তর চান্দভরাং বইয়ের মোড়ক উন্মোচন   

অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক রচিত-“বৃহত্তর চান্দভরাং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারসমূহের কুষ্ঠি ও আনুষাঙ্গিক এলাকাসমূহসহ গ্রামের সংক্তিপ্ত ইতিহাস” নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।    সম্প্রতি নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট সাহিত্য আসর‘র পক্ষে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট সাফি শাহ ফরিদীর পরিচালনায় বইটির মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন- মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল ফতেহ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মোট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম শমিউল আলম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সহ-সভাপতি মো: বশিরুদ্দিন।  অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ, অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী, মুহাম্মদ বশিরুদ্দিন, অধ্যাপক ডঃ তোফায়েল আহমদ, অ্যাডভোকেট হোসাইন আহমদ, এ টি এম সোয়েব, মোঃ আব্দুল ওয়াহাব, মাহমুদ আলী শিকদার, আজিজুল হক চৌধুরী ফয়েজ, অ্যাডভোকেট দিলোয়ার হোসেন দিলু, অ্যাডভোকেট এন আই এম মাছুম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট গোলাম রাজ্জাক চৌধুরী জুবের, অ্যাডভোকেট দিলোয়ার হোসেন, ইয়াকুতুল গনি ওসমানী, অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমান চৌধুরী, আং আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাকি শাহ ফরিদী, ছবি চৌধুরী, জামাল আহমদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কানন আলম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কাওছার, আজির উদ্দিন, সারওয়ার কবীর, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, অ্যাডভোকেট রানা, অ্যাডভোকেট শাহ সাহাদাত আলী, শাহ আশরাফুর রহমান, রেজুয়ানুল হক মাছুম প্রমুখ। এসি   

সেলিম আল দীন: বাংলা নাটকের পথিকৃৎ

‘আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে বাংলা কবিতার চেয়ে নাটকের যে দীনতা, উপন্যাসের চেয়ে নাটকের যে সীমাবদ্ধতা সেটাকে ঘোচাতে হবে। সেটা ঘোচাতে যদি যাই তাহলে আমাকে নতুন ভূমি, নতুন মানুষ, নতুন শিল্প দর্শন আবিষ্কার করতে হবে। এই ভূমি আবিষ্কার করতে গিয়ে আমার কাছে প্রচলিত কাঠামোগুলোকে কঠোরভাবে বর্জন করতে হয়েছে। ফলে আমার লেখা পড়ে হুট করে নাটক মনে হয় না। কিন্তু এটাও তো সত্য যে, মূলত আমি নাটকই লিখতে চেয়েছি।’ - সেলিম আল দীন বাঙালির ভালোবাসায় পরিপ্লুত পুষ্পিত এক নাম সেলিম আল দীন। তাকে বলা হয় বাংলা নাটকের গৌড়জন। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু রেখে গেছেন তার অবিনশ্বর মহাকাব্যিক সব সৃষ্টি সম্ভার। তার নাটকই বাংলা থিয়েটারের বহুযুগের প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়। বাংলার মাটিতে, বাংলার জলহাওয়ায় বাংলার প্রাণের ভাষাতেই জন্ম নেয়া তার নাটকগুলো বাংলা নাটকের সব উপাদানকে ছুঁয়ে যায় আধুনিকের মন নিয়ে। এ কারণেই বাঙালির কাছে সেলিম আল দীন এক অবিস্মৃত নাম। বাংলা নাটকের নিজস্ব স্বর, রীতি বা কৌশলজাত যে ধারা হাজার বছর ধরে আমরা প্রজন্মপরম্পরায় বহন করে চলেছি, তা নিজের ভাবনার দূরবীনে দৃষ্টিপাত করে যিনি শীর্ষস্থানটি নিজের করে নিয়েছেন, তিনি হলেন আমাদের গৌড়জন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকের স্বতন্ত্র কারিগর। তিনি মানুষের পথে হাঁটতে দুর্দান্ত পছন্দ করতেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়নাভিরাম সবুজ ক্যাম্পাসে শিল্পশিষ্যদের সঙ্গে হাঁটাপথেই মানুষের কথা, জীবনের কথা, দেশের কথা, ভূমির কথা ভাবতেন আর গল্প বুনতেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের এই প্রবাদপুরুষ। শুধু নাট্যকারই নন, তিনি একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সংগঠক, নাট্যনির্দেশক এবং শিল্পতাত্ত্বিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই। ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সাথি করে গড়ে তোলেন গ্রাম থিয়েটার। তাঁর প্রথম রেডিও নাটক ‘বিপরীত তমসায়’ ১৯৬৯ সালে এবং টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘লিব্রিয়াম’ (পরিবর্তিত নাম ‘ঘুম নেই’) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে। সেলিম আল দীনের প্রথম দিককার নাটকের মধ্যে সর্পবিষয়ক গল্প, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, মূল সমস্যা—এগুলোর নাম ঘুরেফিরে আসে। সেই সঙ্গে প্রাচ্য, কিত্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতী কন্যার মন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি ও চাকা তাঁকে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত করে তোলে। জীবনের শেষ ভাগে ‘নিমজ্জন’ নামে মহাকাব্যিক এক উপাখ্যান বেরিয়ে আসে সেলিম আল দীনের কলম থেকে। এ ছাড়া তাঁর নাটক নিয়ে চলচ্চিত্র চাকা বা কিত্তনখোলা ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম হিসেবে স্বীকৃত। মহুয়া, দেওয়ানা মদিনা, একটি মারমা রূপকথা, কাঁদো নদী কাঁদো, মেঘনাদ বধ, ম্যাকবেথসহ বেশ কয়েকটি গবেষণাধর্মী নাট্য নির্দেশনা দেন তিনি। সেলিম আল দীন তাঁর সামগ্রিক নাট্যকর্মেও স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, কথক সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ২০০৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। সেলিম আল দীন বাংলার নদী, জল, বায়ু, পাখপাখালি আর জোছনাসমেত প্রকৃতিকে মাখামাখি করে বেড়ে উঠেছেন। তাই ঔপনিবেশিকতার শৃঙ্খল ভেঙে বাংলা তথা প্রাচ্য গল্প ভাবনায় বুঁদ ছিলেন তিনি। সহজাতভাবেই প্রাচ্যপুরাণ কথা আত্মস্থ করে ঐতিহ্যের ধারায় সমকালীন বাংলা নাটকের নিজস্ব আঙ্গিক খুঁজে ফেরার প্রয়াসী হন সেলিম আল দীন। আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি-বিনাশী এমন ঔপনিবেশিক ধ্যানধারণা, গ্লানি বা হীনমন্যতা ছুঁড়ে ফেলে সেলিম আল দীন হেঁটেছিলেন আবহমান বাংলার পথে। চিরচেনা তবে অনাবিষ্কৃত সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে তিনি তাঁর গল্পগাঁথায় এক মহাকাব্যিক দ্যোতনায় নিরন্তর নিরীক্ষা ও গবেষণার পথ বেয়ে বাঙালির নিজস্ব নাট্যকাঠামো দাঁড় করিয়ে গেছেন। খণ্ড খণ্ড ঘটনার বিন্যাসে, কাহিনী, উপকাহিনীর উপজীব্যতায় এক গীতল উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাঁর নাট্য আখ্যান পূর্ণতা পায়। সেখানে গল্প-উপন্যাস, সংগীতের ঐকতানিক মূর্ছনা। এর মধ্য দিয়েই সেলিম আল দীন প্রবেশ করেছেন তাঁর নিজস্ব ভাবধারার বাঙালিয়ানার আপন ভূমিতে। বাঙালির চিরায়ত নিজস্ব রুচিবোধ ও শিল্পরীতিতে গড়া এই নাট্য আঙ্গিককে সেলিম আল দীন নিজেই নামকরণ করেছেন বর্ণনাত্মক রীতি শিরোনামে। এই নাটকের কাঠামোকে তিনি বলেছেন ‘কথানাট্য’। নব্বইয়ের গণআন্দোলনকালে ‘চাকা’ নাটক রচনার সময় বাংলাদেশে ছিল সামরিক বুটের প্রচণ্ড দাপট। বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে নূর হোসেনরা রক্ত দিচ্ছেন। সে সময় বিভিন্ন স্থানে ছাত্র, পেশাজীবীসহ অনেক অজ্ঞাত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের হাত। নাট্যকার এই অজ্ঞাত মানুষকে পৌঁছে দিতে চান জ্ঞাত ঠিকানায়। কিন্তু পথ চলতে চলতে দেখা যায়, সেই মরদেহগুলোই মানুষের বুকে স্বজন হারানোর বেদনা জাগিয়ে তোলে। পাঠক-দর্শককে নাট্যকার স্মরণ করিয়ে দেন, রাষ্ট্র যখন বিশেষ বাহিনীর হাতে পরিচালিত, সে সময় সাধারণ মৃত্যুর উৎসবেই জীবনের মানে খোঁজা আর মৃত্যুর মিছিলেই মুক্তির সন্ধান লাভের কথা। রাষ্ট্র নিয়ে সেলিম আল দীনের সেই উপলব্ধি সমকালেও বড় প্রাসঙ্গিক। ‘রাষ্ট্রের দেহ আছে। মনুষ্যদিগেরও আছে। কিন্তু রাষ্ট্রের দেহ ছেদবিচ্ছেদে নিত্যই পূর্ণ। যেমন ছোটোকালে পারদ দেখিয়াছিলাম আধুলির সমান। তা কচুপাতায় রাখিলে অখন্ড আবার কচুপাতা হইতে ঝরিয়া পড়িলে অনতিবিলম্বে বহুসংখ্যক রূপালি বিন্দুতে পরিণত হইয়া বিচ্ছিন্নভাবে সম্পূর্ণতা লাভ করে। রাষ্ট্র সেইরূপ।’ ‘তোমার সম্মুখে অনন্ত মুক্তির অনিমেষ ছায়াপথ’ ‘গঠিত হই শূন্যে মিলাই’— এমন দার্শনিক কথার কারিগর, নবজন্মের পিতৃপুরুষ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের আজ জন্মদিন। এই শিল্পতাত্ত্বিকের প্রতি মাথা নত শ্রদ্ধাঞ্জলি! লেখক: সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মী অা অা// এআর  

লেখকের কথা

গেল একুশে বইমেলার ঘটনা। পরিচিত এক ছোট ভাই ইনবক্সে স্যাড ইমো পাঠাল। জানতে চাইলাম, `কি রে মন খারাপ?`জবাব এলো, হু। `কেন রে?`কয়েক মুহুর্ত কেটে গেলেও কৌতুহলী এই প্রশ্নের আর উত্তর এল না। তারপর এলো ফোন। সেই ছোট ভাই। মিনিট দশেকের আলাপ। দুঃখজাগানিয়া গল্প। সে আলাপের সারাংশ বলার আগে ওর সম্পর্কে দুটো কথা বলে নেই। ছেলেটা পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়ে। বন্ধুরা যখন ফেসবুকে প্রেমের তুবড়ি ছোটায়, ও তখন রাত জেগে গল্প লেখে। মেলায় একখানা উপন্যাসও ছাপিয়ে ফেলেছে। লেখার হাত খারাপ না। সম্ভাবনা আছে। লেগে থাকলে হয়তো পারবে। কয়েক মিনিটের সে ফোনালাপে কাঁদো কাঁদো গলায় ছেলেটা জানাল, বই প্রকাশ করার পর অদ্ভূত সব ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা সে নিতে পারছে না। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাই তাকে এড়িয়ে চলছে। একজনও নাকি বই কেনেনি। বছরজুড়ে নানা রকম কাজ করিয়ে নেওয়া আপুটা মেলায় ঘুরে ঘুরে অন্য দশটা বই কেনে। ওর স্টলমুখো হয় না। নিজের ক্লাসে শতাধিক শিক্ষার্থী। এদের কেউ বই কেনা দূরে থাক, জানতেও চায় না মেলার খবর! অথচ ছেলেটার ধারণা ছিল বন্ধু-পরিচিতজনরাই কয়েকদিনে প্রথম সংস্করণ শেষ করে ফেলবে ! আমি চুপচাপ ছেলেটার কথা শুনলাম। তারপর নিজের জীবনের একটা গল্প বললাম। বেদনার গল্প, একাকিত্ত্বের গল্প। আমার প্রথম গল্পের বই `উড়ে যায় নীল টিপ` প্রকাশকালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের মাস্টার্সে পড়ি। ক্লাসে প্রায় তিন শ` শিক্ষার্থী। অথচ গুটিকয় ঘনিষ্ট বন্ধু ছাড়া কেউ-ই বইটা কেনেনি। বিতর্ক-সংবাদিকতা করায় ততোদিনে বহু চেনাজানা। সারা বছর নানা মানুষের উপকার করি। আমন্ত্রণ জানিয়েও এদের কেউকে আমার স্টলমুখো করা যায়নি! আচমকা এদের কারো সঙ্গে বইমেলাতে দেখা হলে, বই কেমন যাচ্ছে- জানতে চেয়ে মুহুর্তেই ঢুকে যেত আরেক স্টলে। বই আর কিনত না। ওদের কথা কি বলব, আমারই লজ্জা লাগত! স্বপ্নপূরণে কাছের মানুষদের এমন অবহেলা মন ভেঙ্গে দিল। বইটা ঠিকই কিনল স্বল্প চেনাজানা ভার্চুয়াল বন্ধুরা। এরপরধীরে ধীরে আমার পাঠক বাড়তে লাগল। দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও। কালচক্র আমাকে শক্ত ভিত্তি এনে দিল। ফেসবুকে সে খবর পৌঁছে গেল ক্লাসমেটদের কাছে, সেইসব কাছের মানুষদের কাছেও। বই না পড়েই তারা মাঝে মাঝে ইনবক্স করত। তুমি তো দেখি ভালোই লিখছ! এমন কান্ডে হাসি পেত। পরবর্তীতে এদের কেউ কেউ মেলায় আসতে শুরু করল। বইও কিনতে শুরু করল। মনে পড়ে, প্রথম আলোয় ৭০তম জন্মদিনের বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে সেলিনা হোসেন যেদিন কালচক্রের প্রশংসা করলেন, আমাকে সময়ের সম্ভাবনাময় লেখক বললেন, শুরুর দিনগুলিতে উপেক্ষা করা, পাশে না থাকা বহুজনই দেখলাম ফোন করল। গর্বিত লিখে পোষ্ট দিল ফেসবুকে! জীবন এমনই। এমনই সাফল্যের কাঙাল। এখানে পরাজিতের স্থান নেই, নেই সম্ভাবনারও। ডিম ফুটে একদিন বাচ্চা বেরোবে- এ আশায় বসে থাকা লোকের সংখ্যা এখন কম। বাচ্চা ফুটেছে, পারলে দৌড়ায়- এতেই আস্থা সবার। ফলে দিনশেষে আপনাকে করে দেখাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে আপন মানুষের বাহবা জুটবে না। জুটলেও তা শেষ প্রান্তে, যখন আরো বহু মানুষ বাহবা দিতে শুরু করবে। অথচ গল্পগুলো উল্টো হওয়ার কথা। যারা শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করেন, পশ্চিমের আকাশে দেখেন সোনার সিংহ, তারা অনেকটা দূর্লভ ফুল বা দামি ক্যকটাসের মতো। ক্যকটাসের যেমন বাড়তি যত্ন নিতে হয়, ছাগলে না খায় ভয়ে বেড়া দিতে হয় ফুলগাছে, তেমনি শিল্প-সাহিত্যের দূর্গম পথে একাকি হেঁটেচলা লোকগুলোরও বাড়তি যত্ন লাগে। লাগে কাছের মানুষদের মমতা আর ভালোবাসাও। না হলে শিল্পসত্ত্বা বিকশিত হওয়া দূরে থাক, অনুভূতিগুলো শুকিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মরেও যায় একদিন। একটা ঘটনা বলে শেষ করি। বছর দশেক আগের এক বিকেল। খুলনা শহরের অলিতে-গলিতে সাইকেলে চেপে পোস্টার সাঁটাচ্ছে এক যুবক। দাঁড়িয়ে থেকে সেই পোস্টার পড়লাম। কবিতার বই বেরিয়েছে কারো। ছবিসহ তারই খবর। জানতে চাইলাম, ভাই কবিতা লেখেন নাকি?জবাব এলো, `নারে ভাই।` `তাহলে কার বই, কার পোস্টার?` লোকটা কাচুমাচু ভঙিতে বলল, `আরে আমার বাল্যবন্ধু। বিএল কলেজে পড়ে। কবিতা-টবিতা লেখে। একখান বইও বাইর করিছে। এসব কাজে তো কেউ উৎসাহ দেয় না। ভাবলাম ওরে উৎসাহ দেওয়া দরকার। আমাগের আবার প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবসা। পোস্টার ছাপায়া দিলাম। লাগাবি কিডা? নিজেই নাইমে পড়লাম। বন্ধু মানুষ। কবিতা লেখে। লোকজন জানুক। এই অারকি!`মুগ্ধতায় চোখে জল আসার জোগাড়। নিত্য দিনের বহুরঙা বেদনায় হামেশাই চোখ ঝাপসা হলেও মুগ্ধতায় ঝাপসা হবার এমন ঘটনাগুলো আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে! এসএইচ/

তুমি বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ

আমায় একটি রাত দাও, তোমাকে দেখার জন্য।   তোমার বিশ্বাস কাল হয়েছে, সোনার বাংলার মাটির বুকে।   তোমার কি ইচ্ছে করে না ফিরে আসতে! আমার কিন্তু ইচ্ছে করে, ১৯৭১ এর  সময় আমার জন্ম হলো না কেন?   আমাকে বলতে পারো, তোমার না বলার কথা।   আমি রাতের আলোতে, তোমার আওয়াজ শুনি।   তোমার শক্তি, আমার বিশ্বাসের পথ চলার আলো।   বাংলাদেশর জনক তুমি, বাংলা ভাষার প্রাণ তুমি।   নজরুলের কবিতার বল তুমি। আমি তরুণ তোমার পথ চেয়ে, নতুন গল্প লেখি ! তোমায় না দেখার কষ্ট নিয়ে।   কৃষকের হাসির  আওয়াজ, বার বার বলে দেয়! তুমি বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ।   আমি রক্তের বিছানা বানাবো!   তোমার নাম যেন, ঘুমের আঁধারে হারিয়ে না যায়।   আমার মৃত্যু বলে দিবে! তোমার সোনার বাংলাদেশ।   তোমার হাসির জন্য, আজও কান্না করে। বাঙ্গালির হৃদয়ের ছবি!   আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলবো! যে গল্প শেষ হবার নয়।   আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য বেঁচে আছি । সোনার বাংলার আকাশ, বঙ্গবন্ধুর নাম লেখে। অন্ধকারের আঁধারের মাঝে!   রাত আমি ভয় পাই! ১৫ আগস্টের নীরবতা দেখে।   বাংলাদেশ আমায় ক্ষমা করো! রাত আমি ভুল করেছি।   তোমাদের জাতির জনককে, আলো দিয়ে। ঘাতকদের হাত থেকে, রক্ষা করতে পারি নাই।   আমি দিনের আলো বলছি , আমায় ক্ষমা করো বাংলাদেশ।   আমি তোমাদের নেতার দেহকে ! দিনের আলোতে, সবাইকে দেখাতে পারি নাই ।   ওরা ঘাতক !  ওরা মানুষ নামক জানোয়ার।   ভয় নয় আর ঘাতকদের দেখে ! এবার সময় এসেছে। ঘাতকের মৃত্যুর বিছানা, তৈরি করার জন্য। লেখক: পোর্ট  সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

স্মৃতিতে নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভিএস নাইপল

সাহিত্যে নোবেলজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক স্যার ভিএস নাইপল লন্ডনে নিজ বাড়িতে শনিবার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। কালজয়ী এই লেখকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত ও বন্ধুরা। তার স্ত্রী লেডি নাইপল মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানান, যাদের সঙ্গে স্যার ভিদিয়া জীবন কাটাতে ভালোবাসতেন মৃত্যুর সময়ে তারা তার পাশে ছিলেন। তার স্ত্রী বলেন, "তিনি ছিলেন সবকিছু অর্জন করা এক কিংবদন্তী। নাইপল যাদের ভালোবাসতেন, যাদের সঙ্গে উদ্যোমী ও সৃষ্টিশীল অসাধারণ এক জীবন কাটিয়েছেন, তার শেষ সময়টাও তাদের সান্নিধ্যেই কেটেছে"। নাইপলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু `মেইল`এর সম্পাদক জিওর্ডি গ্রেইগ বলেছেন, "তার মৃত্যুতে ব্রিটেনের সাহিত্য জগতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। তবে নিঃসন্দেহে তার সৃষ্টি কর্ম চিরদিন রয়ে যাবে"। ভ্রমণবিষয়ক অ্যামেরিকান লেখক পল থেরক্স বলেছেন "আমাদের সময়ের অনবদ্য এক লেখককে হারালাম"। বিশ্ব সাহিত্য জগতে অনন্য এক লেখক ছিলেন স্যার ভিদিয়া। গল্প বলার অনন্য এক `স্টাইল` ছিল তার। মানুষের জীবনের `আইরনি`, দুঃখকষ্টের বিষয়গুলো তিনি পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন তার লেখায়। ভিএস নাইপলের সমর্থকদের মতে, তার কাহিনীগুলোতে আছে স্বচ্ছতা, সততার সাথে তিনি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন। উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শবাদ বা `গ্ল্যামার`কে দূরে রেখে তিনি লিখেছেন। ভক্তরা স্যার নাইপলকে মনে করেন দক্ষ ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এক লেখক। যিনি ইসলামের নিষ্ঠুরতা, আফ্রিকার দুর্নীতি ও বিশ্বের দরিদ্রতম অংশের দুর্ভোগ নিজ চোখে দেখেছেন এবং সেগুলোর প্রকৃত সমালোচনাও করেছেন। রাজনীতির ভুলগুলোর তিক্ত সমালোচনার পুনরাবৃত্তিও ঘটেছে তার লেখায়। তবে তার সমালোচকেরা মনে করেন, ভিএস নাইপলের লেখা ছিল উগ্রপন্থী এবং সমস্যাগ্রস্ত। বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ত্রিনিদাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। যে দ্বীপে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন সেখানে তখন বর্ণবাদ নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তার পূর্বপুরুষ ভারত থেকে ত্রিনিদাদে বসবাস শুরু করেছিল ভৃত্য হিসেবে। একজন হিন্দু হিসেবেই শৈশবে বেড়ে উঠেন নাইপল। নাইপলের বাবা শিপেরসাদ ছিলেন সাংবাদিক। শিশু বয়সেই ভিএস নাইপল উইলিয়াম শেকসপিয়ার, চার্লস ডিকেন্স পড়েন বাবার কাছ থেকেই। তার বাবা তাকে ইউরোপীয় সাহিত্য পড়ে শোনাতেন এবং লিখতেও উৎসাহিত করতেন। তিনি কুইন্স রয়েল কলেজে পড়াশোনা করেন। স্নাতক পড়ার সময় সরকারি স্কলারশিপ পেয়ে যান ও কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পান নাইপল। ১৯৫০ সালে তিনি অক্সফোর্ডে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হতাশা ও একাকীত্বে ভুগতেন তিনি এবং আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছেন নাইপল। তার জীবন বাঁচিয়েছেন তার বাবা। চিঠির মাধ্যমে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। পিতা ও পুত্রের এসব চিঠি ১৯৯৯ সনে প্রকাশ করা হয়। ভিএস নাইপল তার শৈশব নিয়ে লেখা শুরু করেন। তার প্রথম তিনটি বই- দ্য মিস্টিক মাসোর (১৯৫৭), দ্য সাফ্রেজ অব অ্যালভিরা (১৯৫৮) এবং মিগুয়েল স্ট্রিট (১৯৫৯) প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। আর এই তিনটি বইয়ের কাহিনীই মূলত ক্যারিবীয় দ্বীপকে ঘিরে। ভিএস নাইপলের লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে `অ্যা বেন্ড ইন দ্য রিভার`, `ইন অ্যা ফ্রি স্টেট`, `এন এরিয়া অব ডার্কনেস`,`হাফ এ লাইফ`। `এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস` তার সেরা কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই উপন্যাসটি লিখতে তার তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান ভিএস নাইপল। ২০১৬ সালে ঢাকা লিট ফেস্টে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন কিংবদন্তি এই লেখক।   এমএইচ/ এসএইচ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি