ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:২৫:০৫

বই মেলায় সাজ্জাদ আলম খান তপু’র নতুন বই 

বই মেলায় সাজ্জাদ আলম খান তপু’র নতুন বই 

বই মেলায় তপু’র ‘রাজনীতির আয়নায় অর্থনীতি’      
বইমেলায় পিতা-পুত্রের ৪ বই

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখক হায়দার বসুনিয়া এবং শাহজাদা বসুনিয়ার দুইটি করে উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষক হায়দার বসুনিয়ার ছেলে শাহজাদা বসুনিয়া। হায়দার বসুনিয়া রচিত উপন্যাস দুটির নাম হল ‘কবিরের ভিটা-মাটি’ ও ‘কামনা’। আর শাহজাদা বসুনিয়ার লেখা উপন্যাস দুটির নাম হল ‘A Cruel Father’ ও ‘The Credit Cards’ । চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ব সাহিত্য ভবন থেকে। এ বছরের বই মেলার ৫০৪-৫০৭ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইগুলো। প্রসঙ্গত, হায়দার বসুনিয়া দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। ২০০৪ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার পর এখন পর্যন্ত তার লেখা ২৮টি সাহিত্য বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, শাহজাদা বসুনিয়া একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা। বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এন্ড ব্রান্ড কমিউনিকেশন ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। এ পর্যন্ত তার লেখা ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। আরকে//

যা আছে মোস্তফা কামালের এই ৬ বইয়ে

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের ৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো- অগ্নিমানুষ, আমি রাসেল বলছি, নির্বাচিত প্রেমের গল্প, আমি কবি, বান্দরবানের জঙ্গলে ও সায়েন্স ফিকশন ‘অপার্থিব’। অগ্নিমানুষ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১। দেশভাগ থেকে স্বাধীনতা। উপ-মহাদেশের ইতিহাসে এক অসামান্য অধ্যায়। সেই সময়ের ইতিহাস নির্মাতাদের নিয়ে লেখা ট্রিলজির শেষ পর্ব অগ্নিমানুষ। এর প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সময়। বইটি মেলায় এনেছে পার্ল পাবলিকেশন্স। আমি কবি সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিতা দেখে কবির প্রেমে পড়ে যায় অনেক তরুণী। কিন্তু সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাওয়ার পর কবির প্রতি সেই মুগ্ধতা থাকে? কিংবা সেই কবি যখন তরুণীর স্বামী হয়ে যান, প্রণয় থেকে পরিণয় ঘটে যায় যায় তখন সে সম্পর্কের মাঝে আসে কিছু অয়াসম সমীকরণ- এমনই গল্পের ভিত্তি নিয়ে লেখকের রোমান্টিক উপন্যাস আমি কবি। বইটি বাজারে এনেছে অন্যপ্রকাশ। সায়েন্স ফিকশন ‘অপার্থিব’ একজন মৃত মানুষ, মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর যদি বলেন, আমি আবার পৃথিবীতে আসছি এবং কয়েকঘণ্টা থেকে চলে যাবো অন্য গ্রহে- তাহলে কেমন হয়? প্রতিবারের মতো এবারের সায়েন্স ফিকশনে থাকছে চমক। বইটি মেলায় পাওয়া যাবে পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্সের প্যাভিলিয়নে। নির্বাচিত প্রেমের গল্প নির্বাচিত প্রেমের গল্প’এ সতেরোটি গল্প রয়েছে। বইয়ের গল্পগুলোতে প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি স্বদেশের সাম্প্রতিক চিত্র, রাজনীতি, টানাপড়েন, সঙ্গতি-অসঙ্গতিও সমানভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে যা পাঠককে নিয়ে যাবে ভিন্ন এক ভাবনার রাজ্যে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে। আমি রাসেল বলছি এগারো বছরের রাসেল বলেছেন তার নিজের কথা, বাবাকে নিয়ে তার ছোট্ট হৃদয়ে পাওয়া না পাওয়ার কথা। লেখকের লেখায় রাসেলের না বলা কথাগুলো উঠে এসেছে যা পাঠক হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করবে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে। বান্দরবানের জঙ্গলে লেখক মোস্তফা কামাল বরাবরই কিশোর সাহিত্যে অনবদ্য। বরাবরের মতো এবারের বইমেলায় আসছে কিশোর ক্ল্যাসিক বান্দরবানের জঙ্গলে- এর মাধ্যমে কিশোরদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। বইটি মেলায় নিয়ে এসেছে মাওলা ব্রাদার্স। মোস্তফা কামাল জন্ম বরিশালের আন্ধার মানিক গ্রামে। সেখানেই কাটে শৈশব ও কৈশোর। উচ্চশিক্ষা ইংরেজি সাহিত্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই সাহিত্যিক-সাংবাদিক আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত লিখছেন। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই রয়েছে তার অবাধ বিচরণ। তার প্রথম প্রকাশিত ছড়া ‘মেঘনা’। প্রথম উপন্যাস ‘পাপের উত্তরাধিকার’। প্রথম গল্প ‘বীরাঙ্গনার লড়াই’। প্রথম কিশোর উপন্যাস ‘ভিনদেশি গোয়েন্দা’, প্রথম সায়েন্স ফিকশন ‘ক্লোনমামা’, প্রথম শিশুতোষ বই ‘পাগলাভূত’। প্রথম বিদ্রুপ ও রম্য বই ‘পাগল ছাগল ও গাধাসমগ্র’। প্রথম নাটক ‘প্রতীক্ষার শেষ প্রহর`, প্রথম গবেষণামূলক বই ‘আসাদ থেকে গণঅভ্যুত্থান’। সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘জননী’, ‘জনক জননীর গল্প’, ‘পারমিতাকে শুধু কর্নেল প্রভৃতি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১০৪ টি। কলকাতা থেকে সাহিত্যম প্রকাশ করেছে দুটি বই। আফগানিস্তানে যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি, নেপালে রাজতন্ত্রবিরোধী গণঅভু্যত্থান, পাকিস্তানে বেনজীর ভুট্টো হত্যাকাণ্ড এবং শ্ৰীলঙ্কায় তামিল গেরিলা সংকট কভার করে প্রতিবেদন ও নিবন্ধ লিখে আলোচিত হন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের জাপান, মালয়েশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও ভুটান সফর করেন। কলামিস্ট হিসেবেও রয়েছে তার বিশেষ খ্যাতি। তিনি কালের কণ্ঠে ‘সময়ের প্রতিধ্বনি’ ও ‘রঙ্গব্যঙ্গ’ নামে দুটি কলাম লিখছেন। বর্তমানে তিনি কালের কণ্ঠে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

জবি উপাচার্যের উত্তরগণতন্ত্র ও লিংকনের পিপল গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান রচিত ‘উত্তরগণতন্ত্র ও লিংকনের পিপল’ নামক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’-এ শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী নাজমা আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, প্রক্টর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেরিট ফেয়ার প্রকাশনীর (স্টল # ১৪৩, ১৪৫ ও ১৪৫) স্টলে এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে (বাংলা একাডেমি, স্টল # ১৫) পাওয়া যাচ্ছে। এসএইচ/

একুশে গ্রন্থমেলায় রাহাত মিনহাজের ৩ বই

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রাহাত মিনহাজের ৩ বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো-কি চেয়ে ছিল ভূট্টোর পাকিস্থান?, ১৯৭১ তাজউদ্দীন মুজিব বাহিনী ও অন্যান্য এবং মাধ্যম সাক্ষরতা সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ। রাহাত মিনহাজের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১০ জানুয়ারি বগুড়া জেলার নিশিন্দারা পশ্চিম পাড়া গ্রামে। পুরো নাম মো.মিনহাজ উদ্দীন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে ২০০৭ সালে দেশের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএসবি নিউজে যোগ দেন। ২০১০ সালে এনটিএন বাংলা এবং ২০১৩ সালের শেষের দিকে যমুনা টেলিভিশনে যোগ দেন। এছাড়া তিনি সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতার জন্য কিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের বজলুর রহমান স্মৃতি পদক ২০১২। প্রথম আলো ট্রাস্ট ও বন্ধু সভার মাদক বিরোধী প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার ও সিএসএফ-ফ্রেন্ড হলোস ফাউন্ডেশন পুরস্কার পেয়েছেন। তার ‘সাংবাদিকতা প্রতিবেদন লেখার প্রথম পাঠ’ বইটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এর আগে তার প্রথম বই ‘সায়মন ড্রিং ও অন্যান্যের একাত্তর’ প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। একে//

চট্টগ্রামে বিশেষ সাহিত্য সম্মেলন ২২ ফেব্রুয়ারি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ এবং চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে শুরু হওয়া চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী কলম সাহিত্য সংসদ, লন্ডনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাহিত্য সম্মেলন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণকল্পে এক সভা আজ ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩য় তলায় সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, চসিক আয়োজিত বইমেলাকে সমৃদ্ধ করবে কলম আয়োজিত বিশেষ সাহিত্য সম্মেলন। তিনি জানান,আগামী ২২ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় যৌথভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন নগরের বয়োজ্যেষ্ঠ কবি-সাহিত্যক-সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত ও মাহবুবুল আলম। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সূচনা সঙ্গীত, বিষয় ভিত্তিক আলোচনা,কবিকন্ঠে কবিতাপাঠ, চট্টগ্রামের কবি-সাহিত্যকদের মধ্যে ১০জনকে বিশেষ কলম সম্মাননা দেওয়া হবে। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব-দৈনিক জাগরণ সম্পাদক আবেদ খান, প্রফেসর ড.নজরুল ইসলাম হাবিবী, কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড.শিরীণ আখতারসহ নগরের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকগণের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছাড়াও একুশে পদক প্রাপ্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাচিকশিল্পী ভারতের ডালিয়া বসু সাহার একক আবৃত্তিও রয়েছে। তিনি, সাহিত্য সম্মেলন সফল করতে চট্টগ্রামের কবি-লেখকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার পাশাপাশি গোষ্ঠী প্রথা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। আআ//

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দীপকের পাঁচ কবিতা   

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দীপংকর দীপক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পাঁচটি কবিতা লিখেছেন। কবিতাগুলো হচ্ছে ‘পিতৃবন্দনা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘অমর তুমি’, ‘মুজিবীয় আঙুল’ ও ‘সোনার নাওয়ের মাঝি’। এ পাঁচটি কবিতা তাঁর সদ্য প্রকাশিত ‘হে বঙ্গ’ বইয়ে সংযোজন করা হয়েছে।    এবারের একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন কবি অসীম সাহা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শতাব্দী জাহিদ।    বঙ্গবন্ধুর কীর্তিগাথা ছাড়াও এ বইয়ে স্বদেশপ্রেম, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, নারীমুক্তি, প্রকৃতিপ্রেমসহ গবেষণামূলক নানা বিষয় ফুটে উঠেছে। একইসঙ্গে কবিতার দৃশ্যপটে ধর্মনিরপেক্ষতা, জীবনমুখী সংগ্রাম, প্রথাবিরোধী মনোভাব, শ্রেণিচেতনা ও সমাজ বাস্তবতা জীবন্ত উপাদান হয়ে পরিস্ফূটিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দীপংকর দীপক বলেন, ‘বাংলাভাষার মাধুর্যতায় আসক্ত হয়ে কাব্যচর্চা করছি। আর মনের পিপাসা নিবারণে গল্প কিংবা উপন্যাস লিখছি। গতবারের কবিতার বই কালচক্রে সময়ের সঙ্গে মানব জীবনের সম্পর্ক খোঁজা হয়েছিল। এবারের বইয়ে শুধু দেশমাতৃকার বন্দনা করা হয়েছে। আশা করি, আমার বইটি পাঠক হৃদয়কে কিছুটা হলেও আন্দোলিত করবে।’ এ পর্যন্ত দীপকের ডজনখানেক বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘বুনো কন্যা’, ‘নাস্তিকের অপমৃত্যু’ ও ‘ঈশ্বরের সঙ্গে লড়াই’ পাঠকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তা ছাড়া তার সিক্যুয়াল কাব্যগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ যৌবন-প্রথম খণ্ড’ এবং ‘নিষিদ্ধ যৌবন-দ্বিতীয় খণ্ড’ও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। কিছুদিন আগে ‘অন্ন কিংবা আত্মহত্যা’ শিরোনামে দীপকের একটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। শিগগিরই তাঁর লেখা দুটি দেশাত্মবোধক গান প্রকাশিত হবে। তা ছাড়া সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তিনি ‘বেগম রোকেয়া সাহিত্য সম্মাননা’ অর্জন করেন। এসি    

ইফতেখার শুভ’র রম্য ও গোয়েন্দা উপন্যাস মি: সল্যুশন ম্যান  

যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সোলায়মানের (মি: সল্যুশন ম্যান) কাজ। কিন্তু মজার বিষয় হলো সব সমস্যারই সমাধান ঘটতে থাকে সোলাইমানের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বলা যায় কাকতালিয়ভাবে। কিন্তু অগত্য কারণে সুনামটা তারই হয়ে যায়।    বিষয়টা ঝড়ে তাল পড়ে, ফকিরের কেরামতি বাড়ে প্রবাদের মতো। একের পর এক গোয়েন্দা অভিযানের সমাধান করে চলছেন সোলাইমান। শেষে নিজের জীবনে একটা জটিল সমীকরনের সামনে দাঁড়ায় সে। সমাধান করতে পারবে কী মি: সল্যুশন ম্যান ও তার সল্যুশন বিডি ডট কম টিম?   ইফতেখার শুভ’র এটি দ্বিতীয় প্রকাশিত বই। প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ” স্রষ্টার অস্তিত্ব” প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালের একুশে বই মেলায়। বর্তমানে তিনি জড়িত আছেন নাটক রচনা ও নির্মাণের সঙ্গে। ব্যাচেলর ডট কম ধারাবাহিক, অলৌকিক বিবাহ যাত্রা, ক্রিকেট ফ্যান্স ক্ল্যাব সহ বেশ কিছু নাটকের নাট্যকার ও নির্মাতা তিনি। মি :সল্যুশন ম্যান উপন্যাস টি অন্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলাতে অন্য প্রকাশের ২০ নাম্বার প্যাভিলিয়নে উপন্যাস টি পাওয়া যাবে।   এসি    

`কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেন` গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন

একুশে বই মেলায় এসেছে চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুল্লাহ জেয়াদ-এর লেখা ‘কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেন’ গ্রন্থটি। গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এফডিসি’র জহির রায়হান কালারল্যাব ভিআইপি প্রজেকশন হলে গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক আবদুল্লাহ জেয়াদ-এর লেখা ‘কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেন’ এর গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রবীণ চলচ্চিত্রকার আজিজুর রহমান,অভিনেত্রী কোহিনুর আখতার সুচন্দা, নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান, ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন এবং প্রযোজক-পরিবেশক খোরশেদ আলম খসরু। অভিনেত্রী সুচন্দা বলেন, সুচিত্রা সেন আমার আইডল। তাঁর অভিনীত ‘উত্তর ফাল্গুনী’ ছবিটি দেখে আমি চলচ্চিত্রে আসার অনুপ্রেরণা পাই। এ ছবিতে তিনি ব্যারিষ্টারি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যারাই তাঁর অভিনয় দেখেছেন তাঁরাই মুগ্ধ হয়েছেন। সুচিত্রা বাঙালি নারীর আদর্শের প্রতীক। সে সময় তাঁকে অনুসরণ করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ‘কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেন’ গ্রন্থটিতে লেখক আবদুল্লাহ জেয়াদ তাঁর জীবনের নানা বিষয় তুলে এনেছেন। যা সত্যিই ভালো লাগার মতো অবস্থা। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মহানায়িকা সুচিত্রা সেন আমাদের গর্ব কারণ তিনি এদেশেরই মেয়ে। তাঁর উপর এই গ্রন্থটি একটি দলিল হিসেবে বিবেচ্য হবে। শুধু যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের উপর নয়,যারা জীবিত আছেন তাদের উপরও লেখার আহবান জানান। ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যাসিত ‘কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেন’ গ্রন্থটিতে নায়িকা সুচিত্রার তিনটি সময়ের জীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। এক. শৈশব ও কৈশোরকাল দুই. বিবাহোত্তর ও চলচ্চিত্রীয় জীবন এবং তিন.অন্তরীণ জীবন। এছাড়া পরিশিষ্ট-১ এবং পরিশিষ্ট-২ তে যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক এবং সেলিব্রিটিদের স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন লেখক। এছাড়া আরও আছে অনেক দুর্বল স্থিরচিত্র। ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জ্যোতি প্রকাশ। দাম ৪০০ টাকা। গ্রন্থটি পাওয়া যাবে বই মেলার ১৮৮ নং জ্যোতি প্রকাশ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৬৭ নং স্টলে। কেআই/  

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পথচলা যেভাবে শুরু হয়েছিল  

একটি ক্ষুদ্র পাঠচক্রের মধ্য দিয়েই ১৯৭৮ সালে শুরু হয়েছিল বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পথ চলা। ঢাকা কলেজের পেছনে শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্রের (বর্তমানে নায়েম) ছোট্ট মিলনায়তনটিতে ওই পাঠচক্রটি শুরু হয় বছরের একেবারে শেষের দিকে। সদস্য ছিলেন মাত্র ১৫জন। সেই পাঠচক্রে ঠিক হয় যে প্রতি সপ্তাহে তারা প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত বই বাড়িতে নিয়ে পড়বেন।     পরের সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে সেখানে এসে ওই বই নিয়ে আলোচনা হবে। পাঁচ বছর পর এই পাঠচক্রের সাফল্য দেখে এটি স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার কথা ভাবতে শুরু করলেন প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তখন ঢাকা কলেজের শিক্ষক আবু সায়ীদ শিক্ষকতার চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে হাত দিলেন, যেটি কিশোর-তরুণদের মাঝে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বার্তা নিয়ে যাবে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শুরু সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ লিখেছেন, আমি শিক্ষক মানুষ। একজন শিক্ষক যেভাবে এমন পরিস্থিতির জবাব দেয়ার কথা ভাবতে পারেন, আমি সেভাবেই ভাবলাম … প্রথমেই আমাদের ভাবতে হয়েছিল, কী কী উপায়ে আমাদের কিশোর-তরুণদের চিত্তকে আলোকিত করে বড় জীবনের স্বপ্ন ও আদর্শে উদ্বদ্ধু করে তোলা যায়। আমাদের মনে হয়েছিল দুইটি ব্যাপার এই লক্ষে বড় অবদান রাখতে পারে। ১. তাদের মন-বয়সের উপযোগী শ্রেষ্ঠ ও অনিন্দ্যসুন্দর বইগুলো পড়িয়ে তাদের জীবনকে অনুভূতিময় সুন্দর ও উচ্চ মূল্যবোধ সম্পন্ন করে তোলা। ২. পড়ার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ভেতর দিয়ে তাদের বড় করে তোলা। তিনি লিখেছেন, ‘আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে মাত্র ১০ জন তরুণ ও তাদের জন্য দশটি বই কেনার দাম বাবদ এক ভদ্রলোকের কাজ থেকে পাওয়া ৩৪টি টাকা সম্বল করে শুরু হয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা। সেই সভ্য সংখ্যা আজ ২৮ লক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে।’ প্রতিষ্ঠানটি ৮ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার তাদের ৪০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান করছে। এই পাঠচক্র শুরুর কিছুদিন পরে ইন্দিরা রোডে একটি বাসা ভাড়া করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় মূলত তাঁর শুভানুধ্যায়ী-আত্মীয়-ছাত্ররা সহযোগিতা করতেন। কিছু কিছু সরকারি সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছিল। কয়েক বছর পরে ঢাকার বাংলামোটরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দ পায় কেন্দ্র। তখন সেটি আনসারের সদরদপ্তর হিসাবে ব্যবহৃত হতো। এই বাড়িটি বরাদ্দ পাওয়ার পর ইন্দিরা রোডের ভাড়া বাসা ছেড়ে এখানে উঠে আসে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। এখানে একটি লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়। এখান থেকে পড়া এবং পাঠচক্রগুলো পরিচালিত হতো। ১৯৮৪ সালে সারা দেশের স্কুল কলেজে বই পড়া ও উৎকর্ষ কর্মসূচি নামের একটি বই পড়া কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। এর নিয়ম ছিল - শিক্ষার্থীরা ১৬টি বই নিয়ে পড়ে শেষ করবে এবং ফেরত দেবে। পরে সেসব বইয়ের বিষয় ধরে একটি পরীক্ষা হবে। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়দের পুরস্কার হিসাবে দেয়া হবে বই। এ রকম সময়ে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বিতার্কিক ও উপস্থাপক আবদুন নূর তুষার। তিনি লিখেছেন, ‘ইন্দিরা রোডের ভাড়া করা বাসা থেকে আজকের বহুতল ভবন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এই চার দশকের যাত্রা মসৃণ ছিল না। অর্থাভাব ছিল, যথেষ্ট মানুষ ছিল না। ধার করে, প্রায় ভিক্ষা করে স্যার টাকা এনে কেন্দ্র চালাতেন। কিন্তু আমি একবারও তাকে আশা হারাতে দেখিনি।’ ‘যখন বই পড়া শুরু হয়, পুরস্কারের বই থেকে মাইক - সব তার দুই দরজার ভঙ্গুর পাবলিকা গাড়ি পেছনে নিয়ে আমরা দুজন যাত্রা করতাম। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে তিনি তাঁর স্বপ্নের কথা বলতেন।’ বিবিসি বাংলাকে আবদুন নূর তুষার বলছেন, ‘বই পড়া, বই বিতরণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করতাম আমি। তখন আমি কলেজে পড়ি। আমরা যা করতাম - বন্ধুরা মিলে ভাগ করে স্কুলে স্কুলে গিয়ে বই দিতাম, আবার আগের বইগুলো ফেরত নিতাম।’ ‘পুরস্কার দেয়ার দিন স্যারের গাড়ির পেছনে পুরস্কারের বই, মাইক ইত্যাদি নিয়ে যেতাম। স্যার নিজেই গাড়ি চালাতেন, আমি তাঁর সঙ্গে যেতাম। স্যারের গাড়িটা মাঝে মাঝে নষ্ট হতো, তখন নেমে সেটা ঠেলতে হতো। তাই কেউ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইতো না।’ ‘আবার স্যার খুব আস্তে গাড়ি চালাতেন। তখন আমাদের মধ্যে একটা গল্প চালু ছিল - স্যার গাড়ি চালাচ্ছেন, তখন একটা গাড়ি তাকে অতিক্রম করে গেল, এরপরে একটা অটো অতিক্রম করে গেল, এরপরে একটা রিক্সাও তাকে ছাড়িয়ে গেল। তারপরেই স্যার একটা ট্রাককে অতিক্রম করে ফেললেন, তবে ট্রাকটা থামানো ছিল।’ বাংলামটরের বর্তমান ঠিকানায় তখন ছিল ছোট একটি দোতলা বাড়ি। সেখানে একটি লাইব্রেরি ছিল এবং মিলনায়তন ছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে তুষার বলছেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা অনুদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। টাকা-পয়সা সংগ্রহে অনেক ঘাটতি ছিল। কেন্দ্রের লোকজন অনেকে কয়েক মাসের বেতন পেতেন না। আবার টাকা জোগাড় হলে তখন সবাইকে একসঙ্গে দিয়ে দেয়া হতো। তবে বই পড়া কর্মসূচিটি খুব জনপ্রিয়তা পায়। এরপরে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচী, জাতীয় ভিত্তিক লাইব্রেরি কার্যক্রম, আলোর ইশকুল, ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইত্যাদি প্রকল্প শুরু করে কেন্দ্র। তখন দেশি-বিদেশী সহায়তাও আসতে শুরু করে। এখন কেন্দ্রীয় ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিসহ ২,১০০ স্কুল ও কলেজে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে, যার নিয়মিত পাঠক সংখ্যা ২ লক্ষ ১৭ হাজার। আর মোট সদস্য সংখ্যা ২৮ লক্ষ। এসি   

‘হৃদিতা তুই এমন কেন’ তানভীর আলাদিনের ভাবনা জাগানিয়া নতুন উপন্যাস

স্বৈরাচার যুগের তান্ডব সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েনি তখনও। শান্ত-স্নিগ্ধ অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতি লালন করা একটি হৃদ্যতাপূর্ণ মফস্বল শহর ছিল সুখিপুর। শহরের গল্পটা এগুতে পারতো কিশোর অপু আর কিশোরী হৃদিতার প্রেম-খুনসুটিতে। কিন্ত পারেনি, পারতে দেয়নি সময়! হঠাৎ করেই সময়টা বদলে গোলা। শহরটাকে গ্রাস করল গ্রহণেরকাল। স্বৈরাচার যুগকে পুঁজি করেই শহরে গড়ে উঠল সশস্ত্র ‘হালুয়া বাহিনী’! ওদের নগ্ন থাবার অমানিশায় সুখিপুরের মানুষ ভুলেই গেল এই শহরের আকাশেও একদিন পূর্ণিমার চাঁদ উঠতো...।    হৃদিতার মেয়ে শুভ্রা। তার জন্ম আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে স্বৈরাচার যুগে। শুভ্রার জন্মটা সুখিপুর থেকে প্রায় দু’শ কিলোমিটার দূরে শুভলংয়ের ছোট্ট পাহাড়ী এক দ্বীপে। যেখানে তার মা হৃদিতা কখনো প্রেমিকা আবার কখনো যেনো যৌনদাসী। অপুকেই শুভ্রা আব্বু ডাকে। এতদিনতো ওকেই আব্বু জানতো। তাই পিতৃপরিচয়ের বিষয়ে শুভ্রার মনে কোনোদিন কৌতুহল না থাকাই স্বাভাবিক ছিল। শুভ্রা কি তবে কুমারি মাতা হৃাদিতার সন্তান? একদিন হৃদিতার দু’টো ডায়েরি এসে গেলো শুভ্রার হাতে। তখন কৌতুহলটা কঠিনভাবে দেখা দিয়েছে শুভ্রার মনে। সেই সঙ্গে ভয়ও আব্বুকে নিয়ে। শুভ্রা সত্যান্বেষণে নামলে যদি আব্বু মনে কষ্ট পায়! তবুও শুভ্রা ভাবে অপু কি তার মায়ের বন্ধু? নাকি প্রেমিক ছিল? এনিয়ে তার মনেও যে নানান প্রশ্নের উদয় হয়নি, তা কিন্তু নয়। তাহলে শুভ্রার জন্মদাতা কী অন্য কেউ? পিতৃ পরিচয়ের সংকট ডিজিটাল প্রজন্মের করর্পোরেট দুনিয়ায় চলতে অসঙ্গতি কিংবা অসংকোচও বেধে রাখেনি শুভ্রাকে! যতটুকু বাধ সেধেছে তার রোগটা, সে তার মা হৃদিতার মতোই থেলাসেমিয়া রোগবহণ করে চলছে। স্বামী-সংসারও করছে। চালাচ্ছে মনোচিকিৎসক হিসেবে পেশাগত দৈনিন্দিন কর্মকান্ড। পিতৃপরিচয়ের খোঁজ তাকে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে সাদা-কালো অধ্যায়ের সামনে, যেখানে অদৃশ্য পিতাকে তার কাছে কখনো সাইকো, আবার কখনো ভয়ঙ্কর খল মনে হতে লাগলো, তাই সেই না দেখা বাবা চরিত্রটাকে কেবল মনে-মনে করুণাই করতে চায় শুভ্রা। এরমধ্যে একদিন রহস্যজনক কারণে অপহৃত হয় শুভ্রার স্বামী জিসান। সাংবাদিক কবি ও সংগঠক তানভীর আলাদিনের প্রথম উপন্যাস ‘হৃদিতা তুই এমন কেন’র গল্পে দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধনের মধ্যে মানবিক বিষয়টা বার-বার প্রাধান্য পেতে দেখা গেছে। প্রায় তিনযুগ সময়ের স্রোত হৃদিতা’কে টেনে টুকরো-টুকরো করে বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করিয়েছেন লেখক। লম্বা একটা সময়কে বুনতে গিয়ে গল্পটা কোথাও থমকে যায়নি একটু সময়ের জন্যেও। তিনি প্রেম-দ্বন্ধ-সংঘাত, সম্পদ-লোভ-সম্ভ্রম, আন্দোলন-ত্রাস-লাশ, সংস্কৃতি-সম্প্রীতি-অবিশ্বাসকে পায়ে-পায়ে হাটতে যেনো বাধ্য করিয়েছেন। উপন্যাসটি পড়া শুরু করলে একটানা পড়ে শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্থি নেই। ছোট-ছোট ৩৭টি পর্বে সাজানো উপন্যাসের প্রতিটি বাঁকেই ভাবনার প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন লেখক। এখানেই লেখক হিসেবে তানভীর আলাদিন নান্দনিক মুন্সিয়ানার ছাপ রেখে গেছেন। পাঠককে ভাবনার দুয়ার-জানালার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার। ভাটিয়াল প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘হৃদিতা তুই এমন কেন’ উপন্যাসটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন কাব্য কারিম। দাম ২৫০ টাকা। একুশে বইমেলায় তানভীর আলাদিনের ‘হৃদিতা তুই এমন কেন’ উপন্যাসটি পাওয়া যাবে একুশে বইমেলার ভাটিয়াল, স্টল # ৫২, লিটল ম্যাগ চত্বরে ও বাংলা একাডেমি, ঢাকা ও সাহিত্যদেশ স্টল # ৫৩৪, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এসি    

সোহাগের লেখনীতে নগরীর গন্ধমাখা প্রেম-বিরহের আখ্যান  

কোনো ঘোর নেই, নেই কোনো প্রহেলিকা৷ সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের কথাটাকেই কবিতার ছাঁচে ফেলে বলা৷ পেশাদার জীবন এবং প্রেম-বিরহ-আবেগ আর ভালোবাসার আশ্চর্য মিশেলে নিজের জীবনদৃষ্টির এক সরল সৃষ্টিশীল প্রকাশ৷ বইটির নাম ‘শাওন রাতে সুনয়না’৷ ৪২টি কবিতার সংকলন এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে কারুবাক প্রকাশনী (স্টল নম্বর:৫৩৭, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)৷      বইটির লেখক কামরুল হাসান সোহাগ পেশায় নগর পরিকল্পনাবিদ৷ পেশাদারিত্বের বাইরেও তাঁর ধ্যান লেখালেখিতে৷ শব্দের শক্তিতে তাঁর পূর্ণ আস্থা৷ এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘শাওন রাতে সুনয়না’৷ গত বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসা এই চিরহরিৎ’৷ কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমার নতুন এই কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা অর্থবহ। খুবই অল্প সময়ে বইটির কাজ শেষ করতে হয়েছে। আমি কবিতার মাধ্যমে মানুষের জীবনের ভেতরের রুপটাকে বের করে আনার চেষ্টা করেছি। যেমন- রিকশাওয়ালারা বেপরোয়া গাড়ি চালায়, তাদের যে বোধ নেই সে বিষয়টিকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি। খেলার মাঠ নিয়েও আমি চিন্তা করি। পূর্বাচলের সাহেব আলীকে নিয়ে লিখেছি যার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এভাবে মানবিক ও সমসাময়িক বিষয়গুলো আমার কবিতায় স্থান পেয়েছে।’    কামরুল হাসান সোহাগের প্রতিভাও বহুমাত্রিক৷ তিনি একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার৷ এবারের বইমেলায় কারুবাক থেকেই আসছে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ছায়া মামনি’৷ ব্যস্ত ও যান্ত্রিক শহুরে জীবনে বাবা-মার স্নেহবঞ্চিত শিশুদের দুঃখ ও অসহায়ত্বের এক মানবিক উপাখ্যান `ছায়া মামনি`৷ ডে কেয়ার সেন্টারে প্রতিপালিত শিশুদের যন্ত্রণার এক কোমল ভাষ্য এই উপন্যাস৷ এছাড়াও, ভাষাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ `বিট্টুর নতুম বেব্লেড`৷ কামরুল মনে করেন তাঁর বইগুলো পাঠকেরা গ্রহণ করবেন৷ তাঁর বক্তব্য, বাস্তব জীবনের সত্য ছবিকে তিনি সাবলীল ভাষারূপ দিয়েছেন৷ তাঁর প্রতিটি বাক্যই খুব সহজে বোধগম্য৷ বর্তমান সময়ের মানুষ জটিলতা তেমন পছন্দ করে না৷ তাই তাঁর প্রত্যাশা, তিনি সত্যিকারের পাঠকদের সাড়া পাবেন৷ সৃষ্টিশীল এসব কাজেই শুধু নয়, পেশাদার জীবনেও কামরুল হাসান সোহাগ সমান সব্যসাচী৷ ২০০৪ সালে রাজউকে যোগ দেন৷ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করছেন৷ নগরায়ন ও সরকারব্যবস্থা এবং নগর পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের ওপর তাঁর দুটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে৷ নগর পরিকল্পনাবিদদের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) বোর্ড মেম্বারও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি৷ বিআইপি জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য কামরুল হাসান সোহাগ৷ ১৯৭৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর খুলনার ডুমুরিয়ায় এই লেখকের জন্ম৷ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার বাবা ও শিক্ষিকা মায়ের সন্তান তিনি৷ তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়৷ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতকোত্তর শেষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দাতা সংস্থায় কাজের মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু৷ `কেয়ার বাংলাদেশ`-এ টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন চার বছর৷ সবশেষ ২০০৪ সালে যোগ দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকে৷ এসি     

একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস

আহ্ কো চাহিয়ে এক ওম্র আসর হোনে তক্কওন জীতা হ্যায় তেরে যুলফ কে সর হোনে তক (একটি দুঃখের যন্ত্রণা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থাকে,তোমার কেশের বেনী বাঁধা পর্যন্ত কে বেঁচে থাকবে?)   ----মীর্জা গালিব   বেলভেদ্রের বিনোদনী উপন্যাসের পটভূমি মির্জা গালিবের উপরে উদ্ধৃত গজল। স্থান, সুইজারল্যান্ডের দাভোজ শহরে অবস্থিত ৭ তারকা মানের স্টাইগেনবার্গার গ্র্যান্ড হোটেল বেলভেদ্রে। এখানেই নাইট অডিটর পদে কর্মরত অবস্থায় এক গভীর রাতে লেখকের সাথে পরিচয় হয় মিরিয়াম জোনাথন নামে হোটেলের নথিবদ্ধ একজন কম্পেনিয়ন বা হোস্টেজ-এর সাথে। যাকে বাংলায় বলে বারাঙ্গনা। লেখকের ভাষায় ব্যক্তিগত আবেগ, সম্পর্কের বিষন্নতা, থ্রিল ও মর্মস্পর্শী করুণ অভিজ্ঞতা বইটি লেখার প্রধান প্রেরণা। মিরিয়াম জোনাথন জন্মগতভাবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে গোড়া ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে উঠা, পাড়াশোনা, চাকরি এখানেই। ব্যাংকার বাবার সংসারে জন্ম নেয়ার ৬ বছরের মাথায় মা মারা গেলেন। বাবা আর বিয়ে করেননি। ইউরোপের মতো দেশে যা একটি বিরল ঘটনা। ডরোথী নামের একজন কাজের মেয়ের কাছে মানুষ হতে লাগলেন। অর্থনীতি বিষয়ে পড়শোনা শেষ করে জুরিখের একটি ব্যাংকে চাকরিও নিলেন। এরপরে তার জীবনে আসে বহরম জামসেদি নামের ১৮ বছরের এক ইরানি যুবক। সেলুলয়েডের ফিতার মত এরপরেই মিরিয়ামের জীবনে একের পর ঘটতে থাকে রোমাঞ্চ, দুর্ঘটনা, হতাশা আর না পাওয়ার করুণ কাহিনী। একজন নারীর জীবনে যে চাওয়া-পাওয়া থাকে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছেন মিরিয়াম। একমাত্র কন্যা লেইলার ভবিষ্যৎ, তাকে লালনকারি ডরোথীকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে করতে একদিন তাকে সমর্পিত হতে হয় পৃথিবীর আদিম পেশাটির দিকে। প্রথমেই তার জীবনালেখ্য পড়ে হয়ত মনে হবে জগতের অন্য আর দশজন নারীর মতই আটপৌরে, গতানুগতিক। কিন্তু যতই কাহিনীর গভীরে যাওয়া যাবে ততই পাঠকের মন আর্দ্র হয়ে পড়বে মিরিয়ামের প্রতি। চোখ সজল হয়ে উঠবে মিরিয়ামের দুঃখ গাঁথায়। তার বর্ণনায়ই জানা যাবে পৃথিবীর কত নামকরা রথি-মহারথী, রাষ্ট্র আর সরকার প্রধানরা তার বিছানায় সঙ্গী হয়েছেন। মনে হবে স্বামী বহরামের সাথে অনিবার্য পরিণতি হয়েছে বিচ্ছেদে। কিন্তু না, তার পরিণতি এতটাই উত্তেজনায় ঠাসা যে পাঠককে প্রতিটি লাইনই পড়লে মনে হবে তিনি এক ভয়াবহ রহস্য গল্প পড়ছেন। কাহিনীর প্রতিটি চরিত্রই বৈচিত্র্যময়। মিরিয়ামকে লালনকারি ডরোথীও এক রহসম্যয় সার্বজনীন নারীর রূপ। সুইজারল্যান্ডের প্রত্যন্ত এক গ্রামের পিতৃপরিচয়হীন এই নারী জীবনে বিয়ে করেননি। অনাথ মিরিয়ামকে তিনি মায়ের স্নেহে মানুষ করেছেন। বহরামের সাথে বিয়ের পরে তার হাতেও লাঞ্চিত ও ধর্ষিত হয়েছেন। এসব সয়েও মিরিয়ামের কন্যা লেইলাকে তিনি মিরিয়ামের মতই আদর দিয়ে বড় করে তার জীবনের সকল সঞ্চয় লেইলার নামে উইল করে দিয়েছেন। তবে কাহিনীর আরো বড় চমক মিরিয়ামের কন্যা লেইলা। বাবা ইরানী, মা ইউরোপীয়। বংশগতির ধারা সূত্র আবিস্কারক জীববিজ্ঞানী ম্যান্ডেলের তত্ত¡ অনুযায়ী বাবা ও মা’র জিন সন্তান বংশ পরম্পরায় বহন করে। ফলে উভয়েরই কিছু না কিছু চরিত্র সন্তান লাভ করে। লেইলা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সে তার বাবার পুরো চরিত্রই পেয়েছে। পঞ্চদশী এই মেয়েটি কিভাবে প্রতিটি ঘটনার ঘটনপটিয়সি, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তগ্রহণে স্বার্থপরতায় পরিপক্ক সে বর্ণনা পাওয়া যায় তার চরিত্র পঠনে। ১৮ বছরের বহরাম জামসেদী তেহরান থেকে পালিয়ে ছদ্মবেশে আজারবাইজান, রোমানিয়া, হাংগেরি অস্ট্রিয়া হয়ে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে মিরিয়ামের বাসায় আসেন। বহরামসহ আরো ২ জনের জুরিখে পালিয়ে আসার বর্ণনা লেখক এতটাই রোমাঞ্চ আর নিখুঁতভাবে দিয়েছেন যে পাঠকের মনে হবে নিজেই এই দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছে। দুর্গম অভিযাত্রার গল্পকেও হার মানিয়েছে শিহরণ জাগানো এই বর্ণনা। মিরিয়ামও তখন ষোড়শী। সঙ্গত কারণে যা হওয়ার তাই ঘটলো। বহরামের সাথে প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভধারণ, অতঃপর বিয়ে ও লেইলা নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়া। ইরানের শিয়া সম্প্রদায়ে জন্ম নেয়া বহরামের কাছে নারী মানেই ভোগের বস্তু। যে দেশে আজো নারী মানে এই মূল্যায়ন। স্বভাবে চরম উচ্ছৃংখল মদ এবং নারীলোভী বহরামও তার ব্যতিক্রম নন। মিরিয়ামকে ভোগের বস্তুর বাইরে কখনই স্ত্রী হিসেবে ভাবেন নি। বিপর্যয়ের শুরু মিরিয়ামের বাবার মৃত্যুর পরে। আস্তে আস্তে বহরামের স্বরূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। গোঁড়া ক্যাথলিক খ্রিস্টান বলে মিরিয়াম বহরামকে তালাকও দেয় না। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে যায় যে, মিরিয়াম জুরিখ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে দাভোজ শহরে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এখানেই একদিন রাতে লেখকের সাথে দেখা হয় মিরিয়ামের। লেখকের ভাষায়, ‘ইউরোপে যে এত সুন্দরী মেয়ে থাকতে পারে তা আমার জানা ছিল না।’ লেখক প্রথম দেখায় মিরিয়ামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু মানসিক নৈকট্যে পোঁছায় তার সায় ছিলো না মোটেই। কারণ তিনি তখন সদ্য জার্মান ফেরত। ১৮ বছর একত্রে থাকা বান্ধবীর সাথে বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় কাতর। মিরিয়ামের প্রচণ্ড ইচ্ছা, বেলভেদ্রের এক সমকামি সহকর্মী গরান ও ২০ অনূর্ধ মেরীর সহায়তায় তারসাথে মানসিক নৈকট্যে পৌঁছেছেন আরো পরে। সে বর্ণনা দিয়েছেন অত্যন্ত কৌশলে। সম্পর্কের বর্ণনাটি এমনভাবেই করেছেন, যাতে পাঠকের মনে ক্রমাগত ঔৎসুক্য আর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এরকম যে মিরিয়ামের সাথে না জানি কি হচ্ছে তার সরস কাহিনী। লেখক এখানে বর্ণনার রাশ টেনেছেন অত্যন্ত নির্মোহভাবে। সতর্ক ছিলেন ঘটনার বিবরণ যেনো ইরোটিক পর্যায়ে না যায়। নিঃসন্দেহে লেখকের এটা বড় মুন্সিয়ানা। এই উপন্যাসটি আত্মজৈবনিক হলেও ঘটনার উপস্থাপন পাঠককে ঘোরের মধ্যে রেখে দিবে-এতে সন্দেহ নেই। প্রতিটি চরিত্রই আলাদা। প্রতিটি চরিত্রেরই একটি নিজস্ব জগত আছে এবং প্রতিটি চরিত্রেরই সমাপ্তি হয়েছে রোমাঞ্চকর, করুণ এবং রহস্যময়তা দিয়ে- যা কি না যে কোনো প্রেম, রহস্য, দুঃখ আর রোমাঞ্চে ভরা উপন্যাসেও বিরল। এছাড়া দেশটির নৈসর্গিক বর্ণনাও ভ্রমণপিপাসুদের তৃপ্তি দেবে। বিশেষ করে দাভোজ শহরের প্রতিটি রাস্তা, হোটেল, জঙ্গল-এর বর্ণনা লেখক এতটাই নিখুঁতভাবে দিয়েছেন যে, পাঠক নিজেই সেই স্থানের মধ্যে নিজেকে আবিস্কার করবেন।    সুইজারল্যান্ডকে অনেকেই ভূস্বর্গ বলে। অসম্ভব ও নয়নমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দশভাগের নয়ভাগই ছোট-বড়-মাঝারি পাহাড়-পর্বত। অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত যাতায়াত ছিল গিরিপথ দিয়ে। পাহাড়ি আর পাথুরে খঞ্জর এলাকা। চাষাবাস প্রায় অসম্ভবই। মধ্যযুগে গরু-মেষ-শুকুর ইত্যাদি পশুপালনই ছিল প্রধান জীবিকা। এসব কারণে লোকসংখ্যা বরাবর নয় লাখের কম। এখনও এখানে বেশ কিছু ‘মাত্র একটি পরিবার বা এক বাড়ির গ্রাম’ রয়েছে। এই বর্ণনাগুলো এসেছে তথ্যসহ। দীর্ঘ বাক্য, কোনো কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ছাড়া সার্বিকভাবে সুসম্পাদিত বইটি যে কোন পাঠককেই আকৃষ্ট করবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে লেখকের তরুণ বন্ধু ও কবি শিমন রায়হানকে। অফসেট কাগজে ছাপা, প্রচ্ছদ এবং উন্নত বাঁধাই বইটির গুনগত মান বজায় রেখেছে। লেখক পরিচিত: বোহেমিয়ান লেখক আবদুল্লাহ আল-হারুন প্রায় চার দশক ইউরোপ প্রবাসী। বর্তমানে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের নিকটবর্তী নয়ে-ইজেনবুর্গ শহরে থাকেন। ঘুরেছেন পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক দেশ।    ২০০২ সালের ডিসেম্বরে চলে যান সুইজারল্যান্ড। সেখানে তিনি অ্যাঙ্গেলবার্গের একটি হোটেলে এবং পরে দাভোজের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাত তারকা হোটেল গ্র্যান্ড স্টাইগেনবার্গার বেলভেদরে নাইট অডিটর পদে চাকরি নেন। দাভোজে বছরে একবার, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক কনফারেন্স’ নামে পাঁচদিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়ে থাকে। যেখানে সারা পৃথিবীর সেলিব্রিটি, গায়ক-নায়ক-শিল্পী, শিল্পপতি এবং রাজনীতিকরা যোগদান করেন। তাদের মধ্যে যারা রাজার রাজা, সবাই বেলেভেদ্রেতে রাত্রিযাপন করেন। সেই সুবাদে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে ক্ষণিকের জন্য হলেও লেখকের ঘনিষ্ট সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছে। কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে কথাবার্তাও হয়েছে। এদের মধ্যে বিল ক্লিন্টন, নেলসন ম্যান্ডেলা, কফি আনান, পিটার উস্তিনভ, পল ম্যাকার্টনি, ম্যাডোনা, রোমান পোলানস্কি, বিল গেটস, টনি ব্লেয়ার, প্রিন্স চার্লস প্রমুখ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান। জার্মানিতে ফিরে আসেন ২০০৫ সালে। বিচিত্র ও চমকপ্রদ এসব অভিজ্ঞতা তার লেখার অনুপ্রেরণা। তিনি রবীন্দ্রসংগীতের বিশেষ অনুরাগী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বড় ভাই বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যজন আবদুল্লাহ আল-মামুন।   বইয়ের নাম: বেলভেদ্রের বিনোদনীলেখকের নাম: আবদুল্লাহ আল হারুন শ্রেণি: আত্মজৈবনিক উপন্যাসমূল্য: ৪০০ টাকাপ্রকাশক: ঐতিহ্য প্রকাশনী , ঢাকাপ্রকাশকাল: বইমেলা, ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এসি      

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি