ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৭:২৫

রাশিদ আসকারীর ৭১-এর গল্প ফরাসি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন

লেখক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক রাশিদ আসকারীর ইংরেজি গল্প সংকলন Nineteen Seventy One and Other Stories-এর ফরাসি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। প্রশাসন ভবনের সম্মেলন-কক্ষে আজ শনিবার দুপুর ১টায় অনুবাদ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা। মোড়ক উন্মোচনের প্রতিক্রিয়ায় গ্রন্থটির লেখক রাশিদ আসকারী বলেন, বাংলাদেশের যেকোন শিল্পকর্মের প্রধান প্রতিপাদ্য হওয়া উচিৎ ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিকথা। তিনি বলেন, গ্রন্থটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় এবং মহান বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে মোড়ক উন্মোচন করতে পারায় আমি গভীরভাবে আনন্দিত। উপাচার্যের চেয়ে লেখক হিসেবে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো.শাহিনুর রহমান ফরাসি ভাষায় অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ায় গল্প গ্রন্থটির লেখক রাশিদ আসকারীকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এই অনুবাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশের মানুষদের নাড়া দিবে, স্পন্দন যোগাবে। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা তার বক্তব্যে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় অনুবাদের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলা একাডেমির নিকট আবেদন জানান। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. রেজওয়ানুল ইসলাম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন। তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. আতাউল হক প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফরাসি ভাষায় অনুবাদের কাজ করেছেন ফরাসি অনুবাদক এনা গ্যাব্রিয়েল কৌশী এবং বইটি প্রকাশ করেছেন ভারতের নিউ দিল্লীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রুব্রিক পাবলিশিং। রুব্রিক পাবলিশিং-এর সত্ত্বাধিকারী লেখক, কবি ও অনুবাদক ড. বীণা বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত এই মূল্যবান গ্রন্থটি আমাদের দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে। এর অনুবাদের কাজটিকে আমি সম্পূর্ণ অনুধাবনের রাখার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে নেপালি ভাষাসহ ভারতের আরও একাধিক ভাষায় এটি অনুবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। Nineteen Seventy One and Other Stories গ্রন্থটি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশ করেন প্রকাশনা সংস্থা পাঠক সমাবেশ। গ্রন্থটিতে লেখকের মোট বারোটি গল্প স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটি হিন্দি ভাষায় অনুবাদ করেন ভারতের শিমলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. উষা বন্দে, যার মোড়ক উন্মোচন হয় এ বছরের ২৫ জুন। কেআই/ এসএইচ/

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় হুমায়ূনকে স্মরণ

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ছিল গতকাল ১৩ নভেম্বর। হুমায়ূন ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় উদযাপিত হয়েছে দিনটি। হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটেছে জন্মদিন উদ্‌যাপনের নানা আয়োজনে। প্রিয় লেখকের প্রতি হূদয়ের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানিয়েছে তারা।সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির দখিন হাওয়ায় লেখকের বসার ঘরের টেবিলে রাখা ছিল জন্মদিনের কেক। কেক কাটেন লেখকের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন এবং দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত।অপরদিকে, হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশনায় সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে গতকাল বিকেলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা। বিকেলে ৭০টি বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবীব এবং হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন। বক্তব্য দেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ।এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা’। গতকাল জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করে ‘হুমায়ূন সাহিত্যে বাঙালির জীবন ও সমাজ’ শীর্ষক সেমিনার। জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। একই সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘দেবী’। নাট্যদল বহুবচন প্রযোজিত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে ইকবাল হোসেনের নাট্যরূপে দেবীর ১১৫তম মঞ্চায়ন হয়েছে।জন্মদিনে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে দুই হাজার ৫০০ মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সকালে দুই ছেলে নিষাদ-নিনিতসহ স্বজন এবং ভক্তদের নিয়ে এখানে কেক কাটেন। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।এসএ/

পাঠককে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখতেন হুমায়ূন অাহমেদ

হ‌ুমায়ূন আহমেদ সিনেমা বানাবেন, টাকা প্রয়োজন। হঠাৎ মনে হলো, সরকার যদি সাহায্য করে, তাহলেই তো হয়ে যায়। তিনি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন। মন্ত্রী সব শুনে বললেন, ‘আপনি লেখক মানুষ। ছবি বানানোর আপনি কী জানেন?’ : আমি কিছুই জানি না। তবে আমি শিখব। : শিখে ছবি বানাবেন? : জি। : নিজের ওপর আপনার এত বিশ্বাসের কারণ কী? হ‌ুমায়ূন আহমেদ এবার দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, ‘অন্যের ওপর বিশ্বাস করার চেয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস করাটা ভালো না?’ নুহাশ পল্লীর ওষুধি বাগানে গাঁজাগাছ নেই। বৃক্ষমেলার বন বিভাগের স্টলে গাছ আছে জানতে পেরে হ‌ুমায়ূন আহমেদ কিনতে গেলেন। কিন্তু সেটা বিক্রির জন্য ছিল না, বিধায় তাকে গাছ না কিনেই ফিরে আসতে হলো। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটনা বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ল। হ‌ুমায়ূন আহমেদ গাঁজাগাছ খুঁজছেন, জানতে পেরে দলে ভিড়েছেন মনে করে কেউ কেউ বিমলানন্দ পেলেন। আবার অনেকেই বাঁকা চোখে তাকাতে শুরু করলেন। এর মধ্যে একদিন এক অভিনেতা অতি উত্সাহে দুটি গাঁজাগাছের টব হ‌ুমায়ূন আহমেদের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু বিধিবাম! নুহাশ পল্লীতে গাছ লাগানোর পরদিনই চুরি হয়ে গেল। হ‌ুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘যে নিয়েছে তার প্রয়োজন নিশ্চয়ই আমার চেয়েও বেশি। সুতরাং কী আর করা!’ সাহিত্য আলোচনার আসরে এক কবি ও কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আপনার সব উপন্যাসই দেখি হয় চার ফর্মায়, নয় পাঁচ ফর্মায় কিংবা ছয় ফর্মায় শেষ হয়। এভাবে ফর্মা হিসাব করে কীভাবে আপনার মাথায় উপন্যাস আসে?’ প্রশ্নের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে মুচকি হেসে বললেন, ‘ভাই, আপনি যে সনেটগুলো লেখেন, এগুলো তো চৌদ্দ লাইনে লেখেন। আপনার ভাব যদি চৌদ্দ লাইন মেনে আসতে পারে, আমার উপন্যাস ফর্মা হিসাবে এলে অসুবিধা কী?’ একবার এক ব্যক্তি হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বললেন, অমুক তো আপনাকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে। আপনার লেখায় নাকি শিক্ষামূলক কিছু নাই। শুনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছে, আমি তো পাঠ্যবই লেখি না!’ হ‌ুমায়ূন আহমেদ কেমন সরস ছিলেন তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি ‘আমি রসিকতা পছন্দ করি না’ এই টাইপ কথা বলা গম্ভীর মানুষেরাও হ‌ুমায়ূন আহমেদের রসিকতায় অট্টহাসি হাসেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমন কিছু নেই, যা নিয়ে রসিকতা করেননি তিনি। ক্রিকেট নিয়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের খেলার সময় হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রবল উত্সাহ দেখে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন। কিন্তু হ‌ুমায়ূন আহমেদ ক্রিকেট বিষয়ে বিজ্ঞ নন দেখে সাংবাদিক হতাশ হয়ে বললেন, ‘আপনি যে ক্রিকেট বোঝেন না, এটা কি লিখতে পারি?’ : অবশ্যই লিখতে পারো। : কিছু না বুঝেও ক্রিকেট কেন পছন্দ করেন—একটু ব্যাখ্যা করবেন? : কারণ, আমি গল্পকার। : স্যার, একটু বুঝিয়ে বলুন। : ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি বল করা হয়। বল করা মাত্র গল্প শুরু হয়। নানান সম্ভাবনার গল্প। ব্যাটসম্যানকে আউট করার সম্ভাবনা, ছক্কা মারার সম্ভাবনা ইত্যাদি। ছয়টা বল হলো ছয়টা সম্ভাবনা—গল্পের সংকলন। এবার বুঝেছ? জীবনকে দেখার এ চোখটা দারুণ ছিল হুমায়ূন আহমেদের। হ‌ুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা (পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।) অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। বাবাকে নিয়ে লেখক লিখেছেন, ‘আমার বাবা পৃথিবীর সব চেয়ে ভালো মানুষদের একজন কি না তা জানি না, তবে বিচিত্র একজন মানুষ, তা বলতে পারি।’ কতটা বিচিত্র, তার একটা উদাহরণ পাওয়া যায় লেখকের আমার ছেলেবেলা বইতে। এক শীতকালের ঘটনা। ভোরবেলা মায়ের গলা শুনে ছোট্ট হ‌ুমায়ূনের ঘুম ভাঙে। টের পান, মা-বাবা কী নিয়ে যেন রাগারাগি করছেন। কান পেতে শুনতে পান, মা বারবার বলছেন, ‘ঘোড়া দিয়ে তুমি করবে কী? আমাকে বুঝিয়ে বলো, কে পুষবে এই ঘোড়া?’ বাবা বলেন, ‘এত রাগছ কেন? একটা কোনো ব্যবস্থা হবেই।’ আধো ঘুমে কথাগুলো শুনেই ছোট্ট হ‌ুমায়ূন বুঝল, একটা ঘোড়া কেনা হয়েছে! তড়াক করে বিছানায় লাফিয়ে বসল সে। তখন বাবা হাসিমুখে বললেন, ‘ঘরের বাইরে গিয়ে দেখে আয়, ঘোড়া কিনেছি।’ বাইরে গিয়ে লেখক দেখেছিলেন একটা অদ্ভুত দৃশ্য! সুপারিগাছের সঙ্গে বাঁধা বিশাল এক ঘোড়া। ঘোড়াটাকে তার কাছে মনে হয়েছিল আকাশের মতো বড়! ঘোড়াটা ক্রমাগত পা দাপাচ্ছে আর ফোঁসফোঁস শব্দ করছে। ছেলেবেলায় অভাবে দিন কেটেছিল হ‌ুমায়ূন আহমেদদের। পরে বাবা সেই ঘোড়াটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আলমারিতে এখনও পকেট ছাড়া হলুদ পাঞ্জাবিটা সাজানো। আমরা তিন বন্ধু মিলে জোছনা দেখব হিমু হয়ে। তখন এই পাঞ্জাবীটা পড়ে সারারাত হিমু সেজে কাটালাম। ক্ষুধায় এর ওর কাছে চেয়ে খেয়েছিলাম। আবার শুয়ে শুয়ে জোছনা দেখা। অকারণে হেঁটে চলা। কি যে পাগলামি ছিল। কৈশোরের সেই স্মৃতি বলে দেয় হুমায়ূন আহমেদ আমাদের কি পরিমান প্রভাবিত করেছিলেন । কোথাও কেউ নেই এর বাকের ভাই এর জন্য মিছিলে যাওয়া প্রথম। বাকের ফাঁসি হলে,জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। কে কবে দেখেছে নাটকের চরিত্রের জন্য এই রুপ প্রতিক্রিয়া। বাঙালির চিরকালীন আবেগ, এতটা হুমায়ুনময় যে জোছনা, সমুদ্র, বৃষ্টি বাঙালি ভাটির এই যাযাবরের চোখ দিয়েই দেখে। জোছনায় শীতল পাটিতে এখনও বসে মানুষের অনুভুতিকে সহজভাবে মাটির মমতায় তুলে আনছেন, বাঙালির আবেগের চোখেএই ছবি মুছবেনা। সব মিলিয়ে সব কিছুর পর বাঙালিকে বই পড়তে, বইয়ে আগ্রহী করতে যে নামটি সবার আগে, তিনি হুমায়ুন আহমেদ । আপনার জন্ম না হলে হয়তবা জানাই হতো না এখানে হাজার মানুষের কান্না আছে, সুখ আছে।যে কান্না যে সুখ, যে আনন্দ বেদনা ছুঁয়ে যেতে পারে নিজেকেও। বইয়ের কয়েকটা কালির অক্ষর ভিজিয়ে দিতে পারে নিজের বালিশ, হাসিয়ে দিতে পারে নিজের অজান্তেই, শিহরিত করে দিতে পারে পুরো শরীর। মূলত সাহিত্য এবং এর শাখা-প্রশাখা, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ইত্যাদি মিলিয়ে হুমায়ূনের বিশাল সৃষ্টিসম্ভার। তাকে বাঙালি জীবনের এক ‘কালচারাল ফেনোমেনন’-এ পরিণত করেছে। হুমায়ূন আহমেদের চার দশকব্যাপী বিস্তৃত সৃষ্টিশীল অধ্যায় কাল কি পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে? পরপারে চলে যাওয়ার পর তিনি এখন একা, পুরোপুরি নিঃসঙ্গ। তাকে ঘিরে নেই ভক্ত-পাঠকের দল। নেই তাঁর পাণ্ডুলিপি পাওয়ার জন্য প্রকাশকদের হুড়োহুড়ি। নেই পুলিশি পাহারায় বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলার কোনো ভক্তপিষ্ট স্টলে তার বসে থাকার দৃশ্য। তিনি সম্পূর্ণ একা। এখন শুরু হবে তার টিকে থাকা না-থাকার পরীক্ষা। উনি বলা শুরু করেন, পাঠক মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার বলা গল্পের পিছু পিছু হাঁটতে থাকে। এক সময় কাহিনী শেষ হয়, কিন্তু থেকে যায় রেশ। হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন কিন্তু হিমু, মিশির আলি আমাদের চোখের সামনে আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে। জন্মদিনে স্মরণ করি তোমায় বিনম্র শ্রদ্ধায় জীবনের অতুলনীয় রুপকার । লেখক: সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মী। অা অা// এসএইচ/

হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে বইমেলা

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী একক বইমেলা। এই মেলার আয়োজন করেছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রকাশকেরা। মেলা চলবে ১৯ নভেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশকারী ১৭টি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশকরা ৯ম বারের মত এই মেলার আয়োজন করে। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা। মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রধান অতিথি হিসেবে খ্যাতিমান কথাশিল্পী ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আজকে এমন একজনের জন্মদিন যিনি তার কর্মের মাধ্যমে মৃত্যুকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ ছিলেন। তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের মাঝে প্রবেশ করেছেন। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি গল্প, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসসহ সব জায়গায় সম্রাটের মত বিচরণ করেছেন। আমাদের তার আলোর বাংলাদেশে আলোকিত করবো। নতুন করে তার জীবনকে আমার আবিষ্কার করবো। মেলার উদ্বোধন করেন হ‌ুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব প্রমুখ। টিআর/এসএইচ/

শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্টের অষ্টম আসর

শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্টের অষ্টম আসর। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাহিত্যের মিলনমেলাটির শুভ সূচনা করা হয়। ১৫ দেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিক, গবেষক এবং বাংলাদেশের প্রায় দেড়শ’ লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮-এর অনাড়ম্বর সূচনা ঘোষণা করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ এবং আহসান আকবার।এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি একটি সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করেছিল। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু তিনি অগ্রাহ্য করেন। বঙ্গবন্ধু তখন বলেছিলেন, ‘আমি একজন রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিকদের এই মিলনমেলায় আমি কীভাবে যাই।’ এরপর স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করলে তিনি একটি শর্ত দেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে কবি জসিম উদ্দিন, চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন এবং প্রফেসর আব্দুল মতিন চৌধুরীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু ক্রিয়েটিভিটি এবং জ্ঞানের উপর বিশ্বাস করেন। ঠিক এমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি সব সময় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।’উল্লেখ্য, এবারের লিট ফেস্টে আলোচনা, পারফরমেন্স চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে শতাধিক সেশন থাকছে। আরও আছে আনপ্লাগড মিউজিক কনসার্ট। সম্ভাব্য সেশনের আনুষ্ঠানিক তালিকা ইতোমধ্যেই লিট ফেস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। www.dhakalitfest.com-এ পাওয়া যাবে প্রোগ্রাম তালিকা।এসএ/

আজ শুরু অষ্টম ঢাকা লিট ফেস্ট আন্তর্জাতিক উত্সব

‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। তিন দিনের এই উৎসব বাংলা একাডেমিতে চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। উৎসব আয়োজনে সহায়তা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি। সকাল ১০টায় উৎসব উদ্বোধন  করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, যুক্তরাষ্ট্রের পুলিৎজার জয়ী লেখক অ্যাডাম জনসন ও পাকিস্তান বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের লেখক মোহাম্মদ হানিফ।এবারের উৎসবে ১৫টি দেশ থেকে ৪০ জন এবং বাংলাদেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, আলোচক, পারফর্মার ও চিন্তাবিদ অংশ নেবেন। উৎসবের তিন দিনে ৯০টি অধিবেশন হবে। এতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, নারী, রোহিঙ্গা বিষয়, চলচ্চিত্র বিষয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা থাকবে। থাকবে কবিতা ও ছড়া বিষয়ে পাঠ ও আলোচনা। বাংলা সাহিত্যের তিনটি বই প্রকাশ করা হবে।উৎসবে অংশ নেবেন ভারতের কথাশিল্পী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, ভারতের অভিনেত্রী মণীষা কৈরালা, অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন, অভিনেত্রী নন্দিতা দাস, অন্দাজে পুরস্কার বিজয়ী ফিলিপ হেনসার, জেমস মিক, বাংলাদেশের সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক প্রমুখ।প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানমালা চলবে। উৎসব সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এসএ/  

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৪ বই  

বইটির আকার ৪ মিটার বাই ৩.৬ মিটার। বিশাল এই বইটির ওজন ১ হাজার ৪২০ কেজি। বইটি বানাতে ২৬ জন লোক লেগেছে। মূলত হাঙ্গেরির অ্যাগটেলেক ন্যাশনাল পার্কের ওপর ভিত্তি করে বানানো হয় বইটি। বইটি ছাপার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ৫ মিটার চওড়া এক প্রিন্টিং মেশিন।    এ ভিজ্যুয়াল অডিসি অ্যাক্রোস দ্য লাস্ট হিমালয়ান কিংডম নামের বিশাল এই বই পাবেন আমেরিকার সুজালো লাইব্রেরিতে। ২.১৩ মিটার বাই ১.৫৩ মিটারের বইটিতে স্থান পেয়েছে মাইকেল হোলের তোলা ভুটানের চমৎকার সব আলোকচিত্র।  ৩৫০ বছরেরও বেশি পুরনো বই ক্লেনকে অ্যাটলাস। ১৬৬০ সালে এটি তৈরি করা হয় ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসকে উপহার দেয়ার জন্য। বইটির দৈর্ঘ্যে ১.৭৮ মিটার, চওড়ায় ১.০৫ মিটার, আর পুরুত্ব ১১ সেন্টিমিটার আর্থ প্লাটিনাম বইটি হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অ্যাটলাস। ১.৮ মিটার বাই ১.৪ মিটারের অ্যাটলাসটি ডিজাইন করতে ১০০ জনের লেগেছে পুরো চার বছর। এসি    

‘আমার চরিত্রের সার্টিফিকেটকে আরো শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন’

নিজেকে নিয়ে তাসলিমা নাসরিনের মন্তব্যের জাবাব দিলেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে এই প্রতিক্রিয়া লেখেন। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো - [তসলিমা নাসরিনকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি এরকম একটি মোক্ষম সময়কে বেছে নিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভকে প্রকাশ করে ২০ বছর আগে দেয়া আমার একটি বক্তব্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।যে সকল ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন তা ২০০০ সালের এবং তিনি সত্যিই আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন কারণ তখন আমাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একটি আলোচিত সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকে আমার সে দেশে টিকে থাকা মুস্কিল হয়ে পড়েছিল এবং তখনও অনেক সাংবাদিক আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন যেমন দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে। খুঁজলে সে চিঠি আমি নিশ্চয়ই পাবো। আরও পড়ুন : ‘মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা’যখন তার প্রথম আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক’ বের হলো তখন এই বই নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবেই আমি একটি পুস্তক সমালোচনা লিখি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমার তখন নারীবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা, উদারনৈতিক ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি একাডেমিক লেখাপড়া ছিল না। আমি সমালোচনায় বইটি সম্পর্কে এই কথাই বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দু’পক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে - ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি। করতে পারি না কারণ আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।২০০০ সালের পরে অসংখ্য লেখায় আমি তসলিমা নাসরিনের প্রশংসা করেছি এবং সে কারণে আমাকে সমালোচকরা ‘নতুন তসলিমা নাসরিন’ আখ্যা দিয়ে আমার বিচার, অপমান এবং ফাঁসিও চেয়েছে। তসলিমা নাসরিন এসব কথা কখনও উল্লেখ করেননি, তিনি সব সময় গত কুড়ি বছর ধরে বহুবার, বহু জায়গায় আমার এই পুস্তক-সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আমাকে চরম আঘাত করেছেন। আমি বিরত থেকেছি জনসমক্ষে কিছু বলা থেকে কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে আমি বহুবার একথা বলেছি যে, তার বইয়ের সমালোচনায় আমি যা বলেছি সেটা একেবারেই তার বইয়ে সন্নিবেশিত তথ্যের সমালোচনা, তার ব্যক্তি-সমালোচনা নয়। আমি একথা ২০০৩ সালেই প্রকাশ্যেও লিখেছি, এমনকি যখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তখন আমি প্রতিবাদ করেছি, লেখকের বিরুদ্ধে মামলা বা বই নিষিদ্ধের দাবীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। আমার সেসব প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব ভেসে গেছে, থেকে গেছে কেবল সমালোচনাটুকু। এমনকি এই সেদিনও বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত লিট ফেস্ট ২০১৭ তে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছি যে, তিনি আমাদের পুরোধা লেখক যিনি পথ দেখিয়েছেন, অনেক শব্দকে ছাপার অক্ষরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন।তসলিমা নাসরিনের প্রতি আমার কোনো ধরনের বিদ্বেষ, রাগ কখনোই ছিল না। বরং আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন সেটা আমি ভুলিনি। তাই বলে তার প্রকাশিত বইয়ের সমালোচনা আমি করতে পারবো না সেটাতো হতে পারে না। হতে পারে তিনি মনে করেছেন যে, আমার সমালোচনাটি কুৎসিৎ ব্যক্তি আক্রমণ, কিন্তু আমি নিজে জানি যে, তখনও আমি সেটা করিনি আর এখনতো আরও করবো না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একটি লেখার জন্য আমাকে ক’বার শাস্তি দেবেন? এরতো কোথাও না কোথাও একটা শেষ হতে হবে, নয়? হয়তো এবারই সেই চরম শাস্তিটুকু তিনি আমায় দিলেন। আমি মাথা পেতে নিলাম।তসলিমা নাসরিন তার মতামত দিয়েছেন আমার সম্পর্কে। আমি সে সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা দিতে পারি মাত্র, এর বেশি আর কীই বা করতে পারি? তবে এমন একটি সময়কে ২০ বছর আগে লেখা সমালোচনার (যার জন্য বহুবার তিনি প্রকাশ্যে আমায় গাল দিয়েছেন) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যখন আমি কেবল আক্রান্তই নই, আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তিনি আমলে আনেননি, আমার চেয়ে তার এই নিরাপত্তা-সংকটের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বোঝার কথা ছিল। আজকে তার দেওয়া চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে যারা আমাকে তুলোধনুা করছেন তারাই প্রতিদিন তার মাথা চায়, নোংরা আক্রমনে জর্জরিত করে, কখনও বা তাকে দেশছাড়া করতে চায়। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে তারই দেওয়া ‘ভীষণ চরিত্রহীন’ তকমার করাত দিয়ে আমাকে টুকরো টুকেরো করছে। জানি না, এতে কার লাভ কী হলো? কিন্তু কিছু একটা হলো নিশ্চয়ই।এরকম একটি চরম সংকটকালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কবলে থেকে একদল মানুষ ন্যয়ের জন্য লড়ছে, তখন মইনুল হোসেনের দেওয়া তকমা “চরিত্রহীন”-কে একটি “ভীষণ” শব্দ জুড়ে দিয়ে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট-কে আরো শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন - আমি এ জন্যও তার কাছে কৃতজ্ঞ। অগ্রজ লেখক হিসেবে হয়তো এটুকুই আমার প্রাপ্য তার কাছে।] সূত্র : মাসুদা ভাট্টির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থেকে এসএ/  

‘মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা’

আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘ভীষণ রকম চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন।তসলিমা নাসরিনের লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো -[কে মইনুল হোসেন, কী করেন, কী তাঁর চরিত্র, কী তাঁর আদর্শ আমি জানি না, তবে জানি মাসুদা ভাট্টি একটা ভীষণ রকম চরিত্রহীন মহিলা। চরিত্রহীন বলতে আমি কোনওদিন এর ওর সঙ্গে শুয়ে বেড়ানো বুঝি না। চরিত্রহীন বলতে বুঝি, অতি অসৎ, অতি লোভী, অতি কৃতঘ্ন, অতি নিষ্ঠুর, অতি স্বার্থান্ধ,অতি ছোট লোক। মাসুদা ভাট্টি এসবের সবই।মহিলাটির জন্য ১৯৯৬ বা ১৯৯৭ সালে আমার কাছে খুব করে আব্দার করেছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। লন্ডন থেকে স্টকহোমে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, `মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশের মেয়ে। এক পাকিস্তানি লোককে বিয়ে করে এখানে ছিল। পাকিস্তানির সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। এখন ব্রিটেন থেকে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন তুমিই একমাত্র বাঁচাতে পারো ওকে। ওর জন্য ব্রিটিশ সরকারকে একটা চিঠি লিখে দাও। লিখে দাও মাসুদা ভাট্টি বাংলাদেশে তোমার পাবলিশার ছিল, তোমার জন্য আন্দোলন করেছে। ও যদি এখন দেশে ফিরে যায়, ওকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা`।আমি বললাম, `মহিলাকে আমি চিনিই না। আর আপনি বলছেন ও আমার পাবলিশার ছিল? আমি মিথ্যে বলি না। আমি মিথ্যে কথা বলতে পারবো না` এরপর ওই মহিলা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি, আমাকে বাঁচান। আপনি না বাঁচালে আমি মরে যাবো জাতীয় কান্না। কাউকে কাঁদতে দেখলে নিজের চোখেও জল চলে আসে। ব্রিটিশ সরকারের কাছে মাসুদা ভাট্টিকে না তাড়ানোর জন্য অনুরোধ করলাম। মহিলার জন্য মিথ্যে কথা আমাকে লিখতে হলো, লিখতে হলো, আমার পাবলিশার ছিল সে, দেশে ফিরলে তাকে মেরে ফেলবে মৌলবাদিরা। তখন আমার খুব নাম ডাক। আমার চিঠির কারণে মাসুদা ভাট্টির পলিটিক্যাল এসাইলাম হয়ে গেল, ব্রিটেনের নাগরিকত্বও হয়ে গেল।তারপর কী হলো? তারপর ২০০৩ সালে আমার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড `ক` যখন বাংলাদেশে বেরোলো,আমি কেন নারী হয়ে দেশের এক বিখ্যাত পুরুষের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছি, আমি কেন নারী হয়ে নিজের যৌনতার কথা লিখেছি, সারা দেশের নারী-বিদ্বেষী আর ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠি উন্মাদ হয়ে উঠলো আমাকে অপমান আর অপদস্থ করার জন্য, আমাকে অবিরাম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালি তো দিতেই লাগলো, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে শুরু করলো, সেই মিছিলে সামিল হলো মাসুদা ভাট্টি।আমার বিরুদ্ধে এ যাবৎ প্রচুর কুৎসিত লেখা লিখেছে লোকে, সর্বকালের সর্বকুৎসিত লেখাটি লিখেছে মাসুদা ভাট্টি। সবচেয়ে জঘন্য, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, সবচেয়ে বীভৎস সে লেখা। এত ভয়াবহ আক্রমণ আমার চরমতম শত্রুও আমাকে কোনওদিন করেনি। ক বইটি নাকি ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে শরীরে ঘিনঘিনে ঘা ওলা রাস্তায় পড়ে থাকা এক বুড়ি বেশ্যার আত্মকথন।মাসুদাভাট্টি আমার উপকারের জবাব ওভাবেই দিয়েছিল। ও যদি চরিত্রহীন না হয়, দুনিয়াতে চরিত্রহীন কে?আজ দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির পক্ষে লড়ছেন কারণ কেউ তাকে চরিত্রহীন বলেছে। যত অশ্লীল শব্দ বাক্য পৃথিবীতে আছে, তার সবই আমার বিরুদ্ধে উচ্চারিত হচ্ছে নব্বই দশকের শুরু থেকে। আমি তো জনপ্রিয় কলাম লেখক ছিলাম তখন, জনপ্রিয় লেখক ছিলাম, কই কোনও বিশিষ্ট সম্পাদক আর কোনও সিনিয়র সাংবাদিককে তো আমার বিরুদ্ধে হওয়া লাগাতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করতে কোনওদিন দেখিনি।আমার মাথার দাম ঘোষণা করা হলো, আমার বিরুদ্ধে লক্ষ লোকের লং মার্চ হলো, আমার ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে দিনের পর দিন মিছিল হলো, সরকার একের পর এক আমার বই নিষিদ্ধ করলো, আমার মত প্রকাশের বিরুদ্ধে মামলা করলো, আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল, কই দেশের কোনও সম্পাদক বা সাংবাদিক কেউ তো টুঁ শব্দ করেনি। এই যে আজ ২৪ বছর আমাকে অন্যায়ভাবে কোনও সরকারই দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, কোনও বিশিষ্ট জন তো মুখ খোলেন না। একজনের বেলায় বোবা, আরেকজনের বেলায় বিপ্লবী, এ খেলার নাম কী?] সূত্র : লেখিকার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে থেকে এসএ/  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি