কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ ছাত্রী ও তার মায়ের লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত : ১৮:০০, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে ২১ দিন নিখোঁজ ছাত্রী ও তার মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হচ্ছেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)। মুক্তিরবাগ এলাকার নিহত ফাতেমার প্রাইভেট শিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাট থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী নাম মো. শাহিন আহমেদ পেশায় একজন আইনজীবীর মুহুরি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি জানান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
ওসি জানান, নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ গত ১৯ ডিসেম্বর তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে যান। সেখান থেকে ২৭ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের গোপপাড় তার ভাড়া বাসায় ( ইসমাইল হোসেনের বাড়ি) ফিরে এসে তিনি তার বাসা তালাবদ্ধ দেখতে পান। তখন আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে ২৫ ডিসেম্বর থেকে তার মেয়ে ও স্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত দুজনের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে ফাতেমা কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে মীম বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রাইভেট পড়া শেষ করে ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়। ওই সময়ে ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর পর থেকে মা-মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ ঘটনায় শাহিন আহমেদ বাদী হয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
ওসি সাইফুল আলম জানান, গতকাল ১৫ জানুয়ারি বিকেলে মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন জাতীয় সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন করেন। আমরা শিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের নিচ থেকে মা রোকেয়ার লাশ ও বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠাই।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রাইভেট শিক্ষিকা মিম আক্তার (২৪), তার স্বামী মো. হুমায়ুন বেপারী, মিমের ছোট বোন নুসরাত নুরজাহান (১৫) ও মাহি (১১) নামের চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।
নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ জানান, আমার মেয়ে ফাতেমা স্থানীয় সততা স্কুল থেকে এ বছর অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে। কালিন্দী গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ওই স্কুলের শিক্ষিকা ঘাতক মিমের কাছে প্রাইভেট পড়তে দিই। এই প্রাইভেট পড়তে দিয়েই আমার কাল হলো। আমি স্ত্রী-সন্তান দুজনকেই হারালাম। আমি এ হত্যার বিচার দাবি করছি।
এমআর//
আরও পড়ুন










