ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১১:৫২

বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি

নীতিমালা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি

বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি

দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবশে নিশ্চিত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতির বাইরে রাখার চিন্তা করছে সরকার। ইতোমধ্যে এ বিষয় একটি নীতিমালা তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি এ উদ্যোগকে নীতিগত সমর্থন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
অভিযোগ ১৪৩৬টি, নিষ্পত্তি হয়নি একটিও

মোবাইল অপারেটরগুলোর সেবা ও পণ্য নিয়ে দিন দিন অসন্তোষ বাড়ছে ব্যবহারকারীদের মাঝে। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভ্যাস) এবং গ্রাহক সেবার মান নিয়েও আছে অসন্তোষ। এছাড়া আছে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা যে যাই বলুক না কেন, গ্রাহকদের অভিযোগের কোনো সমাধান নেই। ২০১৭ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযোগ কেন্দ্রে মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পরেছে এক হাজার ৪৩৬টি। কিন্তু অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়নি একটিরও। অসন্তোষ গ্রাহক সেবার মান নিয়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর কোনো সেবা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে গ্রাহকেরা প্রথমে ছুটে যান অপারেটরগুলোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে। কিন্তু সেসব সেবা কেন্দ্রের মান নিয়েও আছে গ্রাহকদের বিস্তর অভিযোগ। মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছ থেকে গ্রাহকেরা সরাসরি, কল সেন্টার এবং অনলাইনে লাইভ চ্যাট; এই তিনভাবে সেবা নিতে পারেন। লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে খুবই সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হয় গ্রাহকদের। তাই গ্রাহকদেরকে কল সেন্টার অথবা সরাসরি সেবা কেন্দ্রে গিয়ে সেবা নিতে হয়। কল সেন্টারে ফোন দিলে প্রথমেই অংকের ক্লাসে বসতে হয় গ্রাহকদের। বিভিন্ন সেবার ধরণের নামে ১ থেকে ৯ পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বরে চাপ দিতে বলা হয়। একটি নম্বরে চাপ দিয়ে এক ধরণের সেবায় গেলে আবার আরেকটি নম্বর। এভাবে কয়েক দফা বিভিন্ন নম্বর চাপার পরেও গ্রাহক সেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হলে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘক্ষণ। একই অবস্থা গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোতেও। গ্রাহক অনুপাতে ব্যস্ততম জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র না থাকা এবং কেন্দ্রগুলোতে গ্রাহকদের অনুপাতে কম সংখ্যক কর্মী থাকায় সেবা কেন্দ্রগুলোতেও সমস্যার সমাধান পেতে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। এসব কারণে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগেও অনুৎসাহিত হয়ে পরেন তারা।  যেখানে অভিযোগ জানাবে গ্রাহক মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে সমাধান পেতে বেশ নাজেহালই হতে হয় গ্রাহকদের। ভোক্তা হিসেবে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য গ্রাহকেরা প্রথমেই যান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কেন্দ্রে। কিন্তু সেই সংস্থাটি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না। রাজধানীর টিসিবি ভবনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী পরিচালক (তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিন বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলোর পক্ষে করা এক রিটের কারণে উচ্চ আদালত এক আদেশ জারি করে। ২০১৭ সালের ২৮ মে’তে জারি করা ওই আদেশের কারণে মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা আমরা নিতে পারছি না। আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসে আমরা শুধু সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।        যে যা বলছে গ্রাহকদের এমন সব অসন্তোষ এবং অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ইটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে। মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। গ্রাহকদের অভিযোগ এবং অসন্তোষের জবাবে প্রতিটি মোবাইল ফোন অপারেটর বক্তব্য কমবেশি একই রকম। ব্যবহৃত ইন্টারনেট যাচাইয়ের জন্য নিজেদের পাঠানো এসএমএস এবং মোবাইলভিত্তিক অ্যাপসেই ভরসা রাখতে হবে বলে জানায় গ্রামীণ ফোন এবং বাংলালিংক। আর কলড্রপ হলে গ্রাহকদেরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘মিনিট’ দেওয়া হয় বলে জানায় অপারেটরগুলো। এসব মিনিটের মেয়াদ একদিন হয় বলে জানায় গ্রামীণ ফোন। অন্যদিকে ভ্যাস সেবার নামে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় টাকা কাটার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অপারেটরগুলো। বাংলালিংক জানায়, গ্রাহকেরা চাইলে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখে ৬৮৮৮ নম্বরে পাঠালে বন্ধ হয়ে যাবে গ্রাহকের সব ধরণের ভ্যাস সেবা। আর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলো থেকে গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি অপারেটরগুলোর। এছাড়া মোবাইল ডাটা ও অফারের ক্ষেত্রে বিটিআরসি’র নিয়ম নীতি মেনেই সবকিছু করা হয় বলে দাবি করে অপারেটরগুলো। মোবাইল ডাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদেরকে যে অপারেটরগুলোর এসএমএস এর ওপরেই নির্ভর করতে হবে তেমনটা জানালো বিটিআরসিও। তবে মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট ডাটা, ভয়েস কল এবং গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের ওপর বিটিআরসি নিয়মিত অডিট করে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির মিডিয়া উইং এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক জাকির হোসেন খান। মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে গ্রাহকদেরকে তা বিটিআরসিকে জানানোর পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। অপারেটরগুলোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে যদি কাংখিত সেবা কোন গ্রাহক না পেয়ে থাকেন এমনকি গ্রাহক সেবা নিয়েও যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে ১০০-তে কল করে তা বিটিআরসি’কে অভিযোগ আকারে জানাতে বলেন জাকির হোসেন। সেবার মান নিশ্চিতকরণে নীতিমালা বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, অপারেটরগুলোর সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন নামের ওই নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে। এই নীতিমালা পাস হলে গ্রাহকদের প্রতি অপারেটরগুলোর সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা সংস্থাটির। এছাড়া এই নীতিমালার ফলে অপারেটরগুলোর জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে মনে করছে টেলিকম বিশেষজ্ঞরা। এই নীতিমালায় অপারেটরগুলোকে কল ড্রপ ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৭ শতাংশ ফোন কল সফলতার সাথে সংযোগ দিতেও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। আর প্রতিটি ফোন কল সংযোগ দিতে হবে সর্বোচ্চ ৭ সেকেন্ডের মধ্যে। ৯৭ শতাংশ এসএমএস সফলভাবে প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে হবে। ফোর-জির ক্ষেত্রে ডাউনলোড স্পিড হবে কমপক্ষে প্রতি সেকেন্ডে ৭ মেগাবিট। আর গ্রাহকদের প্রতি সেবার মান বজায় রাখতে না পারলে অপারেটরগুলোকে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে নীতিমালায়। এ সংক্রান্ত আরও খবর কলড্রপ ও ডাটা ব্যবহারে অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের //এস এইচ এস// এআর          

কলড্রপ ও ডাটা ব্যবহারে অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের

মোবাইল ফোনের কলড্রপ ও ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারে গ্রাহকদের মাঝে দিন দিন বাড়ছে অসন্তোষ। থ্রি-জি থেকে ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু হলেও কলড্রপ হচ্ছে হরহামেশা। এছাড়া ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ ও তার মেয়াদ নিয়ে গ্রাহকের আছে নানা প্রশ্নও। ক্রয় করা ডাটার ঠিক কী পরিমাণ ব্যবহার করা হলো, তা যাচাই করার কোনো উপায় নেই গ্রাহকদের কাছে। বিভিন্ন অপারেটর ও সংস্থা নিজেদের মতো সাফাই গাইলেও এসব কারণে নিজেদেরকে এক প্রকার জিম্মি মনে করছেন মুঠোফোন গ্রাহকেরা। মোবাইল ফোন গ্রাহকদেরর অসন্তুষ্টি এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক থাকছে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে। বিড়ম্বনার নাম কলড্রপ একটি মুঠোফোন থেকে আরেকটি মুঠোফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানে কলড্রপ। মুঠোফোন গ্রাহকদের মধ্যে অনেকদিন থেকেই কলড্রপ ইস্যুতে অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে, দেশের চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোর-জি চালু হওয়ার পর থেকে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু থ্রি-জি এবং ফোর-জি উভয় ধরণের সংযোগেই এখনও রয়ে গেছে এই সমস্যা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান লিংক থ্রির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা ফরিদ মোহাম্মদ রাশেদ আমিন এ বিষয়ে বলেন, নেটওয়ার্ক কাভারেজের অঞ্চলের মাঝে এক ধরণের শূণ্যস্থান বা ব্ল্যাক হোল থাকে। বিটিএস টাওয়ারগুলোর নেটওয়ার্ক সেই জায়গাগুলোতে পৌছায় না। তখন সেখানে নেটওয়ার্ক তরঙ্গ পৌছানোর জন্য ওভারল্যাপিং করানো হয়। নেটওয়ার্ক না থাকা এবং ওভারল্যাপিং এই দুই কারণেই কলড্রপ হয়ে থাকে। আমাদের দেশের ভবনগুলোর অবস্থান এবং বিটিএস টাওয়ারের কারগরি জটিলতাও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে জানান এই কর্মকর্তা। কলড্রপের সমস্যায় বিড়ম্বনার সম্মুখীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুরে আলম তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, মাঝে মাঝেই কথা বলার মাঝখানে হঠাৎ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক সময় আবার সংযোগ থাকলেও অন্যপাশ থেকে কোন শব্দ পাই না। আমার কথাও অনেকে শুনতে পায় না। তখন বাধ্য হয়ে আমাকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হয়। এতে অল্প সময়ের কথা অনেক সময় নিয়ে বলতে হয়। আমার মোবাইলের বিল বাড়ে। অনেকবার গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করেছি। তারা শুধু ‘দুঃখিত’ আর ‘দেখছি’ বলে জবাব দেন। তবে আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পেলাম না। থ্রি-জি থেকে এখন আমরা ফোর-জি’তে আছি। তাও এমন নেটওয়ার্ক সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। ইন্টারনেট ডাটা খরচের পরিমাণ যাচাইয়ের সুযোগ নেই রাজধানীর একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরিজুল ইসলাম সম্রাট। মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়াশুনার অনেকখানি কাজ করে থাকেন তিনি। তাই বিভিন্ন মেয়াদ ও পরিমাণের ডাটা প্যাকেজ কেনেন তিনি। কিন্তু প্রায়ই ক্রয়কৃত ডাটার হিসেব নিকেষ মেলাতে পারেন না এই শিক্ষার্থী। একুশে টিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, একদিন ১ গিগাবাইট (জিবি) ইন্টারনেট কিনলাম। কিছু সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলাম। এরপর অপারেটর থেকে এসএমএস আসলো যে আমার আর ৪০০ মেগাবাইট (এমবি) বাকি আছে। এর মানে হচ্ছে আমি প্রায় ৬০০ এমবি খরচ করে ফেলেছি। কিন্তু আমি যেসব কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছি তাতে এর পরিমাণ এতো বেশি হওয়ার কথা না। এখন আমি বুঝতে পারছি না যে, আমি কোথায় আর কীভাবে এতো ইন্টারনেট ব্যবহার করলাম। আর আসলেই আমি ৬০০ এমবি ইন্টারনেট ব্যবহার করেছি কী না তা যাচাই করার কোন উপায়ও নেই আমার কাছে। ইন্টারনেট ডাটার বিষয়ে গ্রাহকদের সবথেকে বড় অসন্তোষের বিষয় হলো ডাটার পরিমাণ যাচাই করার কোন সুযোগ না থাকা। গ্রাহক কী পরিমাণ ইণ্টারনেট ব্যবহার করলেন তার জন্য মুঠোফোন অপারেটরগুলোর কাছেই নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয় তাদের। সাধারণত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পর মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে একটি ক্ষুদেবার্তা অথবা ইউএসএসআইডি বার্তায় ব্যবহৃত ডাটার পরিমাণ এবং অবশিষ্ট ডাটার পরিমাণ গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে তা নিয়ে কোন দ্বিধা বা দ্বিমত থাকলে ব্যবহৃত ডাটার পরিমাণ যাচাই করার কার্যত কোন পদ্ধতি নেই গ্রাহকের কাছে। তৃতীয় পক্ষের কিছু অ্যাপস থেকে ব্যবহৃত ইন্টারনেটের পরিমাণ যাচাই করেন অনেক গ্রাহকই। তবে সেগুলোর দেওয়া তথ্য আমলে নেয় না মোবাইল অপারেটরগুলো। অভিযোগ রয়েছে ইন্টারনেটের মেয়াদ নিয়েও। সাধারণ অর্থে ‘দিন’ শব্দটির অর্থ মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে যেন একেবারেই ভিন্ন। এমনই এক অভিযোগের সূত্র ধরে ব্যবহারিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয় একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের ইন্টারনেট অফার। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরে ৩১ টাকায় ২৫০ এমবি ইন্টারনেট কেনা যায়। এই ইন্টারনেটের মেয়াদ হিসেবে তিন দিন সময়ের কথা উল্লেখ থাকে বিজ্ঞাপনে। এই অফারটি মুঠোফোনে ক্রয় করে দেখা যায় পুরো তিন দিন সময়ের মেয়াদ দেয় না অপারেটরটি। বিগত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫১মিনিটে এই অফারের ইন্টারনেট কেনা হয়। তিন দিন অনুযায়ী, এই অফারে ইন্টারনেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে। কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্তই ওই ইন্টারনেটের মেয়াদ দেওয়া হয় অপারেটরটির তরফ থেকে। এছাড়া অভিযোগ আছে গ্রাহকদের নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু হয়ে যায় বিভিন্ন ধরণের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভ্যাস। আর এরজন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গ্রাহকদের মোবাইল থেকে কাটা হয় বিভিন্ন অংকের টাকা। এসব বিষয়ে টেলিকম প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং পোলারিস ফরেনসিক লিটিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বলেন, অতীতে এ ধরণের অভিযোগ অনেক বেশি থাকলেও বর্তমান সময়ে বিষয়গুলো অনেকখানি কমে গেছে। এরপরেও যদি বিনাকারণে কোন অপারেটর কোন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটে অথবা পর্যাপ্ত ইন্টারনেট না দেয় এমনকি যদি কলড্রপ হয় তার একটি অডিট ব্যবস্থা বিটিআরসি’র কাছে থাকা উচিত। বিটিআরসি’র বিলিং সার্ভারে এর অডিট করার ক্ষমতা সংস্থাটির আছে। তবে নিয়ম করে সেই সার্ভার অডিট করা হয় কি-না সেটিই হচ্ছে দেখার বিষয়। কারণ কেউ যদি কোন ধরণের এদিক-ওদিক করেও লগ সার্ভার থেকে লগ মুছে ফেলা যায় না। মোবাইল অপারেটরদের সেবায় গ্রাহক অসন্তুষ্টির অন্যান্য দিকের সঙ্গে অপারেটর প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসি’র বক্তব্য তুলে ধরা হবে দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে। / এআর /

বিশ্বমানের চিকিৎসা মিলবে দেশেই

অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর। আর মাত্র কয়েকটা দিন। টাকা খরচ করে আর বিদেশ যেতে হবে না। বিদেশের উন্নতমানের চিকিৎসা মিলবে দেশেই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই হাসপাতালের অধীনে নির্মাণ হতে যাচ্ছে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হসপাতাল। দেশের চিকিৎসা সেবায় নতুন পালক যুক্ত করা এই হাসপাতাল হবে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট। উদ্যোগ নেওয়ার চার বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই নির্মাণযজ্ঞ শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা। হাসপাতালটি চালু হলে দেশেই পাওয়া যাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএসএমএমইউর চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল ও উন্নত করতে, চিকিৎসার জন্য বিদেশ না গিয়ে তুলনাসূলক সাশ্রয়ী খরচে দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পেতেই এ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর দিকে ১২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে এ হাসপাতাল। এটি নির্মাণের লক্ষে ইতোপূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও কোরিয়ার হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির মধ্যে চুক্তি হয়। প্রকল্পটি নির্মাণে সহায়তা করছে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। এতে ব্যায় হবে এক হাজার কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারী একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নামের প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মিতব্য এক হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে থাকবে লিভার গল ব্লাডার ও প্যানক্রিস সেন্টার, অরগান ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, ক্যান্সার সেন্টার, ম্যাটারনাল এবং চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ডেন্টাল সেন্টার, কার্ডিও ভাসকুলার/নিউরো সার্জারি সেন্টার, এনড্রোক্রাইনোলজি ডায়াবেটিস সেন্টার, রেসপাইরেটরি সেন্টার, জেরিআট্রিক (বয়স্কদের চিকিৎসা) সেন্টার, জয়েন্ট/স্পাইন কর্ড সেন্টার, হার্ট সেন্টার, বার্ন ইনজুরি সেন্টার, হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টার, ইমারজেন্সি মেডিকেল সেন্টার, এমবুলেটরি সার্জারি সেন্টার এবং কিডনি মেশিন সেন্টার (হিমোডায়ালাইসিস সেন্টার)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে এই প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। এখানে থাকবে উন্নত গবেষণার যন্ত্রপাতি। চিকিৎসকদের জন্য থাকবে অত্যাধুনিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ও বায়োমেডিকেল রিসার্চের সুযোগ। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ মনে করছেন এর মধ্য দিয়ে আধুনিক, দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চিকিৎসকের চাহিদা মেটানো সম্ভব। যেমনটি বলছিলেন সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুরফিকার রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা এখন যেসব পরীক্ষার জন্য কথায় কথায় বিদেশ যাই, হাসপাতালটি নির্মাণ হলে আমাদের আর কষ্ট করে বিদেশ যেতে হবে না। পাশাপাশি কমবে চিকিৎসা সেবা। বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ৪ বছরের প্রচেষ্টায় এক হাজার শয্যার মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতাল চালু হলে দেশেই রোগিদের আরও উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। আর কাউকে হয়রানির শিকার হয়ে সময় ও অর্থ নষ্ট করে বিদেশ যেতে হবে না। আ আ / এআর

স্বল্পমূল্যে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ থাকলেও ভিড় নেই

লাল ফিতার দৌরাত্ম বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যাই বলি না কেন, সেটি যেন আষ্টেপিষ্টে বেঁধে ফেলেছে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। দৃষ্টিনন্দন-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অবকাঠামোগত ব্যাপক সংস্কার ও সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে রোগীদের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের সুযোগ থাকলেও রোগীদের তেমন উপস্থিতি নেই এ প্রতিষ্ঠানে। ইনস্টিটিউটের কম মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়ে তেমন কোনো প্রচারনাও চোখে পড়ে না। এজন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দোষছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সারাদিনে বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে যেসব রোগী আসেন তাদের অনেককেই পরীক্ষা না করিয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে পরীক্ষার জন্য যেসব ক্যামিকেল জাতীয় দ্রব্য (রিএজেন্ট) থাকা দরকার তা এই প্রতিষ্ঠানে নেই। অন্যদিকে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছেন রিএজেন্ট তাদের দেওয়া হচ্ছে ঠিকই তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে সাধারন রোগীরা একদিকে যেমন সরকারের দেওয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে বেসকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ রোগীদের। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত ব্যাপক সংস্কারের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরীতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে CAPD প্লান্ট, জেনেটিক্স ল্যাব, আধুনিক তথ্য সম্প্রচার কেন্দ্র। এছাড়া নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পিএইচএল ল্যাব, ব্যাকটেরিওলজিক্যাল ও ভাইরোলজিক্যাল ল্যাব। ২০১০ সালে সরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্য চালু করার নির্দেশ জারি হলে তার ধারবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ২০১৫ সালের অক্টোবরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত পরীক্ষাগুলো চালু হয়। অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা হয় ল্যাবরেটরিগুলোতে। ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি, হেমাটোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি, ইমিউনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, আলট্রাসোনোগ্রাফি বিভাগের ল্যাবরেটররীগুলোতে সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে চালু হয় রোগ নির্ণয় সম্পর্কিত সব ধরনের পরীক্ষা। কিন্তু এতো আয়োজনের পরেও কোথাও যেন প্রাণ নেই- এমন নিস্পৃহ ভঙ্গিমায় চলছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে মল ( আরএমই) পরীক্ষায় নেওয়া হয় মাত্র ২০ টাকা। প্রস্রাব ( আরএমই) পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি মাত্র ২০ টাকা। এছাড়া স্টুল ( ওবিটি) পরীক্ষার ফি ৫০ টাকা, সিমেন ৫০ টাকা, এমপি ২০ টাকা, বিটিসিটি ৩০ টাকা, প্লেটিলেট ৫০ টাকা নেওয়া হয়। একই অনুপাতে ব্লাড সুগারের পরীক্ষার ফি ৬০ টাকা, ব্লাড ইউরিয়া ৫০ টাকা, ইউরিক এসিড ১০০ টাকা, এ্যালবুমিন ৭৫ টাকা, লিভার ফাংশন টেস্ট ২০০ টাকা। সেরোলজি বিভাগের টেস্টগুলোও তুলনামূলকভাবে অনেক স্বল্পমূল্যে করানো সম্ভব এখান থেকে। প্রস্রাব ( প্রেগনেন্সী) পরীক্ষায় এখানে নেওয়া হয় মাত্র ৮০ টাকা। ব্লাডগ্রুপিং ও রেসাস ( ডি) ফ্যাক্টর ১০০ টাকা, ডেঙ্গু (আইসিটি) ৩০০ টাকা, ভিডাল টেস্ট ৮০ টাকা। একইভাবে এইচবিএসএজি ২২০ টাকা, এফটি-৪ ২৫০ টাকা, রোবেলা আইজিজি ৩০০ টাকা, রোবেলা আইজিএম ৩০০ টাকা, এইচআইভি আইসিটি ২০০ টাকা। মাইক্রোবায়োলজী বিভাগে ইউরিন কালচার ফি ২০০ টাকা, ব্লাড কালচার ফি ২০০। মোট ৭৯ ধরনের পরীক্ষা এখানে করানো সম্ভব। ইমিউনোলজি বিভাগে যে পরীক্ষার জন্য রোগী বেশী আসে সেটা হলো টিএসএইচ। এর ফি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় মাত্র ২০০ টাকা। পক্ষান্তরে রাজধানীর অন্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে এর ফি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা। আবার একই বিভাগে টি-৪, টেষ্টোষ্টেরন, সিএ১২৫ - এর সরকার নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ২০০, ২৫০ ও ৩৫০ টাকা যা জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। কিন্তু রাজধানীর অন্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই পরীক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। প্রায় চারগুণ বা পাঁচগুণ কম মূল্যে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে রোগ নির্ণয় পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও আশানুরূপ ভাবে রোগীর দেখা মিলছে না এখানে। এর জন্য রোগ নির্ণয়ের জন্য যে ক্যামিকেল থাকা দরকার তার অপর্যাপ্ততা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার এখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহিক ছুটি। ৩০ আগস্ট এখানে ( মাইক্রোবায়োলজী বিভাগে) সারাদিনে রোগী ছিল মাত্র ২৭ জন। এর আগের দিন ২৯ আগস্ট ছিল ২৪ জন। তার আগের দিন অর্থাৎ ২৮ আগস্ট ছিল ৩৪ জন। ২২ আগস্ট সারাদিনে রোগী এসেছেন ৩৯ জন। এর আগে ৮ আগস্ট রোগী এসেছিল ৩৫ জন। ইনস্টিটিউটের রেজিষ্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, এ যাবতকালে মাইক্রোবায়োলজী বিভাগে সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৭ জন। পর্যাপ্ত সুবিধার পরও রোগীর সংখ্যা এতো কম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান প্রদীপ কুমার দে জানান, রোগী আসে ঠিকই কিন্তু পরীক্ষা না করিয়ে অনেককে ফেরত যেতে হয়। ফলে সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যের সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয় ভুক্তভোগীদের। কেন ফেরত পাঠানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়মিত ক্যামিকেল সরবরাহ করা হয় না। মূলত রিএজেন্ট- এর অভাবে সব ধরনের পরীক্ষা এখানে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। জানা গেছে, দেশে এখন সব ধরনের রিএজেন্ট সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত থাকলেও সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটিতে রিএজেন্ট খুব একটা আসছে না। এর জন্য আমলাতন্ত্রকে দায়ী করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা। সরকার প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক হলেও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। ফলে কোনো প্রয়োজনীয় উপাদানে ঘাটতি দেখা দিলে তা কেনার জন্য টাকা চেয়ে আবেদন করতে হয় সংশ্লিষ্ট দফতরে। নানা টেবিল ঘুরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে বাজেট আসতে আসতে ব্যায় হয় প্রচুর সময়। রিএজেন্ট-এর ক্ষেত্রেও একই জটিলতা পোহাতে হয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এতো কম রিএজেন্ট সরবরাহ করা হয় যাতে মাসের অধিকাংশ সময়েই কোনো না কোনো বিভাগে বেশ কয়েক ধরনের রিএজেন্টের অভাব দেখা দেয়। এ বিষয়ে ডা. প্রদীপ কুমার দে বলেন, প্রতিটি পরীক্ষার জন্য আলাদা আলাদা রিএজেন্ট দরকার হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল না থাকায় নিয়মিত রিএজেন্ট সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ডা. প্রদীপ কুমার দে আরও বলেন, আমাদেরকে ন্যূনতম একটা ফান্ডও যদি দেওয়া হয় তাহলেও রোগীদের এভাবে পরীক্ষা না করিয়ে ফেরত যেতে হবে না। তাদের সঠিক সেবা দেওয়াটা সম্ভব হতো। এদিকে স্বল্পমূল্যে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়ের এমন এমন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অবহিত নন সাধারণ মানুষ। এজন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়ে পকেট কাটা যাচ্ছে রোগীদের। প্রতিষ্ঠানটির সামনে দুটি বিলবোর্ড ছাড়া আর কোথাও কোনো প্রচার চোখে পড়ে নি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বার বার কর্তৃপক্ষকে এ সব বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি বলেই অভিযোগ করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।   আ আ/ এআর

টাকা জমা ও উত্তোলন দু-ই হচ্ছে সিআরএমে

ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন করার ভোগান্তি দূর করতে দেশে চালু হয়েছিল অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ। যেখানে এতোদিন শুধু টাকা উত্তোলন করা যেত। কিন্তু জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি এবার জমা দেওয়ার ভোগান্তিও কমাতে গ্রাহকপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্যাশ রিসাইক্লার মেশিন (সিআরএম)। এরই মধ্যে দেশের তিনটি ব্যাংকে অর্ধশতাধিক সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। যেখানে গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি ছাড়াই নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। জানা গেছে, এটিএম মেশিনের স্থলে সিআরএম ম্যাশিন প্রতিস্থাপন খুব দ্রুত দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই মেশিন নোট গুণতে পারবে, সেগুলো জ্বাল কি না, ছেড়া বা ফাটা কি না তাও যাচাই করতে পারবে। টাকাগুলো একই সময়েই হিসাবে জমা করতে পারবে। এতে করে ব্যাংক সেবায় কায়িক শ্রমের পরিমাণ কমে যাবে। দেশে এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকে এ পদ্ধতির সিআরএম মেশিন বসানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো-সাউথইস্ট, সিটি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ তিনটি ব্যাংক  এ পর্যন্ত ৫৬টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী এক বছরে আরো ১৬৬টি সিআরএম স্থাপনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সাউথইস্ট ব্যাংক ঢাকা নগরীতে ১২টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী বছর মার্চের শেষ নাগাদ তারা আরো ৫০টি মেশিন স্থাপন করবে। সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাইনুদ্দিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, খুচরা বিক্রেতারাও এই নতুন প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হবেন। তারা তাদের দৈনিক বিক্রয়লব্ধ টাকা সিআরএম এ জমা করতে পারবে। দিন শেষে দোকান বন্ধ করার পর তাদের টাকা ব্যাংকের মতো নিরাপদ স্থানে রাখতে এ সিআরএম বুথে জমা রাখতে পারবে। এই সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে এবং এ সুবিধা গ্রহণের জন্য গ্রাহককে কোনো অতিরিক্ত সেবামূল্য দিতে হবে না। আমরা আগামীতে এ সেবা দেশের সবচেয়ে জনাকীর্ণ জায়গা ও বড় বড় বিপনি-বিতানে চালু করবো। কিভাবে সিআরএমে টাকা জমা দেওয়া যাবে এমন প্রশ্নে এস এম মাইনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, একজন একাউন্ট হোল্ডার এটিএম বুথের মতোই এ সিআরএম বুথে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট একটি বাটন চাপলে দুটি অপশন আসবে।দুটি অপশনের একটিতে লেখা থাকবে আপনি কি টাকা উত্তোলন করতে চান? নাকি টাকা জমা দিতে চান? যদি কেউ উত্তোলন করতে চান তবে উত্তোলনের বাটনে চাপ দিবেন। আর যদি জমা দিতে চান তবে জমার বাটনে চাপ দিবেন। জমার বাটনে চাপ দিলে তার সামনে টাকা রাখার একটি জায়গা খুলে যাবে। সেখানে একদিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট ওই জায়গাতে টাকা জমা দেওয়ার পর সিআরএম ম্যাশিনে তা গণনা হবে। আবার টাকা ছেড়া-কাটা বা জ্বাল কিনা তাও যাচাই হবে মেশিনে।  ‍মুহুর্তে এ কাজটি সম্পন্ন হবে এবং টাকা সঠিক থাকলে জমাকারি গ্রাহককে একটি কনফরমেশন রশিদ দেওয়া হবে। যেখানে জমা দেওয়া টাকার নম্বর, পরিমান, যে একাউন্টে জমা হচ্ছে তার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা থাকবে।টাকা জমাকারি গ্রাহককে রশিদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার টাকা তার নিজের হিসেবেই জমা হয়ে যাবে। সাউথইস্ট ব্যাংকের একাউন্টধারী বিকাশ কর্মকার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাংকে লেনদেন করি। গুলিস্থানে আমার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।দিনশেষে এ ব্যাংকেই আবার টাকা জমা দিতে হয় আমাকে। তাতে অনেক সময় আমাকে লাইনে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে সময় নষ্ট হতো।এখন আর সেটা হয় না। কোন অফিসারের কাছেই ধর্ণা দিতে হয় না। খুব সহজেই টাকা জমা দিতে পারি। সাউথইস্ট ব্যাংকের মতো দেশের বেসরকারি সিটি ব্যাংক এ পর্যন্ত ১০টি সিআরএম স্থাপন করেছে। আগামী বছর জুন নাগাদ তারা আরো ৫০টি মেশিন স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন। তারা নতুন করে আর কোন প্রথাগত এটিএম স্থাপন করবে না। এখন থেকে সবটাই সিআরএম স্থাপন করবে বলে জানান তিনি। সিআরএম ম্যাশিন স্থাপনের দৌঁড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।এ ব্যাংকটি-ই বাংলাদেশে প্রথম সিআরএম স্থাপন করে। ইউসিবিএল এ পর্যন্ত সারাদেশে ৩৪টি সিআরএম স্থাপন করেছে। ব্যাংকটি এবছর ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংখ্যা ১০০ পর্যন্ত বাড়াবে। ব্যাংকটি গত বছর জানুয়ারিতে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমি নিবন্ধন অফিসের কাছে প্রথম সিআরএম স্থাপন করে। ব্যাংকের গ্রাহকরা খুব কম সময়ের মধ্যেই নতুন প্রযুক্তিটি গ্রহণ করে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে সিআরএম স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠে বলে দাবি করে ইউসিবিএল এর একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউসিবিএল এর এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে যখন এটিএম ম্যাশিন চালু হলো তখন এ ম্যাশিন আমরা ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত কিনেছি।এখন এ ম্যাশিন ৩ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে ক্রয় করতে পারি। এর ব্যবহার এবং ক্রয় যত বাড়বে দামও ততো কমবে। এখন একটি সিআরএম ম্যাশিন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় কিনতে হচ্ছে।আধুনিক ব্যাংকিং লেনদেনকে আরো সহজ করতে গ্রাহকের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এটা চালু করছি।বিশ্বের অনেক দেশেই এ সিআরএম ম্যাশিনে টাকা লেনদেন হয়। / আরকে / এআর     

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি