ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ৭:৫৫:৩০

"উই"এর ঈদ আড্ডা 

"উই"এর ঈদ আড্ডা 

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি হোটেলে উই’র সভাপতি নাসিমা আক্তার নিসার সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ আড্ডা। এতে উপস্থিত ছিলেন অনলাইন ই-কমার্সের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০ নারী উদ্যোক্তা। বিভিন্ন ধরনের সভা-সেমিনার ছাড়াও ‘উই’ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অলাইন মাকেটিং নিয়ে বিভিন্ন ইভেন্ট ও মেলার আয়োজন করে থাকে।  অনলাইনে বিজনেস করে সফলতা পাওয়া "অপরাজিতা" দের প্ল্যাটফর্ম উই এর আড্ডায় অংশ নেন চল্লিশ জন প্রতিষ্ঠীত নারী উদ্যোক্তা। অংশগ্রহণকারী নারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই ধরণের আয়োজনের জন্য মুখিয়ে থাকেন। উই এর প্রতিষ্টাতা ও চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, "যান্ত্রিকতার বাইরে একটি দিন হলো আমাদের জন্য।সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ "উই" এর পাশে থাকার জন্য।" আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দিনব্যাপী আয়োজনে রেফেল ড্র, লাঞ্চ, ঈদ উপহার বিতরণ, আনলিমিটেড ফটোগ্রাফি ছিলো। ভবিষ্যতে "উই" নারীদের জন্য আরো বেশকিছু উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে, যেগুলোতে প্রচুর নারীকে দক্ষ মানবসম্পদে রুপান্তর করবে। এসি  
জ্ঞানের মশাল নিয়ে দুই তরুণীর পথচলা [ভিডিও]  

সমাজের শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দুই শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন বৈকালিক স্কুল। সেখানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে অন্তত ৬৫ শিশু। মৌসুমী ও শাকিলার এমন উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই।    মৌসুমী ও শাকিলা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছেন এই দুই তরুণী। মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করলেও এখন ৬৫ শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান করছেন তারা। মৌসুমী ও শাকিলা কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথমদিকে কলেজের ক্লাস শেষে হারুয়া এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে বসতো তাদের বৈকালিক স্কুল।  বর্তমানে পৌরসভার একটি কক্ষ ব্যবহার করছেন তারা। মৌসুমী ও শাকিলার এমন উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। কিনে দিচ্ছেন শিশুদের জন্য বই, খাতা, কলম ও ব্যাগ। দুই শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। ভিডিও:  এসি  

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে দুই তরুণী

মৌসুমী ও শাকিলা। কিশোরগঞ্জে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের দুই শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছেন এই দুই তরুণী। গড়ে তুলেছেন বৈকালিক স্কুল। সেখানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে অন্তত ৬৫ শিশু। মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করলেও এখন ৬৫ শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান করছেন তারা। মৌসুমী ও শাকিলা গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথমদিকে কলেজের ক্লাস শেষে হারুয়া এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে বসতো তাদের বৈকালিক স্কুল। বর্তমানে পৌরসভার একটি কক্ষ ব্যবহার করছেন তারা।  মৌসুমী ও শাকিলার এমন উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। কিনে দিচ্ছেন শিশুদের জন্য বই, খাতা, কলম ও ব্যাগ। দুই শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। একে//

ঢাকায় অবসরে কি করেন তরুণীরা? 

ঢাকা সবচেয়ে ব্যস্ততম নগরী। এই শহরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ তরুণী চাকরি করেন। তাদের অনেকে ঢাকায় যেমন পরিবারের সঙ্গে থাকেন, আবার অনেকে একাই বসবাস করছেন। কিন্তু নিয়মিত চাকরির বাইরে কেমন তাদের অবসর জীবন? এত বড় একটি শহরে তাদের বিনোদনের কতটা সুযোগ রয়েছে?    ঢাকায় নানা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কয়েক লাখ তরুণী চাকরি করছেন। কিন্তু অফিস আর বাসার নিয়মিত রুটিনের বাইরে তারা কি করেন? ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আমেনা আখতার। তিনি ভালো আয় করেন, কিন্তু বলছেন, নিজের বিনোদনের কথা চিন্তা করার সময় তাকে পারিবারিক অনুশাসন আর সমাজের কথাও চিন্তা করতে হয়। তিনি বলছেন, ``আমার একজন স্বাধীনতা মতো, নিজের ইচ্ছামতো নিরাপদে ঘুরবো ফিরবো সেটা এখানে সম্ভব না। যেমন হয়তো অফিসের পর বন্ধুদের সাথে ঘুরলাম, এরপর রাত ৯টা বা ১০টায় বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিলাম, যাতে আমার রিফ্রেশমেন্টও হল, ঘোরাফেরাও হল আবার কাজও হল, কিন্তু এই ঢাকাতে সম্ভব না।`` এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন ``আমি যে সোসাইটিতে থাকি, সেখানে রাত ১০টার সময় যদি কোন মেয়ে বাসায় যায়, তখন অনেক কথা উঠবে। এজন্য সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য সমাজেরও পরিবর্তন দরকার।`` বাংলাদেশের তরুণীরা বলছেন, ঘুরে বেড়ানো বা রেস্তোরায় খাওয়া তাদের বিনোদনের অন্যতম উপায় ঢাকার তরুণী চাকরিজীবীরা বলছেন, ঢাকায় চলাচলের সমস্যা, যানজট আর নিরাপত্তা অভাবের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের ঘরে সামাজিক মাধ্যমে বা টেলিভিশন দেখে সময় বেশি কাটে। তার বিবাহিত তরুণীদের অফিসের বাইরে সংসার সামলাতে অনেক সময় কেটে যায়। তাহেরা সুলতানা নামের একজন তরুণী বলছেন, ``একজন ছেলের মতো আমরা ইচ্ছা করলেই বাইরে যেতে বা ঘুরাফিরা করতে পারছি না। এ কারণেই সামাজিক মাধ্যম গুলোতেই আমাদের বেশি সময় কাটছে। এর মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বেশিরভাগ সময় কাটে।`` অনেকে শপিং মলে ঘুরে বেড়াতে বা কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। এর বাইরে তাদের কাটানোর আরেকটি উপায় কোন উপলক্ষ ধরে রেস্তোরায় খাওয়া দাওয়া করা। আমেনা আখতার যেমন বলছেন, ``অনেক সময় পরিবার বা বন্ধুদের কেউ বলে, ভালো লাগছে না, চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি। কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাবো? পার্কের যে অবস্থা, সেখানে তো যাওয়া যায় না। নিরাপত্তার অভাব। তখন চিন্তা করি, একটা ভালো রেস্তোরায় গিয়ে আজ একজন খাওয়াচ্ছে, কাল আরেকজন। এটাই যেন এখন আমাদের সবচেয়ে বড় বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে।`` তবে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী কানিজ ফাতেমা বলছেন, মেয়েদের জন্য ঢাকার মতো একটি মহানগরীতে আরো কিছু সুযোগ সুবিধা থাকা উচিত। তিনি বলছেন, ``এরকম যদি কোন জায়গা বা সংস্থা থাকতো, যেখানে গিয়ে মেয়েরা ছেলেদের মতো সময় কাটাতে পারবে, যেমন টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা গলফ খেলতে পারবে, তাহলে খুব ভালো হতো। ঢাকায় যে দুই একটি ক্লাব রয়েছে, সেখানে সবাই যেতে পারে না বা অনেকগুলো মেয়েদের জন্য নিরাপদও না। তাই সবার জন্য এরকম জায়গা হলে অনেকে যেতে পারতো।`` এসব ক্ষেত্রে সমাজের মনোভাবেরও পরিবর্তন দরকার বলে তিনি মনে করেন। সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, গত দুই দশকের তুলনায় বিনোদনের বিষয়ে নারীদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, গত দুই দশকের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের সামাজিক অবস্থানের যেমন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি তাদের অবসর বা সময় কাটানোর ধরনেরও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, এক সময় বই পড়া বা সপ্তাহে একদিন সিনেমা দেখার মধ্যে যে বিনোদন সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন গণ্ডি পেরিয়ে দেশের ভেতরে বাইরে ভ্রমণেও রূপান্তরিত হচ্ছে। সামিনা লুৎফা বলছেন, ``গত দুই দশকে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত নারীরা অনেক বাইরে এসেছে। অবসর নিয়ে তাদের ধারণাও অনেক পাল্টে গেছে। অনেকে হয়তো কর্পোরেট চাকরি শেষে, যানজট ঠেলে আসা যাওয়ার পর বিনোদনের ইচ্ছাটাও থাকে না। আবার নিরাপত্তারও অনেক অভাব আছে। তারপরেও নিজের বিনোদন নিয়ে নারীদের মনোভাবের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।`` ``হয়তো আমাদের দেশে ক্লাব, পাব এগুলো সে অর্থে নেই বা যা আছে, তাও হাতেগোনা উচ্চবিত্তদের গণ্ডির মধ্যে। কিন্তু সেটাই তো একমাত্র বিনোদন নয়।`` সামিনা লুৎফা বলছেন, ``আগে যেমন শুধু সিনেমা দেখতে যাওয়া ছাড়া বা বই পড়া ছাড়া নারীদের তেমন কিছু করার ছিল না। কিন্তু এখন তারা সামাজিক মাধ্যমে অনেক সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি দল বেধে ঘুরতে যাচ্ছেন। আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বেড়েছে। এখন তারা একা বা দল বেধে ঘুরতে যেতে পারেন। এগুলো কিন্তু দুই দশক আগেও ছিল না।`` সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি মহানগরী হিসাবে ঢাকার বাসিন্দাদের বিনোদনের যেসব সুযোগসুবিধা থাকা উচিত তার অনেক কিছুই হয়তো এখনো পর্যাপ্ত নয়, আর মেয়েদের জন্য তা আরো অপ্রতুল। তবে তাদের মতে, ধীরে হলেও সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা   এস ইউ আহমদ /এসি    

পানিতেও চলবে জমিরের বাইসাইকেল (ভিডিও)

বাইসাইকেল সড়কে তো চলেই, এবার চলছে পানিতেও। বিষ্ময়কর এই সাইকেল তৈরি করেছেন ফরিদপুরের তরুণ জমির হোসেন। সাইকেলটি তৈরিতে তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকার মতো। সহায়তা পেলে আরও নতুন কিছু আবিস্কার করতে পারবেন বলে জানান জমির। পুকুরে চলছে সাইকেল। গতিবেগ ঘন্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।  পাড়ে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে দেখছেন উৎসুক মানুষ। কিছু পরেই পুকুর থেকে উঠে সাইকেলটি চলছে সড়কে। বিষ্ময়কর এ সাইকেল তৈরি করেছেন ফরিদপুরের জমির হোসেন। স্কুলের গণ্ডি পার হলেও অর্থের অভাবে কলেজ থেকেই ঝরে পড়েছেন মেধাবী এ তরুণ। তবে নতুন আবিস্কারের চিন্তা সবসময় ঘুরতে থাকে তার মাথায়। জমির জানান, ছোটো নদী কিংবা খালের উপর সেতু না থাকলে এই সাইকেল দিয়ে চলাচল করা যাবে। পানি দিয়ে চলার জন্য পায়ে চালিত প্যাডেলের সাথে পেনিয়াম সেট করে পেছনে স্পিডবোটের আদলে লাগানো হয়েছে শক্তিশালী পাখা। সহযোগিতা পেলে জমির আরো নতুন জিনিস তৈরী করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয়রা।

কানাডার নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী ডলি

কানাডার অন্টারিওর প্রদেশের মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট (এমপিপি) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক ডলি বেগম। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির গ্রে এলিস। ডলি বেগম ভোট পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৪২ ভোট, যা তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্যারি এলিস পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৭১ ভোট। প্রথমবারের মতো কানাডার কোনো নির্বাচনে জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এই বাংলাদেশি। যুক্তরাজ্যের এমপি বাংলাদেশি রুশনারা আলী, রূপা আশা হক ও টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, নরওয়ের এমপি বাংলাদেশি সায়রা খান এবং মালয়েশিয়ায় এমপি বাংলাদেশি আবুল হুসেনদের সারিতে এবার যুক্ত হলো ডলির নাম। ডলির জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি কানাডায় চলে যান। কানাডায় গিয়ে জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে অনেক বছর হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। ২০১২ সালে ডলি টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালে উন্নয়ন প্রশাসনে মাস্টার্স করেন টরেন্টো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে। একে//

যে গল্প পথের, সে গল্প আনন্দের....

ইচ্ছা মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে না। প্রবল ইচ্ছা শক্তি মানুষকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তেমনই একজন মানুষ মো. আদনান হোসাইন। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাধনার ফলে গড়ে তুলেছেন অসহায় বঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি সংগঠন। নাম "ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন"।  এই সংগঠনটির পেছনে রয়েছে  আদনানের ঘাম ঝরানো স্বপ্ন।   ২০০৯ সালের দিকে আদনান তখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। বাবা সৈয়দপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,বলা যায় সৈয়দপুর কেন্দ্রীক নামী পরিবার তাদের। ২০০৯ এর ডিসেম্বরেই ইষ্ট ওয়েষ্টে পড়ুয়া বড়ভাইর বন্ধুরা যাবেন কুড়িগ্রাম একটি "উইন্টার ক্যাম্পেইন" করতে। বড়ভাইর কাছে আদনান আবদার করলেন তাকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য। পরিবারকে রাজি করিয়ে আদনান বড় ভাইদের সঙ্গে চলে গেলেন কুড়িগ্রাম। সেখানে গিয়ে প্রথমবার বেশ কিছু বিষয় তার মনকে নাড়া দেয়। সাধারণ গরীব মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তার মনটা উদাস হয়ে যায়। তাদের কষ্ট এবং অসহায়ত্ব দেখে তার কাছে খারাপ লাগে। ফিরে এসে আদনান তার বাবাকে বলেন, ‘এসব অসহায় সাধারণ মানুষদের জন্য আমি কিছু করতে চাই। বাবা সরাসরি না করে দিয়ে বলেন, এসব করার দরকার নেই, পড়াশোনা করে ব্যবসা দেখ।’ আদনান বাবার কথায় কষ্ট পেলেও সে দমে যায়নি। সে তার মতো চেষ্টা করতে থাকে। ২০১০ সালের জানুয়ারীতে একজন ব্রিটিশ ভদ্রলোকের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। তার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলেন। তিনি সাড়া দিয়ে বললেন, "তুমি উদ্যোগ নাও,আমি পাশে থাকবো।" এরপর বন্ধু সৈয়দ ফজলে নিয়াজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়াজ তাকে পরামর্শ দিলেন, তোমার মানসিক শান্তির জন্য এখানেই আশাপাশে কিছু কর। এ বিষয়টা পরিবারকেও জানালেন আদনান। বাবা-মা তার এমন কাজে খুব অবাক হন। এসময়ই সবচেয়ে বড় ধরনের সমর্থন দিলেন তার বড়বোন নিলুফার আক্তার, তিনি তাকে বললেন, "ভাই, তুই সৈয়দপুরেই এই কাজ শুরু কর। আমি তোর সঙ্গে আছি।"  বড়বোনের আশ্বাস, পাশাপাশি সৈয়দপুরস্থ মেডিক্যাল শিক্ষার্থী মনিরের সহযোগীতায় আদনান চলে গেলেন সৈয়দপুর। সেখানে একটি খ্রিষ্টান বাড়ির মালিক তার বাড়ির বারান্দাতে তাদেরকে ব্যবহারের জন্য দেন। হতাশ হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে সেখানেই ২০১০ সালের জুনের ৪ তারিখ ১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে "কাইটস একাডেমী"। সেখানে তারা একজন অভিভাবকও পেয়ে গেলেন। বর্তমানে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা ইভা রহমান। যার সাথে পরামর্শ করে চলছিলো স্কুলটির নানাদিক। স্কুল চলছে ঠিক মতো কিন্তু সংকট দেখা দিল অর্থের। আদনান সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের ভার্সিটির দুই সেমিস্টারের টাকা এনে বানালেন বাচ্চাদের ড্রেস, আইডি কার্ড আর বসার বেঞ্চ। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়ে গেলো তিনমাসে ৪০ জন, ছয়মাস শেষে ১০০ তে। এরপর বারান্দায় তাদের আর হচ্ছেনা। ফলে খ্রিষ্টান পরিবারটি তাদের শিক্ষার্থীদের বেড়ে যাওয়া দেখে একটি রুম ছেড়ে দিলেন। এরপর বন্ধু নিয়াজসহ পরামর্শ করে তাদের কার্যক্রমের নাম দিলেন "ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন"। এসময় আদনান আবার কাজ করছিলেন বিবিসির একটি প্রজেক্টে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে। এর মধ্যে হঠাৎ শিক্ষার্থী কমে যেতে লাগলো স্কুলের। আদনান ও তার দল চিন্তিত হয়ে পড়লো। স্থানীয়রা জানালেন, ‘‘যে সময়টাতে স্কুল, সে সময়টা কোনো হোটেলে কাজ করলে টাকা পাবে তাদের বাচ্চারা। আবার একটি স্থানীয় এনজিও পড়ালেখার বিনিময়ে তাদের টাকা দিচ্ছে বলে তারা কাইটস একাডেমীতে আসা বন্ধ করে দিচ্ছে।" সম্পূর্ন বিনামূল্যের এই স্কুলের বাচ্চাদের জন্য বিবিসির দুজন কলিগের পরামর্শ মতো টিফিনের ব্যাবস্থা করলেন তারা। আগ্রহ কিছুটা বাড়লেও মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা তারা জর্জরিত এই গ্রামের মানুষগুলো। তখন তারা বাচ্চাদের মায়েদের জন্য একটি প্রজেক্ট হাতে নেন। তাদের বলেন, "আপনাদের যদি আমরা সেলাই এর ট্রেনিং দেই এবং আপনাদের তৈরী পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করে দেই বাচ্চাদের আমাদের স্কুলে রাখবেন?" মায়েরা কথা দিলেন, তারা স্বাবলম্বী হলে বাচ্চাদের পড়াশোনাতেই রাখবেন। শুরু হলো নতুন কার্যক্রম "প্রতিভা"। যেটির মাধ্যমে নারীদের ফ্রি প্রফেশনাল ক্রাফটিং ট্রেনিং" করান, পাঁচজন নারী সেখানে প্রথম প্রশিক্ষন নেন। তাদের কাজের মান ভালো হবার ফলে ফলাফলটাও ভালো হয়। দেখা গেলো এই মা`দের তৈরী পণ্য আদনান ঢাকায় এনে বিভিন্ন ফেস্টের মাধ্যমে বিক্রয় করিয়ে তাদের ভালো লাভ দিতে পারছেন। আদনান ভাবলেন, এটা থেকে উঠে আসতে পারে স্কুলের সব খরচও! যেই ভাবা সেই কাজ। প্রশিক্ষিত পাঁচজন নারীকে বললেন," এখন সবাইকে শেখাবেন আপনারা।" যেহেতু তারা তখন হাতে নিয়মিত অর্থ পাচ্ছেন, তারাও প্রস্তাবটা নিলো। অন্য যারা প্রশিক্ষন নেয়নি তারাও ভিড়তে লাগলো এদিকে। বর্তমানে সৈয়দপুর ও টঙ্গী মিলিয়ে ২৫৫ জন নারী ট্রেনিং শেষ করে স্বাবলম্বীতা অর্জন করেছেন বলে জানালেন আদনান। পাশাপাশি বর্তমানে সৈয়দপুর ছাড়াও টঙ্গী, পাটোয়ারী পাড়ায় রয়েছে তাদের আরো দুটো স্কুল, সেগুলোও সম্পূর্ন বিনাখরচে গরীব পরিবারের সবার জন্য উন্মুক্ত। আদনানের কাছে এর খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, " আমাদের স্টুডেন্ট স্পন্সরশীপ পোগ্রাম চলছে নিয়মিত, আমরা চ্যারিটি গালা নাইট করি যেখানে ২৫০০ টাকা করে টিকেট। ২০১৬ এবং ১৮ তে আমরা এটি করেছি। সর্বশেষ গালা নাইটে ইউএস অ্যাম্বাসেড়র স্বয়ং চিফ গেষ্ট ছিলেন। এছাড়া হোটেল সেরিনার সহযোগীতায় আমরা "চ্যারিটি কফি মর্ণিং" করি। সবমিলিয়ে আমাদের চারপাশে "ফ্যামেলি ফ্রেন্ডস আর বিভিন্ন দেশের ভালো মানুষজন রয়েছেন" এমনটাই বিশ্বাস মো.আদনান হোসাইনের। এর ধারাবাহিকতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগীতায় স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে করেছেন " সায়েন্স ফেয়ার"। কোনোদিন সায়েন্স না বোঝা বাচ্চাগুলো চমকে দিয়েছিলো তাদের ছোটছোট প্রজেক্ট দাঁড় করিয়ে। ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চিফ এডভাইজর স্টিভ উইলস, যিনি আরএনএলআই এর হেড অফ ইন্টারন্যাশনাল পোগ্রাম। তার পরামর্শ পুরো ফাউন্ডেশনকে জমিয়ে রাখে। বর্তমানে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে ১৫ জন কর্মী নিয়ে চলছে আদনানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। পরিবারতো প্রথম বাধা দিয়েছিল, পরে উৎসাহে যুক্ত হলো কিভাবে? আদনান বলেন, " ২০১৫ তে আমি মোষ্ট প্রমিজিং সোশ্যাল এন্টারপ্রিনিয়রশীপ বাই জলকনা ক্যাটালিষ্ট" এর জন্য ইউএসএ থেকে মনোনীত হই, বলা যায় তখন প্রথম বাবা আমার কাজে অবাক হয়ে উৎসাহ দেয়া শুরু করেন।’’ এরমধ্যেই মো. আদনান হোসাইন টেডএক্স বেইলি রোড, ওভার৩০ গেস্ট স্পিকার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ছিলেন গেষ্ট লেকচারার হিসেবে। স্টার্টাপ ইস্তাম্বুলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করছেন মো. আদনান হোসাইন। ক্যারিয়ার বিসর্জন সম্পর্কে আদনান বললেন, "আমি সত্যিকারে আনন্দ পাচ্ছি এই কাজগুলোতে এসে, বাচ্চাগুলোর হাসি আমার সবকিছুর অনুপ্রেরণা। আমি মনে করি এটা একটা লাইফস্টাইল যা সবাই ভাবতে পারেনা নিজের জন্য। আমি গর্বিত আমার কাজগুলো নিয়ে।" এসি   

একশ’ দেশ ভ্রমণ বাংলাদেশি তরুণীর

শততম দেশ ভ্রমণের নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণী নাজমুন নাহার। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে পা রেখেই  তিনি শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। জানা গেছে, তাঁর ভ্রমণ তালিকায় পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়া ছিল ৯৯তম দেশ। দেশটির লিভিংস্টোন শহর থেকে হেঁটে তিনি জিম্বাবুয়ে পৌঁছান। বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের জিম্বাবুয়ে অংশে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে তিনি আবার জাম্বিয়ায় ফিরে আসেন।  নাজমুন নাহার তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘১০০তম দেশ ভ্রমণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের ১০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো নিঃসন্দেহে যে কারও  জন্য গর্বের ব্যাপার, আমারও তাই হচ্ছে। জাম্বিয়ার লিভিংস্টোন শহরের গভর্নর আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সময় থাকতে পারিনি। ৫ জুন আবার জিম্বাবুয়ে ভ্রমণে যাব।’ শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্যে সুইডেন থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১১ মে। তিনি প্রথমে পৌঁছান আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়ায়। সে দেশ থেকে ১৭ তারিখ তিনি পৌঁছান কেনিয়ায়। এভাবে উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া হয়ে ১ জুন পা রাখেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে। নাজমুন নাহার বলেন, ‘পুরো ভ্রমণটি আমি সড়কপথে করেছি। অনেক সময় দীর্ঘ পথ বাসে কাটাতে হয়েছে। কষ্ট হলেও যাত্রাটা আমি উপভোগ করেছি।’ আফ্রিকার দেশগুলোতে তিনি শুধু ঘুরে বেড়িয়েছেন এমনটি নয়-  স্থানীয় অনেক স্কুলে গেছেন,  খুদে ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজের গল্প বলেছেন। দেখেছেন প্রত্যন্ত আফ্রিকানদের জীবনযাপন। ২০০০ সালে ভারত ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর বিশ্বভ্রমণের  যাত্রা শুরু হয়। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসেন নাজমুন। এরপরে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলে যান সুইডেন। লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়াশোনার ফাঁকে খণ্ডকালীন কাজ করতেন। কয়েক মাসের জমানো টাকায় জাহাজে ভ্রমণ করেন ফিনল্যান্ড। সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন। খরচ বাদে যা জমাতেন, তা নিয়েই  নতুন কোনো দেশে যেতেন। বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। এ তালিকায় আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, প্যারাগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশ। এই দুই সাল মিলিয়ে এটাকে তাঁর ‘ভ্রমণবর্ষ’ বলা যায়! অনূঢ়া নাজমুন নাহার ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে যাবেন। বর্ণনা করবেন নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। তিনি বললেন’ ‘টাকা জমিয়ে মানুষ সম্পদ গড়ে। আমার স্বপ্নই নতুন কোনো দেশ ভ্রমণ। আপাতত দেশে ফেরার লক্ষ্য  ঈদের পরপরই দেশে ফিরব। এরপর পরিকল্পনা করব নতুন কোনো দেশে যাওয়ার।’ কেআই/ এআর

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে একদল তরুন

নওগাঁয় বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘আশার আলো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় অছিম উদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। আর সেখানে সেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন একদল তরুন। শিক্ষিত করে গড়ে তুলছেন অবহেলিত শিশুদের। স্বাভাবিক শিশুর মতো শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পায়নি সোহেল রানা। ১৫ বছর বয়সে এখন সে আশার আলো বিদ্যালয়ে। সহপাঠিদের সঙ্গে পড়ালেখা আর বিনোদনে ব্যস্ত সময় কাটে তার। শিক্ষার সুযোগ পেয়ে উজ্জল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে সোহেল। ছোট্ট বিদ্যালয় ’আশার আলো’। এখানে শিক্ষার সুযোগ হয়েছে সোহেলের মতো আরো ৩৫ জনের। এতে খুশি শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা। প্রতিবন্ধীদের জন্য নওগাঁয় একমাত্র প্রতিষ্ঠান আশার আলো। কিন্তু নানা সমস্যা নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। বিনা বেতনেই শিক্ষাদান করছেন ১২ জন শিক্ষক। সমাজে অবহেলিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সুযোগ সুবিধা বাড়াতে সহযোগিতা চাইলেন বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে শহরের উকিলপাড়া মহল্লায় চালু করা হয় অটিষ্টিক, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় ’আশার আলো’। একে//

ভাঙা ঘড়ি-মোবাইল যন্ত্রাংশ দিয়ে ড্রোন নির্মাণ (ভিডিও)

মৌলভীবাজারে দশম শ্রেনীর ছাত্র কিবরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ড্রোন। উদ্ভাবন করেছে পানি থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রক্রিয়া। এলাকায় কিবরিয়া পরিচিতি পেয়েছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে। দেয়াল ঘড়ি ও মোবাইলের ভাঙা যন্ত্রাংশ, ছাতার ভাঙা অংশ, প্লাস্টিকের বোতল, নষ্ট টেলিভিশনের সেন্সর, খেলনা গাড়ি এবং পুতুলের মোটর ও সার্কিটসহ বিভিন্ন ফেলনা সামগ্রী দিয়ে ড্রোন তৈরি করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী কিবরিয়া। ড্রোনটির সাথে সে সংযুক্ত করেছে একটি সোলার। আকাশে উড়ার সময় এর মাধ্যমে ড্রোনটি নিজে নিজেই চার্জ নিতে পারবে। এতে সংযুক্ত করেছে মেটাল ডিটেক্টরও। স্কুলের আর্থিক সহায়তায় ও দুই সহপাঠীর সহযোগিতায় বিজ্ঞানমেলায় প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় কিবরিয়ার ড্রোনটি। ড্রোন ছাড়াও কিবরিয়া আবিষ্কার করেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশলও। প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে কিবরিয়া একদিন বড় বিজ্ঞানী হতে পারবে, আশা তার শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের। প্রত্যন্ত জনপদে লুকিয়ে থাকা কিবরিয়ার মতো প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

হুইল চেয়ারে বসে মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

জটিল স্নায়বিক রোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত অ্যাডওয়ার্ড। তার সম্পর্কে বলা হয়েছিল, তিনি পাঁচ বছরের বেশি বাঁচবেন না। সেই তরুণই কিনা মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন, তাও আবার হুইল চেয়ারে বসে। অ্যাডওয়ার্ড সম্প্রতি ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম কোনো আফ্রিকান গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তার লক্ষ্য এখন শুধু পৃথিবী নয় মহাকাশ জয় করা। তার পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য, স্টিফেন হকিংন্সকে শ্রদ্ধা জানানো। যিনি নিজেও মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছিল স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি নামক স্নায়ুবিক সমস্যা নিয়ে। তিনি বড় জোর পাঁচ বছর বেঁচে থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এখন তার বয়স ২৭। এ বছরের শেষে তার বয়স হবে ২৮ বছর। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বেঁচে আছেন। তার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পেশিগুলো দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে।অ্যাডওয়ার্ড বলেন, এমন এক মহাদেশে বাস করছি যেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি আছে এমন অধিকাংশ শিশুই স্কুলের ক্লাসরুম কেমন তা কখনোই জানে না। আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করতে পারি। সেসব শিশুদের কথা ভেবেই আমি সেটি করেছি।বিশ্বের সব প্রতিবন্ধী মানুষই আমার অনুপ্রেরণার উৎস। যারা রোজ ঘুম থেকে উঠে নতুন একটি দিনের সঙ্গে লড়াই শুরু করে। আমি তাদের জন্য এমন একটি বিশ্ব চাই যা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত।অ্যাডওয়ার্ড এখন এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে চান যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সব সুযোগ-সুবিধা অধিকারী হবেন। তাদের স্বপ্নগুলো হয়ে উঠবে বাস্তব।সূত্র : বিবিসি।/ এআর /

তাঁত ব্যবসা করে স্বাবলম্বী (ভিডিও)

আফজাল হোসেন লাভলু। অভাব অনটনে লেখাপড়া করতে না পারলেও সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এখন তিনি সফল তাঁত ব্যবসায়ী। দেশের পাশাপাশি ভারতীয় বাজারেও রয়েছে তার তৈরী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া, অসহায় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা অনাহারেই সময় কাটতো মেধাবী কিশোর আফজাল হোসেন লাভলুর। অর্থের অভাবে লেখা-পড়ায়ও খুব একটা অগ্রসর হতে পারেননি তিনি। তবে অভাব-অনটন দমাতে পারেনি লাভলুকে। তাঁতের সুতি শাড়ীতে দক্ষতার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে এনেছেন নিজেস্ব বৈচিত্র। আর এই বৈচিত্রই তাকে দিয়েছে খ্যাতী, এখন তিনি দেশের অন্যতম তাঁত ব্যবসায়ী। ৬টি দিয়ে শুরু করা লাভলুর তাঁতের সংখ্যা এখন আড়াইশ। দেশে প্রথম ঝর্না শেড শাড়ীর জনক লাভলুর তাঁতে প্রতিদিন তৈরী হয় প্রায় ৩ হাজার শাড়ী। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতেও বেশ সমাদৃত এই শাড়ী। এছাড়া লাভলুর তাঁতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকেই। শুধু ভারত নয়, বিশ্ববাজারে তাঁতের শাড়ীর প্রসারে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন জাতীয় কারুশিল্পী পদক প্রাপ্ত আফজাল হোসেন লাভলু।

নাগরিক সেবা দেওয়ার অ্যাপ তৈরি

নাগরিক সেবা দেবে প্রযুক্তি। ভাবছেন সেটি কি করে সম্ভব? সত্যিই সম্ভব। নাগরিক সমস্যার সমাধান দিতে নতুন অ্যাপ তৈরি করেছেন বাংলাদেশি এক তরুণ। `ডিজিটাল মানুষ` মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক প্লাটফর্মটি তৈরি করেছেন  ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খন্দকার আলিফ ও তার কয়েক বন্ধু। আলিফ জানান, রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাতেই অ্যাপটির সুবিধার আওতায় এসেছে। অ্যাপটিতে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছয় সহস্রাধিক সেবাদাতা দক্ষ কর্মী যুক্ত হয়েছে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ময়মনসিংহে সেবাটি চালু করা হবে বলে তিনি জানান। খন্দকার আলিফ জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তারা ভালো সাড়া পেয়েছেন। ডিজিটাল মানুষের কর্মযজ্ঞ বৃদ্ধিতে এতে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড (বিবিসিএল)। সম্প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠান চুক্তি স্বাক্ষরও করেছে। প্ল্যাটফর্মটিতে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি সার্ভিসিং, গ্যাস টেকনিশিয়ান, ওয়াটার ট্যাপ, ট্যাঙ্ক সার্ভিসং, বাড়ি বা অফিস স্থানান্তর, আইটি সার্ভিস, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনসহ ৮০ ক্যাটাগরির সেবা রয়েছে। অ্যাপটিতে থাকা ২২টি ক্যাটাগরি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় কাজের কর্মীটি ডেকে নিতে পারবেন। ধরুণ আপনার বাসার ফ্রিজটি কাজ করছে না। ওভেনে সমস্যা, বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি বা আপনার টয়লেটের ফ্ল্যাশটি নষ্ট হয়ে গেছে। এ সমস্যার সমাধান দেবে `ডিজিটাল মানুষ`। অ্যাপটিতে নিবন্ধনের পর গ্রাহক যে এলাকায় অবস্থান করছেন ক্যাটাগরিভিত্তিক ওই এলাকার কর্মীদের তালিকা পাবেন। এ তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী বাসায় ডেকে বাসার সমস্যা সমাধান করা যাবে। উদ্যোক্তারা বলেন, এখানে সব কর্মী নিবন্ধিত থাকায় বিপদের ভয় নেই। কেননা কর্মীদের ঠিকানা, ফোন নম্বর থেকে যাবতীয় তথ্য আগে থেকেই ডিজিটাল মানুষের ডাটাবেজে সংগ্রহ করে রাখা হয়। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। অ্যাপটি http://bit.ly/2G7Qw3D থেকে নামানো যাবে। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি