ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৬:৩৫

বিশ্বকাপ আলোচনার তুঙ্গে যে নারী!

বিশ্বকাপ আলোচনার তুঙ্গে যে নারী!

বিশ্বকাপ ফুটবল চলবে আর কোনো নারী আলোচনায় আসবেন না, তা কী করে হয়? কিন্তু এবার আলোচনায় কোনো সাধারণ নারী নন, উঠে আসলেন বিশ্বকাপের বিজিত ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়ার স্বয়ং প্রেসিডেন্ট! বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে ক্রোয়েশিয়া হার মানলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতিসংঘ, সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোবিচ। খেলা চলাকালীন ক্রোয়েশিয়ার জার্সি পরা অবস্থায় তাকে গ্যালারিতে বসে থাকতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তাকে খুশি মনে পক্ষ ও বিপক্ষ দলের সব খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। ফুটবল বিশ্ব জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁর সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তিনি এবং অভিনন্দন জানান। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট শুধু ফুটবল খেলাই বোঝেন এ রকম নয়, অনেক ভাষায় সাবলীলভাবে কথাও বলতে পারেন, যেমন- ক্রোয়েশিয়ান, ইংলিশ, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ। এ ছাড়া তিনি জার্মান, ফরাসি ও ইতালিয়ান ভাষা বুঝতে পারেন। বিশ্বকে এগিয়ে নিতে তার মতো আরো নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। আরকে//
২০২২ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ হবে শীত মৌসুমে    

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুম তথা জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ১৯৩০ সাল থেকেই এমন নিয়ম মেনে আসছে ফিফা।   কিন্তু ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ এবার জুন-জুলাইয়ে নয়, শীত মৌসুম নভেম্বর- ডিসেম্বরে হবে। কাতার বিশ্বকাপের জন্য এই সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে ফিফা।  ফুটবল বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর ২১ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর। শুক্রবার (১৩ জুলাই) ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, কাতারে বিশ্বকাপ হবে ২১ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর।   ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে কাতার, তা তো চূড়ান্ত ছিলো। কিন্তু কবে হবে তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। এই সমালোচনা উড়িয়ে দিতে সবধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে আয়োজক দেশ কাতার।  ১৫ জুলাই ফিফা আনুষ্ঠানিক ভাবে কাতারের কাছে ২০২২ বিশ্বকাপের দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে। কাতারে মোট ১২টি স্টেডিয়ামে খেলা হবে৷ ইতোমধ্যে কয়েকটি স্টেডিয়ামের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি স্টেডিয়াম হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত৷ যার তাপমাত্রা থাকবে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে৷ যেটা ফুটবলের জন্য আদর্শ৷  জার্মানির স্থাপত্য কোম্পানি এএসএন্ডপি এই স্টেডিয়ামগুলোর পরিকল্পনা করছে৷ শীত কালের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হবে কাতারের প্রখর সূর্যের তাপকেই৷ মানে প্রতিটি স্টেডিয়ামের বাইরে ও ছাদে থাকবে সৌর প্যানেল৷ যেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে৷    এমএইচ/এসি    

২০১৮ বিশ্বকাপের যা কিছু সেরা        

আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় একটি মাত্র দল৷ সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জোটে একজনের ভাগ্যে৷ কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসরে এর বাইরেও তো স্মরণীয় অনেক কিছু থাকে৷ সেরকম বিষয়গুলো নিয়েই এই ছবিঘর৷    বেশি গোল যে দলের এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি গোল কোন দল করেছে, বলুন তো? বেলজিয়াম৷ হ্যাঁ, সেমি ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়ার আগে ১৪ গোল করে তারা৷ তারপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারানোয় সংখ্যাটি বেড়ে হয়ে যায় ১৬৷ এত গোল আর কোনো দল করতে পারেনি৷  সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল কোন দল কতটা আক্রমণাত্মক তা নির্ধারণের একটাই উপায় আর তা হলো কোন দল কত বেশি আক্রমণ করেছে সে হিসেবটা দেখা৷ সেই হিসেবে ব্রাজিলই ছিল সবচেয়ে এগিয়ে৷ কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে সব মিলিয়ে ২৯২টি আক্রমণ শানিয়েছে নেইমারের দল৷ তবে পরে ক্রোয়েশিয়া পেছনে ফেলে তাদের৷ ফাইনাল শেষে, অর্থাৎ ব্রাজিলের চেয়ে দুই ম্যাচ বেশি খেলায় ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ সংখ্যায় দাঁড়ায় ৩২২৷  সবচেয়ে বেশি পাসএখানে এগিয়ে ইংল্যান্ড৷ মোট সাতটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৩৩৬টি পাস দিয়েছে তারা৷  সেরা গোলরক্ষক?এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক কে? অনেকের নামই হয়ত উঠে আসবে৷ কিন্তু সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানো যদি মানদণ্ড হয়, তাহলে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন মেক্সিকোর গুইলেরমো ওচোয়া৷ দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল বাঁচিয়ৈছিলেন তিনি৷ তবে পরে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোই তাঁকেও ছাড়িয়ে যান৷ ৭ ম্যাচে তিনি বাঁচিয়েছেন ২৭টি গোল৷  সবচেয়ে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়নিন্দুকেরা তাঁর মাঠে গড়াগড়ি দেখতে দেখতেই হয়রান, অথচ পরিসংখ্যান বলছে নেইমার জুনিয়রই ছিলেন এবারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ফরোয়ার্ড৷ ব্রাজিল তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে৷ তাই মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন নেইমার৷ ওই পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নিয়েছেন মোট ২৭টি৷ এত শট আর কোনো ফরোয়ার্ড নিতে পারেননি৷  সবচেয়ে পরিশ্রমী পেরিসিচক্রোয়েশিয়া যে এবার বিশ্বকাপ মাতালো, তার মূল কৃতিত্ব যদি একজন খেলোয়াড়কে দিতে চান, কার কথা বলবেন আপনি? নিশ্চয়ই লুকা মদ্রিচ! সেমিফাইনাল পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার ছয়টি ম্যাচে সব মিলিয়ে ৬৩ কিলোমিটার দৌড়েছেন ৩৩ বছর বয়সি এই প্লে-মেকার৷ তবে ফাইনাল শেষে দেখা যায় তাঁকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন পেরিসিচ৷ ৭ ম্যাচে ৭২ কিলোমিটার দৌড়েছেন তিনি৷  সেরা রক্ষণভাগ বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দলের রক্ষণভাগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ক্রোয়েশিয়াই সেরা৷ ফাইনাল পর্যন্ত সাতটি ম্যাচে মোট ৩০১টি ক্লিয়ারেন্স, ট্যাকল এবং সেভ করেছে ক্রোয়াট ডিফেন্ডাররা৷  রামোসকে মনে রাখতে হবে যে কারণেস্পেনের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী সার্হিয়ো রামোস৷ তবে এবার শুধু রক্ষণের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন না রেয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক৷ আক্রমণ রচনাতেও ভূমিকা রেখেছেন অনেক৷ তাই বিশ্বকাপের অন্য সব খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি পাস দিয়েছেন তিনি৷ এ আসরে মোট ৪৮৫টি পাস দিয়েছেন রামোস৷  বেশি গোলের ম্যাচএবারের বিশ্বকাপ শুরুই হয়েছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে রাশিয়ার ৫-০ গোলের জয় দিয়ে৷ স্পেন-পর্তুগাল ৩-৩ গোলে ড্র ম্যাচেও দেখা গেছে গোলের ছড়াছড়ি৷ পরে দু’টি ম্যাচে আরো বেশি গোল হয়েছিল৷ বেলজিয়াম-টিউনিশিয়া (৫-২) ও ইংল্যান্ড-পানামা (৬-১) ম্যাচে সাতটি করে গোল দেখা গেছে৷ ওই দু’টিই এবারের আসরের সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ৷  এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি কার্ড  ম্যাচে খুব বেশি উত্তেজনা থাকলে বা লড়াইটা খুব জমজমাট হলেই সাধারণত খেলোয়াড়রা মেজাজ হারান৷ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তখন কঠোর হতে হয় রেফারিকে৷ তখন কার্ডও দেখাতে হয় বেশি৷ কিন্তু বেলজিয়াম বনাম পানামা ম্যাচটিতে সে অর্থে কোনো উত্তেজনাই ছিল না৷ তারপরও ম্যাচে মোট আটটি কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি৷ এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি কার্ড দেখানো হয়েছে সেই ম্যাচেই৷   এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পাস  বেশি পাসের প্রসঙ্গ এলে স্পেনের নাম আসবেই৷ এই বিশ্বকাপে যে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি পাস হয়েছে, সেখানেও স্পেন আছে৷ কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া৷ হ্যাঁ, স্পেন-রাশিয়া ম্যাচেই হয়েছিল সবচেয়ে বেশি পাস৷ সেই ম্যাচে দু’দলের খেলোয়াড়রা মোট ১২৩৫টি পাস দিয়েছিলেন৷ এসি      

ফাইনালে উট-ভালুকের ভবিষ্যদ্বাণী কি মিলল?

রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল দুবাইয়ের ‘জ্যোতিষি’ উট শাহিন। সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে শাহিনের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া। উট শাহিনের পাশাপাশি ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল রাশিয়ার ভালুক বুয়ান। তারও ভবিষ্যদ্বাণী ছিল বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু বাস্তবে মিলল না শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী। রোববারের ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ফ্রান্স। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ফরাসিরা। মস্কোয় শাহিন, বুয়ানের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমান করে দিল এমবেপে, গ্রিজম্যানরা। বিশ্বকাপের ‘সরকারি জ্যোতিষী’ বিড়াল একিলিস ভবিষ্যদ্বাণী ঠিক মতো করতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে শাহিনের করা প্রায় সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হয়েছিল। তবে নকআউট পর্ব থেকে ধীরে ধীরে ফর্মে ফেরে দুবাইয়ের ‘জ্যোতিষি’ উট। দু’টি সেমিফাইনালের সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আবার শিরোনামে চলে আসে। কিন্তু ফাইনালে ডাঁহা ফেল করলো শাহিনের ভাববাণী। (সূত্রঃ কলকাতা জি২৪) কেআই/ এআর

এমবাপেকে শুভেচ্ছা জানালেন পেলে   

রাশিয়া বিশ্বকাপে সবার নজর কাড়ে ফ্রান্সের তরুণ ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের পাশে নাম লিখিয়েছেন তরুণ ফরাসি এই তারকা স্ট্রাইকার।এরপর টুইটে ফরাসি তারকাকে শুভেচ্ছা জানালেন ব্রাজিলিয় কিংবদন্তি।    ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেন পেলে। ৬০ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় তরুণ হিসেবে ১৯ বছর বয়সে গোল করে পেলের পাশে নাম লেখান এমবাপে। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের ৬৫ মিনিটে এমবাপে গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই `৫৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরে এল মস্কোতে। এমবাপের গোলের পরেই টুইট করেন স্বয়ং পেলে। টুইটে তিনি লিখেছেন, "দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার ক্লাবে তোমাকে স্বাগত এমবাপে। তোমাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আপ্লুত।" পাশাপাশি মজার ছলে পেলে বলেন," যদি এইভাবে এমবাপে আমার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে তো আমাকে আবার বুট থেকে ধুলো ঝেড়ে ফেলতে হবে ..." এমবাপে যেন আবার মাঠে নামার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন পেলেকে। তবে কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার তালিকায় এমবাপে তৃতীয় স্থানে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে, ১৯৮২ বিশ্বকাপে গিসেপে বার্হোমি এবং ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপে। এই তিন কনিষ্ঠ ফুটবলার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেও গোল পাননি একমাত্র বার্হোমি। ১৯৮২ সালে ইতালি বিশ্বকাপ জিতলেও ফাইনালে গোল আসেনি বার্হোমির পা থেকে। এসি    

ফ্রান্সে বিজয় উদযাপনে প্রাণ গেল দুজনের

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি নিজের ঘরে তুললো ফ্রান্স। আর সেই বিজয় উদযাপনে প্রাণ গেলো দুই জনের। গতকাল ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ট্রফি ঘরে তুলল ইউরোপের দেশটি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের ট্রফি পাওয়ার আনন্দে উদ্বেলিত পুরো ফ্রান্স। তবে বুনো উদযাপন করতে গিয়ে দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্বকাপ বিজয় উদযাপনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে ফ্রেঞ্চরা। এ সময় উল্লাস করতে করতে তারা কিছুটা বেপরোয়াও হয়ে ওঠে। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সমর্থকরা। পুলিশ তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সময় ৫০ বছর বয়সী একজন লোক মারা যায়। অন্য একজন মারা যায় গাছের সাথে তাঁর গাড়িটি ধাক্কা লাগায়। ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মধ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই অসংখ্য মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে উদযাপন করতে থাকে। তাঁর মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক সমর্থক পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এমনকি তারা কিছু দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ভাঙ্গচুর করে। তারা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে রাত যত বাড়তে থাকে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে।  টিআর/ এআর

যে আট কারণে ফ্রান্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

প্রবাদে আছে ‘স্লো বাট স্টিডি উইনস দ্য রেস’। এই কথা প্রমাণ করে দিল ফ্রান্স। সব ছক উল্টে দিয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ালেন তাঁরাই। অবশেষে ফাইনালে শেষ হাসি হাসল, ছবির দেশ, কবিতার দেশ ফ্রান্স। ফ্রান্সের এই দলের গড় বয়স মাত্র ২৬। তারুণ্যে ভর করেই এবারে চ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখলেন এমবাপেরা। ২০১৬ ইউরো ফাইনালে অপেক্ষাকৃত দু্র্বল দল পর্তুগালের কাছে হেরে যাওয়ার মনখারাপটা ভুলতে পারেনি ফ্রান্স। অনেকেই সেই সময় বলেছিলেন,অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হল ফরাসিদের। এবার তাই প্রথম থেকেই দেশঁর ছেলেদের আত্মবিশ্বাস ছিল, কিন্তু তা কখনই অতিরিক্ত ছিল না। তুলনামূলক ভাবে নতুন প্রতিভাদের নিয়ে গড়া দল ফ্রান্স৷ সেখানে আছেন পরীক্ষিত ও উদীয়মান তারকারা৷ বিশ্বকাপজুড়ে তাঁরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সবাইকে ছাপিয়ে না গেলেও শক্তিশালী দল হিসেবে সমীহ আদায় করেছে৷ মিডফিল্ডার কঁতে প্রতিপক্ষের পা থেকে মোট ৫২ বার বল ছিনিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচে তাঁর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করেছিল দল। আর্জেন্টিনাকে যে ম্যাচে ফ্রান্স হারাল, সেখানে মেসিকে কিন্তু আটকে দিয়েছিলেন এই তরুণই। কিলিয়ান এমবাপে, পোগবা, গ্রিজম্যানদের লক্ষ্যভেদই ফ্রান্সকে এনে দিয়েছে জয়ের শিরোপা। ফাইনালে গ্রিজম্যানের ফ্রি কিকেই মানজুকিচের মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ানোয় ‌আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে লুকা মদ্রিচের দল। ভারের মাধ্যমে রেফারির পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিন্তু ফ্রান্সের মনোবল বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। পেনাল্টি থেকে টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন আতোঁয়া গ্রিজম্যান। ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল করেন এমবাপে। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে ছুঁয়ে ফেললেন কিংবদন্তি পেলেকে। পুরো টুর্নামেন্টেই এমবাপের গতি সমস্যায় ফেলেছে বিপক্ষকে। ফ্রান্সের অভিজ্ঞতাও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিদিয়ের দেশঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্কের কাছেই হেরে গিয়েছেন বিপক্ষের কোচরা। ’৯৮ বিশ্বকাপে তাঁর অধিনায়কত্বেই জিতেছিল ফ্রান্স। সূত্রঃ আনন্দবাজার কেআই/ এআর

আমি পিএসজিতেই থাকবো : এমবাপে

রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে ভালো খেলেছেন স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। আর এই তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে অনেক ধরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে খবর হয় কিলিয়ান এমবাপে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাষায় পিএসজিতে থাকার কথা জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের পর প্রথম টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেন ১৯ বছর বয়সী এই তারকা। রোববার রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফ্রান্স। ৪ গোল করে এবং টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ পারফরম্যান্সে আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এমবাপে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, `আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছি। আমি পিএসজিতেই থাকব, তাদের সঙ্গে আমার পথচলাটা অব্যাহত থাকবে।` সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্তাসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ ক্লাবটিতে এমবাপের যাওয়ার ব্যাপারে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু গত বছর এক মৌসুমের জন্য ধারে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর এরই মধ্যে দলটির সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি করেছেন এমবাপে। ২০১৭-১৮ মৌসুমটা লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির হয়ে দারুণ কেটেছে এমবাপের। সর ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২১ গোল। এর আগে পর পর দুটি বিবৃতির মাধ্যমে পিএসজির ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারকে কেনার প্রস্তাব দেওয়া এবং পাওয়ার কথা অস্বীকার করে রিয়াল মাদ্রিদ। এসএইচ/

ফাইনালে রাষ্ট্রপ্রধানদের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত 

বিশ্বকাপ ফাইনালে সবার চোখ থাকবে মাঠে, এটাই খুব স্বাভাবিক৷ কিন্তু এবার গ্যালারিতেও বার বার চলে যাচ্ছিলো ক্যামেরার চোখ৷ গ্যালারিতে পুটিনের পাশাপাশি ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার সুন্দরী প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্সের সুদর্শন প্রেসিডেন্ট৷   অভিবাদনরোববার রাতে ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ফ্রান্স৷ ম্যাচের আগে দুই দলের সফলতা কামনা করে একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ আর কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচ৷   আত্মঘাতী গোলের পর প্রতিক্রিয়াক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোলের পর হতাশ সে দেশের প্রেসিডেন্ট৷ এ সময় সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলেন স্বামী ইয়াকভ কিটারোভিচ৷  পেনাল্টিতে গোলক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারের হাতে বল লাগার পর পেনাল্টিতে গোল দেয় ফ্রান্স৷ সেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে ভিআইপি গ্যালারিতে, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর মাঝেও৷    গল্পে মশগুল তাঁরালুঝনিকি স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে ম্যাচের ফাঁকে ফাঁকে মাক্রোঁ গল্পে মশগুল ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন আর ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে৷   ফ্রান্সের তৃতীয় গোলতৃতীয় গোলের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ফ্রান্স৷ প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁকে দেখে তাঁর উত্তেজনা টের পাচ্ছিলন সবাই৷    শিরোপা জয়শেষ বাঁশি বেজে গেছে৷ জিতে গেছে ফ্রান্স৷ দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের আনন্দ-উত্তেজনা যে বাঁধ ভাঙা, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর উচ্ছ্বাসই তা বলে দেয়৷   ক্রোয়েশিয়ার কোচকে অভিনন্দনফ্রান্স শিরোপা জয় করলেও ফুটবল ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া৷ ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়া দলের কোচকে অভিনন্দন জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট৷    কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচএবারের বিশ্বকাপ আসরে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে সবার মন জিতে নিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচ৷     মদ্রিচের জন্য ভালোবাসাশিরোপার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু লুকা মদ্রিচরা ক্রোয়েশিয়াকে এনে দিয়েছেন ইতিহাসের সেরা সাফল্য৷ পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলার জন্য মদ্রিচ পেয়েছেন গোল্ডেন বল৷ আর তাই প্রেসিডেন্ট উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন মদ্রিচকে৷      পরের বার হবে হয়ত   এবারের বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ রাশিয়া শিরোপা না জিতলেও অনেক দূর গিয়েছিল৷ পুটিন যেভাবে কাপটি ছুঁয়ে দেখছেন তাতে মনে হচ্ছে তিনি মনে মনে যেন বলছেন, ``এবার হয়নি, কিন্তু পরের বার এই কাপ আমাদের হবে৷’’ সূত্র: ডয়চে ভেলে         এসি       

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

ফুটবল খেলায় গোল বড় বিষয়। যতই ভালো খেলোক কোনো দল গোল না করতে পারলে তার সেই দলের মূল্য থাকে না। জয়ের জন্য প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারলেই সার্থকতা। নইলে কোনো সফলতা থাকে না। রাশিয়া বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ১৬৯টি। এই গোলগুলোর মধ্যে সেরা পাঁচটি বেছে নেওয়া শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু পাঁচটি গোলকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই বিশ্বকাপের জন্য।ড্যানিশ চেরিশভ- সোচিতে এবারের বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ছিল স্বাগতিক রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে। ম্যাচের ৩১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ছুটছিলেন রাশিয়ান উইঙ্গার ড্যানিশ চেরিশভ। সামনে থাকা আর্তেম জুবাকে বল বাড়িয়ে তিনি ছুটছিলেন ডি বক্সের দিকে। জুবা আবার চেরিশভকে পাস দিলেন। আর সেখান থেকেই বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট চেরিশভের। আর এরই সঙ্গে ম্যাচের প্রথম গোলও পেয়ে যায় রাশিয়া। এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম মনকাড়া গোল ছিল এটি। যদিও এই ম্যাচে পেনাল্টিতে হেরে যায় রাশিয়া।বেঞ্জামিন প্যাভার্ড-কাজানে এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম খেলা। একদিকে গ্রুপ `সি`র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আর অন্যদিকে গ্রুপ `ডি`র রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। নকআউটের খেলাটিতে ছিল টান টান উত্তেজনা। ম্যাচে তখন ২-১ গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে মাঠের বাঁ পাশ দিয়ে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজের লম্বা ক্রসে বল চলে যায় ডি বক্সের ডান পাশে। আর সে জায়গায় ছিলেন আরেক ফরাসি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন প্যাভার্ড। ডি বক্সের বাইরে থেকেই ডান পায়ের জোরালো শট। আর্জেন্টিনার গোলকিপার ফ্রাঙ্কো আরমানির গোলটি ঠেকানোর কোনো সাধ্যই ছিল না। বলটি ঘুরতে ঘুরতে গোলপোস্টের বা কোনা দিয়ে ঢুকেছিল আর্জেন্টিনার জালে। এটাও সেরা গোলের মধ্যে একটি।টনি ক্রুস-গ্রুপ `এফ`-এ থাকা সুইডেনের সঙ্গে সেই ম্যাচটি না জিতলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে জার্মানদের বিদায় নিশ্চিত হতো। কেননা প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০তে হেরেছিলেন জোয়াকিম লোর শিষ্যরা। জার্মানদের জন্য বাঁচামরার লড়াইয়ের ম্যাচটি তখন ১-১ গোলে সমতা বিরাজ করছিল। ম্যাচের শেষ দিকে জার্মানির বিদায়ের ঘণ্টা বাজতেও শুরু করেছিল। নির্ধারিত সময় পার হয়ে চলছিল অতিরিক্ত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটই জার্মানদের জন্য সুযোগের বরাত নিয়ে এলো। সুইডেনের ডি বক্সের বাইরে মাঠের বাঁ পাশ দিয়ে একটি ফ্রি কিক পায় জার্মানি। শেষ মিনিটে শেষ ভরসা ছিলেন টনি ক্রুস। মার্ক রিউসের সঙ্গে আগে থেকেই তিনি পরামর্শ করে নিলেন যে, বলটি কীভাবে মারবেন? রিউস ডি বক্সের লাইনের মধ্যে দাঁড়ানো আর ক্রুস বল নিয়ে ডি বক্সের বাইরে। রেফারি বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে রিউসের দিকে বলটি সামান্য ঠেলে দিলেন ক্রুস। এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম এই বিশ্বকাপে।কেভিন ডি ব্রুইন-রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও বেলজিয়াম। কাজান এরেনার এ ম্যাচটিতে ব্রাজিল প্রথমেই পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে। ১৩ মিনিটের সেই গোলের পর ব্রাজিলকে প্রথমার্ধে আরও একটি গোল হজম করতে হয়। ম্যাচের ৩১ মিনিটে বেলজিয়ামের মাঝ মাঠে থেকে বল নিয়ে ছুটছিলেন রোমেলু লুকাকু। মাঝমাঠ থেকে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন মাঠের ডান পাশে ডি ব্রুইনের উদ্দেশ্যে। ঠিক ডি বক্স সীমানা থেকে আড়াআড়ি শট ডি ব্রুইনের। বেলজিয়ামও পেয়ে গেল তাদের দ্বিতীয় গোল। আর এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম ধরা হচ্ছে।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-সোচিতে নিজেদের প্রথম খেলা গ্রুপ `বি`-তে থাকা স্পেন ও পর্তুগালের। ম্যাচের ৮৮ মিনিটের আগ পর্যন্ত স্পেন ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। স্পেনের পক্ষে দিয়েগো কস্তার জোড়া গোল করেছিল। অন্য গোলটি করেছিলেন নাচো। আর পর্তুগালের পক্ষে জোড়া গোল ছিল রোনালদোর। তবে ঠিক ৮৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে রোনালদোর ফ্রি কিক। বল ততক্ষণে স্পেনের জালে। পাঁচবারের ব্যালন ডি`অর জয়ী রোনালদো ক্যারিয়ারের ৫১তম হ্যাটট্রিকও তুলে নিলেন। এই গোলটিও সেরা গোলের মধ্যে অন্যতম বলে মনে হয়।এসএইচ/

রাতের উল্লাসে ফরাসি চুম্বন

দমকলের ইঞ্জিন বা পুলিশের গাড়িকে জনতার উৎসবে শামিল হতে দেখেছেন কখনও? আমি দেখলাম। প্যারিসের শঁজে লিজে-তে দাঁড়িয়ে। কুড়ি বছর পরে ফ্রান্সের ফের বিশ্বজয়ের আবেগের স্রোত তখন বয়ে যাচ্ছে ইতিহাস প্রসিদ্ধ রাজপথে। আবেগ কি শুধু প্যারিসে? খেলা শেষ হতেই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচকে চুম্বন করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। আকাশ ভেঙে নেমে এল বৃষ্টি। আর আমি দেখছি শ্যাম্পেনের বৃষ্টি। তাই দাঁড়িয়েছি রাস্তার ধার ঘেঁষে। সারা বছর তো গাড়িগুলো এভাবে হর্ন বাজায় না! আজ তারা হর্ন বাজাচ্ছে পাগলের মতো। সেই সঙ্গে টানা বেজে চলেছে পুলিশ আর দমকলের গাড়ির সাইরেন! উদ্বেগে নয়, আনন্দে। গাড়ির গায়ে ঝুলছে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা। কত লোকের হাতে ভুভুজেলা, কেউ বা গান গাইছে। আকাশ আলোয়-আলো আতসবাজিতে। ঢাকার নারায়ণগঞ্জের ছেলে আমি। প্যারিস ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছি। থাকি নোয়াজ়ি শ্য এলাকায়। প্যারিস এখান থেকে ট্রেনে ২০-২৫ মিনিট। প্রায় গোটা বিশ্বকাপটাই বাড়ির টিভিতে দেখেছি। এমনিতে আমি আড়ালজীবী মানুষ। বন্ধুদের পীড়াপীড়িতে সেমিফাইনাল দেখতে গিয়েছিলাম প্যারিসের ‘ওতেল দ্যু ভিল’-এর বড় স্ক্রিনে। সে কী পাগলামি! বুঝে গিয়েছিলাম, একটা ঢেউ এসেছে, আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যেতে। অঁনে অঁ ফিনাল... অঁনে অঁ ফিনাল! আমরা ফাইনালে। সেমিফাইনালের পর থেকেই উড়ে বেড়াচ্ছিল সুরটা। ওই সুর মাথায় নিয়েই আজ তৈরি হচ্ছিলাম ফাইনাল দেখব বলে। ‘ওতেল দ্যু ভিল’-এই যেতাম। হঠাৎ সকালে ইরানের বন্ধু আলির ফোন। আমার পরিকল্পনা শুনে বলল, ‘পাগল! বাস্তিল প্যারেড যেখানে হয়, সেই শ্যন দু মার্সে এসো। কয়েক হাজার লোক বড় স্ক্রিনে খেলা দেখবে।’ বেলা ২টো নাগাদ সেখানে পৌঁছে দেখি, যাহ্! গেট বন্ধ। বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। এগোলাম শঁজে লিজের দিকে। একটা পানশালা দেখে মনে হল, এখানে খেলাটা দেখা যাবে। ঢুকে পড়লাম ‘দ্য আইডিয়াল বার’-এ। বসার জায়গা পাওয়ার প্রশ্ন নেই। ঠাণ্ডা পানীয়ের বোতল নিয়ে একটা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম।  ‘আলে লে ব্ল্যু, আলে লে ব্ল্যু’- টিভিতে চোখ রেখে ‘নীল দলের’ এগিয়ে যাওয়ার গান গাইছে সদ্য-যুবক থেকে বৃদ্ধ। টলতে টলতে একটা ছেলে এসে বলল, ‘দিনটা কিন্তু ফ্রান্সের।’ খেলা শুরু হতেই গর্জনে কেঁপে উঠল বার। মদ্রিচকে টিভিতে দেখেই বিদ্রুপ— ‘বুড়োর দল, বাড়ি যাও!’ সেখানে এমবাপেকে ওরা বলছেন ‘প্রোশেইন প্রেসিদঁ’। মানে? পরবর্তী প্রেসিডেন্ট! গোড়ায় অবশ্য ‘বুড়োদের’ বেশ ধারালোই মনে হচ্ছিল। এমন সময়ে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল ফ্রান্স। দেখি, বারের মালিকও ভিড়ের মধ্যে এসে নাচছেন। আমি এক পাশে দাঁড়িয়ে ঘামতে ঘামতে লিখছিলাম। মালিকের স্ত্রী এগিয়ে এসে কথা বললেন। তার পর এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি আর কয়েকটা টিসু দিয়ে গেলেন। বলতে বলতে গোল শোধ ক্রোয়েশিয়ার! মনে হল, একটা বাজ পড়ল ঘরের মধ্যে। মদ্রিচ-পেরিসিচদের নিশানা করে ছুটল অভিশাপের বন্যা। এক বুড়ো তো বিয়ারের গ্লাসটাই ছুড়ে ফেললেন। তার পর গ্রিজম্যান, পোগবা, এমবাপে পরপর গোলগুলো করার পরে স্বস্তি পেলেন সবাই। অপেক্ষা তখন শুধু উৎসব শুরুর। শেষ বাঁশি বাজতেই ভিড়টা ছুটল দরজার দিকে। তাড়াতাড়ি পৌঁছতে হবে শঁজে লিজেতে! আজ প্যারিসে রাত নেমেছে ঠিকই। নামেনি প্যারিসবাসীর চোখে। সূত্রঃ আনন্দবাজার একে//

অবশেষে কাঁদলেন তিনি...

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফ্রান্স বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ে। ফাইনাল ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াও ভালো খেলেছে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা জানান। আর এই ভালো খেলার নেপত্বে কাজ করেছে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দে গ্রাবার-কিটরোভিচ। তিনি খেলোয়াড়দের সব সময় হাসি মুখে উৎসাহ দিয়েছেন ভালো খেলার জন্য। মাঠে থেকেছেন খেলোয়াড়দের সাহস যোগানোর জন্য। কিন্তু ফাইনালে হেরে নিজ দলের প্রিয় খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরে আবেগে চোখের জল ফেললেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট।   তাই ফাইনাল ম্যাচের দিনও তিনি উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়ামে। ক্রোয়েটদের এক একটা জয় তিনি যেভাবে সেলিব্রেট করেছেন তাতে প্রতি বারই মনে হয়েছে, যেন ‘বিশ্বকাপ জিতেছেন’। মাঠে যখনই এসেছেন, পরনে ছিল তাদের জাতীয় পোশাকের জার্সি। ভিআইপি বক্স থেকে দেখেছেন ক্রোটদের প্রতি আক্রমণ। ফাইনালেই স্বপ্নভঙ্গ হলো ক্রোটদের। ৪-২ গোলে জিতল ফ্রান্স। নতুন চ্যাম্পিয়ন থেকে বঞ্চিত ফুটবল বিশ্ব। চোখ ছলছল লাল-সাদা সমর্থকদের। এতো কাছে এসেও ধরা গেলো না। কেবল একটা চুমুই ছুঁয়ে গেল বিশ্বকাপের গায়ে। সেটাও ক্রোয়োশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের। ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ‘সোনার ছেলে’ মদ্রিচকে জড়িয়ে এই প্রথম কাঁদতে দেখা গেলো তাকে। তবে ‘ছেলে’র হাত ছাড়েননি কোলিন্দে গ্রাবার-কিটরোভিচ। ইতিহাসে নাম লেখানো এই ক্রোটদের বাহবা দিয়ে তিনি লিখলেন, “অবর্ণনীয়। তোমাদের মধ্যে আগুন আছে। তোমরা সাহসী। সিংহের সঙ্গে লড়াই করে ইতিহাস তৈরি করেছ। আমরা তোমাদের জন্য গর্বিত”। এসএইচ/

ইউরো হারে আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আমরা: দিদিয়ে

দু’বছর আগে ঘরের মাঠে পর্তুগাল ছিনিয়ে ছিল ইউরো জয়ের খেতাব৷ ২০১৮ সালে মাত্র দু’বছররের ব্যবধানে বিশ্বজয়৷ দিদিয়ে কী এমন জাদু করলেন ফরাসি ফুটবলে! এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিচ্ছেন বিশ্বজয়ী ফরাসি কোচ৷ জানাচ্ছেন আজকের এই জয়টার জন্য সেদিন ইউরোর ওই হারটা প্রয়োজন ছিল৷ ফরাসি ফুটবলাদের অনেককিছু শিখিয়ে ছিল ২০১৬ ইউরোর ফাইনাল৷ প্রথমবার ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের স্বাদ দিয়েছিলেন অধিনায়ক হিসেবে এবার তিনি কোচের আসনে৷ দেশকে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পর দিদিয়ে জানান, কী ঘটে গেছে আমরা আগামীকাল উপলব্ধি করতে পারব৷ এ মুহূর্তে ছেলেরা জানে না বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কি৷ এরপরই দু’বছর আগের ইউরোর ফাইনাল হারের কথা উল্লেখ করে ফরাসি কোচ বলেন, দু’বছর আগে যদি আমরা ইউরো চ্যাম্পিয়ন হতাম, তাহলে আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম না৷ ওই হার থেকে আমি অনেক শিখেছিলাম৷ ইউরোর ফাইনাল ভিন্নরকম ছিল৷ এবার আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলাম এবং ছেলেরা জানত তাদের কী করতে হবে, ঝুঁকিটা কোথায়৷ নকআউটে টানা তিনবার পিছিয়ে থেকে কামব্যাক! ফাইনালে আর হয়নি ক্রোয়েশিয়ার জন্য৷ প্রথমার্ধে ২৮মিনিটে পিছিয়ে থেকে পেরিসিচের দুরন্ত গোলে ম্যাচ ফিরেছিল মদ্রিচরা৷ দ্বিতীয়ার্ধেও ১-৪ পিছিয়ে থেকে ৬৯ মিনিটে ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিসের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-৪ করেন মানজুকিচ৷ শেষ রক্ষা অবশ্য হল না৷ ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নের দৌড় শেষ ফাইনালে৷ রানার্স হয়েই মাঠ ছাড়ল মদ্রিচ অ্যান্ড কোং৷ বৃষ্টিতে ঢাকা পড়ল রাকিটিচদের কান্না! ৬ গোলের থ্রিলার জিতে দ্বিতীয় বারের জন্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স৷ শেষবার ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে দেশঁ’র নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশঁ৷ ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ সেই দলে ফরাসিদের নেতৃত্বের ব্যাটন ছিল দেশঁর হাতে৷ রবিবার ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেলেন ফরাসি খেলোয়াড়রা৷ এমবাপে-গ্রিজমানদের কোচের ভূমিকায় ছিলেন ৪৯ বছরের দেশঁ৷ দেশের আগে অসাধারণ এই কৃতিত্ব প্রথম দেখিয়েছিলেন জাগালো৷ ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি৷ তার পর এই কৃতিত্বের অধিকারী হন বেকেনবাওয়ার৷ ১৯৭৪ সালে সে সময়ের পশ্চিম জার্মানিকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৯০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোচ হিসেবে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতান বেকেনবাওয়ার৷ আরকে//

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি