ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, || অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৮

করোনা সতর্কতায় কী করবেন, কী করবেন না?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:২৬, ২১ মার্চ ২০২০

মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় করোনা ভাইরাস। সবচেয়ে বড় বিপদ রোগের লক্ষণ ধরা পড়ার আগেই অন্য কারও শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে কোভিড-১৯। কাজেই সতর্কতাই শেষ কথা। 

করোনা ভাইরাস আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে অ্যাটাক করে। প্রথম লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরের মতোই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া হয়। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রবণতা কম। যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাইপার টেনশন, অ্যাজমা আছে তাদের জন্য করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি বেশি।

জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু, তারপর শুকনো কাশি হতে পারে। এর এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরকম প্রতি ৪ জনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে মৃত্যুর সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।

করোনা সতর্কতায় কী করবেন, কী করবেন না? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে-

* সাবান বা অ্যালকোহল দেওয়া স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হবে। অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে ভাল করে আঙুলসহ হাতের দু’পিঠ ধুতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আঙুলের খাঁজ যেন পরিষ্কার থাকে।

* হাঁচি, কাশি হচ্ছে এমন ব্যক্তির থেকে ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে। 

* চোখে, মুখে, নাকে হাত দেওয়া যাবে না।

* একান্ত প্রয়োজন হলে আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। অথবা স্যানিটাইজারে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে।

* অন্যের মুখনিঃসৃত জলীয় পদার্থ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

* হাঁচি বা কাশির সময় কনুই দিয়ে হাত মুড়ে মুখে চাপা দিতে হবে। অথবা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।

* প্রকাশ্যে কফ বা থুতু ফেলা যাবে না। 

* সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট হলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

* সুস্থ মানুষের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই, তবে আক্রান্তের কাছে গেলে বা জনবহুল এলাকায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

* মাস্ক পরার আগে সাবান বা অ্যালকোহল দেওয়া স্যানিটাইজার দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

* মাস্ক পরার পর আর মাস্কে হাত দেওয়া যাবে না। হাত দিতে হলে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

* মাস্ক খোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাস্কে যেন হাত না লাগে। 

* মাস্ক খুলতে হবে পেছন দিক দিয়ে খুলতে হবে।

* সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ব্যবহৃত মাস্ক ঢাকা দেওয়া ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।

* বড় জমায়েত এগিয়ে চলতে হবে।

* ঘরবাড়ি একটু বেশি যত্ন নিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

মাস্ক কীভাবে পরবেন?

ভারতের পালমোনোলজিস্ট সুজন বর্ধন মাস্ক পরার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে মাস্ক পরাটা একরকম ফ্যাশনে রূপ নিয়েছে। ঠিক পদ্ধতিতে, জায়গা মতো না পরি তাহলে মাস্ক পরাটা পুরোটাই বৃথা। মাস্ক থেকেও ইনফেকশন বেশি হতে পারে। এন-৯৫ মাস্ক শতভাগ প্রটেকশন দিচ্ছে না। যদি সার্জিক্যাল মাস্ক সঠিকভাবে পরা যায় তবে কিছুটা প্রটেকশন পাওয়া যায়। যদি এন-৯৫ মাস্ক ভিজে যায় তাহলে পাল্টে নিতে হবে। যদি রি-ইউজেবল মাস্ক পরেন, তাহলে ৮ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়। 

মাস্ক ধরার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ২০ সেকেন্ডের মত সময় ধরে ভাল করে হাতের দু’পাশে ঘষে নিতে হবে। আঙুলের ফাঁকায়ও ঘষে নিতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে কব্জি পর্যন্ত হাতের সব জায়গা ধোয়া হয়।

তারপর মাস্ক ধরবেন, কিন্তু ধরতে হবে ফিতার জায়গা থেকে। মাস্কের সামনের দিকটায় হাত দিবেন না। সামনের পার্টে ভাইরাস প্রোটেকশন দিয়ে থাকে। যদি হাত দেন, তবে ভাইরাস হাতে ছড়াবে। এই হাত থেকে নাক বা চোখ দিয়ে ভাইরাসটি শরীরে ঢুকবে। সবসময় চেষ্টা করবেন মাস্কের সামনের দিকটায় হাত না দেওয়ার।

মাস্কের উপরের দিকটায় যে মেটাল স্ট্রিপ আছে তা চেপে লাগিয়ে দিতে হবে নাকের সঙ্গে। টার্গেট রাখতে হবে নাক-মুখের ওই অংশে যেন কোন লিগ না থাকে। যদি লিগেজ (ফাঁকা) থাকে তাহলে ওই মাস্ক পরা, না পরার সমান। কেননা ভাইরাস এতটাই ছোট যে, যে কোন ছোট ফাঁকফোকর দিয়ে ওই ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে।

তারপর যখন মাস্কটা খুলবেন, তখন পেছন দিক থেকে ফিতা ধরে খুলতে হবে। কখনই সামনের দিকটায় হাত দিয়ে খুলবেন না। 

যদি রি-ইউজেবল মাস্ক হয়, তাহলে তা এয়ারটাইট কন্টেইনারে রাখতে হবে। নচেৎ এ থেকে ভাইরাস বাইরে ছড়িয়ে পরতে পারে।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি