ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬

আরও বেড়েছে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৫৯, ৫ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার অধিকাংশ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেলেও একটি পয়েন্টে সামান্য হ্রাস পেয়েছে। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৩০ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯৬ মিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৬২ মিটার।

অন্যদিকে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি সামান্য কমে ১.৭১ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবক’টি নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ৮৫ থেকে ৪০৯ সেন্টিমিটার নীচে রয়েছে।

তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধান আরও তলিয়ে যাবে।

জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানায়, ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এরআগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান  জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্যমতে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৪৯ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি