ঢাকা, শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬

১০ বছরের অপেক্ষার পর সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৮:০১, ৮ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নড়াইলে বিয়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের মুখ দেখেছিল একটি পরিবার। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি একদিনও।

একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া সাত নবজাতকের কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় শোক নেমে এসেছে পরিবারজুড়ে, আর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে। মৃত নবজাতকদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইজিবাইক চালক মহসিন মোল্যা ও গৃহবধূ সালমা বেগম দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পর সন্তানসম্ভবা হন সালমা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তান আসার খবরে পরিবারজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ছয় সন্তানের উপস্থিতি ধরা পড়লেও পরে প্রসব হয় সাতটি সন্তান।

গত সোমবার রাতে প্রসব বেদনা শুরু হলে সালমাকে যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুই সন্তান জন্ম নেয়। পরে বুধবার রাত পর্যন্ত একে একে আরও পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে সন্তানগুলো ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তারা ছিল অত্যন্ত অপরিপক্ব।

চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত কোনো নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে নবজাতক সাতটি সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নবজাতকদের দাদি মঞ্জুরা খাতুন জানান, ‘গত সোমবার রাতে তার ছেলের বউয়ের প্রসব বেদনা উঠলে বাড়ি থেকে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্তানগুলোর জন্ম হয়।’

দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে আগে সৌদি আরবে ছিল। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালায়। এতদিন পর ঘরে সন্তান আসবে এই আশায় সবাই দিন গুনছিলাম। কিন্তু সাতটা সন্তান জন্ম নিয়েও কাউকে বাঁচানো গেল না। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, ‘একসঙ্গে সাত সন্তানের খবর শুনে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। সবাই সন্তানগুলোকে একনজর দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে।’

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সন্তানগুলো অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেয়। প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। তাদের হার্টবিট থাকলেও শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।’

বর্তমানে সালমা বেগম যশোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এমআর// 


 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি