ছুটি শেষের আগেই সৌদি যান শাহেদ, বিমানবন্দরে নেমে নিহত
প্রকাশিত : ১০:৪৬, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহেদ আহম্মেদ (৩৬)। প্রিয়জনকে হারানোর খবরে তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজনদের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদে মাদলা গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নিহত শাহেদ আহম্মেদ শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা ছাহেরা বেগম। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন শাহেদ। তবে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পরপরই তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কাজের প্রয়োজনে গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন শাহেদ। সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা।
বারবার ফোন করেও শাহেদের কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তখনো তাঁরা জানতেন না, প্রিয় মানুষটির এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা। রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে শাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা। মুহূর্তেই পরিবারের ওপর নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শাহেদের স্ত্রী কাকলী ও তাঁদের দুই সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তাঁর মা ছাহেরা বেগমও দুই মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গেছেন।
পরিবারের সদস্যদের এমন অবস্থায় শাহেদের মৃত্যুর খবরে স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
খবর পেয়ে বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস ডিলু শাহেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবে শাহেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি বাড়িতে এসেছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, শুক্রবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর শনিবার বিকেল থেকে শাহেদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
শাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে নিহত ব্যক্তির বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও শাহেদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ইউএনও আরও বলেন, শাহেদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মিশন কাজ করছে।
এদিকে, প্রবাসে কর্মস্থলে ফেরার মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শাহেদের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনেরা এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন এবং দেশের মাটিতে তাঁকে দাফন করতে পারেন।
এএইচ
আরও পড়ুন










