ঢাকা, সোমবার   ১২ অক্টোবর ২০২৬

চুল কেটে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, ২ যুবকের সন্ধানে পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৩:০৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১০, ১২ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক প্রবাসী গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের এ রোমহর্ষক দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। 

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার নারীর নাম রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, গৃহবধূ রিক্তা বেগমকে জোরপূর্বক একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছেন এবং চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন। 

এ সময় ওই নারী আকুতি ও চিৎকার করলেও অভিযুক্তদের নির্মমতা থামেনি; বরং একপর্যায়ে তাঁকে মুখে সজোরে থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।

অন্য ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে ওই নারী ও এক যুবককে দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের মারধর করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রিক্তা বেগম বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি আসেন। ওই দিন গভীর রাতে তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দুজনকে আটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে যুবককে ধরে রাখেন।

রোববার বিকেলে ওই নারীর চুল কেটে দিয়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটক যুবককেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবক সরাসরি এই মারধর ও চুল কাটার ঘটনায় জড়িত। সুমন ওই এলাকার ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্যাতিত গৃহবধূর পৈত্রিক বাড়ি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা জানান, অন্যায়ের বিচার করার আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু এভাবে কোনো নারীকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, কারা ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছে—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের মূল ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি