ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪

গলব্লাডারে পাথর হওয়ার কারণ ও চিকিৎসা

প্রকাশিত : ১৫:৫৯, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | আপডেট: ১৬:০৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথর বহু মানুষের হয়ে থাকে। সাধারণত চলিশোর্ধ নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়ে থাকে। যারা শারিরীক পরিশ্রম কম করেন তাদেরও এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। পরিবারের কারো পিত্তে পাথর থাকলে পরবর্তী প্রজন্মেরও পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি সরিয়ে ফেলতে হয়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান ডা. শেখ ফিরোজ কবীর।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: গলব্লাডারে পাথর বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণ কী?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার জন্য কতগুলো কারণ কাজ করে। সাধারণত চল্লিশোর্ধ নারীদের এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। খাবারে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেশি থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হয়। যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়।

বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকে ওষুধ খেলেও পিত্তথলিতে পাথর হয়। গর্ভধারনও গরব্লাডারে পাথর হওয়ার একটা কারণ। কেননা গর্ভধারন করলে চলাফেরা কম করা হয়। এর ফলে পিত্তথলির ফাংশনটা কমে যায়। যারা শারীরীক পরিশ্রম কম করে তারাও পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে ভোগেন।

স্থুলকায় শরীর পিত্তথলির পাথরের প্রধান কারণ। এজন্য দেখা যায় আমেরিকার দশ ভাগ লোক গলব্লাডারে পাথর নিয়ে চলছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: কিন্তু সবার তো পাথর হয় না?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: সবার হয় না। এখানে ফ্যামিলি হিস্ট্রিও একটা বড় ব্যাপার। পরিবারে কারো গলব্লাডারে পাথর থাকলে অন্যদেরও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অবশ্য আজকাল সব রোগেরই জেনেটিক দিক থাকে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: গলব্লাডারে পাথর হওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: এখন যেটা বেশীরভাগ দেখা যায় সেটা হলো কেউ রুটিন চেকআপ করতে গিয়ে দেখল তার পিত্তথলিতে পাথর আছে। বা অন্য কোনো কারণে ডাক্তারের কাছে গেল, ডাক্তার নানা ধরনের পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখল তার গলব্লাডারে পাথর আছে। আমাদের আশপাশে খুব বড় সংখ্যার মানুষ আছে যাদের গলব্লাডারে পাথর আছে। কিন্তু তারা জানে না তাদের পাথর আছে।

আমাদের বহু রোগী আছে যারা নানা ধরনের ব্যথা নিয়ে আমাদের কাছে আসে। সেই ব্যথা কখনো পেটে, কখনো শরীরের একপাশে, কখনো পেছনের দিকে বা কখনো হাতের বাহুতে হতে পারে। আবার কেউ কেউ আমাদের কাছে আসে জন্ডিস নিয়ে বা গলব্লাডারের প্রদাহ নিয়ে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আমরা দেখি ডায়াবেটিস রোগীদের এই প্রদাহ বেশী হয়? তখন কী সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করা উচিত নাকি প্রদাহ সারিয়ে অপারেশন করতে হবে?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: ডায়াবেটিস রোগীদের গলব্লাডারে পাথর হলেও কোনো ব্যথা হয় না বা খুব কম ব্যথা হয়। আমি এমন রোগীও পেয়েছি যাদের পিত্তথলি পচে গেছে কিন্তু কোন ব্যথা নাই। এজন্য আমরা বলি ডায়াবেটিস রোগীদের পাথর ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করানো উচিত। এ সব ক্ষেত্রে অপারেশন ওই প্রদাহ থাকা অবস্থায় করাতে হয়। নয়তো ডায়াবেটিসও ভালো হবে না প্রদাহও কমবে না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাথর ছাড়াও তো পিত্তথলিতে ব্যথা হতে পারে।

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: হ্যাঁ, পাথর ছাড়াও পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে। আমরা এটাকে বলি এ ক্যালকুলাস। একই রকম ব্যথা, একই রকম সিনড্রোম। রোগীর মনে হবে তার পাথর আছে। তখন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওষুধ দিই। বলি, আপনার অপারেশন করা লাগবে না।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটি পাথরে যে লক্ষণ হবে অনেকগুলো পাথর থাকলেও কী একই রকম লক্ষণ হবে?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: আমাকে অনেক রোগী জিজ্ঞেস করে, স্যার আমার পাথর কয়টা? সাইজ কী রকম? আমি বলি, `ঘরের ভেতরে যদি সাপ থাকে সাপ একটা থাকা যা একশটা থাকাও তা।` তবে কিছু পার্থক্য আছে। যেমন পাথর ছোট হলে গলব্লাডার থেকে বেরিয়ে পিত্তনালীতে চলে আসতে পারে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনি বলছিলেন নারীদের গলব্লাডারে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশী। তাহলে কি পুরুষের বা শিশুদের ঝুঁকি কম?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: গলব্লাডারে পাথর যে কারো হতে পারে। নারীদের একটু বেশি। শিশুর ক্ষেত্রে যদি রক্তে লোহিত কণিকা যদি ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রে বেশী হতে পারে। আমরা অনেক সময় চার পাঁচ বা সাত বছর বয়সের বাচ্চাদের গলব্লাডারে পাথর পাই। এক্ষেত্রে শিশু পেট ব্যথা নিয়ে আসলে আলট্রাসনোগ্রাফী করলেই ধরা পড়ে যায় যে গলব্লাডারে পাথর আছে। অনেকে শিশুর পেট ব্যথা করলে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে থাকেন। পরে দেখা যায় গলব্লাডারে পাথরের কারণে পেট ব্যথা করছে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: পাথর ধরার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে আলট্রাসনোগ্রাফ। এছাড়া আর কী উপায়ে পাথর শনাক্ত করা যায়?

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: এমআরসিপি করতে পারি। সিটি স্ক্যান করা যেতে পারে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এবার গলব্লাডারে পাথর হলে তার চিকিৎসা নিয়ে বলুন।

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: অনেক রোগী আমাদেরকে বলে থাকে, স্যার ওষুধ দিয়ে পাথর গলানো যাবে কিনা? আসলে পাথর গলানোর কোনো ওষুধ নাই। তবে বিদেশে এক ধরনের পদ্ধতি আছে - যারা পেট কাটতে চায় না তাদের জন্য। এই পদ্ধতিতে কিডনীর পাথর যেভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয় ঠিক সেভাবে গলব্লাডারের পাথরও ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু ভেঙে দেওয়া পাথরটা বের করার জন্য ইআরসিপি করতে হয়। কিন্তু ইআরসিপি করা অনেক বড় ব্যপার। তাই সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে অপারেশন করা। এর ফলে গলব্লাডারের পুরো থলিটাই ফেলে দিলাম।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. শেখ ফিরোজ কবীর: আপনাকেও ধন্যবাদ।

পরামর্শদাতা : ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান।

ভিডিও দেখুন...

শ্রুতি লিখন: আলী আদনান।

/ এআর /


Ekushey Television Ltd.


Nagad Limted


© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি